ঈদে কত দিনের ছুটি পাবেন চাকরিজীবীরা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৪:০৭:০৬
ঈদে কত দিনের ছুটি পাবেন চাকরিজীবীরা
ছবি: সংগৃহীত

আরবি শাবান মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী মার্চ মাসের ২০ অথবা ২১ তারিখে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। ইসলামিক বর্ষপঞ্জি চাঁদ নির্ভর হওয়ায় চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ হবে শাবান মাসের শেষ দিনে চাঁদ দেখা যাওয়ার ওপর ভিত্তি করে।

ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, যদি ২০ মার্চ শাবান মাসের ২৯ তারিখে চাঁদ দেখা যায়, তাহলে ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। অন্যদিকে, রমজান মাস যদি ৩০ দিনে পূর্ণ হয়, সেক্ষেত্রে ঈদ অনুষ্ঠিত হবে ২২ মার্চ।

সরকারের অনুমোদিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্ভাব্য ঈদের তারিখ ২১ মার্চ বিবেচনায় ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার থেকে ২৩ মার্চ সোমবার পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এর আগে ১৭ মার্চ মঙ্গলবার পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে সরকারি ছুটি রয়েছে। ১৮ মার্চ বুধবার সাধারণ কর্মদিবস হিসেবে নির্ধারিত। এরপর ১৯ মার্চ থেকে শুরু হবে ঈদের পাঁচ দিনের ছুটি, যা শেষ হবে ২৩ মার্চ।

ঈদের ছুটির পর ২৪ ও ২৫ মার্চ অফিস-আদালত খোলা থাকবে। তবে ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবসের সরকারি ছুটি রয়েছে। এর পরবর্তী দুই দিন শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য ছুটির ব্যবধান আরও দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

হিসাব অনুযায়ী, ২৪ ও ২৫ মার্চ দুই দিনের নৈমিত্তিক ছুটি গ্রহণ করলে ১৯ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত টানা ১০ দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব। এমনকি ১৮ মার্চ একদিনের অতিরিক্ত ছুটি নিলে শবে কদর থেকেই টানা বিশ্রামের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরকারি ছুটির সূচি অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক নয়; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী ছুটি নির্ধারণ করে থাকে। তবে অধিকাংশ বড় করপোরেট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সাধারণত সরকারি ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসূচি নির্ধারণ করে।

-রাফসান


ধার-দেনা ও মানসিক চাপ কমাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া হচ্ছে রেশন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ২০:০৯:১৭
ধার-দেনা ও মানসিক চাপ কমাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া হচ্ছে রেশন
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এক বড় স্বস্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বিশেষ রেশন সুবিধার আওতায় আনা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির বাজারে তীব্র আর্থিক সংকটে পড়া এবং ধার-দেনার মানসিক চাপে থাকা কর্মচারীদের কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়াতেই সরকারের এই বিশেষ কল্যাণমুখী উদ্যোগ।

ইতিমধ্যে রেশন সুবিধা চালুর এই যুগান্তকারী প্রস্তাবে সরকারের অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি মিলেছে। এই সিদ্ধান্ত দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য গত জুন মাসে অর্থ বিভাগের সচিবকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রেরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী তিন মাস পর বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের সঙ্গে যৌথ বৈঠকে এই কার্যক্রমের অগ্রগতি উপস্থাপন করতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতি মাসের কাজের পুঙ্খানুপুঙ্খ অগ্রগতিও বাধ্যতামূলকভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করতে হবে।

কর্মকর্তাদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি মূলত মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র থেকে উঠে এসেছে। গত ৩ মে আয়োজিত বার্ষিক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য এই প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন। ডিসি সম্মেলনে পাস হওয়া এই প্রস্তাবটি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে অর্থ বিভাগ এখন এটি স্বল্প, মধ্য নাকি দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়ন করবে—সেই রূপরেখা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এই সংক্রান্ত অগ্রগতির রিপোর্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন শাখায় পাঠাতে হবে।

সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া। তিনি বলেন, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই কঠিন সময়ে রেশন সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রাসঙ্গিক। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় সাধারণ কর্মচারীদের সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে উঠেছে। অনেক সময় সুযোগ-সুবিধার অভাবকে অযুহাত বানিয়ে অনেকে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন, রেশন চালু হলে সেটি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। তবে বিতরণ ব্যবস্থাপনায় যেন কোনো অনিয়ম না হয় এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা যেন এই সুবিধা পান, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে।”

উল্লেখ্য, সরকারি কাঠামোর ১২তম গ্রেডের পদের মধ্যে রয়েছে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, হিসাব সহকারী, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক, গুদামরক্ষক, নিরাপত্তা পরিদর্শক ও অডিটর। অন্যদিকে ২০তম গ্রেড হলো সরকারি চাকরির সর্বনিম্ন বা চতুর্থ শ্রেণির স্তর; যার মধ্যে রয়েছে অফিস সহায়ক, নৈশপ্রহরী, পিয়ন, মালী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী।

বর্তমানে দেশে সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমান), পুলিশ, বিজিবি, আনসার, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, এনএসআই, এসএসএফ, দুদক এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ মোট ১০টি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা সুলভ মূল্যে এই সরকারি রেশন সুবিধা পেয়ে আসছেন। উদাহরণস্বরূপ, পুলিশ বাহিনীতে চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য মাসিক রেশনে ২০ কেজি চাল, ২০ কেজি আটা, ২ কেজি ডাল, সাড়ে ৪ লিটার সয়াবিন তেল এবং ২ কেজি চিনি বরাদ্দ থাকে। পূর্বে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও সরকারি কর্মচারীরা এই রেশনের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করেছিলেন এবং তৎকালীন খাদ্য উপদেষ্টাও এর পক্ষে অর্থ বিভাগে সুপারিশ পাঠিয়েছিলেন। এবার চূড়ান্ত সম্মতি মেলায় বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এই প্রক্রিয়া।

সূত্র: বাসস


খিচুড়ি রান্না বা কচুরিপানা দেখতে আমলাদের বিদেশ সফরের যুগ শেষ: শিক্ষামন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ১৮:৪০:৪২
খিচুড়ি রান্না বা কচুরিপানা দেখতে আমলাদের বিদেশ সফরের যুগ শেষ: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তাদের তুচ্ছ ও অপ্রয়োজনীয় অজুহাতে বিদেশ ভ্রমণের নামে জনগণের অর্থ অপচয়ের দিন চিরতরে শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, অতীতে সরকারি আমলারা খিচুড়ি রান্না শেখা কিংবা নদী-নালার কচুরিপানা পরিষ্কার করার পদ্ধতি দেখার মতো হাস্যকর বিষয়েও রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশে যেতেন; তবে বর্তমান প্রশাসনের অধীনে সেই অরাজক পরিস্থিতি আর নেই।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে সাভারের নলাম এলাকায় ‘গণবিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি আধুনিক ও গতিশীল শিক্ষাকাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে দুই বছরের উচ্চশিক্ষার কোর্স নির্ধারিত দুই বছরের মধ্যেই শেষ হবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক থেকে ইন্টারমিডিয়েট (উচ্চ মাধ্যমিক) পর্যন্ত দীর্ঘ ১২ বছরের শিক্ষা জীবন কোনো ধরনের সেশনজট ছাড়াই শিক্ষার্থীরা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবে। তরুণ শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট না করে তাদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, নতুন শিক্ষাক্রম বা কারিকুলামে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ (আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা), খেলাধুলা ও নানা সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা এবং এ দেশের প্রকৃত ও সত্য ইতিহাস ধাপে ধাপে পাঠ্যবইয়ে সংযোজন করা হবে। বর্তমান পাঠ্যবইগুলোতে ইতিমধ্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি দূর করে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে; তবে সামগ্রিক কারিকুলামের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার সম্পন্ন করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশজুড়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের (টিটিসি) সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হচ্ছে এবং সম্পূর্ণ নতুন মডেলে আধুনিক উপায়ে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা প্রসঙ্গে মন্ত্রী এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আগামী রবিবার (১২ জুলাই) এই বৃত্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এবারই দেশের শিক্ষা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এই জাতীয় বৃত্তি ব্যবস্থার আওতার সুযোগ পেয়েছে। আপাতত কোটা বিন্যাস হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ শতাংশ কোটা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সম্প্রতি একটি ভর্তি পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই অনলাইনে আগাম ফাঁস বা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনো সার্ভার বা কারিগরি জটিলতা ছিল না। মূলত একজন অপারেটর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্বার্থে বা উদ্যোগে মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই ফলটি প্রকাশ করে দিয়েছিলেন। এই গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মূল অপরাধী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে কঠোর শাস্তিমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার সব পরীক্ষা বা ভর্তির ফলাফল দেশজুড়ে একসঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে চায়। পূর্ণাঙ্গ দাপ্তরিক প্রস্তুতি ছাড়া কোনো একটি ফলাফল আগেভাগে বা আংশিকভাবে প্রকাশ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো অনিয়ম বা গাফিলতি কঠোর হস্তে দমন করা হবে, কোনো বরদাশত করা হবে না।

উক্ত মূল আলোচনা সভাটি শুরু হওয়ার আগে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও হাজারো শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন এবং শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


শেখ মুজিবুর রহমানের পাকিস্তান ভাঙার ইচ্ছা ছিল না: স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ১৮:২৯:৪৮
শেখ মুজিবুর রহমানের পাকিস্তান ভাঙার ইচ্ছা ছিল না: স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ
ছবি : সংগৃহীত

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা এবং স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে প্রচলিত ইতিহাসের একটি বড় অসঙ্গতি ও বিতর্কিত দাবি সামনে এনেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি দাবি করেছেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভাঙার বা বিচ্ছিন্নতাবাদী হওয়ার কোনো ইচ্ছা শেখ মুজিবুর রহমানের ছিল না এবং ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত ক্র্যাকডাউনের আগে তাজউদ্দীন আহমদের অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি।

শনিবার (১১ জুলাই) ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ ভবনে আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ইতিহাস ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, ২৫ মার্চের সেই কালরাতে তাজউদ্দীন আহমদ স্বয়ং শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে গিয়ে বলেছিলেন যে পাকিস্তানি সেনারা সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ করতে যাচ্ছে এবং এই মুহূর্তে দেশের মানুষ স্বাধীনতা চায়। কিন্তু শেখ সাহেব সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, তিনি কোনোভাবেই বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হতে পারেন না এবং পাকিস্তান রাষ্ট্রটি ভেঙে যাওয়ার পেছনে তাঁর কোনো অবদান থাকুক—এটি তিনি চান না। স্পিকারের দাবি অনুযায়ী, এই কারণেই শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাকিস্তানি বাহিনীর অতর্কিত ও নৃশংস আক্রমণের মুখে যখন সমগ্র বাঙালি জাতি দিশেহারা এবং অবদমিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, ঠিক তখনই ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সেনারা সাহসের সঙ্গে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই চরম সংকটময় ও নেতৃত্বহীন মুহূর্তেই তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য জাতিকে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করেছিল। স্পিকার জোর দিয়ে বলেন, ‘এটিই হলো বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের প্রকৃত সত্য ইতিহাস।’

মেজর হাফিজ উদ্দিন রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিহাস চর্চার সমালোচনা করে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একক যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল এ দেশের আপামর জনসাধারণের একটি সমন্বিত ‘জনতার যুদ্ধ’। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টা চালায়। তারা অন্য সবার অবদান অস্বীকার করে শুধু ৭ই মার্চের ভাষণের ওপর ভিত্তি করে স্বাধীনতার পুরো কৃতিত্ব নিজেদের পকেটে পুরতে চেয়েছিল, যা ছিল ইতিহাসের প্রতি এক চরম অন্যায়। রাজনীতিবিদদের মানসিকতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতারা সাধারণত অন্যের ত্যাগ ও কৃতিত্ব হাইজ্যাক বা ছিনতাই করতে পছন্দ করেন এবং নিজের দলের নির্দিষ্ট নেতা ছাড়া অন্য কাউকে ইতিহাসে স্থান দিতে চান না।

আলোচনা সভায় স্পিকার ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের গৌরবময় ও ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি জানান, ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে রেজিমেন্টের মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন সক্রিয় ছিল। ২৫ মার্চের গণহত্যার পর কোনো পূর্বপরিকল্পনা, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ছাড়াই একেকটি ক্যান্টনমেন্টে বাঙালি অফিসার ও সৈনিকেরা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তাঁরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের ডাক দেন। সামরিক বাহিনীর এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ যুদ্ধই ছিল পরবর্তী ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী ও গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি ও চালিকাশক্তি।

নিজের সামরিক জীবনে যোগদানের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন জানান, তিনি মূলত ফুটবল খেলার প্রতি গভীর টানের কারণেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণাতেই তিনি ‘ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে’ যোগদানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ‘আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি স্বাধীনতার মহান ঘোষক এদেশের মহান রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমানকে, যিনি আমাকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।’

এ ছাড়া তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রধান সংগঠক মেজর আব্দুল গনি এবং ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের রেজিমেন্ট কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারের ঐতিহাসিক অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। পরিশেষে, তিনি আধুনিক সামরিক বাহিনীতে সাধারণ সৈনিকদের সাথে অফিসারদের সম্পর্কের যে চিরাচরিত ও আত্মিক বন্ধন, তা পুনরায় শক্তিশালী করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

/আশিক


পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো শিল্পকারখানা গড়ার সুযোগ নেই: পরিবেশমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ১৮:১৪:৫০
পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো শিল্পকারখানা গড়ার সুযোগ নেই: পরিবেশমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশের টেকসই ও ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার স্বার্থে শিল্পায়ন এবং সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি হলেও, উন্নয়নের নামে প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো ধরনের নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলার সুযোগ বর্তমান বাংলাদেশে আর নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সরকারের এই অনমনীয় ও পরিবেশবান্ধব নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট উৎপত্তিস্থল বা উৎসগুলো যদি আমরা আগে নির্ধারণ করতে না পারি, তবে কোনো ধরনের প্রতিরোধমূলক বা সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাই বাস্তবে কার্যকর করা সম্ভব হবে না। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিভিন্ন ফোরামে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর পরিণতি বা দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি নিয়েই সাধারণত সবচেয়ে বেশি আলোচনা হতে দেখা যায়। কিন্তু এই সংকটের মূল সোর্স বা উৎসগুলো নিয়ে তেমন কোনো ফলপ্রসূ কথা হয় না। অথচ সংকটের প্রকৃত উৎপত্তিস্থলগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে না পারলে আমরা কখনোই একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারব না।

বাংলাদেশকে বিশ্বের মানচিত্রে অন্যতম প্রধান জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই বিরূপ ও নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অর্থনীতির গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। আর এই কারণেই বর্তমান সরকার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু সুরক্ষার বিষয়টিকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারের অন্যতম শীর্ষ এজেন্ডা হিসেবে বিবেচনা করছে।

মন্ত্রণালয় পরিচালনায় নিজের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, যতদিন তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন, ততদিন পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিকে দেশের সামগ্রিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত রাখার জন্য নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাবেন।

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে একটি সুষম ভারসাম্য বজায় রাখার জোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আর এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে কলকারখানার উৎপাদন বাড়াতেই হবে, যার জন্য প্রয়োজন নতুন নতুন ইন্ডাস্ট্রি বা শিল্প খাতের বিকাশ। তবে ইন্ডাস্ট্রি স্থাপন করার নামে আমাদের অমূল্য পরিবেশকে নষ্ট বা জীববৈচিত্র্যকে বিপন্ন করা হবে–সেটি কোনোভাবেই বর্তমান প্রশাসন মেনে নেবে না।

পরিবেশ অধিদপ্তরের এই বিশেষ সেমিনারে সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দেশের বিশিষ্ট পরিবেশবিদ এবং সংশ্লিষ্ট খাতের গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বক্তারা দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি সব অংশীজনকে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

/আশিক


ঢামেকে তারেক রহমান, উৎসবমুখর ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ১২:০২:২০
ঢামেকে তারেক রহমান, উৎসবমুখর ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮০ বছর পূর্তি এবং ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সোয়া ১০টার দিকে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে পৌঁছে দিনব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান।

সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরিবেশবান্ধব ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই প্রতীকী কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের মতে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মারক হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পরিবেশ সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় দুটি আধুনিক ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন আবাসিক ভবন নির্মিত হলে নারী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং চিকিৎসা শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।

এছাড়া তিনি আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ঐতিহ্য, দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিষ্ঠানটির অবদান এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্যরা ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে দিনটিকে স্মরণীয় করে তোলেন।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা অতিক্রম করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের উদ্দেশে রওনা দেয়। শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে তাকে স্বাগত জানান। বিপুল মানুষের উপস্থিতির কারণে কিছু সময়ের জন্য গাড়িবহরের গতি ধীর হয়ে যায়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী গাড়ি থেকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানানোর মাধ্যমে উপস্থিতদের অভিবাদনের জবাব দেন।

সফর উপলক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকায় বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। হাসপাতাল ও কলেজসংলগ্ন ফুটপাত থেকে ভ্রাম্যমাণ হকার, অস্থায়ী দোকান, স্টেশনারি স্টল এবং বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়। এতে দীর্ঘদিন পর গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকার ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে এবং যান চলাচলেও স্বস্তি ফিরেছে। রোগীর স্বজন, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। তাদের প্রত্যাশা, এই সফর ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ আধুনিকায়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন গতি যোগ করবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নেও কার্যকর সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ শুধু দেশের প্রাচীনতম চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি নয়, বরং বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রামেরও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েই এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ও আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

-রাফসান


ঢাকা মেডিকেলে তারেক রহমান, উদ্বোধন করলেন বৃক্ষরোপণ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ১১:৫৩:৫৭
ঢাকা মেডিকেলে তারেক রহমান, উদ্বোধন করলেন বৃক্ষরোপণ
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮০ বছর পূর্তি এবং ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে পৌঁছে তিনি দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান।

সকাল প্রায় ১০টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের মতে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মারক হিসেবে এই বৃক্ষরোপণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি প্রতীকী বার্তা বহন করবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে দুটি নতুন ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন আবাসিক সুবিধা চালু হলে নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট অনেকাংশে কমবে এবং চিকিৎসা শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ আরও উন্নত হবে।

অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর প্রধানমন্ত্রী আলোচনা সভায় অংশ নেন। সেখানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের দীর্ঘ ঐতিহ্য, দেশের স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিষ্ঠানটির অবদান এবং চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।

১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা মেডিকেল কলেজ বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত। স্বাধীনতা সংগ্রাম, চিকিৎসা গবেষণা, দক্ষ চিকিৎসক তৈরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশের শীর্ষ সরকারি চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে এখান থেকে হাজারো চিকিৎসক দেশ-বিদেশে স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখছেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে পুরো ক্যাম্পাসে ছিল বিশেষ আয়োজনের আমেজ। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

-রফিক


উত্তরাঞ্চলে দুই নতুন নদীবন্দর নির্মাণে সরকারি ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১০ ১১:০৭:২৭
উত্তরাঞ্চলে দুই নতুন নদীবন্দর নির্মাণে সরকারি ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

উত্তরাঞ্চলের নৌ-যোগাযোগ আরও গতিশীল করা, আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে যমুনা নদীর তীরে দুটি নতুন নদীবন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে সরকার। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বগুড়ার সারিয়াকান্দি নদীবন্দর এবং বগুড়া-সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের ধুনট নদীবন্দর সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, নৌপরিবহন এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

বুধবার (৮ জুলাই) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের টি শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, পোর্ট অ্যাক্ট, ১৯০৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারার ক্ষমতাবলে নতুন দুটি নদীবন্দরের সীমানা নির্ধারণ এবং ওই এলাকায় আইনের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে এসব নদীবন্দরকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন, নৌযান পরিচালনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার পথ সুগম হবে।

সরকারি গেজেট অনুযায়ী, সারিয়াকান্দি নদীবন্দরের উত্তর সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সারিয়াকান্দি উপজেলার কালিতলা ঘাটের উত্তরাংশে হাটশেরপুর ইউনিয়নের দিঘাপাড়া ঘাট থেকে যমুনার পূর্ব তীরের কাজলা ইউনিয়নের জামথল ঘাট পর্যন্ত। অপরদিকে দক্ষিণ সীমানা বিস্তৃত হয়েছে কর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের মধুরাপাড়া ঘাট থেকে নদীর পূর্ব তীরে নারপালা মৌজার মূলবাড়ি এলাকা পর্যন্ত।

অন্যদিকে ধুনট নদীবন্দরের উত্তর সীমা শুরু হয়েছে সারিয়াকান্দির কর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের মধুরাপাড়া ঘাট এলাকা থেকে। দক্ষিণ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার তেকুরিয়া হাটসংলগ্ন যমুনা নদী হয়ে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভাতরবাড়ি ইউনিয়নের চৌবার মৌজার বেশাঘীর চর পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায়।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দুই নদীবন্দরের ক্ষেত্রেই যমুনা নদীর পূর্ব ও পশ্চিম তীরে সাধারণ ভরাকালের সর্বোচ্চ পানি সমতল থেকে স্থলভাগের দিকে ৫০ গজ পর্যন্ত এলাকা বন্দরের প্রশাসনিক সীমানার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে ভবিষ্যতের অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনায় আইনি জটিলতা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সারিয়াকান্দি নদীবন্দরের আওতায় দিঘাপাড়া, কালিতলা, মধুরাপাড়া, জামথল ও সোনাদগা ঘাটসহ বিদ্যমান খাল ও নৌঘাট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে ধুনট নদীবন্দরের অধীনে চন্দনবাইশা, শাহরাবাড়ি ঘাটসহ সংশ্লিষ্ট খাল ও ঘাটগুলোও বন্দর এলাকার অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

সরকার জানিয়েছে, নতুন নদীবন্দর দুটিকে কেন্দ্র করে পর্যায়ক্রমে জেটি নির্মাণ, আধুনিক নৌ-টার্মিনাল, যাত্রীসেবা কেন্দ্র, নৌপথ উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের নদীপথে পণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে, একই সঙ্গে যাত্রী চলাচলেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বন্দর উন্নয়ন ও পরিচালনার স্বার্থে নির্ধারিত সীমানার মধ্যে যদি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা অবকাঠামো প্রশাসনিকভাবে সাংঘর্ষিক অবস্থায় থাকে, তাহলে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হলো নদীবন্দরকেন্দ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা।

-রফিক


অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে নেওয়া ৬১ কোটির লুটপাটের প্রকল্প বাতিল ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ২১:২৪:৩২
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে নেওয়া ৬১ কোটির লুটপাটের প্রকল্প বাতিল ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অসচ্ছল মানুষের পুনর্বাসনের নামে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত ‘ইন্টিগ্রেট’ শীর্ষক চরম বিতর্কিত প্রকল্পটি পুরোপুরি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে তৈরি করা এই প্রকল্পে মাত্র ৮ কোটি টাকা মূল অনুদান বিতরণের বিপরীতে প্রশাসনিক পরিচালনা ও পরামর্শকদের ফি বাবদ ৫৩ কোটি টাকার এক অস্বাভাবিক ও নজিরবিহীন খরচের প্রস্তাব করা হয়েছিল। এই বিশাল আর্থিক অসংগতির খবর প্রকাশ পাওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও জনবিক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাতিলের এই চূড়ান্ত ঘোষণা এল।

প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক ব্যয় কাঠামো নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) বিশেষ সভায়ও তীব্র আপত্তি তোলা হয়েছিল এবং সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তারা এটি অনুমোদনের অযোগ্য বলে মত দেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত রবিবার (৫ জুলাই) জাতীয় দৈনিক ‘কালবেলা’ পত্রিকায় ‘৮ কোটি টাকা বিতরণে খরচ ৫৩ কোটি!’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর সরকারের এই খামখেয়ালি প্রজেক্ট নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এই বিষয়ে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল কালবেলাকে নিশ্চিত করে বলেন যে, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সেই বিতর্কিত প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

জার্মান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জিআইজেড) আর্থিক অনুদানে বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এই ৬১ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছিল সমাজসেবা অধিদপ্তর। পরবর্তীতে প্রকল্পটির খুঁটিনাটি যাচাই-বাছাই করতে গত ৫ জুলাই একটি উচ্চপর্যায়ের মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্যের (সচিব) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই গুরুত্বপূর্ণ সভার নোটিশ জারি করা হয়েছিল চলতি বছরের ২৪ জুন, যেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, উক্ত পিইসি সভায় অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও স্বাগতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা প্রদান সংক্রান্ত এই প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে অপ্রয়োজনীয় ও আকাশচুম্বী অর্থ বরাদ্দ নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন তোলেন বিশেষজ্ঞরা। প্রকল্পের মূল উপকারভোগী বাছাইয়ের অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং অবাস্তব ব্যয় কাঠামোর কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর। বিশেষ করে প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত দেশি-বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ, তাদের পেছনে বিপুল অঙ্কের ফি এবং সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের জন্য বড় বাজেট রাখাকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও অনৈতিক বলে অভিহিত করা হয়। পিইসি সভার আগেই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা কমিশনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় প্রকল্পটি বাদ দেওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছিলেন কর্মকর্তারা, যার চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটে মূল্যায়ন কমিটির মূল সভায়।

যদিও এই পিইসি সভার আনুষ্ঠানিক কার্যবিবরণী বা রেজল্যুশন এখনো দাপ্তরিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি, তবে সভায় উপস্থিত একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, কোনো নিয়মের আলোকেই এমন গণবিরোধী ব্যয় কাঠামো অনুমোদন পাওয়ার সুযোগ নেই। সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে মূল উদ্দেশ্যের চেয়ে আনুষঙ্গিক খাতের খরচ কয়েকগুণ বেশি এবং প্রকল্পের সময়সীমা নিয়ে গুরুতর অসংগতি রয়েছে, সেখানে জনগণের বা দাতার টাকা এভাবে অপচয় করতে দেওয়া যায় না। মন্ত্রণালয়ও নীতিগতভাবে এই লুটপাটের প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত সিলমোহর করেছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ‘ইন্টিগ্রেট’ নামক এই প্রকল্পের মোট বাজেট ধরা হয়েছিল ৬১ কোটি ২৯ লাখ ৬৪... হাজার টাকা, যার মূল লক্ষ্য ছিল খুলনা, সাতক্ষীরা, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জ জেলার মাত্র ৩০০ জন জলবায়ু উদ্বাস্তু ও অসহায় মানুষকে ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য আর্থিক অনুদান দেওয়া। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বিশাল বাজেটের মধ্যে প্রকৃত দরিদ্র মানুষের ভাগ্যউন্নয়নে অনুদান হিসেবে পৌঁছানোর কথা ছিল মাত্র ৮ কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজার টাকা, যা পুরো বাজেটের মাত্র ১৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। অথচ বাকি ৫৩ কোটি ১৮ লাখ ৭৪... হাজার টাকাই বরাদ্দ রাখা হয়েছিল কর্মকর্তাদের বিলাসী ব্যবস্থাপনা খরচ, বিলাসবহুল অফিস ভাড়া, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এবং পরামর্শকদের পকেট ভরানোর জন্য।

নথির তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৩০০ জন দরিদ্র মানুষের ভাগ্য নির্ধারণে দেশি-বিদেশি পরামর্শকদের পেছনেই ২৯ কোটি 62 লাখ টাকা ও অফিস ভাড়া বাবদ ১৩ কোটি ২৭ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছিল। এমনকি সরকারি কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং অভ্যন্তরীণ যাতায়াতে ১ কোটি ২৭ লাখ ৭৬... হাজার টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল, যা বর্তমান সরকারের কঠোর আর্থিক কৃচ্ছ্রসাধন নীতির পরিপন্থী।

/আশিক


শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় কোনো কূটনৈতিক ঘাটতি নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ১৮:০১:৫৫
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় কোনো কূটনৈতিক ঘাটতি নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় সরকারের কোনো ধরনের কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতা বা ঘাটতি নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারের এই দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

সম্প্রতি শেখ হাসিনা নিজ দেশে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের দেশের প্রচলিত আদালত একজনকে সুনির্দিষ্ট অপরাধে সাজা প্রদান করেছেন। সেই সাজাপ্রাপ্ত আসামি, যিনি দেশের মাটিতে অসংখ্য অন্যায়, অত্যাচার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করে বর্তমানে বিদেশে পলাতক জীবনযাপন করছেন, তিনি নিজে এখন কী বলছেন বা না বলছেন, তা বর্তমান সরকারের কাছে বিন্দুমাত্র প্রাসঙ্গিক বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বন্দি প্রত্যর্পণের আইনি প্রক্রিয়াটি ভারত সরকারের সঙ্গে সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে সচল রয়েছে। এই মুহূর্তে একজন চিহ্নিত আসামির ব্যক্তিগত বক্তব্য কোনো প্রভাব ফেলবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কাল থেকেই তাঁকে ফিরিয়ে আনার যে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা বর্তমানেও সমান গতিতে চলমান আছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় কূটনীতির কোনো ধরনের দুর্বলতা নেই। এটি কেবল এককভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়, এর সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো যৌথভাবে এই বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ভারতের অনীহা বা কোনো বড় ধরনের আইনি জটিলতা রয়েছে কিনা—সাংবাদিকদের এমন সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী পরিষ্কার করে বলেন, আইনি কোনো জটিলতা বা প্রতিবন্ধকতা আছে কিনা, তা আইন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক স্তরে যে ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ ও প্রক্রিয়া চালানো আবশ্যক, তা নিয়মিত বজায় রাখা হয়েছে এবং সেখানে তিনি কোনো ধরনের খামতি বা ঘাটতি দেখছেন না।

শামা ওবায়েদ আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণ সঠিক ও আইনি চ্যানেল ব্যবহার করেই এই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বন্দি বিনিময় চুক্তির শর্তাবলি, আন্তর্জাতিক প্রটোকল এবং প্রতিষ্ঠিত আইনি মানদণ্ড অনুসরণ করেই উক্ত আসামিকে বাংলাদেশে ফেরত এনে আদালতের মুখোমুখি করা হবে। দেশের সাধারণ জনগণও এই স্বৈরাচারী শাসনের অন্যায়ের সঠিক বিচার দেখতে চায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

/আশিক

পাঠকের মতামত: