২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বেশি সময় বাকি নেই। তবে টুর্নামেন্ট ঘিরে মাঠের বাইরের রাজনৈতিক উত্তেজনা ইতোমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিশেষ করে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্পের বক্তব্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিলেও এর জবাবে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরান জাতীয় ফুটবল দল জানায়, ফুটবল বিশ্বকাপ একটি বৈশ্বিক আয়োজন এবং এর নিয়ন্ত্রণ কোনো একক রাষ্ট্রের হাতে নেই। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা-ই এই প্রতিযোগিতা পরিচালনা করে।
ইরানি দলের ভাষ্য অনুযায়ী, কঠিন বাছাইপর্ব অতিক্রম করে তারা ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাই কোনো দেশের পক্ষে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তাদের অংশগ্রহণ বাতিল করা সম্ভব নয়।
পোস্টে আরও বলা হয়, ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই। বরং আয়োজক দেশগুলোর দায়িত্ব হচ্ছে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। আগামী জুন ও জুলাই মাসে অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্টে ইরানের তিনটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা রয়েছে।
সূচি অনুযায়ী দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি ম্যাচ হবে সিয়াটলে।
বিশ্লেষকদের মতে, লস অ্যাঞ্জেলেসে বিপুলসংখ্যক ইরানি প্রবাসী বসবাস করেন। ফলে ম্যাচগুলোকে কেন্দ্র করে মাঠের ভেতরে ও বাইরে রাজনৈতিক উত্তেজনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর আগে একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে তার বিশেষ উদ্বেগ নেই। তবে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে নিশ্চিত করেন যে ইরান ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্বাগত জানাবে।
অন্যদিকে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দুনিয়ামালি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভিন্ন সুরে কথা বলেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে পুনর্বিবেচনার আলোচনা চলছে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে রাজনৈতিক কারণে কোনো দলকে নিষিদ্ধ করার ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না। তবে ইতিহাসে এর উদাহরণ রয়েছে।
১৯৯২ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে বলকান যুদ্ধের কারণে যুগোস্লাভিয়াকে নিষিদ্ধ করা হয়, যার ফলে তাদের স্থানে সুযোগ পায় ডেনমার্ক।
এছাড়া ইউক্রেন আক্রমণের পর রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ফিফা ও উয়েফা।
বিশ্বকাপ ঘিরে ইরানের অংশগ্রহণ শেষ পর্যন্ত কী অবস্থায় দাঁড়ায়, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতি যে ক্রীড়াঙ্গনেও প্রভাব ফেলছে, এই বিতর্ক তারই আরেকটি উদাহরণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
-রাফসান