আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত: কাঁপছে ইসরায়েল

ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ ভেদ করে জেরুজালেমের অদূরে বেইত শেমেশ এলাকায় শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। আজ রোববার (১ মার্চ ২০২৬) বেইত শেমেশে ইরানের এই ভারী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত ৮ জন ইসরায়েলি নিহত এবং আরও ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে ‘টাইমস অব ইসরায়েল’ জানিয়েছে, হামলায় একটি আবাসিক ভবন সরাসরি বিধ্বস্ত হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী স্বীকার করেছে যে, তাদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই নির্দিষ্ট হামলাটি প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের রাজধানী তেহরানে ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি’ (IRNA) তেহরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বরাতে জানিয়েছে, গত এক দিনে তেহরানে অন্তত ৬০টি পৃথক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৭ জন নিহতের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খামেনি হত্যার পর ইরানের এই পাল্টা আঘাত এবং তেহরানে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক মহাপ্রলয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
/আশিক
সানায় আক্রমণের পাল্টা জবাবে সৌদির ৩ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের হামলার হুশিয়ারি
ইয়েমেনের রাজধানী সানার একটি তেল স্থাপনায় বিমান হামলার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্থাপনা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হুথিদের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, সৌদি জোট যদি সানায় তাদের ঘোষিত বিমান হামলা বাস্তবায়ন করে, তবে তার উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ইয়েমেনি গোষ্ঠীটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সম্ভাব্য পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রয়েছে সৌদি আরবের দাম্মামে অবস্থিত জ্বালানি জায়ান্ট আরামকোর সদর দপ্তর, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদস্থ আরামকোর তেল শোধনাগার। সাধারণ মানুষের সুরক্ষার স্বার্থে এই সংবেদনশীল এলাকাগুলো থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
এর আগে সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল মালিকি সানার উক্ত তেল স্থাপনায় সামরিক অভিযানের কথা জানান এবং সেখানকার বাসিন্দাদের এলাকা ত্যাগ করার বার্তা দেন।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব ও হুথি বাহিনীর মধ্যকার প্রত্যক্ষ সংঘাত এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। এর ধারাবাহিকতায় গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয় রিয়াদ।
এদিকে মঙ্গলবারও রিয়াদ অভিমুখে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয়, যা সৌদি জোটের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করার দাবি করেছে। তবে এসব ড্রোন ঠিক কোন লক্ষ্যবস্তুতে কিংবা কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, সে সম্পর্কে তুর্কি আল মালিকি বিস্তারিত কিছু জানাননি। সানায় বিমান হামলার তোড়জোড় এবং হুথিদের পাল্টা রিয়াদ-দাম্মামে আক্রমণের সতর্কবার্তায় পুরো অঞ্চলে চরম সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
/আশিক
জনমতের আশঙ্কায় ইসরায়েলি সহায়তা নিতে নারাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাতে যৌথভাবে যুক্ত হওয়ার জন্য ইসরায়েলের দেওয়া এক প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব। সোমবার হিব্রু ভাষার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হারেৎজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে আনাদোলু আরবি।
প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় রিয়াদকে এই প্রস্তাবে রাজি করানোর জোর চেষ্টা চালিয়েছিল তেল আবিব। মূলত হুথিবিরোধী অভিযানে সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সমন্বয় সাধন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তির পথ সুগম করাই ছিল ইসরায়েলের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তবে অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের সরাসরি সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়ে একেবারেই আগ্রহী নন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। যুবরাজের ধারণা, ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান না করে তেল আবিবের সঙ্গে হাত মেলালে কিংবা ইসরায়েলের সহায়তায় জোট গড়লে সৌদি আরবসহ পুরো মুসলিম বিশ্বের জনমনে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। সৌদি যুবরাজের এই কঠোর ও নীতিগত আপত্তির কারণে ইয়েমেন ও হুথিবিরোধী কার্যক্রমে ইসরায়েলের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা আপাতত সম্পূর্ণভাবে নাকচ হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, বিষয়টি নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রিয়াদ সবসময় বলে আসছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক সমাধান ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে রোববার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের প্রাণঘাতী হামলায় হতাহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ওই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদ সবসময় নিরপরাধ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ভয় ও অস্থিতিশীলতা ছড়াতে চায়। একটি শক্তিশালী মধ্যপ্রাচ্য গড়ে তুলতে আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে সব দেশকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি সৌদি আরবে হুথিদের হামলা মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। গত শনিবার রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলায় বিভিন্ন দেশের ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। এর পাশাপাশি চলতি অক্টোবর মাসের ৫ তারিখ থেকে সৌদির পাঁচটি বিমানবন্দরে অন্তত ১০টি পৃথক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে এ পর্যন্ত ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন। এসব হামলায় বিমান চলাচলের পাশাপাশি দেশটির অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মূলত গত জুলাই থেকে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী ও সৌদি সামরিক বাহিনীর মধ্যে নতুন করে এই তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়, যার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে সৌদির বেসামরিক বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোগুলো।
/আশিক
রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা: মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপদ আশ্রয়ের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলা দেশটির বহুল প্রচলিত নিরাপদ ভাবমূর্তি এবং অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মাঝেও রিয়াদকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল ও বিনিয়োগের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরার যে প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল সৌদি প্রশাসন, এই হামলা তাতে মারাত্মক ধাক্কা দিয়েছে।
শনিবারের ওই হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। নিহতদের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও সিরিয়ার নাগরিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশের একজন ধর্মীয় নেতাও রয়েছেন। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার দ্বিতীয় দফার হামলায় আরও একজন নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন। এর ফলে দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী পরিবারগুলোর মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ নাগরিক বিলাল ও মোহাম্মদসহ অনেক প্রবাসী মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বেসামরিক বিমানবন্দর ও জনবহুল স্থানে এমন হামলার পর পরিবার নিয়ে ভবিষ্যতে সেখানে থাকা নিরাপদ হবে কি না, তা নিয়ে তারা নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন।
শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তাই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে সৌদির ভাবমূর্তিও এখন প্রশ্নের মুখে। আগামীতে দেশটির বড় বিনিয়োগ সম্মেলন ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সাম্প্রতিক এই হামলা এবং হরমুজ প্রণালির সংকটের কারণে রিয়াদের অর্থনৈতিক রূপকল্প মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি জোটের ভূমিকা এবং সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলেই এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত নতুন মোড় নিয়েছে।
এদিকে এই সংকটের মাঝে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েনও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য—যে সৌদি আরব নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই রক্ষা করতে সক্ষম—রিয়াদকে আরও হতাশ করেছে। দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নিরাপত্তা নির্ভরতার পর বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব নিজেদের কৌশলগত মিত্র খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে। তারই প্রতিফলন হিসেবে গত আগস্টে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র গুরুত্ব এখন অনেক বেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে হুথিদের এই আগ্রাসন কেবল সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকেই কাঁপিয়ে দেয়নি, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে এক নতুন সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন থেকে অনূদিত
হামলার পূর্বভাস কেন দেওয়া হলো না? সৌদি সরকারের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলায় হতাহতের বড় ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এসব হামলায় ১৮ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব হামলার ঠিক কয়েকদিন আগেই সাধারণ নাগরিকদের আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার সরকারি ব্যবস্থাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে সাম্প্রতিক অন্তত চারটি বড় হামলার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পূর্বসতর্কতা পাননি সাধারণ মানুষ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, আগাম সতর্কবার্তা না দেওয়ার এই বিষয়টি সৌদি সরকারের চরম দুর্বলতা এবং বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আরব ও পশ্চিমা বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেও সবকিছু স্বাভাবিক দেখানোর এক ধরনের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে সৌদি সরকার। মিডল ইস্ট পলিসি কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ আবাসিক ফেলো সুলতান আলামের ভাষায়, সৌদি প্রশাসন মূলত ‘দুই কূল রক্ষা করতে চাইছে’—একদিকে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে চায়, অন্যদিকে দেশি-বিদেশি অংশীজনদের আস্থা ধরে রাখতে চায়। তবে রয়টার্স এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সিভিল ডিফেন্স ও সরকারি মিডিয়া অফিসে যোগাযোগ করলেও তাদের তরফ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই কৌশল শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হতে পারে, কারণ আগাম সতর্কবার্তা না থাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এদিকে দীর্ঘ বিরতির পর গত সোমবার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ রিয়াদ ও দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোতে নতুন করে সম্ভাব্য হুমকির সতর্কতা জারি করেছে। তবে রিয়াদের সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসন কিছু স্পষ্ট করেনি।
দেশের বিশাল ভৌগোলিক আয়তন এবং প্রতিরক্ষা ঘাটতির কথাও স্বীকার করেছেন বিশ্লেষকরা। সরকারঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলী শিহাবি জানিয়েছেন যে, দেশটির বিশাল পরিসরে অসংখ্য বিমানবন্দর, পাইপলাইন ও তেল স্থাপনা রয়েছে এবং সেগুলোর সব একসঙ্গে রক্ষা করার মতো পর্যাপ্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বা ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি রয়েছে।
এতসব নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি ও হামলার মধ্যেও সৌদি আরব যে স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর, তার প্রমাণ মিলেছে সাম্প্রতিক জ্বালানি সম্মেলনে। হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার দেশটিতে একটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। যদিও সেখানে শীর্ষ তেল কোম্পানির নির্বাহীরা অংশ নেননি, তবে সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যুবরাজের ভাই ও দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান স্বীকার করেন যে ঝুঁকির পুরোপুরি অবসান হয়নি। তবুও আন্তর্জাতিক অতিথিদের উদ্দেশে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান যে দেশ নিরাপদ রয়েছে এবং সৌদি সরকার তাদের অর্থনৈতিক রূপকল্প ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোনো সুযোগই হাতছাড়া করবে না।
/আশিক
ন্যাটো ভূখণ্ডে হামলা হলে সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি কমান্ডারের
ইউরোপে ন্যাটোর সদস্যভুক্ত কোনো দেশের ভূখণ্ডে রাশিয়া যদি সামরিক আগ্রাসন চালায়, তবে জোটটির সামরিক শক্তি সেই হামলার সঙ্গে জড়িত সবকিছু সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ন্যাটোর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকিউইচ। সোমবার (১২ অক্টোবর) পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে অনুষ্ঠিত এক নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, মস্কো যদি এমন কোনো বোকামি করে বসল, তবে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ ও অর্থহীন হবে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর জেনারেল গ্রিনকিউইচ বর্তমানে ন্যাটোর ‘সুপ্রিম অ্যালায়েড কমান্ডার ইউরোপ’-এর দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। ওয়ারশ নিরাপত্তা ফোরামে ন্যাটোর বিজয়ের নিজস্ব রণকৌশল তুলে ধরে তিনি বলেন, ন্যাটো মূলত একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট হলেও জোটভুক্ত কোনো একটি দেশের ওপরও যদি কোনো ধরনের হামলা চালানো হয়, তবে সেই আক্রমণ শুধু প্রতিহতই করা হবে না, বরং হামলাকারীকে সম্পূর্ণরূপে দুর্বল ও অকার্যকর করে দেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার উত্তেজনা ক্রমশ চরম রূপ ধারণ করেছে। ইউরোপীয় সরকারগুলোর পক্ষ থেকে বরাবরই অভিযোগ করা হচ্ছে যে, রাশিয়া সুপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ড্রোনের অনুপ্রবেশ, নাশকতা এবং সাইবার হামলার মাধ্যমে তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর আগে গত মাসেও রাশিয়া কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল যে, ন্যাটো যদি তাদের বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদ অবরুদ্ধ করার কোনো অপচেষ্টা চালায়, তবে মস্কো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে পিছপা হবে না।
যদিও ওয়ারশ নিরাপত্তা ফোরামে দেওয়া বক্তৃতায় গ্রিনকিউইচ সরাসরি রাশিয়ার নাম উচ্চারণ করেননি, তবে তার এই প্রকাশ্য সতর্কবার্তা যে পুরোপুরি মস্কোকে উদ্দেশ্য করেই ছিল, তা স্পষ্ট। উল্লেখ্য, ন্যাটোর ২০২২ সালের কৌশলগত ধারণাপত্রে রাশিয়াকে জোটের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
জেনারেল গ্রিনকিউইচ দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, ‘কেউ যদি আমাদের ওপর আক্রমণ করার মতো বড় কোনো বোকামি করে বসে, তবে আমরা তার উপযুক্ত জবাব দেব। আমরা সেই হামলা তাৎক্ষণিকভাবে থামিয়ে দেব এবং হামলাকারীকে তাদের কোনো লক্ষ্য অর্জনে পুরোপুরি ব্যর্থ করে দেব। সংক্ষেপে বলতে গেলে, যেকোনো মিত্রের ওপর যেকোনো ধরনের হামলাকে আমরা সম্পূর্ণ অর্থহীন করে তুলব।’
প্রয়োজনে এই পাল্টা জবাব কেবল সীমান্তবর্তী সংঘাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আরও ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী রূপ নিতে পারে বলে মস্কোকে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন এই শীর্ষ কমান্ডার। তিনি জানান, শত্রুপক্ষ যদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত বা রিজার্ভ বাহিনী মোতায়েন করতে চায়, তবে তাদের গোটা যুদ্ধ পরিচালনা ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
গ্রিনকিউইচ আরও যোগ করেন, ‘এই ধ্বংসযজ্ঞের আওতায় কেবল সরাসরি আক্রমণকারী বাহিনীই থাকবে না, বরং যে শক্তিগুলো ওই বাহিনীকে পেছন থেকে সহায়তা করে, টিকিয়ে রাখে এবং সার্বিক নিয়ন্ত্রণ পরিচালনা করে—তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবকিছুই গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।’
সূত্র : রয়টার্স
রিয়াদের মধ্যাঞ্চলে আবার বিকট বিস্ফোরণের শব্দ, আতঙ্ক
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মধ্যাঞ্চলে আবারও বিকট বিস্ফোরণের বিকট শব্দ পাওয়া গেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার পরপরই বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হয়নি। এটি সরাসরি কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নাকি সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আগত কোনো হামলা প্রতিহত করার ঘটনা—সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর ঠিক একদিন আগে, শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় ১২ জন নিহত এবং অন্তত ৩০৯ জন আহত হন, যাদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্যান্য দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি পাঁচজন সৌদি নাগরিকও ছিলেন। এই প্রাণহানির পাশাপাশি বিমানবন্দরের পরিকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যার প্রকৃত পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা হচ্ছে। উক্ত ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দরটিতে আপাতত ফ্লাইট ওঠানামা স্থগিত করা হয়।
শনিবারের বিমানবন্দর হামলার জবাবে রোববার ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাজধানী সানার বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে শক্তিশালী বিমান হামলা চালায় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। আর এই বিমান হামলার প্রায় এক ঘণ্টার মাথায় রিয়াদ শহর জুড়ে আবারও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে।
উল্লেখ্য, বিগত প্রায় দুই মাস ধরে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে ক্রমাগত হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। দুই পক্ষের এই সামরিক উত্তেজনায় কৌশলগত সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি সাধারণ বেসামরিক মানুষও হতাহতের শিকার হচ্ছেন।
সূত্র: আলজাজিরা
রাশিয়া-ইউক্রেন জ্বালানি যুদ্ধবিরতির দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের
রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বিষয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
নিজের পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, এখন থেকেই রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামো সংক্রান্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে। উভয় দেশই এই সমঝোতায় সম্মত হয়েছে এবং কোনো পক্ষই এটি লঙ্ঘন করবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে এই জ্বালানি যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের বিষয়ে রাশিয়া (মস্কো) বা ইউক্রেন (কিয়েভ)—কোনো পক্ষ থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যদি ৬০ দিনের একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হন, তবে ইউক্রেনে সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করা হবে। ট্রাম্পের একাধিক সমালোচনার জবাবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসির ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। জেলেনস্কি জানান, পুতিন দুই মাসের জন্য সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি দিলে ইউক্রেন নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত।
এর আগে জেলেনস্কি আরও ইঙ্গিত দেন যে, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের সার্বিক জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ রাখে, তবে কিয়েভও রুশ তেল শোধনাগারগুলোতে পাল্টা আক্রমণ চালানো বন্ধ করতে সম্মত রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, উত্তেজনা কমানোর যেকোনো পদক্ষেপ হতে হবে দ্বিপাক্ষিক এবং এর পেছনে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার নিরেট নিশ্চয়তা থাকতে হবে।
উল্লেখ্য, জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ইরান সংঘাতের চেয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকেই বেশি দায়ী করছেন ট্রাম্প। এই প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে একটি জ্বালানি সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেন ট্রাম্প, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে সম্মত হয়েছে মস্কো। তবে এই সমঝোতাকে পুতিনের জন্য একটি বড় সুবিধা বা ‘উপহার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি। তাঁর মতে, রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির সুযোগ দিলে যুদ্ধ পরিচালনায় ক্রেমলিনের রাজস্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।
সূত্র : রয়টার্স
হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী সুপারট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও আগুন
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে একটি অপরিশোধিত তেলবাহী সুপারট্যাংকারে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর নিশ্চিত করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। তেহরানের দাবি, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তাবিধি অমান্য করে এবং নিজেদের অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বা ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রেখে নিষিদ্ধ পথ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় সমুদ্রের মাইনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহের-এর বরাতে পার্সটুডে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসির নৌবাহিনী এক জরুরি বিবৃতিতে জানায় যে নিয়ম ভঙ্গকারী তেলবাহী জাহাজটি মাইনের সঙ্গে আঘাত পাওয়ার পর তাতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে। উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দারাও দূর থেকে এই আগুনের তীব্র শিখা প্রত্যক্ষ করেছেন বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির নাম, এটি কোন দেশের পতাকাবাহী, জাহাজে কতজন নাবিক অবস্থান করছিলেন কিংবা এই ঘটনায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না—সে বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো বিবরণ দেওয়া হয়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য আন্তর্জাতিক নৌযানগুলোকে কড়া বার্তা দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রণালির নৌচলাচল সংক্রান্ত নির্দেশনা উপেক্ষা করে অনিয়ম করার চেষ্টা করলে অন্যান্য জাহাজগুলোকেও এই ধরনের মারাত্মক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
উল্লেখ্য, বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ, যা দিয়ে প্রতিদিন বিশ্ববাজারের বড় একটি অংশের অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামুদ্রিক চলাচলে যেকোনো ধরণের ব্যাঘাত বা অস্থিরতা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরণের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে উক্ত সুপারট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও এর নেপথ্য কারণ নিয়ে তেহরানের দাবিকৃত তথ্যের সতত্য এখনো কোনো স্বাধীন বা আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ উৎস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পার্সটুডে
আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম বদলে ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ রাখার প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্টের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আটলান্টিক অথবা প্রশান্ত মহাসাগরের যেকোনো একটির নাম পরিবর্তন করে সেটির নাম ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ কিংবা ‘আমেরিকা মহাদেশগুলোর মহাসাগর’ রাখার অভিনব ও বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (১০ অক্টোবর) টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ক্লার্কসভিলে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।
সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের নামে একটি বড় মহাসাগর এবং একটি নদীর নামকরণ করা উচিত। তাঁর মতে, উপসাগর ও হ্রদ ছাড়াও মার্কিন ভূখণ্ডের নামে একটি নদী ও মহাসাগর থাকা প্রয়োজন। তিনি রসিকতার সুরে আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম বদলে নিজের নামানুসারে ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ অথবা ‘আমেরিকা মহাদেশগুলোর মহাসাগর’ রাখার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তাঁর এই মন্তব্যে সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকেরা হাসে এবং হাততালি দিয়ে সাধুবাদ জানান।
এর আগেও ভৌগোলিক নামের পরিবর্তনের এমন একাধিক নজির সৃষ্টি করেছেন ট্রাম্প। গত বছর তিনি মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখেন। এই একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে মেক্সিকোর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং নতুন নাম ব্যবহার না করায় সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সাথেও তাঁর চরম বিরোধ বাধে। এছাড়া গত আগস্টে বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে নিউ ইয়র্ক ও কানাডার মধ্যবর্তী অন্টারিও হ্রদের নাম পাল্টে ‘আমেরিকা হ্রদ’ রাখেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে সাধারণত জলভাগ ও ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তন করা সম্ভব হয়। এর ফলে বেসরকারি অনলাইন মানচিত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও সাধারণত ট্রাম্পের ঘোষণা করা নতুন নামগুলোই ব্যবহার করে থাকে।
তবে শনিবারে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দেন যে তিনি নিজ অঙ্গরাজ্য নিউইয়র্কের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহাসিক হাডসন নদীর নাম পরিবর্তন করবেন না। অভিযাত্রী হেনরি হাডসনের নামে নামকরণ করা এই নদীর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানান যে নদীটি যেভাবে আছে সেভাবেই থাকবে। পাশাপাশি, টেনেসি অঙ্গরাজ্যের পশ্চিম সীমানা নির্ধারণকারী মিসিসিপি নদীর নামও পরিবর্তন করবেন না বলে জানান তিনি। ওই অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী লড়াইয়ে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হওয়ায় মিসিসিপির প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
এর আগে গত মাসে তিনি নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘নিউ আমেরিকা’ নামকরণের প্রস্তাব দিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। যদিও অঙ্গরাজ্যটির নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার ও কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। গত সপ্তাহে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি জানান যে বিষয়টি পুরোপুরি নিউ মেক্সিকোর স্থানীয় বাসিন্দাদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে এবং তিনি এ নিয়ে কোনো অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করবেন না, যদিও প্রস্তাবটি অনেকেরই বেশ পছন্দ হয়েছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- লোকসভার বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধীর আমন্ত্রণে বিশেষ বৈঠকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা
- ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় শেখ হাসিনাকে দায়ী করলেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান
- বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা ও সহিংসতার বিচার চেয়ে সাদপন্থিদের ৬ দফা দাবি
- জেএফকে বিমানবন্দরে হেনস্তার পর ড. ইউনূসকে নিয়ে বড় আপডেট দিলেন লামিয়া মোর্শেদ
- সানায় আক্রমণের পাল্টা জবাবে সৌদির ৩ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের হামলার হুশিয়ারি
- আত্মপ্রকাশের দুই বছরে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি
- বোলারদের ব্যর্থতা ও ক্যাচ মিসে জয় হাতছাড়া নাজমুল হোসেন শান্তদের
- প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যে ফলগুলো ভিটামিন সি-এর ঘাটতি মেটায়
- ২০২৭ সালে কবে শুরু রোজা? সম্ভাব্য তারিখ জানাল আমিরাত
- জনমতের আশঙ্কায় ইসরায়েলি সহায়তা নিতে নারাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
- আর কখনো ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্তে চুয়েট ছাড়লেন নতুন উপাচার্য
- রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা: মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপদ আশ্রয়ের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা
- আবহাওয়ার নতুন বার্তায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস
- দিল্লিতে আটক নারী আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ
- বিএনপি জনগণের সরকার হতে পারেনি, নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে: সারজিস আলম
- হামলার পূর্বভাস কেন দেওয়া হলো না? সৌদি সরকারের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন
- যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা: তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ ডা. শফিকুর রহমানের
- ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটের সব ফ্লাইট স্থগিত করল বিমান
- দিল্লিতে ২০ হাজার আধাসামরিক বাহিনী আরও এক মাস রাখার সিদ্ধান্ত
- চোরের মন পুলিশ-পুলিশ: জামায়াত আমিরের রহস্যময় ফেসবুক পোস্টে তোলপাড়
- মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- ন্যাটো ভূখণ্ডে হামলা হলে সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি কমান্ডারের
- বিচ্ছেদের পরও সাবেক স্ত্রীর নতুন জীবনের পাশে স্পাইডার-ম্যান
- মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর তদবির চলছে: ববি হাজ্জাজ
- ওজন ও ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে ঘরেই বানিয়ে ফেলুন সুস্বাদু তিন ধরনের সালাদ
- রাশিয়ার ডিজেল চুক্তির পরও আন্তর্জাতিক বাজারে ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম
- ধর্মের ভিত্তিতে নয়, নাগরিক হিসেবে অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী
- কত পুলিশ আনবেন আনুন, ভয় পাই না: অমিত শাহকে রাহুল গান্ধীর কড়া বার্তা
- সর্বকালের সেরা কে? নিজেই নিজের নাম ঘোষণা করলেন রোনালদো
- ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা পেতে পিএমটি স্কোর কত লাগবে?
- চুয়েটের ভিসি একজন গুন্ডা: সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিস্ফোরক হাসনাত আবদুল্লাহ
- ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
- সিপিআই রিপোর্টের অপেক্ষায় বিশ্ববাজার: স্বর্ণের দামে নতুন অস্থিরতা
- ৪৭৯ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তারা করতে নেমে চাপে আফগানিস্তান
- ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রতিবাদে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট
- চাঁদাবাজ ও দখলদারদের ঠাঁই বিএনপিতে নেই: তারেক রহমানের কড়া হুশিয়ারি
- রিয়াদের মধ্যাঞ্চলে আবার বিকট বিস্ফোরণের শব্দ, আতঙ্ক
- রাশিয়া-ইউক্রেন জ্বালানি যুদ্ধবিরতির দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের
- পারমাণবিক হুমকির কাছে মাথা নোয়াবে না ভারত: জাতিসংঘে কড়া বার্তা
- জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা সঠিকভাবে খরচের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- আসিফ মাহমুদের ফেসবুক পোস্ট ভারতে ব্লক, সাইবার আক্রমণের অভিযোগ
- হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী সুপারট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও আগুন
- টেকসই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করছে বাংলাদেশ
- সাজেক পর্যটন কেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা প্রশাসনের
- আবুধাবি টেস্টে শান্ত ও মুশফিকের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ
- পবিত্র ভূমির সম্মান ক্ষুণ্ণ করার পরিণতি ভয়ংকর: মিজানুর রহমান আজহারী
- কন্যাশিশুর শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী
- এএফএ সভাপতি ও রিভার প্লেট প্রধানের দ্বন্দ্বে উত্তাল আর্জেন্টিনার ফুটবল
- বহুল আলোচিত আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলার আইনি কার্যক্রমে নতুন মোড়
- আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম বদলে ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ রাখার প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্টের
- মন ভালো রাখতে দৈনন্দিন জীবনে যে ছোট্ট পরিবর্তনগুলো আনা জরুরি
- জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার পথে রূপপুরের প্রথম ইউনিট
- ঢাবিতে শান্তি বৈঠক রূপ নিল সংঘর্ষে: সূর্যসেন ও জহুরুল হক হলের ৪ জন গুরুতর আহত
- মধ্যপ্রাচ্যের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্যে জানা গেল রোজা শুরুর সম্ভাব্য সময়
- ভোটাধিকার রক্ষায় দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিল ইন্ডিয়া জোট
- হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী সুপারট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও আগুন
- যন্তর মন্তরে তুলকালাম: পুলিশি বাধা ঠেলে রাজপথে ধর্নায় রাহুল-প্রিয়াঙ্কা
- হামলা হলে আরও ভয়াবহ জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের, অস্ত্র উৎপাদন বাড়ল আড়াই গুণ
- ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পৌঁছাবে সরকার: এক বছরব্যাপী ক্যাম্পেইনের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
- বিশ্বজুড়ে মহাবিপর্যয়ের সংকেত: সতর্কবার্তা দিল জাতিসংঘ
- ফেডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিশ্ববাজার: দরপতনের মুখে স্বর্ণের দাম
- উচ্চদক্ষ প্রবাসীদের জন্য বড় স্বস্তি: কাজের ভিসার সাথেই মিলবে সৌদি পরিবারের এন্ট্রি ভিসা
- ভারতীয় চলচ্চিত্রে গভীর শোকের ছায়া: হঠাৎ থমকে গেল এক রূপালী পথচলা
- শ্বাসনালির জমে থাকা মিউকাস দূর করতে পেঁয়াজ ও অলিভ অয়েলের জাদুকরী মিশ্রণ
- আবরারের রক্তে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য ও গণপ্রতিরোধের জন্ম: রুহুল কবির রিজভী








