১৩ দিনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০১ ১৬:২১:১২
১৩ দিনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র ১৩ দিনেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ রোববার (১ মার্চ ২০২৬) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। মন্ত্রী জানান, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো এবং এটিকে আরও উন্নত করার জন্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে দেশের চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে সীমান্ত হত্যা বন্ধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সীমান্তে যাতে আর কোনো বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার শিকার না হন, সে ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে সম্প্রতি এক ব্যবসায়ীর বাসায় গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রেক্ষিতে মন্ত্রী জানান, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় আগে কোনো অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনীর ব্যারাকে ফেরার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়া সাপেক্ষে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই সেনাবাহিনী মোতায়েন বা প্রত্যাহারের বিষয়টি নির্ধারিত হবে। এছাড়া লাইসেন্সকৃত যেসকল অস্ত্র এখনো জমা হয়নি, সে ব্যাপারে ইতোমধ্যে আইনি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকার কোনো ধরণের আপস করবে না বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

/আশিক


একা কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না বিএনপি, প্রয়োজন জনগণের অংশগ্রহণ: আমির খসরু

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩০ ২১:১৬:২৫
একা কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না বিএনপি, প্রয়োজন জনগণের অংশগ্রহণ: আমির খসরু
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বর্তমান সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি একা দেশের কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারবে না। দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এবং সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই কেবল একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

আজ শনিবার (৩০ মে) দুপুরে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক কাজীর দেউড়ি মোড়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর-উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) চট্টগ্রামের উদ্যোগে দুস্থ, অসহায় ও পথচারীদের মাঝে খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণের উদ্দেশ্যে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ বাস্তবায়ন এবং তাঁর স্বপ্নের আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করার আহ্বান জানান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, "রাজনীতিতে শুধু ক্ষমতা নয়, জনগণের কল্যাণে সার্বক্ষণিক নিবেদিত থেকে তাদের সুখ-দুঃখের প্রকৃত অংশীদার হওয়ার মধ্য দিয়েই শহীদ জিয়ার প্রতি আসল শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।"

বক্তব্যকালে পাশে থাকা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের ঐতিহাসিক স্মৃতি উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, "আমরা আজ এমন একটি ঐতিহাসিক স্থানে দাঁড়িয়ে আছি, যার সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। এই সার্কিট হাউসেই দেশবিরোধী এক নির্মম ষড়যন্ত্রে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। ঘাতকরা তাকে সশরীরে হত্যা করতে পারলেও এ দেশের মানুষের হৃদয় থেকে তার আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনকে কখনো মুছে ফেলতে পারেনি।"

তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়া বাংলাদেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন।

উপস্থিত বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের কঠোর সাংগঠনিক নির্দেশনা দিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, "জনগণই যেকোনো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের মূল চালিকাশক্তি। তাদের স্বার্থ, নাগরিক চাহিদা ও প্রত্যাশাকে দলের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। যাদের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের রাজনীতি করি, সেই সাধারণ মেহনতি মানুষকে কখনো ভুলে গেলে চলবে না। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন টেকসই উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের সেই সব প্রত্যাশা পূরণে আমাদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।"

/আশিক


জিয়া ও খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত পথই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মূল ঠিকানা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩০ ২০:২০:৩৪
জিয়া ও খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত পথই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মূল ঠিকানা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর আজকের দিনটিকে সমগ্র দেশবাসী ও গণমানুষের জন্য অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত ও স্মৃতিময় এক দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (৩০ মে) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আজকের দিনটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং এ দেশের সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত ও স্মৃতিময় একটি দিন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমৃত্যু বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অগ্রগতির অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে অনন্য ভূমিকা পালন করে গেছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের উষালগ্নে ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে তাঁর যে গৌরবময় উত্থান ঘটেছিল, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে গিয়েই পরবর্তীতে তিনি নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেছেন।"

সালাহউদ্দিন আহমদ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে আরও বলেন, "শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশের সকলকে একযোগে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রের মূল ঠিকানা হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত রাজনৈতিক পথ। আমরা এই গভীর শোককে আজ শক্তিতে পরিণত করেছি।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশবাসীকে শিখিয়েছেন কীভাবে সব ভেদাভেদ ভুলে সমস্ত মানুষের মধ্যে ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে রাষ্ট্রীয় সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে হয়। বিএনপি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের আদর্শকে ধারণ করেই রাজনীতি পরিচালনা করে।

গণতন্ত্রের প্রতি বর্তমান নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, "যত দিন বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি থাকবে, তত দিন এই দেশটিকে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ধারায় পরিচালিত করা হবে। ৫ই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের যে মূল চেতনা, তার আলোকেই দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আগামী দিনে আরও সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করা হবে।" স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় দেশের অবরুদ্ধ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের সীমাহীন ত্যাগ, আপসহীনতা ও সুকঠিন সংগ্রামের কথাও সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন।

/আশিক


আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুমৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩০ ২০:১০:৫৭
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুমৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ ও এর অভ্যন্তরে নানামুখী অনিয়ম খতিয়ে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতালটির সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে তিনি মন্তব্য করেছেন, এই নামী চিকিৎসা কেন্দ্রের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিকর ময়লা ও জমা পানি পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালের ভেতরের এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশগত জটিলতার কারণেই চিকিৎসাধীন শিশুদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

আজ শনিবার (৩০ মে) বিকেলে আলোচিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবন সশরীরে পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই সমস্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।

সাখাওয়াত হোসেন ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি প্রসঙ্গে বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় প্রথম দিকে ঘটনার মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, বিষয়টির সংবেদনশীলতা এবং অধিকতর নিখুঁত তদন্তের স্বার্থে সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। নতুন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩রা জুন এই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণগুলো খতিয়ে দেখা হয়েছে। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় যে সমস্ত মায়েরা তাঁদের সন্তানদের হারিয়েছেন, তাঁদের সবার সঙ্গে এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে কথা বলতে পারেনি তদন্ত কমিটি। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে ভুক্তভোগী মায়েদের জবানবন্দি অত্যন্ত জরুরি হলেও, কিছু মা বর্তমানে ঢাকার বাইরে অবস্থান করায় তদন্ত কমিটির অনুরোধে আগামী ৩রা জুন নতুন ডেডলাইন নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে প্রতিবেদনে কোনো ধরণের ঘাটতি না থাকে।

মৃত শিশুদের ময়নাতদন্ত (পোস্টমর্টেম) না করা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, অতীব ছোট বাচ্চাদের অকাল মৃত্যুর পর কোনো বাবা-মা-ই ধর্মীয় বা আবেগীয় কারণে ময়নাতদন্ত করতে রাজি হননি। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়াই অন্যান্য সমস্ত চিকিৎসাগত ও পারিপার্শ্বিক দিক থেকে সর্বোচ্চ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে মৃত্যুর আসল কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

পরিদর্শনকালে হাসপাতাল ভবনের ওপরের একটি তলায় সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পরিচালিত একটি বিশাল ‘রুটির কারখানার’ সন্ধান পাওয়ার তথ্য দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সেখানে বাণিজ্যিক ইলেকট্রিক ওভেনের মাধ্যমে রুটি তৈরি করা হতো। অথচ এতো বড় ওভেন পরিচালনার জন্য সেখানে কোনো পেশাদার ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার বা সেফটি অফিসার পাওয়া যায়নি। ওই কারখানা থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় এমন কোনো বিষাক্ত গ্যাস বা ধোঁয়া তৈরি হয়েছিল কিনা, যা পাশে থাকা শিশুদের সহ্য সক্ষমতার বাইরে ছিল—তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে আগামীকালই হাসপাতালে সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কারিগরি দল আসবে।

হাসপাতালের ভেতরে বাণিজ্যিক কারখানার অস্তিত্ব নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, "একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাজার হাজার দেশী-বিদেশী ছাত্র-ছাত্রী, রোগী ও তাঁদের স্বজনদের নিরাপদ আবাসন থাকার কথা। এমন একটি অতি সংবেদনশীল জায়গায় কোনোভাবেই রুটির কারখানা থাকা উচিত নয়। এটি মূলত আমাদের নিয়মিত পরিদর্শন বা ইন্টেলিজেন্সের (গোয়েন্দা নজরদারি) বড় ধরনের অভাবের কারণেই হয়েছে, যা অনভিপ্রেত। ভবিষ্যতে দেশের সমস্ত বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে এই নজরদারি কঠোর করা হবে।" তিনি আরও জানান, হাসপাতালের অপর একটি অংশে দীর্ঘদিন ধরে প্রচুর পানি জমা ছিল। এই নোংরা পানি এবং রুটির কারখানার বিষাক্ত কেমিক্যাল বা গ্যাস একত্রিত হয়ে কোনো প্রাণঘাতী পরিবেশ তৈরি করেছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্ত কমিটির গঠন ও বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজিএইচএস) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, বর্তমানে এই বিশেষ কমিটিতে ছয়জন দক্ষ সদস্য নিরলসভাবে কাজ করছেন। কমিটির পরিধি বাড়ানোর আইনি সুযোগ থাকায় হাসপাতালের পরিবেশ, কারিগরি অবস্থা ও বায়ু পরীক্ষা করার জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আসন্ন পবিত্র কুরবানির ঈদের ঠিক আগের দিন বুধবার ভোরের দিকে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ‘পোস্ট অপারেটিভ’ ওয়ার্ডে লাইফ সাপোর্টে থাকা ছয়টি নবজাতক শিশু হঠাৎ একসাথে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একে একে সবকটি শিশুরই করুণ মৃত্যু হয়। একটি নামী হাসপাতালে একসাথে ছয়টি শিশুর এমন রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দেশব্যাপী তীব্র উদ্বেগ, শোক ও ব্যাপক নাগরিক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

/আশিক


আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুমৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩০ ২০:১০:৫৭
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুমৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ ও এর অভ্যন্তরে নানামুখী অনিয়ম খতিয়ে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতালটির সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে তিনি মন্তব্য করেছেন, এই নামী চিকিৎসা কেন্দ্রের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিকর ময়লা ও জমা পানি পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালের ভেতরের এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশগত জটিলতার কারণেই চিকিৎসাধীন শিশুদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

আজ শনিবার (৩০ মে) বিকেলে আলোচিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবন সশরীরে পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই সমস্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।

সাখাওয়াত হোসেন ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি প্রসঙ্গে বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় প্রথম দিকে ঘটনার মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, বিষয়টির সংবেদনশীলতা এবং অধিকতর নিখুঁত তদন্তের স্বার্থে সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। নতুন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩রা জুন এই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণগুলো খতিয়ে দেখা হয়েছে। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় যে সমস্ত মায়েরা তাঁদের সন্তানদের হারিয়েছেন, তাঁদের সবার সঙ্গে এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে কথা বলতে পারেনি তদন্ত কমিটি। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে ভুক্তভোগী মায়েদের জবানবন্দি অত্যন্ত জরুরি হলেও, কিছু মা বর্তমানে ঢাকার বাইরে অবস্থান করায় তদন্ত কমিটির অনুরোধে আগামী ৩রা জুন নতুন ডেডলাইন নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে প্রতিবেদনে কোনো ধরণের ঘাটতি না থাকে।

মৃত শিশুদের ময়নাতদন্ত (পোস্টমর্টেম) না করা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, অতীব ছোট বাচ্চাদের অকাল মৃত্যুর পর কোনো বাবা-মা-ই ধর্মীয় বা আবেগীয় কারণে ময়নাতদন্ত করতে রাজি হননি। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়াই অন্যান্য সমস্ত চিকিৎসাগত ও পারিপার্শ্বিক দিক থেকে সর্বোচ্চ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে মৃত্যুর আসল কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

পরিদর্শনকালে হাসপাতাল ভবনের ওপরের একটি তলায় সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পরিচালিত একটি বিশাল ‘রুটির কারখানার’ সন্ধান পাওয়ার তথ্য দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সেখানে বাণিজ্যিক ইলেকট্রিক ওভেনের মাধ্যমে রুটি তৈরি করা হতো। অথচ এতো বড় ওভেন পরিচালনার জন্য সেখানে কোনো পেশাদার ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার বা সেফটি অফিসার পাওয়া যায়নি। ওই কারখানা থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় এমন কোনো বিষাক্ত গ্যাস বা ধোঁয়া তৈরি হয়েছিল কিনা, যা পাশে থাকা শিশুদের সহ্য সক্ষমতার বাইরে ছিল—তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে আগামীকালই হাসপাতালে সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কারিগরি দল আসবে।

হাসপাতালের ভেতরে বাণিজ্যিক কারখানার অস্তিত্ব নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, "একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাজার হাজার দেশী-বিদেশী ছাত্র-ছাত্রী, রোগী ও তাঁদের স্বজনদের নিরাপদ আবাসন থাকার কথা। এমন একটি অতি সংবেদনশীল জায়গায় কোনোভাবেই রুটির কারখানা থাকা উচিত নয়। এটি মূলত আমাদের নিয়মিত পরিদর্শন বা ইন্টেলিজেন্সের (গোয়েন্দা নজরদারি) বড় ধরনের অভাবের কারণেই হয়েছে, যা অনভিপ্রেত। ভবিষ্যতে দেশের সমস্ত বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে এই নজরদারি কঠোর করা হবে।" তিনি আরও জানান, হাসপাতালের অপর একটি অংশে দীর্ঘদিন ধরে প্রচুর পানি জমা ছিল। এই নোংরা পানি এবং রুটির কারখানার বিষাক্ত কেমিক্যাল বা গ্যাস একত্রিত হয়ে কোনো প্রাণঘাতী পরিবেশ তৈরি করেছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্ত কমিটির গঠন ও বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজিএইচএস) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, বর্তমানে এই বিশেষ কমিটিতে ছয়জন দক্ষ সদস্য নিরলসভাবে কাজ করছেন। কমিটির পরিধি বাড়ানোর আইনি সুযোগ থাকায় হাসপাতালের পরিবেশ, কারিগরি অবস্থা ও বায়ু পরীক্ষা করার জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আসন্ন পবিত্র কুরবানির ঈদের ঠিক আগের দিন বুধবার ভোরের দিকে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ‘পোস্ট অপারেটিভ’ ওয়ার্ডে লাইফ সাপোর্টে থাকা ছয়টি নবজাতক শিশু হঠাৎ একসাথে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একে একে সবকটি শিশুরই করুণ মৃত্যু হয়। একটি নামী হাসপাতালে একসাথে ছয়টি শিশুর এমন রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দেশব্যাপী তীব্র উদ্বেগ, শোক ও ব্যাপক নাগরিক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

/আশিক


দেশ কোনো সরকার, দল বা ব্যক্তির একার নয়: ২০ কোটি মানুষই এর মালিক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩০ ২০:০৬:৩৪
দেশ কোনো সরকার, দল বা ব্যক্তির একার নয়: ২০ কোটি মানুষই এর মালিক
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট সরকার, রাজনৈতিক দল, পরিবার বা ব্যক্তির একার নয়; বরং দেশের ২০ কোটি নাগরিকের প্রত্যেকেই এই রাষ্ট্রের সমান অংশীদার ও মালিক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তুলতে হলে দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আজ শনিবার (৩০ মে) বিকেলে রাজধানীর জুরাইন এলাকায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এক বিশেষ খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জুরাইন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতনতার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি সহজ গাণিতিক উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ করে বলেন, "আপনি যদি মনে করেন আপনার মাধ্যমে উৎপাদিত এক বা দুই কেজি আবর্জনা যেখানে-সেখানে ফেললে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না, তবে সেটি ভুল ধারণা। আজ এখানে হাজার হাজার মানুষ একত্রিত হয়েছেন। প্রত্যেকে যদি এভাবে মাত্র ১ কেজি করেও ময়লা নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে যত্রতত্র ফেলেন, তবে মুহূর্তেই সেখানে ১০ হাজার কেজি বা প্রায় ১০ টন ময়লার স্তূপ জমে যাবে।"

তিনি আরও বলেন, শহরের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাও মানুষ এবং তাদের বেশিরভাগই সুবিধাবঞ্চিত ও গরিব। অতিরিক্ত ময়লা পরিষ্কার করতে তাদের চরম কষ্ট পোহাতে হয়। কিন্তু নাগরিক হিসেবে আমরা সবাই যদি সচেতন হয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার অভ্যাস করি, তবে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কষ্ট যেমন কমবে, তেমনি নাগরিকরা নিজেরাও তাদের সন্তান ও পরিবার-পরিজন নিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে বসবাস করার সুযোগ পাবেন।

টেলিভিশনের পর্দায় উন্নত বিশ্বের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাস্তাঘাট দেখার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, "বিদেশের সুন্দর রাস্তাঘাট দেখলে আমাদের মনে এক ধরনের ইতিবাচক হিংসা বা আক্ষেপ তৈরি হয় যে—আমাদের দেশের সড়কগুলো কেন এমন ঝকঝকে ও পরিষ্কার হয় না? উন্নত দেশগুলোর রাস্তাঘাট কিন্তু বাইরে থেকে কেউ এসে পরিষ্কার করে দিয়ে যায় না। সেখানে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের পাশাপাশি সে দেশের সচেতন নাগরিকরাও যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকেন।"

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, নিজের শহর বা এলাকা পরিষ্কার রাখার এই সাধারণ কাজটি করার জন্য কাউকে সরকারের কোনো বড় পদে অধিষ্ঠিত হতে হয় না। এর জন্য এমপি, মন্ত্রী, মেয়র বা ওয়ার্ড কমিশনার হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। একজন সাধারণ দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে মানুষ চাইলেই পকেটে ব্যবহৃত টিস্যু পেপার রাখতে পারেন কিংবা বাদাম খাওয়ার পর খোসাগুলো যত্রতত্র না ফেলে এক জায়গায় জড়ো করতে পারেন।

নিজের পরিহিত পোশাকে হঠাৎ চা বা খাবারের দাগ লাগলে মানুষের যেভাবে খারাপ লাগে, ঠিক একইভাবে আমরা যে এলাকায় বসবাস করি তা নোংরা ও আবর্জনাময় হলে আমাদের মনঃকষ্ট হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী দল-মত নির্বিশেষে ২০ কোটি মানুষের এই প্রিয় মাতৃভূমিকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে তুলতে সব স্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে সচেতন হওয়ার জোর তাগিদ দেন।

/আশিক


১ জুলাইয়ের ডেডলাইন ধরে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়, চূড়ান্ত পর্যায়ে নবম পে স্কেল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩০ ১২:২৩:৫০
১ জুলাইয়ের ডেডলাইন ধরে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়, চূড়ান্ত পর্যায়ে নবম পে স্কেল
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১লা জুলাই থেকে দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘নবম জাতীয় পে স্কেল’। নতুন এই বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকুরিজীবীদের পাশাপাশি আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্যও বড় ধরনের সুখবর আসছে। মূলত নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনতেই সরকার এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।

গত ২১শে মে সচিবালয়ে নবম পে স্কেল নির্ধারণে গঠিত সচিব কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নীতি-নির্ধারণী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই পে স্কেলে ওপরের স্তরের কর্মকর্তাদের তুলনায় নিচের স্তরের (বিশেষ করে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের) কর্মচারীদের মূল বেতন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বেতনের অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবধান বা বৈষম্য উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে এই সভায় বিশেষ সুপারিশ রাখা হয়েছে।

নতুন এই জাতীয় পে স্কেলের আওতায় সব পর্যায়ের সরকারি চাকুরিজীবী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এর মধ্যে সাধারণ ও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী এবং বিচার বিভাগের সব স্তরের কর্মীরা রয়েছেন। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্যও সরকার একটি সমন্বিত গাইডলাইন তৈরি করছে, যাতে তারাও এই নতুন কাঠামোর সুফল সমানভাবে ভোগ করতে পারেন।

বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন সুবিধাতেও বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা বর্তমানে জাতীয় অর্থনীতি ও বাজারদরের তুলনায় কম পেনশন পাচ্ছেন, তাদের মাসিক পেনশন ১০০ শতাংশ বা দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে সচিব কমিটির সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যেসব পেনশনার বর্তমানে ২০ হাজার টাকার নিচে সুবিধা পাচ্ছেন, নতুন স্কেল কার্যকর হলে তারাই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন।

আগামী ১লা জুলাইয়ের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নতুন পে স্কেল পুরোপুরি কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো দ্রুত গতিতে ফাইল ও প্রশাসনিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে এবং সরকারি চাকুরিতে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে এটি একটি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।

/আশিক


মির্জা ফখরুল ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে মাজার জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩০ ১২:১২:৫১
মির্জা ফখরুল ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে মাজার জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর
জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা, স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর পবিত্র সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার (৩০ মে) সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতির মাজারে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা একযোগে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে নেতারা পবিত্র ফাতিহা পাঠ করেন এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। মোনাজাতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিদেহী রুহের মাগফিরাত কামনা করার পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণ ও অগ্রগতি প্রার্থনা করা হয়।

উচ্চপর্যায়ের এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ দল ও সরকারের বিভিন্ন স্তরের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারকরা।

এদিকে, প্রিয় নেতার আগমন ও প্রতিষ্ঠাতার শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জিয়া উদ্যান ও তার আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীর ঢল নামে। রাজধানীর বিজয় সরণি মোড় থেকে শুরু করে জিয়া উদ্যান পর্যন্ত মূল সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন বিপুল সংখ্যক উৎসুক সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মী। তাদের হাতে ছিল দলীয় ও জাতীয় পতাকা, কালো ব্যাজ এবং জিয়াউর রহমানের ছবি সংবলিত নান্দনিক ব্যানার ও ফেস্টুন। স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো শেরেবাংলা নগর এলাকা।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি, জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষক দল এবং শ্রমিক দলসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে সংগঠনের নিজস্ব ব্যানার নিয়ে মূল কর্মসূচিতে অংশ নেন। শাহাদাতবার্ষিকীর এই কর্মসূচীকে ঘিরে জিয়া উদ্যান এলাকায় যেমন এক আবেগঘন উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়, তেমনি যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল কঠোর ও নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

মাজার জিয়ারত ও মোনাজাতের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে টি অ্যান্ড টি খেলার মাঠ সংলগ্ন এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে সুবিধাবঞ্চিত ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী এবং বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এছাড়া পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ দিনের বাকি সময় জুড়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে আয়োজিত দলীয় ও সামাজিক মানবসেবামূলক কর্মসূচিতেও সশরীরে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী।

/আশিক


শহীদ জিয়ার স্বনির্ভর উন্নয়ন ভাবনা নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণার উৎস: রাষ্ট্রপতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩০ ১১:০১:৪৪
শহীদ জিয়ার স্বনির্ভর উন্নয়ন ভাবনা নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণার উৎস: রাষ্ট্রপতি
ছবি : সংগৃহীত

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাদাসিধে নির্মোহ জীবন, বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ও প্রশ্নাতীত সততা জনগণের মণিকোঠায় চিরজাগরূক থাকবে বলে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি ও দূরদর্শী এই রাষ্ট্রনায়কের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে রাষ্ট্রপ্রধান এই মন্তব্য করেন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, শহীদ জিয়ার কর্মময় জীবন, অগাধ দেশপ্রেম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর নীতি, ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠায় অটলতা, স্বনির্ভর উন্নয়ন ভাবনা এবং জীবন আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

রাষ্ট্রপ্রধান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০শে মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি নির্মমভাবে শহীদ হন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এই বীর সেনানায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে তাঁর অসামান্য অবদান জাতি সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর বাণীতে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের উষালগ্নে ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে জিয়াউর রহমান পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। তাঁর এই আহ্বান ও স্বাধীনতার ঘোষণা সমগ্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছিল। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও অবদানের জন্য তিনি পরবর্তীতে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বাক-ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, স্বনির্ভরতা অর্জন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে তিনি বহুমুখী পরিকল্পনা ও যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল একটি উৎপাদনমুখী ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশের বিশাল শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি অত্যন্ত স্বল্প সময় পেলেও গভীর দেশপ্রেম, ন্যায়পরায়ণতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে দেশকে যেভাবে এগিয়ে নিয়েছেন, তা আজও এক সমুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে বলে বাণীতে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।

/আশিক


শহিদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে বিএনপির আট দিনের কর্মসূচি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩০ ১০:৩৫:৩৭
শহিদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে বিএনপির আট দিনের কর্মসূচি
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি, স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহিদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ। ১৯৮১ সালের ৩০শে মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের অনাকাঙ্ক্ষিত হামলায় নির্মমভাবে নিহত হন তৎকালীন এই রাষ্ট্রপ্রধান। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর শোকের এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

জিয়াউর রহমানের এই শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২৫শে মে থেকে আগামী ১লা জুন পর্যন্ত মোট আট দিনব্যাপী বিস্তৃত এক স্মরণ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কেন্দ্রীয় এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কালো পতাকা উত্তোলন, বিশেষ আলোচনা সভা, জিয়াউর রহমানের জীবনীভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল এবং অসচ্ছল ও দুস্থ মানুষের মাঝে ব্যাপক আকারে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।

আজ শনিবার (৩০ মে) ভোর ৬টায় নয়াপল্টনে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সব পর্যায়ের দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং শোকের প্রতীক কালো পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে বিএনপি। এরপর বেলা ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের পবিত্র সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বে তাঁর সঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ অন্য জ্যেষ্ঠ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। সমাধি প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকাল ৩টায় রাজধানী জুড়ে দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নেবে দলটি।

সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ করে বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের টি অ্যান্ড টি খেলার মাঠ সংলগ্ন এলাকায় দুস্থ মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে রাজধানীর আরও ১৬টি ভিন্ন ভিন্ন স্পটে আয়োজিত ত্রাণ ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে সশরীরে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তাঁর।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বেলা ১১টায় সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট মাজার সংলগ্ন এলাকায় আইনজীবীদের উদ্যোগে আয়োজিত দুস্থদের মাঝে বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন রুহুল কবির রিজভী।

অন্যদিকে, বেলা ১১টা ২০ মিনিটে কারওয়ান বাজারে এফডিসির প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত দলীয় এক স্মরণ ও দুস্থ সেবা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। বিএনপির মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের এসব কর্মসূচির তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া দিবসটির গুরুত্ব বিবেচনায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের অন্তর্গত প্রতিটি থানায় এবং দেশের অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা ইউনিটে অসচ্ছল মানুষের মাঝে শাড়ি, লুঙ্গি, চাল ও ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় নির্দেশনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের সব জেলা, মহানগর ও তৃণমূল ইউনিটেও আজ ৩০শে মে ভোর ৬টায় দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলনের নিয়মটি প্রতিপালিত হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সুবিধা ও ব্যবস্থাপনায় সারা দেশে দিনভর আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল এবং দুঃস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিও সমান তালে পালন করা হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল ৩১শে মে রবিবার বেলা ২টায় রাজধানীর রমনা এলাকায় অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এক বিশেষ স্মৃতি চারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করে দেশবাসীকে সশস্ত্র সংগ্রামে উজ্জীবিত করেছিলেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। তিনি মুক্তিযুদ্ধে ১ নম্বর সেক্টরের সফল সেক্টর কমান্ডার এবং প্রথম নিয়মিত ব্রিগেড ফোর্স 'জেড ফোর্স'- এর সুদক্ষ অধিনায়ক ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও রণকৌশল প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ তৎকালীন সরকার তাঁকে রাষ্ট্রের অন্যতম সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব 'বীর উত্তম'- এ ভূষিত করে। এছাড়া পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাজনীতির পটভূমি তৈরি করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

১৯৩৬ সালের ১৯শে জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগমারা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন জিয়াউর রহমান। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষে দেশের এক চরম রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটের মাঝে ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন এবং পরবর্তীতে গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।

বাংলাদেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্প্রবর্তন করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তাঁর রাষ্ট্র পরিচালনার শাসনামলে বাংলাদেশের কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে দেশব্যাপী স্বনির্ভর 'খালকাটা কর্মসূচি'র মাধ্যমে। এছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ববাজারে দেশের শ্রমশক্তি বা জনশক্তি রফতানির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছিলেন তিনি। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক সংহতি বৃদ্ধির লক্ষে গঠিত বহুজাতিক সংস্থা 'সার্ক' প্রতিষ্ঠার মূল স্বপ্নদ্রষ্টা এবং রূপকারও ছিলেন দূরদর্শী এই রাষ্ট্রনায়ক।

/আশিক

পাঠকের মতামত: