শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কি সম্ভব? যা আছে আইআরআইর আট দফার সুপারিশে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ০৬ ১৮:৩২:৫০
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কি সম্ভব? যা আছে আইআরআইর আট দফার সুপারিশে

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য করতে আটটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণতন্ত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)। গত বুধবার ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রকাশিত তাদের প্রাক্‌-নির্বাচনী মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এ সুপারিশগুলো উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনটি বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ গতি-প্রকৃতি, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম, রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা, এবং নাগরিক অংশগ্রহণের মাত্রা বিশ্লেষণ করে প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যেই আসন্ন নির্বাচনের জন্য বেশ কিছু ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনকালীন আচরণবিধি প্রণয়ন, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা, এবং ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্যোগ। তবে এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও আইআরআই মনে করছে, বর্তমান প্রাক্‌-নির্বাচনী পরিবেশ এখনো ভঙ্গুর ও আস্থাহীনতার মধ্যে রয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতার বিচ্ছিন্ন ঘটনা, স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থার ঘাটতি সব মিলিয়ে নির্বাচনী আস্থা পুনর্গঠনে প্রয়োজন আরও স্বচ্ছতা ও সংলাপ।

আইআরআইয়ের প্রাক্‌-নির্বাচনী মূল্যায়ন মিশনের কার্যক্রম

প্রাক্‌-নির্বাচনী এই মূল্যায়ন মিশনে অংশ নেন একদল আন্তর্জাতিক নীতি, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও গণতান্ত্রিক প্রশাসন বিশেষজ্ঞ। তাঁরা ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করেন এবং রাজধানী ঢাকাসহ একাধিক জেলায় মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। সফরের সময় তাঁরা নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধিরা, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের সদস্যদের সঙ্গে মোট ২১টি আনুষ্ঠানিক বৈঠকে ৫৯ জন অংশগ্রহণকারীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।মিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু ইতিবাচক রূপান্তর দেখা যাচ্ছে। বিশেষত, তরুণ নেতৃত্বের উত্থান, নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর আবির্ভাব, এবং বিদেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সক্রিয় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। পাশাপাশি, প্রথমবারের মতো বিপুলসংখ্যক তরুণ ভোটারের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রজন্মগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের একটি নতুন অধ্যায় সূচিত করতে পারে।

তবে প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি, নারীর সীমিত অংশগ্রহণ, উগ্রপন্থী রাজনীতির পুনরুত্থান এবং অসহিষ্ণু রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রসার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করতে পারে। আইআরআই মনে করছে, এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে জুলাই জাতীয় সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে আন্তরিক ও দায়বদ্ধ হতে হবে।

জুলাই সনদ: গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের নীলনকশা

আইআরআই প্রতিবেদনে জুলাই জাতীয় সনদকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের একটি “রূপরেখা দলিল” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এই সনদ বাস্তবায়ন হলে নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, দলীয় সংস্কারে অগ্রগতি, এবং সংসদীয় জবাবদিহি আরও জোরদার হবে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ও সংসদের কার্যকর ভূমিকার ওপর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সনদের সময়মতো বাস্তবায়ন, দলীয় নীতিতে অন্তর্ভুক্তি, এবং সংলাপ-ভিত্তিক সংস্কার প্রক্রিয়াই নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের পথ খুলে দিতে পারে। আইআরআই উল্লেখ করে, গণতন্ত্র তখনই কার্যকর হয়, যখন প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের প্রতি সহিষ্ণু থাকে এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখে।

নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ: এখনো সীমিত পরিসরে

আইআরআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ এখনো কাঠামোগতভাবে সীমিত। সংরক্ষিত আসনের বাইরে নারীরা খুব কমই প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান বা সিদ্ধান্তগ্রহণের পর্যায়ে আসতে পারেন। আইআরআই পরামর্শ দিয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীর নেতৃত্ব বিকাশে প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি চালু, মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় সমঅধিকার নিশ্চিত, এবং প্রচারণার সময় নিরাপত্তা সুরক্ষা জোরদার করতে হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নারী প্রার্থী ও প্রচারকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও সহিংসতার ঘটনা গণতন্ত্রের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রকে ব্যাহত করে। তাই নারী রাজনীতিবিদদের জন্য নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আইআরআই।

শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইআরআইয়ের আট দফা সুপারিশ

১. জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন:

রাজনৈতিক দলগুলোকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ ও প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। গণতান্ত্রিক সংস্কার ও বিতর্কিত বিষয়গুলোর সমাধানে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।২. গণভোটের কাঠামো নির্ধারণ:

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে যৌথভাবে গণভোটের জন্য আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে। গণভোটের উদ্দেশ্য, প্রক্রিয়া এবং জনগণের অংশগ্রহণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে।

৩. নাগরিক সচেতনতা ও শিক্ষা কর্মসূচি:

জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের বোঝাপড়া বাড়াতে দেশব্যাপী নাগরিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

৪. নারীর অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা:

রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীদের নেতৃত্বে আনতে, মনোনয়নে অগ্রাধিকার দিতে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে উদ্যোগ নিতে হবে।

৫. প্রার্থী বাছাইয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা:

দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া যেন গণতান্ত্রিক ও জবরদস্তিমুক্ত থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে প্রার্থী ও প্রচারকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

৬. নিরাপত্তা সমন্বয় ও সহিংসতা প্রতিরোধ:

নির্বাচন কমিশনকে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা প্রশমনে সক্রিয় নজরদারি চালাতে হবে।

৭. নাগরিক পর্যবেক্ষণে স্বচ্ছতা:

নির্বাচন কমিশনকে নাগরিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ এবং প্রত্যাখ্যানের কারণ লিখিতভাবে জানানো বাধ্যতামূলক করতে হবে। অনুমোদিত সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত তথ্য বিনিময় করতে হবে।

৮. রাজনৈতিক অর্থায়নে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা:

রাজনৈতিক দলগুলোর তহবিল সংগ্রহ, ব্যয় ও দাতাদের তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। আর্থিক অনিয়ম বা ভুল তথ্য প্রদানে কঠোর শাস্তির বিধান রাখতে হবে এবং স্বাধীন নিরীক্ষা উৎসাহিত করতে হবে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যের স্বচ্ছতা

প্রতিবেদনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আইআরআই বলেছে, সাংবাদিকদের এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যেখানে তারা রাজনৈতিক চাপ, ভয়ভীতি বা অর্থনৈতিক প্রভাব ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ব্যাহত হলে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

এছাড়া নির্বাচন কমিশন ও নাগরিক সমাজের যৌথ প্রচেষ্টায় ভোটারদের ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। আইআরআই সতর্ক করেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য বা সংগঠিত অপপ্রচার নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করতে পারে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য বড় হুমকি।

সর্বশেষে, আইআরআই বলেছে, বাংলাদেশ এখন এক সংবেদনশীল গণতান্ত্রিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। নির্বাচনের সাফল্য নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর সহনশীলতা, সংলাপ, স্বচ্ছতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ওপর। যদি এসব শর্ত পূরণ হয়, তবে ২০২৬ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।


হাদির ছবি আঁকা হেলমেট পরে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন আশিক চৌধুরী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ১৪ ১৪:৫১:০৭
হাদির ছবি আঁকা হেলমেট পরে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন আশিক চৌধুরী
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে এক অনন্য নজির গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৫৪ জন প্যারাট্রুপার বাংলাদেশের পতাকা হাতে আকাশ থেকে নেমে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। এই ৫৪ জনের দলে রয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তবে তার এই আকাশছোঁয়া দুঃসাহসিক অভিযানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এক আবেগঘন বার্তা। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা ৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ছবি আঁকা হেলমেট পরে জাম্প করবেন।

রোববার ১৪ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

হাদির জন্য বিশেষ শ্রদ্ধা ও প্রার্থনা

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় বিজয়ের দিনে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ভ্যানগার্ড ওসমান হাদির দ্রুত আরোগ্য কামনায় সকলকে দোয়া ও প্রার্থনার আহ্বান জানানো হচ্ছে। আশিক চৌধুরী হাদির ছবি আঁকা হেলমেট পরে জাম্প করার মাধ্যমে আহত এই নেতার প্রতি সংহতি ও শ্রদ্ধা জানাবেন।

অনুষ্ঠানের সময়সূচি ও আয়োজন স্বাধীনতার

৫৪ বছর উদযাপনকে স্মরণীয় করে রাখতে এই আয়োজনটি হবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ পতাকা প্যারাস্যুটিং প্রদর্শনী। ঢাকার তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দরে এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি ঘটবে।

বেলা ১১টা থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী পৃথকভাবে ফ্লাই পাস্ট মহড়া পরিচালনা করবে।

একই সঙ্গে চলবে বিজয় দিবসের বিশেষ ব্যান্ড শো।

বেলা ১১টা ৪০ মিনিট থেকে টিম বাংলাদেশ এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপার পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং শুরু করবেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে জনসাধারণের জন্য এই বিশেষ আয়োজন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে। সাধারণ মানুষ তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে পারবেন।


নলকূপে পড়ে শিশু সাজিদের মৃত্যুতে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ১৪ ১৪:০০:০৪
নলকূপে পড়ে শিশু সাজিদের মৃত্যুতে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ
ছবি : সংগৃহীত

বরেন্দ্র অঞ্চলে পরিত্যক্ত ও অরক্ষিত নলকূপে পড়ে দুই বছরের শিশু সাজিদের মৃত্যুর ঘটনায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মনিরুল ইসলাম মিয়া। রোববার ১৪ ডিসেম্বর পাঠানো এই নোটিশে অরক্ষিত নলকূপ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সাজিদের পরিবারকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে যে রাজশাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলায় শত শত পরিত্যক্ত ও অরক্ষিত নলকূপ জনসাধারণের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। সম্প্রতি রাজশাহীর তানোর উপজেলার কোয়েলহাট পূর্ব পাড়া গ্রামে একটি পরিত্যক্ত নলকূপে পড়ে শিশু সাজিদের যে মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা ও প্রশাসনিক উদাসীনতার স্পষ্ট প্রমাণ বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে একাধিক নির্দেশনা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে সব পরিত্যক্ত নলকূপ চিহ্নিত করে জরিপ করা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে সিল বা ভরাট করে সেগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা। এছাড়া অবৈধ নলকূপ খননে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরাপদ নলকূপ ব্যবস্থাপনায় মানসম্মত কার্যপ্রণালি বা এসওপি প্রণয়নের দাবিও জানানো হয়েছে।

আইনজীবী মনিরুল ইসলাম মিয়া নোটিশে আরও উল্লেখ করেছেন অননুমোদিত নলকূপ স্থাপনা রোধে কঠোর নজরদারি এবং দায়িত্বে অবহেলাকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব দাবি বাস্তবায়ন না হলে বিষয়টি জনস্বার্থ মামলা বা পিআইএল হিসেবে হাইকোর্ট ডিভিশনে দায়ের করা হবে।


লাইফ সাপোর্টে হাদি কিন্তু খুনিদের সিন্ডিকেট ঘুরছে হাসপাতালেও

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ১৪ ১১:২৭:৩৩
লাইফ সাপোর্টে হাদি কিন্তু খুনিদের সিন্ডিকেট ঘুরছে হাসপাতালেও
ছবি : সংগৃহীত

সন্ত্রাসীর গুলিতে আহত হয়ে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা ৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদি। বর্তমানে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এরই মধ্যে এক চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক দাবি করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মী ও ডাকসু সদস্য ফাতিমা তাসনিম জুমা। তিনি দাবি করেছেন হাদিকে যারা হত্যার চেষ্টা করেছে সেই হামলাকারীদের সহযোগীরা হাসপাতাল পর্যন্ত চলে এসেছিল।

সম্প্রতি ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জুমা এই গুরুতর অভিযোগ করেন। তিনি বলেন এই প্লান একজন করেনি এবং একজন এক্সিকিউট করেনি। এই পুরো সিন্ডিকেট এখনো এক্টিভ এবং খুনিদের সহযোগীরা হাসপাতালে এসেছিল বলেও আমাদের কাছে তথ্য এসেছে।

ঘটনার দুই দিন পার হতে চললেও এখন পর্যন্ত মূল হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদিচ্ছার অভাব দেখতে পাচ্ছেন জুমা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন যে আসামি অলরেডি একবার গ্রেপ্তার হয়েছে তার সকল তথ্য সংস্থাগুলোর কাছে আছে। তবুও তাকে চিহ্নিত করতে পারছে না বা আটকাতে পারছে না এটা আমাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয়।

হামলাকারীরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে এমন গুঞ্জনকেও উড়িয়ে দিয়েছেন ডাকসু সদস্য জুমা। তিনি বিশ্বাস করেন আসামি এখনও দেশ ছেড়ে পালায়নি। তার মতে আসামি পালিয়ে গিয়েছে বলে হতাশা তৈরি করে দায়মুক্তি নিতে চাইছে অথবা পালাতে সহযোগিতা করার একটা প্লান এটা।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে জুমা ওসমান হাদিসহ সবার নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন পুরো সিন্ডিকেটকে আমরা জীবিত গ্রেপ্তার দেখতে চাই। ওসমান ভাইয়ের নিরাপত্তাসহ সকলের নিরাপত্তা জোরদার করেন। অনেক কষ্ট করে ধৈর্য ধরে আছি আমরা কিন্তু সেটা বেশিক্ষণ পারব না।


পেশায় শ্রমিক হান্নানের মোটরসাইকেলটি যেভাবে ব্যবহৃত হলো হাদির ওপর হামলায়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ১৪ ১১:১৯:২৭
পেশায় শ্রমিক হান্নানের মোটরসাইকেলটি যেভাবে ব্যবহৃত হলো হাদির ওপর হামলায়
ছবি : সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা ৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক আব্দুল হান্নানকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার ১৪ ডিসেম্বর সকালে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‍্যাব এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

র‍্যাব জানায় সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওসমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এরপর অভিযান চালিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে মোটরসাইকেলের মালিক আব্দুল হান্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে পল্টন থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কে এই আব্দুল হান্নান

র‍্যাবের দেওয়া তথ্যমতে গ্রেপ্তারকৃত হান্নানের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা পশ্চিমপাড়া এলাকায়। তার বাবার নাম মো. আবুল কাশেম ও মায়ের নাম মোসা. ফুরকোন। পেশায় তিনি একজন শ্রমিক। হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির নম্বর ৫৪ ৬৩৭৫। তবে হাদির ওপর হামলার ঘটনায় হান্নান সরাসরি জড়িত কি না নাকি তার বাইকটি অন্য কেউ ব্যবহার করেছে সে বিষয়টি এখন খতিয়ে দেখছে র‍্যাব ও পুলিশ।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

এর আগে গত শুক্রবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে রিকশায় করে যাওয়ার সময় শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। ওই সময় একটি মোটরসাইকেলে করে এসে দুইজন তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়।

হামলার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এবং পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে বা আইসিইউতে তার চিকিৎসা চলছে এবং তিনি জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।


শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার বিনম্র শ্রদ্ধা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ১৪ ০৮:৩০:৫২
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার বিনম্র শ্রদ্ধা
ছবি : সংগৃহীত

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রবিবার ১৪ ডিসেম্বর সকালে রাজধানীর মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তারা এই শ্রদ্ধা জানান।

সকাল ৭টায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এর কিছুক্ষণ পর সকাল ৭টা ২০ মিনিটে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ১৯৭১ সালের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে এবং বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয় যা পুরো এলাকায় এক শোকাবহ পরিবেশ তৈরি করে।

শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা পৃথকভাবে সেখানে উপস্থিত উপদেষ্টামণ্ডলী এবং শীর্ষ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এছাড়া তারা যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং অন্য আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন।


সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসামে ফয়সাল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ১৪ ০৮:২৫:০২
সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসামে ফয়সাল
ছবি : সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের সংগঠক ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের দাবি করেছেন হামলাকারীদের বর্তমান অবস্থান ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটি শহরে।

শনিবার ১৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জুলকারনাইন সায়ের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন।

তিনি লিখেন ইনকিলাব মঞ্চের সংগঠক ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্য গুলি করার ঘটনার সঙ্গে জড়িত শ্যুটার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এবং তার সহযোগী মোটরবাইক চালক আলমগীর হোসেন গত ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের বর্তমান অবস্থান আসামের গুয়াহাটি শহরে।

পোস্টে আরও দাবি করা হয় ভারতে তাদের সহায়তা করছেন আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত সহকারী বা পিএস মো. মাসুদুর রহমান বিপ্লব। বিপ্লবের তত্ত্বাবধানেই এই হত্যাকারীরা বর্তমানে ভারতে নিরাপদে অবস্থান করছে।

জুলকারনাইন সায়ের তার নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানান অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই আক্রমণ করা হয়েছে এবং আরও কয়েকটি হিট টিমের একইরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তির পরিকল্পনা বা চেষ্টা রয়েছে। তিনি হামলার বিস্তারিত সম্পর্কে উল্লেখ করেন মূল শ্যুটার ফয়সাল তার ঘনিষ্ঠ মহলে দাবি করেছে ব্যবহৃত অস্ত্রটি জ্যাম হয়ে যাওয়ায় সে কেবল একটি গুলি করতে সক্ষম হয় অথচ তার পরিকল্পনা ছিল চারটি গুলি করার।

সায়ের তার স্ট্যাটাসে জামিনে থাকা সন্ত্রাসীদের বিষয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি সূত্রের বরাতে বলেন ফয়সালের মতোই আরেক অস্ত্রধারী ক্যাডার চট্টগ্রাম নগর যুবলীগের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য মো. সাজ্জাদ। যাকে গত ১৩ মে ২০২৫ সালে রাজধানী ঢাকার গুলশান এলাকা হতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে চট্টগ্রামের মুরাদপুরে ফয়সাল আহমেদ শান্ত হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। তবে গত ২৯ জুলাই ২০২৫ তারিখে সাজ্জাদ সুপ্রিম কোর্ট হতে জামিন প্রাপ্ত হয়ে কারামুক্ত হয়েছেন।

সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের মনে করেন অনতিবিলম্বে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের যেসকল অস্ত্রধারী ক্যাডারদের বিভিন্ন মামলায় জামিন প্রদান করা হয়েছে তাদের প্রত্যেকের বর্তমান অবস্থান যাচাই ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া জরুরি।


সারা দেশে আতঙ্কে সম্ভাব্য প্রার্থীরা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ১৪ ০৮:১১:২৬
সারা দেশে আতঙ্কে সম্ভাব্য প্রার্থীরা
ছবি : সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা ৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদিকে ঢাকার রাজপথে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলির ঘটনায় দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপসিল ঘোষণার পরদিনই এই ঘটনা ঘটায় সারা দেশের সম্ভাব্য প্রার্থীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই ঘটনাকে তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুস্পষ্ট দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন এবং নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা বাড়াতে ইতোমধ্যেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন। উদ্বেগ প্রকাশ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন এই অবস্থায় প্রার্থী হিসেবে প্রচারণায় নামতে গেলে জীবনের নিরাপত্তা কোথায়।

হাদির ওপর গুলির ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনপি জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তিনটি দলের নেতারাই নির্বাচনের আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং প্রার্থীদের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি দ্রুত দেশব্যাপী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা উপস্থিত দলগুলোর নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন এই আক্রমণটি খুবই সিম্বলিক। এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে মনে হচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে। তারা প্রশিক্ষিত শুটার নিয়ে মাঠে নেমেছে এবং এর পেছনে বিরাট শক্তি কাজ করছে। তারা তাদের শক্তি প্রদর্শন করতে চায় এবং নির্বাচনের সব আয়োজন ভেস্তে দিতে চায়।

যমুনায় বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন আমরা এ ধরনের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছি না। তবে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব আছে এবং পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থে আমরা একে অন্যকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলেছি আর এর ফলে বিরোধীরা সুযোগ নিচ্ছে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বৈঠক শেষে যমুনার সামনে সাংবাদিকদের বলেন শুধু আমাদের নেতা নেত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেই হবে না কারণ নেতাদের নিরাপত্তা দিয়ে জুলাই বিপ্লব টিকে থাকবে না। সামগ্রিকভাবে সমাজ থেকে ও রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগের প্রশ্নের সুরাহা করতে না পারলে আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি জামায়াত ও এনসিপি যা আগামী দু এক দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জে. (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গতকাল সচিবালয়ে জানান আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে এতদিন শুধু সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারীদের অনুকূলে ইস্যু করা হতো। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এখন জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থীদের মধ্যে যারা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স চাইবেন তাদেরও লাইসেন্স ইস্যু করা হবে।

লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক কর্মশালায় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেছেন ষড়যন্ত্র থেমে নেই এবং এই ষড়যন্ত্রগুলো এখনই থামবে না বরং আরও খারাপও হতে পারে। তিনি বলেন আমাদের ভয় পেলে চলবে না এবং আতঙ্কগ্রস্ত হলে চলবে না। যেকোনো মূল্যে নির্বাচন হবে এবং এই পরিস্থিতি যত আমরা তৈরি করব ষড়যন্ত্রকারীরা তত পিছু হটতে বাধ্য হবে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদও এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন তপশিল ঘোষণার পরদিনই একজন সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থীকে মেরে ফেলার জন্য মাথায় গুলি করা হলো। তিনি প্রশ্ন রাখেন তাহলে প্রার্থীদের নিরাপত্তা কোথায় এবং এটাই যদি উৎসবমুখর ও ইতিহাসের সেরা নির্বাচন হয়ে থাকে তাহলে আমার বলার কিছু নেই।


রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ছবি এবং ছাত্রলীগ সদস্যপদ থাকা ফয়সালই কি সেই হামলাকারী?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ১৩ ২০:৩৪:২২
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ছবি এবং ছাত্রলীগ সদস্যপদ থাকা ফয়সালই কি সেই হামলাকারী?
ছবি : সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা ৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন একজনকে শনাক্ত করেছে যার নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান। এই ব্যক্তিকে ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনুসন্ধানে জানা গেছে শনাক্ত হওয়া ফয়সাল করিম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০১৯ সালের ১১ মে ঘোষিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি সদস্য পদ পেয়েছিলেন। তার পুরো নাম ফয়সাল করিম দাউদ খান। ছাত্রলীগের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং ছাত্রলীগের সাবেক ওই সদস্য একই ব্যক্তি।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের দমনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের সঙ্গে মাঠে সক্রিয় ছিলেন ফয়সাল। এছাড়া হাদির ওপর হামলার পর ফয়সালের সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বেশ কিছু নেতার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

পেশাগত জীবনে ফয়সাল নিজেকে আইটি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিতেন। তার লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী তিনি অ্যাপল সফট আইটি ওয়াইসিইউ টেকনোলজি ও এনলিস্ট ওয়ার্ক নামে তিনটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। তিনি ২০১৩ সালে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক এবং পরে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন।

শনিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশ বা ডিএমপি গণমাধ্যমে ফয়সালের ছবি পাঠিয়ে তাকে শনাক্ত করার কথা জানায়। ডিএমপি জানায় হাদির প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারসহ বিভিন্ন জায়গায় ফয়সালের সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ছবি পাওয়া গেছে। সিসিটিভি ফুটেজের আততায়ীর সঙ্গে ওই ছবির চেহারার সাদৃশ্য থাকায় তাকেই মূল হামলাকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এদিকে শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা নিয়ে শনিবার মেডিকেল বোর্ড একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন হাদিকে বর্তমানে কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্টে রাখা হয়েছে। তার চিকিৎসার বিষয়ে মেডিকেল বোর্ড ১১টি পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।


এআই দিয়ে তৈরি ছবি দেখে ভুল তথ্য ছড়িয়েছেন রিজভী:  ডিএমপি কমিশনার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ১৩ ২০:২৮:৫১
এআই দিয়ে তৈরি ছবি দেখে ভুল তথ্য ছড়িয়েছেন রিজভী:  ডিএমপি কমিশনার
ছবি : সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারী ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্য বলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সত্য নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী রিজভীর বক্তব্যকে বোগাস বা ভুয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

শনিবার ১৩ ডিসেম্বর দুপুরে নয়াপল্টনে এক সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী দাবি করেন পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন হত্যাকারী শনাক্ত হয়েছে এবং সে শিবিরের সদস্য। রিজভীর এই দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার সরাসরি বলেন আমি শুনেছি এবং এটি বোগাস কথাবার্তা। এটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং আমি এমন কোনো বক্তব্য দিইনি। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি রিজনডার বা প্রতিবাদলিপি জারি করা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার আরও জানান এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করা একটি ছবি প্রচার করা হয়েছে এবং সেটি দেখেই রিজভী ডিএমপি কমিশনারের বরাতে বোগাস তথ্য ছড়িয়েছেন।

এর আগে শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের বক্তৃতায় রুহুল কবির রিজভী একটি ছাত্র সংগঠনের নেতার ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই মির্জা আব্বাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার এক ঘণ্টা পর ফেসবুকে একটি পক্ষ মির্জা আব্বাসকে গ্যাংস্টার বলে আক্রমণ করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন ঠাকুর ঘরে কে রে আমি কলা খাইনি প্রবাদের মতো এক ঘণ্টা পরেও তাদের ওপর কেন হামলা হলো না।

রিজভী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন এই এলাকায় বারবার আসেন মেয়র এবং তার সামাজিক ও জাতীয় রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনা না করেই কেবল একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা সিনিয়র নেতাকে অপমান করেছেন। তিনি বলেন আপনার চেয়ে ৩৬ বছর আগে আমরা ছাত্রনেতা ছিলাম এবং একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি হলেও কখনো অন্য দলের সিনিয়র নেতাকে এভাবে অপমান করিনি।

হামলাকারীর পরিচয় নিয়ে রিজভী পাল্টা অভিযোগ করে বলেন হাদির ওপর হামলাকারী আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। এছাড়া তাকে সাদিক কায়েমের সঙ্গে একই টেবিলে বসে চা খেতে দেখা গেছে বলেও দাবি করেন বিএনপি নেতা। তিনি মন্তব্য করেন যারা একাত্তরে গণহত্যা চালিয়েছে তাদের বিবেকবোধের কোনো অস্তিত্ব নেই।

পাঠকের মতামত:

ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে রাষ্ট্রকে অবশ্যই তার সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা পুনরুদ্ধার করতে হবে

ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে রাষ্ট্রকে অবশ্যই তার সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা পুনরুদ্ধার করতে হবে

রাষ্ট্রের ধারণাটি একসময় কেবল প্রশাসনিক ক্ষমতা, আইনের শাসন এবং নিরাপত্তা প্রদানের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। কিন্তু আধুনিক বিশ্বে রাষ্ট্রের ভূমিকা এখন... বিস্তারিত