সেনাকুঞ্জে ড. ইউনূস: “শান্তির দেশ হলেও হুমকি ঠেকাতে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে”

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে শুক্রবার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, যেকোনো বহিঃশত্রুর আগ্রাসী আক্রমণ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সকালে ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এবং ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করে বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী অতীতের মতোই জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে এসেছে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের চলমান উদ্যোগেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপ্রিয় জাতি, তবে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রস্তুত থাকা অপরিহার্য। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, আনন্দময় ও উৎসবমুখর করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে চেষ্টা চালাতে হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ সুদৃঢ় হবে এবং এ প্রক্রিয়ায় সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিরক্ষা উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা জানান, ফ্যাসিস্ট শাসনামলে সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমানে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি জানান, বর্তমানে ১০টি মিশনে বাংলাদেশি সেনা সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। নারী শান্তিরক্ষী প্রেরণে বাংলাদেশ বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে এবং কাতার বাংলাদেশ থেকে শান্তিরক্ষী সদস্য গ্রহণ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বরের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এ দিনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ একত্রে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণ শুরু করেছিলেন। তিনি শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে যুদ্ধ পরিচালনা, নৌকমান্ডোদের ‘অপারেশন জ্যাকপট’, কিলোফ্লাইটের সফল বায়ু অভিযান—সবই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে আছে।
তরুণদের দেশগঠনে ভূমিকা সম্পর্কে ড. ইউনূস বলেন, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে বিশ্বমানের অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে হবে। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগে অর্জিত ২০২৪ সালের পরিবর্তনকে কাজে লাগিয়ে নতুন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টা অনুষ্ঠানে ঘোষণা দেন, মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ ও ছাত্র-জনতার প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থেকে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক দৃষ্টান্তে পরিণত করাই হবে ভবিষ্যতের লক্ষ্য।
জনবান্ধব পুলিশ গড়তে উপদেষ্টা পরিষদের বড় সিদ্ধান্ত
পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার ৪ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এদিন বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
রিজওয়ানা হাসান জানান পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি পুলিশ কমিশন গঠন করার অধ্যাদেশটি পাস করা হয়েছে। এই কমিশনের প্রধান থাকবেন বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক। সদস্যদের যোগ্যতার বিষয়ে তিনি জানান জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কাজ করেছেন এমন গ্রেড ওয়ানের নিচে নন এমন কোনো সরকারি কর্মকর্তা এবং অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক গ্রেড ওয়ানের নিচে নন এমন কোনো অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমিশনের সদস্য হবেন। এছাড়া কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক যিনি কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত হতে পারেন এবং মানবাধিকার ও সুশাসন বিষয়ে কাজ করেছেন এমন অন্তত ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তি এই কমিশনের সদস্য হিসেবে থাকবেন।
এই পুলিশ কমিশন গঠনের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন পুলিশকে জনবান্ধব ও জনমুখী করাই এর লক্ষ্য। এই কমিশন সরকারের সঙ্গে মিলে কাজ করবে এবং পুলিশ যেন প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে পারে সেই ব্যাপারে কী কী করণীয় সে বিষয়ে সরকারকে সুপারিশ প্রদান করবে। পুলিশ যাতে মানবাধিকার সংবেদনশীল হয় এবং পুলিশের আধুনিকায়ন কোথায় কোথায় দরকার বা কী ধরনের প্রশিক্ষণ দরকার সেগুলো তারা চিহ্নিত করবে।
কমিশনের কার্যপরিধি সম্পর্কে তিনি আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের কথা উল্লেখ করেন। প্রথমত নাগরিকদের যে অভিযোগগুলো থাকবে পুলিশের ব্যাপারে সেগুলোর তদন্ত ও নিষ্পত্তি করা। দ্বিতীয়ত পেশাগত বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের যদি কোনো অভিযোগ থাকে সেগুলোরও নিষ্পত্তি করা হবে। রিজওয়ানা হাসান বলেন এটাই হচ্ছে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশের মূল ফিচার। কমিশনের নির্ধারিত কাজের মধ্যে আরও রয়েছে পুলিশ কার্যক্রমে দক্ষতা ও উৎকর্ষ আনয়ন এবং শৃঙ্খলা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা। এছাড়া পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি তথ্য প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও কল্যাণমূলক ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে সরকারকে সুপারিশ দেওয়া এবং পুলিশ সংক্রান্ত আইন গবেষণা করাও এই কমিশনের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদনে বর্তমান পুলিশ প্রধানের নাম
বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত বর্বরতম হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে দায়ী ব্যক্তিদের তালিকায় নাম আসায় বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক বা আইজিপি বাহারুল আলমকে অপসারণ করতে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৪ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব স্বরাষ্ট্র সচিব জনপ্রশাসন সচিব ও আইন সচিবকে এই নোটিশ পাঠিয়েছেন।
নোটিশে বলা হয়েছে নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আইজিপি বাহারুল আলমকে অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো আইনজীবীরা হলেন অ্যাডভোকেট মো. আব্দুস সামাদ অ্যাডভোকেট শাহিন হোসেন ও অ্যাডভোকেট মো. আতিকুর রহমান।
উল্লেখ্য বিডিআর হত্যাকাণ্ড তদন্তে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলমসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার নাম এসেছে। স্পর্শকাতর ওই প্রতিবেদনে আইজিপির নাম আসার পর থেকেই প্রশাসনের ভেতরে নানা আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে।
প্রতিবেদনে আইজিপির বিরুদ্ধে বেশ কিছু নেতিবাচক তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে পুলিশের বিশেষ শাখায় বা এসবিতে দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠে এসেছে বাহারুল আলমের বিরুদ্ধে। এই অবস্থায় তাঁর ভাগ্যে কী হতে পারে তা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে এখন চলছে নানা জল্পনা কল্পনা।
অ্যাপের মাধ্যমে সাড়া মিলছে ব্যাপক, প্রবাসীদের ভোটের পরিসংখ্যানে পুরুষের আধিপত্য
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে এখন পর্যন্ত এক লাখ ৬৮ হাজারেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন। নির্বাচন কমিশনের বা ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার ৪ ডিসেম্বর সকাল ৯টা পর্যন্ত মোট এক লাখ ৬৮ হাজার ৩৩ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। নিবন্ধনকারীদের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এদের মধ্যে এক লাখ ৪৯ হাজার ৮৮৪ জন পুরুষ ভোটার এবং ১৮ হাজার ১৪৯ জন নারী ভোটার রয়েছেন।
প্রবাসীদের আগ্রহ বিবেচনায় আগামী ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধনের সময় বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর আগে গত ১৮ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে এই অ্যাপ উদ্বোধন করেছিলেন।
পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের জন্য প্রবাসী ভোটারকে অবশ্যই যেখান থেকে ভোট দেবেন সেই দেশের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য প্রথমে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপ ডাউনলোড ও ইনস্টল করতে হবে। ব্যবহারকারী বাংলা বা ইংরেজি ভাষা নির্বাচন করে অ্যাপে নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নির্দেশনা দেখতে পারবেন। বিদেশে ব্যালট প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য সঠিক ঠিকানা প্রদান করা অপরিহার্য বলে জানিয়েছে কমিশন।
সকালে আবারও কাঁপল ঢাকা
রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৪ ডিসেম্বর সকাল ৬টা ১৪ মিনিটে এ কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে ভূমিকম্পটি হালকা মাত্রার ছিল এবং সকাল ৬টা ১৪ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে এটি অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর শিবপুরে।
রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র থেকে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব ছিল ৩৮ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে। ভূমিকম্পের তথ্য প্রদানকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার বা ইএমএসসি তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে এই ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩০ কিলোমিটার এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল গাজীপুরের টঙ্গী থেকে ৩৩ কিলোমিটার পূর্ব উত্তরপূর্ব দিকে এবং নরসিংদীর ৩ কিলোমিটার উত্তরে।
এর আগে সোমবার মধ্যরাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ৪ দশমিক ৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয় যার কেন্দ্রস্থল ছিল মিয়ানমারের মিনজিনে এবং চট্টগ্রামসহ দেশের কিছু অংশে তা অনুভূত হয়। তার আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলেও ঢাকায় ৩ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল যার উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে। এছাড়া ২১ নভেম্বর এবং ২২ নভেম্বর প্রায় ৩১ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা ও এর আশপাশে চারবার ভূমিকম্প হয়। এর মধ্যে ২১ নভেম্বরের ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশে ১০ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন সাম্প্রতিক সময়ে বেশিরভাগ ভূমিকম্পেরই উৎপত্তিস্থল হচ্ছে নরসিংদী। এই এলাকা হলো বার্মা প্লেট এবং পশ্চিমের ইন্ডিয়ান প্লেটের সংযোগস্থল বা সাবডাকশন জোন। প্লেটের এই সংযোগস্থলে ফাটল বা নড়াচড়ার কারণেই ঘন ঘন এমন কম্পন অনুভূত হচ্ছে বলে ভূতত্ত্ববিদরা ধারণা করছেন।
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে সন্ধ্যায় এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রধান উপদেষ্টা
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার ৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার পরই তিনি হাসপাতালে পৌঁছান এবং সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে আজ সকালেই খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সহায়তায় যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের প্রধান ডা. রিচার্ড বিলি এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছান যা বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আল মামুন নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও তাঁর উন্নত ও সার্বিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং চলমান মেডিকেল ব্যবস্থাপনার আরও গভীর মূল্যায়নের জন্য হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ড অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞ মতামতের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই যুক্তরাজ্য ও চীন থেকে দুটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানান বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের অংশগ্রহণে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় নতুন দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান এরই মধ্যে এভারকেয়ার হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ড বিদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় মেডিকেল রিপোর্ট ও সাম্প্রতিক পরীক্ষার তথ্য উপাত্ত শেয়ার করেছে যাতে তারা প্রাথমিক পর্যায় থেকেই সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং চিকিৎসায় সর্বোত্তম ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
এদিকে দলের চেয়ারপারসন প্রবীণ রাজনীতিক খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় বিএনপির সামগ্রিক কার্যক্রম অনেকটাই থমকে গেছে এবং নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক কার্যক্রমে মনোযোগ দিতে পারছেন না। খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দেশের বিভিন্ন স্থানে দোয়া মাহফিল অব্যাহত রয়েছে।
শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ভোট নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি বিশেষ বার্তা সরকারপ্রধানের
আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা অগ্রগতি জাতি গঠন এবং সংকটকালে জনগণের পাশে দাঁড়ানোয় সশস্ত্র বাহিনীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বুধবার ৩ ডিসেম্বর রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স বা এনডিসি ও আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স বা এএফডব্লিউসি ২০২৫ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন আগামী ফেব্রুয়ারিতে আমাদের জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে সত্যিই একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করতে হবে। এটি শুধু একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হবে না বরং শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন ভোটাররা যখন ভোট দিতে বের হবেন তা উৎসবমুখর হবে এবং জাতি গর্বের সঙ্গে স্মরণ করবে যে তারা দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে অংশ নিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় দেশবাসীকে দোয়া ও প্রার্থনা করার আহ্বান জানান। গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানের আনন্দময় মুহূর্তে তিনি সবার সঙ্গে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় নেত্রী খালেদা জিয়া দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। এছাড়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গ করা সব শিক্ষার্থী ও দেশবাসীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মহামারির মতো সংকটে সশস্ত্র বাহিনীর অব্যাহত প্রচেষ্টা দেশের জনগণের কল্যাণে তাদের প্রস্তুতি ও অটল নিষ্ঠার প্রমাণ বহন করে। তিনি বাহিনীর সদস্যদের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বৈশ্বিক শান্তিতে অবদান রাখার জন্যও ধন্যবাদ জানান যা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতি বাড়িয়েছে।
স্নাতক সম্পন্ন করা অফিসারদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন আজকের গ্র্যাজুয়েশন আপনাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই অর্জন বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের প্রতিফলন। তিনি বিদেশি গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে বলেন আপনাদের উপস্থিতি আমাদের প্রতিষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করেছে এবং আমি বিশ্বাস করি আপনারা নিজ নিজ দেশে বাংলাদেশের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করবেন। ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ প্রতিষ্ঠার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন এনডিসি কেবল সামরিক ক্ষেত্রে নয় ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
টিউলিপ সিদ্দিকী মামলায় দুদকের নতুন তথ্য প্রকাশ
ব্রিটিশ এমপি ও শেখ রেহানার কন্যা টিউলিপ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে প্লট দুর্নীতি মামলার বিচার ও সাজা নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটি জানিয়েছে, টিউলিপ সিদ্দিকীকে ঘিরে মিডিয়ায় যে ধরনের প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলো পরিষ্কার করতে তারা সমস্ত প্রসিকিউশন নথি পুনর্বিবেচনা করেছে। একটি স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা হিসেবে দুদক বলছে, আদালতে পেশ করা প্রমাণসমূহ যথাযথভাবে যাচাই করে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে মামলার উপাদানগুলো আইনের চোখে সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য।
মঙ্গলবার প্রকাশিত বিবৃতিতে দুদক জানায়, মামলার নথিতে স্পষ্টভাবে দেখা যায় টিউলিপ সিদ্দিকীর খালা, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার মা শেখ রেহানা এবং তাদের নিকট আত্মীয়দের নামে প্লট বরাদ্দকেন্দ্রিক অভিযোগগুলোকেই তদন্তের ভিত্তি করা হয়েছে। একটি মামলায় এমনও উঠে এসেছে যে, শেখ হাসিনা সরকারপ্রধান থাকার সময় টিউলিপও নিজ নামে অতিরিক্ত এক প্লট বরাদ্দ পান। দুদকের দাবি, মামলার বেশ কয়েকজন অভিযুক্তই দীর্ঘদিন বিচার থেকে আত্মগোপনে ছিলেন।
তিনটি মামলার মধ্যে একটি মামলার রায় ইতোমধ্যে ঘোষিত হয়েছে, যেখানে টিউলিপ সিদ্দিকী দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৫ এ চলমান স্পেশাল কেস ১৮/২০২৫–এ অভিযোগ করা হয় যে, তিনি নিজের পরিবারের জন্য ভূমি বরাদ্দ নিশ্চিত করতে শেখ হাসিনাকে অনৈতিক প্রভাবিত করেছিলেন। এ মামলায় ৩২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। দুদক বলছে, বেশ কয়েকজন সাক্ষী হলফনামায় জানিয়েছেন শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হিসেবে টিউলিপ বহু বরাদ্দে সরাসরি প্রভাব খাটিয়েছেন।
তাদের মতে, সাক্ষ্য ও নথি মিলিয়ে যে পরিস্থিতিগত প্রমাণ উঠে এসেছে, তা টিউলিপের সক্রিয় ভূমিকা স্পষ্ট করে। এসব অপরাধ দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬৩, ১৬৪, ১৬৫(ক), ২০১, ২১৭, ২১৬, ৪০৯, ৪২০ ধারার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭–এর সেকশন ৫(২) অনুযায়ী দণ্ডনীয়।
দুদক আরও বলছে, টিউলিপ সিদ্দিকী যেই প্লটটি ব্যক্তিগতভাবে পেয়েছিলেন (বর্তমানে গুলশান-২ এর রোড ৭১–এর ১১৫ ও ১১-বি নম্বর প্লট), সেটি রাজধানীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল এলাকায় অবস্থিত। এগুলো কোনো কৃষিজমি নয় বরং বহু তলাবিশিষ্ট বাসভবন বা অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণযোগ্য উচ্চমূল্যের জমি, যা মূলত রাজধানীর আবাসন সংকট কমাতে বরাদ্দের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বরাদ্দ ঘুরে গেছে রাজনৈতিক পরিবারের হাতে। দুদকের মতে, এতে পরিবারভিত্তিক সম্পদ সঞ্চয়ের অনৈতিক প্রবণতাই স্পষ্ট হয়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, টিউলিপ সিদ্দিকীর সঙ্গে লন্ডনের কয়েকটি সম্পত্তির যোগসূত্র রয়েছে, যেগুলো অফশোর প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ। দুদক প্রশ্ন তোলে সরকারি দায়িত্বে থাকা পরিবার কীভাবে বিশ্বের দুই প্রধান শহরে একাধিক সম্পদ কেনার সামর্থ্য পেল? তাদের দাবি, টিউলিপ বিচার কার্যক্রমে অংশ নিয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারতেন, কিন্তু তিনি নিজেই অনুপস্থিত থাকার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে ‘জবাব দেওয়ার সুযোগ পাননি’ এমন দাবি সঠিক নয়।
সবশেষে দুদক জানায়, সব তথ্য বিশ্লেষণ করে তাদের অবস্থান স্পষ্ট টিউলিপ সিদ্দিকী দুর্নীতির সহায়তা, উস্কানি এবং প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যুক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ থেকে তাকে নির্দোষ দেখানোর কোনো আইনি বা পরিস্থিতিগত ভিত্তি নেই।
-রাফসান
জমির পর্চা দেখুন ঘরে বসে, জানুন সম্পূর্ণ নিয়ম
বাংলাদেশে জমি একটি অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ হলেও অনেকেই নিজের নামে থাকা জমি সম্পর্কে অবগত নন। কিন্তু এখন আর দালাল বা দীর্ঘ ভোগান্তির প্রয়োজন নেই। ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর (DLRS) জমি–সংক্রান্ত সব সেবা সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করায় অনলাইনে খতিয়ান দেখে জমির মালিকানা যাচাই করা অত্যন্ত সহজ হয়ে গেছে। স্মার্টফোন বা কম্পিউটারে ইন্টারনেট থাকলেই ঘরে বসে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে জমির সমস্ত তথ্য জানা যায়।
খতিয়ান বা পর্চা হলো জমির মালিকানা নিশ্চিত করার সরকারি স্বীকৃত দলিল। এতে জমির মালিক বা দখলদারের নাম, জমির পরিমাণ, সীমানা, খাজনা, দেনা–পাওনা এবং আইনি বিবরণ উল্লেখ থাকে। জমি কেনা, হস্তান্তর, উত্তরাধিকার বণ্টন কিংবা কোনো ধরনের বিরোধে এই দলিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অনলাইনে জমির মালিকানা জানার প্রক্রিয়া খুবই সহজ। www.dlrs.gov.bd ভিজিট করে ‘খতিয়ান তথ্য অনুসন্ধান’ অপশন নির্বাচন করতে হবে। এরপর জেলা, মৌজা, ইউনিয়ন ও খতিয়ান নম্বর লিখলেই মুহূর্তের মধ্যে জমির বিস্তারিত তথ্য দেখা যায়। এতে শুধু জমির মালিকানা নয়, জমির দখল, আয়তন, সীমানা, খাজনা পরিস্থিতিসহ সব তথ্য পাওয়া যায়।
জমির মালিকানা যাচাই করা কেন জরুরি, তা ভেবে দেখলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। দেশে প্রতারণার মাধ্যমে জাল দলিল ব্যবহার করে জমি বিক্রির ঘটনা নতুন নয়। আবার মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি নিয়ে ওয়ারিশদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হওয়াও সাধারণ ঘটনা। সঠিক মালিকানা যাচাই না করলে ভবিষ্যতে জটিল আইনি সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই জমি কেনা, বিক্রি, উত্তরাধিকার বা হস্তান্তরের আগে অনলাইনে খতিয়ান অনুসন্ধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডিজিটাল ভূমি সেবার ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমেছে, দালাল নির্ভরতা হ্রাস পেয়েছে এবং সরকারি সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বেড়েছে।
-শরিফুল
ডিসেম্বরে বিদ্যুৎ মিলছে না রূপপুর থেকে বরং বাড়ছে ঋণের বোঝা ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের দীর্ঘ বিলম্ব এখন ব্যয় ও ঋণের চাপ এবং বিদ্যুৎ নিরাপত্তা সর্বক্ষেত্রেই নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এ বছরের ডিসেম্বরে প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর কথা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। একইভাবে দ্বিতীয় ইউনিটের সূচিও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের ব্যয় আরও ২৬ হাজার ১৮১ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
এতে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা যা মূল অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদও ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে অর্থাৎ আরও তিন বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে এই মেগা প্রকল্পের সময়সীমা। নভেম্বরের শুরুর দিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় প্রথম সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবে ব্যয় ১১ দশমিক ৮৪ শতাংশ বা ১৩ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে পিইসি সভায় জানানো হয় বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি ফলে মোট ব্যয়ের হিসাবও সঠিক হয়নি। পরে হিসাব পুনর্মূল্যায়ন করে ২৭ নভেম্বর নতুন ব্যয় প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়।
২০১৬ সালে অনুমোদিত মূল প্রকল্পে ব্যয় ধরা ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। প্রকল্পের ব্যয় বাড়লেও রাশিয়ার ১১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারের ঋণ ডলারের অঙ্কে অপরিবর্তিত রয়েছে তবে টাকার অঙ্কে তা এখন ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা যা মূল প্রস্তাবের তুলনায় অনেক বেশি। ডিপিএ বা ডেভেলপমেন্ট পার্টনারস অ্যাসিস্ট্যান্স ব্যবহার হিসেবেও নতুন বিনিময় হার যুক্ত হয়েছে। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ১ ডলার সমান ৯৫ দশমিক ২৮ টাকা এবং বাকি তিন বছরের জন্য ১ ডলার সমান ১২২ টাকা ধরা হয়েছে।
ঋণ বিতরণে বিলম্ব ও পরিশোধ ঝুঁকি নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। রূপপুর প্রকল্পের মোট ব্যয় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার যার ৯০ শতাংশ দিচ্ছে রাশিয়া। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ পেয়েছে ৭ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার। কোভিড ও রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ঋণ বিতরণে বিলম্ব হয়েছে। খসড়া প্রটোকলে স্বাক্ষর হলে বাকি ৩ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পাওয়া যাবে। ঋণের পরিশোধ ২০২৯ সালের মার্চ থেকে শুরু হবে এবং ২০ বছরে দুই কিস্তিতে তা পরিশোধ করতে হবে। কোনো কিস্তি ৩০ দিনের বেশি দেরি হলে বার্ষিক ১৫০ শতাংশ সুদ ধার্য হবে যা অর্থনীতির জন্য বড় চাপ।
উৎপাদনসূচি এখনো নিশ্চিত নয়। আইএমইডির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইউনিট ১ ও ২ এর নতুন উৎপাদন সূচি এখনো নিশ্চিত নয় এবং প্রকল্প দপ্তর অসমাপ্ত কাজের তালিকা দিতে পারেনি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন ডিসেম্বরে ফুয়েল লোডিং শুরু হবে এবং আগামী মার্চে আংশিক উৎপাদন শুরু হতে পারে। পূর্ণ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদনে সময় লাগবে প্রায় ১০ মাস।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন টাকার অবমূল্যায়নসহ বিভিন্ন কারণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের তুলনায় ইউনিটপ্রতি উৎপাদন খরচ প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। প্রকল্প এরই মধ্যে প্রায় তিন বছর পিছিয়েছে ফলে ঋণের কিস্তি বেশি দিতে হচ্ছে এবং স্থাপিত যন্ত্রপাতির আয়ুষ্কাল কমছে। তিনি মন্তব্য করেন সময়মতো প্রকল্প চালু হলে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির চাপ কমত কিন্তু এখন সব মিলিয়ে রূপপুর প্রকল্পের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।
পাঠকের মতামত:
- মার্কিন চাপের মধ্যেই দিল্লিতে রুশ প্রেসিডেন্ট
- বিএসএফের গুলিতে প্রাণ গেল বাংলাদেশি যুবকের
- ডায়াবেটিস থেকে পাইলস নিরাময়ে জাদুকরী লজ্জাবতী গাছের ব্যবহার
- অজান্তেই স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দিচ্ছে আপনার পছন্দের যে ৩টি পানীয়
- মেথিকে গুণের ভান্ডার বলা হলেও এটি পানের ক্ষেত্রে যাদের সতর্ক থাকা জরুরি
- সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, রাতেই ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে কাতারের বিশেষ উদ্ধারকারী বিমান
- যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে: ফরাসি প্রেসিডেন্ট
- অনিবার্য কারণ ছাড়া নির্বাচন এক মুহূর্তও বিলম্বিত হোক তা চায় না বিএনপি
- উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের আগ্রহের আসনে প্রার্থী দিয়ে বড় চমক দেখাল বিএনপি
- জনবান্ধব পুলিশ গড়তে উপদেষ্টা পরিষদের বড় সিদ্ধান্ত
- যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গল্প শোনাবেন ডাকসু ভিপি ও এনসিপি নেতা
- পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদনে বর্তমান পুলিশ প্রধানের নাম
- বিএনপি ৩৬ আসনে নতুন প্রার্থী ঘোষণা করল যাদেরকে
- বিপিএলে পাকিস্তানিদের অংশগ্রহণে নতুন জটিলতা
- ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক উদারভাবে দেখতে হবে: রিয়াজ
- ৪ ডিসেম্বর শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ব্লক মার্কেটে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে যেসব শেয়ারের
- ডিএসই ডেট মার্কেটে নীরব দিন, দাম বাড়ল একটি বন্ডে
- ৪ ডিসেম্বর ডিএসইতে টপ লুজার তালিকা প্রকাশ
- ৪ ডিসেম্বর ডিএসই টপ গেইনার তালিকা প্রকাশ
- পুতিনের হঠাৎ ভারত সফরের কারণ বেরিয়ে এল
- খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি, ঢাকা আসছেন জুবাইদা রহমান
- ঘরে বানান সহজ উপকরণে মজাদার পাটিসাপটা পিঠা
- পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক পাখি কারা? জানুন ভয়ংকর তথ্য
- বিএনপি নেতার ‘ফাঁকি’ মন্তব্যে আলোচনার ঝড়
- শীতে পায়ের যত্নে ১০ জরুরি টিপস
- জানুন চিতই পিঠা বানানোর গোপন সহজ রেসিপি
- বাস্তবতা বনাম প্রচারণা: টাইটানিক রহস্য উন্মোচন
- ডিএসইতে কোন ফান্ডের ন্যাভ কত দাঁড়াল দেখুন এক নজরে
- বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর, সাত কোম্পানির লেনদেন চালু
- ৪ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধ থাকছে ৭ ডিসেম্বর
- ডিএসইতে বড় দরপতন, ৪১ কোম্পানি শুধু লাভে
- সোলমেট আসলে কী: রূপকথার বাইরে সম্পর্কের আসল বাস্তবতা
- দেশে টাকা পাঠানোর আগে দেখে নিন ৪ ডিসেম্বরের মুদ্রা বিনিময় হার
- অ্যাপের মাধ্যমে সাড়া মিলছে ব্যাপক, প্রবাসীদের ভোটের পরিসংখ্যানে পুরুষের আধিপত্য
- ব্যথানাশক নিয়েই খেলতে নেমে হ্যাটট্রিক করলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার
- শীতে কাজ জুটছে না দিনমজুরদের, সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ
- এভারকেয়ারের সামনে সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার আপডেট দেবেন ডা. জাহিদ
- অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে সব আইনি প্রশ্নের অবসান ঘটাল আপিল বিভাগ
- পিরোজপুরে সাঈদী পুত্রদের নির্বাচনী চমক বনাম হেভিওয়েটদের লড়াই
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
- টিভিতে আজকের খেলা: ভোর থেকে রাত পর্যন্ত খেলার ঠাসা সূচি
- ঢাকার আকাশ মেঘলা থাকলেও তাপমাত্রা নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নতুন বার্তা
- আজকের রাশিফল ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ জেনে নিন আপনার দিনটি কেমন কাটবে
- গাজায় যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও চলছে ইসরায়েলি হামলা, ঝরছে রক্ত
- এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়ে দ্বিগু, প্রভিশন রাখতে হিমশিম খাচ্ছে ব্যাংকগুলো
- সরবরাহ বাড়লেও কমছে না সবজির দাম
- বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব জনপ্রিয় মার্কেট আজ খোলা পাবেন না
- যানজট এড়াতে বাসা থেকে বের হওয়ার আগে জেনে নিন ঢাকার আজকের কর্মসূচি
- সকালে আবারও কাঁপল ঢাকা
- ফিউচার স্টার বনাম ব্রাজিল–আর্জেন্টিনা, দেখুন সূচি
- মাত্র ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশের মাটি
- ওষুধ ছাড়াই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার ৫টি সহজ সকালের অভ্যাস
- সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে খালেদা জিয়া, দেশজুড়ে সুস্থতা কামনায় দোয়া
- ভূমিকম্পে ঢাকার কোন এলাকাগুলো তুলনামূলক নিরাপদ তা জানালেন বিশেষজ্ঞরা
- তারেক রহমান নির্বাচন করতে পারবেন কি না জানালেন ইসি সচিব
- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সংকটাপন্ন অবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করল বিশ্ব গণমাধ্যম
- এবার টাকার ঝনঝনানি আর কৌশলের লড়াইয়ে বিপিএল নিলাম
- আজকের রাশিফল: ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ জেনে নিন আপনার দিনটি কেমন কাটবে
- আজকের রাশিফল: ২৯ নভেম্বর ২০২৫ জেনে নিন আপনার দিনটি কেমন কাটবে
- এসএসএফ নিরাপত্তা পেলেন খালেদা জিয়া: কী সুবিধা থাকছে
- চট্টগ্রামে দাপুটে জয়ে আয়ারল্যান্ড বধ
- একদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে বড় পতন
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
- পরীক্ষা সময়মতোই: অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থা দেবে মাউশি








