বিশেষ প্রতিবেদন

ভারতের পণ্যে উচ্চ শুল্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য সুবর্ণ সুযোগ নাকি সীমিত সম্ভাবনা?

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ০৮ ১১:৪১:৩৪
ভারতের পণ্যে উচ্চ শুল্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য সুবর্ণ সুযোগ নাকি সীমিত সম্ভাবনা?

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পাল্টা শুল্ক নীতির কারণে ভারতীয় পণ্যে উচ্চ কর আরোপ হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার রপ্তানি প্রতিযোগিতার মানচিত্র বদলে যেতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, যেটি ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ তিন পোশাক রপ্তানিকারকের মধ্যে রয়েছে, এই পরিবর্তনের ফলে উল্লেখযোগ্য সুযোগ পেতে পারে। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, এই সুযোগ স্থায়ী নাও হতে পারে যদি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা দ্রুত গড়ে তোলা না হয়।

দুই সপ্তাহ আগেও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নীতিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার বাজার-অংশ দখলের পরিকল্পনা করছিল ভারতের ব্যবসায়ীরা। তাঁদের ধারণা ছিল, এই দেশগুলোর পণ্যে বেশি শুল্ক আরোপ হবে, অথচ ভারতীয় পণ্যে তুলনামূলক কম শুল্ক বসবে। কিন্তু ৩১ জুলাইয়ের ঘোষণায় চিত্র পাল্টে যায়। ওইদিন যুক্তরাষ্ট্র কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ১৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশের পণ্যে ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করলেও ভারতীয় পণ্যে শুল্ক ধরা হয় ২৫ শতাংশ। এর মাত্র এক সপ্তাহ পর, রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির ‘শাস্তি’ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানোর ঘোষণা দেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যে মোট শুল্ক দাঁড়াচ্ছে ৫০ শতাংশে।

যদিও এই অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে ২১ দিন পর, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য পাল্টা শুল্ক ইতোমধ্যে কার্যকর হয়ে গেছে। ভারতীয় রপ্তানিকারকের জন্য এটি বড় ধাক্কা, আর বাংলাদেশের জন্য এটি সম্ভাবনার জানালা খুলে দিয়েছে।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য লাভের খাতসমূহ

শুল্ক বৃদ্ধির ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা কিছু খাতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাবেন। রপ্তানি সম্ভাবনা বেশি এমন খাতগুলো হলো:

তৈরি পোশাক (RMG) – যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের গড় শুল্ক ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে, যেখানে বাংলাদেশের গড় শুল্ক হবে ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এতে নিট ও ওভেন পোশাকে অর্ডার সরতে পারে।

হোম টেক্সটাইল – ভারত গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ২৯৩ কোটি ডলারের হোম টেক্সটাইল রপ্তানি করেছে, বাংলাদেশ মাত্র ১৫ কোটি ডলার। উচ্চমূল্যের পণ্যে অর্ডার সরার সম্ভাবনা বেশি।

কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য – উচ্চ শুল্কের কারণে ভারতীয় কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যে দাম বাড়বে, যা বাংলাদেশের জন্য সুযোগ তৈরি করবে।

চামড়াজাত পণ্য – ভারতীয় পণ্যে শুল্ক বৃদ্ধি এই খাতে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকারের সুযোগ বাড়াবে।

হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি – মূল্য প্রতিযোগিতায় ভারত পিছিয়ে পড়বে, ফলে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা বাড়তে পারে।

আসবাব – ভারত যুক্তরাষ্ট্রে ১১৫ কোটি ডলারের আসবাব রপ্তানি করেছে, বাংলাদেশ মাত্র ১ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। হাতিলসহ কয়েকটি ব্র্যান্ড সক্ষমতা বাড়ালে বাজার দখলের সুযোগ রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের সতর্কতা

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন, ট্রাম্পের এই শুল্কনীতি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নীতির পরিপন্থী। রাশিয়া, ভেনেজুয়েলা ও ইরান থেকে জ্বালানি তেল কিনলে অতিরিক্ত শুল্কের হুমকি বাংলাদেশের জন্যও উদ্বেগজনক, কারণ বাংলাদেশ রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করে। এছাড়া অন্য দেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করে রপ্তানি করলে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে অস্থিতিশীল করেছে এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল শুল্কনীতির কারণে বিদেশি ক্রেতারা তড়িঘড়ি ব্যবসা স্থানান্তর করবে এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তাই বাজার পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

সম্ভাব্য কৌশল

সম্ভাব্য বাজার কৌশলগুলোকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। সর্বপ্রথম, দ্রুত সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। বিশেষ করে পোশাক, হোম টেক্সটাইল এবং আসবাবপত্র খাতে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মানের গুণমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। এর মধ্যে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, দক্ষ জনবল প্রশিক্ষণ এবং গুণগত মান যাচাইয়ের আন্তর্জাতিক সনদপ্রাপ্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এছাড়া, সরকারি নীতি সহায়তা রপ্তানি প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি। কাঁচামাল আমদানিতে বন্ড সুবিধা নিশ্চিত করা, রপ্তানি প্রণোদনার হার বৃদ্ধি, এবং বন্দর ও লজিস্টিক অবকাঠামো উন্নয়ন এই খাতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে কাস্টমস প্রক্রিয়া দ্রুততর করা ও সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার পদক্ষেপ নিতে হবে।

বাজার গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন ও বজায় রাখা অপরিহার্য। পাশাপাশি বাজার প্রবণতা ও চাহিদার পরিবর্তন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং শুল্ক নীতির যেকোনো পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করে তার ভিত্তিতে রপ্তানি কৌশল হালনাগাদ করতে হবে।

বৈচিত্র্যকরণও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। শুধুমাত্র তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভর না করে চামড়াজাত পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি, এবং হোম ডেকর পণ্যের মতো অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে। এর ফলে একদিকে বাজারের ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে আয় বৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

সবশেষে, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের সাথে স্থায়ী সরবরাহ সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে শুধু অর্ডারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে না, বরং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। স্থায়ী ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরির জন্য নির্ভরযোগ্য ডেলিভারি, মানসম্মত পণ্য এবং প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নীতি বজায় রাখা হবে মূল চাবিকাঠি।


গ্রাম ও শহর সবখানেই ৯ শতাংশের উপরে মূল্যস্ফীতি, খরচের চাপে সীমিত আয়ের মানুষ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ২০:০২:৩২
গ্রাম ও শহর সবখানেই ৯ শতাংশের উপরে মূল্যস্ফীতি, খরচের চাপে সীমিত আয়ের মানুষ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে গত জুন মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও টানা তিন মাস ধরে তা ৯ শতাংশের ওপরেই রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। সংস্থাটির সর্বশেষ হালনাগাদ হিসাব অনুসারে, সদ্য বিদায়ী জুন মাসে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে। সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জুন মাসের ভোক্তা মূল্যসূচকের এই আনুষ্ঠানিক চিত্র প্রকাশ করেছে।

বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, এর আগের মাস অর্থাৎ মে-তে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে গত ১৬ মাসের মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি। এছাড়া টানা তিন মাস ধরে এই সূচক ৯ শতাংশের ওপরে থাকায় বাজার পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এই মূল্যস্ফীতিতে, যার ফলে সীমিত ও মধ্যবিত্ত আয়ের পরিবারগুলো তীব্র খরচের চাপে হিমশিম খাচ্ছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত এপ্রিল ও মে মাসে দেশের বাজারে দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। এরপর মে মাসের শেষ সপ্তাহে এসে এক ধাক্কায় বিদ্যুতের দামও বাড়ায় সরকার। এই দুটি খাতের দাম বৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাব বাজারে পণ্য ও সেবামূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে মূল্যস্ফীতির সামগ্রিক চাপ আরও তীব্র হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। সাধারণত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে তা পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের উৎপাদন খরচ পর্যন্ত সবকিছু বাড়িয়ে দেয়, যার চূড়ান্ত মাশুল দিতে হয় সাধারণ ভোক্তাদের।

বিবিএসের খাতভিত্তিক হিসাব অনুসারে, গত জুন মাসে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে। বর্তমানে গ্রাম কিংবা শহর—সব অঞ্চলেই সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। এর ফলে সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

/আশিক


স্বর্ণ কিনতে বাড়তি খরচ, কার্যকর নতুন মূল্যতালিকা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ০৯:৪১:১৫
স্বর্ণ কিনতে বাড়তি খরচ, কার্যকর নতুন মূল্যতালিকা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। টানা মূল্যহ্রাসের পর বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) পরপর দুই দফায় স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুসের ঘোষিত এই মূল্য সোমবারও দেশের সব অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর রয়েছে।

গত শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড)-এর দাম বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া মূল্যই এখনো বহাল রয়েছে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে ২ জুলাই বাজুস আরেক দফা মূল্য সমন্বয় করে। তখন প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে আবারও ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়ানো হয়। ফলে দুই দফা সমন্বয়ে প্রতি ভরিতে মোট ৬ হাজার ৫৯০ টাকা মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই মূল্য দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা ও কারুকাজের ধরন অনুযায়ী মেকিং চার্জ (মজুরি) পৃথকভাবে যোগ হতে পারে। যদিও স্বর্ণের নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা হবে না।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি এবং দেশীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের দাম বাড়ার সম্মিলিত প্রভাবেই স্থানীয় বাজারে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম বাড়লেও বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের কারণে বাজারে চাহিদা পুরোপুরি কমে যায় না। তবে উচ্চমূল্যের কারণে অনেক ক্রেতা এখন কেনাকাটার আগে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

-রাফসান


নির্ভরযোগ্য ডাটাই সঠিক পরিকল্পনা ও জাতীয় উন্নয়নের মূল ভিত্তি: আমির খসরু

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ২০:১০:০২
নির্ভরযোগ্য ডাটাই সঠিক পরিকল্পনা ও জাতীয় উন্নয়নের মূল ভিত্তি: আমির খসরু
ছবি : সংগৃহীত

নির্ভরযোগ্য উপাত্ত বা ডাটা সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নতুন এই উদ্যোগের ফলে মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ, ল্যাব গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি নিরাপদ এবং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে গভীরতর গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে, যা মূলত গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সরকারি ডাটা নতুন নতুন আঙ্গিকে বিশ্লেষণ করার পথ সুগম করবে।

রোববার (৫ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উল্লেখ করেন, বিবিএস নিয়মিতভাবে জাতীয় শুমারি ও মাঠপর্যায়ের জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মাইক্রোডাটা উৎপাদন করে থাকে।

এই ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে সেই সংগৃহীত ডাটা আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং গবেষণাবান্ধব উপায়ে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। ডাটা থেকে জ্ঞান এবং জ্ঞান থেকে সামগ্রিক উন্নয়ন—এই মূল লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিবিএস মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব আগামী দিনে উপাত্ত-ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এই বিশেষ ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে সরকারি ডাটা ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার জন্য মন্ত্রী বিবিএস কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

উক্ত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, দেশের শিক্ষার্থী, গবেষক, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের জন্য বিবিএসে স্থাপিত এই মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব একটি সম্পূর্ণ নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। এর মাধ্যমে উন্নত গবেষণা ও টেকসই নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে জাতীয় ডাটার ব্যবহার আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি কার্যকর ও ফলপ্রসূ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই সভা শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিবিএসের প্রধান কার্যালয়ে নবস্থাপিত মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন। এই মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাবটি মূলত বিবিএসের একটি নিরাপদ অনসাইট গবেষণা সুবিধা, যার মাধ্যমে সরকারের অনুমোদিত শিক্ষার্থী, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীরা জাতীয় শুমারি ও বিভিন্ন জরিপসমূহের নাম-পরিচয়বিহীন মাইক্রোডাটা গভীরভাবে বিশ্লেষণের সুযোগ পাবেন। ল্যাবটি দেশের উচ্চতর গবেষণা, থিসিস, নীতি বিশ্লেষণ, সরকারি কর্মসূচি মূল্যায়ন এবং প্রমাণভিত্তিক সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়নে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।

/আশিক


টানা দুই দফা দাম বৃদ্ধি, কোথায় থামবে স্বর্ণের বাজার

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ১১:৩৫:৩৪
টানা দুই দফা দাম বৃদ্ধি, কোথায় থামবে স্বর্ণের বাজার
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। টানা দুই দফা মূল্যহ্রাসের পর এবার পরপর দুই দফা দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সমন্বয়ের ফলে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বেড়ে পৌঁছেছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকায়, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সর্বোচ্চ মূল্য।

বাজুসের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে মাত্র এক দিন আগে, ২ জুলাই, একই ধরনের আরেক দফা মূল্য সমন্বয়ে প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। ফলে মাত্র দুই দফা সমন্বয়েই প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম মোট ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বেড়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড)-এর মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবই সরাসরি খুচরা বাজারে প্রতিফলিত হয়েছে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে ২ জুলাই কার্যকর হওয়া মূল্যতালিকায় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। তখন ২১ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের মূল্য ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয় বৃদ্ধি এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ার প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়ছে। একই সঙ্গে ডলারের বিনিময় হার ও আমদানি-সংক্রান্ত ব্যয়ও মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম বাড়লেও বিয়ের মৌসুম, উৎসব এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের কারণে স্বর্ণের চাহিদা পুরোপুরি কমে যায় না। তবে উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের একটি অংশ অপেক্ষা-দেখার কৌশল গ্রহণ করছেন।

বাজুস আরও জানিয়েছে, পরবর্তী কোনো ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই নতুন মূল্যই দেশের সব অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ডিজাইনভেদে মজুরি যুক্ত হতে পারে। ভ্যাট নতুন দামের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা হবে না।

-রাফসান


মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের এক সিদ্ধান্তেই আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে বড় ধসের শঙ্কা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৪ ২০:১৩:২৪
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের এক সিদ্ধান্তেই আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে বড় ধসের শঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ধারণার চেয়েও বড় আকারে কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক প্রভাবশালী বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান তাদের সাম্প্রতিক এক বিশেষ অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ যদি সুদের হার আরও বাড়িয়ে দেয়, তবে সোনা বা এই জাতীয় অনুৎপাদনশীল ধাতুর বাজারে বড় ধরনের ধস বা চাপ তৈরি হতে পারে। মূলত সুদের হার বেশি থাকলে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা সোনার চেয়ে অন্যান্য লাভজনক ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বেশি পছন্দ করেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে স্বর্ণবাজারে।

বিশ্বের প্রধান প্রধান খাতগুলো থেকে সোনার চাহিদা আশানুরূপ না হওয়ায় দাম বৃদ্ধির আগের লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেকটাই সরে এসেছে জেপি মরগান। নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৩০০ ডলার এবং চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ৪ হাজার ৫০০ ডলার হতে পারে। অথচ গত ৯ জুনের এক পূর্বাভাসে ব্যাংকটি জানিয়েছিল, বছরের শেষ নাগাদ সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৬ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে। নতুন মূল্যায়নে সেই অবস্থান থেকে তারা বড় অঙ্কে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছে।

অবশ্য এই নেতিবাচক পূর্বাভাসের মধ্যেই শুক্রবার (৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৪ দশমিক ২১ ডলারে লেনদেন হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি সপ্তাহে ধাতুটির দাম সামগ্রিকভাবে ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

সাময়িক ওঠানামা এবং নিকট অতীতে দাম কমার বড় ঝুঁকি থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে সোনার বাজার নিয়ে এখনও আশাবাদী জেপি মরগান। ব্যাংকটি জানিয়েছে, ২০২৭ সাল নাগাদ বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনার প্রবণতা এবং বাজারে বাস্তব চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই স্বর্ণবাজার আবারও বেশ শক্তিশালীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।

সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেরও নতুন পূর্বাভাস দিয়েছে জেপি মরগান। তাদের মতে, আগামী দিনগুলোতে প্রতি আউন্স রুপার গড় দাম ৬০ থেকে ৬৫ ডলার হতে পারে। এছাড়া ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্ল্যাটিনামের দাম আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৮০০ ডলার এবং ২০২৭ সালে তা ১ হাজার ৯check৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, প্যালাডিয়ামের দাম ২০২৬ সাল নাগাদ আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৩৫০ ডলার হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

/আশিক


আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত ভরি

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৪ ১০:০৮:১৮
আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত ভরি
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ মূল্য পুনর্নির্ধারণের পর শনিবারও দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নতুন দরেই স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দামের ঊর্ধ্বগতি এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার (পিওর গোল্ড ও পিওর সিলভার) দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

বাজুসের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ মূল্য। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা।

গত ৩ জুলাই প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণ ও রুপার মূল্যবৃদ্ধির কারণে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন মূল্য কার্যকর করা হয়েছে। ওই দিন সকাল ১০টা থেকেই সংশোধিত দর কার্যকর হয় এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য বহাল থাকবে।

শুধু স্বর্ণ নয়, একইসঙ্গে রুপার দামও বৃদ্ধি করেছে বাজুস। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৩৩ টাকা।

সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে, স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই সরকার নির্ধারিত ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফলে গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। তবে অলঙ্কারের নকশা, কারুকাজ ও ডিজাইনের ধরন অনুযায়ী মজুরি পৃথকভাবে প্রযোজ্য হবে। এছাড়া অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ বা পুরোনো স্বর্ণ-রুপা বিক্রির ক্ষেত্রে বাজুসের বিদ্যমান নীতিমালাই বহাল থাকবে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাত্র একদিন আগেও স্বর্ণের দাম ছিল তুলনামূলক কম। গত ২ জুলাই বাজুস ভরিপ্রতি ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করেছিল। এরপর আবারও নতুন সমন্বয়ের মাধ্যমে একদিনের ব্যবধানে আরও ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাম বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছে। একই সময়ে রুপার দামও ভরিতে ১১৭ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম মোট ৮৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩ বার দাম বেড়েছে, ৪২ বার কমেছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অর্থাৎ চলতি বছরে প্রায় সমানসংখ্যকবার দাম ওঠানামা করলেও সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাই বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, রুপার দামও এ বছর ৫৩ বার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২৬ বার মূল্য হ্রাস করা হয়েছে। ফলে রুপার বাজারেও অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।

গত বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম ৯৩ বার পরিবর্তন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমেছিল। একই সময়ে রুপার দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩ বার, যার মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং মাত্র ৩ বার কমেছিল।

-রফিক


আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৩ ০৯:৫৪:০৮
আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণের বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাজারে খাঁটি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সর্বশেষ ঘোষণায় প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, যা বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, কাঁচামালের মূল্য পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নিয়মিতভাবে স্বর্ণের দর সমন্বয় করা হচ্ছে, যাতে বাজারে মূল্য নির্ধারণে ভারসাম্য বজায় থাকে।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ ভ্যাটসহ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায়। একইভাবে ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন মূল্য ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণের রিজার্ভ বৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মতো নানা কারণে স্থানীয় বাজারেও দামের প্রভাব পড়ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি পেলেই তার প্রতিফলন দেশের স্বর্ণবাজারেও দেখা যায়।

তবে বাজুস স্পষ্ট করেছে, ঘোষিত মূল্য শুধুমাত্র স্বর্ণের মৌলিক দাম। অলঙ্কার কেনার ক্ষেত্রে এর সঙ্গে কারিগরি মজুরি, নকশা ব্যয় এবং প্রযোজ্য অন্যান্য চার্জ যুক্ত হতে পারে। তবে নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

-রফিক


সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে বড় ধাক্কা? জেনে নিন সঞ্চয়পত্রের নতুন নিয়ম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০২ ২০:১২:২৮
সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে বড় ধাক্কা? জেনে নিন সঞ্চয়পত্রের নতুন নিয়ম
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আর্থিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আগামী ছয় মাসের জন্য জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সরকারি ঋণ ও আর্থিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তা ফারহানা জাহান উপমা স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের পর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) সঞ্চয় অধিদপ্তর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ ও মোট বিনিয়োগের পরিমাণ বিবেচনা করে একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে শুরু করে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত সুদ বা মুনাফা পেয়ে থাকেন। বৃহস্পতিবার সরকারের নেওয়া সবশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একজন বিনিয়োগকারী সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে আগের মতোই সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ সুদ পাবেন, যা বিনিয়োগের মেয়াদ ও স্কিম অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হবে।

এর আগে, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর সঞ্চয় অধিদপ্তর সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, যা চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। সেই স্থগিত হওয়া প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জানুয়ারি-জুন মেয়াদে সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা বা এর কম বিনিয়োগের বিপরীতে সর্বোচ্চ মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। কিন্তু সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সঞ্চয়পত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে—এমন আশঙ্কায় মাত্র চার দিন পর, অর্থাৎ ৪ জানুয়ারি সেই প্রজ্ঞাপনটি স্থগিত করা হয়। ফলে জানুয়ারি-জুন মেয়াদেও আগের হারেই সুদ বহাল থাকে এবং এখন জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের জন্যও তা অপরিবর্তিত রাখা হলো। বর্তমানে সরকার প্রতি ছয় মাস পরপর সঞ্চয়পত্রের সুদহার পুনর্নির্ধারণ করে আসছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রের সুদের হার

পরিবার সঞ্চয়পত্র

এই স্কিমে সর্বোচ্চ মুনাফার হার আগের মতোই ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ বহাল থাকছে। তবে বিনিয়োগের পরিমাণ সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি হলে সুদের হার হবে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। উল্লেখ্য, সঞ্চয় স্কিমগুলোর মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্রই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়।

বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র

পাঁচ বছর মেয়াদি এই সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে সুদের হার আগের মতোই ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ থাকছে। আর সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই হার ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ।

তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র: এই স্কিমে সাড়ে সাত লাখ টাকার কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সুদের হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ হলে তা ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডাকঘর সঞ্চয়পত্র

তিন বছর মেয়াদি এই সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সুদের হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ বহাল থাকছে।

নিয়ম অনুযায়ী, একক বা যৌথভাবে সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে এক ধরনের সর্বোচ্চ সুদহার পাওয়া যায়, তবে বিনিয়োগের পরিমাণ সাড়ে সাত লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেলে সুদের হার কিছুটা কমে আসে। সরকার প্রতি ছয় মাস পরপর নতুন সুদহার ঘোষণা করলেও নিয়ম হলো—সুদহার যখনই বদলাুক না কেন, গ্রাহক যখন যে স্কিমে বিনিয়োগ করবেন, সেটির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কেনার সময়কার পুরোনো সুদহারই বহাল থাকবে।

/আশিক


স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন মূল্য

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০২ ১০:৩১:৫৯
স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন মূল্য
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। টানা দুই দফা মূল্যহ্রাসের পর এবার স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, যা বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের প্রবণতা, কাঁচা স্বর্ণের আমদানি ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী কোনো নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য কার্যকর থাকবে। তবে স্বর্ণালঙ্কারের নকশা, কারুকাজ ও প্রস্তুতপ্রণালীর ওপর নির্ভর করে মজুরি পৃথকভাবে যুক্ত হবে। এছাড়া প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারেও প্রতিফলিত হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক স্পট গোল্ডের মূল্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয়, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে স্থানীয় বাজারে নিয়মিত মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজন হচ্ছে।

চলতি বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এটি স্বর্ণের দামের ৮৫তম সমন্বয়। এর মধ্যে ৪২ দফা দাম বৃদ্ধি, ৪২ দফা দাম হ্রাস এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অর্থাৎ, ২০২৬ সালে স্বর্ণবাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যহ্রাস প্রায় সমান হারে ঘটেছে, যা বাজারের উচ্চ অস্থিরতারই প্রতিফলন।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: