ফ্যাটি লিভার ডিজিজ এখন শিশু-কিশোরদেরও ঝুঁকি, নীরব ঘাতক থেকে বাঁচার উপায়

একসময় যা কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের সমস্যা বলে মনে করা হতো, সেই ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বা মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD)-এ এখন আক্রান্ত হচ্ছে অনেক শিশু-কিশোরও। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, ফাস্টফুড, চিনিযুক্ত পানীয় এবং শারীরিক অনক্রিয়াশীলতা এই রোগকে দ্রুত ছড়িয়ে দিচ্ছে। সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করলে এটি সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে বলে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন।
ফ্যাটি লিভার কী এবং কেন হয়?
ফ্যাটি লিভার ডিজিজ হলো লিভারে চর্বি জমে যাওয়া। এটি সাধারণত দুই ধরনের হয়: অ্যালকোহলিক এবং নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD)। অ্যালকোহল পান না করেও লিভারে চর্বি জমলে সেটিই নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ।
যেসব অভ্যাস বাড়ায় ঝুঁকি:
চিনি ও ফাস্টফুড: নিয়মিত চিনিযুক্ত পানীয়, সোডা, ক্যান্ডি, প্যাকেটজাত মিষ্টান্ন খেলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি ৪০% পর্যন্ত বাড়ে।
প্রক্রিয়াজাত খাবার: পাউরুটি, ময়দার পাস্তা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার বিপাকের ভারসাম্য নষ্ট করে।
স্থূলতা: অতিরিক্ত তেল ও প্রিজারভেটিভযুক্ত খাবার, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অতিরিক্ত ওজন ও পেটের মেদ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়িয়ে লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
অ্যালকোহল ও ধূমপান: সামান্য অ্যালকোহল বা ধূমপানও লিভারের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করে রোগকে জটিল করে তোলে।
নীরব ঘাতক থেকে বাঁচতে করণীয়
চিকিৎসকদের ভাষায়, ফ্যাটি লিভার ডিজিজ একটি নীরব ঘাতক। তাই উপসর্গ না থাকলেও সচেতন জীবনযাপনই একমাত্র প্রতিরোধ। সুস্থ থাকতে করণীয়:
ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন।
খাদ্যাভ্যাস: চিনিযুক্ত পানীয় ও ফাস্টফুড এড়িয়ে চলুন।
পুষ্টি: পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খেতে অভ্যস্ত হোন।
পরিহার: ধূমপান ও অ্যালকোহল ত্যাগ করুন।
সচেতনতা: নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে লিভারের অবস্থা জেনে নিন।
শীতে মাইগ্রেনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ঘরোয়া উপায় জানুন
শীতকালে অনেকের কাছেই মাথাব্যথা এক যন্ত্রণাদায়ক সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য হাড়কাঁপানো ঠান্ডা বাতাস এবং ডিহাইড্রেশন বড় বিপদ ডেকে আনে। চিকিৎসকদের মতে শীতে তৃষ্ণা কম পাওয়ায় পানি পানের পরিমাণ কমে যায় যা শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে মাইগ্রেনকে ট্রিগার করে। এছাড়া শীতের দিন ছোট হওয়ায় সূর্যের আলো কম পাওয়া যায় যা শরীরে ভিটামিন ডি’র অভাব ঘটায়। গবেষণায় দেখা গেছে ভিটামিন ডি এবং ম্যাগনেশিয়ামের অভাব মাইগ্রেনের অন্যতম প্রধান কারণ।
মাইগ্রেনের যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হলো মাথা ও কান ঢেকে রাখা। বাইরে বের হলে মাফলার, টুপি কিংবা হুডি ব্যবহার করা জরুরি যাতে সরাসরি ঠান্ডা বাতাস স্নায়ুতে আঘাত করতে না পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং খাদ্যতালিকায় ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন—বাদাম, পালংশাক ও কলা রাখা প্রয়োজন। অতিরিক্ত চা বা কফি পানের অভ্যাস সাময়িক আরাম দিলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি মাথাব্যথা বাড়াতে পারে। বিএসএমএমইউ-এর মতো বিশেষায়িত হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা জানান যে শীতে বদ্ধ ঘরে রুম ফ্রেশনার বা ধূপের তীব্র সুগন্ধিও মাইগ্রেনের অন্যতম কারণ হতে পারে।
ঘরোয়া উপায়ে স্বস্তি পেতে আদার রস বা আদার টুকরো পানিতে মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। এছাড়া গরম পানিতে লবণ ও লেবুর রস বা মেন্থল দিয়ে ভাপ নিলে শ্বাসনালী পরিষ্কার হয় এবং মাথাব্যথা দ্রুত কমে। রাতে নির্দিষ্ট সময়ে পর্যাপ্ত ঘুম এবং কম্পিউটার বা টিভির স্ক্রিনে কম সময় কাটানো মাইগ্রেন রোগীদের জন্য বাধ্যতামূলক। কোনো খাবারে বা পরিবেশে ব্যথা বাড়ছে তা নিয়মিত ডায়েরিতে নোট করলে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেই নিজের সমাধান খুঁজে পেতে পারেন। তবে ব্যথা অসহনীয় হলে এবং ঘরোয়া উপায়ে না কমলে দ্রুত একজন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ বা নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পেটের আলসার: কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
পেটের আলসার এমন একটি রোগ যা ধীরে ধীরে শরীরের ভেতরে বাসা বাঁধে, কিন্তু সময়মতো শনাক্ত না হলে মারাত্মক জটিলতার জন্ম দিতে পারে। এটি মূলত পাকস্থলীর ভেতরের আস্তরণে সৃষ্ট একটি বেদনাদায়ক ক্ষত, যা দীর্ঘদিন ধরে অ্যাসিডের ক্ষয়প্রক্রিয়ার ফলে গভীরতর হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রেই রোগীরা প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্ব দেন না, ফলে পরে রক্তক্ষরণ বা তীব্র ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
পাকস্থলীর স্বাভাবিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পরিপাক অ্যাসিডের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরকে রক্ষা করে। কিন্তু যখন এই সুরক্ষামূলক স্তর দুর্বল হয়ে যায়, তখন হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ও পেপসিন সরাসরি টিস্যুকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে শুরু করে। এর ফলেই পাকস্থলীতে তৈরি হয় খোলা ঘা, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় গ্যাস্ট্রিক বা পেটের আলসার বলা হয়।
পেটের আলসার কী এবং কেন এটি বিপজ্জনক
পেটের আলসার পেপটিক আলসারের একটি ধরন। এই শ্রেণির আলসারের মধ্যে খাদ্যনালীর আলসার ও ডুওডেনাল আলসারও অন্তর্ভুক্ত। পাকস্থলীর আস্তরণ একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানে প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং ধীরে ধীরে ক্ষত বড় হতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আলসার গভীর হলে রক্তপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা রক্তাল্পতা বা হঠাৎ গুরুতর অবস্থার কারণ হতে পারে।
কোন লক্ষণগুলো অবহেলা করা যাবে না
পেটের আলসারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো পেটের মাঝখানে বা উপরের অংশে জ্বালাপোড়া ধরনের ব্যথা। অনেক সময় এই ব্যথা কুঁচকানো অনুভূতির মতো হয় এবং খাবার খেলে সাময়িকভাবে কমে আসে। আবার খালি পেটে বা গভীর রাতে ব্যথা বেড়ে যাওয়াও আলসারের একটি পরিচিত লক্ষণ।
এর পাশাপাশি রোগীদের মধ্যে পেট ফাঁপা, বদহজম, বমি বমি ভাব, বমি, ক্ষুধামান্দ্য ও সার্বিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন রক্তক্ষরণ চলতে থাকলে মাথা ঘোরা, অবসাদ ও শক্তি কমে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দেয়।
পেটের আলসারের প্রধান কারণ কী
একসময় ধারণা করা হতো যে মানসিক চাপ, ঝাল খাবার বা অনিয়মিত জীবনযাপনই পেটের আলসারের প্রধান কারণ। তবে আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই রোগের পেছনে দুটি প্রধান জৈবিক কারণ দায়ী।
প্রথমত, এইচ পাইলোরি নামের একটি ব্যাকটেরিয়া। এই জীবাণু পাচনতন্ত্রে বাস করে এবং দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকলে পাকস্থলীর আস্তরণে প্রদাহ সৃষ্টি করে। ধীরে ধীরে এই প্রদাহই আলসারের রূপ নেয়।
দ্বিতীয়ত, ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার। বিশেষ করে অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন ও নেপ্রোক্সেনের মতো NSAID দীর্ঘদিন সেবনে পাকস্থলীর প্রতিরক্ষামূলক স্তর দুর্বল হয়ে পড়ে, যা আলসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
কিছু বিরল ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অ্যাসিড উৎপাদনজনিত রোগ, গুরুতর শারীরিক চাপ, বড় অস্ত্রোপচার বা সংক্রমণের পরও পেটের আলসার দেখা দিতে পারে।
কীভাবে পেটের আলসার নির্ণয় করা হয়
পেটের আলসার শনাক্ত করতে চিকিৎসক প্রথমে রোগীর উপসর্গ, ব্যথার ধরন, ওষুধ সেবনের ইতিহাস ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। এরপর রক্ত পরীক্ষা করে রক্তাল্পতা বা সংক্রমণের লক্ষণ খোঁজা হয়।
এইচ পাইলোরি শনাক্তের জন্য শ্বাস, রক্ত বা মলের নমুনা পরীক্ষা করা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে সরাসরি পাকস্থলীর ভেতর ক্যামেরা ঢুকিয়ে ক্ষত পর্যবেক্ষণ করা হয়। সন্দেহজনক হলে বায়োপসি নিয়ে ক্যান্সারের ঝুঁকিও যাচাই করা হয়।
পেটের আলসারের চিকিৎসা কীভাবে হয়
পেটের আলসারের চিকিৎসায় মূল লক্ষ্য হলো অ্যাসিডের ক্ষয় কমানো এবং পাকস্থলীর ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করা। এজন্য সাধারণত কয়েক সপ্তাহের জন্য প্রোটন পাম্প ইনহিবিটার জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়, যা অ্যাসিড উৎপাদন কমায়।
যদি এইচ পাইলোরি সংক্রমণ ধরা পড়ে, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের সমন্বিত কোর্স দেওয়া হয়। পাশাপাশি রোগীদের ক্যাফিন, অ্যালকোহল, অতিরিক্ত মশলাদার ও অ্যাসিডিক খাবার এড়াতে বলা হয়।
ধূমপান পুরোপুরি বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ নিকোটিন আলসার নিরাময়কে বাধাগ্রস্ত করে। ব্যথানাশক হিসেবে NSAID এড়িয়ে বিকল্প ওষুধ ব্যবহারের দিকেও জোর দেওয়া হয়।
গুরুতর অবস্থায় কী হতে পারে
যদি আলসার থেকে রক্তপাত শুরু হয় বা পাকস্থলীতে ছিদ্র তৈরি হয়, তাহলে রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতিতে রক্তপাত বন্ধ করা বা প্রয়োজনে অস্ত্রোপচার করা লাগতে পারে। এসব ক্ষেত্রে দেরি হলে প্রাণঘাতী ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
ঘরোয়া যত্ন ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন
চিকিৎসার পাশাপাশি জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে উপসর্গ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। সহজপাচ্য ও কম অ্যাসিডিক খাবার খাওয়া, অল্প অল্প করে বারবার খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং মানসিক চাপ কমানো এতে সহায়ক।
ধ্যান, শ্বাস ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সাময়িকভাবে ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলাও আলসার নিরাময়ে ভূমিকা রাখে।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে
পেটের ব্যথা যদি দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র থাকে, বমিতে বা পায়খানায় রক্ত দেখা যায়, হঠাৎ অসহ্য ব্যথা শুরু হয় কিংবা মাথা ঘোরা ও অজ্ঞান ভাব দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
প্রতিরোধই সবচেয়ে নিরাপদ পথ
নিয়মিত অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন পরিহার, ব্যথানাশক ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন না খাওয়া, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে পেটের আলসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
পেটের আলসার একটি সাধারণ কিন্তু অবহেলাযোগ্য নয় এমন রোগ। সময়মতো শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসা নিলে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। উপসর্গকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
স্ট্রোক হওয়ার কয়েক দিন আগেই পাওয়া যায় সিগন্যাল: ৫টি লক্ষণ চিনুন
আধুনিক জীবনযাত্রায় অনিয়ম ও অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে স্ট্রোক এখন একটি নীরব ঘাতক হিসেবে পরিচিত। অনেক ক্ষেত্রে মনে হয় স্ট্রোক হঠাৎ করেই হয়েছে, কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন ভিন্ন কথা। নিউরোলজিস্টদের মতে, বড় ধরনের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার বেশ কিছু সময় আগেই মানুষের শরীর কিছু সুনির্দিষ্ট সতর্ক সংকেত দেয়। যদি সময়মতো এই লক্ষণগুলো চিনে চিকিৎসা নেওয়া যায়, তবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়া কিংবা মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো হঠাৎ করে শরীরের একপাশ অবশ হয়ে যাওয়া বা ঝিনঝিনি অনুভব করা। অনেক সময় রোগীর মুখ একদিকে বেঁকে যেতে পারে এবং হাসতে গেলে অসামঞ্জস্যতা ধরা পড়ে। এছাড়া কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ জড়িয়ে যাওয়া বা শব্দ খুঁজে না পাওয়া এবং অন্যের সহজ কথা বুঝতে সমস্যা হওয়াও স্ট্রোকের অন্যতম বড় ইঙ্গিত। এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি না করে রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।
অস্বাভাবিক ও তীব্র মাথাব্যথা, যার কোনো স্পষ্ট কারণ নেই, সেটিও হতে পারে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা রক্তপ্রবাহে বাধার লক্ষণ। এর পাশাপাশি হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা, হাঁটতে গিয়ে পড়ে যাওয়া কিংবা চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া স্ট্রোকের আগাম পূর্বাভাস হিসেবে গণ্য হয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগী প্রচণ্ড ক্লান্তি ও মানসিক বিভ্রান্তি অনুভব করতে পারেন, যা রক্ত সঞ্চালনের সমস্যার কারণে হয়ে থাকে।
স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকরা রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়মিত নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন। ধূমপান বর্জন, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম স্ট্রোকের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। শরীরের দেওয়া এই ছোট ছোট সিগন্যালগুলোকে গুরুত্ব দিলে জীবন বাঁচানো অনেক সহজ হয়। মনে রাখবেন, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ‘প্রতিটি সেকেন্ড মূল্যবান’; তাই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করা জরুরি।
মাত্র ৩০ দিনে কোলেস্টেরল কমানোর জাদুকরী উপায়
আধুনিক যুগের ব্যস্ত জীবনযাত্রা ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে উচ্চ কোলেস্টেরল এখন একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি। আগে মনে করা হতো এটি কেবল বার্ধক্যজনিত সমস্যা, তবে বর্তমান সময়ে তরুণদের মধ্যেও এই সমস্যা প্রকট হচ্ছে। মূলত প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত ভাজাভুজি, ধূমপান এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবই এর প্রধান কারণ। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো সতর্কতা অবলম্বন না করলে এটি হৃদরোগের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে আশার কথা হলো, সঠিক পরিকল্পনা মেনে চললে মাত্র এক মাসেই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা কোলেস্টেরল কমাতে চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রথমত, সুষম আহার নিশ্চিত করতে হবে। দৈনন্দিন তালিকায় ওটস বা লাল চালের মতো গোটা শস্য, সবুজ শাকসবজি এবং প্রচুর ফলমূল যেমন—আপেল, পেয়ারা, কমলা ও পেঁপে রাখতে হবে।
দ্বিতীয়ত, অবিলম্বে ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করা জরুরি, কারণ এগুলো সরাসরি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
তৃতীয়ত, নিয়মিত শরীরচর্চার বিকল্প নেই। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, যোগব্যায়াম বা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে এবং মেদ কমাতে সাহায্য করে। চতুর্থ এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা শরীরের হরমোন ভারসাম্য নষ্ট করে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায়। তাই পর্যাপ্ত ঘুম এবং ধ্যানের মাধ্যমে মন শান্ত রাখা প্রয়োজন। এই নিয়মগুলো একটানা ৩০ দিন মেনে চললে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রায় অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনা সম্ভব।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা
কেন শীতেই কিডনির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং বাঁচার উপায় কী?
শীতের মৌসুমে সাধারণ সর্দি-কাশির আড়ালে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কিডনির জন্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে রক্তসঞ্চালন ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের কারণে কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। ভারতের বিখ্যাত নেফ্রোলজিস্ট ডা. আদিত্য নায়ক ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, শীতে মানুষের কম পানি পান করা এবং দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে থাকার প্রবণতা মূত্রনালির সংক্রমণ বা ইউটিআইয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, যা থেকে শেষ পর্যন্ত কিডনি বিকল হতে পারে।
২০২৩ সালে ‘বিএমসি নেফ্রোলজি’ সাময়িকায় প্রকাশিত এক গবেষণা বলছে, শীতকালীন ঠান্ডা আবহাওয়ায় মানুষের রক্তনালি সংকুচিত হয়ে যায়। এর ফলে কিডনিতে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। যাদের আগে থেকেই কিডনির কার্যক্ষমতা কিছুটা কম, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি ভয়ংকর হয়ে ওঠে। এছাড়া শীতকালে নিউমোনিয়ার মতো বক্ষসংক্রমণও বাড়ে, যা পরোক্ষভাবে কিডনিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। গবেষকদের মতে, পানিশূন্যতা এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ শীতকালে ‘আকস্মিক কিডনি বিকল’ বা ‘একিউট কিডনি ইনজুরি’র প্রধান কারণ।
কিডনি সুস্থ রাখতে চিকিৎসকরা কিছু বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন। শরীর গরম রাখতে স্তরে স্তরে পোশাক পরার পাশাপাশি তৃষ্ণা না পেলেও পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। সুষম খাদ্য হিসেবে ফল ও সবজি গ্রহণ করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী এবং যারা আগে থেকেই কিডনি রোগে আক্রান্ত, তাদের ফুসফুসের সংক্রমণ রোধে আগাম টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. আদিত্য নায়ক। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা কিডনি সুরক্ষায় অপরিহার্য।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন যে, প্রস্রাবে জ্বালা, জ্বর, তলপেটে ব্যথা কিংবা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে কোনোভাবেই দেরি করা যাবে না। শীতকালে রক্তচাপ ও শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখলে কিডনি ক্ষতির ঝুঁকি অনেকখানি কমে যায়। সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই পারে হাড়কাঁপানো শীতে আপনার গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গটিকে নিরাপদ রাখতে।
স্ট্রেস থেকে উচ্চ রক্তচাপ: হার্ট অ্যাটাক রুখতে মেনে চলুন ৫ নিয়ম
আধুনিক যুগের ব্যস্ততম জীবনযাত্রায় মানসিক চাপ বা স্ট্রেস এখন নিত্যসঙ্গী। তবে এই চাপ যখন দীর্ঘমেয়াদি হয়, তখন তা কেবল মনের ওপর নয়, সরাসরি হৃদযন্ত্রের ওপর মরণ কামড় বসায়। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের ফলে শরীরে 'কর্টিসল' নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এই হরমোনের আধিক্য রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, ধমনীতে চর্বি জমায় এবং রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
চিকিৎসকদের মতে, কর্মক্ষেত্রের অতিরিক্ত চাপ, পারিবারিক কলহ, আর্থিক অনটন এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব মানুষকে দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্নতা ও উদ্বেগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই মানসিক অস্থিরতা সরাসরি হৃদস্পন্দনকে অনিয়মিত করে তোলে এবং হৃদপিণ্ডের পেশিকে দুর্বল করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো আগাম উপসর্গ ছাড়াই ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এক ধরনের 'সাইলেন্ট কিলার' বা নীরব ঘাতক বলা হয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও লক্ষ্য করেছেন যে, মানসিক চাপে থাকা ব্যক্তিরা প্রায়ই অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। অতিরিক্ত ধূমপান, মদ্যপান, জাঙ্ক ফুড গ্রহণ এবং কায়িক শ্রম কমিয়ে দেওয়ার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি আরও প্রকট হয়। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা এবং ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এই মরণব্যাধি থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত শরীরচর্চা ও সুষম খাবারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি, পর্যাপ্ত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম এবং যোগব্যায়াম বা মেডিটেশন মানসিক চাপ কমাতে জাদুর মতো কাজ করে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন, জীবনের ছোটখাটো সমস্যাগুলোকে বড় করে না দেখে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করতে হবে। যদি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে লজ্জা না পেয়ে দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সচেতন জীবনযাপনই পারে আপনার হৃদযন্ত্রকে দীর্ঘকাল সচল ও প্রাণবন্ত রাখতে।
অজান্তেই পিত্তথলিতে পাথর জমাচ্ছে আপনার এই ৫টি ভুল অভ্যাস
পিত্তথলিতে পাথর বা গলস্টোন বর্তমান সময়ের একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের ক্ষেত্রেই এটি শুরুতে কোনো উপসর্গ প্রকাশ করে না, কিন্তু যখন পাথর পিত্তনালিতে আটকে যায়, তখন শুরু হয় অসহ্য ব্যথা, বমি এবং বদহজম। চিকিৎসকদের মতে, আমাদের প্রতিদিনের কিছু ভুল অভ্যাসই লিভারে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমিয়ে পাথর তৈরির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। ম্যানিপাল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডা. অনিকেত পায়াগুডে সতর্ক করেছেন যে ৫টি অভ্যাস পিত্তথলির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।
প্রথমত, নিয়মিত সময় মেনে খাবার না খাওয়া পিত্তথলির বড় শত্রু। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে পিত্তথলিতে পিত্ত জমে ঘন হয়ে যায় এবং সেখান থেকেই কোলেস্টেরল জমে পাথর তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার পিত্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তৃতীয়ত, শারীরিক পরিশ্রমহীন অলস জীবনযাপন বিপাক প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, যা স্থূলতা ও গলস্টোনের ঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়া দ্রুত ওজন কমানোর জন্য 'ক্র্যাশ ডায়েট' করলে লিভার অতিরিক্ত কোলেস্টেরল নিঃসরণ করে, যা পিত্তথলির ভারসাম্য নষ্ট করে ফেলে। সবশেষে, খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পানি ও আঁশযুক্ত খাবারের অভাব হজম প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন যে সব ধরনের গলস্টোনের জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। তবে যদি পিত্তথলিতে সংক্রমণ, প্যানক্রিয়াটাইটিস বা পিত্তনালিতে বাধা সৃষ্টি হয়, তবে 'ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমি' বা আধুনিক ফুটো করে অস্ত্রোপচারই সবচেয়ে নিরাপদ সমাধান। জটিল ক্ষেত্রে অনেক সময় ওপেন সার্জারিরও প্রয়োজন হতে পারে। তাই দীর্ঘদিনের পেটব্যথা বা হজমের সমস্যাকে সাধারণ গ্যাস্ট্রিক মনে করে অবহেলা করা ঠিক নয়।
পিত্তথলির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত পানি পানের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে শাকসবজি, ফলমূল এবং হোলগ্রেন খাবার পিত্তের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে সাহায্য করে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে আপনিও এড়িয়ে যেতে পারেন পিত্তথলিতে পাথরের মতো যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা। সুস্থ থাকতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
শীতে বাড়ে কর্নিয়ার আলসার: চোখের যত্নে করণীয়
গ্রীষ্মের প্রখর রোদে আমরা চোখের সুরক্ষায় সচেতন থাকলেও শীতকালে বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষা করা হয়। তবে চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে বছরের এই সময়ে চোখের স্বাস্থ্যঝুঁকি গ্রীষ্মের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে যায়। এর প্রধান কারণ হলো শীতের শুষ্ক বাতাস এবং আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়া বায়ুদূষণ। বাতাসে ভেসে থাকা বিষাক্ত ধূলিকণা আর ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান সরাসরি চোখের সংস্পর্শে এসে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। শহর ও শিল্পাঞ্চলের ধোঁয়াশা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে যার ফলে চোখের কর্নিয়ায় সূক্ষ্ম ক্ষত তৈরি হতে পারে। এই ক্ষতস্থানে ধূলিকণা বা জীবাণুর সংক্রমণ ঘটলে তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘কর্নিয়ার আলসার’ বলা হয়।
কর্নিয়া হলো আমাদের চোখের আলোক প্রবেশের স্বচ্ছ লেন্স বা প্রবেশদ্বার। কর্নিয়ার আলসারকে একটি ‘মেডিকেল এমার্জেন্সি’ হিসেবে গণ্য করা হয় কারণ এটি চোখের স্থায়ী অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। সংক্রমণের ফলে কর্নিয়ায় যে সাদাটে দাগ তৈরি হয় তা আলোক রশ্মি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ঝাপসা করে দেয়। সংক্রমণের মাত্রা গভীর হলে কর্নিয়া ফুটো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে যা চোখের অভ্যন্তরীণ অংশকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে। বিশেষ করে ছত্রাক বা বিশেষ কিছু ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এতটাই দ্রুত ছড়ায় যে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুরো চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যথাযথ চিকিৎসা না করালে শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করে চোখ বাদ দেওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
কর্নিয়ার আলসারের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে চোখ প্রচণ্ড লাল হয়ে যাওয়া এবং অনবরত পানি পড়া। এর পাশাপাশি চোখে তীব্র ব্যথা বা খচখচানি ভাব অনুভব করা এবং আলোর দিকে তাকাতে সমস্যা হওয়া অন্যতম লক্ষণ। অনেক সময় চোখের মণির ওপর স্পষ্ট সাদা দাগ লক্ষ্য করা যায় যা সংক্রমণের চূড়ান্ত পর্যায় নির্দেশ করে। বিশেষ করে যারা পেশাগত কারণে বাইরে কাজ করেন কিংবা ধুলোবালির মধ্যে বেশি যাতায়াত করেন তাদের ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষিত রাখতে হলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বাইরে বের হওয়ার সময় সানগ্লাস বা প্রোটেক্টিভ চশমা ব্যবহার করা উচিত যা সরাসরি বাতাস ও ধূলিকণা থেকে চোখকে রক্ষা করবে। চোখে বারবার হাত দেওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করার পাশাপাশি প্রতিদিন পরিষ্কার ও ঠান্ডা পানি দিয়ে চোখ ধোয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। যদি চোখে কোনো ধরণের অস্বস্তি বা লাল ভাব দেখা দেয় তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া কোনো ড্রপ ব্যবহার করা একদমই উচিত নয়। সামান্য সচেতনতাই পারে শীতের এই বৈরি পরিবেশে আপনার মূল্যবান দৃষ্টিশক্তিকে সুরক্ষিত রাখতে।
পাকস্থলীর ধ্বংস করছে আপনার এই ৩টি সাধারণ অভ্যাস
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এমন কিছু কাজ রয়েছে যেগুলোকে আমরা আপাতদৃষ্টিতে খুব একটা ক্ষতিকর মনে করি না। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই অভ্যাসগুলোই নীরবে আমাদের পাকস্থলীর অপূরণীয় ক্ষতি করে চলেছে। ফ্লোরিডার গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট এবং প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. জোসেফ সালহাব সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় পাকস্থলীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর তিনটি ‘গাট টক্সিন’ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে ধূমপান, অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধের ব্যবহার এবং নিয়মিত মদ্যপান—এই তিনটি অভ্যাসই গ্যাস্ট্রাইটিস ও রক্তক্ষরণজনিত আলসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ডা. সালহাবের বিশ্লেষণ অনুযায়ী ধূমপান বা ভেপিং কেবল ফুসফুসেরই ক্ষতি করে না বরং এটি সরাসরি খাদ্যনালি ও পাকস্থলীতে আঘাত হানে। সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা রাসায়নিক উপাদান পাকস্থলীর নরম আস্তরণে ক্ষত সৃষ্টি করে যা দীর্ঘমেয়াদে প্রদাহ ও তীব্র গ্যাস্ট্রাইটিসের কারণ হয়। এছাড়া নিকোটিনের প্রভাবে পাকস্থলীতে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ কমে যায় যার ফলে কোনো ক্ষত তৈরি হলে তা সহজে সারতে চায় না। এটি ক্রমান্বয়ে পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তোলে।
অনেকেই সামান্য শরীর ব্যথায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই আইবুপ্রোফেন বা ন্যাপ্রোক্সেনের মতো ব্যথানাশক ওষুধ বা এনএসএআইডিএস (NSAIDs) গ্রহণ করেন। ডা. সালহাব জানান যে এই ধরণের ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার পাকস্থলীর আস্তরণে তীব্র জ্বালা এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী ব্যথানাশক ব্যবহারের ফলে পেপটিক আলসারের সম্ভাবনা তৈরি হয় যা প্রাণঘাতী হতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত মদ্যপান লিভারের ক্ষতির পাশাপাশি পাকস্থলীর আস্তরণে প্রদাহ সৃষ্টি করে যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘অ্যালকোহল গ্যাস্ট্রাইটিস’ বলা হয়। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী পেটব্যথা, বমি ও বুকজ্বালার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
পাকস্থলী ও হজমতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে ডা. সালহাব কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি ধূমপান ও ভেপিং সম্পূর্ণ বর্জন করার পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যেকোনো ধরণের ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া নিয়মিত সুষম খাবার গ্রহণ এবং দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার অভ্যাস ত্যাগ করা জরুরি। পেটের কোনো সমস্যা বা আলসারের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট। ছোট কিছু সচেতন সিদ্ধান্তই দীর্ঘমেয়াদে আপনার পাকস্থলীকে সুস্থ ও রোগমুক্ত রাখতে পারে।
পাঠকের মতামত:
- শীতে মাইগ্রেনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ঘরোয়া উপায় জানুন
- ভাঙনের পথে ভারত ও বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্ক
- মোস্তাফিজের অপমানে সরব আসিফ, ভারতকে দিলেন কঠোর হুঁশিয়ারি
- মা সবার কাছে ভিন্ন তাৎপর্য বহন করতেন: তারেক রহমান
- চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য বড় সুযোগ, আসছে এনটিআরসিএর গণবিজ্ঞপ্তি
- ভারত মোস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে বিশ্বকাপ দলগুলোকে কীভাবে দেবে
- ঈদ ও রমজান মিলিয়ে টানা লম্বা ছুটি
- মাফিয়া দল আওয়ামী লীগ আবার হত্যাকাণ্ড চালাতে সচেষ্ট: হাফিজ
- ৯ম পে স্কেলে বড় চমক, আসছে নতুন বেতন কাঠামো
- এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের চমক,ডিসেম্বরে রেকর্ড সংখ্যক ভ্যাট নিবন্ধন
- এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের চমক,ডিসেম্বরে রেকর্ড সংখ্যক ভ্যাট নিবন্ধন
- ষড়যন্ত্র নাকি প্রযুক্তিগত ভুল? মনোনয়নপত্র নিয়ে তাসনিম জারার নতুন বার্তা
- মাদুরো আটক, আন্তর্জাতিক চুক্তির কফিনে শেষ পেরেক
- মাদুরোকে আটকের পর জরুরি অবস্থা জারি: যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে লাতিন
- মোদি কি এখন বিএনপির দিকে ঝুঁকছে? জয়শঙ্করের ঢাকা সফরে কী বার্তা এল
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় শিক্ষক নিয়োগ
- ইশরাক হোসেনের মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে তথ্য সামনে এল
- ২ লাখ ১২ হাজার টাকায় কেনা যাবে এক ভরি সোনা
- জান্নাতে সব থাকলেও যেসব জিনিস নাই
- হাড়কাঁপানো শীতে রোগ প্রতিরোধে তুলসী চায়ের জাদুকরী সব গুণ
- আইপিএল থেকে মোস্তাফিজ আউট, রেকর্ড দামে দল পেয়েও কেন বাদ মোস্তাফিজ?
- খালেদা জিয়ার ছায়াসঙ্গী ফাতেমা বেগমের নতুন অধ্যায়
- কাল থেকে শুরু হাড়কাঁপানো শীতের তীব্রতা: কতদিন চলবে এই তাণ্ডব?
- হাড়কাঁপানো শীতে ঘর হবে উষ্ণ: জানুন গিজার ও হিটারের বাজারদর
- ব্যাংক হলিডের প্রভাব, বাজারে নেতিবাচক চিত্র
- কনকনে ঠান্ডায় পানিভীতি কাটানোর উপায়: গোসল হবে এখন উপভোগ্য
- শীতের রাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট: ইনহেলার না থাকলে যা করা জরুরি
- নাগরিকত্ব পেতে চান? জানুন কোন কোন দেশে খুব সহজে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়
- শুরু হচ্ছে কৃষি গুচ্ছের ভর্তি যুদ্ধ: শেষ সময়ের প্রস্তুতি জানুন
- তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চলবে ধার করা কয়লায়, নজিরবিহীন সংকটে পায়রা
- অবহেলার জবাব মাঠেই দিলেন মাহমুদউল্লাহ
- গয়না কেনার আগে দেখে নিন আজ কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে দেশে
- আমরা থানা পুড়িয়েছি ও এসআইকে জ্বালিয়ে দিয়েছি: বৈষম্যবিরোধী নেতা
- শূন্য চেয়ারপারসন পদ: তারেক রহমানই কি এখন বিএনপির নতুন প্রধান?
- আবহাওয়া অফিসের বড় দুঃসংবাদ, ধেয়ে আসছে হাড়কাঁপানো তীব্র শীত
- ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে সরাবার চাল : ইরাকের মতো ডুববে কি আমেরিকা?
- অবশেষে অবসান হলো অপেক্ষার: বিশেষ আহ্বান নিয়ে হাজির ড. ইউনূস
- আজ ৩ জানুয়ারি ২০২৬ ও জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি
- আজ শনিবার ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- এক লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রে মাসিক মুনাফা কমল যত
- শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- পেটের আলসার: কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
- সংসদের বেতন ছাড়া কিছুই নেব না: হাসনাত
- বিয়ের আগে পুরুষদের ত্বক উজ্জ্বল রাখার সহজ উপায়
- "স্লো পয়জনিং খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে"
- ২০২৬ ক্রিকেট ক্যালেন্ডার: থামার ফুরসত নেই বাংলাদেশের
- ৯ম পে স্কেলে আমূল পরিবর্তন, সরকারি চাকরিতে বেতনে বড় সুখবর
- ২০২৬ সালে কখন রমজান, ঈদ ও শবে বরাতের সম্ভাব্য সূচি
- ৯ম পে স্কেলে আমূল পরিবর্তন, সরকারি চাকরিতে বেতনে বড় সুখবর
- পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় সুখবর
- এমবিবিএস-বিডিএস ভর্তি পিছাল, নতুন তারিখ ঘোষণা
- সাধারণের নাগালের বাইরে সোনার বাজার: মধ্যবিত্তের সোনা কেনার স্বপ্ন কি তবে শেষ
- আজকের স্বর্ণের দাম: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- সোনার বাজারে সুখবর! কমল দাম যত
- ঢাকা-১৫ জামায়াত আমিরের বিপক্ষে নামলেন যে বিএনপি প্রার্থী
- ২০২৬ সালে স্কুলে ছুটি কমলো ১২ দিন, দেখে নিন তালিকা
- হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশা থেকে মুক্তি কবে? যা জানাল আবহাওয়া অফিস
- ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা: আজই দেখে নিন রুটিন
- ই-রিটার্ন দাখিলে আর বাধা নেই: বড় সুখবর দিল রাজস্ব বোর্ড আজ
- বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় রেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
- ২৯ ডিসেম্বর ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরহারানো শেয়ার
- ২৯ ডিসেম্বরের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়








