আমরা দয়ালু বলেই খামেনির দাফনের জন্য এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছি: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৪ ১৮:৪৬:১৩
আমরা দয়ালু বলেই খামেনির দাফনের জন্য এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছি: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরান এখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে আপস করতে বা চলমান উত্তেজনা মিটিয়ে ফেলতে অত্যন্ত আগ্রহী। তিনি জানান, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা সাময়িক স্থগিত রেখে দেশটিকে ‘এক সপ্তাহের ছুটি’ দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক বক্তব্য উঠে এসেছে।

অনুষ্ঠানে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমরা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছি। আমরা দুটি বিশ্বযুদ্ধে জয়ী হয়েছি এবং স্নায়ুযুদ্ধ আমেরিকার শত্রুদের ইতিহাসের অতল গহ্বরে পাঠিয়ে দিয়েছে।’’

সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ‘‘আমরা একদিনে ভেনেজুয়েলাকে হারিয়েছি এবং ইরানকে চরম শিক্ষা দিয়েছি। তারা এখন আমাদের সাথে আপস করতে মরিয়া, তারা এটি খুব করে চাইছে। আমরা দয়ালু বলেই তাদের নেতার দাফন সম্পন্ন করার জন্য এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছিলাম।’’ এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ‘প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্র’ এবং আমেরিকানদের ‘সবচেয়ে স্বাধীন মানুষ’ হিসেবে অভিহিত করে মানবকল্যাণ, ক্ষুধা মুক্তি ও রোগ নিরাময়ে মার্কিনিদের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন।

এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ‘কমিউনিস্ট হুমকির’ পুনরুত্থান নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও সতর্কতা জারি করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের দেশে এখন কমিউনিস্টদের আনাগোনা ও প্রভাব বাড়ছে। এমনকি নবাগতদের মধ্যেও এমন সব চরমপন্থী ধারণা দেখা যাচ্ছে, যা আমাদের মার্কিন জীবনযাত্রা ও সাফল্যের সম্পূর্ণ বিরোধী।’’ কমিউনিজমকে মার্কিন স্বাধীনতার জন্য ‘মারাত্মক হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি একে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কিংবা ৯/১১-এর চেয়েও বড় বিপদ বলে উল্লেখ করেন।

আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন, ‘‘আমেরিকা কোনোদিন কমিউনিস্ট দেশ হবে না। আমরা যদি নিজেরা নিজেদের না হারাই, তবে আসন্ন নির্বাচনে আমাদের হারার কোনো সুযোগ নেই।’’ তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন কংগ্রেসে ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাস হলে রিপাবলিকান পার্টি আগামী ১০০ বছর কোনো নির্বাচনে হারবে না।

/আশিক


ঘণ্টায় ২৭৮ কিমি গতির সুপার টাইফুন ‘বাভি’ ধেয়ে আসার পূর্বাভাস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৪ ১৮:৩২:৩৩
ঘণ্টায় ২৭৮ কিমি গতির সুপার টাইফুন ‘বাভি’ ধেয়ে আসার পূর্বাভাস
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের দিকে ধেয়ে আসছে অত্যন্ত শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’। সম্ভাব্য ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ইতিমধ্যেই ওই এলাকার বাসিন্দারা নিজ নিজ ঘরবাড়ির সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করতে শুরু করেছেন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন ন্যাশনাল আবহাওয়া সংস্থার তথ্যমতে, বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের সামগ্রিক পরিস্থিতি বেশ আশঙ্কাজনক। গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের প্রতিটি বাসিন্দাকে অন্তত একটি শক্তিশালী গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ের মুখোমুখি হওয়ার জন্য আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ আবহাওয়া বুলেটিন অনুযায়ী, টাইফুন বাভি বর্তমানে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী সামুদ্রিক এলাকায় অবস্থান করছে। যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার (জেটিডব্লিউসি) জানিয়েছে, বর্তমানে ঝড়টির কেন্দ্রের কাছে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬৭ কিলোমিটার এবং দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ২০৩ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জেটিডব্লিউসির গাণিতিক পূর্বাভাস বলছে, পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে থাকা বাভি অতি দ্রুতই একটি ভয়াবহ ‘সুপার টাইফুনে’ পরিণত হতে পারে। রূপান্তরের প্রাথমিক ধাপে এর বাতাসের গতি সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটারে পৌঁছাবে এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা আরও শক্তিশালী হয়ে ঘণ্টায় ২৭৮ কিলোমিটারে উন্নীত হতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই গতিবেগ আটলান্টিকের ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের সমতুল্য ধ্বংসাত্মক শক্তি বহন করে।

উপকূলের দিকে আসার পথে ঝড়টি কিছুটা শক্তি হারালেও, আগামী সোমবার (৬ জুলাই) সকালের দিকে বাভি সরাসরি গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে বলে প্রবল পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, পশ্চিম উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাধারণত ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতির বাতাসবিশিষ্ট গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়কে ‘সুপার টাইফুন’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

/আশিক


‘ইরান এখন সমঝোতায় মরিয়া’, খামেনির দাফনে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দিলাম: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৪ ১৩:৪৭:১৩
‘ইরান এখন সমঝোতায় মরিয়া’, খামেনির দাফনে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দিলাম: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যেই নতুন করে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পর তেহরান এখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। একই সঙ্গে তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় দাফন ও শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে দেশটির স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেওয়া দীর্ঘ ভাষণে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি, বৈশ্বিক নেতৃত্ব এবং পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও উল্লেখ করেন।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানকে কঠিন চাপে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে তারা যেকোনো উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে চায়। যদিও এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, মানবিক বিবেচনায় খামেনির দাফন ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান সম্পন্ন করার জন্য তেহরানকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। বক্তব্যে তিনি বলেন, "আমরা ভালো মানুষ বলেই তাদের এই সময় দিয়েছি।" তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নীতিগত সিদ্ধান্ত বা পৃথক ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

ট্রাম্প একই ভাষণে ভেনিজুয়েলার প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভেনিজুয়েলাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করেছে এবং একই ধরনের চাপ ইরানের ক্ষেত্রেও কার্যকর হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক সক্ষমতা ও কূটনৈতিক প্রভাবের বিষয়টিও বিশেষভাবে উঠে আসে।

এদিকে ইরানে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। শুক্রবার রাজধানী তেহরানে প্রথমবারের মতো তাঁর কফিন সর্বসাধারণের সামনে আনা হয়। দেশটির সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার ও রোববার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সাধারণ মানুষকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আগত রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বও এই শোকানুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।

ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় লাখো মানুষ শোকমিছিল ও শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নিয়েছেন। অনেকের হাতে ছিল লাল পতাকা, যা ইরানে প্রতিরোধ, আত্মত্যাগ এবং প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। আয়োজকরা এটিকে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করছেন।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, তেহরানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে খামেনির মরদেহ ধর্মীয় নগরী কোমে নেওয়া হবে। এরপর ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় বিশেষ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে পুনরায় ইরানে ফিরিয়ে এনে মাশহাদে ইমাম রেজার পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে দাফন সম্পন্ন করা হবে। দাফনের পর আরও কয়েক সপ্তাহব্যাপী শোক কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনাও রয়েছে।


আরাগচি-গালিবাফ হত্যাচেষ্টার খবর নাকচ ইসরায়েলের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৪ ১০:২৯:২৬
আরাগচি-গালিবাফ হত্যাচেষ্টার খবর নাকচ ইসরায়েলের
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের শীর্ষ দুই কর্মকর্তা—পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে লক্ষ্য করে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। তেল আবিবের ভাষ্য, এ ধরনের অভিযোগের কোনো বাস্তবভিত্তিক প্রমাণ নেই এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ‘ভুয়া’ ও ‘বাস্তবতার বিকৃত উপস্থাপন’ ছাড়া কিছুই নয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, শান্তি আলোচনা চলাকালে ইরানের প্রতিনিধিদের লক্ষ্য করে হত্যার পরিকল্পনার খবর বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ওই দুই প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানায়, চলতি বছরের শুরুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলার সময় ইসরায়েল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ আলোচকদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এমন হামলা সংঘটিত হলে কূটনৈতিক উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারত।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সময় ইসরায়েলের সামরিক কৌশলের অন্যতম অংশ ছিল ইরানের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের শীর্ষ কর্মকর্তা আলী লারিজানিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। একই প্রেক্ষাপটে আরাগচি ও গালিবাফও সম্ভাব্য টার্গেটের তালিকায় থাকতে পারেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা ধারণা করেছিলেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের মূল্যায়ন ছিল ভিন্ন। তাদের মতে, শান্তি আলোচনায় সরাসরি সম্পৃক্ত দুই শীর্ষ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ওপর হামলা হলে আলোচনার পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেত এবং যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। সে কারণেই ওয়াশিংটন সম্ভাব্য এমন পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর একটি পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, আব্বাস আরাগচি ও মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ইসরায়েলের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিলেন। তবে যুদ্ধবিরতি আলোচনা নতুন করে শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে সাময়িকভাবে তাদের নাম সেই তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানতে পেরেছিল যে অন্তত গালিবাফ সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ইসরায়েলকে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়, যাতে আলোচনার পরিবেশ অক্ষুণ্ন থাকে এবং নতুন করে আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি না তৈরি হয়।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধ এবং চলতি বছরের সামরিক উত্তেজনার সময় পাহাড়ের নিচে নির্মিত একটি গোপন বাঙ্কারে জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাদের বৈঠকের ওপর হামলার ঘটনাতেও গালিবাফ অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। ইরানের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার দাবি, ওই দুই ঘটনাতেই ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল।

তবে এসব দাবি ও প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির কর্মকর্তাদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রচার করা হয়েছে এবং সেগুলো বাস্তব পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করে না। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের এই পর্বে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

-রফিক


খামেনির ৬ দিনের রাষ্ট্রীয় বিদায়ে থাকছে যেসব আনুষ্ঠানিকতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৩ ১৩:৪৬:৫৩
খামেনির ৬ দিনের রাষ্ট্রীয় বিদায়ে থাকছে যেসব আনুষ্ঠানিকতা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন রাষ্ট্রীয় আয়োজন। দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আনুষ্ঠানিকতাকে ঘিরে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে কঠোর নিরাপত্তা, ব্যাপক জনসমাগমের প্রস্তুতি এবং একাধিক ধর্মীয় কর্মসূচি গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শুধু একটি রাষ্ট্রীয় জানাজা নয়; বরং দেশটির রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীকী প্রদর্শন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোর থেকে তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শুরু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে লাখো মানুষকে খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। আয়োজকরা আশা করছেন, অনুষ্ঠানজুড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন।

ইরানি প্রশাসনের ধারণা, পুরো আয়োজনজুড়ে এক কোটি ২০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের উপস্থিতি হতে পারে। যদি সেই পূর্বাভাস বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে। রাজধানীর প্রধান সড়ক, ধর্মীয় কেন্দ্র এবং অনুষ্ঠানস্থলজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দলও মোতায়েন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের সূচি অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত তেহরানে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের কার্যক্রম চলবে। এরপর মঙ্গলবার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে পবিত্র শহর কোমের জামকারান মসজিদে, যেখানে শিয়া ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতিতে বিশেষ জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই আয়োজনকে ইরানের ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেও তুলে ধরা হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরবর্তী ধাপে মরদেহ ইরাকের নাজাফে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। সেখানে ইসলামের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলোতে বিশেষ দোয়া ও স্মরণানুষ্ঠান শেষে কারবালায় আরও একটি ধর্মীয় কর্মসূচি পালিত হবে। মধ্যপ্রাচ্যের শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে এই সফরকে প্রতীকী গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

সবশেষে আগামী বৃহস্পতিবার খামেনিকে তার জন্মশহর মাশহাদের ঐতিহাসিক ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করার পরিকল্পনা রয়েছে। দাফনের পর দেশজুড়ে টানা ৪০ দিনের শোকানুষ্ঠান এবং পরবর্তী এক বছর বিভিন্ন পর্যায়ে স্মরণসভা, ধর্মীয় আলোচনা ও দোয়া মাহফিল আয়োজনেরও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আমাদের জেগে উঠতেই হবে’। আয়োজকদের দাবি, এই বার্তার মাধ্যমে জাতীয় সংহতি, প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রীয় আদর্শের প্রতি জনগণের অঙ্গীকার নতুন করে তুলে ধরা হবে।

ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক প্রতিনিধি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইতোমধ্যে তেহরানে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায়ও বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেবে।

-রফিক


আরাগচি-গালিবাফকে ঘিরে হত্যার পরিকল্পনা ইসরায়েলের, ইরানকে আগাম সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৩ ১১:২০:৩৪
আরাগচি-গালিবাফকে ঘিরে হত্যার পরিকল্পনা ইসরায়েলের, ইরানকে আগাম সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি : সংগৃহীত

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের উত্তপ্ত সময় চলমান যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টাকে ঘিরে নতুন এক দাবি সামনে এসেছে। মিডল ইস্ট আই–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এপ্রিল মাসে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, সে সময় মার্কিন প্রশাসনের কাছে এমন গোয়েন্দা তথ্য পৌঁছেছিল যে, ইসরায়েল ইরানের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছিল। তবে এই দাবিগুলোর স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিতে পারে—এমন আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের মাধ্যমে তেহরানের কাছে আগাম সতর্কবার্তা পাঠায়। ওয়াশিংটনের মূল্যায়ন ছিল, যুদ্ধবিরতি আলোচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো উচ্চপর্যায়ের ইরানি কর্মকর্তার ওপর হামলা হলে তা শুধু আলোচনা ব্যর্থই করবে না, বরং পুরো অঞ্চলকে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তত পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নাম ছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানতে পারেন। এরপরই ওয়াশিংটন কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ইসরায়েলকে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।

মিডল ইস্ট আই একটি ঘটনারও উল্লেখ করেছে, যেখানে বলা হয়, এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ সফর শেষে গালিবাফকে বহনকারী বিমান মাঝপথে রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিল। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় ইরানি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দেশের আকাশসীমার কাছে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য পেয়েছিল। তবে এ ঘটনারও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনটি আরও বলছে, ওই সময় যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চেয়েছিল। পাশাপাশি কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে আলোচনা চলাকালে সম্ভাব্য হামলা এড়ানোর বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়ার চেষ্টা চালানো হয়।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই


খামেনির কফিন ঘিরে আবেগে ভাসছে তেহরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৩ ০৯:৪৯:১২
খামেনির কফিন ঘিরে আবেগে ভাসছে তেহরান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়া ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান ঘিরে তেহরানে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রায় চার মাস পর দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন পরিসরে ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে, যা নিরাপত্তা, কূটনৈতিক উপস্থিতি এবং জনসমাগম—সব দিক থেকেই বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খামেনির মরদেহবাহী কফিন রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে সেই স্থানে নেওয়া হয়, যেখানে হামলায় তিনি নিহত হয়েছিলেন। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই এই শোকযাত্রার আয়োজন করা হয়। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) জানায়, এই প্রতীকী আয়োজনের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় বিদায় কর্মসূচির সূচনা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সূত্র অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই শোকানুষ্ঠান কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথমে তেহরানে রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদন, এরপর পবিত্র নগরী কুমে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং সবশেষে খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে। দীর্ঘ যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাজনিত কারণে কয়েক মাস বিলম্বের পর অবশেষে এই রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তেহরানের বিভিন্ন সড়কে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষ জড়ো হতে শুরু করেছেন। কালো পোশাক পরিহিত শোকাহতদের অনেকের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা ও খামেনির প্রতিকৃতি। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো কালো ব্যানার ও শোকের প্রতীকে সাজানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত দৃশ্যে মানুষের কান্না, শোকমিছিল এবং ধর্মীয় স্লোগানে মুখর পরিবেশ দেখা গেছে।

খামেনির সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, তার কফিন একটি বিশেষ কক্ষে রাখা হয়েছে, যার দেয়াল ইরানের জাতীয় পতাকায় সজ্জিত। কফিনের ওপর বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে লাল রঙের একটি ধর্মীয় পতাকা, যা ইমাম হোসেনের মাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং শিয়া ঐতিহ্যে আত্মত্যাগ, প্রতিরোধ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ এই প্রতীককে ‘সত্য ও আত্মত্যাগের প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের’ বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এদিকে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, শোকমিছিলের রুট এবং ধর্মীয় কেন্দ্রগুলোতে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি কিংবা নতুন হামলার আশঙ্কা মাথায় রেখেই এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

-রফিক


নতুন নেতার অধীনেই ওয়াশিংটনকে রুখতে তেহরানের রণপ্রস্তুতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০২ ২০:৩৮:২৬
নতুন নেতার অধীনেই ওয়াশিংটনকে রুখতে তেহরানের রণপ্রস্তুতি
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও তার মিত্রদের ওপর যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের আন্তর্জাতিক সহযোগীদের তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। যেকোনো ধরনের ভুল হিসাব-নিকাশ বা আগ্রাসী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর, অনুশোচনামূলক ও দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে বলে চরম সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এক বিশেষ বার্তায় এই হুঁশিয়ারি দেন ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আব্দুল্লাহি।

সদ্য প্রয়াত ইসলামিক বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির আসন্ন জানাজা উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

মেজর জেনারেল আব্দুল্লাহি তাঁর বার্তায় বলেন, শহীদ সর্বোচ্চ নেতা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নয়ন, কৌশলগত বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে সুসংহত করার মাধ্যমে দেশের সামরিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শত্রুপক্ষ অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত হওয়া সত্ত্বেও ইরানের বিরুদ্ধে অতীতে যেসব যুদ্ধ বা আগ্রাসন চালিয়েছে, তার জন্য তাদের চড়া মূল্য দিতে হয়েছে এবং প্রতিবারই তারা অপমানের স্বাদ গ্রহণ করেছে।

সশস্ত্র বাহিনীর এই শীর্ষ কর্মকর্তা সর্বোচ্চ নেতার আসন্ন জানাজা অনুষ্ঠানে দেশবাসীকে বিপুল সংখ্যায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই শোকানুষ্ঠান ইরানের পবিত্র জাতীয় ঐক্যের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে। প্রয়াত নেতাকে শ্রদ্ধা জানানোর শ্রেষ্ঠ উপায় হলো তাঁর দেখানো দীপ্ত পথ অনুসরণ করে শত্রুর বিরুদ্ধে এগিয়ে যাওয়া।

বার্তার শেষাংশে জেনারেল আব্দুল্লাহি ইরানের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সাথে তিনি ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসাইনি খামেনির প্রতি সশস্ত্র বাহিনীর অবিচল ও পূর্ণ আনুগত্যের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

সূত্র: মেহের নিউজ


উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারকে নিয়ে ইরানের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন শাহবাজ শরিফ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০২ ১৮:১৬:২৫
উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারকে নিয়ে ইরানের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন শাহবাজ শরিফ
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নিতে আগামী ৩ জুলাই ইরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দরাবি এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পাকিস্তানের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করবেন এবং ইরানের জনগণের প্রতি সংহতি জানাবেন।

ইরানে প্রধানমন্ত্রীর এই রাষ্ট্রীয় সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন ও জানাজায় ব্যাপক জনসমাগমের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি হুংকার দিয়ে বলেছেন, এই বিপুল উপস্থিতির মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে প্রতিশোধের দাবির স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।

উল্লেখ্য, ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রথম দিনে নিহত হন। ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ সময় দেশটির নেতৃত্ব দেন।

সূত্র : ডন


নেতানিয়াহু প্রশাসন গুরু ট্রাম্পের কথা না শুনলে ইরানই শিক্ষা দেবে: আব্বাস আরাগচি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০১ ১৮:৪৭:০০
নেতানিয়াহু প্রশাসন গুরু ট্রাম্পের কথা না শুনলে ইরানই শিক্ষা দেবে: আব্বাস আরাগচি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের দেওয়া চরম উসকানিমূলক ও বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র ও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দেশটির সাধারণ জনগণ ও শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হুমকির জবাব তাৎক্ষণিক, কঠোর ও শক্তিশালীভাবে দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে দেওয়া এক বিশেষ সরকারি বিবৃতিতে আব্বাস আরাগচি বলেন, “আমাদের জনগণ এবং দেশের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হুমকি বা আগ্রাসনের অপচেষ্টা তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী সামরিক প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়বে।”

এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক চরম বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন। তিনি সরাসরি বলেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ‘হত্যার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে’ (টার্গেটেড ফর অ্যাসাসিনেশন)। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ তোলেন, ইরান আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার ভান করে মূলত বিভিন্ন ধরনের বাড়তি কূটনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, তেহরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সেই সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে কাটজ কটাক্ষ করে আরও বলেন, ইরানিরা ‘দক্ষ ব্যবসায়ীর মতো’ আলোচনায় নিজেদের সুবিধা আদায়ের চাল চালছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন আগ্রাসী বক্তব্যের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রকেও কড়া ভাষায় টেনে এনে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো একেবারে স্পষ্ট এবং সবার জন্য উন্মুক্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তেল আবিবে তাদের মিত্রদের (ইসরায়েল) কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা যদি এখন তাদের প্রধান অভিভাবক তথা গুরুর (মাস্টার) কথা না শোনে, তাহলে ইরান নিজেই তাদের উপযুক্ত শিক্ষা দেবে।” আরাগচির এই মন্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, ইসরায়েলকে সংযত রাখার মূল দায়িত্ব এখন সম্পূর্ণভাবে ওয়াশিংটনের ওপর বর্তায়।

আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে নিয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সরাসরি ‘হত্যার হুমকি’ দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনাকে এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি সামরিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে অলরেডি তীব্র বাকযুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই নাজুক পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের এমন চরম আক্রমণাত্মক ও উসকানিমূলক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও যুদ্ধমুখী করে তুলতে পারে।

উল্লেখ্য, ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের জাতীয় পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং কেবল বেসামরিক বিদ্যুৎ ও চিকিৎসার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েল ও তার পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, তেহরান আন্তর্জাতিক চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

পাঠকের মতামত:

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত ভরি

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত ভরি

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ মূল্য পুনর্নির্ধারণের পর শনিবারও দেশের সব জুয়েলারি... বিস্তারিত