দিল্লির ‘কাঁটা’ শেখ হাসিনা, সম্পর্কে টানাপোড়েন কতদিন?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ১৯ ১৪:৩৯:৫০
দিল্লির ‘কাঁটা’ শেখ হাসিনা, সম্পর্কে টানাপোড়েন কতদিন?
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতেই অবস্থান করছেন। এখন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারত বাংলাদেশের কাছে ফেরত দেবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে চলছে নানা বিশ্লেষণ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা সম্প্রতি এ নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে সীমা আখতার নামের ২৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী ফুটবল অনুশীলনের সময় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের খবর পান। তার কাছে এই রায়টি ন্যায়বিচারের এক মুহূর্ত বলে মনে হয়েছে। গত বছর শেখ হাসিনার নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে সীমার কয়েকজন বন্ধুও নিহত হয়েছিলেন। সীমা আল-জাজিরাকে বলেন, ক্ষমতাচ্যুত শাসক ভেবেছিলেন তাকে কখনোই পরাজিত করা যাবে না এবং তিনি চিরকাল ক্ষমতায় থাকবেন। এই মৃত্যুদণ্ড শহীদদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় পদক্ষেপ। তবে তিনি মনে করেন, শুধু সাজা ঘোষণাই যথেষ্ট নয়, এই রায় কার্যকর হতে দেখতে চান তারা।

শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত তাতে সাড়া মেলেনি। গত ১৫ মাস ধরে বিষয়টি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় এই উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও ভারত শেখ হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী, তবুও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নয়াদিল্লি সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি করতে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে—এমন দৃশ্য কল্পনা করা কঠিন।

ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী প্রশ্ন তুলেছেন, নয়াদিল্লি কীভাবে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে? শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার এবং ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর তিনি টানা ১৫ বছর দেশ শাসন করেন। তার শাসনামলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর অধিকাংশই বিরোধী দল বর্জন করেছিল অথবা প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পায়নি। এই সময়ে হাজার হাজার মানুষকে গুম ও বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। যদিও হাসিনা সরকার অর্থনৈতিক সাফল্যকে পুঁজি করে তাদের শাসনের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হলে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন অভিযানের পর তা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলনের তীব্রতায় ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই সরকার ভারতের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তির কথা উল্লেখ করে বলেছে, হাসিনাকে ফেরত পাঠানো নয়াদিল্লির জন্য আবশ্যিক দায়িত্ব। ভারত যদি তাকে ক্রমাগত আশ্রয় দিয়ে যায়, তবে তা হবে অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ পদক্ষেপ।

তবে ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভিন্ন মত পোষণ করছেন। নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঞ্জয় ভরদ্বাজ মনে করেন, ভারত এই ঘটনাকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক শক্তির প্রতিশোধ হিসেবে দেখছে। তার মতে, নয়াদিল্লি মনে করে বর্তমানে বাংলাদেশে যারা ক্ষমতায় আছে, তারা ভারতবিরোধী। হাসিনাকে হস্তান্তর করার অর্থ হবে সেই 'ভারতবিরোধী শক্তিকে' বৈধতা দেওয়া। প্রত্যর্পণ চুক্তিতে 'রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের' ক্ষেত্রে যে ব্যতিক্রমী ধারার সুযোগ রয়েছে, ভারত সেটি ব্যবহার করতে পারে।

হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রায়ের বিষয়ে অবগত এবং বাংলাদেশের সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকবে। তবে বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক বেশ শীতল। ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী মনে করেন, বর্তমান সরকারের অধীনে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই যাবে। তবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সূচনা হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ভারতের জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, হাসিনার বিষয়ে ভারত একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। বাংলাদেশে তার প্রতি জনগণের ক্ষোভকে উপেক্ষা করা দিল্লির পক্ষে সম্ভব নয়। ভারত হয়তো চাইবে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরুক, কিন্তু বাস্তবতা হলো—হাসিনাকে আর কখনোই সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশে নেই বললেই চলে। তাই ভারতের উচিত ঢাকার অন্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা। তিনি আরও বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মিত্রতা আগের মতো না থাকলেও একে অপরের প্রতি শিষ্টাচার বজায় রাখা প্রয়োজন।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও ব্যক্তিগত। ১৯৭৫ সালে পরিবারের সদস্যদের হত্যার পর তিনি ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ ছয় বছর সেখানে নির্বাসনে ছিলেন। তার শাসনামলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সমৃদ্ধ হয়েছিল। ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যখন তার পালানোর প্রয়োজন হয়, তখন ভারত তাকে আশ্রয় দেয়। পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর মতে, ভারত তাকে থাকতে দিয়েছে কারণ তখন আর কোনো বিকল্প ছিল না। বিশেষ করে এখন যখন তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে, তখন তাকে ফেরত পাঠানো ভারতের জন্য নৈতিকভাবে কঠিন।

ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক দক্ষিণ এশীয় বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, ভারতে শেখ হাসিনার উপস্থিতি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যে একটি 'কাঁটা' হয়ে থাকবে। তবে এর মাধ্যমে ভারত তার মিত্রদের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার প্রতিশ্রুতি পালন করতে সক্ষম হয়েছে। কুগেলম্যানের মতে, হাসিনার রাজনৈতিক প্রভাব এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা যায় না। দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে দেখা যায়, পরিবারকেন্দ্রিক দলগুলো কঠিন সময়ে পড়লেও পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায় না।

সূত্র: আল-জাজিরা


ট্রাম্প সীমা ছাড়লে রক্ষা পাবে না ইউরোপের লক্ষ্যবস্তুও: তেহরানের বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৯ ২০:০৩:১১
ট্রাম্প সীমা ছাড়লে রক্ষা পাবে না ইউরোপের লক্ষ্যবস্তুও: তেহরানের বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি চলমান সংঘাতের পরিধি আরও বাড়িয়ে দেন, তবে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইউরোপ মহাদেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও হামলা চালানোর চিন্তাভাবনা করছে ইরান। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

তেহরানের উচ্চপর্যায়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে পত্রিকাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করে, তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামোতে সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রগুলো ইতোমধ্যেই মূল্যায়ন করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় বুলগেরিয়ার মতো দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর নাম রয়েছে, যারা সম্প্রতি মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের জন্য নিজেদের বেজমিয়ার বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। এছাড়া সাইপ্রাসকেও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে চলতি বছরের মার্চে একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

কেবল ইউরোপের সামরিক স্থাপনাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে, যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির তলদেশে থাকা ফাইবার-অপটিক ক্যাবলগুলোতে আঘাত হানার পরিকল্পনাও খতিয়ে দেখছে ইরানি বাহিনী।

ইরানের সংশ্লিষ্ট সূত্রটি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছে, ট্রাম্প যদি ইরানের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোতে হামলা চালানোর হুমকি কার্যকর করেন, তবে আত্মরক্ষার্থে সংঘাত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখছে তেহরান। তাদের স্পষ্ট বার্তা—যুক্তরাষ্ট্র সীমা অতিক্রম করলে আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে ইউরোপ পর্যন্ত পাল্টা আঘাত হানা হবে।

এমন এক প্রেক্ষাপটে এই তথ্য প্রকাশ্যে এলো যখন হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে কূটনৈতিক আলোচনা কার্যত থমকে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন যে, তেহরানের সঙ্গে এই মুহূর্তে কোনো আলোচনা চলছে না এবং অদূর ভবিষ্যতেও বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই।

অপরদিকে ইরান আগেই ঘোষণা দিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালাতে যেসব ঘাঁটি ব্যবহার করা হবে, সেগুলোকেই সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের ভাণ্ডারে রয়েছে। উল্লেখ্য, সংঘাত নিরসনে গত জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও পারস্পরিক চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে তা ভেঙে পড়ে এবং নতুন কোনো সমঝোতার পথও তৈরি হয়নি।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


পাঁচ দশকের সব রেকর্ড ভাঙল হরমুজ সংকট, জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৮ ২০:০০:৫৫
পাঁচ দশকের সব রেকর্ড ভাঙল হরমুজ সংকট, জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ সালের মার্চে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্ব তেল সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কার সৃষ্টি হয়েছে। ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের প্রকাশিত তালিকার বরাতে ইরাকি বার্তা সংস্থা শাফাক নিউজ জানিয়েছে, এ সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ হ্রাস পায়।

গত পাঁচ দশকের বড় বড় যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক সংকটের তুলনায় বর্তমান হরমুজ সংকটের মাত্রা অনেক বেশি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৭৮-৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের সময় দৈনিক সরবরাহ কমেছিল প্রায় ৫৬ লাখ ব্যারেল, যা তালিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম সংকট। এছাড়া ১৯৭৩ সালের আরব তেল অবরোধ ও ১৯৯০ সালে কুয়েতে ইরাকের হামলার সময় দৈনিক সরবরাহ কমেছিল ৪৩ লাখ ব্যারেল করে। ১৯৮০-৮১ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধে ৪১ লাখ, ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধে ২৩ লাখ এবং ২০১১ সালের লিবিয়া গৃহযুদ্ধের সময় প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল দৈনিক তেল সরবরাহ হ্রাস পেয়েছিল।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর ইরানের আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। মাঝে ১৮ জুন সাময়িক সমঝোতায় নৌপথটি কিছুটা সচল হলেও সামরিক উত্তেজনা পুনরুজ্জীবিত হওয়ায় তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। তেহরান অবশ্য জোর দিয়ে দাবি করেছে, কৌশলগত এ জলপথটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতেই রয়েছে।

সূত্র: শাফাক নিউজ


মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মাঝে কিম জং উনের প্রতি ট্রাম্পের বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৮ ১৯:৩৭:৪০
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মাঝে কিম জং উনের প্রতি ট্রাম্পের বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার নতুন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই দ্বিমুখী কূটনৈতিক অবস্থানের তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিমের প্রশংসা করার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নির্ধারিত ১১ দিনের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিতে সিউলের অস্বীকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ঘোষিত ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। একই সময়ে তিনি কিমের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে ফেরার স্পষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

তবে বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচনা করছেন। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রবার্ট লিটওয়াক ও জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভিক্টর চা উল্লেখ করেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দ্বারপ্রান্তে থাকা ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন যখন যুদ্ধে লিপ্ত, তখন সরাসরি মার্কিন ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম পারমাণবিক শক্তিধর উত্তর কোরিয়ার নেতাকে তোষণের চেষ্টা করা চরম বৈপরীত্য।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাবেক কূটনীতিকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সমর্থনে সেনা পাঠানো এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া বর্তমান কিম জং উন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী নন। বরং ইরানের ওপর চলমান হামলা দেখে পিয়ংইয়ং এটিই বার্তা পাচ্ছে যে, আত্মরক্ষার জন্য পারমাণবিক শক্তি জোরদার করাই তাদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।

/আশিক


নেতাদের জুয়ার মূল্য নগদে শোধ করছে মার্কিন পরিবারগুলো: ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৭ ২১:৫০:৪৬
নেতাদের জুয়ার মূল্য নগদে শোধ করছে মার্কিন পরিবারগুলো: ইরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের নেওয়া বৈরী নীতির আর্থিক বোঝা ও মার্কিন নেতাদের ভুল সিদ্ধান্তের মূল্য এখন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ পরিবারগুলোকে দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির আন্তর্জাতিকবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতি। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ভূরাজনৈতিক ও আঞ্চলিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-এর বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ নীতির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে কথা বলেন ভেলায়াতি। তিনি উল্লেখ করেন, একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ নিয়ে গর্ব করছেন, অন্যদিকে স্বয়ং মার্কিন সিনেটর জন কর্নিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

১৯৫৩ সালের ১৯ আগস্ট (ইরানি ক্যালেন্ডারে ২৮ মোরদাদ) ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সংঘটিত অভ্যুত্থানের—যার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেকের নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল—৭৩তম বার্ষিকীর প্রাক্কালে ভেলায়াতি এ মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, সাত দশকেরও বেশি সময় পর আজ আঞ্চলিক ক্ষমতার সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গেছে এবং মার্কিন নেতাদের ঝুঁকিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির আর্থিক মাশুল সাধারণ আমেরিকান নাগরিকদেরই জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সরাসরি পরিশোধ করতে হচ্ছে।

সুত্র : আইআরএনএ


অবিলম্বে সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ করুক ইরান: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৭ ১৯:৩৪:৩২
অবিলম্বে সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ করুক ইরান: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে দেশটিকে কালবিলম্ব না করে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন, সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত না করে তেহরানের উচিত দ্রুত ‘আত্মসমর্পণের সাদা পতাকা’ তুলে ধরা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক ভূরাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করে ট্রাম্প জানান, বিদ্যমান বাস্তবতায় সংঘাত বাড়িয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং সংকট নিরসনে তেহরানের আত্মসমর্পণের পথ বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হবে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বার্তা বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে, যা বিশ্লেষকদের মতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও স্পর্শকাতর করে তুলতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা।


বরফ গলে নতুন রুট: সুয়েজ ও হরমুজকে কি টেক্কা দিতে পারবে চীন-রাশিয়া?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৭ ১৮:২৪:৫৪
বরফ গলে নতুন রুট: সুয়েজ ও হরমুজকে কি টেক্কা দিতে পারবে চীন-রাশিয়া?
ছবি : সংগৃহীত

সুয়েজ খাল ও হরমুজ প্রণালির ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং দীর্ঘ দূরত্বের বিকল্প হিসেবে আর্কটিক অঞ্চলের ‘নর্দার্ন সি রুট’ (এনএসআর) দিয়ে নিয়মিত বাণিজ্যিক জাহাজ পরিচালনা শুরু করেছে চীন। বরফাচ্ছাদিত রাশিয়ার উত্তর উপকূল ঘেঁষা ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নৌপথটি চীন ও ইউরোপের মধ্যকার সমুদ্রযাত্রার সময় প্রায় অর্ধেকে কমিয়ে আনলেও এর বিপরীতে পরিবেশগত বিপর্যয় ও নানামুখী পরিচালন ঝুঁকির প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।

চীনের শিপিং প্রতিষ্ঠান ‘সি লেজেন্ড’ সম্প্রতি এই পথে নিয়মিত কনটেইনার পরিবহন শুরু করেছে। প্রচলিত সুয়েজ খাল রুটে চীনের নিংবো-ঝৌশান বন্দর থেকে যুক্তরাজ্যের ফেলিক্সস্টো পৌঁছাতে যেখানে ৪০ দিনের বেশি সময় লাগে, সেখানে এই আর্কটিক রুটে সময় লাগছে মাত্র ১৮ দিন। যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত হওয়ায় এটি বিশেষ করে চীনের প্রধান রপ্তানি পণ্য—যেমন বৈদ্যুতিক যান (ইভি), লিথিয়াম ব্যাটারি ও সৌর প্যানেলের মতো তাপমাত্রাসংবেদনশীল পণ্যের দ্রুত সরবরাহে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

২০১৭ সালে ঘোষিত প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘পোলার সিল্ক রোড’ রূপরেখার অংশ হিসেবে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় থাকা রাশিয়ার সাথে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির ফলে রুটটির ব্যবহার গতি পেয়েছে। রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা 'রোসাটম' এই জলপথে জাহাজ চলাচলের অনুমতি ও পারমাণবিক শক্তিচালিত বরফভাঙা জাহাজের সহায়তা দিচ্ছে।

তবে সময় ও কার্বন নিঃসরণ কমার সুবিধার বিপরীতে পরিবেশবিদরা মারাত্মক আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। আর্কটিকের অতি সংবেদনশীল পরিবেশে কোনো জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তেল ছড়িয়ে পড়লে তা অপসারণ প্রায় অসম্ভব। ভারী জ্বালানি থেকে নির্গত কালো কার্বন বরফে জমে সূর্যের আলো শোষণ বাড়ায়, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও বরফ গলার গতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

এছাড়া যথাযথ বিমা ও তদারকিহীন রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা নিষেধাজ্ঞা এড়ানো প্রায় ১০০টি জাহাজের এই রুটে চলাচল ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, উদ্ধারকাজে দীর্ঘসূত্রতা ও সীমিত মৌসুমের কারণে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন—সম্ভাবনা থাকলেও এই মুহূর্তে নর্দার্ন সি রুট সুয়েজ খাল বা হরমুজ প্রণালির পূর্ণাঙ্গ বিকল্প হতে পারছে না।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


ট্রাম্পের মেয়াদে আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি: মার্কিন জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৬ ২১:৪৩:১৮
ট্রাম্পের মেয়াদে আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি: মার্কিন জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির অর্ধেকেরও বেশি নাগরিকের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সহায়তায় লন্ডনভিত্তিক অরাজনৈতিক গবেষণা সংস্থা ফোকালডাটা এই জরিপটি পরিচালনা করে।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ৫৩ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার জানিয়েছেন যে ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭ শতাংশ নির্দলীয় ভোটার এবং প্রায় এক-চতুর্থাংশ রিপাবলিকান সমর্থক রয়েছেন। এছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার মনে করেন মার্কিন অর্থনীতি বর্তমানে ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন এটি সঠিক পথে রয়েছে।

মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং কর্মসংস্থান মোকাবিলার ক্ষেত্রে ভোটাররা ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটদের ওপর বেশি আস্থা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকায় ৬৪ শতাংশ ভোটার সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সামগ্রিকভাবে প্রেসিডেন্টের কাজের প্রতি ৫৫ শতাংশ মানুষ অনাস্থা জানিয়েছেন এবং তাঁর নিজ দল রিপাবলিকানদের মধ্যেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ৮ শতাংশ পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে।

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে কাকে সমর্থন করবেন—এমন প্রশ্নে ৪৪ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩৯ শতাংশ রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। জরিপের বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা দলটির জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

মূল্যস্ফীতি ও প্রকৃত মজুরি হ্রাসের প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের অসন্তোষের মুখে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই। তিনি দাবি করেন, সরকার প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমানো, দেশে কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনা এবং কর হ্রাসের মাধ্যমে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে সরকার উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বলেও তিনি জানান।

গত ৭ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৯১৩ জন নিবন্ধিত ভোটারের মতামতের ভিত্তিতে এই জরিপটি পরিচালিত হয়।

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।


ইরানকে পরমাণু অস্ত্রহীন রাখতে বাড়তি তেলের দামও মেনে নেওয়া যায়: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৬ ১৮:২৫:২৪
ইরানকে পরমাণু অস্ত্রহীন রাখতে বাড়তি তেলের দামও মেনে নেওয়া যায়: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য মেনে নেওয়ার জন্য আমেরিকানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানকে ‘ভীষণ শয়তান’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নস্যাৎ করাই চলমান সামরিক অভিযানের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য।

অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে ওয়াশিংটনকে পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নেওয়ার বার্তা দিয়েছে তেহরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে স্পষ্ট করেছেন, যুদ্ধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে এবং এই জলপথ দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা ইরানবিরোধী সামরিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টির বেশি জাহাজ চলাচল করলেও শুক্রবার মাত্র দুটি জাহাজ এ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যার কোনোটিতেই অপরিশোধিত তেল ছিল না।

নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় গ্যাসোলিনের জন্য কিছুটা বাড়তি ব্যয় করা অযৌক্তিক নয়। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম ৪.০৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি। এই মূল্যবৃদ্ধি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ভোটারদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে। একই সময়ে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক সপ্তাহে ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই তেলের দাম ৫.৪ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ইরানেও অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভ্যন্তরীণ উচ্চ মূল্যস্ফীতির জন্য মার্কিন বন্দর অবরোধ ও তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করেছেন। বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট আগামী সপ্তাহেই তেহরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সার্বিকভাবে কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় জুনে যুদ্ধ বন্ধের যে আলোচনা চলছিল, তা এখন পুরোপুরি ভেস্তে গেছে।

সূত্র : রয়টার্স।


১৯৫৩ সালের পর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি? উত্তর কোরিয়ার কোর্টে বল ঠেলল দক্ষিণ কোরিয়া

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৫ ২০:২৭:১১
১৯৫৩ সালের পর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি? উত্তর কোরিয়ার কোর্টে বল ঠেলল দক্ষিণ কোরিয়া
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের বৈরিতা দূর করে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ সমাপ্তির লক্ষ্যে প্রতিবেশী উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং। ১৯৫৩ সালে একটি অস্ত্রবিরতি চুক্তির মাধ্যমে কোরীয় যুদ্ধ থামলেও, কৌশলগত ও কাগজে-কলমে উভয় দেশ এখনও যুদ্ধরত অবস্থায় রয়েছে। জাপানি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি দিবসের ভাষণে এই ঐতিহাসিক আহ্বান জানান তিনি।

প্রেসিডেন্ট লি উল্লেখ করেন, দুই দেশের অসামরিকীকৃত সীমান্ত এলাকায় (ডিএমজেড) যেকোনো ধরনের উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাত রোধে নতুন নিরাপত্তা রূপরেখা প্রণয়ন করা আবশ্যক। একই সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে সরাসরি আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। তার প্রশাসন চায় উভয় দেশই পারস্পরিক ক্ষতিসাধনের মনোভাব ত্যাগ করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতিতে ফিরে আসুক।

গত বছর সিউলের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উত্তর কোরিয়া ও চীনের সাথে কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন লি জে-মিয়ং। ২০২২ সালে পিয়ংইয়ং নিজেদেরকে পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেয় এবং কোনো অবস্থাতেই নিরস্ত্রীকরণে যাবে না বলে কঠোর অবস্থানে থাকে। অবশ্য প্রেসিডেন্ট লি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার মতো বাস্তবসম্মত চুক্তিতে তার সরকার সমর্থন দিতে প্রস্তুত।

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার এই শান্তি প্রস্তাবের ব্যাপারে পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। বরং প্রস্তাবের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার সমুদ্র অভিমুখে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে উত্তর কোরিয়া, যা চলতি বছরে তাদের পরিচালিত ১১তম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।

সূত্র: বিবিসি।

পাঠকের মতামত: