ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে এক ভবনের ওপর হেলে পড়ল আরেকটি ভবন,এলাকায় চরম আতঙ্ক

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৩ ১৬:৪০:১১
ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে এক ভবনের ওপর হেলে পড়ল আরেকটি ভবন,এলাকায় চরম আতঙ্ক
বরিশালে হেলে পড়া ভবন। ছবি : কালবেলা

বরিশাল নগরীর চারতলা একটি ভবনের ওপর হেলে পড়েছে আরেকটি ভবন। স্থানীয়দের দাবি তিন দিন পূর্বে ভূমিকম্পের কারণে চারতলা ভবনটি হেলে পড়েছে যা নজরে আসে রোববার ২৩ নভেম্বর সকালে। নগরীর বেলতলা এলাকায় মাহামুদিয়া মাদ্রাসা সংলগ্নে এ ঘটনাটি ঘটে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে ভবন হেলে পড়ার বিষয়ে দুই ভবনের মালিক একে অপরকে দায়ী করছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের স্থপতি সাইদুর রহমান লুসান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গত ১৪ বছর পূর্বে বেলতলা মাহমুদিয়া মাদ্রাসার পাশে বরিশাল সিটি করপোরেশন থেকে চারতলা ভবনের অনুমতি নিয়ে সাড়ে ৪ তলা ভবন নির্মাণ করেন স্থানীয় আব্দুল মোতালেব হাওলাদার। একই স্থানে গত এক বছর পূর্বে প্ল্যান অনুযায়ী চারতলা ভবন করেন জাহির হাওলাদার নামের আরেকজন। দুটি ভবনেই মালিক এবং ভাড়াটিয়ারা বসবাস করেন।

প্রতিবেশী মো. দুলাল বলেন সকালে রাস্তায় বের হওয়ার পর হঠাৎ করেই চোখ যায় পাশাপাশি দুটি ভবনের দিকে। তিনি দেখতে পান একটি ভবন আরেকটির ওপর হেলে পড়ে আছে। এরপর আস্তে আস্তে এলাকার মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। প্রতিবেশী হারিছুর রহমান স্বপন এবং সাইফুল ইসলাম বলেন ভবন দুটি যেখানে নির্মাণ করা হয়েছে একসময় সেখানে ডোবা ছিল এবং মানুষ ময়লা আবর্জনা ফেলত। রোববার সকালে হঠাৎ করেই দেখতে পান একটি ভবন আরেকটির ওপর হেলে পড়েছে। এতে পুরোনো ভবনের স্যানেটারির পাইপ ফেটে একে দেয়ালের সাথে আরেক দেয়াল মিশে গেছে।

তাঁরা অভিযোগ করেন ভবন নির্মাণে অনিয়ম হয়েছে এবং বিল্ডিং কোড মানা হয়নি। দুই ভবনের মাঝে আড়াই ফুট জায়গা রাখার বিধান থাকলেও এ দুটি ভবনের ক্ষেত্রে সেটা মানা হয়নি। মজুতভাবে নির্মাণ না হওয়ায় ভবন হেলে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

চারতলা নতুন ভবনের মালিক জহির হাওলাদারের ছেলে মো. ফাকের হাওলাদার বলেন আমাদের ভবন নির্মাণ হয়েছে মাত্র এক বছর আগে। প্ল্যান অনুযায়ী চারতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পাশের ভবনটি ১৪ বছর আগে নির্মাণ করা এবং ওই ভবনটিই আমাদের ভবনের ওপর হেলে পড়েছে। এটি দ্রুত অপসারণের দাবি জানান তিনি।

অপরদিকে হাওলাদার ভিলার মালিক আব্দুল মোতালেব হাওলাদার বলেন সকালে বাসা থেকে বের হয়ে দেখি আমার ভবনের ওপর নতুন নির্মাণ করা চারতলা ভবনটি হেলে পড়েছে। হতে পারে গত ২২ নভেম্বর সকালে ভূমিকম্পের সময় ভবনটি হেলে পড়েছে। বিষয়টি সিটি করপোরেশনকে জানানো হয়েছে তারা এসে ব্যবস্থা নেবেন। তবে ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড না মানা এবং প্ল্যান বহির্ভূতভাবে সাড়ে চারতলা ভবন নির্মাণের বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি আব্দুল মোতালেব।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের বা বিসিসির আর্কিটেক বা স্থপতি সাইদুর রহমান লুসান গণমাধ্যমকে বলেন একটি ভবন আরেকটির ওপর হেলে পড়ার খবরটি রোববার সকালেই সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছি। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ভবন দুটি পাশাপাশি হওয়ায় কোন ভবনটি হেলে পড়েছে তা তদন্ত না করে বলা যাচ্ছে না। তিনি বলেন ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ে সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ শাখা কাজ করছে। এরই মধ্যে তারা তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলেছে। নতুন করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করা হবে। তবে মানুষ সচেতন না হলে কোনোভাবেই ভূমিকম্পের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন এই কর্মকর্তা।


পাহাড়ধসের তীব্র ঝুঁকি: অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো সাজেক ভ্যালি

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৭ ২১:৩৫:০৪
পাহাড়ধসের তীব্র ঝুঁকি: অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো সাজেক ভ্যালি
ছবি : সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে পাহাড়ধসের চরম ঝুঁকির মুখে রাঙামাটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালির সব স্পট অনির্দিষ্টকালের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে সাজেক ভ্রমণে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসক (ডিসি) নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক জরুরি অফিশিয়াল গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়।

জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ সতর্কবার্তা এবং রাঙামাটি জেলায় চলমান টানা অতিভারী বর্ষণের ফলে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় মারাত্মক ভূমিধস ও পাহাড়ধসের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে মূল সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শুরু করে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে সাজেক ভ্যালির প্রধান রিসোর্ট এলাকা, সব সাব-ট্যুরিস্ট স্পট, প্রাকৃতিক ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, দুর্গম এলাকা এবং অন্যান্য সব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটর, গাইডসহ সর্বসাধারণের প্রবেশ ও যেকোনো ধরনের ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

পার্বত্য জেলার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষকে সাজেকে ভ্রমণ ও যাতায়াত থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সব নিরাপত্তা নির্দেশনা ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস কঠোরভাবে মেনে চলার জন্যও সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

/আশিক


ঢাকাসহ ১৭ জেলায় বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস, সতর্কতা জারি

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৭ ১০:৪০:৫০
ঢাকাসহ ১৭ জেলায় বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস, সতর্কতা জারি
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও অস্থিতিশীল আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিনের প্রথমার্ধে রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের ১৭ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী ঝড়ো হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও বজ্রপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে আবহাওয়ার দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, দক্ষিণ কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত দমকা ও ঝড়ো হাওয়া স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনাও থাকবে।

যেসব জেলার ওপর দিয়ে এই ঝড়ো আবহাওয়া বয়ে যেতে পারে, সেগুলো হলো রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট। এসব এলাকার নদীপথ ব্যবহারকারী নৌযানগুলোকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির স্বাক্ষরিত সতর্কবার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রপাতের ঝুঁকিও রয়েছে। তাই খোলা মাঠ, নদী, জলাশয় এবং উঁচু স্থানে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের সার্বিক আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায়, এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অনেক স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি বিভাগে পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অতিবৃষ্টির কারণে নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের প্রবণতা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও বজ্রপাত ও ঝড়ো হাওয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে।

এ অবস্থায় নৌপথ ব্যবহারকারী, কৃষক, জেলে এবং সাধারণ মানুষকে সর্বশেষ আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

-রাফসান


আজ ১৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৭ ১০:৩৭:৪৮
আজ ১৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
ছবি : সংগৃহীত

গ্যাস পাইপলাইনের উন্নয়ন ও সংযোগ (টাই-ইন) কাজের কারণে আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় টানা ১৬ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এ সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস পাওয়া যাবে না। একই সঙ্গে আশপাশের এলাকাতেও গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি।

প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্যাস পরিবহন নেটওয়ার্কের সক্ষমতা উন্নয়ন ও পাইপলাইন টাই-ইন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ১৬ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। কাজটি জয়দেবপুর (গাজীপুর) থেকে কুমুদিনী (টাঙ্গাইল) পর্যন্ত বিস্তৃত ১০ ইঞ্চি ও ২০ ইঞ্চি ব্যাসের ১৪০ পিএসআইজি গ্যাস পাইপলাইনে পরিচালিত হবে।

এই রক্ষণাবেক্ষণ ও সংযোগ কার্যক্রমের কারণে জয়দেবপুর, নাওজোর, ইটাহাটা, কড্ডা, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা (পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা), কালিয়াকৈর এবং মির্জাপুর এলাকার সংশ্লিষ্ট গ্যাস লাইনের সঙ্গে যুক্ত সব শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।

তিতাস আরও জানিয়েছে, যেসব এলাকায় সরাসরি সংযোগ বন্ধ থাকবে না, সেসব এলাকার অনেক গ্রাহকও স্বল্পচাপের কারণে গ্যাস ব্যবহারে সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন। বিশেষ করে শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও সিএনজি স্টেশনগুলোকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইপলাইন টাই-ইন বা নতুন সংযোগ স্থাপনের কাজ জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এ ধরনের কাজের সময় সাময়িকভাবে সরবরাহ বন্ধ রাখা প্রযুক্তিগতভাবে প্রয়োজন হয়, যাতে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে এবং দীর্ঘমেয়াদে সেবার মান উন্নত হয়।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। কাজ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।

সাময়িক এ অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করেছে।

-রাফসান


আজ বের হওয়ার আগে দেখুন কোন মার্কেট বন্ধ

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৭ ০৯:৫৬:৫২
আজ বের হওয়ার আগে দেখুন কোন মার্কেট বন্ধ
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট সাপ্তাহিক ছুটির কারণে নির্ধারিত সময়ের জন্য বন্ধ থাকে। অনেকেই প্রয়োজনীয় কেনাকাটা, ব্যবসায়িক কাজ বা দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে দূর-দূরান্ত থেকে রাজধানীর বিভিন্ন শপিং জোনে যান। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে যদি দেখা যায় মার্কেট বন্ধ, তাহলে সময়, শ্রম ও যাতায়াতের খরচ সবই বৃথা যেতে পারে। তাই মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কোথায় কেনাকাটা করা যাবে এবং কোন কোন মার্কেট বন্ধ থাকবে, তা আগে থেকেই জেনে নেওয়া জরুরি।

মঙ্গলবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা ও জনপ্রিয় শপিং কেন্দ্র সাপ্তাহিক বন্ধ পালন করবে। ফলে এসব এলাকায় কেনাকাটার পরিকল্পনা থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা রাখাই হবে সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

সাপ্তাহিক ছুটির কারণে কাঁঠালবাগান, হাতিরপুল, মানিক মিয়া এভিনিউ, রাজাবাজার, মণিপুরীপাড়া, তেজকুনীপাড়া, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, নীলক্ষেত, কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোড, শুক্রাবাদ, সোবহানবাগ, ধানমণ্ডি, হাজারীবাগ, জিগাতলা, রায়েরবাজার, পিলখানা এবং লালমাটিয়া এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকবে।

এছাড়া রাজধানীর জনপ্রিয় একাধিক শপিং মল ও মার্কেটও মঙ্গলবার বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, মোতালেব প্লাজা, ইস্টার্ন প্লাজা, সেজান পয়েন্ট, নিউ মার্কেট, চাঁদনী চক, চন্দ্রিমা মার্কেট, গাউসিয়া মার্কেট, ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেট, বদরুদ্দোজা মার্কেট, প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টার, গাউসুল আজম মার্কেট, রাইফেলস স্কয়ার (বর্তমান সীমান্ত সম্ভার), অরচার্ড পয়েন্ট, ক্যাপিটাল মার্কেট, ধানমণ্ডি প্লাজা, মেট্রো শপিং মল, প্রিন্স প্লাজা, রাপা প্লাজা, কারওয়ান বাজার ডিআইটি মার্কেট এবং অর্কিড প্লাজা।

বিশেষ করে নিউ মার্কেট, গাউসিয়া, এলিফ্যান্ট রোড, বসুন্ধরা সিটি এবং ধানমণ্ডি রাজধানীর সবচেয়ে ব্যস্ত কেনাকাটার কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। তাই এসব স্থানে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে বন্ধের বিষয়টি মাথায় রাখা প্রয়োজন।

বাণিজ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে সাপ্তাহিক ছুটি একদিনে না হয়ে ভিন্ন ভিন্ন দিনে হওয়ায় ক্রেতাদের আগে থেকেই তথ্য জেনে বের হওয়া উচিত। এতে অপ্রয়োজনীয় যানজট, সময় অপচয় এবং ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব হবে।

-রফিক


তিতাসের জরুরি বিজ্ঞপ্তি: মঙ্গলবার ১৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ২১:৫৫:৩৫
তিতাসের জরুরি বিজ্ঞপ্তি: মঙ্গলবার ১৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
ছবি : সংগৃহীত

গ্যাস পাইপলাইনের জরুরি টাই-ইন কাজের জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গাজীপুর ও টাঙ্গাইলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল ও আবাসিক এলাকায় টানা ১৬ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। সোমবার (৬ জুলাই) তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির পক্ষ থেকে এক জরুরি অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিতাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু করে রাত ১২টা পর্যন্ত গাজীপুর ডিভিশনের আওতাধীন জয়দেবপুর, নাওজোর, ইটাহাটা, কড্ডা, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা (পল্লী বিদ্যুৎ), কালিয়াকৈড় এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকায় ১০ ইঞ্চি ও ২০ ইঞ্চি ব্যাসের ১৪০ পিএসআইজি উচ্চচাপের গ্যাস পাইপলাইনের জরুরি টাই-ইন কাজ পরিচালিত হবে। এই বিশেষ কারিগরি মেরামতের কারণে নির্ধারিত সময়জুড়ে উল্লিখিত এলাকাগুলোতে সব ধরনের গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে।

এই দীর্ঘমেয়াদি শাটডাউনের প্রভাবে জয়দেবপুর থেকে শুরু করে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় অবস্থিত সব ধরনের শিল্পকারখানা, ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের গ্যাস সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকবে। পাশাপাশি এর আশপাশের সংলগ্ন এলাকাগুলোতেও গ্যাসের চাপ (প্রেসার) স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

পাইপলাইন মেরামতের এই অনিবার্য কারণে গ্রাহকদের সাময়িক যে ভোগান্তি হবে, তার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস পিএলসি। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারিগরি কাজ শেষ করে দ্রুততম সময়ে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক করার জোরালো আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি।

/আশিক


নানিয়ারচর সেনা জোনের উদ্যোগে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ২১:৫১:০২
নানিয়ারচর সেনা জোনের উদ্যোগে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ
ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর সেনা জোনের উদ্যোগে "সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্প” এর আওতায় নানিয়ারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প, বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ এবং চক্ষু পরীক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৬ জুলাই ২০২৬, সোমবার সকাল ১০ টা হইতে ২ ঘটিকা পর্যন্ত উক্ত কর্মসূচিতে রাঙ্গামাটি সিএমএইচ এর মেডিক্যাল অফিসার ক্যাপ্টেন মোহসেনা নাজবিন শিপা, নানিয়ারচর সেনা জোনের মেডিক্যাল অফিসার ক্যাপ্টেন মাকসুদুল হাসান এবং তাদের মেডিক্যাল টিম স্থানীয় জনগণকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।

এ সময় মোট ৯২ জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে নানিয়ারচর সেনা জোনের তত্ত্বাবধানে লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতাল, চট্টগ্রাম কর্তৃক বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত ১২৯ জন জনগণের জন্য বিশেষায়িত চক্ষু চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা হয়।

সর্বমোট ২২১ জন ব্যক্তি বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ, প্রয়োজনীয় ঔষধ এবং চক্ষু পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন।

এছাড়াও, নানিয়ারচর সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল মোঃ মশিউর রহমান, পিএসসি উপস্থিত থেকে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, "দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে"।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি জনসাধারণের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


৩ বাহিনীর প্রধানের উপস্থিতিতে পিজিআর সদর দপ্তরে কেক কেটে ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ২১:৪৬:৫০
৩ বাহিনীর প্রধানের উপস্থিতিতে পিজিআর সদর দপ্তরে কেক কেটে ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
ছবি : মোঃ মাসুদ রানা

রবিবার ঢাকা পিজিআর সদর দপ্তরে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)-এর ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে কেক কাটা হয়। অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।একটি জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ তার শহীদরা। আর সেই শহীদদের রক্তের উপর দাঁড়িয়েই একটি দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র টিকে থাকে। দেবিদ্বারের বারেরা গ্রামের কৃতি সন্তান শহীদ নায়েক আবু তাহের তেমনি একজন দেশপ্রেমিক সৈনিক। যিনি ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন।

শহীদ আবু তাহের শুধু একজন সৈনিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে সেক্টর-২ এর অধীনে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধ করেছেন। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের গর্বিত সদস্য হিসেবে দেশের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধান। যথা: সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং কমান্ডেন্ট প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল আলম প্রমুখ।

প্রতিবছর সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হন তার পরিবারের সদস্যরা।

শহীদ নায়েক মোঃ আবু তাহের ১৯৫২ সালের ২৫ জানুয়ারি কুমিল্লা দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সাদির বক্স। তিনি ১৯৭০ সালের ০১ জুলাই পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন।

তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সেক্টর-২ এর অধীনে সক্রিয়ভাবে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টে একজন গর্বিত গার্ডস সদস্য হিসেবে যোগদান করেন। সাহসী ও কর্তব্যপরায়ণ এই সদস্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

শহীদ নায়েক আবু তাহের’র ২ পুত্র ও ১ কন্যা সন্তান রয়েছেন। তাদের মধ্যে *মো. সেলিম রসুলী এনএসআই’র ডেপুটি ডিরেক্টর পদে কর্মরত, অপর ছেলে মো. মাসুম রসুলী এনএসআই’র ফিল্ড অফিসার পদে কর্মরত এবং কন্যা সেলিনা আক্তার গৃহিণী।

এই সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এফএম তারেক মুন্সি বলেন, "শহীদদের রক্তের ঋণ আসলে শোধ করা যায় না। তবে বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সেই ঋণের প্রতি সম্মান জানাতে বদ্ধপরিকর।"

দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ গিয়াস উদ্দিন বলেন, "শহীদ জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়নে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি ও দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। শহীদ পরিবারগুলোই আমাদের রাজনীতির মূল শক্তি।"

নেতারা আরও বলেন, "শহীদ আবু তাহের মতো দেশপ্রেমিকদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ আমরা গণতন্ত্রের কথা বলতে পারি। শহীদ তাদের পরিবারের পাশে বিএনপি সবসময় আছে এবং থাকবে।"


ডেঙ্গুর নতুন হটস্পট ১৪ জেলা, বাড়ছে বড় শঙ্কা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ১০:১২:১৯
ডেঙ্গুর নতুন হটস্পট ১৪ জেলা, বাড়ছে বড় শঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই দেশে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে ডেঙ্গু সংক্রমণ। একসময় রাজধানীকেন্দ্রিক রোগ হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন ঘটেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন ডেঙ্গুর বিস্তার দ্রুত জেলা শহর ও পৌর এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে অন্তত ১৪টি জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যা আগামী দুই মাসে আরও বড় জনস্বাস্থ্য সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬ হাজার ৪৫৮ জন এবং মারা গেছেন ১৯ জন। জুন মাসেই শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৯০৭ জন, যা চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মাসিক সংক্রমণ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষার মূল সময় এখনও বাকি থাকায় জুলাই ও আগস্টে আক্রান্তের সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়তে পারে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার জানিয়েছেন, বর্তমানে বরিশাল, বরগুনা, পিরোজপুর, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, মাদারীপুর, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। তাঁর মতে, এসব এলাকা ধীরে ধীরে এডিস মশার নতুন হটস্পটে পরিণত হচ্ছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনই সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে জেলা ও পৌরসভাগুলোর অধিকাংশের কাছে পর্যাপ্ত বাজেট, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং প্রশিক্ষিত জনবল না থাকায় মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট আক্রান্তের প্রায় ৭৭ শতাংশই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে বরিশাল বিভাগে (১,৭৩৫ জন)। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ (১,২০১ জন), ঢাকার বাইরের ঢাকা বিভাগ (৭৯৮ জন), ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (৯৩১ জন) এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (৫৪৯ জন)।

জেলাভিত্তিক সংক্রমণের দিক থেকেও উদ্বেগ বাড়ছে। বর্তমানে পিরোজপুর, বরিশাল, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী এবং চট্টগ্রাম ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব এলাকায় বর্ষাকালে জমে থাকা পানি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং দুর্বল মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, গত দুই মাস ধরে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বিশেষ ট্যাবলেট ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে কীটতত্ত্ববিদের ঘাটতি। দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে মাত্র একটি—ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে একজন পূর্ণকালীন কীটতত্ত্ববিদ রয়েছেন। বাকি সিটি করপোরেশনগুলোতে এ ধরনের কোনো বিশেষজ্ঞ নেই। এছাড়া জেলা পর্যায়ের বহু অনুমোদিত পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, বিভাগীয় কার্যালয় ও সদর দপ্তরসহ অনুমোদিত ৩৩টি কীটতত্ত্ববিদ পদের মধ্যে অন্তত ১৮টি এখনও শূন্য। ফলে মশার প্রজাতি শনাক্ত, প্রজননস্থল চিহ্নিতকরণ, কীটনাশকের কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নির্ধারণে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ফগার মেশিন দিয়ে ধোঁয়া ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। কার্যকর প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত লার্ভা ধ্বংস, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানি অপসারণ, পরিত্যক্ত টায়ার ও প্লাস্টিক বর্জ্য পরিষ্কার এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, বর্ষার মূল মৌসুম এখনো বাকি। তাই এখনই কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং বৈজ্ঞানিক মশক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

-রফিক


আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ১০:০৬:৪০
আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
ছবি : সংগৃহীত

সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪-এর আওতাধীন কয়েকটি এলাকায় টানা প্রায় ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। বিদ্যুৎ বিতরণ লাইনের নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং শিল্প-কারখানাগুলোকে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ জানিয়েছে, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। রক্ষণাবেক্ষণ কাজ নিরাপদ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতেই সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আব্দুল্লাহপুর ফিডার ও কালীগঞ্জ ফিডারের আওতায় থাকা হাসনাবাদ হাউজিং, বেয়ারা, মজিদ বেয়ারা, জিন্দাপীর মাজার, জিএস তলা, তেঘরিয়া এবং ইকুরিয়া এলাকায় এ সময় বিদ্যুৎ থাকবে না।

এ ছাড়া জাজিরা ফিডারের অন্তর্ভুক্ত স্ট্যান্ড বাজার, নতুন বাক্তার চর, পুরান বাক্তার চর, কোন্ডার চর, খুনের চর, মধ্যের চর এবং মোল্লা বাজার এলাকাও একই সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে বিতরণ লাইন আরও নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ করা হবে। নিয়মিত এ ধরনের কাজের ফলে ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমানো এবং সেবার মান উন্নত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হলে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে। তবে আবহাওয়া বা কারিগরি পরিস্থিতির কারণে কাজের সময়সূচিতে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে যাতে সাধারণ মানুষ অপ্রস্তুত না হন, সে জন্য মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি আগে থেকেই চার্জ দিয়ে রাখা, বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সাময়িক এই অসুবিধার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন করা হবে।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: