বিশেষ প্রতিবেদন
ডলারের যুগের অবসান? পাঁচ শতাব্দীর আর্থিক ইতিহাসে পুনরাবৃত্ত পতনের ছন্দ

কল্পনা করুন, সময়টা ১৯৪৪ সাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তখনও শেষ হয়নি। ৪৪টি মিত্র দেশের প্রতিনিধিরা সমবেত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের পাহাড়ি শহর ব্রেটন উডসের মনোরম মাউন্ট ওয়াশিংটন হোটেলে। সেই বৈঠকে তাঁরা এমন এক সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন, যা পরবর্তী আশি বছরের জন্য পৃথিবীর অর্থনীতির ভাগ্য নির্ধারণ করবে। সভাকক্ষের ভেতরে ইতিহাস যেন থমকে আছে। ব্রিটেন, যে দেশ একসময় পৃথিবীর আর্থিক হৃদস্পন্দন ছিল, এখন প্রায় নিঃস্ব। তার জাতীয় ঋণ জিডিপির ২৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে। পরপর দুটি বিশ্বযুদ্ধের ধাক্কায় সাম্রাজ্যটির অর্থনীতি প্রায় মুমূর্ষু অবস্থায়। যে দেশ শতাব্দীর পর শতাব্দী সমুদ্রপথ শাসন করেছিল, তার রিজার্ভ শেষ, ব্যাংক শূন্য এবং জনগণ ক্লান্ত। সেই মুহূর্তে উপস্থিত সবাই বুঝেছিল, এক যুগের অবসান ঘনিয়ে এসেছে।
তখন ঘটে ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা। বিশ্বের রিজার্ভ মুদ্রার মুকুট এক সাম্রাজ্য থেকে অন্য সাম্রাজ্যের হাতে হস্তান্তরিত হয়। ব্রিটিশ পাউন্ড, যা দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব বাণিজ্যের মেরুদণ্ড ছিল, হারায় তার মর্যাদা। সেই শূন্যস্থান পূরণ করে মার্কিন ডলার। তবে এটি কেবল আর্থিক হস্তান্তর নয়। এটি ছিল মানবসভ্যতার আর্থিক ইতিহাসে বারবার পুনরাবৃত্ত এক চক্রের ধারাবাহিকতা। এই চক্রের চারটি ধাপ উত্থান, শিখর, অতিবিস্তার এবং পতন যুগে যুগে সাম্রাজ্য থেকে সাম্রাজ্যে পুনরাবৃত্ত হয়েছে। ইতিহাসে পর্তুগাল, স্পেন, নেদারল্যান্ডস এবং ব্রিটেন সবাই এই একই ধাপের মধ্য দিয়ে গেছে। আজ মার্কিন ডলার সেইসব পূর্বসূরির মতোই একই সতর্ক সংকেত দেখাতে শুরু করেছে।
এই চক্রটি বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে অতীতে, প্রায় ছয় শতাব্দী পেছনে, ইউরোপের পশ্চিম উপকূলে, পর্তুগালের উত্থানের কাহিনিতে।
পর্তুগালের রিয়াল ও আবিষ্কারের যুগ
১৪৫০ সালের দিকে পর্তুগিজ রিয়াল হয়ে ওঠে বিশ্বের প্রথম প্রকৃত রিজার্ভ মুদ্রা। পরবর্তী আশি বছর পর্তুগাল ছিল বৈশ্বিক বাণিজ্যের অবিসংবাদিত নেতা। তাদের সাফল্যের রহস্য ছিল নৌচালনা ও বৈদেশিক বাণিজ্যে উদ্ভাবন। ১৪৫৩ সালে অটোমান সাম্রাজ্যের হাতে কনস্টান্টিনোপলের পতনের পর প্রাচীন মশলার বাণিজ্যপথ বন্ধ হয়ে যায়। ইউরোপীয় বণিকদের জন্য এটি ছিল এক বিশাল ধাক্কা, কিন্তু পর্তুগাল খুঁজে পেল নতুন পথ। তারা আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে সমুদ্রপথে এশিয়ায় পৌঁছে দেয় বাণিজ্যের নতুন দ্বার, শুরু হয় আবিষ্কারের যুগ।
লিসবন তখন হয়ে ওঠে বিশ্বের বাণিজ্যকেন্দ্র। পর্তুগিজ রিয়াল ইউরোপ থেকে এশিয়া পর্যন্ত গৃহীত হতে শুরু করে। সাম্রাজ্য ছড়িয়ে পড়ে আফ্রিকা, ভারত, মালয়েশিয়া, জাপান এবং চীনের ম্যাকাও পর্যন্ত। কিন্তু ইতিহাসের চিরন্তন নিয়ম অনুযায়ী সাফল্যই হয়ে ওঠে পতনের সূচনা। চারটি মহাদেশে সামরিক ঘাঁটি রক্ষা করতে করতে তাদের ভাণ্ডার ফুরিয়ে যায়। প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি ডাচ, ফরাসি ও ব্রিটিশরা ক্রমে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ১৫৩০-এর দশকে রাজপরিবারে উত্তরাধিকার সংকট সৃষ্টি হলে দেশটি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ১৫৮০ সালে স্পেনের হাতে পর্তুগাল আত্মসমর্পণ করে, গঠিত হয় আইবেরিয়ান ইউনিয়ন। প্রায় আশি বছরের আধিপত্যের পর ইতিহাসের মঞ্চ থেকে হারিয়ে যায় পর্তুগালের রিয়াল। তার জায়গা নেয় স্প্যানিশ রূপা।
স্প্যানিশ রূপার সাম্রাজ্য
স্পেনের উত্থান শুরু হয় আন্দিজ পর্বতমালার কোলে বলিভিয়ার পোটোসি নামের এক পাহাড়ে বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রূপার খনি আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে। ১৫৪৫ সালে আবিষ্কৃত এই খনি ১৫৭৫ থেকে ১৬৩৫ সালের মধ্যে উৎপাদন করেছিল বিশ্বের প্রায় অর্ধেক রূপা। এই রূপা দিয়ে তৈরি হয় বিখ্যাত “পিস অফ এইট”, যা বিশ্বের প্রথম বৈশ্বিক মুদ্রা হিসেবে পরিচিত হয়। এই স্প্যানিশ ডলার এতটাই নির্ভরযোগ্য ছিল যে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ মুদ্রা হিসেবে প্রচলিত ছিল।
স্পেনের আধিপত্য স্থায়ী হয় প্রায় ১১০ বছর। কিন্তু অতিবিস্তার ও ঋণের বোঝা তাদের পতন ডেকে আনে। রাজা চার্লস প্রথম রেখে যান ৩৬ মিলিয়ন ডুকাট ঋণ এবং প্রতি বছর এক মিলিয়ন ডুকাটের ঘাটতি। তাঁর পুত্র ফিলিপ দ্বিতীয় এই বোঝা সামলাতে গিয়ে চারবার দেউলিয়া ঘোষণা করেন ১৫৫৭, ১৫৬০, ১৫৭৫ এবং ১৫৯৬ সালে। রূপার অবিরাম প্রবাহ দেশে সৃষ্টি করে ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি। ফিলিপ দ্বিতীয়ের রাজত্বকালে পণ্যের দাম চারগুণ বেড়ে যায়। ফিলিপ তৃতীয়ের আমলে রূপার সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসতেই অর্থনীতি ধসে পড়ে এবং ১৬০৭ সালে আবার দেউলিয়াত্ব ঘোষণা করতে হয়। ১৬৪১ সালে আইবেরিয়ান ইউনিয়ন ভেঙে যায়। স্পেনের রূপার রাজত্বের অবসান ঘটে এবং আর্থিক শক্তির মঞ্চে উঠে আসে ডাচ প্রজাতন্ত্র।
নেদারল্যান্ডসের সোনালি যুগ
১৭ শতকে নেদারল্যান্ডস হয়ে ওঠে বিশ্বের আর্থিক রাজধানী। আমস্টারডাম তখন বাণিজ্যের নতুন কেন্দ্র এবং ডাচ গিল্ডার ইউরোপের কার্যত রিজার্ভ মুদ্রা। আমস্টারডাম ব্যাংক প্রবর্তন করে আন্তর্জাতিক অর্থপ্রদানের আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা। ডাচ বণিকেরা প্রথম গঠন করে শেয়ারবাজার, সামুদ্রিক বীমা এবং শেয়ার কোম্পানির ধারণা।
১৬৪২ থেকে ১৭২০ পর্যন্ত, প্রায় আট দশক ধরে, বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ বাণিজ্য সম্পন্ন হতো ডাচ মুদ্রায়। কিন্তু একই চক্র পুনরায় দেখা দেয়। চতুর্থ ইংরেজ-ডাচ যুদ্ধের (১৭৮০ থেকে ১৭৮৪) ফলে দেশটি দেউলিয়া হয়ে পড়ে। বিশাল ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভেঙে যায়। এই শূন্যস্থান পূরণ করে ব্রিটেন, যে তখন শিল্পবিপ্লবের মাধ্যমে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল।
ব্রিটিশ পাউন্ড ও শিল্পবিপ্লবের শতাব্দী
দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ব্রিটিশ পাউন্ড ছিল বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রধান মুদ্রা। শিল্পবিপ্লব, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও উপনিবেশ সাম্রাজ্যের শক্তিতে ব্রিটেন গড়ে তোলে পৃথিবীর বৃহত্তম অর্থনীতি। ১৮১৬ সালের গ্রেট রিকয়েনেজের পর স্বর্ণমান প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পাউন্ডকে বিশ্বের সবচেয়ে স্থিতিশীল মুদ্রায় পরিণত করে। ১৯২২ সালের মধ্যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য শাসন করত বিশ্বের এক চতুর্থাংশ ভূমি ও এক পঞ্চমাংশ জনসংখ্যা, প্রায় ৪৫৮ মিলিয়ন মানুষ।
তবে দীর্ঘস্থায়ী এই আধিপত্যের অবসান ঘটাতে শুরু করে দুটি বিশ্বযুদ্ধ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ঋণ বেড়ে যায় ৬৫০ মিলিয়ন পাউন্ড থেকে ৭ বিলিয়নে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে সরকারি ঋণ দাঁড়ায় জিডিপির ২৭০ শতাংশে। ব্রিটেন যুদ্ধ জিতলেও হারায় তার আর্থিক নেতৃত্ব।
ব্রেটন উডস ও ডলারের যুগ
১৯৪৪ সালের জুলাই মাসে ৭০০ প্রতিনিধি জড়ো হন ব্রেটন উডসে। লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত বিশ্ব অর্থনীতির পুনর্গঠন। সেই সম্মেলন থেকেই জন্ম নেয় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এবং বিশ্বব্যাংক (World Bank)। চুক্তি অনুযায়ী সব বড় মুদ্রা বাঁধা হয় মার্কিন ডলারের সঙ্গে, আর ডলার বাঁধা হয় স্বর্ণে প্রতি আউন্স ৩৫ ডলার দরে। এই মুহূর্তেই ব্রিটিশ পাউন্ডের যুগের সমাপ্তি ঘটে এবং সূচনা হয় আমেরিকান যুগের।
এরপরের পঁচিশ বছর ডলার রাজত্ব করে নিরঙ্কুশভাবে। ১৯৭১ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ডলারের স্বর্ণ-রূপান্তরযোগ্যতা স্থগিত করেন এবং স্বর্ণমান বিলুপ্ত হয়। তবু ডলার ধসে পড়েনি। বরং খুঁজে নেয় নতুন ভিত্তি, তেল।
১৯৭৩ সালের ওপেক তেল সংকটের পর যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের সঙ্গে এক কৌশলগত চুক্তি করে। মার্কিন সামরিক সুরক্ষার বিনিময়ে সৌদি তেল বিক্রি হবে কেবল ডলারে। ১৯৭৫ সালের মধ্যে সব ওপেক সদস্য এই চুক্তি মেনে নেয়। জন্ম নেয় পেট্রো-ডলার ব্যবস্থা। তেল ছিল সবার প্রয়োজন, তাই ডলারও হয়ে ওঠে সবার প্রয়োজন। এই কৃত্রিম চাহিদা যুক্তরাষ্ট্রকে এমন বিশাল ঘাটতি বহনের সুযোগ দেয় যা অন্য কোনো দেশের পক্ষে অসম্ভব ছিল।
২০০০ সালের দিকে বিশ্বের বৈদেশিক রিজার্ভের ৭০ শতাংশ ছিল ডলারে। কিন্তু ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৫৭ দশমিক ৮ শতাংশে। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ট্রেজারির অর্ধেকেরও বেশি ধারণ করত, অথচ ২০২৫ সালে তা নেমে আসে মাত্র ৩০ শতাংশে।
ডি-ডলারাইজেশনের দ্রুত অগ্রযাত্রা
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী জোট ব্রিকস, যার সদস্য ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা, সম্প্রতি যুক্ত করেছে মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে। তারা গড়ে তুলছে ব্রিকস ব্রিজ, একটি পেমেন্ট নেটওয়ার্ক যা সেন্ট্রাল ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রার মাধ্যমে লেনদেন করবে, ডলার ছাড়াই। ২০২৫ সাল নাগাদ এই জোট ও তাদের ১৩টি অংশীদার দেশ এই উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিজেই ঋণে ডুবে আছে। ২০২৫ সালের মার্চে মার্কিন সরকারের মোট ঋণ দাঁড়ায় ৩৬ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা জিডিপির ১২৪ শতাংশ। এটি সেই একই সূচক যা ইতিহাসে প্রতিটি সাম্রাজ্যের পতনের আগে দেখা গেছে, অতিরিক্ত ঋণ, সামরিক অতিবিস্তার এবং উৎপাদনশীলতার পতন।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
পর্তুগাল, স্পেন, নেদারল্যান্ডস এবং ব্রিটেন সবাই একই পথে হেঁটেছে। তাদের রিজার্ভ মুদ্রার আয়ু ছিল ৭৮ থেকে ২২০ বছর পর্যন্ত, গড়ে প্রায় ৯৫। মার্কিন ডলার এখন ৮১ বছরে পা দিয়েছে। ইতিহাসের চক্র আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
প্রত্যেক রিজার্ভ মুদ্রার চারটি ধাপ থাকে। প্রথম ধাপ উত্থান, যখন একটি দেশ বাণিজ্য, অর্থনীতি বা সামরিক শক্তিতে উদ্ভাবনের মাধ্যমে নেতৃত্ব গড়ে তোলে। পর্তুগাল নৌচালনায় বিপ্লব ঘটায়, স্পেন রূপার জোগান নিয়ন্ত্রণ করে, ডাচরা আধুনিক অর্থব্যবস্থা তৈরি করে, ব্রিটেন শিল্পবিপ্লব ঘটায় এবং যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ-পরবর্তী শিল্পশক্তিতে উত্থান ঘটায়। দ্বিতীয় ধাপ শিখর, যখন সেই মুদ্রা হয়ে ওঠে বৈশ্বিক মানদণ্ড এবং বিশ্বের ৬০ শতাংশ বাণিজ্য এতে পরিচালিত হয়। তৃতীয় ধাপ অতিবিস্তার, যেখানে সামরিক ব্যয়, ঋণ এবং উৎপাদনশীলতার পতন দেখা দেয়। পর্তুগাল চার মহাদেশে সামরিক বোঝা বইতে পারেনি, স্পেন বারবার দেউলিয়া হয়েছে, ডাচরা ব্রিটেনের সঙ্গে যুদ্ধ করে নিঃশেষ হয়েছে, ব্রিটেনের ঋণ পৌঁছেছিল জিডিপির ২৭০ শতাংশে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ১২৪ শতাংশ এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ব্যয় আট ট্রিলিয়ন ডলার। শেষ ধাপ পতন, যখন আস্থা হারিয়ে যায় এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার কেন্দ্র সরে যায় অন্যত্র।
পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা: একমেরু না বহুমেরু
স্পেনের হাতে পতনের পর পর্তুগাল আর কখনো মাথা তুলতে পারেনি। স্পেন শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ধুঁকেছে, নেদারল্যান্ডস ধনী থেকেও আঞ্চলিক শক্তিতে সীমিত হয়েছে, আর ব্রিটেনের সাম্রাজ্য ১৯৪৫-এর পর গলে গেছে। ১৯৫০-এর দশকে এখনও বিশ্বের ৫৫ শতাংশ রিজার্ভ ছিল স্টার্লিংয়ে, কিন্তু দুই দশকের মধ্যেই তা অর্ধেকে নেমে আসে। ব্রিটিশ শতাব্দী শেষ, শুরু হয় আমেরিকান শতাব্দী।
তবে এমন পরিবর্তন একদিনে ঘটে না। ব্রিটেনের পতন ছিল ধীর, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে তাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল বহু আগেই, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ডলার পাউন্ডকে প্রতিস্থাপন করে পরে। আজ একই ধীর রূপান্তর সম্ভবত আবার ঘটছে, এইবার চীনের দিকে, কিংবা একাধিক শক্তির সম্মিলিত নেতৃত্বে নতুন এক বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার দিকে।
ইতিহাসে রিজার্ভ মুদ্রার গড় আয়ু প্রায় ৯৫ বছর। মার্কিন ডলার সেই সীমার কাছাকাছি এসে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক রিজার্ভে ডলারের অংশীদারিত্ব কমছে, বিদেশি ট্রেজারি বিনিয়োগ হ্রাস পাচ্ছে, ব্রিকস বিকল্প গড়ে তুলছে, পেট্রো-ডলার ব্যবস্থা দুর্বল হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ১৩০ দেশে ৯০০ সামরিক ঘাঁটি ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এই চিত্র যেন ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি, একই ছন্দে, নতুন মুখে।
তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে, এই পরিবর্তন কত দ্রুত ঘটবে এবং পরবর্তী আর্থিক যুগের নেতৃত্ব নেবে কে। এটি কি হবে ব্রিটেনের মতো ধীর অবসান, নাকি নেদারল্যান্ডসের মতো আকস্মিক পতন। একটি একক শক্তি কি আবার বিশ্ব অর্থনীতির শীর্ষে উঠবে, নাকি ভবিষ্যৎ হবে বহুমেরু, যেখানে কয়েকটি রিজার্ভ মুদ্রা ভাগাভাগি করবে বৈশ্বিক প্রভাব।
ইতিহাস কখনো ঠিক একরকম পুনরাবৃত্তি হয় না, কিন্তু তার ছন্দ ফিরে আসে। আর যদি সেই ছন্দ এবারও সত্য প্রমাণিত হয়, তবে পৃথিবী এখন দাঁড়িয়ে আছে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে, ডলারের আধিপত্যের শেষ অধ্যায়ের দ্বারপ্রান্তে।
জীবনহানি এড়াতে ট্রাম্পের নতুন কৌশল: হরমুজ প্রণালি নিয়ে কী চুক্তি হতে যাচ্ছে?
মধ্যপ্রাচ্যে আর কোনো সামরিক সংঘাত বিস্তার না করে কেবল কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সব বিদ্যমান সংকটের সমাধান চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (২ আগস্ট) এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। পারস্য উপসাগরীয় এলাকার চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, তিনি অহেতুক জীবনহানি চান না এবং যেকোনো সশস্ত্র সংঘাতের চেয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছানোকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ মধ্যস্থতায় আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, সংঘাত বৃদ্ধি পেলে তা তেহরানের জন্য চরম ক্ষতিকর হতো। তবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং খোদ ইরানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা এবং একটি সম্ভাব্য চুক্তির পথ উন্মুক্ত হওয়ার কারণেই পরিকল্পিত সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প এই সম্ভাব্য চুক্তি ও কূটনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে কৌশলগত হরমুজ প্রণালির পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ও উন্মুক্তকরণ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টিকে সরাসরি শর্তযুক্ত করেছেন। আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া না হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় যেকোনো মুহূর্তে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্ণ প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করেন। মূলত আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় হরমুজ প্রণালির ওপর নিষেধাজ্ঞা অপসারণ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত চলমান আন্তর্জাতিক আলোচনার অংশ হিসেবেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য সামনে এসেছে।
সূত্র: গালফ নিউজ
ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার গুজব উড়িয়ে দিল তেহরান: নেপথ্যে কী কারণ?
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো কূটনৈতিক আলোচনা চলছে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার (৩ আগস্ট) আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলার তথ্যটি সঠিক নয় এবং বিষয়টিতে কোনো অস্পষ্টতার অবকাশ নেই।
মুখপাত্র জানান, বর্তমানে কেবল প্রতিবেশী দেশ ওমানের সঙ্গেই ইরানের আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার একমাত্র লক্ষ্য কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মাস্কাটের সঙ্গে একটি সুনির্দিষ্ট অস্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে দুই উপকূলবর্তী দেশ গুরুত্বসহকারে কাজ করছে। এই আলোচনায় অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতি ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কিত অপরাপর বিষয় ও তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টি পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তীতে পর্যালোচনা করা হতে পারে। এছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতা ও উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আন্তর্জাতিক সমকক্ষদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রেখে চলছেন।
হরমুজ প্রণালীর বর্তমান অচলাবস্থার জন্য ওয়াশিংটনকেই দায়ী করেছেন ইসমাইল বাঘাই। তিনি উল্লেখ করেন, ওমানের সাথে মতপার্থক্য নয়, বরং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন নৌ-অবরোধ ও সামরিক আগ্রাসনের ফলেই এই জলপথ সংকটের মুখে পড়েছে। যত দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী তৎপরতা বন্ধ না হবে, তত দিন পর্যন্ত প্রণালীর সার্বিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশা করা কঠিন। এছাড়া ওমানের সঙ্গে সমঝোতা আঞ্চলিক সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় হলেও জলপথটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে তা একাই যথেষ্ট নয় বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার বিষয়ে বাঘাই বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তান এবং কাতার তাদের পূর্বনির্ধারিত ভূমিকা পালন করছে, এখানে চীন নতুন কোনো মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়নি। তবে কৌশলগত মিত্র হিসেবে বেইজিং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিজেদের অবস্থান থেকে অবদান রাখছে। এছাড়া ইয়েমেন সংকটে সামরিক জোট গঠন না করে শান্তির জন্য স্থায়ী কাঠামোগত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন মুখপাত্র।
তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, তেহরান পার্শ্ববর্তী কোনো দেশের প্রতি বৈরী মনোভাব পোষণ করে না এবং সবার সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ইরানের সামরিক পদক্ষেপগুলো কেবল আত্মরক্ষামূলক, যা তাদের ওপর হামলা চালানোর উৎপত্তিস্থল বা ঘাঁটি লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। তবে আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোকে সতর্ক করে তিনি বলেন, নিজস্ব ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র যেন ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোকে কঠোর দায়িত্ব পালন করতে হবে। সবশেষে কূটনৈতিক মহলের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবসময় দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে।
সূত্র- মেহের নিউজ
‘মানুষ হত্যা চাই না’, ইরানের সঙ্গে চুক্তি চান ট্রাম্প
মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সোমবার বিকেলে আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে। তবে সম্ভাব্য সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেননি তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, কূটনৈতিক পথে সংকটের সমাধান হলে নতুন যুদ্ধ এড়ানো এবং বহু মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।
ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি নয়, বরং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় যোগাযোগ চলছে। আলোচনার ফল কী হবে, সেটি এখনই বলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, সামরিক শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পছন্দ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত একটি বড় সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য সময় চাওয়ার পর তিনি হামলা থেকে সরে আসেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অচলাবস্থা নিরসন এবং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু করাই আলোচনার প্রধান লক্ষ্য।
সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং কাতারি কর্মকর্তারা সামরিক সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে উপসাগরীয় মিত্রদের অবস্থান পুরোপুরি এক নয়। সৌদি আরব ও কাতার সংযমের পক্ষে থাকলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু কর্মকর্তা ইরানের ওপর আরও কঠোর চাপ প্রয়োগের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের এই সরু নৌপথ দিয়ে বিশ্বের তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাত ও জাহাজে হামলার কারণে সেখানে নৌ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, প্রণালির সব নৌপথ কোনো ফি ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকুক। অন্যদিকে ইরান প্রণালির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় নিজেদের সার্বভৌম কর্তৃত্ব বজায় রাখার দাবি করছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের নতুন ব্যবস্থা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে। সম্ভাব্য ব্যবস্থায় ওমানের দিকের একটি নৌপথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। তেহরানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো ট্রাম্পের কিছু দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা চললেও সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে বলা যাবে না।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়েছিল। এর আওতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিল করা এবং বৃহত্তর শান্তিচুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, নৌ চলাচলের নিয়ম এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্ব নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যার কারণে সেই ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পরে উভয় পক্ষ আবারও সামরিক অভিযানে জড়িয়ে পড়ে।
সম্ভাব্য নতুন আলোচনায় হরমুজের পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হবে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, যেকোনো সমঝোতায় ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বন্ধ করার নিশ্চয়তা থাকতে হবে। তবে তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং নিজেদের বেসামরিক পারমাণবিক অধিকার পরিত্যাগ করবে না।
-রফিক
ইরানের কঠোর অবস্থানের পর হামলা থেকে সরে এলেন ট্রাম্প
লেবাননের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও কঠোর অবস্থানের মুখে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি বাস্তবায়ন থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
লেবানিজ সংবাদমাধ্যম আল-আহেদ প্রকাশ করেছে, ইরানের সামরিক শক্তি এবং মার্কিন যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জোরালো জবাব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে ওয়াশিংটনের ভেতরে কাজ করা নিরাপত্তাহীনতা ও আশঙ্কাই মূলত ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বদলের পেছনে কাজ করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানের নীতিগত দৃঢ়তা এবং মার্কিন আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরাসরি হুমকির পর ট্রাম্প ইরানে সামরিক হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেন। তিনি নিজে নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত স্থগিতের প্রক্রিয়াটিতে তিনি সায় দিয়েছেন।
আল-আহেদ তাদের প্রতিবেদনে আরও জানায়, হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পর সৃষ্ট রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সামাল দিতে ট্রাম্প দাবি করেছেন—ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের অনুরোধের প্রেক্ষিতেই তিনি সামরিক হামলা না চালানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সূত্র: পার্সটুডে
ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরে ড্রোন তাণ্ডব: আন্তর্জাতিক ষড়যন্তের দিকে আঙুল ইরানের
মিশরের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব ইরানের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয় বলে জানিয়েছেন তেহরানের শীর্ষ কূটনীতিক আব্বাস আরাঘচি। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরির লক্ষ্যে ইসরায়েল কর্তৃক ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ (নিজের পরিচয় গোপন রেখে বিভ্রান্তিকর) হামলা চালানের বিষয়েও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের মিশরীয় বন্দর দামিয়েত্তায় গ্যাসবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে ঘটে যাওয়া ড্রোন হামলার পেছনে কোন কোনো পক্ষের উসকানিমূলক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
আরাঘচি লেখেন, "মিশর মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও ভৌগোলিক অংশীদার। দেশটির নিরাপত্তা আমাদের কাছে বিশেষ অগ্রাধিকার পায়। পুরো অঞ্চলে শান্তি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে পরিচালিত যেকোনো গোপন চক্রান্ত বা চালবাজির বিষয়ে আমাদের সবাইকে যৌথভাবে সতর্ক হতে হবে।"
উল্লেখ্য, গত বুধবার মিশরের দামিয়েত্তা বন্দরে ড্রোন হামলায় দুটি মার্কিন ও আন্তর্জাতিক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণাধীন এলএনজি সংক্রান্ত ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা বিশ্লেষণ সংস্থা ‘অ্যামব্রে’র তথ্যমতে, ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ সংস্থাকে লক্ষ্য করে ড্রোনটি চালানো হয়। তবে ঘটনায় লোহিত সাগরের হুথি গোষ্ঠী কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে।
ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ও প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবুলি জানান, উদ্ধারকৃত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ফরেনসিক ও সামরিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত তথ্য ও প্রমাণ ছাড়া কায়রো অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কোনো পক্ষকে দায়ী করবে না। এই মুহূর্তে পুরো অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা রক্ষায় মিশর যৌথভাবে বৈশ্বিক শক্তির সাথে কাজ করছে বলে জানান প্রেসিডেন্ট সিসি।
সূত্র: আনাদোলু
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন, প্রভাবিত হবে বাংলাদেশও
বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এই মার্কিন ভিসা নীতির ফলে ব্যবসা ও পর্যটন ক্যাটাগরির (বি১/বি২) আবেদনকারীদের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য বন্ড জমা দিতে হতে পারে।
গতকাল শুক্রবার অনলাইনে প্রকাশিত মার্কিন প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কোনো কোনো আবেদনকারীর ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তারা ভিসা মঞ্জুরের শর্ত হিসেবে পাঁচ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড নির্ধারণ করবেন। কর্মকর্তাদের হাতে আবেদনকারীর সার্বিক ক্ষেত্র মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই বন্ডের পরিমাণ ঠিক করার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তর সূত্রে জানানো হয়, ইতিপূর্বে পরিচালিত পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যটক বা ব্যবসায়ীদের ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ঠেকাতে এই নিয়মটি বেশ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। নতুন প্রক্রিয়ায় পুরোনো নিয়ম সংশোধন করে সর্বনিম্নের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে এবং বন্ডের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ডলারে। আগামী ৩ আগস্ট থেকে এই চূড়ান্ত ও স্থায়ী নিয়মটি আনুষ্ঠানিকভাবে বলবৎ হতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, এই নীতির আওতায় থাকা ৫০টি দেশের মধ্যে ৩০টিই আফ্রিকার।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা ও বেআইনিভাবে স্থায়ী হওয়া রোধের তাগিদ দেওয়া হলেও এটি অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞের দাবি, বন্ডের মাত্রাতিরিক্ত অর্থের কারণে বৈধ ভ্রমণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে আসতে নিরুৎসাহিত হবেন। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের এমন কঠোর অভিবাসন নীতির দরুন মুক্তবাক ও ন্যায্য সুযোগ বিঘ্নিত হতে পারে বলেও তাঁরা সংশয় প্রকাশ করেছেন।
/আশিক
৩ লাখ ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে মিয়ানমার সম্মত: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ৫ হাজার এবং বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এই বিষয়ে নীতিগত সম্মতি এসেছে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম 'দ্য স্টার'-এর এক প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানান, দীর্ঘ আলোচনার পর মিয়ানমার অবশেষে মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার এবং বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে। তিনি বলেন, "প্রতিবেশী বা আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এটি তারই প্রমাণ। আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে যেকোনো সংবেদনশীল সমস্যার সমাধান অত্যন্ত সতর্ক কূটনীতির মাধ্যমেই করতে হয়।"
দেশটির চেন্নাহ এলাকায় সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আনোয়ার ইব্রাহিম আরও স্পষ্ট করেন যে, মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কেউ জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। এ বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া পুলিশ প্রধানকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি পূর্ববর্তী পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, "অনেকে আগে রোহিঙ্গাদের তৎক্ষণাৎ ফেরত পাঠানোর দাবি জানাতেন। কিন্তু মিয়ানমার তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার না করে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোয় তা সম্ভব হয়নি। ফলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় তাদের সাময়িকভাবে রাখতে বাধ্য হয়েছিলাম।"
মালয়েশিয়ায় বসবাসরত রোহিঙ্গাদের স্থানীয় আইন ও নিয়ম মেনে চলার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, "এটি আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। এখানে এসে অন্য দেশের কোনো নাগরিক বিশৃঙ্খলা বা নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে—তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।"
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে মৌলিক ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে রোহিঙ্গারা বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সূত্র : দ্য স্টার
মধ্যপ্রাচ্যে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক উত্তেজনার মাঝে মার্কিন বাহিনীর গোলাবারুদ ও সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকট তৈরি হতে পারে বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ।
বুধবার (২৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা এই সতর্কবার্তার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওয়াশিংটনভিত্তিক বিখ্যাত গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস)-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনেও একই ধরনের সামরিক সংকটের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকেই মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল শক্তি—‘প্যাট্রিয়ট’ এবং ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষ ক্ষেপণাস্ত্রের আন্তর্জাতিক মজুত আশঙ্কাজনক হারে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এই সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতি যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে আধুনিক অস্ত্রের এই চরম ঘাটতি মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত মার্কিন সেনা সদস্য ও বিভিন্ন ঘাঁটির সুরক্ষাকে বড় ধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
কেশম দ্বীপে স্বজন হত্যার প্রতিশোধ: জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ আইআরজিসির
জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে।
আইআরজিসির এক বিজ্ঞপ্তির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, কৌশলগত কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলায় এক পরিবারের তিন সদস্য নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই জর্ডানের ওই বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
আইআরজিসি দাবি করেছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আল-আজরাক সামরিক ঘাঁটির মূল রানওয়ে ও প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে। এই হামলায় ঘাঁটিতে থাকা তিনটি সর্বাধুনিক এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আরও তিনটি যুদ্ধবিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া হামলায় কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা এবং প্রযুক্তিবিদ নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করে ইরানি বাহিনী।
বিবৃতিতে কঠোর বার্তা দিয়ে আইআরজিসি স্পষ্ট জানায়, নিরীহ পরিবার ও বেসামরিক মানুষদের ওপর হামলা চালিয়ে এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী অবস্থান ধরে রাখতে পারবে না। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম ভূখণ্ড থেকে শেষ মার্কিন সেনাকে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত তাদের সশস্ত্র প্রতিরোধ ও আক্রমণ অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: আল জাজিরা
পাঠকের মতামত:
- সন্তানকে সম্পত্তি দিলেও কাড়তে পারবে না অধিকার: সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের নতুন খসড়া
- জীবনহানি এড়াতে ট্রাম্পের নতুন কৌশল: হরমুজ প্রণালি নিয়ে কী চুক্তি হতে যাচ্ছে?
- বিদ্যুৎ বিল নিয়ে রটনা নাকি সত্য? নতুন বিজ্ঞপ্তিতে যা জানাল মন্ত্রণালয়
- মঙ্গলবার সকালে বিদ্যুৎহীন থাকছে যেসব এলাকা
- শতাধিক মানুষের মাঝে গোল্ডেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিনামূল্যে চশমা বিতরণ।
- সমকামিতা কি মানসিক ব্যাধি? আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতামত
- সেপ্টেম্বরের মেগা টুর্নামেন্টে বড় চমক: কাকে উড়িয়ে আনা হচ্ছে ঢাকায়?
- ভারতের পূর্ব সীমান্তে ২৫০টি চিনা হাউইটজার মোতায়েন করল পাকিস্তান
- নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে দেরি হওয়ার নেপথ্যে যেসব মূল কারণ!
- তেলের দাম কমায় বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ল স্বর্ণের দর
- ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার গুজব উড়িয়ে দিল তেহরান: নেপথ্যে কী কারণ?
- অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করার কড়া নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- ৫ আগস্ট নতুন রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে আসছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী?
- পুরো পুলিশ টিম একসঙ্গে চা-বিশ্রামে যাওয়া নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া সতর্কতা
- মঞ্চের পর্দার আড়াল থেকে ব্যান্ডেজ চোখে ফিরে এলেন এনসিপি সমন্বয়ক!
- বয়স্ক ও বিধবা ভাতার আবেদন শুরু, যেভাবে করবেন আবেদন
- ‘মানুষ হত্যা চাই না’, ইরানের সঙ্গে চুক্তি চান ট্রাম্প
- ডলারের দাম কেন বাড়ছে, সামনে কী অপেক্ষা করছে
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বদলে গেল তেলের বাজার
- দুই বছর পর প্রকাশ্যে শেখ হাসিনা, কী বলবেন?
- তেলের দাম কমতেই লাফ দিল স্বর্ণের বাজার
- যেসব দেশে দিনদুপুরে নেমে আসবে রাতের অন্ধকার!
- মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির জোরালো প্রস্তাব দিল বাংলাদেশ
- ৪০ মিলিয়ন ইউরোয় ইতালি পাড়ি জমাচ্ছেন আর্জেন্টাইন তারকা
- এমপি লুনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ‘ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হসপিটাল’-এর ট্রাস্টিবৃন্দ
- সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত বল্লভপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা
- কীভাবে এলো এই বিশেষ দিন: বন্ধু দিবসের অজানা কথা
- এশিয়ান গেমস ফুটবলের সূচি প্রকাশ, কোন গ্রুপে বাংলাদেশ?
- হাইকোর্টে জোড়া মামলায় জামিন পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস
- ভারতের গণতান্ত্রিক উদাহরণ টেনে মির্জা ফখরুলের বক্তব্য
- হুতি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সৌদি জোটে বাংলাদেশ, জানাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
- অপারেশন শরতের তুফান: ৮ বছর পর ট্রাইব্যুনালে উঠে এল কোন চাঞ্চল্যকর তথ্য?
- সাবেক সরকারের মতো একই আচরণ ধারণ করছে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী: জামায়াত আমির
- ইরানের কঠোর অবস্থানের পর হামলা থেকে সরে এলেন ট্রাম্প
- আরব আমিরাতে জামিন পেলেন সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ
- ফের পরিবর্তন এলপিজি গ্যাসের দামে: রোববার সন্ধ্যা থেকে নতুন রেট কার্যকর
- টানা সাড়ে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- তীব্র গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে কারওয়ান বাজারে প্রতিবাদী কর্মসূচি: কঠোর আলটিমেটাম এনসিপির
- আগস্ট জুড়ে আবহাওয়া কেমন থাকবে? দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বিডব্লিউওটির বিশেষ বার্তা
- ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার রূপরেখা পেশ
- সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন ইউকে নবগঠিত (আংশিক) কমিটি ঘোষণা
- অন্যায়ের অবসান ও নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: জামায়াত আমির
- ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরে ড্রোন তাণ্ডব: আন্তর্জাতিক ষড়যন্তের দিকে আঙুল ইরানের
- ইন্ডাকশন নাকি ইনফ্রারেড চুলা: কেনার আগে জেনে নিন কাজের পার্থক্য
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব সম্প্রদায়ের অবদান ছিল: নাহিদ ইসলাম
- যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন, প্রভাবিত হবে বাংলাদেশও
- স্ত্রীর কবর খননকালে ২৪ বছর পর স্বামীর অক্ষত দেহ উদ্ধার
- আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের বিশ্বজয়ে আবার স্বর্ণের দামে দরপতন
- হয়ে গেল সাফের ড্র: সহজ গ্রুপে স্বাগতিক বাংলাদেশ, সহজ হলো সেমির পথ
- যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক: অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা
- বিশ্ব-ব্যবস্থা তত্ত্ব: পুঁজিবাদী বিশ্ব-অর্থনীতি, নির্ভরতা ও বাংলাদেশের অবস্থান
- মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির জোরালো প্রস্তাব দিল বাংলাদেশ
- ডলারের দাম কেন বাড়ছে, সামনে কী অপেক্ষা করছে
- গোপন ভিডিও কাণ্ডে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে গাড়িচালকের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
- সিলেটে গাড়িবহরে হামলা: খালেদা জিয়ার ওপর অতীত হামলার সাথে তুলনা নাহিদ ইসলামের
- পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে বদলাতে পারে, ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা ইসরায়েলের
- ছাত্রদলের পদ থাকাটাই এখন চাকরির প্রধান কোয়ালিফিকেশন
- বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করে বাহুবল পুলিশ ফাঁড়িতে এনসিপির লিখিত অভিযোগ
- দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ বার্তা পাঠাল সরকার
- যানজট নিরসন ও যাতায়াত সহজ করতে সমন্বিত গণপরিবহন নেটওয়ার্কের পথে বাংলাদেশ
- জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক হামলা, ভূপাতিত করল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
- ‘মানুষ হত্যা চাই না’, ইরানের সঙ্গে চুক্তি চান ট্রাম্প
- শ্রীমঙ্গলের পর বাহুবলে আবার বাধা: সড়কের ওপরই বসে পড়লেন এনসিপি নেতারা
- পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর
- নেতৃত্বের রদবদল: বিসিবির বোর্ড সভায় নতুন ওয়ানডে অধিনায়কের ঘোষণা








