বিশেষ প্রতিবেদন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ঢাকা–১ এ হাইভোল্টেজ লড়াই: বিএনপির আশফাক বনাম জামায়াতের ব্যারিস্টার নজরুল

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকার ১ নম্বর আসন, অর্থাৎ দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলাজুড়ে এখন থেকেই টানটান উত্তেজনা। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপির লড়াইয়ের ময়দান হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক এবং জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের মধ্যে। তিন দশকের বেশি সময়ের ভোটের ইতিহাস, দলীয় ঘাঁটি, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও নতুন ভোটারদের প্রবণতা মিলিয়ে ঢাকা-১ আসনটি হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতির জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
প্রার্থী হিসেবে কে কতটা শক্তিশালী
ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ইতোমধ্যে সুপরিচিত একটি নাম। নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সরাসরি কাজ করেছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন, যদিও পরে আইনি জটিলতায় তার প্রার্থিতা স্থগিত হয়। ২০১৬ সালে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২২ সালে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি সাংগঠনিকভাবে আরও শক্ত অবস্থানে আসেন।
দলের দুঃসময়, মামলা, গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়নের সময় তিনি মাঠে থেকে সংগঠন ধরে রেখেছেন বলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মন্তব্য। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ ইশতিয়াক আনুষ্ঠানিকভাবে আশফাককে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “আশফাক বিএনপির দুর্দিনের এক সাহসী কর্মী। আমি আশাবাদী, সে নির্বাচিত হয়ে দোহার–নবাবগঞ্জকে দেশের মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবে।” দলের ভেতরে ও বাইরে এমন প্রশংসা আশফাককে বিএনপির সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছে।
অন্যদিকে জামায়াত সমর্থিত ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম মূলত শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত কৃতিত্ব ও ব্যক্তি ইমেজের কারণে দ্রুত আলোচনায় উঠে এসেছেন। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের বাঘহাটি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া নজরুল ইসলামের ছাত্রজীবন থেকেই ছিল আলাদা উজ্জ্বলতা। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে আইন বিষয়ে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে স্বর্ণপদক পান।
এরপর সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া থেকে কামিল, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আরেকটি এলএলবি, সিটি ইউনিভার্সিটি লন্ডন থেকে লিগ্যাল প্রফেশনে পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা এবং বিশ্বখ্যাত মিডল টেম্পল থেকে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি (বার-অ্যাট-ল) অর্জন করে তিনি নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের আইনজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ছাত্রজীবনে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয়সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র হিসেবেদায়িত্বপালন করেন। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনেই তিনি প্রথমবারের মতো ঢাকা-১ আসনে সরাসরি সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন এবং ইতিমধ্যেই স্থানীয় শিক্ষিত তরুণ ও ধর্মপ্রাণ মানুষের চোখে একজন সৎ, যোগ্য ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
ঢাকা-১: ভোটার প্রোফাইল ও দীর্ঘ তিন দশকের নির্বাচনী হিসাব
দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১ আসনটি মূলত গ্রামীণ ও মফস্বল অধ্যুষিত এলাকা। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ৪৪০,২৮৬ জন। ভোটার তালিকা হালনাগাদের পর এবার এই সংখ্যা প্রায় পাঁচ লক্ষেরকাছাকাছি পৌঁছেছে বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা। কৃষক, ব্যবসায়ী, প্রবাসী পরিবারের সদস্য, চাকরিজীবী এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষিত যুবক-যুবতী এই আসনের ভোটার কাঠামোর বড় অংশ।
নির্বাচনীইতিহাসেদেখা যায়, স্বাধীনতা-উত্তর প্রথম নির্বাচন ১৯৭৩ সালে এই আসনে জয় পেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। কিন্তু ১৯৭৯ সালথেকেইএইআসনেবিএনপির প্রভাব বাড়তে শুরু করে; খন্দকার দেলোয়ার হোসেন তখন থেকে এ আসনকে বিএনপি ঘাঁটি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৯১ সালেরপঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নজমুল হুদা ৬০.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী পান ৩৪.৪ শতাংশ ভোট। ১৯৯৬ সালের জুন পুনর্নির্বাচন ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয়নির্বাচনেতিনিপরপরদুইবার নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোট পান, আর আওয়ামীলীগপ্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ছিল ২৯ শতাংশের নিচে। ২০০১ সালে টানটান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নজমুল হুদা ৫১.৪ শতাংশ ভোট পেয়ে মাত্র ২,৭৭১ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শিল্পপতি সালমান এফ রহমানকে হারান এবং পরবর্তীতে যোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বও পান।
তবে ২০০৮ সালের নবম জাতীয়নির্বাচনে রাজনৈতিক পালাবদলের ঢেউ ঢেউ আঘাত হানে এই আসনেও। আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান ৫৪.৯ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর বিএনপির প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান পান ৪২.৮ শতাংশ ভোট। ওই নির্বাচনে প্রায় ৮৯ শতাংশ ভোটার উপস্থিত ছিলেন, যা অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ ভোটার অংশগ্রহণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
২০১৪ সালের দশম জাতীয় নির্বাচনেবিএনপি অংশ না নেওয়ায় এক অদ্ভুত সমীকরণ তৈরি হয়। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েও আবদুল মান্নান খান অল্প ব্যবধানে পরাজিতহন। জাতীয় পার্টির সালমা ইসলাম ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, আর মান্নান খান পান ৪৮ শতাংশ ভোট। সরকারি হিসাব অনুযায়ী সেই নির্বাচনেভোটারউপস্থিতিছিলমাত্র ২৬.৯ শতাংশ, যদিও বাস্তবে উপস্থিতি তার থেকেও কম ছিল বলে তখনই আলোচনা তৈরি হয়।
২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সালমান এফ রহমান প্রথমবারের মতো ঢাকা-১ আসনে সাংসদ নির্বাচিত হন। বিএনপি প্রার্থী হিসেবেখন্দকারআবু আশফাক মনোনয়নপত্র জমা দিলেও নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে তার পদত্যাগ স্বীকৃতি না পেয়ে আইনি জটিলতায় প্রার্থিতাবাতিলহয়। ফলে ব্যালটে বিএনপি বা বিএনপি–জোটের কোনো প্রার্থী ছিল না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কেবল সালমা ইসলাম অংশ নেন। সরকারি হিসাবে ওই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৮০ শতাংশের বেশি দেখানো হয়। এতে সালমান এফরহমানপ্রায় ৩,০২,৯৯৩ ভোট অর্থাৎ প্রায় ৮৫.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, আর সালমা ইসলাম পান ৩৭,৭৬৩ ভোট, যা প্রায় ১০.৭ শতাংশ।
এই দীর্ঘ ইতিহাসের আলোকে দেখা যায়, ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বিএনপি এ আসনে জয় পায়, ২০০৮ ও ২০১৮ সালে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ, আর ২০১৪ সালে জয় পায় জাতীয় পার্টি। সেই তুলনায় ২০২৬ সালের নির্বাচন আবারও বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের এক পরীক্ষামূলক ময়দান হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সাংগঠনিক ভিত্তি ও প্রভাব: মাঠে কার কতটা প্রস্তুতি
খন্দকার আবু আশফাক দীর্ঘদিনের সংগঠক হওয়ায় তৃণমূলের সঙ্গে তার যোগাযোগ অনেক পুরনো ও বিস্তৃত। ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে থেকে তিনি দোহার ও নবাবগঞ্জ মিলে অন্তত ১০টি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ইউনিটের সঙ্গে প্রতিনিয়ত কাজ করছেন। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে তার প্রভাব সুস্পষ্ট। সাম্প্রতিক সময়ে দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের ঝুনকি গ্রামে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে আশফাককে প্রধান অতিথি হিসেবে দেখতে বিপুল জনসমাগম হয়। ওই বৈঠকে তিনি বলেন, “দোহার–নবাবগঞ্জবাসী অনেকদিন ধরে অবহেলিত। এই দেশ, এই আসন, এই জনগণ বিএনপির। ইনশাআল্লাহ, জনগণের ভোটেই পরিবর্তন আসবে।” বক্তৃতা শেষে উপস্থিত মানুষ ও কর্মীরা করতালি আর ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান এবং বিএনপির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেন।
তবে সবকিছু এতটা মসৃণও ছিল না। স্থানীয় সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ভাষ্যে, দোহার উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেআগেঅভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা দিয়েছিল। আশফাকের নেতৃত্বে এক পক্ষ এবং আরেক সাবেক নেতার নেতৃত্বে অন্য পক্ষের মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়। ২০২২ সালে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি ঐক্য গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেন এবং এখন আন্দোলন ও নির্বাচনে পুরো জেলা কমিটিকে একটি মডেল হিসেবে দাঁড় করানোর কথা বলে আসছেন। কেন্দ্রীয় আন্দোলন কর্মসূচিতেসক্রিয়থাকার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তার নেতৃত্বে কর্মীরা নতুন করে উদ্দীপ্ত হয়েছে বলে ধারণা দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম সাংগঠনিক রাজনীতিতে তুলনামূলক নতুন মুখ হলেও জামায়াতের পুরোনো ও মৌলিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে তিনি নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছেন। ছাত্রশিবিরে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পালন ও প্রবাসে জামায়াতের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে একজন কার্যকর সংগঠক হিসেবে গড়ে তুলেছে।
এলাকায় উপস্থিতি জোরদার করতে তিনি স্কুল–কলেজ, হাট–বাজার, মসজিদ–মাদরাসা থেকে পাড়া–মহল্লায় ধারাবাহিক গণসংযোগ চালাচ্ছেন। দোহার উপজেলার নয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাজারে তার সাম্প্রতিক প্রচারণায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। এক সহকারী শিক্ষক মন্তব্য করেছেন, “ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম একজন শিক্ষানুরাগী মানুষ। তার কথা শুনে মনে হয়েছে তিনি সত্যিই শিক্ষা ও উন্নয়নের পক্ষে কথা বলেন।” সাধারণ ভোটারদের কেউ কেউ বলেছেন, “এত বড় শিক্ষিত মানুষ হয়েও যেভাবে আমাদের সঙ্গে সহজভাবে কথা বলছেন, এটা আমাদের ভালো লেগেছে।”
সাম্প্রতিক এক মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় শত শত মোটরসাইকেল ও সমর্থকের অংশগ্রহণ এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ শোভাযাত্রায় ব্যারিস্টার নজরুল একটি ছাদখোলা গাড়িতে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, “জনগণই আমার শক্তি। তারা চাইলে পরিবর্তনের পথ তৈরি হবে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় গ্রহণ করতে চাই।” এই ধরনের বার্তা এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ ক্যাম্পেইন তার জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়িয়ে তুলছে। জামায়াতের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আমির ও শীর্ষ নেতারা তার প্রচারে সক্রিয় হওয়ায় মাঠপর্যায়ে একটি সুসংগঠিত প্রচারণা গড়ে উঠছে।
দোহার বনাম নবাবগঞ্জ: কার ঘাঁটি কোথায় দৃঢ়
ঢাকা-১ আসনের ভোটসমীকরণ বোঝার ক্ষেত্রে দোহার ও নবাবগঞ্জ দুই অংশকে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি। ঐতিহাসিকভাবে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। নজমুল হুদার রাজনীতির কেন্দ্রও ছিল এই অঞ্চল। খন্দকার আবু আশফাক নিজেও নবাবগঞ্জের বাসিন্দা এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ায় নবাবগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও সংগঠন উভয়ই শক্তিশালী। কলাকোপা, কৈলাইল, বান্দুরা, বারুয়াখালীসহ একাধিক ইউনিয়নে বিএনপির দীর্ঘদিনের কর্মী-সমর্থকেরা তার পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। আশফাক নিজের বাড়ির আঙিনায় পর্যন্ত দলীয় সভা ও সম্মেলন করেছেন, যা তার স্থানীয় ভিত্তি কতটা গভীরে তা নির্দেশ করে।
কিন্তু সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে এই তথ্য যে জামায়াতের প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের বাড়িও নবাবগঞ্জের কলাকোপা ইউনিয়নে। অর্থাৎ দুই প্রতিদ্বন্দ্বীই একই অঞ্চলের সন্তান। নবাবগঞ্জের বহু পরিবারেই ইসলামী আদর্শের প্রতি ঝোঁক আছে বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মত, যা অতীতে প্রায়শই বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে গিয়েছে। এবার জামায়াতের নিজস্ব প্রার্থী থাকায় সেই ভোটের একটি অংশ নজরুল ইসলামের দিকে সরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মসজিদ-মাদরাসা ও ধর্মীয় অনুশীলনকে ঘিরে যে সামাজিক নেটওয়ার্ক তৈরি হয়, সেখানে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের নিয়মিত উপস্থিতি তাকে এক ধরনের প্রাকৃতিক সুবিধা দিচ্ছে।
দোহার উপজেলায় চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এখানে ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়েরই উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংক ছিল। নজমুল হুদার সময় থেকে বিএনপি ভালো ফল করলেও পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উন্নয়নমুখী কিছু পদক্ষেপও স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। বিএনপি জেলা সভাপতি হিসেবে আশফাক দোহার অংশেও নিয়মিত দলীয় কর্মসূচি করছেন। নারিশা, সুচারপাড়া, কার্তিকপুর, মুকসুদপুর, নয়াবাড়ী, কুসুমহাটি প্রভৃতি ইউনিয়নে উঠান বৈঠক ও কর্মীসভা করে তিনি দলের সংগঠনকে সক্রিয় রাখার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে প্রবাসী বিএনপি সমর্থক ও স্থানীয় সিনিয়র নেতাদের একযোগে মাঠে দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
দোহার অংশে জামায়াত ঐতিহ্যগতভাবে নিজস্ব প্রার্থী দেয়নি। ফলে এখানে ব্যারিস্টার নজরুলের প্রচারণা মূলত শূন্য থেকে সংগঠন দাঁড় করানোর প্রক্রিয়া। তিনি জামায়াতের উপজেলা আমির ও কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে ঘুরছেন, স্কুল–কলেজের তরুণদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং ইসলামী মূল্যবোধ ও সুশাসনকে সামনে রেখে সমর্থন চাইছেন। নয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাজারে তার প্রচারণা স্থানীয়ভাবে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে এবং ধীরে ধীরে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে উঠছেন। অতীতে জামায়াত প্রার্থী না থাকায় যারা ইসলামী আদর্শের প্রতি ঝোঁক থাকা সত্ত্বেও বিএনপিকেই ভোট দিতেন, তাদের কিছু অংশ এবার জামায়াতের প্রার্থীর দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নতুন ভোটার: পরিবর্তনের ভাষা নাকি ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা
দেশজুড়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের ফলে প্রায় ৬২ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ৫ শতাংশ। ঢাকা-১ আসনেও ধারণা করা হচ্ছে ২০ হাজারের বেশি নতুন ভোটার এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। এদের বড় অংশই ২০০১-২০০৫ সালে জন্ম নেওয়া তরুণ–তরুণী, যারা পড়াশোনা, চাকরি, প্রবাস বা অনলাইন-নির্ভর জীবনযাপনের মাধ্যমে অনেক বেশি সচেতন ও প্রশ্ন করতে অভ্যস্ত।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন প্রজন্মের একটি অংশ পুরনো ধরনের দলীয় রাজনীতির বাইরে গিয়ে শিক্ষিত, ক্লিন ইমেজ এবং আন্তর্জাতিক মানসিকতার নেতৃত্বকে বেশি প্রাধান্য দিতে চায়। এই জায়গাতেই ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের প্রোফাইল তাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। তার উচ্চশিক্ষা, ইংরেজি ও আন্তর্জাতিক আইনের জ্ঞান, নীতি-নৈতিকতা ও তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য অনেক তরুণের কাছে আশাবাদী সুর তৈরি করছে। কিছু স্থানীয় তরুণের মন্তব্য, “শিক্ষায়, নীতিতে ও নেতৃত্বগুণে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম এ অঞ্চলের তরুণদের অনুপ্রেরণার উৎস”, এই প্রজন্মের মানসিকতার ইঙ্গিত দেয়।
অপরদিকে, ঐতিহ্যগত পারিবারিক ও দলীয় আনুগত্য এখনও বিএনপির জন্য বড় শক্তি। বহু পরিবারেই প্রবীণ ভোটাররা বরাবরই বিএনপির পক্ষে ভোট দিয়ে এসেছেন এবং তারা স্বাভাবিকভাবেই সন্তান-নাতি-নাতনিদেরও সেই ধারায় রাখার চেষ্টা করছেন। খন্দকার আবু আশফাক এরই মধ্যে যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মীদের নিয়ে নতুন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছানোর কৌশল নিয়েছেন। তিনি তরুণদের কাছে স্থানীয় উন্নয়ন, চাকরি, শিক্ষা এবং গত এক দশকের বেশি সময়ের “গণতন্ত্র সংকট ও বেকারত্ব” প্রসঙ্গ তুলে ধরে পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছেন। তার উঠান বৈঠক ও পথসভায় তরুণদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যা বিএনপির জন্য ইতিবাচক সিগন্যাল।
একদিকে আদর্শগতভাবে ইসলামী মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে আগ্রহী এক ঝোঁক দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকেবহু তরুণ গণতন্ত্র, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও বৃহত্তর জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ বিবেচনা করে ধানের শীষের প্রতীকের দিকেও তাকিয়ে আছে। ফলেনতুন ভোটারদের ভোট শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উভয় পক্ষের জন্যই অনিশ্চিত ও টার্গেট গ্রুপ হিসেবে থাকবে বলেই মনে হচ্ছে।
ঢাকা-১ আসনের নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই স্থানীয়ভাবে হাইভোল্টেজ উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে দীর্ঘদিনের সংগঠক ও তৃণমূলভিত্তিক নেতা হিসেবে খন্দকার আবু আশফাক বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছেন। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষিত, তুলনামূলক নতুন কিন্তু দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম জামায়াতেরপক্ষথেকেনিজের রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
নবাবগঞ্জের ঐতিহ্যগত বিএনপি ঘাঁটি, দোহার অংশের মিশ্র সমীকরণ, জামায়াতের নতুন রাজনৈতিক উপস্থিতি, তৃণমূল সংগঠন, ধর্মভিত্তিকভোট, প্রবাসী পরিবারের প্রভাব ও নতুন ভোটারদের মানসিকতা সবকিছু মিলিয়ে ঢাকা-১ আসনটি হয়ে উঠেছে একটি জটিল ও আকর্ষণীয় নির্বাচনী লড়াইয়ের মঞ্চ।
এই আসনের ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবেন, তা শুধু দোহার-নবাবগঞ্জ নয়, পুরো দেশের বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ ও ইসলামপন্থী রাজনীতির অবস্থান সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে। তাই ঢাকা-১ এখন শুধু একটি নির্বাচনী এলাকা নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির পালাবদল, মেরুকরণ ও নতুন প্রজন্মের ভোট আচরণ বোঝার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগার।
দুদকের দুই মামলায় খালাস পেলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা পৃথক দুটি দুর্নীতি মামলায় খালাস পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এই রায় ঘোষণা করেন। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর আইনজীবী মহিউদ্দিন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, রাজধানীর গুলশান, ধানমণ্ডি ও শান্তিনগর এলাকার ১৮টি পরিত্যক্ত সরকারি বাড়ি নিলামে বিক্রির ক্ষেত্রে অনিয়ম, দরপত্রে কারচুপি ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে ২০০৭ সালে মোট ১৫টি মামলা দায়ের করে দুদক।
এসব মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনকে প্রতিটি মামলায় আসামি করা হয়। অন্য আসামিদের তালিকায় ছিলেন এস এম জাফর উল্লাহ, মো. এমদাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, গোলাম নবী, কাজী রিয়াজুল মনির, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, আব্দুস সাদেক, হুমায়ুন খান, মীর মোশাররফ হোসেন, ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী ও মো. শহীদ আলম।
এ ছাড়া এই ১৫টি মামলার মধ্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুটি এবং মেহেদী হাসান, শফিকুর রহমান কিরন, নুরুচ্ছাফা, মো. শুকুর মিয়া, হাসনা আহমেদ ও আলী হায়দার চৌধুরীকে পৃথক মামলায় আসামি করা হয়েছিল।
দুদকের এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছিল, রাজউকের মাধ্যমে সাজানো দরপত্রে কারচুপি করে পছন্দের ব্যক্তিদের কাছে নামমাত্র মূল্যে এসব বাড়ি বিক্রি করা হয়। এতে তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব খাটিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের নির্ধারিত উচ্চমূল্য উপেক্ষা করে কম মূল্যের দরপত্র অনুমোদন দেন বলে দাবি করা হয়। এসব ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।
/আশিক
অর্থসংকটে অনিশ্চিত মেডিকেল ভবিষ্যৎ: শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
অর্থসংকটে লেখাপড়া বন্ধের ঝুঁকিতে পড়া অসচ্ছল মেডিকেল শিক্ষার্থী মোছা. ফাতেমা খানমের পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী ফাতেমা খানমের হাতে ৫ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান তুলে দেন।
নাটোরের বাসিন্দা মেধাবী শিক্ষার্থী মোছা. ফাতেমা খানম নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখে সম্প্রতি চীনের একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ অর্জন করেন। তবে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় পরিবারের চরম অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা ও প্রয়োজনীয় অর্থের সংকট।
মেধাবী এই শিক্ষার্থীর সংকটের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর তাঁর মেডিকেল শিক্ষার প্রাথমিক খরচ নির্বাহের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে এই ৫ লাখ টাকার সহায়তা প্রদান করা হয়। অনুদানের অর্থ তুলে দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, বিদেশে ফাতেমার পড়াশোনা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ার স্বার্থে ভবিষ্যতে আরও সহায়তার প্রয়োজন হলে তা প্রদান করা হবে।
/আশিক
বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানালেন বিশ্বনেতা
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব ইউরোপ ও সিআইএস (সিআইএস) উইংয়ের মহাপরিচালক এস এম মাহবুবুল আলমের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হন। এ সময় তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষ থেকে প্রেরিত এই বিশেষ অভিনন্দনপত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।
ঢাকাস্থ রাশিয়ান দূতাবাসের এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়িত্বভার গ্রহণ করায় তাঁর সফলতা কামনা করে এই কূটনৈতিক বার্তা ও শুভেচ্ছা পাঠিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান।
/আশিক
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত: দ্রুত আসছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। এর আগে তিন নির্বাচন কমিশনারকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে সিইসি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতোই স্থানীয় সরকার নির্বাচনও নিরপেক্ষতা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিচালনা করার বিষয়ে কমিশন অঙ্গীকারবদ্ধ। রাষ্ট্রপতিও নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন এবং দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকারের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। আচরণ বিধিমালা সংক্রান্ত নথিপত্র আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং শেষে ফেরত আসায় এবং কারিগরি প্রস্তুতি গুছিয়ে নেওয়ায় কমিশন এখন তফসিল ঘোষণার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
ভোটের সম্ভাব্য সময়সূচি ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে সিইসি জানান, আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে এ বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনও নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। তবে আসন্ন দুর্গাপূজা, বন্যা পরিস্থিতি, শীতকালীন স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা এবং পরবর্তী সময়ে রোজা, ঈদ ও বর্ষা মৌসুমের কারণে নির্বাচনের জন্য উপযোগী সময় বেশ সীমিত। বার্ষিক পরীক্ষা সমন্বয় করে সবকিছু ঠিক থাকলে নভেম্বরের শেষ নাগাদ ভোটগ্রহণ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সম্পন্ন হতে আগামী বছরের শুরু পর্যন্ত গড়াতে পারে। মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চলের আবহাওয়া বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে এ ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দেশি ও প্রবাসী ভোটারদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে সীমিত পরিসরে পোস্টাল ব্যালট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে অন্য কমিশনও এ ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে পারে, সেজন্য কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও নির্দেশিকা তৈরির কাজ চলছে। এ ছাড়া নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে দ্রুতই সমন্বয় সভা করা হবে এবং প্রয়োজনে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্পষ্ট করেন যে, কমিশন নির্বাচনে 'ভোটার সার্বভৌমত্ব' প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে সাধারণ ভোটারের স্বাধীন ইচ্ছাই হবে চূড়ান্ত।
/আশিক
মক্কা চুক্তি মুসলিমদের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা, উদ্বেগের কারণ নেই: খলিলুর রহমান
‘মক্কা প্যাক্ট’ বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার একটি সমন্বিত ব্যবস্থা এবং এটি মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয় হওয়ায় এ নিয়ে অন্যদের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলে বাংলাদেশ তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা তাঁর সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মিলে গত ৭ আগস্ট যে ‘মক্কা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছে, বাংলাদেশ এতে যুক্ত হলে দেশের কী ধরনের সুবিধা হতে পারে। এর জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চুক্তিটি বর্তমানে উল্লেখিত তিন দেশের মধ্যে সম্পাদিত হয়েছে এবং ঢাকা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছে। তবে এতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে আসেনি, কারণ এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে চুক্তিভুক্ত মূল সদস্য দেশগুলোর আগ্রহ ও অভিপ্রায়ের ওপর। তারা যদি বাংলাদেশকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করে, তবে সরকার তা নিশ্চয়ই ইতিবাচকভাবে ভেবে দেখবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসার আগে এই চুক্তির বিস্তারিত লাভ-ক্ষতি বা ভালোমন্দ নিয়ে মন্তব্য করার সময় এখনও আসেনি এবং সময় হলে সরকার সবদিক পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবেচনা করবে। তবে জোটটি যদি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হয়, তবে তা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর আত্মরক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই কাজ করবে। এটি একান্তই মুসলিম বিশ্বের ভেতরের বিষয় হওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্যদের এ নিয়ে অযথা উৎকণ্ঠিত হওয়ার অবকাশ নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
/আশিক
২০১০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২০১০ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সারাদেশে মোট ১৯ হাজার ৬৪১টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন তাঁর প্রশ্নে ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট কতজনকে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে এবং এর বছরভিত্তিক হিসাব জানতে চান। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, উল্লেখিত সময়ের মধ্যে ইস্যুকৃত মোট ১৯ হাজার ৬৪১টি লাইসেন্সের মধ্যে ৭ হাজার ৩০৮টি শটগান, ৫ হাজার ৩৪৭টি পিস্তল, ৫৯৪টি রিভলভার, ৯৪৮টি রাইফেল এবং অন্যান্য ক্যাটাগরিতে ৫ হাজার ৪৪৪টি অস্ত্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এই দীর্ঘ সময়ের বছরভিত্তিক পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দেশের ৬৪ জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করে প্রস্তুত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। সে কারণে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে আপাতত এই আংশিক হিসাব সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে।
/আশিক
খরচ ছাড়াই ১০ হাজার কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়: মন্ত্রী
সরকারিভাবে কোনো খরচ ছাড়াই ১০ হাজার কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা, অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা বন্ধ এবং বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা ও ভাষাগত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নিরাপদ অভিবাসন ও অবৈধভাবে বিদেশযাত্রা প্রতিরোধ বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজেও এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করানো জরুরি। প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা ছাড়া বিদেশে গিয়ে কর্মীদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তাই বিদেশ যাওয়ার আগে কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও ভাষাগত দক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
এ লক্ষ্যে সুনামগঞ্জের পাঁচটি নির্বাচনি এলাকায় পাঁচটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান আরিফুল হক চৌধুরী। এসব প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী নিশ্চিত করতে জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিদেশগামী কর্মীদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কর্মীদের ইংরেজি, আরবি, জাপানি, চীনা ও কোরিয়ান ভাষায় প্রশিক্ষণ নেওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা জানা থাকলে কর্মীরা কর্মস্থলে যোগাযোগ ও দৈনন্দিন কাজে তুলনামূলকভাবে সহজে মানিয়ে নিতে পারবেন।
তিনি বিদেশ যেতে আগ্রহীদের দালাল বা অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার পরিবর্তে সরকারি ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানান। প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও ভাষাগত প্রশিক্ষণ অর্জনের পর বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহী বিপুলসংখ্যক কর্মীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসনের মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পথও আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: বাসস
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বড় সুখবর দিল সরকার
জ্বালানি সরবরাহ সংকট, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সামগ্রিক পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানী ঢাকায় পরিকল্পিত লোডশেডিং করে সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ দেশের অন্যান্য জেলা ও গ্রামাঞ্চলে পুনর্বণ্টনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি সংকট ও পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোর রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে পূর্ণ মাত্রায় উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। গ্রিডের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি অতিরিক্ত চাহিদার কারণে বিদ্যুৎ ঘাটতি জটিল রূপ নিয়েছে।
এই ঘাটতির প্রভাব সুষমভাবে বণ্টন করতে ঢাকার দুই প্রধান বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাভুক্ত এলাকায় লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে। রাজধানীতে বিদ্যুৎ ব্যবহার কিছুটা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সাশ্রয় হওয়া অংশটি ঢাকার বাইরের শিল্পাঞ্চল ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে রাজধানীর বাইরের শিল্প-কারখানায় সরবরাহ যেমন স্থিতিশীল হচ্ছে, তেমনি প্রত্যন্ত অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ের ভোগান্তিও কিছুটা কমে আসছে।
সরকারের মূল লক্ষ্য কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা গ্রাহক শ্রেণিকে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎহীন না রেখে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের বোঝা সুষম রাখা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া, প্ল্যান্টগুলোর ত্রুটি দূর করা এবং সঞ্চালন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির দিকে যাবে।
এদিকে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৭৬ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছিল ১৩ হাজার ৯১৭ মেগাওয়াট, ফলে তাৎক্ষণিকভাবে দেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ২৫৯ মেগাওয়াট। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজধানী থেকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে অন্য এলাকায় পাঠানোর এই সিদ্ধান্তকে সাময়িক স্বস্তির উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
/আশিক
দুবার প্রস্তুতি, তারেক রহমানের দিল্লি সফর বারবার বাতিল, নেপথ্যে কী
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হলেও আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে অন্তত দুবার সেই উদ্যোগ শেষ মুহূর্তে থমকে গেছে। সফরের সম্ভাব্য সময়সূচি ও আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি অনেক দূর এগোলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাননি। ফলে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে কোন বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের এই সফরের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে আলোচনা বাড়ছে।
তারেক রহমানের ভারত সফরের আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। গত ফেব্রুয়ারিতে তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকায় আসা ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে তাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। এরপর সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বেও বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অর্থাৎ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় দুই পথেই তার দিল্লি যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কূটনৈতিক তৎপরতা সত্ত্বেও আগস্টে পরিকল্পিত সফরগুলো বাস্তবায়িত না হওয়ার পেছনে সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রশ্ন। ঢাকার অবস্থান হলো, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধের দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়া দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা কঠিন।
অন্যদিকে ভারতের বক্তব্য ভিন্ন। দিল্লি বলছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধ যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থানকালে শেখ হাসিনা যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন বা রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন, সেগুলো তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড; এসব বক্তব্যকে ভারত সরকারের অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তবে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের বাইরে দুই রাজধানীর মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহ রয়ে গেছে বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা। বিশেষ করে ৫ আগস্ট দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবের একটি আয়োজনে শেখ হাসিনার অনলাইনে যুক্ত হওয়ার ঘটনাকে ঢাকা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে। বাংলাদেশের একটি অংশের ধারণা, ভারতের অন্তত নীরব সম্মতি ছাড়া দিল্লিকেন্দ্রিক এমন রাজনৈতিক উপস্থিতি সহজ হতো না। ঢাকা এ নিয়ে প্রকাশ্যেও অসন্তোষ জানিয়েছে।
ভারতের নীতিনির্ধারণী মহলে আবার ভিন্ন একটি মূল্যায়ন রয়েছে। তাদের একটি অংশ মনে করে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। শেখ হাসিনা সরাসরি বাংলাদেশে ফিরে গেলে যে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, সেটি সামাল দেওয়া বর্তমান সরকারের জন্যও সহজ হবে না এমন বিশ্লেষণ দিল্লির কিছু মহলে রয়েছে। তবে এটি ভারতের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়; বরং সংশ্লিষ্ট মহলের রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
ফলে একই ইস্যুকে ঢাকা ও দিল্লি দুই ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তন, বিচার এবং জনমতের সঙ্গে যুক্ত; ভারতের জন্য এটি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ও বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দুই ক্ষেত্রকে যতটা সম্ভব পৃথক রাখার প্রশ্ন।
দিল্লি চাইছে, শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে তৈরি বিরোধের বাইরে গিয়ে বাণিজ্য, যোগাযোগ, পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্পের মতো পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলোতে আলোচনা এগিয়ে যাক। ভারতীয় কূটনৈতিক মহল থেকে ঢাকাকে এমন বার্তাও দেওয়া হচ্ছে যে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন আটকে রাখা উভয় পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে।
কিন্তু ঢাকার সামনে রয়েছে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ। শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামল এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে বাংলাদেশের একটি বড় অংশের মধ্যে তাকে ঘিরে তীব্র বিরোধিতা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে রাজনৈতিক বক্তব্য অব্যাহত রাখলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর দেশে কীভাবে গ্রহণ করা হবে, সেটিও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
এই প্রেক্ষাপটে ভারতের কাছ থেকে অন্তত এমন দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যাতে বোঝা যায়—ভারতের ভূখণ্ড বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে প্রভাবিত করার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। অন্যদিকে দিল্লির কর্মকর্তাদের একটি অংশ প্রত্যর্পণের পরিবর্তে শেখ হাসিনার স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে তুলনামূলকভাবে কম জটিল সমাধান হিসেবে দেখছেন।
এই প্রশ্নে কোনো গ্রহণযোগ্য সমঝোতা তৈরি হলে তারেক রহমানের দিল্লি সফরের অন্যতম বড় রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা দূর হতে পারে বলে ভারতীয় কূটনৈতিক মহলে ধারণা রয়েছে। তবে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন, প্রত্যর্পণ বা সম্ভাব্য বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে এখনো এমন কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
তারেক রহমানকে দ্রুত দিল্লিতে আমন্ত্রণ জানানোর পেছনে ভারতের নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থও রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের বেশ কয়েকটি সহযোগিতা প্রকল্পের গতি কমেছে। গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা, যোগাযোগ ও অবকাঠামো প্রকল্প এবং সীমান্তসহ একাধিক বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি। বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক কীভাবে এগোয়, সেটিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত। তারেক রহমান ইতোমধ্যে বেইজিং সফর করায় দিল্লির কাছে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে দ্রুত সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
বাংলাদেশের জন্যও ভারতের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্কের প্রয়োজন রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিশাল বাণিজ্য, দীর্ঘ সীমান্ত, অভিন্ন নদী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা এবং সড়ক-রেল যোগাযোগের কারণে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ককে শুধু রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ভিত্তিতে পরিচালনা করা কঠিন। ফলে উভয় পক্ষই সম্পর্ক সচল রাখতে আগ্রহী হলেও কোন রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে তা করা হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
এই অচলাবস্থা কাটানোর সম্ভাব্য পথ হিসেবে সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরের তুলনায় বহুপক্ষীয় সম্মেলনে যোগ দেওয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দিক থেকে তুলনামূলকভাবে কম স্পর্শকাতর হতে পারে। বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে অংশ নিলে সফরটিকে সরাসরি ভারত সফরের পরিবর্তে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ হিসেবেও উপস্থাপন করা সম্ভব।
তারেক রহমান ব্রিকসের আয়োজনে দিল্লি গেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলাদা বৈঠকের সুযোগও তৈরি হতে পারে। বহুপক্ষীয় সম্মেলনের সাইডলাইনে এ ধরনের বৈঠক আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে স্বাভাবিক ঘটনা। সে ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফরের রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করতে পারবেন।
সব মিলিয়ে তারেক রহমানের দিল্লি সফরের প্রশ্নটি এখন শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফরের সময়সূচিতে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ও প্রত্যর্পণ প্রশ্ন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জনমত, ভারতের কৌশলগত স্বার্থ, চীন ফ্যাক্টর এবং দুই দেশের আটকে থাকা দ্বিপক্ষীয় এজেন্ডা জড়িয়ে গেছে।
-রফিক
পাঠকের মতামত:
- দুদকের দুই মামলায় খালাস পেলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
- বিশ্ববাজারে বিনিয়োগকারীদের চাহিদায় পরিবর্তন: ধাতুর বাজারে দরপতন
- সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব: ১০ দিনের নতুন আবহাওয়া বার্তা
- অর্থসংকটে অনিশ্চিত মেডিকেল ভবিষ্যৎ: শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
- সংসদের অধিবেশন ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা
- কম বয়সেই বাড়ছে নীরব ঘাতক রোগ: জেনে নিন সুরক্ষার উপায়
- বাঁধ ভাঙার অভিযোগ নাকচ চীনের: নেপালকে হিমবাহ ধসের তথ্য দিল ইউএসজিএস
- ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা ঘিরে নতুন জটিলতা: বড় তারকার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
- নেপালে আরও একটি কৃত্রিম লেক ফেটে বন্যার শঙ্কা: চীনের সতর্কতা
- এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশ: চূড়ান্ত হলো গ্রুপ ও প্রতিপক্ষ
- বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানালেন বিশ্বনেতা
- স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত: দ্রুত আসছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
- বিদ্যুৎ-গ্যাস এখন ‘টুকু আসে, টুকু যায়: রুমিন ফারহানা
- ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণের প্রমাণ মেলেনি: আইএইএ প্রধান
- মক্কা চুক্তি মুসলিমদের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা, উদ্বেগের কারণ নেই: খলিলুর রহমান
- এটা প্রশ্ন না পল্টনের বক্তৃতা: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ২০১০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ধ্বংসস্তূপে চলছে সন্ধান: প্রাণহানি ছাড়াল তিন শতাধিক
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশে আবহাওয়ার নতুন পূর্বাভাস
- বাংলাদেশ একদিন জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে: হামিদুর রহমান আযাদ
- ১০০ মিটারের স্প্রিন্টে অভাবনীয় কীর্তি: রোবটের দৌড়ে বিশ্ব তোলপাড়
- চার বছরের বিরতি ভেঙে বড় পর্দায় ফিরে বক্স অফিসে ঝড়
- স্বামীকে প্রবাসে রেখে দেশে ফিরেই নতুন বিয়ে, চার সন্তানের জননীর
- মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষায় জোটবদ্ধ হওয়ার ডাক দিলেন শীর্ষ কূটনীতিকরা
- নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে প্রবল বন্যা: ৫৫ জনের প্রাণহানি ও শতাধিক নিখোঁজ
- সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় খবর: চূড়ান্ত হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত প্রজ্ঞাপন
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সীমা: যেসব বিষয়ে নির্ভরতা বিপজ্জনক
- স্বর্ণের দামে নতুন মোড়, সামনে গুরুত্বপূর্ণ সময়
- চার বছর পর আবারও ঢাকায় আসছেন জনপ্রিয় বিদেশি সংগীতশিল্পী
- রাতের আকাশে দেখা যাবে রক্তিম রূপ: প্রস্তুত হচ্ছে বিশ্ব
- খরচ ছাড়াই ১০ হাজার কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়: মন্ত্রী
- বিদ্যুৎ খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া বড় চাপ: প্রতিমন্ত্রী
- গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষমাণদের জন্য এলো বড় সুখবর
- ট্রাম্পের ছেলে ব্যারনকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানে ভিডিও প্রকাশ
- দেশজুড়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বড় সুখবর দিল সরকার
- যুক্তরাষ্ট্রের হামলা রুখতে আক্রমণাত্মক কৌশলে যাচ্ছে ইরান
- লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম, নতুন রেকর্ডের পথে ভরি
- দুবার প্রস্তুতি, তারেক রহমানের দিল্লি সফর বারবার বাতিল, নেপথ্যে কী
- ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, ৪ ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
- হরমুজ প্রণালির সব মাইন সরিয়ে ফেলেছে মার্কিন নৌবাহিনী: ট্রাম্প
- ব্রাজিলকে আনতে সরকারের টাকা খরচের মানসিকতা নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
- ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নজরুল আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক: রিজভী
- জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে বোর্ডের নতুন নীতিমালা প্রকাশ
- সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার
- ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণা
- নরসিংদীতে ইটবোঝাই লরির ধাক্কায় শ্রমিক নিহত
- বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চোখ: বড় স্বপ্নের পথে বাংলাদেশ
- আবহাওয়ার বড় বার্তা: বিভিন্ন অঞ্চলে ৫ দিনের বিশেষ পূর্বাভাস
- কাশির সঙ্গে রক্ত: কারণ ও জরুরি সতর্কতার লক্ষণসমূহ
- চীনের জে-১০সি কিনতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ
- ক্ষমতার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, বদলাতে হবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি: AMRA গোলটেবিলে বক্তারা
- চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে নতুন চাপ, নজর সিঙ্গাপুরেও
- ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, ৪ ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
- লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম, নতুন রেকর্ডের পথে ভরি
- বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর: প্রত্যাবাসন কেন এখনো অনিশ্চিত
- এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌপ্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম
- দুবার প্রস্তুতি, তারেক রহমানের দিল্লি সফর বারবার বাতিল, নেপথ্যে কী
- বঙ্গোপসাগরে ২৪ নাবিক নিয়ে ডুবল জাহাজ, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ ২২
- দুই দিনেই ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত
- আজ ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না বহু এলাকায়
- আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন একনজরে
- সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে বড় খবর
- আজ বঙ্গভবনে উঠছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
- নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে টিসিবির বড় পরিকল্পনা
- ভোট না দিয়ে রুমিন ফারহানা বললেন, ‘এটা নির্বাচন নয়’








