অগ্নিঝরা মার্চের সূচনা: বাঙালির অদম্য প্রত্যয়ের মাস শুরু

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০১ ১০:৪৭:১৪
অগ্নিঝরা মার্চের সূচনা: বাঙালির অদম্য প্রত্যয়ের মাস শুরু
ছবি : সংগৃহীত

আজ পহেলা মার্চ। শুরু হলো বাঙালির জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গৌরব, বেদনা এবং অদম্য প্রত্যয়ের অধ্যায় ‘স্বাধীনতার মাস’। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর—প্রতিটি ধাপে বাঙালির যে আত্মত্যাগ, তারই সূচনালগ্ন এই মার্চ। ১৯৪৭-এ ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাঁতাকলে পিষ্ট হওয়া পূর্ব বাংলার মানুষের বঞ্চনার ইতিহাস এই মাসেই চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল। জনসংখ্যায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও রাজনীতি, অর্থনীতি আর সামরিক বাহিনীতে পশ্চিম পাকিস্তানিদের একচ্ছত্র আধিপত্যের বিরুদ্ধে বাঙালির যে লড়াই, তা এই মার্চ মাসেই ‘স্বাধীনতার সংগ্রামে’ রূপ নেয়।

১৯৬৬-এর ছয় দফা আর ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের ঢেউ আছড়ে পড়েছিল ৭০-এর নির্বাচনে। কিন্তু গণতান্ত্রিক রায় মেনে ক্ষমতা হস্তান্তরে পশ্চিম পাকিস্তানিদের টালবাহানা আর ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ১৯৭১-এর মার্চ মাস হয়ে ওঠে অগ্নিগর্ভ। ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা— ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’—বাঙালিকে যুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করে দিয়েছিল। এরপর ২৫ মার্চের সেই ভয়াল কালো রাত ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর বর্বরতা বিশ্ববিবেককে কাঁপিয়ে দেয়। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণার পর কালুরঘাট থেকে ২৭ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা মুক্তিপাগল বাঙালিকে দিয়েছিল সশস্ত্র যুদ্ধের অনুপ্রেরণা।

নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা আমাদের আত্মপরিচয়ের শিকড়। এই মাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই জাতির মুক্তির একমাত্র পথ। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে এসেও এই মাস বাঙালির হৃদয়ে একই রকম আবেগ আর প্রতিজ্ঞার সঞ্চার করে। এই মাস কেবল স্মৃতিচারণ নয়, বরং সাম্য, গণতন্ত্র এবং মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক নতুন অঙ্গীকার। পহেলা মার্চের এই প্রভাতে পুরো জাতি বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে সেইসব বীরদের, যাদের রক্তে লেখা হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র।

/আশিক


জেএফকে বিমানবন্দরে হেনস্তার পর ড. ইউনূসকে নিয়ে বড় আপডেট দিলেন লামিয়া মোর্শেদ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ২০:৩১:৩৭
জেএফকে বিমানবন্দরে হেনস্তার পর ড. ইউনূসকে নিয়ে বড় আপডেট দিলেন লামিয়া মোর্শেদ
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাঁর সফরসঙ্গী লামিয়া মোরশেদ। ড. ইউনূসের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার কোনো ক্ষতি হয়নি এবং তিনি সম্পূর্ণ ভালো ও সুস্থ আছেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দুই শিশুর সঙ্গে ড. ইউনূসের একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি প্রকাশ করে তিনি পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।

ফেসবুক পোস্টে লামিয়া মোরশেদ উল্লেখ করেন, জেএফকে বিমানবন্দরে ওই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার কয়েক মিনিট আগেই তিনি ড. ইউনূসের ছবিগুলো তুলেছিলেন। পুরো সফরজুড়েই সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সম্মান পেয়েছেন ড. ইউনূস। ওই ব্যক্তিদের আচরণকে চরম বর্বর ও হীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা তাদের নিচু মানসিকতাকেই উন্মোচিত করে, এতে স্যারের কোনো ক্ষতি করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে কঠিন সময়ে যাঁরা শুভকামনা জানিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তিনি।

উল্লেখ্য, সোমবার (১২ অক্টোবর) নিউ ইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী এবং যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি হঠাৎ ড. ইউনূসের গতিপথ রোধ করেন।

পরিস্থিতির আকস্মিকতায় তাঁর নিরাপত্তায় থাকা সহযোগীরা দ্রুত পদক্ষেপ নেন এবং হুইলচেয়ার ঘুরিয়ে তাঁকে বিমানবন্দরের টার্মিনালের ভেতরের নিরাপদ এলাকায় নিয়ে যান। এ সময় পিছন থেকে ওই উসকানিমূলক মন্তব্য ও স্লোগান দিতে দেখা যায়। তবে সফরসঙ্গীদের তাৎক্ষণিক তৎপরতার কারণে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর অঘটন ছাড়াই তিনি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

/আশিক


১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটের সব ফ্লাইট স্থগিত করল বিমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ২৩:৩২:১৯
১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটের সব ফ্লাইট স্থগিত করল বিমান
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটের সমস্ত ফ্লাইট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিমান কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত একটি সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই জরুরি তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার কারণে বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী বিমানের সব নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও নতুন পরিবর্তিত যাত্রাসূচি যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

হঠাৎ এই ফ্লাইট স্থগিতের ফলে যাত্রীদের যে সাময়িক অসুবিধা ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সকল যাত্রীর ধৈর্য এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গত শনিবার থেকেই ঢাকা থেকে রিয়াদগামী কোনো ফ্লাইট ওই বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারছে না। শুধু রিয়াদই নয়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে রিয়াদের পাশাপাশি ঢাকা থেকে দাম্মামগামী আকাশ যোগাযোগও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

/আশিক


মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ২০:৪২:৫২
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র দুই নগরী মক্কা ও মদিনার ওপর কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি তৈরি হলে বাংলাদেশ কখনোই হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মক্কা ও মদিনা বিশ্বজুড়ে সকল মুসলমানের ঐক্যের প্রতীক এবং কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় আবেগ এই নগরীগুলোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে বিষয়টি কেবল সাধারণ কূটনীতির বৃত্তে আটকে নেই।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) প্রাঙ্গণে একটি সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বহুল আলোচিত ‘মক্কা প্যাক্ট’ বা জোটে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিচ্ছে কি না এবং সৌদি আরব সেনা সহায়তা চাইলে ঢাকা সেনা পাঠাবে কি না—এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ পরিষ্কার করেন যে, বাংলাদেশ এখনো ওই জোটে যুক্ত হয়নি। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জোটে যোগ দেওয়ার পরই কেবল সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে। সুতরাং, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে সেনা পাঠানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তিনি আরও জানান যে, এই কঠিন সময়ে সৌদি আরবের পাশে রয়েছে বাংলাদেশ এবং চলমান সকল প্রকার সশস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্সের নিকট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বার্তা বা চিঠি পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও এ দেশের সাধারণ মানুষ সর্বদা সৌদি জনগণের পাশে অটল রয়েছে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে সম্প্রতি হুথি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ জানান, সরকার এই মুহূর্তে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের কোনো ঝুঁকির আশঙ্কা করছে না। দেশের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বর্তমানে সৌদি আরব সফরে অবস্থান করছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া থাকায় জ্বালানি সরবরাহে কোনো গুরুতর বিঘ্ন ঘটবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং ২৪ জনেরও বেশি আহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান কামনা করে তিনি সব পক্ষকে সংযত হওয়ার এবং সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান।

/আশিক


ধর্মের ভিত্তিতে নয়, নাগরিক হিসেবে অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৮:৫৭:২২
ধর্মের ভিত্তিতে নয়, নাগরিক হিসেবে অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ধর্মের পার্থক্য বিবেচনা না করে দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একজন নাগরিক হিসেবে যার যা প্রাপ্য অধিকার রয়েছে, তা নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে নিজের মূল দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সোমবার (১২ ১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা-১৭ আসনের আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎ করে তাকে পূজার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাতে আসেন। সাক্ষাতকালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন পূজামণ্ডপের নেতারা। বিশেষ করে পূজার সরকারি ছুটি এবং অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

প্রতিনিধিদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার অল্প সময়ের মধ্যেই যতটুকু সম্ভব কাজ করার চেষ্টা করেছে। বাকি সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যা সরকারের সদিচ্ছারই বড় প্রমাণ। দেশের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তার পিতা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে সব ধর্মের মানুষ এক হয়ে লড়াই করেছিল। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন—কোনোটিই ধর্মের ভিত্তিতে হয়নি, বরং সবাই মিলে একসঙ্গে রাজপথে নেমেছিল।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৎকালীন দমন-পীড়নের শিকার হয়ে বহু নেতাকর্মী নির্যাতিত হয়েছেন। সেখানে মুসলিমদের পাশাপাশি হিন্দু কর্মীরাও একইভাবে নির্যাতন সহ্য করেছেন, ফলে নির্যাতনের ক্ষেত্রেও ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, স্রষ্টা তাকে রাষ্ট্রপরিচালনার যে সুযোগ দিয়েছেন, তা কাজে লাগিয়ে মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়াটাই তার প্রধান অগ্রাধিকার।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা জানান, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে তারা অত্যন্ত শান্তিতে বসবাস করছেন এবং তাদের কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। বিএনপিকে ভোট দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যে ভুল করেননি, নতুন সরকার গঠনের পর তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন নেতারা। সরকারের গৃহীত নীতি ও কার্যক্রমের প্রতি সবসময় সমর্থন ও সহযোগিতা বজায় রাখার আশ্বাস দেন তারা।

উক্ত সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচএস পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্য। এছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতন সভায় অংশ নেন।

/আশিক


ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা পেতে পিএমটি স্কোর কত লাগবে?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৮:৩৬:২১
ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা পেতে পিএমটি স্কোর কত লাগবে?
ছবি : সংগৃহীত

সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে সরকার। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আনুমানিক চার কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে জাতীয় ডেটাবেজে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার রাজধানীর তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ সময় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনও উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার, যার অংশ হিসেবে পরিবারের নারীপ্রধানের নামে এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে।

এর আগে চলতি বছরের ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এই পাইলটিং ধাপে আটটি বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে এক লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগৃহীত হয়। পরবর্তীতে প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

পাইলটিং কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, যার মধ্যে ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা সরাসরি ভাতা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে।

চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে এই কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য মোট ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা প্রদানের জন্য নির্ধারিত।

কর্মসূচিটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ প্রক্সি মিন্স টেস্ট পদ্ধতির ভিত্তিতে দেশের সকল পরিবারকে তাদের আর্থসামাজিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে—অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত।

নীতিমালা অনুযায়ী, পিএমটি স্কোর ৮৬০ বা তার কম অর্জনকারী নারী পরিবারপ্রধানেরা ভাতা পাওয়ার যোগ্য হবেন। দেশের সব নারী পরিবারপ্রধান ফ্যামিলি কার্ড পেলেও মূলত প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ক্যাটাগরির তুলনামূলক কম স্কোর পাওয়া পরিবারের নারীরা ভাতার সুবিধা পাবেন।

দেশব্যাপী খানা বা পরিবারের তথ্য সংগ্রহের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে একটি নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে, যার অধীনে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ছয় হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

তথ্য সংগ্রহকারীরা বিশেষায়িত ট্যাবলেটে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করছেন। সংগৃহীত সব তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেজে যুক্ত হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সাইবার নিরাপত্তা, কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) প্রতিষ্ঠার মতো যাবতীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

পাঁচ সদস্যের একক ধরে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আনুমানিক চার কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য ডেটাবেজে যুক্ত করা হবে। পরবর্তীতে পিএমটি বিশ্লেষণের মাধ্যমে চূড়ান্ত উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।

চলতি অর্থবাজেটে নতুন ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে আগামী তিন অর্থবছরের মধ্যে দেশের সব যোগ্য নারী পরিবারপ্রধানকে এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বিশেষায়িত এই ফ্যামিলি কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড এবং নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) প্রযুক্তি সংযোজিত থাকবে। এটি সরকারের 'টাকাপেই' পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকায় উপকারভোগীরা সহজেই যেকোনো ব্যাংকের এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভাতার টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।

/আশিক


চাঁদাবাজ ও দখলদারদের ঠাঁই বিএনপিতে নেই: তারেক রহমানের কড়া হুশিয়ারি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১১ ২৩:০৭:২৯
চাঁদাবাজ ও দখলদারদের ঠাঁই বিএনপিতে নেই: তারেক রহমানের কড়া হুশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

দলের ভেতরে যেকোনো মূল্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। সাফ জানিয়ে দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘চাঁদাবাজ ও দখলদারদের কোনো জায়গা বিএনপিতে নেই।’ শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনা ঘটলে বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সংসদ সদস্যদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা জারি করেছেন তিনি। বিশেষ করে আসন্ন দুর্গাপূজা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হতে পারে এবং সংখ্যালঘুদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, সেজন্য দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব দিকনির্দেশনা দেন। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে শুরু হওয়া তিন ঘণ্টাব্যাপী এই বিশেষ বৈঠকটি রাত ৯টা ২০ মিনিটে শেষ হয়, যার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি। সাধারণত সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার কাছাকাছি সময়ে এই বৈঠকগুলো ডাকা হলেও, আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সম্ভাব্য অধিবেশনের বেশ আগেই প্রধানমন্ত্রী বিশেষ এই সভা তলব করেন।

বৈঠক সূত্র অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন যে, কেউ আইনের কিংবা জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয় এবং সংসদ সদস্যদেরও জবাবদিহি করতে হবে। বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এমপিরা যদি কর্মীবান্ধব না হয়ে জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, তবে তা দিনশেষে দলের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে। এসময় তিনি সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার কথা শোনেন।

বৈঠকে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান তুলে ধরা হয়। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি জোরদার, ঐক্য বজায় রাখা এবং যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়ে প্রাথমিক নির্দেশনা দেন সংসদ নেতা। সরকার গঠনের পর গত আট মাসে বাস্তবায়িত কাজের অগ্রগতি ও সম্ভাব্য বাধা সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন তিনি।

জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু জানান, বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের সাফল্য ধরে রাখতে জনপ্রিয় ও যোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে কথা হয়েছে। অন্যদিকে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া নিশ্চিত করেন, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে জনগণের পাশে থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে সাধারণ মানুষ সন্তুষ্ট থাকে। এমপি-মন্ত্রী কিংবা দলীয় নেতাকর্মী কেউ কোনো অপকর্মে জড়ালে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

/আশিক


জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা সঠিকভাবে খরচের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১১ ২০:৩১:০৪
জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা সঠিকভাবে খরচের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা যেন সঠিকভাবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক ও সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেন। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ দেবে, তবে খেয়াল রাখতে হবে এটি জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ। এই অর্থের প্রতিটি পয়সা যেন দেশের স্বার্থে সঠিকভাবে ব্যয় হয়, সেদিকে সবাইকে গভীর মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সরকারি দায়িত্ব পালনকে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার একটি বিশেষ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা অনেক দিক থেকে সুবিধাপ্রাপ্ত অবস্থানে আছেন। আল্লাহতায়ালা সবাইকে দেশ ও মানুষের সেবা করার যে সুযোগ দিয়েছেন, যার যার অবস্থান থেকে তা আন্তরিকভাবে কাজে লাগানোর তাগিদ দেন তিনি। দায়িত্ব পালনের সুযোগ সবসময় স্থায়ী হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যিনি যখন যে দায়িত্বে আছেন, সেই সুযোগকে দেশ ও জাতির কল্যাণে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।

এ সময় সরকারি কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে নিজেদের মতামত তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন স্তরে কর্মরত কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব পর্যবেক্ষণ সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ভবিষ্যতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে পরবর্তী বৈঠকে কর্মকর্তারা আরও খোলামেলাভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ তুলে ধরবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উক্ত পর্যালোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সচিব দেলোয়ার হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

/আশিক


টেকসই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করছে বাংলাদেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১১ ২০:০৬:৩৭
টেকসই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করছে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

মিয়ানমারে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের (এফডিএমএন) নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এটি বাস্তবায়নে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও জোরালো করা হচ্ছে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

রবিবার রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনের অন্তরা হলে ‘ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’ (এফএসডিএস) আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা ক্রাইসিস : ওয়ে ফরওয়ার্ড - টুওয়ার্ডস সাসটেইনেবল রিপ্যাট্রিয়েশন অ্যান্ড আ ডিউরেবল রিজিওনাল সলিউশন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন। এফএসডিএস-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রীর পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে একা বাংলাদেশের একার প্রচেষ্টা পর্যাপ্ত নয়। এজন্য চীন, আসিয়ান, জাতিসংঘ ও জাপানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে যুক্ত করে একটি কৌশলগত আঞ্চলিক জোট এবং সুসমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য।

সম্প্রতি জাপান সরকারের মিয়ানমার বিষয়ক জাতীয় পুনর্মিলন সংক্রান্ত বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাসাকাওয়ার বাংলাদেশ সফরের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী জানান, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী এবং তিনি নিজে এই ইস্যুতে গভীর আলোচনা পরিচালনা করেছেন এবং জাপান সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে। এছাড়া চলতি মাসের শেষদিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত জাপান সফরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করার বিষয়ে বিস্তারিত কথা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সেখানে আইনি সরকারের পাশাপাশি একটি বড় অংশ এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগসহ নানা কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করে জটিলতার সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে সবকিছুর মূল লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসন এবং চূড়ান্ত বিকল্প হিসেবে সব পথ খোলা রেখেই বাংলাদেশ তার কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাবে।

/আশিক


কন্যাশিশুর শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১১ ১৯:৩১:৫৪
কন্যাশিশুর শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী 
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন যে, কন্যাশিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকার সুস্পষ্ট নীতি ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামীকাল উদযাপিত হতে যাওয়া এই দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য হলো—‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, কোনো মেয়ের স্বপ্ন যেন অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, নিরাপত্তাহীনতা বা বৈষম্যের কারণে মাঝপথে থেমে না যায়, তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রতিটি কন্যাশিশু যেন শিক্ষা, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসে সমৃদ্ধ হয়ে নিজের সম্ভাবনা বিকাশের সমান সুযোগ পায়—এটাই বর্তমান সরকারের মূল অঙ্গীকার। একটি শিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠা এবং স্বাধীনভাবে স্বপ্ন দেখার সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পবিত্র কর্তব্য বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নারীর শিক্ষা ও অগ্রগতির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া নারীদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার ঐতিহাসিক সুযোগ করে দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই বর্তমান সরকার নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পড়ালেখার সুযোগ সম্পূর্ণ অবৈতনিক ও অবারিত করেছে। এছাড়া নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে প্রতিটি পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ইস্যু করার যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

তারেক রহমান আরও বলেন, সরকার এমন একটি সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে কাজ করছে যেখানে প্রতিটি মেয়ের জন্ম পরিবারের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠবে। বাল্যবিয়ে এবং সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আজকের কন্যাশিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে। বাস্তব ও ডিজিটাল উভয় পরিসরে তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষ্যে দেশের সব কন্যাশিশু, তাদের অভিভাবকসহ দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: