বিশেষ প্রতিবেদন

ভারতের পণ্যে উচ্চ শুল্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য সুবর্ণ সুযোগ নাকি সীমিত সম্ভাবনা?

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ০৮ ১১:৪১:৩৪
ভারতের পণ্যে উচ্চ শুল্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য সুবর্ণ সুযোগ নাকি সীমিত সম্ভাবনা?

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পাল্টা শুল্ক নীতির কারণে ভারতীয় পণ্যে উচ্চ কর আরোপ হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার রপ্তানি প্রতিযোগিতার মানচিত্র বদলে যেতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, যেটি ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ তিন পোশাক রপ্তানিকারকের মধ্যে রয়েছে, এই পরিবর্তনের ফলে উল্লেখযোগ্য সুযোগ পেতে পারে। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, এই সুযোগ স্থায়ী নাও হতে পারে যদি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা দ্রুত গড়ে তোলা না হয়।

দুই সপ্তাহ আগেও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নীতিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার বাজার-অংশ দখলের পরিকল্পনা করছিল ভারতের ব্যবসায়ীরা। তাঁদের ধারণা ছিল, এই দেশগুলোর পণ্যে বেশি শুল্ক আরোপ হবে, অথচ ভারতীয় পণ্যে তুলনামূলক কম শুল্ক বসবে। কিন্তু ৩১ জুলাইয়ের ঘোষণায় চিত্র পাল্টে যায়। ওইদিন যুক্তরাষ্ট্র কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ১৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশের পণ্যে ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করলেও ভারতীয় পণ্যে শুল্ক ধরা হয় ২৫ শতাংশ। এর মাত্র এক সপ্তাহ পর, রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির ‘শাস্তি’ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানোর ঘোষণা দেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যে মোট শুল্ক দাঁড়াচ্ছে ৫০ শতাংশে।

যদিও এই অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে ২১ দিন পর, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য পাল্টা শুল্ক ইতোমধ্যে কার্যকর হয়ে গেছে। ভারতীয় রপ্তানিকারকের জন্য এটি বড় ধাক্কা, আর বাংলাদেশের জন্য এটি সম্ভাবনার জানালা খুলে দিয়েছে।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য লাভের খাতসমূহ

শুল্ক বৃদ্ধির ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা কিছু খাতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাবেন। রপ্তানি সম্ভাবনা বেশি এমন খাতগুলো হলো:

তৈরি পোশাক (RMG) – যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের গড় শুল্ক ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে, যেখানে বাংলাদেশের গড় শুল্ক হবে ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এতে নিট ও ওভেন পোশাকে অর্ডার সরতে পারে।

হোম টেক্সটাইল – ভারত গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ২৯৩ কোটি ডলারের হোম টেক্সটাইল রপ্তানি করেছে, বাংলাদেশ মাত্র ১৫ কোটি ডলার। উচ্চমূল্যের পণ্যে অর্ডার সরার সম্ভাবনা বেশি।

কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য – উচ্চ শুল্কের কারণে ভারতীয় কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যে দাম বাড়বে, যা বাংলাদেশের জন্য সুযোগ তৈরি করবে।

চামড়াজাত পণ্য – ভারতীয় পণ্যে শুল্ক বৃদ্ধি এই খাতে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকারের সুযোগ বাড়াবে।

হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি – মূল্য প্রতিযোগিতায় ভারত পিছিয়ে পড়বে, ফলে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা বাড়তে পারে।

আসবাব – ভারত যুক্তরাষ্ট্রে ১১৫ কোটি ডলারের আসবাব রপ্তানি করেছে, বাংলাদেশ মাত্র ১ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। হাতিলসহ কয়েকটি ব্র্যান্ড সক্ষমতা বাড়ালে বাজার দখলের সুযোগ রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের সতর্কতা

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন, ট্রাম্পের এই শুল্কনীতি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নীতির পরিপন্থী। রাশিয়া, ভেনেজুয়েলা ও ইরান থেকে জ্বালানি তেল কিনলে অতিরিক্ত শুল্কের হুমকি বাংলাদেশের জন্যও উদ্বেগজনক, কারণ বাংলাদেশ রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করে। এছাড়া অন্য দেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করে রপ্তানি করলে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে অস্থিতিশীল করেছে এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল শুল্কনীতির কারণে বিদেশি ক্রেতারা তড়িঘড়ি ব্যবসা স্থানান্তর করবে এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তাই বাজার পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

সম্ভাব্য কৌশল

সম্ভাব্য বাজার কৌশলগুলোকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। সর্বপ্রথম, দ্রুত সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। বিশেষ করে পোশাক, হোম টেক্সটাইল এবং আসবাবপত্র খাতে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মানের গুণমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। এর মধ্যে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, দক্ষ জনবল প্রশিক্ষণ এবং গুণগত মান যাচাইয়ের আন্তর্জাতিক সনদপ্রাপ্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এছাড়া, সরকারি নীতি সহায়তা রপ্তানি প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি। কাঁচামাল আমদানিতে বন্ড সুবিধা নিশ্চিত করা, রপ্তানি প্রণোদনার হার বৃদ্ধি, এবং বন্দর ও লজিস্টিক অবকাঠামো উন্নয়ন এই খাতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে কাস্টমস প্রক্রিয়া দ্রুততর করা ও সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার পদক্ষেপ নিতে হবে।

বাজার গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন ও বজায় রাখা অপরিহার্য। পাশাপাশি বাজার প্রবণতা ও চাহিদার পরিবর্তন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং শুল্ক নীতির যেকোনো পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করে তার ভিত্তিতে রপ্তানি কৌশল হালনাগাদ করতে হবে।

বৈচিত্র্যকরণও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। শুধুমাত্র তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভর না করে চামড়াজাত পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি, এবং হোম ডেকর পণ্যের মতো অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে। এর ফলে একদিকে বাজারের ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে আয় বৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

সবশেষে, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের সাথে স্থায়ী সরবরাহ সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে শুধু অর্ডারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে না, বরং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। স্থায়ী ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরির জন্য নির্ভরযোগ্য ডেলিভারি, মানসম্মত পণ্য এবং প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নীতি বজায় রাখা হবে মূল চাবিকাঠি।


ফেডের সিদ্ধান্তের আগে ডলারের সূচকে পতন, স্বর্ণের বাজারে নতুন মোড়

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ২১:৩০:৫৭
ফেডের সিদ্ধান্তের আগে ডলারের সূচকে পতন, স্বর্ণের বাজারে নতুন মোড়
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রত্যাশার চেয়ে কম কর্মসংস্থান সৃষ্টির চিত্র সামনে আসায় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার পুনরায় বৃদ্ধির সম্ভাবনা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাবে শুক্রবার (২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি মন্থর হওয়ার তথ্য প্রকাশের পরপরই মার্কিন ডলারের সূচক সূচকে পতন ঘটে, যা বৈশ্বিক পুঁজিবাজার ও স্বর্ণে বড় প্রভাব ফেলেছে।

আন্তর্জাতিক সিএমই ফেডওয়াচ টুলের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, চলতি মাসে ফেড কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন মাত্র ১৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তথ্য প্রকাশের পূর্বে ছিল ২৮ শতাংশ এবং চলতি সপ্তাহের শুরুতে যা প্রায় ৭০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা কমায় ডলারের মান দুর্বল হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম পুনর্বহাল বা ঊর্ধ্বমুখী ধারা ফিরিয়ে আনতে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। যদিও গত ফেব্রুয়ারির শেষে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দীর্ঘমেয়াদি সুদের হারের আশঙ্কায় বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দর সার্বিকভাবে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছিল, তবে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে স্বর্ণের পাশাপাশি রুপা, প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মতো অন্যান্য ধাতুর দামেও ব্যাপক উল্লম্ফন দেখা গেছে।

এদিকে বৈশ্বিক বাজারের প্রভাবে দেশের বাজারেও মূল্যবান এই ধাতুর দাম উঁচুতে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি কর্তৃক নির্ধারিত নতুন দর অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের গহনা কিনতে ভ্যাটসহ ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা গুনতে হচ্ছে। এছাড়া ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনা ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

/আশিক


এলপিজি আমদানি পর্যাপ্ত, তবু ১৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২৯০০: গ্যাস গেল কোথায়?

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০১ ২৩:৩৫:১৬
এলপিজি আমদানি পর্যাপ্ত, তবু ১৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২৯০০: গ্যাস গেল কোথায়?

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) আমদানিতে দৃশ্যত কোনো ঘাটতি নেই। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর, টানা দুই মাসেই চাহিদা মেটানোর মতো এলপিজি দেশে এসেছে। অথচ খুচরা বাজারে তৈরি হয়েছে তীব্র সংকট। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত এক হাজার ৫৮৫ টাকার ১২ কেজির সিলিন্ডার কোথাও কোথাও বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ৯০০ টাকায়। অনেক দোকানে আবার ক্রেতাকে বলা হচ্ছে, সিলিন্ডারই নেই।

আমদানি স্বাভাবিক থাকার পরও বাজারে এমন পরিস্থিতি কেন, সেই প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে আসছে সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে মজুত, অতিরিক্ত মুনাফার চেষ্টা এবং আসন্ন মূল্য ঘোষণাকে ঘিরে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কা। তবে এর দায় কার, তা নিয়ে অপারেটর, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা একে অপরের দিকে আঙুল তুলছেন।

দুই মাসে ৩ লাখ ১৩ হাজার টন আমদানি, তবু সংকট কেন?

বিইআরসির তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে দেশে প্রায় এক লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। আগস্টে আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় এক লাখ ৫৭ হাজার টন। অর্থাৎ দুই মাসে মোট প্রায় তিন লাখ ১৩ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে।

এই পরিসংখ্যান বিবেচনায় আমদানি ঘাটতির কারণে বাজারে বর্তমান সংকট হওয়ার কথা নয় বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

বিইআরসি সাধারণত প্রতি মাসের ২ তারিখে এলপিজির নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম ঘোষণার ঠিক আগে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রশ্ন উঠেছে, পরবর্তী মাসে দাম বাড়তে পারে এমন প্রত্যাশা থেকে কোনো পর্যায়ে সিলিন্ডার আটকে রাখা হচ্ছে কি না।

বিইআরসির সদস্য (গ্যাস) মো. মিজানুর রহমানও বলেছেন, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর দুই মাসেই পর্যাপ্ত এলপিজি আমদানি হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি থাকার কথা নয়।

তার মতে, মাসের শেষ দিকে কোনো কোনো ব্যবসায়ী মনে করতে পারেন, সামনে দাম বাড়লে বর্তমান মজুত পরে বিক্রি করলে বেশি লাভ হবে। যদিও পরবর্তী মাসে দাম বাড়বে নাকি কমবে, তা আগে থেকে নিশ্চিত নয়। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস (Saudi CP), জাহাজ ভাড়াসহ কয়েকটি উপাদানের ওপর দেশের এলপিজির মূল্য নির্ভর করে।

১,৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২,৯০০ টাকা

বাজারের বাস্তবতা অবশ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত মূল্য থেকে অনেক দূরে। ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য এক হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তা দুই হাজার ৭০০, দুই হাজার ৮০০ এমনকি দুই হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ নির্ধারিত দামের তুলনায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্রেতাকে প্রায় ৮৩ শতাংশ বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, বেশি দাম দিয়েও সব জায়গায় সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো বিক্রেতা দোকান বন্ধ রাখছেন। আবার কোনো দোকানে প্রথমে ‘সিলিন্ডার নেই’ বলা হলেও বেশি দাম দিতে রাজি হলে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ভোক্তারা।

রাজধানীর আজিমপুরের বাসিন্দা সোনিয়া পারভীন জানান, আগে এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে যে সিলিন্ডার কেনা যেত, এখন সেটির জন্য দুই হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ৯০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। তার অভিযোগ, দোকানে প্রথমে সিলিন্ডার নেই বলা হলেও বেশি দাম দিলে তা পাওয়া যাচ্ছে।

কলাবাগানের বাসিন্দা মো. আমিনুরের অভিজ্ঞতাও একই। বাসাবাড়িতে নিয়মিত পাইপলাইনের গ্যাস না থাকায় রান্নার জন্য এলপিজির ওপর নির্ভর করতে হয় তাকে। এখন রান্নার গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় অন্যান্য নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে পরিবারের ওপর নতুন আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তারাও কিনছেন চড়া দামে

অস্বাভাবিক দামের জন্য শুধু খুচরা বিক্রেতাদের দায়ী করতে নারাজ ব্যবসায়ীরা।

হাতিরপুলের এক খুচরা বিক্রেতা ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার ৯০০ টাকা দাবি করে বলেন, তারাই দুই হাজার ৭০০ থেকে দুই হাজার ৮০০ টাকায় সিলিন্ডার কিনছেন। ফলে কিছু লাভ রেখে বিক্রি করতে গেলে দুই হাজার ৯০০ টাকা নিতে হচ্ছে।

ধানমন্ডির আরেক খুচরা ব্যবসায়ীর দাবি, মূল সমস্যা ডিলার পর্যায়ে। ডিলারদের কাছ থেকে নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। ফলে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে সিলিন্ডারই পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দোকান বন্ধ রেখেও কর্মচারীদের বেতনসহ অন্যান্য খরচ বহন করতে হচ্ছে।

এখানেই তৈরি হয়েছে সরবরাহ শৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আমদানি যদি পর্যাপ্ত হয় এবং অপারেটর পর্যায়েও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, তাহলে ডিলার ও খুচরা পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই সিলিন্ডারের দাম এতটা বেড়ে যাচ্ছে কীভাবে?

অপারেটরদের দাবি, সমস্যা খুচরা বাজারে

বাংলাদেশ এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (লোয়াব) সভাপতি এবং ডেল্টা এলপি গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক অবশ্য সংকটের জন্য খুচরা পর্যায়কে দায়ী করেছেন।

তার দাবি, এলপিজি আমদানি কমেনি। খুচরা বিক্রেতাদের একটি অংশ বাজারে সমস্যা তৈরি করছেন। প্রশাসন কয়েকদিন কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনা করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলেও মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, কোনো এলপিজি অপারেটর নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করলে এবং তার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের লাইসেন্স বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা ডিলার পর্যায়েই বেশি দাম দিচ্ছেন। ফলে সংকটের উৎস নিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।

নতুন দাম ঘোষণার আগে মজুতের আশঙ্কা

বিইআরসির কর্মকর্তাদের বক্তব্যে আরেকটি সম্ভাব্য কারণ সামনে এসেছে। প্রতি মাসের ২ তারিখে নতুন মূল্য ঘোষণার আগে বাজারের কোনো কোনো অংশে সিলিন্ডার ধরে রাখার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

পরবর্তী মূল্য যদি বাড়ে, তাহলে বর্তমান মজুত নতুন ও বেশি দামে বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা করা সম্ভব। ফলে মূল্য ঘোষণার ঠিক আগের কয়েকদিন বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অর্থনৈতিক প্রণোদনা থাকে।

তবে বিইআরসি বলছে, নতুন দাম বাড়বে না কমবে, সেটি আগেভাগে নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক বাজারের সৌদি সিপি, পরিবহন ব্যয় এবং অন্যান্য মূল্য উপাদানের ভিত্তিতে নতুন দাম নির্ধারিত হয়।

বিইআরসি বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে। এর আগে বাজার মনিটরিংয়ের জন্য গঠিত কমিটিকেও আবার সক্রিয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের বাজার তদারকি করতে বলা হয়েছে।

ক্যাবের প্রশ্ন, ব্যবস্থা কোথায়?

ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা অবশ্য শুধু বাজার মনিটরিংয়ের আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলমের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির দায় বিইআরসি এড়াতে পারে না।

তার বক্তব্য, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত মূল্য অমান্য করে যারা অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু কার্যকর প্রয়োগ না থাকায় ভোক্তাদের অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে।

পাইপলাইনে গ্যাস নেই, এলপিজিতেও স্বস্তি নেই

বর্তমান সংকটের সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে সাধারণ পরিবারের ওপর। রাজধানীর বহু এলাকায় পাইপলাইনে নিয়মিত গ্যাস পাওয়া যায় না। ফলে রান্নার জন্য এলপিজি এখন অনেক পরিবারের বিকল্প নয়, বরং অপরিহার্য জ্বালানি।

এমন পরিস্থিতিতে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য নির্ধারিত দামের চেয়ে এক হাজার থেকে এক হাজার ৩০০ টাকারও বেশি অতিরিক্ত ব্যয় করতে হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজেটে বড় ধাক্কা লাগে।

বিশেষ করে খাদ্যসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের মধ্যে রান্নার জ্বালানির এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তাদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে।

আমদানি আছে, তাহলে গ্যাস কোথায়?

এলপিজি বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই শুধু ‘সংকট’ শব্দটি দিয়ে সমস্যার ব্যাখ্যা করা কঠিন। কারণ আমদানির পরিসংখ্যান বলছে দেশে পর্যাপ্ত এলপিজি এসেছে। অপারেটররাও বলছেন আমদানিতে সমস্যা নেই। অথচ খুচরা বিক্রেতারা বলছেন তারা সিলিন্ডার পাচ্ছেন না অথবা অনেক বেশি দামে কিনছেন। অন্যদিকে ভোক্তারা নির্ধারিত মূল্যের প্রায় দ্বিগুণ দাম দিয়েও সিলিন্ডার পেতে হিমশিম খাচ্ছেন।

ফলে এখন মূল প্রশ্ন হচ্ছে, আমদানি থেকে অপারেটর, ডিলার, পরিবেশক হয়ে খুচরা বাজার পর্যন্ত সরবরাহ শৃঙ্খলের ঠিক কোন পর্যায়ে স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে?

বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য থাকার পরও যদি ভোক্তার কাছে তা না পৌঁছায়, তাহলে শুধু নতুন মূল্য ঘোষণা কিংবা সাময়িক অভিযান দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে কি না, সেই প্রশ্নও থেকে যাচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে মূল্য ও মজুতের তথ্য নজরদারির আওতায় আনা এবং নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শেষ পর্যন্ত এর মূল্য দিতে হবে সাধারণ ভোক্তাকেই।


জ্বালানি তেলের নতুন প্রজ্ঞাপন জারি: অক্টোবর মাসের দর ঘোষণা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ৩০ ২১:৫২:০৯
জ্বালানি তেলের নতুন প্রজ্ঞাপন জারি: অক্টোবর মাসের দর ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

অক্টোবর (২০২৬) মাসের জন্য জ্বালানি তেলের বিদ্যমান মূল্য অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিশ্ববাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেপ্টেম্বর মাসে নির্ধারিত দর অনুযায়ীই আগামী ১ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিন বিক্রি করা হবে। আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত এক আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী অক্টোবর মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা দরে বিক্রি বহাল থাকবে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয় যে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে আগামী মাসজুড়েই সর্বশেষ পুনর্নির্ধারিত এই মূল্যহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দর ও জাহাজ ভাড়া (ফ্রেইট চার্জ) আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। সেই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত ২০ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে সব ধরনের তেলের দাম লিটারপ্রতি একলাফে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছিল সরকার। নতুন মাসে সেই বর্ধিত দরই আপাতত বলবৎ থাকছে।

/আশিক


ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে ব্যবসায়ীদের চাপ, বাণিজ্যমন্ত্রীর অবস্থান পরিষ্কার

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ৩০ ১৮:৩৭:৩২
ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে ব্যবসায়ীদের চাপ, বাণিজ্যমন্ত্রীর অবস্থান পরিষ্কার
ছবি : সংগৃহীত

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব এলেও কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই না করে হুট করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সার্বিক পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবেচনা করেই একটি যৌক্তিক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেবে। আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিলেটে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী এই অবস্থান পরিষ্কার করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় সরাসরি তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সাধারণ ভোক্তাদের দৈনিক খরচে। উদ্ভূত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়িক মহল থেকে নতুন করে তেলের দাম বাড়ানোর জোরালো আবেদন করা হয়েছে। এই বিষয়ে সরকারের ভাবনার কথা জানতে চাওয়া হলে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, মূল্যবৃদ্ধির অনুরোধ পেলেও সরকার কোনো তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেবে না; বরং সামগ্রিক বাজারের অবস্থা, সরবরাহ ব্যবস্থা ও জনগণের সুবিধা বিবেচনা করেই ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

একই অনুষ্ঠানে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জোর দেন যে, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়গুলোর নেতিবাচক প্রভাব যাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। এর আগে সকালে তিনি সিলেট সদরের কানিশাইল এলাকায় ‘সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে সুরমা নদীর ডানতীরের প্রতিরক্ষা কাজের শুভ উদ্বোধন করেন।

/আশিক


ডলারের দাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে নতুন টানাপোড়েন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ৩০ ১৮:২১:৫৭
ডলারের দাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে নতুন টানাপোড়েন
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এমন শঙ্কার কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম সামান্য বেড়ে চার হাজার ১৯৫ দশমিক ৫৬ ডলারে পৌঁছালেও, সেপ্টেম্বর মাসের সামগ্রিক হিসেবে এর দাম ৫ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার উঁচুতে রাখার অবস্থান বজায় রাখবে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। এতে মার্কিন ডলারের মান শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য ডলারের মাধ্যমে স্বর্ণসহ অন্যান্য ধাতু কেনা বেশ ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের মতো নিরাপদ সম্পদের আকর্ষণ কমে যায়; কারণ স্বর্ণে সরাসরি কোনো সুদ বা নির্দিষ্ট মুনাফা পাওয়া যায় না। আগামী দিনগুলোতে মার্কিন মূল্যস্ফীতির তথ্য ও ফেডের পরবর্তী নীতি সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের ভবিষ্যৎ গতিপথ। সার্বিক ধাতব বাজারে রূপার দামেও পতন দেখা গেছে, তবে বিপরীতে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম কিছুটা বৃদ্ধির মুখ দেখেছে।

/আশিক


বিইআরসির নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বাড়ল শিল্পে ব্যবহৃত জ্বালানির দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ৩০ ১৭:৫৬:০৪
বিইআরসির নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বাড়ল শিল্পে ব্যবহৃত জ্বালানির দাম
ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও ভারী শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম একলাফে লিটারপ্রতি প্রায় ১২ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলে ১১ টাকা ৯২ পয়সা বাড়িয়ে এর সংশোধিত দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৮ টাকা ৭৮ পয়সা।

আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিইআরসির এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই মূল্যবৃদ্ধির আদেশ জারি করা হয়। নির্ধারিত এই নতুন দাম বুধবার দিবাগত রাত ১২টা থেকেই সারাদেশে কার্যকর হচ্ছে।

বিইআরসি তাদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর ৩৪(৪) ও ৩৪(৬) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং রাষ্ট্রীয় তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবনার ওপর গণশুনানি ও সার্বিক তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার পরেই জ্বালানি পণ্যটির এই নতুন দাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।

/আশিক


চরম অর্থনৈতিক সংকটে ইরান, নতুন রেকর্ড স্পর্শ করল দেশটির মুদ্রা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ২১:১১:০০
চরম অর্থনৈতিক সংকটে ইরান, নতুন রেকর্ড স্পর্শ করল দেশটির মুদ্রা
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মান কমে ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তেহরানের মুক্তবাজারে ১ মার্কিন ডলারের বিনিময়মূল্য ২৫ লাখ রিয়াল অতিক্রম করে মুদ্রাবাজারে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর প্রতি ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দর ২২ লাখ রিয়ালে নেমেছিল। সেখান থেকে মাত্র ২৭ দিনের ব্যবধানে মুদ্রাটির মানে এই নজিরবিহীন পতন ঘটল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার তীব্র সামরিক সংঘাত, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্থবিরতা এবং সার্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাই স্থানীয় মুদ্রার ওপর তৈরি হওয়া এই অতিরিক্ত চাপের প্রধান কারণ বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলমান সামরিক সংঘাত শুরুর পূর্বে তেহরানের খোলা বাজারে ১ ডলারের গড় মূল্য ছিল প্রায় ১৭ লাখ রিয়াল। সংঘাত শুরুর পর গত কয়েক মাসে ধাপে ধাপে রিয়ালের দরপতন ঘটে। মঙ্গলবার লেনদেনের এই চিত্র ইরানের অর্থনীতিতে বিদ্যমান তীব্র সংকটের গভীরতা ফুটিয়ে তুলেছে। মুদ্রার মান অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়ায় দেশটির আমদানি খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি সার্বিক মূল্যস্ফীতি ও সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল


সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে ধস, ৭ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ১৯:০৪:২০
সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে ধস, ৭ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু-হু করে বাড়তে থাকায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আবারও বাড়াতে পারে—এমন জোরালো পূর্বাভাসের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বুলিয়ন বাজারে সোনার দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) একদিনেই স্পট মার্কেটে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ৩ শতাংশেরও বেশি কমে গত সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

বিশ্বখ্যাত বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সোমবার স্পট গোল্ডের দাম ৩.১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৫৫.৬৭ ডলারে, যা গত ৫ আগস্টের পর আন্তর্জাতিক বাজারে সর্বনিম্ন। একই সময়ে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার গোল্ডের দামও ৩.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৮.১০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বাড়তে থাকায় সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে পরিচিত সোনার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক চাপ তৈরি হয়েছে।

সুইস ব্যাংকিং দানব ইউবিএস (UBS)-এর প্রখ্যাত বিশ্লেষক জিওভানি স্তাউনোভা জানান, তেলের চড়া দাম এবং সুদের হার বৃদ্ধির আগাম হিসাব-নিকাশই মূলত বুলিয়ন মার্কেটের এই দরপতনের প্রধান নিয়ামক। সোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সিলভার বা রুপার দাম ৪.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬১.৩২ ডলার, প্ল্যাটিনামের দাম ২.৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৩৫.৯৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩.৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ২২৪.৩৯ ডলারে ঠেকেছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের মন্দাভাব সত্ত্বেও দেশের বাজারে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নির্ধারিত দর অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে। অলংকারের ক্ষেত্রে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৪৯১ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪ হাজার ৩১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৭৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ২ হাজার ৭৯৯ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে।

/আশিক


প্রতিযোগী দেশ টেক্কা দিতে বাজারে বিশেষ ম্যাট্রিক্স প্রণয়ন করছে বাংলাদেশ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ১৮:৫৪:১১
প্রতিযোগী দেশ টেক্কা দিতে বাজারে বিশেষ ম্যাট্রিক্স প্রণয়ন করছে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের মোট রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানি খাতে চরম তৈরি পোশাকনির্ভরতা কমিয়ে আনতে পণ্য ও বাজার—উভয় ক্ষেত্রেই বৈচিত্র্য আনতে সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার। এই লক্ষ্য অর্জনে বিশ্বের ১৮টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বাণিজ্যিক গন্তব্যের সম্ভাব্য বাজার, সেখানে উপস্থিত বাণিজ্যিক বাধা, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগী দেশগুলোর কৌশল এবং বাংলাদেশের করণীয় বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে পৃথক বাজারভিত্তিক রপ্তানি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ রপ্তানি বহুমুখীকরণ কৌশল: ১৮টি প্রধান বাণিজ্য গন্তব্যে পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশের রপ্তানি খাতকে বৈশ্বিক ধাক্কা থেকে রক্ষা করে টেকসই করতে ভৌগোলিক বাজার ও বৈচিত্র্যময় পণ্যের প্রসার নিশ্চিত করা আবশ্যক। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক উইং থেকে সংশ্লিষ্ট বাজারগুলোর বর্তমান আমদানিনীতি, বাংলাদেশের মূল প্রতিযোগী দেশের অবস্থান এবং সম্ভাবনাময় পণ্য খাত চিহ্নিত করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট ম্যাট্রিক্স অনুসরণ করে প্রণীত এই কৌশল বিদ্যমান বাজারে রপ্তানি অংশীদারত্ব বাড়াতে ও নতুন বাজারে বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশে নীতিগত সহায়তা দেবে।

কর্মশালায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আধুনিক রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে শুধু পণ্য নয়, বরং তথ্যপ্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক সেবা রপ্তানিকে সমমর্যাদায় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তিনি ফ্রিল্যান্সারদের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ভৌগোলিক নৈকট্যকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা রপ্তানি জোরদার করার পরামর্শ দেন। সভায় বিজিএমইএ, ওয়ালটন গ্রুপ, বাংলাদেশ এগ্রোপ্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন এবং ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা তৈরি পোশাকের বাইরে ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য, চামড়া ও হালকা প্রকৌশল খাতকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার বিষয়ে নিজ নিজ প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: