আজকের আবহাওয়া নিয়ে যা বলসে আবহাওয়া অধিদপ্তর

আবহাওয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ মে ১৮ ০৯:৩৫:৩৯
আজকের আবহাওয়া নিয়ে যা বলসে আবহাওয়া অধিদপ্তর

সত্য নিউজ: রাজধানী ঢাকায় রোববার (১৮ মে) দিনভর আকাশ সাময়িকভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে কিছু এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। ঢাকার জন্য প্রকাশিত ছয় ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, যদিও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে, তবে বজ্রবৃষ্টির ঝুঁকি একেবারে এড়ানো যাচ্ছে না। পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৪ দশমিক ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস; বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯১ শতাংশ। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে দেশের সামগ্রিক আবহাওয়ার চিত্র বলছে, উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মেঘমালার প্রভাবে কয়েকটি অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু–এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা পরামর্শ দিয়েছেন, বজ্রবৃষ্টির সময় জনগণকে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন ছাড়া খোলা জায়গায় অবস্থান না করতে। প্রাক–বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতজনিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকায় সবার মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো দরকার।


টানা বর্ষণ কবে কমবে? নতুন পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অফিস

আবহাওয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ১০:৫৬:৪৬
টানা বর্ষণ কবে কমবে? নতুন পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অফিস
ছবি : সংগৃহীত

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান টানা বর্ষণ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের অন্তত ছয়টি বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ দিনজুড়েও বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় স্বল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, দেশের অধিকাংশ এলাকায় দমকা হাওয়ার সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এর পাশাপাশি রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু স্থানে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে দুর্ভোগ বাড়াতে পারে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে এবং কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী আগামী অন্তত পাঁচ দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

টানা বৃষ্টির কারণে ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, সড়কে যানজট এবং নিম্নাঞ্চলে পানি জমার ঘটনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার অনেক এলাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় নগরবাসীকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন বিভাগে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বোচ্চ ৭৯০ মিলিমিটার, ঢাকা বিভাগে ৫৬৪ মিলিমিটার, খুলনায় ২৭৪ মিলিমিটার, রাজশাহীতে ২০৪ মিলিমিটার, ময়মনসিংহে ১০০ মিলিমিটার, বরিশালে ৮৭ মিলিমিটার, রংপুরে ৮১ মিলিমিটার এবং সিলেট বিভাগে ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় এককভাবে ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বর্ষণ।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর বঙ্গোপসাগর থেকে ক্রমাগত জলীয়বাষ্প প্রবেশ এবং মৌসুমি বায়ুর শক্তিশালী অবস্থানের কারণে বৃষ্টিপাতের এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে পাহাড়ি এলাকা, নদী অববাহিকা এবং নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলা, জলাবদ্ধ এলাকায় সতর্ক থাকার পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চল, নদীতীরবর্তী এলাকা এবং নগরীর নিচু অংশে বসবাসকারীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

-রফিক


১৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত

আবহাওয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ১০:৪৬:৩৩
১৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
ছবি : সংগৃহীত

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও ঝড়ো আবহাওয়ার প্রবণতা আরও জোরালো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত দেশের ১৯টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া, সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে মঙ্গলবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত বিশেষ পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত আর্দ্র বায়ুর কারণে বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব এলাকার নদীপথে চলাচলকারী নৌযানকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

এর পাশাপাশি ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে দেশের কয়েকটি বিভাগে। সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১১টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এর সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয়বাষ্প প্রবেশ করায় দেশের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা এবং নদী অববাহিকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগরীর বাসিন্দাদের জন্যও রয়েছে বিশেষ সতর্কতা। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যে ভারী বর্ষণ হলে রাজধানীর বিভিন্ন নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। ফলে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ এলাকাতেই হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি, দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণও হতে পারে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা বৃষ্টির কারণে ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা এবং স্থানীয়ভাবে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা এবং দুর্বল অবকাঠামোসমৃদ্ধ অঞ্চলে নতুন করে দুর্ভোগ বাড়তে পারে।

নৌযান চালক, জেলে, পর্যটক এবং নদীপথ ব্যবহারকারী যাত্রীদের আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করে প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তার প্রতি নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

-রাফসান


বর্ষণ কমলেও সামনে অপেক্ষা করছে নতুন দফার বৃষ্টি

আবহাওয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ১০:৪০:১২
বর্ষণ কমলেও সামনে অপেক্ষা করছে নতুন দফার বৃষ্টি
ছবি : সংগৃহীত

আষাঢ়ের শেষ প্রহর পেরিয়ে শ্রাবণকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি চলছে। তবে ঋতুর এই পরিবর্তনের সঙ্গে কমছে না বর্ষার দাপট। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা কয়েক দিনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পর আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী দুই দিন বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও ১৬ জুলাই থেকে আবারও সারা দেশে ভারী বর্ষণ বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সময়ে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্তত নয়টি জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা অথবা বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

রাজধানী ঢাকায় সোমবার সারাদিন আকাশ মেঘলা ছিল এবং থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হয়েছে। যদিও আগের দিনের তুলনায় বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কম ছিল, তবুও বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা পুরোপুরি কাটেনি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৭ ঘণ্টায় ঢাকায় মোট ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবারই ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে চট্টগ্রাম শহরের আমবাগান এলাকায়, যেখানে একদিনে ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা দেশের সব বিভাগেই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা সাময়িকভাবে কিছুটা কমতে পারে। তবে দেশের ৭৬ থেকে ১০০ শতাংশ এলাকায় দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতের তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে।

তবে এই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হবে না। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ১৬ জুলাই থেকে মৌসুমি বায়ু আরও সক্রিয় হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে দেশের অধিকাংশ এলাকায় আবারও মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বজ্রসহ বৃষ্টির পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সোমবার সকাল পর্যন্ত সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমা নদীর ছাতক, কুশিয়ারার ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি, এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এছাড়া সুরমা নদীর কানাইঘাট, সিলেট সদর ও সুনামগঞ্জ, তিস্তার ডালিয়া ও কাউনিয়া, এবং মুহুরি নদীর হরিপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে অথবা বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। তবে বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীসংলগ্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় রয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। যদিও মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা সাময়িকভাবে কমতে পারে, তবে বৃহস্পতিবার থেকে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা আবারও বৃদ্ধি পেলে নতুন দফায় ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ধীরগতিতে অগ্রসর হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণ জলীয়বাষ্প বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়, ভারতের ত্রিপুরা এবং মিয়ানমারের রাখাইন পর্বতমালায় বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ওরোগ্রাফিক প্রভাবে এসব এলাকায় টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। পাশাপাশি মৌসুমি বায়ুর অস্বাভাবিক সক্রিয়তা, বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তিত ধরণ এবং বৈশ্বিক জলবায়ুগত প্রভাবও বর্তমান আবহাওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এদিকে টানা বর্ষণের প্রভাব রাজধানীতেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গুলশান-শাহজাদপুর লিংক রোডের একটি অংশ দীর্ঘ সময়ের জলাবদ্ধতা ও পানির তীব্র চাপে ধসে পড়েছে। ফলে ওই সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধসে যাওয়া অংশে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা চালকদের ওই এলাকায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছেন।

আবহাওয়া ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতির জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

-রফিক


ঢাকাজুড়ে আজও বৃষ্টি, কী বলছে আবহাওয়া অফিস?

আবহাওয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৩ ১০:৪৯:৫৮
ঢাকাজুড়ে আজও বৃষ্টি, কী বলছে আবহাওয়া অফিস?
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকায় আজও বৃষ্টির প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। যদিও দিনভর টানা বর্ষণের সম্ভাবনা নেই, তবে বিভিন্ন সময়ে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে সারাদিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকারও পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। ফলে কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করেই ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবীদের অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েন। সড়কের বিভিন্ন স্থানে যান চলাচল ধীর হয়ে যায় এবং কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতারও সৃষ্টি হয়।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হামিদ মিয়া জানিয়েছেন, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় পুরো দিনজুড়েই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটি একটানা হবে না; বরং বিরতি দিয়ে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে অতি ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম হলেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এর আগে রোববার দুপুরে আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে ঢাকাসহ দেশের ছয় বিভাগে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল। পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে ২৪ ঘণ্টায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীতে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমে আসে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাত ১২টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় মাত্র ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর সকাল ৭টার পর আবারও বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে শুরু করে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বৃষ্টির পরিমাণ ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার হলে সেটিকে ভারি বৃষ্টি হিসেবে ধরা হয়। আর ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হলে সেটি অতি ভারি বৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত হয়। বর্তমান আবহাওয়ায় রাজধানীতে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশজুড়ে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলমান মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রভাবে দেশের অন্তত সাতটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের তুলনায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি বায়ু এখনও বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয়বাষ্প প্রবেশ করায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিম্নাঞ্চল, জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা এবং পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীতে আজ সারাদিন আকাশ মেঘলা থাকতে পারে এবং দিনের বিভিন্ন সময়ে বৃষ্টির কারণে যানজট, জলাবদ্ধতা ও নগরজীবনে সাময়িক ভোগান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া এবং বের হলে ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

-রফিক


১৪ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে সংকেত

আবহাওয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১০ ১১:১৫:২৭
১৪ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে সংকেত
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরের আগেই বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকাসহ ১৪ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বজ্রপাত এবং মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার ভোর ৫টায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত বিশেষ পূর্বাভাসে জানায়, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া প্রবাহিত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঝড়ো হাওয়ার পাশাপাশি বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষ করে খোলা নদী, জলাশয় এবং উপকূলসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানকারী নৌযান ও ছোট ট্রলারগুলোকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বৈরী আবহাওয়ার সম্ভাবনার কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোতে সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের সময় নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করতে এবং যাত্রীদের প্রয়োজন ছাড়া নদী পারাপার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাব এবং বায়ুমণ্ডলে পর্যাপ্ত জলীয়বাষ্পের উপস্থিতির কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনের বিভিন্ন সময়ে মেঘের সৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে আকস্মিক দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা দেখা দিতে পারে বলে আবহাওয়া বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে এ ধরনের বজ্রঝড় সাধারণ ঘটনা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে ঝড়ের তীব্রতা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়েছে। তাই কৃষক, জেলে, নৌযান চালক এবং খোলা জায়গায় কর্মরত ব্যক্তিদের আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস নিয়মিত অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে নতুন সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হবে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সর্বশেষ সরকারি আবহাওয়া বুলেটিন অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

-রাফসান


৯ জেলায় সন্ধ্যার আগে ঝড়ের সতর্কতা, ১ নম্বর সংকেত

আবহাওয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৪ ১৩:১৬:১৮
৯ জেলায় সন্ধ্যার আগে ঝড়ের সতর্কতা, ১ নম্বর সংকেত
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যার মধ্যে দেশের নয়টি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি করা বিশেষ আবহাওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো আবহাওয়া সৃষ্টি হতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, দক্ষিণ দিক থেকে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু প্রবাহ এবং মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে স্বল্প সময়ের জন্য দমকা হাওয়া, বজ্রপাত এবং মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

নদীপথে চলাচলকারী নৌযান, মাছ ধরার ট্রলার এবং ছোট জলযানগুলোকে বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঝোড়ো হাওয়ার সময় নদীপথ উত্তাল হয়ে উঠতে পারে বলে যাত্রী ও নৌযান সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকি না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, বর্ষাকালে এ ধরনের স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট বজ্রঝড় দ্রুত তৈরি হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। তাই বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, নদী, জলাশয় বা উঁচু স্থানে অবস্থান না করে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে খোলা মাঠে থাকা ফসল, চারা ও কৃষিযন্ত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা এবং বজ্রপাতের সময় মাঠে কাজ না করার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজন হলে নতুন সতর্কবার্তা বা হালনাগাদ পূর্বাভাস প্রকাশ করা হবে। তাই সংশ্লিষ্ট জেলার বাসিন্দাদের সর্বশেষ আবহাওয়া বুলেটিন নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

-রাফসান


যে ৮ জেলায় সন্ধ্যার আগে ঝড়ের সতর্কবার্তা

আবহাওয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৩ ১২:১৬:৪৪
যে ৮ জেলায় সন্ধ্যার আগে ঝড়ের সতর্কবার্তা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আট জেলার ওপর দিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যার আগেই অস্থায়ী ঝড়ো আবহাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, এসব এলাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। একই সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি করা বিশেষ আবহাওয়া বুলেটিনে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বজ্রপাত এবং মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের ঘটনাও ঘটতে পারে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা বৃদ্ধি এবং বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের আধিক্যের কারণে দেশের উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চলে এ ধরনের বৈরী আবহাওয়া তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে সমুদ্র উপকূল, নদী তীরবর্তী এলাকা এবং উন্মুক্ত জলাশয়ে অবস্থানকারীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সম্ভাব্য ঝোড়ো হাওয়ার কারণে ছোট নৌযান, মাছ ধরার ট্রলার ও লঞ্চ চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। নদীপথ ব্যবহারকারী যাত্রী ও মাঝিদের আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করে প্রয়োজন ছাড়া নৌযাত্রা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

-রাফসান


আজ রাতের মধ্যে দেশের ১৭ জেলায় ঝড়ের পূর্বাভাস, ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

আবহাওয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ১৮:৩৮:০৬
আজ রাতের মধ্যে দেশের ১৭ জেলায় ঝড়ের পূর্বাভাস, ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
ছবি : সংগৃহীত

আজ রাতের মধ্যে দেশের ১৭টি জেলার ওপর দিয়ে তীব্র ঝড়-বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এই আবহাওয়ার পূর্বাভাসের তথ্য জানানো হয়েছে।

সরকারি আবহাওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আজ রাত ১টার মধ্যে দেশের রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে এই সময়ে এসব অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতেরও শঙ্কা রয়েছে। এই বৈরী আবহাওয়ার কারণে উল্লেখিত অঞ্চলের সব নদীবন্দরকে ১ নম্বর নৌ সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিনপটিক অবস্থার তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে লঘুচাপের বর্ধিত অংশটি ভারতের গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে শুরু করে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় থাকা মৌসুমি বায়ু এখন মোটামুটি কার্যকর অবস্থায় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যান্য অংশে এটি দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় অবস্থান করছে।

আবহাওয়ার এই সামগ্রিক পরিস্থিতিতে আগামীকাল শুক্রবার (২৬ জুন) সকালের মধ্যে দেশের রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া এবং তীব্র বিজলি চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এর পাশাপাশি দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে শুরু করে অতি ভারি বর্ষণ হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও দেশের দিন ও রাতের সার্বিক তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে বলে আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে।

/আশিক


আষাঢ়ের শুরুতেই দেশজুড়ে বৃষ্টির দাপট, ঢাকার আকাশ মেঘলা

আবহাওয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২০ ১০:২৫:০৬
আষাঢ়ের শুরুতেই দেশজুড়ে বৃষ্টির দাপট, ঢাকার আকাশ মেঘলা

বাংলা বর্ষপঞ্জির বর্ষা ঋতুর শুরুর এই সময়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব বিভাগেই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় থাকায় আজ ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকায় সকাল থেকেই মেঘলা আকাশ বিরাজ করছে। দুপুরের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সাথে বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকায় বৃষ্টির আগ পর্যন্ত নগর জীবনে কিছুটা ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে। আজ ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি ওঠানামা করতে পারে।

ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় মাঝারী থেকে ভারী, কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমিধসের সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। নদী বন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে, কারণ বৃষ্টির সময় দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় জেলে ও মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, জুনের এই শেষভাগে এসে মৌসুমি বায়ুর এমন সক্রিয় রূপ আগামী আরও কয়েকদিন বজায় থাকতে পারে। ফলে ঢাকাসহ দেশবাসীকে বাইরে বের হওয়ার সময় সাথে ছাতা বা রেইনকোট রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

পাঠকের মতামত: