বিশেষ প্রতিবেদন
ডলারের যুগের অবসান? পাঁচ শতাব্দীর আর্থিক ইতিহাসে পুনরাবৃত্ত পতনের ছন্দ

কল্পনা করুন, সময়টা ১৯৪৪ সাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তখনও শেষ হয়নি। ৪৪টি মিত্র দেশের প্রতিনিধিরা সমবেত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের পাহাড়ি শহর ব্রেটন উডসের মনোরম মাউন্ট ওয়াশিংটন হোটেলে। সেই বৈঠকে তাঁরা এমন এক সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন, যা পরবর্তী আশি বছরের জন্য পৃথিবীর অর্থনীতির ভাগ্য নির্ধারণ করবে। সভাকক্ষের ভেতরে ইতিহাস যেন থমকে আছে। ব্রিটেন, যে দেশ একসময় পৃথিবীর আর্থিক হৃদস্পন্দন ছিল, এখন প্রায় নিঃস্ব। তার জাতীয় ঋণ জিডিপির ২৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে। পরপর দুটি বিশ্বযুদ্ধের ধাক্কায় সাম্রাজ্যটির অর্থনীতি প্রায় মুমূর্ষু অবস্থায়। যে দেশ শতাব্দীর পর শতাব্দী সমুদ্রপথ শাসন করেছিল, তার রিজার্ভ শেষ, ব্যাংক শূন্য এবং জনগণ ক্লান্ত। সেই মুহূর্তে উপস্থিত সবাই বুঝেছিল, এক যুগের অবসান ঘনিয়ে এসেছে।
তখন ঘটে ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা। বিশ্বের রিজার্ভ মুদ্রার মুকুট এক সাম্রাজ্য থেকে অন্য সাম্রাজ্যের হাতে হস্তান্তরিত হয়। ব্রিটিশ পাউন্ড, যা দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব বাণিজ্যের মেরুদণ্ড ছিল, হারায় তার মর্যাদা। সেই শূন্যস্থান পূরণ করে মার্কিন ডলার। তবে এটি কেবল আর্থিক হস্তান্তর নয়। এটি ছিল মানবসভ্যতার আর্থিক ইতিহাসে বারবার পুনরাবৃত্ত এক চক্রের ধারাবাহিকতা। এই চক্রের চারটি ধাপ উত্থান, শিখর, অতিবিস্তার এবং পতন যুগে যুগে সাম্রাজ্য থেকে সাম্রাজ্যে পুনরাবৃত্ত হয়েছে। ইতিহাসে পর্তুগাল, স্পেন, নেদারল্যান্ডস এবং ব্রিটেন সবাই এই একই ধাপের মধ্য দিয়ে গেছে। আজ মার্কিন ডলার সেইসব পূর্বসূরির মতোই একই সতর্ক সংকেত দেখাতে শুরু করেছে।
এই চক্রটি বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে অতীতে, প্রায় ছয় শতাব্দী পেছনে, ইউরোপের পশ্চিম উপকূলে, পর্তুগালের উত্থানের কাহিনিতে।
পর্তুগালের রিয়াল ও আবিষ্কারের যুগ
১৪৫০ সালের দিকে পর্তুগিজ রিয়াল হয়ে ওঠে বিশ্বের প্রথম প্রকৃত রিজার্ভ মুদ্রা। পরবর্তী আশি বছর পর্তুগাল ছিল বৈশ্বিক বাণিজ্যের অবিসংবাদিত নেতা। তাদের সাফল্যের রহস্য ছিল নৌচালনা ও বৈদেশিক বাণিজ্যে উদ্ভাবন। ১৪৫৩ সালে অটোমান সাম্রাজ্যের হাতে কনস্টান্টিনোপলের পতনের পর প্রাচীন মশলার বাণিজ্যপথ বন্ধ হয়ে যায়। ইউরোপীয় বণিকদের জন্য এটি ছিল এক বিশাল ধাক্কা, কিন্তু পর্তুগাল খুঁজে পেল নতুন পথ। তারা আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে সমুদ্রপথে এশিয়ায় পৌঁছে দেয় বাণিজ্যের নতুন দ্বার, শুরু হয় আবিষ্কারের যুগ।
লিসবন তখন হয়ে ওঠে বিশ্বের বাণিজ্যকেন্দ্র। পর্তুগিজ রিয়াল ইউরোপ থেকে এশিয়া পর্যন্ত গৃহীত হতে শুরু করে। সাম্রাজ্য ছড়িয়ে পড়ে আফ্রিকা, ভারত, মালয়েশিয়া, জাপান এবং চীনের ম্যাকাও পর্যন্ত। কিন্তু ইতিহাসের চিরন্তন নিয়ম অনুযায়ী সাফল্যই হয়ে ওঠে পতনের সূচনা। চারটি মহাদেশে সামরিক ঘাঁটি রক্ষা করতে করতে তাদের ভাণ্ডার ফুরিয়ে যায়। প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি ডাচ, ফরাসি ও ব্রিটিশরা ক্রমে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ১৫৩০-এর দশকে রাজপরিবারে উত্তরাধিকার সংকট সৃষ্টি হলে দেশটি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ১৫৮০ সালে স্পেনের হাতে পর্তুগাল আত্মসমর্পণ করে, গঠিত হয় আইবেরিয়ান ইউনিয়ন। প্রায় আশি বছরের আধিপত্যের পর ইতিহাসের মঞ্চ থেকে হারিয়ে যায় পর্তুগালের রিয়াল। তার জায়গা নেয় স্প্যানিশ রূপা।
স্প্যানিশ রূপার সাম্রাজ্য
স্পেনের উত্থান শুরু হয় আন্দিজ পর্বতমালার কোলে বলিভিয়ার পোটোসি নামের এক পাহাড়ে বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রূপার খনি আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে। ১৫৪৫ সালে আবিষ্কৃত এই খনি ১৫৭৫ থেকে ১৬৩৫ সালের মধ্যে উৎপাদন করেছিল বিশ্বের প্রায় অর্ধেক রূপা। এই রূপা দিয়ে তৈরি হয় বিখ্যাত “পিস অফ এইট”, যা বিশ্বের প্রথম বৈশ্বিক মুদ্রা হিসেবে পরিচিত হয়। এই স্প্যানিশ ডলার এতটাই নির্ভরযোগ্য ছিল যে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ মুদ্রা হিসেবে প্রচলিত ছিল।
স্পেনের আধিপত্য স্থায়ী হয় প্রায় ১১০ বছর। কিন্তু অতিবিস্তার ও ঋণের বোঝা তাদের পতন ডেকে আনে। রাজা চার্লস প্রথম রেখে যান ৩৬ মিলিয়ন ডুকাট ঋণ এবং প্রতি বছর এক মিলিয়ন ডুকাটের ঘাটতি। তাঁর পুত্র ফিলিপ দ্বিতীয় এই বোঝা সামলাতে গিয়ে চারবার দেউলিয়া ঘোষণা করেন ১৫৫৭, ১৫৬০, ১৫৭৫ এবং ১৫৯৬ সালে। রূপার অবিরাম প্রবাহ দেশে সৃষ্টি করে ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি। ফিলিপ দ্বিতীয়ের রাজত্বকালে পণ্যের দাম চারগুণ বেড়ে যায়। ফিলিপ তৃতীয়ের আমলে রূপার সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসতেই অর্থনীতি ধসে পড়ে এবং ১৬০৭ সালে আবার দেউলিয়াত্ব ঘোষণা করতে হয়। ১৬৪১ সালে আইবেরিয়ান ইউনিয়ন ভেঙে যায়। স্পেনের রূপার রাজত্বের অবসান ঘটে এবং আর্থিক শক্তির মঞ্চে উঠে আসে ডাচ প্রজাতন্ত্র।
নেদারল্যান্ডসের সোনালি যুগ
১৭ শতকে নেদারল্যান্ডস হয়ে ওঠে বিশ্বের আর্থিক রাজধানী। আমস্টারডাম তখন বাণিজ্যের নতুন কেন্দ্র এবং ডাচ গিল্ডার ইউরোপের কার্যত রিজার্ভ মুদ্রা। আমস্টারডাম ব্যাংক প্রবর্তন করে আন্তর্জাতিক অর্থপ্রদানের আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা। ডাচ বণিকেরা প্রথম গঠন করে শেয়ারবাজার, সামুদ্রিক বীমা এবং শেয়ার কোম্পানির ধারণা।
১৬৪২ থেকে ১৭২০ পর্যন্ত, প্রায় আট দশক ধরে, বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ বাণিজ্য সম্পন্ন হতো ডাচ মুদ্রায়। কিন্তু একই চক্র পুনরায় দেখা দেয়। চতুর্থ ইংরেজ-ডাচ যুদ্ধের (১৭৮০ থেকে ১৭৮৪) ফলে দেশটি দেউলিয়া হয়ে পড়ে। বিশাল ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভেঙে যায়। এই শূন্যস্থান পূরণ করে ব্রিটেন, যে তখন শিল্পবিপ্লবের মাধ্যমে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল।
ব্রিটিশ পাউন্ড ও শিল্পবিপ্লবের শতাব্দী
দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ব্রিটিশ পাউন্ড ছিল বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রধান মুদ্রা। শিল্পবিপ্লব, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও উপনিবেশ সাম্রাজ্যের শক্তিতে ব্রিটেন গড়ে তোলে পৃথিবীর বৃহত্তম অর্থনীতি। ১৮১৬ সালের গ্রেট রিকয়েনেজের পর স্বর্ণমান প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পাউন্ডকে বিশ্বের সবচেয়ে স্থিতিশীল মুদ্রায় পরিণত করে। ১৯২২ সালের মধ্যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য শাসন করত বিশ্বের এক চতুর্থাংশ ভূমি ও এক পঞ্চমাংশ জনসংখ্যা, প্রায় ৪৫৮ মিলিয়ন মানুষ।
তবে দীর্ঘস্থায়ী এই আধিপত্যের অবসান ঘটাতে শুরু করে দুটি বিশ্বযুদ্ধ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ঋণ বেড়ে যায় ৬৫০ মিলিয়ন পাউন্ড থেকে ৭ বিলিয়নে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে সরকারি ঋণ দাঁড়ায় জিডিপির ২৭০ শতাংশে। ব্রিটেন যুদ্ধ জিতলেও হারায় তার আর্থিক নেতৃত্ব।
ব্রেটন উডস ও ডলারের যুগ
১৯৪৪ সালের জুলাই মাসে ৭০০ প্রতিনিধি জড়ো হন ব্রেটন উডসে। লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত বিশ্ব অর্থনীতির পুনর্গঠন। সেই সম্মেলন থেকেই জন্ম নেয় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এবং বিশ্বব্যাংক (World Bank)। চুক্তি অনুযায়ী সব বড় মুদ্রা বাঁধা হয় মার্কিন ডলারের সঙ্গে, আর ডলার বাঁধা হয় স্বর্ণে প্রতি আউন্স ৩৫ ডলার দরে। এই মুহূর্তেই ব্রিটিশ পাউন্ডের যুগের সমাপ্তি ঘটে এবং সূচনা হয় আমেরিকান যুগের।
এরপরের পঁচিশ বছর ডলার রাজত্ব করে নিরঙ্কুশভাবে। ১৯৭১ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ডলারের স্বর্ণ-রূপান্তরযোগ্যতা স্থগিত করেন এবং স্বর্ণমান বিলুপ্ত হয়। তবু ডলার ধসে পড়েনি। বরং খুঁজে নেয় নতুন ভিত্তি, তেল।
১৯৭৩ সালের ওপেক তেল সংকটের পর যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের সঙ্গে এক কৌশলগত চুক্তি করে। মার্কিন সামরিক সুরক্ষার বিনিময়ে সৌদি তেল বিক্রি হবে কেবল ডলারে। ১৯৭৫ সালের মধ্যে সব ওপেক সদস্য এই চুক্তি মেনে নেয়। জন্ম নেয় পেট্রো-ডলার ব্যবস্থা। তেল ছিল সবার প্রয়োজন, তাই ডলারও হয়ে ওঠে সবার প্রয়োজন। এই কৃত্রিম চাহিদা যুক্তরাষ্ট্রকে এমন বিশাল ঘাটতি বহনের সুযোগ দেয় যা অন্য কোনো দেশের পক্ষে অসম্ভব ছিল।
২০০০ সালের দিকে বিশ্বের বৈদেশিক রিজার্ভের ৭০ শতাংশ ছিল ডলারে। কিন্তু ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৫৭ দশমিক ৮ শতাংশে। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ট্রেজারির অর্ধেকেরও বেশি ধারণ করত, অথচ ২০২৫ সালে তা নেমে আসে মাত্র ৩০ শতাংশে।
ডি-ডলারাইজেশনের দ্রুত অগ্রযাত্রা
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী জোট ব্রিকস, যার সদস্য ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা, সম্প্রতি যুক্ত করেছে মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে। তারা গড়ে তুলছে ব্রিকস ব্রিজ, একটি পেমেন্ট নেটওয়ার্ক যা সেন্ট্রাল ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রার মাধ্যমে লেনদেন করবে, ডলার ছাড়াই। ২০২৫ সাল নাগাদ এই জোট ও তাদের ১৩টি অংশীদার দেশ এই উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিজেই ঋণে ডুবে আছে। ২০২৫ সালের মার্চে মার্কিন সরকারের মোট ঋণ দাঁড়ায় ৩৬ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা জিডিপির ১২৪ শতাংশ। এটি সেই একই সূচক যা ইতিহাসে প্রতিটি সাম্রাজ্যের পতনের আগে দেখা গেছে, অতিরিক্ত ঋণ, সামরিক অতিবিস্তার এবং উৎপাদনশীলতার পতন।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
পর্তুগাল, স্পেন, নেদারল্যান্ডস এবং ব্রিটেন সবাই একই পথে হেঁটেছে। তাদের রিজার্ভ মুদ্রার আয়ু ছিল ৭৮ থেকে ২২০ বছর পর্যন্ত, গড়ে প্রায় ৯৫। মার্কিন ডলার এখন ৮১ বছরে পা দিয়েছে। ইতিহাসের চক্র আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
প্রত্যেক রিজার্ভ মুদ্রার চারটি ধাপ থাকে। প্রথম ধাপ উত্থান, যখন একটি দেশ বাণিজ্য, অর্থনীতি বা সামরিক শক্তিতে উদ্ভাবনের মাধ্যমে নেতৃত্ব গড়ে তোলে। পর্তুগাল নৌচালনায় বিপ্লব ঘটায়, স্পেন রূপার জোগান নিয়ন্ত্রণ করে, ডাচরা আধুনিক অর্থব্যবস্থা তৈরি করে, ব্রিটেন শিল্পবিপ্লব ঘটায় এবং যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ-পরবর্তী শিল্পশক্তিতে উত্থান ঘটায়। দ্বিতীয় ধাপ শিখর, যখন সেই মুদ্রা হয়ে ওঠে বৈশ্বিক মানদণ্ড এবং বিশ্বের ৬০ শতাংশ বাণিজ্য এতে পরিচালিত হয়। তৃতীয় ধাপ অতিবিস্তার, যেখানে সামরিক ব্যয়, ঋণ এবং উৎপাদনশীলতার পতন দেখা দেয়। পর্তুগাল চার মহাদেশে সামরিক বোঝা বইতে পারেনি, স্পেন বারবার দেউলিয়া হয়েছে, ডাচরা ব্রিটেনের সঙ্গে যুদ্ধ করে নিঃশেষ হয়েছে, ব্রিটেনের ঋণ পৌঁছেছিল জিডিপির ২৭০ শতাংশে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ১২৪ শতাংশ এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ব্যয় আট ট্রিলিয়ন ডলার। শেষ ধাপ পতন, যখন আস্থা হারিয়ে যায় এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার কেন্দ্র সরে যায় অন্যত্র।
পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা: একমেরু না বহুমেরু
স্পেনের হাতে পতনের পর পর্তুগাল আর কখনো মাথা তুলতে পারেনি। স্পেন শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ধুঁকেছে, নেদারল্যান্ডস ধনী থেকেও আঞ্চলিক শক্তিতে সীমিত হয়েছে, আর ব্রিটেনের সাম্রাজ্য ১৯৪৫-এর পর গলে গেছে। ১৯৫০-এর দশকে এখনও বিশ্বের ৫৫ শতাংশ রিজার্ভ ছিল স্টার্লিংয়ে, কিন্তু দুই দশকের মধ্যেই তা অর্ধেকে নেমে আসে। ব্রিটিশ শতাব্দী শেষ, শুরু হয় আমেরিকান শতাব্দী।
তবে এমন পরিবর্তন একদিনে ঘটে না। ব্রিটেনের পতন ছিল ধীর, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে তাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল বহু আগেই, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ডলার পাউন্ডকে প্রতিস্থাপন করে পরে। আজ একই ধীর রূপান্তর সম্ভবত আবার ঘটছে, এইবার চীনের দিকে, কিংবা একাধিক শক্তির সম্মিলিত নেতৃত্বে নতুন এক বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার দিকে।
ইতিহাসে রিজার্ভ মুদ্রার গড় আয়ু প্রায় ৯৫ বছর। মার্কিন ডলার সেই সীমার কাছাকাছি এসে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক রিজার্ভে ডলারের অংশীদারিত্ব কমছে, বিদেশি ট্রেজারি বিনিয়োগ হ্রাস পাচ্ছে, ব্রিকস বিকল্প গড়ে তুলছে, পেট্রো-ডলার ব্যবস্থা দুর্বল হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ১৩০ দেশে ৯০০ সামরিক ঘাঁটি ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এই চিত্র যেন ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি, একই ছন্দে, নতুন মুখে।
তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে, এই পরিবর্তন কত দ্রুত ঘটবে এবং পরবর্তী আর্থিক যুগের নেতৃত্ব নেবে কে। এটি কি হবে ব্রিটেনের মতো ধীর অবসান, নাকি নেদারল্যান্ডসের মতো আকস্মিক পতন। একটি একক শক্তি কি আবার বিশ্ব অর্থনীতির শীর্ষে উঠবে, নাকি ভবিষ্যৎ হবে বহুমেরু, যেখানে কয়েকটি রিজার্ভ মুদ্রা ভাগাভাগি করবে বৈশ্বিক প্রভাব।
ইতিহাস কখনো ঠিক একরকম পুনরাবৃত্তি হয় না, কিন্তু তার ছন্দ ফিরে আসে। আর যদি সেই ছন্দ এবারও সত্য প্রমাণিত হয়, তবে পৃথিবী এখন দাঁড়িয়ে আছে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে, ডলারের আধিপত্যের শেষ অধ্যায়ের দ্বারপ্রান্তে।
শর্ত মানলে দু’দিনে হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণা ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের শর্তসমূহ মেনে নিলে মাত্র দুই দিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে এবং এই নৌপথের নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠাসহ আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান। সোমবার (২ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তথ্য ও বার্তা লেনদেন বজায় রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে প্রথমে সাত দিনের একটি পরিকল্পনার কথা বলা হলেও, চুক্তি হলে মাত্র দুই দিনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে—যা ইরানের সদিচ্ছারই প্রমাণ। ইরানের দেওয়া প্রধান দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে—পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের অবসান, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা, দেশটির তেল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ওয়াশিংটন আরোপিত নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া। অন্যদিকে কাতারভিত্তিক আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী সম্মত নতুন নৌপথ যুক্তরাষ্ট্রকে মেনে নিতে হবে, সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাসংখ্যা কমাতে হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন সামরিক হামলার আশঙ্কার মুখে তেহরান তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্য ইরানের পিকঅ্যাক্স পর্বতসহ বাকি স্থাপনাগুলোতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিলে বাঘাই স্পষ্ট জানান, ইরানের ওপর যেকোনো ধরনের সামরিক হামলা বা আগ্রাসনের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক, শক্তিশালী এবং সর্বাত্মক জবাব দেওয়া হবে।
সূত্র: এএফপি
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নতুন কূটনৈতিক মোড়
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষে কাতারের মধ্যস্থতায় দোহায় চলমান আলোচনা থেকে সাময়িকভাবে কাতার ছেড়েছেন ইরানি প্রতিনিধিরা। তবে কোনো জটিলতা বা আলোচনা ভেঙে যাওয়ার কারণে নয়, বরং একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বর্তমানে পর্যালোচনার কাজ চলছে এবং পরবর্তীতে আরেকটি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, গত সেপ্টেম্বরে তেহরানের তৈরি করা সাত দফার একটি পরিকল্পনাকে এই আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। এই পরিকল্পনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই বার্তা আদান-প্রদান করছিলেন। বাঘাই আরও স্পষ্ট করে জানান যে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের অবসান, ইরানের দাবিগুলোর সম্মান এবং দেশটির বৈধ চাহিদা পূরণ না হলে কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো বা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব নয়। এর আগে আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছিলেন, একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘাত নতুন মোড় নিতে পারে এমন উদ্বেগের মাঝেই এই কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। মঙ্গলবার মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচন নিয়ে তেহরানের বড় কোনো পরিবর্তনের প্রত্যাশা না থাকলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো হামলা চালাবে না এবং আলোচনাও ফলপ্রসূ হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা তিনি পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি।
/আশিক
মাত্র দশ মিনিটে কি ধ্বংস সম্ভব ইরানের পরমাণু শক্তি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতার বড় একটি অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে দেশটির পরমাণু কর্মসূচির অবশিষ্টাংশ ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলেছে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কার মুখে কোনো ধরনের ভৌগোলিক সীমারেখা না মেনে কঠোর ও তাৎক্ষণিক পাল্টা জবাব দেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
শনিবার ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে প্রায় অকার্যকর করে দিয়েছে। তবে ভূগর্ভস্থ পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনসহ এখনো এক বা দুটি স্থাপনা বাকি রয়েছে, যেগুলোর বিরুদ্ধে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযানের ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি ট্রাম্প এবং প্রশাসন কূটনৈতিক সমাধানকেই প্রধান্য দিচ্ছে।
এদিকে, ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনি এই দায়িত্ব নেন এবং এর পর থেকে এটিই ছিল সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর প্রথম কোনো সরাসরি বৈঠক।
সংঘাতের এই উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত ও কঠোর বিধিনিষেধের আওতায় রেখেছে তেহরান। গত শনিবার এই নৌপথে চলাচলের সময় একটি জাহাজে মাইন বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায় এবং তার আগে তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারও মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক তেলের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হওয়ায় এই নৌপথে বাধার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও।
চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজায়ির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন, যাকে তেহরান ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে ইরান। এছাড়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে সংঘাতের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমারেখা মানবে না তেহরান।
/আশিক
নেতানিয়াহুর পতনে আইজেনকোটকে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান আহমেদ টিবির
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটাতে বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকোটকে রাজনৈতিক সাহসিকতা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি আইনপ্রণেতা আহমেদ টিবি। সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আইজেনকোটের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া কোনো সংখ্যালঘু সরকারকে বাইরে থেকে পূর্ণ সমর্থন দিতে ফিলিস্তিনি দলগুলো প্রস্তুত রয়েছে।
১৯৯৩ সালের ঐতিহাসিক ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আহমেদ টিবি জানান, সে সময় তৎকালীন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী আইজাক রাবিন ফিলিস্তিনি দলগুলোর পরোক্ষ সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার পরিচালনা করেছিলেন। নেতানিয়াহুর পতন ঘটাতে আইজেনকোটকেও ঠিক তেমনি একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
সম্প্রতি ইসরাইলি নির্বাচনে ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। এর ফলে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনি দলগুলোর সমর্থন ছাড়া নেতানিয়াহু বা বিরোধী দল—কারোর পক্ষেই এককভাবে সরকার গঠন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোটের আসন সংখ্যা আগের ৬৪টি থেকে কমে ৫৩টিতে নেমে এসেছে। ফিলিস্তিনিদের এই নির্বাচনী সাফল্যকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিলেও জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন আহমেদ টিবি। তার স্পষ্ট কথা, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মূল লক্ষ্য হলো নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নেতানিয়াহুর পতন নিশ্চিত করা এবং ইসরাইলে নিজেদের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার আদায় করা।
সূত্র: মিডলইস্ট আই
চাঁদের বুকে পারমাণবিক চুল্লি বসাতে লড়ছে তিন পরাশক্তি
চাঁদের বুকে আধিপত্য বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কেবল নভোচারী পাঠানো নয়, বরং চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণ, বরফ থেকে পানি ও রকেটের জ্বালানি উৎপাদন এবং মূল্যবান খনিজ সম্পদ আহরণের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে পরাশক্তিগুলো। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে সামনে এসেছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
চাঁদের মেরু অঞ্চলের গভীর খাদ বা চির-অন্ধকার অঞ্চলে পানির বরফের সন্ধান মিলেছে, যা প্রক্রিয়াজাত করে পানীয় জল, অক্সিজেন ও জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব। এছাড়া চাঁদের মাটিতে থাকা অ্যালুমিনিয়াম, টাইটানিয়াম ও সিলিকন আহরণের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে চাঁদের প্রায় চৌদ্দ পৃথিবী দিন সমমানের দীর্ঘ রাত ও অন্ধকারের কারণে সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়। এই সমস্যার সমাধানেই পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ‘লুনার রিয়্যাক্টর-১’ (LR-1) প্রকল্পের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। ছয় হাজার কেজির কম ওজনের এই চুল্লি পাঁচ বছর পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই বিদ্যুৎ দিতে পারবে। এছাড়া ২০৩০-এর দশকের শুরুতে ৪০ কিলোওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক ব্যবস্থা চালুর কাজও চলছে। অন্যদিকে, চীন ও রাশিয়া যৌথভাবে আন্তর্জাতিক চন্দ্র গবেষণা কেন্দ্রের জন্য পারমাণবিক বিদ্যুৎব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। রুশ মহাকাশ সংস্থা রসকসমস ২০৩৬ সালের মধ্যে ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই ১০ বছরের বেশি সচল থাকবে।
মহাকাশ খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তারাও পিছিয়ে নেই। ইলন মাস্কের স্পেসএক্স চাঁদের খনিজ ব্যবহার করে মহাকাশেই স্যাটেলাইট ও যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা স্থাপনের কথা ভাবছে। তবে এই উদ্যোগের বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিরাপত্তা। রকেটে করে পারমাণবিক চুল্লি পরিবহনের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। ১৯৭৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘কসমস-৯৫৪’ স্যাটেলাইট কানাডায় বিধ্বস্ত হয়ে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি এ ক্ষেত্রে বড় সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়।
বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের পাশাপাশি এই প্রতিযোগিতায় রয়েছে কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য। ১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ অনুযায়ী চাঁদের সার্বভৌম মালিকানা দাবির সুযোগ না থাকলেও, বরফ ও খনিজসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের আশঙ্কা রয়েছে।
আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে মোজতবা খামেনির চরম হুঙ্কার: মানা হবে না কোনো সীমানা
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে চরম হুঙ্কার দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান কিংবা দেশটির আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর যদি নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো হয়, তবে তার উপযুক্ত জবাব দিতে ইরানি বাহিনী কোনো ধরনের ভৌগোলিক সীমানা বা আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলবে না।
মোজতবা খামেনির অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিশেষ যুদ্ধংদেহী বার্তায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে যেকোনো সম্ভাব্য হামলার বিপরীতে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই বিবৃতিতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলা হয়েছে, শত্রুপক্ষ যদি আবারও কোনো সামরিক বা প্রতিকূল পদক্ষেপ নেওয়ার দুঃসাহস দেখায়, তবে সেই সংঘাত কখন এবং কীভাবে সমাপ্ত হবে, তা নির্ধারণ করবে কেবল তেহরান।
পরিস্থিতি আরও বেশি সংঘাতপূর্ণ করে তোলার নির্দেশ দিয়ে খামেনি ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর এবং সামরিক স্থাপনাকে যেন তেহরানের নতুন ‘টার্গেট লিস্ট’ বা লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর সুদূরপ্রসারী অর্থ হলো, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে সেই লড়াই আর কেবল মধ্যপ্রাচ্যের নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ও ইসরাইলি স্বার্থ এবং স্থাপনাগুলোও সরাসরি ইরানি বাহিনীর হামলার নিশানা হতে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তাপ: প্রস্তুত থাকার নির্দেশ আমেরিকার
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে ইরানে নতুন সামরিক হামলার আশঙ্কায় প্রস্তুত থাকার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরদিনই—অর্থাৎ ৪ নভেম্বর থেকে এই সম্ভাব্য হামলা শুরু হতে পারে। যদিও ওয়াশিংটন বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়নি, তবে সম্ভাব্য স্বল্পস্থায়ী ও তীব্র এই সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে উপসাগরীয় অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা বা ব্রিফিং করা হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘এমএস নাও’ এবং ‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ উপসাগরীয় আরব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে নতুন করে হামলা শুরু হলে তার তীব্রতা অনেক বেশি হতে পারে। তবে এই পদক্ষেপে ইরানের পক্ষ থেকে ভয়াবহ পাল্টা আক্রমণের আশঙ্কায় রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। এ কারণে উপসাগরীয় মিত্ররা ওয়াশিংটনকে অতিরিক্ত উত্তেজনা প্রশমিত করার জন্য জোর তাগিদ দিচ্ছে। এমনকি আঞ্চলিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কিছু উপসাগরীয় দেশ তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালানোর বিরোধিতা পর্যন্ত করতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে ইরানে নতুন করে কোনো হামলা চালানো হবে না। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন সমস্ত বিকল্পই খোলা রেখেছে। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে ব্যক্তিগতভাবে প্রস্তুত থাকার এই সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের চূড়ান্ত রূপরেখা বা সময়সূচি নিয়ে এখনো নানা কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েলের
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কায় তেহরান আগাম আক্রমণ চালাতে পারে: এফডিডি কর্মকর্তা
আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আশঙ্কার মুখে তেহরান আগেভাগেই ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে আগাম হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজের (এফডিডি) নির্বাহী পরিচালক জনাথন শ্যানজার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পর ইরানে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে। তবে শ্যানজারের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আসন্ন বুঝে তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব হাত গুটিয়ে বসে না থেকে বরং কৌশলগত সুবিধা অর্জনের জন্য আগেভাগেই আক্রমণ চালিয়ে বসার ঝুঁকি রয়েছে।
চলমান এই উত্তেজনার ফলে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, যা নির্বাচনী প্রচারণায় রিপাবলিকান প্রার্থীদের বেশ চাপে ফেলে দিয়েছে। শুধু পেট্রল বা জ্বালানি তেলই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যান্য খাতেও পণ্য ও সেবার ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। পেন্টাগনের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক এই সামরিক কার্যক্রমে মার্কিন করদাতাদের ব্যয় ইতোমধ্যে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭১০ কোটি ডলারে।
তবে শ্যানজারের এই বিশ্লেষণটি একান্তই সম্ভাব্য পরিস্থিতির একটি মূল্যায়ন মাত্র, যেখানে ইরানের সুনির্দিষ্ট কোনো আগাম হামলার পরিকল্পনা বা নিশ্চিত সামরিক পদক্ষেপের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, হামলার সময় নিয়ে এই অনিশ্চয়তা এবং তেহরানের পাল্টা আঘাত হানার আশঙ্কা সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
নেতানিয়াহুর দলের অভিযোগ খারিজ করে দিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনে দেশটির আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরি ও কারচুপির সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পায়নি ইসরায়েলি পুলিশ। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি এই জালিয়াতির অভিযোগ তুললেও পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে যে এবারের নির্বাচনে অনিয়মের ঘটনা বরং বিগত নির্বাচনগুলোর তুলনায় বেশ কম ছিল।
টাইমস অব ইসরায়েলের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাধিক হিব্রুভাষী সংবাদমাধ্যমকে ইসরায়েলি পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে লিকুদ পার্টি যে অভিযোগগুলো উত্থাপন করেছে, সেগুলোর সপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের গোয়েন্দা তথ্যপ্রমাণ বা তদন্তভিত্তিক সত্যতা পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, নেসেটের সাম্প্রতিক এই নির্বাচনে ইসরায়েলি আরব দলগুলো বেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে এবং দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্টে রেকর্ড ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। এর আগে ইসরায়েলের ইতিহাসে কোনো নির্বাচনে আরব দলগুলো এত বেশি আসন লাভ করতে পারেনি।
এই অপ্রত্যাশিত ফলাফল নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি লিকুদ পার্টি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দাবি করে যে, আরব দলগুলো ভোট চুরি করেছে। দলটির পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয় যে, নিষিদ্ধ সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করা হয়েছে এবং এর পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদে সমর্থন, দুর্নীতি, হুমকি ও সহিংসতার মতো গুরুতর অপরাধের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এমনকি এসব অভিযোগের সপক্ষে উপযুক্ত প্রমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কথাও বলেছিল লিকুদ পার্টি।
এদিকে, নির্বাচনের প্রায় সব আসনেই ভোট গণনা শেষে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে যে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তাদের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট সব মিলিয়ে ৫৩টি আসনে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি এবং তাদের সমমনা জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। এর ফলে ইসরায়েলের বর্তমান সংসদে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের জটিল সমীকরণে আরব দলগুলোর ভূমিকা ও সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিক এই সময়ে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ পুরোপুরি খারিজ করে দিয়ে পুলিশের দেওয়া এই বক্তব্য দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- রাজনৈতিক জটিলতা এড়িয়ে ভিন্ন পরিচয়ে এপিএলে খেলছেন মোহাম্মদ আমির
- শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ডিসেম্বরেই অনুষ্ঠিত হবে এইচএসসির পুনর্বীক্ষা
- ঢাকাকে না জানিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, জবাবের অপেক্ষায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
- মাত্র ৩ উপাদানে ঘরোয়া উপায়ে তৈরি করুন সুগন্ধি সাবান
- রাত আটটা থেকে কার্যকর হচ্ছে এলপিজির নতুন ও বর্ধিত মূল্য
- রাতে অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানতে পারে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’
- শর্ত মানলে দু’দিনে হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণা ইরানের
- জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান দিবসে ডেঙ্গু সচেতনতা ও বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত
- জামায়াতের ‘বিপ্লব’ মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা রুহুল কবীর রিজভীর
- ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম
- হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নতুন কূটনৈতিক মোড়
- শ্রমিকদের কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলন নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- সীমান্ত থেকে পোশাক শিল্পে উসকানি দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- দেশের পাঁচ বিভাগে হতে পারে বজ্রসহ বৃষ্টি
- প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জেলে পাঠানোর হুংকার রাহুল গান্ধীর
- পোশাক খাতের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক: জামায়াত আমির
- পোশাক খাতের নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- উত্তপ্ত সাজেকে সশস্ত্র দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
- মাত্র দশ মিনিটে কি ধ্বংস সম্ভব ইরানের পরমাণু শক্তি
- শীতের সকালে ব্যায়ামের আগে কী খাবেন
- সারাদেশে তিন দিন গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের স্বল্প চাপ থাকবে
- ১২৫তম প্রাইজবন্ড ড্র: বিজয়ী হলো যেসব নম্বর
- জুমার খুতবায় শেখ হাসিনাকে ‘স্বৈরাচার’ বলায় খতিবকে অব্যাহতি
- নিউজিল্যান্ড সিরিজেই ঐতিহাসিক ছক্কার মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত
- সোলার এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতে তীব্র রাজনৈতিক সংকট
- এইচএসসিতে শতভাগ ফেল: এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থার নির্দেশ
- নেতানিয়াহুর পতনে আইজেনকোটকে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান আহমেদ টিবির
- বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ: ৭ লাখের বেশি শ্রমিক কর্মবিরতিতে
- কালিয়াকৈর থানার ওসির হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক হলো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক
- বিএনপি মাঠে নামলে পালানোর পথ পাবেন না: মির্জা আব্বাস
- সিসিটিভি ফুটেজে মিলল তাহসিফের মৃত্যুর আগের রাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য
- রাজপথে লংমার্চ নয়, সংবিধান সংস্কারে আলোচনার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- নতুন বেতনকাঠামো: কাল যারা টাকা পাচ্ছেন, যাদের অপেক্ষা করতে হবে
- খুলনায় ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের বহরে ককটেল বিস্ফোরণ
- চীন ও জাপানের বিনিয়োগে সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশের অর্থনীতি
- চোখের নিচে কালো দাগের পেছনে লুকিয়ে থাকা কারণ
- মুক্তির আগেই রেকর্ড গড়ল শাহরুখ খানের ‘কিং’
- ক্যারিবীয় স্পিনারদের বিপক্ষে আবারও ব্যর্থতার পরিচয় বাংলাদেশের
- চাঁদের বুকে পারমাণবিক চুল্লি বসাতে লড়ছে তিন পরাশক্তি
- আইন না মেনে গায়ের জোরে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় বিরোধী দল: রিজভী
- এইচএসসির ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট? যেভাবে আবেদন করবেন অনলাইনে
- সারাদেশের কোমর ভাঙা, তাই দেশ মেরামত করতে হবে: জামায়াত আমির
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে মোজতবা খামেনির চরম হুঙ্কার: মানা হবে না কোনো সীমানা
- কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান
- মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তাপ: প্রস্তুত থাকার নির্দেশ আমেরিকার
- সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদসহ পুলিশের আট কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত
- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন: রাজনৈতিক অঙ্গীকার, গণভোট ও সাংবিধানিক বৈধতার জটিল সমীকরণ
- ধানের শীষের প্রার্থীর কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছেন জামায়াত প্রার্থী
- ই-রিকশা চলাচলে নতুন বিধিমালা জারি: মানতে হবে যেসব কড়া শর্ত
- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন: রাজনৈতিক অঙ্গীকার, গণভোট ও সাংবিধানিক বৈধতার জটিল সমীকরণ
- নতুন পে-স্কেলে ভাতা না বাড়ায় বড় ধাক্কা, হতাশ সরকারি কর্মচারীরা
- আবেদন শুরুর তারিখ ঘোষণা, আবারও আসছে ডিভি লটারি সুযোগ
- সৌদি গমনে ব্যর্থ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুখবর, স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলবে প্রবেশের সুযোগ
- মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
- নভেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ
- পর্যটকদের জন্য বড় স্বস্তি: সেন্টমার্টিনে রাতে থাকতে আর বাধা নেই
- বিক্রির কদিন না যেতেই অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং আইফোনে ফাটল!
- হুথিদের হামলা থামাতে তেহরানকে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদির?
- তাপপ্রবাহের পর ভ্যাপসা গরমের মধ্যেই এলো ঘূর্ণিঝড়ের আপডেট
- আঞ্জনি হলে ঘরোয়া পরিচর্যায় কোন কাজগুলো করা একেবারেই নিরাপদ নয়?
- সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় পতন
- ডিভি লটারি ২০২৭-এ বাংলাদেশ কি সুযোগ পাবে?
- যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম ব্যবহারে আসছে নতুন কড়াকড়ি








