“সিন্ডিকেট ভাঙার যুদ্ধে নামছে সরকার”: ফয়েজ তৈয়্যব

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ০৭ ১৮:৫০:০১
“সিন্ডিকেট ভাঙার যুদ্ধে নামছে সরকার”: ফয়েজ তৈয়্যব

টেলিকম ও আইসিটি খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম ও দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে একটি স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক ও জনকল্যাণমুখী অবকাঠামো গড়ার লক্ষ্যে সরকার বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আনছে। এসব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা কিছু বিতর্কিত সিন্ডিকেট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেই তারা সরকারের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে লিপ্ত এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

সোমবার (৭ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাম্প্রতিক বিষয়াদি নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, দেশীয় ব্যবসা বন্ধ করা হচ্ছে এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য, অপপ্রচার ও অপব্যাখ্যার ফসল। বাস্তবে দেশীয় ব্যবসা সংরক্ষণ ও বিকাশেই সরকার কাজ করছে। কিন্তু অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে লাইসেন্সপ্রাপ্ত কিছু মাফিয়া-ধরনের ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, যারা দুর্নীতি, দেনা ও ঋণখেলাপির সঙ্গে যুক্ত, তারা তাদের অপরাধ আড়াল করতে এখন সরকারবিরোধী প্রচারে অর্থ ব্যয় করছে।

তিনি জানান, টেলিকম খাতে বিশেষ করে বিটিসিএলের (বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড) ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্প নিয়ে যত বিতর্ক হচ্ছে, তার সবই পূর্ববর্তী সরকারের আমলে তৈরি হওয়া সমস্যার ফল। ওই সময় প্রকল্পটির টেন্ডার আহ্বান, এলসি সম্পাদন এবং প্রাথমিক অর্থ ছাড়সহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ২৯০ কোটি টাকা অফেরতযোগ্যভাবে পরিশোধ হয়ে গেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল।

ফয়েজ তৈয়্যব বলেন, “এই পরিস্থিতিতে আমরা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছি এবং লিখিতভাবে আমাদের যুক্তিগুলো তুলে ধরেছি। আমরা বলেছি, যেহেতু অর্থ চলে গেছে এবং যেহেতু বিটিসিএলের বর্তমান নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি খুবই দুর্বল জেলা পর্যায়ে মাত্র ১ জিবিপিএস, যা উন্নতমানের ইন্টারনেট সেবার জন্য সম্পূর্ণ অপ্রতুল সেহেতু প্রযুক্তিগতভাবে এই কাজ দ্রুত শেষ করা দরকার।”

তিনি আরও বলেন, বিটিসিএলের প্রতিদ্বন্দ্বী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যেই তাদের নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামো উন্নত করেছে। কিন্তু বিটিসিএল তার নেটওয়ার্ক হালনাগাদ করতে না পারলে খুব দ্রুত বাজার থেকে ছিটকে পড়বে। প্রকল্পের আরেকটি অংশ হলো DWDM (Dense Wavelength Division Multiplexing) ফাইবার নেটওয়ার্ক, যা ছাড়া আইপি নেটওয়ার্ক চালু রাখা সম্ভব নয়। আইপি নেটওয়ার্কের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও ফাইবার নেটওয়ার্ক চালু না হওয়ায় সেই ইনফ্রাস্ট্রাকচার অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে করে ইতোমধ্যে বিনিয়োগ করা প্রায় ৩০০ কোটি টাকা কোনো কাজে আসছে না।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকার একটি নিরপেক্ষ কারিগরি কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে, যারা টেন্ডারে উল্লেখিত যন্ত্রাংশগুলো যাচাই করে দেখবে সেগুলোর গুণগতমান ও কার্যকারিতা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আছে কিনা। বিশেষ সহকারী বলেন, “আমরা এমন কোনো টেন্ডারে সম্মতি দিইনি যেখানে প্রথম স্থান অর্জনকারী কোম্পানিকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে চুক্তি দেওয়া হয়েছে। বরং আমরা সর্বত্র স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতার নীতি অনুসরণ করেছি।”

ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, “যে সব কোম্পানি অতীতে রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করেছে, যারা বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে শত শত কোটি টাকা পাওনা রেখেও নিয়মিত ব্যবসা চালিয়ে গেছে, তারা এখন সরকারের পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ। কারণ আমরা তাদের অবৈধ সুবিধা বন্ধ করে দিচ্ছি, এবং তারা নতুন বিনিয়োগ ছাড়া আগের লাইসেন্স ধরে রাখতে পারবে না।”

দেশীয় ব্যবসায়ীদের নিয়ে উদ্ভূত প্রশ্নের জবাবে ফয়েজ তৈয়্যব বলেন, সরকার কোনো দেশীয় ব্যবসায়ীকে বাজার থেকে সরিয়ে দিচ্ছে না। বরং একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে (সাধারণত ১০-১৫ বছর) তাদের লাইসেন্স পুনর্নবীকরণের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে বর্তমান যেসব লাইসেন্স আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও আধুনিক কাঠামোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, সেগুলো ভবিষ্যতে বাতিল করা হবে। তখন আগ্রহীরা নতুন করে আবেদন করে ব্যবসায় ফিরতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, আইসিটি ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় দুটি পৃথক শ্বেতপত্র প্রণয়ন করছে। এর মাধ্যমে এই খাতের অতীত দুর্নীতি, সীমাবদ্ধতা, অদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে। দুটি প্রকল্পেই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষক ও অধ্যাপকরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন—মোনাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর নেয়াজ আসাদুল্লাহ এবং বুয়েটের অধ্যাপক কামরুল হাসান।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো দুর্নীতি বিষয়ক তথ্য সংগ্রহে পোস্ট বক্স, ই-মেইল এবং গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে তথ্য আহ্বান করেছে। যে কেউ প্রকল্পসংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ দিতে পারবেন।

ব্রিফিংয়ের শেষাংশে ফয়েজ তৈয়্যব বলেন, “আমরা আড়াই হাজার কোটি টাকার অযৌক্তিক প্রকল্প বাদ দিয়েছি। বাজেটেও নতুন কোনো প্রকল্প তুলিনি। কারণ আমরা এখন পর্যন্ত যে অব্যবস্থাপনার মুখোমুখি হচ্ছি তা আগে নিরসন করতে চাই। এর ফলে হয়তো কিছু গোষ্ঠীর স্বার্থে আঘাত লাগছে, কিন্তু দেশের জন্য যেটা ভালো আমরা সেটাই করব।”

তিনি আরও বলেন, সরকারের এই উদ্যোগকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা দুঃখজনক। মিডিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাই, মিডিয়া তথ্যনিষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ প্রতিবেদন তৈরি করুক। জনগণ জানুক সরকার কী করছে, কার স্বার্থে করছে এবং কাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হচ্ছে।”

-শরিফুল, নিজস্ব প্রতিবেদক


সব পরাশক্তিই আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১৭:১৯:২০
সব পরাশক্তিই আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর গভীর আস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই দাবি করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, সৌদি আরব ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ করতে ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। ড. খলিলুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের নতুন বৈদেশিক নীতির মূল মন্ত্র হবে— ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। অর্থাৎ, জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদাকে সবকিছুর ওপরে স্থান দেওয়া হবে।

এদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন এবং ইইউ-র প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে মন্ত্রী বলেন, “আমরা আমাদের বৈদেশিক নীতির রূপরেখা তাদের জানিয়েছি। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ওপর ভিত্তি করেই আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে যাবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রতিটি দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও জাতীয় মর্যাদা বজায় রেখে একটি ‘উইন-উইন’ বা লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তোলাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, প্রধান সব শক্তিধর দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করেছেন। ঝুলে থাকা দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলো আলোচনার মাধ্যমে সম্মানজনকভাবে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে মার্কিন ও ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতদের সাথে এই বৈঠক নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে আরও সুদৃঢ় করল বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

/আশিক


ঈদে টানা ছুটির মহা-প্ল্যান! এক নজরে ছুটির ক্যালেন্ডার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১৬:৩১:৫৪
ঈদে টানা ছুটির মহা-প্ল্যান! এক নজরে ছুটির ক্যালেন্ডার
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অপেক্ষা করছে এক অভাবনীয় খবর। ক্যালেন্ডারের হিসাব অনুযায়ী, মাত্র ১-২ দিনের ব্যক্তিগত ছুটি ম্যানেজ করতে পারলেই এবার টানা ১০ দিনের এক দীর্ঘ অবকাশ উপভোগ করতে পারবেন তারা। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ শনিবার ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের নির্ধারিত ৫ দিনের ঈদের ছুটির সাথে শবে কদর, স্বাধীনতা দিবস এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলেমিশে এমন এক বিরল সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে দেখা যায়নি।

ছুটির শুরুটা হতে পারে ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) শবে কদরের মাধ্যমে। এরপর ১৮ মার্চ (বুধবার) যদি কেউ একদিনের ছুটি নিতে পারেন, তবে ১৯ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ৫ দিনের ঈদের ছুটি সরাসরি তার সাথে যুক্ত হয়ে যাবে। অর্থাৎ ১৮ তারিখের এক দিনের ত্যাগে মিলবে টানা ৭ দিনের বিশাল ছুটি। এখানেই শেষ নয়! ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পর ২৪ ও ২৫ মার্চ (মঙ্গল ও বুধবার) মাত্র দুই দিনের নৈমিত্তিক ছুটি ম্যানেজ করতে পারলেই কেল্লাফতে! কারণ এর পরের দিন ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং ২৭-২৮ মার্চ সাপ্তাহিক ছুটির দিন। ফলে সামান্য বুদ্ধিতেই টানা ১০ দিন অফিসের প্যারা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।

এই দীর্ঘ ছুটির সম্ভাবনা নিয়ে সচিবালয়সহ সরকারি অফিসগুলোতে এখনই শুরু হয়েছে আনন্দঘন গুঞ্জন। অনেকেই ইতোমধ্যেই বাড়ির টিকেট এবং ভ্রমণের পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছেন। তবে এই সুযোগ নিতে হলে অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নৈমিত্তিক ছুটি আগেভাগেই নিশ্চিত করতে হবে। যারা দূর-দূরান্তে থাকেন বা পরিবার নিয়ে দীর্ঘ ভ্রমণের চিন্তা করছেন, তাদের জন্য এই ১০ দিনের ছুটি হবে বছরের সেরা উপহার।

/আশিক


৫ আগস্টের পর ঢালাও মামলা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অ্যাকশন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১৬:২০:৪৩
৫ আগস্টের পর ঢালাও মামলা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অ্যাকশন
ছবি : সংগৃহীত

৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে হওয়া ঢালাও মামলায় অনেক নির্দোষ ও বিশিষ্ট ব্যক্তি হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে স্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষে তিনি এই বিষয়ে কড়া নির্দেশনা প্রদান করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, কোনো অপরাধে জড়িত না থাকা সত্ত্বেও অনেক বড় ব্যবসায়ী, সাংবাদিক এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে আসামি করা হয়েছে, যা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা। এসব মামলা দ্রুত যাচাই-বাছাই করে নিরীহদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, একটি সুবিধাবাদী শ্রেণি এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নিরীহ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলছে। তিনি বলেন, “আমরা সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। তাই কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন জেল-জুলুম বা মামলাবাজির শিকার না হয়, সেটি নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব।” এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার জন্য আলাদা কোনো কমিটির প্রয়োজন নেই বরং পুলিশ বাহিনীর নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এটি দ্রুত সম্পন্ন করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন সবার জন্য সমান। এই তালিকার মধ্যে সাংবাদিক, ব্যবসায়ী বা সাধারণ মানুষ—সবাই অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। যারা প্রকৃতপক্ষে অপরাধের সাথে জড়িত নন, তাদের আর আদালতে দৌড়ঝাঁপ বা পুলিশের হয়রানি সহ্য করতে হবে না। সরকারের এই পদক্ষেপে জনমনে স্বস্তি ফেরার পাশাপাশি দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে প্রধানমন্ত্রীর বড় ধামাকা: আসছে বিশেষ কার্ড

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১৬:১৩:০৬
কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে প্রধানমন্ত্রীর বড় ধামাকা: আসছে বিশেষ কার্ড
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।/ছবি : সংগৃহীত

দেশের প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে সরাসরি সরকারি সেবা ও ভর্তুকি পৌঁছে দিতে ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এই দিক-নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, "কৃষকই দেশের অর্থনীতির প্রাণ। তাই মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ করে কৃষকের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে।" উল্লেখ্য, নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকদের জন্য এই স্মার্ট কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তারেক রহমান।

সভায় জানানো হয়, এই স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরকারি প্রণোদনা ও ভর্তুকির টাকা পাবেন। এতে করে ডাটাবেজ তৈরির মাধ্যমে ভুয়া সুবিধাভোগীদের বাদ দেওয়া সম্ভব হবে এবং কৃষি উপকরণ বিতরণে স্বচ্ছতা আসবে। প্রধানমন্ত্রী কৃষক কার্ডের কারিগরি অগ্রগতির খোঁজখবর নেন এবং মাঠ পর্যায়ে এর দ্রুত বিতরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এই স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থা চালু হলে কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষি বিপ্লবে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষক কার্ড চালুর ফলে সার, বীজ ও ঋণের জন্য কৃষকদের আর কারো দ্বারস্থ হতে হবে না। এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি রাষ্ট্র ও কৃষকের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি হবে। সভার সিদ্ধান্তে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সারা দেশে এই ডাটাবেজ সম্পন্ন করে কার্ড বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


বড় সুখবর! ৪ ধরনের শিক্ষার্থীকে বিশেষ ভাতা দিচ্ছে সরকার: পাবেন যারা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১৬:০৭:১৩
বড় সুখবর! ৪ ধরনের শিক্ষার্থীকে বিশেষ ভাতা দিচ্ছে সরকার: পাবেন যারা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের অসচ্ছল, অসুস্থ এবং দুর্ঘটনায় আহত ক্রীড়াবিদদের পাশাপাশি কৃতি ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ‘জাতীয় ক্রীড়া ভাতা’ ও ‘ক্রীড়া শিক্ষা বৃত্তি’র ঘোষণা দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়। যারা জাতীয় পর্যায়ে দেশের সম্মান বয়ে এনেছেন কিন্তু বর্তমানে আর্থিক সংকটে আছেন বা শারীরিকভাবে অসমর্থ, তাদের ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগ্রহী ক্রীড়াবিদ ও শিক্ষার্থীরা আগামী ৭ মার্চ ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজস্ব মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধনের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। ক্রীড়াবিদদের জীবনমান উন্নয়ন এবং ক্রীড়া শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এই ভাতা ও বৃত্তি বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আবেদনের প্রয়োজনীয় লিংকসমূহ

জাতীয় ক্রীড়া ভাতা: sports-allowance.online.info.bd

ক্রীড়া শিক্ষা বৃত্তি: sports-edu.online.info.bd

/আশিক


সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিন: নতুন দিগন্তের সূচনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১২:২৭:৫৬
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিন: নতুন দিগন্তের সূচনা
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রথমবারের মতো ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে (এএফডি) অফিস করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল ৯টায় তিনি তাঁর কার্যালয়ে পৌঁছালে তিন বাহিনীর প্রধানগণ তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রমে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কুশল বিনিময় শেষে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

এদিন প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিয়মিত কার্যসূচির অংশ হিসেবে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরীকে নতুন ‘র‌্যাঙ্ক ব্যাজ’ পরিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রীর হাতে এই ব্যাজ পরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি নবনিযুক্ত এই কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ারে এক অনন্য সম্মান হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানটি সশস্ত্র বাহিনীর চেইন অব কমান্ডকে আরও সুসংহত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম (অব.), সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা এই মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হন। প্রধানমন্ত্রীর এই অফিস কার্যক্রম সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মনোবল সুদৃঢ় করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক


ভোটের সময় হলো বলে! সিটি নির্বাচন নিয়ে বড় আপডেট দিলেন ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১২:১০:৫৪
ভোটের সময় হলো বলে! সিটি নির্বাচন নিয়ে বড় আপডেট দিলেন ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

সিটি করপোরেশনগুলোতে খুব দ্রুতই নির্বাচনের ঘোষণা আসবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে নিয়মনীতি মেনেই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তবে পরিস্থিতি ও সুযোগ বুঝে সরকার দ্রুতই নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করবে। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপি সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ গড়াই এখন মূল লক্ষ্য।

বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কার্যালয় পুনরায় খোলা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান মির্জা ফখরুল। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এখনো নিষিদ্ধ, তাই তাদের অফিস খোলার কোনো সুযোগ নেই। আমরা এটা চাইনি।" যারা আইন অমান্য করে অফিস খুলছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। উল্লেখ্য, আজ সকালেই গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আওয়ামী লীগের অফিস খোলার খবর আসার পর সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই প্রথম কোনো কড়া মন্তব্য এলো।

সংসদ অধিবেশন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়ে মির্জা ফখরুল জানান, অধিবেশন শুরু হওয়ার পর এই প্রক্রিয়ায় হাত দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে যারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, তাদেরকেই প্রার্থী হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। গত ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাংবাদিকদের সাহসিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের অবদানের কথা বিএনপি সবসময় মনে রাখবে। অল্প সময়ের মধ্যেই বিএনপি সরকার জনগণের মনে জায়গা করে নিয়েছে দাবি করে তিনি একটি সুন্দর ও নিয়মতান্ত্রিক আগামীর প্রতিশ্রুতি দেন।

/আশিক


আড়ালে রাখা হয়েছে রাষ্ট্রপতিকে? ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১০:০৯:৪২
আড়ালে রাখা হয়েছে রাষ্ট্রপতিকে? ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গত শুক্রবার একটি বেসরকারি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি আক্ষেপ করে বলেন, "ড. ইউনূস ১৪ থেকে ১৫ বার বিদেশ সফরে গেলেও একবারের জন্যও আমার কাছে আসেননি বা আমাকে কিছু জানাননি।" রাষ্ট্রপতির মতে, প্রধান উপদেষ্টা সংবিধানের কোনো বিধানই তোয়াক্কা করছেন না। সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে যে, সরকারপ্রধান বিদেশ সফর থেকে ফিরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সফরের সারসংক্ষেপ, আলোচনা বা চুক্তি সম্পর্কে লিখিতভাবে অবহিত করবেন। কিন্তু বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা গত ১৮ মাসে একবারও সেই নিয়ম পালন করেননি বলে অভিযোগ রাষ্ট্রপতির।

সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করেন যে, বর্তমান সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার মূল উৎস ছিলেন তিনি নিজেই। অর্থাৎ, তার উদ্যোগেই এই সরকার যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু সরকার গঠনের পর প্রধান উপদেষ্টা তাকে সম্পূর্ণভাবে ‘আড়ালে’ রাখার চেষ্টা করেছেন বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, "প্রধান উপদেষ্টা আমার সঙ্গে কোনো ধরণের সমন্বয়ই করেননি। এটি আসলে বোঝানোর কোনো উপায়ও নেই, কারণ তিনি একটিবারের জন্যও আমার কাছে আসার প্রয়োজন মনে করেননি।" রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যে সরকারের শীর্ষ দুই পদের মধ্যে চরম সমন্বয়হীনতার বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আরও যোগ করেন যে, ড. ইউনূস তার পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো নির্দিষ্ট অবস্থানে ছিলেন না। রাষ্ট্রপতি নিজেও সাহায্যের জন্য কখনো প্রধান উপদেষ্টার কাছে কোনো আবদার করেননি। নিজের মনোভাব স্পষ্ট করে তিনি বলেন, "আমার মনোভাব ছিল, যা হচ্ছে হতে থাকুক, দেখা যাক কতদূর গড়ায়।" ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা দুই অভিভাবকের মধ্যে এমন দূরত্বের খবরটি দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সংবিধান মেনে চলার বাধ্যবাধকতা নিয়ে রাষ্ট্রপতির এই সরাসরি মন্তব্য ভবিষ্যতে বড় কোনো সাংবিধানিক বিতর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।

সূত্র: কালের কণ্ঠ।


বইমেলার পর্দা উঠবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে: দেবেন একুশে পদক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ২২:০৪:৪৪
বইমেলার পর্দা উঠবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে: দেবেন একুশে পদক
ছবি : সংগৃহীত

দেশের কৃতী সন্তানদের হাতে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক-২০২৬’ তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এই পদক প্রদান করবেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আজম উদ্দীন তালুকদার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই কর্মসূচির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। জাতীয় জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় যারা গৌরবোজ্জ্বল ও অনবদ্য অবদান রেখেছেন, তাদের এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির মাধ্যমে যথাযথ মর্যাদায় সম্মানিত করা হবে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্যগণ এবং সামরিক-বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

পদক প্রদানের রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেই প্রধানমন্ত্রী ওই দিন বিকেলে যোগ দেবেন বছরের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসব ‘অমর একুশে বইমেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সশরীরে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই দ্বিমুখী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংস্কৃতি অঙ্গন ও বইমেলা প্রাঙ্গণে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বইমেলা ও পদক প্রদান অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ নিরাপত্তা ও প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

দেশের শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা ও গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবারের একুশে পদকপ্রাপ্তদের নাম ইতোমধ্যেই সুধীমহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে, অমর একুশে বইমেলা বাংলাদেশের প্রাণের মেলা হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এর উদ্বোধন সাহিত্যপ্রেমীদের মাঝে বাড়তি উদ্দীপনা জোগাবে। ২৬ ফেব্রুয়ারি দিনটি তাই জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক মিলনমেলায় পরিণত হতে যাচ্ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: