নাগরিক ভোটের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবে গণভোট: আলী রীয়াজ

আসন্ন গণভোটকে সামনে রেখে প্রচার জোরদার ও ভোটারদের সচেতন করতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রংপুরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেছেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে মৌলিক ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আসবে। নগরীর শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়াম–এ আয়োজিত এই সভায় বক্তব্য দেন গণভোটে সরকারের প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক আলী রীয়াজ।
আলী রীয়াজ বলেন, এবারের গণভোটে জনগণ সমর্থন দিলে আইনসভায় নাগরিকদের প্রতিটি ভোটের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, বিদ্যমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে নির্বাহী ক্ষমতা, সংসদের নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক দলের প্রধানের দায়িত্ব একত্রে কেন্দ্রীভূত রয়েছে। এই অতিমাত্রার ক্ষমতা সংবিধানের ভেতর থেকেই স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের পথ প্রশস্ত করেছে।
ক্ষমতার এমন একক কেন্দ্রীকরণের ফলেই ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই সনদে একজন ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী থাকার মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সাংবিধানিক কমিশনগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।
গণভোটের প্রতীক ও ভোটদানের পদ্ধতি তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন গোলাপি রঙের ব্যালটে টিক চিহ্নে সিল দিয়ে নাগরিকরা একটি ভারসাম্যপূর্ণ শাসনব্যবস্থা ও সুশাসিত বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার বলেন, বিগত ১৬ বছর ফ্যাসিবাদী শাসন সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই একটি ভয়াবহ দমনমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। সংবিধানের গুরুতর ত্রুটিগুলোর কারণেই রাষ্ট্র ও জনগণ বারবার সেই শাসনের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছিল।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা আবারও ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরিয়ে আনতে চায়, তারাই জুলাই সনদ ও গণভোটকে ব্যর্থ করার জন্য সংঘবদ্ধ অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে জনগণকে সঠিক তথ্য জানানো এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, দেশে শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা বারবার সংকট ও মর্যাদাহানির মুখে পড়েছে। গণভোটের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া এই অবস্থা থেকে উত্তরণের বিকল্প নেই।
সভায় বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে হলে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ নাগরিক সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে গণভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে হবে।
বক্তারা একযোগে বলেন, গণভোট শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থাকে ভারসাম্যপূর্ণ, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।
-রফিক
সীমান্ত হত্যা যেন আর শুনতে না হয়, ভারতীয় হাইকমিশনারকে বলেছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে আর কোনো প্রাণহানি শুনতে চায় না নতুন সরকার। আজ রোববার (১ মার্চ ২০২৬) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এই কড়া বার্তার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “ভারতীয় হাইকমিশনারকে বিশেষভাবে বলা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে আর সীমান্ত হত্যার খবর শুনতে না হয়।” সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে বিজিবি ও বিএসএফ-এর মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় সভা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যতটুকু সম্ভব এড়িয়ে চলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভারত এই বিষয়ে তাদের আন্তরিকতার কথা জানিয়েছে এবং তাদের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা ছাড়াও দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয় (Security Aspect) এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষায় সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, “প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের মধ্যে লেনদেন ও কূটনৈতিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকবে, তবে তা হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদা ও সুবিধার ভিত্তিতে (Mutual Interest and Dignity)।”
ভিসা জটিলতা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বিগত দেড় বছরে ভারতের কনসুলেট ও ভিসা অফিসগুলো বিভিন্ন সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হওয়ায় তারা পুরোদমে কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। তবে ভারতীয় হাইকমিশনার নিশ্চিত করেছেন যে, পর্যটন বা ট্যুরিস্ট ভিসাসহ সব ধরণের কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের উচ্চ পর্যায়ের এই সাক্ষাৎ দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সীমান্ত স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
/আশিক
১৩ দিনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র ১৩ দিনেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ রোববার (১ মার্চ ২০২৬) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। মন্ত্রী জানান, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো এবং এটিকে আরও উন্নত করার জন্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে দেশের চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে সীমান্ত হত্যা বন্ধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সীমান্তে যাতে আর কোনো বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার শিকার না হন, সে ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে সম্প্রতি এক ব্যবসায়ীর বাসায় গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রেক্ষিতে মন্ত্রী জানান, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় আগে কোনো অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনীর ব্যারাকে ফেরার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়া সাপেক্ষে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই সেনাবাহিনী মোতায়েন বা প্রত্যাহারের বিষয়টি নির্ধারিত হবে। এছাড়া লাইসেন্সকৃত যেসকল অস্ত্র এখনো জমা হয়নি, সে ব্যাপারে ইতোমধ্যে আইনি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকার কোনো ধরণের আপস করবে না বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
/আশিক
নতুন বেতন কাঠামো ও পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা জানা গেল
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে নতুন সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে কর্মচারী নেতাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি জানান যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্মচারীরা অবশ্যই নতুন পে স্কেল পাবেন। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বিশাল বেতন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর করতে কিছুটা সময় লাগবে। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী যেহেতু ঘোষণা দিয়েছেন, তাই এটি বাস্তবায়ন হবেই, তবে এখনই সবকিছু সম্ভব নয় বলে সবাইকে ধৈর্য ধারণ করতে বলা হয়েছে।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আব্দুল খালেক এবং সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক এম এ হান্নানসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নেতারা তাঁদের বক্তব্যে ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলের বৈষম্য এবং বর্তমান বাজারদরের সাথে জীবনযাত্রার ব্যয়ের অসংগতির কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের আর্থিক সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন প্রতিমন্ত্রী। উল্লেখ্য যে, গত বছরের জুলাইয়ে গঠিত ২১ সদস্যের বেতন কমিশন গত ২১ জানুয়ারি তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে, যা এখন সরকারের পর্যালোচনায় রয়েছে।
এদিকে, সরকারের এই আশ্বাসের পরও ‘দৃশ্যমান অগ্রগতি’ না থাকায় কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু না হলে ঈদুল ফিতরের পর বড় ধরণের কর্মসূচি দেওয়া হবে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্মারকলিপি প্রদান এবং রমজান মাসজুড়ে বিভাগীয় শহরগুলোতে প্রতিনিধি সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে বৈষম্যহীন নবম পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে এখন অনড় অবস্থানে রয়েছেন কর্মচারীরা।
/আশিক
অগ্নিঝরা মার্চের সূচনা: বাঙালির অদম্য প্রত্যয়ের মাস শুরু
আজ পহেলা মার্চ। শুরু হলো বাঙালির জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গৌরব, বেদনা এবং অদম্য প্রত্যয়ের অধ্যায় ‘স্বাধীনতার মাস’। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর—প্রতিটি ধাপে বাঙালির যে আত্মত্যাগ, তারই সূচনালগ্ন এই মার্চ। ১৯৪৭-এ ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাঁতাকলে পিষ্ট হওয়া পূর্ব বাংলার মানুষের বঞ্চনার ইতিহাস এই মাসেই চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল। জনসংখ্যায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও রাজনীতি, অর্থনীতি আর সামরিক বাহিনীতে পশ্চিম পাকিস্তানিদের একচ্ছত্র আধিপত্যের বিরুদ্ধে বাঙালির যে লড়াই, তা এই মার্চ মাসেই ‘স্বাধীনতার সংগ্রামে’ রূপ নেয়।
১৯৬৬-এর ছয় দফা আর ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের ঢেউ আছড়ে পড়েছিল ৭০-এর নির্বাচনে। কিন্তু গণতান্ত্রিক রায় মেনে ক্ষমতা হস্তান্তরে পশ্চিম পাকিস্তানিদের টালবাহানা আর ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ১৯৭১-এর মার্চ মাস হয়ে ওঠে অগ্নিগর্ভ। ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা— ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’—বাঙালিকে যুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করে দিয়েছিল। এরপর ২৫ মার্চের সেই ভয়াল কালো রাত ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর বর্বরতা বিশ্ববিবেককে কাঁপিয়ে দেয়। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণার পর কালুরঘাট থেকে ২৭ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা মুক্তিপাগল বাঙালিকে দিয়েছিল সশস্ত্র যুদ্ধের অনুপ্রেরণা।
নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা আমাদের আত্মপরিচয়ের শিকড়। এই মাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই জাতির মুক্তির একমাত্র পথ। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে এসেও এই মাস বাঙালির হৃদয়ে একই রকম আবেগ আর প্রতিজ্ঞার সঞ্চার করে। এই মাস কেবল স্মৃতিচারণ নয়, বরং সাম্য, গণতন্ত্র এবং মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক নতুন অঙ্গীকার। পহেলা মার্চের এই প্রভাতে পুরো জাতি বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে সেইসব বীরদের, যাদের রক্তে লেখা হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র।
/আশিক
ঈদের দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিটের তারিখ ঘোষণা
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে আগামী ৩ মার্চ ২০২৬ থেকে দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাস মালিকরা। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর গাবতলীতে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক জরুরি সভায় এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ওইদিন সকাল থেকেই একযোগে বাস কাউন্টার এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে ঈদের টিকিট পাওয়া যাবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রবাসে থাকা বা দূরদূরান্তে কর্মরত মানুষ আগেভাগেই তাদের বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে পারবেন।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩ মার্চ থেকে শুরু করে ১২ মার্চ এবং এর পরবর্তী ঈদপূর্ববর্তী যেকোনো দিনের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন যাত্রীরা। এবারের ঈদযাত্রায় ডিজিটাল সেবাকে আরও প্রধান্য দেওয়া হয়েছে; ফলে যাত্রীরা কাউন্টারে ভিড় না করে নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই নিজেদের পছন্দমতো আসন নির্বাচন করার সুযোগ পাবেন। শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ ভাড়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নির্ধারিত তালিকার বাইরে এক টাকাও বাড়তি নেওয়ার সুযোগ নেই। অনলাইন বা অফলাইন—সবখানেই সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
টিকিট কালোবাজারি ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে এবার বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে মালিক সমিতি। প্রতিটি প্রধান টার্মিনাল ও কাউন্টারে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং নজরদারি বাড়াতে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। সমিতির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কোনো কাউন্টারে অনিয়ম বা বাড়তি ভাড়া আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত করতে প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার আশ্বাসও দিয়েছে বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
/আশিক
ঈদে বাড়তি ভাড়া নিলেই কঠোর ব্যবস্থা: সড়ক ও নৌমন্ত্রী
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পরিবহন সেক্টরে কঠোর বার্তা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আসন্ন ঈদে কোনোভাবেই বাস বা নৌযানের ভাড়া বাড়ানো যাবে না। যারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে নারায়ণগঞ্জের খানপুর আইসিটি অ্যান্ড বাল্ক টার্মিনাল, ড্রেজার বেইড এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিতব্য টার্মিনাল ভবন পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি। মন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারি পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের জন্য এক প্রকার চূড়ান্ত সতর্কতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এবারের ঈদযাত্রা হবে বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি স্বস্তির ও নিরাপদ। বিশেষ করে যেসব পয়েন্টে যানজট তৈরি হয় বা সড়কের শৃঙ্খলা বজায় থাকে না, সেসব স্থানে আগেভাগেই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঈদে মানুষের ভোগান্তি কমাতে ট্রাফিক পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং কোস্টগার্ডসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ তৎপর থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, এবার যাতায়াতের প্রতিটি ধাপে শৃঙ্খলার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদারকি করা হবে যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে প্রিয়জনদের সাথে ঈদ কাটাতে পারেন।
পরিদর্শনকালে শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, নদী দূষণের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে দ্রুততম সময়ে অবগত করা হবে। শুধু অন্য দপ্তরের ওপর নির্ভর না করে নৌ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চিহ্নিত করে তা দ্রুত কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ সময় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ঈদকে সামনে রেখে সরকারের এই আগাম প্রস্তুতি ও তদারকি সাধারণ যাত্রীদের মনে অনেকটা আস্থার সঞ্চার করেছে।
/আশিক
যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়, এটি কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতকে একটি ‘দুঃখজনক ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ উভয় পক্ষকেই বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে এই যুদ্ধ কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়। ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাতে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে এই সংঘাত পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে, যা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়।
সফরের প্রাপ্তি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ওআইসি বৈঠকের সাইডলাইনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতির পদের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে ব্যাপক সমর্থন মিলেছে। ওআইসি সদস্য দেশগুলো আশ্বস্ত করেছে যে, তারা কেবল ভোটই দেবে না, বরং বাংলাদেশের পক্ষে প্রচারণাও চালাবে। এই গৌরবময় পদের জন্য বাংলাদেশ এবার সাইপ্রাসের সাথে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই নেতৃত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা এখন অনেক উজ্জ্বল বলে তিনি মনে করছেন।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়েও ওআইসি বৈঠকে সরব ছিল বাংলাদেশ। ভূমি ক্রয় সংক্রান্ত ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিতর্কিত আইনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এটি আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেছি। বিমানবন্দরে এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের এই বলিষ্ঠ অবস্থান আগামী দিনে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
/আশিক
আজ জামায়াতের ইফতারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র) এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দলগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আজ দিনের শুরুতেই সরকারি কাজে ব্যস্ত সময় কাটাবেন। সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অধীনস্থ দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন তিনি। এরপর বিকেলে তিনি সরাসরি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতের ইফতার মাহফিলে যোগ দেবেন। এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইফতার মাহফিলের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম। সেই বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী এই আমন্ত্রণে সদয় সম্মতি জানিয়েছিলেন।
বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান টেলিফোনে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীকে সপরিবারে অংশ নেওয়ার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও এই ইফতার মাহফিলে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে। পবিত্র রমজান মাসে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের এই সম্মিলন সাধারণ মানুষের মাঝেও বিশেষ কৌতূহল ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই উপস্থিতি আগামী দিনের রাজনৈতিক সমঝোতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
/আশিক
উপদেষ্টা পরিষদের বাইরে থেকেই আসত সরকারের বড় সিদ্ধান্ত: সাখাওয়াত হোসেন
সদ্য সমাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী ও ‘বড় সিদ্ধান্তগুলো’ মূলত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় নির্ধারিত হতো না, বরং পরিষদের বাইরে থেকেই নেওয়া হতো বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বিদায়ী সরকারের দেড় বছরের কার্যক্রমের বিভিন্ন অজানা অধ্যায় নিয়ে মুখ খোলেন। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার আক্ষেপ করে বলেন যে, দীর্ঘ সময় নির্বাচন কমিশনে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন পদ্ধতি বা রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে সরকারের কেউ কখনো তাঁর পরামর্শ নেয়নি। তিনি কেবল নামমাত্র উপদেষ্টা ছিলেন এবং বড় সিদ্ধান্তগুলোর ক্ষেত্রে তাঁকে কনসালট্যান্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।
সাক্ষাৎকারে সাখাওয়াত হোসেন সরকারের ভেতর একটি ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বা প্রভাবশালী মহলের অস্তিত্বের প্রতি স্পষ্ট ইঙ্গিত করেন। তিনি জানান, ২৭ জনের বিশাল উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনার আগেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাইরে থেকে নির্ধারিত হয়ে আসত। বিশেষ করে নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তাঁর সামনে উপস্থাপন না করা হলেও তিনি শুনেছেন যে একটি নির্দিষ্ট পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ করতে চেয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়াকে তিনি একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন। তাঁর এই বক্তব্যে এটি পরিষ্কার যে, সরকারের ভেতরেই ক্ষমতার একটি সমান্তরাল কেন্দ্র ছিল যা অনেক উপদেষ্টাই জানতেন না।
২০২৪ সালের অগাস্টে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পাওয়ার পর পুলিশের ব্যবহৃত ‘সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু’ বোরের রাইফেলের ব্যবহার নিয়ে তাঁর করা মন্তব্যগুলো সে সময় বেশ আলোচিত হয়েছিল। সাক্ষাৎকারে তিনি পুনরায় বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন, পুলিশের এই মারাত্মক মারণাস্ত্র কীভাবে সাধারণ মানুষের হাতে গেল এবং ভিডিওতে দেখা লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরা অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা আসলে কারা ছিল, তা নিয়ে তিনি তদন্ত করতে চেয়েছিলেন। এমনকি হেলিকপ্টারে থাকা স্নাইপারদের অনেকের শারীরিক গঠন ও চেহারা আমাদের দেশের মানুষের মতো ছিল না বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সাখাওয়াত হোসেনের সন্দেহ ছিল যে এই স্নাইপাররা সম্ভবত ‘বহিরাগত’ ছিল। তবে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে তদন্ত শুরুর আগেই মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় তাঁকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
সাবেক এই উপদেষ্টা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত-আট দিনের মাথায় তিনি উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। তিনি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরাসরি বলেছিলেন যে তাঁর পক্ষে এই পদে থাকা সম্ভব নয় এবং থাকলে প্রধান উপদেষ্টাও বিব্রত হতে পারেন। তবে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ অনুরোধ ও আশ্বাসে তিনি শেষ পর্যন্ত থেকে যান এবং পরবর্তী সময়ে শ্রম ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সফলভাবে নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করা এই বিশেষজ্ঞ এখন দেশে একটি নির্বাচিত সরকার আসার পর নিজের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জনসমক্ষে নিয়ে এলেন।
সূত্র: চ্যানেল ওয়ানে প্রদত্ত সাক্ষাৎকার
পাঠকের মতামত:
- আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত: কাঁপছে ইসরায়েল
- রমজানে মসজিদুল আকসা বন্ধ করল ইসরায়েল: তারাবি পড়তে পারলেন না হাজারো মুসল্লি
- স্ত্রী হত্যার প্ররোচনা মামলা: প্রধান আসামি অভিনেতা জাহের আলভী
- কালিগঞ্জে ১৬ শতাধিক পরিবারের মাঝে ইঞ্জিনিয়ার মুকুলের ইফতার সামগ্রী বিতরণ
- সংসদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি ড. খন্দকার মোশাররফ কুমিল্লার সন্তান
- ইরানে হামলা গ্যাংস্টারসুলভ আগ্রাসন: উত্তর কোরিয়া
- ইফতারে প্রশান্তি পেতে ঝটপট তৈরি করুন স্বাস্থ্যকর ফ্রুট কাস্টার্ড
- সীমান্ত হত্যা যেন আর শুনতে না হয়, ভারতীয় হাইকমিশনারকে বলেছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- রণক্ষেত্র ইরান: ১ হাজার ২০০ বোমায় ধ্বংস হচ্ছে একের পর এক শহর
- সব শক্তি দিয়ে খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেবে ইরান
- ১৩ দিনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- খামেনি হত্যা ও শিশু নিধনের প্রতিবাদ: রাজধানীতে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
- খামেনিকে হত্যার ঘটনায় পাকিস্তানে মার্কিন কনস্যুলেটে তাণ্ডব
- আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ১ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ দরপতনের তালিকা প্রকাশ
- ১ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
- কিয়ামতের আগে ইমাম মাহদির আগমনের আলামত কী কী
- নতুন বেতন কাঠামো ও পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা জানা গেল
- খামেনি হত্যার নেপথ্যে সৌদি
- রমজানে হামলা হৃদয়বিদারক: খামেনি হত্যায় গভীর ক্ষোভ জামায়াত আমিরের
- কুমিল্লায় ব্যাতিক্রমী গোলাপ প্রদর্শনী: মোস্তফা কামাল ফুলু ফাউন্ডেশনের
- জেনে নিন আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
- ইরানে হামলার তীব্র নিন্দা রাশিয়ার; চরম বিপর্যয়ের হুঁশিয়ারি পুতিনে
- অগ্নিঝরা মার্চের সূচনা: বাঙালির অদম্য প্রত্যয়ের মাস শুরু
- নিজ দপ্তরেই শেষ নিঃশ্বাস
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী হামলার ঘোষণা: কাঁপছে মার্কিন-ইসরায়েলি ঘাঁটি
- ক্ষমতার লড়াইয়ে ইরান: খামেনির আসনে বসতে আইআরজিসি’র চাপ
- স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: ভরিতে বাড়ল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা
- আজকের ঢাকা: জ্যাম এড়াতে জেনে নিন কোন এলাকায় কী কর্মসূচি
- আজ ১১ রমজান: দেখে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
- সুরক্ষিত ভবনে যেভাবে প্রাণ হারালেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
- শহীদ হলেন আয়াতুল্লাহ খামেনি
- কেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানকে আক্রমণ করছে?
- রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য: রিয়াদ-বাহরাইনের পর এবার কাঁপল দুবাই
- যুব রেড ক্রিসেন্ট, হাজেরা তজু স্কুল এন্ড কলেজ ইউনিটের উদ্যোগে ইফতার বিতরণ
- সংসদে নতুন বিরোধী দল দেখবে দেশ: জামায়াত আমির
- বিকাশে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি: বড় পদে আবেদনের সময় শুরু
- গণতন্ত্রের জয়যাত্রায় আমরা ঐক্যবদ্ধ: জামায়াতের ইফতারে প্রধানমন্ত্রীর বড় বার্তা
- ইরানের স্কুলে ইসরায়েলি মিসাইল: নিষ্পাপ শিশুদের রক্তে লাল ইরান
- ঈদের দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিটের তারিখ ঘোষণা
- ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে লণ্ডভণ্ড বিশ্ব বিমান চলাচল
- ইসরায়েল-আমিরাতের পর এবার সৌদিতে বিস্ফোরণ
- ইরানে যুদ্ধের মধ্যেই বিদ্রোহের উস্কানি দিলেন ট্রাম্প
- অতীতের কাদা ছোঁড়াছুড়িতে সময় নষ্ট নয়: মির্জা ফখরুল
- নিশানা এবার খোদ আমেরিকা: বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে বড় হামলা
- ইসরায়েলে আকাশ থেকে নামছে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি! সাইরেনের শব্দে কাঁপছে ইসরায়েল
- কালিগঞ্জে ঘেরের বাসায় আগুন, দখলচেষ্টা ও মাছ লুটের অভিযোগ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
- ইরানে বড় সামরিক হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের
- ঈদে বাড়তি ভাড়া নিলেই কঠোর ব্যবস্থা: সড়ক ও নৌমন্ত্রী
- অনলাইনে ও মোবাইলে যেভাবে দেখবেন জুনিয়র বৃত্তির ফলাফল
- স্বর্ণের দামে ফের রেকর্ড! ভরিতে বাড়ল ২ হাজার ২১৬ টাকা
- স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: ভরিতে বাড়ল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা
- বন্ধকী কূটনীতির দেশে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির স্বপ্ন
- মহাকাশে বিরল মহোৎসব: বাংলাদেশ থেকে এক সারিতে দেখা যাবে ৬ গ্রহ!
- ৫ আগস্টের সেই ৪০ মিনিট! বঙ্গভবনের ভেতর যা ঘটেছিল জানালেন রাষ্ট্রপতি
- সব রেকর্ড ভাঙল স্বর্ণ! আজ থেকে নতুন রেট কার্যকর
- ক্ষমতার লড়াইয়ে ইরান: খামেনির আসনে বসতে আইআরজিসি’র চাপ
- ফ্যামিলি কার্ডের জন্য প্রস্তুত ১৩ জেলা: উদ্বোধনের তারিখ জানালেন প্রধানমন্ত্রী
- সাতক্ষীরায় সংরক্ষিত নারী আসন: নেতাকর্মীদের পছন্দের শীর্ষে সেতারা নাসরিন নিশি
- জাকাত ও ফিতরা কত দেবেন? জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ
- কালিগঞ্জে ঘেরের বাসায় আগুন, দখলচেষ্টা ও মাছ লুটের অভিযোগ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম! জানুন নতুন মূল্যতালিকা
- বাহরাইন প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির সভাপতি সম্রাট নজরুল ও সম্পাদক নোমান সিদ্দিকী
- ইরানে সরাসরি হামলা চালাল ইসরায়েল: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের ভয়াবহ দামামা








