গাজাবাসীর নতুন ঠিকানা আফ্রিকা? ইসরায়েলের বিতর্কিত পরিকল্পনা ফাঁস

গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা এবং মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেই নতুন একটি বিতর্কিত পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ফিলিস্তিনের গাজার লাখো বাসিন্দাকে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে নির্বাসিত করার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ইসরায়েল ইতোমধ্যে উগান্ডা, মরক্কো, লিবিয়া, সুদান, সোমালিয়া, ইথিওপিয়াসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, এমনকি দক্ষিণ সুদান সরকারের সঙ্গেও এ সংক্রান্ত কথাবার্তা হয়েছে। যদিও দক্ষিণ সুদান সরকার এই খবর অস্বীকার করেছে।
এদিকে, ইসরায়েলের এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছে মিশর। কায়রোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজার জনগণকে তাদের মাতৃভূমি থেকে জোর করে উচ্ছেদ করা হলে তা হবে “ইতিহাসের নিকৃষ্টতম কাজ”। মিশরের মতে, এ ধরনের পরিকল্পনা শুধু একটি ভয়াবহ শরণার্থী সংকটের সৃষ্টি করবে না, বরং ফিলিস্তিনিদের জাতীয় পরিচয় মুছে ফেলার একটি অপচেষ্টাও বটে।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি একাধিকবার গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর মাধ্যমে আরব বিশ্ব অভিযোগ করছে যে, আবারও ১৯৪৮ সালের মতো ফিলিস্তিনিদের তাদের মাতৃভূমি থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র চলছে।
/আশিক
নরম নীতি’র যুগ শেষ, অবৈধ বাংলাদেশি হটাতে কঠোর আসামের মুখ্যমন্ত্রী
ভারতের আসাম রাজ্যে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ অভিবাসীদের হটাতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ‘নরম নীতি’র যুগ এখন শেষ হয়ে গেছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী এখন থেকে বিদেশি হিসেবে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বিতাড়নের ক্ষেত্রে আর কোনো দীর্ঘ কূটনৈতিক বা আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষা করবেন না।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, আগে কাউকে বিদেশি সাব্যস্ত করা হলে বাংলাদেশের সঙ্গে যাচাই-বাছাইসহ দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতো। কিন্তু এখন থেকে কাউকে বিদেশি ঘোষণা করে আদেশ জারি হওয়া মাত্রই তাকে ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে উচ্ছেদ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এটি আসামের নিজস্ব ‘পরিচয়’ রক্ষার লড়াই। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যের পরিচয় রক্ষা করতে না পারলে উন্নয়ন অর্থহীন হয়ে পড়বে।
উল্লেখ্য যে, একটি অনুষ্ঠানে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেছেন, বর্তমানে আসামের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই সংখ্যা যদি আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তবে আসাম ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত’ হয়ে যাবে। ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগেই এই ‘অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুকে মূল এজেন্ডা হিসেবে তুলে ধরেছেন বিজেপি নেতা হিমন্ত। পরিচয় রক্ষার এই শাসননীতি আসামের রাজনৈতিক মহলে যেমন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, তেমনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের প্রতিবেশী সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
যুদ্ধের দাবদাহ ও ক্ষমতার রদবদল: ২০২৫ সালের আলোচিত সব ঘটনা
শান্তির বারতা নিয়ে ২০২৫ সাল শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তা সংঘাত আর মানবিক সংকটের এক কালো অধ্যায় হিসেবেই ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যের তপ্ত মরুভূমি থেকে শুরু করে ইউরোপের তুষারশুভ্র প্রান্তর—২০২৫ সালে পৃথিবীর কোনো প্রান্তই বারুদের গন্ধ থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি। গত এক বছরে সভ্যতা যে ভয়াবহ বর্বরতার সাক্ষী হয়েছে, তা আধুনিক বিশ্বকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সবচাইতে বড় মানবিক ট্র্যাজেডি হিসেবে ২০২৫ সালেও অব্যাহত ছিল গাজার আর্তনাদ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরাইলি বর্বরতা এ বছরও গাজাবাসীকে এক মুহূর্তের জন্য স্বস্তি দেয়নি। যদিও অক্টোবরে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে উপত্যকাটিতে রক্তপাত পুরোপুরি থামেনি। গাজার গণ্ডি ছাড়িয়ে ইসরাইলি আগ্রাসন ছড়িয়ে পড়ে লেবানন, ইয়েমেন ও সিরিয়ায়। বিশেষ করে জুন মাসে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে ১২ দিনের সেই সরাসরি সংঘাত পৃথিবীকে এক তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে বড় ধরণের মহাপ্রলয় থেকে রক্ষা পায় মধ্যপ্রাচ্য।
ইউরোপের বুকে রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন ২০২৫ সালেও কোনো সমাধান খুঁজে পায়নি। যুদ্ধের তিন বছর পার হলেও দুই পক্ষই এখন পর্যন্ত শান্তি চুক্তিতে একমত হতে পারেনি। অন্যদিকে, আফ্রিকা মহাদেশে সুদান ও কঙ্গোর গৃহযুদ্ধ ইতিহাসের অন্যতম বড় মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছে। অনাহার ও মহামারীতে সেখানে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় পারমাণবিক শক্তিধর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ৪ দিনের সেই খণ্ডযুদ্ধ ও আফগান-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘাত অঞ্চলটিকে বছরের অর্ধেকেরও বেশি সময় অস্থির করে রেখেছিল।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ২০২৫ সাল ছিল ‘শুল্ক যুদ্ধের’ বছর। ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও হোয়াইট হাউসে ফিরেই বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোর ওপর বিশাল অংকের শুল্ক আরোপ করেন। এর প্রভাবে বিশ্ব বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। এছাড়া দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে নেপাল থেকে বুলগেরিয়া পর্যন্ত বিশ্বের অন্তত ৭০টি দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে, যার ফলে পতন ঘটেছে একাধিক পরাক্রমশালী সরকারের। প্রকৃতির রুদ্ররোষও এ বছর কম ছিল না; ভয়াবহ ভূমিকম্প ও বন্যার তান্ডবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে কোটি কোটি মানুষ। সব মিলিয়ে ২০২৫ সাল ছিল এক অস্থির পৃথিবী ও লড়াকু মানবতার নীরব সাক্ষী।
২০২৬ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আশঙ্কা
দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রক্রিয়া আবারও বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী থিঙ্কট্যাঙ্ক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স (সিএফআর)। সংস্থাটির ‘কনফ্লিক্টস টু ওয়াচ ইন ২০২৬’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী তৎপরতা বৃদ্ধি পেলে আগামী বছরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাতের জোরালো ঝুঁকি রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির বিশেষজ্ঞদের নিয়ে করা এক বিশেষ জরিপের ভিত্তিতে এই উদ্বেগজনক মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ২০২৫ সালের মে মাসে কাশ্মীরের পেহেলগামে এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চরমে ওঠে। এর জবাবে ৭ মে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানি ভূখণ্ডে ‘অপারেশন সিন্দুর’ পরিচালনা করে, যেখানে ১০০ জনের বেশি জঙ্গি নিহত হওয়ার দাবি করে ভারত। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান সশস্ত্র ড্রোন দিয়ে ভারতের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালে পরিস্থিতি যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে ১০ মে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান হয়নি।
সিএফআরের বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে যে, কেবল ভারত-পাকিস্তান নয়, বরং পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তও এখন অগ্নিগর্ভ। চলতি বছরের অক্টোবরে কাবুলে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) প্রধান নূর ওয়ালি মেহসুদকে লক্ষ্য করে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর থেকে কূটনৈতিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। আফগানিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে এই দুই দেশের মধ্যেও ‘মাঝারি মাত্রার’ সশস্ত্র সংঘাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই বর্তমানে তুরস্ক ও চীনের কাছ থেকে অত্যাধুনিক ড্রোন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহ করে নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে। ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ইউক্রেন ও গাজা সংঘাত নিরসনে ব্যস্ত থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ায় যেকোনো মুহূর্তের একটি ছোট স্ফুলিঙ্গ পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশীকে আবারও যুদ্ধের ময়দানে নামিয়ে দিতে পারে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।
এস জয়শঙ্কর ও ইসহাক দার ঢাকা আসছেন কাল
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া–এর জানাজাকে কেন্দ্র করে ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর উভয়েই জানাজায় অংশ নিতে বাংলাদেশে আসছেন। এই সফরগুলোকে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিসরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন যে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে বুধবার ঢাকায় পৌঁছাবেন। হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জানাতেই পাকিস্তানের এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছে। সফরটি সংক্ষিপ্ত হলেও এটি দুই দেশের কূটনৈতিক সৌজন্য ও পারস্পরিক রাজনৈতিক গুরুত্বকে প্রতিফলিত করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, ভারতীয় হাইকমিশনের কার্যালয় থেকেও জানানো হয়েছে যে, জানাজা উপলক্ষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশ সফরে আসছেন। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই উপস্থিতিকে একটি আনুষ্ঠানিক শোকজ্ঞাপন ও কূটনৈতিক সৌহার্দ্যের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে এটি বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের ধারাবাহিক যোগাযোগ ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার দিকটিও তুলে ধরছে।
সব মিলিয়ে, খালেদা জিয়ার জানাজায় পাকিস্তান ও ভারতের শীর্ষ কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ শুধু একটি ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং এটি আঞ্চলিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক বার্তার ক্ষেত্রেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
পারমাণবিক শক্তি হবে সীমাহীন: কিম জং উনের নতুন নির্দেশে কাঁপছে বিশ্ব
বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত মঞ্চে দাঁড়িয়ে উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উন আবারও তাঁর সমর শক্তির জানান দিলেন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) পিয়ংইয়ংয়ের কাছে সুনান এলাকা থেকে দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় ধরণের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সরাসরি তদারকি করেন তিনি। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, কিম জং উন কেবল এই পরীক্ষার সাফল্য দেখে সন্তোষ প্রকাশই করেননি, বরং দেশের পারমাণবিক যুদ্ধক্ষমতাকে ‘সীমাহীন ও ধারাবাহিকভাবে’ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কোরীয় উপদ্বীপের পশ্চিম দিকের সমুদ্রপথ ধরে উড়ে গিয়ে নিখুঁতভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
কিম জং উন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বর্তমান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা নিয়মিত পরীক্ষা করা একটি ‘দায়িত্বশীল পদক্ষেপ’। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং পারমাণবিক যুদ্ধশক্তি আরও শক্তিশালী করতে সব ধরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পাশাপাশি কিম একটি নির্মাণাধীন পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনও পরিদর্শন করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরির পরিকল্পনাকে উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে তিনি জানান, সিউলের প্রতিটি পদক্ষেপের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের এই তৎপরতা অত্যন্ত উদ্বেগের। তারা সতর্ক করেছে যে, নতুন বছরের শুরুতে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির গুরুত্বপূর্ণ কংগ্রেসের আগে উত্তর কোরিয়া আরও বড় ধরণের উস্কানিমূলক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রতিরক্ষা কৌশল নির্ধারণের আগে কিম জং উনের এই কঠোর অবস্থান আদতে আন্তর্জাতিক মহলে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করার একটি প্রয়াস।
তথ্যসূত্র : আলজাজিরা।
সিরিয়ার সার্বভৌমত্বে ইসরায়েলের বড় আঘাত
সিরিয়ার উত্তর কুনেইত্রা প্রদেশের তারাঞ্জা গ্রামে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর অনুপ্রবেশের ফলে ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি এখন অগ্নিগর্ভ। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সানার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার ছয়টি উন্নত সামরিক যান নিয়ে গঠিত একটি ইসরায়েলি ইউনিট তুলুল আল-হুমর অঞ্চল দিয়ে সিরিয়ার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এই সামরিক বহরটি বেইত জন্ন ও হাদার এলাকার মধ্যবর্তী পথ অতিক্রম করে সরাসরি তারাঞ্জা গ্রামে ঢুকে পড়ে এবং সেখান থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জাবাথা আল-খাশাব শহরের উপকণ্ঠের দিকে অগ্রসর হতে থাকে।
তদন্তকারী সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী জাবাথা আল-খাশাবের দক্ষিণ প্রান্তে একটি উঁচু টিলায় অবস্থান নিয়েছে, যেখান থেকে পুরো শহরটির ওপর নজরদারি চালানো সম্ভব। এই অনুপ্রবেশের সময় আকাশজুড়ে ইসরায়েলি ড্রোনের কড়া নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে। পরবর্তীতে ইসরায়েলি বাহিনী উফানিয়া গ্রামের দিকে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে। এর মাত্র একদিন আগেই দক্ষিণ কুনেইত্রার পূর্ব তেল আল-আহমার এলাকায় তিনটি ভারী গোলা এবং মাঝারি পাল্লার মেশিনগান থেকে গুলিবর্ষণ করে ইসরায়েলি সেনারা, যা এই আগ্রাসনের পূর্বপ্রস্তুতি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ১৯৭৪ সালের ডিসএঙ্গেজমেন্ট এগ্রিমেন্ট বা অনাক্রমণ চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে সিরিয়ার ভূখণ্ডে তাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের শেষে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে সিরিয়ায় ইসরায়েলি হস্তক্ষেপ কয়েক গুণ বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইসরায়েলি বাহিনী প্রতিদিন সিরিয়ার ভেতরে ঢুকে ঘরবাড়ি তল্লাশি করছে এবং বুলডোজার দিয়ে জমি দখল করে নতুন নতুন চেকপোস্ট বসাচ্ছে। এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কুনেইত্রার বিভিন্ন শহরে স্থানীয়রা বিক্ষোভ করলেও ইসরায়েলি বাহিনী তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে।
সিরিয়ার নতুন প্রশাসন এই অনুপ্রবেশকে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নালিশ জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই অভিযানকে 'নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ' ও 'ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধের' অজুহাত দেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কুনেইত্রার এই অস্থিতিশীলতা পুরো অঞ্চলে একটি বড় ধরনের সশস্ত্র সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নাইজেরিয়ায় ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন বিমান হামলা
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর ক্রমবর্ধমান সহিংসতার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। নাইজেরিয়া সরকারের সরাসরি অনুরোধে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালিত হয়। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান যে কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে তাঁর আদেশে নাইজেরিয়ায় আইএস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এই ‘শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী’ হামলা চালানো হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, এই জঙ্গিরা নিরীহ মানুষ, বিশেষ করে খ্রিষ্টানদের লক্ষ্য করে এমন ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছিল যা আধুনিক ইতিহাসে বিরল।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর আফ্রিকা কমান্ড (আফ্রিকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয়ের মাধ্যমে সকোতো অঙ্গরাজ্যে আইএসের একাধিক ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়। পেন্টাগন থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে যে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই অভিযানের সফলতায় নাইজেরিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে এক্সে লিখেছেন— ‘আরও আসছে’। বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে গত অক্টোবরে খ্রিষ্টানদের নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্প যে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন, এটি তারই চূড়ান্ত বাস্তবায়ন।
নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবে এই নির্ভুল বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে জঙ্গি গোষ্ঠীর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তবে নাইজেরিয়া সরকারের পক্ষ থেকে কিছুটা ভিন্ন সুরও পাওয়া গেছে। তারা জানিয়েছে যে দেশটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মুসলিম ও খ্রিষ্টান—উভয় সম্প্রদায়কেই সমানভাবে লক্ষ্যবস্তু করে। শুধুমাত্র একটি বিশেষ ধর্মের ওপর জোর দেওয়া হলে দেশের জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
আফ্রিকার এই জনবহুল দেশটির উত্তরাঞ্চল দীর্ঘকাল ধরে ইসলামপন্থী বিদ্রোহীদের অস্থিরতায় ভুগছে। হামলার দিনই নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন। এই অস্থিতিশীলতার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু বড়দিনের বার্তায় সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সিরিয়ার পর নাইজেরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে জঙ্গি দমনে আগের চেয়েও অনেক বেশি আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণ করছে।
পুতিনের মৃত্যু নিয়ে জেলেনস্কির বিস্ফোরক উক্তি
পবিত্র বড়দিনের উৎসবের আবহেও থামেনি ইউক্রেন-রাশিয়া রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। বড়দিন উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরাসরি নাম উচ্চারণ না করে তাঁর চরম পরিণতি বা মৃত্যু কামনা করেছেন। জেলেনস্কি তাঁর বার্তায় বলেন যে ইউক্রেনীয়দের জন্য রাশিয়া অবর্ণনীয় দুর্ভোগ বয়ে আনলেও তাঁরা ইউক্রেনীয়দের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ—পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস এবং ঐক্য কেড়ে নিতে পারেনি। তিনি দাবি করেন যে রাশিয়া ভূমি দখল করতে পারলেও ইউক্রেনীয়দের মন ও সাহস জয় করতে ব্যর্থ হয়েছে।
জেলেনস্কি তাঁর বক্তব্যে এক গভীর আক্ষেপ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে আজ প্রতিটি ইউক্রেনীয় নাগরিকের মনে একটিই স্বপ্ন এবং একটিই অভিন্ন প্রত্যাশা তা হলো— ‘তাঁর (পুতিনের) ধ্বংস বা মৃত্যু হোক’। বড়দিনের ঠিক আগ মুহূর্তে ইউক্রেনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে রাশিয়া ব্যাপক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান এবং ইউক্রেনের বিশাল একটি অংশ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্ধকারে ডুবে যায়। উৎসবের দিনে এমন নৃশংস হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে জেলেনস্কি রাশিয়াকে ‘ধর্মহীন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
রুশ বাহিনীর এই সাম্প্রতিক হামলার চিত্র তুলে ধরে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বলেন যে বড়দিনের আগের সন্ধ্যায় রাশিয়া আবারও বিশ্ববাসীর কাছে নিজেদের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করেছে। রুশ সেনারা শত শত শহীদ ড্রোন, ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ভয়ংকর কিনঝাল মিসাইল দিয়ে হামলা চালিয়েছে। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পুতিনের নির্দেশে শুরু হওয়া এই পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের প্রায় তিন বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এই দীর্ঘ সময়ে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ অঞ্চল দখল করে নিয়েছে রুশ বাহিনী, তবে জেলেনস্কি তাঁর বার্তায় জয়ী হওয়ার দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে জেলেনস্কির এই সরাসরি ‘ধ্বংস’ কামনার সুর ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুদ্ধ এখন এক চরম সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছে যেখানে সমঝোতার পথ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। রাশিয়ার ক্রমাগত বিমান হামলার মুখেও ইউক্রেনীয়দের প্রতিরোধের শক্তিই এখন কিয়েভের একমাত্র ভরসা। জেলেনস্কি বিশ্বাস করেন যে আকাশপথে বোমা হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ধ্বংস করা গেলেও ইউক্রেনের স্বাধীনতার চেতনাকে দমানো অসম্ভব। বড়দিনের এই বার্তা কেবল একটি আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা নয় বরং বিশ্বমঞ্চে পুতিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে এক তীব্র কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
নাইজেরিয়ায় রক্তাক্ত মাগরিব: নামাজের সিজদায় থাকা অবস্থায় বিস্ফোরণ
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বর্নো প্রদেশের রাজধানী মাইদুগুরিতে মাগরিবের নামাজের সময় এক আত্মঘাতী বা আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) হামলায় অন্তত সাতজন মুসল্লি নিহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় গাম্বোরু মার্কেট এলাকার একটি মসজিদে এই বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাদেশিক পুলিশের মুখপাত্র নাহুম দাসো জানিয়েছেন যে ভয়াবহ এই বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান এবং অন্তত ৩৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
হামলার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় মিলিশিয়া নেতারা জানিয়েছেন যে বিস্ফোরণের সময় মসজিদটি মুসল্লিতে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। মাওলানা আবুনা ইউসুফ নামক এক ইমাম এএফপিকে জানিয়েছেন যে নিহতের সংখ্যা আটজনে পৌঁছাতে পারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে যে বিস্ফোরণের পরপরই মার্কেট এলাকায় ব্যাপক ধুলোবালি ও ধোঁয়া ওড়ছে এবং আতঙ্কিত মানুষজন প্রাণভয়ে দিকবিদিক ছুটোছুটি করছেন। হামলার পরপরই পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং তল্লাশি শুরু করে।
মাইদুগুরি শহরটি প্রায় দুই দশক ধরে কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন বোকো হারাম এবং আইএস পশ্চিম আফ্রিকা প্রদেশের (আইএসডব্লিউএপি) প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে পরিচিত। ২০০৯ সালে এই অঞ্চলে ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বোকো হারামের সশস্ত্র অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৪০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যদিও ২০২১ সালের পর থেকে মাইদুগুরি শহরটি তুলনামূলক শান্ত ছিল তবে গত রাতের এই হামলা ফের বড় ধরণের জঙ্গি তৎপরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
এখন পর্যন্ত কোনো জঙ্গি গোষ্ঠী এই ন্যাক্কারজনক হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে বর্নো প্রদেশে জনাকীর্ণ স্থানে এ ধরণের হামলার ধরণটি মূলত বোকো হারামের চিরচেনা কৌশল। জাতিসংঘের হিসেবে গত ১৫ বছরে এই সহিংসতা নাইজেরিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী নাইজার, চাদ ও ক্যামেরুনেও ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সামরিক অভিযানের পরও এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী জনবহুল এলাকাগুলোতে প্রাণঘাতী হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রাখায় সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পুরো এলাকা জুড়ে কড়া নিরাপত্তা জারি করেছে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।
পাঠকের মতামত:
- টাকা ছাড়াই ব্রিটিশ কাউন্সিলের ফ্রি কোর্স: ২০২৬-এর বড় সুযোগ
- সাত বছরে মুফতি ফয়জুল করীমের আয় বেড়ে দ্বিগুণ
- বেগম জিয়ার ঐক্যের পথে চলতে চায় জামায়াত: জামায়াত আমির
- শীতে সুস্থ থাকতে নারীদের খেয়াল রাখতে হবে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে
- শূন্য সম্পদ নিয়ে সাবেক মন্ত্রীর প্রতিপক্ষ তুষার
- ২০২৬ সালে মেগা বাজেটের বিস্ফোরণ: পর্দা কাঁপাতে আসছে সেরারা
- ভিপি সাদিক কায়েমকে যে পরামর্শ দিলেন তারেক রহমান
- ৪৬তম বিসিএসের ভাইভার চূড়ান্ত তারিখ প্রকাশ
- আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে এলে সব দায়িত্ব নেব: জামায়াত নেতা
- নরম নীতি’র যুগ শেষ, অবৈধ বাংলাদেশি হটাতে কঠোর আসামের মুখ্যমন্ত্রী
- সম্পদের পাহাড়ে ছাত্রনেতা মাসউদ: বাবার চেয়ে ৫ গুণ বিত্তবান ছেলে
- ইসলামী দলকে ভোট দিতে জনগণ এখন প্রস্তুত: ডা. সৈয়দ তাহের
- রণক্ষেত্র আগারগাঁও, বিটিআরসি কার্যালয় লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইট
- নতুন বছরে যেসব মাসে টানা ৪ থেকে ১০ দিন ছুটির সুযোগ জানুন
- ১ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ১ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে দরপতনের শীর্ষ ১০টি শেয়ার
- ১ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০টি শেয়ার
- একীভূত ব্যাংকে কত টাকা তুলবেন, জানুন নিয়ম
- সঞ্চয়পত্রে মুনাফা আরও কমলো, জানুন নতুন হার
- প্রকাশ হলো ২০২৬ সালের ব্যাংক ছুটির পূর্ণ তালিকা
- ওরিয়ন ফার্মা ও ইনফিউশনের নতুন ক্রেডিট রেটিং প্রকাশ
- এক ধাপে বড় কমতি স্বর্ণের দামে
- বৃহস্পতিবার ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে জেনে নিন আগেই
- পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের দৈনিক এনএভি প্রকাশ
- রেকর্ড ডেটের আগে দুই কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে বিধিনিষেধ
- নতুন বছরের প্রথম দিনেই শেয়ারবাজারে শক্ত উত্থান
- ০১ জানুয়ারি ২০২৬ হালনাগাদ বৈদেশিক মুদ্রার দর
- ১৭ জেলায় শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি
- ভারতীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের বিষয়ে যা বললেন ডা. শফিক
- শীতে শখের রঙিন মাছ মরে যাচ্ছে? মাছ বাঁচাতে ৪টি বিশেষ টিপস
- শীতে হাত পা ফাটলে কী করবেন? ৫টি ঘরোয়া টোটকা জানুন আজই
- শীতে ফুসফুস সুরক্ষিত রাখার ৫ উপায়
- পুরো বাংলাদেশই আজ আমার পরিবার: তারেক রহমান
- শীতে টনসিল থেকে রক্ষা পাওয়ার ঘরোয়া উপায় ও চিকিৎসকের টিপস
- স্বর্ণের দামে নতুন বছরের শুরুতেই স্বস্তি: আজ থেকে কার্যকর নতুন দর
- এর চেয়েও বহুগুণ বিকট আওয়াজ তোমাকে দিশেহারা করার অপেক্ষায়: আজহারী
- আজ ০১ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
- নতুন বছরে কমল জ্বালানি তেলের দাম: আজ থেকে কার্যকর নতুন মূল্য
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- টিভির পর্দায় আজকের সব খেলার সূচি
- উৎসবহীন ২০২৬-এর পথচলা: হাড়কাঁপানো ঠান্ডা আর শোকের চাদরে ঢাকা দেশ
- নিষেধাজ্ঞা ভেঙে মধ্যরাতে পটকার বিকট শব্দে কাঁপল ঢাকা
- নতুন বছরের শুরুতেই শীতে কাঁপছে পঞ্চগড়, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ
- সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমানের আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট
- আয়ের দৌড়ে শীর্ষ নেতাদের পেছনে ফেললেন নুর, হলফনামায় নতুন চমক
- কেন ১ জানুয়ারি নতুন বছর? জানুন এর পেছনের রোমাঞ্চকর ইতিহাস
- প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তান ও নেপালের প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ
- হাড়কাঁপানো শীতের ইতিহাস, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কবে কত ছিল?
- ভারসাম্য হারাচ্ছে জলবায়ু তবে কি ধেয়ে আসছে পরবর্তী তুষারযুগ?
- শীতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সেরা ৫ টিপস
- আজ ঢাবির ভর্তি যুদ্ধ: আছে এমআইএসটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খবর
- আজকের স্বর্ণের দাম: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
- আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন মূল্য
- পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় সুখবর
- আজ থেকে শুরু বিপিএলের দ্বাদশ আসর, জানুন পূর্ণাঙ্গ সময়সূচী
- সাধারণের নাগালের বাইরে সোনার বাজার: মধ্যবিত্তের সোনা কেনার স্বপ্ন কি তবে শেষ
- আজকের স্বর্ণের দাম: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- এমবিবিএস-বিডিএস ভর্তি পিছাল, নতুন তারিখ ঘোষণা
- সোনার বাজারে সুখবর! কমল দাম যত
- ঢাকা-১৫ জামায়াত আমিরের বিপক্ষে নামলেন যে বিএনপি প্রার্থী
- ২০২৬ সালে স্কুলে ছুটি কমলো ১২ দিন, দেখে নিন তালিকা
- বাবার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে নীরবে কেঁদেছেন তারেক রহমান
- ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা: আজই দেখে নিন রুটিন
- হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশা থেকে মুক্তি কবে? যা জানাল আবহাওয়া অফিস
- ই-রিটার্ন দাখিলে আর বাধা নেই: বড় সুখবর দিল রাজস্ব বোর্ড আজ








