যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ মে ২২ ১৯:০২:০০
যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

সত্য নিউজ:

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিপুল ঋণের ভারে জর্জরিত। জাতীয় ঋণের পরিমাণ ৩৬.২ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা দেশটির মোট জিডিপির (GDP) প্রায় ১২২ শতাংশ। এই ঋণের মালিকানা ও এর পরিণাম নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ—বিশেষত সাধারণ জনগণ ও বৈশ্বিক অর্থনীতি কীভাবে এতে প্রভাবিত হচ্ছে তা নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা।

সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নতুন কর ছাড় বিল অনুমোদন করেছে, যা চলতি সপ্তাহেই প্রতিনিধি পরিষদে পাস হতে পারে। এই বিলে ট্রাম্প প্রশাসনের ২০১৭ সালের কর হ্রাস নীতিকে আরও সম্প্রসারিত করার প্রস্তাব রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কার্যকর হলে আগামীতে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণে অতিরিক্ত ৫ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ কী এবং কীভাবে এটি বাড়ছে?

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ বলতে বোঝানো হয়—সরকার যেসব অর্থ দেশি ও বিদেশি ঋণদাতাদের কাছ থেকে ধার করেছে তার মোট পরিমাণ। বর্তমানে এই ঋণের পরিমাণ ৩৬.২ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশের বার্ষিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের চেয়েও বেশি। এই ঋণ প্রতি তিন মাসে গড়ে ১ ট্রিলিয়ন ডলার করে বাড়ছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় এই ঋণের অনুপাত সর্বোচ্চ ১৩৩ শতাংশে পৌঁছায়।

ঋণসীমা (Debt Ceiling): কেন বাড়ানো হয় বারবার?

যুক্তরাষ্ট্রের সরকার যখন আয় অপেক্ষা বেশি ব্যয় করে, তখন ঘাটতি তৈরি হয়। এই ঘাটতি পূরণ করতে সরকারকে নতুন ঋণ নিতে হয়। কিন্তু এই ঋণ একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে কংগ্রেস একটি ঋণসীমা নির্ধারণ করে দেয়। ঋণসীমা ছাড়িয়ে গেলে, নতুন ঋণ গ্রহণ করতে হলে কংগ্রেসকে সেই সীমা বাড়াতে বা স্থগিত করতে হয়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯৬০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৭৮ বার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ঋণসীমা বাড়িয়েছে বা সংশোধন করেছে।

ট্রেজারি বিল, নোট ও বন্ড: যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ঋণ নেয়?

যুক্তরাষ্ট্র সরকার অর্থ সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন ধরনের সরকারি ঋণপত্র ইস্যু করে। এগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো—সরকারি ব্যয় মেটাতে বাজার থেকে ঋণ তোলা।

১. ট্রেজারি বিল (T-bills): স্বল্পমেয়াদি (১ বছরের কম) ঋণপত্র।

২. ট্রেজারি নোট (T-notes): মাঝারি মেয়াদি (২-১০ বছর) ঋণপত্র।

৩. ট্রেজারি বন্ড (T-bonds): দীর্ঘমেয়াদি (২০-৩০ বছর) ঋণপত্র।

এই ঋণপত্রগুলো নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে সুদসহ পরিশোধযোগ্য। এগুলো কিনে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি সরকারগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে ঋণ দেয়।

এই বিপুল ঋণের মালিক কারা?

যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬.২ ট্রিলিয়ন ডলারের জাতীয় ঋণের বড় একটি অংশই দেশটির অভ্যন্তরীণ খাত থেকে গৃহীত। মোট ঋণের প্রায় ৭৫ শতাংশ- অর্থাৎ প্রায় ২৭.২ ট্রিলিয়ন ডলার- মার্কিন অভ্যন্তরীণ প্রতিষ্ঠান, সংস্থা ও নাগরিকদের কাছে ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যক্তি পর্যায়ের বিনিয়োগকারী, মিউচুয়াল ফান্ড, পেনশন তহবিল এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো একত্রে ধারণ করছে প্রায় ১৫.১৬ ট্রিলিয়ন ডলার, যা মোট ঋণের ৪২ শতাংশ। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থা ও ট্রাস্ট, যেমন সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্রাস্ট ফান্ড, ধারণ করছে ৭.৩৬ ট্রিলিয়ন ডলার বা ২০ শতাংশ। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক—ফেডারেল রিজার্ভ—ধারণ করছে ৪.৬৩ ট্রিলিয়ন ডলার, যা মোট ঋণের ১৩ শতাংশ।বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট এবং তার কোম্পানি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য, কারণ তারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত ট্রেজারি বন্ড ধারক, যার মালিকানায় রয়েছে ৩১৪ বিলিয়ন ডলারের সরকারি সিকিউরিটিজ।

অন্যদিকে, জাতীয় ঋণের অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ বা প্রায় ৯.০৫ ট্রিলিয়ন ডলার রয়েছে বিদেশি দেশ ও বিনিয়োগকারীদের হাতে। এদের মধ্যে শীর্ষ ঋণদাতা দেশ জাপান, যাদের অধীনে রয়েছে প্রায় ১.১৩ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন ট্রেজারি সিকিউরিটি। এরপর রয়েছে যুক্তরাজ্য (৭৭৯.৩ বিলিয়ন ডলার), চীন (৭৬৫.৪ বিলিয়ন ডলার), কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ (৪৫৫.৩ বিলিয়ন ডলার), এবং কানাডা (৪২৬.২ বিলিয়ন ডলার)।উল্লেখযোগ্যভাবে, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনার সময় জাপান ও চীন বহুবার ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা মার্কিন ট্রেজারি হোল্ডিংসকে বাণিজ্য আলোচনার টুল বা চাপ প্রয়োগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এটি মার্কিন সরকারের জন্য একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে, কারণ তাদের বৈদেশিক ঋণের একটি বড় অংশ এই দুই অর্থনৈতিক শক্তির হাতে।

এই ঋণের সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব কী?

জাতীয় ঋণের এই বিশাল পরিমাণ সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে।

সুদ পরিশোধে বড় ব্যয়: সরকারকে বিশাল পরিমাণ সুদ পরিশোধ করতে হয়, যার ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামোসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় কমে যেতে পারে।

করের হার বাড়ার আশঙ্কা: সরকারি ব্যয় মেটাতে কর বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে, যা নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে তোলে।

সুদহার বৃদ্ধি: ঋণের চাহিদা বাড়লে বাজারে সুদের হারও বাড়ে, যার ফলে গৃহঋণ, গাড়ি ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের সুদ বেড়ে যেতে পারে।

মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রানীতির চ্যালেঞ্জ: কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণের ভার সামলাতে গিয়ে মুদ্রানীতিতে কঠোরতা আনতে পারে, যা ব্যবসা ও বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ঋণের ভার সামলাতে করণীয় কী?

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ঋণের পরিস্থিতি শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ নীতির জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজেট ঘাটতি, রাজনৈতিক অচলাবস্থা, এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্ক- সবকিছু মিলিয়ে এই ঋণের বোঝা একটি জটিল অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে রূপ নিয়েছে।

ট্যাগ: ঋণসীমা ঋণ

নবম পে-স্কেল নিয়ে পুনর্গঠিত কমিটির নতুন পরিকল্পনা ফাঁস

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১২:০৬:১৩
নবম পে-স্কেল নিয়ে পুনর্গঠিত কমিটির নতুন পরিকল্পনা ফাঁস
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। পে-স্কেল সংক্রান্ত পুনর্গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে তাদের সুপারিশমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে এবং খুব দ্রুতই এটি সরকারের উচ্চপর্যায়ে জমা দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বর্তমান অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কথা মাথায় রেখে নতুন এই বেতন কাঠামো এককালীন কার্যকর না করে আগামী তিন বছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হবে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতে পারে। এই বিশাল ব্যয়নির্বাহের জন্য আগামী বাজেটে বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে অতিরিক্ত ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দের সুপারিশ করবে অর্থ বিভাগ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে নির্ধারিত পে-স্কেলের প্রায় ৩৩ শতাংশ বাস্তবায়িত হতে পারে।

সূত্রমতে, প্রথম বছর বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর পরবর্তী দুই অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট মূল বেতন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতাগুলো কার্যকর করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, পুনর্গঠিত কমিটির প্রাথমিক বৈঠকে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও সদস্যরা এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পক্ষেই মত দিয়েছেন। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে আসা জোরালো দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।

উল্লেখ্য যে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়নি। তবে আগামী অর্থবছরের বাজেটে এই খাতের জন্য বড় অঙ্কের বাড়তি বরাদ্দ রাখার কাজ চলছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বার্ষিক সম্মেলন শেষে অর্থমন্ত্রী দেশে ফিরলে কমিটির পক্ষ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর একটি বিশেষ বৈঠকের কথা রয়েছে।

সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদের মতে, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করা। বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ এবং বাজেট ঘাটতির বাস্তবতায় একবারে পুরো পে-স্কেল কার্যকর করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সেক্ষেত্রে তিন থেকে চার ধাপে এটি বাস্তবায়ন করাকেই তিনি সবচেয়ে যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত সমাধান বলে মনে করছেন।

/আশিক


স্বর্ণের বাজারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রভাব: আন্তর্জাতিক দরে ব্যাপক পতন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১০:২৭:২৪
স্বর্ণের বাজারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রভাব: আন্তর্জাতিক দরে ব্যাপক পতন
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের পরিবর্তে ডলারের দিকে ঝুঁকেছেন। এর ফলে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস নেমেছে। আজ মঙ্গলবার ৫ মে ২০২৬ আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম এক শতাংশের বেশি কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৫৩ ডলার ৫৩ সেন্টে লেনদেন হচ্ছে। তবে বাংলাদেশে জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাজুস (BAJUS) গত ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় যে দাম নির্ধারণ করেছিল, তা পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাজুসের বর্তমান মূল্য অনুযায়ী বাংলাদেশে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকায়।

কম দামি বা সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের এমন পতন ঘটলেও স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব জানতে হলে বাজুসের নতুন সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। সাধারণত স্থানীয় বাজারে ‘তেজাবী স্বর্ণের’ দাম ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে বাজুস এই দাম সমন্বয় করে থাকে।

বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়ার কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। তেলের দাম ইতিমধ্যে ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলার অতিক্রম করেছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়াতে স্বর্ণ বিক্রি করে দিয়ে ডলার সংগ্রহ করছেন, যা ডলারকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে এবং স্বর্ণের বাজারে বড় ধাক্কা দিচ্ছে। দেশের বাজারেও স্বর্ণের এই দরপতনের প্রভাব পড়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে কারণ চলতি বছর ইতিমধ্যে কয়েক ডজন বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

/আশিক


স্বর্ণের বাজারে বড় ধস, ৪ ঘণ্টায় ১ শতাংশের বেশি দরপতন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ২১:৪৫:৫২
স্বর্ণের বাজারে বড় ধস, ৪ ঘণ্টায় ১ শতাংশের বেশি দরপতন
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সমান্তরালে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। সোমবার (৪ মে) লেনদেন শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ১ শতাংশের বেশি কমে গেছে। মূলত ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন স্বর্ণের বদলে ডলারকেই নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করছেন।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আজ গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) বেলা ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১.৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ফলে প্রতি আউন্স স্বর্ণের মূল্য এখন ৪ হাজার ৫৫৩ ডলার ৫৩ সেন্টে নেমে এসেছে। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার বা ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে স্বর্ণের দাম ১.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৬৫ ডলার ৪০ সেন্টে লেনদেন হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এটি স্বর্ণের বাজারে অন্যতম বড় ধস।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে, যার প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলার ছাড়িয়েছে। বায়বিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান ট্যান জানান, “সংঘাতের উদ্বেগে স্বর্ণের বাজার বড় ধাক্কা খেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকি এড়াতে স্বর্ণ ছেড়ে মার্কিন ডলারের দিকে ঝুঁকছেন, যার ফলে ডলারের মান বাড়ছে এবং স্বর্ণের দাম কমছে।”

/আশিক


ডলার থেকে রিয়াল: জেনে নিন আজকের সর্বশেষ মুদ্রার বিনিময় হার

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১১:১৩:১৮
ডলার থেকে রিয়াল: জেনে নিন আজকের সর্বশেষ মুদ্রার বিনিময় হার
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রবাসীদের লেনদেনের সুবিধার্থে আজ সোমবার (৪ মে, ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত বৈদেশিক মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আজ দেশের বাজারে ইউএস ডলারের ক্রয় ও বিক্রয় মূল্য উভয়ই ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থাৎ প্রতি ডলারের গড় বিনিময় হার ১২২.৭৫ টাকা।

ইউরোপীয় মুদ্রা ইউরোর ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্য ১৪৩ টাকা ৮৬ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৪৩ টাকা ৮৮ পয়সা।

ব্রিটিশ পাউন্ডের বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ক্রয়মূল্যে ১৬৬ টাকা ৫৯ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্যে ১৬৬ টাকা ৬৮ পয়সা।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রার মধ্যে সৌদি রিয়েলের ক্রয়মূল্য ৩২ টাকা ৭৭ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৩২ টাকা ৭৯ পয়সা।

ভারতীয় রুপির বিনিময় হার ১ টাকা ২৯ পয়সা (ক্রয় ও বিক্রয়)।

সিঙ্গাপুর ডলারের ক্রয়মূল্য ৯৬ টাকা ৩৫ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৯৬ টাকা ৪০ পয়সা।

এছাড়া অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৮৮ টাকা ৪১ পয়সা (ক্রয়) ও ৮৮ টাকা ৪৭ পয়সা (বিক্রয়) এবং কানাডিয়ান ডলার ৯০ টাকা ৩৩ পয়সা দরে বিনিময় হচ্ছে।

জাপানি ইয়েনের ক্রয় ও বিক্রয় মূল্য আজ ০.৭৮ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী মুদ্রার এই বিনিময় হার যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে।

/আশিক


স্বর্ণের দামে লাফ, তবে অপরিবর্তিত রুপা: বাজারদরের সবশেষ আপডেট

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১০:৩১:৫৩
স্বর্ণের দামে লাফ, তবে অপরিবর্তিত রুপা: বাজারদরের সবশেষ আপডেট
ছবি : সংগৃহীত

স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা যেন কাটছেই না। গত এপ্রিলের শেষ দিকে টানা চার দফায় ভরিতে প্রায় ১০ হাজার টাকা কমানোর পর আবারও দাম বাড়ানোর পথে হাঁটল বাজুস। সোমবার সপ্তাহের শুরুর দিনে বাজারে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দরে স্বর্ণের ভরি কত?

২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৩১ হাজার ৯৩৯ টাকা।

১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা।

সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা।

স্বর্ণের দাম দফায় দফায় ওঠানামা করলেও রুপার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। সবকটি ক্যারেটেই রুপার দাম আগের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বাজারে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের অস্থিরতা এবং স্থানীয় চাহিদা বৃদ্ধির কারণেই বাজুসকে আবারও দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। বিয়ের মৌসুম এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে বাড়তি চাপের সৃষ্টি হচ্ছে।

/আশিক


রেমিট্যান্সে বিশ্বরেকর্ড বাংলাদেশের! দেশে রেমিট্যান্স আসার সব রেকর্ড তছনছ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ২১:৫২:০৮
রেমিট্যান্সে বিশ্বরেকর্ড বাংলাদেশের! দেশে রেমিট্যান্স আসার সব রেকর্ড তছনছ
ছবি : সংগৃহীত

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি দিচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো আয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী এপ্রিল মাসে দেশে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ (৩.১২ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এর মাধ্যমে গত ডিসেম্বর থেকে টানা পাঁচ মাস ধরে প্রতি মাসে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসার ধারাবাহিকতা বজায় থাকল। রোববার (৩ মে ২০২৬) কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গত মাসে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ায় প্রবাসীরা তাঁদের পরিবার-পরিজনের কাছে অন্য সময়ের তুলনায় বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কথা মাথায় রেখেও অনেকে সঞ্চিত অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতে ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবাসীরা এখন আগের চেয়ে বেশি টাকা পাচ্ছেন, যা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে তাঁদের উৎসাহিত করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ডিসেম্বর মাসে ৩২২ কোটি, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি এবং মার্চ মাসে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৩৭৫ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স দেশে আসে। এপ্রিলের ৩১২ কোটি ডলার যুক্ত হওয়ায় দেশের অর্থনীতির ভিত আরও শক্তিশালী হলো। আসন্ন ঈদুল আজহার মৌসুমেও এই ইতিবাচক ধারা বজায় থাকবে বলে আশা করছেন ব্যাংকাররা। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, কেবল রেমিট্যান্সে খুশি না থেকে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় আরও কৌশলী ও সতর্ক হওয়া জরুরি।

/আশিক


সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হচ্ছে এলপিজির নতুন মূল্য তালিকা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ১৮:০৮:১৪
সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হচ্ছে এলপিজির নতুন মূল্য তালিকা
ছবি : সংগৃহীত

গত মাসে দুই দফায় বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির পর মে মাসে এসে গ্রাহকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর দিল বিইআরসি। মে মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা তেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, গত ১৯ এপ্রিল নির্ধারিত দামই এই মাসে বহাল থাকছে। উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে দুইবার এলপিজির দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। প্রথমে ২ এপ্রিল ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং পরবর্তীতে ১৯ এপ্রিল তা আরও বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা করা হয়েছিল।

তবে রান্নার গ্যাসের দাম না বাড়লেও যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামে সামান্য পরিবর্তন এসেছে। মে মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ২ পয়সা বাড়িয়ে মূসকসহ ৮৯ টাকা ৫২ পয়সা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। এর আগে এপ্রিল মাসেও অটোগ্যাসের দাম দুই দফায় বাড়ানো হয়েছিল। গত ২ এপ্রিল প্রতি লিটার ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা এবং ১৯ এপ্রিল তা বাড়িয়ে ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দামের ওপর ভিত্তি করে প্রতি মাসেই এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। তবে মে মাসে এসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দামে কোনো পরিবর্তন না আনায় সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য তা কিছুটা স্বস্তিদায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

/আশিক


কেন আবারও বাড়ছে স্বর্ণের দাম? স্বর্ণের দর বৃদ্ধিতে নতুন মূল্য নির্ধারণ করল বাজুস

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৩ ১০:৩৩:৪৩
কেন আবারও বাড়ছে স্বর্ণের দাম? স্বর্ণের দর বৃদ্ধিতে নতুন মূল্য নির্ধারণ করল বাজুস
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে আবারও অস্থিরতা শুরু হয়েছে। টানা চার দফা কমানোর পর এবার এক লাফে ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ৩০ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমানো হয়েছিল ২ হাজার ১৫৮ টাকা। সেই হিসেবে টানা চার দফায় ভালো মানের সোনার দাম কমানো হয়েছিল মোট ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা। তবে দাম কমার সেই স্বস্তির রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও দাম বাড়ার ঘোষণা এল। নতুন নির্ধারিত এই দাম বিজ্ঞপ্তির দিন থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।

বাজুসের নির্ধারিত নতুন দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন থেকে ২ লাখ ৩১ হাজার ৯৩৯ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা। তবে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনেনি বাজুস। ক্যাটাগরি অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম আগের মতোই ৫ হাজার ৪৮২ টাকা রয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

হঠাৎ করে স্বর্ণের এই মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বাজুস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের উত্থান-পতন এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করেই নিয়মিত এই সমন্বয় করা হয়। তবে সাধারণ মানুষ মনে করছেন, টানা কমানোর পর এভাবে দাম বাড়িয়ে দেওয়া সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

/আশিক


আজকের টাকার রেট: জেনে নিন প্রবাসী ভাইদের জন্য বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০২ ১২:০৬:৪৪
আজকের টাকার রেট: জেনে নিন প্রবাসী ভাইদের জন্য বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার
ছবি : সংগৃহীত

দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। বৈদেশিক মুদ্রার সঠিক দাম জানা থাকলে প্রবাসী শ্রমিক এবং ব্যবসায়ীরা সঠিক সময়ে অর্থ লেনদেনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আজ শনিবার (২ মে ২০২৬) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার সর্বশেষ ও হালনাগাদ বিনিময় হার বিস্তারিত তুলে ধরা হলো

বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে আজ মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায় অবস্থান করছে।

অন্যদিকে ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরোর দাম দাঁড়িয়েছে ১৪২ টাকা ২৪ পয়সা এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য ১৬৩ টাকা ৩০ পয়সা।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত থাকায় সৌদি রিয়াল ও কুয়েতি দিনারের দামের ওপর অনেকেরই নজর থাকে।

আজ প্রতি সৌদি রিয়ালের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৩২ টাকা ৬১ পয়সা এবং কুয়েতি দিনারের দাম ৩৯৫ টাকা ৭৭ পয়সা।

এছাড়া এশীয় দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের বিনিময় হার আজ ৩০ টাকা ৩৮ পয়সা এবং সিঙ্গাপুরি ডলার ৯৫ টাকা ৬১ পয়সা।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের প্রতি রুপির বিপরীতে মিলছে ১ টাকা ৩১ পয়সা।

অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসীদের জন্য আজকের রেট হচ্ছে প্রতি অস্ট্রেলিয়ান ডলারে ৮৫ টাকা ০১ পয়সা।

উল্লেখ্য যে, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের ভিন্নতার কারণে যেকোনো সময় এই বিনিময় হার পরিবর্তিত হতে পারে। তাই লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা মানি এক্সচেঞ্জ হাউজ থেকে সর্বশেষ দর যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত:

৫ মে: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

৫ মে: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

দেশের পুঁজিবাজারে মঙ্গলবারের লেনদেনে শীর্ষ গেইনার তালিকায় বহুমুখী খাতের কোম্পানির উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা বাজারে বিস্তৃত ভিত্তিতে আস্থার ইঙ্গিত... বিস্তারিত