দিল্লির ‘কাঁটা’ শেখ হাসিনা, সম্পর্কে টানাপোড়েন কতদিন?

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতেই অবস্থান করছেন। এখন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারত বাংলাদেশের কাছে ফেরত দেবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে চলছে নানা বিশ্লেষণ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা সম্প্রতি এ নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে সীমা আখতার নামের ২৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী ফুটবল অনুশীলনের সময় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের খবর পান। তার কাছে এই রায়টি ন্যায়বিচারের এক মুহূর্ত বলে মনে হয়েছে। গত বছর শেখ হাসিনার নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে সীমার কয়েকজন বন্ধুও নিহত হয়েছিলেন। সীমা আল-জাজিরাকে বলেন, ক্ষমতাচ্যুত শাসক ভেবেছিলেন তাকে কখনোই পরাজিত করা যাবে না এবং তিনি চিরকাল ক্ষমতায় থাকবেন। এই মৃত্যুদণ্ড শহীদদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় পদক্ষেপ। তবে তিনি মনে করেন, শুধু সাজা ঘোষণাই যথেষ্ট নয়, এই রায় কার্যকর হতে দেখতে চান তারা।
শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত তাতে সাড়া মেলেনি। গত ১৫ মাস ধরে বিষয়টি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় এই উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও ভারত শেখ হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী, তবুও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নয়াদিল্লি সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি করতে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে—এমন দৃশ্য কল্পনা করা কঠিন।
ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী প্রশ্ন তুলেছেন, নয়াদিল্লি কীভাবে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে? শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার এবং ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর তিনি টানা ১৫ বছর দেশ শাসন করেন। তার শাসনামলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর অধিকাংশই বিরোধী দল বর্জন করেছিল অথবা প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পায়নি। এই সময়ে হাজার হাজার মানুষকে গুম ও বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। যদিও হাসিনা সরকার অর্থনৈতিক সাফল্যকে পুঁজি করে তাদের শাসনের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হলে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন অভিযানের পর তা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলনের তীব্রতায় ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই সরকার ভারতের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তির কথা উল্লেখ করে বলেছে, হাসিনাকে ফেরত পাঠানো নয়াদিল্লির জন্য আবশ্যিক দায়িত্ব। ভারত যদি তাকে ক্রমাগত আশ্রয় দিয়ে যায়, তবে তা হবে অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ পদক্ষেপ।
তবে ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভিন্ন মত পোষণ করছেন। নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঞ্জয় ভরদ্বাজ মনে করেন, ভারত এই ঘটনাকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক শক্তির প্রতিশোধ হিসেবে দেখছে। তার মতে, নয়াদিল্লি মনে করে বর্তমানে বাংলাদেশে যারা ক্ষমতায় আছে, তারা ভারতবিরোধী। হাসিনাকে হস্তান্তর করার অর্থ হবে সেই 'ভারতবিরোধী শক্তিকে' বৈধতা দেওয়া। প্রত্যর্পণ চুক্তিতে 'রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের' ক্ষেত্রে যে ব্যতিক্রমী ধারার সুযোগ রয়েছে, ভারত সেটি ব্যবহার করতে পারে।
হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রায়ের বিষয়ে অবগত এবং বাংলাদেশের সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকবে। তবে বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক বেশ শীতল। ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী মনে করেন, বর্তমান সরকারের অধীনে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই যাবে। তবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সূচনা হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ভারতের জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, হাসিনার বিষয়ে ভারত একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। বাংলাদেশে তার প্রতি জনগণের ক্ষোভকে উপেক্ষা করা দিল্লির পক্ষে সম্ভব নয়। ভারত হয়তো চাইবে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরুক, কিন্তু বাস্তবতা হলো—হাসিনাকে আর কখনোই সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশে নেই বললেই চলে। তাই ভারতের উচিত ঢাকার অন্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা। তিনি আরও বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মিত্রতা আগের মতো না থাকলেও একে অপরের প্রতি শিষ্টাচার বজায় রাখা প্রয়োজন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও ব্যক্তিগত। ১৯৭৫ সালে পরিবারের সদস্যদের হত্যার পর তিনি ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ ছয় বছর সেখানে নির্বাসনে ছিলেন। তার শাসনামলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সমৃদ্ধ হয়েছিল। ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যখন তার পালানোর প্রয়োজন হয়, তখন ভারত তাকে আশ্রয় দেয়। পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর মতে, ভারত তাকে থাকতে দিয়েছে কারণ তখন আর কোনো বিকল্প ছিল না। বিশেষ করে এখন যখন তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে, তখন তাকে ফেরত পাঠানো ভারতের জন্য নৈতিকভাবে কঠিন।
ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক দক্ষিণ এশীয় বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, ভারতে শেখ হাসিনার উপস্থিতি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যে একটি 'কাঁটা' হয়ে থাকবে। তবে এর মাধ্যমে ভারত তার মিত্রদের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার প্রতিশ্রুতি পালন করতে সক্ষম হয়েছে। কুগেলম্যানের মতে, হাসিনার রাজনৈতিক প্রভাব এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা যায় না। দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে দেখা যায়, পরিবারকেন্দ্রিক দলগুলো কঠিন সময়ে পড়লেও পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায় না।
সূত্র: আল-জাজিরা
যুদ্ধ থামানোর নতুন কৌশল? মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবসায়ীদের নজর রাশিয়ার লুকঅয়েলে
ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান নেপথ্য আলোচনায় এবার স্থান পেয়েছে বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল তেল চুক্তির পরিকল্পনা। প্রস্তাবিত এই সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় রাশিয়ার অন্যতম প্রধান জ্বালানি প্রতিষ্ঠান 'লুকঅয়েল'-এর মালিকানাধীন বিশ্বজুড়ে থাকা বিভিন্ন লাভজনক তেলক্ষেত্র, আন্তর্জাতিক শোধনাগার এবং পেট্রোল পাম্প নেটওয়ার্ক অধিগ্রহণের নতুন কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সুযোগ উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। এতে বিশেষ সুবিধা পেতে পারে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, যাদের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করা প্রধান দুই আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের পরিবারের সরাসরি ব্যবসায়িক লেনদেনের সম্পর্ক বিদ্যমান।
শনিবার (৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিশেষ আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে এনেছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত অবকাঠামো অধিগ্রহণের আলোচনায় মার্কিন বিলিয়নেয়ার বিনিয়োগকারী টড বোয়েলি, মধ্যপ্রাচ্যের দুটি প্রভাবশালী ব্যবসায়িক বিনিয়োগ গোষ্ঠী এবং স্বয়ং মার্কিন সরকারের একটি বিশেষ সরকারি সংস্থার প্রত্যক্ষ যুক্ততার কথা বলা হয়েছে। তবে পুরো লেনদেন ও যৌথ অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াটি আইনিভাবে কার্যকর হতে হোয়াইট হাউস তথা মার্কিন প্রশাসন ও ক্রেমলিনের চূড়ান্ত যৌথ অনুমোদনের আইনি বাধ্যবাধকতা থাকবে।
উক্ত গোপন আলোচনার বিষয়ে ওয়াকিবহাল কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর মস্কোর ক্রেমলিনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পুতিন নিজেই স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের কাছে লুকঅয়েল সম্পর্কিত এই তেল চুক্তির রূপরেখাটি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন।
আলোচনার বিষয়ে অবগত এক সূত্র দাবি করেছে, এই ধরনের কৌশলগত তেল চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে যুদ্ধ সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বৈশ্বিক আর্থিক সমন্বয় ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইতিবাচক চিত্র নিজ দেশের নাগরিকদের সামনে তুলে ধরতে চান পুতিন।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে লুকঅয়েল এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার অধীনে বিশ্বের বহু দেশে বিলিয়ন ডলার মূল্যের বিপুল প্রাকৃতিক জ্বালানি সম্পদ ও বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক বিদ্যমান। তবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটির বিষয়ে হোয়াইট হাউস, মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট এবং রাষ্ট্রীয় বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে লুকঅয়েল কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো সুনির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থেকেছে।
/আশিক
ওয়াশিংটনের খবরকে মিথ্যা আখ্যা দিল তেহরান, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন আরাগচির
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন শেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইরানি কূটনীতিকদের বের করে দেওয়া বা বহিষ্কারের দাবিকে ভিত্তিহীন ও ভুয়া খবর বলে আখ্যা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই অধিবেশনে যোগ দেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা স্বদেশে ফিরে গেছেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) প্রকাশিত ওই পোস্টে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আরাগচি স্পষ্ট করেন যে, আগের দিন আগেই চলে যাওয়া একজন সদস্য ছাড়া জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশ নেওয়া দলের সব ইরানি কূটনীতিক তাদের পূর্বনির্ধারিত ফ্লাইট সূচি মেরেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছেন। ফলে কাউকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া কিংবা সময়সীমা অমান্য করে অবস্থান করার যেসব সংবাদ রটানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ অবাস্তব। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও পররাষ্ট্র দপ্তরের সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছিল যে, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী মিশন ও সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আসা দুই প্রতিনিধিকে দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশ প্রদান করা সত্ত্বেও তারা মার্কিন আদেশ অমান্য করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার বা বের করে দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি ও প্রচারণাকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে আরাগচি বলেন, এ ধরনের কাল্পনিক বহিষ্কারের ঘটনা সাজিয়ে গৌরব অনুভব করা কোনো দেশের শীর্ষ কূটনৈতিক প্রধানের জন্য অনুচিত। এটিকে ওয়াশিংটনের ‘হতাশা ও কূটনৈতিক পরাভব’-এর স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, জাতিসংঘের স্বাগতিক দেশ (হোস্ট কান্ট্রি) হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ও আইনি নীতি মেনে চলা উচিত। ভুয়া তথ্যের আশ্রয় নিয়ে এমন প্রচারণা জাতিসংঘের স্বাগতিক রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব ও বৈশ্বিক নিয়মনীতির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে তেহরান।
সূত্র: আল-জাজিরা
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি তে যোগ দিতে চায় ৬টিরও বেশি দেশ, জানালেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী
চলতি বছরের আগস্টে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে সদস্যপদ গ্রহণে ইতোমধ্যে ছয়টির বেশি রাষ্ট্র তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন কূটনৈতিক অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানান, এই চুক্তিটি সম্পূর্ণ রূপেই একটি আত্মরক্ষামূলক প্রতিরক্ষা কাঠামো। তবে চুক্তির অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন কোনো দেশকে এই সামরিক জোটে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে জোটভুক্ত মূল তিন দেশ—তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সর্বসম্মত অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
উল্লেখ্য, গত আগস্টে পবিত্র মক্কা নগরীতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যে এক ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠকে এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মূল নীতি অনুযায়ী, জোটভুক্ত তিন দেশের যেকোনো একটির আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব বা ভূখণ্ডের ওপর হামলা চালানো হলে তা সমগ্র জোটের ওপর যৌথ আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
একই সাথে খুব দ্রুতই সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এই যৌথ প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম উচ্চপর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উক্ত বৈঠকে সদস্য তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানেরা সার্বিক কৌশলগত সামরিক রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করবেন। সম্প্রতি সৌদি ভূখণ্ডে ইয়ামানের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সম্পন্ন করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে তারা সৌদি আরবের সাথে হুথিদের দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাতের স্থায়ী রাজনৈতিক নিষ্পত্তি দেখতে আগ্রহী। জবাবে ইসহাক দার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মুসলিম উম্মাহর সুরক্ষায় গঠিত এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি রক্ষায় ইসলামাবাদ পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি ওই বৈঠকে হুথি কিংবা ইরাকের স্থানীয় শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে তাদের নিজস্ব কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই বলে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে ইরান।
সূত্র: তুর্কিয়ে টুডে।
নতুন স্যাটেলাইটের নির্মাণ শেষ করে মহাকাশ বিজ্ঞানে তেহরানের বড় সাফল্য
রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি এবং স্থানিক পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে ‘পায়া’ স্যাটেলাইটের অত্যাধুনিক সংস্করণ ‘পার্স-২’-এর নির্মাণকাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার দাবি করেছে ইরান। তিন মিটারের চেয়েও উচ্চ রেজ্যুলেশনের সুনির্দিষ্ট ছবি ধারণে সক্ষম এই উপগ্রহটিকে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎক্ষেপণের কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ‘মহাকাশ সপ্তাহ’ উদযাপনের অংশ হিসেবে ইরানের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে দেশটির মহাকাশ সংস্থার (আইএসএ) প্রধান হাসান সালারিয়া এই স্যাটেলাইট সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।
ইরানি মহাকাশ সংস্থার প্রধান হাসান সালারিয়া জানান, প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী লজিস্টিকস মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির মহাকাশ খাতে অভাবনীয় অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বিশেষ করে গত দুই বছরে অর্জিত সাফল্যকে তিনি একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড এবং দেশের মহাকাশ শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে আখ্যা দেন।
অনুষ্ঠানে সালারিয়া আরও প্রকাশ করেন যে, ইরানের নির্মিত প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ ‘নাহিদ-২’ সফলভাবে মহাকাশের কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে এবং এর অধিকাংশ কারিগরি পরীক্ষাই সফল হয়েছে। ইরানিয়ান স্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও বিভিন্ন গবেষক দলের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই প্রজেক্টের সফলতার পর এখন নাহিদ-২-এর আরও শক্তিশালী ও নতুন সংস্করণ তৈরির কাজ এগিয়ে চলেছে।
উৎক্ষেপণযান ও কক্ষপথ স্থানান্তরের সক্ষমতার বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ‘কায়েম-১০০’ এবং ‘চামরান’ স্যাটেলাইটের সফলতার পর বর্তমানে ‘সিমোর্গ’ রকেটের মাধ্যমে ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে ভারী পেলোড ও স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া উচ্চতর কক্ষপথে উপগ্রহ স্থানান্তরের প্রযুক্তি ‘সামান’ অরবিটাল ট্রান্সফার ব্লকের সফটওয়্যার পরীক্ষাও সফল হয়েছে।
ইরানের মহাকাশ কর্মসূচির ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে সালারিয়া জানান, পার্স-২ স্যাটেলাইটের চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার পাশাপাশি ‘শহীদ সোলেমানি কনস্টেলেশন’ প্রকল্পের নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। টেলিযোগাযোগ, রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি, ভারী উৎক্ষেপণযান এবং নিজস্ব স্যাটেলাইট কনস্টেলেশন তৈরির মাধ্যমে ইরান তার মহাকাশ প্রযুক্তিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কৌশল বাস্তবায়ন করছে।
/আশিক
শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কড়া বার্তা
গত জুনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত অন্তর্বর্তী সমঝোতার সাতটি সুনির্দিষ্ট শর্ত শতভাগ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। রোববার (৪ অক্টোবর) দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ একটি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তেহরানের এই কঠোর মনোভাবের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরআইবিতে সম্প্রচারিত বক্তব্যে স্পিকার গালিবাফ বলেন, এই ইস্যুতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান সম্পূর্ণ অস্পষ্টতাহীন ও সুদৃঢ়। ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের অধীনে নির্ধারিত শর্তাবলি পুরোপুরি কার্যকর না করা পর্যন্ত ওই কৌশলগত সমুদ্রপথে কোনো নৌযান স্বাভাবিকভাবে চলাচলের সুযোগ পাবে না।
এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন চলাকালে ইরান একটি আন্তর্জাতিক প্রস্তাব পেশ করে, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে নির্দিষ্ট দাবিগুলো পূর্ণ হলে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব। পরবর্তীতে গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন সেই প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব পাঠায়।
আলোচনা প্রক্রিয়ায় ইরানের প্রধান রূপকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা গালিবাফ মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, কূটনীতিকে কৌশলে দীর্ঘায়িত করা কিংবা তেহরানের ওপর একতরফা অনুশাসন চাপিয়ে দেওয়ার দিন পার হয়ে গেছে।
একই দিন এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক প্রস্তাবে তাদের নিজস্ব অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, কাতারসহ মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান তাদের নীতিগত জবাব পৌঁছে দিয়েছে, যদিও ওয়াশিংটনকে এখনো কিছু বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বার্তা দেওয়া বাকি রয়েছে।
মুখপাত্র বাঘাই আরও জানান, পারমাণবিক কর্মপদ্ধতি সহ মূল অনুচ্ছেদগুলোতে আমেরিকার আগের মনোভাবের বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে ইরান স্পষ্টভাবে তাদের অগ্রাধিকার হরমুজ প্রণালির নিরাপদ চলাচলের ওপর নিবদ্ধ রেখেছে, যেখানে নৌপথটিতে নিরাপত্তা বজায় রাখতে মার্কিন পক্ষকে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই মুখপাত্র একই সাথে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই দাবি খারিজ করে দেন, যেখানে বলা হয়েছিল জাতিসংঘের পরমাণু তদারকি সংস্থাকে তাদের স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়ার শর্তে ইরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব রেখেছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে পারমাণবিক বিষয়াদিতে মার্কিন প্রশাসনের সাথে তেহরানের নতুন করে কোনো কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।
এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা সম্পর্কে অবগত এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, নথিতে মূলত একটি সাত দিনের সময়সীমাভিত্তিক আস্থাবর্ধক প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যার মূল উদ্দেশ্য জুন মাসের চুক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করা। এতে পারমাণবিক পদক্ষেপের বিষয়সমূহ থাকলেও, কোন শর্ত আগে বাস্তবায়িত হবে তা নিয়েই মূল দরকষাকষি আটকে রয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি দুই সামরিক যানের সংঘর্ষ
দক্ষিণ লেবাননে সামরিক কার্যক্রম চলাকালে দুটি সামরিক যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত আটজন ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছেন। দখলদার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে আহতদের আঘাত গুরুতর নয় এবং তারা সবাই হালকা আঘাত পেয়েছেন। তবে প্রকাশিত তথ্যের সত্যতা ও ব্যাপ্তি নিয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সন্দেহ প্রকাশ করেছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী রাব আল-থালাথিন গ্রামের নিকটবর্তী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে, যেখানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দুটি যান একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকায় দ্রুত উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা তৎপরতা শুরু করা হয়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আহত আট সেনার মধ্যে ছয়জনকে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও তাদের চিকিৎসার হালনাগাদ কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। বাকি দুই সেনাকে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও সামরিক সূত্রে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।
নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে কীভাবে দুটি সামরিক যান মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হলো, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ঘটনার আসল কারণ খতিয়ে দেখতে ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার সামরিক উপস্থিতি ও সীমান্ত চলাচলের মধ্যেই এই ঘটনাটি ঘটে। এর ফলে সামরিক বহরের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়, ড্রাইভিং নিরাপত্তা এবং সার্বিক চলাচলের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সামরিক বাহিনী অবশ্য ইঙ্গিত দিয়েছে যে ঘটনাটি সম্পূর্ণ একটি কারিগরি দুর্ঘটনা এবং এর সঙ্গে কোনো প্রতিপক্ষের হামলা বা প্রত্যক্ষ সামরিক লড়াইয়ের সম্পর্ক নেই। পরিস্থিতি পুরোপুরি খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
/আশিক
চ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতে চরম উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি
স্ট্র্যাটেজিক জলপথ হরমুজ প্রণালির কাছে ওমানের উপকূল থেকে প্রায় চার নটিক্যাল মাইল পূর্বে একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত লেগেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) শনিবার এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইউকেএমটিও সূত্রে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকারটির মাস্টার জানিয়েছেন যে প্রজেক্টাইলটি জাহাজটির বাম পাশে বা পোর্ট সাইডে এসে আঘাত হানে। হামলায় জাহাজের কোনো ক্রু হতাহত হননি এবং তারা সবাই নিরাপদে আছেন। তবে এই আকস্মিক ঘটনার পর পুরো প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার প্রভাবে সমুদ্রে কোনো তেল ক্ষরণ ঘটেনি এবং পরিবেশগত কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আলামত পাওয়া যায়নি। তবে কোন উৎস থেকে এই প্রজেক্টাইলটি ছোঁড়া হয়েছিল বা কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনা হরমুজ প্রণালির সমুদ্রপথে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তার ওপর নতুন করে গভীর আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে। এর ঠিক আগের দিন শুক্রবারেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে অতিক্রম করার সময় আরও একটি তেলবাহী ট্যাংকার অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যার ফলে ওই জাহাজে সাময়িকভাবে আগুন ধরে যায় ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে জাহাজের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন এবং ট্যাংকারটি তার নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখে। শুক্রবারের সেই ঘটনাতেও কোনো হতাহত বা পরিবেশগত বিপর্যয়ের খবর পাওয়া যায়নি।
ইউকেএমটিও জানিয়েছে যে পরপর দুটি হামলার ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও পার্শ্ববর্তী সমুদ্রসীমায় চলাচলকারী প্রতিটি বাণিজ্যিক জলযানকে চরম সতর্কতা অবলম্বন করার এবং কোনো ধরনের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
/আশিক
একদিনেই ৬১ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি: ফের ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি ইলন মাস্ক
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিবর্গকে পেছনে ফেলে ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ আবারও ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলারের অনন্য মাইফলকের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। শুক্রবার মাত্র একদিনের ব্যবধানে তার সম্পদ ৬১ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনৈতিক সাময়িকী ফোর্বস-এর রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকার শুক্রবারের (২ অক্টোবর) তথ্য অনুযায়ী, তার বর্তমান নিট সম্পদের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৯৭ হাজার ৯৭০ কোটি ডলারে।
মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদে এই হঠাৎ বড় ধরনের লাফ দেওয়ার নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে তার মহাকাশ গবেষণা ও স্যাটেলাইট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং ইলেকট্রিক গাড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানি টেসলার শেয়ারের চড়া মূল্যবৃদ্ধি।
শুক্রবার বাজারে লেনদেন চলাকালে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৭ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ১৫৮ দশমিক ৮৪ ডলারে গিয়ে পৌঁছে। মূলত বিগত ২৪ ঘণ্টায় সংস্থাটি বেশ কয়েকটি মহাকাশযান সফলভাবে কক্ষপথে উৎক্ষেপণ করায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। একই দিনে টেসলার শেয়ারের দামও প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭১ দশমিক ৩২ ডলারে উন্নীত হয়।
টেসলার শেয়ার দর বাড়ার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি সরবরাহের নতুন প্রান্তিক প্রতিবেদন। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে টেসলা মোট ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫৩২টি গাড়ি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে, যা বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বানুমানের চেয়ে অনেক বেশি। এর ফলে টানা তৃতীয় বছরের মতো বিশ্ববাজারে গাড়ি সরবরাহ কমে যাওয়ার যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন বিনিয়োগকারীরা।
শুক্রবার একদিনে ইলন মাস্কের সম্পদে যে পরিমাণ আর্থিক সংযোজন ঘটেছে, বাংলাদেশী মুদ্রায় হিসেব করলে তার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ঘোষিত বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের আকার হচ্ছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ কেবল একদিনে মাস্কের অর্জিত সম্পদের পরিমাণ বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেট বরাদ্দের প্রায় ৮০ শতাংশের সমতুল্য।
ফোর্বসের রিয়েলটাইম তথ্যমতে, শীর্ষ ধনীর তালিকায় ইলন মাস্ক নিজের এক নম্বর স্থানটি মজবুতভাবে ধরে রেখেছেন। এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে অবস্থান করছেন ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, যার আনুমানিক নিট সম্পদের পরিমাণ ৩৭০ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৩৭ হাজার ৭০ কোটি ডলার।
এর আগেও একাধিকবার ১ ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। চলতি বছরের গত ১২ জুন তিনি স্বল্প সময়ের জন্য বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে রেকর্ড গড়েছিলেন, যেদিন তার মোট সম্পদ ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি ডলারে গিয়ে পৌঁছেছিল।তখন মূলত স্পেসএক্সের পাবলিক শেয়ারের দরবৃদ্ধির ওপর ভর করেই মাস্কের সম্পদ লাফিয়ে বাড়ে।
গত জুন মাসে স্পেসএক্সের প্রতিটি শেয়ার ১৫০ ডলারে লেনদেন শুরু হলে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক বাজারমূল্য প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার স্পর্শ করে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাবে মাস্ক ট্রিলিয়নিয়ারের ক্লাবে প্রবেশ করেন। তবে সেই স্থায়িত্ব বেশিদিন টেকেনি; জুনের শেষভাগে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ৩১ শতাংশ কমে গেলে মাস্ক সেই অভিজাত খেতাব হারান। একই সময় টেসলার সাথে সম্পাদিত একটি চুক্তির কারণে ফোর্বস তার হিসাব থেকে মাস্কের ১১৬ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের শেয়ার সাময়িকভাবে বাদ দেয়।
পরবর্তীতে ২৯ জুন তিনি আবার স্বল্প সময়ের জন্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করলেও ১ জুলাই স্পেসএক্সের বাজারদর পুনরায় পড়ে যাায়। এমনকি জুলাই মাসে স্পেসএক্সের শেয়ার সর্বোচ্চ স্তর থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ নেমে এলে তার মোট সম্পদ কমে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের নিচে চলে গিয়েছিল।তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্পেসএক্স ও টেসলা—উভয় প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে পুনরায় চাঞ্চল্য ফেরায় মাস্কের সম্পদ আবারও দ্রুত গতিতে বাড়তে শুরু করেছে। আর এরই ধারাবাহিকতায় তিনি আবারও ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের দোরগোড়ায় উপনীত হয়েছেন।
/আশিক
আমি সবসময় এরদোয়ানকে খুশি রাখব: নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
তুরস্কের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ইস্যুকে কেন্দ্র করে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার তুরস্কের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে কেন বিলম্ব হচ্ছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি সবসময় প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে খুশি রাখার পক্ষপাতী। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে নিজের একজন ভালো বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জানান যে, তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হয়। তবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও ঠিক কবে নাগাদ এই নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়া হবে, সে সম্পর্কে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি জানাননি।
এর আগে গত জুলাইয়ে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের এক ফাঁকে রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, 'কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্ট' বা সিএএটিএসএ-এর অধীনে তুরস্কের ওপর যে বিধিনিষেধ চাপানো হয়েছে, তা অপসারণ করা হবে। এর পাশাপাশি তুরস্কের কাছে উন্নতমানের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার আশ্বাসও দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
উল্লেখ্য, রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে ২০১৯ সালে তুরস্ককে তাদের কাঙ্ক্ষিত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান যৌথ উৎপাদন ও সরবরাহ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তখন যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, রাশিয়ান এই সামরিক প্রযুক্তি এফ-৩৫ এর মতো পশ্চিমা যুদ্ধবিমানের জন্য নিরাপত্তাগত ঝুঁকি তৈরি করে এবং এটি ন্যাটোর সার্বিক সামরিক কাঠামোর সঙ্গে মোটেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
পরবর্তীকালে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে মার্কিন প্রশাসন কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্টের আওতায় তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প খাত এবং বেশ কয়েকজন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই পদক্ষেপের ফলে দেশটির জন্য মার্কিন রপ্তানি লাইসেন্স লাভ এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে আঙ্কারার অবস্থান ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে দাবি করে, নিজস্ব জরুরি আকাশ প্রতিরক্ষা প্রয়োজনীয়তা মেটাতেই তারা বাধ্য হয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ব্যবস্থা সংগ্রহ করেছিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং এফ-৩৫ প্রকল্পে আঙ্কারার পুনর্বাসন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
পাঠকের মতামত:
- বয়স বাড়ার সাথে পুরুষদের টেস্টোস্টেরন হরমোন হ্রাস: চেনার ৯টি লক্ষণ
- যুদ্ধ থামানোর নতুন কৌশল? মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবসায়ীদের নজর রাশিয়ার লুকঅয়েলে
- দক্ষতা উন্নয়নে সেনাবাহিনী কর্তৃক নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে দর্জি প্রশিক্ষণ-২০২৬ উদ্বোধন
- বিইআরসির নতুন দর: আজ সন্ধ্যা থেকেই অটোগ্যাস ও এলপিজি সিলিন্ডারের দামে বড় লাফ
- ওয়াশিংটনের খবরকে মিথ্যা আখ্যা দিল তেহরান, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন আরাগচির
- কুষ্টিয়ায় লালন শাহের মাজারে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা
- বয়স বাড়লেই বাড়ে ঝুঁকি, জেনে নিন প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার মূল কারণ ও প্রতিকার
- সপ্তাহজুড়ে ধারাবাহিক ওঠানামার পর স্বর্ণের বাজার আবার ঊর্ধ্বমুখী
- মোস্তাফিজের বাজে ওভার ও অদ্ভুত কৌশলগত ভুলে ক্ষুব্ধ ক্রিকেট অঙ্গন
- প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমেই শেখ হাসিনাকে ফেরানো সম্ভব, আশাবাদী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- আশ্বিনের আবহাওয়ায় নতুন বদল, চার দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস জারি
- মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি তে যোগ দিতে চায় ৬টিরও বেশি দেশ, জানালেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- নতুন স্যাটেলাইটের নির্মাণ শেষ করে মহাকাশ বিজ্ঞানে তেহরানের বড় সাফল্য
- প্রতিটি জেলা ও সিটি কর্পোরেশনে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশব্যাপী মেগা প্রকল্পের সিদ্ধান্ত
- শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কড়া বার্তা
- আবারও বাড়ল এলপিজির দাম, নতুন দর ঘোষণা করল বিইআরসি
- পূর্ণ ক্ষমতায় রামপালের দুই ইউনিট, জাতীয় গ্রিডে রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ
- ডিজিটাল হচ্ছে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন
- দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি দুই সামরিক যানের সংঘর্ষ
- মহাকাশ থেকে ভেসে এলো নতুন সংকেত: বহির্বিশ্বের গ্রহ থেকে প্রথম রেডিও তরঙ্গ শনাক্ত
- দক্ষিণ এশিয়ার মাটিতে বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা
- বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তাই এখন নতুন স্বাভাবিক: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু
- ইসলামাবাদ লং মার্চ বাতিল ও ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে সরগরম পাকিস্তান রাজনীতি
- দলীয় পরিচয় নিয়ে স্পষ্ট বার্তা: আখতারুজ্জামানকে নেতা মানতে রাজি নয় জামায়াত
- শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরার বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া প্রকাশ
- বয়স কেবল সংখ্যা মাত্র, বৈশ্বিক মঞ্চে ফের চমক প্রবীণ অভিনেত্রীর
- আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরকারেরই গোপন যোগাযোগ রয়েছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার
- চ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতে চরম উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি
- ফুটবলের নতুন ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত কলকাতার ক্রীড়াঙ্গন
- একদিনেই ৬১ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি: ফের ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি ইলন মাস্ক
- দিল্লিতে ফের বড় ধরনের রাজনৈতিক উত্তাপ ও বিক্ষোভ
- জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে মানবিক প্রয়াসে শীর্ষ নেতৃত্বের সহধর্মিণীরা
- ট্রাম্পের নৈশভোজের বিশেষ মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আমি সবসময় এরদোয়ানকে খুশি রাখব: নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
- ‘আমরা শেখ হাসিনাকে নিয়ে যাইনি’: ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর স্পষ্ট বক্তব্য
- বিশ্বজুড়ে ডিজেলের চরম সংকটের আশঙ্কা, বৈশ্বিক সরবরাহ ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের তড়িঘড়ি
- প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে তোলপাড় দিল্লি, যন্তর মন্তরে বন্ধ ইন্টারনেট
- পরমাণু অস্ত্রসহ সব ধরণের অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি পুতিনের
- ফেডের সিদ্ধান্তের আগে ডলারের সূচকে পতন, স্বর্ণের বাজারে নতুন মোড়
- ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে ৩৫ যাত্রীকে রক্ষা, প্রাণ গেল চালকের
- লন্ডনে সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের উপস্থিতিতে গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময়
- খানাখন্দে ভরা সড়কের দিন শেষ: এমপি হাসনাত আবদুল্লাহর বরাদ্দে পাকা হচ্ছে ইউছুফপুর সড়ক
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সম্পদ ও মামলা নিয়ে এনসিপি নেতার বিস্ফোরক পোস্ট
- ১৪তম ওয়ানডে বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ও ভেন্যু ঘোষণা
- মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মাঝে ইয়েমেনে নতুন করে বিমান হামলা শুরু
- 'বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশোধ ঠান্ডা মাথায় ভালো': রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার পর বোনের বিস্ফোরক মন্তব্য
- শপথ নেওয়ার পরের দিনগুলোর বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন ড. আসিফ নজরুল
- ৯টি প্রাকৃতিক সীমানার ৭টিই অতিক্রম করেছে মানুষ, ধেয়ে আসছে অপূরণীয় পরিবেশ বিপর্যয়
- ৩ মাসের মধ্যে দেশ থেকে কিশোর গ্যাং উৎখাতের ঘোষণা চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির
- জনপ্রীয়তায় শীর্ষে ভাড়াশিমলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বিশ্বাস
- পৈতৃক জমির ওপর পিচঢালাই রাস্তার আশঙ্কায় আইনি নোটিশ, যৌথ ভূ-জরিপের দাবি
- এশিয়ান গেমসের নকআউট পর্বের আগে বড় ধাক্কা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে
- চীনের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
- জাতীয় নাগরিক পার্টির বড় সিদ্ধান্ত: নতুন জাতীয় দায়িত্বে সারজিস আলম
- শেষ হলো ভোট গ্রহণ, ব্যালন ডি'অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে যারা
- প্রবীণদের বয়স্ক ভাতা বৃদ্ধি ও ফ্যামিলি কার্ডে সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- 'ছাত্ররা নামলেই গুলি করে মারা হবে' ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি চাইলেন জুলাইযোদ্ধা
- এশিয়ান গেমসে বৃষ্টির থাবা, সেমিফাইনালের আগে নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ
- আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও আমদানির নতুন সংকট: বিশেষ প্রতিবেদন
- বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উপকূলে নিম্নচাপ: জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের নতুন পাঁচ দিনের তথ্য
- আমরা তেল রফতানি করতে না পারলে মধ্যপ্রাচ্যের কেউ বিক্রি করতে পারবে না: ইরান
- টানা ৭ দিনের ছুটি পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা, সরকারি চাকরিজীবীদের ৫ দিন
- বিয়ে সাড়ে চার মাসের মাথায় বিয়োগান্তক পরিণতি: কড়া বিচারে কারাগারে গাজী নজরুল
- ইরানে আর কখনো বিদেশি আধিপত্য ফিরবে না, আরব সাগর থেকেও তাড়ানো হবে শত্রুদের: খামেনি








