শেখ হাসিনাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে শেষ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ সেপ্টেম্বর ২৮ ১৬:০৮:২৩
শেখ হাসিনাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে শেষ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সবশেষ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। আজ রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া বারোটায় এ মামলার ৫৪তম ও শেষ সাক্ষী তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আলমগীরের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। খবর বিবিবির।

মামলার আসামি ও সাক্ষী

এ মামলার পলাতক আসামি শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী রাখা হয়েছে। এ মামলায় একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি ও রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তার উপস্থিতিতেই অন্যান্য সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

এর আগে, এ মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্বজন এবং আহত ব্যক্তিরা সাক্ষ্য দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে।

এছাড়াও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা রয়েছে—একটি গুমের মামলা এবং অন্যটি মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলা।


কলকাতার সেনা আবাসিকে কেন তিন বাংলাদেশি জেনারেল? নতুন তথ্য ঘিরে বাড়ছে নানা প্রশ্ন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ১০:১৪:৩৩
কলকাতার সেনা আবাসিকে কেন তিন বাংলাদেশি জেনারেল? নতুন তথ্য ঘিরে বাড়ছে নানা প্রশ্ন
ছবি: আমার দেশ পত্রিকা থেকে সংগৃহীত।

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে সম্প্রতি কলকাতার একটি সুরক্ষিত সেনা আবাসিক এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে বলে একাধিক নিরাপত্তা সূত্রের দাবি। এই তিনজন হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (বরখাস্ত) মো. মুজিবুর রহমান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন এবং মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ। বিষয়টিকে ঘিরে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ঢাকা ও কলকাতার একাধিক নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এর আগে তারা কলকাতার সল্টলেক ও নিউ টাউনের সঞ্জিবা গার্ডেন কমপ্লেক্সে পরিবারসহ বসবাস করছিলেন। তবে সম্প্রতি তাদের সেখান থেকে সরিয়ে হুগলি সেতুর (হাওড়া ব্রিজ) নিকটবর্তী একটি উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত সেনা আবাসিক এলাকায় নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রগুলোর দাবি।

নিরাপত্তা সূত্রগুলোর ভাষ্য, সাধারণ মানুষের প্রবেশ যেখানে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত, এমন একটি সামরিক আবাসিক এলাকায় এই তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে স্থানান্তরের ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ। তাদের মতে, বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং এর পেছনে বৃহত্তর কৌশলগত বিবেচনাও থাকতে পারে।

সূত্রগুলোর আরও দাবি, এই তিন কর্মকর্তা নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গেও বৈঠক করছেন। তাদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ভবিষ্যতে আবার রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনার সম্ভাব্য কৌশল নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নিরাপত্তা সূত্রের তথ্যমতে, কলকাতার সিটি সেন্টার-২ এবং পার্ক স্ট্রিট এলাকায় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তাদের একাধিক বৈঠক হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এমনকি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গেও তাদের সাক্ষাতের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সূত্রগুলোর ভাষ্য।

তিন কর্মকর্তার মধ্যে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (বরখাস্ত) মো. মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। তাদের মতে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, আয়নাঘর পরিচালনা এবং বিরোধী দল দমনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। একই সঙ্গে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র' (RAW)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে বাংলাদেশের সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। পরে ১১ সেপ্টেম্বর তাকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর তিনি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে যান বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

অন্যদিকে সাবেক ডিজিএফআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেনের বিরুদ্ধেও গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রগুলোর মতে, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন এবং বিরোধী দল দমনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদের বিরুদ্ধেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর তিনি দেশত্যাগ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। পরবর্তীতে বিশেষ ব্যবস্থায় তিনি তামাবিল সীমান্ত হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশ বিষয়টিকে বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর মতে, ভারত যদি সত্যিই এই সাবেক কর্মকর্তাদের বিশেষ নিরাপত্তা দিয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। তার ভাষায়, "ভারত তাদের কেবল মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছে—এমনটি মনে করার সুযোগ খুব কম। ভবিষ্যতে তাদের বিভিন্ন কৌশলগত প্রয়োজনে ব্যবহার করা হতে পারে।"

আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক অধ্যাপক এম শহীদুজ্জামানও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এসব সাবেক কর্মকর্তা বাংলাদেশের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামো সম্পর্কে অত্যন্ত স্পর্শকাতর তথ্য জানেন। ফলে তাদের বিদেশে অবস্থান এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক যোগাযোগ জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তিনি আরও বলেন, যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের উচিত আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা সরকারের একাধিক সাবেক সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা দেশ ছেড়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং অন্যান্য সংস্থায় মামলা ও তদন্ত চলমান রয়েছে।

-সূত্র: আমার দেশ।


নিরাপত্তা কৌশল যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না ঠেলে, পিজিআরকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ২১:৪৯:৫৬
নিরাপত্তা কৌশল যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না ঠেলে, পিজিআরকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
ছবি : সংগৃহীত

নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল যেন কোনোভাবেই সরকারপ্রধানকে দেশের সাধারণ জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে সর্বোচ্চ ও বিশেষভাবে নজর রাখার জন্য প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) সকল স্তরের কর্মকর্তাদের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে তিনি জনগণের বিশ্বাস, আস্থা এবং ভালোবাসার ওপরই নিজের পূর্ণ নির্ভরতা বজায় রাখতে চান। তাই নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করা জরুরি, যাতে দেশের সাধারণ মানুষ নিজেদের সরকারপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন বা দূরবর্তী মনে না করেন। এই বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করার জন্য তিনি পিজিআর সদস্যদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদেরই এই মর্যাদাপূর্ণ রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়ম অনুযায়ী অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে। যেহেতু পিজিআর সেনাবাহিনীরই অধীন একটি অত্যন্ত বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান, তাই পেশাদারিত্ব, অটল আনুগত্য এবং কঠোর শৃঙ্খলার সমন্বয়ে সদস্যরা নিজেদের ওপর অর্পিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন বলেই তিনি প্রত্যাশা করেন।

পিজিআরের মূল দায়িত্বটিকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের (ভিআইপি) নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্ব পালন করা এই বাহিনীর অন্যতম প্রধান কর্তব্য। এই কঠিন দায়িত্ব পালনকালে তাদের প্রতিনিয়ত নানামুখী জটিল ও স্পর্শকাতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। তবে সব পরিস্থিতিতেই পিজিআর সদস্যরা তাদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ এবং নিখুঁত কর্তব্যপরায়ণতার মাধ্যমে নিজেদের একটি অনন্য সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করতে সক্ষম হয়েছেন।

এই অনন্য শৃঙ্খলার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি স্বরূপ ‘পিজিআর’ চলতি বছর মর্যাদাপূর্ণ ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারে মনোনীত হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে এটি অবশ্যই অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। এই অসামান্য সাফল্যের জন্য তিনি বাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাদের ইস্পাত কঠিন দায়িত্ববোধের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

সশস্ত্রবাহিনীকে দেশের গৌরব এবং জনগণের সাহসের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর অকুতোভয় ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা আমাদের সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, দেশের সশস্ত্রবাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখে, তবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনই কোনো হুমকির মুখে পড়বে না।

পিজিআরের আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বিশেষায়িত বাহিনীর সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখার পাশাপাশি আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করা অত্যন্ত অপরিহার্য। বর্তমান আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে প্রথাগত চ্যালেঞ্জের বাইরেও বহুমাত্রিক ও নতুন ঘরানার নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাই সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন হামলা কিংবা তথ্যযুদ্ধের মতো সর্বাধুনিক ক্ষেত্রগুলোকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।

এসব আধুনিক চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করতে শুধুমাত্র পিজিআরই নয়, বরং দেশের প্রতিটি বাহিনীকেই যুগোপযোগী ও বিশ্বমানের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রাখা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তারেক রহমান আরও আশ্বাস দেন যে, সশস্ত্রবাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ‘সফিস্টিকেটেড’ বাহিনীগুলোকে আরও বেশি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

বক্তব্যের শুরুতে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে পিজিআরের গোড়াপত্তনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে মূলত ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ নামে একটি নতুন রেজিমেন্ট প্রথম আত্মপ্রকাশ করেছিল। পরবর্তীতে তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর এই ইউনিটটির সাংগঠনিক কাঠামো সংস্কার করে ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’ বা পিজিআর নামকরণ করেন, যা এই বাহিনীর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান করে।

পিজিআরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই ঐতিহাসিক দিনে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় শোকাবহ এবং হৃদয়বিদারক অধ্যায়ের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে মহান স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বরণের সময় কর্তব্য পালনরত পিজিআরের কয়েকজন সাহসী সদস্যও ঘাতকদের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হয়েছিলেন। আজকের এই বিশেষ দিনে তিনি পিজিআরের সেই বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তাদের এই আত্মত্যাগ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের নিরাপত্তার প্রতি অটল আনুগত্য এবং জীবন উৎসর্গের এক চূড়ান্ত ও অনন্য দৃষ্টান্ত, যা পিজিআরের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সদস্যদের জন্য যুগ যুগ ধরে দেশপ্রেমের বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিজিআরের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অফিশিয়াল কেক কাটেন এবং পিজিআর সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে একটি স্মারক চারা রোপণ করেন। এরপর তিনি ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে শহীদ হওয়া পাঁচ পিজিআর সদস্যের পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশে কুশল বিনিময় করেন।

উল্লেখ্য, স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির দৈনন্দিন নিরাপত্তা, বঙ্গভবনের প্রটোকল ও অন্যান্য বিশেষ সামরিক দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই বিশেষায়িত এই বাহিনী গঠিত হয়। সেই থেকে প্রতি বছর ৫ জুলাই ঢাকা সেনানিবাসে পিজিআর সদর দপ্তরে বার্ষিক দরবার ও সুসজ্জিত কুচকাওয়াজের মাধ্যমে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে দিনটি উদযাপিত হয়ে আসছে।

/আশিক


ওপারে তীব্র যুদ্ধ ও আতঙ্কের মাঝে মিয়ানমার সীমান্তে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদারের ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ২১:৪৬:৪৩
ওপারে তীব্র যুদ্ধ ও আতঙ্কের মাঝে মিয়ানমার সীমান্তে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদারের ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

মিয়ানমার সীমান্তে চলমান মারাত্মক অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কয়েক গুণ জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। রোববার (৫ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের ফলে সীমান্তের এপারে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে নতুন করে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, ওপারের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নতুন করে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নজরদারি ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিভিন্ন মহলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির প্রধান গুরুতর আহত হয়ে গোপনে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা গোয়েন্দা রিপোর্ট আছে কি না—সাংবাদিকদের এমন সরাসরি প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, এই বিষয়টি সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ের কাছে এখন পর্যন্ত অফিশিয়াল কোনো তথ্য নেই।

উল্লেখ্য যে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রাখাইন রাজ্যে দেশটির সরকারি সামরিক বাহিনী এবং আরাকান আর্মির মধ্যকার সশস্ত্র সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীনভাবে তীব্রতর হয়েছে। ওপারে ভারী অস্ত্রের বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির বিকট শব্দে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী টেকনাফ ও উখিয়া এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে পুরো পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে, যাতে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ থাকে এবং সীমান্তে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সংকট বা উসকানিমূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।

/আশিক


১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনে দেশজুড়ে সরকারের বহুমাত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ২০:১৪:১৭
১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনে দেশজুড়ে সরকারের বহুমাত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে জুলাই মাসকে কেন্দ্র করে মাসব্যাপী বিশেষ রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সরকার। রোববার (৫ জুলাই) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির বিস্তারিত রূপরেখা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন জানান, প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও আগামী ১৬ জুলাই তারিখটিকে জাতীয়ভাবে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। ২০২৪ সালের আন্দোলনের ওই দিনের রক্তক্ষয়ী ঘটনাপ্রবাহকে সামগ্রিক গণঅভ্যুত্থানের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদদের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবার দেশজুড়ে বহুমাত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এই বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আন্দোলনের প্রথম সারির শহীদ আবু সাঈদের স্মরণে একটি রাষ্ট্রীয় স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। একই দিনে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় গণঅভ্যুত্থানের আরেক বীর শহীদ ওয়াসিম আকরামের স্মরণে আরেকটি স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে, আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালনের মাধ্যমে এই উৎসব ও শোকের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র) আয়োজিত মূল কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। সেই দিন সকাল ঠিক ৬টায় রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা জানানো হবে এবং আন্দোলনের সকল শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হবে।

ঘোষিত সরকারি কর্মসূচির আওতায় জুলাই মাসজুড়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা স্মরণ ও প্রতিবাদী আয়োজন রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আগামী ১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর স্বৈরাচারের বর্বরোচিত হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘ক্যাম্পাসের ক্ষতচিহ্ন’ শীর্ষক একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে বিশেষ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে বিশাল ছাত্র সমাবেশ ও সচেতনতামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে এবং ২৪ জুলাই যাত্রাবাড়ীর ঐতিহাসিক প্রতিরোধ স্মরণে সেখানে বিশেষ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এর বাইরেও রাজধানীসহ সারাদেশে পুরো আগস্ট মাসজুড়ে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন স্মরণসভা, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগামী ১৬ জুলাই রাষ্ট্রীয় বা সরকারি ছুটি থাকবে কি না—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিলেও সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, দিনটিকে ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত জাতীয় দিবস হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ফলে নিয়ম অনুযায়ী এদিন কোনো সরকারি সাধারণ ছুটি থাকবে না। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, মাসব্যাপী এই সুদীর্ঘ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের মহান আত্মত্যাগকে অন্তরে স্মরণ করা এবং নতুন প্রজন্মের তরুণদের কাছে ইতিহাসের এই গৌরবময় অধ্যায়কে সঠিকভাবে তুলে ধরা।

/আশিক


পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানালেন ইরানি রাষ্ট্রদূত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ১৮:৪৫:৩৬
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানালেন ইরানি রাষ্ট্রদূত
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে তেহরান। এই সম্মান ও আন্তরিকতার জন্য বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি।

রোববার (৫ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে আয়োজিত এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ইরানের রাষ্ট্রদূত আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

বৈঠক চলাকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা পুনর্ব্যক্ত করেন। এই চরম সংকটের মুহূর্তে ইরানের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের পাশে থাকার এবং বাংলাদেশের জনগণের অবিচল সংহতি প্রকাশের বিষয়টি তিনি বিশেষভাবে জোর দিয়ে তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য উন্মুক্ত সংলাপ এবং কার্যকর কূটনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা কেবল এই অঞ্চলের জন্যই নয়, বরং এর বাইরেও সামগ্রিক বৈশ্বিক সমৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ও ইরানের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয়, বর্তমান ভূ-রাজনীতি এবং আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।

/আশিক


জুলাই হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত বিচারেই রক্তাক্ত অধ্যায়ের অবসান ঘটবে: ভিপি নুর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ১৮:৩৬:৫৪
জুলাই হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত বিচারেই রক্তাক্ত অধ্যায়ের অবসান ঘটবে: ভিপি নুর
ছবি : সংগৃহীত

২০০০ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্নের মাধ্যমেই দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তাক্ত সেই কালো অধ্যায়ের চিরতরে অবসান ঘটবে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ভিপি নুরুল হক নুর। এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়া জোরকদমে চলমান রয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে সংঘটিত জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড ছিল একটি চরম বর্বরোচিত ও অমানবিক ঘটনা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রাষ্ট্রবিরোধী ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত রাজনৈতিক দলগুলো আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলার অকাট্য অভিযোগে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমস্ত কার্যক্রম আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিদেশে অবস্থানরত কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির উসকানিতে দেশের ভেতরে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরির যেকোনো চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে নুর বলেন, যারা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তারা চাইলে সেখানকার প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারেন অথবা সেখানে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন। কিন্তু দূর দেশে বসে নিজ মাতৃভূমিকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী মোসা. মারিয়া আক্তার, স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রতিমন্ত্রী জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন এবং সরকারি জনসেবার মানোন্নয়নে কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

/আশিক


‘বাংলাদেশ নীতি’তেই শক্তিশালী হবে প্রতিরক্ষা: রাষ্ট্রপতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ১১:০৮:৫৭
‘বাংলাদেশ নীতি’তেই শক্তিশালী হবে প্রতিরক্ষা: রাষ্ট্রপতি
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে ‘বাংলাদেশ নীতি’কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিবেশ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রচলিত সামরিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি এখন সাইবার হামলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ এবং বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। এসব মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ এবং কার্যকর কৌশলগত সক্ষমতা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

রোববার (৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার সর্বাগ্রে ‘বাংলাদেশ নীতি’ অনুসরণ করছে। এই নীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিসম্পন্ন প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা। তাঁর মতে, এই নীতির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী, কার্যকর এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হয়ে উঠবে।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। স্থল, নৌ ও বিমান সক্ষমতার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে বাহিনীগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আধুনিক যুদ্ধ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তবতায় প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এখন আর বিকল্প নয়, বরং অপরিহার্য।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আন্তর্জাতিক সুনামের কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দায়িত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে বিশ্বব্যাপী প্রশংসা অর্জন করেছে। এই অর্জন শুধু সেনাবাহিনীর নয়, বরং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকেও তিনি এই গৌরবময় ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তা হুমকির ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সাইবার আক্রমণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, তথ্যযুদ্ধ, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর ডিজিটাল হামলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। এসব হুমকি মোকাবিলায় শুধু প্রচলিত সামরিক শক্তি নয়, বরং উন্নত প্রযুক্তি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে ভবিষ্যতের যেকোনো সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় আন্তঃবাহিনী সমন্বয়, গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

-রফিক


ফ্যাসিবাদ ও মৌলবাদকে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য যৌথ হুমকি: আইনমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৪ ২১:৩৭:২১
ফ্যাসিবাদ ও মৌলবাদকে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য যৌথ হুমকি: আইনমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য ফ্যাসিবাদ এবং মৌলবাদ—উভয়ই সমান হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এই দুই অপশক্তির অশুভ তৎপরতার বিষয়ে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র) আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’-এ অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘‘দেশের একদিকে ফ্যাসিবাদ আমাদের কষ্টার্জিত সার্বভৌমত্ব হরণের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠীও নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠছে। এই দুই চরমপন্থী শক্তির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে জনগণকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ থাকতে হবে।’’

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের রোডম্যাপ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেখানো পথই মূলত জুলাইয়ের স্বপ্ন ও চেতনা বাস্তবায়নের একমাত্র পথ। সেই পথ অনুসরণ করেই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলছে। জুলাই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত প্রতিটি অপরাধীর সুষ্ঠু বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে এই সরকার সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর।’’

আলোচিত ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান স্পষ্ট করে বলেন, সরকার এই ঐতিহাসিক সনদের প্রতিটি অনুচ্ছেদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এর মাঝেই একটি বিশেষ মহল তথাকথিত গণভোটের আড়ালে এমন কিছু বিতর্কিত দাবি উত্থাপন করছে, যা মূল জুলাই সনদের চেতনার সাথে বিন্দুমাত্র সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জুলাইয়ের মূল চেতনা ও সনদকে সুরক্ষিত রাখতে যেকোনো ধরণের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি রুখে দিতে হবে। কোনো একক ভাবাবেগে না ভেসে দলীয় নেতৃত্বের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও শৃঙ্খলা অনুসরণ করেই জুলাইয়ের প্রকৃত লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

/আশিক


ট্রাম্পের ‘বাস্তববাদী নেতৃত্ব’ ও দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৪ ২০:০৯:২৮
ট্রাম্পের ‘বাস্তববাদী নেতৃত্ব’ ও দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গৌরবময় ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৪ জুলাই) মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি একটি বিশেষ চিঠি লিখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘‘বাংলাদেশের সরকার, জনগণ ও আমার নিজের পক্ষ থেকে আপনাকে এবং আপনার মহান দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উপলক্ষে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমরা আশাবাদী যে, আপনার বাস্তববাদী নেতৃত্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগামী দশকগুলোতে আরও মহানতার পথে এগিয়ে যাবে।’’

আমেরিকার ঐতিহাসিক এই মাইলফলককে বিশ্ববাসীর জন্য অনুপ্রেরণা আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী চিঠিতে বলেন, ‘‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন এই গৌরবময় উপলক্ষটি সারা দেশে উদযাপন করছে, তখন ‘আমেরিকা ২৫০’ আমেরিকান স্বপ্ন, ত্যাগ, স্বাধীনতা, মূল্যবোধ, ঐতিহ্য, নৈতিকতা এবং বাকি বিশ্বে আমেরিকার অবদান থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার জন্য বিশ্বজুড়ে মানুষের সেবা করছে।’’

স্বাধীনতার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও উন্নয়ন যাত্রায় একটি মূল্যবান বন্ধু এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লিখেছেন, ‘‘গত পাঁচ দশক ধরে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং মানুষে মানুষে বিস্তৃত যোগাযোগকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি শক্তিশালী ও বহুমুখী অংশীদারত্বে পরিণত হয়েছে।

বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই ২০২৬ বছরের শুরু থেকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির মাধ্যমে আমরা আমাদের সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছি।’’ চিঠিতে তিনি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সমর্থন ও উদারতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ভবিষ্যতে অভিন্ন স্বার্থের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্বকে আরও জোরদার ও গভীর করতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চিঠির শেষাংশে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও অব্যাহত সাফল্য কামনার পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুভাবাপন্ন জনগণের দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখ কামনা করেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: