যমুনায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের আবাস বরাদ্দের পূর্ণ তালিকা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৪:২৬:৫১
যমুনায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের আবাস বরাদ্দের পূর্ণ তালিকা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর হেয়ার রোডে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর সরকারি বাসভবন হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারেক রহমান। নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুবিধা এবং সচিবালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাতায়াতের উপযোগিতা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বর্তমানে যমুনায় অবস্থান করছেন সদ্যবিলুপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তর জানিয়েছে, তিনি আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি যমুনা ত্যাগ করবেন। এরপর প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন হলে প্রধানমন্ত্রী সেখানে উঠবেন।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী যমুনায় থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সংস্কার ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি শেষ হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

পূর্ববর্তী সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছিল গণভবন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ওই দিন গণভবনে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সেখানে বর্তমানে জাদুঘর নির্মাণকাজ চলছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর আবাস হিসেবে গণভবন আর ব্যবহারযোগ্য নয়।

নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর আবাস কোথায় হবে, তা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিকে কয়েক মাস আলোচনা চলে। গত বছরের ৭ জুলাই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। ছয় সদস্যের এই কমিটি রাজধানীর বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে ২০ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা এবং সংলগ্ন ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলোবাড়িকে সমন্বিত পরিকল্পনায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে বিবেচনার সুপারিশ করা হয়।

যমুনার আয়তন প্রায় সোয়া তিন একর। সংলগ্ন দুটি বাংলোবাড়িতে বর্তমানে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন। প্রধান উপদেষ্টা চলে গেলে সেগুলো প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বরাদ্দ থাকবে।

হেয়ার রোড, মিন্টো রোড ও বেইলি রোড এলাকাকে ‘মন্ত্রিপাড়া’ নামে চিহ্নিত করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর মন্ত্রিপাড়ার বাংলোবাড়িগুলোতে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের আবাস বরাদ্দ প্রক্রিয়া শুরু হয়।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তর জানিয়েছে, অধিকাংশ সাবেক উপদেষ্টা ইতিমধ্যে বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য আনুষ্ঠানিক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত চিঠি দেওয়া হবে। তবে সংস্কারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা বাসায় উঠতে কিছুটা সময় নিতে পারেন। ঈদুল ফিতরের পর অধিকাংশ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নতুন আবাসে উঠবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ৩৫ হেয়ার রোড, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ২৪ বেইলি রোড এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদকে ৫ হেয়ার রোডের বাংলোবাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানসহ একাধিক মন্ত্রীকে হেয়ার রোড, মিন্টো রোড ও বেইলি রোডের বাংলোবাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে গুলশানে সরকারি বাসা দেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে ধানমন্ডিতে আবাস বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীদের জন্য হেয়ার রোডের মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্টে ফ্ল্যাট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চলতি রমজানে ইফতার অনুষ্ঠান এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান যমুনায় আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সে অনুযায়ী দ্রুত সংস্কার ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

-রফিক


ঈদে কত দিনের ছুটি পাবেন চাকরিজীবীরা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৪:০৭:০৬
ঈদে কত দিনের ছুটি পাবেন চাকরিজীবীরা
ছবি: সংগৃহীত

আরবি শাবান মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী মার্চ মাসের ২০ অথবা ২১ তারিখে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। ইসলামিক বর্ষপঞ্জি চাঁদ নির্ভর হওয়ায় চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ হবে শাবান মাসের শেষ দিনে চাঁদ দেখা যাওয়ার ওপর ভিত্তি করে।

ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, যদি ২০ মার্চ শাবান মাসের ২৯ তারিখে চাঁদ দেখা যায়, তাহলে ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। অন্যদিকে, রমজান মাস যদি ৩০ দিনে পূর্ণ হয়, সেক্ষেত্রে ঈদ অনুষ্ঠিত হবে ২২ মার্চ।

সরকারের অনুমোদিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্ভাব্য ঈদের তারিখ ২১ মার্চ বিবেচনায় ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার থেকে ২৩ মার্চ সোমবার পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এর আগে ১৭ মার্চ মঙ্গলবার পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে সরকারি ছুটি রয়েছে। ১৮ মার্চ বুধবার সাধারণ কর্মদিবস হিসেবে নির্ধারিত। এরপর ১৯ মার্চ থেকে শুরু হবে ঈদের পাঁচ দিনের ছুটি, যা শেষ হবে ২৩ মার্চ।

ঈদের ছুটির পর ২৪ ও ২৫ মার্চ অফিস-আদালত খোলা থাকবে। তবে ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবসের সরকারি ছুটি রয়েছে। এর পরবর্তী দুই দিন শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য ছুটির ব্যবধান আরও দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

হিসাব অনুযায়ী, ২৪ ও ২৫ মার্চ দুই দিনের নৈমিত্তিক ছুটি গ্রহণ করলে ১৯ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত টানা ১০ দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব। এমনকি ১৮ মার্চ একদিনের অতিরিক্ত ছুটি নিলে শবে কদর থেকেই টানা বিশ্রামের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরকারি ছুটির সূচি অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক নয়; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী ছুটি নির্ধারণ করে থাকে। তবে অধিকাংশ বড় করপোরেট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সাধারণত সরকারি ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসূচি নির্ধারণ করে।

-রাফসান


সরকারের মেগা প্রজেক্টে মির্জা আব্বাস

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১১:৫৫:৫৫
সরকারের মেগা প্রজেক্টে মির্জা আব্বাস
ছবি : সংগৃহীত

দেশজুড়ে নদী, খাল ও জলাশয় খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচি সুচারুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৮ সদস্যের একটি বিশেষ সেল গঠন করেছে সরকার। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এই সেলের প্রধান বা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদকে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দেশব্যাপী পরিচালিত এই সেলের সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের সচিবদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন ভূমি, কৃষি, স্থানীয় সরকার, পানি সম্পদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দ। এছাড়া কারিগরি ও মাঠপর্যায়ের সমন্বয় নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালককেও এই সেলের সদস্য করা হয়েছে। সমগ্র কার্যক্রমের প্রশাসনিক সমন্বয়ের স্বার্থে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে সদস্য সচিবের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।

নবগঠিত এই সেলটি মূলত নদী ও জলাশয় খননের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার অধীনে চলমান খনন প্রকল্পগুলোর মধ্যে কাজের ওভারল্যাপিং এড়াতে এবং গতিশীলতা আনতে এই সেলটি কাজ করবে। নিয়মিতভাবে খনন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে উদ্ভূত যে কোনো সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষমতাও এই সেলকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খনন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রচার কার্যক্রম গ্রহণ করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাজের সুবিধার্থে সদস্যরা আলোচনার ভিত্তিতে প্রয়োজনে নতুন কোনো সদস্য কো-অপ্ট বা অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন এবং এই সেলের দাপ্তরিক ও সাচিবিক যাবতীয় সহায়তা প্রদান করবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এই আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে যা দেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক


একুশে পদক-২০২৬ প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১১:৪৮:৪১
একুশে পদক-২০২৬ প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক-২০২৬’ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি মনোনীত গুণীজনদের হাতে এই পদক তুলে দেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, এ বছর মোট ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি জনপ্রিয় ব্যান্ড দলকে এই রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে।

পদকপ্রাপ্ত গুণীজনরা হলেন— চলচ্চিত্রে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা, চারুকলায় অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, স্থাপত্যে বিশ্বখ্যাত স্থপতি মেরিনা তাবাশ্যুম, সংগীতে কিংবদন্তি গিটার জাদুকর ও শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর), নাট্যকলায় ইসলাম উদ্দিন পালাকার, সাংবাদিকতায় প্রবীণ ব্যক্তিত্ব শফিক রেহমান, শিক্ষায় অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার, ভাস্কর্যে তেজস হালদার যশ এবং নৃত্যকলায় অর্থী আহমেদ। এছাড়া প্রথমবারের মতো কোনো ব্যান্ড হিসেবে বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম অগ্রদূত ‘ওয়ারফেজ’-কে সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য এই পদক প্রদান করা হয়েছে।

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হাতে ৩৫ গ্রাম ওজনের স্বর্ণপদক, একটি সম্মাননাপত্র এবং চার লাখ টাকার চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। একুশে পদক প্রদানের এই রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বিকেলেই যোগ দেবেন বাঙালির বৃহত্তম সাংস্কৃতিক মিলনমেলা ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’-এর উদ্বোধনী আয়োজনে। তিনি সশরীরে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।

উল্লেখ্য যে, পদক প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বর্তমান সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যস্ত কর্মসূচি ঘিরে মেলা প্রাঙ্গণ ও সচিবালয় এলাকায় কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট সুধীবৃন্দ উপস্থিত থেকে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

/আশিক


ড. ইউনূসসহ সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগের পাহাড়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১০:২৯:০৭
ড. ইউনূসসহ সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগের পাহাড়
ছবি : সংগৃহীত

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সদ্য বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) শত শত দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ছে। দায়িত্ব ছাড়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টাসহ প্রায় সব উপদেষ্টার বিরুদ্ধে লিখিতভাবে এসব দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে। দুদকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে হারে অভিযোগ আসছে তাতে এটি একটি নতুন রেকর্ড হতে পারে।

অধিকাংশ অভিযোগ বেনামি হলেও বেশ কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগকারীরা নাম-পরিচয় উল্লেখ করে তথ্য-প্রমাণসহ চিঠি দিয়েছেন। দুদক সূত্র জানিয়েছে যে অন্য সব সাধারণ অভিযোগের মতোই এই অভিযোগগুলোও যথাযথ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করা হবে এবং প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুযায়ী অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন যে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগ আমলযোগ্য হলে অবশ্যই তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা উচিত।

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে জমা পড়া অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকম ও গ্রামীণ কল্যাণের অর্থ আত্মসাৎ এবং নিজের নামে ট্রাস্ট গঠন করে বিপুল পরিমাণ আয়কর ফাঁকি দেওয়ার তথ্য তুলে ধরেছেন গ্রামীণ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা। এছাড়া দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন বলেও একাধিক অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্য, জামিন বাণিজ্য এবং বিচারক পদায়নে দুর্নীতির এক ডজনের বেশি অভিযোগ এসেছে। একটি অভিযোগে দাবি করা হয়েছে যে, তিনি ২০ কোটি টাকার বিনিময়ে এক ভিআইপি আসামিকে জামিন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং গান বাংলা টিভির তাপসের জামিনেও বিপুল অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া উত্তরা, গুলশান ও সাভারের মতো লাভজনক এলাকায় সাব-রেজিস্ট্রার ও বিচারক বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে দুদকে অভিযোগ করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে যার আর্থিক অংকের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বলে দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে কাজ না দেওয়া, বিদেশে অর্থ পাচার এবং বেআইনি বিটকয়েন লেনদেনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এছাড়া পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাৎ ও অন্যের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ এসেছে। জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের বিরুদ্ধে সামিট গ্রুপ ও বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অবৈধ লেনদেন এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগ জমা পড়েছে।

এমনকি সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধে টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স প্রদানে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে। টিআইবি প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন যে সরকারে থাকাকালীন দুদকের নিষ্ক্রিয়তা কাটাতে এখন এই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি যাতে কেউ অযথা হয়রানির শিকার না হন আবার প্রকৃত অপরাধীরাও ছাড় না পান।

/আশিক


অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর পর্দা উঠছে আজ: উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ০৯:০৬:০৫
অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর পর্দা উঠছে আজ: উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

ভাষা আন্দোলনের অবিনাশী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’। ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এবারের মেলা আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে চলবে। আজ দুপুর ২টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং একই অনুষ্ঠানে তিনি বিশিষ্ট সাহিত্যিকদের হাতে ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’ তুলে দেবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেবেন মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। মেলার সার্বিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং উদ্বোধনের আগের রাত পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণে প্রকাশনা সংস্থাগুলোর কর্মীদের নতুন বই সাজানো ও স্টল গোছানোর শেষ মুহূর্তের কর্মচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে।

মেলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে এবারের মেলায় মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে এবং মোট ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮টি। এর মধ্যে শিশু চত্বরে ৬৩টি প্রতিষ্ঠানের ১০৭টি ইউনিট এবং লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ৮৭টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে।

এবার মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থান বিবেচনায় বাহির পথ কিছুটা সরিয়ে মন্দির গেটের কাছে নেওয়া হয়েছে এবং টিএসসি ও দোয়েল চত্বরসহ মোট চারটি প্রবেশ ও বাহির পথ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে এবারের আয়োজনকে ‘জিরো ওয়েস্ট বইমেলা’ হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যেখানে পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সামনে রমজান মাস থাকায় মুসল্লিদের জন্য মেলা প্রাঙ্গণে তারাবির নামাজের বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন যে বইমেলা ঘিরে কয়েক স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ আশপাশের এলাকায় ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্য, সোয়াট, বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও সিটিটিসি মোতায়েন থাকবে। প্রায় ৩০০টি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং করা হবে এবং প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি নিশ্চিত করা হবে। ধর্ম অবমাননাকর বা উসকানিমূলক কোনো বই যাতে মেলায় না আসে সে বিষয়ে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি রাখা হয়েছে।

নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় মেলা প্রাঙ্গণে লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার, ব্রেস্টফিডিং কর্নার এবং অসুস্থদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশেষ ডাইভারশন পরিকল্পনা কার্যকর থাকবে এবং অনুমোদিত স্থান ছাড়া কোনো প্রকার গাড়ি পার্কিং করা যাবে না বলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

/আশিক


সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৯:৪৮:১৪
সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নস্যাতের একটি গভীর অপপ্রয়াস হিসেবে অভিহিত করে এই দিনটিকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে শহীদ সেনা অফিসারদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় ও ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে উল্লেখ করেন যে ঘটনার দীর্ঘ ১৭ বছর পর শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে তিনি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নন, বরং একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে শহীদ পরিবারগুলোর পাশে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি বলেন যে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন বীর শহীদকে হারানো আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে যার বেদনা আজও অম্লান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন যে দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে এবং এই সরকার সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করতে বদ্ধপরিকর। তিনি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা স্মরণ করে বলেন যে ১৯৭১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দায়িত্ব পালন করেছিল।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে পিলখানার এই নির্মম ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা এখন আমাদের জাতীয় দায়িত্বে পরিণত হয়েছে এবং ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে সঠিক সম্মান না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। এ লক্ষ্যে সেনাবাহিনী ও শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এই স্মৃতিকে অম্লান রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনীর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন যে পিলখানার ঘটনার মাধ্যমে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর যে দুর্বলতা ফুটে উঠেছিল, তা কাটিয়ে উঠতে বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা হবে।

একই সঙ্গে তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণআন্দোলন এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী সকল ছাত্র-জনতার পাশাপাশি পিলখানার শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

/আশিক


বিটিভিকে জনগণের প্রচার মাধ্যমে রূপান্তরিত করা হবে: তথ্যমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৭:১৬:৪৫
বিটিভিকে জনগণের প্রচার মাধ্যমে রূপান্তরিত করা হবে: তথ্যমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনকে (বিটিভি) একটি বিশেষ গোষ্ঠীর বদলে সাধারণ জনগণের সত্যিকারের প্রচার মাধ্যমে রূপান্তরিত করার বড় এক উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন যে তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিকল্পনা ও বর্তমান অগ্রগতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারকে জনগণের কাজে লাগানোর বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

তথ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো বিটিভি ও বেতারের মতো রাষ্ট্রীয় মাধ্যমগুলোকে এমনভাবে সংস্কার করা যাতে এগুলো সরাসরি মানুষের প্রয়োজন ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রচার করতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ গড়ার কাজে সরকারের অধীনস্থ সব প্রচার মাধ্যম এবং একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সাজানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন যে সারা পৃথিবী এখন একটি তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর কমিউনিকেশন সিস্টেমের মধ্যে প্রবেশ করেছে এবং বাংলাদেশকে সেই আধুনিক বিশ্বব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। বর্তমান সরকার চায় বিটিভিকে শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় ঘোষণা দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে না রেখে একে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক জনগণের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে। তিনি জানান যে বিটিভিকে এই নতুন রূপে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যটি এখন পর্যন্ত একটি বিমূর্ত পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে এবং একে বাস্তবে মূর্তমান করার জন্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ‘হোমওয়ার্ক’ বা প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছে।

তথ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে খুব শীঘ্রই একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা তৈরি করা হবে যার মাধ্যমে বিটিভির খোলনলচে বদলে ফেলে একে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত করা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে দীর্ঘ সময় নিয়ে হওয়া এই বৈঠকটি দেশের তথ্য ও যোগাযোগ খাতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন।

/আশিক


পিলখানা হত্যার প্রতিটি খুনিকে আইনের আওতায় আনা হবে: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১২:৫২:২২
পিলখানা হত্যার প্রতিটি খুনিকে আইনের আওতায় আনা হবে: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী (এলজিআরডি) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : সংগৃহীত

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর সাজার ব্যবস্থা করা হবে বলে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন যে ২০০৯ সালের এই কালো দিনে বিডিআরের ৫৭ জন চৌকস সেনা কর্মকর্তাসহ প্রায় ৭২ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল যা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং একটি কলঙ্কিত অধ্যায়। তাঁর মতে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চিরতরে ভেঙে দেওয়া এবং একযোগে এত বিপুল সংখ্যক মেধাবী সেনা কর্মকর্তাকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মনোবল গুঁড়িয়ে দেওয়ার এক গভীর দেশবিরোধী চক্রান্ত করা হয়েছিল।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ষড়যন্ত্রকারীরা চেয়েছিল আমাদের সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করতে কিন্তু এদেশের সচেতন জনগণ স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন যে বিএনপি সরকার গঠনের মাধ্যমে পুনরায় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সুযোগ পেয়েছে এবং এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পিলখানা ট্র্যাজেডির প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

তিনি বিশ্বাস করেন যে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত জাতির বুক থেকে কলঙ্কের এই বোঝা নামবে না। পরিশেষে তিনি দেশের জন্য জীবন বিসর্জন দেওয়া বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং পিলখানায় নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

/আশিক


পিলখানা হত্যার এমন বিচার হবে যা ইতিহাসে নজির হয়ে থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১১:৪৩:০৭
পিলখানা হত্যার এমন বিচার হবে যা ইতিহাসে নজির হয়ে থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ‘শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন যে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের জন্য নতুন করে আর কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান যে গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথোপযুক্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়েই একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল এবং সেই কমিশনের রিপোর্ট বর্তমান সরকারের হাতে রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন যে আজ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় যথাযথ গুরুত্বের সাথে শহীদ সেনা দিবস পালন করা হয়েছে যেখানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা জীবন দিয়েছেন তাদের আত্মত্যাগকে চিরভাস্বর অভিহিত করে তিনি বলেন যে পিলখানা হত্যাকাণ্ড শুধু বাংলাদেশের নয় বরং পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস একটি ঘটনা।

সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন যে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল উদ্দেশ্য উদঘাটনের জন্য তৎকালীন সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও দীর্ঘ সময়েও তার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গঠিত জাতীয় কমিশনের রিপোর্টটি বর্তমানে সরকারের সামনে রয়েছে এবং সেখানে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে গত সরকার ওই রিপোর্ট বাস্তবায়নে তেমন কোনো উদ্যোগ না নিলেও বর্তমান সরকার কমিশনের দেওয়া সুপারিশগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।

বিশেষ করে বিচারিক প্রক্রিয়ায় থাকা মামলাগুলো দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি অন্যান্য সুপারিশগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন যে এই হত্যাকাণ্ডের এমনভাবে যথাযথ বিচার করা হবে যাতে ভবিষ্যতে আর কখনো এমন বর্বরোচিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মূলত আমাদের গর্বিত সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র ছিল এবং যারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না তারাই এই ধরনের ন্যক্কারজনক কাজ করতে পারে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: