এভারকেয়ারে খালেদা জিয়াকে দেখে এসে এনসিপি নেতারা জানালেন সর্বশেষ খবর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৯ ১৪:৫১:৩৪
এভারকেয়ারে খালেদা জিয়াকে দেখে এসে এনসিপি নেতারা জানালেন সর্বশেষ খবর
ছবিঃ সংগৃহীত

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির শীর্ষ নেতারা। শনিবার ২৯ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁরা হাসপাতালে যান এবং সাক্ষাৎ শেষে দুপুর ১২টার দিকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। এনসিপির পক্ষ থেকে দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডাক্তার তাসনিম জারা মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে ডাক্তার তাসনিম জারা জানান বিএনপি নেত্রীর চিকিৎসা চলছে এবং তাঁর অবস্থা ক্রিটিক্যাল। তবে তিনি সজ্ঞান ও সজাগ আছেন এবং ডাক্তার ও নার্সদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে পারছেন। তিনি দেশবাসীর কাছে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়ার আবেদন জানান। এ সময় হাসনাত আব্দুল্লাহ মন্তব্য করেন যে খালেদা জিয়া চিকিৎসা করাতে গিয়েও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন আমাদের চাওয়া তিনি যেন হাসিনার ফাঁসি দেখতে পারেন সেই দোয়া করবেন। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান খালেদা জিয়ার অবস্থা আগের মতোই ক্রিটিক্যাল তবে তিনি চিকিৎসকদের নির্দেশনা মানতে পারছেন তাই এখন সবার করণীয় শুধু দোয়া করা।

এর আগে গত রোববার রাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে প্রায় ৮০ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগ ডায়াবেটিস আর্থ্রাইটিস লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন।

প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস শুক্রবার রাতে আইন উপদেষ্টা এবং তাঁর বিশেষ সহকারী মনির হায়দারকে হাসপাতালে পাঠিয়েছিলেন খোঁজ নেওয়ার জন্য। এ ছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও মির্জা আব্বাসও হাসপাতালে গিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত দলীয় প্রধানের স্বাস্থ্যের খবর নিয়েছেন। উল্লেখ্য উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৭ জানুয়ারি লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া এবং দীর্ঘ ১১৭ দিন সেখানে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন।


কেন এনসিপি ছাড়লেন, ব্যাখ্যায় ডা. তাসনিম জারা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ১৩:৫১:১০
কেন এনসিপি ছাড়লেন, ব্যাখ্যায় ডা. তাসনিম জারা
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন ডা. তাসনিম জারা। এনসিপি থেকে তার সরে দাঁড়ানো নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটেই নিজের অবস্থান ও সিদ্ধান্তের যুক্তি স্পষ্ট করেছেন তিনি।

ডা. তাসনিম জারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় যে পুরনো কাঠামো ও চর্চা চালু রয়েছে, তা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি দলীয় রাজনীতির বাইরে এসে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন। তার মতে, প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামো জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ক্রমেই অক্ষম হয়ে পড়ছে।

মঙ্গলবার নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত এক সংলাপে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় জবাবদিহির কাঠামো অত্যন্ত দুর্বল। বিভিন্ন স্তরে জটিলতা ও অস্পষ্টতা বিরাজ করছে, যেখানে ক্ষমতাসীনরাই অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের জবাবদিহির সীমা নিজেরাই নির্ধারণ করেন। এতে গণতান্ত্রিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হলেও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এই আলোচনা ও সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যেমন জরুরি, তেমনি যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকবেন, তাদের কার্যকর ও বাস্তব জবাবদিহি নিশ্চিত করাও সময়ের বড় দাবি।

জনগণের মানসিক পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে ডা. তাসনিম জারা বলেন, সাধারণ মানুষ আর পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। রাজনীতিতে নতুন ধারা, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা দেখতে চায় জনগণ। এই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকেই সামনে রেখে তিনি এনসিপি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

তিনি স্পষ্ট করেন, রাজনৈতিক দল ছাড়ার অর্থ রাজনীতি থেকে সরে যাওয়া নয়; বরং দলীয় সীমাবদ্ধতার বাইরে থেকে জনগণের কাছে সরাসরি দায়বদ্ধ থাকার সুযোগ তৈরি করাই তার লক্ষ্য। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তিনি একটি বিকল্প রাজনৈতিক বার্তা দিতে চান।

উল্লেখ্য, শুরুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল ডা. তাসনিম জারার। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি ঘোষণা দেন, আসন্ন নির্বাচনে তিনি দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই ঢাকা-৯ আসনে ভোটের লড়াইয়ে নামবেন।

-রাফসান


৩১ দফা ও ‘আই হ্যাভ আ প্লান’ ইশতেহারে যুক্ত করছে বিএনপি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ১৩:৪৪:৫২
৩১ দফা ও ‘আই হ্যাভ আ প্লান’ ইশতেহারে যুক্ত করছে বিএনপি
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সময়ের হিসাব মাথায় নিয়েই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি তাদের নির্বাচনি ইশতেহার প্রস্তুতির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। নির্বাচনের আর মাত্র ২৮ দিন বাকি থাকায় দলটি ইতোমধ্যে ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা, জনকল্যাণভিত্তিক প্রতিশ্রুতি এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইশতেহারের খসড়া চূড়ান্ত করছে।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, ইশতেহারটি এখন বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এটি চূড়ান্ত করা হবে এবং পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, ইশতেহার প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারির মধ্যেই এটি চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে এবং খুব শিগগিরই দল জনগণের সামনে ইশতেহার ঘোষণা করবে।

ইশতেহারের অন্যতম নতুন দিক হলো ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া। বিএনপি মনে করছে, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রশ্নে তরুণ সমাজের ভূমিকা এবার নির্ধারক হতে পারে। সে কারণে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া ও পরিবেশের মতো খাতগুলো ইশতেহারে অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

দলীয় নীতিনির্ধারকদের মতে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর সাম্প্রতিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক দর্শন ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। আধুনিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের লক্ষ্যে তার ‘আই হ্যাভ আ প্লান’ ধারণাকে ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাজ্যের আদলে বাংলাদেশে একটি ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও ইশতেহারের অংশ হবে। ক্ষমতায় এলে প্রথম ১৮ মাসে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতিকে দলটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে তুলে ধরতে চায়।

ইশতেহারে ৩১ দফার পাশাপাশি ‘ভিশন ২০৩০’, জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সামাজিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন থাকবে। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা, বাকস্বাধীনতা, স্বচ্ছ প্রশাসন ও জাতীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় পৌনে ১৩ কোটি। এর মধ্যে নতুন ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি এবং ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সি ভোটার প্রায় সাড়ে চার কোটি। বিশ্লেষকদের মতে, এই তরুণ ভোটাররাই নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারেন।

এই বাস্তবতায় বিএনপি তরুণদের পাশাপাশি নারী ও প্রবীণ ভোটারদের বিষয়েও বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে। দেশে নারী ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটির বেশি হওয়ায় তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি ইশতেহারে জায়গা পাচ্ছে। ৬০ বছরের বেশি বয়সি প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখ ভোটারের জীবনমান উন্নয়নও দলটির বিবেচনায় রয়েছে।

জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলা এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। কৃষকদের জন্য স্বল্পমূল্যে সার ও উন্নত বীজ সরবরাহ, শহর ও গ্রামে শক্তিশালী প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কথাও বলা হচ্ছে।

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এসএমই, বস্ত্র খাত, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, আইসিটি, ই-কমার্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্টার্টআপ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর উদ্যোগের কথাও ইশতেহারে উল্লেখ থাকবে।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, দলের ঘোষিত ৩১ দফা ও তারেক রহমানের বক্তব্য ইশতেহারের মূল ভিত্তি। স্থায়ী কমিটির আলোচনার পর দ্রুতই এটি ঘোষণা করা হবে।

অন্যদিকে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পুনর্ব্যক্ত করেছেন, বিএনপি মেগা প্রকল্পের চেয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেবে। তাঁর মতে, জনগণের সক্ষমতা বাড়ানোই হবে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি।

এ প্রসঙ্গে দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ইশতেহার মূলত ঘোষিত ৩১ দফা ও প্রয়াত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া-র ভিশন ২০৩০-এর আলোকে তৈরি হচ্ছে। নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশাই এবার ইশতেহারের কেন্দ্রে থাকবে।

-রাফসান


তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে বিদ্রোহী দমনে বড় জয়

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ০৯:২৬:২০
তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে বিদ্রোহী দমনে বড় জয়
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থী দমনে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিচ্ছেন। বিশেষ করে জোট ও শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে দলীয় ঐক্য বজায় রাখাই এখন বিএনপির হাইকমান্ডের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

নির্বাচনী পরিস্থিতির উত্তাপের মধ্যে প্রতিদিন রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিভিন্ন জেলার বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কথা বলছেন তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিদ্রোহীদের সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছেন। চেয়ারম্যান আশ্বাস দিয়েছেন যে, নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে পারে, তবে ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। তারেক রহমানের এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইতোমধ্যে অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন, যা দল ও সমমনা জোটের প্রার্থীদের মধ্যে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।

বিএনপি তাদের সমমনা জোটের জন্য যে ১৭টি আসন ছেড়ে দিয়েছে, সেগুলোতে শরিক দলের শীর্ষ নেতারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই তালিকায় রয়েছেন

বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না।

ভোলা-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ।

সিলেট-৫ আসনে জমিয়তের মাওলানা মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ফারুক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব।

নীলফামারী-১ আসনে মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনির হোসেন কাসেমী।

যশোর-৫ আসনে জমিয়তের (অনিবন্ধিত) রশিদ বিন ওয়াক্কাস।

নড়াইল-২ আসনে এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।

পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর।

ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খান।

ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক।

ঢাকা-১৩ আসনে এনডিএমের ববি হাজ্জাজ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম।

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির সৈয়দ এহসানুল হুদা।

কুমিল্লা-৭ আসনে এলডিপির ড. রেদোয়ান আহমদ।

হবিগঞ্জ-১ আসনে ড. রেজা কিবরিয়া।

উল্লেখ্য যে, শরিক নেতাদের মধ্যে ড. রেদোয়ান আহমদ, ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, রাশেদ খান, শাহাদাত হোসেন সেলিম, এহসানুল হুদা, রেজা কিবরিয়া ও ববি হাজ্জাজ নিজেদের দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকেই নির্বাচনে লড়ছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সূত্র জানিয়েছে, দেশের ২৯৮টি আসনের মধ্যে অন্তত ৯৩টি আসনে দলের নেতারা বিদ্রোহী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় ইতোমধ্যে ১০ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা আহ্বান জানিয়েছি দলের সিদ্ধান্তের প্রতি যেন তারা শ্রদ্ধাশীল হন। আশা করছি ২০ জানুয়ারির মধ্যেই পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হবে।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে জোনায়েদ সাকির বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া দলের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল খালেককে ঢাকায় ডেকে কথা বলেন তারেক রহমান। বৈঠকের পর আবদুল খালেক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে বলেন, “চেয়ারম্যান যখন ডেকেছেন, তাঁকে সম্মান করতেই হবে।” একইভাবে নাসিরনগর আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানও তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলার পর ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

তবে ঢাকা-১২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, পটুয়াখালী-৩ এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ সহ শতাধিক আসনে এখনো দলের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন। জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও বাম জোটের প্রার্থীদের পাশাপাশি দলের এই বিদ্রোহীদের সামাল দেওয়া এখন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তারেক রহমানের এই ব্যক্তিগত তৎপরতা শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে কতটুকু সুফল আনে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


গণভোটে ‘না’ ভোট মানেই গণ-অভ্যুত্থানের ব্যর্থতা: নাহিদ ইসলাম 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১৭:২৫:৩০
গণভোটে ‘না’ ভোট মানেই গণ-অভ্যুত্থানের ব্যর্থতা: নাহিদ ইসলাম 
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নেওয়া দেশের সকল রাজনৈতিক দলের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যদি এই গণভোটে ‘না’ জয়যুক্ত হয়, তবে চব্বিশের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হবে।

আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গণভোটের প্রচারণার লক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ ‘ক্যারাভ্যান’ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম জানান, তার দল এনসিপি এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে এবং সাধারণ জনগণকেও একই আহ্বান জানাচ্ছে। জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন

“আপনাদের যদি আমাদের (এনসিপি) পছন্দ না-ও হয়, কিংবা ভবিষ্যতে আমাদের ভোট না-ও দেন, তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অন্তত ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে আপনাদের ভোট দেওয়া উচিত।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, দল-মত-নির্বিশেষে সবার দায়িত্ব হলো গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া। কারণ ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেই কেবল সংস্কার প্রক্রিয়া সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে ফ্যাসিবাদী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আন্দোলন হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন শুরু হবে। কিন্তু যদি ফলাফল ‘না’-এর পক্ষে যায়, তবে দেশ আবার সেই পুরনো ব্যবস্থার মধ্যেই আটকে থাকবে। এর অর্থ দাঁড়াবে—ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়া।

গণভোটের প্রচারণাকে সব রাজনৈতিক দলের সামগ্রিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে এনসিপি আহ্বায়ক কিছু দলের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দল সরাসরি না বললেও ইনিয়ে-বিনিয়ে গণভোটে ‘না’-এর পক্ষে কথা বলা শুরু করেছে। এই ধরনের অবস্থান গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তিনি মনে করেন।

সবশেষে তিনি দেশবাসীকে দেশের স্বার্থে এবং একটি নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কার প্রক্রিয়াকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার আহ্বান জানান।


শেখ হাসিনা ও কামালের মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১৫:২৭:৩৯
শেখ হাসিনা ও কামালের মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল–এর বিরুদ্ধে দেওয়া দণ্ডাদেশের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে এই ঐতিহাসিক রায়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়।

প্রকাশিত রায়টি মোট ৪৫৭ পৃষ্ঠার, যেখানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন রাষ্ট্রীয় শক্তির ব্যবহার, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নিপীড়ন এবং সংগঠিত সহিংসতার বিস্তারিত বিবরণ ও বিচারিক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই রায়টি বাংলাদেশের বিচার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে।

এর আগে গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল একটি অভিযোগে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। একই সঙ্গে পৃথক আরেকটি অভিযোগে তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, অভিযোগ প্রমাণে প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ সংঘটনের বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করেছে।

আইন সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মাধ্যমে মামলার বিচারিক যুক্তি, সাক্ষ্য মূল্যায়ন এবং দণ্ড নির্ধারণের আইনি ভিত্তি জনসমক্ষে স্পষ্ট হলো। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের আলোকে অপরাধের শ্রেণিকরণ ও দায় নির্ধারণের বিষয়টি রায়ে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রায় প্রকাশের উদ্দেশ্য হলো বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দেশি-বিদেশি গবেষক, আইনজ্ঞ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর জন্য প্রামাণ্য নথি উন্মুক্ত করা। তারা মনে করছেন, এই রায় ভবিষ্যতে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সংক্রান্ত আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

-রফিক


সময় বদলেছে, নাগরিক প্রত্যাশাও বেড়েছে: আমীর খসরু

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১৪:৪২:৩৩
সময় বদলেছে, নাগরিক প্রত্যাশাও বেড়েছে: আমীর খসরু
ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের দায়িত্ব কোনো বাইরের শক্তির নয়, বরং রাজনীতিবিদদেরই বহন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তার মতে, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আস্থা অর্জন এখন একটি মৌলিক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, যা দায়িত্বশীল আচরণ ও বিশ্বাসযোগ্য কর্মকাণ্ড ছাড়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা বহুগুণে বেড়েছে এবং সেই উচ্চমাত্রার প্রত্যাশা ধারণ করার সক্ষমতা রাজনীতিবিদদের মধ্যেই থাকতে হবে। কেবল বক্তব্য নয়, বাস্তব কর্মসূচি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্য দিয়েই রাজনীতিবিদদের জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারটিতে রাজনীতি, নির্বাচন ব্যবস্থা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে আলোচনা হয়, যেখানে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনগণের ভূমিকা ও প্রত্যাশার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নাগরিকদের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। ফলে রাজনীতিবিদদের সিদ্ধান্ত ও আচরণ এখন সরাসরি জনমানুষের বিচার-বিশ্লেষণের আওতায় চলে এসেছে। এই বাস্তবতায় পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি দিয়ে নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয় বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

তিনি আরও বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা জরুরি। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে জনগণের হতাশা আরও বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সেমিনারে আলোচকরা মনে করেন, ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬’ কেবল একটি নির্বাচন নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংস্কার, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এবং রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিক আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষাবিদরা। তারা বলেন, রাজনীতিবিদদের প্রতি আস্থা সংকটের পেছনে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, জবাবদিহির অভাব এবং রাজনৈতিক সহনশীলতার ঘাটতি কাজ করেছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকেই আগে নিজেদের সংস্কার করতে হবে।

-শরিফুল


সাবেক এমপি মমতাজ বেগমের বিপুল সম্পদ জব্দের আদেশ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১৪:২৯:২১
সাবেক এমপি মমতাজ বেগমের বিপুল সম্পদ জব্দের আদেশ
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মমতাজ বেগম–এর নামে থাকা বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার মালিকানাধীন মোট ৪৭৪ শতাংশ জমি এবং ঢাকাসহ মানিকগঞ্জে অবস্থিত তিনটি আবাসিক ভবন আদালতের মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুদকের পক্ষ থেকে দাখিল করা আবেদনের ভিত্তিতেই এই সম্পত্তি জব্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আদালতের আদেশে যে সম্পদগুলো জব্দ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ঢাকার মহাখালী ডিওএইচএস এলাকায় প্রায় ২ হাজার ৫০০ বর্গফুট জমির ওপর নির্মিত একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন। পাশাপাশি মানিকগঞ্জে অবস্থিত একটি দোতলা বাড়ি এবং মানিকগঞ্জ সদর এলাকায় ২ হাজার ১০৯ বর্গফুট জমির ওপর নির্মিত একটি চারতলা ভবনও জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব সম্পদের বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য এবং তদন্তের স্বার্থে এগুলো আদালতের হেফাজতে রাখা জরুরি বলে বিবেচিত হয়েছে।

এই সম্পত্তিগুলো জব্দের আবেদন করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে একটি বিশেষ অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্তের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা এবং স্থাবর সম্পদ জব্দ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে, যাতে তদন্ত চলাকালে কোনো সম্পদ হস্তান্তর বা গোপন করার সুযোগ না থাকে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত মামলায় অনুসন্ধান চলাকালে আদালতের মাধ্যমে সম্পদ জব্দ একটি প্রচলিত ও গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির আর্থিক লেনদেনের পূর্ণ চিত্র উদ্ঘাটন এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা সহজ হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ মে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন মমতাজ বেগম। গ্রেফতারের পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আদালতের সর্বশেষ এই আদেশ মামলার অনুসন্ধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

-রাফসান


কোনো বোঝাপড়ার নির্বাচন আমরা করতে চাই না: ডা. শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ০৯:৪৬:৩১
কোনো বোঝাপড়ার নির্বাচন আমরা করতে চাই না: ডা. শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত নির্বাচনের মতো কোনো নির্বাচন তারা আর দেখতে চান না এবং কোনো ধরনের ‘বোঝাপড়ার নির্বাচন’ তারা করবেন না। গতকাল রাতে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও সিভিল ওয়ার চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “চব্বিশের জটিল দিনগুলোতে সেনাবাহিনীর দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে জাতি সিভিল ওয়ার (গৃহযুদ্ধ) থেকে রক্ষা পেয়েছে—এটি আমার এবং আমার দলের পারসেপশন। আগস্টের ৩, ৪ এবং ৫ তারিখে আপনারা যে ভূমিকা রেখেছেন, সেটা না রাখলে আজকে বাংলাদেশে এখানে দাঁড়িয়ে আমি কথা বলতে পারতাম না।”

‘মাস্টারমাইন্ড’ বিতর্ক বিপ্লবের কৃতিত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই পরিবর্তন বা বিপ্লবের কোনো ক্রেডিট তারা দল হিসেবে দাবি করেননি। সরকারপ্রধান বিদেশে থাকা একজনকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলায় আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমিই প্রথম ব্যক্তি যে বলেছিলাম—এখানে কোনো ব্যক্তি মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না। যদি এক ব্যক্তিকে মাস্টারমাইন্ড করা হয়, তবে বাকি সবাইকে আন্ডারমাইন্ড করা হবে। এখানে বাংলাদেশের বিপ্লবী জনগণই হলো সম্মিলিত মাস্টারমাইন্ড।”

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও পাকিস্তান আমল তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯০ বছরের গোলামির পর পাকিস্তান ও ভারত আলাদা রাষ্ট্র হলেও পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে ইনসাফ করেনি। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধেই সত্তরের নির্বাচনে জনগণ রায় দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম হয়।

নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক অবস্থান গতকাল রাজধানীর বসুন্ধরায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভারস আইজাবসের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা শুধু চাই নির্বাচনটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হোক। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যদি অন্য কোনো দলকে পছন্দ করে, আমরা তাদের সহযোগিতা করব। দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং সংস্কারের পক্ষে যারা থাকবে, জামায়াত তাদের সঙ্গেই থাকবে।” তিনি আরও বলেন, দেশের মা-বোনেরাও নির্বাচনে জামায়াতকে বেছে নেবে বলে তাদের শতভাগ আস্থা রয়েছে।

চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ একই দিনে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জামায়াত আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। রাজধানীর বসুন্ধরায় আমিরের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে একটি প্রতিনিধিদলও এ সময় উপস্থিত ছিল।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।


জোট গঠনে অনেক ছাড় দিয়েছে এনসিপি লক্ষ্য এবার সরকার গঠন: আসিফ মাহমুদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ২১:০০:০৬
জোট গঠনে অনেক ছাড় দিয়েছে এনসিপি লক্ষ্য এবার সরকার গঠন: আসিফ মাহমুদ
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের রণকৌশল চূড়ান্ত করেছে। আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে এনসিপির মুখপাত্র এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান যে, তাঁর দল এবার দেশের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, এবারের জোটটি ইনশাআল্লাহ সরকার গঠন করবে। জোটের স্থায়িত্ব এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে এনসিপি অনেক ছাড় দিয়েছে এবং অন্যান্য শরিক দলগুলোর মধ্যেও একই ধরণের ইতিবাচক মানসিকতা থাকায় একটি শক্তিশালী জোট গঠন সম্ভব হয়েছে।

আসিফ মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে দলের অভ্যন্তরীণ সংহতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। সম্প্রতি যারা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদেরকে দলের ‘অ্যাসেট’ বা সম্পদ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন যে, তাঁদের পদত্যাগপত্র এখনো গ্রহণ করা হয়নি। তিনি বিশ্বাস করেন যে, এখনো সবার একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে এবং ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে। দলের এই নমনীয় মনোভাব নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

জোটের প্রকৃতি নিয়ে আসিফ মাহমুদ একটি স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বর্তমান জোটটি কোনো ‘আদর্শিক জোট’ নয় বরং এটি একটি ‘স্ট্রেটেজিক’ বা কৌশলী জোট। নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি কার্যকর সরকার উপহার দিতেই এই ধরণের কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে এবং এনসিপি এই পরিবর্তনের মূল কারিগর হতে চায় বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত