আল জাজিরার এক্সপ্লেইনার

যতবার গাজা যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে ইসরায়েল, ভয়ংকর রেকর্ড

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৩ ১১:১০:৫৯
যতবার গাজা যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে ইসরায়েল, ভয়ংকর রেকর্ড
ছবি: আল জাজিরা

গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে। ১০ অক্টোবর ২০২৫ থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েল অন্তত ৩৯৩ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে নিশ্চিত করেছে গাজার গভর্নমেন্ট মিডিয়া অফিস। আকাশপথে বোমাবর্ষণ, আর্টিলারি হামলা, স্নাইপার গুলি ও স্থল অভিযান সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি কেবল কাগজে-কলমে বিদ্যমান থাকলেও বাস্তবে গাজা প্রায় প্রতিদিনই হামলার শিকার হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ১০ অক্টোবর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে ইসরায়েলের আক্রমণে অন্তত ৩১২ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৭৬০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে, যা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

প্রতিদিনের লঙ্ঘন: হামলা, অভিযান এবং গুলি-যুদ্ধবিরতির কোনও বাস্তবতা নেই

গাজার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চলছে বলে দাবি করা হলেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। পরিসংখ্যান বলছে-

  • সাধারণ নাগরিককে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে ১১৩ বার
  • “ইয়েলো লাইন” অতিক্রম করে স্থল অভিযান হয়েছে ১৭ বার
  • আকাশ ও স্থল থেকে বোমা–আর্টিলারি হামলা হয়েছে ১৭৪ বার
  • বাড়িঘর ও সম্পদ ধ্বংস হয়েছে ৮৫ বার
  • আটক করা হয়েছে কমপক্ষে ৩৫ জন ফিলিস্তিনিকে

এই অভিযানগুলো যুদ্ধবিরতির মূল ধারা-“সম্পূর্ণ শত্রুতা বন্ধ” এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। প্রতিদিনের হামলার বিবরণে দেখা যায়, গাজা যেন কখনোই যুদ্ধবিরতির ছায়া অনুভব করতে পারেনি।

৪২ দিনের মধ্যে ৩৫ দিন হামলার শিকার গাজা

আল জাজিরার বিশ্লেষণ অনুসারে, যুদ্ধবিরতির ৪২ দিনের মধ্যে ৩৫ দিনই ইসরায়েল গাজায় হামলা পরিচালনা করেছে। অর্থাৎ, মাত্র আট দিন কোনও মৃত্যুর খবর বা আঘাতের ঘটনা ঘটেনি।তবুও যুক্তরাষ্ট্র বলছে “ceasefire is still holding”, যা আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন একটি পক্ষ প্রতিদিন আক্রমণ চালায় আর অন্য পক্ষ বাস্তবে প্রতিরোধ করতে পারে না, তখন তাকে যুদ্ধবিরতি বলা যায় না। বরং তা একতরফা আগ্রাসনের রূপ নেয়।

  • ১৯ অক্টোবর ও ২৯ অক্টোবর: যুদ্ধবিরতির সবচেয়ে ভয়াবহ দুই দিন
  • ১৯ অক্টোবর “বিরোধী পক্ষ হামলা করেছে” অভিযোগের পর পাল্টা আগ্রাসন

ইসরায়েল দাবি করে, রাফাহ এলাকায় হামাস যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এই দাবি উঠে আসে দুই ইসরায়েলি সৈন্য নিহত হওয়ার পর। তবে হামাস জানায়, রাফাহ অঞ্চলে তাদের কোনও যোদ্ধা উপস্থিত ছিল না এবং ঐ এলাকা সম্পূর্ণভাবে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন।

এ অভিযোগের পর ইসরায়েলের ব্যাপক পাল্টা হামলায় অন্তত ৪৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়।

২৯ অক্টোবর-একদিনে ১০৯ জন নিহত

রাফাহতে স্বল্পস্থায়ী গোলাগুলির পর ইসরায়েল আবারও ব্যাপক হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০৯ জন নিহত হয়, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু ছিল বলে জানায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সেদিনই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন-“The Israelis hit back, and they should hit back.”

এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে আরও ক্ষুব্ধ করেছে এবং যুদ্ধবিরতির নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

গণহত্যার দীর্ঘ ছায়া: দুই বছরে নিহত প্রায় ৭০ হাজার

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘমেয়াদি হিসাব অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে ২০ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত গাজায় নিহত হয়েছে-

  • ৬৯,৫৪৬ জন, এর মধ্যে ২০,১৭৯ শিশু
  • আহত হয়েছে ১,৭০,৮৩৩ জন

এই সংখ্যা দেখায় দুই বছরে গাজায় এমন ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে, যা আধুনিক ইতিহাসে নজিরবিহীন।

মানবিক সহায়তা এখনও রুদ্ধ: চুক্তির শর্ত বাস্তবে প্রয়োগ হয়নি

যুদ্ধবিরতির প্রধান শর্ত ছিল গাজায় ‘পূর্ণ’ মানবিক সহায়তা প্রবেশ করবে। কিন্তু বাস্তবে- WFP বলছে, প্রয়োজনীয় খাদ্যের মাত্র ৫০% গাজায় পৌঁছাচ্ছে স্থানীয় সংস্থাগুলোর মতে, সহায়তার মোট মাত্র ২৫% বাস্তবে পৌঁছেছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত গাজায় প্রবেশ করেছে ৫,০৩৭টি ট্রাক, যা মৌলিক চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে ১৫,০০০ ট্রাক aid প্রবেশ করেছে ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক aid সংগঠনগুলো এই সংখ্যাকে “অবাস্তব” হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইসরায়েল খাদ্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে

ব্লকড খাদ্যসামগ্রী:

  • মাংস
  • দুগ্ধজাত পণ্য
  • সবজি

শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর উপাদান

অনুমতি পেয়েছে:

  • চকোলেট
  • স্ন্যাকস
  • ক্রিস্পস
  • সফট ড্রিংকস

এর ফলে অপুষ্টি, রোগ ও চিকিৎসার অভাবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।

২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা: গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

যুক্তরাষ্ট্রের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনায় উল্লেখ ছিল—

  • সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি
  • মানবিক aid পূর্ণ প্রবেশ
  • গাজায় বন্দিদের মুক্তি
  • ইসরায়েলের তিন ধাপে প্রত্যাহার
  • ২,০০০ ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তি

কিন্তু মার্কিন নেতৃত্বাধীন এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইসরায়েল ও হামাস অনুপস্থিত ছিল। ফলে চুক্তির কার্যকারিতা শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, যখন প্রধান পক্ষগুলোই শান্তি প্রক্রিয়ায় নেই, তখন কোনও যুদ্ধবিরতি টেকসই হতে পারে না।

মানবিক, রাজনৈতিক ও ভূ-কৌশলগত সংকট গাজার ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত

যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিক লঙ্ঘন, সহায়তার বাধা, অবকাঠামো ধ্বংস, ঘরহারা মানুষ, বন্দি ও আহতদের দীর্ঘ তালিকা সবকিছু মিলিয়ে গাজা এখন ইতিহাসের সবচেয়ে গভীর মানবিক সংকটে।

বিশ্বজুড়ে চাপ থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত এবং শান্তি প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হওয়ায় গাজার সাধারণ মানুষের জীবনে নিরাপত্তা, খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয়—সব ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে।


ইরাকে পৌঁছেছে খামেনির মরদেহ, আজ কারবালায় শোকযাত্রা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ১০:৫৫:৩৮
ইরাকে পৌঁছেছে খামেনির মরদেহ, আজ কারবালায় শোকযাত্রা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ ইরাকে পৌঁছেছে। তেহরানে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে বিশেষ বিমানে তার মরদেহ ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফে নেওয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনি এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের কফিন বহনকারী বিমানটি নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে সরকারি প্রতিনিধি, ধর্মীয় আলেম এবং স্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। বিমানবন্দরজুড়ে শোকাবহ পরিবেশের মধ্যেই মরদেহ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

আজ বুধবার খামেনির মরদেহ নাজাফ থেকে পবিত্র নগরী কারবালায় নেওয়া হবে। সেখানে একাধিক ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ও জানাজার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের ধারণা, ইরাকের বিভিন্ন প্রদেশ ছাড়াও প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা লাখো মানুষ এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকের শিয়া মুসলিম সমাজে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ব্যাপক প্রভাব ছিল। বিশেষ করে নাজাফ ও কারবালার ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্ক এবং শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্বে তার অবস্থানের কারণে দেশটির বিপুলসংখ্যক মানুষ তাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এই প্রেক্ষাপটে জানাজা উপলক্ষে ইরাকে বুধবার সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে।

এর আগে রোববার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে খামেনির প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। ওই নামাজে ইমামতি করেন ইরানের বিশিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানী। একই জানাজায় খামেনির পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের জন্যও দোয়া করা হয়, যাদের মধ্যে ছিলেন তার জামাতা ড. মেসবাহ-উল-হোদা বাঘেরি-কানি, কন্যা জাহরা হাদ্দাদ-আদেল, ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদী-গোলপায়েগানি এবং সাইয়েদেহ বুশরা হোসেইনি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, নাজাফে ইমাম আলী (আ.)-এর পবিত্র মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মরদেহ কারবালায় নেওয়া হবে। সেখানে ইমাম হুসাইন (আ.) এবং হজরত আব্বাস (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণেও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। এই সফরকে শিয়া মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরবর্তীতে খামেনির নিজস্ব ইচ্ছানুযায়ী মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। আগামী ৯ জুলাই পবিত্র শহর মাশহাদে ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করার কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেও খামেনির শেষ যাত্রাকে কেন্দ্র করে ইরান ও ইরাকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ধর্মীয় শোভাযাত্রা ও জানাজায় বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনা থাকায় দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

-রফিক


মার্কিন হামলার পর ইরানের হুঁশিয়ারি, ‘আরও কঠোর জবাব দিব’

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ১০:৪০:২৮
মার্কিন হামলার পর ইরানের হুঁশিয়ারি, ‘আরও কঠোর জবাব দিব’
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, এই অভিযানের পাল্টা জবাব হবে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও কঠোর ও শক্তিশালী। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।

বুধবার (৮ জুলাই) প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে। সামরিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এই হামলার যথাযথ ও কঠোর জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, এমন একটি সংবেদনশীল সময়ে এই হামলা চালানো হয়েছে, যখন ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ ইরাকে শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে হামলাকে রাজনৈতিক ও সামরিক উসকানি হিসেবেও বর্ণনা করেছে তেহরান।

ইরানের সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণভাবে আঞ্চলিক বিষয় এবং এতে বাইরের কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের জন্য ইরান নির্ধারিত রুটই একমাত্র স্বীকৃত ও নিরাপদ পথ। এই অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো প্রশ্ন নেই বলেও স্পষ্ট করেছে দেশটি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান অভিযান চালানো হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সেন্টকমের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অনুযায়ী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ কারণেই সীমিত পরিসরে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হামলার পর দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৪টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিক এলাকায় ১০টি এবং কেশম দ্বীপের মেইসিন গ্রামে আরও চারটি বিস্ফোরণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এসব বিস্ফোরণে হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

-রাফসান


বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন শেষ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৭ ১৮:৩০:১৫
বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন শেষ
ছবি : সংগৃহীত

২০২৪ সালের আগস্ট বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ঢাকার পররাষ্ট্রনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে এক নাটকীয় মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন, চীনের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোর এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব্য কৌশলগত অংশীদারিত্ব—সব মিলিয়ে এক অত্যন্ত চতুর ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি পার করছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক মার্কিন ডেপুটি চিফ অব মিশন জন এফ ড্যানিলোভিচ বাংলাদেশের বর্তমান ভূ-রাজনীতি, ভারতের সাথে আইনি জটিলতা এবং বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর সাথে ঢাকার ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করেছেন।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ও ‘আধিপত্যের’ অবসান

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে ফেরত চেয়ে ঢাকার আনুষ্ঠানিক আবেদনের বিষয়টি প্রধান্য পায়। ড্যানিলোভিচ মনে করেন, শেখ হাসিনাকে দিল্লির আশ্রয় দেওয়া দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি করেছে। বর্তমান বিএনপি সরকার ভারতের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি 'ধীরে কিন্তু সুনির্দিষ্ট' নীতি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র ও একপাক্ষিক আধিপত্যের দিন এখন স্পষ্টতই শেষ। শেখ হাসিনা এবং তাঁর সহযোগীদের ভারতে অবস্থান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায়।” একই সাথে তিনি সতর্ক করে বলেন, ভারতের আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ নিয়ে সেখানে ছড়ানো বিভিন্ন অপপ্রচার ও ‘মিসইনফরমেশন’ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ।

চীন-মিয়ানমার করিডোর ও ওয়াশিংটনের ভারসাম্য

বাংলাদেশকে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোরে যুক্ত করার গুঞ্জন নিয়ে সাবেক এই মার্কিন কূটনীতিক ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। তাঁর মতে, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশের বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং চীন একটি বড় উৎস। মিয়ানমারে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে দেশটির সাথেও অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানো ঢাকার জন্য স্বাভাবিক পদক্ষেপ। তবে এটি ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্কে কোনো ফাটল ধরাবে না বলে তিনি আশাবাদী। ড্যানিলোভিচ বলেন, বাংলাদেশ যদি চতুর ও দক্ষ কূটনীতির পরিচয় দিতে পারে, তবে চীনের সাথে এই অর্থনৈতিক যোগাযোগ ওয়াশিংটনের সাথে কোনো বিরোধের কারণ হবে না।

রোহিঙ্গা সংকট ও রাখাইন করিডোর

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে একটি মানবিক করিডোর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশে চলমান বিতর্ককে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন ড্যানিলোভিচ। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক সাহায্য কমে আসায় দীর্ঘ মেয়াদে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশের পক্ষে এককভাবে সামলানো অসম্ভব। তাই রাখাইনে পরিস্থিতি উন্নত করা এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির জন্য মিয়ানমার সরকার ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সাথে যোগাযোগ বাড়ানো ঢাকার একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও দূরদর্শী পদক্ষেপ।

‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি ও সার্কের স্থবিরতা

ভারত ও পাকিস্তানের বৈরিতার কারণে সার্ক (SAARC) অকার্যকর হয়ে পড়ায় বাংলাদেশ এখন আসিয়ান (ASEAN) এবং ডি-৮ জোটের দিকে নজর দিচ্ছে, যাকে ড্যানিলোভিচ স্বাগত জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে আসিয়ানের অংশীদার হওয়ার জন্য জোরালো লবিং শুরু করেছে, যা দেশটির অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সভাপতি নির্বাচিত হওয়াকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ঢাকার একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন তিনি।

ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের নতুন দিগন্ত

বিপ্লব-পরবর্তী ঢাকাকে ওয়াশিংটন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে উল্লেখ করে ড্যানিলোভিচ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) বা কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত গতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশি কমিউনিটি দুই দেশের মধ্যকার জনগণের সম্পর্ক উন্নয়নে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সূত্র: দ্যা ডেল্টাগ্রাম


গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারিতে মার্কিন নির্ভরতা: ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর বড় দুর্বলতা ফাঁস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৭ ১৮:২৪:২৭
গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারিতে মার্কিন নির্ভরতা: ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর বড় দুর্বলতা ফাঁস
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট (ন্যাটো) থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়, তবে জোটটি পুরোপুরি ভেঙে না পড়লেও ইউরোপের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এক নজিরবিহীন ও দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন প্রশাসনের বিদায়ের পরও হয়তো ইউরোপীয় দেশগুলোর একক নেতৃত্বে ন্যাটো কোনোমতে টিকে থাকবে, তবে এই ঐতিহাসিক বিচ্ছেদ জোটটির মূল কার্যকারিতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে পঙ্গু করে দেবে।

বর্তমানে ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিজস্ব প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চরমভাবে নির্ভরশীল। বিশেষ করে অত্যাধুনিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ (ইন্টেলিজেন্স), সার্বক্ষণিক ড্রোন নজরদারি ও পুনরুদ্ধার অভিযান, এবং স্যাটেলাইট ইন্টেলিজেন্সের মতো মহাকাশ-ভিত্তিক প্রতিরক্ষামূলক প্রযুক্তিতে ইউরোপ অনেকটাই ওয়াশিংটন-নির্ভর।

এছাড়া যুদ্ধকালীন সামরিক রসদ সরবরাহ (লজিস্টিকস) এবং সমন্বিত অত্যাধুনিক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত খাতগুলোতেও মার্কিন সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপীয় শক্তিগুলো কার্যত অসহায়।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র হুট করে ন্যাটো ছেড়ে চলে গেলে সামরিক খাতের এই বিশাল শূন্যতা নিজস্ব প্রযুক্তিতে পূরণ করতে ইউরোপের অন্তত এক দশক বা তারও বেশি সময় লেগে যাবে। শুধু মার্কিন সামরিক সক্ষমতার মূল কারিগরি উপাদানগুলো প্রতিস্থাপন করতেই ইউরোপীয় দেশগুলোকে এক ধাক্কায় প্রায় ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলার অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে।

কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইউরোপের স্থানীয় প্রতিরক্ষা শিল্পগুলো এত বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে এবং দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। এর ওপর আরেকটি বড় সংকট হলো, ইউরোপের অনেক দেশের সেনাবাহিনীই এখন তাদের প্রয়োজনীয় নতুন সেনা নিয়োগ দিতে এবং বর্তমান দক্ষ সৈন্যদের ধরে রাখার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না।

তবে তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিকভাবে এই বিপর্যয়কর আলোচনা যতটা সহজ মনে হচ্ছে, বাস্তবে তা ঘটিয়ে ফেলা মার্কিন প্রশাসনের জন্য ততটা সহজ নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলেই তাঁর একক নির্বাহী আদেশে বা নিজের ইচ্ছামতো যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটো থেকে বের করে নিতে পারবেন না। মার্কিন আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, ন্যাটো থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেকে প্রত্যাহার করতে হলে মার্কিন সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সরাসরি সমর্থন অথবা কংগ্রেসের একটি বিশেষ আইন পাসের প্রয়োজন হবে।

বর্তমান ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অদূর ভবিষ্যতে এমন নাটকীয় কিছু ঘটার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ; কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের (ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান) অধিকাংশ প্রভাবশালী আইনপ্রণেতার মধ্যেই ন্যাটোর কৌশলগত উপস্থিতির প্রতি এখনও জোরালো ও নীতিগত সমর্থন রয়েছে।

/আশিক


‘ফিলিস্তিনের কষ্ট না বুঝলে মানুষ নন’

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৭ ১০:২০:৪৯
‘ফিলিস্তিনের কষ্ট না বুঝলে মানুষ নন’
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মহারণে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ফুটবলকে ছাপিয়ে মানবিক সংকটের প্রসঙ্গ সামনে আনলেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি গাজা উপত্যকার চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ অনুভব করতে না পারলে তাকে প্রকৃত মানুষ বলা যায় না—সে আরব, ইউরোপীয় বা আমেরিকান যেই হোক না কেন।

হাসানের এই মন্তব্য বিশ্বকাপ ঘিরে ক্রীড়াঙ্গনের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মানবিক বিপর্যয়ের সময় ধর্ম, জাতি কিংবা ভূখণ্ডের পরিচয়ের চেয়ে মানুষের পরিচয়ই সবচেয়ে বড় হওয়া উচিত।

এর আগে নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় তুলে নেওয়ার পর সেই সাফল্য ফিলিস্তিনের জনগণের উদ্দেশে উৎসর্গ করেছিলেন মিসরের এই কোচ। বিজয়ের উদযাপনে মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শনের ঘটনাও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বার্তা নয়; বরং নির্যাতিত মানুষের প্রতি একজন মানুষের স্বাভাবিক সহমর্মিতার প্রকাশ।

হোসাম হাসান বলেন, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে কোনো প্রাণীর ওপর নির্যাতন হলেও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিবাদ হয়। অথচ হাজার হাজার নিরীহ মানুষের মৃত্যু ও মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনাকে অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে দেখা হচ্ছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তার মতে, নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব, এটি কোনো জাতিগত বা ধর্মীয় অবস্থানের বিষয় নয়।

তিনি আরও বলেন, "আমি আরব হওয়ার আগে একজন মানুষ। ফুটবল আমাদের একে অপরকে সম্মান করতে শেখায়। যদি খেলাধুলা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক মূল্যবোধের কথা বলে, তবে মানুষের জীবন রক্ষার প্রশ্নেও একই মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা উচিত।"

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। বহু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজারেরও বেশি, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ নারী ও শিশু। লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়েছে। একই সঙ্গে অনেক ক্রীড়াবিদ, কোচ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বও প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। হোসাম হাসানের বক্তব্যও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে আবেগঘন মানবিক বার্তার পাশাপাশি মাঠের লড়াই নিয়েও আত্মবিশ্বাসী মিসরের কোচ। আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে খেলতে নামলেও তাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।

তার ভাষায়, "আমাদের স্বপ্নের কোনো সীমা নেই। আমরা নিজেদের ছোট দল মনে করি না। সামনে মেসির মতো ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার থাকলেও আমরা বিশ্বাস করি নিজেদের সামর্থ্য দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারব।"

হোসাম হাসান আরও বলেন, এই বিশ্বকাপে মিসর শুধু নিজেদের জন্য খেলছে না; তারা পুরো আরব বিশ্ব ও আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করছে। যদি আর্জেন্টিনাকে হারানো সম্ভব হয়, তাহলে সেটি হবে মিসরের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি। কারণ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেবে উত্তর আফ্রিকার দেশটি।

বিশ্লেষকদের মতে, মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগে মানবিক সংকট নিয়ে হোসাম হাসানের খোলামেলা অবস্থান বিশ্বকাপের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফুটবলকে শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে মানবিক মূল্যবোধের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবেই তার এই বক্তব্যকে দেখছেন অনেকেই।

সূত্র: আল জাজিরা


‘অন্য ভাষায় জবাব পাবেন’ ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৭ ১০:১৬:৪৫
‘অন্য ভাষায় জবাব পাবেন’ ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এসএনএসসি) সচিব মোহাম্মদ বাঘের যুলঘাদর ট্রাম্পের বক্তব্যের কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, ইরান কোনো ধরনের হুমকি বা অসম্মানজনক ভাষা মেনে নেবে না। প্রয়োজনে তার উপযুক্ত ও দৃঢ় জবাব দেওয়া হবে।

সোমবার (৬ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে যুলঘাদর বলেন, ইরানের জনগণকে ভয় দেখিয়ে কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে মন্তব্য করেন, ইরানের জনগণের সঙ্গে সম্মানজনক ভাষায় কথা বলতে হবে, অন্যথায় তেহরান ভিন্ন ভাষায় জবাব দিতে প্রস্তুত।

এর আগে একই দিনে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সংঘাতে "যে কোনো উপায়ে জয়ী হবে"। তিনি আরও বলেন, "হয় একটি সমঝোতা হবে, নয়তো বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হবে, আর সেটি করা কঠিন নয়।" ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

ইরানের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান তার বিবৃতিতে ট্রাম্পের বক্তব্যকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, কয়েক হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সভ্যতার অধিকারী একটি জাতিকে ভয় দেখানোর চেষ্টা নতুন কিছু নয়। অতীতেও ইরানকে হুমকি দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি যুক্তরাষ্ট্র। বরং সেই ধরনের নীতির পরিণতি ছিল ব্যর্থতা, অচলাবস্থা এবং শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার প্রয়োজনীয়তা।

যুলঘাদরের ভাষায়, ইরানের জনগণ দীর্ঘ ইতিহাসে বহু সংকট ও বিদেশি চাপ মোকাবিলা করেছে। তাই বাইরের শক্তির ভয়ভীতি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করা তাদের স্বভাব নয়। তিনি দাবি করেন, ৯ কোটির বেশি ইরানিকে লক্ষ্য করে দেওয়া হুমকিমূলক বক্তব্য বাস্তবতা বিবর্জিত এবং তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সবসময় জাতীয় মর্যাদা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। যে কোনো আগ্রাসী আচরণ কিংবা অবমাননাকর বক্তব্যের জবাব দেওয়া হবে পরিস্থিতি বিবেচনায় "দৃঢ়, হিসাবকৃত ও উপযুক্ত উপায়ে"।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই বাকযুদ্ধ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, পারমাণবিক ইস্যু এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এখনও পুরোপুরি কাটেনি, ফলে উভয় পক্ষের এমন কঠোর বক্তব্য ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় দেশের রাজনৈতিক ভাষ্য আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কারণ, কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: প্রেস টিভি


খামেনির জানাজার মাঠে ‘কিল ট্রাম্প’ স্লোগান, তেহরানে প্রতিশোধের আগুনে উত্তপ্ত লাখো জনতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ১৮:৪৩:০৩
খামেনির জানাজার মাঠে ‘কিল ট্রাম্প’ স্লোগান, তেহরানে প্রতিশোধের আগুনে উত্তপ্ত লাখো জনতা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় এবার সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার স্লোগান উঠেছে। রোববার (৫ জুলাই) তেহরানের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে খামেনির কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে উপস্থিত হাজারো জনতা এই চরম প্রতিশোধের আহ্বান জানান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলায় খামেনি ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ার পর, যুদ্ধের উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন দাফন প্রক্রিয়া থমকে ছিল। বর্তমানে ইরানজুড়ে তাঁর সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও জানাজার আনুষ্ঠানিকতা চলছে।

গ্র্যান্ড মোসাল্লায় অনুষ্ঠিত এই বিশাল জানাজা কেবল শোকের আবহে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা মার্কিন ও ইসরাইল বিরোধী তীব্র প্রতিশোধের আবেগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হাজার হাজার সাধারণ মানুষ আগের রাত থেকেই মসজিদ চত্বরে অবস্থান নেন। শোকগ্রস্ত জনতা এ সময় ইরানের জাতীয় পতাকা, খামেনির ছবি এবং যুদ্ধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক ‘লাল পতাকা’ হাতে নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই জানাজা পড়ান কোম শহরের ৯৭ বছর বয়সী প্রবীণ ও শীর্ষ আলেম আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি। খামেনির মরদেহের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের আরও তিন সদস্যের জানাজা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ছিলেন খামেনির পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেল এবং মাত্র ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়গানি। বিমান হামলায় নিহত নিষ্পাপ শিশুটির ছোট কফিনটি দেখে জানাজায় উপস্থিত আপামর জনতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরুর ঠিক আগে ইরানের প্রখ্যাত কবি মোহাম্মদ রাসুলি একটি শোক ও প্রতিবাদী কবিতা পাঠ করেন। তিনি সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, “এখন থেকে কাফনের কাপড়ই আমাদের একমাত্র পোশাক। হে নেতা, আপনার পবিত্র রক্তের কসম, ট্রাম্পকে হত্যা করা এখন আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “যে ব্যক্তি আমাদের ইমামকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, আমরা কেন তাকে দায়ী করে খতম করব না? এটা না করা আমাদের জন্য চিরকালের কলঙ্ক।”

তাঁর এই ওয়ান-লাইন বক্তব্যের পর উপস্থিত লাখো জনতা তুমুল করতালি ও গগনবিদারী স্লোগান দিয়ে এর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানায়। এ প্রসঙ্গে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ) সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলকাদর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “জনগণ এখন মূলত দুটি স্পষ্ট স্লোগান দিচ্ছেন—প্রথমটি শত্রুদের বিরুদ্ধে অবিচল প্রতিরোধ এবং দ্বিতীয়টি শহীদ নেতার রক্তের চূড়ান্ত প্রতিশোধ।”

পিতার মৃত্যুর পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত মোজতবা খামেনিকে অবশ্য এই জানাজায় প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তবে তাঁর বাকি তিন ভাই—মুস্তফা, মাসুদ ও মেসাম জানাজায় সামনের কাতারে উপস্থিত ছিলেন। সরকারি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, ফেব্রুয়ারি মাসের ওই বিমান হামলার সময় মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হয়েছিলেন, তবে বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত এবং তাঁর স্থায়ী কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়নি। জানাজায় আরও শরিক হন কুদস ফোর্সের প্রধান কমান্ডার জেনারেল ইসমাইল কানি, আইআরজিসি কমান্ডার আহমদ ওয়াহিদিসহ দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও বিপ্লবী গার্ডসের সামরিক কর্মকর্তারা।

প্রায় ৩০ হাজার ধারণক্ষমতার মোসাল্লা চত্বরটি ভোর হওয়ার আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। অনেক ইরানি নাগরিক নিজেদের শরীরজুড়ে সাদা কাফনের কাপড় জড়িয়ে সেখানে অংশ নেন। চারদিক থেকে তখন মুহুর্মুহু স্লোগান উঠছিল—‘কোনো আপস নয়, কোনো আত্মসমর্পণ নয়, শুধু প্রতিশোধ’। জানাজার মাঠের কিছু অংশে ইংরেজিতে ‘কিল ট্রাম্প’ (Kill Trump) লেখা প্ল্যাকার্ড ও বার্তাও প্রদর্শন করা হয়।

জানাজায় অংশ নেওয়া তেহরানের বাসিন্দা লায়লা আহমাদি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নেতার রক্তের বদলা নিতে প্রয়োজনে আমরা লাঠি-কোদাল নিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়ব।” হোসেন দেহঘান নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় আকাশপথে হত্যা করার পর মানুষের মনে গভীর ক্ষোভের জন্ম নিয়েছে। কোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের সঙ্গে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।”

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ঐতিহাসিক জানাজার পর আজ সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানের প্রধান প্রধান রাজপথে একটি বিশাল রাষ্ট্রীয় শোকমিছিল বের করা হবে। এরপর আয়াতুল্লাহ খামেনির মরদেহ পর্যায়ক্রমে ইরানের ধর্মীয় শহর কোম, তারপর ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালা হয়ে সর্বশেষ তাঁর জন্মস্থান মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজা (আ.) মাজার প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশাল জানাজা ও ট্রাম্পকে টার্গেট করে দেওয়া স্লোগান মূলত বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে ইরানের অভ্যন্তরীণ ইস্পাত-কঠিন ঐক্য এবং মার্কিন বিরোধী প্রতিরোধের শক্তির এক প্রচ্ছন্ন বার্তা দিয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


এক আঘাতেই খতম করার ট্রাম্পের হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সভ্যতা নিয়ে খোঁচা দিল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ১৮:৩০:২৯
এক আঘাতেই খতম করার ট্রাম্পের হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সভ্যতা নিয়ে খোঁচা দিল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় সমবেত ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে ‘এক আঘাতেই খতম’ করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া চরম উসকানিমূলক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও কড়া জবাব দিয়েছে তেহরান। ট্রাম্পের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র পেশিশক্তি দিয়ে মানুষ হত্যা করতে পারলেও মানুষের ভেতরের ‘আদর্শকে’ কখনো মুছে ফেলতে পারে না। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক দীনতাকে তীব্রভাবে কটাক্ষ করে ইরান সাফ জানিয়েছে, দেশটির কোনো প্রাচীন ‘সভ্যতা’, ‘ইতিহাস’ কিংবা ‘সম্মান’ বলতে কিছুই নেই।

সম্প্রতি মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় লাখ লাখ মানুষের উপচে পড়া স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি নিয়ে চরম বিস্ময় প্রকাশ করেন। ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে মন্তব্য করেন, “আমি ভেবেছিলাম ইরানের সাধারণ মানুষ খামেনিকে তীব্র ঘৃণা করে। জানাজায় হয়তো এগুলো তাদের সাজানো বা ভুয়ো কান্না।”

এর পরপরই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, শোক প্রকাশ করতে এক মাঠে জড়ো হওয়া ইরানের পুরো শীর্ষ নেতৃত্বকে এক আঘাতেই চিরতরে নির্মূল করার পূর্ণ সামরিক সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, “তারা সবাই (ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব) সেখানে এক মাঠে উপস্থিত আছে। মাত্র একটি আঘাতেই আমরা তাদের সবাইকে খতম করে দিতে পারি। তবে আমরা এই মুহূর্তে তা করব না, কারণ তাহলে আমাদের সাথে রাজনৈতিক আলোচনা করার মতো ওপারে আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না।”

ট্রাম্পের এমন চরম উসকানিমূলক ও যুদ্ধংদেহী বক্তব্যের জবাবে আর্মেনিয়াস্থ ইরানি দূতাবাস তাদের অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে পাল্টা আঘাত হানে। গত ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের ঐতিহাসিক প্রসঙ্গটি টেনে ট্রাম্প এবং সামগ্রিক মার্কিন প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে দূতাবাসটি লেখে, “মানুষকে হয়তো শারীরিকভাবে হত্যা করা যায়, কিন্তু মানুষের চিন্তাধারা ও আদর্শকে নয়।

আপনারা হয়তো কাপুরুষের মতো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করেছেন, কিন্তু বাস্তবে আপনারা মূলত একটি সুগন্ধির বোতল ভেঙে ফেলেছেন, যার শাহাদাতের সুবাস এখন বিশ্বজুড়ে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।” মার্কিন সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করে ওই পোস্টে আরও বলা হয়, “আপনারা এই গভীর রাজনৈতিক ও আত্মিক দর্শন কখনো বুঝবেন না, কারণ আপনাদের নিজস্ব কোনো দীর্ঘ সভ্যতা, সমৃদ্ধ ইতিহাস কিংবা আন্তর্জাতিক সম্মান—কোনোটিই নেই।”

উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলায় পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যসহ নির্মমভাবে নিহত হন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর পর অভ্যন্তরীণ নানা সমীকরণ ও নিরাপত্তার কারণে বেশ কিছুদিন বিলম্বের পর অবশেষে তেহরানের ঐতিহাসিক মোসাল্লা প্রাঙ্গণে কয়েক দিনব্যাপী বিশাল রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শোকসভার আয়োজন করা হয়। যেখানে খামেনির ঘোষিত উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি ব্যতীত তাঁর বাকি তিন ছেলে এবং ইরানের বর্তমান শীর্ষ রাজনৈতিক ও বিপ্লবী গার্ডসের (আইআরজিসি) সামরিক নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমানে তেহরানের মোসাল্লা চত্বরে খামেনির মরদেহ রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মানে সর্বসাধারণের প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার সাধারণ ইরানি নাগরিক এবং বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হচ্ছেন। তেহরান, কোম, নাজাফ এবং কারবালা শরিফে সপ্তাহব্যাপী দীর্ঘ আনুষ্ঠানিক শোক শোভাযাত্রা শেষে আগামী ৯ জুলাই আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফন কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি।


খামেনির শোক র‌্যালিতে জনসমুদ্র, প্রতিশোধের লাল পতাকায় মুখর তেহরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ১২:১৮:৪৩
খামেনির শোক র‌্যালিতে জনসমুদ্র, প্রতিশোধের লাল পতাকায় মুখর তেহরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী তেহরানে লাখো মানুষের সমাগম ঘটেছে। সোমবার (৬ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল থেকেই শুরু হওয়া শোক র‌্যালিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের ঢলে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এটি আধুনিক ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শোক আয়োজনগুলোর একটি।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৬টায় তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্স থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শোক র‌্যালি শুরু হয়। এর আগে দুই দিন ধরে একই স্থানে সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছিল। ভোর থেকেই নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, শোক র‌্যালিটি প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টাব্যাপী চলবে। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই শোকযাত্রা দামাভান্দ স্ট্রিট, ইমাম হুসেন স্কয়ার, ইনকিলাব স্ট্রিট, আজাদি স্ট্রিট, আজাদি স্কয়ার এবং মেহরাবাদ বিমানবন্দরের নিকটবর্তী শহীদ লাশগরি হাইওয়ে অতিক্রম করবে। পুরো পথজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ইরানের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রোববার অনুষ্ঠিত জানাজার নামাজে ইমামতি করেন ইরানের অন্যতম শীর্ষ শিয়া আলেম আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানী। ওই জানাজায় খামেনির পাশাপাশি তার জামাতা ড. মেসবাহ-উল-হোদা বাঘেরি-কানি, কন্যা জাহরা হাদ্দাদ-আদেল, ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদী-গোলপায়েগানি এবং সাইয়েদেহ বুশরা হোসেইনির জন্যও দোয়া করা হয়।

খামেনির শেষ বিদায়কে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। ইরানি সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, তাজিকিস্তান ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এছাড়া একাধিক দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল তেহরানে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শোক প্রকাশ করেছে।

রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার ইরানের পবিত্র নগরী কোমে আরেকটি জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বুধবার মরদেহ ইরাকে নেওয়া হবে। সেখানে নজফে ইমাম আলী (আ.)-এর পবিত্র মাজার এবং কারবালায় ইমাম হুসাইন (আ.) ও হযরত আব্বাস (আ.)-এর পবিত্র মাজারে বিশেষ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।

এরপর খামেনির ইচ্ছা অনুযায়ী মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে। আগামী ৯ জুলাই তাকে মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে। দাফনের পর দেশজুড়ে স্মরণসভা, শোকানুষ্ঠান এবং ধর্মীয় কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির শেষ বিদায় উপলক্ষে বিপুল জনসমাগম এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি শুধু একটি রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান নয়, বরং ইরানের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও কূটনৈতিক অবস্থানও নতুন করে বিশ্বমঞ্চে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

পাঠকের মতামত: