বিবিসির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

ভারত আমাদের হাত বেঁধে, মুখ ঢেকে বন্দীদের মতো করে নিয়ে যায়—এরপর সমুদ্রে ফেলে দেয়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩০ ১২:০৪:৩৭
ভারত আমাদের হাত বেঁধে, মুখ ঢেকে বন্দীদের মতো করে নিয়ে যায়—এরপর সমুদ্রে ফেলে দেয়
থাইল্যান্ডের নৌসীমার কাছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বহনকারী একটি নৌকার পাশে ভিড়েছে থাইল্যান্ডের নৌবাহিনীর একটি নৌযানফাইল ছবি: রয়টার্স

নুরুল আমিন তার ভাইয়ের সঙ্গে শেষবার গত ৯ মে কথা বলেছেন। ফোনকলে তিনি জানতে পারেন, তার ভাই কায়রুলসহ ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মিয়ানমারে বিতাড়িত করেছে ভারত সরকার। এই ৪০ জন শরণার্থী প্রাণ বাঁচাতে কয়েক বছর আগে মিয়ানমার থেকে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বর্তমানে মিয়ানমারে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ চলছে, যেখানে সামরিক জান্তার অনুগত বাহিনীর সঙ্গে ক্ষুদ্র-জাতিগোষ্ঠীর মিলিশিয়া ও প্রতিরোধ বাহিনীর সংঘাত চলছে। এই পরিস্থিতিতে নুরুলের জন্য তার পরিবারকে আবার দেখার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায়।

বিতাড়নের তিন মাস পর বিবিসি মিয়ানমারে থাকা সেই শরণার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাদের বেশিরভাগই মিয়ানমারের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে লড়াইরত ‘বা হ্‌তু আর্মি (বিএইচএ)’ প্রতিরোধ দলের সঙ্গে আশ্রয় নিয়েছেন।

শরণার্থী সৈয়দ নুর ভিডিও কলে বিবিসিকে বলেছেন, “আমরা মিয়ানমারে নিরাপদ বোধ করি না। এখানে পুরো এলাকা যুদ্ধক্ষেত্রের মতো।” তিনি একটি কাঠের তৈরি আশ্রয়শিবিরে ছিলেন, তার চারপাশে আরও ছয়জন শরণার্থী ছিলেন।

দিল্লিতে থাকা নুরুল আমিন বলেন, “আমি মানতেই পারি না যে আমার মা-বাবা ও যাঁদের বিতাড়ন করা হয়েছে, তাঁরা কী কষ্টে আছেন।” তিনি আরও বলেন, “মানুষকে কীভাবে শুধু সমুদ্রে ফেলা যায়? বিশ্বে মানবিকতা বেঁচে আছে, কিন্তু আমি ভারত সরকারের মধ্যে কোনো মানবিকতা দেখিনি।”

বিতাড়নের প্রক্রিয়া

বিবিসি জানায়, এই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রথমে দিল্লি থেকে উড়োজাহাজে করে বঙ্গোপসাগরের একটি দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর নৌযানে করে আন্দামান সাগরে নিয়ে জীবনরক্ষাকারী জ্যাকেট পরিয়ে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। সাঁতরে তাঁরা তীরে পৌঁছান এবং এখন মিয়ানমারে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হয়েছেন।

জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার থমাস অ্যান্ড্রু বলেছেন, ভারতের বিরুদ্ধে এ অভিযোগের সপক্ষে ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ’ রয়েছে। তিনি জেনেভায় ভারতের মিশনপ্রধানের কাছে এই তথ্য উপস্থাপন করলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাননি। বিবিসিও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো উত্তর পায়নি।

একজন শরণার্থী জন তার ভাইকে ফোনে বলেছেন, “তারা (ভারতীয় কর্তৃপক্ষ) আমাদের হাত বেঁধে, মুখ ঢেকে বন্দীদের মতো করে নিয়ে গেছে। তারপর (নৌকায় উঠিয়ে) সমুদ্রে ফেলে দিয়েছে।”

বিতাড়িত শরণার্থীদের ওপর নির্যাতন

সৈয়দ নুর বলেন, উড়োজাহাজ থেকে নামার পর তাদের দুটি বাসে ওঠানো হয়, যার পাশে ‘ভারতীয় নৌসেনা’ লেখা ছিল। তিনি আরও বলেন, “আমাদের হাত প্লাস্টিক দিয়ে বাঁধা হয়েছিল এবং মুখ কালো কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল।” বাসে থাকা লোকজন হিন্দি ভাষায় কথা বলতেন।

নৌকায় হাত খোলা ও মুখের কাপড় সরানোর পর শরণার্থীরা বুঝতে পারেন, তারা একটি বড় যুদ্ধজাহাজে আছেন। অনেকেই টি-শার্ট, কালো প্যান্ট ও কালো সেনা বুট পরা ছিলেন। সৈয়দ নুর বলেন, নৌকায় তারা ১৪ ঘণ্টা ছিলেন। খাবার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল চাল, ডাল ও পনির।

কিছু পুরুষ শরণার্থী অভিযোগ করেছেন, নৌকায় তাদের ওপর নির্যাতন ও অপমান করা হয়েছে। ফয়েজ উল্লাহ নামের একজন তার ডান কনুইয়ে ক্ষত দেখিয়ে বলেন, তাকে বারবার পেটানো, থাপ্পড় মারা ও বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছিল, কেন তারা অবৈধভাবে ভারতে আছেন।

মে মাসে বিতাড়িত হওয়া ৪০ জনের মধ্যে ১৫ জন খ্রিস্টান ছিলেন। নুর বলেন, “দিল্লি থেকে যাওয়ার সময় শরণার্থীদের আটক করা ব্যক্তিরা বলতেন, ‘তুমি হিন্দু হওনি কেন? খ্রিস্টান হওয়ার কারণ কী?’” তিনি আরও বলেন, ‘খৎনা হয়েছে কি না দেখার জন্য আমাদের বিবস্ত্র হতে বাধ্য করা হয়েছে।’

এক শরণার্থী ইমান হোসেন বলেন, সেনারা তাকে কাশ্মীরের পেহেলগাম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন। এই হত্যাকাণ্ডে রোহিঙ্গাদের জড়িত থাকার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

নৌকা থেকে ফেলে দেওয়া

৮ মে সন্ধ্যায় শরণার্থীদের নৌযানের পাশে থাকা সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসতে বলা হয়। সেখানে কালো রাবারের চারটি ছোট নৌকা দেখতে পান তারা। দুটি নৌকায় ২০ জন করে শরণার্থীকে স্থানান্তর করা হয়। ৭ ঘণ্টার বেশি হাতবাঁধা অবস্থায় ভ্রমণের পর সৈন্যরা তাদের জীবন রক্ষাকারী জ্যাকেট পরিয়ে হাতের বাঁধন খুলে পানিতে ঝাঁপ দিতে বলে। নুর বলেন, “আমরা দড়ি ধরে ১০০ মিটারের বেশি সাঁতার কেটে তীরে পৌঁছেছি।” এরপর তাদের বলা হয়, তারা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছেন, এবং তারপর সৈন্যরা চলে যায়।

৯ মে ভোরে স্থানীয় জেলেরা তাদের খুঁজে পান এবং জানান, তারা মিয়ানমারে আছেন। এরপর জেলেরা তাদের ফোন ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন যেন তারা ভারতে থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

জাতিসংঘ বলেছে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যখন এই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আন্দামান সাগরে পাঠায়, তখনই তাদের জীবন চূড়ান্ত ঝুঁকিতে ফেলে।

ক্ষতিপূরণের আবেদন ও আতঙ্ক

১৭ মে নুরুল আমিন ও অন্যান্য পরিবারের সদস্যরা ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন দায়ের করেছেন। সেখানে তাদের স্বজনদের দিল্লিতে ফিরিয়ে আনা, বিতাড়ন বন্ধ করা এবং ৪০ জনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কলিন গঞ্জালেস বলেন, “এটি রোহিঙ্গা বিতাড়নের ভয়াবহতার কথা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরে। যুদ্ধক্ষেত্রে জীবনরক্ষাকারী জ্যাকেট পরিয়ে কেউ মানুষকে সমুদ্রে ফেলে দিতে পারে, তা স্বাভাবিকভাবে বিশ্বাস করা কঠিন।”

তবে পিটিশনের জবাবে দুই সদস্যের বেঞ্চের এক বিচারক এ অভিযোগকে ‘কাল্পনিক ধারণা’ বলে উল্লেখ করেছেন।

এ ঘটনা ভারতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। নুরুল আমিন বলেন, “আমার মনে শুধু এই ভয় যে ভারত সরকার আমাদেরও নিয়ে যাবে ও সমুদ্রে ফেলে দেবে। এখন আমরা বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাই।”


ঐতিহাসিক রায়ে ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ ঘোষণা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩০ ১০:৪৮:৩৬
ঐতিহাসিক রায়ে ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ ঘোষণা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা বেশিরভাগ বৈশ্বিক শুল্ককে অবৈধ বলে রায় দিয়েছে। এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের বৈদেশিক বাণিজ্য নীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়।

আপিল আদালত তার রায়ে বলেছে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের (আইইইপিএ) অধীনে অনুমোদিত নয়। সাত-চার ভোটে দেওয়া এই রায়ে আদালত ট্রাম্পের শুল্কগুলোকে ‘আইনের পরিপন্থী ও অবৈধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই রায়টি ১৪ অক্টোবরের আগে কার্যকর হবে না, যাতে প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে আপিলের জন্য আবেদন করার সময় পায়।

আপিল আদালতের রায়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি লিখেছেন, এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে তা যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেবে। তিনি আরও বলেছেন, ‘অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট একটি আপিল আদালত ভুলভাবে বলেছে আমাদের শুল্ক তুলে নেওয়া উচিত। কিন্তু তারা জানে, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই জয়ী হবে।’

ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, এই শুল্কগুলো তুলে নেওয়া হলে তা দেশের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে এবং আমেরিকা আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে।

আইইইপিএ'র অধীনে একজন প্রেসিডেন্টকে অস্বাভাবিক হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়। ট্রাম্প বাণিজ্যে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বলেছিলেন, বাণিজ্য ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর। তবে আপিল আদালত এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, শুল্ক আরোপ করা প্রেসিডেন্টের এখতিয়ার নয়, এটি কংগ্রেসের মূল ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত।

আদালতের ১২৭ পৃষ্ঠার রায়ে বলা হয়েছে, আইইইপিএ আইনে ‘শুল্ক’ বা এর কোনো প্রতিশব্দ উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়াও, প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সুস্পষ্টভাবে সীমিত করার মতো কোনো প্রক্রিয়াগত সুরক্ষাও এতে নেই। আদালত মনে করে, কর ও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতেই থাকবে।

এই রায়টি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের জোটের দায়ের করা দুটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে। গত এপ্রিলে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক এবং আরও ডজনখানেক দেশের ওপর ‘পারস্পরিক শুল্ক’ আরোপ করা হয়েছিল।

এই রায়ের ফলে এখন প্রশ্ন উঠেছে, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক কমানোর চুক্তি করেছিল, সেগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে। যদি সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি বিবেচনায় নেয়, তবে নয়জন বিচারপতি নির্ধারণ করবেন, ট্রাম্পের শুল্ক কর্মসূচি আইনসিদ্ধ কিনা। আপিল আদালতে ট্রাম্প হেরে গেলেও, সুপ্রিম কোর্টে ৬ জন রিপাবলিকান বিচারপতির মধ্যে ৩ জন ট্রাম্পের নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায় সর্বোচ্চ আদালতে মামলার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হতে পারে।

-বিবিসি


 আর মানবিক মূল্যবোধ উপেক্ষা নয়: ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত তুরস্কের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩০ ০৮:৪২:৩৯
 আর মানবিক মূল্যবোধ উপেক্ষা নয়: ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত তুরস্কের
ছবিঃ সংগৃহীত

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ঘোষণা দিয়েছেন যে, তার দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। একইসঙ্গে ইসরায়েলি বিমানকে তুরস্কের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন। গাজায় ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসনের প্রতিবাদে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়।

শুক্রবার গাজা ইস্যুতে তুরস্কের জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় ফিদান বলেন, “গত দুই বছর ধরে ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে। মানবিক মূল্যবোধকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে তারা পুরো বিশ্বের চোখের সামনে এই নৃশংসতা ঘটাচ্ছে।”

তুরস্ক গত বছরের মে মাসেই ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছিল। সেই সময় তারা গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং অবিলম্বে মানবিক সহায়তা প্রবেশের দাবি জানায়। ২০২৩ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৭ বিলিয়ন ডলার।

ফিদান বলেন, “আমরা ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করেছি। আমরা তুর্কি জাহাজগুলোকে ইসরায়েলি বন্দরে যেতে দিচ্ছি না। তাদের বিমানকেও আমাদের আকাশসীমায় প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছি না।”

গাজা যুদ্ধ নিয়ে আঙ্কারা প্রথম থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এই যুদ্ধকে গণহত্যা আখ্যা দিয়েছেন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

/আশিক


স্বাধীনতা দিবসে সব নাগরিককে নগদ অর্থ দেবে সরকার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৯ ১১:০৫:১১
স্বাধীনতা দিবসে সব নাগরিককে নগদ অর্থ দেবে সরকার
ছবিঃ সংগৃহীত

ভিয়েতনাম সরকার স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। সরকারের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দেশের প্রতিটি নাগরিককে এই বিশেষ উপলক্ষে নগদ অর্থ প্রদান করা হবে। প্রত্যেক নাগরিক পাবেন ৩ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তরিত হয়ে এককালীন অনুদান হিসেবে বিতরণ করা হবে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয় হবে আনুমানিক ৩৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা জাতীয় অর্থনীতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় করার প্রতিফলন।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে এই উদ্যোগকে “অতুলনীয়” বা “নজিরবিহীন” হিসেবে অভিহিত করা হয়। সেখানে বলা হয়, এই পদক্ষেপ দেশের প্রতিটি মানুষের প্রতি ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টি এবং রাষ্ট্রের গভীর উদ্বেগ ও দায়িত্ববোধকে তুলে ধরছে। সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অর্থ প্রদান কার্যক্রম নাগরিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অথবা নগদ আকারে সম্পন্ন করা হবে। এ জন্য ভিয়েতনামের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে, অর্থাৎ জাতীয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতার আগে, অর্থ বিতরণ নিশ্চিত করা যায়।

স্থানীয় নাগরিকদের প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেছে, এই ঘোষণা অনেককে অবাক করেছে। রাজধানী হ্যানয়ের বাসিন্দা ফাম তিয়েন লুয়াত এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি যখন শুনলাম, প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি। ভেবেছিলাম, হয়তো এটা সত্যি নয়। তবে এখন দেখছি, সরকার সত্যিই এমন একটি পদক্ষেপ নিয়েছে।” তাঁর বক্তব্য সাধারণ মানুষের অনুভূতির প্রতিফলন, যা সরকারি ঘোষণার আকস্মিকতা এবং ভিন্নধর্মী প্রকৃতি নির্দেশ করে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ভিয়েতনামের একজন শ্রমিকের গড় মাসিক বেতন ৮.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। অর্থনৈতিক সূচকগুলো ইঙ্গিত করে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি ক্রমেই স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির পথে হাঁটছে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নগদ অর্থ প্রদানের এই সিদ্ধান্তকে অনেক বিশ্লেষক অর্থনৈতিক শক্তি ও জনগণের সঙ্গে সরকারের সামাজিক চুক্তির প্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

এ বছর ভিয়েতনাম তাদের স্বাধীনতার ৮০তম বার্ষিকী উদযাপন করছে, যা ঐতিহাসিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রাজধানী হ্যানয়ে আগামী সপ্তাহে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হবে বলে জানা গেছে। এই মহাযজ্ঞে দেশাত্মবোধ, জাতীয় ঐক্য ও স্বাধীনতার চেতনাকে জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।

সরকারি টেলিভিশন ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানী হ্যানয় এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র হো চি মিন সিটির নাগরিকরা বিশেষ সুবিধা পাবেন। ওই দিন গণপরিবহন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবে সাধারণ মানুষ। সরকারের মতে, এটি উদযাপনকে আরও সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে এবং উৎসবের আবহকে শহরজুড়ে ছড়িয়ে দেবে।

-শরিফুল


 নিহত গাজা সাংবাদিকের চিঠি পড়ে কেঁদে ফেললেন জাতিসংঘে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৯ ১০:৫৬:৫৮
 নিহত গাজা সাংবাদিকের চিঠি পড়ে কেঁদে ফেললেন জাতিসংঘে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয় যখন আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আমর বেনজামা গাজায় নিহত ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মরিয়ম আবু দাক্কার লেখা বিদায়পত্র পাঠ করেন। ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারানো এই তরুণী সাংবাদিক মৃত্যুর আগে নিজের ১৩ বছর বয়সী ছেলে গাইথের উদ্দেশে এক চিঠি লিখেছিলেন, যা বৈঠকজুড়ে উপস্থিত সবাইকে নাড়া দেয়।

৩৩ বছর বয়সী মরিয়ম আবু দাক্কা এই সপ্তাহের শুরুতে গাজার নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো ভয়াবহ হামলায় নিহত হন। সেই হামলায় পাঁচ সাংবাদিকের পাশাপাশি আরও অন্তত ২০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। মরিয়মের মৃত্যুর আগেই লেখা চিঠিতে ছিল এক মায়ের শেষ অনুরোধ। তিনি লিখেছিলেন, “তুমি তোমার মায়ের প্রাণ আর আত্মা। আমি মারা গেলে আমার জন্য কেঁদো না, বরং দোয়া করো। বড় হয়ে যখন বিয়ে করবে আর কন্যাসন্তান জন্মাবে, তার নাম রেখো মরিয়ম, আমার নামে।”

রাষ্ট্রদূত বেনজামা চিঠি পড়তে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, মরিয়মের এই বার্তাই যে কোনো কূটনৈতিক বিবৃতির চেয়ে অনেক বেশি সত্য তুলে ধরে। তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মরিয়মের হাতে ছিল কেবল একটি ক্যামেরা, গায়ে ছিল কেবল প্রেস ভেস্ট, তবু তাকেও নিশানা বানানো হলো। তাঁর মতে, সাংবাদিকদের টার্গেট করে ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে গাজার সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা করছে।

বেনজামা পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২৪৫ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। শুধু গত আগস্টের শেষ দিকেই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইচ্ছাকৃতভাবে ছয়জন সাংবাদিককে হত্যা করেছে। “তারা সঙ্গে রাখত কেবল শব্দ, ছবি আর কণ্ঠস্বর। অথচ এই পরিষদ এতকিছুর পরও কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ,”— রাষ্ট্রদূত হতাশা প্রকাশ করেন।

তিনি আলোচনায় আনেন দুই বছরের ক্ষুধার্ত শিশু ইয়াজান আবু ফুলের ঘটনা, যার অস্থি-চর্মসার দেহ বাবার কোলের ছবিতে বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। তাঁর ভাষায়, “একটি শিশুকে এভাবে ধুঁকে যেতে দেখা গাজার দুঃসহ বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।” তিনি গাজাকে ‘জীবন্ত নরক’ আখ্যা দেন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে সমালোচনা করে বলেন, এটি এখন কেবল ‘শোক প্রকাশের থিয়েটারে’ পরিণত হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত আরও স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধবিরতি চাপিয়ে দেওয়া, দ্রুত মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং গণহত্যা বন্ধ করাই এখন একমাত্র অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তাঁর কঠোর মন্তব্য ছিল, “ব্যর্থতা মানে সহযোগী হওয়া। বিলম্ব মানে লজ্জা মেনে নেওয়া। গণহত্যা ঠেকানো কোনো বিকল্প নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক দায়িত্ব।”

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এদিন ত্রাণকর্মী ও কর্মকর্তারাও সতর্ক করে বলেন, গাজা উপত্যকাজুড়ে দুর্ভিক্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ১৪ জন সদস্য রাষ্ট্র একযোগে ক্ষুধাকে ‘যুদ্ধের অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানায় এবং অবিলম্বে, নিঃশর্ত ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায়। পাশাপাশি তারা সব বন্দির মুক্তি এবং মানবিক ত্রাণ সহায়তা বহুগুণ বাড়ানোর আহ্বান জানায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানায়, যা নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৩ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পুরো গাজা উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, আর দুর্ভিক্ষ এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

আন্তর্জাতিক আদালতগুলোও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করেছে। গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োযভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এছাড়া গাজায় গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলাও চলমান।

-রাফসান


গাজা উপত্যকায় রাতভর তাণ্ডব

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৯ ১০:৪৯:১০
গাজা উপত্যকায় রাতভর তাণ্ডব
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক হামলা ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৬১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৯ জন ছিলেন সাধারণ মানুষ, যারা মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। এই ঘটনাটি শুধু সামরিক আক্রমণের সীমারেখায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং মানবিক বিপর্যয়ের এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে।

গাজা সিটির পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান ও আর্টিলারি হামলা আরও তীব্র হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। পাশাপাশি উপত্যকার বৃহত্তম নগরী গাজা সিটিতে পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। আন্তর্জাতিক মহল থেকে অভিযানের ঝুঁকি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হলেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সেই সতর্কতাকে উপেক্ষা করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অভিযানের ফলে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে এবং শহরে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১০ লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আবারও ঘরবাড়ি হারিয়ে মরিয়া হয়ে পালাতে বাধ্য হবেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের পরিকল্পিত সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, গাজা সিটিতে বৃহৎ পরিসরের সামরিক অভিযান যুদ্ধকে নতুন এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক এক ধাপে নিয়ে যাবে। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপে ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত লক্ষ লক্ষ বেসামরিক মানুষ আবারও বাস্তুচ্যুত হবেন, যা পরিবার ও শিশুদের আরও ভয়াবহ বিপদের দিকে ঠেলে দেবে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শুজাইয়া, জেইতুন এবং সাবরা এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী বোমা বর্ষণ শুরু করলে মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে শুরু করে। বেশিরভাগ পরিবারই উপকূলের দিকে ছুটে যায় জীবন রক্ষার জন্য। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ইসরায়েলি স্থল অভিযানের সময় শুধু জেইতুনের দক্ষিণাংশেই অন্তত ১৫০০ বাড়িঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সেখানে এখন আর কোনো স্থাপনা অবশিষ্ট নেই, চারপাশজুড়ে শুধু ধ্বংসস্তূপ পড়ে আছে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা গাজা সিটিকে হামাসের শেষ শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের দাবি, এ অঞ্চলেই হামাসের সামরিক কমান্ড কাঠামো এবং লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মূল সক্ষমতা টিকে আছে। তাই অভিযানের মাধ্যমে তারা প্রতিরোধ কেন্দ্র ধ্বংস করতে চায়। তবে বাস্তবে এর প্রধান শিকার হচ্ছেন সাধারণ বেসামরিক মানুষ, যারা প্রতিদিন বোমা হামলা, অবরোধ ও বাস্তুচ্যুতির ভয়াবহতায় জীবন রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।


ইয়েমেনের সানায় ইসরায়েলের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৮ ২১:২৫:৪৫
ইয়েমেনের সানায় ইসরায়েলের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি
ছবিঃ সংগৃহীত

হুথি বিদ্রোহীদের দাবি, ইসরায়েল বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হামলা চালিয়েছে। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটির ওপর চার দিন আগেও ইসরায়েল প্রাণঘাতী বোমাবর্ষণ করেছিল। হুথিদের সংবাদমাধ্যম আল-মাসিরাহ এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছে, ‘রাজধানী সানায় ইসরায়েলি হামলা’ হয়েছে, তবে বিস্তারিত তথ্য তারা জানায়নি।

অন্যদিকে, ইয়েমেনের সানায় হুথিদের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার কথা স্বীকার করেছে ইসরায়েল। এক সামরিক বিবৃতিতে ইসরায়েল জানায়, তাদের বাহিনী হুথি ‘সন্ত্রাসী সরকারের একটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েলের দাবি, হুথিরা নিয়মিতভাবে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করছে এবং লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে জাহাজগুলোতে আক্রমণ চালাচ্ছে। এসব হামলা ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করছে ও বৈশ্বিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ব্যাহত করছে’। ইসরায়েল বলছে, হুথিদের এসব হামলার জবাবেই তারা সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।

অপরদিকে, হুথিরা দাবি করে, ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে তারা নিয়মিতভাবে ইসরায়েলে হামলা চালাচ্ছে।

ইসরায়েলের হামলায় গত সোমবার সানায় অন্তত ১০ জন নিহত ও ৯০ জনের বেশি আহত হয়েছিল বলে হুথি নিয়ন্ত্রিত শহরটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সেই সময় হুথিদের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর কথা বলেছিল, যার মধ্যে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদও ছিল।

হুথিরা বুধবার ইসরায়েলে নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা সেটিকে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হুথিরা নিয়মিত ইসরায়েলের দিকে হামলা চালাচ্ছে এবং লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। ২০১৪ সাল থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে হুথিদের হাতে। তারা ইরানের নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলবিরোধী জোটের একটি অংশ, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

/আশিক


পুলিশের পোশাকে বিড়াল, হৃদয় জয় করে থানায় রাজত্ব করছে ‘নারুতো’

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৮ ১২:১৯:০১
পুলিশের পোশাকে বিড়াল, হৃদয় জয় করে থানায় রাজত্ব করছে ‘নারুতো’
ছবিঃ সংগৃহীত

চিলির মাগাল্লানেস অঞ্চলের পোরভেনির শহরের একটি ছোট্ট বিড়াল এখন পুরো থানা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। পুলিশের পোশাক গায়ে চাপিয়ে তার নাম হয়েছে ‘নারুতো’, আর সে এখন থানার একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে কাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় সে এখন বেশ জনপ্রিয়।

একদিন কুকুরের তাড়া খেয়ে ভয়ে কাঁপছিল বিড়ালটি। তখন পুলিশ কর্মকর্তা ক্রিশ্চিয়ান গারিদো তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এরপর থেকে ঠান্ডায় কাঁপতে থাকা বিড়ালটির ঠাঁই হয় থানার ভেতরেই। কর্মকর্তারা আদর করে তার নাম দেন ‘নারুতো’।

ধীরে ধীরে নারুতো সবার প্রিয় হয়ে ওঠে এবং সে এখন প্রতিটি রুমে গিয়ে সবার সঙ্গে খেলাধুলা করে। তাকে পরিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি ছোট্ট পুলিশ ভেস্ট। সেই ভেস্ট পরেই সে এখন অফিসের এক কক্ষ থেকে আরেক কক্ষে ঘুরে বেড়ায়।

কর্মকর্তারা আদর করে তাকে ‘ক্যাটবিনেরো’ নামেও ডাকেন। নারুতো শিশুদের কাছেও সমান জনপ্রিয়, প্রতিদিনই অনেকে তাকে দেখতে যায়।

দর্শনার্থীরাই নারুতোর জন্য এই পোশাক ও বিভিন্ন ডাকনামের পরামর্শ দিয়েছেন। এখন থানায় আসা শিশু ও ভুক্তভোগীদের জন্য নারুতো এক প্রকার মানসিক সাপোর্ট হিসেবে কাজ করছে। ভয়ে কাঁপতে থাকা মানুষের কাছে গিয়ে সে বসে পড়ে, তাদের আদর করতে দেয় এবং সবার মুখে হাসি ফোটায়। এ কারণে অনেকে তাকে ‘থেরাপি ক্যাট’ হিসেবেও আখ্যা দিচ্ছেন।

ভিডিও লিঙ্ক


গাজার অবরোধের জবাবে ইয়েমেনের সামরিক অভিযান: আল-লিদ্দ বিমানবন্দরে হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৮ ১১:৩৮:৫৭
গাজার অবরোধের জবাবে ইয়েমেনের সামরিক অভিযান: আল-লিদ্দ বিমানবন্দরে হামলা
ছবিঃ সংগৃহীত

ইয়েমেনের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ইসরায়েলের আল-লিদ্দ বিমানবন্দরে আঘাত

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী অধিকৃত ইয়াফা অঞ্চলের আল-লিদ্দ বিমানবন্দরে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। বুধবার (২৭ আগস্ট) এই উচ্চমাত্রার সামরিক অভিযানে হাইপারসনিক ‘ফিলিস্তিন-২’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে।

সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি জানান, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায় এবং ‘লাখ লাখ দখলদার ইহুদি’ আশ্রয়কেন্দ্রে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

‘গাজার অবরোধের সরাসরি প্রতিক্রিয়া’জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এই হামলাকে গাজায় চলমান অবরোধ, দুর্ভিক্ষ ও আগ্রাসনের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যখন জাতিসংঘ গাজার মানবিক সংকটকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তখন ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ কমাতে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য।

ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী এই হামলাকে ‘অত্যাচারিত ফিলিস্তিনি জনগণ ও প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন’ হিসেবে ঘোষণা করে। একইসঙ্গে তারা আরব ও ইসলামি বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানায়, গাজায় চলমান গণহত্যা ও অবরোধের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে।

বিবৃতিতে ইয়েমেনকে ‘ঈমান ও প্রতিরোধের দেশ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলা হয়, “ইয়েমেন বিজয়ীদের ভূমি। যত বাধাই আসুক না কেন, ফিলিস্তিনের প্রতি দায়িত্ব পালনে ইয়েমেন কখনোই পিছু হটবে না।” ইয়াহিয়া সারির ভাষায়, “যতদিন না অবরোধ উঠে যায় এবং আগ্রাসন বন্ধ হয়, ততদিন পর্যন্ত ইয়েমেন গাজার পাশে থাকবে।”

/আশিক


বেইজিংয়ের সামরিক কুচকাওয়াজে কিম ও পুতিন, বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৮ ১০:৫৩:১৯
বেইজিংয়ের সামরিক কুচকাওয়াজে কিম ও পুতিন, বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা
ছবিঃ সংগৃহীত

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর একটি বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হচ্ছে। চীন-জাপান যুদ্ধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই ‘বিজয় দিবস’ কুচকাওয়াজে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ আরও ২৬টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান উপস্থিত থাকবেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের জন্য এটি একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য, কারণ এই কুচকাওয়াজে কিম ও পুতিনকে শি জিনপিংয়ের পাশে দেখা যাবে।

নতুন সামরিক কাঠামো ও শক্তি প্রদর্শন

এই কুচকাওয়াজে প্রথমবারের মতো চীনা সেনাবাহিনীর নতুন সামরিক কাঠামো তুলে ধরা হবে। এতে শত শত বিমান, ট্যাংক ও ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকবে। হাজার হাজার সেনা এবং সাবেক যোদ্ধারা বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ার দিয়ে মার্চ করবেন। ৭০ মিনিটের এই কুচকাওয়াজ বিশ্বজুড়ে শক্তিগুলোর নজর কাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন সক্রিয়তা ও জাপানের অনুরোধ

এদিকে, চীন যখন এই কুচকাওয়াজের মাধ্যমে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে যাচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রও কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, তিনি আবার কিম জং উনের সঙ্গে দেখা করতে চান। একইসঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পুতিনের সঙ্গেও ট্রাম্পের আলোচনা চলছে। অক্টোবরের শেষে ট্রাম্প ওই অঞ্চলে সফর করতে পারেন বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

অন্যদিকে, জাপান ইউরোপীয় ও এশীয় দেশগুলোকে অনুরোধ করেছে, যেন তারা চীনের এই কুচকাওয়াজে যোগ না দেয়। ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে পুতিনের সঙ্গে মতবিরোধ থাকায় পশ্চিমা দেশগুলোর বেশিরভাগ নেতা এই আয়োজনে উপস্থিত থাকবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কিম জং উনের বিরল সফর

কিম জং উন ছয় বছর পর বেইজিংয়ে আসছেন। সর্বশেষ তিনি ২০১৯ সালে চীন সফর করেছিলেন। এর আগে, ২০১৮ সালে তিনি এক বছরের মধ্যে তিনবার চীন সফর করেছিলেন, যা তার স্বভাবের তুলনায় বিরল ছিল। কারণ তিনি সচরাচর বিদেশ সফরে যান না।

/আশিক

পাঠকের মতামত: