ট্রাম্পের ঘোষণার পরই সরে দাঁড়াল স্থিতিশীলতা বাহিনী গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ১০ ২১:৫১:৫২
ট্রাম্পের ঘোষণার পরই সরে দাঁড়াল স্থিতিশীলতা বাহিনী গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
ছবিঃ সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইউএই গাজা উপত্যকার জন্য প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে যোগদানের কোনো পরিকল্পনা করছে না। এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে তারা বাহিনীর কোনো স্পষ্ট কাঠামো বা কার্যপ্রণালী না থাকার কথা জানিয়েছে।

আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টার বক্তব্য

আবুধাবি কৌশলগত বিতর্ক ফোরামে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ এই বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন:

"সংযুক্ত আরব আমিরাত এখনো স্থিতিশীলতা বাহিনীতে একটি স্পষ্ট কাঠামো দেখতে পাচ্ছে না এবং এই পরিস্থিতিতে সম্ভবত এই বাহিনীতে অংশগ্রহণ করবে না।"

এই বক্তব্যটি ইউএই-এর নীতিগত অবস্থানের প্রতিফলন, যা মূলত কোনো সামরিক মিশনে অংশগ্রহণের আগে এর উদ্দেশ্য, নিয়মাবলী এবং কার্যকারিতা সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায়।

আন্তর্জাতিক বাহিনীর পরিকল্পনা

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয় করা এই আন্তর্জাতিক বাহিনীতে মিশর, কাতার ও তুরস্কের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সৈন্যদের অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা ছিল। এই বাহিনীর লক্ষ্য হলো গাজায় সংঘাত-পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে এই বাহিনী খুব শিগগিরই গাজায় উপস্থিত হবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরই ইউএই তাদের অবস্থানের কথা জানাল।

ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক

প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ঐতিহাসিক আব্রাহাম চুক্তি সই হওয়ার পর ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকারী কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে তেলসমৃদ্ধ সংযুক্ত আরব আমিরাত অন্যতম। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও, গাজা ইস্যুতে ইউএই-এর এই সতর্ক সামরিক অবস্থান আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।


যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইরানি জনগণের ‘বিশাল বিজয়’: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ১৮:১১:০৪
যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইরানি জনগণের ‘বিশাল বিজয়’: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
ছবি : সংগৃহীত

সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিটিকে দেশের সর্বস্তরের জনগণের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও ‘বিশাল বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সোমবার কোম সফরকালে দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ শোবেইরি জানজানির সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাতকালে তিনি ঘোষণা করেন, এই নতুন চুক্তির সুবাদে ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর দীর্ঘদিন ধরে থাকা কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে কাতারের ব্যাংকে জব্দ হয়ে থাকা ৬০০ কোটি ডলারের ইরানি তহবিল অবমুক্ত করে তা দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ইরানি রাষ্ট্রপতি জানান, বর্তমানে যে অর্থটি অবমুক্ত হচ্ছে তা কাতারে আটকে থাকা মোট ১২ বিলিয়ন ডলারের একটি অংশ মাত্র। তহবিলের বাকি অর্থও যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা যায়, সেজন্য ইতিমধ্যে পরবর্তী আইনি ও কূটনৈতিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিশাল তহবিল মুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণের বিষয়টি মূলত সুইজারল্যান্ড আলোচনা এবং ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে দুই পক্ষের সম্মত হওয়া দ্বিপক্ষীয় কাঠামোরই একটি সফল অংশ।

বিগত দিনের যুদ্ধ ও চরম বৈরী পরিস্থিতির মুখে ইরানি জনগণের অভূতপূর্ব সহনশীলতা ও দৃঢ়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, দেশের শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী, সামরিক কমান্ডার, সমাজের অভিজাত বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে কোমলমতি স্কুলছাত্রদের নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরও দেশের সাধারণ মানুষ, সশস্ত্র বাহিনী এবং সরকার রাষ্ট্র রক্ষায় ইস্পাতকঠিন ঐক্য নিয়ে দাঁড়িয়েছিল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানকে অভ্যন্তরীণভাবে অস্থিতিশীল করতে এবং একের পর এক অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে দেশটির পতন ঘটাতে তাদের সমস্ত সামরিক ও রাজনৈতিক সক্ষমতা ব্যবহার করেছিল। কিন্তু ইরানি জনগণের অদম্য শক্তি ও আত্মত্যাগের কারণে শত্রুপক্ষের সেই সব ষড়যন্ত্র ও হিসাব সম্পূর্ণ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য পরিষ্কার করে রাষ্ট্রপতি পেজেশকিয়ান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইরান কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না এবং ভবিষ্যতেও এর কোনো পরিকল্পনা নেই। এটি তাদের পূর্ববর্তী শহীদ নেতার ঘোষিত একটি সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী নীতি এবং বর্তমান সরকারও এই অবস্থানে পুরোপুরি অনড় রয়েছে। বিশ্ব সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ইরানের পরমাণু ও প্রতিরক্ষা খাতের পরবর্তী সকল পদক্ষেপ কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ আত্মরক্ষা ও প্রয়োজনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং তা পূর্বঘোষিত নীতিমালার কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

পেজেশকিয়ান আরও উল্লেখ করেন, চরম অনিচ্ছা ও আপত্তি থাকা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলকে এই আন্তর্জাতিক চুক্তিটি মেনে নিতে বাধ্য করেছে। অবশ্য ইসরায়েল প্রশাসন এবং কিছু চরমপন্থী বিরোধী গোষ্ঠী এখনো পর্দার আড়াল থেকে এই চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বিরোধিতা ও বাধা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে চুক্তি-পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান সরকার ইতিমধ্যে বসে নেই। দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের কাজ দ্রুত শুরু করা হয়েছে এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত সাধারণ জনগণের স্বস্তির জন্য খাদ্য ভর্তুকির পরিধি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থা পুরোদমে চালু করা হয়েছে।

মেহের নিউজ


সৌদিতে প্রবাসীদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ১২:২৯:২০
সৌদিতে প্রবাসীদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবে কর্মরত লাখো প্রবাসী এবং তাদের নিয়োগকর্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত ‘কিওয়া’ (Qiwa) প্ল্যাটফর্ম জানিয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ওয়ার্ক পারমিট (কাজের অনুমতিপত্র) নবায়ন অথবা কর্মী স্থানান্তরের নির্ধারিত সময় শেষ হতে আর মাত্র দুই দিন বাকি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আগামী ১ জুলাই থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড থেকে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

কিওয়া প্ল্যাটফর্মের নির্দেশনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩০ জুন) পর্যন্ত নিয়োগকর্তারা মেয়াদোত্তীর্ণ ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন, স্থানান্তর (ট্রান্সফার) অথবা কর্মীর আইনগত অবস্থান নিয়মিত করার সুযোগ পাবেন। এরপর বুধবার (১ জুলাই) থেকে যেসব কর্মীর ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ তিন মাসের বেশি সময় আগে শেষ হয়েছে, তাদের তথ্য প্রতিষ্ঠানটির কর্মী তালিকা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলা হবে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্মীর নাম রেকর্ড থেকে বাদ পড়লেও সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার আর্থিক দায় শেষ হবে না। বরং বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কর্মী যতদিন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন, সেই সময়ের বকেয়া ফি, সরকারি চার্জ এবং সম্ভাব্য আর্থিক জরিমানার সম্পূর্ণ দায় প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে। ফলে সময়মতো ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন না করলে নিয়োগকর্তাদের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

কিওয়া প্ল্যাটফর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রমী বিধানের কথাও স্পষ্ট করেছে। যদি কোনো কর্মীর ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, কিন্তু তার ইকামা (রেসিডেন্সি পারমিট) এখনও কমপক্ষে ১৮০ দিন বৈধ থাকে, তাহলে শুধুমাত্র ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন না হওয়ার কারণে তাকে প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ করা হবে না। এই বিধান বিশেষ পরিস্থিতিতে নিয়োগকর্তা ও কর্মী—উভয়ের জন্য কিছুটা সময়ের সুযোগ তৈরি করে।

তবে ইকামার অবশিষ্ট মেয়াদ যদি ১৮০ দিনের কম থাকে, তাহলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সে ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাকে দ্রুত ওয়ার্ক পারমিট এবং ইকামা—উভয়ই নবায়ন করতে হবে। অন্যথায় কর্মী ও প্রতিষ্ঠান উভয়ই সৌদি শ্রম আইন অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।

সৌদি শ্রমবাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিওয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অধিকাংশ নিয়োগ, ওয়ার্ক পারমিট, চাকরি পরিবর্তন, চুক্তি ব্যবস্থাপনা এবং শ্রমিকদের তথ্য ডিজিটালভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে মেয়াদোত্তীর্ণ নথি, বকেয়া ফি বা আইনগত অনিয়ম এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময় শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ আবারও নিয়োগকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, আইনি ব্যবস্থা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা এড়াতে অবিলম্বে বকেয়া ওয়ার্ক পারমিট ফি পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে যেসব কর্মীর অনুমতিপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন অথবা বৈধভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের মাধ্যমে দ্রুত আইনসম্মত অবস্থানে ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিসহ বিদেশি শ্রমিকদের জন্য এই সময়সীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাদের ওয়ার্ক পারমিট বা ইকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, তাদের উচিত নিজ নিজ নিয়োগকর্তার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ নিশ্চিত করা। এতে ভবিষ্যতে চাকরি, বসবাস কিংবা আইনি অবস্থান নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে।

-রফিক


হামলা থামাতে রাজি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, দোহায় বৈঠক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ০৯:২৩:৫৯
হামলা থামাতে রাজি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, দোহায় বৈঠক
ছবি : সংগৃহীত

টানা কয়েক দিনের সামরিক উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে বড় সংঘাতের আশঙ্কার পর হামলা আপাতত বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যম Axios জানিয়েছে, দুই দেশ মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করছে।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হবে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, সাম্প্রতিক হামলা এবং ১৭ জুনের অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতার বাস্তবায়ন নিয়ে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক সমঝোতা অনুযায়ী, আপাতত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর নতুন হামলা চালাবে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে দুই পক্ষ কাজ করবে।

এই সমঝোতা এমন সময়ে এলো, যখন মাত্র তিন দিনের উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আবারও বড় যুদ্ধের আশঙ্কায় পৌঁছে গিয়েছিল। হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এরপর ইরানও কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করার দাবি করে।

রোববার ভোরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবির পর উপসাগরীয় অঞ্চলে সতর্কতা বাড়ানো হয়। কুয়েত ও বাহরাইনের মতো মার্কিন মিত্র দেশগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। কয়েকটি এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকার খবরও পাওয়া যায়।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, তেহরান যুদ্ধবিরতির শর্ত মানছে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংযমকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা উচিত নয়।

অন্যদিকে ইরান দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলাই উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির পরিবেশকে দুর্বল করেছে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল মার্কিন হামলার জবাব।

এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণেই ১৭ জুনের ১৪ দফার অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতা বড় ঝুঁকির মুখে পড়ে। ওই সমঝোতার লক্ষ্য ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাত থামানো, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন জটিল ইস্যু আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ তৈরি করা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, দোহা বৈঠককে এখন নতুন করে উত্তেজনা কমানোর সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে সামরিক পর্যায়ের ভুল বোঝাবুঝি, নৌ চলাচলের নিয়ম, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা এবং যুদ্ধবিরতির ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে হামলা বা হুমকি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বিপজ্জনক। ইরান বলছে, হরমুজ অঞ্চলে তার নিরাপত্তা স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো সমঝোতা টেকসই হবে না।

এই সংকটের সঙ্গে লেবানন পরিস্থিতিও নতুন করে যুক্ত হয়েছে। ইসরাইল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার লেবাননের সঙ্গে নতুন যুদ্ধবিরতির পরও শনিবার একই ধরনের আরেকটি হামলার কথা জানা যায়।

ইরানের দাবি, বৃহত্তর আঞ্চলিক সমঝোতা কার্যকর রাখতে হলে শুধু হরমুজ নয়, লেবাননের সংঘাতও থামাতে হবে। তেহরান মনে করছে, লেবাননে ইসরাইলি হামলা চলতে থাকলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার পরিবেশ দুর্বল হতে পারে।

এ কারণে দোহা বৈঠক শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিপক্ষীয় আলোচনাই নয়; এর আঞ্চলিক গুরুত্বও বড়। হরমুজ প্রণালি, লেবানন সীমান্ত, ইসরাইল-হিজবুল্লাহ উত্তেজনা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি—সবকিছু মিলিয়ে আলোচনার পরিধি বিস্তৃত হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের হামলা বন্ধের সিদ্ধান্ত যুদ্ধের ঝুঁকি সাময়িকভাবে কমালেও স্থায়ী সমাধানের নিশ্চয়তা দেয় না। কারণ সমঝোতার ভাষা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ব্যাখ্যার মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান আছে।

তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুই পক্ষ অন্তত আলোচনার টেবিলে ফিরতে রাজি হয়েছে। কাতার এর আগেও আঞ্চলিক সংকটে মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা রেখেছে। তাই দোহা বৈঠককে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের বাস্তব সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

-রফিক


দুই দফার বিদেশি হামলার ক্ষতিপূরণে হাজারো আইনি মামলা করার ডাক দিল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৮ ২০:১৪:৫১
দুই দফার বিদেশি হামলার ক্ষতিপূরণে হাজারো আইনি মামলা করার ডাক দিল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

বিচার বিভাগ সপ্তাহ উদযাপনে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি। এই বার্তায় তিনি দেশের বিচার বিভাগকে নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, গত বছর থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী আক্রমণের কারণে দেশের যে সমস্ত অধিকার খর্ব হয়েছে, তা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের কঠোর বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

ইরানের বিশিষ্ট দার্শনিক ও রাজনীতিবিদ আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ বেহেশতি এবং তার সহযোদ্ধাদের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার (২৮ জুন) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই মন্তব্য করেন। সর্বোচ্চ নেতা বলেন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধী এবং অহংকারী আগ্রাসী রাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমে দেশের যেসব জাতীয় অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে, তা পুনরুদ্ধার করাই এখন সমগ্র ইরানি জাতির জন্য সবচেয়ে বড় আইনি ও বিচারিক দায়িত্ব।

আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি আরও স্পষ্ট করেন যে, মানুষের অধিকার রক্ষা করার বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত আইনি বিরোধ নিষ্পত্তির মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং বিদেশি আগ্রাসী শক্তিগুলোর মাধ্যমে দেশের যে সামষ্টিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, তা রক্ষা করাও এর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিচার ব্যবস্থার মূল দায়িত্বগুলো মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার ধরে রাখা, জনস্বার্থ রক্ষা ও বৈধ স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়া, দুর্নীতির মূলোৎপাটন করা, সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা, আল্লাহর বিধানের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ তদারকি করাই বিচার বিভাগের কাজ। এই সমস্ত গুরুদায়িত্ব যদি সঠিকভাবে পালন করা যায়, তবে বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অনেক গুণ বেড়ে যাবে।

দেশের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় আইনি চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে মোজতবা খামেনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধী এবং বৈশ্বিক আগ্রাসী চক্র, বিশেষ করে যারা গত বছর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে দেশের ক্ষুণ্ন হওয়া অধিকার আদায় করা বিচার বিভাগের এক নম্বর অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

এই প্রসঙ্গে তিনি তুলে ধরেন যে, ২০২৫ সালের জুন মাসে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দুই দফায় ইরানের ওপর যে আগ্রাসী সামরিক অভিযান চালিয়েছে, তাতে বহু নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। দেশের ভেতরে ও বাইরে ইরানি জনগণের যে শারীরিক, মানসিক, আর্থিক এবং আধ্যাত্মিক বড় ধরনের ক্ষতি সাধন করা হয়েছে, তার প্রতিটি ঘটনাই শত শত কিংবা হাজার হাজার গুরুত্বপূর্ণ আইনি মামলার অকাট্য ভিত্তি হতে পারে।

সর্বোচ্চ নেতা তার বার্তায় মিনাব ও লামের্দে শিশু হত্যার মতো নজিরবিহীন ও নৃশংস যুদ্ধাপরাধের ঘটনা মনে করিয়ে দেন। সেই সঙ্গে বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্র ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো এবং নবজাতক শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনাগুলোকেও যুদ্ধাপরাধের বড় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে তিনি শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির শাহাদাতবরণের প্রসঙ্গটি বিশেষভাবে নিয়ে আসেন। তাকে এক অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব, সময়ের এক অনন্য রত্ন এবং এক মহান মুজাহিদ নেতা হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

এই সমস্ত ঘটনার আইনি লড়াইয়ের বিষয়ে তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি নৃশংসতার বিচার দেশের ভেতরের আদালতে এবং আন্তর্জাতিক বিচারালয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে লড়তে হবে। এটা নিশ্চিত করতে হবে যেন অপরাধীদের আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানো যায় এবং তারা যেন নিজেদের কৃতকর্মের শাস্তি ভোগ করতে বাধ্য হয়।

তিনি বিচার বিভাগকে আরও মনে করিয়ে দেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিজেদের দেওয়া প্রকাশ্য বক্তব্যে এই সমস্ত ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের দায় সরাসরি স্বীকার করেছেন, এমনকি তা নিয়ে গর্ববোধও প্রকাশ করেছেন। এসব বক্তব্যকে অপরাধের আনুষ্ঠানিক ও প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি হিসেবে গণ্য করা যায়, যা ইরানি জাতির পক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্ষুণ্ন হওয়া অধিকার পুনরুদ্ধারের আইনি ভিত্তিকে আরও অনেক বেশি জোরালো ও শক্তিশালী করবে।

মোজতবা খামেনি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, গত বছর বিচার বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে শহীদ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির যে শেষ বৈঠকটি হয়েছিল, সেখানে ২০২৫ সালের যুদ্ধকালীন অপরাধগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের একটি সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনাটি এখন সর্বশেষ হওয়া যুদ্ধটির ক্ষেত্রেও পুরোপুরি কার্যকর করতে হবে। সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বা দেশীয় আদালতের রায় চূড়ান্তভাবে কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এই আইনি লড়াই বিরতিহীনভাবে চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। কারণ এই ধরনের কঠোর ও ধারাবাহিক আইনি পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ইরানের ওপর যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে।

সূত্র : প্রেস টিভি


সিরিক দ্বীপে মার্কিন বোমাবর্ষণ বনাম উপসাগরীয় ঘাঁটিতে ইরানি ড্রোন: কোন পথে মধ্যপ্রাচ্য?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৮ ১৮:৪১:৪৩
সিরিক দ্বীপে মার্কিন বোমাবর্ষণ বনাম উপসাগরীয় ঘাঁটিতে ইরানি ড্রোন: কোন পথে মধ্যপ্রাচ্য?
ছবি : সংগৃহীত

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন খাদের কিনারায়। রবিবার (২৮ জুন) ভোরে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের পোর্ট সালমানে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতরে একযোগে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসি-র নৌবাহিনী তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে, হরমুজ প্রণালির কৌশলগত জলপথের ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই শিথিল হবে না এবং ওয়াশিংটনের যেকোনো নতুন আগ্রাসনের জবাব মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে ‘নরক’ বানানোর মাধ্যমে দেওয়া হবে।

এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘন করার কারণে মার্কিন বিমানগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সাইটগুলোতে সফলভাবে আঘাত করেছে।

ট্রাম্প কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “এমন একটা সময় আসতে পারে যখন আমরা আর যুক্তিসঙ্গত থাকতে পারব না এবং সামরিকভাবে কাজটি পুরোপুরি শেষ করতে বাধ্য হব। আর তেমনটা হলে, ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না!” মূলত শনিবার হরমুজ প্রণালির কাছে সিরিক দ্বীপে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন মজুতকেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই ইরান এই পাল্টা হামলা চালায়।

এর আগে ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, পানামার পতাকাবাহী ‘এম/টি কিকু’ নামের একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ইরানি ড্রোন হামলার সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তারা ওই বিমান হামলা পরিচালনা করেছিল। কুয়েত ও বাহরাইন সেনাবাহিনী তাদের আকাশসীমায় শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন প্রতিহতের দাবি করলেও মার্কিন ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও পাওয়া যায়নি, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

/আশিক


ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ নাকচ করলেন নেতানিয়াহু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৮ ১১:৪৩:১৮
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ নাকচ করলেন নেতানিয়াহু
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন প্রশ্নে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি স্পষ্ট করেছেন, পুনরায় ক্ষমতায় ফিরলে ভূমধ্যসাগর থেকে জর্ডান নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ভূখণ্ডে দুটি পৃথক রাষ্ট্রের ধারণাকে তাঁর সরকার সমর্থন করবে না।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি যে জাতীয় সরকারের নেতৃত্ব দিতে চান, তার অন্যতম মূলনীতি হবে দুই রাষ্ট্র সমাধান প্রত্যাখ্যান করা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সমুদ্র ও জর্ডান নদীর মধ্যবর্তী এলাকায় দুই স্বাধীন রাষ্ট্রের সহাবস্থানের কোনো বাস্তব জায়গা নেই।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য নতুন নয়, তবে নির্বাচন সামনে রেখে তা আরও রাজনৈতিক তাৎপর্য পেয়েছে। কারণ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলি রাজনীতি, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে রয়েছে।

নেতানিয়াহুর দাবি, তিন বছর আগে যুদ্ধ শুরুর আগে দুই রাষ্ট্র সমাধান নিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে মতভেদ ছিল। তাঁর মতে, তখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইসরায়েলি নাগরিক ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণাকে সমর্থন করতেন।

তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই জনমত বদলে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, এখন ইসরায়েলি সমাজের বড় অংশের মধ্যে নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন ধরনের জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।

তিনি মনে করেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে। তাই নির্বাচনে জয়ী হলে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও এই অবস্থান থেকে সরে আসবে না।

নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন সময়ে এল, যখন গাজা যুদ্ধ, পশ্চিম তীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বন্দি বিনিময়, মানবিক সংকট এবং আঞ্চলিক কূটনীতি ঘিরে ইসরায়েল প্রবল আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে।

দুই রাষ্ট্র সমাধান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ এবং আরব বিশ্বের বড় অংশের কূটনৈতিক অবস্থানের কেন্দ্রে ছিল। এই ধারণার ভিত্তিতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের জন্য পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান খোঁজার কথা বলা হয়।

কিন্তু নেতানিয়াহুর বক্তব্য সেই আন্তর্জাতিক কাঠামোকেই সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে। তাঁর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে, নির্বাচনের পর ডানপন্থী ও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক নীতিই ইসরায়েলের রাজনীতিতে আরও প্রভাবশালী হতে পারে।

এর পাশাপাশি লেবাননের সঙ্গে সই হওয়া ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিকেও বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন নেতানিয়াহু। তিনি এই চুক্তিকে ইসরায়েলের জন্য একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক অর্জন বলে বর্ণনা করেছেন।

নেতানিয়াহুর দাবি, লেবাননের সঙ্গে নতুন বোঝাপড়া ইরান ও ইরানসমর্থিত হিজবুল্লাহর ওপর বড় কৌশলগত চাপ তৈরি করেছে। তাঁর মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগ আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় সই হওয়া ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির লক্ষ্য হলো লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা, লেবাননের সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো এবং হিজবুল্লাহসহ অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণের পথ তৈরি করা।

তবে ইসরায়েলি দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চল। নেতানিয়াহু বলেছেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী ওই অঞ্চলে অবস্থান বজায় রাখবে।

চুক্তির আওতায় লেবাননের সেনাবাহিনী নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় দায়িত্ব নিতে পারে। তবে ইসরায়েলের অবস্থান হলো, এই প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে হবে এবং হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা ভেঙে ফেলার অগ্রগতির ওপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে।

নেতানিয়াহু আরও দাবি করেছেন, নতুন বোঝাপড়ার ফলে ইসরায়েল নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে দক্ষিণ লেবাননে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার সুযোগ পেয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যতদিন নিরাপত্তা হুমকি থাকবে, ততদিন ইসরায়েল ওই অঞ্চলে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ রাখবে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই


হরমুজ ঘিরে নতুন উত্তেজনা, হুঁশিয়ারি আইআরজিসির

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৮ ১১:৩৩:৫০
হরমুজ ঘিরে নতুন উত্তেজনা, হুঁশিয়ারি আইআরজিসির
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি। সিরিক এলাকায় মার্কিন হামলার পর ইরানি সামরিক বাহিনীর এই প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

আইআরজিসির নৌ কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সিরিক শহরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবের প্রশ্নকে দুর্বল করতে পারবে না। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক নৌপথে যারা চুক্তি বা চলাচলের শর্ত ভঙ্গ করবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন আলাদা সামরিক বিবেচনার বিষয়। আইআরজিসির ভাষায়, এসব ঘাঁটি আগামী দিনগুলোতে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে পারে।

এর আগে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ তুলে ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা সীমিত করাই ছিল ওই অভিযানের উদ্দেশ্য।

মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইরানের নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ড্রোন সংরক্ষণাগার, আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা এবং উপকূলীয় সামরিক সক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে সরাসরি আগ্রাসন হিসেবে দেখছে।

ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রই প্রথমে ইরানি ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতির পরিবেশ নষ্ট করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার মাধ্যমে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও যুদ্ধবিরতি সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে।

এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানি পক্ষের দাবি অনুযায়ী, এসব হামলা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আগ্রাসনের জবাব।

কিছু প্রতিবেদনে কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্য করার কথা উঠে এসেছে। তবে এসব হামলায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি কতটা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কুয়েত ও বাহরাইনের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। কোথাও কোথাও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারি বিবৃতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মূল্যায়ন ছাড়া ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট নয়।

হরমুজ প্রণালি এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর অন্যতম এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল, বীমা ব্যয় এবং উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর বড় চাপ তৈরি করতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো যুদ্ধবিরতি সমঝোতার ভবিষ্যৎ। সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও মাঠপর্যায়ের সামরিক পদক্ষেপ সেই প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যদি পাল্টাপাল্টি হামলার পথ থেকে সরে না আসে, তাহলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। এতে কুয়েত, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন মিত্র দেশগুলোও সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।

সূত্র: আল জাজিরা


মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৮ ১০:১১:৫৬
মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলা
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই পাল্টা অভিযানের দাবি ওঠার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শনিবার রাতে হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার জেরে ইরানি ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিমান হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

মার্কিন হামলার পরপরই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়। আইআরজিসির নৌ শাখার এক শীর্ষ কমান্ডার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে কঠোর জবাবের মুখোমুখি হতে হবে।

ইরানি পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের পোর্ট সালমানে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, এই অভিযানে মার্কিন বাহিনীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে ইরানের এসব দাবির পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি। কুয়েত ও বাহরাইনের পক্ষ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার কথা জানানো হলেও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বৈরী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় কাজ করছে। দেশটির নাগরিকদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, কোথাও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে তা শত্রুপক্ষের ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যক্রমের ফল হতে পারে।

বাহরাইনেও সতর্ক সাইরেন বাজানো হয় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাওয়ায় কুয়েত ও বাহরাইনের মতো মার্কিন মিত্র দেশগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

এই সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর অন্যতম এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। তাই হরমুজে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামে বড় প্রভাব পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পাল্টা হামলার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটন যদি পূর্ণমাত্রার সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়, তাহলে তার পরিণতি তেহরানের জন্য ভয়াবহ হবে।

ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান বারবার যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র সংযম দেখালেও তেহরান সেই সুযোগকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করছে।

অন্যদিকে ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রই প্রথমে ইরানি ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি সমঝোতা ভঙ্গ করেছে। তেহরানের দাবি, তাদের পাল্টা অভিযান আত্মরক্ষামূলক এবং মার্কিন আগ্রাসনের জবাব।

দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ১৭ জুনের যুদ্ধবিরতি সমঝোতাকে কার্যত বড় সংকটে ফেলেছে। মাত্র কয়েকদিন আগেও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ হামলা, ইরানে মার্কিন বোমাবর্ষণ এবং এরপর কুয়েত-বাহরাইনমুখী ইরানি হামলার দাবি পরিস্থিতিকে দ্রুত অবনতির দিকে নিয়ে গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত এখন আর শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কুয়েত, বাহরাইন এবং পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য দেশ এই উত্তেজনার সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের উপস্থিতি উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব স্থাপনাকে লক্ষ্য করার দাবি তাই কেবল সামরিক বার্তা নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক উপস্থিতির বিরুদ্ধেও সরাসরি চ্যালেঞ্জ।

তবে সামরিক দাবির সঙ্গে বাস্তব ক্ষয়ক্ষতির পার্থক্য থাকতে পারে। সংঘাতের সময় পক্ষগুলো প্রায়ই নিজেদের অভিযানের সাফল্য বাড়িয়ে তুলে ধরে। তাই কুয়েত, বাহরাইন, যুক্তরাষ্ট্র এবং স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের পরবর্তী তথ্যই প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সতর্ক সাইরেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তা এবং নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশনা যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়েছে।

-রাফসান


ভারতে সোনার বাজারে নতুন সংকট, কেন বাড়ছে চোরাচালান?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৮ ১০:০১:১৯
ভারতে সোনার বাজারে নতুন সংকট, কেন বাড়ছে চোরাচালান?
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে সোনার আমদানি শুল্ক বাড়ানোর পর আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সোনার চোরাচালান। দেশটির স্বর্ণ ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরে অবৈধ পথে ভারতে ঢোকা সোনার পরিমাণ ১০০ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনার বাজার। চীনের পর দেশটিতেই সোনার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিয়ে, উৎসব, বিনিয়োগ ও পারিবারিক সঞ্চয়ের কারণে ভারতে সোনার ব্যবহার ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী। ফলে আমদানি শুল্কে বড় পরিবর্তন হলে তার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়ে।

ভারত সরকার গত মে মাসে সোনার আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করে। সরকারের লক্ষ্য ছিল সোনার চাহিদা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং রুপির ওপর চাপ হ্রাস করা। কিন্তু বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এই সিদ্ধান্তের একটি বড় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে অবৈধ সোনা প্রবাহে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুল্ক বাড়ার কারণে বৈধ পথে আমদানি করা সোনার খরচ অনেক বেড়ে গেছে। অন্যদিকে কর ফাঁকি দিয়ে আনা সোনা অবৈধ বাজারে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। এই দামের ব্যবধানই চোরাচালানকারীদের জন্য বড় লাভের সুযোগ তৈরি করছে।

মুম্বাইভিত্তিক একটি বেসরকারি সোনা আমদানিকারক ব্যাংকের বুলিয়ন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কালোবাজারে সোনার ছাড় প্রতি আউন্সে ২০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। শতাংশের হিসাবে এই ছাড় ৪ শতাংশেরও বেশি। বৈধ আমদানিকারক ব্যাংক ও শোধনাগারগুলো যেখানে সামান্য ছাড় দিতেও হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে অবৈধ বাজার বড় ছাড় দিয়ে ক্রেতা টানছে।

ব্যবসায়ী মহলের একাংশের দাবি, আমদানি শুল্ক ও জিএসটি মিলিয়ে ভারতে সোনার ওপর মোট করের বোঝা প্রায় ১৮.৪৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই উচ্চ কর কাঠামো বৈধ ব্যবসাকে চাপের মুখে ফেলছে এবং অবৈধ বাজারকে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, ১০০ মেট্রিক টন সোনার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৪.৩৫ বিলিয়ন ডলার। এই পরিমাণ সোনা যদি অবৈধ পথে বাজারে ঢোকে, তাহলে শুল্ক ও বিক্রয় কর বাবদ সরকারের সম্ভাব্য ক্ষতি হতে পারে প্রায় ২.৬৫ বিলিয়ন ডলার।

এই পরিস্থিতি বৈধ আমদানিকারক, ব্যাংক ও শোধনাগারগুলোর জন্য বড় সংকট তৈরি করছে। কারণ তারা শুল্ক, জিএসটি, আনুষ্ঠানিক আমদানি ব্যয় এবং নিয়মিত হিসাবপত্র মেনে ব্যবসা করে। ফলে কালোবাজারের সঙ্গে দামের প্রতিযোগিতায় তাদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ছে।

কলকাতার এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর মতে, অবৈধ বাজারে বড় ছাড় দিয়েও চোরাকারবারিরা উল্লেখযোগ্য মুনাফা করতে পারছে। এই দামের ব্যবধানের কারণে অনেক খুচরা ব্যবসায়ীও বৈধ উৎস থেকে সোনা কেনার ক্ষেত্রে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

এর আগে আমদানি শুল্ক কমানোর পর ভারতে সোনার চোরাচালান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছিল। ২০২৩ সালে অবৈধ সোনা আমদানির পরিমাণ ছিল ১৫৬.১ মেট্রিক টন। পরের বছর তা কমে ৬৯.২ মেট্রিক টনে নামে। ২০২৫ সালে আরও কমে দাঁড়ায় ২০.৪ মেট্রিক টনে।

কিন্তু নতুন করে শুল্ক বাড়ানোর পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের ভাষ্য, শুল্ক কম থাকলে বৈধ আমদানি তুলনামূলক লাভজনক থাকে। কিন্তু শুল্ক বাড়লে বৈধ ও অবৈধ বাজারের দামের ব্যবধান বাড়ে, আর সেই ফাঁকই চোরাচালানকে উৎসাহিত করে।

হায়দরাবাদের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, এপ্রিল মাসে ভারত প্রায় ৪৫.৬ টন সোনা আমদানি করেছিল। কিন্তু মে মাসে সেই আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ কালোবাজারে বড় ছাড়ের কারণে ব্যাংক ও শোধনাগারগুলো নতুন আমদানিতে আগ্রহ হারাচ্ছে।

শোধনাগার খাতেও চাপ বাড়ছে। সিজিআর মেটালয়েসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেমস জোস জানিয়েছেন, কালোবাজারে বড় ছাড় বৈধ ব্যবসাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। শুল্ক বৃদ্ধির আগে আমদানি করা সোনার মজুতেও এখন আউন্সপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি ছাড় দিতে হচ্ছে।

তাঁর মতে, সোনা শোধনাগারগুলো সাধারণত খুব কম মুনাফায় কাজ করে। যেখানে লাভের হার ১ শতাংশেরও কম, সেখানে বাজারে বড় ছাড় চললে নতুন করে ডোরে বা আধা-পরিশোধিত সোনা আমদানির উৎসাহ কমে যায়। এতে শোধনাগার শিল্পের কার্যক্রমও সংকুচিত হতে পারে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: