শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কি সম্ভব? যা আছে আইআরআইর আট দফার সুপারিশে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ০৬ ১৮:৩২:৫০
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কি সম্ভব? যা আছে আইআরআইর আট দফার সুপারিশে

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য করতে আটটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণতন্ত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)। গত বুধবার ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রকাশিত তাদের প্রাক্‌-নির্বাচনী মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এ সুপারিশগুলো উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনটি বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ গতি-প্রকৃতি, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম, রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা, এবং নাগরিক অংশগ্রহণের মাত্রা বিশ্লেষণ করে প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যেই আসন্ন নির্বাচনের জন্য বেশ কিছু ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনকালীন আচরণবিধি প্রণয়ন, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা, এবং ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্যোগ। তবে এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও আইআরআই মনে করছে, বর্তমান প্রাক্‌-নির্বাচনী পরিবেশ এখনো ভঙ্গুর ও আস্থাহীনতার মধ্যে রয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতার বিচ্ছিন্ন ঘটনা, স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থার ঘাটতি সব মিলিয়ে নির্বাচনী আস্থা পুনর্গঠনে প্রয়োজন আরও স্বচ্ছতা ও সংলাপ।

আইআরআইয়ের প্রাক্‌-নির্বাচনী মূল্যায়ন মিশনের কার্যক্রম

প্রাক্‌-নির্বাচনী এই মূল্যায়ন মিশনে অংশ নেন একদল আন্তর্জাতিক নীতি, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও গণতান্ত্রিক প্রশাসন বিশেষজ্ঞ। তাঁরা ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করেন এবং রাজধানী ঢাকাসহ একাধিক জেলায় মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। সফরের সময় তাঁরা নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধিরা, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের সদস্যদের সঙ্গে মোট ২১টি আনুষ্ঠানিক বৈঠকে ৫৯ জন অংশগ্রহণকারীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।মিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু ইতিবাচক রূপান্তর দেখা যাচ্ছে। বিশেষত, তরুণ নেতৃত্বের উত্থান, নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর আবির্ভাব, এবং বিদেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সক্রিয় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। পাশাপাশি, প্রথমবারের মতো বিপুলসংখ্যক তরুণ ভোটারের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রজন্মগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের একটি নতুন অধ্যায় সূচিত করতে পারে।

তবে প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি, নারীর সীমিত অংশগ্রহণ, উগ্রপন্থী রাজনীতির পুনরুত্থান এবং অসহিষ্ণু রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রসার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করতে পারে। আইআরআই মনে করছে, এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে জুলাই জাতীয় সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে আন্তরিক ও দায়বদ্ধ হতে হবে।

জুলাই সনদ: গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের নীলনকশা

আইআরআই প্রতিবেদনে জুলাই জাতীয় সনদকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের একটি “রূপরেখা দলিল” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এই সনদ বাস্তবায়ন হলে নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, দলীয় সংস্কারে অগ্রগতি, এবং সংসদীয় জবাবদিহি আরও জোরদার হবে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ও সংসদের কার্যকর ভূমিকার ওপর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সনদের সময়মতো বাস্তবায়ন, দলীয় নীতিতে অন্তর্ভুক্তি, এবং সংলাপ-ভিত্তিক সংস্কার প্রক্রিয়াই নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের পথ খুলে দিতে পারে। আইআরআই উল্লেখ করে, গণতন্ত্র তখনই কার্যকর হয়, যখন প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের প্রতি সহিষ্ণু থাকে এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখে।

নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ: এখনো সীমিত পরিসরে

আইআরআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ এখনো কাঠামোগতভাবে সীমিত। সংরক্ষিত আসনের বাইরে নারীরা খুব কমই প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান বা সিদ্ধান্তগ্রহণের পর্যায়ে আসতে পারেন। আইআরআই পরামর্শ দিয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীর নেতৃত্ব বিকাশে প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি চালু, মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় সমঅধিকার নিশ্চিত, এবং প্রচারণার সময় নিরাপত্তা সুরক্ষা জোরদার করতে হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নারী প্রার্থী ও প্রচারকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও সহিংসতার ঘটনা গণতন্ত্রের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রকে ব্যাহত করে। তাই নারী রাজনীতিবিদদের জন্য নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আইআরআই।

শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইআরআইয়ের আট দফা সুপারিশ

১. জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন:

রাজনৈতিক দলগুলোকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ ও প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। গণতান্ত্রিক সংস্কার ও বিতর্কিত বিষয়গুলোর সমাধানে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।২. গণভোটের কাঠামো নির্ধারণ:

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে যৌথভাবে গণভোটের জন্য আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে। গণভোটের উদ্দেশ্য, প্রক্রিয়া এবং জনগণের অংশগ্রহণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে।

৩. নাগরিক সচেতনতা ও শিক্ষা কর্মসূচি:

জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের বোঝাপড়া বাড়াতে দেশব্যাপী নাগরিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

৪. নারীর অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা:

রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীদের নেতৃত্বে আনতে, মনোনয়নে অগ্রাধিকার দিতে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে উদ্যোগ নিতে হবে।

৫. প্রার্থী বাছাইয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা:

দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া যেন গণতান্ত্রিক ও জবরদস্তিমুক্ত থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে প্রার্থী ও প্রচারকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

৬. নিরাপত্তা সমন্বয় ও সহিংসতা প্রতিরোধ:

নির্বাচন কমিশনকে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা প্রশমনে সক্রিয় নজরদারি চালাতে হবে।

৭. নাগরিক পর্যবেক্ষণে স্বচ্ছতা:

নির্বাচন কমিশনকে নাগরিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ এবং প্রত্যাখ্যানের কারণ লিখিতভাবে জানানো বাধ্যতামূলক করতে হবে। অনুমোদিত সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত তথ্য বিনিময় করতে হবে।

৮. রাজনৈতিক অর্থায়নে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা:

রাজনৈতিক দলগুলোর তহবিল সংগ্রহ, ব্যয় ও দাতাদের তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। আর্থিক অনিয়ম বা ভুল তথ্য প্রদানে কঠোর শাস্তির বিধান রাখতে হবে এবং স্বাধীন নিরীক্ষা উৎসাহিত করতে হবে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যের স্বচ্ছতা

প্রতিবেদনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আইআরআই বলেছে, সাংবাদিকদের এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যেখানে তারা রাজনৈতিক চাপ, ভয়ভীতি বা অর্থনৈতিক প্রভাব ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ব্যাহত হলে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

এছাড়া নির্বাচন কমিশন ও নাগরিক সমাজের যৌথ প্রচেষ্টায় ভোটারদের ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। আইআরআই সতর্ক করেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য বা সংগঠিত অপপ্রচার নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করতে পারে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য বড় হুমকি।

সর্বশেষে, আইআরআই বলেছে, বাংলাদেশ এখন এক সংবেদনশীল গণতান্ত্রিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। নির্বাচনের সাফল্য নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর সহনশীলতা, সংলাপ, স্বচ্ছতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ওপর। যদি এসব শর্ত পূরণ হয়, তবে ২০২৬ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।


তেলের পর্যাপ্ত মজুদ আছে, আতঙ্কের কারণ নেই: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ১২:৪৪:১৭
তেলের পর্যাপ্ত মজুদ আছে, আতঙ্কের কারণ নেই: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতার মধ্যেও বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এক বক্তব্যে তিনি দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন।

জ্বালানিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে সবচেয়ে বেশি মজুদ রয়েছে ডিজেল, যার পরিমাণ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ টন। এছাড়া ১০ হাজার ৫০০ টন অকটেন এবং ১৬ হাজার টন পেট্রল মজুদ রয়েছে। তিনি আরও তথ্য দেন যে, এপ্রিল মাসেই আরও বিপুল পরিমাণ জ্বালানি দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যা মজুতকে আরও শক্তিশালী করবে।

বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং অবৈধ মজুদ রোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গত ৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে ৩৪২টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫ক লিটার অবৈধভাবে মজুত করা জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের উদ্বেগের বিষয় তেলের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী সংসদে বলেন, "গত মাসে সরকার জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে কোনো দাম বাড়ায়নি।" তবে আগামী মে মাসের জ্বালানির দাম নিয়ে বর্তমানে পর্যালোচনা চলছে বলে তিনি জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মন্ত্রিপরিষদে বিস্তারিত আলোচনা এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে যদি একান্তই প্রয়োজন হয়, তবেই কেবল দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

/আশিক


ভ্যাকসিন কিনতে খরচ ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ১২:৩০:০০
ভ্যাকসিন কিনতে খরচ ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশে করোনা মহামারি মোকাবিলায় ভ্যাকসিন কেনাতে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দশম দিনে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে করোনা মহামারি মোকাবিলায় ভ্যাকসিনসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানি ও কেনাকাটার জন্য মোট ৪ হাজার ৬৮৫ কোটি ২২ লাখ টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর সিংহভাগ অর্থাৎ ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে সরাসরি ভ্যাকসিন ক্রয় বাবদ। বাকি অর্থ সিরিঞ্জ ক্রয়, পরিবহন ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য খাতে ব্যয় করা হয়েছে।

ভ্যাকসিন কার্যক্রমের বিস্তারিত ব্যয়ের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সিরিঞ্জ কেনাতে খরচ হয়েছে ৩০ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এছাড়া ভ্যাকসিন পরিবহন বাবদ ১৯ কোটি ৫৭ লাখ ৩ হাজার ৩৫৪ টাকা এবং সিরিঞ্জ শিপিং ও চার্জ হিসেবে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯৯ লাখ ৭৮ হাজার ৯৮০ টাকা। সরকারের এই বিপুল বিনিয়োগের ফলেই দেশ দ্রুত করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পেরেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভ্যাকসিন আমদানিতে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতে যদি কোনো অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

/আশিক


ভোর ৫টার ঝটিকা অভিযান: ধানমন্ডি থেকে যেভাবে ধরা পড়লেন শিরীন শারমিন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ১০:৪২:১৬
ভোর ৫টার ঝটিকা অভিযান: ধানমন্ডি থেকে যেভাবে ধরা পড়লেন শিরীন শারমিন
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। আটকের পর তাঁকে সরাসরি ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা ও বনানী থানায় দুটি পৃথক মামলা রয়েছে। প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষে এর মধ্যে একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আজ দুপুরের মধ্যেই তাঁকে আদালতে তোলা হবে বলে নিশ্চিত করেছে ডিবি সূত্র। তবে আদালতে হাজির করার পর তাঁর বিরুদ্ধে রিমান্ড চাওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার এ এন এম নাসির উদ্দিন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাবেক এই স্পিকারকে বর্তমানে ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। সরকারের পতন এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এটিই সাবেক কোনো স্পিকারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় আইনি পদক্ষেপ।

এদিকে, সাবেক স্পিকারকে আটকের সংবাদটি প্রচার হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার মেরিট এবং তদন্তের স্বার্থে ডিবির পক্ষ থেকে আরও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দুপুরের পর আদালত প্রাঙ্গণে তাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক


সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সংসদ: ডাবল শিফট অধিবেশনে ১৩৩ বিলের লড়াই

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ১০:২২:০৭
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সংসদ: ডাবল শিফট অধিবেশনে ১৩৩ বিলের লড়াই
ছবি : সংগৃহীত

১৩৩টি অধ্যাদেশকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেটাতে আজ মঙ্গলবার থেকে জাতীয় সংসদের অধিবেশন এক অভিনব পদ্ধতিতে পরিচালিত হতে যাচ্ছে। সময়ের স্বল্পতা কাটিয়ে উঠতে এবং আইনি শূন্যতা রোধে এখন থেকে প্রতিদিন দুই বেলা বা দুই সেশনে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত ১৩৩টি অধ্যাদেশের এই বিশাল পাহাড় সমান কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতেই এই ‘ডাবল শিফট’ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিদিন সকাল এবং বিকেল—উভয় সময়েই সংসদ সদস্যরা আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নেবেন। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির জারি করা কোনো অধ্যাদেশ সংসদের পরবর্তী অধিবেশন শুরু হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আইন হিসেবে পাস না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। এই বিশাল আইনি চাপ সামলাতে সংসদীয় কার্যক্রমের গতি কয়েক গুণ বাড়াতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯টি অধ্যাদেশ বিল আকারে পাস করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল সোমবার (৬ এপ্রিল) ছিল সংসদীয় ইতিহাসের অন্যতম কর্মমুখর দিন। এদিন মাত্র এক কার্যদিবসেই সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করা হয়েছে এবং তিনটি নতুন বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়। তবে গতকাল উত্থাপিত তিনটি বিলের ক্ষেত্রে বিরোধী দল থেকে কিছু পর্যবেক্ষণ ও আপত্তি আসায় সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে পাস করা সম্ভব হয়নি।

সংসদীয় রীতি ও জনগুরুত্ব বিবেচনায় এই বিলগুলো নিয়ে সংসদে আরও চুলচেরা বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ধারণা করা হচ্ছে, আজকের (মঙ্গলবার) দুই সেশনের অধিবেশনে আলোচনার মাধ্যমে এই ঝুলে থাকা বিলগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে এবং রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় কাজগুলো সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে সংসদ সদস্যরা এখন থেকে দ্বিগুণ কর্মতৎপরতায় অংশ নেবেন।

/আশিক


ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন সূচনা, ভারত সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ০৭:৫৭:০৩
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন সূচনা, ভারত সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা। ক্ষমতার পরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় ধরে সম্পর্কের গতি শ্লথ থাকলেও এখন উভয় পক্ষই নতুন বাস্তবতায় পারস্পরিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দুই দিনের সরকারি সফরে ভারতের রাজধানী দিল্লি যাচ্ছেন। তার সঙ্গে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। নতুন সরকার গঠনের পর এটি বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর, যা কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

কূটনৈতিক সূত্র বলছে, এই সফরকে আনুষ্ঠানিকভাবে সৌজন্য সফর হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও এর ভেতরে রয়েছে বহুমাত্রিক কৌশলগত গুরুত্ব। নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোন কাঠামোয় এগোবে, তার একটি প্রাথমিক রূপরেখা নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হবে এই সফরের মাধ্যমে।

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, দিল্লিতে পৌঁছে অজিত দোভাল-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পরদিন তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করবেন। এছাড়া সম্ভাব্যভাবে ভারতের জ্বালানি ও বাণিজ্য খাতের শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে।

বৈঠকগুলোর আলোচ্যসূচিতে থাকবে দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো। এর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা পুনরায় চালু, জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধি, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন এবং সীমান্তে সহিংসতা বন্ধের বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

এছাড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আইনি সহযোগিতার বিষয়গুলোও আলোচনায় আসতে পারে। বিশেষভাবে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়, যেমন—ভারতে অবস্থানরত পলাতক ব্যক্তিদের প্রত্যার্পণ প্রসঙ্গও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরিস্থিতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং তার প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর কীভাবে পড়ছে, তা নিয়েও মতবিনিময় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত পুনর্সামঞ্জস্য প্রক্রিয়ার সূচনা। অতীতের শীতল সম্পর্ক কাটিয়ে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন এবং কার্যকর সংলাপের মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টা এতে প্রতিফলিত হচ্ছে।

নীতিনির্ধারকদের মতে, সম্পর্কের উত্থান-পতন স্বাভাবিক হলেও যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলে সংকট গভীরতর হয়। তাই সংলাপের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে দুই দেশের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে নিম্নমুখী ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমান সফরকে একটি ‘রিসেট মোমেন্ট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

-রফিক


গভীর রাতে সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিন আটক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ০৭:০৪:৪১
গভীর রাতে সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিন আটক
সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী-এর আটক হওয়ার ঘটনা। রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাকে হেফাজতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), যা রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের বাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযানের সময় পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রিত, তবে ঘটনাটি দ্রুতই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ডিবির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। কোন মামলায় বা কী অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নীরব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শুধু জানিয়েছেন, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বিস্তারিত জানানো হবে।

উল্লেখ্য, শিরিন শারমিন চৌধুরী প্রথমবার জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি এ পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘমেয়াদি স্পিকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর তিনি পুনরায় স্পিকার নির্বাচিত হন, যখন ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের কিছুদিন পরই তিনি তার পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

সূত্রঃ আমার দেশ


একনেকের প্রথম বৈঠক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ৬ প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১৭:২২:২৮
একনেকের প্রথম বৈঠক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ৬ প্রকল্প অনুমোদন
ছবি : সংগৃহীত

নতুন সরকার গঠনের পর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রথম বৈঠকটি সোমবার (৬ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় মোট ১৯টি প্রকল্প আলোচ্যসূচিতে থাকলেও সময়ের স্বল্পতার কারণে ৮টি প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব হয়। এর মধ্যে ৬টি উন্নয়ন প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে এবং বাকি দুটিকে অধিকতর পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়েছে। আলোচ্যসূচির অবশিষ্ট প্রকল্পগুলো নিয়ে আগামী সপ্তাহের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন সভার কার্যক্রম সম্পর্কে জানান যে, গুরুত্বপূর্ণ ৮টি প্রকল্প পর্যালোচনার পর সাময়িকভাবে সভাটি স্থগিত করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা অনুষ্ঠানের দীর্ঘদিনের যে রেওয়াজ ছিল, এবার তা ভেঙে সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে এই বৈঠকটি আয়োজন করা হয়। যদিও ভেন্যু পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান কর্মব্যস্ততা এবং সচিবালয় কেন্দ্রিক দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার সুবিধার্থেই এই স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, একনেকের এই প্রথম বৈঠকটি ঘিরে পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে ব্যাপক প্রস্তুতি ও সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। রাস্তা সংস্কার থেকে শুরু করে নতুন গাছ লাগিয়ে পুরো এলাকাটি নতুন করে সাজানো হলেও শেষ মুহূর্তে বৈঠকের স্থান পরিবর্তন করে সচিবালয়ে নিয়ে আসা হয়। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিকল্প সভাপতি করে নতুন এই একনেক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সরকার গঠনের পর উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারণ এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয় পর্যালোচনার লক্ষ্যে গঠিত এই শীর্ষ কমিটির এটিই ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক যাত্রা।

/আশিক


আজহারীর পর এবার শায়খ আহমাদুল্লাহ! অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১১:২০:৫৩
আজহারীর পর এবার শায়খ আহমাদুল্লাহ! অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিল
ছবি : সংগৃহীত

জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারীর পর এবার বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সিডনিভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের সম্পর্কে শায়খ আহমাদুল্লাহর অতীতে করা কিছু মন্তব্য জনসমক্ষে আসার পর সেগুলোকে ‘জঘন্য’ ও ‘ইহুদি-বিদ্বেষী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খবরে আরও বলা হয়, শায়খ আহমাদুল্লাহ তার বক্তব্যে ইহুদিদের নীচু প্রকৃতির ও ঘৃণার যোগ্য এবং বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার নেপথ্যে কারিগর বলে আখ্যায়িত করেছেন।

ভিসা বাতিলের এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে কার্যকর করা হয় যখন তিনি সিডনি বিমানবন্দর দিয়ে অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলেথওয়েট এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, যারা ইহুদিবিদ্বেষী বা ইসলামোফোবিক বক্তব্য ছড়ায়, তাদের প্রতি সরকারের কোনো ধরনের সহনশীলতা নেই।

এই পদক্ষেপের ফলে শায়খ আহমাদুল্লাহর অস্ট্রেলিয়ায় পুনঃপ্রবেশের পথ বন্ধ হয়ে গেছে এবং কর্তৃপক্ষ তাকে স্থায়ীভাবে দেশটিতে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনা করছে। উল্লেখ্য, আইপিডিসির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘লিগ্যাসি অব ফেইথ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে তার নির্ধারিত সফরটি পুরোপুরি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

ফলে ৬ এপ্রিল ক্যানবেরার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, ১০ এপ্রিল অ্যাডিলেডের উডভিল টাউন হল এবং ১১ এপ্রিল পার্থে তার পূর্বনির্ধারিত সভাগুলোর কোনোটিই আর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। এর আগে তিনি মেলবোর্ন ও সিডনির কিছু কর্মসূচিতে অংশ নিলেও সফরের বাকি অংশ স্থগিত করা হয়েছে।

/আশিক


জ্বালানি সংকটে বড় স্বস্তি! চট্টগ্রাম বন্দরে এলএনজি ও তেলবাহী ৪ জাহাজ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১০:০৬:০০
জ্বালানি সংকটে বড় স্বস্তি! চট্টগ্রাম বন্দরে এলএনজি ও তেলবাহী ৪ জাহাজ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG), এলপিজি (LPG) এবং গ্যাস অয়েলবাহী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চারটি জাহাজ। আজ সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মেরিন বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই স্বস্তির তথ্য জানানো হয়েছে। বন্দর সূত্র জানায়, ভারত, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া এবং চীন থেকে এসব জ্বালানি পণ্য নিয়ে জাহাজগুলো বন্দরে নোঙর করেছে এবং বর্তমানে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া পুরোদমে চলছে।

আগত জাহাজগুলোর মধ্যে গ্যাস চ্যালেঞ্জার (GAS CHALLENGER) ভারত থেকে এলপিজি নিয়ে গত ৩১ মার্চ পৌঁছে বর্তমানে ভাটিয়ারী এলাকায় অবস্থান করছে। মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস অয়েল নিয়ে আসা শান গ্যাং ফা শিয়ান (SHAN GANG FA XIAN) জাহাজটি ৩ এপ্রিল ভিড়েছে এবং ৭ এপ্রিলের মধ্যে খালাস সম্পন্ন করবে। নাইজেরিয়া থেকে আসা বিশাল এলএনজি জাহাজ কুল ভয়েজার (COOL VOYAGER) ৫ এপ্রিল পৌঁছে বর্তমানে ‘FSRU’-তে অবস্থান করছে।

একই দিনে চীন থেকে এলপিজি নিয়ে আসা গ্যাস জার্নি (GAS JOURNEY) জাহাজটিও বন্দরে ভিড়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে এই পণ্যগুলো দ্রুত খালাসে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: