শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কি সম্ভব? যা আছে আইআরআইর আট দফার সুপারিশে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ০৬ ১৮:৩২:৫০
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কি সম্ভব? যা আছে আইআরআইর আট দফার সুপারিশে

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য করতে আটটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণতন্ত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)। গত বুধবার ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রকাশিত তাদের প্রাক্‌-নির্বাচনী মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এ সুপারিশগুলো উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনটি বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ গতি-প্রকৃতি, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম, রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা, এবং নাগরিক অংশগ্রহণের মাত্রা বিশ্লেষণ করে প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যেই আসন্ন নির্বাচনের জন্য বেশ কিছু ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনকালীন আচরণবিধি প্রণয়ন, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা, এবং ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্যোগ। তবে এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও আইআরআই মনে করছে, বর্তমান প্রাক্‌-নির্বাচনী পরিবেশ এখনো ভঙ্গুর ও আস্থাহীনতার মধ্যে রয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতার বিচ্ছিন্ন ঘটনা, স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থার ঘাটতি সব মিলিয়ে নির্বাচনী আস্থা পুনর্গঠনে প্রয়োজন আরও স্বচ্ছতা ও সংলাপ।

আইআরআইয়ের প্রাক্‌-নির্বাচনী মূল্যায়ন মিশনের কার্যক্রম

প্রাক্‌-নির্বাচনী এই মূল্যায়ন মিশনে অংশ নেন একদল আন্তর্জাতিক নীতি, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও গণতান্ত্রিক প্রশাসন বিশেষজ্ঞ। তাঁরা ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করেন এবং রাজধানী ঢাকাসহ একাধিক জেলায় মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। সফরের সময় তাঁরা নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধিরা, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের সদস্যদের সঙ্গে মোট ২১টি আনুষ্ঠানিক বৈঠকে ৫৯ জন অংশগ্রহণকারীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।মিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু ইতিবাচক রূপান্তর দেখা যাচ্ছে। বিশেষত, তরুণ নেতৃত্বের উত্থান, নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর আবির্ভাব, এবং বিদেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সক্রিয় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। পাশাপাশি, প্রথমবারের মতো বিপুলসংখ্যক তরুণ ভোটারের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রজন্মগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের একটি নতুন অধ্যায় সূচিত করতে পারে।

তবে প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি, নারীর সীমিত অংশগ্রহণ, উগ্রপন্থী রাজনীতির পুনরুত্থান এবং অসহিষ্ণু রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রসার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করতে পারে। আইআরআই মনে করছে, এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে জুলাই জাতীয় সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে আন্তরিক ও দায়বদ্ধ হতে হবে।

জুলাই সনদ: গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের নীলনকশা

আইআরআই প্রতিবেদনে জুলাই জাতীয় সনদকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের একটি “রূপরেখা দলিল” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এই সনদ বাস্তবায়ন হলে নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, দলীয় সংস্কারে অগ্রগতি, এবং সংসদীয় জবাবদিহি আরও জোরদার হবে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ও সংসদের কার্যকর ভূমিকার ওপর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সনদের সময়মতো বাস্তবায়ন, দলীয় নীতিতে অন্তর্ভুক্তি, এবং সংলাপ-ভিত্তিক সংস্কার প্রক্রিয়াই নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের পথ খুলে দিতে পারে। আইআরআই উল্লেখ করে, গণতন্ত্র তখনই কার্যকর হয়, যখন প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের প্রতি সহিষ্ণু থাকে এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখে।

নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ: এখনো সীমিত পরিসরে

আইআরআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ এখনো কাঠামোগতভাবে সীমিত। সংরক্ষিত আসনের বাইরে নারীরা খুব কমই প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান বা সিদ্ধান্তগ্রহণের পর্যায়ে আসতে পারেন। আইআরআই পরামর্শ দিয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীর নেতৃত্ব বিকাশে প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি চালু, মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় সমঅধিকার নিশ্চিত, এবং প্রচারণার সময় নিরাপত্তা সুরক্ষা জোরদার করতে হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নারী প্রার্থী ও প্রচারকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও সহিংসতার ঘটনা গণতন্ত্রের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রকে ব্যাহত করে। তাই নারী রাজনীতিবিদদের জন্য নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আইআরআই।

শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইআরআইয়ের আট দফা সুপারিশ

১. জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন:

রাজনৈতিক দলগুলোকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ ও প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। গণতান্ত্রিক সংস্কার ও বিতর্কিত বিষয়গুলোর সমাধানে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।২. গণভোটের কাঠামো নির্ধারণ:

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে যৌথভাবে গণভোটের জন্য আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে। গণভোটের উদ্দেশ্য, প্রক্রিয়া এবং জনগণের অংশগ্রহণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে।

৩. নাগরিক সচেতনতা ও শিক্ষা কর্মসূচি:

জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের বোঝাপড়া বাড়াতে দেশব্যাপী নাগরিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

৪. নারীর অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা:

রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীদের নেতৃত্বে আনতে, মনোনয়নে অগ্রাধিকার দিতে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে উদ্যোগ নিতে হবে।

৫. প্রার্থী বাছাইয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা:

দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া যেন গণতান্ত্রিক ও জবরদস্তিমুক্ত থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে প্রার্থী ও প্রচারকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

৬. নিরাপত্তা সমন্বয় ও সহিংসতা প্রতিরোধ:

নির্বাচন কমিশনকে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা প্রশমনে সক্রিয় নজরদারি চালাতে হবে।

৭. নাগরিক পর্যবেক্ষণে স্বচ্ছতা:

নির্বাচন কমিশনকে নাগরিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ এবং প্রত্যাখ্যানের কারণ লিখিতভাবে জানানো বাধ্যতামূলক করতে হবে। অনুমোদিত সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত তথ্য বিনিময় করতে হবে।

৮. রাজনৈতিক অর্থায়নে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা:

রাজনৈতিক দলগুলোর তহবিল সংগ্রহ, ব্যয় ও দাতাদের তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। আর্থিক অনিয়ম বা ভুল তথ্য প্রদানে কঠোর শাস্তির বিধান রাখতে হবে এবং স্বাধীন নিরীক্ষা উৎসাহিত করতে হবে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যের স্বচ্ছতা

প্রতিবেদনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আইআরআই বলেছে, সাংবাদিকদের এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যেখানে তারা রাজনৈতিক চাপ, ভয়ভীতি বা অর্থনৈতিক প্রভাব ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ব্যাহত হলে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

এছাড়া নির্বাচন কমিশন ও নাগরিক সমাজের যৌথ প্রচেষ্টায় ভোটারদের ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। আইআরআই সতর্ক করেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য বা সংগঠিত অপপ্রচার নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করতে পারে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য বড় হুমকি।

সর্বশেষে, আইআরআই বলেছে, বাংলাদেশ এখন এক সংবেদনশীল গণতান্ত্রিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। নির্বাচনের সাফল্য নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর সহনশীলতা, সংলাপ, স্বচ্ছতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ওপর। যদি এসব শর্ত পূরণ হয়, তবে ২০২৬ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।


শুভেন্দু অধিকারীর পুশব্যাক হুমকির পর বাংলাদেশ সীমান্তে কড়া নজরদারির নির্দেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ২২:০০:৩৯
শুভেন্দু অধিকারীর পুশব্যাক হুমকির পর বাংলাদেশ সীমান্তে কড়া নজরদারির নির্দেশ
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন গঠিত রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আলোচিত ও বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) কার্যকরের যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তাকে সম্পূর্ণভাবে ভারতের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তবে ওই আইনের বরাত দিয়ে সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশব্যাক (ঢালাও পুশব্যাক) বা অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড এবং দেশের সাম্প্রতিক বিভিন্ন মেগা ইস্যুতে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই নীতিগত অবস্থান ব্যক্ত করেন।

পশ্চিমবঙ্গের নতুন কট্টরপন্থী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গতকাল বুধবার (২০ মে) সিএএ-এর তালিকার বাইরে থাকা ব্যক্তিদের সরাসরি ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁদের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ‘বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স’ বা বিএসএফের (BSF) হাতে তুলে দেওয়ার যে বিতর্কিত ও উসকানিমূলক আলটিমেটাম দিয়েছেন, সংবাদ সম্মেলনে সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। এর জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করে বলেন, “এটি সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ আইনি বিষয়।

ভারতের ‘সিএএ’ (CAA) কিংবা আসামের ‘এনআরসি’ (NRC) তাদের নিজস্ব নাগরিকদের বৈধতা নির্ধারণের অভ্যন্তরীণ আইন-কানুন। সার্বভৌম দেশ হিসেবে সেখানে আমাদের কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য বা নাক গলানোর অবকাশ নেই। তবে ভারতের ভেতরের কোনো জটিলতার জেরে আমাদের দেশের সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশব্যাকের ঘটনা না ঘটতে পারে, সে জন্য বিজিবিকে (BGB) সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারি ও সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে ভারতে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতির বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, “আমরা তো সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কোনো অনানুষ্ঠানিক উপায়ে নয়, বরং সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেশে ফেরত চাই।

ইতিমধ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান অফিশিয়াল প্রত্যার্পণ চুক্তি (Extradition Treaty) অনুযায়ী তাঁকে ঢাকা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের জন্য দিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে। আমরা চাই তিনি বাংলাদেশে ফিরে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আদালতের মুখোমুখি হোন এবং নিজের সমস্ত মামলার আইনি মোকাবিলা করুন।”

/আশিক


রামিসার মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে আজ রাতেই পল্লবীর বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ২১:৫৩:১৮
রামিসার মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে আজ রাতেই পল্লবীর বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী 
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তারের শোকসন্তপ্ত মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে এবং তাঁদের গভীর সমবেদনা জানাতে আজ রাতেই সরাসরি তাঁদের পল্লবীর বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বিশ্বস্ত দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) পূর্বনির্ধারিত মন্ত্রিসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ করে রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী রামিসার পল্লবীর ভাড়া বাসায় পৌঁছাবেন।

সেখানে তিনি শোকে পাথর হয়ে যাওয়া শিশুটির মা-বাবাকে ব্যক্তিগতভাবে সান্ত্বনা দেবেন এবং এই বর্বরোচিত ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার বিষয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আশ্বস্ত করবেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুর ১১ নম্বরের বি ব্লকের একটি বহুতল ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর অবুঝ শিশু রামিসার ক্ষতবিক্ষত ও বীভৎস মরদেহ উদ্ধার করে পল্লবী থানা পুলিশ। ঘরের ভেতরের খাটের নিচ থেকে তার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরবর্তীতে বাথরুমের ভেতর থেকে প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়ানো খণ্ডিত মাথাটি উদ্ধার করা হয়। এই লোমহর্ষক ও পৈশাচিক ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর পুলিশ ও ডিবির বিশেষ দল দ্রুততম সময়ে মেগা অভিযানে নেমে প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে এবং পরবর্তীতে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মূল পলাতক ঘাতক ও পেশায় রিকশা মেকানিক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও নিবিড় তদন্তের পর, শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যার কথা পুরোপুরি স্বীকার করে ইতিমধ্যেই আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধের লোমহর্ষক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ঘাতক সোহেল রানা।

/আশিক


এক বছরেই সব স্থানীয় নির্বাচন, রক্তপাত বন্ধ করাই ইসির মূল চ্যালেঞ্জ: সিইসি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১৯:৪১:১৯
এক বছরেই সব স্থানীয় নির্বাচন, রক্তপাত বন্ধ করাই ইসির মূল চ্যালেঞ্জ: সিইসি
ছবি : সংগৃহীত

তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের ভিত মজবুত করতে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৫০০টি উপজেলা, ৬১টি জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং ৩৩০টি পৌরসভাসহ সমস্ত স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের মেগা প্রস্তুতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সামনে সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা হবে মাঠপর্যায়ের সহিংসতা ও প্রাণহানি রুখে দেওয়া।

সিইসির স্পষ্ট ভাষায়, “অতীতে স্থানীয় নির্বাচনে ব্যাপক সংঘর্ষ, শত শত মানুষের রক্তপাত ও খুনাখুনি বাংলাদেশের এক কলঙ্কজনক পুরোনো বাস্তবতা। তাই আসন্ন লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশনে যেকোনো মূল্যে মারামারি ও রক্তপাত বন্ধ করাই এখন নির্বাচন কমিশনের এক নম্বর ও প্রধান চ্যালেঞ্জ।” আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরবর্তী মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (ANFREL) এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন স্থানীয় নির্বাচনকে জাতীয় সংসদের সমমানের কঠোর ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আয়োজন করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “গণতন্ত্র কেবল জাতীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, একে একদম তৃণমূলের সাধারণ মানুষের দোরগোড়া পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হবে; কারণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি জনগণকে সেবা দেয়, তাই তৃণমূলের গণতন্ত্র সুসংহত করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

নির্বাচনকে সম্পূর্ণ রক্তপাতহীন ও শান্তিপূর্ণ করতে রাজনৈতিক দলসহ সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে কমিশন ব্যাপক সচেতনতামূলক সামাজিক কার্যক্রম চালাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সিইসি দেশের বিগত ইউনিয়ন ও উপজেলা নির্বাচনের এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী পরিসংখ্যান ও চিত্র গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল ডেটা অনুযায়ী, বিগত ২০১৬ সালের দলীয় প্রতীকের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতায় রেকর্ড ২৩৬ জন এবং ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলাকালীন দেশজুড়ে ১১৬ জন সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছিলেন।

বর্তমান নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের অধীনে এই বিপুল সংখ্যক স্থানীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং মাঠের মাস্তানতন্ত্র দমন করা কমিশনের জন্য কঠিন হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন এক তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, প্রশাসন ও সব রাজনৈতিক পক্ষের সম্মিলিত সহযোগিতা নিয়েই সহিংসতা প্রতিরোধে ইস্পাতকঠিন কাজ করবে নতুন কমিশন। তিনি আবারও দৃঢ় কণ্ঠে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ভোটের মাঠে কোনো ধরনের ক্ষমতার দাপট বা প্রাণহানি কমিশন বরদাশত করবে না এবং এটিই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

/আশিক


এক বছরেই সব স্থানীয় নির্বাচন, রক্তপাত বন্ধ করাই ইসির মূল চ্যালেঞ্জ: সিইসি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১৯:৪১:১৯
এক বছরেই সব স্থানীয় নির্বাচন, রক্তপাত বন্ধ করাই ইসির মূল চ্যালেঞ্জ: সিইসি
ছবি : সংগৃহীত

তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের ভিত মজবুত করতে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৫০০টি উপজেলা, ৬১টি জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং ৩৩০টি পৌরসভাসহ সমস্ত স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের মেগা প্রস্তুতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সামনে সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা হবে মাঠপর্যায়ের সহিংসতা ও প্রাণহানি রুখে দেওয়া।

সিইসির স্পষ্ট ভাষায়, “অতীতে স্থানীয় নির্বাচনে ব্যাপক সংঘর্ষ, শত শত মানুষের রক্তপাত ও খুনাখুনি বাংলাদেশের এক কলঙ্কজনক পুরোনো বাস্তবতা। তাই আসন্ন লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশনে যেকোনো মূল্যে মারামারি ও রক্তপাত বন্ধ করাই এখন নির্বাচন কমিশনের এক নম্বর ও প্রধান চ্যালেঞ্জ।” আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরবর্তী মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (ANFREL) এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন স্থানীয় নির্বাচনকে জাতীয় সংসদের সমমানের কঠোর ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আয়োজন করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “গণতন্ত্র কেবল জাতীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, একে একদম তৃণমূলের সাধারণ মানুষের দোরগোড়া পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হবে; কারণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি জনগণকে সেবা দেয়, তাই তৃণমূলের গণতন্ত্র সুসংহত করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

নির্বাচনকে সম্পূর্ণ রক্তপাতহীন ও শান্তিপূর্ণ করতে রাজনৈতিক দলসহ সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে কমিশন ব্যাপক সচেতনতামূলক সামাজিক কার্যক্রম চালাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সিইসি দেশের বিগত ইউনিয়ন ও উপজেলা নির্বাচনের এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী পরিসংখ্যান ও চিত্র গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল ডেটা অনুযায়ী, বিগত ২০১৬ সালের দলীয় প্রতীকের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতায় রেকর্ড ২৩৬ জন এবং ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলাকালীন দেশজুড়ে ১১৬ জন সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছিলেন।

বর্তমান নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের অধীনে এই বিপুল সংখ্যক স্থানীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং মাঠের মাস্তানতন্ত্র দমন করা কমিশনের জন্য কঠিন হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন এক তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, প্রশাসন ও সব রাজনৈতিক পক্ষের সম্মিলিত সহযোগিতা নিয়েই সহিংসতা প্রতিরোধে ইস্পাতকঠিন কাজ করবে নতুন কমিশন। তিনি আবারও দৃঢ় কণ্ঠে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ভোটের মাঠে কোনো ধরনের ক্ষমতার দাপট বা প্রাণহানি কমিশন বরদাশত করবে না এবং এটিই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

/আশিক


রামিসার খুনি ২৪ ঘণ্টাতেই গ্রেপ্তার, এবার গুরুত্ব পাচ্ছে তনু হত্যা মামলা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১৯:১৬:০১
রামিসার খুনি ২৪ ঘণ্টাতেই গ্রেপ্তার, এবার গুরুত্ব পাচ্ছে তনু হত্যা মামলা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণীর অবুঝ শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল ঘাতককে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই পৈশাচিক ঘটনার দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে নিখুঁত চার্জশিট (তদন্ত প্রতিবেদন) দাখিল করা হবে।

পাশাপাশি কুমিল্লা সেনানিবাসের তনু হত্যাকাণ্ডসহ অতীতে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকা বেশ কয়েকটি আলোচিত ও স্পর্শকাতর মেগা মামলাও বর্তমান সরকার নতুন তালিকাভুক্ত করে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুনঃতদন্ত শুরু করেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেন।

দেশের সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশি অ্যাকশন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বিএনপি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর দেশে যতোগুলো এই ধরনের ঘৃণ্য ও অমানবিক অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, তার একটিতেও পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করেনি কিংবা সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি—এমন একটা নজিরও কেউ দেখাতে পারবে না।”

পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি পুলিশের দ্রুত সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ স্বীকার করেন যে, সাধারণ জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী শতভাগ শান্তি নিশ্চিত করতে যা যা করা প্রয়োজন, সরকার তা করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে ব্যাপক গুণগত সংস্কারের চেষ্টা করছি। এখনো অনেক কিছু করা বাকি আছে, সেটি আমি অকপটে মানি; তবে দেশবাসীকে মনে রাখতে হবে যে আমাদের এই নতুন সরকারের বয়স মাত্র তিন মাস।”

এদিকে এই ধরণের পৈশাচিক অপরাধ দমনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা মৃত্যুদণ্ডের আইন কঠোর করার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক ভিন্ন ও তাত্ত্বিক অবস্থান নেন। তিনি বলেন, কোনো অপরাধের ঘটনা ঘটলেই স্রেফ আবেগতাড়িত হয়ে তাড়াহুড়ো করে নতুন আইন তৈরি বা বিশেষ আদালত গঠন করা উচিত নয়; কারণ কঠোর আইন ঢালাওভাবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক অপব্যবহারের একটা বড় ঝুঁকিও সমাজ ও রাষ্ট্রে থেকে যায়, যা বিবেচনা রাখা জরুরি।

অন্যদিকে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী সরকারের মাদরাসা নীতি এবং নাগরিকত্ব ইস্যুকে সম্পূর্ণ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরণের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক আইন মেনে ও অফিশিয়াল চ্যানেলে তাকে ফেরত চাই। ইতিমধ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক প্রত্যার্পণ চুক্তি (Extradition Treaty) অনুসারে ভারতকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে। আমরা চাই তিনি দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হয়ে নিজের সমস্ত মামলার আইনি মোকাবিলা করুন।”

/আশিক


পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল, ধীরে ধীরে ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছে সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১৮:৫৭:৪৩
পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল, ধীরে ধীরে ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছে সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস যাবৎ দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত থাকার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্থিতিশীল হওয়ায় সেনা সদস্যরা ধীরে ধীরে ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছেন এবং এখন থেকে তাঁদের মূল মনোযোগ হবে ক্যান্টনমেন্টে নিয়মিত পেশাদার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) কুমিল্লা সেনানিবাসে আয়োজিত ‘সেনাবাহিনী ফায়ারিং প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান এই গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বার্তা দেন।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই থেকে দেশের এক চরম ক্রান্তিলগ্নে ও জনস্বার্থে সেনাবাহিনী মাঠে নেমে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে। দীর্ঘ সময় ফিল্ডে ডিউটি করার পরও সেনাসদস্যরা ফায়ারিংয়ে যে অভূতপূর্ব পেশাদার দক্ষতা ও পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে ক্যান্টনমেন্টে ফিরে গিয়ে নিয়মিত কঠোর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা, সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য সদা প্রস্তুত রাখা এবং বাহিনীর ম্যুরালিটি ও ডিসিপ্লিন কঠোরভাবে বজায় রাখা। সেই প্রক্রিয়া আমরা ইতিমধ্যেই শুরু করেছি।” তবে ব্যারাকে ফিরে গেলেও বেসামরিক সরকারের প্রয়োজনে যেকোনো সময় এবং যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে রাষ্ট্রকে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ মে সদর দপ্তর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কুমিল্লা সেনানিবাসে এই ফায়ারিং প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ফরমেশন, লজিস্টিকস এরিয়া, পাঁচটি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ দেশের মোট ১৭টি শক্তিশালী দল অংশ নেয়।

এবারের প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে ১৭ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব লাভ করে এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড রানারআপ হওয়ার কৃতিত্ব দেখায়। অনুষ্ঠান শেষে সেনাপ্রধান বিজয়ী ও রানারআপ দলের সদস্যদের হাতে অফিশিয়াল ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অব দ্য অর্ডিন্যান্স (এমজিও), ৩৩ ও ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং কুমিল্লা ও সিলেট এরিয়ার কমান্ডারসহ সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


সচিবালয়ে নতুন দুই মন্ত্রীর সাথে আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক: বড় খবরের আভাস

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১৮:৩১:৪৩
সচিবালয়ে নতুন দুই মন্ত্রীর সাথে আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক: বড় খবরের আভাস
ছবি : সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত অত্যাধুনিক তৃতীয় টার্মিনালের (Third Terminal) বহুল আলোচিত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং (Ground Handling) কার্যক্রম এককভাবে পরিচালনা করতে আনুষ্ঠানিকভাবে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) ভিত্তিক বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বিমানসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডিনাটা’ (dnata)।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) সকালে সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম এবং একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠককালে এই প্রস্তাব দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলি আবদুল্লাহ আল আমৌদি।

সচিবালয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরালো করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিমান চলাচল (অ্যাভিয়েশন) ও পর্যটন খাতের সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আলোচনার একপর্যায়ে ইউএই’র রাষ্ট্রদূত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের আন্তর্জাতিক টেন্ডার ও পরিচালন প্রক্রিয়ায় দুবাই ভিত্তিক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান ‘ডিনাটা’-এর সম্পৃক্ত হওয়ার প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের নীতিগত টেবিল ও মন্ত্রীদের সামনে তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রদূতের এই সরাসরি প্রস্তাবের জবাবে বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, তৃতীয় টার্মিনালটি পুরোদমে চালু করার সমস্ত প্রস্তুতিমূলক ও কারিগরি কার্যক্রম বর্তমানে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। টার্মিনালের সমস্ত অবকাঠামোগত ও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরই মূলত সরকার আন্তর্জাতিক বিধিমালা মেনে এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আগ্রহী পক্ষগুলোকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করবে।

অন্যদিকে, মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী আফরোজা খানম জোর দিয়ে বলেন, ঢাকার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের আধুনিক ও যুগোপযোগী উদ্যোগ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। এ সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের বর্তমান নতুন সরকারের উন্নয়ন এজেন্ডার প্রশংসা করেন এবং ঢাকার সাথে আবুধাবির অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গতিশীল করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

/আশিক


ধর্ষণ ও শিশু হত্যা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, দীর্ঘদিনের নৈতিক অবক্ষয়ের ফল: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১১:৪৩:০৬
ধর্ষণ ও শিশু হত্যা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, দীর্ঘদিনের নৈতিক অবক্ষয়ের ফল: মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকা নৃশংস শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে একে সামাজিক ও নৈতিক কাঠামোর চরম ধস হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “এই বর্বরোচিত অপরাধগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং আমাদের সমাজে বহু বছর ধরে শিকড় গেড়ে বসা নৈতিক অবক্ষয়, সামষ্টিক সামাজিক দায়িত্বহীনতা এবং মানবিক মূল্যবোধের দ্রুত পতনের এক অবধারিত ও ভয়াবহ প্রতিফলন।” আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিশেষ নীতিগত বার্তায় তিনি এই সামাজিক সংকটের গভীরতা তুলে ধরেন।

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এলজিআরডি মন্ত্রীর এই ফেসবুক বার্তা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বার্তায় সরকারের কঠোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা এই অমানবিক অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বাত্মক প্রতিরোধ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে সম্পূর্ণ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

আমরা একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করব, যেখানে আমাদের প্রতিটি সন্তান কোনো ধরণের ভয় বা শঙ্কা ছাড়া স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে।” তবে এই ধরণের পৈশাচিক সামাজিক অপরাধ স্রেফ প্রশাসনিকভাবে দমন করা অসম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

বার্তাটিতে মির্জা ফখরুল আরও যোগ করেন, “এই ক্রান্তিলগ্নে শুধু কঠোর আইন প্রণয়ন বা সরকারের একক উদ্যোগ কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। এর জন্য এই মুহূর্তে প্রয়োজন একটি শক্তিশালী এবং ইস্পাতকঠিন ‘জাতীয় সামাজিক আন্দোলন’।” তিনি দল-মত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি পরিবার, বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের নাগরিককে যার যার অবস্থান থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমাদের নতুন প্রজন্ম ও ছেলেমেয়েদের পারিবারিক শিক্ষা থেকেই পারস্পরিক সম্মান, মানবিকতা, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং নারীর সর্বোচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে সুশিক্ষা দিতে হবে। এলজিআরডি মন্ত্রী দেশের আপামর জনসাধারণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অর্থই হলো সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করা। আসুন, এই অবক্ষয় রুখে দেওয়ার ও সমাজ পরিবর্তনের মহৎ সংগ্রামে আমরা সবাই একযোগে শামিল হই।”

/আশিক


রাজশাহীতে মেগা পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ঐতিহাসিক ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২০ ২১:৫৯:৩৩
রাজশাহীতে মেগা পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ঐতিহাসিক ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের তীব্র পানির সংকট মেটাতে এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজ সচল রাখতে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে একটি মেগা ‘পদ্মা ব্যারেজ’ (Padma Barrage) নির্মাণের ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছেন। সীমান্তের ওপারে বাঁধ বা ব্যারেজ তৈরি করে প্রতিবেশি দেশ বিভিন্ন কৌশলে পানি সরিয়ে নেওয়ার ফলে বাংলাদেশ যে খরা মৌসুমে চরম পানির ঘাটতিতে পড়ছে, সেই বৈষম্য দূর করতেই এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। আজ বুধবার (২০ মে) দুপুরে গাজীপুরে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, “আমরা এই পদ্মা ব্যারেজটি মূলত এই কারণেই করতে চাচ্ছি, যাতে বর্ষাকাল কিংবা খরা মৌসুম—যেকোনো সময়েই আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ এবং প্রান্তিক কৃষকেরা যেন ফসলের মাঠে ঠিক সময়ে পর্যাপ্ত পানি পায়।” ব্যারেজ নির্মাণের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক কৃষি ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সুরক্ষায় নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম মূল অঙ্গীকার ‘খাল খনন কর্মসূচি’র দৃশ্যমান অগ্রগতি তুলে ধরেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, “আমরা আলহামদুলিল্লাহ সরকার গঠন করেছি এবং ইশতেহার অনুযায়ী দেশব্যাপী মেগা খাল খনন কর্মসূচি ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছি। এই খাল খননের সাথে আমাদের দেশের কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িত; এর সাথে সরাসরি দেশের কৃষি উৎপাদন জড়িত। তাই যেকোনো মূল্যে এবং যেভাবেই হোক আমাদের এই খাল খনন কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে।”

উন্নয়ন প্রকল্পের নামে নির্বিচারে পরিবেশ ধ্বংস ও গাছ কাটার প্রচলিত সংস্কৃতির বিরুদ্ধে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, “কক্সবাজারে সমুদ্রের তীর ধরে একটি বিশেষ রাস্তা নির্মাণ (Marine Drive) হচ্ছে। সেখানে আমি নিজে দেখলাম যে রাস্তার জন্য প্রায় ৩ শতাধিক গাছ কেটে ফেলার একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে কড়া নির্দেশ দিয়েছি, যাতে পুরো রাস্তার ডিজাইন বা নকশাটি পরিবর্তন করা হয়, কিন্তু একটি গাছও যেন কাটা না পড়ে। উন্নয়ন অবশ্যই হবে, তবে গাছ ও পরিবেশ রক্ষা করে।”

এর আগে দুপুর ঠিক ২টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাজীপুরের টঙ্গীর সাতাইশ এলাকায় নবনির্মিত জাতীয় দুর্যোগ ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রতীকী হিসেবে একটি তালগাছ রোপণ করেন এবং ইনস্টিটিউটের নিজস্ব পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: