অগ্নিঝরা মার্চের সূচনা: বাঙালির অদম্য প্রত্যয়ের মাস শুরু

আজ পহেলা মার্চ। শুরু হলো বাঙালির জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গৌরব, বেদনা এবং অদম্য প্রত্যয়ের অধ্যায় ‘স্বাধীনতার মাস’। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর—প্রতিটি ধাপে বাঙালির যে আত্মত্যাগ, তারই সূচনালগ্ন এই মার্চ। ১৯৪৭-এ ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাঁতাকলে পিষ্ট হওয়া পূর্ব বাংলার মানুষের বঞ্চনার ইতিহাস এই মাসেই চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল। জনসংখ্যায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও রাজনীতি, অর্থনীতি আর সামরিক বাহিনীতে পশ্চিম পাকিস্তানিদের একচ্ছত্র আধিপত্যের বিরুদ্ধে বাঙালির যে লড়াই, তা এই মার্চ মাসেই ‘স্বাধীনতার সংগ্রামে’ রূপ নেয়।
১৯৬৬-এর ছয় দফা আর ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের ঢেউ আছড়ে পড়েছিল ৭০-এর নির্বাচনে। কিন্তু গণতান্ত্রিক রায় মেনে ক্ষমতা হস্তান্তরে পশ্চিম পাকিস্তানিদের টালবাহানা আর ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ১৯৭১-এর মার্চ মাস হয়ে ওঠে অগ্নিগর্ভ। ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা— ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’—বাঙালিকে যুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করে দিয়েছিল। এরপর ২৫ মার্চের সেই ভয়াল কালো রাত ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর বর্বরতা বিশ্ববিবেককে কাঁপিয়ে দেয়। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণার পর কালুরঘাট থেকে ২৭ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা মুক্তিপাগল বাঙালিকে দিয়েছিল সশস্ত্র যুদ্ধের অনুপ্রেরণা।
নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা আমাদের আত্মপরিচয়ের শিকড়। এই মাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই জাতির মুক্তির একমাত্র পথ। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে এসেও এই মাস বাঙালির হৃদয়ে একই রকম আবেগ আর প্রতিজ্ঞার সঞ্চার করে। এই মাস কেবল স্মৃতিচারণ নয়, বরং সাম্য, গণতন্ত্র এবং মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক নতুন অঙ্গীকার। পহেলা মার্চের এই প্রভাতে পুরো জাতি বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে সেইসব বীরদের, যাদের রক্তে লেখা হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র।
/আশিক
১ জুলাইয়ের ডেডলাইন ধরে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়, চূড়ান্ত পর্যায়ে নবম পে স্কেল
দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১লা জুলাই থেকে দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘নবম জাতীয় পে স্কেল’। নতুন এই বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকুরিজীবীদের পাশাপাশি আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্যও বড় ধরনের সুখবর আসছে। মূলত নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনতেই সরকার এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।
গত ২১শে মে সচিবালয়ে নবম পে স্কেল নির্ধারণে গঠিত সচিব কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নীতি-নির্ধারণী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই পে স্কেলে ওপরের স্তরের কর্মকর্তাদের তুলনায় নিচের স্তরের (বিশেষ করে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের) কর্মচারীদের মূল বেতন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বেতনের অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবধান বা বৈষম্য উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে এই সভায় বিশেষ সুপারিশ রাখা হয়েছে।
নতুন এই জাতীয় পে স্কেলের আওতায় সব পর্যায়ের সরকারি চাকুরিজীবী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এর মধ্যে সাধারণ ও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী এবং বিচার বিভাগের সব স্তরের কর্মীরা রয়েছেন। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্যও সরকার একটি সমন্বিত গাইডলাইন তৈরি করছে, যাতে তারাও এই নতুন কাঠামোর সুফল সমানভাবে ভোগ করতে পারেন।
বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন সুবিধাতেও বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা বর্তমানে জাতীয় অর্থনীতি ও বাজারদরের তুলনায় কম পেনশন পাচ্ছেন, তাদের মাসিক পেনশন ১০০ শতাংশ বা দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে সচিব কমিটির সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যেসব পেনশনার বর্তমানে ২০ হাজার টাকার নিচে সুবিধা পাচ্ছেন, নতুন স্কেল কার্যকর হলে তারাই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন।
আগামী ১লা জুলাইয়ের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নতুন পে স্কেল পুরোপুরি কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো দ্রুত গতিতে ফাইল ও প্রশাসনিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে এবং সরকারি চাকুরিতে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে এটি একটি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।
/আশিক
মির্জা ফখরুল ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে মাজার জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা, স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর পবিত্র সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার (৩০ মে) সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতির মাজারে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা একযোগে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে নেতারা পবিত্র ফাতিহা পাঠ করেন এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। মোনাজাতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিদেহী রুহের মাগফিরাত কামনা করার পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণ ও অগ্রগতি প্রার্থনা করা হয়।
উচ্চপর্যায়ের এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ দল ও সরকারের বিভিন্ন স্তরের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারকরা।
এদিকে, প্রিয় নেতার আগমন ও প্রতিষ্ঠাতার শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জিয়া উদ্যান ও তার আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীর ঢল নামে। রাজধানীর বিজয় সরণি মোড় থেকে শুরু করে জিয়া উদ্যান পর্যন্ত মূল সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন বিপুল সংখ্যক উৎসুক সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মী। তাদের হাতে ছিল দলীয় ও জাতীয় পতাকা, কালো ব্যাজ এবং জিয়াউর রহমানের ছবি সংবলিত নান্দনিক ব্যানার ও ফেস্টুন। স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো শেরেবাংলা নগর এলাকা।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি, জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষক দল এবং শ্রমিক দলসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে সংগঠনের নিজস্ব ব্যানার নিয়ে মূল কর্মসূচিতে অংশ নেন। শাহাদাতবার্ষিকীর এই কর্মসূচীকে ঘিরে জিয়া উদ্যান এলাকায় যেমন এক আবেগঘন উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়, তেমনি যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল কঠোর ও নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
মাজার জিয়ারত ও মোনাজাতের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে টি অ্যান্ড টি খেলার মাঠ সংলগ্ন এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে সুবিধাবঞ্চিত ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী এবং বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এছাড়া পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ দিনের বাকি সময় জুড়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে আয়োজিত দলীয় ও সামাজিক মানবসেবামূলক কর্মসূচিতেও সশরীরে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী।
/আশিক
শহীদ জিয়ার স্বনির্ভর উন্নয়ন ভাবনা নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণার উৎস: রাষ্ট্রপতি
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাদাসিধে নির্মোহ জীবন, বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ও প্রশ্নাতীত সততা জনগণের মণিকোঠায় চিরজাগরূক থাকবে বলে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি ও দূরদর্শী এই রাষ্ট্রনায়কের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে রাষ্ট্রপ্রধান এই মন্তব্য করেন।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, শহীদ জিয়ার কর্মময় জীবন, অগাধ দেশপ্রেম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর নীতি, ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠায় অটলতা, স্বনির্ভর উন্নয়ন ভাবনা এবং জীবন আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
রাষ্ট্রপ্রধান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০শে মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি নির্মমভাবে শহীদ হন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এই বীর সেনানায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে তাঁর অসামান্য অবদান জাতি সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর বাণীতে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের উষালগ্নে ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে জিয়াউর রহমান পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। তাঁর এই আহ্বান ও স্বাধীনতার ঘোষণা সমগ্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছিল। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও অবদানের জন্য তিনি পরবর্তীতে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বাক-ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, স্বনির্ভরতা অর্জন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে তিনি বহুমুখী পরিকল্পনা ও যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল একটি উৎপাদনমুখী ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশের বিশাল শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি অত্যন্ত স্বল্প সময় পেলেও গভীর দেশপ্রেম, ন্যায়পরায়ণতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে দেশকে যেভাবে এগিয়ে নিয়েছেন, তা আজও এক সমুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে বলে বাণীতে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
/আশিক
শহিদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে বিএনপির আট দিনের কর্মসূচি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি, স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহিদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ। ১৯৮১ সালের ৩০শে মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের অনাকাঙ্ক্ষিত হামলায় নির্মমভাবে নিহত হন তৎকালীন এই রাষ্ট্রপ্রধান। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর শোকের এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
জিয়াউর রহমানের এই শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২৫শে মে থেকে আগামী ১লা জুন পর্যন্ত মোট আট দিনব্যাপী বিস্তৃত এক স্মরণ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কেন্দ্রীয় এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কালো পতাকা উত্তোলন, বিশেষ আলোচনা সভা, জিয়াউর রহমানের জীবনীভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল এবং অসচ্ছল ও দুস্থ মানুষের মাঝে ব্যাপক আকারে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।
আজ শনিবার (৩০ মে) ভোর ৬টায় নয়াপল্টনে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সব পর্যায়ের দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং শোকের প্রতীক কালো পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে বিএনপি। এরপর বেলা ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের পবিত্র সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বে তাঁর সঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ অন্য জ্যেষ্ঠ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। সমাধি প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকাল ৩টায় রাজধানী জুড়ে দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নেবে দলটি।
সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ করে বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের টি অ্যান্ড টি খেলার মাঠ সংলগ্ন এলাকায় দুস্থ মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে রাজধানীর আরও ১৬টি ভিন্ন ভিন্ন স্পটে আয়োজিত ত্রাণ ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে সশরীরে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তাঁর।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বেলা ১১টায় সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট মাজার সংলগ্ন এলাকায় আইনজীবীদের উদ্যোগে আয়োজিত দুস্থদের মাঝে বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন রুহুল কবির রিজভী।
অন্যদিকে, বেলা ১১টা ২০ মিনিটে কারওয়ান বাজারে এফডিসির প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত দলীয় এক স্মরণ ও দুস্থ সেবা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। বিএনপির মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের এসব কর্মসূচির তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া দিবসটির গুরুত্ব বিবেচনায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের অন্তর্গত প্রতিটি থানায় এবং দেশের অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা ইউনিটে অসচ্ছল মানুষের মাঝে শাড়ি, লুঙ্গি, চাল ও ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় নির্দেশনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের সব জেলা, মহানগর ও তৃণমূল ইউনিটেও আজ ৩০শে মে ভোর ৬টায় দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলনের নিয়মটি প্রতিপালিত হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সুবিধা ও ব্যবস্থাপনায় সারা দেশে দিনভর আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল এবং দুঃস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিও সমান তালে পালন করা হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল ৩১শে মে রবিবার বেলা ২টায় রাজধানীর রমনা এলাকায় অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এক বিশেষ স্মৃতি চারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করে দেশবাসীকে সশস্ত্র সংগ্রামে উজ্জীবিত করেছিলেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। তিনি মুক্তিযুদ্ধে ১ নম্বর সেক্টরের সফল সেক্টর কমান্ডার এবং প্রথম নিয়মিত ব্রিগেড ফোর্স 'জেড ফোর্স'- এর সুদক্ষ অধিনায়ক ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও রণকৌশল প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ তৎকালীন সরকার তাঁকে রাষ্ট্রের অন্যতম সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব 'বীর উত্তম'- এ ভূষিত করে। এছাড়া পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাজনীতির পটভূমি তৈরি করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।
১৯৩৬ সালের ১৯শে জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগমারা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন জিয়াউর রহমান। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষে দেশের এক চরম রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটের মাঝে ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন এবং পরবর্তীতে গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।
বাংলাদেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্প্রবর্তন করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তাঁর রাষ্ট্র পরিচালনার শাসনামলে বাংলাদেশের কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে দেশব্যাপী স্বনির্ভর 'খালকাটা কর্মসূচি'র মাধ্যমে। এছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ববাজারে দেশের শ্রমশক্তি বা জনশক্তি রফতানির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছিলেন তিনি। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক সংহতি বৃদ্ধির লক্ষে গঠিত বহুজাতিক সংস্থা 'সার্ক' প্রতিষ্ঠার মূল স্বপ্নদ্রষ্টা এবং রূপকারও ছিলেন দূরদর্শী এই রাষ্ট্রনায়ক।
/আশিক
কঙ্কর নিক্ষেপ শেষেই শুরু ফিরতি যাত্রা, জেদ্দা থেকে প্রথম ফ্লাইটে দেশে ফিরছেন হাজিরা
মিনায় পর্যায়ক্রমে তিনটি জামারাতে শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে কঙ্কর বা পাথর নিক্ষেপের ধর্মীয় রীতি সম্পন্ন করার মাধ্যমে এ বছরের পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছেন বিশ্বজুড়ে সমবেত হাজিরা। শুক্রবার (২৯ মে) এই গুরুত্বপূর্ণ পর্বের সমাপ্তি ঘটার পর ওই রাত থেকেই সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে হাজিদের প্রত্যাবর্তনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ উইং থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে প্রথম ফিরতি হজ ফ্লাইটটি আকাশে ওড়ে। রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইট (এসভি-৫৮০৬)-এর মাধ্যমে এ বছরের হাজিদের স্বদেশে ফিরিয়ে আনার এই কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
প্রত্যাবর্তনের প্রথম দিনেই বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ১৩টি নির্ধারিত ফ্লাইটের মাধ্যমে ৫ হাজার ৪৩৪ জন হাজি বাংলাদেশে ফিরে আসছেন। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাজিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার এই ধারাবাহিক ফিরতি হজ ফ্লাইট কার্যক্রম আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত পুরোপুরি সচল থাকবে।
এর আগে, গত ১৭ এপ্রিল ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছিল। এরপর নিয়মিত বিমান চলাচলের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী বহনকারী সর্বশেষ ফ্লাইটটি গত ২১ মে সৌদি আরবে গিয়ে পৌঁছায়।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি সরকারের বেধে দেওয়া সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই বাংলাদেশের হজযাত্রীদের মিনা ও আরাফাতে তাঁবু ভাড়া, অভ্যন্তরীণ পরিবহন চুক্তি, মক্কা-মদিনায় আবাসন ব্যবস্থা এবং দ্রুততম সময়ে ভিসা ইস্যুসহ প্রয়োজনীয় সব ধরণের প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছিল। এছাড়া হজযাত্রীদের আন্তর্জাতিক যাতায়াত যেন সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন হয়, সে জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদিয়াসহ সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
হজ প্রশাসনের দাবি, মাঠ পর্যায়ের এসব নিবিড় ও সুশৃঙ্খল প্রস্তুতির ফলেই এ বছর কোনো ধরনের বড় সময়সূচি বিপর্যয় বা ভোগান্তি ছাড়াই বাংলাদেশে নিবন্ধিত শতভাগ হজযাত্রী অত্যন্ত সফলভাবে সৌদি আরবে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন এবং একইভাবে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
/আশিক
এখন থেকে চিড়িয়াখানায় দেখা যাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল সাড়া জাগানো অ্যালবিনো জাতের আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে আজ বুধবার (২৭ মে) রাতে রাজধানী মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। জাতীয় চিড়িয়াখানার বর্তমান কিউরেটর আতিকুর রহমান গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কিউরেটর আতিকুর রহমান জানান, নারায়ণগঞ্জের রাবেয়া এগ্রো ফার্মের সেই বহুল আলোচিত ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের মহিষটিকে আজ রাতেই চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়েছে। নতুন পরিবেশে তার সুরক্ষার কথা চিন্তা করে চিড়িয়াখানার ভেতরে একটি নির্দিষ্ট শেডে সেটিকে রাখার সুব্যবস্থা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই বিশেষ মহিষটির নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও খাদ্য সরবরাহের সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
চিড়িয়াখানা সূত্র থেকে জানা গেছে, মূলত সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পকে’ জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তরের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে যে কোনো কৌতূহলী দর্শনার্থী চিড়িয়াখানায় গিয়ে এই বিরল জাতের মহিষটিকে সরাসরি দেখার সুযোগ পাবেন।
এর আগে, জননিরাপত্তা ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে পূর্ববর্তী ক্রেতাকে ক্রয়মূল্য ফেরত দিয়ে মহিষটিকে খামারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বিরল অ্যালবিনো জাতের এই মহিষটির মাথার চুল ও চোখের অবয়ব দেখতে অনেকটা বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো হওয়ায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া এলাকার রাবেয়া এগ্রো ফার্মের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই শখ করে এর নাম রেখেছিলেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
অনুরূপ নামকরণের কারণেই মূলত মহিষটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। তবে ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পাওয়ার আগেই প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষটিকে লাইভ ওজন বা প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে কিনে নিয়েছিলেন রাজধানীর জিনজিরা এলাকার ব্যবসায়ী সামির। এরপর মহিষটিকে একনজর দেখার জন্য জিনজিরার ওই এলাকায় শিশু-কিশোরসহ অসংখ্য কৌতূহলী মানুষের উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়। এমনকি বরিশাল, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন দূরবর্তী জেলা থেকেও অনেকে এই মহিষটি দেখতে ছুটে আসেন, যাদের মধ্যে কেউ কেউ মহিষটি কিনতে না পেরে প্রকাশ্যেই আফসোস ও হতাশা ব্যক্ত করেন।
দেশীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিকভাবেও ব্যাপক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। ফ্রান্সের এএফপি থেকে শুরু করে ব্রিটেনের রয়টার্স পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় সবকটি প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশেষ প্রতিবেদনে জায়গা করে নিয়েছিল বাংলাদেশের এই ভাইরাল মহিষটি।
/আশিক
ভোঁতা ছুরিতেই বাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, মাংস কাটার আগে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার উপায়
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো পশুর গোশত কাটার কাজ, যেখানে ঘরের ছোট-বড় সবাই বেশ উৎসাহ নিয়ে হাত লাগান। অনেকেই শখের বশে কিংবা প্রথমবার ছুরি হাতে নেন, আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত আবেগের কারণে একাই সব কাজ সম্পন্ন করতে চান। কিন্তু অসাবধানতাবশত এই আনন্দঘন পরিবেশের মাঝেই আচমকা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতি বছর কুরবানির ঈদের দিন রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আহত মানুষের এক বিশাল ভিড় জমে। কেবল পশুর চামড়া ছাড়ানো, মাংস টুকরো করা এবং হাড় কাটার সময় অসতর্কতার কারণে শতাধিক মানুষকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসতে হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোস্তাক আহমেদ এই বিষয়ে জানান, প্রতি বছরই কুরবানির ঈদে হাসপাতালে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য নিয়মিত দেখা যায়। হাত ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত কিংবা নানাভাবে জখম হওয়া মানুষ এই দিনে জরুরি বিভাগে চিকিৎসার জন্য ভিড় করেন।
এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তিনি জরুরি কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, মাংস কাটার মতো সংবেদনশীল কাজটি সবসময় অভিজ্ঞ ও পেশাদার কসাইদের হাতে ছেড়ে দেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। সাময়িক আনন্দ বা আবেগের বশে নিজে এই কাজ করতে গিয়ে যে শারীরিক ক্ষতি হয়, তা কাটিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে অনেক সময় দীর্ঘদিনের প্রয়োজন পড়ে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, ধারালো ছুরিতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও অভিজ্ঞদের মতে বিষয়টি সম্পূর্ণ উল্টো। মূলত ভোঁতা বা ধার কম থাকা ছুরি দিয়ে মাংস কাটতে গেলে অতিরিক্ত শক্তি বা জোর প্রয়োগ করতে হয়। এর ফলে মাংস কাটার সময় অস্ত্রের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায় এবং ছুরি হঠাৎ পিছলে গিয়ে হাত বা পায়ে গুরুতর আঘাত করে। এর বিপরীতে ধারালো ছুরি দিয়ে খুব কম চাপেই নিখুঁতভাবে কাজ করা সম্ভব হয়, যার ফলে অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতেই থাকে।
মাংস কাটার সময় সবচেয়ে বড় যে ভুলটি মানুষ করে থাকে, তা হলো কাজের মাঝখান থেকে হঠাৎ মনোযোগ সরে যাওয়া। কাটার সময়েই পাশ থেকে কেউ ডেকে উঠলে, পকেটে থাকা ফোনটি বেজে উঠলে কিংবা কেউ কিছু সাহায্য চাইলে মানুষের চোখ অন্যদিকে চলে যায় এবং ঠিক সেই মুহূর্তেই অবধারিতভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
এই ঝুঁকি এড়াতে মাংস কাটার স্থানে বসার আগে মোবাইল ফোনটি সাইলেন্ট মুডে রাখা ভালো। এর পাশাপাশি ঘরের ছোট সন্তানদের ধারালো অস্ত্র ও মাংস কাটার নির্দিষ্ট জায়গা থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে রাখতে হবে। নির্দিষ্ট কাজ সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো দিকে বা আড্ডায় মনোযোগ দেওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়।
যতই সতর্কতা অবলম্বন করা হোক না কেন, অনেক সময় দুর্ঘটনাবশত শরীর কেটে যেতেই পারে। চিকিৎসকদের মতে, কাটার পরবর্তী প্রথম পাঁচ মিনিট রোগীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই ক্ষত তৈরি হলে কোনোভাবেই আতঙ্কিত না হয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।
ডা. মোস্তাক আহমেদ এ বিষয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ধাপ তুলে ধরে বলেন, শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে প্রথমেই একটি পরিষ্কার সুতি কাপড় বা গজ দিয়ে ক্ষত স্থানটিতে শক্ত করে চাপ দিয়ে ধরে রাখতে হবে। এই চাপটি একটানা অন্তত পাঁচ থেকে দশ মিনিট বজায় রাখা জরুরি। অনেকে বারবার কাপড়টি উঠিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ হলো কি না তা দেখার চেষ্টা করেন, যা একটি ভুল পদ্ধতি। বারবার কাপড় সরালে ক্ষত স্থানে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না এবং রক্তপাত চলতেই থাকে।
চাপ দেওয়ার ফলে রক্ত পড়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে এলে জায়গাটি পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর সেখানে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম বা লোশন লাগিয়ে একটি পরিষ্কার ব্যান্ডেজ দিয়ে স্থানটি আটকে দিতে হবে। তবে ক্ষত গভীর হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পরই রোগীকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
/আশিক
কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়, মনের পশুত্বকে পরাভূত করার দীক্ষা: প্রধানমন্ত্রী
পবিত্র ঈদুল আজহার মহিমান্বিত ক্ষণে দলমত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল স্তরের নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বুধবার (২৭ মে) দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় তিনি বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর প্রতি এই ঈদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সর্বোচ্চ ত্যাগের পরাকাষ্ঠা, তাকওয়ার গৌরবময় পথনির্দেশনা এবং আত্মশুদ্ধির এক অনন্য বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে বিশ্ব মুসলিমের দ্বারে আবারও সমাগত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোরবানি মানে কেবলই কোনো পশু জবাই করা নয়; বরং মানুষের ভেতরের লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, অহংকার আর মনের সুপ্ত পশুত্বকে চিরতরে পরাভূত করার দীক্ষা নেওয়ার মাঝেই কোরবানির প্রকৃত মাহাত্ম্য ও মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে।
মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করে নিজের সবকিছু তাঁর দরবারে সমর্পণ করার এই উৎসব সবাইকে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত করবে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে পরিচালিত করবে—এটাই হোক পবিত্র কোরবানির অন্যতম প্রধান শিক্ষা।
দেশের সামর্থ্যবান নাগরিকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিন এ বছর যাদের কোরবানি করার আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য দান করেছেন, তাদের কাছে তাঁর বিনীত অনুরোধ থাকবে যেন তারা আশেপাশের অসচ্ছল প্রতিবেশীদের ভুলে না যান। সমাজে যাদের পশু কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য হয়নি, তাদের সাথে ঈদের আনন্দ এবং কোরবানির মাংস সমানভাবে ভাগাভাগি করে নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি, যা ইসলামের অন্যতম মানবিক শিক্ষা।
এর পাশাপাশি উৎসব পরবর্তী পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়েও ভিডিও বার্তায় সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে কোরবানির পশুর চামড়া যেন যথাযথ ও বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করা হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে কোরবানির পর পশুর রক্ত ও যাবতীয় বর্জ্য দ্রুত অপসারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সার্বিক সহায়তা করার অনুরোধ করেন। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে নিজস্ব উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেওয়ার তাগিদ দিয়ে বলেন, সবাই মিলে সচেতন থাকলে কোরবানির দিনেই সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ফেলা সম্ভব হবে, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত জরুরি।
ভিডিও বার্তার শেষ অংশে তারেক রহমান বলেন, এই পবিত্র ঈদের দিনে কায়মনোবাক্যে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ও মানবজাতির জন্য স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা দান করেন। একই সাথে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে বিশেষ প্রার্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী।
/আশিক
কোরবানি হচ্ছে না ভাইরাল মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ফিরল খামারে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা অ্যালবিনো জাতের আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে শেষ পর্যন্ত কোরবানি দেওয়া হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বিশেষ হস্তক্ষেপে মহিষটিকে নতুন ক্রেতার কাছ থেকে ফেরত এনে পুনরায় নারায়ণগঞ্জের আদি খামারেই পুনর্বাসন করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২৭ মে) সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তটির কথা নিশ্চিত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিরল জাতের এই মহিষটিকে কেন্দ্র করে কৌতূহলী মানুষের অতিরিক্ত সমাগম এবং এর ফলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সার্বিক জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে কেরানীগঞ্জের ওই ক্রেতাকে তার দেওয়া পুরো টাকা বুঝিয়ে দিয়ে মহিষটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের এই মহিষটিকে কোনো ধরনের জবাই বা কোরবানি না করে আগের মতোই খামারে রেখে নিয়মিত লালন-পালন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট খামার কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া এলাকায় অবস্থিত রাবেয়া এগ্রো ফার্মে প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই অ্যালবিনো বা শ্বেতবর্ণের মহিষটি বড় করা হয়। সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী সাদা রঙের লোম এবং মাথার অভিনব চুলের স্টাইলের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে এটি বিশেষভাবে নজর কাড়ে। এর বাহ্যিক অবয়ব ও চুলের ধরণ অনেকটা বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো মনে হওয়ায় খামারিরা শখ করে এর নাম রেখেছিলেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
নামকরণের পর থেকেই মহিষটি ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর থেকেই প্রতিদিন দেশের দূর-দূরান্ত থেকে শত শত উৎসুক মানুষ মহিষটিকে একনজর দেখতে ওই খামারে এসে ভিড় জমাতে শুরু করেন। শুধু দেশের মূলধারার গণমাধ্যমই নয়, ফ্রান্সের এএফপি এবং ব্রিটেনের রয়টার্সের মতো শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থাগুলোতেও এই ভাইরাল মহিষটিকে নিয়ে বিশেষ সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল।
তথ্য সূত্র: যমুনা টেলিভিশন
পাঠকের মতামত:
- ১ জুলাইয়ের ডেডলাইন ধরে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়, চূড়ান্ত পর্যায়ে নবম পে স্কেল
- মির্জা ফখরুল ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে মাজার জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর
- মাংস খাওয়ার পর বমি ও তীব্র পেট ব্যথা? অবহেলা করলে হতে পারে জীবনঝুঁকি
- শহীদ জিয়ার স্বনির্ভর উন্নয়ন ভাবনা নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণার উৎস: রাষ্ট্রপতি
- কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, ট্রাম্পের নতুন যুদ্ধ হুঁশিয়ারি
- দুপুরের মধ্যে ৫ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- বিয়ের মৌসুমে সোনা ও রুপার বাজারে আগুন, অলঙ্কার কিনতে পকেটে টান ক্রেতাদের
- ৩০ মে ২০২৬: ঢাকা ও দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরের নামাজের সঠিক সময়ঘণ্টা
- শহিদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে বিএনপির আট দিনের কর্মসূচি
- বিকল্প লোহিত সাগর রুটেও হুথি আতঙ্ক, তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে এশিয়ার বাজার
- কঙ্কর নিক্ষেপ শেষেই শুরু ফিরতি যাত্রা, জেদ্দা থেকে প্রথম ফ্লাইটে দেশে ফিরছেন হাজিরা
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় ধস, দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আন্তর্জাতিক দর
- এখন থেকে চিড়িয়াখানায় দেখা যাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে
- একই উপজেলায় ২ শিশু খুন: বিচার ও সমবেদনা আদায়ে প্রশাসন ও সমাজের চরম বৈষম্য
- ভোঁতা ছুরিতেই বাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, মাংস কাটার আগে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার উপায়
- কট্টর ইসরায়েল-বিরোধী মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে কেন বিকল্প নেতা ভাবছিল ওয়াশিংটন?
- আগামীকাল পবিত্র ঈদুল আজহা: জেনে নিন ঈদের রাতের অপরিসীম গুরুত্ব ও ফজিলত
- কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়, মনের পশুত্বকে পরাভূত করার দীক্ষা: প্রধানমন্ত্রী
- কোরবানি হচ্ছে না ভাইরাল মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ফিরল খামারে
- জলাতঙ্ক রোগে ভুগছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ভ্যাকসিন না দিলে সুস্থ হবেন না: রাশেদ খাঁন
- আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: তদন্তে ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিট
- ইরান যুদ্ধে মেলেনি সাফল্য: সম্মানজনক বিদায়ের পথ খুঁজছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও তীব্র আকাশপথ ঝুঁকি: ফ্লাইট বাতিল করছে বিশ্বের শীর্ষ এয়ারলাইনস
- সরকারি পরিসংখ্যানে ভয়াবহ চিত্র: দুই মাসের ব্যবধানে হামের গ্রাসে সাড়ে ৫০০ শিশু
- রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ ভিআইপিদের উপস্থিতিতে মুখরিত হবে জাতীয় ঈদগাহ
- ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া নিলেই জরিমানা, মহাখালীতে কড়া হুঁশিয়ারি সেতুমন্ত্রী রবিউল আলমের
- চতুর্থ থেকে দশম গ্রেডের বেতন বৃদ্ধির খসড়া রূপরেখা: কার কত বাড়ছে?
- কুরবানির মাংস বণ্টনের সুন্নতি নিয়ম: জেনে নিন তিন ভাগের সঠিক বণ্টন পদ্ধতি
- মেসির চোট নিয়ে ধোঁয়াশা: ইন্টার মায়ামির স্বস্তির বার্তার পর স্কালোনির নতুন দুঃসংবাদ
- ঈদের দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া?
- ভঙ্গুর অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা সংকট: ১০০ দিনের মাথায় কেমন চলছে নতুন সরকার?
- ডেমোক্র্যাট ও গণমাধ্যম পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছে: ট্রাম্প
- উৎসবের মুখে ফের চড়া স্বর্ণের বাজার, জেনে নিন ২১ ও ১৮ ক্যারেটের নতুন ভরি কত
- তাড়াতাড়ি পালাও: অবৈধ বাংলাদেশিদের রাজ্য ছাড়ার কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারীর
- তীব্র গরম ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝেই শুরু হলো হজের প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ
- মন্ত্রিত্ব মানেই হীরা-জহরতের ছড়াছড়ি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- এভারেস্টে উড়ল লাল-সবুজ: তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে নুরুন্নাহার নিম্নির বিশ্বজয়
- লেবানন জুড়ে ইসরায়েলের ভয়াবহ বোমাবর্ষণ: ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার মুখে
- সাত অঞ্চলে ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস: নদীবন্দরে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে আজ পবিত্র ঈদুল আজহা: উৎসবের আমেজে কোরবানি ও ঈদ জামাত
- গরম বনাম ভারী বৃষ্টি: আর কত দিন চলবে আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা?
- শনিবার রাজধানীর ১৬ স্পটে খাদ্য বিতরণ করবে তারেক রহমান
- গুঁড়া মসলার ভিড়ে আস্ত মসলার গরুর মাংস: ঝক্কিহীন স্বাদের আড়ালে কিছু রন্ধন ত্রুটি
- জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতের মেগা প্রস্তুতি সম্পন্ন
- এআই ট্রাফিক মামলার নামে ‘ফিলিপাইনি’ ফাঁদ: ওটিপি ছাড়াই কার্ডের টাকা ওড়ানোর ছক
- জলদি জলদি ভাগো, জামাই নাকি! সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর তীব্র কটাক্ষ
- শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দাবি সস্তা ‘স্ট্যান্ডবাজি’ ছাড়া আর কিছু নয়: রিজভী
- সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা
- চুক্তি করেছেন আপনাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দায় কেন আমাদের?: আসিফ মাহমুদ
- লাশ উদ্ধারের ৫ দিনের মাথায় চূড়ান্ত অভিযোগপত্র: রামিসা হত্যায় দ্রুততম বিচারের রেকর্ড
- একটি গরুর দাম ৫৯ কোটি টাকা! গিনেস বুকে নাম তুলে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়
- রামিসা হত্যা ও ফারিয়া ধর্ষণের প্রতিবাদ: চট্টগ্রামে ফুলেশ্বরী অ্যাসোসিয়েশনের মিছিল
- রামিসা হত্যার খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
- মহিষটির চুল দারুণ! ট্রাম্পের নামে ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশটের আসল সত্য ফাঁস
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ২৬ মে ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- ভারতের উত্তর প্রদেশে কঠোর বিধিনিষেধের ঘেরাটোপে ২০২৬ সালের ঈদুল আজহা
- ৯ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় মেহেরপুরে যুবকের মৃত্যুদণ্ড
- শিশু রামিসা হত্যা মামলা বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি
- কালিগঞ্জে জমি দখলের অভিযোগ,প্রাণনাশের হুমকির দাবি
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আর্জেন্টিনার কাছে ব্রাজিলের অন্যরকম হার!
- কোরবানি হচ্ছে না ভাইরাল মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ফিরল খামারে
- দেশের চার জেলায় দুপুর ১টার মধ্যে ধেয়ে আসছে ঝড়-বৃষ্টি: আবহাওয়া অফিসের মেগা অ্যালার্ট
- আজ থেকেই কার্যকর হচ্ছে সোনা-রুপার নতুন আকাশচুম্বী দাম








