Banner

মাদুরোকে আটক করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: মামদানি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ০৯:৫০:৩৩
মাদুরোকে আটক করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: মামদানি
ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে খোদ খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চরম বিতর্ক শুরু হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি এই অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম অবমাননা এবং যুদ্ধের সমতুল্য একটি পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। নববর্ষের প্রথম দিনে শপথ নেওয়ার পরপরই এমন এক হাই-প্রোফাইল আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন এই তরুণ মেয়র।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেয়র মামদানি মাদুরোকে 'তুলে নেওয়ার' ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন যে, এটি কেবল আন্তর্জাতিক রীতিনীতিই নয়, বরং মার্কিন অভ্যন্তরীণ আইনকেও লঙ্ঘন করেছে। তিনি মনে করেন, অন্য একটি স্বাধীন দেশের শাসনব্যবস্থা বলপূর্বক পরিবর্তনের এই চেষ্টা বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মামদানি স্পষ্ট করেন যে, এ ধরনের নগ্ন আগ্রাসনের প্রভাব সরাসরি নিউইয়র্কবাসীর ওপর পড়বে। বিশেষ করে নিউইয়র্কে বসবাসরত হাজার হাজার ভেনেজুয়েলান অভিবাসী এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জোহরান মামদানির এই কড়া প্রতিক্রিয়া এমন এক সময়ে এল যখন মাদুরোকে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে বিচারের জন্য নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। মেয়রের এমন অবস্থান জো বাইডেন বা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত বিদেশনীতির সরাসরি পরিপন্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সিটি হলের সাথে হোয়াইট হাউসের এই সংঘাত লাতিন আমেরিকান রাজনীতি এবং নিউইয়র্কের অভিবাসী জননিরাপত্তায় নতুন কোনো সংকটের সৃষ্টি করতে পারে।


আজ সৌদি আরবে স্বর্ণের দাম কত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ২২:১৮:৫১
আজ সৌদি আরবে স্বর্ণের দাম কত
ছবি: সংগৃহীত

৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সৌদি আরবের স্বর্ণবাজারে দামের উল্লেখযোগ্য কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় ওঠানামা না থাকায় স্থানীয় বাজারেও স্বর্ণের দর প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে বিনিয়োগকারী ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্থিতিশীলতার বার্তা পৌঁছেছে।

সর্বশেষ বাজারদর অনুযায়ী, সৌদি আরবে ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি গ্রাম মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৫২২ দশমিক ৫১ সৌদি রিয়াল, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করলে দাঁড়ায় আনুমানিক ১৭ হাজার ২৭ টাকা। দিনভর দামের পরিবর্তন ছিল অত্যন্ত সীমিত, মাত্র ০ দশমিক ০১ রিয়াল, যা বাজারের শান্ত অবস্থার ইঙ্গিত দেয়।

একই দিনে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি গ্রাম দাম দাঁড়িয়েছে ৪৭৯ দশমিক ৬৬ সৌদি রিয়াল, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৫ হাজার ৬৩৭ টাকা। অলংকার তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত এই ক্যারেটের স্বর্ণের দাম সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে জনপ্রিয় ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি গ্রামে ৪৫৭ দশমিক ২০ সৌদি রিয়াল, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১৪ হাজার ৯০২ টাকা। দৈনন্দিন গহনা ও বিয়ের অলংকারের ক্ষেত্রে এই ক্যারেটের স্বর্ণের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।

অন্যদিকে, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি গ্রাম মূল্য ৩৯১ দশমিক ৮৮ সৌদি রিয়াল, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১২ হাজার ৭৭০ টাকা। আধুনিক ও হালকা ডিজাইনের গহনার জন্য এই ক্যারেটের স্বর্ণ সৌদি বাজারে ক্রেতাদের একটি বড় অংশের পছন্দ।

কম ক্যারেটের স্বর্ণের দিকেও নজর দিলে দেখা যায়, ১৪ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি গ্রামে ৩০৫ দশমিক ৬৭ সৌদি রিয়াল, অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯ হাজার ৯৬৫ টাকা। পাশাপাশি ১০ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২১৭ দশমিক ৮৯ সৌদি রিয়াল (প্রায় ৭ হাজার ১০২ টাকা) এবং ৬ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১৩০ দশমিক ৬৩ সৌদি রিয়াল (প্রায় ৪ হাজার ২৫৮ টাকা)–এ স্থির রয়েছে।

স্বর্ণবাজার বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি রিয়ালের সঙ্গে মার্কিন ডলারের পেগ ব্যবস্থা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের গতিপ্রকৃতি সৌদি আরবে সোনার দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বর্তমানে বড় কোনো বৈশ্বিক আর্থিক অস্থিরতা না থাকায় সৌদি স্বর্ণবাজারে দামের এই স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।

-রাফসান


যৌথ অভিযানে কাঁপল সিরিয়া: আইএস নির্মূলে একজোট যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৮:২৬:৫৩
যৌথ অভিযানে কাঁপল সিরিয়া: আইএস নির্মূলে একজোট যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসআইএল বা আইএসের পুনরুত্থানের ঝুঁকি মোকাবিলায় সিরিয়ায় বড় ধরণের যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) সিরিয়ার ঐতিহাসিক পালমিরা অঞ্চলের এক জনশূন্য এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পালমিরার উত্তরে একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা আইএস গোষ্ঠী তাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদের জন্য ব্যবহার করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) নিশ্চিত করেছে যে, ফ্রান্সের বিমান বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে পরিচালিত এই অভিযানে ‘দায়েশ’ বা আইএসের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে এলাকায় হামলাটি চালানো হয়েছে, তা প্রাচীন পালমিরা শহর থেকে কিছুটা দূরে এবং কোনো বেসামরিক বসতি নেই এমন স্থানে অবস্থিত। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে যে, এই গোষ্ঠীর পুনরুত্থান কেবল সিরিয়ার জন্য নয়, বরং বিশ্ব নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরণের হুমকি, তাই এই সামরিক পদক্ষেপ অপরিহার্য ছিল।

সিরিয়ায় এই হামলা এমন এক সময়ে এল যখন অঞ্চলটিতে আন্তর্জাতিক সামরিক কার্যক্রম কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে ডিসেম্বরের শেষ দিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ৯ দিনব্যাপী এক বিশেষ অভিযানে অন্তত ২৫ জন আইএস যোদ্ধাকে হত্যা ও আটক করে। গত ১৩ ডিসেম্বর সিরিয়ায় এক হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও একজন দোভাষী নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে পেন্টাগন ওই অভিযান শুরু করেছিল। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ তুরস্কও তাদের সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ১০০ জনেরও বেশি আইএস সন্দেহভাজনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পরিবর্তনের সম্ভাব্যতা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে আইএস যাতে পুনরায় সংগঠিত হতে না পারে, সেজন্যই পশ্চিমা শক্তিগুলো এই আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে পালমিরার মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইএসের ভূগর্ভস্থ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করাকে ব্রিটিশ ও ফরাসি বাহিনী বড় ধরণের কৌশলগত জয় হিসেবে দেখছে। এই হামলার পর সিরিয়ায় থাকা অন্যান্য বিদেশি শক্তির পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর এখন নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।


এক নজরে বিশ্বের শীর্ষ তেল মজুদধারী দেশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৭:০৫:৫৪
এক নজরে বিশ্বের শীর্ষ তেল মজুদধারী দেশ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের প্রমাণিত অপরিশোধিত তেল মজুদের একটি বড় অংশ এখনো অল্প কয়েকটি দেশের হাতে কেন্দ্রীভূত রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাগুলোর সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধিক প্রমাণিত তেল মজুদধারী রাষ্ট্র। দেশটির মজুদের পরিমাণ প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল, যা বৈশ্বিক মোট তেল মজুদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সমান।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরাশক্তি সৌদি আরব। দেশটির প্রমাণিত তেল মজুদ আনুমানিক ২৬৭ বিলিয়ন ব্যারেল। ওপেকের নেতৃত্ব এবং বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে সৌদি আরবের ভূমিকা এই মজুদকে আরও কৌশলগত গুরুত্ব দিয়েছে।

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইরান, যার প্রমাণিত তেল মজুদ প্রায় ২০৯ বিলিয়ন ব্যারেল। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের বিশাল তেল ভাণ্ডার দেশটিকে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রাজনীতিতে একটি অপরিহার্য শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এরপর রয়েছে ইরাক, যার প্রমাণিত তেল মজুদের পরিমাণ প্রায় ১৪৫ বিলিয়ন ব্যারেল। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও ইরাকের তেলসম্পদ দেশটির অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

উপসাগরীয় অঞ্চলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাত–এর প্রমাণিত তেল মজুদ আনুমানিক ১১৩ বিলিয়ন ব্যারেল। একই অঞ্চলের কুয়েত–এর তেল মজুদ প্রায় ১০২ বিলিয়ন ব্যারেল, যা দেশটির রাষ্ট্রীয় আয়ের প্রধান ভিত্তি।

ইউরেশীয় অঞ্চলের প্রভাবশালী রাষ্ট্র রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল মজুদধারী দেশ। যদিও এর প্রমাণিত মজুদ মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ দেশগুলোর তুলনায় কিছুটা কম, তবু ইউরোপীয় জ্বালানি নিরাপত্তায় রাশিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়া–ও বৈশ্বিক তেল মজুদের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম জনসংখ্যা হলেও বিশাল তেল ভাণ্ডার লিবিয়াকে আফ্রিকার জ্বালানি মানচিত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, এই কয়েকটি দেশের হাতে বৈশ্বিক তেল মজুদের সিংহভাগ কেন্দ্রীভূত থাকায় আন্তর্জাতিক রাজনীতি, যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক সংকট সরাসরি বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে প্রভাবিত করে। ফলে তেল মজুদের পরিসংখ্যান এখন কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যেরও গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

সূত্রঃ গুগল


মাদুরো আটক, যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অভিযানের নেপথ্য কাহিনি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৫:০২:৩২
মাদুরো আটক, যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অভিযানের নেপথ্য কাহিনি
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস–কে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি কোনো আকস্মিক অভিযান নয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Reuters–এর তথ্য অনুযায়ী, এই উচ্চঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের পরিকল্পনা চলছিল কয়েক মাস ধরে এবং এর প্রতিটি ধাপ ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে প্রস্তুত।

ভেনেজুয়েলার রাজধানী **কারাকাস**সহ দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থানীয় সময় শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একযোগে বড় পরিসরের অভিযান চালায়। সেই অভিযানের মধ্য দিয়েই প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে আটক করা হয়। অভিযানের পর মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক–এর একটি আটক কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সিলিয়া ফ্লোরেসের বর্তমান অবস্থান নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় এই অভিযানকে ‘দুঃসাহসিক ও সফল’ বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনীর সমন্বয়ে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজাত সামরিক ইউনিট **Delta Force**সহ বিভিন্ন এলিট বাহিনী অংশ নেয়। জানা গেছে, মাদুরোর নিরাপদ আবাসস্থল বা ‘সেফ হাউস’–এর একটি নিখুঁত প্রতিরূপ তৈরি করে সেখানে বারবার মহড়া চালানো হয়েছিল। অত্যন্ত সুরক্ষিত ওই বাসভবনে কীভাবে প্রবেশ করা হবে এবং কোন পথে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানো যাবে, তা আগেই নির্ধারণ করা হয়।

রয়টার্সকে দেওয়া সূত্রগুলো জানায়, এই অভিযানের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ সহযোগী স্টিফেন মিলার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ–এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ ‘কোর টিম’ গঠন করা হয়েছিল। এই দলটি কয়েক মাস ধরে নিয়মিত বৈঠক ও গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে অভিযানের অগ্রগতি পর্যালোচনা করছিল।

এ বিষয়ে অবগত একাধিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা CIA গত আগস্ট থেকেই ভেনেজুয়েলায় একটি ছোট কিন্তু দক্ষ টিম মোতায়েন করে রেখেছিল। ওই দলটি মাদুরোর দৈনন্দিন চলাফেরা, নিরাপত্তা রুটিন এবং অভ্যন্তরীণ অভ্যাস সম্পর্কে এমন বিশদ তথ্য সংগ্রহ করে, যা অভিযানের সফলতা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখে।

রয়টার্সকে দেওয়া আরও দুটি সূত্র জানায়, সিআইএর একজন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যদাতা ছিলেন, যিনি প্রেসিডেন্ট মাদুরোর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি নিয়মিত মাদুরোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতেন এবং অভিযানের সময় তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানাতে প্রস্তুত ছিলেন। এই মানব গোয়েন্দা তথ্যই শেষ পর্যন্ত অভিযানের সময় ও কৌশল নির্ধারণে निर्णায়ক ভূমিকা পালন করে।

-রফিক


আমরাই ভেনেজুয়েলা চালাব: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১১:১২:৩২
আমরাই ভেনেজুয়েলা চালাব: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের বামপন্থি শাসক নিকোলাস মাদুরোকে নাটকীয় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আটকের পর দেশটি পরিচালনার দায়িত্ব সরাসরি নিজেদের হাতে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, “উই উইল রান ভেনেজুয়েলা আনটিল ট্রানজিশন—অর্থাৎ ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতার পূর্ণাঙ্গ রদবদল না হওয়া পর্যন্ত আমরাই দেশটি চালাব।” তিনি আরও জানান যে, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন স্বার্থ এবং শান্তি রক্ষার প্রয়োজনে প্রয়োজনে আরও বড় পরিসরে দ্বিতীয় দফায় আক্রমণের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

ট্রাম্পের এই ঘোষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় তেল কোম্পানিগুলো খুব শীঘ্রই ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ করবে। এই কোম্পানিগুলো দেশটির ভেঙে পড়া অবকাঠামো মেরামত করবে এবং ভেনেজুয়েলার জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে। ট্রাম্পের মতে, ভেনেজুয়েলা বর্তমানে একটি 'টোটাল বাস্ট' বা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যা কেবল আমেরিকার হস্তক্ষেপেই পুনর্গঠিত হতে পারে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন যে, মাদুরোর সাথে যা ঘটেছে, তা অন্যান্য অবাধ্য কর্মকর্তাদের সাথেও ঘটতে পারে।

ভেনেজুয়েলার প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ট্রাম্প জানান যে, একটি বিশেষ ‘গ্রুপ’ বা দল দেশটির দেখভাল করবে। তিনি উল্লেখ করেন যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেসের সঙ্গে কথা বলেছেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, রদ্রিগেস যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো নির্দেশনা মানতে প্রস্তুত। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরপরই ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ডেলসি রদ্রিগেস এক ভিন্ন বার্তা প্রদান করেন। তিনি মাদুরোকে ‘একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট’ অভিহিত করে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জানপ্রাণ দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার কেন্দ্রে এক বিশাল ধোঁয়াশার সৃষ্টি করেছে।

এদিকে, মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি নিশ্চিত করেছেন যে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ইতোমধ্যেই নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে দায়ের করা মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের বর্তমানে ইউএসএস ইও জিমা জাহাজে করে নিউইয়র্কের পথে নিয়ে আসা হচ্ছে। পাম বন্ডি তাঁর এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে লিখেছেন যে, খুব দ্রুতই তারা ‘আমেরিকান ন্যায়ের’ পূর্ণ ও কঠোর মুখোমুখি হবেন। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এই অভিযানকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বললেও ট্রাম্প একে মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম সফল এবং ‘অবিশ্বাস্য’ সামরিক বিজয় হিসেবে দাবি করছেন।

সূত্র: বিবিসি


ব্রুকলিনের কুখ্যাত কারাগারে মাদুরো

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ০৮:৫৫:৩৭
ব্রুকলিনের কুখ্যাত কারাগারে মাদুরো
ছবি: রয়টার্স

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কারাকাসের নিজ ভবন থেকে 'তুলে নেওয়ার' ১৫ ঘণ্টা পর শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে নিউইয়র্কে আনা হয়েছে। বিবিসি ও আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বিশেষ বাহিনীর পাহারায় একটি উড়োজাহাজ নিউইয়র্ক সিটি থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে স্টুয়ার্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। সেখান থেকে কড়া নিরাপত্তায় মাদুরোকে হেলিকপ্টারে করে ম্যানহাটনের ওয়েস্টসাইড হেলিপোর্টে এবং পরবর্তীতে মার্কিন মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (ডিইএ) সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়।

মাদুরোর বর্তমান ঠিকানা হতে যাচ্ছে ব্রুকলিনের অত্যন্ত সুরক্ষিত ও কুখ্যাত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার (এমডিসি)। এই কারাগারটি জেফরি এপস্টেইনের সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েল এবং সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত র‍্যাপার শন 'ডিডি' কম্বসের মতো হাই-প্রোফাইল বন্দীদের রাখার জন্য পরিচিত। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, এফবিআই কর্মকর্তাদের ঘেরাটোপে মাদুরো অত্যন্ত ধীরপদে উড়োজাহাজ থেকে নেমে আসছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, মাদুরো গত দুই দশক ধরে ভেনেজুয়েলাকে একটি 'নারকো-স্টেট' বা মাদক রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন এবং বিপুল পরিমাণ কোকেন যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের নেপথ্যে কাজ করেছেন।

কারাকাসে শনিবার ভোরে পরিচালিত এই অভিযানকে ভেনেজুয়েলা সরকার 'সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন' বলে নিন্দা জানিয়েছে। নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমান এবং মুহুর্মুহু বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে প্রথমে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ইও জিমায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এক আবেগঘন বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ায় তিনি অস্থায়ীভাবে শাসনভার গ্রহণ করছেন। তবে তিনি মাদুরোর জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর 'ট্রুথ সোশ্যাল' হ্যান্ডেলে অভিযানের সাফল্য উদযাপন করে লিখেছেন, মাদুরোকে সস্ত্রীক আটক করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের এখন মার্কিন আইনের আওতায় কঠোর বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। ২০২০ সালে মাদুরোর বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে কোকেন আমদানির যে ষড়যন্ত্রের মামলা করা হয়েছিল, সেই অভিযোগেই আগামী সোমবার তাঁকে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হতে পারে। এই ঘটনা লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের এক নতুন ও চরম সংঘাতময় অধ্যায়ের সূচনা করল।


ট্রাম্পের হাতে আটক মাদুরোর গন্তব্য এখন নিউইয়র্ক: সিএনএন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ২১:০৯:৫৬
ট্রাম্পের হাতে আটক মাদুরোর গন্তব্য এখন নিউইয়র্ক: সিএনএন
ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বিশেষ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আটকের পর এখন তাঁকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানান্তরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী মাদুরোকে ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করা হবে যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত বিভিন্ন অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) ভোরে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর (ডেল্টা ফোর্স) সাথে এফবিআই-এর একটি দল কারাকাসে এই দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে।

মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি এক বিশেষ বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে মাদুরোকে মার্কিন মাটিতে মার্কিন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) দীর্ঘ ২০ বছর ধরে মাদুরো ও ভেনেজুয়েলার শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একটি বিশাল তদন্ত পরিচালনা করে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে যে মাদুরো ‘কার্টেল অফ দ্য সানস’ নামক একটি মাদক পাচারকারী চক্র পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ কোকেন পাচারের সাথে জড়িত ছিলেন। এই নারকো-টেররিজম বা মাদক-সন্ত্রাসবাদের মামলার ভিত্তিতেই তাঁকে নিউইয়র্কের আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে এই অভিযানের সাফল্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে মাদুরোকে ইতোমধ্যেই ভেনেজুয়েলা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কারাকাসের আকাশে দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এই বিমান হামলা ও কমান্ডো অভিযানে অন্তত সাতটি সামরিক পয়েন্টে লক্ষ্যভেদ করা হয়। এরপরই ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকার জরুরি অবস্থা জারি করেছে এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ মাদুরোর নিরাপত্তা ও প্রাণের দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে ১৯৯০ সালে পানামার নেতা ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে আটকের ৩৬ বছর পর এটিই লাতিন আমেরিকায় আমেরিকার সবচেয়ে বড় সামরিক ও আইনি পদক্ষেপ।


মাদুরো আটক, আন্তর্জাতিক চুক্তির কফিনে শেষ পেরেক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১৮:৩২:০৭
মাদুরো আটক, আন্তর্জাতিক চুক্তির কফিনে শেষ পেরেক
ছবি : সংগৃহীত

