বিয়ে করলেই নাগরিকত্ব! ৬টি দেশের চমকপ্রদ সুযোগ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ০১ ১৫:৪০:৩১
বিয়ে করলেই নাগরিকত্ব! ৬টি দেশের চমকপ্রদ সুযোগ

জন্মসূত্রে আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। কিন্তু বিশ্বায়নের এ যুগে অনেকেই নিজ দেশের বাইরে পাড়ি জমাচ্ছেন চাকরি, উচ্চশিক্ষা কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্রে। কেউ কেউ ভালোবেসে বিয়ে করছেন ভিনদেশিদের, যা কেবল সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগই তৈরি করছে না, কখনো কখনো বৈধ উপায়ে নতুন দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথও করে দিচ্ছে সুগম।

বিশ্বের নানা দেশের রয়েছে নিজস্ব অভিবাসন আইন। তবে কিছু দেশ রয়েছে, যেখানে বৈধভাবে নাগরিককে বিয়ে করলেই নাগরিকত্বের আবেদন করা যায় তুলনামূলক কম সময় ও কম জটিলতায়। নিচে এমনই কিছু দেশের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো, যেখানে ভালোবাসা নাগরিকত্বের সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

১. কেপ ভার্ড: বিয়েই যথেষ্ট, বসবাস নয়

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা পশ্চিম আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্ড এমন একটি দেশ, যেখানে সেই দেশের নাগরিককে বিয়ে করলেই আপনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আশ্চর্য হলেও সত্য, এই প্রক্রিয়ায় দেশটিতে দীর্ঘ সময় বসবাসের পূর্বশর্ত নেই। বিয়ের বৈধতা নিশ্চিত করা হলেই নাগরিকত্বের আবেদনের পথ খুলে যায়।

২. স্পেন: মাত্র এক বছরেই নাগরিকত্বের আবেদন

দক্ষিণ ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ দেশ স্পেনে, নাগরিকত্বের আবেদন করতে সময় লাগে মাত্র এক বছর, যদি আপনি একজন স্প্যানিশ নাগরিককে বৈধভাবে বিয়ে করেন এবং তার সঙ্গে এক বছরের যৌথ বসবাসের প্রমাণ দিতে পারেন।শুধু তা-ই নয়, স্পেনের নাগরিকত্ব পেলে আপনি লাতিন আমেরিকা, ফিলিপাইন ও পর্তুগালসহ আরও কিছু দেশের দ্বৈত নাগরিকত্বও রাখতে পারবেন। নাগরিকত্বের জন্য বিয়ের সনদ, যৌথ বসবাসের প্রমাণ, স্প্যানিশ ভাষার প্রাথমিক দক্ষতা এবং সাংস্কৃতিক জ্ঞানের প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে।

৩. আর্জেন্টিনা: প্রেমের আকাশে ফুটবল আর পাসপোর্ট

আর্জেন্টিনা, ফুটবলপ্রেমীদের আবেগের দেশ। এখানকার নাগরিককে বিয়ের মাধ্যমে দুই বছরের মধ্যে নাগরিকত্বের আবেদন করা সম্ভব। এর জন্য প্রাথমিকভাবে স্প্যানিশ ভাষার মৌলিক জ্ঞান এবং দেশে কোনো ধরনের অপরাধের রেকর্ড না থাকার প্রমাণ প্রয়োজন।

৪. মেক্সিকো: ২ বছরেই নাগরিকত্ব, আগের পাসপোর্টও থাকবে

মেক্সিকোতে যদি আপনি নাগরিককে বিয়ে করে দুই বছর একসঙ্গে বসবাস করেন, তবে নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন। মজার ব্যাপার হলো, মেক্সিকোর নাগরিকত্ব পেয়ে গেলেও আপনার আগের দেশের নাগরিকত্ব রাখতে পারবেন, অর্থাৎ দ্বৈত নাগরিকত্ব। এর জন্য প্রয়োজন বিয়ের বৈধ সনদ, যৌথ বসবাসের প্রমাণ ও স্প্যানিশ ভাষার মৌলিক দক্ষতা।

৫. তুরস্ক: ভাষার প্রয়োজন নেই, তিন বছরেই সুযোগ

তুরস্ক, একদিকে ঐতিহাসিক ঐশ্বর্য, অন্যদিকে আধুনিকতা। এখানকার নাগরিককে বিয়ের পর মাত্র তিন বছর একসঙ্গে বৈধভাবে বসবাস করলেই নাগরিকত্বের আবেদন করা সম্ভব। ভাষা শেখার বাধ্যবাধকতা নেই। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, তুরস্কের পাসপোর্ট দিয়ে বিশ্বের ১১০টিরও বেশি দেশে ভিসা ফ্রি বা অন অ্যারাইভাল সুবিধা পাওয়া যায়।

৬. সুইজারল্যান্ড: কড়াকড়ির দেশেও আছে সহজ পথ

সুইজারল্যান্ড সাধারণত অভিবাসন নীতিতে কঠোর। কিন্তু বৈধ বিয়ের ক্ষেত্রে এ দেশটি উদার। সুইস নাগরিককে বিয়ে করে যদি আপনি তিন বছর একসঙ্গে বসবাস করেন এবং মোট পাঁচ বছর দেশের অভ্যন্তরে বৈধভাবে থাকেন, তবে নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন।যদি দেশের বাইরে থাকেন, তাহলে ৬ বছর দাম্পত্য সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ থাকলেও নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব।প্রক্রিয়ায় সাধারণত কম সময় লাগে, তবে প্রমাণ করতে হবে আপনি সুইস সমাজে নিজেকে মিশিয়ে নিয়েছেন ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্পৃক্ততা এই জায়গাগুলোতে।

ভালোবাসা নয় শুধু, বুঝতে হবে আইনও

একটি দেশের নাগরিকত্ব পেলে অনেকগুলো সুবিধা পাওয়া গেলেও মনে রাখতে হবে সবটাই নির্ভর করে আইনি বৈধতা, যথাযথ প্রমাণপত্র ও সম্পর্কের প্রকৃতির ওপর। বিয়েকে ব্যবহার করে নাগরিকত্ব নেওয়ার চেষ্টা করলে অনেক দেশে আইনগত শাস্তির বিধানও রয়েছে।

তবে যদি সম্পর্ক হয় আন্তরিক ও বৈধ, এবং প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা যায় তবে জীবনসঙ্গী হওয়া থেকেই একটি নতুন দেশের নাগরিক হওয়ার দরজা খুলে যেতে পারে।


ভেনেজুয়েলাকে শুধু মার্কিন পণ্য কেনার নির্দেশ ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ১৪:৩২:১৯
ভেনেজুয়েলাকে শুধু মার্কিন পণ্য কেনার নির্দেশ ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি থেকে অর্জিত অর্থ শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত পণ্য কেনার ক্ষেত্রেই ব্যয় করা হবে—এমন শর্তের কথা জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social–এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম TRT World এই বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার বর্তমান ক্ষমতাসীন নেতা Nicolás Maduro ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটির তেল সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তি কার্যকর হয়েছে। সেই চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি থেকে অর্জিত মুনাফা দিয়ে কেবলমাত্র ‘আমেরিকায় তৈরি’ পণ্য কেনা হবে, যা কার্যত দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক করে তুলছে।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, নতুন তেল চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা যে অর্থ পাবে, তা দিয়ে কৃষিপণ্য, শিল্পযন্ত্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং জ্বালানি খাতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি কিনতে পারবে—তবে সবকিছুই যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই শর্ত ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের পাশাপাশি মার্কিন শিল্প ও রপ্তানি খাতকে দীর্ঘমেয়াদে লাভবান করার কৌশল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী Chris Wright বুধবার জানান, ওয়াশিংটন অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখবে। তিনি বলেন, শুরুতে দেশটির সংরক্ষিত অপরিশোধিত তেল এবং পরবর্তীতে ভবিষ্যতে উৎপাদিত সব তেল যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতৃত্বকে ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের বিপণন দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়ার ঘোষণার পরই এই বক্তব্য আসে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ বিশ্বের যেকোনো স্থানে কার্যকর রয়েছে। ক্যারিবীয় সাগর ও উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে একাধিক তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।

-শরিফুল


ভারতীয় শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি: বিপাকে পড়তে পারেন ভারতীয় শিক্ষার্থীরা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ১০:২৯:৫৮
ভারতীয় শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি: বিপাকে পড়তে পারেন ভারতীয় শিক্ষার্থীরা
ছবি : সংগৃহীত

উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গমনকারী এবং বর্তমানে সেখানে থাকা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ওপর কঠোর নজরদারি ও সতর্কবার্তা জারি করেছে মার্কিন প্রশাসন। ভারতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে প্রকাশিত এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আমেরিকার যেকোনো আইন ভঙ্গ করলে তাৎক্ষণিকভাবে ওই শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হতে পারে। নির্দেশিকায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে যে, কোনো অপরাধের কারণে গ্রেফতার হওয়া বা আইন লঙ্ঘন করা শিক্ষার্থীর স্টুডেন্ট ভিসায় মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। এতে কেবল বর্তমান ভিসাই বাতিল হবে না, বরং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং ভবিষ্যতে যাতে তিনি আর কোনো মার্কিন ভিসা না পান, সেই বার্তাও দিয়েছে প্রশাসন।

মার্কিন দূতাবাসের এই নির্দেশিকাটি এমন এক সময়ে এল যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর অভিবাসন নীতিকে আরও কঠোর করেছেন। নির্দেশিকায় শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মার্কিন ভিসা পাওয়া কোনো নাগরিক অধিকার নয়, এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত একটি বিশেষ সুবিধা মাত্র। নিয়ম মেনে না চললে বা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকি তৈরি করলে সেই সুবিধা যেকোনো সময় কেড়ে নেওয়া হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের কারণে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কয়েক লাখ ভারতীয় শিক্ষার্থী ও অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির অধীনে অভিবাসন সংক্রান্ত প্রতিটি নিয়ম আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। এর আগে অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থী অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণেও সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, তবে এবারের নির্দেশিকাটি সরাসরি আইনি পরিণতির কথা উল্লেখ করে বড় ধরণের রেড সিগন্যাল হিসেবে দেখা হচ্ছে। দূতাবাস থেকে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেন তাঁরা স্থানীয় সকল নিয়ম মেনে চলেন এবং কোনো ধরণের আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়েন। আমেরিকার আইন অনুযায়ী ছোটখাটো ট্রাফিক আইন বা সাধারণ শৃঙ্খলা ভঙ্গও এখন স্টুডেন্ট ভিসার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস।


বাংলাদেশ-পাকিস্তান সামরিক সম্পর্ক এখন তুঙ্গে: রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ২১:৩৯:০৬
বাংলাদেশ-পাকিস্তান সামরিক সম্পর্ক এখন তুঙ্গে: রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নে এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে পাকিস্তান ও চীনের যৌথভাবে তৈরি ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ যুদ্ধবিমানকে ঘিরে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) ইসলামাবাদে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই বৈঠকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তি এবং দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তান বর্তমানে তার এই বহুমুখী যুদ্ধবিমানটি বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণ করছে, তাতে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে যে, পাকিস্তান বাংলাদেশকে কেবল যুদ্ধবিমান নয়, বরং ‘সুপার মুশশাক’ প্রশিক্ষণ বিমানের দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা এবং পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণের বিষয়েও দুই দেশের প্রধানদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। যদিও জেএফ-১৭ বিক্রির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হয়নি, তবে বাংলাদেশ এই যুদ্ধবিমানের ব্যাপারে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে বলে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সফর দুই দেশের মধ্যকার শক্তিশালী ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর জোর দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার যৌথ সংকল্পকে প্রতিফলিত করে।

জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমানটি মূলত চীন ও পাকিস্তানের যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি একটি ‘মাল্টি-রোল’ বা বহুমুখী যুদ্ধবিমান, যা আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে ভূমিতে নিখুঁতভাবে আক্রমণ চালাতে সক্ষম। পাকিস্তান বিমানবাহিনী গত বছরের মে মাসে ভারতের সাথে আকাশ যুদ্ধের সাফল্যে এই বিমানটির কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে বলে মনে করে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বিমানবাহিনী তাদের ফ্লিট আধুনিকায়নের যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, সেখানে জেএফ-১৭ একটি সাশ্রয়ী ও কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিরক্ষা ভারসাম্যে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।


স্যার আমি কি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারি?: মোদির অনুরোধে যা বললেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ১৮:১৬:১০
স্যার আমি কি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারি?: মোদির অনুরোধে যা বললেন ট্রাম্প
ফাইল ছবি : রয়টার্স

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জেরে ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত উচ্চ শুল্ক নিয়ে ওয়াশিংটন ও দিল্লির মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এখন প্রকাশ্যে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন যে, তাঁর প্রশাসনের আরোপ করা শুল্ক নীতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি 'তেমন একটা খুশি নন'। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার অর্থনীতিকে সহায়তা করার অভিযোগে ভারত থেকে আসা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্পের দাবি, এই শুল্কের ফলেই ভারত সম্প্রতি রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে।

ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে মোদির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের একটি চমকপ্রদ দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সরবরাহে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে মোদি সরাসরি তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। মোদি তাঁকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করে আক্ষেপ জানিয়েছিলেন যে, ভারত ৬৮টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার অর্ডার দিয়েও পাঁচ বছর ধরে অপেক্ষায় আছে। ট্রাম্প মোদির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গভীরতার কথা স্বীকার করলেও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, জাতীয় স্বার্থ ও বাণিজ্য নীতির প্রশ্নে তিনি কোনো ছাড় দেবেন না। শুল্কের পক্ষে সাফাই গেয়ে তিনি বলেন, এই ট্যাক্সের কারণে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে সরাসরি লাভবান হচ্ছে।

তবে ট্রাম্প কেবল শুল্ক নিয়ে কথা বলেই থামেননি; তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের উৎপাদন গতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, এফ-৩৫ ফাইটার জেট কিংবা অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিদেশি ক্রেতাদের হাতে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগছে, যা কাম্য নয়। ওয়াশিংটন সতর্ক করে দিয়েছে যে, ভারত যদি রাশিয়ার তেল আমদানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ পুরোপুরি দূর না করে, তবে আগামীতে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্কের হার আরও বাড়ানো হতে পারে। মোদি-ট্রাম্পের এই 'বন্ধুত্ব বনাম বাণিজ্য' যুদ্ধ এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির বড় আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

সূত্র : এনডিটিভি


আকাশের সুরক্ষায় পাকিস্তানের সাথে হাত মেলাচ্ছে বাংলাদেশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ২০:০৩:২৬
আকাশের সুরক্ষায় পাকিস্তানের সাথে হাত মেলাচ্ছে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা আলোচনায় বসেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান ইসলামাবাদে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মহাকাশ প্রযুক্তিতে সহযোগিতার পাশাপাশি জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ‘সম্ভাব্য ক্রয়’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

সফরকালে এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানকে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বৈঠকে পাক বিমান প্রধান সিধু বাংলাদেশের বিমান বাহিনীকে মৌলিক ও উন্নত উড্ডয়ন প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত কোর্সে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া বাংলাদেশের অর্ডার দেওয়া সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমানগুলো দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি টেকনিক্যাল সাপোর্টের আশ্বাসও দেন তিনি।

বাংলাদেশের বিমান বাহিনী প্রধান পাকিস্তান বিমান বাহিনীর গৌরবময় পরিচালনাগত অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার সিস্টেম একীভূতকরণে পাকিস্তানের কারিগরি সহায়তা চান। বিশেষ করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিদ্যমান পুরোনো যুদ্ধবিমান বহরের রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে এবং একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে উঠবে বলে আশা করছে আইএসপিআর। প্রতিনিধি দলটি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিমান ঘাঁটি ও কারিগরি স্থাপনাও পরিদর্শন করেছে।

সূত্র: ডন


মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর ট্রাম্পের নতুন টার্গেটে ৫ দেশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১৮:৪৬:৩০
মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর ট্রাম্পের নতুন টার্গেটে ৫ দেশ
ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সামরিক অভিযানে আটক করার নাটকীয়তার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির উচ্চাকাঙ্ক্ষা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ১৮২৩ সালের ঐতিহাসিক ‘মনরো ডকট্রিন’-এর আদলে তিনি নিজের নতুন দর্শন ‘ডনরো ডকট্রিন’ (Donroe Doctrine) ঘোষণা করেছেন। এই নীতির লক্ষ্য হলো পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য নিশ্চিত করা। এই নীতির অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার পর এখন বিশ্বের আরও পাঁচটি দেশ বা অঞ্চল ট্রাম্পের বিশেষ নজরে রয়েছে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

গ্রিনল্যান্ড ও কলম্বিয়া তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড। বিরল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই দ্বীপটি কৌশলগতভাবে উত্তর আটলান্টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প দাবি করেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড দখল করা প্রয়োজন, কারণ সেখানে রুশ ও চীনা জাহাজের আনাগোনা বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ আমেরিকায় ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে কলম্বিয়া। ভেনেজুয়েলার অভিযানের পরপরই ট্রাম্প কলম্বিয়ার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে সতর্ক করে বলেছেন, মাদক পাচারে সহায়তার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ইরান, মেক্সিকো ও কিউবা মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের নিশানায় রয়েছে ইরান। দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হামলা চালানো হলে কঠোর সামরিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। প্রতিবেশী মেক্সিকো সীমান্তে মাদক ও অভিবাসী প্রবাহ ঠেকাতে ট্রাম্প ‘মেক্সিকো উপসাগর’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন এবং কার্টেল দমনে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছেন। সবশেষে কিউবার ওপরও নজর রয়েছে ট্রাম্পের। তিনি মনে করেন, মাদুরোর পতনের পর কিউবার কমিউনিস্ট সরকার এমনিতেই ভেঙে পড়বে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্পের কথাকে যেন তারা হালকাভাবে না নেয়। ল্যাটিন আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলো এখন ট্রাম্পের এই ‘ডনরো ডকট্রিন’-এর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে গভীর শঙ্কার মধ্যে রয়েছে।


মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের বাড়িতে হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ২০:১৬:৪৭
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের বাড়িতে হামলা
ক্ষতিগ্রস্ত বাসভবন ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ব্যক্তিগত বাসভবনে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার মধ্যরাতের পর ওহাইও অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত তাঁর বাড়িতে এই হামলা চালানো হয় বলে আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় ভ্যান্সের বাসভবনের জানলাসহ সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, হামলার সময় জেডি ভ্যান্স বা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য ওই বাড়িতে ছিলেন না। একটি হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার কিছু সময় আগেই ভ্যান্স পরিবার ওহাইও শহর ত্যাগ করেছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ভাইস প্রেসিডেন্টের বাসভবনের জানলাগুলো ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র অ্যান্থনি গুগেলমি জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তি একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ এবং তাঁর বিরুদ্ধে ভাইস প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস, সিনসিনাটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অফিস সমন্বিতভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। আটক ব্যক্তির নাম বা পরিচয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা না হলেও তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ আনার বিষয়ে কাজ চলছে। এক ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, এই ব্যক্তি সরাসরি ভাইস প্রেসিডেন্ট বা তাঁর পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন পরবর্তী উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্টের ওপর এমন হামলা মার্কিন প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে সিক্রেট সার্ভিসের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তির উদ্দেশ্য এবং কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় ওহাইওসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


ভেনেজুয়েলার পর এবার কি ইরান? ট্রাম্পের ‘শক্ত আঘাত’ হানার হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১৮:০২:৫১
ভেনেজুয়েলার পর এবার কি ইরান? ট্রাম্পের ‘শক্ত আঘাত’ হানার হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় আকস্মিক মার্কিন সামরিক অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন যদি আর কোনো প্রতিবাদকারী নিহত হন, তবে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর ‘খুব শক্ত আঘাত’ হানবে। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন এই অস্থিরতার তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল রবিবার রাতে তাঁর বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্সে ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “আমরা ইরানের পরিস্থিতির ওপর অত্যন্ত নিবিড়ভাবে নজর রাখছি। তারা যদি আগের মতো নির্বিচারে মানুষ হত্যা শুরু করে, তবে আমার মনে হয় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তারা খুব শক্ত আঘাত পাবে।” এর আগে শুক্রবার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন যে, তাঁর দেশ ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ অবস্থায় রয়েছে এবং বিক্ষোভকারীদের রক্ষায় যেকোনো সময় হস্তক্ষেপ করতে পারে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার সকালে এক বিবৃতিতে তেহরান দাবি করেছে যে, ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কট্টরপন্থি কর্মকর্তা ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্তব্য মূলত সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “জায়নবাদী সত্তা (ইসরায়েল) আমাদের জাতীয় ঐক্যে আঘাত হানার যেকোনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।” ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, বিদেশি শত্রুরা অর্থনৈতিক অসন্তোষকে পুঁজি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

ইরানে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় গত ২৮ ডিসেম্বর, যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে দোকানদাররা ধর্মঘট শুরু করেন। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই আন্দোলন রাজনৈতিক রূপ নিয়ে তেহরানসহ পশ্চিমাঞ্চলের শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। আল জাজিরার তথ্যমতে, বিক্ষোভে ইতিমধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনার পর ইরানের ওপর ট্রাম্পের এই নতুন চাপ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।


ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১৫:১৫:০০
ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার চলমান রাজনৈতিক সংকট ঘিরে আবারও কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি ‘সমাধানে’ যুক্তরাষ্ট্র যে পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে, তাতে সহযোগিতা না করলে ভেনেজুয়েলার ওপর দ্বিতীয় দফা সামরিক হামলা চালানোর সম্ভাবনা নাকচ করা যায় না। এই বক্তব্য নতুন করে লাতিন আমেরিকাজুড়ে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো–কে যুক্তরাষ্ট্রে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার ঘটনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবে সাড়া না দিলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে এবং সামরিক বিকল্পও আলোচনার বাইরে নয়।

ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। তাঁর ভাষায়, যদি ভেনেজুয়েলা সরকার সহযোগিতা না করে, তাহলে দ্বিতীয় দফা হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী অবস্থানের নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শুধু ভেনেজুয়েলা নয়, একই বক্তব্যে ট্রাম্প প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়া ও মেক্সিকো–র বিরুদ্ধেও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন। যদিও এসব হুমকির পেছনে নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি বা পরিকল্পনার কথা তিনি প্রকাশ করেননি, তবুও মন্তব্যগুলো লাতিন আমেরিকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এদিকে ট্রাম্প কিউবা প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেন, কিউবা–র কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থা অভ্যন্তরীণ চাপে ভেঙে পড়ার পথে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছেন।

তবে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে ট্রাম্পের এই কড়া অবস্থানের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনে অবস্থিত কলম্বিয়া ও মেক্সিকোর দূতাবাস থেকে কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।

-রফিক

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত