দিল্লির ‘কাঁটা’ শেখ হাসিনা, সম্পর্কে টানাপোড়েন কতদিন?

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতেই অবস্থান করছেন। এখন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারত বাংলাদেশের কাছে ফেরত দেবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে চলছে নানা বিশ্লেষণ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা সম্প্রতি এ নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে সীমা আখতার নামের ২৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী ফুটবল অনুশীলনের সময় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের খবর পান। তার কাছে এই রায়টি ন্যায়বিচারের এক মুহূর্ত বলে মনে হয়েছে। গত বছর শেখ হাসিনার নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে সীমার কয়েকজন বন্ধুও নিহত হয়েছিলেন। সীমা আল-জাজিরাকে বলেন, ক্ষমতাচ্যুত শাসক ভেবেছিলেন তাকে কখনোই পরাজিত করা যাবে না এবং তিনি চিরকাল ক্ষমতায় থাকবেন। এই মৃত্যুদণ্ড শহীদদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় পদক্ষেপ। তবে তিনি মনে করেন, শুধু সাজা ঘোষণাই যথেষ্ট নয়, এই রায় কার্যকর হতে দেখতে চান তারা।
শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত তাতে সাড়া মেলেনি। গত ১৫ মাস ধরে বিষয়টি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় এই উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও ভারত শেখ হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী, তবুও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নয়াদিল্লি সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি করতে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে—এমন দৃশ্য কল্পনা করা কঠিন।
ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী প্রশ্ন তুলেছেন, নয়াদিল্লি কীভাবে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে? শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার এবং ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর তিনি টানা ১৫ বছর দেশ শাসন করেন। তার শাসনামলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর অধিকাংশই বিরোধী দল বর্জন করেছিল অথবা প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পায়নি। এই সময়ে হাজার হাজার মানুষকে গুম ও বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। যদিও হাসিনা সরকার অর্থনৈতিক সাফল্যকে পুঁজি করে তাদের শাসনের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হলে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন অভিযানের পর তা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলনের তীব্রতায় ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই সরকার ভারতের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তির কথা উল্লেখ করে বলেছে, হাসিনাকে ফেরত পাঠানো নয়াদিল্লির জন্য আবশ্যিক দায়িত্ব। ভারত যদি তাকে ক্রমাগত আশ্রয় দিয়ে যায়, তবে তা হবে অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ পদক্ষেপ।
তবে ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভিন্ন মত পোষণ করছেন। নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঞ্জয় ভরদ্বাজ মনে করেন, ভারত এই ঘটনাকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক শক্তির প্রতিশোধ হিসেবে দেখছে। তার মতে, নয়াদিল্লি মনে করে বর্তমানে বাংলাদেশে যারা ক্ষমতায় আছে, তারা ভারতবিরোধী। হাসিনাকে হস্তান্তর করার অর্থ হবে সেই 'ভারতবিরোধী শক্তিকে' বৈধতা দেওয়া। প্রত্যর্পণ চুক্তিতে 'রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের' ক্ষেত্রে যে ব্যতিক্রমী ধারার সুযোগ রয়েছে, ভারত সেটি ব্যবহার করতে পারে।
হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রায়ের বিষয়ে অবগত এবং বাংলাদেশের সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকবে। তবে বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক বেশ শীতল। ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী মনে করেন, বর্তমান সরকারের অধীনে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই যাবে। তবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সূচনা হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ভারতের জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, হাসিনার বিষয়ে ভারত একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। বাংলাদেশে তার প্রতি জনগণের ক্ষোভকে উপেক্ষা করা দিল্লির পক্ষে সম্ভব নয়। ভারত হয়তো চাইবে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরুক, কিন্তু বাস্তবতা হলো—হাসিনাকে আর কখনোই সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশে নেই বললেই চলে। তাই ভারতের উচিত ঢাকার অন্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা। তিনি আরও বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মিত্রতা আগের মতো না থাকলেও একে অপরের প্রতি শিষ্টাচার বজায় রাখা প্রয়োজন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও ব্যক্তিগত। ১৯৭৫ সালে পরিবারের সদস্যদের হত্যার পর তিনি ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ ছয় বছর সেখানে নির্বাসনে ছিলেন। তার শাসনামলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সমৃদ্ধ হয়েছিল। ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যখন তার পালানোর প্রয়োজন হয়, তখন ভারত তাকে আশ্রয় দেয়। পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর মতে, ভারত তাকে থাকতে দিয়েছে কারণ তখন আর কোনো বিকল্প ছিল না। বিশেষ করে এখন যখন তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে, তখন তাকে ফেরত পাঠানো ভারতের জন্য নৈতিকভাবে কঠিন।
ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক দক্ষিণ এশীয় বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, ভারতে শেখ হাসিনার উপস্থিতি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যে একটি 'কাঁটা' হয়ে থাকবে। তবে এর মাধ্যমে ভারত তার মিত্রদের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার প্রতিশ্রুতি পালন করতে সক্ষম হয়েছে। কুগেলম্যানের মতে, হাসিনার রাজনৈতিক প্রভাব এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা যায় না। দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে দেখা যায়, পরিবারকেন্দ্রিক দলগুলো কঠিন সময়ে পড়লেও পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায় না।
সূত্র: আল-জাজিরা
ট্রাম্পের হাতে আটক মাদুরোর গন্তব্য এখন নিউইয়র্ক: সিএনএন
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বিশেষ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আটকের পর এখন তাঁকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানান্তরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী মাদুরোকে ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করা হবে যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত বিভিন্ন অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) ভোরে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর (ডেল্টা ফোর্স) সাথে এফবিআই-এর একটি দল কারাকাসে এই দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি এক বিশেষ বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে মাদুরোকে মার্কিন মাটিতে মার্কিন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) দীর্ঘ ২০ বছর ধরে মাদুরো ও ভেনেজুয়েলার শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একটি বিশাল তদন্ত পরিচালনা করে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে যে মাদুরো ‘কার্টেল অফ দ্য সানস’ নামক একটি মাদক পাচারকারী চক্র পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ কোকেন পাচারের সাথে জড়িত ছিলেন। এই নারকো-টেররিজম বা মাদক-সন্ত্রাসবাদের মামলার ভিত্তিতেই তাঁকে নিউইয়র্কের আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে এই অভিযানের সাফল্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে মাদুরোকে ইতোমধ্যেই ভেনেজুয়েলা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কারাকাসের আকাশে দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এই বিমান হামলা ও কমান্ডো অভিযানে অন্তত সাতটি সামরিক পয়েন্টে লক্ষ্যভেদ করা হয়। এরপরই ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকার জরুরি অবস্থা জারি করেছে এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ মাদুরোর নিরাপত্তা ও প্রাণের দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে ১৯৯০ সালে পানামার নেতা ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে আটকের ৩৬ বছর পর এটিই লাতিন আমেরিকায় আমেরিকার সবচেয়ে বড় সামরিক ও আইনি পদক্ষেপ।
মাদুরো আটক, আন্তর্জাতিক চুক্তির কফিনে শেষ পেরেক
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় সব ধরণের আন্তর্জাতিক রীতিনীতি উপেক্ষা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হামলা বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণে এক চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে বিশেষ কমান্ডো অভিযানের মাধ্যমে আটকের ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘটনাকে কাতারের হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুলতান বারাকাত ‘আন্তর্জাতিক চুক্তির কফিনে শেষ পেরেক’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের মৌলিক নীতিগুলো ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এখন চীন বা রাশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর জন্যও আগ্রাসনের নতুন পথ প্রশস্ত করে দিল।
শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) ভোররাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস কেঁপে ওঠে অন্তত সাতটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে যে বিস্ফোরণের পরপরই শহরের আকাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং রাজধানীর দক্ষিণ অঞ্চলের একটি বিশাল সামরিক ঘাঁটির নিকটবর্তী এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও রয়টার্স জানিয়েছে যে হামলার সময় কারাকাসের আকাশে নিচু দিয়ে মার্কিন যুদ্ধবিমান উড়ে যেতে দেখা গেছে। এই ‘অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার’ নামক অভিযানে মূলত মাদুরো সরকারের ঘনিষ্ঠ সামরিক নেটওয়ার্কগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অধ্যাপক সুলতান বারাকাতের মতে, এই হামলা কেবল ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এটি আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য একটি ভয়ংকর উদাহরণ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে চীন এখন তাইওয়ানের ওপর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে এই হামলাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ভেনেজুয়েলার সরকার এই অভিযানকে ‘চরম গুরুতর সামরিক আগ্রাসন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। বর্তমানে কারাকাসের পরিস্থিতি থমথমে এবং দেশজুড়ে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের নতুন ও সংঘাতময় অধ্যায়ের সূচনা করল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মাদুরোকে আটকের পর জরুরি অবস্থা জারি: যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে লাতিন
লাতিন আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক ও বিশাল সামরিক অভিযানের পর বিশ্বজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানান যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে দেশছাড়া করেছে। এই ঘটনার পরপরই কারাকাস সরকার একে ওয়াশিংটনের ‘চরম গুরুতর সামরিক আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে।
ভেনেজুয়েলায় এই মার্কিন হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে রাশিয়ার ক্রেমলিন ও ইরানের তেহরান থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ইরান এই হামলাকে সার্বভৌমত্বের প্রকাশ্য লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়া একে ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে বলেছে যে আদর্শগত শত্রুতা এখন কূটনীতিকে ছাপিয়ে গেছে। কিউবা এই অভিযানকে ‘সাহসী ভেনেজুয়েলান জনগণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ বলে উল্লেখ করেছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই ঘটনাকে লাতিন আমেরিকার সার্বভৌমত্বের ওপর বড় আঘাত বলে সতর্ক করেছেন এবং অবিলম্বে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে স্পেন এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। জার্মানি, ইতালি ও বেলজিয়াম পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কারাকাসে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়াও বেসামরিক মানুষের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ট্রিনিদাদ ও টোবাগো এই সামরিক অভিযানে নিজেদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এই অভিযান নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটররা এই যুদ্ধকে ‘বেআইনি’ বলে অভিহিত করেছেন। সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ বলেন যে ভেনেজুয়েলায় যুদ্ধে যাওয়ার মতো কোনো জাতীয় স্বার্থ যুক্তরাষ্ট্রের নেই। এমনকি সিনেটর রুবেন গালেগো আক্ষেপ করে লিখেছেন যে এক বছরেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘বিশ্ব পুলিশ’ থেকে ‘বিশ্বের বুলি’তে পরিণত হয়েছে। বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস যুক্তরাষ্ট্রের এই বোমা হামলার ঘটনাকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। লাতিন আমেরিকার এই অস্থিতিশীলতা বিশ্ব রাজনীতি ও তেলের বাজারে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে সরাবার চাল : ইরাকের মতো ডুববে কি আমেরিকা?
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সরকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং তেল রপ্তানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রভাবশালী সাময়িকী ‘দ্য হিল’ তাদের এক বিশ্লেষণে দাবি করেছে যে, ওয়াশিংটনের বর্তমান এই অবস্থান ইরাক যুদ্ধের সময়কার সেই ভুল কৌশলের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে যে অতিরঞ্জিত হুমকির আশ্রয় নিচ্ছে, তা দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতা ডেকে আনতে পারে।
দ্য হিল-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন বর্তমানে তেল, নিরাপত্তা এবং নৈতিকতার দোহাই দিয়ে ভেনেজুয়েলা বিরোধী নীতিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। ঠিক একইভাবে ইরাক আক্রমণের আগে ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ এর দোহাই দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে মাদক পাচারকারী ও সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগসাজশের যে অভিযোগ তুলছেন, তা ইরাক যুদ্ধের আগের ভুল গোয়েন্দা তথ্যের এক আধুনিক সংস্করণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ফেন্টানিলকে ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দেওয়াকে অত্যন্ত বিতর্কিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই বৈরী পথে আরও অগ্রসর হয়, তবে ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা বাহিনীর অভ্যন্তরে বড় ধরনের বিভাজন তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন অপরাধী চক্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য বাড়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। মাদুরোর সঙ্গে কলম্বিয়ার গেরিলা ও মাদক পাচারকারী গোষ্ঠীগুলোর কথিত যোগাযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের ইরাক যুদ্ধ থেকে কোনো শিক্ষা না নিয়ে একই ধরনের কৌশল প্রয়োগ করলে ভেনেজুয়েলা সংকট আরও গভীরে তলিয়ে যাবে এবং লাতিন আমেরিকায় নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।
নরম নীতি’র যুগ শেষ, অবৈধ বাংলাদেশি হটাতে কঠোর আসামের মুখ্যমন্ত্রী
ভারতের আসাম রাজ্যে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ অভিবাসীদের হটাতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ‘নরম নীতি’র যুগ এখন শেষ হয়ে গেছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী এখন থেকে বিদেশি হিসেবে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বিতাড়নের ক্ষেত্রে আর কোনো দীর্ঘ কূটনৈতিক বা আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষা করবেন না।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, আগে কাউকে বিদেশি সাব্যস্ত করা হলে বাংলাদেশের সঙ্গে যাচাই-বাছাইসহ দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতো। কিন্তু এখন থেকে কাউকে বিদেশি ঘোষণা করে আদেশ জারি হওয়া মাত্রই তাকে ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে উচ্ছেদ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এটি আসামের নিজস্ব ‘পরিচয়’ রক্ষার লড়াই। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যের পরিচয় রক্ষা করতে না পারলে উন্নয়ন অর্থহীন হয়ে পড়বে।
উল্লেখ্য যে, একটি অনুষ্ঠানে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেছেন, বর্তমানে আসামের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই সংখ্যা যদি আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তবে আসাম ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত’ হয়ে যাবে। ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগেই এই ‘অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুকে মূল এজেন্ডা হিসেবে তুলে ধরেছেন বিজেপি নেতা হিমন্ত। পরিচয় রক্ষার এই শাসননীতি আসামের রাজনৈতিক মহলে যেমন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, তেমনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের প্রতিবেশী সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
যুদ্ধের দাবদাহ ও ক্ষমতার রদবদল: ২০২৫ সালের আলোচিত সব ঘটনা
শান্তির বারতা নিয়ে ২০২৫ সাল শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তা সংঘাত আর মানবিক সংকটের এক কালো অধ্যায় হিসেবেই ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যের তপ্ত মরুভূমি থেকে শুরু করে ইউরোপের তুষারশুভ্র প্রান্তর—২০২৫ সালে পৃথিবীর কোনো প্রান্তই বারুদের গন্ধ থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি। গত এক বছরে সভ্যতা যে ভয়াবহ বর্বরতার সাক্ষী হয়েছে, তা আধুনিক বিশ্বকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সবচাইতে বড় মানবিক ট্র্যাজেডি হিসেবে ২০২৫ সালেও অব্যাহত ছিল গাজার আর্তনাদ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরাইলি বর্বরতা এ বছরও গাজাবাসীকে এক মুহূর্তের জন্য স্বস্তি দেয়নি। যদিও অক্টোবরে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে উপত্যকাটিতে রক্তপাত পুরোপুরি থামেনি। গাজার গণ্ডি ছাড়িয়ে ইসরাইলি আগ্রাসন ছড়িয়ে পড়ে লেবানন, ইয়েমেন ও সিরিয়ায়। বিশেষ করে জুন মাসে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে ১২ দিনের সেই সরাসরি সংঘাত পৃথিবীকে এক তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে বড় ধরণের মহাপ্রলয় থেকে রক্ষা পায় মধ্যপ্রাচ্য।
ইউরোপের বুকে রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন ২০২৫ সালেও কোনো সমাধান খুঁজে পায়নি। যুদ্ধের তিন বছর পার হলেও দুই পক্ষই এখন পর্যন্ত শান্তি চুক্তিতে একমত হতে পারেনি। অন্যদিকে, আফ্রিকা মহাদেশে সুদান ও কঙ্গোর গৃহযুদ্ধ ইতিহাসের অন্যতম বড় মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছে। অনাহার ও মহামারীতে সেখানে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় পারমাণবিক শক্তিধর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ৪ দিনের সেই খণ্ডযুদ্ধ ও আফগান-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘাত অঞ্চলটিকে বছরের অর্ধেকেরও বেশি সময় অস্থির করে রেখেছিল।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ২০২৫ সাল ছিল ‘শুল্ক যুদ্ধের’ বছর। ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও হোয়াইট হাউসে ফিরেই বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোর ওপর বিশাল অংকের শুল্ক আরোপ করেন। এর প্রভাবে বিশ্ব বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। এছাড়া দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে নেপাল থেকে বুলগেরিয়া পর্যন্ত বিশ্বের অন্তত ৭০টি দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে, যার ফলে পতন ঘটেছে একাধিক পরাক্রমশালী সরকারের। প্রকৃতির রুদ্ররোষও এ বছর কম ছিল না; ভয়াবহ ভূমিকম্প ও বন্যার তান্ডবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে কোটি কোটি মানুষ। সব মিলিয়ে ২০২৫ সাল ছিল এক অস্থির পৃথিবী ও লড়াকু মানবতার নীরব সাক্ষী।
২০২৬ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আশঙ্কা
দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রক্রিয়া আবারও বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী থিঙ্কট্যাঙ্ক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স (সিএফআর)। সংস্থাটির ‘কনফ্লিক্টস টু ওয়াচ ইন ২০২৬’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী তৎপরতা বৃদ্ধি পেলে আগামী বছরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাতের জোরালো ঝুঁকি রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির বিশেষজ্ঞদের নিয়ে করা এক বিশেষ জরিপের ভিত্তিতে এই উদ্বেগজনক মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ২০২৫ সালের মে মাসে কাশ্মীরের পেহেলগামে এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চরমে ওঠে। এর জবাবে ৭ মে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানি ভূখণ্ডে ‘অপারেশন সিন্দুর’ পরিচালনা করে, যেখানে ১০০ জনের বেশি জঙ্গি নিহত হওয়ার দাবি করে ভারত। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান সশস্ত্র ড্রোন দিয়ে ভারতের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালে পরিস্থিতি যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে ১০ মে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান হয়নি।
সিএফআরের বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে যে, কেবল ভারত-পাকিস্তান নয়, বরং পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তও এখন অগ্নিগর্ভ। চলতি বছরের অক্টোবরে কাবুলে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) প্রধান নূর ওয়ালি মেহসুদকে লক্ষ্য করে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর থেকে কূটনৈতিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। আফগানিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে এই দুই দেশের মধ্যেও ‘মাঝারি মাত্রার’ সশস্ত্র সংঘাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই বর্তমানে তুরস্ক ও চীনের কাছ থেকে অত্যাধুনিক ড্রোন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহ করে নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে। ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ইউক্রেন ও গাজা সংঘাত নিরসনে ব্যস্ত থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ায় যেকোনো মুহূর্তের একটি ছোট স্ফুলিঙ্গ পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশীকে আবারও যুদ্ধের ময়দানে নামিয়ে দিতে পারে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।
এস জয়শঙ্কর ও ইসহাক দার ঢাকা আসছেন কাল
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া–এর জানাজাকে কেন্দ্র করে ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর উভয়েই জানাজায় অংশ নিতে বাংলাদেশে আসছেন। এই সফরগুলোকে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিসরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন যে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে বুধবার ঢাকায় পৌঁছাবেন। হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জানাতেই পাকিস্তানের এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছে। সফরটি সংক্ষিপ্ত হলেও এটি দুই দেশের কূটনৈতিক সৌজন্য ও পারস্পরিক রাজনৈতিক গুরুত্বকে প্রতিফলিত করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, ভারতীয় হাইকমিশনের কার্যালয় থেকেও জানানো হয়েছে যে, জানাজা উপলক্ষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশ সফরে আসছেন। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই উপস্থিতিকে একটি আনুষ্ঠানিক শোকজ্ঞাপন ও কূটনৈতিক সৌহার্দ্যের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে এটি বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের ধারাবাহিক যোগাযোগ ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার দিকটিও তুলে ধরছে।
সব মিলিয়ে, খালেদা জিয়ার জানাজায় পাকিস্তান ও ভারতের শীর্ষ কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ শুধু একটি ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং এটি আঞ্চলিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক বার্তার ক্ষেত্রেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
পারমাণবিক শক্তি হবে সীমাহীন: কিম জং উনের নতুন নির্দেশে কাঁপছে বিশ্ব
বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত মঞ্চে দাঁড়িয়ে উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উন আবারও তাঁর সমর শক্তির জানান দিলেন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) পিয়ংইয়ংয়ের কাছে সুনান এলাকা থেকে দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় ধরণের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সরাসরি তদারকি করেন তিনি। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, কিম জং উন কেবল এই পরীক্ষার সাফল্য দেখে সন্তোষ প্রকাশই করেননি, বরং দেশের পারমাণবিক যুদ্ধক্ষমতাকে ‘সীমাহীন ও ধারাবাহিকভাবে’ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কোরীয় উপদ্বীপের পশ্চিম দিকের সমুদ্রপথ ধরে উড়ে গিয়ে নিখুঁতভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
কিম জং উন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বর্তমান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা নিয়মিত পরীক্ষা করা একটি ‘দায়িত্বশীল পদক্ষেপ’। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং পারমাণবিক যুদ্ধশক্তি আরও শক্তিশালী করতে সব ধরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পাশাপাশি কিম একটি নির্মাণাধীন পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনও পরিদর্শন করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরির পরিকল্পনাকে উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে তিনি জানান, সিউলের প্রতিটি পদক্ষেপের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের এই তৎপরতা অত্যন্ত উদ্বেগের। তারা সতর্ক করেছে যে, নতুন বছরের শুরুতে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির গুরুত্বপূর্ণ কংগ্রেসের আগে উত্তর কোরিয়া আরও বড় ধরণের উস্কানিমূলক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রতিরক্ষা কৌশল নির্ধারণের আগে কিম জং উনের এই কঠোর অবস্থান আদতে আন্তর্জাতিক মহলে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করার একটি প্রয়াস।
তথ্যসূত্র : আলজাজিরা।
পাঠকের মতামত:
- এবারের নির্বাচন বিশ্বের কাছে প্রশংসিত হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ
- বিগত ১৬ বছরের নিপীড়নের চেয়ে এখনকার পরিস্থিতি অনেক ভালো: রিজওয়ানা
- ডার্ক এনার্জি আর স্থির নয়: মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
- ট্রাম্পের হাতে আটক মাদুরোর গন্তব্য এখন নিউইয়র্ক: সিএনএন
- শীতে মাইগ্রেনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ঘরোয়া উপায় জানুন
- ভাঙনের পথে ভারত ও বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্ক
- মোস্তাফিজের অপমানে সরব আসিফ, ভারতকে দিলেন কঠোর হুঁশিয়ারি
- মা সবার কাছে ভিন্ন তাৎপর্য বহন করতেন: তারেক রহমান
- চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য বড় সুযোগ, আসছে এনটিআরসিএর গণবিজ্ঞপ্তি
- ভারত মোস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে বিশ্বকাপ দলগুলোকে কীভাবে দেবে
- ঈদ ও রমজান মিলিয়ে টানা লম্বা ছুটি
- মাফিয়া দল আওয়ামী লীগ আবার হত্যাকাণ্ড চালাতে সচেষ্ট: হাফিজ
- ৯ম পে স্কেলে বড় চমক, আসছে নতুন বেতন কাঠামো
- এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের চমক,ডিসেম্বরে রেকর্ড সংখ্যক ভ্যাট নিবন্ধন
- এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের চমক,ডিসেম্বরে রেকর্ড সংখ্যক ভ্যাট নিবন্ধন
- ষড়যন্ত্র নাকি প্রযুক্তিগত ভুল? মনোনয়নপত্র নিয়ে তাসনিম জারার নতুন বার্তা
- মাদুরো আটক, আন্তর্জাতিক চুক্তির কফিনে শেষ পেরেক
- মাদুরোকে আটকের পর জরুরি অবস্থা জারি: যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে লাতিন
- মোদি কি এখন বিএনপির দিকে ঝুঁকছে? জয়শঙ্করের ঢাকা সফরে কী বার্তা এল
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় শিক্ষক নিয়োগ
- ইশরাক হোসেনের মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে তথ্য সামনে এল
- ২ লাখ ১২ হাজার টাকায় কেনা যাবে এক ভরি সোনা
- জান্নাতে সব থাকলেও যেসব জিনিস নাই
- হাড়কাঁপানো শীতে রোগ প্রতিরোধে তুলসী চায়ের জাদুকরী সব গুণ
- আইপিএল থেকে মোস্তাফিজ আউট, রেকর্ড দামে দল পেয়েও কেন বাদ মোস্তাফিজ?
- খালেদা জিয়ার ছায়াসঙ্গী ফাতেমা বেগমের নতুন অধ্যায়
- কাল থেকে শুরু হাড়কাঁপানো শীতের তীব্রতা: কতদিন চলবে এই তাণ্ডব?
- হাড়কাঁপানো শীতে ঘর হবে উষ্ণ: জানুন গিজার ও হিটারের বাজারদর
- ব্যাংক হলিডের প্রভাব, বাজারে নেতিবাচক চিত্র
- কনকনে ঠান্ডায় পানিভীতি কাটানোর উপায়: গোসল হবে এখন উপভোগ্য
- শীতের রাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট: ইনহেলার না থাকলে যা করা জরুরি
- নাগরিকত্ব পেতে চান? জানুন কোন কোন দেশে খুব সহজে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়
- শুরু হচ্ছে কৃষি গুচ্ছের ভর্তি যুদ্ধ: শেষ সময়ের প্রস্তুতি জানুন
- তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চলবে ধার করা কয়লায়, নজিরবিহীন সংকটে পায়রা
- অবহেলার জবাব মাঠেই দিলেন মাহমুদউল্লাহ
- গয়না কেনার আগে দেখে নিন আজ কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে দেশে
- আমরা থানা পুড়িয়েছি ও এসআইকে জ্বালিয়ে দিয়েছি: বৈষম্যবিরোধী নেতা
- শূন্য চেয়ারপারসন পদ: তারেক রহমানই কি এখন বিএনপির নতুন প্রধান?
- আবহাওয়া অফিসের বড় দুঃসংবাদ, ধেয়ে আসছে হাড়কাঁপানো তীব্র শীত
- ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে সরাবার চাল : ইরাকের মতো ডুববে কি আমেরিকা?
- অবশেষে অবসান হলো অপেক্ষার: বিশেষ আহ্বান নিয়ে হাজির ড. ইউনূস
- আজ ৩ জানুয়ারি ২০২৬ ও জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি
- আজ শনিবার ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- এক লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রে মাসিক মুনাফা কমল যত
- শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- পেটের আলসার: কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
- সংসদের বেতন ছাড়া কিছুই নেব না: হাসনাত
- বিয়ের আগে পুরুষদের ত্বক উজ্জ্বল রাখার সহজ উপায়
- ৯ম পে স্কেলে আমূল পরিবর্তন, সরকারি চাকরিতে বেতনে বড় সুখবর
- পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় সুখবর
- এমবিবিএস-বিডিএস ভর্তি পিছাল, নতুন তারিখ ঘোষণা
- সাধারণের নাগালের বাইরে সোনার বাজার: মধ্যবিত্তের সোনা কেনার স্বপ্ন কি তবে শেষ
- আজকের স্বর্ণের দাম: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- সোনার বাজারে সুখবর! কমল দাম যত
- ঢাকা-১৫ জামায়াত আমিরের বিপক্ষে নামলেন যে বিএনপি প্রার্থী
- ২০২৬ সালে স্কুলে ছুটি কমলো ১২ দিন, দেখে নিন তালিকা
- হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশা থেকে মুক্তি কবে? যা জানাল আবহাওয়া অফিস
- ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা: আজই দেখে নিন রুটিন
- ই-রিটার্ন দাখিলে আর বাধা নেই: বড় সুখবর দিল রাজস্ব বোর্ড আজ
- বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় রেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
- ২৯ ডিসেম্বর ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরহারানো শেয়ার
- ২৯ ডিসেম্বরের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়








