যুদ্ধ নাকি সমঝোতা: কোন পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১২:২২:৩০
যুদ্ধ নাকি সমঝোতা: কোন পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এখন ২০০৩ সালের ইরাক আগ্রাসনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভূমধ্যসাগরে বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ মোতায়েনের পাশাপাশি আকাশে উড়ছে ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান। এই বিশাল সামরিক সমাবেশের মাঝেই প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে? না কি এটি কেবলই একটি বড় সমঝোতার আগের চাপ সৃষ্টির কৌশল?

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানকে ১০-১৫ দিনের মধ্যে একটি ‘অর্থবহ চুক্তি’ করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ট্রাম্পের নিজের অর্থনীতির জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। যুদ্ধ শুরু হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাজারে অস্থিরতা তৈরি করবে। তাই ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে যেমন সামরিক চাপ রাখছে, অন্যদিকে আলোচনার টেবিলও খোলা রাখছে।

নিষেধাজ্ঞা আর মূল্যস্ফীতির কারণে ইরানের অর্থনীতি এখন চরম সংকটে। এমন সময় যুদ্ধ শুরু হলে তা দেশটির অভ্যন্তরীণ জনরোষ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। যদিও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি প্রকাশ্যে আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন। তাদের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ। তবে পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ‘সীমিত’ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ মেনে নেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

যদি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি লক্ষ্য করে ‘সীমিত’ হামলা চালাতে পারে। তবে সেই হামলার জবাবে ইরান পাল্টা আঘাত হানলে পরিস্থিতি দ্রুত একটি মহাযুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এই ভয়াবহ পরিণতির কথা মাথায় রেখেই অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত নাটকীয় কোনো সমঝোতার মাধ্যমেই হয়তো এই যাত্রায় যুদ্ধের মেঘ কেটে যেতে পারে।

/আশিক


শান্তি চুক্তি ভেঙে ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হামলা চালাল আমেরিকা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ২২:০২:১৭
শান্তি চুক্তি ভেঙে ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হামলা চালাল আমেরিকা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক সংঘাতকে আরও বিধ্বংসী রূপ দিয়ে ইরানের ওপর বোমাবর্ষণের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। টানা দ্বিতীয় রাতের মতো পরিচালিত এই ব্যাপক ও সুনির্দিষ্ট বিমান অভিযানে গত ৪৮ ঘণ্টায় ইরানের অভ্যন্তরে অন্তত ১৭০টি সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানার আনুষ্ঠানিক দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতার ইতিহাসে এটিকে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ একতরফা বিমান হামলা বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।

বুধবার (৮ জুলাই) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম তদারককারী প্রধান সংস্থা সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক জরুরি বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক সাধারণ নাবিকদের ওপর তেহরানের নিয়মিত হামলা চালানোর যে সক্ষমতা রয়েছে, তা চিরতরে অবশ ও দুর্বল করে দিতেই এই জোরালো সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেন্টকমের এই দাবির মধ্য দিয়েই মূলত বুধবার গভীর রাতেও ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো উপর্যুপরি বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখে।

মার্কিন এই ভয়াবহ আগ্রাসনের বিপরীতে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগপ্রধান হোসেন কেরমানপোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক পোস্টে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ৭ ও ৮ জুলাই দেশের মোট পাঁচটি বড় প্রদেশে চালানো এই মার্কিন হামলায় এখন পর্যন্ত ১৪ জন ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও অন্তত ৭৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেন, দুই দেশের মধ্যে পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকা অবস্থাতেই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মার্কিন বাহিনী এই কাপুরুষোচিত হামলা শুরু করেছে।

এদিকে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তেহরানের সঙ্গে সংযুক্ত দেশের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত রেলসেতু সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে সামরিক রসদ সরবরাহের প্রধান রুট ইরান-তেহরান রেল করিডরের একটি বড় অংশ মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি ইরানের অত্যন্ত স্পর্শকাতর বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের আশপাশের এলাকাগুলো লক্ষ্য করেও মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

অথচ এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে, গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরও বৃদ্ধি করতে এবং একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছিল। তবে বর্তমানের এই নজিরবিহীন ও ভয়াবহ হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় দুই দেশের সেই দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সমঝোতার ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি ভেস্তে গিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

এই যুদ্ধাবস্থার সূত্রপাত মূলত হরমুজ প্রণালিতে একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি নৌবাহিনীর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ওই ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে বিশ্বমঞ্চে একতরফা ঘোষণা দেন। আর এই ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর এই ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে।

আক্রমণের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প সরাসরি লেখেন, আগের দিন মার্কিন ও আন্তর্জাতিক জাহাজে ইরানি আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব হিসেবেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি তেহরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও বিধ্বংসী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যদিও এই আগ্রাসী বার্তার ঠিক আগেই তিনি এক ভাষণে বলেছিলেন, এই অভিযানটি কোনো দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নেবে না এবং খুব দ্রুতই তা শেষ হয়ে আসবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই অতর্কিত ও ভয়াবহ হামলার জবাবে হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি ইরানও; তারাও সমপরিমাণ পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পারস্য উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত শক্তিশালী পঞ্চম নৌবহরের (ফিফথ ফ্লিট) মূল সদর দপ্তরকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করলে গোটা বাহরাইন জুড়ে মার্কিন ঘাঁটিতে একাধিকবার রেড সাইরেন বেজে ওঠে এবং সেনারা বাঙ্কারে আশ্রয় নেয়। একই সময়ে কুয়েত ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর দিকেও ইরান একযোগে বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে জর্ডানের রাজকীয় সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব আকাশসীমা ভেদ করে মার্কিন ঘাঁটির দিকে ধেয়ে যাওয়া ইরানের কয়েকটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডান—এই চারটি দেশেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত বড় ও কৌশলগত সামরিক স্থাপনা ও বিমানঘাঁটি রয়েছে, যা এখন সরাসরি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

/আশিক


রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট: জার্মানিতে গরমে মৃত্যুর রেকর্ড

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ২১:৩৮:১৯
রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট: জার্মানিতে গরমে মৃত্যুর রেকর্ড
ছবি : সংগৃহীত

চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরু থেকে জুন মাসের শেষ নাগাদ ইউরোপের দেশ জার্মানিতে তীব্র ও ভয়াবহ তাপপ্রবাহের কারণে ৫ হাজার ১২০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বার্লিনভিত্তিক জনস্বাস্থ্যবিষয়ক বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট (আরকেআই) তাদের সর্বশেষ বিশেষ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।

আরকেআই-এর প্রকাশিত বার্ষিক তাপজনিত মৃত্যুবিষয়ক এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের গ্রীষ্মে রেকর্ড হওয়া মৃত্যুর সংখ্যা দেশটির বিগত বছরগুলোর বার্ষিক গড় মৃত্যুর হারকে অনেক বড় ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছে। পূর্ববর্তী ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যবর্তী বছরগুলোতে জার্মানিতে তীব্র গরমে গড়ে প্রায় ২ হাজার ৯০০ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, যার তুলনায় এবারের পরিস্থিতি অনেক বেশি বিধ্বংসী। দেশটির ফেডারেল পরিসংখ্যান অফিসের মৃত্যুর রেকর্ড এবং জার্মান আবহাওয়া অধিদপ্তরের (ডিডব্লিউডি) সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

গবেষণা সংস্থাটির গাণিতিক অনুমান অনুযায়ী, মূলত গত ২২ থেকে ২৮ জুনের সপ্তাহটিতেই জার্মানিতে সবচেয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যায় এবং কেবল ওই এক সপ্তাহেই মৃত্যুর সংখ্যা ৪ হাজার ৩১০ জনে গিয়ে ঠেকে। ওই নির্দিষ্ট সময়ে ইউরোপের এই দেশটির বেশ কিছু অঞ্চলের তাপমাত্রা ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পার হয়ে গিয়েছিল। এর আগে এপ্রিলের শুরু থেকে ২১ জুন পর্যন্ত প্রাথমিক সময়ে রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট আনুমানিক ৮১০ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট করেছেন যে, ওই মৃত্যুর প্রায় সবগুলো ঘটনাই মূলত ১৫ থেকে ২১ জুনের মধ্যবর্তী চরম বৈরী সপ্তাহে রেকর্ড করা হয়েছিল।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বয়োবৃদ্ধ ও প্রবীণ ব্যক্তিরাই এই চরম ও অনাকাঙ্ক্ষিত আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত ২৮ জুন পর্যন্ত তীব্র গরমে মৃতদের মধ্যে ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিক ছিলেন প্রায় ২6 হাজার ৯৫০ জন। এ ছাড়া বয়স বৃদ্ধির অন্যান্য ধাপে ৭৫ থেকে ৮৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ১ হাজার ৩২০ জন, ৬৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ৫show শত ৫০ জন এবং ৬৫ বছরের কম বয়সী অপেক্ষাকৃত তরুণ ও যুবকদের মধ্যে আনুমানিক ৩০০ জন গরমে মারা গেছেন।

জার্মান আবহাওয়া অধিদপ্তর (ডিডব্লিউডি) জানিয়েছে, আবহাওয়ার নিয়মতান্ত্রিক রেকর্ড শুরু হওয়ার পর থেকে ২০১৯ সালের ঐতিহাসিক জুনের পর ২০২৬ সালের জুন মাসটি ছিল দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় উষ্ণতম ও উত্তপ্ত জুন। জুনের শেষের দিকে তীব্র দাবদাহের কারণে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত অতিক্রম করেছিল। এমনকি গত ২৭ জুন দেশটির ৪৬টি প্রধান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে তাপমাত্রা একযোগে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে নথিবদ্ধ করা হয়েছিল, যা দেশটির সামগ্রিক জনজীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনে।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি


মার্কিন হামলার জবাবে এবার সরাসরি পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ২১:৩২:২৯
মার্কিন হামলার জবাবে এবার সরাসরি পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তেহরান কোনোভাবেই চুপ করে থাকবে না, বরং মার্কিন বাহিনীকে সমপরিমাণ পাল্টা আঘাত করা হবে বলে জোরালো হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের জাতীয় সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। একই সঙ্গে তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি কেবল এবং কেবলই ইরানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই উন্মুক্ত থাকবে, এখানে ওয়াশিংটনের কোনো ধরনের সামরিক হুমকি বা দাদাগিরি বরদাশত করা হবে না।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে তেহরানের এই অনমনীয় ও কঠোর অবস্থানের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় সরাসরি মার্কিন প্রশাসন ও পেন্টাগনকে উদ্দেশ্য করে স্পিকার গালিবাফ লিখেছেন, ওয়াশিংটন এখনো হয়তো অনুধাবন করতে পারেনি যে তাদের একতরফা দাদাগিরি, আন্তর্জাতিক আইন অমান্য ও শান্তি চুক্তি ভঙ্গের নীতি আর কখনো জবাবহীন বা পার পেয়ে যাবে না।

মার্কিন সামরিক ভীতি প্রদর্শনকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে ইরানি স্পিকার সরাসরি সতর্কবার্তা পাঠিয়েছেন যে, আঘাত করলে পাল্টা আঘাত পেতে হবে—এটাই তেহরানের বর্তমান নীতি। তিনি ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে অযথা উসকানি ও ছটফটানি বন্ধ করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, অন্যথায় মার্কিন বাহিনী এই অঞ্চলে এমন এক গভীর ও অন্তহীন সংকটে নিমজ্জিত হবে যা থেকে বের হওয়ার পথ তারা খুঁজে পাবে না। পারস্য উপসাগরের এই কৌশলগত সমুদ্রপথের ওপর ইরানের একক ও সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট করেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল ব্যবস্থা কেবল ইরানের নিজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনার অধীনেই সচল থাকবে এবং সেখানে মার্কিনদের কোনো অন্যায্য দাবি খাটবে না।

এই কূটনৈতিক বাদানুবাদ ও উত্তেজনার মধ্যেই মাঠপর্যায়ে সামরিক পদক্ষেপ জোরদার করেছে তেহরান। জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক জোটের কৌশলগত আজরাক বিমান ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একযোগে ১০টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। এই ভয়াবহ ও সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে ইরানের এলিট সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির দেওয়া বিশেষ বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, জর্ডানের ওই ঘাঁটিতে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের মূল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার বা প্রধান সামরিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এই নিখুঁত হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে আইআরজিসি মার্কিন প্রশাসনকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে আরও যোগ করেছে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে যদি হামলা অব্যাহত রাখা হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বাকি সব সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ক্রমান্বয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

তারা স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, সন্ত্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী যদি ইরানের ভূখণ্ড বা স্বার্থে আবারও কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানোর ধৃষ্টতা দেখায়, তবে এই অঞ্চলের অন্য কোনো মার্কিন সামরিক ছাউনিই ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আওতা ও ভয়াবহ আঘাত থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারবে না।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্রকে গালিবাফের হুঁশিয়ারি, ‘হামলার জবাব হবেই’

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ১১:০৩:৫৯
যুক্তরাষ্ট্রকে গালিবাফের হুঁশিয়ারি, ‘হামলার জবাব হবেই’
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। এবার ওয়াশিংটনকে সরাসরি কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে এবং এই বাস্তবতা যুক্তরাষ্ট্রকে মেনে নিতে হবে।

বুধবার (৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো উপলব্ধি করতে পারেনি যে আগ্রাসন, আধিপত্যবাদ এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গেরও মূল্য দিতে হয়। তার ভাষায়, ইরানের ওপর হামলা চালানো হলে পাল্টা আঘাত অনিবার্য এবং তেহরান নিজেদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।

হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গেও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন ইরানের স্পিকার। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ ইরানের নির্ধারিত নীতিমালার আওতাতেই পরিচালিত হবে। কোনো বিদেশি চাপ, হুমকি কিংবা সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গালিবাফ আরও বলেন, অযথা শক্তি প্রদর্শন পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলবে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যদি সংঘাত বাড়ানোর পথে এগোয়, তাহলে এর পরিণতিও তাদেরই বহন করতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলবে ইরানের শর্তে, কোনো বিদেশি শক্তির নির্দেশে নয়।

এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় অন্তত আটজন ইরানি সেনা নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোরে বন্দর আব্বাস ও বুশেহর এলাকায় পরিচালিত হামলায় নিহতরা দেশটির বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্য ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ‘শাস্তিমূলক প্রতিক্রিয়ার’ প্রথম ধাপে তাদের নৌ ও মহাকাশ ইউনিট যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও আলি আল সালেম সামরিক ঘাঁটি এবং বাহরাইনের জুফায়ের ও শেখ ইসা ঘাঁটি হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।

তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আইআরজিসির দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা ও কঠোর রাজনৈতিক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাত তীব্র হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই, ইরনা, আইআরআইবি


ইরানে আরও ৯০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ১০:৫৫:৪২
ইরানে আরও ৯০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই নতুন মাত্রা পাচ্ছে। ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতেই সর্বশেষ এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, অভিযানে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা, ড্রোন সংরক্ষণাগার, নৌ-সামরিক স্থাপনা এবং উপকূলজুড়ে সামরিক রসদ সরবরাহ অবকাঠামোসহ বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব স্থাপনা আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করছিল।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযান আগের রাতে পরিচালিত হামলার ধারাবাহিক অংশ। সেন্টকম বলছে, প্রথম দফার অভিযানের পর নতুন গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা হয় এবং পরবর্তী পর্যায়ে সেগুলোতে নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে।

এর মাত্র একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, তারা ইরানের ৮০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। সর্বশেষ অভিযানের পর দুই দিনের ব্যবধানে মার্কিন বাহিনীর দাবি অনুযায়ী হামলার সংখ্যা প্রায় ১৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছেছে। যদিও এসব দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, ইরান এই হামলাকে দেশটির সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করেছে। তেহরান ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। ফলে সেখানে যেকোনো সামরিক সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। কূটনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ জোরদার না হলে পরিস্থিতি দ্রুত আরও জটিল রূপ নিতে পারে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার দাবি এবং লক্ষ্যবস্তুর সংখ্যা সেন্টকমের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে এসব দাবির পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

-রফিক


‘হত্যার তালিকায় আমি এক নম্বরে’- ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ১০:৪২:১২
‘হত্যার তালিকায় আমি এক নম্বরে’- ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে আবারও উত্তপ্ত বক্তব্য দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের কথিত ‘হত্যার তালিকায়’ তার নাম শীর্ষে রয়েছে। একই সঙ্গে তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে প্রয়োজনে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তাজনিত বিবেচনায় কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া বোয়িং উড়োজাহাজে তিনি দেশে ফিরবেন না। পরিবর্তে পূর্বে এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত একটি উড়োজাহাজে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবেন।

আলোচনার একপর্যায়ে ট্রাম্প রসিকতার সুরে বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি তথাকথিত তালিকায় হত্যার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তার নাম এক নম্বরে রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে এক নম্বরে থাকতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলেও মন্তব্য করেন।

ট্রাম্পের বক্তব্যে উঠে আসে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সাম্প্রতিক উত্তেজনার বিষয়টিও। তার অভিযোগ, জুন মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সমঝোতার পরও ইরান একাধিকবার চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে।

তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার স্থাপনা এবং নৌ-সম্পদে হামলা চালায়। পরবর্তীতে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এসব হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি বলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানান ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকবে বলে তিনি মনে করেন না। তার দাবি, তেহরান ধারাবাহিকভাবে এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা ওই সমঝোতার পরিপন্থী।

ট্রাম্প আরও বলেন, প্রয়োজন দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক অভিযান পরিচালনা করবে। তার দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অভিযানে এক রাতেই ইরানের ২৮টি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে দেওয়া হবে না।

তার ভাষায়, ইরানের হাতে যদি পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তবে তারা তা ব্যবহার করত বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। তাই কূটনৈতিক আলোচনা সফল না হলেও যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে আপসহীন থাকবে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সক্ষমতা রাখে। পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া তিনি বলেন, পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে ইরানের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। যদিও ইরান এখন পর্যন্ত এসব দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সেগুলো তার বক্তব্য হিসেবেই উপস্থাপিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: সামা টিভি


আজ রাতেও ইরানে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ২১:৩০:৫৪
আজ রাতেও ইরানে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গত রাতে ইরানের ওপর অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুনির্দিষ্ট উপায়ে সামরিক বিমান হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই ধারা অব্যাহত রাখতে সম্ভবত আজ রাতেও ইরানের নির্দিষ্ট সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে আরও একটি ভয়াবহ ও বিধ্বংসী আক্রমণ চালানো হবে।

বুধবার (৮ জুলাই) তুরস্কে চলমান উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের এক ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে পাশে নিয়ে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, পূর্ববর্তী সংঘাতের পর তেহরানকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে একটি মৃদু বা সামান্য সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইরানি কর্তৃপক্ষ তাদের নীতি বা অবস্থানে কোনো ধরনের ইতিবাচক সংশোধন না আোনায় মার্কিন সামরিক বাহিনী আজ রাতেই তাদের ওপর পুনরায় বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করতে যাচ্ছে।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন জোটের দুই প্রধান মিত্র বাহরাইন ও কুয়েতের অন্তত ৮৫টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের পক্ষ থেকে আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই নজিরবিহীন হামলার ঘটনার পরপরই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে পূর্বঘোষিত সব ধরনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি সমাপ্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আঙ্কারায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ‘অশুভ ও নিকৃষ্ট মানুষদের শাসন’ বলে বর্ণনা করেন এবং দেশটির পুরো প্রশাসনকে ‘উন্মাদ’ বলে অভিহিত করেন।

তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ইরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সব সুযোগ এখন চিরতরে শেষ হয়ে গেছে। তিনি আর দেশটির প্রশাসনের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক বা যোগাযোগ রাখতে চান না। একই সঙ্গে কড়া ভাষায় ইরানিদের অত্যন্ত ক্ষতিকর ও দুষ্ট হিসেবে আখ্যায়িত করে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, এই ধরনের শাসনব্যবস্থা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি মরণব্যাধি ক্যানসারের মতো; আর সবাই ভালো করেই জানে যে শরীরকে বাঁচাতে হলে শুরুতেই সেই ক্যানসারকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরোপুরি ছেঁটে ফেলতে হয়।

সূত্র : এনবিসি নিউজ


স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ১৯:৩৪:০৬
স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

চলমান ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় মিত্রদেশ স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় আয়োজিত নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (ন্যাটো) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে অংশীদারদের উপস্থিতিতে তিনি এই কঠোর সিদ্ধান্ত জানান। বুধবার কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের উপস্থিতিতে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প স্পেনের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে যাবতীয় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি আদেশ জারি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হিসেবে স্পেনের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেশটিকে একটি 'ভয়ানক অংশীদার' হিসেবে আখ্যায়িত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

প্রতিরক্ষা খাতের এই চরম উত্তেজনার সূত্রপাত মূলত গত মার্চ মাসে, যখন ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য স্পেনের অভ্যন্তরে অবস্থিত যৌথ সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায় মাদ্রিদ। শুধু তাই নয়, মার্কিন যুদ্ধবিমান চলাচলের জন্য নিজেদের আকাশসীমাও পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল স্পেনের সমাজতান্ত্রিক সরকার। মূলত ওয়াশিংটনের সামরিক পরিকল্পনায় সহযোগিতা না করার এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই ট্রাম্প প্রশাসন স্পেনের বিরুদ্ধে এমন নজিরবিহীন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথে হাঁটল।

আঙ্কারার এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর তেহরানের সঙ্গে পূর্ববর্তী সমঝোতা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত আগের সেই সমঝোতা স্মারকটি এখন পুরোপুরি ভেস্তে গেছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের তদারককারী সংস্থা সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ভেতরে তাদের সর্বশেষ বিমান হামলায় অন্তত ৮০টি সুনির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনা সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। এই বিশেষ অভিযানে মূলত ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক কমান্ড ও কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্টেশন এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

সেন্টকমের দেওয়া সামরিক বিবরণী থেকে আরও জানা গেছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের আক্রমণ করার সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে তারা বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) অন্তত ৬০টিরও বেশি ছোট ও দ্রুতগামী যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়ে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী স্পষ্ট করেছে যে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় তিনটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানি বাহিনীর আচমকা হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই জোরালো বিমান অভিযান চালানো হয়েছে। তবে মার্কিন এই ভয়াবহ সামরিক পদক্ষেপের বিপরীতে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

অবশ্য ইরানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে নতুন করে বিকট বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির সন্নিকটে অবস্থিত পারস্য উপসাগরের অপর গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপেও একই ধরনের শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: ৮ জুলাই মার্কিন-ইরান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের ঘোষণা ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ১৮:১৯:৩৩
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: ৮ জুলাই মার্কিন-ইরান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের ঘোষণা ট্রাম্পের
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি সমঝোতা স্মারকটি ‘পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে’ বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ বুধবার (৮ জুলাই) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় আয়োজিত ন্যাটোর (NATO) হাই-ভোল্টেজ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করেন যে, তেহরানের বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে তিনি আর কোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনায় যেতে চান না।

আঙ্কারার ন্যাটো সম্মেলনে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ‘আমার মতে, এই চুক্তি এখন সম্পূর্ণ শেষ। এটা খুব আকর্ষণীয় একটা প্রশ্ন হলেও বাস্তবতা হলো—বিষয়টি এখানেই শেষ। আমি তাদের (ইরান) সাথে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না, ওরা অসুস্থ লোক। ওদের যারা নেতৃত্ব দেয়, তারাও অসুস্থ। তাদের সাথে আলোচনা বা কাজ করাটা এখন শুধুই সময়ের অপচয়।’

এর আগে গত রাতে (মঙ্গলবার) আন্তর্জাতিক জলসীমায় তিনটি তেল ট্যাংকারে রহস্যময় হামলার কঠোর জবাবে সরাসরি ইরানের ওপর নতুন করে বিধ্বংসী সামরিক হামলা চালায় ওয়াশিংটন এবং তেহরানের আন্তর্জাতিক তেল বিক্রির লাইসেন্স বাতিল করা হয়। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বশেষ দফার এই বিমান হামলা সফলভাবে সম্পন্ন করার পরই মূলত দুই দেশের সম্পর্ক চরম যুদ্ধের দিকে ধাবিত হয়।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক বিশেষ বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের অত্যাধুনিক ও নিখুঁত যুদ্ধাস্ত্রের সাহায্যে ইরানের অভ্যন্তরে আশিটিরও বেশি কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই ভয়াবহ বিমান হামলার সরাসরি ও পাল্টা জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (IRGC) জানিয়েছে, আমেরিকার এই আগ্রাসনের প্রতিশোধ হিসেবে তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর আশিটিরও বেশি লক্ষ্যবস্তু তাক করে একযোগে শক্তিশালী ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

তেহরানের পক্ষ থেকে আজ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, মার্কিন বিমান হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তাদের নৌ এবং বিমান বাহিনী যৌথভাবে এই বিশাল পাল্টা সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে; যার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন এক নজিরবিহীন ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দামামা বাজছে।

সূত্র: আল জাজিরা

পাঠকের মতামত: