খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য ছাত্রশিবিরের বিশেষ দোয়া আয়োজন 

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ২১:৩১:৫৮
খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য ছাত্রশিবিরের বিশেষ দোয়া আয়োজন 
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় শিবিরের দোয়া মাহফিল

ফেনীর কৃতী সন্তান বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বাদ আসর জেলার দাগনভূঞা উপজেলা জায়লস্কর ইউনিয়নস্থ সিলোনিয়া মডেল শাখা শিবিরের উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, ফেনীর কৃতী সন্তান বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ। এ জন্য তার রোগ মুক্তি কামনা করে এদিন বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সিলোনিয়া আল ফালাহ জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দোয়া ও মোনাজাত করেন ফেনী জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু হানিফ হেলাল।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন দাগনভূঞা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলোনিয়া মডেল শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি তানভীর বিন মিশকাত ও সেক্রেটারি মো. ছামিসহ সংগঠনটি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক ও মুসল্লিরা।বিষয়টি নিশ্চিত করে কালবেলাকে ফেনী জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু হানিফ হেলাল জানান, বেগম জিয়া ফেনীর গর্বিত সন্তান। তাকে নিয়ে আমরা গর্ব করি। তিনি অসুস্থ অবস্থায় আছেন এজন্য তার দোয়া কামনা করে আমরা দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছি। আমরা মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেছি বেগম জিয়া যাতে সুস্থ হয়ে আবার আমাদের মাঝে ফিরে এসে ফিরে আসে।


বাতাসের আর্দ্রতা ৮৯ শতাংশ, ঢাকার আবহাওয়া নিয়ে শনিবারের পূর্বাভাস 

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৯ ১০:০৪:১২
বাতাসের আর্দ্রতা ৮৯ শতাংশ, ঢাকার আবহাওয়া নিয়ে শনিবারের পূর্বাভাস 
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি বলছে আজ শনিবার সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৯ শতাংশ যার ফলে নগরজুড়ে শীতের অনুভূতি ক্রমশ বাড়ছে।

সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে ঢাকার আকাশ পরিষ্কার থাকবে। পাশাপাশি আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ ছাড়া পশ্চিম বা উত্তর পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সেই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে যা শীতের তীব্রতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।


ভূমিকম্পে ঢাকার কোন এলাকাগুলো তুলনামূলক নিরাপদ তা জানালেন বিশেষজ্ঞরা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৯ ০৯:৫০:০৫
ভূমিকম্পে ঢাকার কোন এলাকাগুলো তুলনামূলক নিরাপদ তা জানালেন বিশেষজ্ঞরা
ছবিঃ সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্টে যদি ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয় তবে ঢাকার প্রায় ৪০ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে এবং প্রাণহানি হতে পারে দুই লাখেরও বেশি মানুষের। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা রাজউক প্রকাশিত সাম্প্রতিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে এমনই ভয়াবহ চিত্র। এ তথ্য প্রকাশের পর রাজধানীবাসীর মধ্যে আবারও তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ এবং প্রশ্ন উঠছে ঢাকায় কি কোনো নিরাপদ এলাকা আছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন ঢাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন কিছুটা সহায়ক হলেও অনিয়ন্ত্রিত ভবন নির্মাণ জলাশয় ভরাট ও অতিরিক্ত জনসংখ্যা শহরকে ভয়াবহ ঝুঁকিতে ফেলেছে। কোন এলাকা কতটা নিরাপদ তা বুঝতে হলে এলাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং অবকাঠামোগত অবস্থানের দিকে নজর দিতে হবে বলে তাঁরা মত দিয়েছেন।

ভূতত্ত্ববিদ সৈয়দ হুমায়ুন আখতারের মতে ঢাকার উত্তর অংশে মধুপুরের লাল মাটি রয়েছে যা তুলনামূলকভাবে শক্ত। তাই রমনা মগবাজার নিউমার্কেট লালমাটিয়া খিলগাঁও মতিঝিল ধানমন্ডি লালবাগ মিরপুর গুলশান ও তেজগাঁওসহ লাল মাটির গঠনের এলাকাগুলো ভূতাত্ত্বিকভাবে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে শুধু মাটির গঠন দিয়ে ঝুঁকি নির্ধারণ করা যায় না বলে মনে করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বা বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী। তাঁর মতে ভবনগুলো সঠিকভাবে পরীক্ষা না করা হলে কোন এলাকা নিরাপদ বা অনিরাপদ তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। জলাশয় ভরাট করে গড়ে ওঠা আফতাবনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা নির্ভর করছে মাটি প্রস্তুতির ওপর। বিশেষজ্ঞরা জানান এসব এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণের আগে গ্রাউন্ড ইম্প্রুভমেন্ট টেকনিক প্রয়োগ করা বাধ্যতামূলক। মাটি যথাযথভাবে শক্ত না করলে ভূমিকম্পের সময় ভবন অতিরিক্ত দুলে ভেঙে পড়তে পারে।

মেক্সিকোর সান হুয়ানিকো শহরের উদাহরণ টেনে অধ্যাপক আনসারী বলেন সেখানে মাটি ঠিকভাবে প্রস্তুত না করার কারণেই ১৯৮৫ সালের ভূমিকম্পে ৭০ শতাংশ ভবন ধসে পড়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে ঢাকার মতো নরম মাটির এলাকায় শুধু পাইলিং করেই ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না বরং মাটিকেও যথাযথভাবে দৃঢ় করতে হবে। নইলে দূরের ভূমিকম্প হলেও মাটির কম্পন ও ভবনের কম্পন মিলিত হয়ে বড় ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি করে। সার্বিকভাবে ঢাকার কিছু এলাকায় ভূতাত্ত্বিক সুবিধা থাকলেও ভবনের গুণগত মানই নিরাপত্তার মূল নির্ণায়ক। ভবন যাচাই ও সঠিক নির্মাণ ছাড়া রাজধানীর কোনো এলাকাকেই সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যাচ্ছে না।

সূত্র : বিবিসি বাংলা


ঢাকা–১ এ হাইভোল্টেজ লড়াই: বিএনপির আশফাক বনাম জামায়াতের ব্যারিস্টার নজরুল

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৮ ১৫:১২:১২
ঢাকা–১ এ হাইভোল্টেজ লড়াই: বিএনপির আশফাক বনাম জামায়াতের ব্যারিস্টার নজরুল

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকার ১ নম্বর আসন, অর্থাৎ দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলাজুড়ে এখন থেকেই টানটান উত্তেজনা। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপির লড়াইয়ের ময়দান হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক এবং জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের মধ্যে। তিন দশকের বেশি সময়ের ভোটের ইতিহাস, দলীয় ঘাঁটি, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও নতুন ভোটারদের প্রবণতা মিলিয়ে ঢাকা-১ আসনটি হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতির জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

প্রার্থী হিসেবে কে কতটা শক্তিশালী

ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ইতোমধ্যে সুপরিচিত একটি নাম। নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সরাসরি কাজ করেছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন, যদিও পরে আইনি জটিলতায় তার প্রার্থিতা স্থগিত হয়। ২০১৬ সালে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২২ সালে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি সাংগঠনিকভাবে আরও শক্ত অবস্থানে আসেন।

দলের দুঃসময়, মামলা, গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়নের সময় তিনি মাঠে থেকে সংগঠন ধরে রেখেছেন বলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মন্তব্য। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ ইশতিয়াক আনুষ্ঠানিকভাবে আশফাককে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “আশফাক বিএনপির দুর্দিনের এক সাহসী কর্মী। আমি আশাবাদী, সে নির্বাচিত হয়ে দোহারনবাবগঞ্জকে দেশের মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবে।” দলের ভেতরে ও বাইরে এমন প্রশংসা আশফাককে বিএনপির সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছে।

অন্যদিকে জামায়াত সমর্থিত ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম মূলত শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত কৃতিত্ব ও ব্যক্তি ইমেজের কারণে দ্রুত আলোচনায় উঠে এসেছেন। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের বাঘহাটি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া নজরুল ইসলামের ছাত্রজীবন থেকেই ছিল আলাদা উজ্জ্বলতা। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে আইন বিষয়ে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে স্বর্ণপদক পান।

এরপর সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া থেকে কামিল, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আরেকটি এলএলবি, সিটি ইউনিভার্সিটি লন্ডন থেকে লিগ্যাল প্রফেশনে পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা এবং বিশ্বখ্যাত মিডল টেম্পল থেকে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি (বার-অ্যাট-ল) অর্জন করে তিনি নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের আইনজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ছাত্রজীবনে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয়সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র হিসেবেদায়িত্বপালন করেন। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনেই তিনি প্রথমবারের মতো ঢাকা-১ আসনে সরাসরি সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন এবং ইতিমধ্যেই স্থানীয় শিক্ষিত তরুণ ও ধর্মপ্রাণ মানুষের চোখে একজন সৎ, যোগ্য ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

ঢাকা-১: ভোটার প্রোফাইল ও দীর্ঘ তিন দশকের নির্বাচনী হিসাব

দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১ আসনটি মূলত গ্রামীণ ও মফস্বল অধ্যুষিত এলাকা। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ৪৪০,২৮৬ জন। ভোটার তালিকা হালনাগাদের পর এবার এই সংখ্যা প্রায় পাঁচ লক্ষেরকাছাকাছি পৌঁছেছে বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা। কৃষক, ব্যবসায়ী, প্রবাসী পরিবারের সদস্য, চাকরিজীবী এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষিত যুবক-যুবতী এই আসনের ভোটার কাঠামোর বড় অংশ।

নির্বাচনীইতিহাসেদেখা যায়, স্বাধীনতা-উত্তর প্রথম নির্বাচন ১৯৭৩ সালে এই আসনে জয় পেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। কিন্তু ১৯৭৯ সালথেকেইএইআসনেবিএনপির প্রভাব বাড়তে শুরু করে; খন্দকার দেলোয়ার হোসেন তখন থেকে এ আসনকে বিএনপি ঘাঁটি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৯১ সালেরপঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নজমুল হুদা ৬০.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী পান ৩৪.৪ শতাংশ ভোট। ১৯৯৬ সালের জুন পুনর্নির্বাচন ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয়নির্বাচনেতিনিপরপরদুইবার নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোট পান, আর আওয়ামীলীগপ্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ছিল ২৯ শতাংশের নিচে। ২০০১ সালে টানটান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নজমুল হুদা ৫১.৪ শতাংশ ভোট পেয়ে মাত্র ২,৭৭১ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শিল্পপতি সালমান এফ রহমানকে হারান এবং পরবর্তীতে যোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বও পান।

তবে ২০০৮ সালের নবম জাতীয়নির্বাচনে রাজনৈতিক পালাবদলের ঢেউ ঢেউ আঘাত হানে এই আসনেও। আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান ৫৪.৯ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর বিএনপির প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান পান ৪২.৮ শতাংশ ভোট। ওই নির্বাচনে প্রায় ৮৯ শতাংশ ভোটার উপস্থিত ছিলেন, যা অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ ভোটার অংশগ্রহণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

২০১৪ সালের দশম জাতীয় নির্বাচনেবিএনপি অংশ না নেওয়ায় এক অদ্ভুত সমীকরণ তৈরি হয়। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েও আবদুল মান্নান খান অল্প ব্যবধানে পরাজিতহনজাতীয় পার্টির সালমা ইসলাম ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, আর মান্নান খান পান ৪৮ শতাংশ ভোট। সরকারি হিসাব অনুযায়ী সেই নির্বাচনেভোটারউপস্থিতিছিলমাত্র ২৬.৯ শতাংশ, যদিও বাস্তবে উপস্থিতি তার থেকেও কম ছিল বলে তখনই আলোচনা তৈরি হয়।

২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সালমান এফ রহমান প্রথমবারের মতো ঢাকা-১ আসনে সাংসদ নির্বাচিত হন। বিএনপি প্রার্থী হিসেবেখন্দকারআবু আশফাক মনোনয়নপত্র জমা দিলেও নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে তার পদত্যাগ স্বীকৃতি না পেয়ে আইনি জটিলতায় প্রার্থিতাবাতিলহয়ফলে ব্যালটে বিএনপি বা বিএনপিজোটের কোনো প্রার্থী ছিল না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কেবল সালমা ইসলাম অংশ নেন। সরকারি হিসাবে ওই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৮০ শতাংশের বেশি দেখানো হয়। এতে সালমান এফরহমানপ্রায় ৩,০২,৯৯৩ ভোট অর্থাৎ প্রায় ৮৫.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, আর সালমা ইসলাম পান ৩৭,৭৬৩ ভোট, যা প্রায় ১০.৭ শতাংশ।

এই দীর্ঘ ইতিহাসের আলোকে দেখা যায়, ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বিএনপি এ আসনে জয় পায়, ২০০৮ ও ২০১৮ সালে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ, আর ২০১৪ সালে জয় পায় জাতীয় পার্টি। সেই তুলনায় ২০২৬ সালের নির্বাচন আবারও বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের এক পরীক্ষামূলক ময়দান হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সাংগঠনিক ভিত্তি ও প্রভাব: মাঠে কার কতটা প্রস্তুতি

খন্দকার আবু আশফাক দীর্ঘদিনের সংগঠক হওয়ায় তৃণমূলের সঙ্গে তার যোগাযোগ অনেক পুরনো ও বিস্তৃত। ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে থেকে তিনি দোহার ও নবাবগঞ্জ মিলে অন্তত ১০টি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ইউনিটের সঙ্গে প্রতিনিয়ত কাজ করছেন। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে তার প্রভাব সুস্পষ্ট। সাম্প্রতিক সময়ে দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের ঝুনকি গ্রামে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে আশফাককে প্রধান অতিথি হিসেবে দেখতে বিপুল জনসমাগম হয়। ওই বৈঠকে তিনি বলেন, “দোহারনবাবগঞ্জবাসী অনেকদিন ধরে অবহেলিত। এই দেশ, এই আসন, এই জনগণ বিএনপির। ইনশাআল্লাহ, জনগণের ভোটেই পরিবর্তন আসবে।” বক্তৃতা শেষে উপস্থিত মানুষ ও কর্মীরা করতালি আর ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান এবং বিএনপির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেন।

তবে সবকিছু এতটা মসৃণও ছিল না। স্থানীয় সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ভাষ্যে, দোহার উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেআগেঅভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা দিয়েছিল। আশফাকের নেতৃত্বে এক পক্ষ এবং আরেক সাবেক নেতার নেতৃত্বে অন্য পক্ষের মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়। ২০২২ সালে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি ঐক্য গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেন এবং এখন আন্দোলন ও নির্বাচনে পুরো জেলা কমিটিকে একটি মডেল হিসেবে দাঁড় করানোর কথা বলে আসছেন। কেন্দ্রীয় আন্দোলন কর্মসূচিতেসক্রিয়থাকার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তার নেতৃত্বে কর্মীরা নতুন করে উদ্দীপ্ত হয়েছে বলে ধারণা দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম সাংগঠনিক রাজনীতিতে তুলনামূলক নতুন মুখ হলেও জামায়াতের পুরোনো ও মৌলিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে তিনি নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছেন। ছাত্রশিবিরে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পালন ও প্রবাসে জামায়াতের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে একজন কার্যকর সংগঠক হিসেবে গড়ে তুলেছে।

এলাকায় উপস্থিতি জোরদার করতে তিনি স্কুলকলেজ, হাটবাজার, মসজিদমাদরাসা থেকে পাড়ামহল্লায় ধারাবাহিক গণসংযোগ চালাচ্ছেন। দোহার উপজেলার নয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাজারে তার সাম্প্রতিক প্রচারণায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। এক সহকারী শিক্ষক মন্তব্য করেছেন, “ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম একজন শিক্ষানুরাগী মানুষ। তার কথা শুনে মনে হয়েছে তিনি সত্যিই শিক্ষা ও উন্নয়নের পক্ষে কথা বলেন।” সাধারণ ভোটারদের কেউ কেউ বলেছেন, “এত বড় শিক্ষিত মানুষ হয়েও যেভাবে আমাদের সঙ্গে সহজভাবে কথা বলছেন, এটা আমাদের ভালো লেগেছে।”

সাম্প্রতিক এক মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় শত শত মোটরসাইকেল ও সমর্থকের অংশগ্রহণ এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ শোভাযাত্রায় ব্যারিস্টার নজরুল একটি ছাদখোলা গাড়িতে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, “জনগণই আমার শক্তি। তারা চাইলে পরিবর্তনের পথ তৈরি হবে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় গ্রহণ করতে চাই।” এই ধরনের বার্তা এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ ক্যাম্পেইন তার জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়িয়ে তুলছে। জামায়াতের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আমির ও শীর্ষ নেতারা তার প্রচারে সক্রিয় হওয়ায় মাঠপর্যায়ে একটি সুসংগঠিত প্রচারণা গড়ে উঠছে।

দোহার বনাম নবাবগঞ্জ: কার ঘাঁটি কোথায় দৃঢ়

ঢাকা-১ আসনের ভোটসমীকরণ বোঝার ক্ষেত্রে দোহার ও নবাবগঞ্জ দুই অংশকে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি। ঐতিহাসিকভাবে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। নজমুল হুদার রাজনীতির কেন্দ্রও ছিল এই অঞ্চল। খন্দকার আবু আশফাক নিজেও নবাবগঞ্জের বাসিন্দা এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ায় নবাবগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও সংগঠন উভয়ই শক্তিশালী। কলাকোপা, কৈলাইল, বান্দুরা, বারুয়াখালীসহ একাধিক ইউনিয়নে বিএনপির দীর্ঘদিনের কর্মী-সমর্থকেরা তার পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। আশফাক নিজের বাড়ির আঙিনায় পর্যন্ত দলীয় সভা ও সম্মেলন করেছেন, যা তার স্থানীয় ভিত্তি কতটা গভীরে তা নির্দেশ করে।

কিন্তু সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে এই তথ্য যে জামায়াতের প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের বাড়িও নবাবগঞ্জের কলাকোপা ইউনিয়নে। অর্থাৎ দুই প্রতিদ্বন্দ্বীই একই অঞ্চলের সন্তান। নবাবগঞ্জের বহু পরিবারেই ইসলামী আদর্শের প্রতি ঝোঁক আছে বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মত, যা অতীতে প্রায়শই বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে গিয়েছে। এবার জামায়াতের নিজস্ব প্রার্থী থাকায় সেই ভোটের একটি অংশ নজরুল ইসলামের দিকে সরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মসজিদ-মাদরাসা ও ধর্মীয় অনুশীলনকে ঘিরে যে সামাজিক নেটওয়ার্ক তৈরি হয়, সেখানে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের নিয়মিত উপস্থিতি তাকে এক ধরনের প্রাকৃতিক সুবিধা দিচ্ছে।

দোহার উপজেলায় চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এখানে ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়েরই উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংক ছিল। নজমুল হুদার সময় থেকে বিএনপি ভালো ফল করলেও পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উন্নয়নমুখী কিছু পদক্ষেপও স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। বিএনপি জেলা সভাপতি হিসেবে আশফাক দোহার অংশেও নিয়মিত দলীয় কর্মসূচি করছেন। নারিশা, সুচারপাড়া, কার্তিকপুর, মুকসুদপুর, নয়াবাড়ী, কুসুমহাটি প্রভৃতি ইউনিয়নে উঠান বৈঠক ও কর্মীসভা করে তিনি দলের সংগঠনকে সক্রিয় রাখার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে প্রবাসী বিএনপি সমর্থক ও স্থানীয় সিনিয়র নেতাদের একযোগে মাঠে দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

দোহার অংশে জামায়াত ঐতিহ্যগতভাবে নিজস্ব প্রার্থী দেয়নি। ফলে এখানে ব্যারিস্টার নজরুলের প্রচারণা মূলত শূন্য থেকে সংগঠন দাঁড় করানোর প্রক্রিয়া। তিনি জামায়াতের উপজেলা আমির ও কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে ঘুরছেন, স্কুলকলেজের তরুণদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং ইসলামী মূল্যবোধ ও সুশাসনকে সামনে রেখে সমর্থন চাইছেন। নয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাজারে তার প্রচারণা স্থানীয়ভাবে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে এবং ধীরে ধীরে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে উঠছেন। অতীতে জামায়াত প্রার্থী না থাকায় যারা ইসলামী আদর্শের প্রতি ঝোঁক থাকা সত্ত্বেও বিএনপিকেই ভোট দিতেন, তাদের কিছু অংশ এবার জামায়াতের প্রার্থীর দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন ভোটার: পরিবর্তনের ভাষা নাকি ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা

দেশজুড়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের ফলে প্রায় ৬২ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ৫ শতাংশ। ঢাকা-১ আসনেও ধারণা করা হচ্ছে ২০ হাজারের বেশি নতুন ভোটার এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। এদের বড় অংশই ২০০১-২০০৫ সালে জন্ম নেওয়া তরুণতরুণী, যারা পড়াশোনা, চাকরি, প্রবাস বা অনলাইন-নির্ভর জীবনযাপনের মাধ্যমে অনেক বেশি সচেতন ও প্রশ্ন করতে অভ্যস্ত।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন প্রজন্মের একটি অংশ পুরনো ধরনের দলীয় রাজনীতির বাইরে গিয়ে শিক্ষিত, ক্লিন ইমেজ এবং আন্তর্জাতিক মানসিকতার নেতৃত্বকে বেশি প্রাধান্য দিতে চায়। এই জায়গাতেই ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের প্রোফাইল তাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। তার উচ্চশিক্ষা, ইংরেজি ও আন্তর্জাতিক আইনের জ্ঞান, নীতি-নৈতিকতা ও তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য অনেক তরুণের কাছে আশাবাদী সুর তৈরি করছে। কিছু স্থানীয় তরুণের মন্তব্য, “শিক্ষায়, নীতিতে ও নেতৃত্বগুণে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম এ অঞ্চলের তরুণদের অনুপ্রেরণার উৎস”, এই প্রজন্মের মানসিকতার ইঙ্গিত দেয়।

অপরদিকে, ঐতিহ্যগত পারিবারিক ও দলীয় আনুগত্য এখনও বিএনপির জন্য বড় শক্তি। বহু পরিবারেই প্রবীণ ভোটাররা বরাবরই বিএনপির পক্ষে ভোট দিয়ে এসেছেন এবং তারা স্বাভাবিকভাবেই সন্তান-নাতি-নাতনিদেরও সেই ধারায় রাখার চেষ্টা করছেন। খন্দকার আবু আশফাক এরই মধ্যে যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মীদের নিয়ে নতুন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছানোর কৌশল নিয়েছেন। তিনি তরুণদের কাছে স্থানীয় উন্নয়ন, চাকরি, শিক্ষা এবং গত এক দশকের বেশি সময়ের “গণতন্ত্র সংকট ও বেকারত্ব” প্রসঙ্গ তুলে ধরে পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছেন। তার উঠান বৈঠক ও পথসভায় তরুণদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যা বিএনপির জন্য ইতিবাচক সিগন্যাল।

একদিকে আদর্শগতভাবে ইসলামী মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে আগ্রহী এক ঝোঁক দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকেবহু তরুণ গণতন্ত্র, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও বৃহত্তর জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ বিবেচনা করে ধানের শীষের প্রতীকের দিকেও তাকিয়ে আছে। ফলেনতুন ভোটারদের ভোট শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উভয় পক্ষের জন্যই অনিশ্চিত ও টার্গেট গ্রুপ হিসেবে থাকবে বলেই মনে হচ্ছে।

ঢাকা-১ আসনের নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই স্থানীয়ভাবে হাইভোল্টেজ উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে দীর্ঘদিনের সংগঠক ও তৃণমূলভিত্তিক নেতা হিসেবে খন্দকার আবু আশফাক বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছেন। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষিত, তুলনামূলক নতুন কিন্তু দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম জামায়াতেরপক্ষথেকেনিজের রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।

নবাবগঞ্জের ঐতিহ্যগত বিএনপি ঘাঁটি, দোহার অংশের মিশ্র সমীকরণ, জামায়াতের নতুন রাজনৈতিক উপস্থিতি, তৃণমূল সংগঠন, ধর্মভিত্তিকভোট, প্রবাসী পরিবারের প্রভাব ও নতুন ভোটারদের মানসিকতা সবকিছু মিলিয়ে ঢাকা-১ আসনটি হয়ে উঠেছে একটি জটিল ও আকর্ষণীয় নির্বাচনী লড়াইয়ের মঞ্চ।

এই আসনের ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবেন, তা শুধু দোহার-নবাবগঞ্জ নয়, পুরো দেশের বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ ও ইসলামপন্থী রাজনীতির অবস্থান সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে। তাই ঢাকা-১ এখন শুধু একটি নির্বাচনী এলাকা নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির পালাবদল, মেরুকরণ ও নতুন প্রজন্মের ভোট আচরণ বোঝার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগার।


শুক্রবার ঢাকায় যেসব মার্কেট–জাদুঘর বন্ধ

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৮ ০৯:৩৪:৫৪
শুক্রবার ঢাকায় যেসব মার্কেট–জাদুঘর বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে শুক্রবার ছুটির দিনে অনেকেই পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে বাজার করতে বা ঘুরতে বের হন। তবে তীব্র যানজট পেরিয়ে গন্তব্যে গিয়ে যদি দেখা যায় দোকানপাট বা মার্কেট বন্ধ, তাহলে পুরো পরিকল্পনাই বিস্বাদ হয়ে যেতে পারে। নাগরিকদের এই ভোগান্তি এড়াতে শুক্রবার ঢাকায় কোন কোন মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকে সে বিষয়ে আগাম তথ্য জানা জরুরি। ঢাকার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি ও খুচরা মার্কেট শুক্রবার নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বন্ধ থাকে।

এর মধ্যে রয়েছে আজিমপুর সুপার মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার এলাকার পাইকারি দোকান, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট এবং দয়াগঞ্জ বাজার। এ ছাড়া ধূপখোলা মাঠ বাজার, চকবাজার, বাবুবাজার, নোয়াবাজার, কাপ্তান বাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ইসলামপুরের কাপড়ের দোকান, ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোলসেল মার্কেট, শারিফ ম্যানসন, ফুলবাড়িয়া মার্কেট এবং সান্দ্রা সুপার মার্কেটও শুক্রবার বন্ধ থাকে। বিশেষ করে ইসলামপুর ও চকবাজারসহ পুরান ঢাকার পাইকারি এলাকা উদ্দেশ্য করে যাত্রা করলে আগে থেকেই এই তথ্য জানা থাকলে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়ানো সম্ভব।

শুধু মার্কেট নয়, ঢাকার কয়েকটি দর্শনীয় স্থানও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বন্ধ থাকে। বিজয় সরণিতে অবস্থিত সামরিক জাদুঘর বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বন্ধ থাকে এবং অন্যান্য দিন এটি সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে। আগারগাঁওয়ের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরও বৃহস্পতি ও শুক্রবার বন্ধ থাকে। শনিবার থেকে বুধবার প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকে এবং জনপ্রতি প্রবেশমূল্য নির্ধারিত রয়েছে ৫ টাকা।

একইসঙ্গে শনিবার ও রবিবার সন্ধ্যায় টেলিস্কোপে আকাশ পর্যবেক্ষণের সুযোগও থাকে। শিশু একাডেমির জাদুঘর শুক্রবার ও শনিবার বন্ধ থাকে এবং রোববার থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। পরিবার নিয়ে ঘুরতে বের হওয়ার পরিকল্পনা করলে কিংবা শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক ভ্রমণের চিন্তা থাকলে দর্শনীয় স্থানগুলোর এই সময়সূচি আগে থেকেই মাথায় রাখা প্রয়োজন।

ঢাকায় শুক্রবার অনেক মার্কেট ও দর্শনীয় স্থাপনা বন্ধ থাকার কারণে বিকল্প এলাকায় বাড়তি ভিড় দেখা দিতে পারে। তাই যাত্রাপথ নির্ধারণের সময় প্রতিটি স্থানের খোলা ও বন্ধ থাকার দিন সম্পর্কে আগেই নিশ্চিত হওয়া উচিত। এটি শুধু সময় বাঁচায় না, পরিকল্পনাকেও সুশৃঙ্খল রাখে এবং যেকোনো ধরনের ভোগান্তি থেকে রক্ষা করে।

-রফিক


আজ ও শনিবার ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ 

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ১০:২৩:২৬
আজ ও শনিবার ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ 
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের কালীগঞ্জে জাতীয় গ্রিড লাইনের গুরুত্বপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে আজ বৃহস্পতিবার ও আগামী শনিবার দুই দিন ৯ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। গ্রিড অবকাঠামোর নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে এই পরিকল্পিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটবে বলে জানিয়েছে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি–১।

বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন কালীগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আক্তার হোসেন। তিনি জানান, ২৭ নভেম্বর ও ২৯ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলবে। এই সময়সীমায় কালীগঞ্জ, সেভেন রিংস ও জাংগালিয়া এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

যদিও সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট এড়াতে এবং গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে কালীগঞ্জ উপজেলা সদর, কালীগঞ্জ থানা এলাকা এবং প্রোপার ফিডার বিকল্পভাবে সচল রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ অফিস জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ দ্রুত ও নির্বিঘ্নে শেষ করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজ ভবিষ্যতে আরও স্থিতিশীল, নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়া নিশ্চিত করবে। এ কারণে গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন কর্মকর্তারা। একইসঙ্গে নির্ধারিত দুই দিনে গ্রাহকদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে, যাতে গ্রিড আপগ্রেডেশনের কাজ পরিকল্পনামাফিক সম্পন্ন করা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে জানান, দিনের কর্মঘণ্টায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট কিছুটা ঝামেলা তৈরি করবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে ভোল্টেজ স্থিতিশীলতা ও গ্রিড সেবার মান উন্নয়নের জন্য এই উদ্যোগ প্রয়োজনীয়।

-শরিফুল


মধ্যরাতে আবারও ভূমিকম্প!

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ১০:১২:০৩
মধ্যরাতে আবারও ভূমিকম্প!
ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ভূমিকম্পে আবারও কেঁপে উঠল কক্সবাজারের টেকনাফ। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাত ৩টা ২৯ মিনিটে অনুভূত এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪। টেকনাফ শহর থেকে প্রায় ১১৮ কিলোমিটার দূরে কম্পনটির উৎপত্তি হয় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম ভলকানো ডিসকভারি।

রাতের গভীর নীরবতায় হালকা ঝাঁকুনি অনুভূত হলেও কম্পনটি খুব স্বল্পমাত্রার হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ তা টের পাননি। ভলকানো ডিসকভারি ভূমিকম্পের গভীরতার তথ্য দিতে না পারলেও ইউরোপীয় সংস্থা ইএমএসসি জানিয়েছে, উৎপত্তিস্থল ছিল মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরে যা অগভীর ভূমিকম্পের অন্তর্ভুক্ত এবং সাধারণত দ্রুত অনুভূত হয়।

এর মাত্র কয়েক দিন আগেই, গত শুক্রবার ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ সারাদেশ কেঁপে ওঠে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম তীব্র এই কম্পনে আতঙ্কে মানুষ ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। রাজধানীর বহু ভবন দুলতে থাকায় মুহূর্তেই সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খল পরিবেশ। অনেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “এর আগে এমন ভয়ার্ত কম্পন কখনো অনুভব করিনি।”

ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তি ছিল নরসিংদীতে। এর ব্যাপ্তি ছিল এতটাই প্রবল যে সারা দেশে অন্তত ১০ জন নিহত এবং কয়েকশ মানুষ আহত হন। ভবনের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, সিঁড়িতে লোকজন পড়ে যাওয়া এবং আতঙ্কে ধাক্কাধাক্কির কারণে বহু মানুষ আহত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে বঙ্গোপসাগর এবং দেশের অভ্যন্তরে পরপর দুটি ভূমিকম্প অঞ্চলের ভূত্বকে চাপ সঞ্চয়ের ইঙ্গিত বহন করছে। বাংলাদেশ ‘ইন্ডিয়ান প্লেট’ এবং ‘ইউরেশিয়ান প্লেট’-এর মিলনবিন্দুর কাছে হওয়ায় এখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি উচ্চমাত্রার। সাম্প্রতিক এই দুই কম্পন আবারও সতর্কবার্তা প্রস্তুতি না নিলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে।

-রাফসান


যানজট এড়াতে দেখুন ঢাকায় কোন এলাকায় কী কর্মসূচি

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ০৮:৩৫:১৩
যানজট এড়াতে দেখুন ঢাকায় কোন এলাকায় কী কর্মসূচি
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীসহ সারাদেশে প্রতিদিন নানা রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক সংগঠনের কর্মসূচি পালিত হওয়ায় নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রায়ই স্থবির হয়ে পড়ে। কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ যাত্রীদের বিড়ম্বনা কমাতে দিনের শুরুতেই কোন এলাকায় কী কর্মসূচি আছে তা জানা জরুরি। আজ বৃহস্পতিবার ২৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকায় যে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলো অনুষ্ঠিত হবে, তার বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো।

বিএনপির দিনের কর্মসূচি

শহীদ ডা. শামসুল আলম মিলন দিবস উপলক্ষে আজ সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলন স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে বিএনপি। এরপর সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আলোচনা সভায় অংশ নেবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। দুপুর আড়াইটায় শাহাজাহানপুর মৈত্রী সংঘ থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের পক্ষে গণমিছিল বের হবে, যা রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহন চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে।

ডিএনসিসিতে গোলটেবিল বৈঠক

দুপুর দেড়টার দিকে গুলশান–২ এ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে বাড়িওয়ালা–ভাড়াটিয়ার অধিকার এবং বাড়িভাড়া নির্ধারণ–সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকার বাড়িওয়ালা এবং ভাড়াটিয়ারা অংশ নেবেন। নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনে ভাড়া–বিষয়ক নীতিমালা প্রভাব ফেলে বলে আলোচনাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ উপলক্ষে র‌্যালি

সকাল ৮টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হবে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি। র‌্যালিটি পরে শেরে বাংলা নগর বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার নেতৃত্ব দেবেন এই র‌্যালিতে।

জাতীয় শিক্ষা সেমিনার

আজ কামরাঙ্গীরচরে সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় শিক্ষা সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সারাদেশের শিক্ষা উন্নয়ন, মানোন্নয়ন এবং স্কুল–কলেজ পর্যায়ের নতুন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে।

গোলাপবাগে আন্তর্জাতিক ইসলামী মহাসম্মেলন

বিকেল ৫টায় রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে আন্তর্জাতিক ইসলামী মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অংশ নেবেন মিশর, তানজানিয়া, ইরান ও পাকিস্তানের খ্যাতিমান অতিথিরা। রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মির্জা আব্বাস, মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, নবী উল্লাহ নবী, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নূরুল হক নূর, জামায়াতের কবির আহমাদ, ইসলামী আন্দোলনের শাহ ইফতেখার তারিকসহ আরও অনেকে। বহু মানুষের অংশগ্রহণে এই অনুষ্ঠানের কারণে রাজধানীর দক্ষিণ অংশে তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।

বরিশালে উলামা–শিক্ষাবিদ–বুদ্ধিজীবী সম্মেলন

চরমোনাই ময়দানে সকাল সাড়ে ১০টায় দেশের শীর্ষ আলেম–ওলামা, শিক্ষাবিদ এবং বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সভাপতিত্ব করবেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। সারা দেশে ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রচারে এই সম্মেলন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামী

রাত ৮টায় পশ্চিম শেওড়া পাড়ায় ঢাকা–১৫ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর উদ্যোগে সুধী সমাবেশ হবে। প্রধান অতিথি থাকবেন জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান।

দিনের এসব কর্মসূচি রাজধানীর সড়কে স্বাভাবিক চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যাত্রীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে যাতায়াতের পথ নির্ধারণ করে নিলে যান্ত্রিক ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।


আজ যেসব এলাকায় দোকানপাট বন্ধ থাকবে

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ০৮:৩০:৪৯
আজ যেসব এলাকায় দোকানপাট বন্ধ থাকবে
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিনই হাজারো মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা, অফিস, ব্যক্তিগত কাজ কিংবা বিনোদনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মার্কেট এবং এলাকায় যান। তবে নির্ধারিত সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে কোনও মার্কেটে গিয়ে সেটি বন্ধ পেলে হতাশা যেমন বাড়ে, তেমনি নষ্ট হয় মূল্যবান সময়। সেই ঝামেলা থেকে রেহাই দিতে বৃহস্পতিবার কোন কোন এলাকায় দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ থাকবে, তা আগেভাগে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দোকানপাট পুরোদিনই বন্ধ থাকবে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে মগবাজার, বেইলি রোড, সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগের একাংশ, শাজাহানপুর, গাবতলী, মিরপুর–১, মিরপুর স্টেডিয়াম এলাকা, চিড়িয়াখানার আশপাশ, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, মোহাম্মাদপুর, আদাবর, শ্যামলী, আসাদগেট, ইস্কাটন, শান্তিনগর, শহীদবাগ, শান্তিবাগ, ফকিরারপুল, পল্টন, মতিঝিল, টিকাটুলি, আরামবাগ, কাকরাইল, বিজয়নগর, সেগুনবাগিচা, হাইকোর্ট ভবন এলাকা, রমনা শিশু পার্ক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা।

এছাড়া রাজধানীর জনপ্রিয় এবং ব্যস্ততম একাধিক মার্কেটও আজ বন্ধ রাখা হবে। এর মধ্যে রয়েছে শাহ্ আলী সুপার মার্কেট, মিরপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, আনারকলি মার্কেট, আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স, কর্নফুলি গার্ডেন সিটি, কনকর্ড টুইন টাওয়ার, ইস্টার্ন প্লাস, সিটি হার্ট, মোহাম্মাদপুর টাউন হল মার্কেট, কৃষি মার্কেট, আড়ং, বিআরটিসি মার্কেট, শ্যামলী হল মার্কেট, মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেট, মাজার ক-অপারেটিভ মার্কেট, মুক্ত বাংলা শপিং কমপ্লেক্স, জোনাকি সুপার মার্কেট, গাজী ভবন, পল্টন সুপার মার্কেট, স্টেডিয়াম মার্কেট–১ ও ২, গুলিস্তান কমপ্লেক্স, রমনা ভবন, খদ্দর মার্কেট, পীর ইয়ামেনি মার্কেট, বাইতুল মোকাররম মার্কেট, আজিজ কো–অপারেটিভ মার্কেট এবং সাকুরা মার্কেট।

সাপ্তাহিক ছুটির এই সমন্বিত তালিকা রাজধানীবাসীকে চলাচল পরিকল্পনা করতে সাহায্য করবে এবং অপ্রত্যাশিত বিড়ম্বনা থেকে রক্ষা করবে।

-রাফসান


হিমেল হাওয়া আর কুয়াশায় জমে উঠছে পঞ্চগড়

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ০৮:০৮:১৬
হিমেল হাওয়া আর কুয়াশায় জমে উঠছে পঞ্চগড়
ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ে শীতের প্রকোপ প্রতিদিনই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। উত্তরের সীমান্তবর্তী এই জেলায় ভোরের হিমেল হাওয়া, কুয়াশা ও উচ্চ আর্দ্রতা মিলিয়ে শীতের অনুভূতি যেন নভেম্বরের শেষেই পৌষের কাঁপন ছড়িয়ে দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার ২৭ নভেম্বর সকালে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে রেকর্ড করা হয়েছে সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। যদিও এটি গতকালের তুলনায় সামান্য বেশি, তবুও শীতের তীব্রতায় কোনো কমতি দেখা যায়নি।

সকাল ৬টার পর বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল আশঙ্কাজনকভাবে বেশি ৯৭ শতাংশ। গভীর রাতে এবং ভোরবেলার কনকনে ঠান্ডা বাতাস মানুষের ভোগান্তি বাড়ালেও সকাল গড়াতে আকাশে দেখা মিলেছে হালকা রোদের। তবে রোদও শীতের ধার কমাতে পারেনি।

জেলায় বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রার এই ওঠানামা, আর্দ্রতার মাত্রা এবং উত্তরের বাতাস মিলিয়ে শীতের চাপ দ্রুত বাড়ছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের আবহাওয়াবিদ জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, শীত ধীরে কিন্তু স্থির গতিতে নামছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই জেলায় শীতের তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। তিনি আরও জানান, তাপমাত্রা কমে গেলে মৃদু থেকে মাঝারি শৈতপ্রবাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। ফলে পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলে শীতজনিত রোগ ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

-রফিক

পাঠকের মতামত:

ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে রাষ্ট্রকে অবশ্যই তার সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা পুনরুদ্ধার করতে হবে

ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে রাষ্ট্রকে অবশ্যই তার সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা পুনরুদ্ধার করতে হবে

রাষ্ট্রের ধারণাটি একসময় কেবল প্রশাসনিক ক্ষমতা, আইনের শাসন এবং নিরাপত্তা প্রদানের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। কিন্তু আধুনিক বিশ্বে রাষ্ট্রের ভূমিকা এখন... বিস্তারিত