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় সব ধরণের আন্তর্জাতিক রীতিনীতি উপেক্ষা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হামলা বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণে এক চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে বিশেষ কমান্ডো অভিযানের মাধ্যমে আটকের ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘটনাকে কাতারের হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুলতান বারাকাত ‘আন্তর্জাতিক চুক্তির কফিনে শেষ পেরেক’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের মৌলিক নীতিগুলো ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এখন চীন বা রাশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর জন্যও আগ্রাসনের নতুন পথ প্রশস্ত করে দিল।

শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) ভোররাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস কেঁপে ওঠে অন্তত সাতটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে যে বিস্ফোরণের পরপরই শহরের আকাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং রাজধানীর দক্ষিণ অঞ্চলের একটি বিশাল সামরিক ঘাঁটির নিকটবর্তী এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও রয়টার্স জানিয়েছে যে হামলার সময় কারাকাসের আকাশে নিচু দিয়ে মার্কিন যুদ্ধবিমান উড়ে যেতে দেখা গেছে। এই ‘অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার’ নামক অভিযানে মূলত মাদুরো সরকারের ঘনিষ্ঠ সামরিক নেটওয়ার্কগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অধ্যাপক সুলতান বারাকাতের মতে, এই হামলা কেবল ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এটি আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য একটি ভয়ংকর উদাহরণ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে চীন এখন তাইওয়ানের ওপর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে এই হামলাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ভেনেজুয়েলার সরকার এই অভিযানকে ‘চরম গুরুতর সামরিক আগ্রাসন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। বর্তমানে কারাকাসের পরিস্থিতি থমথমে এবং দেশজুড়ে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের নতুন ও সংঘাতময় অধ্যায়ের সূচনা করল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


মাদুরোকে আটকের পর জরুরি অবস্থা জারি: যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে লাতিন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১৮:২৪:২৩
মাদুরোকে আটকের পর জরুরি অবস্থা জারি: যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে লাতিন
ফাইল ছবি : রয়টার্স

লাতিন আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক ও বিশাল সামরিক অভিযানের পর বিশ্বজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানান যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে দেশছাড়া করেছে। এই ঘটনার পরপরই কারাকাস সরকার একে ওয়াশিংটনের ‘চরম গুরুতর সামরিক আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে।

ভেনেজুয়েলায় এই মার্কিন হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে রাশিয়ার ক্রেমলিন ও ইরানের তেহরান থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ইরান এই হামলাকে সার্বভৌমত্বের প্রকাশ্য লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়া একে ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে বলেছে যে আদর্শগত শত্রুতা এখন কূটনীতিকে ছাপিয়ে গেছে। কিউবা এই অভিযানকে ‘সাহসী ভেনেজুয়েলান জনগণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ বলে উল্লেখ করেছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই ঘটনাকে লাতিন আমেরিকার সার্বভৌমত্বের ওপর বড় আঘাত বলে সতর্ক করেছেন এবং অবিলম্বে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে স্পেন এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। জার্মানি, ইতালি ও বেলজিয়াম পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কারাকাসে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়াও বেসামরিক মানুষের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ট্রিনিদাদ ও টোবাগো এই সামরিক অভিযানে নিজেদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এই অভিযান নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটররা এই যুদ্ধকে ‘বেআইনি’ বলে অভিহিত করেছেন। সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ বলেন যে ভেনেজুয়েলায় যুদ্ধে যাওয়ার মতো কোনো জাতীয় স্বার্থ যুক্তরাষ্ট্রের নেই। এমনকি সিনেটর রুবেন গালেগো আক্ষেপ করে লিখেছেন যে এক বছরেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘বিশ্ব পুলিশ’ থেকে ‘বিশ্বের বুলি’তে পরিণত হয়েছে। বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস যুক্তরাষ্ট্রের এই বোমা হামলার ঘটনাকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। লাতিন আমেরিকার এই অস্থিতিশীলতা বিশ্ব রাজনীতি ও তেলের বাজারে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত