বিশেষ প্রতিবেদন

ডলারের যুগের অবসান? পাঁচ শতাব্দীর আর্থিক ইতিহাসে পুনরাবৃত্ত পতনের ছন্দ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ০২ ১২:০৬:২০
ডলারের যুগের অবসান? পাঁচ শতাব্দীর আর্থিক ইতিহাসে পুনরাবৃত্ত পতনের ছন্দ

কল্পনা করুন, সময়টা ১৯৪৪ সাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তখনও শেষ হয়নি। ৪৪টি মিত্র দেশের প্রতিনিধিরা সমবেত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের পাহাড়ি শহর ব্রেটন উডসের মনোরম মাউন্ট ওয়াশিংটন হোটেলে। সেই বৈঠকে তাঁরা এমন এক সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন, যা পরবর্তী আশি বছরের জন্য পৃথিবীর অর্থনীতির ভাগ্য নির্ধারণ করবে। সভাকক্ষের ভেতরে ইতিহাস যেন থমকে আছে। ব্রিটেন, যে দেশ একসময় পৃথিবীর আর্থিক হৃদস্পন্দন ছিল, এখন প্রায় নিঃস্ব। তার জাতীয় ঋণ জিডিপির ২৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে। পরপর দুটি বিশ্বযুদ্ধের ধাক্কায় সাম্রাজ্যটির অর্থনীতি প্রায় মুমূর্ষু অবস্থায়। যে দেশ শতাব্দীর পর শতাব্দী সমুদ্রপথ শাসন করেছিল, তার রিজার্ভ শেষ, ব্যাংক শূন্য এবং জনগণ ক্লান্ত। সেই মুহূর্তে উপস্থিত সবাই বুঝেছিল, এক যুগের অবসান ঘনিয়ে এসেছে।

তখন ঘটে ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা। বিশ্বের রিজার্ভ মুদ্রার মুকুট এক সাম্রাজ্য থেকে অন্য সাম্রাজ্যের হাতে হস্তান্তরিত হয়। ব্রিটিশ পাউন্ড, যা দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব বাণিজ্যের মেরুদণ্ড ছিল, হারায় তার মর্যাদা। সেই শূন্যস্থান পূরণ করে মার্কিন ডলার। তবে এটি কেবল আর্থিক হস্তান্তর নয়। এটি ছিল মানবসভ্যতার আর্থিক ইতিহাসে বারবার পুনরাবৃত্ত এক চক্রের ধারাবাহিকতা। এই চক্রের চারটি ধাপ উত্থান, শিখর, অতিবিস্তার এবং পতন যুগে যুগে সাম্রাজ্য থেকে সাম্রাজ্যে পুনরাবৃত্ত হয়েছে। ইতিহাসে পর্তুগাল, স্পেন, নেদারল্যান্ডস এবং ব্রিটেন সবাই এই একই ধাপের মধ্য দিয়ে গেছে। আজ মার্কিন ডলার সেইসব পূর্বসূরির মতোই একই সতর্ক সংকেত দেখাতে শুরু করেছে।

এই চক্রটি বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে অতীতে, প্রায় ছয় শতাব্দী পেছনে, ইউরোপের পশ্চিম উপকূলে, পর্তুগালের উত্থানের কাহিনিতে।

পর্তুগালের রিয়াল ও আবিষ্কারের যুগ

১৪৫০ সালের দিকে পর্তুগিজ রিয়াল হয়ে ওঠে বিশ্বের প্রথম প্রকৃত রিজার্ভ মুদ্রা। পরবর্তী আশি বছর পর্তুগাল ছিল বৈশ্বিক বাণিজ্যের অবিসংবাদিত নেতা। তাদের সাফল্যের রহস্য ছিল নৌচালনা ও বৈদেশিক বাণিজ্যে উদ্ভাবন। ১৪৫৩ সালে অটোমান সাম্রাজ্যের হাতে কনস্টান্টিনোপলের পতনের পর প্রাচীন মশলার বাণিজ্যপথ বন্ধ হয়ে যায়। ইউরোপীয় বণিকদের জন্য এটি ছিল এক বিশাল ধাক্কা, কিন্তু পর্তুগাল খুঁজে পেল নতুন পথ। তারা আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে সমুদ্রপথে এশিয়ায় পৌঁছে দেয় বাণিজ্যের নতুন দ্বার, শুরু হয় আবিষ্কারের যুগ।

লিসবন তখন হয়ে ওঠে বিশ্বের বাণিজ্যকেন্দ্র। পর্তুগিজ রিয়াল ইউরোপ থেকে এশিয়া পর্যন্ত গৃহীত হতে শুরু করে। সাম্রাজ্য ছড়িয়ে পড়ে আফ্রিকা, ভারত, মালয়েশিয়া, জাপান এবং চীনের ম্যাকাও পর্যন্ত। কিন্তু ইতিহাসের চিরন্তন নিয়ম অনুযায়ী সাফল্যই হয়ে ওঠে পতনের সূচনা। চারটি মহাদেশে সামরিক ঘাঁটি রক্ষা করতে করতে তাদের ভাণ্ডার ফুরিয়ে যায়। প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি ডাচ, ফরাসি ও ব্রিটিশরা ক্রমে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ১৫৩০-এর দশকে রাজপরিবারে উত্তরাধিকার সংকট সৃষ্টি হলে দেশটি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ১৫৮০ সালে স্পেনের হাতে পর্তুগাল আত্মসমর্পণ করে, গঠিত হয় আইবেরিয়ান ইউনিয়ন। প্রায় আশি বছরের আধিপত্যের পর ইতিহাসের মঞ্চ থেকে হারিয়ে যায় পর্তুগালের রিয়াল। তার জায়গা নেয় স্প্যানিশ রূপা।

স্প্যানিশ রূপার সাম্রাজ্য

স্পেনের উত্থান শুরু হয় আন্দিজ পর্বতমালার কোলে বলিভিয়ার পোটোসি নামের এক পাহাড়ে বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রূপার খনি আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে। ১৫৪৫ সালে আবিষ্কৃত এই খনি ১৫৭৫ থেকে ১৬৩৫ সালের মধ্যে উৎপাদন করেছিল বিশ্বের প্রায় অর্ধেক রূপা। এই রূপা দিয়ে তৈরি হয় বিখ্যাত “পিস অফ এইট”, যা বিশ্বের প্রথম বৈশ্বিক মুদ্রা হিসেবে পরিচিত হয়। এই স্প্যানিশ ডলার এতটাই নির্ভরযোগ্য ছিল যে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ মুদ্রা হিসেবে প্রচলিত ছিল।

স্পেনের আধিপত্য স্থায়ী হয় প্রায় ১১০ বছর। কিন্তু অতিবিস্তার ও ঋণের বোঝা তাদের পতন ডেকে আনে। রাজা চার্লস প্রথম রেখে যান ৩৬ মিলিয়ন ডুকাট ঋণ এবং প্রতি বছর এক মিলিয়ন ডুকাটের ঘাটতি। তাঁর পুত্র ফিলিপ দ্বিতীয় এই বোঝা সামলাতে গিয়ে চারবার দেউলিয়া ঘোষণা করেন ১৫৫৭, ১৫৬০, ১৫৭৫ এবং ১৫৯৬ সালে। রূপার অবিরাম প্রবাহ দেশে সৃষ্টি করে ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি। ফিলিপ দ্বিতীয়ের রাজত্বকালে পণ্যের দাম চারগুণ বেড়ে যায়। ফিলিপ তৃতীয়ের আমলে রূপার সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসতেই অর্থনীতি ধসে পড়ে এবং ১৬০৭ সালে আবার দেউলিয়াত্ব ঘোষণা করতে হয়। ১৬৪১ সালে আইবেরিয়ান ইউনিয়ন ভেঙে যায়। স্পেনের রূপার রাজত্বের অবসান ঘটে এবং আর্থিক শক্তির মঞ্চে উঠে আসে ডাচ প্রজাতন্ত্র।

নেদারল্যান্ডসের সোনালি যুগ

১৭ শতকে নেদারল্যান্ডস হয়ে ওঠে বিশ্বের আর্থিক রাজধানী। আমস্টারডাম তখন বাণিজ্যের নতুন কেন্দ্র এবং ডাচ গিল্ডার ইউরোপের কার্যত রিজার্ভ মুদ্রা। আমস্টারডাম ব্যাংক প্রবর্তন করে আন্তর্জাতিক অর্থপ্রদানের আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা। ডাচ বণিকেরা প্রথম গঠন করে শেয়ারবাজার, সামুদ্রিক বীমা এবং শেয়ার কোম্পানির ধারণা।

১৬৪২ থেকে ১৭২০ পর্যন্ত, প্রায় আট দশক ধরে, বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ বাণিজ্য সম্পন্ন হতো ডাচ মুদ্রায়। কিন্তু একই চক্র পুনরায় দেখা দেয়। চতুর্থ ইংরেজ-ডাচ যুদ্ধের (১৭৮০ থেকে ১৭৮৪) ফলে দেশটি দেউলিয়া হয়ে পড়ে। বিশাল ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভেঙে যায়। এই শূন্যস্থান পূরণ করে ব্রিটেন, যে তখন শিল্পবিপ্লবের মাধ্যমে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল।

ব্রিটিশ পাউন্ড ও শিল্পবিপ্লবের শতাব্দী

দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ব্রিটিশ পাউন্ড ছিল বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রধান মুদ্রা। শিল্পবিপ্লব, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও উপনিবেশ সাম্রাজ্যের শক্তিতে ব্রিটেন গড়ে তোলে পৃথিবীর বৃহত্তম অর্থনীতি। ১৮১৬ সালের গ্রেট রিকয়েনেজের পর স্বর্ণমান প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পাউন্ডকে বিশ্বের সবচেয়ে স্থিতিশীল মুদ্রায় পরিণত করে। ১৯২২ সালের মধ্যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য শাসন করত বিশ্বের এক চতুর্থাংশ ভূমি ও এক পঞ্চমাংশ জনসংখ্যা, প্রায় ৪৫৮ মিলিয়ন মানুষ।

তবে দীর্ঘস্থায়ী এই আধিপত্যের অবসান ঘটাতে শুরু করে দুটি বিশ্বযুদ্ধ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ঋণ বেড়ে যায় ৬৫০ মিলিয়ন পাউন্ড থেকে ৭ বিলিয়নে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে সরকারি ঋণ দাঁড়ায় জিডিপির ২৭০ শতাংশে। ব্রিটেন যুদ্ধ জিতলেও হারায় তার আর্থিক নেতৃত্ব।

ব্রেটন উডস ও ডলারের যুগ

১৯৪৪ সালের জুলাই মাসে ৭০০ প্রতিনিধি জড়ো হন ব্রেটন উডসে। লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত বিশ্ব অর্থনীতির পুনর্গঠন। সেই সম্মেলন থেকেই জন্ম নেয় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এবং বিশ্বব্যাংক (World Bank)। চুক্তি অনুযায়ী সব বড় মুদ্রা বাঁধা হয় মার্কিন ডলারের সঙ্গে, আর ডলার বাঁধা হয় স্বর্ণে প্রতি আউন্স ৩৫ ডলার দরে। এই মুহূর্তেই ব্রিটিশ পাউন্ডের যুগের সমাপ্তি ঘটে এবং সূচনা হয় আমেরিকান যুগের।

এরপরের পঁচিশ বছর ডলার রাজত্ব করে নিরঙ্কুশভাবে। ১৯৭১ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ডলারের স্বর্ণ-রূপান্তরযোগ্যতা স্থগিত করেন এবং স্বর্ণমান বিলুপ্ত হয়। তবু ডলার ধসে পড়েনি। বরং খুঁজে নেয় নতুন ভিত্তি, তেল।

১৯৭৩ সালের ওপেক তেল সংকটের পর যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের সঙ্গে এক কৌশলগত চুক্তি করে। মার্কিন সামরিক সুরক্ষার বিনিময়ে সৌদি তেল বিক্রি হবে কেবল ডলারে। ১৯৭৫ সালের মধ্যে সব ওপেক সদস্য এই চুক্তি মেনে নেয়। জন্ম নেয় পেট্রো-ডলার ব্যবস্থা। তেল ছিল সবার প্রয়োজন, তাই ডলারও হয়ে ওঠে সবার প্রয়োজন। এই কৃত্রিম চাহিদা যুক্তরাষ্ট্রকে এমন বিশাল ঘাটতি বহনের সুযোগ দেয় যা অন্য কোনো দেশের পক্ষে অসম্ভব ছিল।

২০০০ সালের দিকে বিশ্বের বৈদেশিক রিজার্ভের ৭০ শতাংশ ছিল ডলারে। কিন্তু ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৫৭ দশমিক ৮ শতাংশে। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ট্রেজারির অর্ধেকেরও বেশি ধারণ করত, অথচ ২০২৫ সালে তা নেমে আসে মাত্র ৩০ শতাংশে।

ডি-ডলারাইজেশনের দ্রুত অগ্রযাত্রা

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী জোট ব্রিকস, যার সদস্য ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা, সম্প্রতি যুক্ত করেছে মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে। তারা গড়ে তুলছে ব্রিকস ব্রিজ, একটি পেমেন্ট নেটওয়ার্ক যা সেন্ট্রাল ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রার মাধ্যমে লেনদেন করবে, ডলার ছাড়াই। ২০২৫ সাল নাগাদ এই জোট ও তাদের ১৩টি অংশীদার দেশ এই উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিজেই ঋণে ডুবে আছে। ২০২৫ সালের মার্চে মার্কিন সরকারের মোট ঋণ দাঁড়ায় ৩৬ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা জিডিপির ১২৪ শতাংশ। এটি সেই একই সূচক যা ইতিহাসে প্রতিটি সাম্রাজ্যের পতনের আগে দেখা গেছে, অতিরিক্ত ঋণ, সামরিক অতিবিস্তার এবং উৎপাদনশীলতার পতন।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

পর্তুগাল, স্পেন, নেদারল্যান্ডস এবং ব্রিটেন সবাই একই পথে হেঁটেছে। তাদের রিজার্ভ মুদ্রার আয়ু ছিল ৭৮ থেকে ২২০ বছর পর্যন্ত, গড়ে প্রায় ৯৫। মার্কিন ডলার এখন ৮১ বছরে পা দিয়েছে। ইতিহাসের চক্র আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

প্রত্যেক রিজার্ভ মুদ্রার চারটি ধাপ থাকে। প্রথম ধাপ উত্থান, যখন একটি দেশ বাণিজ্য, অর্থনীতি বা সামরিক শক্তিতে উদ্ভাবনের মাধ্যমে নেতৃত্ব গড়ে তোলে। পর্তুগাল নৌচালনায় বিপ্লব ঘটায়, স্পেন রূপার জোগান নিয়ন্ত্রণ করে, ডাচরা আধুনিক অর্থব্যবস্থা তৈরি করে, ব্রিটেন শিল্পবিপ্লব ঘটায় এবং যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ-পরবর্তী শিল্পশক্তিতে উত্থান ঘটায়। দ্বিতীয় ধাপ শিখর, যখন সেই মুদ্রা হয়ে ওঠে বৈশ্বিক মানদণ্ড এবং বিশ্বের ৬০ শতাংশ বাণিজ্য এতে পরিচালিত হয়। তৃতীয় ধাপ অতিবিস্তার, যেখানে সামরিক ব্যয়, ঋণ এবং উৎপাদনশীলতার পতন দেখা দেয়। পর্তুগাল চার মহাদেশে সামরিক বোঝা বইতে পারেনি, স্পেন বারবার দেউলিয়া হয়েছে, ডাচরা ব্রিটেনের সঙ্গে যুদ্ধ করে নিঃশেষ হয়েছে, ব্রিটেনের ঋণ পৌঁছেছিল জিডিপির ২৭০ শতাংশে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ১২৪ শতাংশ এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ব্যয় আট ট্রিলিয়ন ডলার। শেষ ধাপ পতন, যখন আস্থা হারিয়ে যায় এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার কেন্দ্র সরে যায় অন্যত্র।

পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা: একমেরু না বহুমেরু

স্পেনের হাতে পতনের পর পর্তুগাল আর কখনো মাথা তুলতে পারেনি। স্পেন শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ধুঁকেছে, নেদারল্যান্ডস ধনী থেকেও আঞ্চলিক শক্তিতে সীমিত হয়েছে, আর ব্রিটেনের সাম্রাজ্য ১৯৪৫-এর পর গলে গেছে। ১৯৫০-এর দশকে এখনও বিশ্বের ৫৫ শতাংশ রিজার্ভ ছিল স্টার্লিংয়ে, কিন্তু দুই দশকের মধ্যেই তা অর্ধেকে নেমে আসে। ব্রিটিশ শতাব্দী শেষ, শুরু হয় আমেরিকান শতাব্দী।

তবে এমন পরিবর্তন একদিনে ঘটে না। ব্রিটেনের পতন ছিল ধীর, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে তাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল বহু আগেই, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ডলার পাউন্ডকে প্রতিস্থাপন করে পরে। আজ একই ধীর রূপান্তর সম্ভবত আবার ঘটছে, এইবার চীনের দিকে, কিংবা একাধিক শক্তির সম্মিলিত নেতৃত্বে নতুন এক বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার দিকে।

ইতিহাসে রিজার্ভ মুদ্রার গড় আয়ু প্রায় ৯৫ বছর। মার্কিন ডলার সেই সীমার কাছাকাছি এসে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক রিজার্ভে ডলারের অংশীদারিত্ব কমছে, বিদেশি ট্রেজারি বিনিয়োগ হ্রাস পাচ্ছে, ব্রিকস বিকল্প গড়ে তুলছে, পেট্রো-ডলার ব্যবস্থা দুর্বল হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ১৩০ দেশে ৯০০ সামরিক ঘাঁটি ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এই চিত্র যেন ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি, একই ছন্দে, নতুন মুখে।

তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে, এই পরিবর্তন কত দ্রুত ঘটবে এবং পরবর্তী আর্থিক যুগের নেতৃত্ব নেবে কে। এটি কি হবে ব্রিটেনের মতো ধীর অবসান, নাকি নেদারল্যান্ডসের মতো আকস্মিক পতন। একটি একক শক্তি কি আবার বিশ্ব অর্থনীতির শীর্ষে উঠবে, নাকি ভবিষ্যৎ হবে বহুমেরু, যেখানে কয়েকটি রিজার্ভ মুদ্রা ভাগাভাগি করবে বৈশ্বিক প্রভাব।

ইতিহাস কখনো ঠিক একরকম পুনরাবৃত্তি হয় না, কিন্তু তার ছন্দ ফিরে আসে। আর যদি সেই ছন্দ এবারও সত্য প্রমাণিত হয়, তবে পৃথিবী এখন দাঁড়িয়ে আছে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে, ডলারের আধিপত্যের শেষ অধ্যায়ের দ্বারপ্রান্তে।


যুক্তরাষ্ট্রের সব শর্ত মানবে না ইরান: খামেনি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৯ ১৫:২০:৪২
যুক্তরাষ্ট্রের সব শর্ত মানবে না ইরান: খামেনি
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরও নিজেদের কৌশলগত অবস্থান থেকে সরে আসছে না ইরান। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আগামী ৬০ দিনের আলোচনা প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার অর্থ এই নয় যে, ওয়াশিংটনের উত্থাপিত সব অতিরিক্ত দাবি তারা মেনে নেবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ অবস্থান তুলে ধরেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ইমাম মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও তা কখনোই প্রতিপক্ষের সব শর্ত নিঃশর্তভাবে গ্রহণ করার সমতুল্য নয়।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে খামেনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত বা সরাসরি বৈঠকের পথ খোলা থাকলেও ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং কৌশলগত স্বার্থ কোনোভাবেই আপসের বিষয় নয়।

তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং আলোচক দলের একাধিক আশ্বাসের ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যদিও ব্যক্তিগতভাবে তার কিছু ভিন্নমত ছিল, তারপরও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

খামেনি বলেন, দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ সংরক্ষণ, প্রতিরোধ ফ্রন্টের অধিকার রক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতির কারণেই তিনি আলোচনার সুযোগ দিয়েছেন।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দেশের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বিদেশে পাঠানো হবে না। তবে আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় ইউরেনিয়ামকে নিম্নমাত্রায় সমৃদ্ধ করার (ডাইলিউশন) বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরান কিছু কারিগরি সমাধানে আগ্রহী হলেও দেশের ভেতরে থাকা কৌশলগত সম্পদ বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থান বজায় রেখেছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, তেহরান আলোচনার দরজা খোলা রেখেছে ঠিকই, কিন্তু পারমাণবিক কর্মসূচি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক প্রভাবের প্রশ্নে কোনো ধরনের মৌলিক ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়নি।

চলতি সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে চার মাস ধরে চলা সংঘাতের স্থায়ী সমাধান খুঁজতে ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে সার্ভিস ফি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ একাধিক জটিল বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সূত্র: প্রেস টিভি/ দ্য জেরুজালেম পোস্ট/রয়টার্স


সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতকে সতর্ক করল পাকিস্তান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৯ ১০:৩৩:৩৩
সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতকে সতর্ক করল পাকিস্তান
ছবি: সংগৃহীত

ভারত পানি ইস্যুকে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ তুলেছে পাকিস্তান। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার সতর্ক করে বলেছেন, পানির মতো মৌলিক সম্পদকে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করার চেষ্টা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন এবং দীর্ঘদিনের বিদ্যমান সিন্ধু পানি চুক্তি অনুসরণ করা ভারতের বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে। পাকিস্তানের জনগণের ন্যায্য পানির অধিকার খর্ব করার যেকোনো উদ্যোগের সুদূরপ্রসারী এবং নেতিবাচক পরিণতি হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

ইসহাক দার অভিযোগ করেন, ভারত একতরফাভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থীভাবে সিন্ধু পানি চুক্তি সংশ্লিষ্ট কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তার ভাষায়, এই চুক্তির মধ্যেই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য শান্তিপূর্ণ ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে, যা উপেক্ষা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসলামাবাদ সবসময় আলোচনাকেন্দ্রিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দ্বিপক্ষীয় যেকোনো সমস্যা কূটনৈতিক সংলাপ ও আইনি কাঠামোর মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থার প্রতি সম্মান প্রদর্শনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে ইসহাক দার বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম পাকিস্তান। তাই পানি নিরাপত্তা ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

তিনি দাবি করেন, সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা শুধু একটি দ্বিপক্ষীয় বিরোধ নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ধরনের পদক্ষেপ খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন এবং মানবিক পরিস্থিতির ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা আজকের বিশ্বে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা অপরিহার্য।

ভারতের বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তার অভিযোগ, সিন্ধু নদী অববাহিকায় জলাধার সম্প্রসারণ এবং পানি সরিয়ে নেওয়ার কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তন আনতে পারে।

তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে আঞ্চলিক পানি নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।

ইসহাক দার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, পানি কখনোই রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, চাপ প্রয়োগ কিংবা কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ পানি মানুষের মৌলিক অধিকার এবং এটি কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা বিবেচনায় পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

-রাফসান


কোন চাপের মুখে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে বাধ্য হলেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৯ ০৯:৫৯:১৮
কোন চাপের মুখে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে বাধ্য হলেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ১৫ সপ্তাহ আগেও ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান ছিল অত্যন্ত কঠোর। সে সময় তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া তেহরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতায় যাবে না ওয়াশিংটন। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন পথে এগিয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) প্রকাশিত সমঝোতা স্মারকের তথ্য বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এটি কোনো আত্মসমর্পণের দলিল নয়; বরং এতে ইরানের জন্য বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো তেল রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণ। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে চাপে থাকা ইরান নতুন করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেতে পারে। এর ফলে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়বে এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতাও শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প প্রশাসন যে লক্ষ্যগুলোর কথা বলেছিল, তার মধ্যে ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সীমিত করা এবং দেশটির রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা। তবে বর্তমান চুক্তিতে এসব লক্ষ্যের অনেকগুলোই পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি বলে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছে।

ট্রাম্প অবশ্য চুক্তিকে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন। তার দাবি, এই সমঝোতার মাধ্যমে অন্তত আগামী ১৫ থেকে ২০ বছর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি এটিকে ভবিষ্যৎ সংঘাত এড়ানোর একটি কার্যকর পদক্ষেপ বলেও বর্ণনা করেছেন।

তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার রাজনীতি ও কঠোর দর-কষাকষিকে অগ্রাধিকার দেওয়া ট্রাম্পের কাছ থেকে এমন নমনীয় অবস্থান অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত মনে হয়েছে।

চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি নিয়েও ভবিষ্যৎ আলোচনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত এই প্রণালিকে ঘিরে যেকোনো সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

একই সঙ্গে ইরানের জব্দ বা স্থগিত থাকা কিছু সম্পদ ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এটি কোনো বিনা শর্তের সুবিধা নয়; বরং ইরানের ইতিবাচক আচরণ ও চুক্তি বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।

তবে সমালোচকদের মতে, এই ছাড় অনেকাংশে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে মিল রয়েছে। উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সেই চুক্তির অন্যতম কঠোর সমালোচক ছিলেন ট্রাম্প নিজেই।

এদিকে রিপাবলিকান পার্টির রক্ষণশীল অংশ এবং ইসরায়েলের কট্টরপন্থী রাজনৈতিক মহলে ইতোমধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম আরও সক্রিয় করে তুলতে পারে।

বিশেষ করে লেবাননকে ঘিরে নতুন শর্তাবলি ইসরায়েলের জন্য নতুন কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে।

ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করছিল। তার মতে, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারত।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের পথে যেতে বাধ্য করার কৌশল নিয়েছিল।

অন্যদিকে ট্রাম্প একদিকে ইরানকে উত্তর কোরিয়ার মতো পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত হতে না দেওয়ার কথা বললেও, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার পথও খোলা রেখেছেন। তিনি ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ৬০ দিনের নির্ধারিত সময়ের পরও আলোচনা চলতে পারে।

এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

-রফিক


ইরান চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৯ ০৯:৩৯:৪৮
ইরান চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারককে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে লেবানন-সংক্রান্ত শর্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইসরায়েলকে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে, চুক্তির আওতায় থাকা বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

আল জাজিরার ওয়াশিংটনভিত্তিক সাংবাদিক মাইক হানার বরাতে জানা গেছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রতি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, লেবাননে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ পুরো শান্তি প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের আশঙ্কা ছিল, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়বে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে লেবাননকে একটি পৃথক ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করার ইঙ্গিত দিলেও পরবর্তীতে অবস্থান পরিবর্তন করেছে। এখন স্পষ্টভাবে বলা হচ্ছে, লেবানন এই সমঝোতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং সেখানে নতুন কোনো সামরিক অভিযান গ্রহণযোগ্য হবে না।

এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ইসরায়েল-সমর্থক সদস্য ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে হোয়াইট হাউজ তাদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এবার মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। সে কারণে ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে চূড়ান্ত চুক্তি কার্যকর হতে এখনো প্রায় দুই মাস সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন ধারা ও বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলবে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চুক্তির বর্তমান রূপ নিয়ে সন্তুষ্ট নন বলে জানা গেছে।

সিএনএনের বরাতে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু এখন নতুন কৌশল গ্রহণ করেছেন। তার মূল লক্ষ্য হচ্ছে চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়বস্তু এমনভাবে প্রভাবিত করা, যাতে তা ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এ উদ্দেশ্যে নেতানিয়াহু নিজের ঘনিষ্ঠ ডানপন্থি গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন সিনেটরকে ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন।

ইসরায়েলি নেতৃত্বের ধারণা, ইরান শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কঠোর ও কার্যকর সীমাবদ্ধতা মেনে নেবে না। সেই কারণে তারা পুরো সমঝোতা প্রক্রিয়া নিয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে।

একই সঙ্গে নেতানিয়াহু ট্রাম্প প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুদ্ধবিরতি বা লেবানন-সংক্রান্ত কিছু ধারা ইসরায়েলের জন্য বাধ্যতামূলক হিসেবে বিবেচিত হবে না। এই অবস্থান ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে নতুন মতপার্থক্যের জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স


চুক্তিতে লাভবান ইরান, ধাক্কায় নেতানিয়াহু সরকার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৯ ০৯:২৩:৫৪
চুক্তিতে লাভবান ইরান, ধাক্কায় নেতানিয়াহু সরকার
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের বৈরী দুই শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নতুন সমঝোতা অঞ্চলটির ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ইরানের প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। সমর্থকদের কাছে এটি ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হলেও ইসরাইল এবং কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের কাছে এটি নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

বুধবার (১৭ জুন) ফ্রান্সের ভার্সাইয়ে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন একটি সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে প্রায় তিন মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটে এবং নতুন কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সূচনা হয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ দফার এই সমঝোতার আওতায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়েছে, যার মধ্যে লেবাননের পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা চলবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি যুদ্ধবিরতি নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্গঠনের সূচনা হতে পারে। তাদের মতে, অর্থনৈতিক চাপের মুখে থাকা ইরান আর দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা বহন করতে পারছে না, আবার ট্রাম্প প্রশাসনও নতুন কোনো সামরিক সংঘাতে জড়াতে আগ্রহী নয়।

লেবাননের রাজনৈতিক বিশ্লেষক সারকিস নাওম মনে করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষের জন্যই এটি একটি বাস্তববাদী সমঝোতা। তার মতে, অর্থনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে ইরানের বিকল্প খুব সীমিত ছিল, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এড়িয়ে কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করতে চেয়েছে।

অন্যদিকে, এই সমঝোতাকে ইসরাইলের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত ধাক্কা হিসেবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ এটিকে একটি কৌশলগত বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তার মতে, যে অভিযানের মাধ্যমে ইরানের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল বা পরিবর্তনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেই প্রক্রিয়াই উল্টো ইরানের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের অন্যতম প্রধান দাবিগুলোর কোনোটি এই চুক্তিতে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়নি। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীর কার্যক্রম কিংবা পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের কোনো নির্দিষ্ট রূপরেখা চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।

তাদের মতে, এর ফলে ইরান নতুন কৌশলগত সুবিধা অর্জন করেছে, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইল কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতেও পড়েছে।

চুক্তি কার্যকর থাকলে ইরানের জন্য বড় অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হবে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে শিথিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, তেল রপ্তানি বাড়বে এবং পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রবাহিত হতে পারে।

-রাফসান


জব্দ করা অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নয়, ইরানের সম্পদ: ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ১৯:৩৮:০৭
জব্দ করা অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নয়, ইরানের সম্পদ: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের জব্দ করা বিপুল পরিমাণ অর্থ শেষ পর্যন্ত তাদের ফেরত দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কোনো সম্পদ নয়, বরং এটি সম্পূর্ণভাবে ইরানের। এই অর্থ যথাসময়ে ফেরত দেওয়া না হলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে মার্কিন ডলারের সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও তিনি সতর্কবার্তা দেন। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জি-৭ সম্মেলন শেষে বুধবার ফ্রান্সে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিশাল অঙ্কের অর্থ আটকে রেখেছে, যা একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে এসে তেহরানকে ফিরিয়ে দিতেই হবে। নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন অতীতে ইরানের অনেক অর্থ জব্দ করেছিল এবং সেই অর্থ এখনও মার্কিন হেফাজতে রয়েছে। তবে এটি আমেরিকার অর্থ নয়। তার মতে, বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের আধিপত্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ ধরে রাখতেই এই অর্থ ফেরত দেওয়া প্রয়োজন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র যদি অন্যের অর্থ এভাবে আটকে রাখে, তবে ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ডলারে বিনিয়োগ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে।

এর আগে, গত রবিবার এক তীব্র কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই সমঝোতার প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—উভয় পক্ষের সব ধরনের সামরিক অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করা, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা। এর পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পথ উন্মুক্ত করার বিষয়টিও এই প্রাথমিক চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এই সমঝোতার আওতায় আঞ্চলিক অংশীদারদের যৌথ সহযোগিতায় ইরানের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, এই তহবিলের অর্থ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কোষাগার থেকে দেওয়া হবে না। তিনি জানান, ওয়াশিংটন কোনো নগদ অর্থ দিচ্ছে না; বরং ইরান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সঠিকভাবে আচরণ করলেই কেবল এই উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। তেহরান যদি চুক্তির শর্ত মেনে চলে এবং অন্য কোনো দেশ বা সংস্থা সেখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়, তবেই তারা সেটি করতে পারবে। ফলে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের এই পুরো তহবিলটি সম্পূর্ণভাবে ইরানের আগামী দিনের ভূমিকার ওপর নির্ভর করছে।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘমেয়াদি বৈরিতা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান ইতিমধ্যে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইরান ইতিবাচক আচরণ শুরু করলে ধাপে ধাপে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ও একতরফা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রাথমিক ও গৌণ নিষেধাজ্ঞাগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। বুধবার রাতে ফ্রান্সের ঐতিহাসিক ভার্সাই প্রাসাদে আয়োজিত এক নৈশভোজের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই চুক্তিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। উভয় দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই দ্বিপাক্ষিক সমঝোতাটি ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

/আশিক


শর্ত না মানলে ইরানে কঠোর নৌ-অবরোধের হুমকি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ১৮:৪৫:২৬
শর্ত না মানলে ইরানে কঠোর নৌ-অবরোধের হুমকি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

তেহরান যদি সদ্য স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির শর্ত ও প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়, তবে ওয়াশিংটন পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করবে এবং কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। হেগসেথ স্পষ্ট করে জানান, চুক্তির কোনো শর্ত লঙ্ঘিত হলে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।

সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্কিন প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই বিষয়টি পরিষ্কার করে দিয়েছেন। চলমান এই সমঝোতা ও আলোচনার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইরান যদি তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করতে না পারে, তবে মার্কিন বাহিনী আবারও সামরিক পদক্ষেপ শুরু করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

এর পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের অর্থনৈতিক ও সামরিক যাতায়াত পথ বন্ধ করার দিকেও ইঙ্গিত করেন পিট হেগসেথ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি এই চুক্তির শর্তগুলো মেনে চলতে ব্যর্থ হয়, তবে পারস্য উপসাগর তথা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আবারও একটি ‘ইস্পাত কঠিন’ নৌ-অবরোধ আরোপ করার মতো পূর্ণ সক্ষমতা ও প্রস্তুতি মার্কিন সামরিক বাহিনীর রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা বৈরিতার পর গত কয়েক দিনের তীব্র কূটনৈতিক নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত রূপ পেয়েছিল। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন এবং কঠোর হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আবারও নতুন করে তীব্র উত্তেজনা ও চাপ সৃষ্টি করল।

/আশিক


ইরান সমঝোতার শর্ত গোপন রাখছে যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু কেন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ১১:৪৩:৫৬
ইরান সমঝোতার শর্ত গোপন রাখছে যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু কেন
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। চুক্তির প্রকৃত শর্ত গোপন রাখা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্ন তুলে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা বাড়তে শুরু করেছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন চুক্তির একাধিক খসড়া নথি বিভিন্ন মাধ্যমে ফাঁস হতে শুরু করে। এরপর বাড়তে থাকা জল্পনা-কল্পনার মধ্যে হোয়াইট হাউজ সাংবাদিকদের সঙ্গে একটি বিশেষ ফোন ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে।

সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা পুরো সমঝোতা স্মারকের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরেন এবং বিতর্কিত বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা দেন।

ব্রিফিংয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, তা হলো—ইরানকে তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে হস্তান্তর করতে হবে না।

পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের বর্তমান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত তাত্ত্বিকভাবে প্রায় ১১টি পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতা রাখে। ফলে এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, এই সংবেদনশীল বিষয়টির স্থায়ী সমাধানে আগামী দুই মাসের মধ্যে পৃথক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর তত্ত্বাবধানে ইরানের ভেতরেই উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে নিম্নমাত্রায় রূপান্তরের একটি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হবে।

এদিকে ফ্রান্সে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরেনিয়াম মজুতের গুরুত্ব কিছুটা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেন।

তিনি দাবি করেন, বর্তমানে ইরান ওই ইউরেনিয়াম ব্যবহার করার মতো অবস্থানে নেই এবং তা কার্যত অপ্রবেশযোগ্য অবস্থায় রয়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, গত বছরের মার্কিন বিমান হামলার পর ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের গভীরে তথাকথিত ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ চাপা পড়ে আছে।

তার ভাষ্যমতে, এই উপাদানগুলো উদ্ধার করার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কাছেই রয়েছে।

তিনি বলেন, “বাস্তবে এটি খুব বেশি মূল্যবান নয়। তবে মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। বর্তমানে কেউ সেই স্থাপনাগুলো স্পর্শ করছে না।”

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা দিয়ে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এমন কোনো তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি, যা নিশ্চিত করে যে ইরানের সব উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ওই তিনটি স্থাপনাতেই সংরক্ষিত ছিল।

বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, ইরানের বিভিন্ন স্থানে নিম্নমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের আরও মজুত রয়েছে, যেগুলো ভবিষ্যতে উন্নত প্রক্রিয়ায় অস্ত্রমানের পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব হতে পারে।

এ কারণে আগামী দুই মাসের আলোচনায় ইউরেনিয়াম ইস্যুটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্রাম্পও বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে এবং সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদানের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, এই বিষয়ে ইরান আপত্তি জানাতে পারে এবং আলোচনার পথ সহজ হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে আলোচনার অগ্রগতি, আইএইএর ভূমিকা এবং ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এই সমঝোতা দীর্ঘমেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনতে পারবে কি না।

-রফিক


ইরানের বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা ‘ভুল’ ছিল: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ১১:৩০:০৩
ইরানের বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা ‘ভুল’ ছিল: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে সংঘটিত প্রাণঘাতী হামলাকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল না এবং যুদ্ধের বাস্তবতায় এমন ভুল ঘটতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, হামলার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত হবে না।

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সামরিক সিদ্ধান্ত অত্যন্ত জটিল হয়ে ওঠে এবং কখনও কখনও অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলত্রুটি ঘটতে পারে।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত ১৭৫ জনের বেশি শিশু ও শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, বিভিন্ন দেশ এবং কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ প্রাথমিক তদন্তে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে হামলার পেছনে মার্কিন বাহিনীর ভূমিকা থাকতে পারে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দায় স্বীকার করেনি।

পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এটি অত্যন্ত জটিল একটি তদন্ত এবং এতে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে মিনাব হামলা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই একটি ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে পুরো প্রেক্ষাপট বোঝা যাবে না। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের কর্মকাণ্ডের কারণেও অতীতে বহু মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, “কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে একটি বিদ্যালয়কে লক্ষ্যবস্তু বানায়নি। যুদ্ধ অত্যন্ত নির্মম একটি বাস্তবতা এবং সেখানে ভুল সিদ্ধান্ত বা ভুল শনাক্তকরণ ঘটতে পারে।”

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, হামলার পরপরই ট্রাম্প কোনো প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই ইরানকেই দায়ী করেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। এখন তিনি বলছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষকে সরাসরি দায়ী করা উচিত হবে না এবং তদন্তের ফলাফল যাই হোক, তা গ্রহণ করা হবে।

মার্কিন সামরিক কমান্ডের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সম্প্রতি জানিয়েছেন, মিনাব হামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে ঘটনাটি জটিল হওয়ার অন্যতম কারণ হলো সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার খুব কাছাকাছি অবস্থিত ছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ওই বিদ্যালয়টি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির সীমানার ভেতর বা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিল। ফলে লক্ষ্য নির্ধারণের সময় সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনার মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা সম্ভবত পুরোনো বা হালনাগাদ না হওয়া গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করেছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করা হয়ে থাকতে পারে।

সূত্র: স্কাই নিউজ, রয়টার্স

পাঠকের মতামত: