কাকরাইলে সংঘর্ষে রক্তাক্ত নুর, উত্তপ্ত রাজনীতি: এনসিপির বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা
-1.jpg)
রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ফের রক্তাক্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে জাপা ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ধাপে ধাপে সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকা জুড়ে।
রক্তাক্ত নুরের ছবি ভাইরাল
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নুরুল হক নুরের অফিসিয়াল আইডি থেকে একটি ছবি পোস্ট করা হয়, যেখানে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা গেছে। ছবিটি দ্রুত ভাইরাল হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
‘জয় বাংলা’ স্লোগান ও গণহত্যার অভিযোগ
গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়েছে, জাপার কর্মীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এটি ছিল পরিকল্পিত সহিংসতা। গণঅধিকার পরিষদের নেতারা বলেন, “জাতীয় পার্টিকে গণহত্যার দায়ে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে। যদি বিচার না হয়, তাহলে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা নিজেরাই বিচার করবে।”
ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল
সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা শুরু হয়। একপর্যায়ে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও উত্তেজনা দ্রুত ছড়ায়।
রমনা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আতিকুল আলম খন্দকার বলেন, “ঘটনার শুরুতে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে আছি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছি।”
হলুদ হেলমেটধারী রহস্যময় বাহিনী
সংঘর্ষের দ্বিতীয় দফা ঘটে রাত সাড়ে ৯টার দিকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হলুদ রঙের হেলমেট পরে একদল লোক জাপার কার্যালয় থেকে বের হয়ে গণঅধিকার পরিষদের মিছিলে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এসময় পুলিশের দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। এ বাহিনীকে নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ তাদের সবাইকে একই ধরনের হেলমেট পরা অবস্থায় দেখা গেছে।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগে জটিলতা
জাপার পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, গণঅধিকার পরিষদ উসকানিমূলক মিছিল নিয়ে তাদের কার্যালয়ে গিয়ে হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে গণঅধিকার পরিষদ বলছে, উল্টো জাপার কর্মীরাই প্রথম ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে সংঘর্ষ বাধিয়েছে। ফলে ঘটনার দায় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়েছে।
এনসিপির বিক্ষোভের ডাক
এদিকে এ হামলার প্রতিবাদে জরুরি কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় এক ক্ষুদে বার্তায় দলটি জানায়, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সহযোদ্ধা, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ তার দলের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, লীগ ও জাতীয় পার্টির বর্বর হামলার প্রতিবাদে আজ রাতেই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।” এই মিছিলে নেতৃত্ব দেবে ঢাকা মহানগর এনসিপি।
খালেদা জিয়ার আপসহীনতা নিয়ে মুগ্ধতার কথা জানালেন শিবির সভাপতি
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন শৈশব থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে তিনি যেভাবে দেখেছেন তাতে তাঁর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরিচয় হলো দেশের স্বার্থে আপসহীন অবস্থান। বিএনপি চেয়ারপারসনের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নম্রতা ধৈর্য এবং দৃঢ়তা এই তিনটি গুণের সমন্বয় দেখেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। রোববার ৩০ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের প্রোফাইলে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
শিবির সভাপতি লিখেন ১/১১ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত বেগম জিয়া অবিচার ও নির্যাতনের মুখে মাথা নত না করে যে অবস্থান ধরে রেখেছেন তা তাঁকে জাতীয় রাজনীতিতে এক অনন্য নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনীতির তিনটি দিক বিশেষ করে জাতীয় ঐক্যের চেষ্টা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান এবং পার্বত্য অঞ্চলে কৌশলী ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন এসব বিষয় তাঁকে সবসময় মুগ্ধ করেছে। ছাত্র সংগঠক হিসেবে তিনি মনে করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা দেশের রাজনীতিতে বিভাজন নয় বরং ঐক্যের পথ দেখিয়েছিলেন।
জাহিদুল ইসলাম বলেন বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে দলমত নির্বিশেষে মানুষ যে দোয়া ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছে তা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল ঘটনা। তাঁর মতে বর্তমান পরিবর্তিত সময়ে দেশ পরিচালনা জাতীয় সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক দিকনির্দেশনায় বেগম জিয়ার অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ আগামী প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক প্রত্যাশা তুলে ধরে শিবির সভাপতি বলেন তারা কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয় বরং যাদের মধ্যে ফ্যাসিবাদী আচরণ ও আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করার প্রবণতা দেখা যায় নতুন প্রজন্ম তাদের প্রত্যাখ্যান করে।
তিনি সতর্ক করে বলেন বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসনের আদর্শকে ধরে রাখতে পারলে দলটি টিকে থাকবে অন্যথায় সেই আদর্শ থেকে সরে গেলে সংগঠন ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়বে। বাম রাজনৈতিক শক্তি এবং কথিত বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকায় সন্দেহ প্রকাশ করে শিবির সভাপতি বলেন এরা কখনো দীর্ঘমেয়াদে দেশের উপকার করেনি বরং স্বার্থসিদ্ধি বিভাজন এবং ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ইসলামবিদ্বেষই বেশি দেখা গেছে। এ ধরনের শক্তির ওপর নির্ভরতা যেকোনো রাজনৈতিক সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশের রাজনীতি নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জাহিদুল ইসলাম বলেন অতীতে কারাবন্দি অবস্থায় তিনি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দমন পীড়নের শিকার বিএনপি এবং ছাত্রশিবির জামায়াতের অসংখ্য নেতাকর্মীকে দেখেছেন। তবে তাঁর দাবি ৩৬ জুলাই পরবর্তী সময়ে বিএনপি যে নীতি নিয়েছে তা সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন দেশের স্বার্থে সহনশীলতা আদর্শিক অটলতা এবং জাতীয় ঐকমত্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হবে।
বরিশাল-৫: ধানের শীষের সরোয়ার নাকি জামায়াতের হেলাল কার পাল্লা ভারী
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভাগীয় শহর বরিশালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বরিশাল ৫ বা সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা আসনটি এখন রাজনৈতিক উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং ভোটের সমীকরণে এই আসনটি সব দলের জন্যই প্রেস্টিজ ইস্যু। এখানে বিএনপির হেভিওয়েট নেতা ও সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এবং জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী প্রার্থী মুয়াযযম হোসাইন হেলালের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
মজিবর রহমান সরোয়ারের রাজনৈতিক অবস্থান
বরিশালের রাজনীতিতে মজিবর রহমান সরোয়ার এক অবিসংবাদিত নাম। তিনি একাধারে সাবেক সংসদ সদস্য সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র এবং জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন সরোয়ারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং বরিশাল সদর ও সিটি এলাকার উন্নয়নে তাঁর অবদান এবার ধানের শীষকে বিজয়ী করতে বড় ভূমিকা রাখবে। তিনি দলের চরম দুর্দিনে নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন এবং তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিশমা সাধারণ ভোটারদের কাছে এখনো অটুট রয়েছে বলে মনে করেন সমর্থকরা।
মুয়াযযম হোসাইন হেলালের সাংগঠনিক শক্তি
অন্যদিকে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুয়াযযম হোসাইন হেলালও ছেড়ে কথা বলছেন না। বরিশাল মহানগরী ও সদর উপজেলায় জামায়াতের একটি সুশৃঙ্খল ও নীরব ভোটব্যাংক রয়েছে। মুয়াযযম হোসাইন হেলাল তাঁর ক্লিন ইমেজ এবং নিয়মিত জনসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের নজর কাড়ছেন। জামায়াতের নেতাকর্মীরা মনে করছেন গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে সততা ও যোগ্যতার বিচারে সাধারণ মানুষ এবার মুয়াযযম হোসাইন হেলালকেই বেছে নেবে। বিশেষ করে বিগত আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে।
ভোটের সমীকরণ ও চ্যালেঞ্জ
বরিশাল ৫ আসনটি মূলত শহুরে ও গ্রামীণ ভোটারদের এক মিশ্র জনপদ। এখানে সিটি করপোরেশনের সচেতন ভোটার এবং সদর উপজেলার গ্রামীণ ভোটারদের মন জয় করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন এই আসনে লড়াইটা হবে মূলত বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংক বনাম জামায়াতের সুশৃঙ্খল কর্মী বাহিনীর মধ্যে। আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় নৌকার সমর্থক ও সাধারণ ভোটাররা কোন দিকে ঝুঁকবেন তা এই দুই নেতার ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
তৃণমূলের ভাবনা
বিএনপি এবং জামায়াত উভয় দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। বিএনপির কর্মীরা মনে করছেন মজিবর রহমান সরোয়ারের মতো হেভিওয়েট নেতাকে হারানো সহজ হবে না। অন্যদিকে জামায়াত কর্মীরা মনে করছেন পরিবর্তনের হাওয়া বইছে এবং সেই হাওয়ায় মুয়াযযম হোসাইন হেলাল নতুন নেতৃত্ব হিসেবে উঠে আসবেন। ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে বরিশাল ৫ আসনে এই দুই নেতার দ্বৈরথ ততই জমে উঠছে এবং কে শেষ হাসি হাসবেন তা দেখার অপেক্ষায় পুরো বরিশালবাসী।
নব্য ফ্যাসিবাদের জন্ম দিলে প্রতিরোধ: জামায়াতের কঠোর হুঁশিয়ারি
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট আয়োজনের জোর দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন কোনো দলের ষড়যন্ত্রে পা দিয়ে নব্য ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইলে তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে। রোববার ৩০ নভেম্বর বিকেলে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জামায়াতে ইসলামীসহ আন্দোলনরত ৮ দলের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত নেতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কথা উল্লেখ করে সদ্য ঘটে যাওয়া খুলনার ঘটনার প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন আজকে পত্রিকায় এবং অনলাইনে দেখলাম খুলনার আদালত চত্বরে দিনের বেলায় হাজিরা দিয়ে যাওয়ার পথে দুইজনকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে প্রশাসনে প্রকাশ্যে এভাবে কোর্টের সামনে গুলি করে মানুষ হত্যা করা হয় সেই প্রশাসনের দায়িত্বে নির্বাচনের দিন যে ভোট ডাকাতি হবে না বা জানমাল খুন করে ভোটাধিকার লুট করা হবে না তার কোনো গ্যারান্টি নেই।
তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে বলেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও ক্ষমতার সমতা রক্ষা করুন এবং সব দল যেন সমান অধিকার পায় তা নিশ্চিত করুন। কোনো দলকে বড় মনে না করার এবং গোপনে কাউকে ক্ষমতায় আনার স্বপ্ন না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন ফ্যাসিবাদকে যেভাবে আমরা বিদায় করেছি কোনো দিল্লির ষড়যন্ত্র তাকে ঠেকাতে পারেনি। আগামীতে যদি ভোট ডাকাতি করে আরেকটি নব্য ফ্যাসিবাদের জন্ম দিতে চান তবে বাংলার মানুষ বুকে রক্ত দিয়ে তা প্রতিরোধ করবে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করে গোলাম পরওয়ার বলেন নির্বাচন কমিশনার ডিসি এসপি ও বিচারপতিদের আমি শিক্ষা নিতে বলব। ২০১৪ ও ১৮ এবং ২৪ এর ইলেকশনে যারা ভোট ডাকাতি করে হাসিনাকে দাঁড় করিয়েছিল সেই নির্বাচন কমিশনকে জেলে যেতে হয়েছে এবং পুলিশের আইজিকে চোখের পানি ফেলতে হয়েছে। এমনকি বায়তুল মোকাররমের খতিবকেও পালিয়ে যেতে হয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে এই বাংলার মানুষ ২৪ এ ভোট কাটতে আসলে বা অন্য কাউকে ক্ষমতায় বসাতে চাইলে এই পরিণতি আপনাদেরও ভোগ করতে হবে।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি যুক্তি দেখান যে জনগণ জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট চায়। তিনি সরকারকে কোনো সংকটে ফেলতে চান না উল্লেখ করে বলেন সুযোগ আছে আপনারা জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের তারিখ পরিবর্তন করুন। তা না হলে একটা বিভ্রান্তির ধূম্রজাল তৈরি হবে এবং ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে কম আসবে বা না বুঝে সিল মারবে। এই সংকট দূর করার দায়িত্ব সরকারকেই গ্রহণ করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিসসহ সমমনা ৮টি দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
বিজয় দিবসের সব আয়োজন স্থগিত করল বিএনপি
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে পূর্বঘোষিত বিজয়ের মাসে বিজয় মশাল রোড শো কর্মসূচি স্থগিত করেছে দলটি। রবিবার ৩০ নভেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ তথ্য জানিয়েছেন।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে রিজভী বলেন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাঁর বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে মেডিকেল বোর্ড এখনো কোনো পরামর্শ দেয়নি। তিনি স্পষ্ট করেন যে বোর্ডের পরামর্শ ছাড়া এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।
তিনি আরও জানান বেগম জিয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় বিজয় দিবসের গৃহীত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। এই কঠিন সময়ে তিনি জনগণের কাছে দোয়া কামনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে বেগম জিয়া দ্রুতই সেরে উঠবেন। দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান রিজভী।
উল্লেখ্য এর আগে শনিবার ২৯ নভেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল বিএনপি যার মধ্যে বিজয় মশাল রোড শো ছিল অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। কিন্তু দলীয় প্রধানের অসুস্থতার কারণে শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হলো দলকে।
সরকার বলছে বাধা নেই তবু অদৃশ্য সুতোর টানে আটকে আছে তারেক রহমানের ফেরা
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখনই দেশে ফিরতে পারছেন না বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে জল্পনা কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। মায়ের গুরুতর অসুস্থতার মধ্যেও দেশে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয় বলে তার নিজের ফেসবুক পোস্টে দেওয়া মন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠছে তারেক রহমানের দেশে ফেরা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কোথায় এবং কার হাতে রয়েছে এই নিয়ন্ত্রণ।
এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে শনিবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন তারেক রহমানের ফেসবুক স্ট্যাটাসেই সব ব্যাখ্যা রয়েছে এবং এ বিষয়ে আর কিছু বলার নেই। তবে একই দিন তারেক রহমানের ফেসবুক স্ট্যাটাসের কয়েক ঘণ্টা পর বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন এ ব্যাপারে বা তারেক রহমানের ফেরার বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো বিধি নিষেধ অথবা কোনো ধরনের আপত্তি নেই।
অক্টোবরের শুরুতে এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান দ্রুত দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। দলের নেতারাও জানিয়েছিলেন যে তিনি নভেম্বরেই ফিরতে পারেন। কিন্তু মাস শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান ফেরার সিদ্ধান্ত তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। এই পরিস্থিতিতে আলোচনায় এসেছে পুরনো বিতর্কিত মাইনাস টু ফর্মুলা। রাজনৈতিক মহলে অনেকে মনে করছেন তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে প্রভাবশালী মহলের কোনো অজানা প্রভাব তাঁর দেশে ফেরা দীর্ঘায়িত করছে।
বিএনপির কিছু সূত্র বলছে তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে কোনো শক্তিশালী দেশের আপত্তি থাকতে পারে। তবে কোন দেশ এবং কী কারণে আপত্তি তা নিশ্চিত করা যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন তারেক রহমানের বক্তব্য স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে তাঁর দেশে আসার বিষয়টি একক সিদ্ধান্ত নয়। তিনি উল্লেখ করেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ এবং এই দুদেশের নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন ছাড়া তারেক রহমানের ফেরায় ঝুঁকি থেকেই যায়। তিনি উইকিলিকসের ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন ভারতের ও যুক্তরাষ্ট্রের নীতির পরিবর্তন না হলে তারেক রহমান দেশে ফিরবেন কোন ভরসায়।
মহিউদ্দিন আহমদ আরও বলেন ১/১১ পর্বে প্রকৃত লক্ষ্য ছিল মাইনাস ফোর। শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবার ইতোমধ্যে ক্ষমতা হারিয়েছে এবং খালেদা জিয়া অসুস্থতার কারণে নিষ্ক্রিয়। ফলে আলোচনায় এখন তারেক রহমানের অবস্থানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়া ২০০৭ ও ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে রাজনীতিতে না জড়ানোর একটি অঙ্গীকার বা মুচলেকার কথাও নানা সূত্রে উঠে আসে। বিএনপির প্রয়াত স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তাঁর বইতে লিখেছিলেন এমনও হতে পারে খালেদা জিয়া জেনারেলদের সঙ্গে এই সমঝোতা করেছিলেন যে তারেক রহমান আপাতত নিজেকে রাজনীতিতে জড়াবেন না।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ১৫ মাসে তারেক রহমানের সব মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য বুলেটপ্রুফ গাড়ি ও অস্ত্রের লাইসেন্সের আবেদনও সংবাদমাধ্যমে এসেছে। দৃশ্যমান কোনো আইনি বা নিরাপত্তাজনিত বাধা নেই। তবে খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটজনক হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে তারেক রহমানকে দেশে ফিরে মায়ের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জোরালো হয়। বিএনপিও জানায় মায়ের কাছে থাকার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকলেও তাঁর পক্ষে একক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।
বিএনপির কয়েকজন নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন দেশে ফিরবেন তারেক রহমান এবং তিনিই নেতৃত্ব দেবেন নির্বাচনি প্রচারে। তবে বিএনপি বলছে রাজনৈতিক বাস্তবতার কিছু সংবেদনশীল বিষয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে সরকার বলছে তাদের কোনো বাধা নেই। ফলে দেশজুড়ে জোরালো হয়ে উঠেছে একটাই প্রশ্ন তারেক রহমানের দেশে ফেরা আসলে কোন শক্তির নিয়ন্ত্রণে এবং কবে কাটবে এই অনিশ্চয়তা।
ক্ষমতায় গেলে জনগণকে আর দাবি নিয়ে দপ্তরে ঘুরতে হবে না: জামায়াত আমির
ক্ষমতায় গেলে আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না এবং সরকার নিজেই জনগণের দোরগোড়ায় সেবা নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার ৩০ নভেম্বর দুপুরে প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাভাবিক প্রসব সেবা প্রদানে কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডারদের ভূমিকা শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এই প্রতিশ্রুতির কথা জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন আগের সরকারগুলো শুধু আশ্বাস দিয়েছে কিন্তু জামায়াত আশ্বাস নয় বরং কাজের মাধ্যমে তা দেখাতে চায়। তিনি একই ভাষায় কথা বলা একটি জাতি হিসেবে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। দেশের মানুষ ভালো হলেও খারাপ রাজনীতিবিদদের জন্য উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন তাঁরা মূল সমস্যাগুলোকে ধরেই পরিবর্তন আনতে চান।
শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ করে তিনি বলেন দেশে এখনো মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাঁর মতে শিশুর পড়ালেখার বিষয়টি মা বাবা নয় বরং শিক্ষকই ঠিক করে দেবেন। দলের লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন প্রতিটি শিশুকে দক্ষভাবে গড়ে তোলা হবে যাতে তারা ভবিষ্যতে বোঝা না হয়ে সম্পদ হয়ে ওঠে।
বর্তমান বিচারব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন এখন ন্যায়বিচার পেতে টাকা লাগে এবং এই বাস্তবতা বদলাতে হবে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে জনগণকে আর কোনো দাবি নিয়ে দপ্তরে ঘুরতে হবে না এবং কোনো আন্দোলনও করতে হবে না। সরকার নিজ দায়িত্বে সেবা মানুষের বাড়িতেই পৌঁছে দেবে বলে তিনি অঙ্গীকার করেন। এছাড়া সরকারে না গেলেও জনকল্যাণের অংশ হিসেবে জামায়াতের পক্ষ থেকে ১০০টি ক্লিনিকে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ডা. জাহিদের সর্বশেষ বার্তা
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন খালেদা জিয়ার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি জানান গত তিন দিন ধরে তাঁর যে চিকিৎসা চলছে তিনি সেই চিকিৎসা নিতে পারছেন যা চিকিৎসকদের মতে একটি ভালোর লক্ষণ। শনিবার ২৯ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহিদ হোসেন ব্যাখ্যা করে বলেন গত তিন দিন ধরে তাঁর অবস্থা একই পর্যায়ে আছে অর্থাৎ তিনি চিকিৎসকদের দেওয়া চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন। তিনি মন্তব্য করেন চিকিৎসা করা চিকিৎসকদের দায়িত্ব আর সুস্থ করা আল্লাহর হাতে তাই সবাই আল্লাহর কাছে উনার সুস্থতার জন্য দোয়া করেন।
খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে ডা. জাহিদ স্পষ্ট করেন যে বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থায় বিদেশে নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি জানান ইংল্যান্ড সৌদি আরব চীন সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের চিকিৎসকদের যৌথ পরামর্শে তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং আন্তর্জাতিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সব ধরনের সেবা তিনি দেশেই পাচ্ছেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে খালেদা জিয়া আরেকটু সুস্থ হলে এবং মেডিকেল বোর্ড সম্মতি দিলে বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি জানানো হবে।
খালেদা জিয়ার জন্য উদ্বিগ্ন বহু মানুষ এভারকেয়ারে ভিড় করছেন। এ বিষয়ে ডা. জাহিদ অনুরোধ জানিয়ে বলেন এই হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়া ছাড়াও তিন শতাধিক রোগী ভর্তি আছেন। হাসপাতালে চিকিৎসক নার্স ও রোগীদের আসা যাওয়া করতে হয় তাই ভিড় করলে অন্যদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হবে। তিনি নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের হাসপাতাল এলাকায় না এসে নিজ নিজ অবস্থান থেকেই দোয়া করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও জানান গত ২৭ তারিখ থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে সার্বক্ষণিকভাবে যুক্ত আছেন তাঁর ছেলে তারেক রহমান। এছাড়া মেডিকেল বোর্ড ও বিদেশি চিকিৎসকদের সাথে যোগাযোগের বিষয়টি তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান দেখভাল করছেন এবং হাসপাতালে পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত রয়েছেন।
বরিশাল ৪: ধানের শীষের রাজীব নাকি জামায়াতের জব্বার কার পাল্লা ভারী
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল ৪ আসনটি এখন রাজনৈতিক উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের শাসনামল ও প্রভাবশালী নেতা পঙ্কজ দেবনাথের বিদায়ের পর এই আসনে সৃষ্টি হওয়া রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াত। এখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাজীব আহসান এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রভাবশালী নেতা মাওলানা আবদুর জব্বারের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
রাজীব আহসানের রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশল
মাঠের রাজনীতিতে রাজীব আহসান এক পরিচিত নাম। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই তরুণ নেতা বিএনপির হাইকমান্ডের অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন রাজীব আহসানের তারুণ্যদীপ্ত নেতৃত্ব এবং বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা সাধারণ ভোটারদের বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ভোট টানতে বড় ভূমিকা রাখবে। বিএনপির বিশাল ভোটব্যাংক এবং কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে এলাকার উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন।
মাওলানা আবদুর জব্বারের সাংগঠনিক শক্তি ও প্রভাব
অন্যদিকে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আবদুর জব্বারও ছেড়ে কথা বলছেন না। হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জের চরাঞ্চল এবং ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে তাঁর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও জামায়াতের সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক শক্তি তাঁর বড় পুঁজি। মাওলানা জব্বার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন যা তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। জামায়াতের নেতাকর্মীরা মনে করছেন বিগত দিনে তাঁরা যে জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তার প্রতি সহানুভূতি এবং মাওলানা জব্বারের ক্লিন ইমেজ কাজে লাগিয়ে তাঁরা ধানের শীষকে বড় চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম হবেন।
ভৌগোলিক গুরুত্ব ও ভোটের সমীকরণ
বরিশাল ৪ আসনটি মূলত নদীবেষ্টিত এবং চরাঞ্চল অধ্যুষিত এলাকা। মেঘনার ভাঙন কবলিত এই জনপদের মানুষের প্রধান দাবি নদী রক্ষা ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ। রাজীব আহসান এবং মাওলানা আবদুর জব্বার উভয়ই এই বিষয়টিকে তাঁদের প্রচারণার প্রধান হাতিয়ার করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন এই আসনে লড়াইটা হবে মূলত বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংক বনাম জামায়াতের ক্যাডারভিত্তিক শৃঙ্খলার মধ্যে। আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় নৌকার সমর্থক ও সাধারণ ভোটাররা কোন দিকে ঝুঁকবেন তা এই দুই নেতার ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
ত্রিমুখী নাকি দ্বিমুখী লড়াই
যদিও অন্য ছোট দলগুলোর প্রার্থী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে তবে হিজলা মেহেন্দীগঞ্জের সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন মূল লড়াইটা হবে দ্বিমুখী। একদিকে রাজীব আহসানের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের শক্তি অন্যদিকে মাওলানা আবদুর জব্বারের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক অবস্থান। ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে বরিশাল ৪ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের এই দ্বৈরথ ততই জমে উঠছে এবং কে শেষ হাসি হাসবেন তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
বিমানে ওঠার মতো শারীরিক অবস্থায় নেই খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন দেশের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি বর্তমানে বিদেশে নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। তিনি বলেন আল্লাহর অশেষ রহমতে শারীরিক অবস্থা যদি স্টেবল বা স্থিতিশীল হয় তখন চিন্তা করে দেখা হবে যে তাঁকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব হবে কি না। শনিবার বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল জানান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় এভারকেয়ার হাসপাতালে আছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা কিছুটা সংকটাপন্ন। দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসকদের পাশাপাশি আমেরিকার জন হপকিন্স ও লন্ডন ক্লিনিকের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম তদারকি করছেন। তিনি উল্লেখ করেন শুক্রবার রাতে চিকিৎসকরা প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে একটি মেডিকেল বোর্ড সভা করেছেন। সেখানে সমস্ত চিকিৎসকের মতামত নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং চিকিৎসার ধরন ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তাঁরা মতামত দিয়েছেন।
খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন চিকিৎসকরা বলছেন যে তাঁকে বিদেশে নেওয়া হয়তো প্রয়োজন হতে পারে কিন্তু তাঁর এখন যে শারীরিক অবস্থা তাতে তাঁকে বিদেশে নেওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন যে বিদেশে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যেমন ভিসা এবং সম্ভাব্য গন্তব্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়গুলো নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে এবং কাজ এগিয়ে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ যদি প্রয়োজন হয় এবং দেখা যায় যে সি ইজ রেডি টু ফ্লাই তখন তাঁকে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।
এর আগে শুক্রবার মির্জা ফখরুল জানিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটময়। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস। ৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি লিভার ফুসফুস এবং চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। গত রোববার রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এবং পরীক্ষায় বুকে সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাঁকে ভর্তি করা হয়।
পাঠকের মতামত:
- কেমন হলো বিপিএলের ৬ দলের স্কোয়াড, শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে কারা
- সোমবার যেসব এলাকায় টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না
- সচিবালয় স্টেশনে নিরাপত্তার ফাঁক গলে মেট্রোর ছাদে উঠে পড়ল দুই কিশোর
- খালেদা জিয়ার আপসহীনতা নিয়ে মুগ্ধতার কথা জানালেন শিবির সভাপতি
- ৩৬০ আউলিয়ার দেশ সিলেটে ইসলামের পতাকা ওড়ার নেপথ্য কাহিনী
- অক্টোবরকে ছাড়িয়ে নভেম্বরে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় জোয়ার
- সম্মান অটুট রেখে অবশেষে দল পেলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম
- ১৬ বছর পর বিডিআর বিদ্রোহের নেপথ্য নায়কদের নাম জানাল জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন
- দামী ক্রিম নয় বরং হাতের কাছের অ্যালোভেরা দিয়েই ব্রণ কমানোর সহজ উপায়
- নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে করতে ইসির নতুন কৌশল
- বরিশাল-৫: ধানের শীষের সরোয়ার নাকি জামায়াতের হেলাল কার পাল্লা ভারী
- রক্ত পরীক্ষা ছাড়াই ঘরে বসে কিডনির সুস্থতা যাচাইয়ের সহজ উপায়
- নব্য ফ্যাসিবাদের জন্ম দিলে প্রতিরোধ: জামায়াতের কঠোর হুঁশিয়ারি
- কোটি টাকার ছড়াছড়ির দিনে দলহীন মুশফিক রিয়াদ
- আওয়ামী লীগ ছাড়াই আগামী নির্বাচন হবে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
- ব্রাউজিং হবে আরও সহজ কারণ গুগল ক্রোমে যুক্ত হলো দারুণ এক নতুন ফিচার
- বিজয় দিবসের সব আয়োজন স্থগিত করল বিএনপি
- নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর র্যাডিসনে শুরু হলো বিপিএলের মেগা নিলাম
- সরকার বলছে বাধা নেই তবু অদৃশ্য সুতোর টানে আটকে আছে তারেক রহমানের ফেরা
- ক্ষমতায় গেলে জনগণকে আর দাবি নিয়ে দপ্তরে ঘুরতে হবে না: জামায়াত আমির
- মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ট্রাভেল পাস, তারেক রহমানের দেশে ফেরার পথ খুলল সরকার
- ৩০ নভেম্বর ডিএসই লেনদেনের সারসংক্ষেপ
- ৩০ নভেম্বর ডিএসই লেনদেনে শীর্ষ লুজার তালিকা প্রকাশ
- ৩০ নভেম্বর ডিএসই লেনদেনে শীর্ষ গেইনার তালিকা প্রকাশ
- কম দামে সেরা বিদেশি: বিপিএল নিলামে চমক হতে পারেন যারা
- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সংকটাপন্ন অবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করল বিশ্ব গণমাধ্যম
- এবার টাকার ঝনঝনানি আর কৌশলের লড়াইয়ে বিপিএল নিলাম
- খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় সিলেটে এনসিপির দোয়া মাহফিল
- সাগর রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২২ বারের মতো পিছোল
- খুলনার আদালত চত্বরে ফিল্মি স্টাইলে গুলি ও কুপিয়ে জখম করার লোমহর্ষক ঘটনা
- ড্রোন হামলা ‘ইয়েলো লাইন’ ভেঙে চালাল ইসরায়েল
- খালেদা জিয়ার জন্য পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর শুভকামনা
- ঢাকায় রবিবার দোকান–মার্কেট বন্ধের পূর্ণ তালিকা
- আজ ঢাকার নামাজের সময়সূচি ও সূর্যোদয়–সূর্যাস্ত
- ভূমিকম্পের পর ঢাবিতে অনলাইন ক্লাস চালু আজ
- যে কারণে আজ সারা দেশে মোবাইল দোকান বন্ধ
- রবিবার ঢাকার রাজনৈতিক কর্মসূচির পূর্ণ তালিকা
- আজ ঢাকার আকাশ যেমন থাকবে
- আসমান থেকে নাজিল মান্না–সালওয়া: অলৌকিক খাদ্যের গল্প
- খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ডা. জাহিদের সর্বশেষ বার্তা
- টিকিট কাটার আগে জেনে নিন সেন্টমার্টিন ভ্রমণের নতুন নিয়ম ও নিষেধাজ্ঞার তালিকা
- দায়িত্ব পালনকালে বাগদানের পর এবার বিয়ে করেও ইতিহাস গড়লেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী
- বরিশাল ৪: ধানের শীষের রাজীব নাকি জামায়াতের জব্বার কার পাল্লা ভারী
- বিশ্বের সব দেশের জন্য নিবন্ধন উন্মুক্ত হওয়ার পর অ্যাপে প্রবাসীদের ব্যাপক সাড়া
- বিচ্ছেদ হলেই ঐশ্বরিয়াকে বিয়ে করতে চান পাকিস্তানি মুফতি
- পাইলট ও মাদক ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে আকাশপথ নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর বার্তা
- শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি
- বিমানে ওঠার মতো শারীরিক অবস্থায় নেই খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল
- উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে প্রস্তুত সর্বাধুনিক প্রযুক্তির বিমান
- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেশে ফেরা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের স্পষ্ট বার্তা
- মধ্যরাতে আবারও ভূমিকম্প!
- শিরোপা জয়ের রেসে আজ বাংলাদেশ নাকি পাকিস্তান কার পাল্লা ভারীে
- বাংলাদেশ–আয়ারল্যান্ড আজ মাঠে, শুরু হচ্ছে উত্তেজনার লড়াই
- মাত্র ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশের মাটি
- ওষুধ ছাড়াই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার ৫টি সহজ সকালের অভ্যাস
- ২৬ নভেম্বরের নামাজের সময়সূচি
- ২৭ নভেম্বর আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- ভূমিকম্পে ঢাকার কোন এলাকাগুলো তুলনামূলক নিরাপদ তা জানালেন বিশেষজ্ঞরা
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কবে কার বিপক্ষে লড়বে বাংলাদেশ জেনে নিন সময়সূচি
- নয়্যারের ভুলে সর্বনাশ এবং বদলি খেলোয়াড়দের কাঁধে চড়ে আর্সেনালের বড় জয়
- সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে খালেদা জিয়া, দেশজুড়ে সুস্থতা কামনায় দোয়া
- আজকের রাশিফল: ২৯ নভেম্বর ২০২৫ জেনে নিন আপনার দিনটি কেমন কাটবে
- আজকের রাশিফল: ২৭ নভেম্বর ২০২৫ জেনে নিন আপনার দিনটি কেমন কাটবে
- চট্টগ্রাম ৪ আসনে বিএনপির অভিজ্ঞতা নাকি জামায়াতের কৌশল কার পাল্লা ভারী
- রেকর্ড ডে সামনে রেখে পদ্মা অয়েলের স্বচ্ছ লেনদেন নির্দেশনা








