খামেনি হত্যার নেপথ্যে সৌদি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০১ ১২:২৮:৪৫
খামেনি হত্যার নেপথ্যে সৌদি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পেছনে এক চাঞ্চল্যকর ভূ-রাজনৈতিক চক্রান্তের খবর ফাঁস করেছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রোববারের এই বিশেষ রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল ও সৌদি আরবের তীব্র চাপেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে এই ভয়াবহ অভিযান শুরু করতে বাধ্য হয়েছেন। রিপোর্টে এই দুই দেশকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের অস্বাভাবিক মার্কিন মিত্র জুটি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, যারা প্রকাশ্যে একে অপরের বিরোধী হলেও ইরানের ক্ষমতা বদলের মিশনে এক হয়ে কাজ করেছে।

রয়টার্সের তথ্যমতে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রকাশ্যে কূটনীতির কথা বলতেন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে তেহরানে হামলার জন্য সৌদির আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। কিন্তু পর্দার আড়ালে ট্রাম্পের সাথে একান্ত বৈঠকে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলতেন। যুবরাজ ও তাঁর ভাই খালিদ বিন সালমান মার্কিন কর্মকর্তাদের বারবার সতর্ক করেছেন যে, ওয়াশিংটন যদি এখনই উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তি ব্যবহার করে ইরানকে দমন না করে, তবে তেহরান আরও শক্তিশালী ও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। মূলত রিয়াদের আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ হিসেবে ইরানকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করতেই সৌদির এই দ্বিমুখী কৌশল ছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে, হামলার ঠিক কয়েক মুহূর্ত আগে খামেনি তাঁর দুই সিনিয়র উপদেষ্টা আলি লারিজানি এবং আলি শামখানির সাথে এক গোপন স্থানে বৈঠকে বসেছিলেন। ঠিক তখনই সেখানে নিখুঁত নিশানায় আক্রমণ চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, সৌদি ও ইসরায়েলের এই যৌথ প্রচেষ্টাই ট্রাম্পকে খামেনিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার অভিযানে চূড়ান্তভাবে উদ্বুদ্ধ করেছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, ইরানে বর্তমান সরকার পুরোপুরি পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত এই হামলা থামবে না। সৌদির এই গোপন সমর্থন ফাঁসের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে এক নতুন মেরুকরণ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

/আশিক


ইরানে হামলার তীব্র নিন্দা রাশিয়ার; চরম বিপর্যয়ের হুঁশিয়ারি পুতিনে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০১ ১১:০৪:৪৬
ইরানে হামলার তীব্র নিন্দা রাশিয়ার; চরম বিপর্যয়ের হুঁশিয়ারি পুতিনে
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের মাটিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন হামলা এবং পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাতের ঘটনায় কঠোর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। আজ রোববার (১ মার্চ ২০২৬) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ওপর চালানো এই আগ্রাসন এবং দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা বর্ষণ সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য। ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কো এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী এক হঠকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে।

রাশিয়ার বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে যে, ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যে ভয়াবহ ‘মানবসৃষ্ট সংকট’ তৈরি হয়েছে, তার সব নেতিবাচক পরিণতির দায়ভার এই দুই দেশকেই নিতে হবে। ক্রেমলিন মনে করছে, এই আগ্রাসনের ফলে পুরো অঞ্চলে সহিংসতার মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে এবং পরিস্থিতি একটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া মহাবিপর্যয়ের দিকে মোড় নেবে। রাশিয়ার এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের এই সংকটে মস্কো নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না।

উল্লেখ্য যে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের এই যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শহীদ হয়েছেন, যা ইতোমধ্যে তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সি নিশ্চিত করেছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই অভিযানকে অত্যন্ত ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির মৃত্যুর পর রাশিয়ার এই প্রকাশ্য সমর্থন ইরানকে সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে পুনর্গঠিত হতে সাহায্য করতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধকে আরও দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করছে।

/আশিক


নিজ দপ্তরেই শেষ নিঃশ্বাস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০১ ১০:২৬:৪৯
নিজ দপ্তরেই শেষ নিঃশ্বাস
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার চরম উত্তেজনা আর বিশ্বব্যাপী জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর সময় ও স্থান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে তেহরান। আজ রোববার (১ মার্চ ২০২৬) ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার ভোরে তেহরানে নিজের দপ্তরে (লিডারশিপ হাউস) দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় তিনি নিহত হন। বিবিসি ভেরিফাই তাদের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, খামেনির দপ্তর প্রাঙ্গণে ভয়াবহ বিস্ফোরণের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং ভবনটির একটি বড় অংশ মাটির সাথে মিশে গেছে।

আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, খামেনি পালিয়ে না গিয়ে নিজের দপ্তরেই অবস্থান করছিলেন, যা প্রমাণ করে যে তাঁর আত্মগোপনে থাকার খবরগুলো ছিল মূলত শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে একটি মনস্তাত্ত্বিক লড়াই। এই মর্মান্তিক পরিণতির পর ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং ৭ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে খামেনির মৃত্যুর খবর প্রথম বিশ্ববাসীকে জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক বিস্ফোরক পোস্টে ট্রাম্প খামেনিকে ‘ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “এটি কেবল ইরানি জনগণের জন্য নয়, সারাবিশ্বের জন্য এক বিশাল সুবিচার।”

ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন যে, মার্কিন অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং সিস্টেম আর ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে খামেনি বা তাঁর শীর্ষ নেতাদের পালানোর কোনো পথ ছিল না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মাত্র এক দিনের অভিযানেই ইরান রাষ্ট্রটি অনেকটা বিলীন হয়ে গেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে পুরোপুরি শান্তি না আসা পর্যন্ত সপ্তাহজুড়ে এই বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকবে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে খামেনির পতনের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে একে ‘স্বৈরশাসকের বিদায়’ বলে মন্তব্য করেছেন। বর্তমানে ইরানের সামরিক বাহিনীর মধ্যে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, যা দেশটিকে এক চরম নেতৃত্ব সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সোর্সঃ বিবিসি, ফার্স নিউজ, তাসনিম নিউজ


ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী হামলার ঘোষণা: কাঁপছে মার্কিন-ইসরায়েলি ঘাঁটি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০১ ১০:০৭:৩৮
ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী হামলার ঘোষণা: কাঁপছে মার্কিন-ইসরায়েলি ঘাঁটি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে এবার ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী ও ভয়াবহ হামলার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। আজ রোববার (১ মার্চ ২০২৬) সকালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের এই পাল্টা অভিযান ‘কিছুক্ষণের মধ্যেই’ শুরু হবে এবং এর প্রধান লক্ষ্য হবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ‘আমেরিকান সন্ত্রাসী ঘাঁটি’ ও ইসরায়েলের ‘অধিকৃত ভূখণ্ড’। এই ঘোষণার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এখন এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এই বিধ্বংসী হামলার হুমকির কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম খামেনির মৃত্যুর খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ভোরে যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলা চালায়, তখন খামেনি তাঁর নির্ধারিত দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনিকে ‘ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁর মৃত্যুর খবরটি প্রথম সামনে আনেন। ফার্স নিউজের দাবি অনুযায়ী, এই ‘কাপুরুষোচিত’ হামলায় কেবল খামেনিই নন, বরং তাঁর মেয়ে, নাতি, জামাতা এবং পুত্রবধূও নিহত হয়েছেন। খামেনির পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার এই ঘটনা আইআরজিসি-র সদস্যদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

খামেনির মৃত্যুতে ইরানে আজ ১ মার্চ থেকে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং ৭ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু শোক পালনের চেয়েও এখন যুদ্ধের দামামা বেশি বাজছে। আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি আর সাধারণ কোনো সংঘাত নয়, বরং এটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। তারা দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটি এখন তাদের মিসাইল রেঞ্জের ভেতরে রয়েছে এবং এবারের হামলা হবে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ধ্বংসাত্মক। ড্রোন আর ব্যালিস্টিক মিসাইল নিয়ে ইরান এখন কোন স্তরের হামলা চালায়, তা দেখতে পুরো বিশ্ব এখন আতঙ্কে থমকে আছে।

/আশিক


ক্ষমতার লড়াইয়ে ইরান: খামেনির আসনে বসতে আইআরজিসি’র চাপ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০১ ০৯:৫৫:৩৩
ক্ষমতার লড়াইয়ে ইরান: খামেনির আসনে বসতে আইআরজিসি’র চাপ
ছবি : সংগৃহীত

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের ক্ষমতার মসনদে কে বসবেন, তা নিয়ে দেশটির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে তীব্র টানাপড়েন শুরু হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ জানিয়েছে, ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এখন সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে দ্রুত একজন নতুন ‘সুপ্রিম লিডার’ বা সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগ দিতে প্রচণ্ড চাপ দিচ্ছে। তাদের ভয়, দীর্ঘসূত্রতা হলে সাধারণ মানুষ বিদ্রোহ করে ক্ষমতা দখল করতে পারে। তবে ইরানের সংবিধান অনুযায়ী নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ‘এসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ দাবি করেছে যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান হামলার কারণে তাদের পক্ষে বর্তমানে সব সদস্যকে নিয়ে বৈঠক করা বা আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এদিকে, খামেনি ও তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টাদের একযোগে মৃত্যুর ফলে ইরানের নিরাপত্তা ও সামরিক চেইন অব কমান্ডে বড় ধরণের ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে নির্দেশ আদান-প্রদানে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে এবং সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটগুলোর মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর মিলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার এবং সাধারণ সেনাসদস্য নিজ নিজ ঘাঁটিতে রিপোর্ট না করে গা ঢাকা দিয়েছেন। অব্যাহত বিমান হামলায় সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে—এমন আতঙ্কে তারা সতর্ক অবস্থানে থাকলেও কেন্দ্রীয় নির্দেশের অভাবে তারা অনেকটা দিশেহারা।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে আজ রোববার দিনের আলো ফোটার পর দেশজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে। খামেনির মৃত্যুর খবরে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অনেকেই একে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন’ হিসেবে দেখছেন এবং রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নেতৃত্ব সংকট, সামরিক অস্থিরতা এবং জনগণের তীব্র অসন্তোষ—এই তিন দিক থেকেই এখন চরম চাপের মুখে পড়েছে ইরান সরকার। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা ইরানের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; হয় আইআরজিসি ক্ষমতা দখল করে সামরিক শাসন জারি করবে, নতুবা গণঅভ্যুত্থানের মুখে পুরো ব্যবস্থাটিই ভেঙে পড়বে।

/আশিক


সুরক্ষিত ভবনে যেভাবে প্রাণ হারালেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০১ ০৯:১৩:৪৭
সুরক্ষিত ভবনে যেভাবে প্রাণ হারালেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ উৎকণ্ঠা আর বিশ্বব্যাপী জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির শাহাদাতের খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। আজ রোববার (১ মার্চ ২০২৬) সকালে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’ ও ‘ফার্স’ নিউজ জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় খামেনি নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি (IRIB) অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ঘোষণা করেছে, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন’। এই খবরের পরপরই ইরান সরকার দেশে ৭ দিনের সাধারণ ছুটি এবং ৪০ দিনের দীর্ঘ রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।

গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শনিবার ভোরে যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলা চালায়, তখন খামেনি তাঁর একটি সুরক্ষিত স্থানে শীর্ষ উপদেষ্টাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে ছিলেন। হামলায় কেবল খামেনিই নন, তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলি শামখানি এবং আইআরজিসি-র কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোরও নিহত হয়েছেন। আল জাজিরার প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, খামেনির প্রাসাদটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে ধসে পড়েছে এবং চারপাশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতিও প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এই ঘটনাকে ‘ইতিহাসের অন্যতম দুষ্টু ব্যক্তির সমাপ্তি’ বলে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্প লিখেছেন, খামেনির মৃত্যু কেবল ইরানের জনগণের জন্যই নয়, বরং সারা বিশ্বের জন্য এক বড় ন্যায়বিচার। তিনি আরও দাবি করেন যে, ইরানের আইআরজিসি এবং পুলিশ বাহিনীর অনেকেই এখন যুদ্ধ করতে অনিচ্ছুক এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা বা ইমিউনিটি চাচ্ছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, “এটি ইরানের জনগণের জন্য নিজেদের দেশ পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় সুযোগ।” খামেনির এই প্রয়াণ ইরানের বিপ্লবী শাসনব্যবস্থাকে এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে, যার প্রভাব পুরো বিশ্ব রাজনীতিতে অনুভূত হচ্ছে।

/আশিক


শহীদ হলেন আয়াতুল্লাহ খামেনি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০১ ০৯:০৬:৩২
শহীদ হলেন আয়াতুল্লাহ খামেনি
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ নাটকীয়তা আর ধোঁয়াশার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'ইরনা' (IRNA)। রোববার (১ মার্চ ২০২৬) ভোরে প্রকাশিত এক বিশেষ সংবাদে জানানো হয় যে, শনিবার সকালে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চালানো যৌথ সামরিক অভিযানে ইসলামী বিপ্লবের এই মহান নেতা শহীদ হয়েছেন। এর আগে ইসরায়েল ও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে খামেনির মৃত্যুর দাবি করা হলেও তেহরান তা বারবার প্রত্যাখ্যান করে আসছিল। এমনকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছিলেন যে খামেনি জীবিত আছেন এবং ময়দান থেকে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিই সত্য বলে প্রমাণিত হলো।

হামলার ভয়াবহতা কেবল সর্বোচ্চ নেতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; খামেনির পরিবারের একাধিক সদস্যও এই অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন। জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'রোয়া নিউজ' এবং ইরানের 'ফারস নিউজ' জানিয়েছে, খামেনির ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে হামলায় তাঁর মেয়ে, জামাতা, নাতনি এবং পুত্রবধূ নিহত হয়েছেন। মূলত তেহরানে খামেনির ব্যক্তিগত বাসভবন ও কার্যালয় লক্ষ্য করে নিখুঁত নিশানায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করায় এই অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলার শুরুতেই ইসরায়েল খামেনি নিহত হওয়ার দাবি করলেও ইরান তখন কৌশলগত কারণে তা গোপন রেখেছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খামেনিকে হত্যার খবরটি সঠিক বলে দাবি করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, ইরানের সিনিয়র নেতৃত্বের ‘অধিকাংশই’ এখন আর নেই; যারা গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত নিতেন, তাদের বড় একটি অংশ এই অভিযানে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। খামেনির এই মহাপ্রয়াণ কেবল ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, বরং পুরো মুসলিম বিশ্বে এক গভীর শোক ও অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, খামেনির অনুপস্থিতিতে ইরানের হাল কে ধরবেন এবং এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান কতটা বিধ্বংসী হয়ে উঠবে।

/আশিক


কেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানকে আক্রমণ করছে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ২২:১৭:০৩
কেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানকে আক্রমণ করছে?
ছবি: আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক স্থানে সামরিক হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানোকে “বড় ধরনের যুদ্ধ কার্যক্রম” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের চলমান আলোচনার মধ্যেই এই হামলা হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহ ধরে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন। উল্লেখ্য, আট মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের একটি যুদ্ধ পরিচালনা করেছিল।

ইরানে কী ঘটেছে?

ইরানের ফারস বার্তা সংস্থা স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৯টা ২৭ মিনিটে (০৬:২৭ জিএমটি) তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের খবর জানায়। পশ্চিম তেহরানে অবস্থানরত আল জাজিরার প্রতিবেদক অন্তত দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।

ইসরাইল প্রথম ঘোষণা দেয় যে তারা ইরানের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পরবর্তীতে এক মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানান, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান ও রণতরী মোতায়েন করেছে, যা ইরাক যুদ্ধের পর এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পরে জানায়, অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে “অপারেশন এপিক ফিউরি”।

ইরানের কোথায় কোথায় হামলা হয়েছে?

ফারসের প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট, জোমহুরি এলাকা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সদর দপ্তরের নিকটে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানায়, একটি হামলা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কার্যালয়ের কাছাকাছি হয়েছে। তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানায়, তেহরানের সাইয়্যেদ খন্দান এলাকাতেও বিস্ফোরণ ঘটেছে।

এ ছাড়া কেরমানশাহ, কোম, তাবরিজ, ইসফাহান, ইলাম, কারাজ এবং লোরেস্তান প্রদেশেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

ট্রাম্প কী বলেছেন?

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই অভিযান “ব্যাপক ও চলমান” এবং এর লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করবে।

তার বক্তব্যের মূল দিকগুলো হলো:

ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে।

লক্ষ্য, ইরানের কথিত আসন্ন হুমকি নির্মূল করা।

ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা।

ইরানের নৌ সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া।

ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত করা।

ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।

ট্রাম্প ইরানের সেনাসদস্যদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, তারা অস্ত্র সমর্পণ করলে সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হতে পারে; অন্যথায় “নিশ্চিত মৃত্যুর” মুখোমুখি হতে হবে। তিনি স্বীকার করেন, মার্কিন বাহিনীর হতাহতের আশঙ্কাও রয়েছে। রয়টার্স জানায়, এটি বহুদিনব্যাপী সামরিক অভিযান হতে পারে।

ওয়াশিংটনে আল জাজিরার প্রতিবেদক অ্যালান ফিশার বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। তিনি ১৯৫৩ সালে সিআইএ-সমর্থিত অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এবার তা গোপনে নয়, সরাসরি সামরিক শক্তি দিয়ে করা হচ্ছে।

হামলার যৌক্তিকতা কী?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তবে ইরান বারবার বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং তারা পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনো পরিকল্পনা করছে না। ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র দেশ যার কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়।

গত বছর জুনে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় এবং কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার নিহত হন। সাম্প্রতিক উত্তেজনা বেড়ে যায় যখন ওমানি মধ্যস্থতায় জেনেভায় আলোচনায় অগ্রগতির ঘোষণা আসে। সেখানে ইরান শূন্য ইউরেনিয়াম মজুত এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার পূর্ণ যাচাইয়ে সম্মত হয়েছে বলে জানা যায়।

ইরানের প্রতিক্রিয়া

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইরান প্রথমে উত্তর ইসরাইল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। দেশটির বিভিন্ন স্থানে সাইরেন বেজে ওঠে এবং বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।

এরপর ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-সম্পৃক্ত একাধিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার মধ্যে রয়েছে কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটি, কুয়েতের আল সালেম, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা এবং বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর। সৌদি আরবের রিয়াদ ও জর্ডানেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন এক পথে পা দিয়েছে যার পরিণতি তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।

ইসরাইলের অবস্থান

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, সামরিক অভিযান “যতদিন প্রয়োজন ততদিন চলবে”। ইসরাইল তাদের অভিযানের নাম দিয়েছে “লায়নের গর্জন”।

ইরানের নেতৃত্ব কোথায়?

৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি কোথায় আছেন তা স্পষ্ট নয়। রাজধানীতে বিস্ফোরণের সময় তার আবাসিক এলাকার সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান অক্ষত রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ওমান জানিয়েছে, তাদের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনা এই হামলায় বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কাতার তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে প্রতিক্রিয়ার অধিকার সংরক্ষণ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সতর্ক করেছে, এমন হামলা অব্যাহত থাকলে গুরুতর পরিণতি হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাস পরিস্থিতিকে “অত্যন্ত বিপজ্জনক” বলে মন্তব্য করেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর গুরুতর প্রভাবের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। রাশিয়ার দিমিত্রি মেদভেদেভ ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেন, আলোচনা ছিল কেবল আড়াল। যুক্তরাজ্য ও কানাডা ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে।

পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং আঞ্চলিক সংঘাত বৃহত্তর যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা


রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য: রিয়াদ-বাহরাইনের পর এবার কাঁপল দুবাই

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ২২:০৪:১৬
রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য: রিয়াদ-বাহরাইনের পর এবার কাঁপল দুবাই
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম প্রধান পর্যটন ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এখন রণক্ষেত্রের আতঙ্কে থমথমে। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে দুবাইয়ের বিখ্যাত কৃত্রিম দ্বীপ ‘পাম আইল্যান্ড’ এলাকায় বিকট শব্দে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, জোরালো শব্দের পরপরই পাম আইল্যান্ড এলাকা থেকে আগুনের লেলিহান শিখা এবং বিশালাকার কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও প্রতিবেদনে এই ভয়াবহতার চিত্র ফুটে উঠেছে, যা মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

এখন পর্যন্ত দুবাই পুলিশ বা আমিরাত কর্তৃপক্ষ সরকারিভাবে কোনো বিবৃতি না দিলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র দাবি করেছে, এটি ইরানের পক্ষ থেকে চালানো একটি পরিকল্পিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। একই সময়ে বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি, কুয়েত, কাতার এবং সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আগ্রাসনের প্রতিবাদে ইরান একযোগে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ও মিত্র দেশগুলোর স্থাপনায় এই ‘মরণকামড়’ দিয়েছে। পাম আইল্যান্ডে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে, ইরান তাদের পাল্টা হামলার অংশ হিসেবে ইসরায়েলে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে মারছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে ক্রমাগত হামলার ভয়ে এবং জীবন রক্ষার্থে সাধারণ নাগরিকদের বাংকারে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। দুবাইয়ের মতো নিরাপদ শহরে এই ধরণের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারেও পড়তে শুরু করেছে।

/আশিক


ইরানের স্কুলে ইসরায়েলি মিসাইল: নিষ্পাপ শিশুদের রক্তে লাল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৯:০৫:৪২
ইরানের স্কুলে ইসরায়েলি মিসাইল: নিষ্পাপ শিশুদের রক্তে লাল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে এক হৃদয়বিদারক ও পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হরমুজাগানের মিনাব সিটিতে একটি প্রাক-প্রাথমিক মহিলা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে অন্তত ৫১ জন স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার সময় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শুরুতে পাঁচজন এবং পরে ২৪ জন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৫১-তে দাঁড়িয়েছে। কোমলমতি শিশুদের এই গণমৃত্যু পুরো ইরানজুড়ে শোকের ছায়া এবং সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

এই নারকীয় হামলার পরপরই ইরান তার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে পাল্টা আঘাত শুরু করেছে। দেশটির সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইসরায়েল এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে শত শত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ছে। ইরানের দাবি, তাদের এই প্রতিশোধমূলক হামলা ‘শত্রু’র আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তেহরান থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইতিমধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোতেও আঘাত হানতে শুরু করেছে, যা এই সংঘাতকে একটি অনিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ইতোমধ্যে ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় আরব আমিরাতে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মিনাব সিটির স্কুলে শিশুদের ওপর এই হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে ইরান সরকার। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বেসামরিক স্থাপনা ও শিশুদের ওপর এ ধরণের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে তারা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই আঘাত হানার পরিকল্পনা করেছিল। তবে মিনাব সিটির এই নিথর শিশুদের সারি পুরো বিশ্বের সামনে যুদ্ধের এক বীভৎস রূপ ফুটিয়ে তুলেছে।

সূত্র: আলজাজিরা।

পাঠকের মতামত: