বিশেষ প্রতিবেদন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ঢাকা–১ এ হাইভোল্টেজ লড়াই: বিএনপির আশফাক বনাম জামায়াতের ব্যারিস্টার নজরুল

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকার ১ নম্বর আসন, অর্থাৎ দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলাজুড়ে এখন থেকেই টানটান উত্তেজনা। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপির লড়াইয়ের ময়দান হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক এবং জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের মধ্যে। তিন দশকের বেশি সময়ের ভোটের ইতিহাস, দলীয় ঘাঁটি, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও নতুন ভোটারদের প্রবণতা মিলিয়ে ঢাকা-১ আসনটি হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতির জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
প্রার্থী হিসেবে কে কতটা শক্তিশালী
ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ইতোমধ্যে সুপরিচিত একটি নাম। নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সরাসরি কাজ করেছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন, যদিও পরে আইনি জটিলতায় তার প্রার্থিতা স্থগিত হয়। ২০১৬ সালে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২২ সালে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি সাংগঠনিকভাবে আরও শক্ত অবস্থানে আসেন।
দলের দুঃসময়, মামলা, গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়নের সময় তিনি মাঠে থেকে সংগঠন ধরে রেখেছেন বলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মন্তব্য। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ ইশতিয়াক আনুষ্ঠানিকভাবে আশফাককে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “আশফাক বিএনপির দুর্দিনের এক সাহসী কর্মী। আমি আশাবাদী, সে নির্বাচিত হয়ে দোহার–নবাবগঞ্জকে দেশের মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবে।” দলের ভেতরে ও বাইরে এমন প্রশংসা আশফাককে বিএনপির সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছে।
অন্যদিকে জামায়াত সমর্থিত ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম মূলত শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত কৃতিত্ব ও ব্যক্তি ইমেজের কারণে দ্রুত আলোচনায় উঠে এসেছেন। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের বাঘহাটি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া নজরুল ইসলামের ছাত্রজীবন থেকেই ছিল আলাদা উজ্জ্বলতা। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে আইন বিষয়ে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে স্বর্ণপদক পান।
এরপর সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া থেকে কামিল, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আরেকটি এলএলবি, সিটি ইউনিভার্সিটি লন্ডন থেকে লিগ্যাল প্রফেশনে পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা এবং বিশ্বখ্যাত মিডল টেম্পল থেকে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি (বার-অ্যাট-ল) অর্জন করে তিনি নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের আইনজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ছাত্রজীবনে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয়সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র হিসেবেদায়িত্বপালন করেন। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনেই তিনি প্রথমবারের মতো ঢাকা-১ আসনে সরাসরি সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন এবং ইতিমধ্যেই স্থানীয় শিক্ষিত তরুণ ও ধর্মপ্রাণ মানুষের চোখে একজন সৎ, যোগ্য ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
ঢাকা-১: ভোটার প্রোফাইল ও দীর্ঘ তিন দশকের নির্বাচনী হিসাব
দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১ আসনটি মূলত গ্রামীণ ও মফস্বল অধ্যুষিত এলাকা। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ৪৪০,২৮৬ জন। ভোটার তালিকা হালনাগাদের পর এবার এই সংখ্যা প্রায় পাঁচ লক্ষেরকাছাকাছি পৌঁছেছে বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা। কৃষক, ব্যবসায়ী, প্রবাসী পরিবারের সদস্য, চাকরিজীবী এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষিত যুবক-যুবতী এই আসনের ভোটার কাঠামোর বড় অংশ।
নির্বাচনীইতিহাসেদেখা যায়, স্বাধীনতা-উত্তর প্রথম নির্বাচন ১৯৭৩ সালে এই আসনে জয় পেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। কিন্তু ১৯৭৯ সালথেকেইএইআসনেবিএনপির প্রভাব বাড়তে শুরু করে; খন্দকার দেলোয়ার হোসেন তখন থেকে এ আসনকে বিএনপি ঘাঁটি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৯১ সালেরপঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নজমুল হুদা ৬০.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী পান ৩৪.৪ শতাংশ ভোট। ১৯৯৬ সালের জুন পুনর্নির্বাচন ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয়নির্বাচনেতিনিপরপরদুইবার নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোট পান, আর আওয়ামীলীগপ্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ছিল ২৯ শতাংশের নিচে। ২০০১ সালে টানটান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নজমুল হুদা ৫১.৪ শতাংশ ভোট পেয়ে মাত্র ২,৭৭১ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শিল্পপতি সালমান এফ রহমানকে হারান এবং পরবর্তীতে যোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বও পান।
তবে ২০০৮ সালের নবম জাতীয়নির্বাচনে রাজনৈতিক পালাবদলের ঢেউ ঢেউ আঘাত হানে এই আসনেও। আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান ৫৪.৯ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর বিএনপির প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান পান ৪২.৮ শতাংশ ভোট। ওই নির্বাচনে প্রায় ৮৯ শতাংশ ভোটার উপস্থিত ছিলেন, যা অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ ভোটার অংশগ্রহণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
২০১৪ সালের দশম জাতীয় নির্বাচনেবিএনপি অংশ না নেওয়ায় এক অদ্ভুত সমীকরণ তৈরি হয়। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েও আবদুল মান্নান খান অল্প ব্যবধানে পরাজিতহন। জাতীয় পার্টির সালমা ইসলাম ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, আর মান্নান খান পান ৪৮ শতাংশ ভোট। সরকারি হিসাব অনুযায়ী সেই নির্বাচনেভোটারউপস্থিতিছিলমাত্র ২৬.৯ শতাংশ, যদিও বাস্তবে উপস্থিতি তার থেকেও কম ছিল বলে তখনই আলোচনা তৈরি হয়।
২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সালমান এফ রহমান প্রথমবারের মতো ঢাকা-১ আসনে সাংসদ নির্বাচিত হন। বিএনপি প্রার্থী হিসেবেখন্দকারআবু আশফাক মনোনয়নপত্র জমা দিলেও নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে তার পদত্যাগ স্বীকৃতি না পেয়ে আইনি জটিলতায় প্রার্থিতাবাতিলহয়। ফলে ব্যালটে বিএনপি বা বিএনপি–জোটের কোনো প্রার্থী ছিল না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কেবল সালমা ইসলাম অংশ নেন। সরকারি হিসাবে ওই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৮০ শতাংশের বেশি দেখানো হয়। এতে সালমান এফরহমানপ্রায় ৩,০২,৯৯৩ ভোট অর্থাৎ প্রায় ৮৫.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, আর সালমা ইসলাম পান ৩৭,৭৬৩ ভোট, যা প্রায় ১০.৭ শতাংশ।
এই দীর্ঘ ইতিহাসের আলোকে দেখা যায়, ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বিএনপি এ আসনে জয় পায়, ২০০৮ ও ২০১৮ সালে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ, আর ২০১৪ সালে জয় পায় জাতীয় পার্টি। সেই তুলনায় ২০২৬ সালের নির্বাচন আবারও বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের এক পরীক্ষামূলক ময়দান হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সাংগঠনিক ভিত্তি ও প্রভাব: মাঠে কার কতটা প্রস্তুতি
খন্দকার আবু আশফাক দীর্ঘদিনের সংগঠক হওয়ায় তৃণমূলের সঙ্গে তার যোগাযোগ অনেক পুরনো ও বিস্তৃত। ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে থেকে তিনি দোহার ও নবাবগঞ্জ মিলে অন্তত ১০টি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ইউনিটের সঙ্গে প্রতিনিয়ত কাজ করছেন। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে তার প্রভাব সুস্পষ্ট। সাম্প্রতিক সময়ে দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের ঝুনকি গ্রামে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে আশফাককে প্রধান অতিথি হিসেবে দেখতে বিপুল জনসমাগম হয়। ওই বৈঠকে তিনি বলেন, “দোহার–নবাবগঞ্জবাসী অনেকদিন ধরে অবহেলিত। এই দেশ, এই আসন, এই জনগণ বিএনপির। ইনশাআল্লাহ, জনগণের ভোটেই পরিবর্তন আসবে।” বক্তৃতা শেষে উপস্থিত মানুষ ও কর্মীরা করতালি আর ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান এবং বিএনপির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেন।
তবে সবকিছু এতটা মসৃণও ছিল না। স্থানীয় সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ভাষ্যে, দোহার উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেআগেঅভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা দিয়েছিল। আশফাকের নেতৃত্বে এক পক্ষ এবং আরেক সাবেক নেতার নেতৃত্বে অন্য পক্ষের মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়। ২০২২ সালে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি ঐক্য গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেন এবং এখন আন্দোলন ও নির্বাচনে পুরো জেলা কমিটিকে একটি মডেল হিসেবে দাঁড় করানোর কথা বলে আসছেন। কেন্দ্রীয় আন্দোলন কর্মসূচিতেসক্রিয়থাকার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তার নেতৃত্বে কর্মীরা নতুন করে উদ্দীপ্ত হয়েছে বলে ধারণা দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম সাংগঠনিক রাজনীতিতে তুলনামূলক নতুন মুখ হলেও জামায়াতের পুরোনো ও মৌলিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে তিনি নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছেন। ছাত্রশিবিরে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পালন ও প্রবাসে জামায়াতের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে একজন কার্যকর সংগঠক হিসেবে গড়ে তুলেছে।
এলাকায় উপস্থিতি জোরদার করতে তিনি স্কুল–কলেজ, হাট–বাজার, মসজিদ–মাদরাসা থেকে পাড়া–মহল্লায় ধারাবাহিক গণসংযোগ চালাচ্ছেন। দোহার উপজেলার নয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাজারে তার সাম্প্রতিক প্রচারণায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। এক সহকারী শিক্ষক মন্তব্য করেছেন, “ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম একজন শিক্ষানুরাগী মানুষ। তার কথা শুনে মনে হয়েছে তিনি সত্যিই শিক্ষা ও উন্নয়নের পক্ষে কথা বলেন।” সাধারণ ভোটারদের কেউ কেউ বলেছেন, “এত বড় শিক্ষিত মানুষ হয়েও যেভাবে আমাদের সঙ্গে সহজভাবে কথা বলছেন, এটা আমাদের ভালো লেগেছে।”
সাম্প্রতিক এক মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় শত শত মোটরসাইকেল ও সমর্থকের অংশগ্রহণ এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ শোভাযাত্রায় ব্যারিস্টার নজরুল একটি ছাদখোলা গাড়িতে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, “জনগণই আমার শক্তি। তারা চাইলে পরিবর্তনের পথ তৈরি হবে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় গ্রহণ করতে চাই।” এই ধরনের বার্তা এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ ক্যাম্পেইন তার জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়িয়ে তুলছে। জামায়াতের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আমির ও শীর্ষ নেতারা তার প্রচারে সক্রিয় হওয়ায় মাঠপর্যায়ে একটি সুসংগঠিত প্রচারণা গড়ে উঠছে।
দোহার বনাম নবাবগঞ্জ: কার ঘাঁটি কোথায় দৃঢ়
ঢাকা-১ আসনের ভোটসমীকরণ বোঝার ক্ষেত্রে দোহার ও নবাবগঞ্জ দুই অংশকে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি। ঐতিহাসিকভাবে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। নজমুল হুদার রাজনীতির কেন্দ্রও ছিল এই অঞ্চল। খন্দকার আবু আশফাক নিজেও নবাবগঞ্জের বাসিন্দা এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ায় নবাবগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও সংগঠন উভয়ই শক্তিশালী। কলাকোপা, কৈলাইল, বান্দুরা, বারুয়াখালীসহ একাধিক ইউনিয়নে বিএনপির দীর্ঘদিনের কর্মী-সমর্থকেরা তার পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। আশফাক নিজের বাড়ির আঙিনায় পর্যন্ত দলীয় সভা ও সম্মেলন করেছেন, যা তার স্থানীয় ভিত্তি কতটা গভীরে তা নির্দেশ করে।
কিন্তু সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে এই তথ্য যে জামায়াতের প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের বাড়িও নবাবগঞ্জের কলাকোপা ইউনিয়নে। অর্থাৎ দুই প্রতিদ্বন্দ্বীই একই অঞ্চলের সন্তান। নবাবগঞ্জের বহু পরিবারেই ইসলামী আদর্শের প্রতি ঝোঁক আছে বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মত, যা অতীতে প্রায়শই বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে গিয়েছে। এবার জামায়াতের নিজস্ব প্রার্থী থাকায় সেই ভোটের একটি অংশ নজরুল ইসলামের দিকে সরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মসজিদ-মাদরাসা ও ধর্মীয় অনুশীলনকে ঘিরে যে সামাজিক নেটওয়ার্ক তৈরি হয়, সেখানে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের নিয়মিত উপস্থিতি তাকে এক ধরনের প্রাকৃতিক সুবিধা দিচ্ছে।
দোহার উপজেলায় চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এখানে ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়েরই উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংক ছিল। নজমুল হুদার সময় থেকে বিএনপি ভালো ফল করলেও পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উন্নয়নমুখী কিছু পদক্ষেপও স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। বিএনপি জেলা সভাপতি হিসেবে আশফাক দোহার অংশেও নিয়মিত দলীয় কর্মসূচি করছেন। নারিশা, সুচারপাড়া, কার্তিকপুর, মুকসুদপুর, নয়াবাড়ী, কুসুমহাটি প্রভৃতি ইউনিয়নে উঠান বৈঠক ও কর্মীসভা করে তিনি দলের সংগঠনকে সক্রিয় রাখার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে প্রবাসী বিএনপি সমর্থক ও স্থানীয় সিনিয়র নেতাদের একযোগে মাঠে দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
দোহার অংশে জামায়াত ঐতিহ্যগতভাবে নিজস্ব প্রার্থী দেয়নি। ফলে এখানে ব্যারিস্টার নজরুলের প্রচারণা মূলত শূন্য থেকে সংগঠন দাঁড় করানোর প্রক্রিয়া। তিনি জামায়াতের উপজেলা আমির ও কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে ঘুরছেন, স্কুল–কলেজের তরুণদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং ইসলামী মূল্যবোধ ও সুশাসনকে সামনে রেখে সমর্থন চাইছেন। নয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাজারে তার প্রচারণা স্থানীয়ভাবে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে এবং ধীরে ধীরে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে উঠছেন। অতীতে জামায়াত প্রার্থী না থাকায় যারা ইসলামী আদর্শের প্রতি ঝোঁক থাকা সত্ত্বেও বিএনপিকেই ভোট দিতেন, তাদের কিছু অংশ এবার জামায়াতের প্রার্থীর দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নতুন ভোটার: পরিবর্তনের ভাষা নাকি ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা
দেশজুড়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের ফলে প্রায় ৬২ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ৫ শতাংশ। ঢাকা-১ আসনেও ধারণা করা হচ্ছে ২০ হাজারের বেশি নতুন ভোটার এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। এদের বড় অংশই ২০০১-২০০৫ সালে জন্ম নেওয়া তরুণ–তরুণী, যারা পড়াশোনা, চাকরি, প্রবাস বা অনলাইন-নির্ভর জীবনযাপনের মাধ্যমে অনেক বেশি সচেতন ও প্রশ্ন করতে অভ্যস্ত।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন প্রজন্মের একটি অংশ পুরনো ধরনের দলীয় রাজনীতির বাইরে গিয়ে শিক্ষিত, ক্লিন ইমেজ এবং আন্তর্জাতিক মানসিকতার নেতৃত্বকে বেশি প্রাধান্য দিতে চায়। এই জায়গাতেই ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের প্রোফাইল তাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। তার উচ্চশিক্ষা, ইংরেজি ও আন্তর্জাতিক আইনের জ্ঞান, নীতি-নৈতিকতা ও তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য অনেক তরুণের কাছে আশাবাদী সুর তৈরি করছে। কিছু স্থানীয় তরুণের মন্তব্য, “শিক্ষায়, নীতিতে ও নেতৃত্বগুণে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম এ অঞ্চলের তরুণদের অনুপ্রেরণার উৎস”, এই প্রজন্মের মানসিকতার ইঙ্গিত দেয়।
অপরদিকে, ঐতিহ্যগত পারিবারিক ও দলীয় আনুগত্য এখনও বিএনপির জন্য বড় শক্তি। বহু পরিবারেই প্রবীণ ভোটাররা বরাবরই বিএনপির পক্ষে ভোট দিয়ে এসেছেন এবং তারা স্বাভাবিকভাবেই সন্তান-নাতি-নাতনিদেরও সেই ধারায় রাখার চেষ্টা করছেন। খন্দকার আবু আশফাক এরই মধ্যে যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মীদের নিয়ে নতুন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছানোর কৌশল নিয়েছেন। তিনি তরুণদের কাছে স্থানীয় উন্নয়ন, চাকরি, শিক্ষা এবং গত এক দশকের বেশি সময়ের “গণতন্ত্র সংকট ও বেকারত্ব” প্রসঙ্গ তুলে ধরে পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছেন। তার উঠান বৈঠক ও পথসভায় তরুণদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যা বিএনপির জন্য ইতিবাচক সিগন্যাল।
একদিকে আদর্শগতভাবে ইসলামী মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে আগ্রহী এক ঝোঁক দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকেবহু তরুণ গণতন্ত্র, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও বৃহত্তর জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ বিবেচনা করে ধানের শীষের প্রতীকের দিকেও তাকিয়ে আছে। ফলেনতুন ভোটারদের ভোট শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উভয় পক্ষের জন্যই অনিশ্চিত ও টার্গেট গ্রুপ হিসেবে থাকবে বলেই মনে হচ্ছে।
ঢাকা-১ আসনের নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই স্থানীয়ভাবে হাইভোল্টেজ উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে দীর্ঘদিনের সংগঠক ও তৃণমূলভিত্তিক নেতা হিসেবে খন্দকার আবু আশফাক বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছেন। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষিত, তুলনামূলক নতুন কিন্তু দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম জামায়াতেরপক্ষথেকেনিজের রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
নবাবগঞ্জের ঐতিহ্যগত বিএনপি ঘাঁটি, দোহার অংশের মিশ্র সমীকরণ, জামায়াতের নতুন রাজনৈতিক উপস্থিতি, তৃণমূল সংগঠন, ধর্মভিত্তিকভোট, প্রবাসী পরিবারের প্রভাব ও নতুন ভোটারদের মানসিকতা সবকিছু মিলিয়ে ঢাকা-১ আসনটি হয়ে উঠেছে একটি জটিল ও আকর্ষণীয় নির্বাচনী লড়াইয়ের মঞ্চ।
এই আসনের ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবেন, তা শুধু দোহার-নবাবগঞ্জ নয়, পুরো দেশের বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ ও ইসলামপন্থী রাজনীতির অবস্থান সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে। তাই ঢাকা-১ এখন শুধু একটি নির্বাচনী এলাকা নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির পালাবদল, মেরুকরণ ও নতুন প্রজন্মের ভোট আচরণ বোঝার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগার।
অন-অ্যারাইভাল ভিসা স্থগিত ঘোষণা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং বিদেশিদের অনিয়ন্ত্রিত আগমন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ‘অন-অ্যারাইভাল ভিসা’ সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন যে, নির্বাচনের সময় অনেক সময় এমন কিছু মানুষ দেশে আসার চেষ্টা করেন যারা কাম্য নয় এবং তাদের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। মূলত এই বিশেষ নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করেই সাময়িকভাবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, নিয়মিত প্রক্রিয়ায় দূতাবাস থেকে ভিসা সংগ্রহ করে বিদেশিদের বাংলাদেশে আসার পথ খোলা রয়েছে; কেবল তাৎক্ষণিক ভিসা প্রদানের বিষয়টিই এখন স্থগিত থাকবে।
একই ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বাহরাইনে একটি বাসায় বসে পোস্টাল ব্যালট গণনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান যে, বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে এবং এটি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত এই ঘটনাটি নিয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন। এটি নির্বাচনের স্বচ্ছতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ বা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশের সৈন্য পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে উপদেষ্টার কাছে দীর্ঘ সময় জানতে চাওয়া হয়। এ বিষয়ে তৌহিদ হোসেন একটি অত্যন্ত নীতিগত ও স্পষ্ট বার্তা প্রদান করেন। তিনি জানান যে, গাজায় ফোর্স পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি কেবল প্রাথমিক আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনটি কঠোর শর্তের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, কোনো অবস্থাতেই প্রতিকূল পরিবেশে বাংলাদেশ সেখানে যাবে না। প্রথমত, বাংলাদেশ কোনো অবস্থাতেই সেখানে যুদ্ধ করতে বা লড়াইয়ে অংশ নিতে যাবে না। দ্বিতীয়ত, সেখানে এমন একটি শক্তিশালী ও সুনির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকতে হবে যাদের সাথে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হবে। এই সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এবং আলোচনার ফলাফল ইতিবাচক না হলে বাংলাদেশ গাজা মিশনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে না।
মিয়ানমার সীমান্তে চলমান সংঘাত ও সেখানে জান্তা বাহিনীর সাথে বিদ্রোহীদের লড়াইয়ের ফলে উদ্ভূত উত্তজনা নিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বর্তমান কূটনৈতিক পদক্ষেপের কথা জানান। তিনি বলেন যে, সীমান্তে অস্থিতিশীলতা ও সংঘাতের প্রতিবাদে ইতোমধ্যে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কড়া আপত্তি জানানো হয়েছে। তবে সীমান্তের বর্তমান অবস্থার সুনির্দিষ্ট ও মুহূর্তের তথ্য এই মুহূর্তে তার কাছে নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপদেষ্টা জানান যে, এই বিষয়টি মূলত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান নিবিড়ভাবে তদারকি করেন। বর্তমানে তিনি ব্যক্তিগত কারণে দেশের বাইরে অবস্থান করায় মাঠ পর্যায়ের সবশেষ বিস্তারিত তথ্যগুলো তিনি দেশে ফেরার পর আরও সঠিকভাবে জানানো সম্ভব হবে। সরকার সীমান্ত পরিস্থিতি সজাগ দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ফিরলে এ বিষয়ে আরও বড় পদক্ষেপ বা তথ্য জানা যাবে।
গণভোটই হবে ফ্যাসিবাদ ঠেকানোর প্রধান হাতিয়ার: আলী রীয়াজ
নতুন করে দেশ পুনর্গঠন এবং দীর্ঘ ১৬ বছরের লুটপাট ও দুর্নীতির অবসান ঘটাতে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রংপুরের আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান।
গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে তিনি বলেন, এই ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে আগামী দিনে তরুণ প্রজন্মের কাছে কেমন বাংলাদেশ হস্তান্তর করা হবে।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ তার বক্তব্যে দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের মাধ্যমেই নতুন বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। তিনি বলেন, “তরুণরা যদি একটি নতুন এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পেতে চায়, তবে তাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমেই সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
জুলাই আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরে অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, জুলাই সনদ কেবল কাগজে লেখা কোনো দলিল নয়। এটি শহীদদের রক্ত দিয়ে লেখা একটি পবিত্র অঙ্গীকার। তিনি আরও যোগ করেন, “এই সনদের প্রতিটি লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে গণভোটে জনগণের রায় অত্যন্ত জরুরি। শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে আমাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।”
গণভোটের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজ স্পষ্ট করেন যে, এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলকে ক্ষমতায় বসানোর লড়াই নয়। বরং এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের লড়াই। তিনি বলেন, “গণভোটে কোনো ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া হচ্ছে না। জনগণ যদি এই সংস্কারে সম্মতি দেয়, তবে কোনো রাজনৈতিক দলেরই ক্ষমতা থাকবে না সেই সংস্কার প্রক্রিয়াকে আটকে রাখার।”
তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছর ধরে জনগণের টাকা যেভাবে লুটপাট হয়েছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের মাধ্যমে সেই দুর্নীতির পথ অনেকাংশেই বন্ধ করা সম্ভব হবে।
ভবিষ্যতে দেশে যাতে পুনরায় কোনো ফ্যাসিবাদী শাসনের উত্থান না ঘটে, সে বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন অধ্যাপক রীয়াজ। তিনি মনে করেন, গণভোটই হচ্ছে ফ্যাসিবাদ ঠেকানোর অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। তার মতে, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই কেবল আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে পারে।
রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আরেক বিশেষ সহকারী মনির হায়দারসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে গণভোট নিয়ে সচেতনতা আরও বাড়বে।
গাজা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সরকারের শর্ত: যা বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
গাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ) বা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। তবে এই প্রস্তাব নিয়ে বর্তমানে উচ্চপর্যায়ে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা সরকারের এই অবস্থানের কথা পরিষ্কার করেন।
তিনটি কঠোর শর্তে অনড় ঢাকা গাজা মিশনে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, আইএসএফ বাহিনীতে শেষ পর্যন্ত কারা থাকবে বা কারা থাকবে না, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এই মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি তিনটি সুনির্দিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভর করছে।
উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, "মূল কথা হলো, আমরা তিনটি শর্তের কথা জানিয়েছি। যেকোনো পরিস্থিতিতে এই পরিবেশ সৃষ্টি না হলে আমরা সেখানে যাব না। আমরা ওখানে লড়াই করতে বা যুদ্ধে অংশ নিতে যাব না। যদি এমন কোনো পরিবেশ থাকে যেখানে কারও সাথে যোগাযোগ সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রেও আমরা যাব না। আমাদের এই শর্তগুলো অত্যন্ত পরিষ্কার।" তিনি আরও জানান, পরিবেশ অনুকূল হলে তবেই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী চিন্তাভাবনা করা হবে।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে এসে এ ধরনের বড় আন্তর্জাতিক জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে চলে আসছে সত্য, তবে রাষ্ট্র ও সরকার কিন্তু থেকে যায়। একটি সরকার পরিবর্তন হলেই মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু বদলে যায় না।" এর মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা রক্ষার ইঙ্গিত দেন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ রাখার বিষয়ে উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সাময়িকভাবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া চীনের সহায়তায় বাংলাদেশের সামরিক অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্য কোনো দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ বাংলাদেশ নেবে না। মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সীমান্তে হতাহতের ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
বিতর্কের প্রেক্ষাপট গাজায় প্রস্তাবিত এই আন্তর্জাতিক বাহিনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আগ্রহের কথা প্রথম জানান অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরে ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
ফিলিস্তিনের দীর্ঘদিনের মিত্র ও ‘বন্ধু’ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ কেন মার্কিন প্রস্তাবিত একটি বাহিনীতে যোগ দিতে চাইছে, বিশেষ করে এটি যদি জাতিসংঘের সরাসরি তত্ত্বাবধানে না হয়—তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে প্রেস সচিব শফিকুল আলমও অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।
ওষুধের বাজারে উত্তাপ: কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণনে লাগাম টানছে সরকার
দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসার ব্যয়ের বোঝা কমাতে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগের তালিকাভুক্ত ১৩৫টি ওষুধের পরিবর্তে এখন ২৯৫টি ওষুধকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে তালিকায় থাকা প্রতিটি ওষুধের মূল্য রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হবে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের এই হালনাগাদ তালিকা এবং ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নীতির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান জানান, পূর্বের তালিকার সাথে নতুন করে আরও ১৩৫টি ওষুধ যুক্ত করায় এখন মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৫টি।
সরকারের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, এই ২৯৫টি ওষুধ দেশের অন্তত ৮০ শতাংশ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্য চাহিদা মেটাবে এবং সাধারণ মানুষের ৮০ শতাংশ রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই তালিকা চূড়ান্ত করার আগে ওষুধ বিশেষজ্ঞ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি, গবেষক এবং ওষুধ শিল্প মালিকসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে পৃথক আলোচনা ও সুপারিশ গ্রহণ করা হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মোট স্বাস্থ্যব্যয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ব্যয় হয় ওষুধের পেছনে। এই ব্যয়ের বোঝা কমাতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রীতিনীতি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মেনেই নতুন নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ওষুধের দাম পুনর্নির্ধারণ না করায় অনেক কোম্পানি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল। এর পরিবর্তে তারা ‘ইন্ডিকেটিভ প্রাইস’ (আইপি) ওষুধের ওপর জোর দিত, যেগুলোর দাম কোম্পানিগুলো নিজেরা নির্ধারণ করতে পারে। চিকিৎসকরাও এই বেশি দামের ওষুধগুলো বেশি লিখতেন, ফলে বাজারে সস্তা অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।
অধ্যাপক হামিদ আরও বলেন, নতুন ফর্মুলাভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি কার্যকর হলে কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণন বা মার্কেটিং কার্যক্রম কমে আসবে। যেহেতু দাম নির্দিষ্ট থাকবে, তাই অতিরিক্ত মার্কেটিং খরচ করলে তা কোম্পানির নিজস্ব মুনাফা থেকেই দিতে হবে, যা ওষুধের দাম বাড়িয়ে উসুল করার সুযোগ থাকবে না।
সরকারের এই নতুন তালিকায় জনস্বাস্থ্যের ব্যাপক উপকারের কথা বলা হলেও ওষুধ শিল্প মালিকদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব এবং ডেল্টা ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাকির হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বা মূল্য নির্ধারণ নীতি নিয়ে মন্ত্রণালয় তাঁদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি।
তিনি জানান, তাঁরা প্রাইসিং সাব-কমিটির কাছে গিয়ে প্রস্তাব দিয়ে আসলেও চূড়ান্ত তালিকায় কোন ওষুধগুলো রাখা হয়েছে বা দাম নির্ধারণের পলিসি কী—সে বিষয়ে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। কেবল গণমাধ্যমের মাধ্যমেই তাঁরা বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
সব মিলিয়ে, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের এই বিশাল তালিকা এবং কঠোর মূল্য নিয়ন্ত্রণ নীতি বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা খরচ অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা, কোন গ্রেডে কত
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো নিয়ে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত নতুন পে স্কেল ঘোষণার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে নির্বাচন–পূর্ব সময়ে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা সম্ভব নয় বলে সরকার স্পষ্ট করেছে। তবে পে স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটি স্বস্তির বার্তা দিয়েছে সরকার—নতুন কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা বহাল থাকবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক চাপ ও আসন্ন ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার পে স্কেল ঘোষণার ঝুঁকি নিতে চায়নি। নির্বাচন আয়োজন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তবে পে স্কেল প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়নি। বরং কমিশনকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বাস্তবসম্মত কাঠামো প্রস্তুত করা যায়। কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে এবং নির্বাচন শেষে দায়িত্ব গ্রহণকারী নতুন সরকারের কাছে তা হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।
সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সময়ের স্বল্পতা এবং ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির কারণে নির্বাচন–পূর্ব সময়ে নতুন পে স্কেল ঘোষণার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা নেই। ফলে আপাতত বিদ্যমান বেতন কাঠামোর আওতায় সরকারি চাকরিজীবীরা যে সুযোগ–সুবিধা পাচ্ছেন, সেটিই বহাল থাকবে।
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল ঘোষণা করার প্রশ্নই ওঠে না। তার মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়া বাস্তবসম্মত নয় এবং এতে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বেতন কমিশনকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, কমিশনের সুপারিশ ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য একটি নীতিগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
২০২৫ সালে মহার্ঘ ভাতা নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়। ওই বছরের ১ জুলাই থেকে মহার্ঘ ভাতা ঘোষণার বিষয়টি গুরুত্ব পায় এবং বাজেট–পরবর্তী আলোচনায় প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য ১৫ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০ গ্রেডের কর্মীদের জন্য ২০ শতাংশ হারে ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব আসে। তবে পরবর্তীতে সরকার ভাতা কাঠামোর পরিবর্তে পুরো পে স্কেল পুনর্গঠনের দিকেই অগ্রসর হয়।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এখন সিদ্ধান্ত হয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীরা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন। সে হিসাবে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মীরা ১৫ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০ গ্রেডের কর্মীরা ২০ শতাংশ হারে ভাতা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা অষ্টম জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন–ভাতা পাচ্ছেন, যা ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছিল। এর আগে ২০০৯ সালের ১ জুলাই সপ্তম বেতনকাঠামো ঘোষণা করা হয়। সাধারণত পাঁচ বছর পরপর নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার রেওয়াজ থাকলেও অষ্টম বেতনকাঠামোর পর প্রায় নয় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কাঠামো কার্যকর হয়নি।
এই দীর্ঘ বিরতির ফলে অনেক সরকারি কর্মচারীর বেতন গ্রেড সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছে গেছে। একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের ৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে, যা এখনো চালু রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান–এর নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনের মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা, যা জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তেই প্রায় সমাপ্ত হবে। ফলে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপরই বর্তাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
-রাফসান
স্বৈরাচার ঠেকাতে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার সুপারিশ: আলী রীয়াজ
ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কোনো ব্যক্তিবিশেষের পক্ষে স্বৈরাচার হয়ে ওঠা রোধ করতেই দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, দেশের বিদ্যমান রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বারবার একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়েছে। এই প্রবণতা বন্ধ করতে ব্যক্তিবিশেষের ওপর নির্ভর না করে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমেই এর মোকাবিলা করতে হবে।
গতকাল সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন এই সভার আয়োজন করে।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ তার বক্তব্যে ‘জুলাই সনদে’ বর্ণিত উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠিত হলে একদিকে যেমন সকল দল ও জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে, তেমনি সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রেও সকলের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা এমন একটা রাষ্ট্র চেয়েছিলাম যেখানে সমতা, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু গত ৫৪ বছরেও সেই রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারিনি। দলীয় বিবেচনায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে ব্যক্তিতান্ত্রিক ক্ষমতার লোভ চরিতার্থ করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের তরুণরা এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার একটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
আসন্ন গণভোটকে রাষ্ট্র সংস্কারের ‘ভিত্তি তৈরির নির্বাচন’ হিসেবে অভিহিত করেন আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, রাষ্ট্র ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনগুলোকে যদি আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে হয়, তবে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় প্রয়োজন। ভবিষ্যতে আর যেন কোনো ফ্যাসিবাদ জন্ম নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করা সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব।
একই সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার এক কঠোর সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, “গণভোট যদি ব্যর্থ হয়, তবে পরের বার আপনার-আমার সন্তানকে জীবন দিতে হবে। ফ্যাসিবাদ পথ চিনে গেছে, তাই তা খুব দ্রুতই আবার ফিরে আসতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে জুলাই সনদ ও গণভোটে জনগণের সম্মতি অপরিহার্য।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের প্রচারে কোনো বিধিনিষেধ নেই উল্লেখ করে মনির হায়দার সরকারি কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, এই ভোটে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রার্থী নেই, এটি জাতীয় এজেন্ডা। এ বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান এবং রাজশাহী পুলিশ কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান। সভায় বিভাগের সকল জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
পে-স্কেল নিয়ে দুঃসংবাদ! বড় সিদ্ধান্তের পথে সরকার
দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল বা নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন এক সমীকরণ। দেশের চলমান আর্থিক সংকট এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার আপাতত নতুন পে-স্কেল ঘোষণা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে জাতীয় বেতন কমিশনকে তাদের সুপারিশমালা ও একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পে-কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা থেকে জানা গেছে, আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কমিশনের চূড়ান্ত সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করে প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হবে। কমিশন মূলত বেতনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ধাপের অনুপাত ১:৮ চূড়ান্ত করার পথে রয়েছে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১ টাকা হলে সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন হবে ৮ টাকা।
সর্বনিম্ন বেতন কত হতে পারে? নতুন কাঠামোতে সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিনটি পৃথক প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়েছে
প্রথম প্রস্তাব: ২১ হাজার টাকা।
দ্বিতীয় প্রস্তাব: ১৭ হাজার টাকা।
তৃতীয় প্রস্তাব: ১৬ হাজার টাকা। কমিশন মূল্যস্ফীতি এবং একটি পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬ জন ধরে ব্যয়ের হিসাব কষছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উভয়েই জানিয়েছেন, নির্বাচনের ঠিক আগে এমন বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। অর্থ উপদেষ্টা জানান, নির্ধারিত সময়ে কমিশন প্রতিবেদন জমা দিলেও এটি কার্যকর করার দায়িত্ব থাকবে নতুন সরকারের ওপর। তবে অন্তর্বর্তী সরকার একটি সময়োপযোগী কাঠামো তৈরি করে যাবে। নির্বাচনের আগে সরকারি কর্মচারীরা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন। মূলত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে কোনো বড় ধরণের আর্থিক চাপ নিতে চাইছে না বর্তমান প্রশাসন।
বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের ৪ প্রেস কর্মকর্তাকে অব্যাহতি
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে দায়িত্বরত চারজন প্রেস কর্মকর্তাকে অবিলম্বে তাঁদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি নিয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট চার কর্মকর্তা হলেন মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বাংলাদেশ কন্স্যুলেট জেনারেল অফিসের প্রথম সচিব (প্রেস) মো. আরিফুর রহমান, সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (প্রেস) আসাদুজ্জামান খান এবং জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (প্রেস) মো. ইমরানুল হাসান।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে, এই কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াটি গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে এই ৪ কর্মকর্তাকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ১৩ এপ্রিল সেই আদেশটি সাময়িকভাবে বাতিল করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট মিশনগুলোতে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে উল্লিখিত প্রতিটি মিশনে নতুন প্রেস কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের অনুকূলে প্রয়োজনীয় আর্থিক সরকারি আদেশও জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে এই কর্মকর্তাদের আবশ্যিকভাবে এবং অবিলম্বে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি নিতে হবে। পরবর্তী পদায়নের লক্ষ্যে তাঁদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর প্রেস উইংয়ের কাজে নতুন গতিশীলতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে এবং প্রবাসীদের সাথে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে নতুন কর্মকর্তারা দ্রুতই তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বড় কাটছাঁট : আরএডিপির নতুন চিত্র
আজ শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চলতি অর্থবছরের জন্য ২ লাখ কোটি টাকার সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মূল এডিপির তুলনায় এটি প্রায় ১৩ শতাংশ বা ৩০ হাজার কোটি টাকা কম। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যানুযায়ী, সরকারি অর্থায়ন অংশে ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান অংশে ১৪ হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট করা হয়েছে। ফলে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে বরাদ্দ হয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি এবং মন্ত্রণালয়গুলোর চাহিদাপ্রাপ্তি কম হওয়ায় এই বরাদ্দ কমানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশোধিত এডিপিতে খাতভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে স্বাস্থ্য খাত। বাস্তবায়ন সক্ষমতার অভাব এবং প্রশাসনিক ধীরগতির কারণে এই খাতে বরাদ্দ মূল বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ৭৪ শতাংশ কমানো হয়েছে। ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ এখন মাত্র ৪ হাজার ৭১৮ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। একইভাবে শিক্ষা খাতে ৩৫ শতাংশ এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে বড় ধরণের কাটছাঁট করা হয়েছে। অন্যদিকে ব্যতিক্রম হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবেশ ও পানি সম্পদ খাতে ২০ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, যা সরকারের পরিবেশবান্ধব নীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বরাদ্দের দিক থেকে বরাবরের মতোই শীর্ষে রয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। মোট ৩৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে এই খাতটি মোট এডিপির এক-পঞ্চমাংশ দখল করে আছে। তবে এই খাতেও মূল বরাদ্দের তুলনায় ৩৫ শতাংশ অর্থ কমানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দে স্থানীয় সরকার বিভাগ ৩৭ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা পেয়ে সবার উপরে রয়েছে। বর্তমান সংশোধিত কর্মসূচিতে মোট ১ হাজার ৩৩০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে চলতি অর্থবছরেই ২৮৬টি প্রকল্প সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন যুক্ত করলে আরএডিপির মোট আকার দাঁড়ায় ২ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা।
পাঠকের মতামত:
- সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি কি রাতের খাবারের সময়েই লুকিয়ে? যা বলছেন পুষ্টিবিদরা
- মহাকাশের নিস্তব্ধতা ভেঙে রঙিন শকওয়েভ: অরিগা নক্ষত্রমণ্ডলে বিরল আবিষ্কার
- মেজাজ খিটখিটে আর অনিদ্রা? চিনির বদলে মধুই হতে পারে আপনার সমাধান
- অন-অ্যারাইভাল ভিসা স্থগিত ঘোষণা
- গণভোটই হবে ফ্যাসিবাদ ঠেকানোর প্রধান হাতিয়ার: আলী রীয়াজ
- বাথরুমে একা থাকলেও কি সতর ঢাকা জরুরি? যা বলছে ইসলাম
- যুদ্ধের মেঘ মধ্যপ্রাচ্যে: ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিল একাধিক দেশ
- মাগুরার মানুষের জন্য সাকিবের নতুন বার্তা, ফিরতে চান পুরনো অবস্থানে
- বিগ ব্যাশে অভিষেক আসরেই রিশাদের রেকর্ড শিকার
- গাজা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সরকারের শর্ত: যা বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
- বিশ্ববাজারে রেকর্ড ভাঙা উত্থান: সর্বোচ্চ উচ্চতায় সোনা ও রুপা
- জমি রেজিস্ট্রিতে বড় পরিবর্তন: মুক্তি মিলছে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে
- সিলেট উইমেন্স মেডিকেলে ঠোঁট ও তালু কাটা রোগীদের বিনামূল্যে প্লাস্টিক সার্জারি শুরু
- লুণ্ঠিত অস্ত্রের মুখে কি থমকে যাবে ত্রয়োদশ নির্বাচন? হাইকোর্টে নাটকীয় রিট
- ডিএসই প্রধান বোর্ডে আজকের লেনদেনের বিস্তারিত চিত্র
- ১৪ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১৪ জানুয়ারি ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৪ জানুয়ারি ডিএসইতে দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
- কেন এনসিপি ছাড়লেন, ব্যাখ্যায় ডা. তাসনিম জারা
- ৩১ দফা ও ‘আই হ্যাভ আ প্লান’ ইশতেহারে যুক্ত করছে বিএনপি
- ময়মনসিংহে পুলিশের ওপর হামলা, হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই
- প্রথম বিয়ে জেফারের, দ্বিতীয়বার সংসার রাফসানের
- এক দিনে ৫ কোম্পানি, ডিএসই কারখানা পরিদর্শনে কড়া বার্তা
- কোন ফান্ডে কত টাকা ন্যাভ: এক নজরে সম্পূর্ণ চিত্র
- শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সুখবর দিল ফরচুন শুজ
- আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশ
- কোহিনূর কেমিক্যালসের বোনাস ও নগদ লভ্যাংশ বিতরণ
- জেফার বললেন ‘জানি না’, অথচ আমিনবাজারে চলছে বিয়ের রাজকীয় প্রস্তুতি!
- মন্নো অ্যাগ্রোর নগদ লভ্যাংশ বিতরণ
- প্রবাসী'র পক্ষে ব্যারিস্টার নাজির ও মীর্জা আসহাব এর বিমান ও পর্যটন সচিব ও উপদেষ্টার সাথে বৈঠক
- আকাশ থেকে আছড়ে পড়ল বিশালাকার লোহা: থাইল্যান্ডে ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যুমিছিল
- কিডনি সুরক্ষায় ভিটামিন ‘সি’ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে মানতে হবে বিশেষ সতর্কতা
- মুদ্রাস্ফীতির কবলে ইরান: ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে
- হোটেল বা ট্রায়াল রুমে লুকানো ক্যামেরা চেনার ৫টি জাদুকরী কৌশল
- বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে ঢাকায় ব্রাজিল কিংবদন্তি গিলবার্তো সিলভা
- ওষুধের বাজারে উত্তাপ: কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণনে লাগাম টানছে সরকার
- স্মার্টফোন এখন আরও হাতের নাগালে: ৪০ হাজার টাকার ফোনে ছাড় ৮ হাজার
- বিসিবি-আইসিসি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়,কী ঘটেছিল সেদিন
- স্বর্ণের বাজারে অগ্নিমূল্য: রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় দাম, দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা
- টিভিতে আজকের খেলা: বিগ ব্যাশ থেকে বুন্দেসলিগা, চোখ থাকবে যেখানে
- তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে বিদ্রোহী দমনে বড় জয়
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- সংকুচিত হয়েছিল পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র: ২০২৪-এর সৌর ঝড় নিয়ে গবেষণায় উদ্বেগ
- শীতকালীন সবজিতে নতুন স্বাদ: জেনে নিন বাঁধাকপি ভর্তার সহজ রেসিপি
- আবারও দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস
- ৫০তম বিসিএস পরীক্ষার্থীদের মানতে হবে যেসব নিয়ম
- ১৫ মেগাসিটির সফর শেষে ঢাকায় আসছে ফিফা বিশ্বকাপের স্বর্ণালি ট্রফি
- এসএসসি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন, চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ
- ৮ জানুয়ারি ডিএসই মেইন বোর্ডের লেনদেন চিত্র
- এক চড়, দশ হাজার টাকা, আর চিরকালের নত মেরুদণ্ড
- বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ
- ওষুধের দরে বড় চমক! এবার ২৯৫টি ওষুধের দাম বেঁধে দিল অন্তর্বর্তী সরকার
- ডিভিডেন্ড পরিশোধে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তিন প্রতিষ্ঠানের
- ডলারের আধিপত্য ও তেলের নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্পের শুল্কের রাজনীতিতে কাঁপছে বিশ্ববাজার
- শীতে এলপিজির হাহাকার রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল সরকার
- আজ ঢাকায় বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিন প্রস্তাব
- কোরআন ও হাদিসে জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত
- প্রবাসী আয়ের শক্তিতে সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশ: শীর্ষ ১০ দেশের তালিকা প্রকাশ
- দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মাউশির চিঠি, নেপথ্যে কী
- আজকের আবহাওয়া আপডেট: কোথায় কতটা শীত








