আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ৮ নম্বর ভাড়াশিমলা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। এরই মধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তরুণ সমাজসেবক শফিকুল ইসলাম বিশ্বাস। প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর মধ্য দিয়ে তিনি আলোচনায় এসেছেন। স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় উঠে আসছে—ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে একটি পরিকল্পিত ইউনিয়ন গড়ে তোলার বিষয়।
শফিকুল ইসলাম বিশ্বাসও তার বক্তব্যে উন্নয়ন ও জনসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে তার পক্ষ থেকে মাদকমুক্ত সমাজ, আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ, কর্মসংস্থান, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসারে কাজ করার অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।শফিকুল ইসলাম বিশ্বাস ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত আলহাজ্ব নূর মোহাম্মদ বিশ্বাসের সুযোগ্য পুত্র। সরকারি নথিতেও নূর মোহাম্মদ বিশ্বাসকে ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, তিনি তিনবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং একাধিকবার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।শফিকুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন, “ভাড়াশিমলা ইউনিয়নকে শুধু একটি প্রশাসনিক এলাকা হিসেবে নয়, একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
মানুষের মৌলিক প্রয়োজন, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা,স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তাকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে চাই। ইউনিয়নবাসীর মতামত ও অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উন্নয়নই টেকসই হয় না।তিনি আরও বলেন, “আমার লক্ষ্য হবে দল-মত,ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণিপেশার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের সেবা করা। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা,রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তোলার বিষয়ে আমি গুরুত্ব দিতে চাই।
তার ভাষ্য, একটি আধুনিক ইউনিয়নের জন্য শুধু রাস্তাঘাট নির্মাণই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নাগরিক সেবা সহজ করা, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা। এ লক্ষ্যেই তিনি ইউনিয়নবাসীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন।এদিকে স্থানীয়দের একাংশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে তাদের মধ্যে নানা প্রত্যাশা রয়েছে। তাদের মতে, “ইউনিয়নের উন্নয়ন করতে হলে এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যিনি মানুষের কথা শুনবেন, এলাকার সমস্যাগুলো বুঝবেন এবং উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবেন। শফিকুল ইসলাম বিশ্বাসকে ঘিরে মানুষের মধ্যে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার মূল কারণও উন্নয়ন ও জনসেবার প্রত্যাশা।
তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা এখনও চলমান। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে কারা থাকছেন এবং ভোটাররা কীভাবে তাদের মূল্যায়ন করবেন—তা নির্ধারিত হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও ভোটারদের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে।শফিকুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন, “আমি মানুষের ভালোবাসা, দোয়া ও সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই। ভাড়াশিমলাকে এমন একটি ইউনিয়ন হিসেবে দেখতে চাই, যেখানে মানুষ নাগরিক সেবা পেতে হয়রানির শিকার হবে না, তরুণরা কর্মমুখী হবে, শিক্ষার্থীরা ভালো পরিবেশ পাবে এবং প্রতিটি এলাকার মানুষ উন্নয়নের সুফল পাবে। মানুষের পাশে থেকে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও আধুনিক ভাড়াশিমলা গড়াই আমার প্রত্যয়। স্থানীয়দের ভাষ্য ও প্রার্থীর ঘোষিত পরিকল্পনা ঘিরে ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে জনমনে আলোচনা বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কী রূপ নেয় এবং উন্নয়ন ও জনসেবার প্রত্যাশা পূরণে ভোটাররা কোন ধরনের নেতৃত্বকে বেছে নেন।