অন্তর্বর্তী সরকারের ‘গায়েবানা জানাজা’ পড়লেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৭ ২১:২১:৫২
অন্তর্বর্তী সরকারের ‘গায়েবানা জানাজা’ পড়লেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা
ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা প্রকৌশল খাতে বৈষম্য দূরীকরণ এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। আজ বুধবার বিকেল পাঁচটা থেকে চট্টগ্রামের ২ নম্বর গেট এলাকায় শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতীকী গায়েবানা জানাজা পড়েন।

জানাজা শেষে শিক্ষার্থীরা এক ঘণ্টার জন্য অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত রাখেন। তারা জানান, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও দাবি

শিক্ষার্থীরা বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের কথা থাকলেও প্রকৌশল খাতে এখনো কোটা ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অযোগ্যদের আধিপত্য বজায় আছে। এতে মেধাবী বিএসসি ডিগ্রিধারী প্রকৌশলীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাঈদ আফ্রিদি অভিযোগ করে বলেন, “ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীরা অবৈধভাবে দশম গ্রেড দখল করেছে। শুধু দশম গ্রেডেই নয়, লবিংয়ের মাধ্যমে নবম গ্রেডেও ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পদ দখল করে রেখেছে।” তিনি বলেন, তারা চান ২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে কোনো কোটা থাকবে না এবং সকল নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে হবে।

ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাবাবা তামান্না বলেন, “যোগ্য বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা পদে বসতে পারছেন না। অথচ অযোগ্যরা গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে দেশের জন্য ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।”

শিক্ষার্থীরা তাদের তিন দফা দাবি তুলে ধরেন:

১. শুধুমাত্র ডিপ্লোমা পাসধারীদের ‘ডিপ্লোমা’ হিসেবে সম্বোধন করতে হবে, ‘ইঞ্জিনিয়ার’ নয়।

২. বিএসসি পরীক্ষা ছাড়া কেউ নবম গ্রেডে যেতে পারবে না।

৩. দশম গ্রেডের পদ সকলের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে এবং পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দিতে হবে।

শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন কর্মসূচির কারণে শহরের ২ নম্বর গেটসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে যায়, এতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। অফিস ছুটির সময় হওয়ায় অফিস ফেরত মানুষজন সীমাহীন যানজটে আটকে পড়েন।

ভুক্তভোগী কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করুক কিন্তু সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কেন? এই দেশে কি কোনো আইন নেই? প্রতিবারই দেখা যায় কোনো দাবি আদায়ে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।”

/আশিক


সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে পদত্যাগ ও ক্ষমা চাইতে হবে: শিক্ষামন্ত্রীকে আন্দোলনকারীদের আলটিমেটাম

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ১৮:২৪:২৫
সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে পদত্যাগ ও ক্ষমা চাইতে হবে: শিক্ষামন্ত্রীকে আন্দোলনকারীদের আলটিমেটাম
ছবি : সংগৃহীত

চলমান বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া এবং সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জেরে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করেছেন আন্দোলনরত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তার ‘অসংগতিপূর্ণ’ বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা আলটিমেটাম বেঁধে দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থানরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে এই ঘোষণা দেন ঢাকা সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী মো. মিরাজ হোসেন।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবিতে মিরাজ হোসেন বলেন, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে এবং সম্প্রতি দেওয়া অসংগতিপূর্ণ বক্তব্যের জন্য পুরো জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এছাড়া গতকাল (১৩ জুলাই) চরম অস্বস্তিকর ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য হয়েছে এবং দুর্যোগের কারণে যারা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি, তাদের সার্বিক দিক বিবেচনা করে ওই পরীক্ষাটি নতুন করে পুনরায় গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে আগামীকাল বুধবারের নির্ধারিত পরীক্ষাটি বাতিল ঘোষণা করে সম্পূর্ণ নতুনভাবে শিক্ষার্থীবান্ধব রুটিন ও প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে হবে।

এর আগে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে সায়েন্সল্যাব এলাকায় জড়ো হন এবং প্রধান সড়কে অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীদের এই আকস্মিক অবস্থানের কারণে মিরপুর রোডসহ আশপাশের সড়কগুলোতে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে পুরো এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনরতদের অভিযোগ, সকাল থেকে তারা রাজপথে তীব্র ক্ষোভ ও দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত সরকারের দায়িত্বশীল কোনো পক্ষ বা প্রতিনিধি তাদের সাথে কোনো ধরনের আলোচনা বা যোগাযোগ করেননি।

/আশিক


মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ১০:৫৩:৩৩
মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে কেনাকাটার পরিকল্পনা থাকলে ঘর থেকে বের হওয়ার আগে অবশ্যই জেনে নেওয়া উচিত কোন কোন মার্কেট ও শপিংমল সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বন্ধ থাকবে। কারণ নির্ধারিত বন্ধের দিন সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা না থাকলে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তিতেও পড়তে হয় ক্রেতাদের।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় মার্কেট, শপিং কমপ্লেক্স এবং বাণিজ্যিক এলাকার দোকানপাট সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বন্ধ থাকবে। ফলে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা বা ব্যবসায়িক কাজে বের হওয়ার আগে বিকল্প পরিকল্পনা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজ বন্ধ থাকা উল্লেখযোগ্য শপিংমল ও মার্কেটগুলোর মধ্যে রয়েছে নিউ মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, ইস্টার্ন প্লাজা, মোতালেব প্লাজা, সেজান পয়েন্ট, চাঁদনী চক, চন্দ্রিমা মার্কেট, গাউসিয়া মার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, বদরুদ্দোজা মার্কেট, প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টার, গাউসুল আজম মার্কেট, রাইফেলস স্কয়ার (বর্তমান সীমান্ত সম্ভার), অরচার্ড পয়েন্ট, ক্যাপিটাল মার্কেট, ধানমন্ডি প্লাজা, মেট্রো শপিং মল, প্রিন্স প্লাজা, রাপা প্লাজা, কারওয়ান বাজার, ডিআইটি মার্কেট এবং অর্কিড প্লাজা।

এ ছাড়া রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অধিকাংশ দোকানপাটও আজ বন্ধ থাকবে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে কাঁঠালবাগান, হাতিরপুল, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, রাজাবাজার, মণিপুরীপাড়া, তেজকুনীপাড়া, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, নীলক্ষেত, কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোড, শুক্রাবাদ, সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, জিগাতলা, রায়েরবাজার, পিলখানা এবং লালমাটিয়া।

বিশেষ করে নিউ মার্কেট, গাউসিয়া, চাঁদনী চক এবং বসুন্ধরা সিটি রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত কেনাকাটার কেন্দ্র হওয়ায় অনেক ক্রেতা নিয়মিত এসব এলাকায় যান। সাপ্তাহিক বন্ধের বিষয়টি জানা না থাকলে অনেকে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির মুখে পড়তে পারেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন একেক রকম হওয়ায় ক্রেতাদের আগে থেকেই তথ্য জেনে বের হওয়া উচিত। এতে সময় ও যাতায়াত ব্যয় দুটিই সাশ্রয় হবে।

-রাফসান


৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, কোন এলাকাগুলো জানুন

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ১০:৪৯:৫৯
৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, কোন এলাকাগুলো জানুন
ছবি : সংগৃহীত

জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের কারণে নাটোর জেলার কয়েকটি এলাকায় মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নির্ধারিত সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ জানিয়েছে, নাটোর গ্রিড উপকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় কারিগরি কাজ সম্পন্ন করতে সকাল থেকে প্রায় চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হবে।

সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সমিতি জানায়, নাটোর গ্রিড উপকেন্দ্রের ১৩২ কেভি মেইন বাসে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ পরিচালনার জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি, সরবরাহের মান উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটি এড়াতেই এই কারিগরি কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বড়াইগ্রাম-১ (বনপাড়া) উপকেন্দ্রের আওতাধীন সব ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ফলে বনপাড়া পৌরসভা, জোয়াড়ি ইউনিয়ন, মাঝগাঁও ইউনিয়ন এবং দুয়াড়িয়া ইউনিয়নের আংশিক এলাকা মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন থাকবে।

বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হতে পারে। আবার কাজের জটিলতা দেখা দিলে কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে সামান্য বেশি সময়ও লাগতে পারে।

সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে গ্রাহকদের যে ভোগান্তি হতে পারে, সে জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২। একই সঙ্গে বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা আরও উন্নত হবে। ফলে ভবিষ্যতে আকস্মিক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঝুঁকিও কমে আসবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ গ্রাহকদের অনুরোধ করেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নিরাপদভাবে ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় কাজ আগেভাগে সম্পন্ন করার জন্য। পাশাপাশি সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঘোষণার প্রতি নজর রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

-রফিক


মঙ্গলবার ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না বেশ কিছু এলাকায়

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৩ ২১:৫৪:৩৪
মঙ্গলবার ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না বেশ কিছু এলাকায়
ছবি : সংগৃহীত

জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য নাটোরের বেশ কয়েকটি এলাকায় টানা ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ফলে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালের দিকে ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কাটাতে হবে।

সোমবার (১৩ জুলাই) নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর পক্ষ থেকে দেওয়া এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার নাটোর গ্রিড উপকেন্দ্রের ১৩২ কেভি মেইন বাসে জরুরি কারিগরি ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ পরিচালনা করা হবে। এই উন্নয়নমূলক কাজের সুবিধার্থে বড়াইগ্রাম-১ (বনপাড়া) উপকেন্দ্রের অধীনস্থ সকল ফিডারের আওতাভুক্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হবে। এর ফলে বনপাড়া পৌরসভা, জোয়াড়ি ইউনিয়ন, মাঝগাঁও ইউনিয়ন এবং দুয়াড়িয়া ইউনিয়নের আংশিক এলাকায় সকাল ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত টানা চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, কারিগরি কাজের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের এই সময়সীমা কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে। সাময়িক এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে গ্রাহকদের যে ভোগান্তি বা অসুবিধা হবে, তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

/আশিক


দুর্যোগেও কেন চলছে এইচএসসি পরীক্ষা, কারণ ব্যাখ্যা করল শিক্ষা বোর্ড

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৩ ২১:৪৮:০৭
দুর্যোগেও কেন চলছে এইচএসসি পরীক্ষা, কারণ ব্যাখ্যা করল শিক্ষা বোর্ড
ছবি : সংগৃহীত

দেশজুড়ে টানা বৃষ্টিপাত, জলজট এবং কিছু অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও কেন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালু রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দেশের স্থানীয় প্রশাসনের পাঠানো মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন এবং সার্বিক বাস্তব পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবেচনা করেই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের স্বাক্ষর করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের এই অবস্থানের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষাকেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী একই ও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এই পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। চলমান বন্যা পরিস্থিতির তীব্রতার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পরীক্ষাগুলো আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হলেও, দেশের অন্যান্য বোর্ডের অধীনস্থ কেন্দ্রগুলো পরীক্ষা নেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ উপযোগী রয়েছে বলে স্থানীয় জেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

কমিটির পক্ষ থেকে আরও উল্লেখ করা হয়, সামাজিকভাবে আলোচিত কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে সাময়িক ভোগান্তি তৈরি হয়েছিল। তবে স্থানীয় প্রশাসনের তাৎক্ষণিক ও সক্রিয় সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে কেন্দ্রে পৌঁছে পরীক্ষায় অংশ নিতে সক্ষম হয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, ১২ লাখের বেশি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবন, সময়মতো পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ এবং পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জড়িত। তাই বারবার পরীক্ষা স্থগিত করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক নয়।

তবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড কমিটি স্পষ্ট করেছে যে, যদি কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কিংবা পরীক্ষা গ্রহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে সেই পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে পরীক্ষা স্থগিত বা প্রয়োজনীয় যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন।

/আশিক


রাঙ্গামা‌টি‌তে ভারীবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সেনাবাহিনীর ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৩ ২১:৪৪:০৭
রাঙ্গামা‌টি‌তে ভারীবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সেনাবাহিনীর ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ
ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

রাঙ্গামাটি পার্বত‌্য জেলার নানিয়ারচর জোন সদরে সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চলমান দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভারীবর্ষণ/অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণ ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

১৩ জুলাই ২০২৬, সোমবার সকাল ১০ ঘ‌টিকা হইতে নানিয়ারচর জোনের জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল মোঃ মশিউর রহমান, পিএসসি এর দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় জোনের দায়িত্বপূর্ণ ইসলামপুর ও ঘিলাছড়ি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসমূহকে সহায়তা প্রদান করা হয়। এ সময় নানিয়ারচর জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর শেখ মোহাম্মদ নাঈম ইসলামপুর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রাণ সামগ্রী ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়াও, ঘিলাছড়ি আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মোঃ সায়েম আকতার সৌধ ঘিলাছড়ি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

উক্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে সর্বমোট ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার মানবিক সহায়তা গ্রহণ করেছেন। দুর্যোগকালীন সময়ে দুর্গত মানুষের পাশে থেকে তাদের দুর্ভোগ লাঘবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও জনসাধারণের প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস: কোন দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া?

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৩ ২০:০৮:৪২
পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস: কোন দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া?
ছবি : সংগৃহীত

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের সবকটি বিভাগে আগামী পাঁচ দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার জন্য দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়ার এই পূর্বাভাসের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর একটি বর্ধিত অংশ ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর অপর একটি অংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত অবস্থান করছে। বর্তমানে এই মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর পুরোপুরি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে।

পূর্বাভাস অনুসারে, প্রথম ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কিছু কিছু অঞ্চলে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

আবহাওয়ার এই ধারা তৃতীয় দিনেও অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক অঞ্চলে এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

চতুর্থ দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এই সময়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।

পঞ্চম দিনেও একই আবহাওয়া বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা ও দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভাগগুলোর কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে যে, এই পাঁচ দিন পার হওয়ার পরও দেশের ওপর বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

/আশিক


আজ রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ, দেখে নিন সম্পূর্ণ তালিকা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৩ ১০:২৯:৪৫
আজ রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ, দেখে নিন সম্পূর্ণ তালিকা
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে কেনাকাটা কিংবা প্রয়োজনীয় কাজের জন্য প্রতিদিনই হাজারো মানুষ বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলে যান। তবে সাপ্তাহিক ছুটির কারণে নির্দিষ্ট দিনে অনেক বিপণিবিতান ও বাণিজ্যিক এলাকা বন্ধ থাকে। আগে থেকে এ তথ্য জানা না থাকলে গন্তব্যে গিয়ে ফিরে আসতে হয় খালি হাতে, নষ্ট হয় সময় ও ভোগান্তিও বাড়ে।

সে কারণে সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর কোন কোন এলাকার মার্কেট, শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে, তা আগে থেকেই জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঈদ, উৎসব কিংবা মৌসুমি কেনাকাটার সময় এ ধরনের তথ্য ক্রেতাদের পরিকল্পনা সহজ করে।

সাপ্তাহিক ছুটির কারণে আগারগাঁও, তালতলা, শেরেবাংলা নগর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, পল্লবী, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২, মিরপুর-১৩, মিরপুর-১৪, ইব্রাহীমপুর, কচুক্ষেত, কাফরুল, মহাখালী, নিউ ডিওএইচএস, ওল্ড ডিওএইচএস, কাকলী, তেজগাঁও ওল্ড এয়ারপোর্ট এলাকা, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান-১ ও ২, বনানী, মহাখালী বাণিজ্যিক এলাকা, নাখালপাড়া, মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল এলাকা, রামপুরা, বনশ্রী, খিলগাঁও, গোড়ান, মালিবাগের একাংশ, বাসাবো, ধলপুর, সায়েদাবাদ, মাদারটেক, মুগদা, কমলাপুরের একাংশ, যাত্রাবাড়ীর একাংশ, শনির আখড়া, দনিয়া, রায়েরবাগ ও সানারপাড় এলাকার বিভিন্ন মার্কেট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

একই সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শপিং কমপ্লেক্স ও বাজারও সোমবার বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে রামপুরার মোল্লা টাওয়ার, আল-আমিন সুপার মার্কেট, রামপুরা সুপার মার্কেট, মালিবাগ সুপার মার্কেট, তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেট, কমলাপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, গোড়ান বাজার, মেরাদিয়া বাজার, আয়েশা-মোশারফ শপিং কমপ্লেক্স, দনিয়া তেজারত সুপার মার্কেট, আবেদীন টাওয়ার, ঢাকা শপিং সেন্টার এবং মিতালী অ্যান্ড ফ্রেন্ডস সুপার মার্কেট।

-রফিক


সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি, ৫৯টি উপজেলা প্লাবিত ও মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১২ ২১:৫০:৪৪
সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি, ৫৯টি উপজেলা প্লাবিত ও মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১
ছবি : সংগৃহীত

টানা কয়েক দিনের রেকর্ডভাঙা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও মারাত্মক পাহাড়ধসের কারণে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি জেলায় চলমান বন্যা পরিস্থিতি আরও প্রলয়ংকরী ও আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যার পানির তোড়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে এখন পর্যন্ত দেশের মোট ৫৯টি উপজেলা সম্পূর্ণ বন্যার কবলে পড়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন।

আজ রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ২টায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে দেশের সার্বিক বন্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের সাতটি জেলা—খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বিশাল এলাকা বর্তমানে বন্যাকবলিত। এই জেলাগুলোর ৫৯টি উপজেলার অন্তর্গত ৩৬৮টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা বন্যার পানিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। বিপন্ন ও গৃহহীন হয়ে পড়া বানভাসি মানুষের সুরক্ষায় সাতটি জেলায় জরুরি ভিত্তিতে মোট ১ হাজার ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ৩৮ হাজার ৪২২ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলায়। সেখানে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে সর্বোচ্চ ২৮ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে স্থানীয় স্থায়ী বাসিন্দা ১৫ জন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছেন ১৩ জন। এ ছাড়া কক্সবাজারে ২৪ জন আহত ও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। জেলার ১০টি উপজেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভৌগোলিক ও ক্ষয়ক্ষতির বিচারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। জেলার সর্বমোট ১৬টি উপজেলা আংশিক ও সম্পূর্ণ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ৫৮০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ২১ হাজার ৯০০ জন মানুষ মানবেতর অবস্থায় আশ্রয় নিয়েছেন। চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত ১৩ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন।

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে ৭টি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; সেখানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন মানুষ অবস্থান করছেন এবং এ পর্যন্ত ৬ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছেন। রাঙামাটিতে ৯টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলা বন্যার কবলে পড়ায় ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৮৩ জন মানুষ ঠাঁই নিয়েছেন এবং সেখানে একজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজারে ৫টি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হবিগঞ্জের ৩টি উপজেলা নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির শিকার হয়েছে।

বিপন্ন বন্যার্তদের জীবন বাঁচাতে ও তাৎক্ষণিক ক্ষুধা নিবারণে সরকারের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত এই ছয় দিনে বন্যাকবলিত জেলাগুলোর জন্য সর্বমোট ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জেলাওয়ারী সরকারি ত্রাণ বরাদ্দের খতিয়ানে দেখা যায়, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ৬৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ ও ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজারে ৩০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, রাঙামাটিতে ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল, বান্দরবানে ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল এবং মৌলভীবাজারে ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চালসহ অন্যান্য উপদ্রুত জেলাগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ বরাদ্দ পাঠানো হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির সামগ্রিক তথ্য কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং দুর্গতদের চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতে বরাদ্দের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করা হবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: