বিশেষ প্রতিবেদন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ঢাকা–১ এ হাইভোল্টেজ লড়াই: বিএনপির আশফাক বনাম জামায়াতের ব্যারিস্টার নজরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৮ ১৫:১২:১২
ঢাকা–১ এ হাইভোল্টেজ লড়াই: বিএনপির আশফাক বনাম জামায়াতের ব্যারিস্টার নজরুল

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকার ১ নম্বর আসন, অর্থাৎ দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলাজুড়ে এখন থেকেই টানটান উত্তেজনা। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপির লড়াইয়ের ময়দান হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক এবং জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের মধ্যে। তিন দশকের বেশি সময়ের ভোটের ইতিহাস, দলীয় ঘাঁটি, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও নতুন ভোটারদের প্রবণতা মিলিয়ে ঢাকা-১ আসনটি হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতির জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

প্রার্থী হিসেবে কে কতটা শক্তিশালী

ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ইতোমধ্যে সুপরিচিত একটি নাম। নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সরাসরি কাজ করেছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন, যদিও পরে আইনি জটিলতায় তার প্রার্থিতা স্থগিত হয়। ২০১৬ সালে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২২ সালে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি সাংগঠনিকভাবে আরও শক্ত অবস্থানে আসেন।

দলের দুঃসময়, মামলা, গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়নের সময় তিনি মাঠে থেকে সংগঠন ধরে রেখেছেন বলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মন্তব্য। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ ইশতিয়াক আনুষ্ঠানিকভাবে আশফাককে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “আশফাক বিএনপির দুর্দিনের এক সাহসী কর্মী। আমি আশাবাদী, সে নির্বাচিত হয়ে দোহারনবাবগঞ্জকে দেশের মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবে।” দলের ভেতরে ও বাইরে এমন প্রশংসা আশফাককে বিএনপির সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছে।

অন্যদিকে জামায়াত সমর্থিত ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম মূলত শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত কৃতিত্ব ও ব্যক্তি ইমেজের কারণে দ্রুত আলোচনায় উঠে এসেছেন। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের বাঘহাটি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া নজরুল ইসলামের ছাত্রজীবন থেকেই ছিল আলাদা উজ্জ্বলতা। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে আইন বিষয়ে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে স্বর্ণপদক পান।

এরপর সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া থেকে কামিল, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আরেকটি এলএলবি, সিটি ইউনিভার্সিটি লন্ডন থেকে লিগ্যাল প্রফেশনে পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা এবং বিশ্বখ্যাত মিডল টেম্পল থেকে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি (বার-অ্যাট-ল) অর্জন করে তিনি নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের আইনজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ছাত্রজীবনে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয়সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র হিসেবেদায়িত্বপালন করেন। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনেই তিনি প্রথমবারের মতো ঢাকা-১ আসনে সরাসরি সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন এবং ইতিমধ্যেই স্থানীয় শিক্ষিত তরুণ ও ধর্মপ্রাণ মানুষের চোখে একজন সৎ, যোগ্য ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

ঢাকা-১: ভোটার প্রোফাইল ও দীর্ঘ তিন দশকের নির্বাচনী হিসাব

দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১ আসনটি মূলত গ্রামীণ ও মফস্বল অধ্যুষিত এলাকা। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ৪৪০,২৮৬ জন। ভোটার তালিকা হালনাগাদের পর এবার এই সংখ্যা প্রায় পাঁচ লক্ষেরকাছাকাছি পৌঁছেছে বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা। কৃষক, ব্যবসায়ী, প্রবাসী পরিবারের সদস্য, চাকরিজীবী এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষিত যুবক-যুবতী এই আসনের ভোটার কাঠামোর বড় অংশ।

নির্বাচনীইতিহাসেদেখা যায়, স্বাধীনতা-উত্তর প্রথম নির্বাচন ১৯৭৩ সালে এই আসনে জয় পেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। কিন্তু ১৯৭৯ সালথেকেইএইআসনেবিএনপির প্রভাব বাড়তে শুরু করে; খন্দকার দেলোয়ার হোসেন তখন থেকে এ আসনকে বিএনপি ঘাঁটি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৯১ সালেরপঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নজমুল হুদা ৬০.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী পান ৩৪.৪ শতাংশ ভোট। ১৯৯৬ সালের জুন পুনর্নির্বাচন ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয়নির্বাচনেতিনিপরপরদুইবার নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোট পান, আর আওয়ামীলীগপ্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ছিল ২৯ শতাংশের নিচে। ২০০১ সালে টানটান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নজমুল হুদা ৫১.৪ শতাংশ ভোট পেয়ে মাত্র ২,৭৭১ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শিল্পপতি সালমান এফ রহমানকে হারান এবং পরবর্তীতে যোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বও পান।

তবে ২০০৮ সালের নবম জাতীয়নির্বাচনে রাজনৈতিক পালাবদলের ঢেউ ঢেউ আঘাত হানে এই আসনেও। আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান ৫৪.৯ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর বিএনপির প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান পান ৪২.৮ শতাংশ ভোট। ওই নির্বাচনে প্রায় ৮৯ শতাংশ ভোটার উপস্থিত ছিলেন, যা অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ ভোটার অংশগ্রহণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

২০১৪ সালের দশম জাতীয় নির্বাচনেবিএনপি অংশ না নেওয়ায় এক অদ্ভুত সমীকরণ তৈরি হয়। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েও আবদুল মান্নান খান অল্প ব্যবধানে পরাজিতহনজাতীয় পার্টির সালমা ইসলাম ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, আর মান্নান খান পান ৪৮ শতাংশ ভোট। সরকারি হিসাব অনুযায়ী সেই নির্বাচনেভোটারউপস্থিতিছিলমাত্র ২৬.৯ শতাংশ, যদিও বাস্তবে উপস্থিতি তার থেকেও কম ছিল বলে তখনই আলোচনা তৈরি হয়।

২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সালমান এফ রহমান প্রথমবারের মতো ঢাকা-১ আসনে সাংসদ নির্বাচিত হন। বিএনপি প্রার্থী হিসেবেখন্দকারআবু আশফাক মনোনয়নপত্র জমা দিলেও নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে তার পদত্যাগ স্বীকৃতি না পেয়ে আইনি জটিলতায় প্রার্থিতাবাতিলহয়ফলে ব্যালটে বিএনপি বা বিএনপিজোটের কোনো প্রার্থী ছিল না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কেবল সালমা ইসলাম অংশ নেন। সরকারি হিসাবে ওই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৮০ শতাংশের বেশি দেখানো হয়। এতে সালমান এফরহমানপ্রায় ৩,০২,৯৯৩ ভোট অর্থাৎ প্রায় ৮৫.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, আর সালমা ইসলাম পান ৩৭,৭৬৩ ভোট, যা প্রায় ১০.৭ শতাংশ।

এই দীর্ঘ ইতিহাসের আলোকে দেখা যায়, ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বিএনপি এ আসনে জয় পায়, ২০০৮ ও ২০১৮ সালে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ, আর ২০১৪ সালে জয় পায় জাতীয় পার্টি। সেই তুলনায় ২০২৬ সালের নির্বাচন আবারও বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের এক পরীক্ষামূলক ময়দান হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সাংগঠনিক ভিত্তি ও প্রভাব: মাঠে কার কতটা প্রস্তুতি

খন্দকার আবু আশফাক দীর্ঘদিনের সংগঠক হওয়ায় তৃণমূলের সঙ্গে তার যোগাযোগ অনেক পুরনো ও বিস্তৃত। ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে থেকে তিনি দোহার ও নবাবগঞ্জ মিলে অন্তত ১০টি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ইউনিটের সঙ্গে প্রতিনিয়ত কাজ করছেন। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে তার প্রভাব সুস্পষ্ট। সাম্প্রতিক সময়ে দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের ঝুনকি গ্রামে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে আশফাককে প্রধান অতিথি হিসেবে দেখতে বিপুল জনসমাগম হয়। ওই বৈঠকে তিনি বলেন, “দোহারনবাবগঞ্জবাসী অনেকদিন ধরে অবহেলিত। এই দেশ, এই আসন, এই জনগণ বিএনপির। ইনশাআল্লাহ, জনগণের ভোটেই পরিবর্তন আসবে।” বক্তৃতা শেষে উপস্থিত মানুষ ও কর্মীরা করতালি আর ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান এবং বিএনপির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেন।

তবে সবকিছু এতটা মসৃণও ছিল না। স্থানীয় সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ভাষ্যে, দোহার উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেআগেঅভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা দিয়েছিল। আশফাকের নেতৃত্বে এক পক্ষ এবং আরেক সাবেক নেতার নেতৃত্বে অন্য পক্ষের মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়। ২০২২ সালে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি ঐক্য গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেন এবং এখন আন্দোলন ও নির্বাচনে পুরো জেলা কমিটিকে একটি মডেল হিসেবে দাঁড় করানোর কথা বলে আসছেন। কেন্দ্রীয় আন্দোলন কর্মসূচিতেসক্রিয়থাকার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তার নেতৃত্বে কর্মীরা নতুন করে উদ্দীপ্ত হয়েছে বলে ধারণা দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম সাংগঠনিক রাজনীতিতে তুলনামূলক নতুন মুখ হলেও জামায়াতের পুরোনো ও মৌলিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে তিনি নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছেন। ছাত্রশিবিরে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পালন ও প্রবাসে জামায়াতের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে একজন কার্যকর সংগঠক হিসেবে গড়ে তুলেছে।

এলাকায় উপস্থিতি জোরদার করতে তিনি স্কুলকলেজ, হাটবাজার, মসজিদমাদরাসা থেকে পাড়ামহল্লায় ধারাবাহিক গণসংযোগ চালাচ্ছেন। দোহার উপজেলার নয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাজারে তার সাম্প্রতিক প্রচারণায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। এক সহকারী শিক্ষক মন্তব্য করেছেন, “ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম একজন শিক্ষানুরাগী মানুষ। তার কথা শুনে মনে হয়েছে তিনি সত্যিই শিক্ষা ও উন্নয়নের পক্ষে কথা বলেন।” সাধারণ ভোটারদের কেউ কেউ বলেছেন, “এত বড় শিক্ষিত মানুষ হয়েও যেভাবে আমাদের সঙ্গে সহজভাবে কথা বলছেন, এটা আমাদের ভালো লেগেছে।”

সাম্প্রতিক এক মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় শত শত মোটরসাইকেল ও সমর্থকের অংশগ্রহণ এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ শোভাযাত্রায় ব্যারিস্টার নজরুল একটি ছাদখোলা গাড়িতে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, “জনগণই আমার শক্তি। তারা চাইলে পরিবর্তনের পথ তৈরি হবে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় গ্রহণ করতে চাই।” এই ধরনের বার্তা এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ ক্যাম্পেইন তার জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়িয়ে তুলছে। জামায়াতের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আমির ও শীর্ষ নেতারা তার প্রচারে সক্রিয় হওয়ায় মাঠপর্যায়ে একটি সুসংগঠিত প্রচারণা গড়ে উঠছে।

দোহার বনাম নবাবগঞ্জ: কার ঘাঁটি কোথায় দৃঢ়

ঢাকা-১ আসনের ভোটসমীকরণ বোঝার ক্ষেত্রে দোহার ও নবাবগঞ্জ দুই অংশকে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি। ঐতিহাসিকভাবে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। নজমুল হুদার রাজনীতির কেন্দ্রও ছিল এই অঞ্চল। খন্দকার আবু আশফাক নিজেও নবাবগঞ্জের বাসিন্দা এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ায় নবাবগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও সংগঠন উভয়ই শক্তিশালী। কলাকোপা, কৈলাইল, বান্দুরা, বারুয়াখালীসহ একাধিক ইউনিয়নে বিএনপির দীর্ঘদিনের কর্মী-সমর্থকেরা তার পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। আশফাক নিজের বাড়ির আঙিনায় পর্যন্ত দলীয় সভা ও সম্মেলন করেছেন, যা তার স্থানীয় ভিত্তি কতটা গভীরে তা নির্দেশ করে।

কিন্তু সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে এই তথ্য যে জামায়াতের প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের বাড়িও নবাবগঞ্জের কলাকোপা ইউনিয়নে। অর্থাৎ দুই প্রতিদ্বন্দ্বীই একই অঞ্চলের সন্তান। নবাবগঞ্জের বহু পরিবারেই ইসলামী আদর্শের প্রতি ঝোঁক আছে বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মত, যা অতীতে প্রায়শই বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে গিয়েছে। এবার জামায়াতের নিজস্ব প্রার্থী থাকায় সেই ভোটের একটি অংশ নজরুল ইসলামের দিকে সরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মসজিদ-মাদরাসা ও ধর্মীয় অনুশীলনকে ঘিরে যে সামাজিক নেটওয়ার্ক তৈরি হয়, সেখানে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের নিয়মিত উপস্থিতি তাকে এক ধরনের প্রাকৃতিক সুবিধা দিচ্ছে।

দোহার উপজেলায় চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এখানে ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়েরই উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংক ছিল। নজমুল হুদার সময় থেকে বিএনপি ভালো ফল করলেও পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উন্নয়নমুখী কিছু পদক্ষেপও স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। বিএনপি জেলা সভাপতি হিসেবে আশফাক দোহার অংশেও নিয়মিত দলীয় কর্মসূচি করছেন। নারিশা, সুচারপাড়া, কার্তিকপুর, মুকসুদপুর, নয়াবাড়ী, কুসুমহাটি প্রভৃতি ইউনিয়নে উঠান বৈঠক ও কর্মীসভা করে তিনি দলের সংগঠনকে সক্রিয় রাখার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে প্রবাসী বিএনপি সমর্থক ও স্থানীয় সিনিয়র নেতাদের একযোগে মাঠে দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

দোহার অংশে জামায়াত ঐতিহ্যগতভাবে নিজস্ব প্রার্থী দেয়নি। ফলে এখানে ব্যারিস্টার নজরুলের প্রচারণা মূলত শূন্য থেকে সংগঠন দাঁড় করানোর প্রক্রিয়া। তিনি জামায়াতের উপজেলা আমির ও কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে ঘুরছেন, স্কুলকলেজের তরুণদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং ইসলামী মূল্যবোধ ও সুশাসনকে সামনে রেখে সমর্থন চাইছেন। নয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাজারে তার প্রচারণা স্থানীয়ভাবে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে এবং ধীরে ধীরে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে উঠছেন। অতীতে জামায়াত প্রার্থী না থাকায় যারা ইসলামী আদর্শের প্রতি ঝোঁক থাকা সত্ত্বেও বিএনপিকেই ভোট দিতেন, তাদের কিছু অংশ এবার জামায়াতের প্রার্থীর দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন ভোটার: পরিবর্তনের ভাষা নাকি ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা

দেশজুড়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের ফলে প্রায় ৬২ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ৫ শতাংশ। ঢাকা-১ আসনেও ধারণা করা হচ্ছে ২০ হাজারের বেশি নতুন ভোটার এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। এদের বড় অংশই ২০০১-২০০৫ সালে জন্ম নেওয়া তরুণতরুণী, যারা পড়াশোনা, চাকরি, প্রবাস বা অনলাইন-নির্ভর জীবনযাপনের মাধ্যমে অনেক বেশি সচেতন ও প্রশ্ন করতে অভ্যস্ত।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন প্রজন্মের একটি অংশ পুরনো ধরনের দলীয় রাজনীতির বাইরে গিয়ে শিক্ষিত, ক্লিন ইমেজ এবং আন্তর্জাতিক মানসিকতার নেতৃত্বকে বেশি প্রাধান্য দিতে চায়। এই জায়গাতেই ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের প্রোফাইল তাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। তার উচ্চশিক্ষা, ইংরেজি ও আন্তর্জাতিক আইনের জ্ঞান, নীতি-নৈতিকতা ও তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য অনেক তরুণের কাছে আশাবাদী সুর তৈরি করছে। কিছু স্থানীয় তরুণের মন্তব্য, “শিক্ষায়, নীতিতে ও নেতৃত্বগুণে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম এ অঞ্চলের তরুণদের অনুপ্রেরণার উৎস”, এই প্রজন্মের মানসিকতার ইঙ্গিত দেয়।

অপরদিকে, ঐতিহ্যগত পারিবারিক ও দলীয় আনুগত্য এখনও বিএনপির জন্য বড় শক্তি। বহু পরিবারেই প্রবীণ ভোটাররা বরাবরই বিএনপির পক্ষে ভোট দিয়ে এসেছেন এবং তারা স্বাভাবিকভাবেই সন্তান-নাতি-নাতনিদেরও সেই ধারায় রাখার চেষ্টা করছেন। খন্দকার আবু আশফাক এরই মধ্যে যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মীদের নিয়ে নতুন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছানোর কৌশল নিয়েছেন। তিনি তরুণদের কাছে স্থানীয় উন্নয়ন, চাকরি, শিক্ষা এবং গত এক দশকের বেশি সময়ের “গণতন্ত্র সংকট ও বেকারত্ব” প্রসঙ্গ তুলে ধরে পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছেন। তার উঠান বৈঠক ও পথসভায় তরুণদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যা বিএনপির জন্য ইতিবাচক সিগন্যাল।

একদিকে আদর্শগতভাবে ইসলামী মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে আগ্রহী এক ঝোঁক দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকেবহু তরুণ গণতন্ত্র, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও বৃহত্তর জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ বিবেচনা করে ধানের শীষের প্রতীকের দিকেও তাকিয়ে আছে। ফলেনতুন ভোটারদের ভোট শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উভয় পক্ষের জন্যই অনিশ্চিত ও টার্গেট গ্রুপ হিসেবে থাকবে বলেই মনে হচ্ছে।

ঢাকা-১ আসনের নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই স্থানীয়ভাবে হাইভোল্টেজ উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে দীর্ঘদিনের সংগঠক ও তৃণমূলভিত্তিক নেতা হিসেবে খন্দকার আবু আশফাক বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছেন। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষিত, তুলনামূলক নতুন কিন্তু দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম জামায়াতেরপক্ষথেকেনিজের রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।

নবাবগঞ্জের ঐতিহ্যগত বিএনপি ঘাঁটি, দোহার অংশের মিশ্র সমীকরণ, জামায়াতের নতুন রাজনৈতিক উপস্থিতি, তৃণমূল সংগঠন, ধর্মভিত্তিকভোট, প্রবাসী পরিবারের প্রভাব ও নতুন ভোটারদের মানসিকতা সবকিছু মিলিয়ে ঢাকা-১ আসনটি হয়ে উঠেছে একটি জটিল ও আকর্ষণীয় নির্বাচনী লড়াইয়ের মঞ্চ।

এই আসনের ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবেন, তা শুধু দোহার-নবাবগঞ্জ নয়, পুরো দেশের বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ ও ইসলামপন্থী রাজনীতির অবস্থান সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে। তাই ঢাকা-১ এখন শুধু একটি নির্বাচনী এলাকা নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির পালাবদল, মেরুকরণ ও নতুন প্রজন্মের ভোট আচরণ বোঝার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগার।


শিশুর প্রশ্ন-আংকেল রোজা রাখেন? প্রধানমন্ত্রীর উত্তর-জ্বি সবগুলো রেখেছি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১৮:৩২:২৪
শিশুর প্রশ্ন-আংকেল রোজা রাখেন? প্রধানমন্ত্রীর উত্তর-জ্বি সবগুলো রেখেছি
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর নৌবাহিনী সদরদপ্তর মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রটোকলের বাহুল্য ছাড়াই সাধারণ পোশাকে মসজিদে প্রবেশ করেন। নামাজ শেষে বেরিয়ে আসার সময় মসজিদ চত্বরে উপস্থিত একদল শিশু-কিশোর তাকে ঘিরে ধরে। মুহূর্তটি দ্রুতই একটি উষ্ণ ও মানবিক আবহ তৈরি করে, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

জুমা শেষে নেভি হেডকোয়ার্টার মসজিদের সামনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটির একটি ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে শিশুদের চোখেমুখে কৌতূহল ও আনন্দের ছাপ। তাদের একজন সরাসরি প্রশ্ন করে বসে, তিনি রোজা রেখেছেন কি না। শিশুর সরল প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে জবাব দেন যে তিনি সবগুলো রোজা পালন করছেন।

এরপর শিশুদের মধ্যেও শুরু হয় নিজেদের রোজা রাখার গল্প। কেউ বলে সে কয়েকটি রোজা রেখেছে, কেউ আবার গর্ব করে জানায় সবগুলোই পালন করেছে। এ সময় এক শিশুকে তার বন্ধুরা মজা করে বলে ফেলে যে সে সেদিন সকালে খেয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামান্য হাস্যরসের পরিবেশ তৈরি হলেও প্রধানমন্ত্রী শিশুটিকে স্নেহভরে কাছে টেনে নেন। তিনি কোমল কণ্ঠে জানতে চান, আসলে সে কয়টি রোজা পালন করেছে। শিশুটি কিছুটা লজ্জিত ভঙ্গিতে স্বীকার করে যে আজকের একটি বাদে বাকিগুলো রেখেছে।

শিশুদের ধর্মীয় অনুরাগ ও আন্তরিকতায় প্রধানমন্ত্রী দৃশ্যতই আনন্দিত হন। তিনি উপস্থিত প্রতিটি শিশুর সঙ্গে কথা বলেন, তাদের মাথায় হাত রেখে দোয়া করেন এবং পড়াশোনায় মনোযোগী থাকার পরামর্শ দেন। সেখানে উপস্থিত অনেক অভিভাবক ও দর্শনার্থী এ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিও ধারণ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশের পর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিশুদের সঙ্গে এমন সহজ ও মানবিক যোগাযোগ একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। কেউ কেউ এটিকে প্রটোকলমুক্ত, স্বাভাবিক সামাজিক সম্পৃক্ততার উদাহরণ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।

-রফিক


স্বজনপ্রীতি নয়, যাচাই করে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১৭:২১:০৩
স্বজনপ্রীতি নয়, যাচাই করে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ
ছবি: সংগৃহীত

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সরকারি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা দলীয় প্রভাব বরদাশত করা হবে না। তিনি স্পষ্ট করে জানান, প্রকৃত দরিদ্র ও উপযুক্ত সুবিধাভোগীদের হাতে সহায়তা পৌঁছে দিতে হলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে সুবিধাভোগী চিহ্নিত করার জন্য চেয়ারম্যান ও দুইজন সমাজসেবককে অন্তর্ভুক্ত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি যাচাই কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাই করে দলীয় প্রভাবমুক্ত পরিবেশে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ নিশ্চিত করবে।

শুক্রবার বরিশাল সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সঠিক বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। মন্ত্রী বলেন, সরকারি সহায়তা যদি প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে না পৌঁছে, তবে রাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে।

সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী গণমাধ্যম খাতের কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, তথ্য মন্ত্রণালয় যেই সময় গড়ে উঠেছিল, তখন প্রযুক্তিনির্ভর গণমাধ্যমের বিস্তার ছিল না। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও বহুমাত্রিক তথ্যপ্রবাহের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নীতিমালা আধুনিকায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, নীতিনির্ধারক, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিসম্মত এবং জবাবদিহিতামূলক গণমাধ্যম কাঠামো গড়ে তোলা হবে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতা একে অপরের পরিপূরক। পেশাগত মানদণ্ড বজায় রেখে গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে একটি সুসংহত জবাবদিহিতা কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।

বরিশাল আদালতপাড়ায় সাম্প্রতিক ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে বিস্তারিত জানবেন। প্রয়োজন হলে আইনমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে অনুষ্ঠানে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬১ জনের মাঝে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-এর অনুদানের ২ কোটি ১৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ করেন তিনি। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালক, পথচারী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে সচেতন হতে হবে। ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে মানা, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও প্রশিক্ষণ এবং যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

পরিবহন শ্রমিক নেতাদের একাংশের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, হয়রানি এবং অঘোষিত ধর্মঘটের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হন। এই অরাজক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আইন বহির্ভূত কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ এবং ফারজানা ইসলাম। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।

-রফিক


ইউনূস সরকারের আমলে ৬৫টি প্রকল্পে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১০:৫৭:৫৮
ইউনূস সরকারের আমলে ৬৫টি প্রকল্পে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি
ছবি: সংগৃহীত

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় কমানো, অপচয় রোধ এবং দক্ষতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেকের বৈঠকের কার্যবিবরণী বিশ্লেষণে ভিন্ন চিত্র সামনে এসেছে।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেড় বছরে অন্তত ৬৫টি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে অতিরিক্ত যোগ হয়েছে প্রায় ৭৯ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, এই সময়ে একনেকের ১৯টি বৈঠকে ৮৭টি চলমান প্রকল্প সংশোধন করা হয়। গড়ে প্রতি বৈঠকে প্রায় পাঁচটি প্রকল্পে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এর মধ্যে মাত্র সাতটি প্রকল্পে ব্যয় কমানো হয়েছে, মোট সাশ্রয় ৯৫০ কোটি টাকা। যা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর আগের ব্যয়ের তুলনায় মাত্র ২.৪৫ শতাংশ। বিপরীতে ৬৫টি প্রকল্পে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরও ১৫টি প্রকল্পে ব্যয় অপরিবর্তিত থাকলেও সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।ঢ়এই ৬৫টি প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা। সংশোধনের পর তা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ গড়ে প্রায় ৩৫.৬৭ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইউনূস সরকারের প্রথম একনেক বৈঠকেই গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ১,৩০৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫৭১ কোটি টাকা করা হয়। একই বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নারী ক্ষমতায়ন কর্মসূচির ব্যয় বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১,৬৩০ কোটি টাকা।

মেয়াদের শেষ দিকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় সংশোধন করে ১ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। ২০১৬ সালে অনুমোদিত প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। সংশোধনে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২২.৬৩ শতাংশ।

ঢাকার পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ব্যয় ৪,৫৯৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৬ হাজার ১৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ বেড়েছে ১১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা, যা প্রায় আড়াই গুণ।

সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২ এ অতিরিক্ত ৭,১৫৫ কোটি টাকা যোগ হয়েছে। মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে বেড়েছে ৬,৬০৪ কোটি টাকা। চট্টগ্রামের পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্পে ১,৪১০ কোটি টাকা এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলার একটি প্রকল্পে ১,৩২৪ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের ছোট স্টেডিয়াম প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে ব্যয় ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ওতবে একটি উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম রয়েছে। ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৩২ হাজার ৭১৮ কোটি টাকায় নামানো হয়েছে। এতে সাশ্রয় হয়েছে ৭৫৪ কোটি টাকা। মূলত স্টেশন এলাকা উন্নয়ন ও কিছু জমি অধিগ্রহণ বাদ দেওয়ার মাধ্যমে এই সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছরে ১৩৫টি নতুন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে, যার মোট ব্যয় ২ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। এর বড় অংশ চট্টগ্রাম জেলায় বাস্তবায়িত হবে। অন্যদিকে ২১টি জেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশি-বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা। তাদের বিদায়ের সময় তা দাঁড়ায় ১৮ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকায়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বড় দেনার বোঝা রেখে যায় আগের সরকার।

এই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে কঠোর ব্যয় নিয়ন্ত্রণের প্রত্যাশা ছিল বেশি। অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে গঠিত শ্বেতপত্র কমিটি আগের সরকারের সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় পৌনে তিন লাখ কোটি টাকা অপচয়ের অভিযোগ তোলে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় দক্ষতা বাড়ানো এবং প্রকল্প অনুমোদনে কড়াকড়ি আরোপ ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। ছোট কিন্তু উচ্চ প্রভাবসম্পন্ন প্রকল্পে অগ্রাধিকার এবং বিদেশি সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প দ্রুত যাচাইয়ের নীতিগত ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু বাস্তব পরিসংখ্যান বলছে, প্রকল্প সংশোধনের পুরনো সংস্কৃতি পুরোপুরি ভাঙা যায়নি। ব্যয় কমানোর অঙ্গীকারের বিপরীতে ৬৫টি প্রকল্পে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি জনগণের অর্থ ব্যবস্থাপনায় নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন নজর থাকবে, বর্তমান সরকার প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সংস্কার আনতে পারে কি না।

-রফিক


ডিএমপিতে বড় ধামাকা! এক প্রজ্ঞাপনেই বদলে গেল ঢাকার পুলিশি কমান্ড

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ২১:৫৫:৩০
ডিএমপিতে বড় ধামাকা! এক প্রজ্ঞাপনেই বদলে গেল ঢাকার পুলিশি কমান্ড
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পরবর্তী কমিশনার হিসেবে নতুন কোনো কর্মকর্তা যোগদান না করা পর্যন্ত বর্তমান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত আইজি) মো. সরওয়ার কমিশনারের দায়িত্ব পালন করবেন। বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অ্যাডিশনাল ডিআইজি (পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১) শামীমা ইয়াছমিন খন্দকার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্থায়ীভাবে কেউ ডিএমপি কমিশনারের পদে নিয়োগ না পাওয়া পর্যন্ত মো. সরওয়ারই ডিএমপির যাবতীয় প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রমের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে আকস্মিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। যদিও চুক্তির মেয়াদ অনুযায়ী আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত তাঁর দায়িত্ব পালনের কথা ছিল, তবে মেয়াদের আগেই তিনি বিদায় নিলেন। বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের এই জাঁদরেল কর্মকর্তা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে ভূতাপেক্ষভাবে চাকরিতে পুনর্বহাল করে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর ডিএমপির ৩৮তম কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। দুই বছরের সেই চুক্তিভিত্তিক মেয়াদের মাঝপথেই তাঁর এই প্রস্থান পুলিশ প্রশাসনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অন্যদিকে ডিএমপির দায়িত্ব পাওয়া মো. সরওয়ার আলমের বাহিনীতে সুনাম রয়েছে বিশেষ করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় তাঁর দক্ষতার কারণে। গত বছরের ৭ জানুয়ারি এসবি থেকে তাঁকে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল এবং পরে তিনি ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত ১১ আগস্ট তিনি অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদোন্নতি পান। রাজধানীতে অসহনীয় যানজট নিরসনে তাঁর কার্যকর পদক্ষেপ ও অবদান সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। নতুন কমিশনার নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত ঢাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার গুরুদায়িত্ব এখন এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তার কাঁধেই বর্তালো।

/আশিক


গণভোটের ফলাফলে নাটকীয় মোড়: এক ঝটকায় কমলো হ্যাঁ ভোটের সংখ্যা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৯:৪৯:৫৭
গণভোটের ফলাফলে নাটকীয় মোড়: এক ঝটকায় কমলো হ্যাঁ ভোটের সংখ্যা
ছবি : সংগৃহীত

গত ১২ ফেব্রুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে সারা দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই দিনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছিল বহুল আলোচিত গণভোট। এই ভোটে দেশের সাধারণ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ সূচক সিল মেরে সরকারের সংস্কার উদ্যোগের প্রতি তাদের সমর্থন ও বিরোধিতার রায় দেন। প্রাথমিক ফলাফল গণনার পর গত ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছিল যে, বিপুল ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে। তবে আজ বৃহস্পতিবার জানা গেছে, সেই ফলাফল থেকে প্রায় ১০ লাখ ‘হ্যাঁ’ ভোট বাদ দিয়ে একটি সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করেছে কমিশন।

এর আগে বুধবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত অতিরিক্ত গেজেটের মাধ্যমে এই সংশোধনী প্রকাশ করা হয়। পুনরায় প্রকাশিত গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগের গেজেটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি। সেখান থেকে ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি ‘হ্যাঁ’ ভোট বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের পক্ষে বর্তমান রায়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৬২ লাখ ৫১ হাজার ৩০০টি। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবের বিষয়ে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম গেজেটের হিসাব অনুযায়ী ‘না’ ভোটের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি এবং বাতিল ভোটের সংখ্যা ছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি। সেই হিসাবে মোট বৈধ ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬ জন। তবে সংশোধিত গেজেটে ‘না’ ভোটের সংখ্যাও ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টিতে। সার্বিকভাবে বাতিল করা ভোটের সংখ্যা আগের চেয়ে ১২ হাজার ৫৫৯টি বেড়েছে এবং মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি কমেছে। নির্বাচন কমিশন এই সংশোধনীর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা না করলেও জানিয়েছে যে, কমিশনের আদেশক্রমেই এই নতুন গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে যা জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক বৈধতা চূড়ান্ত করবে।

/আশিক


কথা রাখলেন তারেক রহমান: ১২ লাখ কৃষকের ঋণের বোঝা শেষ!

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৮:৫৭:৫০
কথা রাখলেন তারেক রহমান: ১২ লাখ কৃষকের ঋণের বোঝা শেষ!
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সংবাদ মাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে, শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে নিয়োজিত দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষি খাতের মেরুদণ্ড শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের কাছে কৃষকদের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওনা প্রায় ১৫৫০ কোটি টাকা এই মওকুফ সুবিধার আওতায় আসবে। এর ফলে দেশের প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক সরাসরি ঋণের দায় হতে মুক্ত হতে পারবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও উল্লেখ করেন যে, ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পাওয়ায় কৃষকরা এখন তাঁদের সঞ্চিত অর্থ উন্নত মানের বীজ বা আধুনিক সেচ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়ার ফলে কৃষকদের ক্রেডিট রেকর্ড বা ঋণমান উন্নত হবে, যা তাঁদের ভবিষ্যতে পুনরায় ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে ঋণ পেতে সহায়তা করবে এবং স্থানীয় মহাজনদের উচ্চ সুদের হাত থেকে রক্ষা করবে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি ফিরবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, এর আগে ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করে কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছিল; সেই ধারাবাহিকতায় এবারের এই সিদ্ধান্তও গ্রামীণ মূল্যস্ফীতি হ্রাস এবং গ্রাম থেকে নগরমুখী অভিবাসন রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

/আশিক


দেশকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করার মিশন: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৮:৫১:৫৪
দেশকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করার মিশন: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দেশটাকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায় বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে রাজধানীর বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে ‘অমর একুশে বইমেলা-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। বাংলা একাডেমি আয়োজিত এবারের মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’।

উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বইমেলা কেবল বই বেচাকেনার উৎসব নয়, এটি জাতির মেধা ও মননের প্রতীক। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই মেলা জাতিকে আরও বইপ্রেমী করে তুলবে এবং নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। ১৯৭৮ সাল থেকে চালু হওয়া এই মেলা এখন মাতৃভাষার অধিকার রক্ষা ও বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক অনন্য স্মারক হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে জার্মান দার্শনিক মারকুইস সিসেরোর উক্তি ও বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণার তথ্য উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নিয়মিত বই পড়া মস্তিষ্কের কোষে নতুন সংযোগ তৈরি করে এবং আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তবে বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট আসক্তি তরুণ প্রজন্মকে বইবিমুখ করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

সিইও ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনের একটি আন্তর্জাতিক জরিপ তুলে ধরে তিনি জানান, ১০২টি দেশের মধ্যে বই পড়ায় বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম এবং এ দেশের মানুষ গড়ে বছরে মাত্র তিনটি বই পড়ে। এই পরিস্থিতির উত্তরণে তিনি অমর একুশে বইমেলাকে ভবিষ্যতে ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’ হিসেবে আয়োজনের প্রস্তাব দেন, যাতে বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগসূত্র আরও দৃঢ় হয়। এছাড়া বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সারা বছর বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে বইমেলা আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

/আশিক


জনবল সংকট মেটাতে পুলিশের মেগা নিয়োগের ঘোষণা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৭:১৭:০০
জনবল সংকট মেটাতে পুলিশের মেগা নিয়োগের ঘোষণা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘদিনের জনবল সংকট কাটাতে শিগগিরই ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি প্রদান করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে কেবল কনস্টেবল নয়, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ১৮০ জন ট্রাফিক সার্জেন্টও নিয়োগ দেওয়া হবে। বর্তমানে পুলিশের প্রায় প্রতিটি পর্যায়েই জনবলের ঘাটতি রয়েছে এবং এই শূন্যতা পূরণের মাধ্যমে বাহিনীকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়েছে বর্তমান সরকার।

এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে জরুরি ভিত্তিতে পুলিশের ২ হাজার ৭০০ জন কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আজ সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় বড় পরিসরে নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন যে, আপাতত ২ হাজার ৭০১ জন কনস্টেবলের পদ পুরোপুরি খালি রয়েছে এবং এই শূন্যপদগুলো জরুরি ভিত্তিতে পূরণের জন্য বিদ্যমান প্রক্রিয়ায় দ্রুত কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন ও জনবল বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বচ্ছ ও কার্যকর নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে যাতে থানা ও মাঠপর্যায়ে সেবার মান নিশ্চিত করা যায়।

/আশিক


যমুনা ছাড়ার দিনক্ষণ চূড়ান্ত: এবার বিশ্বজয়ে নামছেন ইউনূস!

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৬:২৭:০৫
যমুনা ছাড়ার দিনক্ষণ চূড়ান্ত: এবার বিশ্বজয়ে নামছেন ইউনূস!
ছবি : সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন শেষে আগামীকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ ছেড়ে দিচ্ছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি আবাসন পরিদপ্তর সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট শপথ গ্রহণের পর থেকে দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর তিনি হেয়ার রোডের এই ভবনেই বসবাস ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকে তিনি যমুনাতেই অবস্থান করছিলেন। ড. ইউনূসের প্রস্থানের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের এই অধ্যায়টির চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।

এদিকে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিরাপত্তাজনিত কারণ এবং সচিবালয়ে যাতায়াতের সুবিধার্থে রাজধানীর হেয়ার রোডের এই যমুনাকেই তাঁর সরকারি বাসভবন হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন যে, ড. ইউনূস ভবন ছাড়ার পর কিছু প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শেষে প্রধানমন্ত্রী সেখানে সপরিবারে উঠবেন।

যদিও এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে সংসদ ভবন এলাকা বিবেচায় ছিল, তবে সময়স্বল্পতার কারণে যমুনাকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সরকারি মেয়াদে থাকাকালীনই ড. ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় ২০ জন উপদেষ্টা তাঁদের কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন বলে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, যমুনা ছাড়ার পর ড. ইউনূস তাঁর ‘থ্রি জিরো’ ভিশন নিয়ে বিশ্বজুড়ে কাজ করবেন এবং ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সফরের আমন্ত্রণও পেয়েছেন যার সমন্বয় করছেন এসডিজি-র সাবেক প্রধান সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।

/আশিক

পাঠকের মতামত: