বিশেষ প্রতিবেদন

ডলারের যুগের অবসান? পাঁচ শতাব্দীর আর্থিক ইতিহাসে পুনরাবৃত্ত পতনের ছন্দ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ০২ ১২:০৬:২০
ডলারের যুগের অবসান? পাঁচ শতাব্দীর আর্থিক ইতিহাসে পুনরাবৃত্ত পতনের ছন্দ

কল্পনা করুন, সময়টা ১৯৪৪ সাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তখনও শেষ হয়নি। ৪৪টি মিত্র দেশের প্রতিনিধিরা সমবেত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের পাহাড়ি শহর ব্রেটন উডসের মনোরম মাউন্ট ওয়াশিংটন হোটেলে। সেই বৈঠকে তাঁরা এমন এক সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন, যা পরবর্তী আশি বছরের জন্য পৃথিবীর অর্থনীতির ভাগ্য নির্ধারণ করবে। সভাকক্ষের ভেতরে ইতিহাস যেন থমকে আছে। ব্রিটেন, যে দেশ একসময় পৃথিবীর আর্থিক হৃদস্পন্দন ছিল, এখন প্রায় নিঃস্ব। তার জাতীয় ঋণ জিডিপির ২৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে। পরপর দুটি বিশ্বযুদ্ধের ধাক্কায় সাম্রাজ্যটির অর্থনীতি প্রায় মুমূর্ষু অবস্থায়। যে দেশ শতাব্দীর পর শতাব্দী সমুদ্রপথ শাসন করেছিল, তার রিজার্ভ শেষ, ব্যাংক শূন্য এবং জনগণ ক্লান্ত। সেই মুহূর্তে উপস্থিত সবাই বুঝেছিল, এক যুগের অবসান ঘনিয়ে এসেছে।

তখন ঘটে ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা। বিশ্বের রিজার্ভ মুদ্রার মুকুট এক সাম্রাজ্য থেকে অন্য সাম্রাজ্যের হাতে হস্তান্তরিত হয়। ব্রিটিশ পাউন্ড, যা দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব বাণিজ্যের মেরুদণ্ড ছিল, হারায় তার মর্যাদা। সেই শূন্যস্থান পূরণ করে মার্কিন ডলার। তবে এটি কেবল আর্থিক হস্তান্তর নয়। এটি ছিল মানবসভ্যতার আর্থিক ইতিহাসে বারবার পুনরাবৃত্ত এক চক্রের ধারাবাহিকতা। এই চক্রের চারটি ধাপ উত্থান, শিখর, অতিবিস্তার এবং পতন যুগে যুগে সাম্রাজ্য থেকে সাম্রাজ্যে পুনরাবৃত্ত হয়েছে। ইতিহাসে পর্তুগাল, স্পেন, নেদারল্যান্ডস এবং ব্রিটেন সবাই এই একই ধাপের মধ্য দিয়ে গেছে। আজ মার্কিন ডলার সেইসব পূর্বসূরির মতোই একই সতর্ক সংকেত দেখাতে শুরু করেছে।

এই চক্রটি বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে অতীতে, প্রায় ছয় শতাব্দী পেছনে, ইউরোপের পশ্চিম উপকূলে, পর্তুগালের উত্থানের কাহিনিতে।

পর্তুগালের রিয়াল ও আবিষ্কারের যুগ

১৪৫০ সালের দিকে পর্তুগিজ রিয়াল হয়ে ওঠে বিশ্বের প্রথম প্রকৃত রিজার্ভ মুদ্রা। পরবর্তী আশি বছর পর্তুগাল ছিল বৈশ্বিক বাণিজ্যের অবিসংবাদিত নেতা। তাদের সাফল্যের রহস্য ছিল নৌচালনা ও বৈদেশিক বাণিজ্যে উদ্ভাবন। ১৪৫৩ সালে অটোমান সাম্রাজ্যের হাতে কনস্টান্টিনোপলের পতনের পর প্রাচীন মশলার বাণিজ্যপথ বন্ধ হয়ে যায়। ইউরোপীয় বণিকদের জন্য এটি ছিল এক বিশাল ধাক্কা, কিন্তু পর্তুগাল খুঁজে পেল নতুন পথ। তারা আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে সমুদ্রপথে এশিয়ায় পৌঁছে দেয় বাণিজ্যের নতুন দ্বার, শুরু হয় আবিষ্কারের যুগ।

লিসবন তখন হয়ে ওঠে বিশ্বের বাণিজ্যকেন্দ্র। পর্তুগিজ রিয়াল ইউরোপ থেকে এশিয়া পর্যন্ত গৃহীত হতে শুরু করে। সাম্রাজ্য ছড়িয়ে পড়ে আফ্রিকা, ভারত, মালয়েশিয়া, জাপান এবং চীনের ম্যাকাও পর্যন্ত। কিন্তু ইতিহাসের চিরন্তন নিয়ম অনুযায়ী সাফল্যই হয়ে ওঠে পতনের সূচনা। চারটি মহাদেশে সামরিক ঘাঁটি রক্ষা করতে করতে তাদের ভাণ্ডার ফুরিয়ে যায়। প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি ডাচ, ফরাসি ও ব্রিটিশরা ক্রমে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ১৫৩০-এর দশকে রাজপরিবারে উত্তরাধিকার সংকট সৃষ্টি হলে দেশটি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ১৫৮০ সালে স্পেনের হাতে পর্তুগাল আত্মসমর্পণ করে, গঠিত হয় আইবেরিয়ান ইউনিয়ন। প্রায় আশি বছরের আধিপত্যের পর ইতিহাসের মঞ্চ থেকে হারিয়ে যায় পর্তুগালের রিয়াল। তার জায়গা নেয় স্প্যানিশ রূপা।

স্প্যানিশ রূপার সাম্রাজ্য

স্পেনের উত্থান শুরু হয় আন্দিজ পর্বতমালার কোলে বলিভিয়ার পোটোসি নামের এক পাহাড়ে বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রূপার খনি আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে। ১৫৪৫ সালে আবিষ্কৃত এই খনি ১৫৭৫ থেকে ১৬৩৫ সালের মধ্যে উৎপাদন করেছিল বিশ্বের প্রায় অর্ধেক রূপা। এই রূপা দিয়ে তৈরি হয় বিখ্যাত “পিস অফ এইট”, যা বিশ্বের প্রথম বৈশ্বিক মুদ্রা হিসেবে পরিচিত হয়। এই স্প্যানিশ ডলার এতটাই নির্ভরযোগ্য ছিল যে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ মুদ্রা হিসেবে প্রচলিত ছিল।

স্পেনের আধিপত্য স্থায়ী হয় প্রায় ১১০ বছর। কিন্তু অতিবিস্তার ও ঋণের বোঝা তাদের পতন ডেকে আনে। রাজা চার্লস প্রথম রেখে যান ৩৬ মিলিয়ন ডুকাট ঋণ এবং প্রতি বছর এক মিলিয়ন ডুকাটের ঘাটতি। তাঁর পুত্র ফিলিপ দ্বিতীয় এই বোঝা সামলাতে গিয়ে চারবার দেউলিয়া ঘোষণা করেন ১৫৫৭, ১৫৬০, ১৫৭৫ এবং ১৫৯৬ সালে। রূপার অবিরাম প্রবাহ দেশে সৃষ্টি করে ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি। ফিলিপ দ্বিতীয়ের রাজত্বকালে পণ্যের দাম চারগুণ বেড়ে যায়। ফিলিপ তৃতীয়ের আমলে রূপার সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসতেই অর্থনীতি ধসে পড়ে এবং ১৬০৭ সালে আবার দেউলিয়াত্ব ঘোষণা করতে হয়। ১৬৪১ সালে আইবেরিয়ান ইউনিয়ন ভেঙে যায়। স্পেনের রূপার রাজত্বের অবসান ঘটে এবং আর্থিক শক্তির মঞ্চে উঠে আসে ডাচ প্রজাতন্ত্র।

নেদারল্যান্ডসের সোনালি যুগ

১৭ শতকে নেদারল্যান্ডস হয়ে ওঠে বিশ্বের আর্থিক রাজধানী। আমস্টারডাম তখন বাণিজ্যের নতুন কেন্দ্র এবং ডাচ গিল্ডার ইউরোপের কার্যত রিজার্ভ মুদ্রা। আমস্টারডাম ব্যাংক প্রবর্তন করে আন্তর্জাতিক অর্থপ্রদানের আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা। ডাচ বণিকেরা প্রথম গঠন করে শেয়ারবাজার, সামুদ্রিক বীমা এবং শেয়ার কোম্পানির ধারণা।

১৬৪২ থেকে ১৭২০ পর্যন্ত, প্রায় আট দশক ধরে, বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ বাণিজ্য সম্পন্ন হতো ডাচ মুদ্রায়। কিন্তু একই চক্র পুনরায় দেখা দেয়। চতুর্থ ইংরেজ-ডাচ যুদ্ধের (১৭৮০ থেকে ১৭৮৪) ফলে দেশটি দেউলিয়া হয়ে পড়ে। বিশাল ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভেঙে যায়। এই শূন্যস্থান পূরণ করে ব্রিটেন, যে তখন শিল্পবিপ্লবের মাধ্যমে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল।

ব্রিটিশ পাউন্ড ও শিল্পবিপ্লবের শতাব্দী

দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ব্রিটিশ পাউন্ড ছিল বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রধান মুদ্রা। শিল্পবিপ্লব, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও উপনিবেশ সাম্রাজ্যের শক্তিতে ব্রিটেন গড়ে তোলে পৃথিবীর বৃহত্তম অর্থনীতি। ১৮১৬ সালের গ্রেট রিকয়েনেজের পর স্বর্ণমান প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পাউন্ডকে বিশ্বের সবচেয়ে স্থিতিশীল মুদ্রায় পরিণত করে। ১৯২২ সালের মধ্যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য শাসন করত বিশ্বের এক চতুর্থাংশ ভূমি ও এক পঞ্চমাংশ জনসংখ্যা, প্রায় ৪৫৮ মিলিয়ন মানুষ।

তবে দীর্ঘস্থায়ী এই আধিপত্যের অবসান ঘটাতে শুরু করে দুটি বিশ্বযুদ্ধ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ঋণ বেড়ে যায় ৬৫০ মিলিয়ন পাউন্ড থেকে ৭ বিলিয়নে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে সরকারি ঋণ দাঁড়ায় জিডিপির ২৭০ শতাংশে। ব্রিটেন যুদ্ধ জিতলেও হারায় তার আর্থিক নেতৃত্ব।

ব্রেটন উডস ও ডলারের যুগ

১৯৪৪ সালের জুলাই মাসে ৭০০ প্রতিনিধি জড়ো হন ব্রেটন উডসে। লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত বিশ্ব অর্থনীতির পুনর্গঠন। সেই সম্মেলন থেকেই জন্ম নেয় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এবং বিশ্বব্যাংক (World Bank)। চুক্তি অনুযায়ী সব বড় মুদ্রা বাঁধা হয় মার্কিন ডলারের সঙ্গে, আর ডলার বাঁধা হয় স্বর্ণে প্রতি আউন্স ৩৫ ডলার দরে। এই মুহূর্তেই ব্রিটিশ পাউন্ডের যুগের সমাপ্তি ঘটে এবং সূচনা হয় আমেরিকান যুগের।

এরপরের পঁচিশ বছর ডলার রাজত্ব করে নিরঙ্কুশভাবে। ১৯৭১ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ডলারের স্বর্ণ-রূপান্তরযোগ্যতা স্থগিত করেন এবং স্বর্ণমান বিলুপ্ত হয়। তবু ডলার ধসে পড়েনি। বরং খুঁজে নেয় নতুন ভিত্তি, তেল।

১৯৭৩ সালের ওপেক তেল সংকটের পর যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের সঙ্গে এক কৌশলগত চুক্তি করে। মার্কিন সামরিক সুরক্ষার বিনিময়ে সৌদি তেল বিক্রি হবে কেবল ডলারে। ১৯৭৫ সালের মধ্যে সব ওপেক সদস্য এই চুক্তি মেনে নেয়। জন্ম নেয় পেট্রো-ডলার ব্যবস্থা। তেল ছিল সবার প্রয়োজন, তাই ডলারও হয়ে ওঠে সবার প্রয়োজন। এই কৃত্রিম চাহিদা যুক্তরাষ্ট্রকে এমন বিশাল ঘাটতি বহনের সুযোগ দেয় যা অন্য কোনো দেশের পক্ষে অসম্ভব ছিল।

২০০০ সালের দিকে বিশ্বের বৈদেশিক রিজার্ভের ৭০ শতাংশ ছিল ডলারে। কিন্তু ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৫৭ দশমিক ৮ শতাংশে। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ট্রেজারির অর্ধেকেরও বেশি ধারণ করত, অথচ ২০২৫ সালে তা নেমে আসে মাত্র ৩০ শতাংশে।

ডি-ডলারাইজেশনের দ্রুত অগ্রযাত্রা

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী জোট ব্রিকস, যার সদস্য ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা, সম্প্রতি যুক্ত করেছে মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে। তারা গড়ে তুলছে ব্রিকস ব্রিজ, একটি পেমেন্ট নেটওয়ার্ক যা সেন্ট্রাল ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রার মাধ্যমে লেনদেন করবে, ডলার ছাড়াই। ২০২৫ সাল নাগাদ এই জোট ও তাদের ১৩টি অংশীদার দেশ এই উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিজেই ঋণে ডুবে আছে। ২০২৫ সালের মার্চে মার্কিন সরকারের মোট ঋণ দাঁড়ায় ৩৬ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা জিডিপির ১২৪ শতাংশ। এটি সেই একই সূচক যা ইতিহাসে প্রতিটি সাম্রাজ্যের পতনের আগে দেখা গেছে, অতিরিক্ত ঋণ, সামরিক অতিবিস্তার এবং উৎপাদনশীলতার পতন।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

পর্তুগাল, স্পেন, নেদারল্যান্ডস এবং ব্রিটেন সবাই একই পথে হেঁটেছে। তাদের রিজার্ভ মুদ্রার আয়ু ছিল ৭৮ থেকে ২২০ বছর পর্যন্ত, গড়ে প্রায় ৯৫। মার্কিন ডলার এখন ৮১ বছরে পা দিয়েছে। ইতিহাসের চক্র আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

প্রত্যেক রিজার্ভ মুদ্রার চারটি ধাপ থাকে। প্রথম ধাপ উত্থান, যখন একটি দেশ বাণিজ্য, অর্থনীতি বা সামরিক শক্তিতে উদ্ভাবনের মাধ্যমে নেতৃত্ব গড়ে তোলে। পর্তুগাল নৌচালনায় বিপ্লব ঘটায়, স্পেন রূপার জোগান নিয়ন্ত্রণ করে, ডাচরা আধুনিক অর্থব্যবস্থা তৈরি করে, ব্রিটেন শিল্পবিপ্লব ঘটায় এবং যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ-পরবর্তী শিল্পশক্তিতে উত্থান ঘটায়। দ্বিতীয় ধাপ শিখর, যখন সেই মুদ্রা হয়ে ওঠে বৈশ্বিক মানদণ্ড এবং বিশ্বের ৬০ শতাংশ বাণিজ্য এতে পরিচালিত হয়। তৃতীয় ধাপ অতিবিস্তার, যেখানে সামরিক ব্যয়, ঋণ এবং উৎপাদনশীলতার পতন দেখা দেয়। পর্তুগাল চার মহাদেশে সামরিক বোঝা বইতে পারেনি, স্পেন বারবার দেউলিয়া হয়েছে, ডাচরা ব্রিটেনের সঙ্গে যুদ্ধ করে নিঃশেষ হয়েছে, ব্রিটেনের ঋণ পৌঁছেছিল জিডিপির ২৭০ শতাংশে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ১২৪ শতাংশ এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ব্যয় আট ট্রিলিয়ন ডলার। শেষ ধাপ পতন, যখন আস্থা হারিয়ে যায় এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার কেন্দ্র সরে যায় অন্যত্র।

পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা: একমেরু না বহুমেরু

স্পেনের হাতে পতনের পর পর্তুগাল আর কখনো মাথা তুলতে পারেনি। স্পেন শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ধুঁকেছে, নেদারল্যান্ডস ধনী থেকেও আঞ্চলিক শক্তিতে সীমিত হয়েছে, আর ব্রিটেনের সাম্রাজ্য ১৯৪৫-এর পর গলে গেছে। ১৯৫০-এর দশকে এখনও বিশ্বের ৫৫ শতাংশ রিজার্ভ ছিল স্টার্লিংয়ে, কিন্তু দুই দশকের মধ্যেই তা অর্ধেকে নেমে আসে। ব্রিটিশ শতাব্দী শেষ, শুরু হয় আমেরিকান শতাব্দী।

তবে এমন পরিবর্তন একদিনে ঘটে না। ব্রিটেনের পতন ছিল ধীর, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে তাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল বহু আগেই, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ডলার পাউন্ডকে প্রতিস্থাপন করে পরে। আজ একই ধীর রূপান্তর সম্ভবত আবার ঘটছে, এইবার চীনের দিকে, কিংবা একাধিক শক্তির সম্মিলিত নেতৃত্বে নতুন এক বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার দিকে।

ইতিহাসে রিজার্ভ মুদ্রার গড় আয়ু প্রায় ৯৫ বছর। মার্কিন ডলার সেই সীমার কাছাকাছি এসে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক রিজার্ভে ডলারের অংশীদারিত্ব কমছে, বিদেশি ট্রেজারি বিনিয়োগ হ্রাস পাচ্ছে, ব্রিকস বিকল্প গড়ে তুলছে, পেট্রো-ডলার ব্যবস্থা দুর্বল হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ১৩০ দেশে ৯০০ সামরিক ঘাঁটি ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এই চিত্র যেন ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি, একই ছন্দে, নতুন মুখে।

তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে, এই পরিবর্তন কত দ্রুত ঘটবে এবং পরবর্তী আর্থিক যুগের নেতৃত্ব নেবে কে। এটি কি হবে ব্রিটেনের মতো ধীর অবসান, নাকি নেদারল্যান্ডসের মতো আকস্মিক পতন। একটি একক শক্তি কি আবার বিশ্ব অর্থনীতির শীর্ষে উঠবে, নাকি ভবিষ্যৎ হবে বহুমেরু, যেখানে কয়েকটি রিজার্ভ মুদ্রা ভাগাভাগি করবে বৈশ্বিক প্রভাব।

ইতিহাস কখনো ঠিক একরকম পুনরাবৃত্তি হয় না, কিন্তু তার ছন্দ ফিরে আসে। আর যদি সেই ছন্দ এবারও সত্য প্রমাণিত হয়, তবে পৃথিবী এখন দাঁড়িয়ে আছে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে, ডলারের আধিপত্যের শেষ অধ্যায়ের দ্বারপ্রান্তে।


ইরানের দুঃসময়ে পুতিনের ঘোষণা; মস্কো থাকবে ‘নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হয়ে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২১ ১৬:৪৩:২৫
ইরানের দুঃসময়ে পুতিনের ঘোষণা; মস্কো থাকবে ‘নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হয়ে
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই পারস্য নববর্ষ 'নওরোজ' উপলক্ষে ইরানের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) ক্রেমলিন থেকে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় পুতিন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই কঠিন সময়ে তেহরানের পাশে ‘বিশ্বস্ত বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে থাকবে মস্কো।

ক্রেমলিনের তথ্য অনুযায়ী, পুতিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে আলাদা আলাদা বার্তা পাঠিয়েছেন। বার্তায় তিনি ইরানি জনগণের সুখ-সমৃদ্ধি কামনার পাশাপাশি চলমান সংকট মোকাবিলায় তেহরানের দৃঢ়তা কামনা করেন। পুতিন আরও উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার কারণেই পুরো মধ্যপ্রাচ্য আজ অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে এবং এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। একইসঙ্গে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডকে পুতিন ‘নির্মম ও নিন্দনীয়’ বলে কঠোর সমালোচনা করেন।

তবে রাশিয়ার এই মৌখিক সমর্থনের বিপরীতে বাস্তব সহায়তার মাত্রা নিয়ে খোদ ইরানি মহলেই প্রশ্ন উঠেছে। কিছু ইরানি সূত্র দাবি করেছে যে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মস্কোর কাছ থেকে যে ধরনের কার্যকর সামরিক বা কৌশলগত সহায়তা প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে পুতিনের এই ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’র আশ্বাস কেবল কূটনৈতিক শিষ্টাচার না কি ভবিষ্যতে কোনো বড় সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

সূত্র: রয়টার্স


নাতাঞ্জে ফের মহাপ্রলয়: মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় কাঁপছে ইরানের পরমাণু কেন্দ্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২১ ১৬:৩৯:১০
নাতাঞ্জে ফের মহাপ্রলয়: মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় কাঁপছে ইরানের পরমাণু কেন্দ্র
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পরমাণু কর্মসূচির হৃৎপিণ্ড হিসেবে পরিচিত নাতাঞ্জ (Natanz) ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে আবারও ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) পবিত্র ঈদুল ফিতরের সকালে ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, নাতাঞ্জের ‘শহীদ আহমাদি রোশন’ সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অপরাধমূলক হামলার’ লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা (Al Jazeera) এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার দাবি অনুযায়ী, শনিবারের এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তির (NPT) সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই স্পর্শকাতর স্থাপনাটি যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই একবার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছিল, যার প্রমাণ মিলেছিল স্যাটেলাইট ছবিতে। ২০২৫ সালের জুনেও ইরান-ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের সময় এই স্থাপনাটিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছিল।

এদিকে, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলমান এই বিধ্বংসী সংঘাত থামার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। ইসরায়েল দাবি করেছে, শনিবার ভোরেও ইরান তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। পাল্টা জবাবে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোর দিকে ধেয়ে আসা অন্তত ২০টি ইরানি ড্রোন মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ভূপাতিত করা হয়েছে। পারস্য উপসাগরজুড়ে এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে এক অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

/আশিক


রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর খবর: ভারতসহ এশিয়ার টার্গেট এখন ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২১ ১৫:৪৩:৩৯
রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর খবর: ভারতসহ এশিয়ার টার্গেট এখন ইরান
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের জ্বালানি বাজারে এক বিশাল পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে সমুদ্রের বিভিন্ন প্রান্তে ভাসমান জাহাজগুলোতে প্রায় ১৭ কোটি (১৭০ মিলিয়ন) ব্যারেল ইরানি তেল মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলার (Kpler)। অন্যদিকে, ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স (Reuters)-এর এক প্রতিবেদনে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি আসপেক্টস (Energy Aspects)-এর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ১৯ মার্চ পর্যন্ত এই তেলের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩ থেকে ১৪ কোটি ব্যারেল।

সবচেয়ে বড় খবর হলো, গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেলের ওপর থেকে এক মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রে আটকে থাকা এই বিশাল পরিমাণ তেল এখন খালাস ও বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারতসহ এশিয়ার প্রধান আমদানিকারক দেশগুলো দ্রুত এই তেল কেনার পরিকল্পনা করছে। উল্লেখ্য যে, এশিয়ার দেশগুলো তাদের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল।

কিন্তু চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের শোধনাগারগুলো মারাত্মক সংকটে পড়ে উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল। এখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় শিথিলতা আসার পর এই বিশাল মজুত বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স


হরমুজ উত্তেজনার প্রভাব, ইরান তেলে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত

আশিকুর রহমান
আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২১ ০৭:০৬:৩২
হরমুজ উত্তেজনার প্রভাব, ইরান তেলে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে তেলের দাম ও সরবরাহে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করে আল জাজিরা।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, এই ৩০ দিনের সাময়িক অনুমোদন শুধুমাত্র সেইসব তেলের জন্য প্রযোজ্য, যেগুলো ইতোমধ্যে পরিবহন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। নতুন কোনো ক্রয়াদেশ বা রপ্তানির ক্ষেত্রে এই শিথিলতা প্রযোজ্য হবে না বলে তিনি স্পষ্ট করেন। এর ফলে সীমিত পরিসরে হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু পরিমাণ তেল প্রবাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান উত্তেজনা। ইরান ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা এমন জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে যেগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, যা সরাসরি বৈশ্বিক বাজারে মূল্য অস্থিরতা তৈরি করছে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সমুদ্রে অবস্থানরত ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে। তার মতে, প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে, যা দামের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

তবে এই দাবির বিপরীতে ইরান ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছে। ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সামান গোদ্দোসি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করার মতো অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল তাদের কাছে নেই। তিনি দাবি করেন, সমুদ্রে ভাসমান বা অন্য কোথাও মজুদ হিসেবে এমন কোনো অতিরিক্ত তেল নেই যা দ্রুত বাজারে আনা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, মার্কিন অর্থমন্ত্রীর এই ধরনের বক্তব্য মূলত সম্ভাব্য ক্রেতাদের মধ্যে একটি মনস্তাত্ত্বিক আস্থা তৈরির প্রচেষ্টা, যা বাস্তব সরবরাহ পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সার্বিকভাবে পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জ্বালানি বাজার এখন কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং গভীরভাবে ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। নিষেধাজ্ঞা শিথিলের এই সাময়িক সিদ্ধান্ত বাজারে স্বল্পমেয়াদি স্বস্তি আনতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে হরমুজ প্রণালী, আঞ্চলিক সংঘাত এবং সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।


হরমুজের সংকট মোকাবেলায় ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনায় ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ১৯:২৭:৫৭
হরমুজের সংকট মোকাবেলায় ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনায় ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন এক কৌশল বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের খার্গ দ্বীপ দখল বা অবরোধের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে, যা দেশটির তেল রপ্তানির মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপটি ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ধারণা করা হচ্ছে যে, সামরিক চাপ আরও বৃদ্ধি করে খার্গ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া গেলে ইরানকে আলোচনায় বাধ্য করা সম্ভব হতে পারে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা, এরপর দ্বীপটি দখল করে সেটিকে আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানা গেছে।

ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দ্বীপটিতে একাধিক হামলা চালিয়ে সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে স্থল অভিযান পরিচালনার বিষয়টি আরও জটিল, কারণ এতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা সরাসরি ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে। খার্গ দ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে, সেখানে সেনা মোতায়েন করলে তারা সহজেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আওতায় চলে আসবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে, যা এই সম্ভাব্য পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে পরিস্থিতি অনুযায়ী উপকূলীয় অভিযানও বাস্তবায়িত হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপকে কেন্দ্র করে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে তা কেবল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করবে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তার ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলবে। কারণ হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ, যেখানে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

সার্বিকভাবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও গভীর পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, যেখানে কৌশলগত অবকাঠামো দখল এবং জ্বালানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ হয়ে উঠবে প্রধান শক্তির লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু।


চেক প্রজাতন্ত্রে ইসরায়েলের অস্ত্র কারখানায় আগুন 

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ১৯:০৮:৪৮
চেক প্রজাতন্ত্রে ইসরায়েলের অস্ত্র কারখানায় আগুন 

চেক প্রজাতন্ত্রে ইসরায়েল-সংযুক্ত একটি অস্ত্র কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি ইউরোপভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত এবং ইসরায়েলের বৃহৎ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই স্থাপনাটি ভোরের দিকে আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাটিতে কারখানার একাধিক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

চেক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে সম্ভাব্য ‘সন্ত্রাসী সংযোগ’ রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের উৎস ও উদ্দেশ্য নির্ধারণে ফরেনসিক তদন্ত চলছে।

এদিকে ‘আর্থকোয়েক ফ্যাকশন’ নামের একটি আন্ডারগ্রাউন্ড সংগঠন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ইউরোপে ইসরায়েলের অন্যতম বড় অস্ত্র প্রস্তুতকারকের কার্যক্রম পরিচালনায় এই স্থাপনাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে।

উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানটি স্থল ও আকাশভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের জন্য পরিচিত, যা সাম্প্রতিক বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতে ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে এই কারখানায় হামলার ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অগ্নিকাণ্ড নয়, বরং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের ভেতরে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে তা শুধু নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াবে না, বরং চলমান আন্তর্জাতিক সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তৃতিও নতুন মাত্রা পেতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি ঘিরে তদন্তের অগ্রগতি এবং এর সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এখন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সুত্রঃ আল জাজিরা।


তেলের দামের ধাক্কায় সংকটে ভারতীয় বিমান খাত, রুট বন্ধের সতর্কতা

আশিকুর রহমান
আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ১৮:৫৬:০৪
তেলের দামের ধাক্কায় সংকটে ভারতীয় বিমান খাত, রুট বন্ধের সতর্কতা

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে ভারতের বেসামরিক বিমান খাতে। দেশটির শীর্ষ বিমান সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন সরকারের কাছে সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অনেক রুট বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং নতুন উড়োজাহাজ সংযোজনেও বিলম্ব দেখা দিতে পারে। এই সংগঠনের আওতায় থাকা বড় বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এবং স্পাইসজেট।

সংগঠনটি সরকারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিমান পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে, যা তাদের আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে তারা ডিসেম্বর মাসে আরোপিত ভাড়া নিয়ন্ত্রণ নীতিও প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে, কারণ এই সীমাবদ্ধতার কারণে বাড়তি ব্যয় যাত্রী ভাড়ার মাধ্যমে সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে বড় ধরনের রাজস্ব ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং পরিচালন ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে একাধিক সংস্থা গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়তে পারে, যা তাদের টিকে থাকার সক্ষমতাকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দামের সামান্য পরিবর্তনও এই খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ব্যারেল তেলের দামে এক ডলার বৃদ্ধি একটি বড় বিমান সংস্থার বার্ষিক জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়ে দিতে পারে, যা সামগ্রিক আর্থিক ভারসাম্যকে নড়বড়ে করে দেয়।

সার্বিকভাবে পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি কেবল একটি অর্থনৈতিক ইস্যু নয়, বরং এটি বৈশ্বিক পরিবহন ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ভারতের মতো দ্রুতবর্ধনশীল বিমান বাজারেও এই চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যেখানে রুট সংকোচন, বহর সম্প্রসারণে বিলম্ব এবং ভাড়া নীতির পুনর্বিবেচনা এখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।


ঈদের আনন্দ ম্লান: যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির ছায়ায় মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম বিশ্ব

আহমেদ ইশতিয়াক
আহমেদ ইশতিয়াক
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ১৭:৫৯:১৭
ঈদের আনন্দ ম্লান: যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির ছায়ায় মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম বিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান যুদ্ধ, ধ্বংস এবং বাস্তুচ্যুতির গভীর সংকটে এবারের ঈদুল ফিতর এক ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। যে উৎসব সাধারণত আনন্দ, পারিবারিক বন্ধন এবং আধ্যাত্মিক প্রশান্তির প্রতীক, তা এবার বহু মানুষের কাছে পরিণত হয়েছে অনিশ্চয়তা, ক্ষতি এবং বেঁচে থাকার সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে। বৈরুত থেকে গাজা পর্যন্ত বিস্তৃত এই সংকট দেখাচ্ছে, কীভাবে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত একটি অঞ্চলের সামাজিক ও মানবিক কাঠামোকে ভেঙে দিতে পারে।

লেবাননের রাজধানী বৈরুতের সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় আশ্রয়ের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আলা নামের এক শরণার্থী। সিরিয়ার অধিকৃত গোলান মালভূমি থেকে আগত এই মানুষটি একসময় বসবাস করতেন দাহিয়েহ এলাকায়, যা সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলায় লেবাননে ইতোমধ্যে হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। নিজের বাসস্থান হারিয়ে তিনি এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত জীবনে নিপতিত, যেখানে প্রতিদিনের প্রধান লক্ষ্য একটি নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাওয়া। এই বাস্তবতায় ঈদের মতো উৎসব তার কাছে অর্থহীন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি আরও গভীর ও বেদনাদায়ক। দীর্ঘ সময় ধরে চলমান সংঘাতে এই অঞ্চল কার্যত মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। অব্যাহত হামলা, অবরোধ এবং অবকাঠামোগত ধ্বংসের ফলে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং চিকিৎসাসেবার মতো মৌলিক প্রয়োজনীয়তাও অনেক ক্ষেত্রে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমন বাস্তবতায় ঈদ উদযাপন করা মানুষের কাছে একপ্রকার অসম্ভব অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে।

এই অঞ্চলের অসংখ্য পরিবার আজ এমন এক অবস্থায় রয়েছে, যেখানে উৎসবের আনন্দ নয়, বরং নিরাপত্তা এবং টিকে থাকার প্রশ্নই মুখ্য হয়ে উঠেছে। শিশুদের স্বাভাবিক শৈশব, নতুন পোশাক কিংবা পরিবারকেন্দ্রিক আনন্দময় মুহূর্তগুলো যুদ্ধের বাস্তবতায় হারিয়ে যাচ্ছে। ঈদের প্রার্থনাও অনেক ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে শান্তি, নিরাপত্তা এবং একটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষায়।

সার্বিকভাবে এবারের ঈদ মধ্যপ্রাচ্যে কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং একটি গভীর মানবিক সংকটের প্রতিচ্ছবি। এটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, যুদ্ধের প্রভাব কেবল ভূরাজনৈতিক বা সামরিক সীমারেখায় সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সংস্কৃতি এবং আবেগের গভীরে গিয়ে আঘাত হানে। এই বাস্তবতায় ঈদ হয়ে উঠেছে আশ্রয়, নিরাপত্তা এবং শান্তির জন্য মানুষের এক নীরব আবেদন।


ইসরায়েলে প্রথমবার 'নাসরুল্লাহ' মিসাইল ব্যবহার করল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ১২:২৫:৩৪
ইসরায়েলে প্রথমবার 'নাসরুল্লাহ' মিসাইল ব্যবহার করল ইরান
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংস্থাটি দাবি করেছে, তাদের ঘোষিত ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ধারাবাহিকতায় ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ৬৫তম দফায় ব্যাপক প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, এই অভিযানে প্রথমবারের মতো উন্নত প্রযুক্তির মাল্টি-ওয়ারহেড সমৃদ্ধ ‘নাসরুল্লাহ’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, এই নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্রটি কদর সিরিজের আধুনিকায়িত ও গাইডেড সংস্করণ, যা লক্ষ্যবস্তুতে আরও নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম।

ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র আশদোদ ও হাইফা অঞ্চলের তেল শোধনাগার। এই অবকাঠামোগুলো দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত, ফলে এগুলোতে আঘাতের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

তবে এই সামরিক অভিযানের পরিধি শুধু ইসরায়েলেই সীমাবদ্ধ ছিল না বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত কিছু মার্কিন সামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের আল-খারজ বিমানঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা ও আল-জাফরা ঘাঁটিতে বিভিন্ন ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এই ঘাঁটিগুলো মূলত মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ফলে এসব স্থাপনায় হামলার দাবি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপের জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, তাদের লক্ষ্য পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকতে পারে।

তবে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি দাবি ও পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: