বিশেষ প্রতিবেদন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ঢাকা–১ এ হাইভোল্টেজ লড়াই: বিএনপির আশফাক বনাম জামায়াতের ব্যারিস্টার নজরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৮ ১৫:১২:১২
ঢাকা–১ এ হাইভোল্টেজ লড়াই: বিএনপির আশফাক বনাম জামায়াতের ব্যারিস্টার নজরুল

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকার ১ নম্বর আসন, অর্থাৎ দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলাজুড়ে এখন থেকেই টানটান উত্তেজনা। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপির লড়াইয়ের ময়দান হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক এবং জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের মধ্যে। তিন দশকের বেশি সময়ের ভোটের ইতিহাস, দলীয় ঘাঁটি, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও নতুন ভোটারদের প্রবণতা মিলিয়ে ঢাকা-১ আসনটি হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতির জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

প্রার্থী হিসেবে কে কতটা শক্তিশালী

ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ইতোমধ্যে সুপরিচিত একটি নাম। নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সরাসরি কাজ করেছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন, যদিও পরে আইনি জটিলতায় তার প্রার্থিতা স্থগিত হয়। ২০১৬ সালে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২২ সালে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি সাংগঠনিকভাবে আরও শক্ত অবস্থানে আসেন।

দলের দুঃসময়, মামলা, গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়নের সময় তিনি মাঠে থেকে সংগঠন ধরে রেখেছেন বলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মন্তব্য। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ ইশতিয়াক আনুষ্ঠানিকভাবে আশফাককে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “আশফাক বিএনপির দুর্দিনের এক সাহসী কর্মী। আমি আশাবাদী, সে নির্বাচিত হয়ে দোহার–নবাবগঞ্জকে দেশের মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবে।” দলের ভেতরে ও বাইরে এমন প্রশংসা আশফাককে বিএনপির সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছে।

অন্যদিকে জামায়াত সমর্থিত ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম মূলত শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত কৃতিত্ব ও ব্যক্তি ইমেজের কারণে দ্রুত আলোচনায় উঠে এসেছেন। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের বাঘহাটি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া নজরুল ইসলামের ছাত্রজীবন থেকেই ছিল আলাদা উজ্জ্বলতা। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে আইন বিষয়ে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে স্বর্ণপদক পান।

এরপর সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া থেকে কামিল, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আরেকটি এলএলবি, সিটি ইউনিভার্সিটি লন্ডন থেকে লিগ্যাল প্রফেশনে পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা এবং বিশ্বখ্যাত মিডল টেম্পল থেকে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি (বার-অ্যাট-ল) অর্জন করে তিনি নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের আইনজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ছাত্রজীবনে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয়সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র হিসেবেদায়িত্বপালন করেন। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনেই তিনি প্রথমবারের মতো ঢাকা-১ আসনে সরাসরি সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন এবং ইতিমধ্যেই স্থানীয় শিক্ষিত তরুণ ও ধর্মপ্রাণ মানুষের চোখে একজন সৎ, যোগ্য ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

ঢাকা-১: ভোটার প্রোফাইল ও দীর্ঘ তিন দশকের নির্বাচনী হিসাব

দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১ আসনটি মূলত গ্রামীণ ও মফস্বল অধ্যুষিত এলাকা। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ৪৪০,২৮৬ জন। ভোটার তালিকা হালনাগাদের পর এবার এই সংখ্যা প্রায় পাঁচ লক্ষেরকাছাকাছি পৌঁছেছে বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা। কৃষক, ব্যবসায়ী, প্রবাসী পরিবারের সদস্য, চাকরিজীবী এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষিত যুবক-যুবতী এই আসনের ভোটার কাঠামোর বড় অংশ।

নির্বাচনীইতিহাসেদেখা যায়, স্বাধীনতা-উত্তর প্রথম নির্বাচন ১৯৭৩ সালে এই আসনে জয় পেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। কিন্তু ১৯৭৯ সালথেকেইএইআসনেবিএনপির প্রভাব বাড়তে শুরু করে; খন্দকার দেলোয়ার হোসেন তখন থেকে এ আসনকে বিএনপি ঘাঁটি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৯১ সালেরপঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নজমুল হুদা ৬০.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী পান ৩৪.৪ শতাংশ ভোট। ১৯৯৬ সালের জুন পুনর্নির্বাচন ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয়নির্বাচনেতিনিপরপরদুইবার নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোট পান, আর আওয়ামীলীগপ্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ছিল ২৯ শতাংশের নিচে। ২০০১ সালে টানটান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নজমুল হুদা ৫১.৪ শতাংশ ভোট পেয়ে মাত্র ২,৭৭১ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শিল্পপতি সালমান এফ রহমানকে হারান এবং পরবর্তীতে যোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বও পান।

তবে ২০০৮ সালের নবম জাতীয়নির্বাচনে রাজনৈতিক পালাবদলের ঢেউ ঢেউ আঘাত হানে এই আসনেও। আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান ৫৪.৯ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর বিএনপির প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান পান ৪২.৮ শতাংশ ভোট। ওই নির্বাচনে প্রায় ৮৯ শতাংশ ভোটার উপস্থিত ছিলেন, যা অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ ভোটার অংশগ্রহণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

২০১৪ সালের দশম জাতীয় নির্বাচনেবিএনপি অংশ না নেওয়ায় এক অদ্ভুত সমীকরণ তৈরি হয়। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েও আবদুল মান্নান খান অল্প ব্যবধানে পরাজিতহন। জাতীয় পার্টির সালমা ইসলাম ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, আর মান্নান খান পান ৪৮ শতাংশ ভোট। সরকারি হিসাব অনুযায়ী সেই নির্বাচনেভোটারউপস্থিতিছিলমাত্র ২৬.৯ শতাংশ, যদিও বাস্তবে উপস্থিতি তার থেকেও কম ছিল বলে তখনই আলোচনা তৈরি হয়।

২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সালমান এফ রহমান প্রথমবারের মতো ঢাকা-১ আসনে সাংসদ নির্বাচিত হন। বিএনপি প্রার্থী হিসেবেখন্দকারআবু আশফাক মনোনয়নপত্র জমা দিলেও নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে তার পদত্যাগ স্বীকৃতি না পেয়ে আইনি জটিলতায় প্রার্থিতাবাতিলহয়। ফলে ব্যালটে বিএনপি বা বিএনপি–জোটের কোনো প্রার্থী ছিল না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কেবল সালমা ইসলাম অংশ নেন। সরকারি হিসাবে ওই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৮০ শতাংশের বেশি দেখানো হয়। এতে সালমান এফরহমানপ্রায় ৩,০২,৯৯৩ ভোট অর্থাৎ প্রায় ৮৫.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, আর সালমা ইসলাম পান ৩৭,৭৬৩ ভোট, যা প্রায় ১০.৭ শতাংশ।

এই দীর্ঘ ইতিহাসের আলোকে দেখা যায়, ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বিএনপি এ আসনে জয় পায়, ২০০৮ ও ২০১৮ সালে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ, আর ২০১৪ সালে জয় পায় জাতীয় পার্টি। সেই তুলনায় ২০২৬ সালের নির্বাচন আবারও বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের এক পরীক্ষামূলক ময়দান হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সাংগঠনিক ভিত্তি ও প্রভাব: মাঠে কার কতটা প্রস্তুতি

খন্দকার আবু আশফাক দীর্ঘদিনের সংগঠক হওয়ায় তৃণমূলের সঙ্গে তার যোগাযোগ অনেক পুরনো ও বিস্তৃত। ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে থেকে তিনি দোহার ও নবাবগঞ্জ মিলে অন্তত ১০টি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ইউনিটের সঙ্গে প্রতিনিয়ত কাজ করছেন। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে তার প্রভাব সুস্পষ্ট। সাম্প্রতিক সময়ে দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের ঝুনকি গ্রামে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে আশফাককে প্রধান অতিথি হিসেবে দেখতে বিপুল জনসমাগম হয়। ওই বৈঠকে তিনি বলেন, “দোহার–নবাবগঞ্জবাসী অনেকদিন ধরে অবহেলিত। এই দেশ, এই আসন, এই জনগণ বিএনপির। ইনশাআল্লাহ, জনগণের ভোটেই পরিবর্তন আসবে।” বক্তৃতা শেষে উপস্থিত মানুষ ও কর্মীরা করতালি আর ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান এবং বিএনপির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেন।

তবে সবকিছু এতটা মসৃণও ছিল না। স্থানীয় সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ভাষ্যে, দোহার উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেআগেঅভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা দিয়েছিল। আশফাকের নেতৃত্বে এক পক্ষ এবং আরেক সাবেক নেতার নেতৃত্বে অন্য পক্ষের মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়। ২০২২ সালে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি ঐক্য গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেন এবং এখন আন্দোলন ও নির্বাচনে পুরো জেলা কমিটিকে একটি মডেল হিসেবে দাঁড় করানোর কথা বলে আসছেন। কেন্দ্রীয় আন্দোলন কর্মসূচিতেসক্রিয়থাকার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তার নেতৃত্বে কর্মীরা নতুন করে উদ্দীপ্ত হয়েছে বলে ধারণা দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম সাংগঠনিক রাজনীতিতে তুলনামূলক নতুন মুখ হলেও জামায়াতের পুরোনো ও মৌলিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে তিনি নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছেন। ছাত্রশিবিরে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পালন ও প্রবাসে জামায়াতের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে একজন কার্যকর সংগঠক হিসেবে গড়ে তুলেছে।

এলাকায় উপস্থিতি জোরদার করতে তিনি স্কুল–কলেজ, হাট–বাজার, মসজিদ–মাদরাসা থেকে পাড়া–মহল্লায় ধারাবাহিক গণসংযোগ চালাচ্ছেন। দোহার উপজেলার নয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাজারে তার সাম্প্রতিক প্রচারণায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। এক সহকারী শিক্ষক মন্তব্য করেছেন, “ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম একজন শিক্ষানুরাগী মানুষ। তার কথা শুনে মনে হয়েছে তিনি সত্যিই শিক্ষা ও উন্নয়নের পক্ষে কথা বলেন।” সাধারণ ভোটারদের কেউ কেউ বলেছেন, “এত বড় শিক্ষিত মানুষ হয়েও যেভাবে আমাদের সঙ্গে সহজভাবে কথা বলছেন, এটা আমাদের ভালো লেগেছে।”

সাম্প্রতিক এক মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় শত শত মোটরসাইকেল ও সমর্থকের অংশগ্রহণ এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ শোভাযাত্রায় ব্যারিস্টার নজরুল একটি ছাদখোলা গাড়িতে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, “জনগণই আমার শক্তি। তারা চাইলে পরিবর্তনের পথ তৈরি হবে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় গ্রহণ করতে চাই।” এই ধরনের বার্তা এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ ক্যাম্পেইন তার জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়িয়ে তুলছে। জামায়াতের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আমির ও শীর্ষ নেতারা তার প্রচারে সক্রিয় হওয়ায় মাঠপর্যায়ে একটি সুসংগঠিত প্রচারণা গড়ে উঠছে।

দোহার বনাম নবাবগঞ্জ: কার ঘাঁটি কোথায় দৃঢ়

ঢাকা-১ আসনের ভোটসমীকরণ বোঝার ক্ষেত্রে দোহার ও নবাবগঞ্জ দুই অংশকে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি। ঐতিহাসিকভাবে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। নজমুল হুদার রাজনীতির কেন্দ্রও ছিল এই অঞ্চল। খন্দকার আবু আশফাক নিজেও নবাবগঞ্জের বাসিন্দা এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ায় নবাবগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও সংগঠন উভয়ই শক্তিশালী। কলাকোপা, কৈলাইল, বান্দুরা, বারুয়াখালীসহ একাধিক ইউনিয়নে বিএনপির দীর্ঘদিনের কর্মী-সমর্থকেরা তার পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। আশফাক নিজের বাড়ির আঙিনায় পর্যন্ত দলীয় সভা ও সম্মেলন করেছেন, যা তার স্থানীয় ভিত্তি কতটা গভীরে তা নির্দেশ করে।

কিন্তু সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে এই তথ্য যে জামায়াতের প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের বাড়িও নবাবগঞ্জের কলাকোপা ইউনিয়নে। অর্থাৎ দুই প্রতিদ্বন্দ্বীই একই অঞ্চলের সন্তান। নবাবগঞ্জের বহু পরিবারেই ইসলামী আদর্শের প্রতি ঝোঁক আছে বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মত, যা অতীতে প্রায়শই বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে গিয়েছে। এবার জামায়াতের নিজস্ব প্রার্থী থাকায় সেই ভোটের একটি অংশ নজরুল ইসলামের দিকে সরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মসজিদ-মাদরাসা ও ধর্মীয় অনুশীলনকে ঘিরে যে সামাজিক নেটওয়ার্ক তৈরি হয়, সেখানে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের নিয়মিত উপস্থিতি তাকে এক ধরনের প্রাকৃতিক সুবিধা দিচ্ছে।

দোহার উপজেলায় চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এখানে ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়েরই উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংক ছিল। নজমুল হুদার সময় থেকে বিএনপি ভালো ফল করলেও পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উন্নয়নমুখী কিছু পদক্ষেপও স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। বিএনপি জেলা সভাপতি হিসেবে আশফাক দোহার অংশেও নিয়মিত দলীয় কর্মসূচি করছেন। নারিশা, সুচারপাড়া, কার্তিকপুর, মুকসুদপুর, নয়াবাড়ী, কুসুমহাটি প্রভৃতি ইউনিয়নে উঠান বৈঠক ও কর্মীসভা করে তিনি দলের সংগঠনকে সক্রিয় রাখার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে প্রবাসী বিএনপি সমর্থক ও স্থানীয় সিনিয়র নেতাদের একযোগে মাঠে দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

দোহার অংশে জামায়াত ঐতিহ্যগতভাবে নিজস্ব প্রার্থী দেয়নি। ফলে এখানে ব্যারিস্টার নজরুলের প্রচারণা মূলত শূন্য থেকে সংগঠন দাঁড় করানোর প্রক্রিয়া। তিনি জামায়াতের উপজেলা আমির ও কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে ঘুরছেন, স্কুল–কলেজের তরুণদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং ইসলামী মূল্যবোধ ও সুশাসনকে সামনে রেখে সমর্থন চাইছেন। নয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাজারে তার প্রচারণা স্থানীয়ভাবে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে এবং ধীরে ধীরে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে উঠছেন। অতীতে জামায়াত প্রার্থী না থাকায় যারা ইসলামী আদর্শের প্রতি ঝোঁক থাকা সত্ত্বেও বিএনপিকেই ভোট দিতেন, তাদের কিছু অংশ এবার জামায়াতের প্রার্থীর দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন ভোটার: পরিবর্তনের ভাষা নাকি ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা

দেশজুড়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের ফলে প্রায় ৬২ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ৫ শতাংশ। ঢাকা-১ আসনেও ধারণা করা হচ্ছে ২০ হাজারের বেশি নতুন ভোটার এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। এদের বড় অংশই ২০০১-২০০৫ সালে জন্ম নেওয়া তরুণ–তরুণী, যারা পড়াশোনা, চাকরি, প্রবাস বা অনলাইন-নির্ভর জীবনযাপনের মাধ্যমে অনেক বেশি সচেতন ও প্রশ্ন করতে অভ্যস্ত।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন প্রজন্মের একটি অংশ পুরনো ধরনের দলীয় রাজনীতির বাইরে গিয়ে শিক্ষিত, ক্লিন ইমেজ এবং আন্তর্জাতিক মানসিকতার নেতৃত্বকে বেশি প্রাধান্য দিতে চায়। এই জায়গাতেই ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের প্রোফাইল তাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। তার উচ্চশিক্ষা, ইংরেজি ও আন্তর্জাতিক আইনের জ্ঞান, নীতি-নৈতিকতা ও তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য অনেক তরুণের কাছে আশাবাদী সুর তৈরি করছে। কিছু স্থানীয় তরুণের মন্তব্য, “শিক্ষায়, নীতিতে ও নেতৃত্বগুণে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম এ অঞ্চলের তরুণদের অনুপ্রেরণার উৎস”, এই প্রজন্মের মানসিকতার ইঙ্গিত দেয়।

অপরদিকে, ঐতিহ্যগত পারিবারিক ও দলীয় আনুগত্য এখনও বিএনপির জন্য বড় শক্তি। বহু পরিবারেই প্রবীণ ভোটাররা বরাবরই বিএনপির পক্ষে ভোট দিয়ে এসেছেন এবং তারা স্বাভাবিকভাবেই সন্তান-নাতি-নাতনিদেরও সেই ধারায় রাখার চেষ্টা করছেন। খন্দকার আবু আশফাক এরই মধ্যে যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মীদের নিয়ে নতুন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছানোর কৌশল নিয়েছেন। তিনি তরুণদের কাছে স্থানীয় উন্নয়ন, চাকরি, শিক্ষা এবং গত এক দশকের বেশি সময়ের “গণতন্ত্র সংকট ও বেকারত্ব” প্রসঙ্গ তুলে ধরে পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছেন। তার উঠান বৈঠক ও পথসভায় তরুণদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যা বিএনপির জন্য ইতিবাচক সিগন্যাল।

একদিকে আদর্শগতভাবে ইসলামী মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে আগ্রহী এক ঝোঁক দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকেবহু তরুণ গণতন্ত্র, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও বৃহত্তর জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ বিবেচনা করে ধানের শীষের প্রতীকের দিকেও তাকিয়ে আছে। ফলেনতুন ভোটারদের ভোট শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উভয় পক্ষের জন্যই অনিশ্চিত ও টার্গেট গ্রুপ হিসেবে থাকবে বলেই মনে হচ্ছে।

ঢাকা-১ আসনের নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই স্থানীয়ভাবে হাইভোল্টেজ উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে দীর্ঘদিনের সংগঠক ও তৃণমূলভিত্তিক নেতা হিসেবে খন্দকার আবু আশফাক বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছেন। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষিত, তুলনামূলক নতুন কিন্তু দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম জামায়াতেরপক্ষথেকেনিজের রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।

নবাবগঞ্জের ঐতিহ্যগত বিএনপি ঘাঁটি, দোহার অংশের মিশ্র সমীকরণ, জামায়াতের নতুন রাজনৈতিক উপস্থিতি, তৃণমূল সংগঠন, ধর্মভিত্তিকভোট, প্রবাসী পরিবারের প্রভাব ও নতুন ভোটারদের মানসিকতা সবকিছু মিলিয়ে ঢাকা-১ আসনটি হয়ে উঠেছে একটি জটিল ও আকর্ষণীয় নির্বাচনী লড়াইয়ের মঞ্চ।

এই আসনের ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবেন, তা শুধু দোহার-নবাবগঞ্জ নয়, পুরো দেশের বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ ও ইসলামপন্থী রাজনীতির অবস্থান সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে। তাই ঢাকা-১ এখন শুধু একটি নির্বাচনী এলাকা নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির পালাবদল, মেরুকরণ ও নতুন প্রজন্মের ভোট আচরণ বোঝার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগার।


চাঁদাবাজ ও দখলদারদের ঠাঁই বিএনপিতে নেই: তারেক রহমানের কড়া হুশিয়ারি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১১ ২৩:০৭:২৯
চাঁদাবাজ ও দখলদারদের ঠাঁই বিএনপিতে নেই: তারেক রহমানের কড়া হুশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

দলের ভেতরে যেকোনো মূল্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। সাফ জানিয়ে দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘চাঁদাবাজ ও দখলদারদের কোনো জায়গা বিএনপিতে নেই।’ শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনা ঘটলে বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সংসদ সদস্যদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা জারি করেছেন তিনি। বিশেষ করে আসন্ন দুর্গাপূজা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হতে পারে এবং সংখ্যালঘুদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, সেজন্য দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব দিকনির্দেশনা দেন। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে শুরু হওয়া তিন ঘণ্টাব্যাপী এই বিশেষ বৈঠকটি রাত ৯টা ২০ মিনিটে শেষ হয়, যার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি। সাধারণত সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার কাছাকাছি সময়ে এই বৈঠকগুলো ডাকা হলেও, আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সম্ভাব্য অধিবেশনের বেশ আগেই প্রধানমন্ত্রী বিশেষ এই সভা তলব করেন।

বৈঠক সূত্র অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন যে, কেউ আইনের কিংবা জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয় এবং সংসদ সদস্যদেরও জবাবদিহি করতে হবে। বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এমপিরা যদি কর্মীবান্ধব না হয়ে জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, তবে তা দিনশেষে দলের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে। এসময় তিনি সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার কথা শোনেন।

বৈঠকে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান তুলে ধরা হয়। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি জোরদার, ঐক্য বজায় রাখা এবং যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়ে প্রাথমিক নির্দেশনা দেন সংসদ নেতা। সরকার গঠনের পর গত আট মাসে বাস্তবায়িত কাজের অগ্রগতি ও সম্ভাব্য বাধা সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন তিনি।

জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু জানান, বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের সাফল্য ধরে রাখতে জনপ্রিয় ও যোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে কথা হয়েছে। অন্যদিকে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া নিশ্চিত করেন, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে জনগণের পাশে থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে সাধারণ মানুষ সন্তুষ্ট থাকে। এমপি-মন্ত্রী কিংবা দলীয় নেতাকর্মী কেউ কোনো অপকর্মে জড়ালে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

/আশিক


জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা সঠিকভাবে খরচের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১১ ২০:৩১:০৪
জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা সঠিকভাবে খরচের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা যেন সঠিকভাবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক ও সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেন। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ দেবে, তবে খেয়াল রাখতে হবে এটি জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ। এই অর্থের প্রতিটি পয়সা যেন দেশের স্বার্থে সঠিকভাবে ব্যয় হয়, সেদিকে সবাইকে গভীর মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সরকারি দায়িত্ব পালনকে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার একটি বিশেষ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা অনেক দিক থেকে সুবিধাপ্রাপ্ত অবস্থানে আছেন। আল্লাহতায়ালা সবাইকে দেশ ও মানুষের সেবা করার যে সুযোগ দিয়েছেন, যার যার অবস্থান থেকে তা আন্তরিকভাবে কাজে লাগানোর তাগিদ দেন তিনি। দায়িত্ব পালনের সুযোগ সবসময় স্থায়ী হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যিনি যখন যে দায়িত্বে আছেন, সেই সুযোগকে দেশ ও জাতির কল্যাণে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।

এ সময় সরকারি কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে নিজেদের মতামত তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন স্তরে কর্মরত কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব পর্যবেক্ষণ সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ভবিষ্যতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে পরবর্তী বৈঠকে কর্মকর্তারা আরও খোলামেলাভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ তুলে ধরবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উক্ত পর্যালোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সচিব দেলোয়ার হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

/আশিক


টেকসই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করছে বাংলাদেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১১ ২০:০৬:৩৭
টেকসই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করছে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

মিয়ানমারে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের (এফডিএমএন) নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এটি বাস্তবায়নে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও জোরালো করা হচ্ছে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

রবিবার রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনের অন্তরা হলে ‘ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’ (এফএসডিএস) আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা ক্রাইসিস : ওয়ে ফরওয়ার্ড - টুওয়ার্ডস সাসটেইনেবল রিপ্যাট্রিয়েশন অ্যান্ড আ ডিউরেবল রিজিওনাল সলিউশন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন। এফএসডিএস-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রীর পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে একা বাংলাদেশের একার প্রচেষ্টা পর্যাপ্ত নয়। এজন্য চীন, আসিয়ান, জাতিসংঘ ও জাপানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে যুক্ত করে একটি কৌশলগত আঞ্চলিক জোট এবং সুসমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য।

সম্প্রতি জাপান সরকারের মিয়ানমার বিষয়ক জাতীয় পুনর্মিলন সংক্রান্ত বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাসাকাওয়ার বাংলাদেশ সফরের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী জানান, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী এবং তিনি নিজে এই ইস্যুতে গভীর আলোচনা পরিচালনা করেছেন এবং জাপান সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে। এছাড়া চলতি মাসের শেষদিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত জাপান সফরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করার বিষয়ে বিস্তারিত কথা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সেখানে আইনি সরকারের পাশাপাশি একটি বড় অংশ এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগসহ নানা কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করে জটিলতার সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে সবকিছুর মূল লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসন এবং চূড়ান্ত বিকল্প হিসেবে সব পথ খোলা রেখেই বাংলাদেশ তার কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাবে।

/আশিক


কন্যাশিশুর শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১১ ১৯:৩১:৫৪
কন্যাশিশুর শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী 
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন যে, কন্যাশিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকার সুস্পষ্ট নীতি ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামীকাল উদযাপিত হতে যাওয়া এই দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য হলো—‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, কোনো মেয়ের স্বপ্ন যেন অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, নিরাপত্তাহীনতা বা বৈষম্যের কারণে মাঝপথে থেমে না যায়, তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রতিটি কন্যাশিশু যেন শিক্ষা, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসে সমৃদ্ধ হয়ে নিজের সম্ভাবনা বিকাশের সমান সুযোগ পায়—এটাই বর্তমান সরকারের মূল অঙ্গীকার। একটি শিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠা এবং স্বাধীনভাবে স্বপ্ন দেখার সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পবিত্র কর্তব্য বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নারীর শিক্ষা ও অগ্রগতির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া নারীদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার ঐতিহাসিক সুযোগ করে দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই বর্তমান সরকার নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পড়ালেখার সুযোগ সম্পূর্ণ অবৈতনিক ও অবারিত করেছে। এছাড়া নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে প্রতিটি পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ইস্যু করার যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

তারেক রহমান আরও বলেন, সরকার এমন একটি সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে কাজ করছে যেখানে প্রতিটি মেয়ের জন্ম পরিবারের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠবে। বাল্যবিয়ে এবং সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আজকের কন্যাশিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে। বাস্তব ও ডিজিটাল উভয় পরিসরে তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষ্যে দেশের সব কন্যাশিশু, তাদের অভিভাবকসহ দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

/আশিক


ফ্যাসিস্ট আমলের অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের দুর্নীতি তদন্তের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১১ ১৮:৫১:২২
ফ্যাসিস্ট আমলের অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের দুর্নীতি তদন্তের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির
ছবি : সংগৃহীত

ফ্যাসিস্ট সরকারের আম্লে দেশি-বিদেশি অর্থায়নে বাস্তবায়িত অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতি কঠোরভাবে তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে এডিস মশা নিধন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান সরাসরি তদারকি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, এমপির সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, জসীম উদ্দীন আহমেদ, শেখ ফরিদ আহমেদ, সেলিনা সুলতানা, এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং মো. রফিকুল ইসলাম খান।

বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা, স্বজনপ্রীতিমুক্ত আচরণ এবং পূর্ণ জবাবদিহির সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এছাড়া প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উপজেলা পর্যায়ে কর্মকর্তাদের জন্য অনলাইনভিত্তিক হাজিরা চালুর সুপারিশ করা হয়।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আর্সেনিকযুক্ত এলাকাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও সুপেয় পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রামীণ সড়ক ও রাস্তাঘাট নির্মাণকাজের কাঙ্ক্ষিত গুণগত মান, স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে কাজের মান সাপেক্ষে তিন বছরের ওয়ারেন্টি বাবদ জামানত রাখার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে প্রতিটি নির্মাণকাজের নিবিড় তদারকি জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও সদস্যদের পরিচিতি পর্বের পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কার্যক্রমের ওপর একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকারের বিগত ১৮০ দিনে মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত নানা কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।

বৈঠকের শুরুতে কমিটির সভাপতি তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের আন্দোলনে নিহত ছাত্র-জনতাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, অতিরিক্ত ও যুগ্ম সচিবগণ, বিভিন্ন সংস্থা ও অধিদপ্তরের প্রধানগণ এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


গরুর মাংসের দাম ২৫০ টাকায় নামাতে সরকারকে আইনি নোটিশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১১ ১৮:৪২:৩৯
গরুর মাংসের দাম ২৫০ টাকায় নামাতে সরকারকে আইনি নোটিশ
ছবি : সংগৃহীত

দেশে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ২৫০ টাকায় নামিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়ে সরকারকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য জীবিত গরু এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদপ্রাপ্ত হালাল প্যাকেটজাত মাংস আমদানির ওপর বর্তমানে বহাল থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আমদানি শুল্ক যৌক্তিকীকরণের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করে এই আইনি নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মোট ছয়জন কর্মকর্তাকে এই নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে।

নোটিশে বর্তমান বাজার পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা পর্যন্ত চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। পণ্যের এই অতিরিক্ত দামের কারণে দেশের দরিদ্র, নিম্নবিত্ত এবং নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে পুষ্টিকর এই খাদ্যপণ্য ক্রয় করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর বিরূপ প্রভাবে শিশুদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুপরিচিত ‘তুলনামূলক সুবিধা তত্ত্ব’ (Theory of Comparative Advantage) উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়েছে, যেসব রাষ্ট্রে তুলনামূলক কম খরচে নির্দিষ্ট কোনো পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব, সেসব দেশ থেকে তা আমদানি করলে দেশের সাধারণ ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে সেই পণ্য পাওয়ার অধিকার রাখেন। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাতের উদাহরণ টেনে এতে বলা হয়েছে, ঠিক একইভাবে বিদেশ থেকে কম খরচে গরুর মাংস আমদানির সুযোগ উন্মুক্ত করা হলে দেশীয় বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা গড়ে উঠবে।

নোটিশে আরও ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, বাংলাদেশে পর্যাপ্ত চারণভূমির স্বল্পতা, পশুখাদ্যের লাগামহীন উচ্চমূল্য এবং সামগ্রিকভাবে গবাদিপশু পালনের উচ্চ ব্যয়ের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে মাংস উৎপাদন বেশ ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। পক্ষান্তরে, বিশ্বের বেশ কিছু দেশে বিশাল পরিসরে বিস্তৃত চারণভূমি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে পশু পালনের সুবিধা থাকায় অত্যন্ত কম খরচে মাংস উৎপাদন করা সম্ভব হয়।

সংবিধানের ১৫(ক), ১৮(১) এবং ৩২ অনুচ্ছেদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নোটিশে নাগরিকের খাদ্য, পুষ্টি এবং মৌলিক জীবনধারণের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দেশের আপামর জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ, পুষ্টির মানোন্নয়ন এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রেরই অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব।

আইনি নোটিশে সরকারকে আগামী ১৫ দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে জীবিত গরু এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হালাল হিমায়িত বা শীতলীকৃত মাংস আমদানির ওপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, আমদানি শুল্ক যৌক্তিক করা এবং বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ২৫০ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে যদি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে বাধ্য হয়ে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

/আশিক


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথমবারের মতো শুরু হলো পারমাণবিক বিক্রিয়া

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১১ ১৭:৫২:১৮
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথমবারের মতো শুরু হলো পারমাণবিক বিক্রিয়া
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে প্রথমবারের মতো সফলভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া (ক্রিটিক্যালিটি) শুরু হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ৩টা ৩৪ মিনিটে এই প্রক্রিয়া শুরু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন।

তিনি জানান, বর্তমানে কেন্দ্রের সমস্ত প্যারামিটার নির্ধারিত ও নিরাপদ মাত্রার মধ্যে রয়েছে। এছাড়া পারমাণবিক বিকিরণের মাত্রা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দেশের এই প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)। রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় নির্মিত রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে সর্বাধুনিক তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ মডেলের পারমাণবিক চুল্লি ব্যবহার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই মডেলে অত্যন্ত উন্নত ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরের শেষ নাগাদ জাতীয় গ্রিডে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্য সামনে রেখে জোরেশোরে কাজ চলছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কঠোর দিকনির্দেশনা মেনে প্রথম ইউনিটের বিভিন্ন পরীক্ষামূলক ও প্রস্তুতিমূলক ধাপগুলো একে একে সম্পন্ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ‘বি-১’ পর্যায়ের কাজ সফলভাবে শেষ হওয়ার পাশাপাশি চুল্লির স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষার প্রাথমিক জটিলতাও সফলভাবে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।

এরপর শুরু হয় ‘বি-২’ পর্যায়ের কার্যক্রম, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রাথমিক পরিচালনার জন্য চুল্লিটিকে পুরোপুরি প্রস্তুত করা। তারই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে সম্পন্ন হলো ‘ক্রিটিক্যালিটি’ বা পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু। এই পর্যায়ে চুল্লির ভেতরে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত নিউক্লিয়ার চেইন রিঅ্যাকশন বা ধারাবাহিক পারমাণবিক বিভাজন প্রতিষ্ঠা করা হয়, যার মাধ্যমে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিতভাবে বিপুল পরিমাণ তাপশক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখন ধাপে ধাপে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে। চুল্লির উৎপাদন ক্ষমতা ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছানোর পরই মূলত জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

/আশিক


বাংলাদেশের বিমানবহর ২০০টিরও বেশি উড়োজাহাজে উন্নীত করার পরিকল্পনা মন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১১ ১৭:৪৬:৫৩
বাংলাদেশের বিমানবহর ২০০টিরও বেশি উড়োজাহাজে উন্নীত করার পরিকল্পনা মন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা থাকলেও ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিমানবহর ২০০টিরও বেশি উড়োজাহাজে উন্নীত করার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বিমানমন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের মেধাবিকাশ ও দেশের অগ্রগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিমানের বহর শুধু ৩৫টিতে সীমিত রাখা হবে না, বরং তা দুই শতাধিক উড়োজাহাজে উন্নীত করা হবে। এই বিশাল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় এক দশক সময় লাগবে উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০৩১ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে নতুন উড়োজাহাজ দেশে আসা শুরু হবে এবং তা ২০৩৬ থেকে ২০৩৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

বর্তমান বহরের উড়োজাহাজগুলো একসময় পুরোনো হয়ে যাবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের আকাশপথের চাহিদা পূরণ ও পরিবহন ব্যবস্থা সচল রাখতে এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ বাড়াতে হবে। একই সাথে বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় স্লট নিশ্চিত করার কাজও চলছে বলে জানান তিনি।

বিমান খাতের পাশাপাশি দেশের পর্যটনশিল্পের প্রসারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি নেত্রকোণার বিখ্যাত পর্যটন এলাকা বিরিশিরিকে একটি জাতীয় পর্যায়ের আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।

/আশিক


বাংলাদেশের বিমানবহর ২০০টিরও বেশি উড়োজাহাজে উন্নীত করার পরিকল্পনা মন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১১ ১৭:৪৪:৪২
বাংলাদেশের বিমানবহর ২০০টিরও বেশি উড়োজাহাজে উন্নীত করার পরিকল্পনা মন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা থাকলেও ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিমানবহর ২০০টিরও বেশি উড়োজাহাজে উন্নীত করার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বিমানমন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের মেধাবিকাশ ও দেশের অগ্রগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিমানের বহর শুধু ৩৫টিতে সীমিত রাখা হবে না, বরং তা দুই শতাধিক উড়োজাহাজে উন্নীত করা হবে। এই বিশাল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় এক দশক সময় লাগবে উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০৩১ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে নতুন উড়োজাহাজ দেশে আসা শুরু হবে এবং তা ২০৩৬ থেকে ২০৩৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

বর্তমান বহরের উড়োজাহাজগুলো একসময় পুরোনো হয়ে যাবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের আকাশপথের চাহিদা পূরণ ও পরিবহন ব্যবস্থা সচল রাখতে এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ বাড়াতে হবে। একই সাথে বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় স্লট নিশ্চিত করার কাজও চলছে বলে জানান তিনি।

বিমান খাতের পাশাপাশি দেশের পর্যটনশিল্পের প্রসারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি নেত্রকোণার বিখ্যাত পর্যটন এলাকা বিরিশিরিকে একটি জাতীয় পর্যায়ের আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: