আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় উৎসবের আমেজে পুরোদমে জমে উঠেছে কোরবানি পশুর হাটগুলো। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত বাজারগুলোতে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাময়িক বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টি উপেক্ষা করেই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ হাটে ছুটে আসছেন। বাজারে দেশি ও বিদেশি জাতের পর্যাপ্ত পরিমাণ ছোট, মাঝারি এবং বড় আকারের গরু ও ছাগলের সরবরাহ থাকলেও সাধারণ ক্রেতাদের মূল আকর্ষণ ও প্রধান চাহিদা দেখা যাচ্ছে মাঝারি আকৃতির গরুর দিকে।
বিশ্বনাথ উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, এবারের কোরবানি ঈদে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে সর্বমোট ১০টি পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বনাথ পৌরসভার পুরানবাজার এলাকায় উপজেলার সবচেয়ে বড় ও প্রধান পশুর হাটটি বসেছে। তবে কেবল নির্ধারিত হাটগুলোতেই নয়, উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের খামারি ও প্রান্তিক কৃষকদের বাড়িতে গিয়েও অনেকে বছরব্যাপী লালন-পালন করা পছন্দের গবাদি পশু আগাম কিনে নিচ্ছেন।
সরেজমিনে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, হাটে ক্রেতারা এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে ঘুরে দাম যাচাই করছেন এবং পছন্দ হলেই দরদাম চূড়ান্ত করছেন। বাজারে দুই থেকে আড়াই মণ ওজনের মাঝারি আকারের গরুগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে, যার বাজারমূল্য প্রকারভেদে ৮৫ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। বড় আকারের গরুর ক্রেতা কম থাকায় বিক্রেতারা এবার বড় গরু হাটে কম এনেছেন, যার ফলে বাজারে বড় পশুর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশ অপ্রতুল। অন্যদিকে বাজারে থাকা বড় সাইজের ছাগলগুলো ৩৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
পশুর দাম নিয়ে বিক্রেতারা সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এবার মাঝারি গরুর দাম বেশ ভালো পাওয়া যাচ্ছে এবং ১ লাখ টাকার ভেতরের গরুর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। বিশ্বনাথ পুরানবাজার হাটের ইজারাদার বশির আহমদ জানান, বাজারে কেনাবেচার গতি বেশ সন্তোষজনক এবং ক্রেতাদের উৎসাহিত করতে বড় গরুর ক্ষেত্রেও হাসিল বা খাজনা মাত্র ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঈদের শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা আরও কয়েক গুণ বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুস শহীদ সার্বিক প্রস্তুতি ও অর্থনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জানিয়েছেন, চলতি বছর বিশ্বনাথ উপজেলায় কোরবানি করার জন্য ষাঁড়, বলদ, গাভী, ছাগল ও ভেড়াসহ সব মিলিয়ে ৮ হাজার ১৩৭টি গবাদি পশু সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে। ক্রেতারা যাতে সুস্থ ও রোগমুক্ত পশু কিনতে পারেন, সেজন্য প্রতিটি হাটে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের বিশেষ মেডিকেল টিম পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সব মিলিয়ে এবার পুরো উপজেলায় প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ কোটি টাকার কোরবানির পশু কেনাবেচা হবে বলে অফিশিয়ালি ধারণা করা হচ্ছে।
/আশিক