বিশেষ প্রতিবেদন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ঢাকা–১ এ হাইভোল্টেজ লড়াই: বিএনপির আশফাক বনাম জামায়াতের ব্যারিস্টার নজরুল

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকার ১ নম্বর আসন, অর্থাৎ দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলাজুড়ে এখন থেকেই টানটান উত্তেজনা। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপির লড়াইয়ের ময়দান হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক এবং জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের মধ্যে। তিন দশকের বেশি সময়ের ভোটের ইতিহাস, দলীয় ঘাঁটি, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও নতুন ভোটারদের প্রবণতা মিলিয়ে ঢাকা-১ আসনটি হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতির জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
প্রার্থী হিসেবে কে কতটা শক্তিশালী
ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ইতোমধ্যে সুপরিচিত একটি নাম। নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সরাসরি কাজ করেছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন, যদিও পরে আইনি জটিলতায় তার প্রার্থিতা স্থগিত হয়। ২০১৬ সালে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২২ সালে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি সাংগঠনিকভাবে আরও শক্ত অবস্থানে আসেন।
দলের দুঃসময়, মামলা, গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়নের সময় তিনি মাঠে থেকে সংগঠন ধরে রেখেছেন বলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মন্তব্য। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ ইশতিয়াক আনুষ্ঠানিকভাবে আশফাককে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “আশফাক বিএনপির দুর্দিনের এক সাহসী কর্মী। আমি আশাবাদী, সে নির্বাচিত হয়ে দোহার–নবাবগঞ্জকে দেশের মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবে।” দলের ভেতরে ও বাইরে এমন প্রশংসা আশফাককে বিএনপির সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছে।
অন্যদিকে জামায়াত সমর্থিত ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম মূলত শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত কৃতিত্ব ও ব্যক্তি ইমেজের কারণে দ্রুত আলোচনায় উঠে এসেছেন। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের বাঘহাটি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া নজরুল ইসলামের ছাত্রজীবন থেকেই ছিল আলাদা উজ্জ্বলতা। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে আইন বিষয়ে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে স্বর্ণপদক পান।
এরপর সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া থেকে কামিল, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আরেকটি এলএলবি, সিটি ইউনিভার্সিটি লন্ডন থেকে লিগ্যাল প্রফেশনে পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা এবং বিশ্বখ্যাত মিডল টেম্পল থেকে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি (বার-অ্যাট-ল) অর্জন করে তিনি নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের আইনজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ছাত্রজীবনে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয়সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র হিসেবেদায়িত্বপালন করেন। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনেই তিনি প্রথমবারের মতো ঢাকা-১ আসনে সরাসরি সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন এবং ইতিমধ্যেই স্থানীয় শিক্ষিত তরুণ ও ধর্মপ্রাণ মানুষের চোখে একজন সৎ, যোগ্য ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
ঢাকা-১: ভোটার প্রোফাইল ও দীর্ঘ তিন দশকের নির্বাচনী হিসাব
দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১ আসনটি মূলত গ্রামীণ ও মফস্বল অধ্যুষিত এলাকা। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ৪৪০,২৮৬ জন। ভোটার তালিকা হালনাগাদের পর এবার এই সংখ্যা প্রায় পাঁচ লক্ষেরকাছাকাছি পৌঁছেছে বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা। কৃষক, ব্যবসায়ী, প্রবাসী পরিবারের সদস্য, চাকরিজীবী এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষিত যুবক-যুবতী এই আসনের ভোটার কাঠামোর বড় অংশ।
নির্বাচনীইতিহাসেদেখা যায়, স্বাধীনতা-উত্তর প্রথম নির্বাচন ১৯৭৩ সালে এই আসনে জয় পেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। কিন্তু ১৯৭৯ সালথেকেইএইআসনেবিএনপির প্রভাব বাড়তে শুরু করে; খন্দকার দেলোয়ার হোসেন তখন থেকে এ আসনকে বিএনপি ঘাঁটি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৯১ সালেরপঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নজমুল হুদা ৬০.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী পান ৩৪.৪ শতাংশ ভোট। ১৯৯৬ সালের জুন পুনর্নির্বাচন ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয়নির্বাচনেতিনিপরপরদুইবার নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোট পান, আর আওয়ামীলীগপ্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ছিল ২৯ শতাংশের নিচে। ২০০১ সালে টানটান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নজমুল হুদা ৫১.৪ শতাংশ ভোট পেয়ে মাত্র ২,৭৭১ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শিল্পপতি সালমান এফ রহমানকে হারান এবং পরবর্তীতে যোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বও পান।
তবে ২০০৮ সালের নবম জাতীয়নির্বাচনে রাজনৈতিক পালাবদলের ঢেউ ঢেউ আঘাত হানে এই আসনেও। আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান ৫৪.৯ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর বিএনপির প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান পান ৪২.৮ শতাংশ ভোট। ওই নির্বাচনে প্রায় ৮৯ শতাংশ ভোটার উপস্থিত ছিলেন, যা অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ ভোটার অংশগ্রহণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
২০১৪ সালের দশম জাতীয় নির্বাচনেবিএনপি অংশ না নেওয়ায় এক অদ্ভুত সমীকরণ তৈরি হয়। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েও আবদুল মান্নান খান অল্প ব্যবধানে পরাজিতহন। জাতীয় পার্টির সালমা ইসলাম ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, আর মান্নান খান পান ৪৮ শতাংশ ভোট। সরকারি হিসাব অনুযায়ী সেই নির্বাচনেভোটারউপস্থিতিছিলমাত্র ২৬.৯ শতাংশ, যদিও বাস্তবে উপস্থিতি তার থেকেও কম ছিল বলে তখনই আলোচনা তৈরি হয়।
২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সালমান এফ রহমান প্রথমবারের মতো ঢাকা-১ আসনে সাংসদ নির্বাচিত হন। বিএনপি প্রার্থী হিসেবেখন্দকারআবু আশফাক মনোনয়নপত্র জমা দিলেও নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে তার পদত্যাগ স্বীকৃতি না পেয়ে আইনি জটিলতায় প্রার্থিতাবাতিলহয়। ফলে ব্যালটে বিএনপি বা বিএনপি–জোটের কোনো প্রার্থী ছিল না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কেবল সালমা ইসলাম অংশ নেন। সরকারি হিসাবে ওই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৮০ শতাংশের বেশি দেখানো হয়। এতে সালমান এফরহমানপ্রায় ৩,০২,৯৯৩ ভোট অর্থাৎ প্রায় ৮৫.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, আর সালমা ইসলাম পান ৩৭,৭৬৩ ভোট, যা প্রায় ১০.৭ শতাংশ।
এই দীর্ঘ ইতিহাসের আলোকে দেখা যায়, ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বিএনপি এ আসনে জয় পায়, ২০০৮ ও ২০১৮ সালে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ, আর ২০১৪ সালে জয় পায় জাতীয় পার্টি। সেই তুলনায় ২০২৬ সালের নির্বাচন আবারও বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের এক পরীক্ষামূলক ময়দান হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সাংগঠনিক ভিত্তি ও প্রভাব: মাঠে কার কতটা প্রস্তুতি
খন্দকার আবু আশফাক দীর্ঘদিনের সংগঠক হওয়ায় তৃণমূলের সঙ্গে তার যোগাযোগ অনেক পুরনো ও বিস্তৃত। ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে থেকে তিনি দোহার ও নবাবগঞ্জ মিলে অন্তত ১০টি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ইউনিটের সঙ্গে প্রতিনিয়ত কাজ করছেন। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে তার প্রভাব সুস্পষ্ট। সাম্প্রতিক সময়ে দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের ঝুনকি গ্রামে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে আশফাককে প্রধান অতিথি হিসেবে দেখতে বিপুল জনসমাগম হয়। ওই বৈঠকে তিনি বলেন, “দোহার–নবাবগঞ্জবাসী অনেকদিন ধরে অবহেলিত। এই দেশ, এই আসন, এই জনগণ বিএনপির। ইনশাআল্লাহ, জনগণের ভোটেই পরিবর্তন আসবে।” বক্তৃতা শেষে উপস্থিত মানুষ ও কর্মীরা করতালি আর ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান এবং বিএনপির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেন।
তবে সবকিছু এতটা মসৃণও ছিল না। স্থানীয় সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ভাষ্যে, দোহার উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেআগেঅভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা দিয়েছিল। আশফাকের নেতৃত্বে এক পক্ষ এবং আরেক সাবেক নেতার নেতৃত্বে অন্য পক্ষের মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়। ২০২২ সালে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি ঐক্য গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেন এবং এখন আন্দোলন ও নির্বাচনে পুরো জেলা কমিটিকে একটি মডেল হিসেবে দাঁড় করানোর কথা বলে আসছেন। কেন্দ্রীয় আন্দোলন কর্মসূচিতেসক্রিয়থাকার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তার নেতৃত্বে কর্মীরা নতুন করে উদ্দীপ্ত হয়েছে বলে ধারণা দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম সাংগঠনিক রাজনীতিতে তুলনামূলক নতুন মুখ হলেও জামায়াতের পুরোনো ও মৌলিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে তিনি নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছেন। ছাত্রশিবিরে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পালন ও প্রবাসে জামায়াতের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে একজন কার্যকর সংগঠক হিসেবে গড়ে তুলেছে।
এলাকায় উপস্থিতি জোরদার করতে তিনি স্কুল–কলেজ, হাট–বাজার, মসজিদ–মাদরাসা থেকে পাড়া–মহল্লায় ধারাবাহিক গণসংযোগ চালাচ্ছেন। দোহার উপজেলার নয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাজারে তার সাম্প্রতিক প্রচারণায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। এক সহকারী শিক্ষক মন্তব্য করেছেন, “ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম একজন শিক্ষানুরাগী মানুষ। তার কথা শুনে মনে হয়েছে তিনি সত্যিই শিক্ষা ও উন্নয়নের পক্ষে কথা বলেন।” সাধারণ ভোটারদের কেউ কেউ বলেছেন, “এত বড় শিক্ষিত মানুষ হয়েও যেভাবে আমাদের সঙ্গে সহজভাবে কথা বলছেন, এটা আমাদের ভালো লেগেছে।”
সাম্প্রতিক এক মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় শত শত মোটরসাইকেল ও সমর্থকের অংশগ্রহণ এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ শোভাযাত্রায় ব্যারিস্টার নজরুল একটি ছাদখোলা গাড়িতে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, “জনগণই আমার শক্তি। তারা চাইলে পরিবর্তনের পথ তৈরি হবে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় গ্রহণ করতে চাই।” এই ধরনের বার্তা এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ ক্যাম্পেইন তার জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়িয়ে তুলছে। জামায়াতের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আমির ও শীর্ষ নেতারা তার প্রচারে সক্রিয় হওয়ায় মাঠপর্যায়ে একটি সুসংগঠিত প্রচারণা গড়ে উঠছে।
দোহার বনাম নবাবগঞ্জ: কার ঘাঁটি কোথায় দৃঢ়
ঢাকা-১ আসনের ভোটসমীকরণ বোঝার ক্ষেত্রে দোহার ও নবাবগঞ্জ দুই অংশকে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি। ঐতিহাসিকভাবে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। নজমুল হুদার রাজনীতির কেন্দ্রও ছিল এই অঞ্চল। খন্দকার আবু আশফাক নিজেও নবাবগঞ্জের বাসিন্দা এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ায় নবাবগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও সংগঠন উভয়ই শক্তিশালী। কলাকোপা, কৈলাইল, বান্দুরা, বারুয়াখালীসহ একাধিক ইউনিয়নে বিএনপির দীর্ঘদিনের কর্মী-সমর্থকেরা তার পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। আশফাক নিজের বাড়ির আঙিনায় পর্যন্ত দলীয় সভা ও সম্মেলন করেছেন, যা তার স্থানীয় ভিত্তি কতটা গভীরে তা নির্দেশ করে।
কিন্তু সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে এই তথ্য যে জামায়াতের প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের বাড়িও নবাবগঞ্জের কলাকোপা ইউনিয়নে। অর্থাৎ দুই প্রতিদ্বন্দ্বীই একই অঞ্চলের সন্তান। নবাবগঞ্জের বহু পরিবারেই ইসলামী আদর্শের প্রতি ঝোঁক আছে বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মত, যা অতীতে প্রায়শই বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে গিয়েছে। এবার জামায়াতের নিজস্ব প্রার্থী থাকায় সেই ভোটের একটি অংশ নজরুল ইসলামের দিকে সরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মসজিদ-মাদরাসা ও ধর্মীয় অনুশীলনকে ঘিরে যে সামাজিক নেটওয়ার্ক তৈরি হয়, সেখানে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের নিয়মিত উপস্থিতি তাকে এক ধরনের প্রাকৃতিক সুবিধা দিচ্ছে।
দোহার উপজেলায় চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এখানে ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়েরই উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংক ছিল। নজমুল হুদার সময় থেকে বিএনপি ভালো ফল করলেও পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উন্নয়নমুখী কিছু পদক্ষেপও স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। বিএনপি জেলা সভাপতি হিসেবে আশফাক দোহার অংশেও নিয়মিত দলীয় কর্মসূচি করছেন। নারিশা, সুচারপাড়া, কার্তিকপুর, মুকসুদপুর, নয়াবাড়ী, কুসুমহাটি প্রভৃতি ইউনিয়নে উঠান বৈঠক ও কর্মীসভা করে তিনি দলের সংগঠনকে সক্রিয় রাখার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে প্রবাসী বিএনপি সমর্থক ও স্থানীয় সিনিয়র নেতাদের একযোগে মাঠে দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
দোহার অংশে জামায়াত ঐতিহ্যগতভাবে নিজস্ব প্রার্থী দেয়নি। ফলে এখানে ব্যারিস্টার নজরুলের প্রচারণা মূলত শূন্য থেকে সংগঠন দাঁড় করানোর প্রক্রিয়া। তিনি জামায়াতের উপজেলা আমির ও কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে ঘুরছেন, স্কুল–কলেজের তরুণদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং ইসলামী মূল্যবোধ ও সুশাসনকে সামনে রেখে সমর্থন চাইছেন। নয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাজারে তার প্রচারণা স্থানীয়ভাবে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে এবং ধীরে ধীরে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে উঠছেন। অতীতে জামায়াত প্রার্থী না থাকায় যারা ইসলামী আদর্শের প্রতি ঝোঁক থাকা সত্ত্বেও বিএনপিকেই ভোট দিতেন, তাদের কিছু অংশ এবার জামায়াতের প্রার্থীর দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নতুন ভোটার: পরিবর্তনের ভাষা নাকি ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা
দেশজুড়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের ফলে প্রায় ৬২ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ৫ শতাংশ। ঢাকা-১ আসনেও ধারণা করা হচ্ছে ২০ হাজারের বেশি নতুন ভোটার এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। এদের বড় অংশই ২০০১-২০০৫ সালে জন্ম নেওয়া তরুণ–তরুণী, যারা পড়াশোনা, চাকরি, প্রবাস বা অনলাইন-নির্ভর জীবনযাপনের মাধ্যমে অনেক বেশি সচেতন ও প্রশ্ন করতে অভ্যস্ত।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন প্রজন্মের একটি অংশ পুরনো ধরনের দলীয় রাজনীতির বাইরে গিয়ে শিক্ষিত, ক্লিন ইমেজ এবং আন্তর্জাতিক মানসিকতার নেতৃত্বকে বেশি প্রাধান্য দিতে চায়। এই জায়গাতেই ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের প্রোফাইল তাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। তার উচ্চশিক্ষা, ইংরেজি ও আন্তর্জাতিক আইনের জ্ঞান, নীতি-নৈতিকতা ও তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য অনেক তরুণের কাছে আশাবাদী সুর তৈরি করছে। কিছু স্থানীয় তরুণের মন্তব্য, “শিক্ষায়, নীতিতে ও নেতৃত্বগুণে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম এ অঞ্চলের তরুণদের অনুপ্রেরণার উৎস”, এই প্রজন্মের মানসিকতার ইঙ্গিত দেয়।
অপরদিকে, ঐতিহ্যগত পারিবারিক ও দলীয় আনুগত্য এখনও বিএনপির জন্য বড় শক্তি। বহু পরিবারেই প্রবীণ ভোটাররা বরাবরই বিএনপির পক্ষে ভোট দিয়ে এসেছেন এবং তারা স্বাভাবিকভাবেই সন্তান-নাতি-নাতনিদেরও সেই ধারায় রাখার চেষ্টা করছেন। খন্দকার আবু আশফাক এরই মধ্যে যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মীদের নিয়ে নতুন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছানোর কৌশল নিয়েছেন। তিনি তরুণদের কাছে স্থানীয় উন্নয়ন, চাকরি, শিক্ষা এবং গত এক দশকের বেশি সময়ের “গণতন্ত্র সংকট ও বেকারত্ব” প্রসঙ্গ তুলে ধরে পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছেন। তার উঠান বৈঠক ও পথসভায় তরুণদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যা বিএনপির জন্য ইতিবাচক সিগন্যাল।
একদিকে আদর্শগতভাবে ইসলামী মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে আগ্রহী এক ঝোঁক দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকেবহু তরুণ গণতন্ত্র, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও বৃহত্তর জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ বিবেচনা করে ধানের শীষের প্রতীকের দিকেও তাকিয়ে আছে। ফলেনতুন ভোটারদের ভোট শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উভয় পক্ষের জন্যই অনিশ্চিত ও টার্গেট গ্রুপ হিসেবে থাকবে বলেই মনে হচ্ছে।
ঢাকা-১ আসনের নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই স্থানীয়ভাবে হাইভোল্টেজ উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে দীর্ঘদিনের সংগঠক ও তৃণমূলভিত্তিক নেতা হিসেবে খন্দকার আবু আশফাক বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছেন। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষিত, তুলনামূলক নতুন কিন্তু দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম জামায়াতেরপক্ষথেকেনিজের রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
নবাবগঞ্জের ঐতিহ্যগত বিএনপি ঘাঁটি, দোহার অংশের মিশ্র সমীকরণ, জামায়াতের নতুন রাজনৈতিক উপস্থিতি, তৃণমূল সংগঠন, ধর্মভিত্তিকভোট, প্রবাসী পরিবারের প্রভাব ও নতুন ভোটারদের মানসিকতা সবকিছু মিলিয়ে ঢাকা-১ আসনটি হয়ে উঠেছে একটি জটিল ও আকর্ষণীয় নির্বাচনী লড়াইয়ের মঞ্চ।
এই আসনের ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবেন, তা শুধু দোহার-নবাবগঞ্জ নয়, পুরো দেশের বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ ও ইসলামপন্থী রাজনীতির অবস্থান সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে। তাই ঢাকা-১ এখন শুধু একটি নির্বাচনী এলাকা নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির পালাবদল, মেরুকরণ ও নতুন প্রজন্মের ভোট আচরণ বোঝার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগার।
এখন থেকে চিড়িয়াখানায় দেখা যাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল সাড়া জাগানো অ্যালবিনো জাতের আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে আজ বুধবার (২৭ মে) রাতে রাজধানী মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। জাতীয় চিড়িয়াখানার বর্তমান কিউরেটর আতিকুর রহমান গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কিউরেটর আতিকুর রহমান জানান, নারায়ণগঞ্জের রাবেয়া এগ্রো ফার্মের সেই বহুল আলোচিত ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের মহিষটিকে আজ রাতেই চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়েছে। নতুন পরিবেশে তার সুরক্ষার কথা চিন্তা করে চিড়িয়াখানার ভেতরে একটি নির্দিষ্ট শেডে সেটিকে রাখার সুব্যবস্থা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই বিশেষ মহিষটির নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও খাদ্য সরবরাহের সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
চিড়িয়াখানা সূত্র থেকে জানা গেছে, মূলত সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পকে’ জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তরের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে যে কোনো কৌতূহলী দর্শনার্থী চিড়িয়াখানায় গিয়ে এই বিরল জাতের মহিষটিকে সরাসরি দেখার সুযোগ পাবেন।
এর আগে, জননিরাপত্তা ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে পূর্ববর্তী ক্রেতাকে ক্রয়মূল্য ফেরত দিয়ে মহিষটিকে খামারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বিরল অ্যালবিনো জাতের এই মহিষটির মাথার চুল ও চোখের অবয়ব দেখতে অনেকটা বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো হওয়ায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া এলাকার রাবেয়া এগ্রো ফার্মের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই শখ করে এর নাম রেখেছিলেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
অনুরূপ নামকরণের কারণেই মূলত মহিষটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। তবে ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পাওয়ার আগেই প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষটিকে লাইভ ওজন বা প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে কিনে নিয়েছিলেন রাজধানীর জিনজিরা এলাকার ব্যবসায়ী সামির। এরপর মহিষটিকে একনজর দেখার জন্য জিনজিরার ওই এলাকায় শিশু-কিশোরসহ অসংখ্য কৌতূহলী মানুষের উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়। এমনকি বরিশাল, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন দূরবর্তী জেলা থেকেও অনেকে এই মহিষটি দেখতে ছুটে আসেন, যাদের মধ্যে কেউ কেউ মহিষটি কিনতে না পেরে প্রকাশ্যেই আফসোস ও হতাশা ব্যক্ত করেন।
দেশীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিকভাবেও ব্যাপক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। ফ্রান্সের এএফপি থেকে শুরু করে ব্রিটেনের রয়টার্স পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় সবকটি প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশেষ প্রতিবেদনে জায়গা করে নিয়েছিল বাংলাদেশের এই ভাইরাল মহিষটি।
/আশিক
ভোঁতা ছুরিতেই বাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, মাংস কাটার আগে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার উপায়
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো পশুর গোশত কাটার কাজ, যেখানে ঘরের ছোট-বড় সবাই বেশ উৎসাহ নিয়ে হাত লাগান। অনেকেই শখের বশে কিংবা প্রথমবার ছুরি হাতে নেন, আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত আবেগের কারণে একাই সব কাজ সম্পন্ন করতে চান। কিন্তু অসাবধানতাবশত এই আনন্দঘন পরিবেশের মাঝেই আচমকা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতি বছর কুরবানির ঈদের দিন রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আহত মানুষের এক বিশাল ভিড় জমে। কেবল পশুর চামড়া ছাড়ানো, মাংস টুকরো করা এবং হাড় কাটার সময় অসতর্কতার কারণে শতাধিক মানুষকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসতে হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোস্তাক আহমেদ এই বিষয়ে জানান, প্রতি বছরই কুরবানির ঈদে হাসপাতালে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য নিয়মিত দেখা যায়। হাত ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত কিংবা নানাভাবে জখম হওয়া মানুষ এই দিনে জরুরি বিভাগে চিকিৎসার জন্য ভিড় করেন।
এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তিনি জরুরি কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, মাংস কাটার মতো সংবেদনশীল কাজটি সবসময় অভিজ্ঞ ও পেশাদার কসাইদের হাতে ছেড়ে দেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। সাময়িক আনন্দ বা আবেগের বশে নিজে এই কাজ করতে গিয়ে যে শারীরিক ক্ষতি হয়, তা কাটিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে অনেক সময় দীর্ঘদিনের প্রয়োজন পড়ে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, ধারালো ছুরিতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও অভিজ্ঞদের মতে বিষয়টি সম্পূর্ণ উল্টো। মূলত ভোঁতা বা ধার কম থাকা ছুরি দিয়ে মাংস কাটতে গেলে অতিরিক্ত শক্তি বা জোর প্রয়োগ করতে হয়। এর ফলে মাংস কাটার সময় অস্ত্রের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায় এবং ছুরি হঠাৎ পিছলে গিয়ে হাত বা পায়ে গুরুতর আঘাত করে। এর বিপরীতে ধারালো ছুরি দিয়ে খুব কম চাপেই নিখুঁতভাবে কাজ করা সম্ভব হয়, যার ফলে অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতেই থাকে।
মাংস কাটার সময় সবচেয়ে বড় যে ভুলটি মানুষ করে থাকে, তা হলো কাজের মাঝখান থেকে হঠাৎ মনোযোগ সরে যাওয়া। কাটার সময়েই পাশ থেকে কেউ ডেকে উঠলে, পকেটে থাকা ফোনটি বেজে উঠলে কিংবা কেউ কিছু সাহায্য চাইলে মানুষের চোখ অন্যদিকে চলে যায় এবং ঠিক সেই মুহূর্তেই অবধারিতভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
এই ঝুঁকি এড়াতে মাংস কাটার স্থানে বসার আগে মোবাইল ফোনটি সাইলেন্ট মুডে রাখা ভালো। এর পাশাপাশি ঘরের ছোট সন্তানদের ধারালো অস্ত্র ও মাংস কাটার নির্দিষ্ট জায়গা থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে রাখতে হবে। নির্দিষ্ট কাজ সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো দিকে বা আড্ডায় মনোযোগ দেওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়।
যতই সতর্কতা অবলম্বন করা হোক না কেন, অনেক সময় দুর্ঘটনাবশত শরীর কেটে যেতেই পারে। চিকিৎসকদের মতে, কাটার পরবর্তী প্রথম পাঁচ মিনিট রোগীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই ক্ষত তৈরি হলে কোনোভাবেই আতঙ্কিত না হয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।
ডা. মোস্তাক আহমেদ এ বিষয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ধাপ তুলে ধরে বলেন, শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে প্রথমেই একটি পরিষ্কার সুতি কাপড় বা গজ দিয়ে ক্ষত স্থানটিতে শক্ত করে চাপ দিয়ে ধরে রাখতে হবে। এই চাপটি একটানা অন্তত পাঁচ থেকে দশ মিনিট বজায় রাখা জরুরি। অনেকে বারবার কাপড়টি উঠিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ হলো কি না তা দেখার চেষ্টা করেন, যা একটি ভুল পদ্ধতি। বারবার কাপড় সরালে ক্ষত স্থানে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না এবং রক্তপাত চলতেই থাকে।
চাপ দেওয়ার ফলে রক্ত পড়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে এলে জায়গাটি পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর সেখানে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম বা লোশন লাগিয়ে একটি পরিষ্কার ব্যান্ডেজ দিয়ে স্থানটি আটকে দিতে হবে। তবে ক্ষত গভীর হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পরই রোগীকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
/আশিক
কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়, মনের পশুত্বকে পরাভূত করার দীক্ষা: প্রধানমন্ত্রী
পবিত্র ঈদুল আজহার মহিমান্বিত ক্ষণে দলমত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল স্তরের নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বুধবার (২৭ মে) দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় তিনি বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর প্রতি এই ঈদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সর্বোচ্চ ত্যাগের পরাকাষ্ঠা, তাকওয়ার গৌরবময় পথনির্দেশনা এবং আত্মশুদ্ধির এক অনন্য বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে বিশ্ব মুসলিমের দ্বারে আবারও সমাগত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোরবানি মানে কেবলই কোনো পশু জবাই করা নয়; বরং মানুষের ভেতরের লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, অহংকার আর মনের সুপ্ত পশুত্বকে চিরতরে পরাভূত করার দীক্ষা নেওয়ার মাঝেই কোরবানির প্রকৃত মাহাত্ম্য ও মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে।
মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করে নিজের সবকিছু তাঁর দরবারে সমর্পণ করার এই উৎসব সবাইকে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত করবে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে পরিচালিত করবে—এটাই হোক পবিত্র কোরবানির অন্যতম প্রধান শিক্ষা।
দেশের সামর্থ্যবান নাগরিকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিন এ বছর যাদের কোরবানি করার আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য দান করেছেন, তাদের কাছে তাঁর বিনীত অনুরোধ থাকবে যেন তারা আশেপাশের অসচ্ছল প্রতিবেশীদের ভুলে না যান। সমাজে যাদের পশু কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য হয়নি, তাদের সাথে ঈদের আনন্দ এবং কোরবানির মাংস সমানভাবে ভাগাভাগি করে নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি, যা ইসলামের অন্যতম মানবিক শিক্ষা।
এর পাশাপাশি উৎসব পরবর্তী পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়েও ভিডিও বার্তায় সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে কোরবানির পশুর চামড়া যেন যথাযথ ও বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করা হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে কোরবানির পর পশুর রক্ত ও যাবতীয় বর্জ্য দ্রুত অপসারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সার্বিক সহায়তা করার অনুরোধ করেন। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে নিজস্ব উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেওয়ার তাগিদ দিয়ে বলেন, সবাই মিলে সচেতন থাকলে কোরবানির দিনেই সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ফেলা সম্ভব হবে, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত জরুরি।
ভিডিও বার্তার শেষ অংশে তারেক রহমান বলেন, এই পবিত্র ঈদের দিনে কায়মনোবাক্যে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ও মানবজাতির জন্য স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা দান করেন। একই সাথে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে বিশেষ প্রার্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী।
/আশিক
কোরবানি হচ্ছে না ভাইরাল মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ফিরল খামারে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা অ্যালবিনো জাতের আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে শেষ পর্যন্ত কোরবানি দেওয়া হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বিশেষ হস্তক্ষেপে মহিষটিকে নতুন ক্রেতার কাছ থেকে ফেরত এনে পুনরায় নারায়ণগঞ্জের আদি খামারেই পুনর্বাসন করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২৭ মে) সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তটির কথা নিশ্চিত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিরল জাতের এই মহিষটিকে কেন্দ্র করে কৌতূহলী মানুষের অতিরিক্ত সমাগম এবং এর ফলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সার্বিক জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে কেরানীগঞ্জের ওই ক্রেতাকে তার দেওয়া পুরো টাকা বুঝিয়ে দিয়ে মহিষটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের এই মহিষটিকে কোনো ধরনের জবাই বা কোরবানি না করে আগের মতোই খামারে রেখে নিয়মিত লালন-পালন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট খামার কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া এলাকায় অবস্থিত রাবেয়া এগ্রো ফার্মে প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই অ্যালবিনো বা শ্বেতবর্ণের মহিষটি বড় করা হয়। সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী সাদা রঙের লোম এবং মাথার অভিনব চুলের স্টাইলের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে এটি বিশেষভাবে নজর কাড়ে। এর বাহ্যিক অবয়ব ও চুলের ধরণ অনেকটা বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো মনে হওয়ায় খামারিরা শখ করে এর নাম রেখেছিলেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
নামকরণের পর থেকেই মহিষটি ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর থেকেই প্রতিদিন দেশের দূর-দূরান্ত থেকে শত শত উৎসুক মানুষ মহিষটিকে একনজর দেখতে ওই খামারে এসে ভিড় জমাতে শুরু করেন। শুধু দেশের মূলধারার গণমাধ্যমই নয়, ফ্রান্সের এএফপি এবং ব্রিটেনের রয়টার্সের মতো শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থাগুলোতেও এই ভাইরাল মহিষটিকে নিয়ে বিশেষ সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল।
তথ্য সূত্র: যমুনা টেলিভিশন
সরকারি পরিসংখ্যানে ভয়াবহ চিত্র: দুই মাসের ব্যবধানে হামের গ্রাসে সাড়ে ৫০০ শিশু
দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে এই সংক্রামক ব্যাধি ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৫টি শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১১৮ জন, যাদের মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে ৬২ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
আজ বুধবার (২৭ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ মহামারি সংক্রান্ত পরিস্থিতি প্রতিবেদন থেকে এই আশঙ্কাজনক তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সরকারি এই প্রতিবেদনটির বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত দুই মাসে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর হামের প্রকোপ কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ১৫ই মার্চ থেকে শুরু করে আজ ২৭শে মে সকাল ৮টা পর্যন্ত, অর্থাৎ এই আড়াই মাসেরও কম সময়ে সারা দেশে হাম এবং এর তীব্র উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট ৫৬০টি শিশু মারা গেছে। এই মোট মৃত্যুর মধ্যে রোগতাত্ত্বিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামের কারণে প্রাণ হারিয়েছে ৮৮টি শিশু, আর বাকি ৪৭২টি শিশু মারা গেছে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে।
একই নির্দিষ্ট সময়কালের মধ্যে সারা দেশে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে ৮ হাজার ৮৩৪ জন। এর বাইরে আরও ৬৭ হাজার ৭৯ জন শিশু হামের বিভিন্ন প্রাথমিক ও জটিল উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য শরণাপন্ন হয়েছে। সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে দেশের অন্য সব অঞ্চলের চেয়ে ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। এই দুই মাসে কেবল ঢাকা বিভাগেই হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২৩৮টি শিশু এবং আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৭৯৪ জনে।
/আশিক
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ ভিআইপিদের উপস্থিতিতে মুখরিত হবে জাতীয় ঈদগাহ
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই ঈদ জামাত আয়োজনের লক্ষে মাঠের সব ধরনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করেছে ডিএসসিসি। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উচ্চ আদালতের বিচারপতি, রাষ্ট্রের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও বিদেশি কূটনীতিকরা জাতীয় ঈদগাহের এই প্রধান জামাতে অংশ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
প্রশাসক জানান, আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নারী ও পুরুষদের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক জোনের মাধ্যমে ঈদ জামাতকে সুশৃঙ্খল ও আরামদায়ক করতে এবার বড় পরিসরে আয়োজন করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক এই প্রধান ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন।
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের মোট আয়তন প্রায় ৩০ হাজার বর্গমিটার, যার মধ্যে মূল প্যান্ডেলের আওতাভুক্ত এলাকার পরিমাণ ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার। এখানে নির্ধারিত ১২১টি কাতারে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবেন। বিশিষ্ট ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিআইপি) জন্য বিশেষ জোনে ২৫০ জন পুরুষ এবং ৮০ জন নারী মুসল্লির আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এর বাইরে সাধারণ মুসল্লিদের জন্য তৈরি করা প্যান্ডেলে প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ এবং সাড়ে ৩ হাজার নারী মুসল্লির জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ঈদগাহ ময়দানে মুসল্লিদের সুশৃঙ্খলভাবে প্রবেশের সুবিধার্থে মোট ৪টি গেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ভিআইপিদের জন্য ১টি, সাধারণ পুরুষদের জন্য ২টি এবং নারীদের জন্য ১টি পৃথক প্রবেশপথ থাকবে। নামাজ শেষে কোনো ধরনের হুড়োহুড়ি ছাড়া বের হওয়ার জন্য মোট ৭টি বহির্গমন ফটক তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ভিআইপিদের জন্য ১টি, সাধারণ পুরুষদের জন্য ৫টি এবং নারীদের জন্য ১টি আলাদা গেট ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
মাঠের ভেতরে সর্বমোট ১২১টি কাতারের বিন্যাস করা হয়েছে, যেখানে ভিআইপি পুরুষদের জন্য ৫টি ও নারীদের জন্য ১টি কাতার বরাদ্দ রয়েছে। সাধারণ পুরুষ মুসল্লিরা ৬৫টি বড় আকারের কাতারে এবং নারী মুসল্লিরা ৫০টি ছোট আকারের কাতারে নামাজ আদায়ের সুযোগ পাবেন। এছাড়া মাঠের ওজুখানায় একসাথে প্রায় ১৪০ জন মুসল্লির ওজু করার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার মধ্যে পুরুষদের জন্য ১১৩টি এবং নারীদের জন্য ২৭টি পৃথক ওজু পয়েন্ট রয়েছে।
মুসল্লিদের শারীরিক স্বস্তি ও গরমের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্যান্ডেলের ভেতরে বিশেষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, পর্যাপ্ত সংখ্যক ফ্যান ও আলোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সাথে বিশুদ্ধ খাবার পানি, আরামদায়ক কার্পেট এবং ভিআইপি কাতারে বিছানোর জন্য জায়নামাজ সরবরাহ করার প্রস্তুতি রয়েছে। মাঠের মূল প্যান্ডেলটি সম্পূর্ণ পানি নিরোধক সামিয়ানা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে, যাতে আকস্মিক বৃষ্টি হলেও নামাজে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।
প্রধান ঈদ জামাতকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও অগ্নিকাণ্ড রোধে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বিশেষ দল অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামসহ মোতায়েন থাকবে। এর পাশাপাশি জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক চিকিৎসা বুথ, ভ্রাম্যমাণ টয়লেট এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে। উৎসবের আমেজ ফুটিয়ে তুলতে ঈদগাহের চারপাশে দৃষ্টিনন্দন ৩টি তোরণ বা প্রবেশদ্বার নির্মাণ করা হয়েছে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা যেন সম্পূর্ণ নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন, তার সব আয়োজন এখন প্রস্তুত।
/আশিক
ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া নিলেই জরিমানা, মহাখালীতে কড়া হুঁশিয়ারি সেতুমন্ত্রী রবিউল আলমের
আসন্ন ঈদুল আজহার ঈদযাত্রায় গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধ, মহাসড়কের চাপ সামলানো এবং সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি উল্লেখ করেন, শেষ মুহূর্তে যাত্রীদের তাড়াহুড়ো ও অতিরিক্ত ভিড়ের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মাঝপথে বাড়তি ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করছে। তবে এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া মাত্রই প্রশাসন তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং দায়ীদের জরিমানা করা হচ্ছে।
আজ বুধবার (২৭ মে) রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা যেন সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন হয়, সে জন্য সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকেও সারা দেশের সড়ক ও পরিবহনের সার্বিক তদারকি চলছে।
সেতুমন্ত্রী বলেন, বাস টার্মিনালগুলোর মূল কাউন্টারগুলোতে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ এখন পর্যন্ত খুব বেশি পাওয়া যায়নি। তবে অনেক সময় মাঝপথে যাত্রীরা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর তাগিদে সামনে পাওয়া যেকোনো বাসে উঠতে চান, আর ঠিক এই সুযোগটি নিয়েই কিছু ক্ষেত্রে অসাধু চক্র বেশি ভাড়া আদায়ের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাচ্ছে।
সড়ক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর আগে চন্দ্রা ত্রিমোহনী এলাকায় যানবাহনের কিছুটা ধীরগতি দেখা গেলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি একেবারেই অস্বাভাবিক নয়। কারণ ওই রুটে সাত লেনের যানবাহন এসে যখন হঠাৎ দুই লেনের সড়কে প্রবেশ করছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেখানে একটি বড় চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে রাস্তায় বড় ধরনের কোনো যানজট বা ব্যবস্থাপনায় বড় কোনো বিপর্যয় ঘটেনি।
চলতি বছরের ঈদযাত্রার তীব্র চাপ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে ইতিমধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ রাজধানী ঢাকা ছেড়েছেন। একই সময়ে সারা দেশে কোরবানির জন্য প্রায় ৮০ লাখ পশু বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন করতে হচ্ছে, যা দেশের সীমিত পরিবহন ব্যবস্থার ওপর একটি বিশাল মনস্তাত্ত্বিক ও অবকাঠামোগত চাপ তৈরি করেছে। সীমিত সক্ষমতা নিয়েও পরিবহন খাত এই চাপ সামলাতে তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
চাপ সামাল দিতে তিনি সাধারণ যাত্রীদেরও কিছুটা ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান। তার মতে, অনেক যাত্রী আগে থেকে কোনো টিকিট না কেটে একদম শেষ মুহূর্তে টার্মিনালে এসে যাত্রা শুরু করেন। এর ফলে স্টেশনে তাৎক্ষণিক চাপ আরও বহুগুণ বেড়ে যায় এবং এই বিশৃঙ্খল অবস্থার সুযোগ নেয় অসাধু চক্র।
রেলপথে নারীদের জন্য বিশেষ কোচ সংযোজন করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ইতোমধ্যে তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনে নারীদের জন্য বিশেষ কামরার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তবে দেশের সব ট্রেনে এখনই এই সেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি, কারণ রেলের পর্যাপ্ত বগির সংকট রয়েছে এবং ঈদের সমস্ত অগ্রিম টিকিট অনেক আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। তা সত্ত্বেও ঈদ উপলক্ষে নিয়মিত বহরের সাথে অতিরিক্ত ৫১টি কোচ যুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজধানীর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানো নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এ ধরনের কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে স্থানীয় সিটি কর্পোরেশনের এখতিয়ারাধীন এবং ইজারা সংক্রান্ত সমস্ত ভালো-মন্দ দায়-দায়িত্বও তাদেরই বহন করতে হবে।
দেশের সড়ক ও গণপরিবহন ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, দেশের পুরো পরিবহন খাতকে একটি সমন্বিত বা মাল্টিমোডাল ব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ চলছে। রুটভিত্তিক বাস কোম্পানি গঠন, ঢাকার মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতে মনোরেল চালুর পরিকল্পনাও সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকারে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এবারের ঈদযাত্রায় নানামুখী চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা থাকলেও সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যাত্রীরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।
/আশিক
চতুর্থ থেকে দশম গ্রেডের বেতন বৃদ্ধির খসড়া রূপরেখা: কার কত বাড়ছে?
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে একটি বড় ও ইতিবাচক সুখবর আসতে যাচ্ছে। সরকারের প্রস্তাবিত নতুন এই বেতন কাঠামোয় সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারেন নিম্ন গ্রেডের সাধারণ কর্মচারী এবং তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা গ্রেডভিত্তিক বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনার বিষয়টিকে এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, নতুন এই পে-স্কেলে নিম্ন আয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর বিপরীতে উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কম হতে পারে। নীতিনির্ধারকদের ধারণা, এই ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপের ফলে সরকারি চাকরিতে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিরাজমান আয়ের ব্যবধান অনেকটাই কমে আসবে।
প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো অনুযায়ী, সরকারি চাকুরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন বা বেসিক ৫০ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রাথমিক আলোচনা চলছে। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুলিশ, মাঠ প্রশাসন ও বিচার বিভাগসহ সব খাতের নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা সরাসরি সুফল পাবেন। বিশেষ করে দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যও এই পে-স্কেলে বড় ধরনের কোনো সুখবর আসতে পারে বলে জোর আশা করা হচ্ছে।
নতুন এই খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী বিভিন্ন পদের বেতন বৃদ্ধির একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ রূপরেখা পাওয়া গেছে। যেমন, চতুর্থ গ্রেডে কর্মরত কলেজ অধ্যক্ষদের মূল বেতন বর্তমানের ৫০ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭৫ হাজার টাকা হতে পারে। এছাড়া ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের বেতন ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকা এবং সপ্তম গ্রেডের প্রধান শিক্ষক ও উপাধ্যক্ষদের বিদ্যমান ২৯ হাজার টাকার বেসিক বাড়িয়ে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে, নবম গ্রেডের প্রভাষকদের প্রারম্ভিক বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে ৩৩ হাজার টাকা এবং দশম গ্রেডের বিএডধারী সহকারী শিক্ষকদের মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা থেকে ২৪ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
নিম্ন গ্রেডের পদগুলোতে বেতন কাঠামোতে আরও আমূল পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। খসড়া অনুযায়ী, ১১তম গ্রেডের সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক দ্বিগুণ হয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারীদের ৯ হাজার ৩০০ টাকার বেতন বেড়ে ১৮ হাজার ৬০০ টাকা হতে পারে। একইভাবে ১৮তম গ্রেডে কর্মরত ল্যাব সহকারীদের ৮ হাজার ৮০০ টাকার মূল বেতন ১৭ হাজার ৬০০ টাকা এবং ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক ও নৈশপ্রহরীদের বিদ্যমান ৮ হাজার ২৫০ টাকার বেতন দ্বিগুণ হয়ে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চাকরিজীবীদের পাশাপাশি নতুন পে-স্কেলে কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বড় সুবিধার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। যাদের মাসিক পেনশনের পরিমাণ বর্তমানে ২০ হাজার টাকার নিচে, তাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। এর পাশাপাশি বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতাও নতুন এই পে-স্কেলের মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করার চিন্তা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১ জুলাই থেকে এই নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পরই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।
সার্বিক এই পরিস্থিতি নিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের মহাসচিব দেলোয়ার হোসেন আজিজী জানান, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে শিক্ষক-কর্মচারীদের বিদ্যমান সামান্য বেতনে পরিবার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবতায় নতুন বাজেটে সরকার অবশ্যই একটি ইতিবাচক ও কল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত নেবে বলে তারা গভীরভাবে আশা প্রকাশ করছেন।
/আশিক
ভঙ্গুর অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা সংকট: ১০০ দিনের মাথায় কেমন চলছে নতুন সরকার?
বাংলাদেশে এক বড় ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই সরকারটি দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা, ভঙ্গুর অর্থনৈতিক দশা, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং গভীর সামাজিক বিভাজনের প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের ১৭ই ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করে। ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দ্রুত পূরণের একটি বাড়তি চাপ সরকারের ওপর রয়েছে। এর পাশাপাশি নতুন করে দেখা দেওয়া জ্বালানি সংকট এবং হামের প্রাদুর্ভাবের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সরকারকে শুরুতেই বেশ বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এই ১০০ দিনে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া কিছু উদ্যোগ যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনি সরকারের কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত জন্ম দিয়েছে নানা সমালোচনার।
বিশ্লেষকদের মতে, পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সরকারের সফলতা বা ব্যর্থতা মাত্র একশ দিনের মাথায় চূড়ান্তভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়, তবে সরকারের ভবিষ্যৎ পথচলার শুরুটা কেমন হলো তা বোঝার জন্য এই সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনগুলোতে সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় সংস্কারের লক্ষ্যে খাতভিত্তিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতির আভাস মিললেও অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ খাত এখনো স্থবির রয়ে গেছে।
বিশেষ করে দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারের ভূমিকা এখনো সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কার্যকর হয়ে ওঠেনি। ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশের অর্থনীতিকে টেনে তোলার এই কঠিন চ্যালেঞ্জে নতুন সরকার কতটা সফল হবে, তা নিশ্চিত হতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, আসন্ন জাতীয় বাজেট দেখলেই পরিষ্কার হবে যে এই সরকার দেশের অর্থনীতি নিয়ে আসলে কী ধরনের পরিকল্পনা করছে এবং তাদের অগ্রাধিকারের জায়গাগুলো ঠিক কী। অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তারা বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন এবং সিংহভাগ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে মন্ত্রিসভায় গৃহীত ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের প্রায় ৬২ শতাংশ ইতিমধ্যে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
নতুন সরকারের প্রথম একশ দিনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল অর্থনৈতিক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। ব্যাংক খাতের সংস্কার, লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখাই ছিল মূল আলোচনার বিষয়। এর সঙ্গে বাড়তি বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
ফলে অর্থনীতিবিদরা সরকারের এই সময়কালকে মূলত একটি তীব্র সংকট ব্যবস্থাপনার সময় হিসেবেই দেখছেন। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নেওয়া কিছু সময়োপযোগী পদক্ষেপে সরকার ইতিবাচক বার্তা দিতে পারলেও, কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে নেওয়া বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা চলছে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি-এর সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক ঋণের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের একটি সদিচ্ছা সরকারের মধ্যে দেখা গেছে। তবে দেশে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে এখনো দৃশ্যমান কোনো বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যার ফলে অর্থনীতির বেশ কিছু সূচকে উদ্বেগ এখনো কাটেনি।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, মাত্র একশ দিনের মধ্যে আর্থিক খাতে বড় কোনো আমূল পরিবর্তন আনা অলৌকিক, তবে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো থেকে ভবিষ্যতের একটি স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যেতে পারে। আগের সরকারের রেখে যাওয়া পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলো এখনো রয়ে গেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। এবারও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না এবং সরকারকে ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে হচ্ছে। অবশ্য এই সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহে একটি ইতিবাচক গতি লক্ষ্য করা গেছে।
ব্যাংকিং আইনে আনা সাম্প্রতিক সংশোধন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়োগসহ আর্থিক খাতের বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এই খাতের সামগ্রিক সংস্কারে সরকার আসলে সুনির্দিষ্টভাবে কী করতে চায়, তা এখনো বিশেষজ্ঞদের কাছে স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা সরকারকে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সতর্কতার সাথে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
ড. মোস্তাফিজুর রহমান উল্লেখ করেন যে, ব্যাংকিং অর্ডিন্যান্স নতুন করে পর্যালোচনা করার কথা বলা হলেও, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ স্বাধীনতার ব্যাপারে সরকারের যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছিল, তা এখনো দৃশ্যমান হয়ে ওঠেনি। এছাড়া বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে বড় ধরনের সংকোচন দেখা যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি বড় অন্তরায়। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বাড়ছে, তা নিয়ন্ত্রণ করা এবং বাজার ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা সরকারের জন্য অন্যতম কঠিন পরীক্ষা।
ব্যাংকিং খাতের অস্থিতিশীলতা ও খেলাপি ঋণের উচ্চ হার এখনো অর্থনীতির প্রধান দুর্বলতা হিসেবে রয়ে গেছে। একই সাথে রাজস্ব ও জিডিপির অনুপাত গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দেওয়ার সক্ষমতা অনেকখানি সীমিত হয়ে পড়েছে। আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরাতে কাঠামোগত স্থায়ী সংস্কার ছাড়া কেবল প্রশাসনিক তদারকি দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছে, যার মধ্যে অন্যতম ছিল ‘মব ভায়োলেন্স’ বা গণপিটুনির মতো ঘটনা। রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নিলে এই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটবে বলে সাধারণ মানুষ আশা করলেও বাস্তবে পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ মনে করেন, ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড এবং ছিনতাইয়ের মতো অপরাধগুলো এখনো সমাজে অস্বস্তির কারণ হয়ে আছে।
বিশেষ করে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে বিচার ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি, যা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। অপরাধ ও রাজনৈতিক সহিংসতা দমনে পুলিশের পেশাদারিত্ব ও ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে। সম্প্রতি রাজধানীর কালশিতে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পুলিশের পিছু হটার দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত দৃষ্টিকটু, যা নির্দেশ করে যে পুলিশ এখনো তাদের পূর্ণ সক্ষমতা ও পেশাদার জায়গায় ফিরতে পারেনি।
অবশ্য দেশের মাঠ পর্যায় থেকে সেনাবাহিনী ধাপে ধাপে সরিয়ে নেওয়া এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াগুলোকে পরিস্থিতির উন্নতির ইতিবাচক দিক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্প্রতি মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের আইনের আওতার বাইরে রাখার প্রবণতা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।
এর পাশাপাশি র্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের যে বিতর্ক, তা থেকে সংস্থাটিকে মুক্ত করা বর্তমান সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা। এক সময় র্যাব বিলুপ্তির দাবি রাজনৈতিক এজেন্ডায় থাকলেও, সরকার এখন এটিকে বিলুপ্ত না করে একটি সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় এনে পুনর্গঠন করার পরিকল্পনা করছে। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উন্নতির দাবি করা হলেও মাঠ পর্যায়ে ছিনতাই, মাদক ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধগুলো এখনো জনগণের উদ্বেগের প্রধান কারণ।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আসা এই নতুন সরকারকে শুরু থেকেই নানামুখী রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে জাতীয় সংসদে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে সামাল দেওয়া বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা, যার আভাস সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পাওয়া গেছে। জুলাই সনদসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বেশ উত্তপ্ত ও আলোচিত ছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান খান মনে করেন, সরকার এখন পর্যন্ত বিরোধী দলগুলোর সাথে বড় ধরনের সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার পরিবেশ ধরে রাখতে পেরেছে, যা একটি সুস্থ ও ইতিবাচক গণতান্ত্রিক চর্চার লক্ষণ। তবে জুলাই আন্দোলনের চেতনা সমুন্নত রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা সরকারের জন্য সহজ হবে না। এছাড়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ও স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলোতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে শপথ গ্রহণের দিন থেকেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে বিএনপি। বিরোধীরা সংসদের বাইরেও আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে সরকার শুরু থেকেই সামাজিক সুরক্ষামূলক অঙ্গীকারগুলো আগে বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দিয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষি কার্ডের মতো পদক্ষেপগুলো দ্রুত চালু করে সরকার যেমন জনগণের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছে, তেমনি অতীতে এসবের কটাক্ষ করা বিরোধীদেরও একটি পাল্টা রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি করতে না পারলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা খুব শিগগিরই সরকারকে আরও বড় ধরনের চাপে ফেলতে সক্ষম হবে।
এই সমস্ত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি দেশজুড়ে দেখা দেওয়া হামের প্রাদুর্ভাব বর্তমান সরকারকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। ইতোমধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই স্বাস্থ্য সংকটের জন্য আগের সরকারকে দায়ী করা হলেও বর্তমান স্বাস্থ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা কম হচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে এবং স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে।
সম্প্রতি সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান ও অর্জনের খতিয়ান তুলে ধরেছে প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪শে মে পর্যন্ত মন্ত্রিসভার মোট ১০টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে গৃহীত ৬০টি নীতিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩৭টি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়েছে।
প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের আর্থিক অপরাধ দমনে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষর এবং এস আলম গ্রুপের প্রায় ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার সম্পদ জব্দের মাধ্যমে সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থানের প্রমাণ দিয়েছে।
মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের সামগ্রিক কৃষি ব্যবস্থাকে আধুনিক ও ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনতে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ক্ষুদ্র কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি সংকট নিরসনে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্পসহ দেশজুড়ে জলাশয় ও খাল খনন কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।
সরকার দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছে দাবি করে উপদেষ্টা মেহেরপুরের একটি ধর্ষণ মামলায় মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রদান এবং ঢাকার পল্লবীর চাঞ্চল্যকর শিশু হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় সরকারের সরাসরি তদারকির উদাহরণ পেশ করেন।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
পাঠকের মতামত:
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় ধস, দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আন্তর্জাতিক দর
- এখন থেকে চিড়িয়াখানায় দেখা যাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে
- একই উপজেলায় ২ শিশু খুন: বিচার ও সমবেদনা আদায়ে প্রশাসন ও সমাজের চরম বৈষম্য
- ভোঁতা ছুরিতেই বাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, মাংস কাটার আগে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার উপায়
- কট্টর ইসরায়েল-বিরোধী মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে কেন বিকল্প নেতা ভাবছিল ওয়াশিংটন?
- আগামীকাল পবিত্র ঈদুল আজহা: জেনে নিন ঈদের রাতের অপরিসীম গুরুত্ব ও ফজিলত
- কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়, মনের পশুত্বকে পরাভূত করার দীক্ষা: প্রধানমন্ত্রী
- কোরবানি হচ্ছে না ভাইরাল মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ফিরল খামারে
- জলাতঙ্ক রোগে ভুগছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ভ্যাকসিন না দিলে সুস্থ হবেন না: রাশেদ খাঁন
- আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: তদন্তে ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিট
- ইরান যুদ্ধে মেলেনি সাফল্য: সম্মানজনক বিদায়ের পথ খুঁজছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও তীব্র আকাশপথ ঝুঁকি: ফ্লাইট বাতিল করছে বিশ্বের শীর্ষ এয়ারলাইনস
- সরকারি পরিসংখ্যানে ভয়াবহ চিত্র: দুই মাসের ব্যবধানে হামের গ্রাসে সাড়ে ৫০০ শিশু
- রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ ভিআইপিদের উপস্থিতিতে মুখরিত হবে জাতীয় ঈদগাহ
- ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া নিলেই জরিমানা, মহাখালীতে কড়া হুঁশিয়ারি সেতুমন্ত্রী রবিউল আলমের
- চতুর্থ থেকে দশম গ্রেডের বেতন বৃদ্ধির খসড়া রূপরেখা: কার কত বাড়ছে?
- কুরবানির মাংস বণ্টনের সুন্নতি নিয়ম: জেনে নিন তিন ভাগের সঠিক বণ্টন পদ্ধতি
- মেসির চোট নিয়ে ধোঁয়াশা: ইন্টার মায়ামির স্বস্তির বার্তার পর স্কালোনির নতুন দুঃসংবাদ
- ঈদের দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া?
- ভঙ্গুর অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা সংকট: ১০০ দিনের মাথায় কেমন চলছে নতুন সরকার?
- ডেমোক্র্যাট ও গণমাধ্যম পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছে: ট্রাম্প
- উৎসবের মুখে ফের চড়া স্বর্ণের বাজার, জেনে নিন ২১ ও ১৮ ক্যারেটের নতুন ভরি কত
- তাড়াতাড়ি পালাও: অবৈধ বাংলাদেশিদের রাজ্য ছাড়ার কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারীর
- তীব্র গরম ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝেই শুরু হলো হজের প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ
- মন্ত্রিত্ব মানেই হীরা-জহরতের ছড়াছড়ি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- এভারেস্টে উড়ল লাল-সবুজ: তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে নুরুন্নাহার নিম্নির বিশ্বজয়
- লেবানন জুড়ে ইসরায়েলের ভয়াবহ বোমাবর্ষণ: ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার মুখে
- সাত অঞ্চলে ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস: নদীবন্দরে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে আজ পবিত্র ঈদুল আজহা: উৎসবের আমেজে কোরবানি ও ঈদ জামাত
- গরম বনাম ভারী বৃষ্টি: আর কত দিন চলবে আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা?
- শনিবার রাজধানীর ১৬ স্পটে খাদ্য বিতরণ করবে তারেক রহমান
- গুঁড়া মসলার ভিড়ে আস্ত মসলার গরুর মাংস: ঝক্কিহীন স্বাদের আড়ালে কিছু রন্ধন ত্রুটি
- জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতের মেগা প্রস্তুতি সম্পন্ন
- এআই ট্রাফিক মামলার নামে ‘ফিলিপাইনি’ ফাঁদ: ওটিপি ছাড়াই কার্ডের টাকা ওড়ানোর ছক
- জলদি জলদি ভাগো, জামাই নাকি! সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর তীব্র কটাক্ষ
- শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দাবি সস্তা ‘স্ট্যান্ডবাজি’ ছাড়া আর কিছু নয়: রিজভী
- সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা
- চুক্তি করেছেন আপনাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দায় কেন আমাদের?: আসিফ মাহমুদ
- তীব্র অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
- নিরাপত্তাজনিত চরম ঝুঁকিতে এনসিপি নেতা: মতিঝিলের অস্থায়ী কার্যালয় তড়িঘড়ি বন্ধের সিদ্ধান্ত
- কাতার সেমিফাইনালের সেই নায়ক এবারও আর্জেন্টিনাকে মেগা আনন্দে ভাসাতে মরিয়া
- শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ বিভাগেই ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছেন: জ্বালানিমন্ত্রী
- আমি কিচেন ক্যাবিনেটের সদস্য ছিলাম না: এনসিপি
- যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই কি ঘুচবে ২৪ বছরের খরা? ব্রাজিলের হেক্সা মিশন নিয়ে জোর জল্পনা
- আমেরিকা ও ইসরায়েলের পতন আসন্ন: হজের বাণীতে মোজতবা খামেনির হুঙ্কার
- মহামারি রূপ নিচ্ছে হাম, আক্রান্ত ছাড়াল কয়েক হাজার
- হজের খুতবায় বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের কড়া বার্তা দিলেন শায়খ হুজাইফি
- সন্ত্রাসীদের কোনো অভয়ারণ্য থাকতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইরানে মার্কিন হামলার পর বিশ্ববাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে তেলের দাম
- রামিসা থেকে আবদুল্লাহ: শিশু যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে নীরবতার অবসান হোক
- ইরানে ধাক্কা খেয়ে চীনের সামনে দুর্বল আমেরিকা?
- ইরান যুদ্ধে ড্রোন ধ্বংসে ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের
- আজ ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- আবারও কমলো সোনার দাম, ভরিতে বড় পতন
- ঈদের দিনে কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া
- রামিসার মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে আজ রাতেই পল্লবীর বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
- ২১ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- আজ সূর্যাস্ত কখন? নামাজের সময় জানুন একনজরে
- লাশ উদ্ধারের ৫ দিনের মাথায় চূড়ান্ত অভিযোগপত্র: রামিসা হত্যায় দ্রুততম বিচারের রেকর্ড
- রামিসা হত্যা ও ফারিয়া ধর্ষণের প্রতিবাদ: চট্টগ্রামে ফুলেশ্বরী অ্যাসোসিয়েশনের মিছিল
- পল্লবীর লোমহর্ষক শিশু হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুততম সময়ে শেষ করার ঘোষণা
- একটি গরুর দাম ৫৯ কোটি টাকা! গিনেস বুকে নাম তুলে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়
- রামিসা হত্যার খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
- ২১ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ








