মাত্র ১৯ দিন হাতে, অর্থনৈতিক আঘাত এড়ানোর উপায় খুঁজছে ভারত

রাশিয়া থেকে তেল কেনার জেরে ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৬ আগস্ট) ঘোষিত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ২৭ আগস্ট থেকে। এর আগে তিন সপ্তাহ আগে ট্রাম্প ২৫ শতাংশ শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট শুল্ক দাঁড়াবে ৫০ শতাংশ।
ভারত সরকার এ পদক্ষেপকে ‘অন্যায়’ ও ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়েছে। রপ্তানিকারকদের মতে, এত উচ্চ হারে শুল্ক বৃদ্ধিতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। বেশির ভাগ রপ্তানিকারক জানান, তারা সর্বোচ্চ ১০-১৫ শতাংশ শুল্কবৃদ্ধি সহ্য করতে পারেন, কিন্তু ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি ‘পথে বসার’ সমান।
রপ্তানি ও অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাববিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের রপ্তানি খাতে এটাই সবচেয়ে বড় ধাক্কা। বর্তমানে ভারত বছরে প্রায় ৮৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে, যা দেশের মোট রপ্তানির ১৮ শতাংশ। এ থেকে ভারতের জিডিপির প্রায় ২.২ শতাংশ আয় হয়। আগে ২৫ শতাংশ শুল্কে জিডিপি ০.২ থেকে ০.৪ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা ছিল, কিন্তু ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হলে ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়বে।
যদিও ইলেকট্রনিকস ও ফার্মাসিউটিক্যালস আপাতত শুল্কমুক্ত থাকছে, তবে টেক্সটাইল ও গয়নার মতো শ্রমনিবিড় খাতগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তামিলনাডুর তিরুপুর ও গুজরাটের সুরাটের বহু কারখানায় কর্মসংস্থান হুমকিতে পড়তে পারে।
কৌশলগত পরিবর্তনের সম্ভাবনাকিছু পর্যবেক্ষক মনে করছেন, এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য কৌশলগত অংশীদারিত্ব পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি করেছে। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের অজয় শ্রীবাস্তব মনে করেন, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন সম্মেলনে যোগদানকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কিন্তু কিছু বিশ্লেষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলায় ভারত হয়তো রাশিয়ার সঙ্গে তেল বাণিজ্যে ধীরে ধীরে সীমিতকরণে যাবে। যদিও মোদি-পুতিন টেলিফোন আলাপে দুই দেশের ‘বিশেষ সম্পর্ক’ বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়েছে এবং পুতিনের ভারত সফরের প্রস্তুতিও চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অনিশ্চিতশুল্কবৃদ্ধির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা বন্ধ হয়নি। এ মাসের শেষ দিকে মার্কিন প্রতিনিধিদল দিল্লি সফর করবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে চুক্তি টিকিয়ে রাখতে হলে ভারতকে দক্ষ কূটনীতির পরিচয় দিতে হবে। কৃষি ও দুগ্ধখাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকারের দাবিই মূল জটিলতা তৈরি করছে।
পাল্টা শুল্কের সম্ভাবনাকিছু রাজনৈতিক নেতা ও বিশ্লেষক যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের পরামর্শ দিচ্ছেন। শশী থারুরের মতে, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন দেশ হিসেবে ভারতেরও সমপরিমাণ শুল্ক বসানো উচিত। যদিও বার্কলেস রিসার্চ মনে করে, ভারতের এমন পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে একেবারে অসম্ভব নয়।
ভারতের রপ্তানিকারকরা এখন সরকারের কাছ থেকে জরুরি প্রণোদনা ও সহায়তার আশায় আছে। নোমুরা বলছে, এত দিন যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা এখন যথেষ্ট নয়।
সূত্র : বিবিসি বাংলা
এবার ভারত মহাসাগরে মার্কিন উভচর যুদ্ধজাহাজে ইরানের শক্তিশালী হামলা
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সোমবার (৬ এপ্রিল) এক চাঞ্চল্যকর বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, তারা সমুদ্রপথে ইসরায়েলি মালিকানাধীন একটি কনটেইনার জাহাজ এবং একটি বিশাল মার্কিন যুদ্ধজাহাজে সফল হামলা চালিয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম 'সেপাহ নিউজ'-এ প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে আইআরজিসি তাদের চলমান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৯৮তম দফার বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরেছে।
আইআরজিসির তথ্যমতে, ‘এসডিএন৭’ নামক একটি ইসরায়েলি কনটেইনার জাহাজকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে আঘাত করা হয়েছে, যার ফলে জাহাজটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। শুধু তাই নয়, ৫ হাজারেরও বেশি সেনাবহনকারী মার্কিন উভচর আক্রমণ জাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ (এলএইচএ-৭) লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের দিকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে বলেও দাবি করেছে তেহরান।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে যে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের হাইফা শহরের কৌশলগত কেন্দ্র এবং বেয়ার শেভার পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাগুলোতে সরাসরি আঘাত হেনেছে। এছাড়া মধ্য ইসরায়েলের পেতাহ টিকভায় ইসরায়েলি বাহিনীর একটি বড় সমাবেশস্থল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র ও আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে থাকা যুদ্ধবিমানগুলোও ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায় ছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ যৌথ হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত। সেই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই ইরান এখন ধারাবাহিকভাবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বাণিজ্যিক সম্পদের ওপর আঘাত হানছে।
একই সঙ্গে বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে পশ্চিমা বিশ্বকে অর্থনৈতিক চাপের মুখে ফেলেছে তেহরান। সম্প্রতি ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতে হামলার গুঞ্জন উঠলেও ইরান পরে তা অস্বীকার করেছিল, তবে সোমবারের এই জোড়া হামলার দাবি পরিস্থিতিকে নতুন এক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সূত্র: সিনহুয়া।
কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে ইরানের থাবা, ১৫ মার্কিন সেনা আহত
মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযানের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রতিশোধমূলক পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইরান। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে (৬ এপ্রিল) কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। ইরাক সীমান্ত থেকে মাত্র ৩৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘আলি আল সালেম’ বিমানঘাঁটিতে ইরানের একটি ড্রোন আঘাত হানলে অন্তত ১৫ জন মার্কিন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ দুজন কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। যদিও আহতদের বেশিরভাগেরই আঘাত গুরুতর নয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর তারা পুনরায় দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ যৌথ হামলার পর থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে, কুয়েতের এই হামলা তারই অংশ। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারির সেই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ প্রায় দেড় সহস্রাধিক মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
এই ঘটনার পর থেকে ইরান কেবল ইসরায়েল নয়, বরং জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলেও কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে তেহরান। কুয়েতের এই শক্তিশালী মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ঘটনাটি ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকে নতুন করে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
কৌশলগতভাবে তেহরানের কাছে পরাজিত ট্রাম্প: ইরান
ইরানের একটি জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমান যুদ্ধ ব্যবস্থাপনায় তাঁর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। সূত্রটির দাবি, কৌশলগতভাবে তেহরানের কাছে ট্রাম্প ইতিমধ্যে পরাজিত হয়েছেন এবং তাঁর ক্রমবর্ধমান আক্রমণাত্মক বক্তব্য মূলত এই পরাজয়ের গ্লানি ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ।
সূত্রটি আরও উল্লেখ করেছে যে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক এবং ইরানি জনগণের প্রতি অবমাননাকর ভাষা প্রমাণ করে যে তিনি পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ ইসফাহানে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সমন্বয় করে চালানো সামরিক পদক্ষেপগুলো কৌশলগতভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে ইরান দাবি করেছে।
তবে যুদ্ধের ময়দানে এই অনড় অবস্থানের মধ্যেও ইরান জানিয়েছে যে তারা সংঘাতের অবসান চায়। তবে সূত্রটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ট্রাম্পের চাপিয়ে দেওয়া কোনো শর্ত বা সময়সীমা তারা মেনে নেবে না। ইরানের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ৩৯তম দিনে গড়িয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে মহাযুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।
তথ্যসূত্র : সিএনএন
এক রাতের মধ্যেই ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার হুমকি ট্রাম্পের
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কঠোর ভাষায় ইরানকে সতর্ক করেছেন। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমঝোতায় না পৌঁছালে যুক্তরাষ্ট্র এক রাতের মধ্যেই ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিতে পারে বলে তিনি প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন। এই হুমকির কেন্দ্রে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার প্রশ্ন।
ওয়াশিংটন সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন ট্রাম্প, যা বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে শেষ হবে। তার শর্ত স্পষ্ট উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র ‘তাৎক্ষণিক ও বিধ্বংসী’ সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একটি দেশের অবকাঠামো সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়া সম্ভব। তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন, ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়ার মতো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনে এই অভিযান কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব।
এই বক্তব্য দেওয়ার সময় তার পাশে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষা নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যক্তি জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। এতে বোঝা যায়, বিষয়টি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সামরিক প্রস্তুতির সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
অন্যদিকে, তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে আগ্রহী নয়। তাদের দাবি, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ছাড়া কোনো আলোচনাই অর্থবহ হবে না। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং বিলম্বিত প্রতিক্রিয়ার কারণে আলোচনার অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এই জটিল পরিস্থিতিতে পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশর মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি, যা সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের সামরিক হুমকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। টেস ব্রিজম্যান সতর্ক করে বলেছেন, বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তার মতে, কোনো রাষ্ট্রকে আলোচনায় বাধ্য করতে সাধারণ জনগণের ওপর চাপ প্রয়োগ সম্পূর্ণ বেআইনি।
তবে ট্রাম্প এসব সমালোচনাকে গুরুত্ব দিতে রাজি নন। তার দাবি, ইরানের জনগণ নিজেদের স্বাধীনতার জন্য যে কোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি ন্যাটো ও যুক্তরাজ্যের ভূমিকা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং তাদের নিষ্ক্রিয়তাকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন।
এদিকে মার্কিন সামরিক কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে ১৩ হাজারেরও বেশি হামলা চালানো হয়েছে। এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয় যে সংঘাত ইতোমধ্যেই উচ্চমাত্রায় পৌঁছে গেছে এবং যেকোনো সময় তা আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে।
সূত্র-বিবিসি
ইরানের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় এশিয়ার দেশগুলো
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা যখন চরমে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি ভিন্নধর্মী কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রণালি খুলে না দিলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেও, বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে অনেক দেশ নিজেদের স্বার্থে বিকল্প পথ খুঁজছে।
ট্রাম্প স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত এবং ব্যাপক সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। তার বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগ বৃদ্ধি পায়।
তবে এই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই এশিয়ার কয়েকটি দেশ সরাসরি তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়। জ্বালানি আমদানির ওপর উচ্চ নির্ভরশীলতার কারণে এসব দেশের জন্য হরমুজ প্রণালির কার্যকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ অচল হয়ে পড়লে শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান, ভারত এবং ফিলিপাইনসহ একাধিক দেশ ইরানের সঙ্গে সরাসরি সমঝোতায় পৌঁছেছে। এসব চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট কিছু জাহাজকে নিরাপদে প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা লাজারো জানিয়েছেন, তাদের পতাকাবাহী জাহাজগুলোর জন্য ‘নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন’ চলাচলের নিশ্চয়তা দিয়েছে তেহরান। দেশটির জ্বালানি নির্ভরতা বিবেচনায় এই সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, ইরান তাদের একাধিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। তিনি এটিকে ইতিবাচক কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ভারতের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কূটনৈতিক সমন্বয় দেখা গেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, সক্রিয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভারতীয় ট্যাংকারগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
এছাড়া চীন ও মালয়েশিয়াও এই প্রণালি ব্যবহার করে তাদের জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখার বিষয়ে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করেছে বলে জানা গেছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এ জন্য ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
তবে এই সমঝোতাগুলো কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। শিপিং বিশ্লেষকদের মতে, এসব চুক্তি সব দেশের জন্য প্রযোজ্য নয় এবং নির্দিষ্ট জাহাজ বা শর্তসাপেক্ষে কার্যকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, জ্বালানি নির্ভর অর্থনীতিগুলো এখন বাস্তববাদী কূটনীতির পথে হাঁটছে। তারা বুঝতে পারছে, সরবরাহ চেইন সচল রাখতে হলে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা ছাড়া বিকল্প নেই। তবে এসব পদক্ষেপ সংকটের সাময়িক সমাধান দিলেও দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারবে না।
-রাফসান
চার ঘণ্টায় ইরান অচল করার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কঠোর সামরিক অবস্থান তুলে ধরেছে। হরমুজ প্রণালি দ্রুত উন্মুক্ত না হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক আঘাত হানার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ইঙ্গিত দেন, নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করার অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে অকার্যকর করে দেওয়ার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, একটি সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে দেশটির পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামো দ্রুত ধ্বংস করা সম্ভব।
তিনি দাবি করেন, এমন একটি সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে যা মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যেই বাস্তবায়নযোগ্য। তবে একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা নয় এবং তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়।
এর আগে ইরানকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার আহ্বান জানিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেন তিনি। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। মারিকে ডে হুন, আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইন বিভাগের একজন বিশেষজ্ঞ, এই ধরনের মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকি গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।
তিনি আরও সতর্ক করেন, এমন ধরনের বক্তব্য বাস্তবায়িত হলে তা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলবে এবং যুদ্ধের নৈতিক সীমারেখা অতিক্রম করবে। পাশাপাশি আত্মসমর্পণকারীদের জীবন রক্ষা না করার নীতি আন্তর্জাতিক আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, সংঘাতের আরেকটি দিক নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে বেসামরিক এলাকায় ক্লাস্টার অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।
-রাফসান
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা, আহত ১৫ মার্কিন সেনা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনা নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, রাতভর পরিচালিত এই হামলায় অন্তত ১৫ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম CBS News-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় একাধিক ড্রোন ঘাঁটির বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে আঘাত হানে। এতে সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কিছু সেনাসদস্য আহত হন।
তবে প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, আহতদের অধিকাংশই গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হননি। চিকিৎসা নেওয়ার পর অনেকেই আবার দায়িত্বে ফিরে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, হামলাটি বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ না হলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই হামলা বৃহত্তর একটি সংঘাতের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ইরান ধারাবাহিকভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার পর থেকে এই ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
কুয়েতের এই ঘাঁটিটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে এখানে হামলা চালানো আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামরিক ভারসাম্যের ওপর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা
সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, স্থায়ী সমাধান চাই: যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত জানাল ইরান

আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নতুন মোড় নিয়েছে, যেখানে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নিতে রাজি নয়; বরং স্থায়ী ও কাঠামোগত সমাধান ছাড়া সংঘাত বন্ধ করা সম্ভব নয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাবে তেহরান যে অবস্থান তুলে ধরেছে, তা এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইসলামাবাদ হয়ে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় ইরান একটি বিস্তারিত দাবি-তালিকা দিয়েছে। এতে তারা সাময়িক যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করলেও ‘ইরানের স্বার্থ ও বিবেচনাকে সম্মান করে’ একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। এই অবস্থান স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে তেহরান কেবল যুদ্ধ থামাতে নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সমাধান নিশ্চিত করতে চায়।
ইরানের প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতগুলোর অবসান, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌযান চলাচলের জন্য একটি স্বীকৃত প্রোটোকল প্রণয়ন, যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামোর পুনর্গঠন এবং ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। এই শর্তগুলো দেখায় যে, ইরান এই সংঘাতকে শুধুমাত্র সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত একটি বৃহত্তর সমীকরণের অংশ হিসেবে দেখছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান একটি দ্বি-স্তরবিশিষ্ট শান্তি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে, যা “ইসলামাবাদ অ্যাকর্ডস” নামে পরিচিত হতে পারে। এই প্রস্তাবে প্রথম ধাপে তাৎক্ষণিক একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের রূপরেখা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এই প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে।
তবে কূটনৈতিক এই প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই কম। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, যদি দ্রুত কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে ইরানের ওপর আরও ব্যাপক সামরিক হামলা চালানো হবে।
ইরানও পাল্টা অবস্থানে কঠোর রয়েছে। এক উচ্চপর্যায়ের ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আন্তরিক না হলে ইরান কোনো ধরনের অস্থায়ী সমঝোতায় যাবে না। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টিও কোনো সাময়িক চুক্তির বিনিময়ে বিবেচনা করা হবে না।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এর ওপর নিয়ন্ত্রণ শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান ইতোমধ্যে কিছু ‘বন্ধু রাষ্ট্রের’ জাহাজকে এই পথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে এবং নিরাপত্তা ফি নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই কৌশল একটি সুপরিকল্পিত চাপ প্রয়োগের অংশ, যার মাধ্যমে তারা যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও জ্বালানি বাজারেও প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বিস্তৃত রাজনৈতিক সমাধানে বাধ্য করার চেষ্টা করছে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতি একটি জটিল কূটনৈতিক অচলাবস্থার দিকে ইঙ্গিত করছে, যেখানে একদিকে সামরিক চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে আলোচনার পথও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে স্পষ্ট যে, সাময়িক সমাধানের চেয়ে স্থায়ী সমঝোতার প্রশ্নই এখন এই সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের দুই ধাপের পরিকল্পনা, কী আছে এতে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত থামাতে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে পাকিস্তান একটি কাঠামোবদ্ধ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব সামনে এনেছে, যা কার্যকর হলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের পথ প্রশস্ত হতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, পাকিস্তান দ্রুততার সঙ্গে একটি দুই ধাপের শান্তি পরিকল্পনা উভয় পক্ষের কাছে পাঠিয়েছে। এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি এবং দ্বিতীয় ধাপে একটি বিস্তৃত ও স্থায়ী চুক্তির রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি সমঝোতা স্মারক আকারে ইলেকট্রনিকভাবে চুক্তিটি সম্পন্ন করার প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে ইসলামাবাদ নিজেকে একমাত্র মধ্যস্থতাকারী যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
এই প্রস্তাবের সময়কালও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ৪৫ দিনের একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে, যা ধাপে ধাপে একটি স্থায়ী সমাধানের দিকে অগ্রসর হতে পারে। পাকিস্তানের প্রস্তাব সেই আলোচনাকে আরও কাঠামোবদ্ধ ও ত্বরান্বিত করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগও এই উদ্যোগের গুরুত্বকে তুলে ধরছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে। এই বহুমাত্রিক কূটনৈতিক যোগাযোগ সংকট নিরসনে একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা হবে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ‘ইসলামাবাদ অ্যাকর্ড’ নামে পরিচিত হতে পারে। এই সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় প্রণালিকে কেন্দ্র করে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে এখনো পর্যন্ত এই প্রস্তাবের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান। পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করা হয়নি, যা কূটনৈতিক সংবেদনশীলতার ইঙ্গিত বহন করে।
ইরানের অবস্থানও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে নয়, বরং এমন একটি স্থায়ী সমঝোতায় আগ্রহী যেখানে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পুনরাবৃত্তি হবে না—এমন নিশ্চয়তা থাকতে হবে। পাশাপাশি তারা একাধিক আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বার্তা আদানপ্রদান চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তিতে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি আলোচনার অংশ হতে পারে।
তবে বাস্তবতা এখনো অনিশ্চিত। পাকিস্তানের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি, যদিও সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল পরিবাহিত হয়, ফলে এর অচলাবস্থা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সতর্ক করেছেন যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
-রাফসান
পাঠকের মতামত:
- এবার ভারত মহাসাগরে মার্কিন উভচর যুদ্ধজাহাজে ইরানের শক্তিশালী হামলা
- তেলের পর্যাপ্ত মজুদ আছে, আতঙ্কের কারণ নেই: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী
- ইন্ডাকশন চুলায় রান্না করেও বিদ্যুৎ বিল কমানোর ৫টি জাদুকরী উপায়
- ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা ধ্বংসের দাবি নেতানিয়াহুর
- ভ্যাকসিন কিনতে খরচ ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে ইরানের থাবা, ১৫ মার্কিন সেনা আহত
- মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা: নীরবতার বদলে জবাবদিহি দরকার
- কৌশলগতভাবে তেহরানের কাছে পরাজিত ট্রাম্প: ইরান
- আজকের টাকার রেট: ডলার ও ইউরোর সর্বশেষ বিনিময় হার জানুন
- গীতি কবিতায় বিশেষ অবদান রাখায় সম্মাননা পেলেন সিরাজিয়া পারভেজ টুটুল
- সংজ্ঞাহীন অবস্থায় মোজতবা খামেনি? ৩৯ দিন পর চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস
- ভোর ৫টার ঝটিকা অভিযান: ধানমন্ডি থেকে যেভাবে ধরা পড়লেন শিরীন শারমিন
- কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য: বাহরাইনে বাজছে বিপদের সাইরেন, নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে মানুষ
- সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সংসদ: ডাবল শিফট অধিবেশনে ১৩৩ বিলের লড়াই
- মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে
- সোনার বাজারে আগুন, ভরি ছাড়াল যত
- এক রাতের মধ্যেই ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার হুমকি ট্রাম্পের
- আজ ঢাকায় কোথায় কী কর্মসূচি, জানুন এক নজরে
- নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, সময় মেনে ইবাদত করুন
- এক রাতে তিন বড় ম্যাচ, টিভিতে আজকের যত খেলা
- ঢাকাসহ ১৩ জেলায় ঝড়ের সতর্কবার্তা
- ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন সূচনা, ভারত সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইরানের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় এশিয়ার দেশগুলো
- গভীর রাতে সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিন আটক
- চার ঘণ্টায় ইরান অচল করার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
- কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা, আহত ১৫ মার্কিন সেনা
- টঙ্গীর মিলগেট বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ও তেলের বাজার: নতুন অর্থনৈতিক সংকটের মুখে বিশ্ব
- চাঁদের ‘অন্ধকার অংশ’ দেখতে যাচ্ছে মানুষ: ৫০ বছর পর প্রথম রোমাঞ্চকর যাত্রা
- মঙ্গলবার সকালে বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- হাইফায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে লণ্ডভণ্ড ইসরায়েল
- সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, স্থায়ী সমাধান চাই: যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত জানাল ইরান
- তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর নতুন মোড়: ৩ জনের ডিএনএ টেস্টের নির্দেশ
- সংস্কার থেকে সরে এলে আবারও চব্বিশ হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ
- পর্দার আড়ালে কী ঘটেছিল? এপস্টেইন নথিতে জিজি হাদিদের নাম
- লালমাইতে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই ৩ বসতঘর
- নর্দমা থেকে ফ্যাসিবাদ তুলে আনার চেষ্টা রুখে দেবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান
- সিসিটিভি ফুটেজে ফাঁস: ইসরায়েলের পারমাণবিক নকশা কি ইরানের হাতে?
- হরমুজ সংকট নিরসনে একটি শর্ত দিল ইরান
- খেলাপি ঋণের পাহাড়: সাড়ে ৫ লাখ কোটির তথ্য দিলেন আমির খসরু
- একনেকের প্রথম বৈঠক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ৬ প্রকল্প অনুমোদন
- সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশনের ঈদ পুনর্মিলনী ও কৃতী শিক্ষার্থী সম্মাননা অনুষ্ঠিত
- আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- আজকের শেয়ারবাজারে কারা সবচেয়ে বেশি লোকসানে
- আজকের বাজারে কারা এগিয়ে, দেখুন শীর্ষ তালিকা
- যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের দুই ধাপের পরিকল্পনা, কী আছে এতে
- ১৮ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে হাহাকার, লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত
- সতর্ক হোন! ডায়াবেটিসের এই লক্ষণগুলো অবহেলা করলে বাড়ছে বড় ঝুঁকি
- ফুটবল বিশ্বকে চমকে দেওয়া আল্টিমেটাম: বিশ্বকাপে কি দেখা যাবে না ইরানকে?
- মধ্যপ্রাচ্যে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব: শান্তির পথে কি হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?
- সোনায় সোহাগা নয়, আগুনের ছোঁয়া! ভরিতে নতুন রেকর্ড উচ্চতা
- ভারতের বিপক্ষে মহাযুদ্ধ! কাল সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের মেগা ফাইনাল
- স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ভরিতে বেড়েছে যত
- ৩১ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ইরানের পক্ষে লড়বে চেচেন যোদ্ধারা! কাদিরভ বাহিনীর ‘জিহাদ’ ঘোষণা
- কালিগঞ্জে কাটুনিয়া রাজবাড়ী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহাব চূড়ান্ত বরখাস্ত
- চীনের ৫ দফা প্রস্তাব! ইরান যুদ্ধ থামাতে বেইজিং-ইসলামাবাদ ঐতিহাসিক চুক্তি
- এক লাফে ভরিতে বাড়ল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা: স্বর্ণের বাজারে আগুন
- আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- শেষ ৪ মিনিটের ঝড়ে উড়ে গেল ক্রোয়েশিয়া! ব্রাজিলের বিধ্বংসী জয়
- ০১ এপ্রিল ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ০১ এপ্রিল ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি
- মার্কেট বন্ধের নতুন সময়সূচি! আন্তর্জাতিক সংকটে দেশের বাজারে নতুন নিয়ম
- নতুন নিয়মে সন্ধ্যার পর যেসব বিপণিবিতান খোলা থাকবে
- ৩ এপ্রিল: আজকের নামাজের সময়সূচি








