গাজা উপত্যকায় রাতভর তাণ্ডব

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৯ ১০:৪৯:১০
গাজা উপত্যকায় রাতভর তাণ্ডব
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক হামলা ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৬১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৯ জন ছিলেন সাধারণ মানুষ, যারা মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। এই ঘটনাটি শুধু সামরিক আক্রমণের সীমারেখায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং মানবিক বিপর্যয়ের এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে।

গাজা সিটির পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান ও আর্টিলারি হামলা আরও তীব্র হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। পাশাপাশি উপত্যকার বৃহত্তম নগরী গাজা সিটিতে পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। আন্তর্জাতিক মহল থেকে অভিযানের ঝুঁকি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হলেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সেই সতর্কতাকে উপেক্ষা করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অভিযানের ফলে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে এবং শহরে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১০ লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আবারও ঘরবাড়ি হারিয়ে মরিয়া হয়ে পালাতে বাধ্য হবেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের পরিকল্পিত সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, গাজা সিটিতে বৃহৎ পরিসরের সামরিক অভিযান যুদ্ধকে নতুন এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক এক ধাপে নিয়ে যাবে। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপে ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত লক্ষ লক্ষ বেসামরিক মানুষ আবারও বাস্তুচ্যুত হবেন, যা পরিবার ও শিশুদের আরও ভয়াবহ বিপদের দিকে ঠেলে দেবে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শুজাইয়া, জেইতুন এবং সাবরা এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী বোমা বর্ষণ শুরু করলে মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে শুরু করে। বেশিরভাগ পরিবারই উপকূলের দিকে ছুটে যায় জীবন রক্ষার জন্য। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ইসরায়েলি স্থল অভিযানের সময় শুধু জেইতুনের দক্ষিণাংশেই অন্তত ১৫০০ বাড়িঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সেখানে এখন আর কোনো স্থাপনা অবশিষ্ট নেই, চারপাশজুড়ে শুধু ধ্বংসস্তূপ পড়ে আছে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা গাজা সিটিকে হামাসের শেষ শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের দাবি, এ অঞ্চলেই হামাসের সামরিক কমান্ড কাঠামো এবং লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মূল সক্ষমতা টিকে আছে। তাই অভিযানের মাধ্যমে তারা প্রতিরোধ কেন্দ্র ধ্বংস করতে চায়। তবে বাস্তবে এর প্রধান শিকার হচ্ছেন সাধারণ বেসামরিক মানুষ, যারা প্রতিদিন বোমা হামলা, অবরোধ ও বাস্তুচ্যুতির ভয়াবহতায় জীবন রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।


কেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানকে আক্রমণ করছে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ২২:১৭:০৩
কেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানকে আক্রমণ করছে?
ছবি: আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক স্থানে সামরিক হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানোকে “বড় ধরনের যুদ্ধ কার্যক্রম” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের চলমান আলোচনার মধ্যেই এই হামলা হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহ ধরে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন। উল্লেখ্য, আট মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের একটি যুদ্ধ পরিচালনা করেছিল।

ইরানে কী ঘটেছে?

ইরানের ফারস বার্তা সংস্থা স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৯টা ২৭ মিনিটে (০৬:২৭ জিএমটি) তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের খবর জানায়। পশ্চিম তেহরানে অবস্থানরত আল জাজিরার প্রতিবেদক অন্তত দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।

ইসরাইল প্রথম ঘোষণা দেয় যে তারা ইরানের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পরবর্তীতে এক মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানান, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান ও রণতরী মোতায়েন করেছে, যা ইরাক যুদ্ধের পর এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পরে জানায়, অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে “অপারেশন এপিক ফিউরি”।

ইরানের কোথায় কোথায় হামলা হয়েছে?

ফারসের প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট, জোমহুরি এলাকা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সদর দপ্তরের নিকটে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানায়, একটি হামলা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কার্যালয়ের কাছাকাছি হয়েছে। তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানায়, তেহরানের সাইয়্যেদ খন্দান এলাকাতেও বিস্ফোরণ ঘটেছে।

এ ছাড়া কেরমানশাহ, কোম, তাবরিজ, ইসফাহান, ইলাম, কারাজ এবং লোরেস্তান প্রদেশেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

ট্রাম্প কী বলেছেন?

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই অভিযান “ব্যাপক ও চলমান” এবং এর লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করবে।

তার বক্তব্যের মূল দিকগুলো হলো:

ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে।

লক্ষ্য, ইরানের কথিত আসন্ন হুমকি নির্মূল করা।

ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা।

ইরানের নৌ সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া।

ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত করা।

ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।

ট্রাম্প ইরানের সেনাসদস্যদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, তারা অস্ত্র সমর্পণ করলে সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হতে পারে; অন্যথায় “নিশ্চিত মৃত্যুর” মুখোমুখি হতে হবে। তিনি স্বীকার করেন, মার্কিন বাহিনীর হতাহতের আশঙ্কাও রয়েছে। রয়টার্স জানায়, এটি বহুদিনব্যাপী সামরিক অভিযান হতে পারে।

ওয়াশিংটনে আল জাজিরার প্রতিবেদক অ্যালান ফিশার বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। তিনি ১৯৫৩ সালে সিআইএ-সমর্থিত অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এবার তা গোপনে নয়, সরাসরি সামরিক শক্তি দিয়ে করা হচ্ছে।

হামলার যৌক্তিকতা কী?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তবে ইরান বারবার বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং তারা পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনো পরিকল্পনা করছে না। ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র দেশ যার কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়।

গত বছর জুনে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় এবং কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার নিহত হন। সাম্প্রতিক উত্তেজনা বেড়ে যায় যখন ওমানি মধ্যস্থতায় জেনেভায় আলোচনায় অগ্রগতির ঘোষণা আসে। সেখানে ইরান শূন্য ইউরেনিয়াম মজুত এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার পূর্ণ যাচাইয়ে সম্মত হয়েছে বলে জানা যায়।

ইরানের প্রতিক্রিয়া

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইরান প্রথমে উত্তর ইসরাইল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। দেশটির বিভিন্ন স্থানে সাইরেন বেজে ওঠে এবং বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।

এরপর ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-সম্পৃক্ত একাধিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার মধ্যে রয়েছে কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটি, কুয়েতের আল সালেম, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা এবং বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর। সৌদি আরবের রিয়াদ ও জর্ডানেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন এক পথে পা দিয়েছে যার পরিণতি তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।

ইসরাইলের অবস্থান

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, সামরিক অভিযান “যতদিন প্রয়োজন ততদিন চলবে”। ইসরাইল তাদের অভিযানের নাম দিয়েছে “লায়নের গর্জন”।

ইরানের নেতৃত্ব কোথায়?

৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি কোথায় আছেন তা স্পষ্ট নয়। রাজধানীতে বিস্ফোরণের সময় তার আবাসিক এলাকার সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান অক্ষত রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ওমান জানিয়েছে, তাদের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনা এই হামলায় বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কাতার তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে প্রতিক্রিয়ার অধিকার সংরক্ষণ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সতর্ক করেছে, এমন হামলা অব্যাহত থাকলে গুরুতর পরিণতি হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাস পরিস্থিতিকে “অত্যন্ত বিপজ্জনক” বলে মন্তব্য করেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর গুরুতর প্রভাবের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। রাশিয়ার দিমিত্রি মেদভেদেভ ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেন, আলোচনা ছিল কেবল আড়াল। যুক্তরাজ্য ও কানাডা ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে।

পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং আঞ্চলিক সংঘাত বৃহত্তর যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা


রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য: রিয়াদ-বাহরাইনের পর এবার কাঁপল দুবাই

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ২২:০৪:১৬
রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য: রিয়াদ-বাহরাইনের পর এবার কাঁপল দুবাই
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম প্রধান পর্যটন ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এখন রণক্ষেত্রের আতঙ্কে থমথমে। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে দুবাইয়ের বিখ্যাত কৃত্রিম দ্বীপ ‘পাম আইল্যান্ড’ এলাকায় বিকট শব্দে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, জোরালো শব্দের পরপরই পাম আইল্যান্ড এলাকা থেকে আগুনের লেলিহান শিখা এবং বিশালাকার কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও প্রতিবেদনে এই ভয়াবহতার চিত্র ফুটে উঠেছে, যা মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

এখন পর্যন্ত দুবাই পুলিশ বা আমিরাত কর্তৃপক্ষ সরকারিভাবে কোনো বিবৃতি না দিলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র দাবি করেছে, এটি ইরানের পক্ষ থেকে চালানো একটি পরিকল্পিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। একই সময়ে বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি, কুয়েত, কাতার এবং সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আগ্রাসনের প্রতিবাদে ইরান একযোগে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ও মিত্র দেশগুলোর স্থাপনায় এই ‘মরণকামড়’ দিয়েছে। পাম আইল্যান্ডে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে, ইরান তাদের পাল্টা হামলার অংশ হিসেবে ইসরায়েলে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে মারছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে ক্রমাগত হামলার ভয়ে এবং জীবন রক্ষার্থে সাধারণ নাগরিকদের বাংকারে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। দুবাইয়ের মতো নিরাপদ শহরে এই ধরণের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারেও পড়তে শুরু করেছে।

/আশিক


ইরানের স্কুলে ইসরায়েলি মিসাইল: নিষ্পাপ শিশুদের রক্তে লাল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৯:০৫:৪২
ইরানের স্কুলে ইসরায়েলি মিসাইল: নিষ্পাপ শিশুদের রক্তে লাল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে এক হৃদয়বিদারক ও পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হরমুজাগানের মিনাব সিটিতে একটি প্রাক-প্রাথমিক মহিলা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে অন্তত ৫১ জন স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার সময় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শুরুতে পাঁচজন এবং পরে ২৪ জন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৫১-তে দাঁড়িয়েছে। কোমলমতি শিশুদের এই গণমৃত্যু পুরো ইরানজুড়ে শোকের ছায়া এবং সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

এই নারকীয় হামলার পরপরই ইরান তার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে পাল্টা আঘাত শুরু করেছে। দেশটির সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইসরায়েল এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে শত শত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ছে। ইরানের দাবি, তাদের এই প্রতিশোধমূলক হামলা ‘শত্রু’র আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তেহরান থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইতিমধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোতেও আঘাত হানতে শুরু করেছে, যা এই সংঘাতকে একটি অনিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ইতোমধ্যে ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় আরব আমিরাতে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মিনাব সিটির স্কুলে শিশুদের ওপর এই হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে ইরান সরকার। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বেসামরিক স্থাপনা ও শিশুদের ওপর এ ধরণের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে তারা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই আঘাত হানার পরিকল্পনা করেছিল। তবে মিনাব সিটির এই নিথর শিশুদের সারি পুরো বিশ্বের সামনে যুদ্ধের এক বীভৎস রূপ ফুটিয়ে তুলেছে।

সূত্র: আলজাজিরা।


ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে লণ্ডভণ্ড বিশ্ব বিমান চলাচল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৮:৫১:৩২
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে লণ্ডভণ্ড বিশ্ব বিমান চলাচল
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার পর থেকে বিশ্বজুড়ে আকাশপথে এক নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও মহাবিপর্যয় নেমে এসেছে। শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে তেহরানসহ ইরানের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা এখন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। এর ফলে এয়ার ফ্রান্স, লুফথানসা, কাতার এয়ারওয়েজ এবং টার্কিশ এয়ারলাইনসসহ বিশ্বের অন্তত ১২টি শীর্ষস্থানীয় এয়ারলাইনস তাদের নিয়মিত ফ্লাইটগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো এবং জাপান এয়ারলাইনসের মতো বড় সংস্থাগুলোও রয়েছে। যুদ্ধের এই আকস্মিক বিস্তারে বিশ্বের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে হাজার হাজার যাত্রী এখন দিশেহারা হয়ে আটকা পড়ে আছেন।

এয়ারলাইনসগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের টিকিটের টাকা রিফান্ড বা বিকল্প ফ্লাইটের প্রস্তাব দেওয়া হলেও আকাশপথ বন্ধ থাকায় অনিশ্চয়তা কাটছে না। ইন্ডিগো ও লট এয়ারলাইনস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী বা ওই অঞ্চলের আকাশসীমা ব্যবহারকারী কোনো ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে কাতার এয়ারওয়েজ তাদের সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করায় দোহার মতো ব্যস্ত বিমানবন্দরে ট্রানজিট যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

উল্লেখ্য যে, তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে শনিবার সকালে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের রাজধানীসহ প্রধান পাঁচটি শহরে ‘প্রতিরোধমূলক’ হামলা চালায়। জবাবে ইরানও দমে না থেকে ইসরায়েল এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। দুই পক্ষের এই রণাঙ্গনের মাঝখানে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন সাধারণ উড়োজাহাজের জন্য এক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। লট এয়ারলাইনস ও ভার্জিন আটলান্টিকের মতো সংস্থাগুলো তাদের যাত্রীদের বিমানবন্দরে আসার আগেই ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছে। এই অচলাবস্থা কতদিন স্থায়ী হবে, তা এখন সম্পূর্ণ নির্ভর করছে যুদ্ধের মোড় কোন দিকে ঘোরে তার ওপর।

/আশিক


ইসরায়েল-আমিরাতের পর এবার সৌদিতে বিস্ফোরণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৭:২৬:২০
ইসরায়েল-আমিরাতের পর এবার সৌদিতে বিস্ফোরণ
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আর কেবল ইসরায়েল-ইরানে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এক বিধ্বংসী আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বাহরাইন, কুয়েত ও আরব আমিরাতের পর এবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার জবাবে ইরান প্রথম দফার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করার পর থেকেই পুরো আরব অঞ্চলের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। তেহরানের দাবি, তাদের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইতিমধ্যে উত্তর ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ ভেদ করে সরাসরি আঘাত হেনেছে, যার ফলে সেখানে বিকট বিস্ফোরণ ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপের দিকে মোড় নিয়েছে বাহরাইনে। দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম নৌবহরের সদর দপ্তর সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। হামলার আগে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এছাড়া দুবাই, আবুধাবি ও কুয়েতেও দফায় দফায় বিস্ফোরণের খবর আসছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সাফ জানিয়েছে, ‘শত্রু’র আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতেই তারা এই অপারেশন শুরু করেছে। অন্যদিকে, কাতার তাদের আকাশসীমায় অন্তত একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে।

এর আগে শনিবার সকালে তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জোমহুরি এলাকাসহ কেরমানশাহ, তাবরিজ ও ইসফাহানের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ একে ‘পূর্বনির্ধারিত হামলা’ বলে অভিহিত করে দাবি করেন যে, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা তেহরানে বোমা বর্ষণ শুরু করেছে। কিন্তু ইরানের পাল্টা মরণকামড়ে এখন সৌদি আরব ও আমিরাতের মতো দেশগুলোও রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে এখন কেবল ক্ষেপণাস্ত্র আর যুদ্ধবিমানের গর্জন শোনা যাচ্ছে, যা এক মহাপ্রলয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা


ইরানে যুদ্ধের মধ্যেই বিদ্রোহের উস্কানি দিলেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৭:১৯:১৩
ইরানে যুদ্ধের মধ্যেই বিদ্রোহের উস্কানি দিলেন ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের মাটিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলা শুরু হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় এক অভাবনীয় ও বিস্ফোরক ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় তিনি সরাসরি ইরানের সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বর্তমান ধর্মীয় নেতৃত্ব বা শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করার জন্য। ট্রাম্প অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, “যখন আমরা আমাদের হামলা শেষ করব, আপনারা নিজেদের দেশের সরকার দখলে নিন। এটি আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছে। বহু প্রজন্মে সম্ভবত এটাই আপনাদের জন্য একমাত্র এবং শেষ সুযোগ।” তেহরানের রাজপথে যখন ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ছে, ঠিক তখনই হোয়াইট হাউস থেকে আসা এই বার্তাটি ইরানিদের মধ্যে গৃহযুদ্ধের উস্কানি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল সাধারণ মানুষকে ডাক দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তিনি ইরানের শক্তিশালী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরও এক ভয়াবহ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যদি অবিলম্বে অস্ত্র ফেলে না দেয়, তবে তাদের ‘নিশ্চিত মৃত্যু’র মুখোমুখি হতে হবে। তবে যারা স্বেচ্ছায় অস্ত্র সমর্পণ করবে, তাদের মুক্তি ও ক্ষমা করে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য যে, গত জানুয়ারি মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৬ হাজার ৪৮০ জন নিহত হওয়ার খবর আসার পর থেকেই ট্রাম্প ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তখন তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন যে, ‘সহায়তা পথে রয়েছে’—যার প্রতিফলন আজকের এই সরাসরি যুদ্ধ।

এদিকে, ট্রাম্পের এই বার্তায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। ইরানও চুপ করে বসে নেই; দেশটির সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রতিশোধমূলক ব্যাপক পাল্টা হামলা শুরু করেছে। ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইতোমধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোতে আঘাত হেনেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন একদিকে মার্কিন-ইসরায়েলি বোমারু বিমান আর অন্যদিকে ইরানের শত শত ব্যালিস্টিক মিসাইলে ছেয়ে গেছে। ট্রাম্পের এই ‘সরকার দখল’ করার ডাক এখন ইরানকে কোন পরিণতির দিকে নিয়ে যায়, তা নিয়ে রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।

/আশিক


নিশানা এবার খোদ আমেরিকা: বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে বড় হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৬:২৬:৪২
নিশানা এবার খোদ আমেরিকা: বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে বড় হামলা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আর কেবল ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুরে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘পঞ্চম নৌবহরের’ (US 5th Fleet) সদর দপ্তরে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত এই মার্কিন ঘাঁটিতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটার পাশাপাশি আকাশজুড়ে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ‘শত্রু’র আগ্রাসনের জবাবে তারা প্রথম দফার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে।

একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোতেও চরম অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থানে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, কাতারের আকাশসীমায় ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার পর দেশটির ‘প্যাট্রিয়ট’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সেটি সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনাই এখন তাঁদের লক্ষ্যবস্তু এবং যুদ্ধের ক্ষেত্রে এখন আর কোনো ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা নেই।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) একটি বিশেষ বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, ‘বাশারাত আল-ফাতহ’ (বিজয়ের সুসংবাদ) নামক অভিযানের মাধ্যমে তাঁরা ইসরায়েলের অধিকৃত ভূখণ্ডের দিকে বড় ধরণের আক্রমণ শুরু করেছে। তেহরানের দাবি, গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতেই এই প্রতিশোধমূলক হামলা। এদিকে, আবুধাবি ও দুবাইতেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দেওয়ার দাবি করেছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধবিমান আর ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জনে প্রকম্পিত। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন ঘাঁটিতে এই সরাসরি আক্রমণ পরিস্থিতিকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

/আশিক


ইসরায়েলে আকাশ থেকে নামছে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি! সাইরেনের শব্দে কাঁপছে ইসরায়েল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৬:১৭:২২
ইসরায়েলে আকাশ থেকে নামছে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি! সাইরেনের শব্দে কাঁপছে ইসরায়েল
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার ছায়াযুদ্ধ এখন পূর্ণাঙ্গ ও সরাসরি এক ভয়াবহ যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে আল জাজিরার বরাতে জানানো হয়েছে যে, ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এসব ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার পর সারা দেশজুড়ে বিপদ সংকেত বা সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ইসরায়েলি বিমানবাহিনী বর্তমানে আকাশে এই হুমকি প্রতিহত করার কাজ করছে এবং বেশ কিছু স্থানে বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। হোম ফ্রন্ট কমান্ডের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

এর কিছু সময় আগেই ইরানজুড়ে বড় ধরনের এক অস্থিরতা তৈরি হয় যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অফিস লক্ষ্য করে জোরালো হামলা চালায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী, হামলার খবর পেয়েই আয়াতুল্লাহ খামেনি তেহরান ত্যাগ করে একটি অত্যন্ত গোপন ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তেহরানসহ এর আশপাশের এলাকাগুলোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। এই প্রথমবার কোনো হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ও সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা এই সংঘাতের মাত্রা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

নিরাপত্তা সূত্রগুলোর তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ইরানের সাথে আর কোনো কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা নেই। যদিও সম্প্রতি আলোচনার চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে কোনো সমাধান না হওয়ায় সামরিক শক্তি ব্যবহারের পথ বেছে নিয়েছে মিত্রবাহিনী। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার সব চেষ্টাই ব্যর্থ মনে হচ্ছে। যুদ্ধের তীব্রতা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দামসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরণের ধসের পূর্বাভাস দিচ্ছে বিশ্লেষকরা। পুরো বিশ্ব এখন দমবন্ধ করা উত্তেজনায় অপেক্ষা করছে—তেহরান কি আরও বড় কোনো প্রতিশোধ নেবে, নাকি এটি কেবল ধ্বংসের শুরু?

/আশিক


ইরানে বড় সামরিক হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৪:২৯:২২
ইরানে বড় সামরিক হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে একটি বৃহৎ সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তার ভাষায়, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো ইরানের কথিত ‘বিপজ্জনক সক্ষমতা’ ও আঞ্চলিক হুমকিকে নিষ্ক্রিয় করা। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত সামরিক কৌশল বা অপারেশনের পরিধি প্রকাশ করা হয়নি, তবে এটিকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে ইসরাইল তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। রাজধানী তেহরান, ইসফাহান ও আশপাশের কয়েকটি শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসস্তূপের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, যদিও এসবের স্বতন্ত্র যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।

ইরানি নাগরিকরা আতঙ্ক ও ক্ষয়ক্ষতির খবর দিচ্ছেন। বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং সরকারি অবস্থান স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত সামগ্রিক প্রভাব মূল্যায়ন কঠিন।

সংঘাতের সম্ভাব্য বিস্তারের আশঙ্কায় প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। ইরাকসহ নিকটবর্তী দেশগুলো সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করেছে বলে জানা গেছে। আঞ্চলিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন এবং বাণিজ্যিক ফ্লাইট স্থগিতের ঘটনাও সামনে আসছে।

সূত্র:আল জাজিরা

পাঠকের মতামত: