যুদ্ধবিরতির নামে বিশ্বকে বোকা বানাচ্ছে ইসরায়েল, অ্যামনেস্টির ভয়ংকর রিপোর্ট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ২০:২৯:৩৯
যুদ্ধবিরতির নামে বিশ্বকে বোকা বানাচ্ছে ইসরায়েল, অ্যামনেস্টির ভয়ংকর রিপোর্ট
অ্যামনেস্টির পতাকা ও গাজার বিধ্বস্ত জনপদ। ছবি : সংগৃহীত

গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন হামলা সহায়তা প্রবেশে বাধা এবং সীমাবদ্ধতা আরোপের ঘটনায় ইসরায়েল এখনো গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বৃহস্পতিবার ২৭ নভেম্বর এক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি জানায় ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর গত সাত সপ্তাহে ইসরায়েল এটি ৫০০ বারের বেশি লঙ্ঘন করেছে যার ফলে ৩৪৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ সময়ে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮৮৯ জন।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে অ্যামনেস্টির এই বিবৃতি দেওয়ার সময়েই ইসরায়েলি বাহিনী গাজার দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে নতুন বিমান হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে বুড়েইজ শরণার্থী ক্যাম্প এবং খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চল রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এগুলো যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলি বাহিনীর অপসারণ সীমার বাইরে অবস্থিত ছিল।

অ্যামনেস্টির সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন ইসরায়েল তার যুদ্ধাপরাধের প্রভাব কমাতে কোনো গুরুতর পদক্ষেপ নেয়নি বরং মানবিক সহায়তা আটকে রেখে এবং প্রয়োজনীয় সেবায় বাধা দিয়ে গাজাবাসীর শারীরিক ধ্বংস নিশ্চিত করার নীতিই অব্যাহত রেখেছে। তিনি বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে বলেন বিশ্বকে প্রতারিত হওয়া যাবে না কারণ ইসরায়েলের গণহত্যা শেষ হয়নি।

গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে এই নতুন হামলাগুলো সাত সপ্তাহব্যাপী নাজুক যুদ্ধবিরতির প্রকাশ্য লঙ্ঘন। আল জাজিরা আরও জানিয়েছে গাজায় হামলার পাশাপাশি দখলকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায়ও ইসরায়েলি বাহিনী নতুন করে অভিযান ও গ্রেপ্তার চালিয়েছে। এর মধ্যে ক্বালকিলিয়া তুবাস হেবরন তুলকারে ও নাবলুসে তল্লাশি হামলা ও গণগ্রেপ্তার চালানো হয়েছে বলে খবরে উঠে এসেছে।


যুদ্ধের মেঘ মধ্যপ্রাচ্যে: ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিল একাধিক দেশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ১৯:৩৪:০৮
যুদ্ধের মেঘ মধ্যপ্রাচ্যে: ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিল একাধিক দেশ
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কা এবং তীব্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে চলমান সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। কূটনৈতিক সম্পর্কের এই চরম অবনতির মধ্যেই ইরানের সেনাবাহিনী তাদের রক্ষণাত্মক প্রস্তুতিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরান ত্যাগের জন্য নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র।

বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে চলমান সব ধরনের যোগাযোগ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। সরাসরি আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংঘাতের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটার আশঙ্কায় তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস তাদের নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে। একই ধরনের নির্দেশনা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া। সংঘাত শুরু হলে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে—এমন শঙ্কা থেকেই এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইরান কেবল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেয়নি, বরং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন মিত্র দেশগুলোকেও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর কোনো হামলা চালায়, তবে ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এর মধ্যেই কাতারের দোহায় অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ ‘আল উদেইদ’ বিমানঘাঁটি থেকে উচ্চপদস্থ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিমান বাহিনীর কমান্ডার সরদার মুসাভি বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, তাদের বাহিনী এখন যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “ইরানের সামরিক বাহিনী বর্তমানে প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতির সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে। যেকোনো ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত।” মুসাভি আরও উল্লেখ করেন যে, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অনেক বেশি।

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এক নিরাপত্তা বৈঠকে সম্ভাব্য আক্রমণকারীদের সতর্ক করে বলেছেন, কেউ যদি হামলা চালায় তবে তাদের জন্য তেহরানের পক্ষ থেকে ‘অনেক চমক’ অপেক্ষা করছে। প্রেস টিভির বরাত দিয়ে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে পূর্ণ শক্তি খাটিয়ে দেশ রক্ষা করা হবে।” নাসিরজাদেহ আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই হামলায় যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করবে, তাদের সামরিক স্থাপনাগুলোকেও ইরানের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও জানান যে, গত বছরের জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সময় ইরানের যেসব সামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তা ইতিমধ্যে মেরামত করা হয়েছে এবং বর্তমানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক গুণ বাড়ানো হয়েছে।


আকাশ থেকে আছড়ে পড়ল বিশালাকার লোহা: থাইল্যান্ডে ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যুমিছিল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ১১:৪৩:৪০
আকাশ থেকে আছড়ে পড়ল বিশালাকার লোহা: থাইল্যান্ডে ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যুমিছিল
ছবি : সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশে এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে নির্মাণাধীন একটি উচ্চগতির রেল প্রকল্পের বিশালাকার ক্রেন চলন্ত যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়লে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় আরও ৩০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দেশটির পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, যাত্রীবাহী ট্রেনটি রাজধানী ব্যাংকক থেকে উবন রাতচাথানি প্রদেশের দিকে যাচ্ছিল। নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশের সিখিও জেলা অতিক্রম করার সময় ওপর দিয়ে চলে যাওয়া নির্মাণাধীন উচ্চগতির রেল প্রকল্পের একটি ভারী ক্রেন আচমকা ভেঙে পড়ে। চলন্ত ট্রেনের একটি বগির ওপর ক্রেনটি আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ট্রেনের কিছু অংশে তাৎক্ষণিক আগুন ধরে যায় এবং আতঙ্কিত যাত্রীদের আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। এলাকাটি ব্যাংকক থেকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত।

নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশের স্থানীয় পুলিশ প্রধান থাচাপোন চিন্নাওং বার্তাসংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “মর্মান্তিক এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২২ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং ৩০ জনেরও বেশি আহত মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুর্ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনতে প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। ভারী ধাতব কাঠামো এবং ট্রেনের দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া অংশগুলো গ্যাস কাটার দিয়ে কেটে ভেতরে প্রবেশ করছেন তারা। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার পর লাগা আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।

স্টেট রেলওয়ে অব থাইল্যান্ড (SRT) জানিয়েছে, আসন বিন্যাস অনুযায়ী ট্রেনটিতে ১৯৫ জন যাত্রীর নাম নথিভুক্ত ছিল। তবে ঘটনার সময় প্রকৃত কতজন যাত্রী ট্রেনের ওই নির্দিষ্ট বগিতে ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। আহতদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে।

এই ভয়াবহ রেল বিপর্যয়ের পর থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পরিবহনমন্ত্রী ফিপাত রাচাকিতপ্রাকর্ন শোক প্রকাশ করেছেন এবং একটি ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক তদন্ত’ পরিচালনার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। নির্মাণকাজে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, কিংবা নিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না—তা খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং তাদের স্বজনদের খবর দেওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।


মুদ্রাস্ফীতির কবলে ইরান: ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে

মোঃ আশিকুজ্জামান
মোঃ আশিকুজ্জামান
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ১১:২৩:০৫
মুদ্রাস্ফীতির কবলে ইরান: ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে বড় ধরনের ধসের মুখে পড়েছে ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়াল। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের বিনিময় হার ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে এক নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমানে ১ মার্কিন ডলার সমান ১০ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ ইরানি রিয়াল।

মুদ্রাবাজারে আকস্মিক ধস

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছরের শেষভাগ থেকেই রিয়ালের মান ধারাবাহিকভাবে কমছিল। তবে চলতি বছরের শুরু থেকে এই পতনের গতি তীব্রতর হয়। বিশেষ করে গত ৬ জানুয়ারি থেকে মুদ্রাবাজারে রিয়ালের গ্রাফে এক বিশাল উল্লম্ফন দেখা দেয়। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে রিয়ালের মান কয়েক গুণ কমে যাওয়ার ফলে ইরানের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এখন খাদের কিনারায় এসে ঠেকেছে।

সংকটের নেপথ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা

ইরানের এই অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পেছনে কাজ করছে বহুমুখী বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চাপ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর কঠোর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। এছাড়া গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানের বিভিন্ন শহরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব

১ ডলারের মান ১০ লাখ রিয়াল ছাড়িয়ে যাওয়ায় ইরানে আমদানি করা পণ্যের দাম এখন আকাশচুম্বী। এর ফলে তীব্র মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডলারের বিপরীতে মুদ্রার এই ব্যাপক অবমূল্যায়ন ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি দ্রুত কোনো কার্যকরী অর্থনৈতিক পদক্ষেপ বা ভূরাজনৈতিক উত্তজনা প্রশমিত না হয়, তবে রিয়ালের মান আরও নিচে নেমে যেতে পারে। বর্তমানে ইরানি রিয়াল বিশ্বের অন্যতম দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য এক অশনিসংকেত।


বাংলাদেশ-ভারত সামরিক সম্পর্কে ফাটল নেই, সব যোগাযোগের পথ খোলা: নয়াদিল্লি 

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১৮:৫৪:৪১
বাংলাদেশ-ভারত সামরিক সম্পর্কে ফাটল নেই, সব যোগাযোগের পথ খোলা: নয়াদিল্লি 
ছবি : সংগৃহীত

ভারত ও বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যেকোনো ধরনের ‘ভুল-বোঝাবুঝি’ এড়াতে একাধিক যোগাযোগের চ্যানেল বা মাধ্যম সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নয়াদিল্লিতে সেনাবাহিনীর বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের নতুন সমীকরণ ভারতের জন্য কোনো ‘হুমকি’ কি না—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে জেনারেল দ্বিবেদী ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ক্ষমতায় কোন ধরনের সরকার রয়েছে, তা বোঝা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি উল্লেখ করেন, “যদি এটি একটি অন্তর্বর্তী সরকার হয়, তাহলে আমাদের দেখতে হবে তারা যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে, সেগুলো দীর্ঘমেয়াদী চার থেকে পাঁচ বছরের জন্য নাকি কেবল আগামী চার-পাঁচ মাসের জন্য। আমাদের বিবেচনা করতে হবে— এখনই আমাদের কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রয়োজন আছে কি না।”

ভারতীয় সেনাপ্রধান জানান যে, বর্তমানে ভারতের তিন বাহিনীই (সেনা, নৌ ও বিমান) বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের সব পথ পুরোপুরি খোলা রেখেছে। জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেন, “ভারতীয় সেনাবাহিনীর একাধিক যোগাযোগের চ্যানেল সক্রিয় রয়েছে এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছি।”

সেনাপ্রধান আরও তথ্য দেন যে, ভারতের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল, যারা মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছে। একইভাবে ভারতীয় নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানরাও তাদের সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

যোগাযোগের এই সক্রিয়তার মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো ধরনের ‘যোগাযোগের বিভ্রাট’ বা ‘ভুল-বোঝাবুঝি’ যেন তৈরি না হয়। জেনারেল দ্বিবেদী আশ্বস্ত করে বলেন, “আমি আপনাদের নিশ্চিত করতে চাই যে এই মুহূর্তে তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে, তার কোনোটিই ভারতের বিরুদ্ধে নির্দেশিত নয়।”

সক্ষমতা উন্নয়নের বিষয়টিকে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ভারত যেমন নিজের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, অন্য দেশগুলোও তা করছে। তবে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ভারতীয় সেনাবাহিনী অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে তিনি জানান।


অর্থনৈতিক সংকট থেকে রাজপথের জনসমুদ্র: ইরানে কেন থামছে না বিক্ষোভ?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১৮:৩৬:০৮
অর্থনৈতিক সংকট থেকে রাজপথের জনসমুদ্র: ইরানে কেন থামছে না বিক্ষোভ?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষসহ নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক সরকারি কর্মকর্তা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের সংখ্যা ও দায়ভার রয়টার্সকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ইরানি কর্মকর্তা দাবি করেন, বিক্ষোভে যে প্রাণহানি ঘটেছে তার জন্য ‘সন্ত্রাসীরা’ দায়ী। তার ভাষ্যমতে, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য—উভয় পক্ষের মৃত্যুর নেপথ্যে রয়েছে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। তবে মোট নিহতের মধ্যে কতজন সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান দেননি। এর আগে মানবাধিকার সংস্থাগুলো শত শত মানুষের মৃত্যুর খবর দিলেও সরকারি পর্যায়ে ২ হাজার মানুষের প্রাণহানির তথ্য এই প্রথম সামনে এল।

বিক্ষোভের সূত্রপাত ও কারণ ইরানের এই অস্থিরতার সূচনা হয় গত ২৮ ডিসেম্বর। মূলত মুদ্রাস্ফীতি, রিয়ালের ব্যাপক দরপতন এবং লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানের কয়েকটি বাজারে ছোট পরিসরে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই ছোট ছোট প্রতিবাদই দ্রুত দেশজুড়ে বিশাল গণ-আন্দোলনের রূপ নেয়। বিশেষ করে ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে লাগাতার রাস্তায় অবস্থান নিতে শুরু করে।

পরিস্থিতির অবনতি ও রেজা পাহলভির ডাক গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানের পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। দেশটির নির্বাসিত শেষ শাহ-এর ছেলে রেজা পাহলভি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আরও জোরালো প্রতিবাদের ডাক দেওয়ার পরপরই তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের রাজপথ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই সময় থেকেই বড় ধরনের প্রাণহানি ও সহিংসতার খবর প্রচার করতে থাকে। বর্তমানে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর ও গ্রাম এই বিক্ষোভে উত্তাল।

সরকারের অবস্থান ও তথ্যের সংকট ইরান সরকার এই সামগ্রিক অস্থিরতা ও প্রাণহানির জন্য বরাবরই চিরশত্রু দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে আসছে। তেহরানের দাবি, তথাকথিত ‘সন্ত্রাসীরা’ এই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে হাইজ্যাক বা দখল করে নিয়েছে এবং তারাই সহিংসতা উসকে দিচ্ছে।

অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে যে নিহতের পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা এবং যোগাযোগের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করায় সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তথ্যের এই ব্ল্যাকআউটের মধ্যেই নিহতের সংখ্যা ২ হাজারে পৌঁছানোর খবর বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।


ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত: আব্বাস আরাগচি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১১:৪৩:০১
ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত: আব্বাস আরাগচি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক কড়া বার্তায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সামরিক সক্ষমতার পরীক্ষা নিতে চায়, তবে তার দেশ যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের হুমকির জবাবে আরাগচি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

আলোচনা বনাম যুদ্ধ প্রস্তুতি সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের দেশ যেকোনো পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত।” তিনি আরও দাবি করেন যে, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইরানের সামরিক প্রস্তুতি অনেক বেশি ‘বড় এবং ব্যাপক’।

সাক্ষাৎকারে আরাগচি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেন, “যদি ওয়াশিংটন আমাদের সামরিক শক্তি পরীক্ষা করতে চায়—যেটি তারা আগেও করেছে—আমরা তার জন্য প্রস্তুত। তবে আমি আশা করি যুক্তরাষ্ট্র বুদ্ধিমানের মতো আলোচনার টেবিলকেই বেছে নেবে।” এসময় তিনি ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় যারা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের প্রতিও সতর্কবার্তা দেন।

চলমান অস্থিরতা ও তেহরানের অভিযোগ ইরানের অভ্যন্তরে চলমান বিক্ষোভ ও অস্থিরতা নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আরাগচির দাবি, চলমান এই আন্দোলনে ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা’ ঢুকে পড়েছে, যারা বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর সুপরিকল্পিতভাবে হামলা চালাচ্ছে।

দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য ইরান শুরু থেকেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে আসছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর ১০০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে এই সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। তাদের মতে, নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি এবং এর মধ্যে শত শত সাধারণ বিক্ষোভকারী রয়েছেন।

বিক্ষোভের নেপথ্যে অর্থনৈতিক সংকট ইরানের এই অস্থিরতার সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৮ ডিসেম্বর। মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। সেই অর্থনৈতিক ধর্মঘট থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে এই আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বিক্ষোভকারীদের আন্দোলনে পুরো দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


ইরানের সাথে ব্যবসা করলেই ২৫% শুল্ক গুনবে বিশ্ব

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ০৯:২৮:৪৫
ইরানের সাথে ব্যবসা করলেই ২৫% শুল্ক গুনবে বিশ্ব
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ এক আকস্মিক ও বিতর্কিত ঘোষণায় জানিয়েছেন যে যেসব দেশের ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, তাদের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে।

গত সোমবার ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানান এবং এটি ‘তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর’ হবে বলেও ঘোষণা করেন। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে সবথেকে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে চীন, যারা বর্তমানে ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার।

এছাড়া ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও ভারতের মতো দেশগুলোও এই নতুন শুল্কের কবলে পড়ে মার্কিন বাজারের সাথে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই শুল্ক আরোপের বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো বিস্তারিত তথ্য না দেওয়া হলেও ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে লেনদেন করলে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ছাড় দেবে না।

এই নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এল যখন ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ টানা তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে এবং পরিস্থিতি দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। ট্রাম্প কেবল অর্থনৈতিক চাপেই সীমাবদ্ধ থাকেননি বরং ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনা ঘটলে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকিও দিয়ে রেখেছেন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট গতকাল নিশ্চিত করেছেন যে ইরানের ওপর বিমান হামলাসহ সম্ভাব্য সব ধরণের সামরিক বিকল্প বর্তমানে মার্কিন প্রশাসনের ‘টেবিলে রয়েছে’। গত বছরের শেষ দিকে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের ভয়াবহ দরপতনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বৈধতা নিয়েই বড় ধরণের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রিয়ালের মান রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকে তেহরানের সাধারণ দোকানিরা রাস্তায় নেমে এসেছেন যা এখন গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

ইরানের ভেতরে চলমান এই সহিংসতার বিষয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) অত্যন্ত উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে যেখানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০০ জন বিক্ষোভকারী ও ৪৮ জন নিরাপত্তা সদস্যের মৃত্যুর খবর যাচাই করা হয়েছে। তবে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে বলে বিবিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আশঙ্কা প্রকাশ করছে কারণ বর্তমানে ইরানের ভেতর থেকে সরাসরি সংবাদ সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে দেশটিতে ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ায় বিক্ষোভকারীদের ওপর নিপীড়নের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে ইরানি কর্মকর্তারা আলোচনার জন্য যোগাযোগ করলেও কোনো বৈঠকের আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। বর্তমানে ৪০ শতাংশেরও বেশি মূল্যস্ফীতির কারণে ইরানে মাংস ও রান্নার তেলের মতো নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে যা বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালছে।


ট্রাম্পের হুমকির মুখে তেহরানের হুঁশিয়ারি : সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১৮:৪৯:৪৫
ট্রাম্পের হুমকির মুখে তেহরানের হুঁশিয়ারি : সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর ইরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আজ সোমবার তেহরানে অবস্থানরত বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কোনো যুদ্ধ চায় না, কিন্তু যুদ্ধের জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আরাঘচি বলেন, তেহরান কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো খোলা রেখেছে, তবে সেই আলোচনা হতে হবে সমতা, ন্যায্যতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরান আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে, তবে আরাঘচি সেই দাবিকে মার্কিন কৌশল হিসেবেই ইঙ্গিত করেছেন।

ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এখন 'সহিংস ও রক্তক্ষয়ী' রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৩৮ জন নিহত হয়েছেন। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই সহিংসতার নেপথ্যে বিদেশি হস্তক্ষেপ রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি অভিযোগ করেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকির সুযোগ নিয়ে 'সন্ত্রাসীরা' নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ মানুষ উভয়ের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অস্ত্র বিতরণের ভিডিও ফুটেজ সরকারের কাছে রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই আটক ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও প্রকাশ করা হবে।

বিক্ষোভের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নিহত ১০৯ জন নিরাপত্তা সদস্যের স্মরণে ইরান সরকার আজ থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এদিকে দেশজুড়ে চলমান ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্ল্যাকআউটের কারণে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা এবং ভেতরের চিত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আব্বাস আরাঘচি এই ব্ল্যাকআউটকে 'নিরাপত্তা ঝুঁকি' মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরণের সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু করার যে হুমকি দিয়েছে, তা পুরো অঞ্চলকে একটি ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।


নিজেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করলেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১১:৫৪:০০
নিজেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করলেন ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক মহলে এক বিশাল বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা ওই ছবির নিচে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে যে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে তিনি এই নতুন পদে আসীন হয়েছেন। এই ঘোষণার মাত্র এক সপ্তাহ আগে গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মার্কিন সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক ঝটিকা ও রক্তক্ষয়ী অভিযান চালিয়ে দেশটির নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করে। বর্তমানে তাঁরা দুজনেই নিউইয়র্ক সিটির একটি ফেডারেল কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে মার্কিন আদালতে বিচার শুরুর প্রস্তুতি চলছে। মাদুরোকে আটকের সেই অভিযানে ভেনেজুয়েলায় অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছেন বলে অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে।

ট্রাম্পের এই নজিরবিহীন ঘোষণার পেছনে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উদ্দেশ্য কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে ওয়াশিংটন অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতের তদারকি করবে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ সরকার সংস্কারে সরাসরি ভূমিকা রাখবে। রুবিও আরও যোগ করেছেন যে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে উপযুক্ত সময়ে তেলের মালিকানা পুনরায় ভেনেজুয়েলার সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মূলত তেল সমৃদ্ধ এই দেশটির ওপর মার্কিন আধিপত্য পুরোপুরি নিশ্চিত করতেই ট্রাম্প নিজেকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাদুরো অপহৃত হওয়ার পরপরই ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সংকট আরও তীব্র হয়েছে। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছিল এবং সেনাবাহিনীও তাকে সমর্থন জানিয়েছে। রদ্রিগেজ ক্ষমতা গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্পের বর্তমান ঘোষণা সেই প্রস্তাবকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। এখন ভেনেজুয়েলায় একই সঙ্গে ডেলসি রদ্রিগেজ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয়েই নিজেদের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দাবি করছেন যা দেশটির সার্বভৌমত্বকে এক চরম আইনি ও প্রশাসনিক সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ট্রাম্পের এই একতরফা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী কি না তা নিয়ে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সূত্র: ট্রুথ সোশ্যাল এবং রয়টার্স।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত