ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট
ধানের শীষের সান্টু নাকি জামায়াতের মান্নান বরিশাল ২ আসনে কার পাল্লা ভারী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বরিশাল ২ বা উজিরপুর বানারীপাড়া আসন। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এই আসনে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু এবং জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয় প্রার্থী মাস্টার আব্দুল মান্নান। দুই হেভিওয়েট নেতার এই লড়াইয়ে ভোটের মাঠ এখন পুরোপুরি সরগরম।
মাঠের রাজনীতিতে সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু বেশ প্রভাবশালী ও অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি একাধিকবার এই এলাকা থেকে নির্বাচন করেছেন এবং বিএনপির দুর্দিনে নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন সান্টুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং উজিরপুর ও বানারীপাড়ার প্রতিটি ইউনিয়নে তাঁর ব্যক্তিগত পরিচিতি এবার ধানের শীষকে বিজয়ী করতে বড় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা সাধারণ ভোটারদের আস্থা অর্জনে সহায়ক হচ্ছে বলে মনে করছেন সমর্থকরা।
অন্যদিকে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাস্টার আব্দুল মান্নানও ছেড়ে কথা বলছেন না। পেশায় শিক্ষক হওয়ায় এলাকায় তাঁর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ও ক্লিন ইমেজ রয়েছে। মাস্টার আব্দুল মান্নান জামায়াতের সুশৃঙ্খল কর্মী বাহিনী এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ ভোটারদের সমর্থন নিয়ে বিএনপির প্রার্থীকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন। জামায়াতের নেতাকর্মীরা মনে করছেন গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে সততা ও যোগ্যতার বিচারে সাধারণ মানুষ এবার মাস্টার মান্নানকেই বেছে নেবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন বরিশাল ২ আসনে এবার লড়াই হবে মূলত অভিজ্ঞতা বনাম স্বচ্ছ ভাবমূর্তির। সরদার সান্টু যেখানে তাঁর রাজনৈতিক কৌশলের ওপর নির্ভর করছেন সেখানে মাস্টার মান্নান নির্ভর করছেন তাঁর সামাজিক অবস্থান ও জামায়াতের নীরব ভোট ব্যাংকের ওপর। উজিরপুর ও বানারীপাড়ার সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্যের পরীক্ষায় এই দুই নেতার লড়াই শেষ পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে সরদার সান্টু বনাম মাস্টার আব্দুল মান্নানের এই দ্বৈরথ ততই জমে উঠছে।
তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে বিদ্রোহী দমনে বড় জয়
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থী দমনে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিচ্ছেন। বিশেষ করে জোট ও শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে দলীয় ঐক্য বজায় রাখাই এখন বিএনপির হাইকমান্ডের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
নির্বাচনী পরিস্থিতির উত্তাপের মধ্যে প্রতিদিন রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিভিন্ন জেলার বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কথা বলছেন তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিদ্রোহীদের সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছেন। চেয়ারম্যান আশ্বাস দিয়েছেন যে, নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে পারে, তবে ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। তারেক রহমানের এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইতোমধ্যে অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন, যা দল ও সমমনা জোটের প্রার্থীদের মধ্যে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।
বিএনপি তাদের সমমনা জোটের জন্য যে ১৭টি আসন ছেড়ে দিয়েছে, সেগুলোতে শরিক দলের শীর্ষ নেতারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই তালিকায় রয়েছেন
বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না।
ভোলা-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ।
সিলেট-৫ আসনে জমিয়তের মাওলানা মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ফারুক।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব।
নীলফামারী-১ আসনে মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনির হোসেন কাসেমী।
যশোর-৫ আসনে জমিয়তের (অনিবন্ধিত) রশিদ বিন ওয়াক্কাস।
নড়াইল-২ আসনে এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।
পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খান।
ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক।
ঢাকা-১৩ আসনে এনডিএমের ববি হাজ্জাজ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি।
লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম।
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির সৈয়দ এহসানুল হুদা।
কুমিল্লা-৭ আসনে এলডিপির ড. রেদোয়ান আহমদ।
হবিগঞ্জ-১ আসনে ড. রেজা কিবরিয়া।
উল্লেখ্য যে, শরিক নেতাদের মধ্যে ড. রেদোয়ান আহমদ, ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, রাশেদ খান, শাহাদাত হোসেন সেলিম, এহসানুল হুদা, রেজা কিবরিয়া ও ববি হাজ্জাজ নিজেদের দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকেই নির্বাচনে লড়ছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সূত্র জানিয়েছে, দেশের ২৯৮টি আসনের মধ্যে অন্তত ৯৩টি আসনে দলের নেতারা বিদ্রোহী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় ইতোমধ্যে ১০ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা আহ্বান জানিয়েছি দলের সিদ্ধান্তের প্রতি যেন তারা শ্রদ্ধাশীল হন। আশা করছি ২০ জানুয়ারির মধ্যেই পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হবে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে জোনায়েদ সাকির বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া দলের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল খালেককে ঢাকায় ডেকে কথা বলেন তারেক রহমান। বৈঠকের পর আবদুল খালেক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে বলেন, “চেয়ারম্যান যখন ডেকেছেন, তাঁকে সম্মান করতেই হবে।” একইভাবে নাসিরনগর আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানও তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলার পর ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
তবে ঢাকা-১২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, পটুয়াখালী-৩ এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ সহ শতাধিক আসনে এখনো দলের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন। জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও বাম জোটের প্রার্থীদের পাশাপাশি দলের এই বিদ্রোহীদের সামাল দেওয়া এখন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তারেক রহমানের এই ব্যক্তিগত তৎপরতা শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে কতটুকু সুফল আনে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
গণভোটে ‘না’ ভোট মানেই গণ-অভ্যুত্থানের ব্যর্থতা: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নেওয়া দেশের সকল রাজনৈতিক দলের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যদি এই গণভোটে ‘না’ জয়যুক্ত হয়, তবে চব্বিশের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হবে।
আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গণভোটের প্রচারণার লক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ ‘ক্যারাভ্যান’ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম জানান, তার দল এনসিপি এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে এবং সাধারণ জনগণকেও একই আহ্বান জানাচ্ছে। জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন
“আপনাদের যদি আমাদের (এনসিপি) পছন্দ না-ও হয়, কিংবা ভবিষ্যতে আমাদের ভোট না-ও দেন, তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অন্তত ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে আপনাদের ভোট দেওয়া উচিত।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, দল-মত-নির্বিশেষে সবার দায়িত্ব হলো গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া। কারণ ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেই কেবল সংস্কার প্রক্রিয়া সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে ফ্যাসিবাদী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আন্দোলন হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন শুরু হবে। কিন্তু যদি ফলাফল ‘না’-এর পক্ষে যায়, তবে দেশ আবার সেই পুরনো ব্যবস্থার মধ্যেই আটকে থাকবে। এর অর্থ দাঁড়াবে—ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়া।
গণভোটের প্রচারণাকে সব রাজনৈতিক দলের সামগ্রিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে এনসিপি আহ্বায়ক কিছু দলের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দল সরাসরি না বললেও ইনিয়ে-বিনিয়ে গণভোটে ‘না’-এর পক্ষে কথা বলা শুরু করেছে। এই ধরনের অবস্থান গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তিনি মনে করেন।
সবশেষে তিনি দেশবাসীকে দেশের স্বার্থে এবং একটি নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কার প্রক্রিয়াকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা ও কামালের মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল–এর বিরুদ্ধে দেওয়া দণ্ডাদেশের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে এই ঐতিহাসিক রায়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়।
প্রকাশিত রায়টি মোট ৪৫৭ পৃষ্ঠার, যেখানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন রাষ্ট্রীয় শক্তির ব্যবহার, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নিপীড়ন এবং সংগঠিত সহিংসতার বিস্তারিত বিবরণ ও বিচারিক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই রায়টি বাংলাদেশের বিচার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে।
এর আগে গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল একটি অভিযোগে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। একই সঙ্গে পৃথক আরেকটি অভিযোগে তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, অভিযোগ প্রমাণে প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ সংঘটনের বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করেছে।
আইন সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মাধ্যমে মামলার বিচারিক যুক্তি, সাক্ষ্য মূল্যায়ন এবং দণ্ড নির্ধারণের আইনি ভিত্তি জনসমক্ষে স্পষ্ট হলো। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের আলোকে অপরাধের শ্রেণিকরণ ও দায় নির্ধারণের বিষয়টি রায়ে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রায় প্রকাশের উদ্দেশ্য হলো বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দেশি-বিদেশি গবেষক, আইনজ্ঞ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর জন্য প্রামাণ্য নথি উন্মুক্ত করা। তারা মনে করছেন, এই রায় ভবিষ্যতে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সংক্রান্ত আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
-রফিক
সময় বদলেছে, নাগরিক প্রত্যাশাও বেড়েছে: আমীর খসরু
রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের দায়িত্ব কোনো বাইরের শক্তির নয়, বরং রাজনীতিবিদদেরই বহন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তার মতে, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আস্থা অর্জন এখন একটি মৌলিক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, যা দায়িত্বশীল আচরণ ও বিশ্বাসযোগ্য কর্মকাণ্ড ছাড়া সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা বহুগুণে বেড়েছে এবং সেই উচ্চমাত্রার প্রত্যাশা ধারণ করার সক্ষমতা রাজনীতিবিদদের মধ্যেই থাকতে হবে। কেবল বক্তব্য নয়, বাস্তব কর্মসূচি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্য দিয়েই রাজনীতিবিদদের জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারটিতে রাজনীতি, নির্বাচন ব্যবস্থা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে আলোচনা হয়, যেখানে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনগণের ভূমিকা ও প্রত্যাশার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নাগরিকদের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। ফলে রাজনীতিবিদদের সিদ্ধান্ত ও আচরণ এখন সরাসরি জনমানুষের বিচার-বিশ্লেষণের আওতায় চলে এসেছে। এই বাস্তবতায় পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি দিয়ে নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয় বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
তিনি আরও বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা জরুরি। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে জনগণের হতাশা আরও বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সেমিনারে আলোচকরা মনে করেন, ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬’ কেবল একটি নির্বাচন নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংস্কার, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এবং রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিক আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষাবিদরা। তারা বলেন, রাজনীতিবিদদের প্রতি আস্থা সংকটের পেছনে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, জবাবদিহির অভাব এবং রাজনৈতিক সহনশীলতার ঘাটতি কাজ করেছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকেই আগে নিজেদের সংস্কার করতে হবে।
-শরিফুল
সাবেক এমপি মমতাজ বেগমের বিপুল সম্পদ জব্দের আদেশ
সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মমতাজ বেগম–এর নামে থাকা বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার মালিকানাধীন মোট ৪৭৪ শতাংশ জমি এবং ঢাকাসহ মানিকগঞ্জে অবস্থিত তিনটি আবাসিক ভবন আদালতের মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুদকের পক্ষ থেকে দাখিল করা আবেদনের ভিত্তিতেই এই সম্পত্তি জব্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আদালতের আদেশে যে সম্পদগুলো জব্দ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ঢাকার মহাখালী ডিওএইচএস এলাকায় প্রায় ২ হাজার ৫০০ বর্গফুট জমির ওপর নির্মিত একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন। পাশাপাশি মানিকগঞ্জে অবস্থিত একটি দোতলা বাড়ি এবং মানিকগঞ্জ সদর এলাকায় ২ হাজার ১০৯ বর্গফুট জমির ওপর নির্মিত একটি চারতলা ভবনও জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব সম্পদের বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য এবং তদন্তের স্বার্থে এগুলো আদালতের হেফাজতে রাখা জরুরি বলে বিবেচিত হয়েছে।
এই সম্পত্তিগুলো জব্দের আবেদন করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে একটি বিশেষ অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্তের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা এবং স্থাবর সম্পদ জব্দ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে, যাতে তদন্ত চলাকালে কোনো সম্পদ হস্তান্তর বা গোপন করার সুযোগ না থাকে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত মামলায় অনুসন্ধান চলাকালে আদালতের মাধ্যমে সম্পদ জব্দ একটি প্রচলিত ও গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির আর্থিক লেনদেনের পূর্ণ চিত্র উদ্ঘাটন এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা সহজ হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ মে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন মমতাজ বেগম। গ্রেফতারের পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আদালতের সর্বশেষ এই আদেশ মামলার অনুসন্ধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
-রাফসান
কোনো বোঝাপড়ার নির্বাচন আমরা করতে চাই না: ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত নির্বাচনের মতো কোনো নির্বাচন তারা আর দেখতে চান না এবং কোনো ধরনের ‘বোঝাপড়ার নির্বাচন’ তারা করবেন না। গতকাল রাতে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও সিভিল ওয়ার চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “চব্বিশের জটিল দিনগুলোতে সেনাবাহিনীর দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে জাতি সিভিল ওয়ার (গৃহযুদ্ধ) থেকে রক্ষা পেয়েছে—এটি আমার এবং আমার দলের পারসেপশন। আগস্টের ৩, ৪ এবং ৫ তারিখে আপনারা যে ভূমিকা রেখেছেন, সেটা না রাখলে আজকে বাংলাদেশে এখানে দাঁড়িয়ে আমি কথা বলতে পারতাম না।”
‘মাস্টারমাইন্ড’ বিতর্ক বিপ্লবের কৃতিত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই পরিবর্তন বা বিপ্লবের কোনো ক্রেডিট তারা দল হিসেবে দাবি করেননি। সরকারপ্রধান বিদেশে থাকা একজনকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলায় আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমিই প্রথম ব্যক্তি যে বলেছিলাম—এখানে কোনো ব্যক্তি মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না। যদি এক ব্যক্তিকে মাস্টারমাইন্ড করা হয়, তবে বাকি সবাইকে আন্ডারমাইন্ড করা হবে। এখানে বাংলাদেশের বিপ্লবী জনগণই হলো সম্মিলিত মাস্টারমাইন্ড।”
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও পাকিস্তান আমল তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯০ বছরের গোলামির পর পাকিস্তান ও ভারত আলাদা রাষ্ট্র হলেও পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে ইনসাফ করেনি। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধেই সত্তরের নির্বাচনে জনগণ রায় দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম হয়।
নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক অবস্থান গতকাল রাজধানীর বসুন্ধরায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভারস আইজাবসের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা শুধু চাই নির্বাচনটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হোক। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যদি অন্য কোনো দলকে পছন্দ করে, আমরা তাদের সহযোগিতা করব। দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং সংস্কারের পক্ষে যারা থাকবে, জামায়াত তাদের সঙ্গেই থাকবে।” তিনি আরও বলেন, দেশের মা-বোনেরাও নির্বাচনে জামায়াতকে বেছে নেবে বলে তাদের শতভাগ আস্থা রয়েছে।
চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ একই দিনে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জামায়াত আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। রাজধানীর বসুন্ধরায় আমিরের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে একটি প্রতিনিধিদলও এ সময় উপস্থিত ছিল।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।
জোট গঠনে অনেক ছাড় দিয়েছে এনসিপি লক্ষ্য এবার সরকার গঠন: আসিফ মাহমুদ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের রণকৌশল চূড়ান্ত করেছে। আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে এনসিপির মুখপাত্র এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান যে, তাঁর দল এবার দেশের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, এবারের জোটটি ইনশাআল্লাহ সরকার গঠন করবে। জোটের স্থায়িত্ব এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে এনসিপি অনেক ছাড় দিয়েছে এবং অন্যান্য শরিক দলগুলোর মধ্যেও একই ধরণের ইতিবাচক মানসিকতা থাকায় একটি শক্তিশালী জোট গঠন সম্ভব হয়েছে।
আসিফ মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে দলের অভ্যন্তরীণ সংহতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। সম্প্রতি যারা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদেরকে দলের ‘অ্যাসেট’ বা সম্পদ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন যে, তাঁদের পদত্যাগপত্র এখনো গ্রহণ করা হয়নি। তিনি বিশ্বাস করেন যে, এখনো সবার একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে এবং ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে। দলের এই নমনীয় মনোভাব নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
জোটের প্রকৃতি নিয়ে আসিফ মাহমুদ একটি স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বর্তমান জোটটি কোনো ‘আদর্শিক জোট’ নয় বরং এটি একটি ‘স্ট্রেটেজিক’ বা কৌশলী জোট। নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি কার্যকর সরকার উপহার দিতেই এই ধরণের কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে এবং এনসিপি এই পরিবর্তনের মূল কারিগর হতে চায় বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিজয় আমাদের হয়ে গেছে, এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা : নুরুল নুর
পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর তাঁর নির্বাচনী এলাকায় এক আবেগঘন ও বলিষ্ঠ বক্তব্য দিয়েছেন। সোমবার রাতে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামে একটি ওরস মাহফিলে যোগ দিয়ে তিনি বলেন যে এলাকার মানুষের সমর্থন দেখে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে বিজয় এখন কেবল সময়ের ব্যাপার এবং এটি এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতা। তিনি দশমিনা ও গলাচিপার মানুষের পাশে থেকে তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
নূর তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন যে তিনি যেমন ওয়াজ মাহফিলে যান তেমনই ওরস মাহফিলে আসতে পেরে গর্বিত। বাউল সংগঠনসহ সব ধরণের সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নিজস্ব স্বাধীনতা থাকবে বলে তিনি নিশ্চয়তা দেন। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে কারও ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠান ভেঙে দেওয়ার মতো ধৃষ্টতা বা হামলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিশেষ করে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিয়ে নূর বলেন যে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো ব্যক্তি বা তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হবে না এবং তাঁদের কাছ থেকে কোনো চাঁদা নেওয়া যাবে না।
নির্বাচনী এলাকা দশমিনা ও গলাচিপাকে একটি আদর্শ 'রোল মডেল' হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন নূর। তাঁর স্বপ্ন এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করা যেখানে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের কর্মীরা ভেদাভেদ ভুলে একই সামাজিক অনুষ্ঠানে কুশল বিনিময় করবে। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কারও ওপর হামলা বা জুলুম করা হবে না বরং একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ কায়েম করা হবে। জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে নূর জানান যে তিনি আগামীতে এলাকার প্রতিটি মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকবেন এবং পটুয়াখালীকে রাজনৈতিক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরবেন।
ক্রিকেটারকে অপমান মানেই দেশকে অপমান: মির্জা ফখরুল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন, দেশের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা মানে শুধু ব্যক্তিগত অসম্মান নয়, বরং পুরো জাতির মর্যাদায় আঘাত হানা। সোমবার ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই বক্তব্য দেন।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ থেকে বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার **মোস্তাফিজুর রহমান**কে দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ক্রিকেটের সঙ্গে দেশের সম্মান অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। খেলোয়াড়দের প্রতি অসম্মান দেখানো হলে তার প্রতিফলন আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের ভাবমূর্তিতেও পড়ে।
তিনি জানান, ক্রিকেট বোর্ডের সার্বিক অবস্থান ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি নীতিগতভাবে একমত। তবে এ ধরনের ছোটখাটো জটিলতা আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা সম্ভব ছিল বলে মত দেন। তাঁর মতে, ক্রীড়াঙ্গনের ইস্যুতে সংযম ও কূটনৈতিক বুদ্ধিমত্তা প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, ভারত সরকারের অনুমোদনের পর আইপিএলের নিলামে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেই নিলাম থেকেই প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে ভারতের কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর চাপের মুখে এবং বিসিসিআইয়ের নির্দেশনায় পরবর্তীতে তাকে দল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনার পর ভারত সফরে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সংস্থাটি বিষয়টি **আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল**কে অবহিত করে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে। বিকল্প হিসেবে সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ জানানো হলেও এ বিষয়ে এখনো আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
-রাফসান
পাঠকের মতামত:
- প্রথম বিয়ে জেফারের, দ্বিতীয়বার সংসার রাফসানের
- এক দিনে ৫ কোম্পানি, ডিএসই কারখানা পরিদর্শনে কড়া বার্তা
- কোন ফান্ডে কত টাকা ন্যাভ: এক নজরে সম্পূর্ণ চিত্র
- শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সুখবর দিল ফরচুন শুজ
- আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশ
- কোহিনূর কেমিক্যালসের বোনাস ও নগদ লভ্যাংশ বিতরণ
- জেফার বললেন ‘জানি না’, অথচ আমিনবাজারে চলছে বিয়ের রাজকীয় প্রস্তুতি!
- মন্নো অ্যাগ্রোর নগদ লভ্যাংশ বিতরণ
- প্রবাসী'র পক্ষে ব্যারিস্টার নাজির ও মীর্জা আসহাব এর বিমান ও পর্যটন সচিব ও উপদেষ্টার সাথে বৈঠক
- আকাশ থেকে আছড়ে পড়ল বিশালাকার লোহা: থাইল্যান্ডে ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যুমিছিল
- কিডনি সুরক্ষায় ভিটামিন ‘সি’ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে মানতে হবে বিশেষ সতর্কতা
- মুদ্রাস্ফীতির কবলে ইরান: ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে
- হোটেল বা ট্রায়াল রুমে লুকানো ক্যামেরা চেনার ৫টি জাদুকরী কৌশল
- বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে ঢাকায় ব্রাজিল কিংবদন্তি গিলবার্তো সিলভা
- ওষুধের বাজারে উত্তাপ: কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণনে লাগাম টানছে সরকার
- স্মার্টফোন এখন আরও হাতের নাগালে: ৪০ হাজার টাকার ফোনে ছাড় ৮ হাজার
- বিসিবি-আইসিসি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়,কী ঘটেছিল সেদিন
- স্বর্ণের বাজারে অগ্নিমূল্য: রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় দাম, দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা
- টিভিতে আজকের খেলা: বিগ ব্যাশ থেকে বুন্দেসলিগা, চোখ থাকবে যেখানে
- তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে বিদ্রোহী দমনে বড় জয়
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- সংকুচিত হয়েছিল পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র: ২০২৪-এর সৌর ঝড় নিয়ে গবেষণায় উদ্বেগ
- শীতকালীন সবজিতে নতুন স্বাদ: জেনে নিন বাঁধাকপি ভর্তার সহজ রেসিপি
- আবারও দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস
- ৫০তম বিসিএস পরীক্ষার্থীদের মানতে হবে যেসব নিয়ম
- ১৫ মেগাসিটির সফর শেষে ঢাকায় আসছে ফিফা বিশ্বকাপের স্বর্ণালি ট্রফি
- ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সেরা ৪টি তেল
- ৫ কেজি মটরশুঁটি ছাড়ানো যাবে মাত্র ৫ মিনিটে! জেনে নিন কার্যকরী পদ্ধতি
- মোবাইল ফোন গ্রাহকদের বিটিআরসির বিশেষ সতর্কবার্তা
- বাংলাদেশ-ভারত সামরিক সম্পর্কে ফাটল নেই, সব যোগাযোগের পথ খোলা: নয়াদিল্লি
- অর্থনৈতিক সংকট থেকে রাজপথের জনসমুদ্র: ইরানে কেন থামছে না বিক্ষোভ?
- নানিয়ারচর প্রেস ক্লাবের উন্নয়নে চেয়ার-টেবিল প্রদান করেছে নানিয়ারচর জোন
- গণভোটে ‘না’ ভোট মানেই গণ-অভ্যুত্থানের ব্যর্থতা: নাহিদ ইসলাম
- ভালুকায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল
- বিসিবি ও আইসিসি বৈঠক: বিশ্বকাপে ভারত সফর নিয়ে কাটছে না জটিলতা
- শেখ হাসিনা ও কামালের মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
- ডিএসই মেইন বোর্ডে ভারসাম্যপূর্ণ টার্নওভার
- ১৩ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ডিএসইতে আজকের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ডিএসইতে আজকের দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
- সরকারি কর্মচারীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা, কোন গ্রেডে কত
- সময় বদলেছে, নাগরিক প্রত্যাশাও বেড়েছে: আমীর খসরু
- সাবেক এমপি মমতাজ বেগমের বিপুল সম্পদ জব্দের আদেশ
- স্বৈরাচার ঠেকাতে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার সুপারিশ: আলী রীয়াজ
- আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশ
- ভারতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে আইসিসির উদ্বেগ, পাঠানো হলো চিঠি
- ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত: আব্বাস আরাগচি
- এসএসসি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন, চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ
- ৮ জানুয়ারি ডিএসই মেইন বোর্ডের লেনদেন চিত্র
- এক চড়, দশ হাজার টাকা, আর চিরকালের নত মেরুদণ্ড
- বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ
- ওষুধের দরে বড় চমক! এবার ২৯৫টি ওষুধের দাম বেঁধে দিল অন্তর্বর্তী সরকার
- ডলারের আধিপত্য ও তেলের নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্পের শুল্কের রাজনীতিতে কাঁপছে বিশ্ববাজার
- ডিভিডেন্ড পরিশোধে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তিন প্রতিষ্ঠানের
- শীতে এলপিজির হাহাকার রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল সরকার
- আজ ঢাকায় বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিন প্রস্তাব
- প্রবাসী আয়ের শক্তিতে সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশ: শীর্ষ ১০ দেশের তালিকা প্রকাশ
- কোরআন ও হাদিসে জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত
- দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মাউশির চিঠি, নেপথ্যে কী
- আজকের আবহাওয়া আপডেট: কোথায় কতটা শীত








