ওয়াশিংটনের নতুন সমরকৌশলে কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য: যুদ্ধের মেঘ কি তবে সুদূরপ্রসারী?

ওয়াশিংটন এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বর্তমানে সামরিক উত্তেজনার পারদ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক যুদ্ধংদেহী মনোভাব এবং তার বিশেষায়িত ‘আক্রমণ করো আর সটকে পড়ো’ বা ‘হিট অ্যান্ড রান’ কৌশলের কারণে ইরান ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলো এখন চরম ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন আর পূর্বসূরিদের মতো দীর্ঘমেয়াদী সেনা মোতায়েন বা রাষ্ট্র গঠনের মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ পথে হাঁটতে রাজি নয়। বরং তারা ক্ষিপ্র গতির সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযান চালিয়ে দ্রুত রাজনৈতিক ও সামরিক জয় হাসিল করার নতুন এক নীতি গ্রহণ করেছে। ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযান এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সফলভাবে অপহরণের ঘটনা ট্রাম্পকে এই আগ্রাসী কৌশলে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার সেই অভিযানে কোনো শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ বা আন্তর্জাতিক বড় ধরণের বাধা না আসায়, ট্রাম্পের পরবর্তী প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ ইরান।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে, যা ওয়াশিংটনকে উৎসাহিত করছে। দেশটিতে সরকারের বিরুদ্ধে চলমান তীব্র বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার প্রেক্ষিতে ট্রাম্প প্রশাসন এখন দেশটিতে সরাসরি বিমান হামলার পরিকল্পনা করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে। রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ট্রাম্প ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি এবং বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর প্রধান ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। যদিও গত বুধবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প কিছুটা নমনীয় সুর বজায় রেখে বলেছিলেন যে বিক্ষোভকারীদের হত্যা থামানো হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, তবে পর্দার আড়ালে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতির কোনো কমতি দেখা যাচ্ছে না। এর মধ্যে কাতার থেকে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা চিরতরে ধ্বংস করতে আকাশপথে বড় ধরণের অভিযানের ছক কষছে পেন্টাগন।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই নতুন মডেলটি হলো ‘স্বল্প খরচে সরকার পরিবর্তন’। যেখানে আগের মার্কিন প্রশাসনগুলো হাজার হাজার সেনা পাঠিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে বছরের পর বছর পড়ে থাকত এবং বিপুল জনবল ও অর্থের ক্ষয় হতো, ট্রাম্প সেখানে প্রক্সি বা ছায়াযুদ্ধ এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলার মাধ্যমে অতি দ্রুত উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইছেন। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে এই কৌশল সফল হওয়ার একটি বড় কারণ ছিল দেশটির ভঙ্গুর সামরিক ব্যবস্থা এবং দুর্নীতির কারণে ভেতর থেকে ফেটে পড়া শাসনকাঠামো। ইরানের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র একই ধরণের কাঠামোগত দুর্বলতাকে কাজে লাগাতে চায়। বছরের পর বছর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক ধসে বিপর্যস্ত ইরান এখন ভেতর থেকেই চরম অস্থির হয়ে উঠেছে। এই সুযোগে সরাসরি স্থলযুদ্ধ এড়িয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আকাশপথের নিরঙ্কুশ শক্তি প্রয়োগ করে ইরানকে কোণঠাসা করাই এখন ওয়াশিংটনের মূল রণকৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ভেনেজুয়েলার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও সংগঠিত হওয়ায় এই সম্ভাব্য অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরণের ঝুঁকির কারণও হতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন সেনাবাহিনী একই সাথে ভেনেজুয়েলা এবং ইরানের মতো দুটি ভিন্ন মহাদেশের বড় ফ্রন্টে জটিল সামরিক পরিকল্পনা পরিচালনা করার সক্ষমতা নিয়ে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন পেন্টাগনের জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ। তা সত্ত্বেও, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে আকণ্ঠ নিমজ্জিত থাকা এবং চীন তাইওয়ান নিয়ে বেশি মনোযোগী থাকায় বৈশ্বিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই একাধিপত্য বিস্তার করা অনেকটা সহজ হয়ে গেছে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই নতুন সামরিক দর্শন ইরানের ওপর প্রয়োগ করলে তা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রকে স্থায়ীভাবে পাল্টে দেয়, না কি অঞ্চলটিকে এক অনিয়ন্ত্রিত মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
তেহরানের ওপর চটল সৌদি আরব: কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম টানাপোড়েন
ইরানের বিরুদ্ধে এবার প্রকাশ্য ও কড়া কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছে সৌদি আরব। রোববার (১ মার্চ ২০২৬) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রিয়াদ তেহরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান সৌদি আরবসহ বেশ কয়েকটি ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ দেশকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে—এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রায় এক দিন আগে সৌদি ভূখণ্ডে ইরানি হামলার প্রেক্ষাপটে এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেল।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার জেরে নিজের নাগরিকদের জন্য ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক জরুরি বার্তায় বাহরাইন, কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) বসবাসরত ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এই চার দেশে এখন থেকে শুধুমাত্র অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ব্রিটিশ নাগরিকদের তাদের বর্তমান অবস্থান নিবন্ধন করার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। খামেনি হত্যার পর ইরানের পাল্টা জবাব এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর এই রণপ্রস্তুতি পুরো অঞ্চলকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
/আশিক
আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত: কাঁপছে ইসরায়েল
ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ ভেদ করে জেরুজালেমের অদূরে বেইত শেমেশ এলাকায় শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। আজ রোববার (১ মার্চ ২০২৬) বেইত শেমেশে ইরানের এই ভারী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত ৮ জন ইসরায়েলি নিহত এবং আরও ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে ‘টাইমস অব ইসরায়েল’ জানিয়েছে, হামলায় একটি আবাসিক ভবন সরাসরি বিধ্বস্ত হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী স্বীকার করেছে যে, তাদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই নির্দিষ্ট হামলাটি প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের রাজধানী তেহরানে ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি’ (IRNA) তেহরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বরাতে জানিয়েছে, গত এক দিনে তেহরানে অন্তত ৬০টি পৃথক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৭ জন নিহতের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খামেনি হত্যার পর ইরানের এই পাল্টা আঘাত এবং তেহরানে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক মহাপ্রলয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
/আশিক
রমজানে মসজিদুল আকসা বন্ধ করল ইসরায়েল: তারাবি পড়তে পারলেন না হাজারো মুসল্লি
পবিত্র রমজান মাসের ১১তম দিনে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে জেরুজালেমের মসজিদুল আকসা প্রাঙ্গণে এশা ও তারাবির নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। গতকাল শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর দেশজুড়ে ঘোষিত ‘জরুরি অবস্থা’র অজুহাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা রোববার (১ মার্চ ২০২৬) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে মুসল্লিদের মসজিদ থেকে বের করে দিয়ে সব ফটক বন্ধ করে দিয়েছে দখলদার বাহিনী।
ইসলামিক ওয়াক্ফ বিভাগের তথ্যমতে, জোহরের আজানের আগেই সাধারণ মুসল্লি ও কর্মীদের বের করে দেওয়া হয়। রাতে কেবল মসজিদের ইমাম শায়খ ইউসুফ আবু আসনিনা এবং হাতেগোনা কয়েকজন কর্মচারী সীমিত পরিসরে নামাজ আদায় করতে পেরেছেন। যেখানে রমজানের শুরু থেকে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ মুসল্লি তারাবিতে অংশ নিচ্ছিলেন, সেখানে আকসার এই নিস্তব্ধতা ২০২০ সালের করোনা মহামারির স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে। জেরুজালেম গবেষক জিয়াদ ইভহাইস একে আকসা ‘ইহুদীকরণ’ ও একক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
শুধু আকসা বন্ধই নয়, হেবরনের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদও জরুরি অবস্থার অজুহাতে বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এদিকে পুরোনো শহরের ফিলিস্তিনি ব্যবসায়ীদের দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হলেও বসতি স্থাপনকারীরা পুলিশের পাহারায় তোরাহভিত্তিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইসরায়েলি চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশে পুরো রমজান মাসজুড়ে আকসা বন্ধ রাখা হতে পারে, যা ফিলিস্তিনিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
/আশিক
ইরানে হামলা গ্যাংস্টারসুলভ আগ্রাসন: উত্তর কোরিয়া
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলাকে ‘অবৈধ আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। আজ রোববার (১ মার্চ ২০২৬) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর এই আঘাত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার মুখপাত্র সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণ করে বলেন, ওয়াশিংটনের এই ‘আধিপত্যবাদী ও গ্যাংস্টারসুলভ’ স্বভাবের কারণে এমন হামলা আগে থেকেই প্রত্যাশিত ছিল। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। উত্তর কোরিয়া মনে করে, এই আগ্রাসী যুদ্ধ কোনো পরিস্থিতিতেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর ফলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা চরমভাবে বিঘ্নিত হবে। ইরানের এই কঠিন সময়ে পিয়ংইয়ং তেহরানের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে।
/আশিক
রণক্ষেত্র ইরান: ১ হাজার ২০০ বোমায় ধ্বংস হচ্ছে একের পর এক শহর
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন কেবলই বারুদের গন্ধ আর লাশের মিছিল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানে গতকাল শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে ১ হাজার ২০০টিরও বেশি শক্তিশালী বোমা ফেলেছে দখলদার ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবির ভিত্তিতেই এই ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে। তবে এই হামলার সবচেয়ে কলঙ্কিত অধ্যায় রচিত হয়েছে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরে। সেখানে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে সরাসরি বোমা হামলায় অন্তত ১৪৮ জন নিষ্পাপ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। আহতের সংখ্যাও কয়েক শ ছাড়িয়ে গেছে বলে স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
এই পৈশাচিক হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের শিশুদের রক্ত এবং সার্বভৌমত্বের এই অবমাননার কঠিন জবাব দেওয়া হবে। আরাগচি স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান এই হামলার দায়ভার কেবল ইসরায়েলের ওপর নয়, বরং তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও বর্তায়। উল্লেখ্য যে, এই নজিরবিহীন সিরিজ হামলায় ইতোমধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। খামেনি পরবর্তী ইরানে নেতৃত্বের শূন্যতা আর এই শিশু হত্যার শোক—সব মিলিয়ে তেহরান এখন এক বিস্ফোরক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১ হাজার ২০০ বোমার এই তাণ্ডব আধুনিক যুদ্ধের ইতিহাসে অন্যতম বড় বিমান হামলা। মিনাবের বালিকা বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। যেখানে সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করার কথা ছিল, সেখানে কোমলমতি শিশুদের ওপর এই আঘাত ইরানকে একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং বিধ্বংসী পাল্টা হামলার পথে ঠেলে দিল। খামেনি হত্যার শোক আর মিনাবের রক্তস্নাত বিদ্যালয়—এই দুই ক্ষত নিয়ে ইরান এখন কোন ধরণের সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তা নিয়ে পুরো বিশ্ব গভীর উদ্বেগে রয়েছে।
/আশিক
সব শক্তি দিয়ে খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেবে ইরান
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যার বদলা নিতে এবার সরাসরি রণহুঙ্কার দিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আজ রোববার (১ মার্চ ২০২৬) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক আবেগঘন ও কঠোর বিবৃতিতে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই কাপুরুষোচিত হামলার প্রতিশোধ নেওয়া এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ‘বৈধ অধিকার ও পবিত্র দায়িত্ব’। খামেনি ও শীর্ষ কমান্ডারদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ইরান তার সর্বশক্তি দিয়ে এই অপরাধের যোগ্য জবাব দেবে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁর ভাষণে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, “এই ভয়াবহ অপরাধের পরিকল্পনাকারী এবং যারা হামলার নির্দেশ দিয়েছে, তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রতিশোধ নেওয়া আমাদের অপরিহার্য কর্তব্য। অপরাধীদের ওপর পাল্টা আঘাত হানাকে ইরান কেবল তার অধিকারই নয়, বরং এক ধরণের বাধ্যবাধকতা বলে মনে করে।” তিনি আরও যোগ করেন, ইরানের সামরিক বাহিনী এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং যে কোনো মুহূর্তে এই ‘মরণকামড়’ শুরু হতে পারে। খামেনির শূন্যতা ইরানকে আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ইরানি প্রেসিডেন্টের এই কঠোর অবস্থানের পর মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী এখন সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। পেজেশকিয়ানের এই বার্তায় ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, ইরান কেবল কূটনৈতিক প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সরাসরি সামরিক সংঘাতের দিকেই এগোচ্ছে। বিশেষ করে খামেনির পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর বিষয়টি ইরানি জনগণের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি করেছে, তাকে পুঁজি করেই তেহরান এখন ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্বনেতারা পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানালেও পেজেশকিয়ানের ‘সব শক্তি নিবেদন’ করার ঘোষণা বিশ্বশান্তিকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
/আশিক
খামেনিকে হত্যার ঘটনায় পাকিস্তানে মার্কিন কনস্যুলেটে তাণ্ডব
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের বন্দর নগরী করাচি। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রোববার (১ মার্চ) করাচিতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা চালায় শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা। বার্তা সংস্থা এপি ও এএফপি জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ভেঙে কনস্যুলেটের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। ইদি ফাউন্ডেশন রেসকিউ সার্ভিসের মুখপাত্র মুহাম্মদ আমিন নিশ্চিত করেছেন যে, এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ২০ জন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা পাথর নিক্ষেপ শুরু করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে একদল বিক্ষোভকারী কনস্যুলেটের গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং ভবনের জানালা ও দরজার কাচ ভাঙচুর করে। এমনকি ভবনের কিছু অংশে আগুন লাগিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। খামেনি হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে পাকিস্তানেই প্রথম এমন রক্তক্ষয়ী প্রতিবাদ দেখা গেল, যা বিশ্বজুড়ে মার্কিন স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরণের উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে, ইরানের ‘চূড়ান্ত প্রতিশোধের’ হুমকির প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ আরও একটি বিধ্বংসী পোস্ট দিয়েছেন। ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে লিখেছেন, ইরান আজ প্রচণ্ড আঘাত হানার যে পরিকল্পনা করেছে, তা তাদের না করাই ভালো। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি তারা হামলা করে, তবে আমরা তাদের এমন এক শক্তি দিয়ে আঘাত করব যা আগে কখনো দেখা যায়নি!” করাচির এই সহিংসতা আর ট্রাম্পের এই কড়া বার্তার পর পুরো বিশ্ব এখন এক ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় দিন গুনছে।
/আশিক
খামেনি হত্যার নেপথ্যে সৌদি
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পেছনে এক চাঞ্চল্যকর ভূ-রাজনৈতিক চক্রান্তের খবর ফাঁস করেছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রোববারের এই বিশেষ রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল ও সৌদি আরবের তীব্র চাপেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে এই ভয়াবহ অভিযান শুরু করতে বাধ্য হয়েছেন। রিপোর্টে এই দুই দেশকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের অস্বাভাবিক মার্কিন মিত্র জুটি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, যারা প্রকাশ্যে একে অপরের বিরোধী হলেও ইরানের ক্ষমতা বদলের মিশনে এক হয়ে কাজ করেছে।
রয়টার্সের তথ্যমতে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রকাশ্যে কূটনীতির কথা বলতেন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে তেহরানে হামলার জন্য সৌদির আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। কিন্তু পর্দার আড়ালে ট্রাম্পের সাথে একান্ত বৈঠকে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলতেন। যুবরাজ ও তাঁর ভাই খালিদ বিন সালমান মার্কিন কর্মকর্তাদের বারবার সতর্ক করেছেন যে, ওয়াশিংটন যদি এখনই উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তি ব্যবহার করে ইরানকে দমন না করে, তবে তেহরান আরও শক্তিশালী ও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। মূলত রিয়াদের আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ হিসেবে ইরানকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করতেই সৌদির এই দ্বিমুখী কৌশল ছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে, হামলার ঠিক কয়েক মুহূর্ত আগে খামেনি তাঁর দুই সিনিয়র উপদেষ্টা আলি লারিজানি এবং আলি শামখানির সাথে এক গোপন স্থানে বৈঠকে বসেছিলেন। ঠিক তখনই সেখানে নিখুঁত নিশানায় আক্রমণ চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, সৌদি ও ইসরায়েলের এই যৌথ প্রচেষ্টাই ট্রাম্পকে খামেনিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার অভিযানে চূড়ান্তভাবে উদ্বুদ্ধ করেছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, ইরানে বর্তমান সরকার পুরোপুরি পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত এই হামলা থামবে না। সৌদির এই গোপন সমর্থন ফাঁসের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে এক নতুন মেরুকরণ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
/আশিক
ইরানে হামলার তীব্র নিন্দা রাশিয়ার; চরম বিপর্যয়ের হুঁশিয়ারি পুতিনে
ইরানের মাটিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন হামলা এবং পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাতের ঘটনায় কঠোর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। আজ রোববার (১ মার্চ ২০২৬) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ওপর চালানো এই আগ্রাসন এবং দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা বর্ষণ সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য। ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কো এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী এক হঠকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে।
রাশিয়ার বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে যে, ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যে ভয়াবহ ‘মানবসৃষ্ট সংকট’ তৈরি হয়েছে, তার সব নেতিবাচক পরিণতির দায়ভার এই দুই দেশকেই নিতে হবে। ক্রেমলিন মনে করছে, এই আগ্রাসনের ফলে পুরো অঞ্চলে সহিংসতার মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে এবং পরিস্থিতি একটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া মহাবিপর্যয়ের দিকে মোড় নেবে। রাশিয়ার এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের এই সংকটে মস্কো নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না।
উল্লেখ্য যে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের এই যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শহীদ হয়েছেন, যা ইতোমধ্যে তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সি নিশ্চিত করেছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই অভিযানকে অত্যন্ত ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির মৃত্যুর পর রাশিয়ার এই প্রকাশ্য সমর্থন ইরানকে সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে পুনর্গঠিত হতে সাহায্য করতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধকে আরও দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- বিশ্ববাজারে তেলের দামে রেকর্ড উল্লম্ফন
- কালিগঞ্জে সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দীনের বিশাল ইফতার মাহফিল
- তেহরানের ওপর চটল সৌদি আরব: কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম টানাপোড়েন
- আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত: কাঁপছে ইসরায়েল
- রমজানে মসজিদুল আকসা বন্ধ করল ইসরায়েল: তারাবি পড়তে পারলেন না হাজারো মুসল্লি
- স্ত্রী হত্যার প্ররোচনা মামলা: প্রধান আসামি অভিনেতা জাহের আলভী
- কালিগঞ্জে ১৬ শতাধিক পরিবারের মাঝে ইঞ্জিনিয়ার মুকুলের ইফতার সামগ্রী বিতরণ
- সংসদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি ড. খন্দকার মোশাররফ কুমিল্লার সন্তান
- ইরানে হামলা গ্যাংস্টারসুলভ আগ্রাসন: উত্তর কোরিয়া
- ইফতারে প্রশান্তি পেতে ঝটপট তৈরি করুন স্বাস্থ্যকর ফ্রুট কাস্টার্ড
- সীমান্ত হত্যা যেন আর শুনতে না হয়, ভারতীয় হাইকমিশনারকে বলেছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- রণক্ষেত্র ইরান: ১ হাজার ২০০ বোমায় ধ্বংস হচ্ছে একের পর এক শহর
- সব শক্তি দিয়ে খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেবে ইরান
- ১৩ দিনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- খামেনি হত্যা ও শিশু নিধনের প্রতিবাদ: রাজধানীতে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
- খামেনিকে হত্যার ঘটনায় পাকিস্তানে মার্কিন কনস্যুলেটে তাণ্ডব
- আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ১ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ দরপতনের তালিকা প্রকাশ
- ১ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
- কিয়ামতের আগে ইমাম মাহদির আগমনের আলামত কী কী
- নতুন বেতন কাঠামো ও পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা জানা গেল
- খামেনি হত্যার নেপথ্যে সৌদি
- রমজানে হামলা হৃদয়বিদারক: খামেনি হত্যায় গভীর ক্ষোভ জামায়াত আমিরের
- কুমিল্লায় ব্যাতিক্রমী গোলাপ প্রদর্শনী: মোস্তফা কামাল ফুলু ফাউন্ডেশনের
- জেনে নিন আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
- ইরানে হামলার তীব্র নিন্দা রাশিয়ার; চরম বিপর্যয়ের হুঁশিয়ারি পুতিনে
- অগ্নিঝরা মার্চের সূচনা: বাঙালির অদম্য প্রত্যয়ের মাস শুরু
- নিজ দপ্তরেই শেষ নিঃশ্বাস
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী হামলার ঘোষণা: কাঁপছে মার্কিন-ইসরায়েলি ঘাঁটি
- ক্ষমতার লড়াইয়ে ইরান: খামেনির আসনে বসতে আইআরজিসি’র চাপ
- স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: ভরিতে বাড়ল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা
- আজকের ঢাকা: জ্যাম এড়াতে জেনে নিন কোন এলাকায় কী কর্মসূচি
- আজ ১১ রমজান: দেখে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
- সুরক্ষিত ভবনে যেভাবে প্রাণ হারালেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
- শহীদ হলেন আয়াতুল্লাহ খামেনি
- কেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানকে আক্রমণ করছে?
- রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য: রিয়াদ-বাহরাইনের পর এবার কাঁপল দুবাই
- যুব রেড ক্রিসেন্ট, হাজেরা তজু স্কুল এন্ড কলেজ ইউনিটের উদ্যোগে ইফতার বিতরণ
- সংসদে নতুন বিরোধী দল দেখবে দেশ: জামায়াত আমির
- বিকাশে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি: বড় পদে আবেদনের সময় শুরু
- গণতন্ত্রের জয়যাত্রায় আমরা ঐক্যবদ্ধ: জামায়াতের ইফতারে প্রধানমন্ত্রীর বড় বার্তা
- ইরানের স্কুলে ইসরায়েলি মিসাইল: নিষ্পাপ শিশুদের রক্তে লাল ইরান
- ঈদের দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিটের তারিখ ঘোষণা
- ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে লণ্ডভণ্ড বিশ্ব বিমান চলাচল
- ইসরায়েল-আমিরাতের পর এবার সৌদিতে বিস্ফোরণ
- ইরানে যুদ্ধের মধ্যেই বিদ্রোহের উস্কানি দিলেন ট্রাম্প
- অতীতের কাদা ছোঁড়াছুড়িতে সময় নষ্ট নয়: মির্জা ফখরুল
- নিশানা এবার খোদ আমেরিকা: বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে বড় হামলা
- ইসরায়েলে আকাশ থেকে নামছে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি! সাইরেনের শব্দে কাঁপছে ইসরায়েল
- অনলাইনে ও মোবাইলে যেভাবে দেখবেন জুনিয়র বৃত্তির ফলাফল
- স্বর্ণের দামে ফের রেকর্ড! ভরিতে বাড়ল ২ হাজার ২১৬ টাকা
- স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: ভরিতে বাড়ল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা
- বন্ধকী কূটনীতির দেশে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির স্বপ্ন
- মহাকাশে বিরল মহোৎসব: বাংলাদেশ থেকে এক সারিতে দেখা যাবে ৬ গ্রহ!
- ৫ আগস্টের সেই ৪০ মিনিট! বঙ্গভবনের ভেতর যা ঘটেছিল জানালেন রাষ্ট্রপতি
- সব রেকর্ড ভাঙল স্বর্ণ! আজ থেকে নতুন রেট কার্যকর
- ক্ষমতার লড়াইয়ে ইরান: খামেনির আসনে বসতে আইআরজিসি’র চাপ
- ফ্যামিলি কার্ডের জন্য প্রস্তুত ১৩ জেলা: উদ্বোধনের তারিখ জানালেন প্রধানমন্ত্রী
- সাতক্ষীরায় সংরক্ষিত নারী আসন: নেতাকর্মীদের পছন্দের শীর্ষে সেতারা নাসরিন নিশি
- জাকাত ও ফিতরা কত দেবেন? জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম! জানুন নতুন মূল্যতালিকা
- কালিগঞ্জে ঘেরের বাসায় আগুন, দখলচেষ্টা ও মাছ লুটের অভিযোগ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
- বাহরাইন প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির সভাপতি সম্রাট নজরুল ও সম্পাদক নোমান সিদ্দিকী
- ইরানে সরাসরি হামলা চালাল ইসরায়েল: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের ভয়াবহ দামামা








