সব শক্তি দিয়ে খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেবে ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০১ ১৬:২৭:৫০
সব শক্তি দিয়ে খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেবে ইরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যার বদলা নিতে এবার সরাসরি রণহুঙ্কার দিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আজ রোববার (১ মার্চ ২০২৬) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক আবেগঘন ও কঠোর বিবৃতিতে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই কাপুরুষোচিত হামলার প্রতিশোধ নেওয়া এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ‘বৈধ অধিকার ও পবিত্র দায়িত্ব’। খামেনি ও শীর্ষ কমান্ডারদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ইরান তার সর্বশক্তি দিয়ে এই অপরাধের যোগ্য জবাব দেবে।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁর ভাষণে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, “এই ভয়াবহ অপরাধের পরিকল্পনাকারী এবং যারা হামলার নির্দেশ দিয়েছে, তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রতিশোধ নেওয়া আমাদের অপরিহার্য কর্তব্য। অপরাধীদের ওপর পাল্টা আঘাত হানাকে ইরান কেবল তার অধিকারই নয়, বরং এক ধরণের বাধ্যবাধকতা বলে মনে করে।” তিনি আরও যোগ করেন, ইরানের সামরিক বাহিনী এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং যে কোনো মুহূর্তে এই ‘মরণকামড়’ শুরু হতে পারে। খামেনির শূন্যতা ইরানকে আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ইরানি প্রেসিডেন্টের এই কঠোর অবস্থানের পর মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী এখন সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। পেজেশকিয়ানের এই বার্তায় ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, ইরান কেবল কূটনৈতিক প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সরাসরি সামরিক সংঘাতের দিকেই এগোচ্ছে। বিশেষ করে খামেনির পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর বিষয়টি ইরানি জনগণের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি করেছে, তাকে পুঁজি করেই তেহরান এখন ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্বনেতারা পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানালেও পেজেশকিয়ানের ‘সব শক্তি নিবেদন’ করার ঘোষণা বিশ্বশান্তিকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

/আশিক


নেতানিয়াহুর ফাঁদে পা দিয়েছেন ট্রাম্প! কমলা হ্যারিসের বিস্ফোরক অভিযোগ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১২:৪৭:০৬
নেতানিয়াহুর ফাঁদে পা দিয়েছেন ট্রাম্প! কমলা হ্যারিসের বিস্ফোরক অভিযোগ
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু এবং কমলা হ্যারিস। ছবি: গ্রাফিক্স

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যখন যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, তখন এই সংঘাতকে কেন্দ্র করে খোদ ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তোলপাড়। সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কারণেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) এক ফান্ড রাইজিং ইভেন্টে কমলা হ্যারিস বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “ট্রাম্প এমন এক যুদ্ধে জড়িয়েছেন যেটি আমেরিকার জনগণ চায় না এবং এটি আমাদের সেনাদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। আর তাকে এই পথে ঠেলে দিয়েছেন নেতানিয়াহু।” কমলা হ্যারিসের এই কড়া আক্রমণের বিপরীতে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও, নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইসরায়েলের ভূয়সী প্রশংসা করে একটি পোস্ট দিয়েছেন।

ট্রাম্প তার পোস্টে ইসরায়েলকে ‘অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য মিত্র’ হিসেবে বর্ণনা করে লিখেছেন, “মানুষ ইসরায়েলকে পছন্দ করুক আর না করুক, তারা জানে কীভাবে জয় ছিনিয়ে আনতে হয়।” তিনি ইসরায়েলিদের সাহসী, নির্ভীক ও বিশ্বস্ত উল্লেখ করে বলেন, যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে অনেকে যখন পিছু হটেছে, ইসরায়েল তখন সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করছে। ট্রাম্পের এই অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, নেতানিয়াহুর প্রতি কমলার সমালোচনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি ইসরায়েলের পাশেই শক্তভাবে দাঁড়াচ্ছেন।

সূত্র: বিবিসি


যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না ইরান! যেকোনো মুহূর্তে ফের যুদ্ধের হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১২:২৮:১৫
যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না ইরান! যেকোনো মুহূর্তে ফের যুদ্ধের হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতির খবর দিলেও ওয়াশিংটনকে একচুলও ছাড় দিতে নারাজ তেহরান। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ইরানের স্পিকার ও অন্যতম প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা থেকে উভয় পক্ষ এখনো অনেক দূরে রয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না এবং যেকোনো মুহূর্তে তারা পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে পারে।

গালিবাফ দাবি করেন, চলমান যুদ্ধে ইরানই বিজয়ী হয়েছে এবং কেবল নিজেদের দাবিগুলো পূরণ হওয়ার শর্তেই তারা সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি আগামী বুধবার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও একটি স্থায়ী চুক্তির বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। গালিবাফ হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “কৌশলগত হরমুজ প্রণালি এখন ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।

যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ তুলে না নেয়, তবে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিতভাবেই বন্ধ করে দেওয়া হবে। ইরান নিজে পার হতে পারবে না অথচ অন্যরা এই রুট ব্যবহার করবে—তা অসম্ভব।”

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে গালিবাফ ও ইরানি প্রতিনিধি দলের রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা ১৯৭৯ সালের পর দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ।

তবে সেই বৈঠকেও মৌলিক অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে কোনো সমাধান আসেনি। গালিবাফ জানান, আলোচনাও তাদের কাছে যুদ্ধের একটি পদ্ধতি এবং শত্রুর যেকোনো ‘বোকামি’ মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

/আশিক


আড়াই দশকের লুকোচুরি শেষ? ইরানের জব্দ করা বিশাল সম্পদের চাঞ্চল্যকর অংক প্রকাশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১১:৪৪:৪৮
আড়াই দশকের লুকোচুরি শেষ? ইরানের জব্দ করা বিশাল সম্পদের চাঞ্চল্যকর অংক প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে জব্দ হয়ে থাকা ইরানের বিশাল অংকের সম্পদ নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে সম্ভাব্য আলোচনার আগে এই ইস্যুটি এখন তেহরানের জন্য অন্যতম প্রধান শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান কেবল তাদের জব্দ সম্পদ ফেরতই চায় না, বরং দীর্ঘদিনের যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য বড় অংকের ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে মহাসচিবের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের ৮ বিলিয়ন ডলার জব্দের নির্দেশ থেকে শুরু হওয়া এই সংকটে বর্তমানে কী পরিমাণ অর্থ আটকে আছে, তা নিয়ে রয়েছে নানা ধোঁয়াশা।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, তেলের রাজস্ব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ এবং বাণিজ্যিক সম্পদ মিলিয়ে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আটকে আছে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সময় এই সম্পদের পরিমাণ ৫০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর সেই অর্থ আবারও নাগালের বাইরে চলে যায়।

২০২৩ সালে বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার কাতারে স্থানান্তর করা হলেও তা ব্যবহারের ওপর কঠোর শর্তারোপ করা হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জব্দ হওয়া এই সম্পদ ফেরত দেওয়া ছাড়া বড় কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। বর্তমানে তেহরান এই অর্থ ফেরত পাওয়াকে তাদের আলোচনার টেবিলে বসার প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করছে।

সূত্র: এমএসএন/আল-জাজিরা


মার্কিন নতুন প্রস্তাব এখন তেহরানের টেবিলে! কী আছে সেই নথিতে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১১:১৫:৩৬
মার্কিন নতুন প্রস্তাব এখন তেহরানের টেবিলে! কী আছে সেই নথিতে?
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের আগে ‘সমঝোতার রূপরেখা’ চূড়ান্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদেহ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই রূপরেখা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে আলোচনার কোনো তারিখ নির্ধারণ করা তেহরানের পক্ষে সম্ভব নয়।

ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ‘অতিরিক্ত দাবি’ উত্থাপন করার কারণে দুপক্ষ এখনো কিছু মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম-এর তথ্যমতে, তেহরান তাদের সুনির্দিষ্ট শর্তগুলো পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ইতিমধ্যে ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দিয়েছে। ইরান পরিষ্কার করেছে যে, তারা দীর্ঘ এবং অর্থহীন আলোচনার মাধ্যমে সময় নষ্ট করতে আগ্রহী নয়।

এদিকে, গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছু নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। তেহরান বর্তমানে সেই প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে এবং এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। উল্লেখ্য যে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার শান্তি আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছিল। বর্তমানে দুপক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফায় তাদের আলোচনার টেবিলে ফেরাতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান।

সূত্র: আল-জাজিরা


নেতানিয়াহুর গালে ট্রাম্পের ‘চপেটাঘাত’! লেবানন দখল পরিকল্পনায় বড় বাধা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৮ ২১:২৯:৪০
নেতানিয়াহুর গালে ট্রাম্পের ‘চপেটাঘাত’! লেবানন দখল পরিকল্পনায় বড় বাধা
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণাকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার উগ্র ডানপন্থী জোট সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক অপমান বা ‘চপেটাঘাত’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসরাইলি সরকার যেখানে লিটানি নদী পর্যন্ত লেবাননের ভূখণ্ড দখল করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করছিল, ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণা তাদের সেই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসরাইলকে বিমান হামলা বন্ধ করার জন্য ট্রাম্পের কড়া নির্দেশ নেতানিয়াহু প্রশাসনের জন্য এক অভাবনীয় বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইসরাইলি সরকার গত কয়েকদিন ধরে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে ছিল। তারা লেবানন সরকারকে কেবল হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতেই চাপ দিচ্ছিল না, বরং হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক অস্তিত্ব মুছে ফেলতে তাদের সংসদ এবং সরকার থেকে পুরোপুরি বহিষ্কার করার দাবি তুলছিল।

ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ জনমত যখন বর্তমান সরকারের ওপর চরম ক্ষুব্ধ, তখন ডানপন্থী ভোটারদের সন্তুষ্ট করতে লেবাননের শিয়া-প্রধান গ্রামগুলোকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার যে আগ্রাসী নীতি ইসরাইল গ্রহণ করেছিল, ট্রাম্পের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ সেই পরিকল্পনাকে পুরোপুরি প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ইতিমধ্যে ইসরাইলি বাহিনী গ্রামগুলোকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে লেবাননের বাসিন্দাদের সেখানে ফিরতে বাধা দিচ্ছে, যাতে তারা নিজেদের জনগণের কাছে প্রমাণ করতে পারে যে তারা নিরাপত্তার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তবে এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মধ্যেও ইসরাইলি সরকারের জন্য সামান্য সুযোগ বা ‘উইগল রুম’ রয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও—কেউই এখন পর্যন্ত ইসরাইলকে তাদের ইতিমধ্যে দখলকৃত ভূখণ্ড থেকে সরে আসার সরাসরি নির্দেশ দেননি। এই বিশেষ সুযোগটিকেই বর্তমানে ইসরাইল সরকার তাদের ক্ষুব্ধ জনগণের কাছে বড় সান্ত্বনা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

তারা দাবি করছে যে, বিমান হামলা বন্ধের আন্তর্জাতিক চাপ থাকলেও ভূখণ্ডগত অবস্থান থেকে তারা এখনো এক চুলও সরে আসেনি। মূলত নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সামাল দিতে এবং দেশের মানুষের কাছে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি রক্ষার বাহানা হিসেবেই ইসরাইল সরকার এখন এই সীমিত সুযোগকে কাজে লাগানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে।


ট্রাম্প বেশি কথা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকির মুখে বিস্ফোরক ইরান!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৮ ২০:১০:৫৪
ট্রাম্প বেশি কথা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকির মুখে বিস্ফোরক ইরান!
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি ও বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদে। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) তুরস্কের আন্তালিয়ায় আয়োজিত এক কূটনৈতিক ফোরামে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি সোজাসাপ্টা মন্তব্য করেন যে, ট্রাম্প ‘বেশি কথা বলেন’। খাতিবজাদে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট অনেক টুইট করেন এবং অনেক কথা বলেন। তার বক্তব্যগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা মার্কিন জনগণের ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত।”

আগামী বুধবারের মধ্যে সমঝোতা না হলে ইরানে আবারও বোমা হামলার যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছেন, সে প্রসঙ্গে খাতিবজাদে বলেন, ট্রাম্প একই বক্তব্যের মধ্যে পরস্পরবিরোধী কথা বলেন এবং তিনি আসলে কী বোঝাতে চান তা নিশ্চিত নয়। এদিন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ইউরেনিয়াম স্থানান্তরের মার্কিন প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন এবং বর্তমানে জারি থাকা মার্কিন নৌ-অবরোধকে ‘স্থায়ীভাবে অকার্যকর’ বলে ঘোষণা দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসতে হলে আগে উভয় পক্ষকে একটি সুনির্দিষ্ট সমঝোতার কাঠামোতে পৌঁছাতে হবে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানি এই কূটনীতিক বলেন, যদি আবারও যুদ্ধ শুরু হয়, তবে ইরান নিজেদের রক্ষায় সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করবে। তার ভাষায়, “যুদ্ধ শুরু হলে ইরান শেষ গুলি ও শেষ সৈনিক পর্যন্ত লড়াই করবে।” গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। যদিও ট্রাম্প এই সপ্তাহে আবারও সরাসরি আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ভেন্যু নিয়ে জটিলতার কারণে এখনই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

/আশিক


গুলিবর্ষণের শিকার দুটি জাহাজ: হরমুজ রুটে কেন আবার মারমুখী আইআরজিসি?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৮ ২০:০৪:২৭
গুলিবর্ষণের শিকার দুটি জাহাজ: হরমুজ রুটে কেন আবার মারমুখী আইআরজিসি?
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে চলমান উত্তেজনার পারদ আরও চড়ল। গতকালই হরমুজ প্রণালি ‘উন্মুক্ত’ করার ঘোষণা দিলেও, ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) সকাল থেকে পুনরায় এই কৌশলগত নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

শুধু নিয়ন্ত্রণই নয়, প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টাকালে অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে আইআরজিসি-র গানবোট থেকে গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। রয়টার্স এবং ব্রিটিশ সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও-র বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।

ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমান উপকূল থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে আইআরজিসি-র দুটি গানবোট থেকে একটি ট্যাংকার লক্ষ্য করে সরাসরি গুলিবর্ষণ করা হয়। তবে সৌভাগ্যবশত জাহাজ ও এর ক্রু সদস্যরা অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছেন। হামলার ফলে জাহাজের ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ইরান নতুন করে কিছু কঠোর শর্ত আরোপের পরপরই এমন হামলার ঘটনা ঘটায় আন্তর্জাতিক শিপিং রুটে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গতকালের দেওয়া ঘোষণা থেকে সরে এসে হঠাৎ কেন ইরান আবার যুদ্ধংদেহী অবস্থান নিল এবং শর্ত আরোপ করল, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।

/আশিক


দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও দাফন হয়নি খামেনির! কোথায় হবে সমাধি?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৮ ১৯:৪৬:২৩
দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও দাফন হয়নি খামেনির! কোথায় হবে সমাধি?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁর দাফন নিয়ে রহস্য ও অনিশ্চয়তা যেন কাটছেই না। ইরান ইন্টারন্যাশনালের বরাতে জানা গেছে, দেশটির প্রভাবশালী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান 'আস্তান কুদস রাজাভি' এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পবিত্র শহর মাশহাদের ইমাম রেজা মাজার এলাকায় তাঁকে কোথায় সমাহিত করা হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনির নিহতের খবর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় বিশ্বজুড়ে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক স্পর্শকাতরতার কারণে দাফনের স্থান ও সময় নির্ধারণে তেহরান চরম গোপনীয়তা রক্ষা করছে বলে মনে করা হচ্ছে। মাশহাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দাফনের প্রস্তুতি চললেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও কৌতূহল বেড়েই চলেছে।

/আশিক


দিনের আলোয় দেখা মিলল ঈদের চাঁদের! শুরু হলো কোরবানির ক্ষণগণনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৮ ১৯:১৯:১৯
দিনের আলোয় দেখা মিলল ঈদের চাঁদের! শুরু হলো কোরবানির ক্ষণগণনা
ছবি : সংগৃহীত

আকাশে যখন দিনের আলো ফুটেছে, ঠিক তখনই দেখা মিলল হিজরি ১৪৪৭ সনের জিলকদ মাসের নতুন বাঁকা চাঁদের। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই বিরল দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে হজের মাস জিলহজ ও পবিত্র ঈদুল আজহার ক্ষণগণনা। আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের (আইএসি) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে জিলকদ মাসের এই চাঁদ দেখা যায়, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক বিশেষ মুহূর্ত।

জ্যোতির্বিজ্ঞানী মোহাম্মদ আওদার নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল এই চাঁদ পর্যবেক্ষণ করেন। পর্যবেক্ষণের সময় চাঁদের বয়স ছিল মাত্র ১৬.৫ ঘণ্টা। এই চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা চলতি বছরের পবিত্র ঈদুল আজহার একটি সম্ভাব্য সময়সূচিও প্রকাশ করেছেন। এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন, জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের ২৭ মে (বুধবার) মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে। সেই হিসেবে হজের প্রধান দিন বা আরাফাত দিবস হতে পারে ২৬ মে (মঙ্গলবার)।

ভৌগোলিক নিয়ম অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর বাংলাদেশে চাঁদ দেখা যায়। সেই হিসেবে বাংলাদেশে আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বরাবরের মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার ওপর। ঈদুল আজহা উপলক্ষে মধ্যপ্রাচ্যের বাসিন্দারা টানা ৯ দিনের এক দীর্ঘ ছুটির অপেক্ষায় রয়েছেন, যা সেখানে আনন্দের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সূত্র: গালফ নিউজ

পাঠকের মতামত:

১৯ এপ্রিল: লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

১৯ এপ্রিল: লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

ঢাকার শেয়ারবাজারে সপ্তাহের নতুন কার্যদিবসে সূচকের ওঠানামার মাঝেও কিছু কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের জন্য উল্লেখযোগ্য রিটার্ন এনে দিয়েছে। ১৯ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর... বিস্তারিত