মব হামলা ইতিহাসের ওপর আক্রমণ: আইনজীবী সারা হোসেন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২১ ১২:৫৬:৫৪
মব হামলা ইতিহাসের ওপর আক্রমণ: আইনজীবী সারা হোসেন
ছবিঃ সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেছেন, দেশজুড়ে সম্প্রতি যে জনতা হামলা (মব হামলা) ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তা সরাসরি ইতিহাসের ওপর আক্রমণ। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পরও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা এবং বিচারহীনতার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

দৈনিক সমকালের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সারা হোসেন আরও জানান, গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা চলে যাওয়ার পর তিন দিন দেশে কোনো সরকার ছিল না। সেই সময় পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর অনুপস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছিল, যার ফলে নির্বিচারে গুলিতে শতাধিক মানুষ নিহত ও হাজারাধিক আহত হন। পরে ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে তিনি বলেন, “সেই সময় এবং এখনো অনেকের ওপর প্রতিহিংসামূলক আক্রমণ হয়েছে, যা তদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন।”

সাম্প্রতিক জনতা হামলার উদাহরণ হিসেবে তিনি ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ির ওপর বুলডোজার আনার ঘটনা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “সামাজিক মাধ্যমে উস্কানির কারণে ভয়াবহ জনতা তৈরি হয়েছিল। এটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসা উচিত ছিল। ইতিহাসের ওপর এ ধরনের আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি সাম্প্রদায়িক হামলাসহ মাজার ও মন্দিরে আক্রমণের ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে এসব ঘটনার নজরদারি শুরু হলেও সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনও মাঠে পর্যাপ্ত উপস্থিত নয়।”

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সারা হোসেন বলেন, “যেখানে মৃত্যুর অভিযোগ উঠছে, সেখানে প্রতিটি ঘটনার তদন্ত জরুরি। দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।”

জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, “যারা এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে, তারা এখনও অনুশোচনা দেখাচ্ছেন না। তাদের বিচারের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করা দরকার। স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়া আবশ্যক।”

তিনি মানবাধিকার কমিশনের কার্যকারিতার অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “মানবাধিকার কমিশন দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর নয়। একটি কার্যকর কমিশন দরকার, যারা সাহস করে সরকারের সমালোচনা করতে দ্বিধা করবে না।”

/আশিক


অবসান হচ্ছে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির: নতুন মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ১৯:২৮:২৭
অবসান হচ্ছে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির: নতুন মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ
ছবি : সংগৃহীত

দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটে নতুন মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। এই অবকাঠামোগত উদ্যোগের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সাংবাদিকদের এই তথ্য অবহিত করেন।

তিনি জানান, ভোলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও বিভাগীয় শহর বরিশালের সরাসরি সড়ক সংযোগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সভায় তিনটি বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সার্বিক দিক বিবেচনা শেষে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত বরিশাল (রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা) রুটটি চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। এই নতুন মহাসড়ক বাস্তবায়নের মাধ্যমেই ভোলা জেলা সরাসরি মূল জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে।

উচ্চপর্যায়ের এই সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রসারে একটি সুসমন্বিত সড়ক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেন। বিশেষ করে ভোলাকে দ্রুততম সময়ে জাতীয় মহাসড়ক ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেন তিনি।

প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তাবিত এই রুটে বিদ্যমান রাস্তাগুলো প্রশস্ত করার পাশাপাশি বেশ কিছু নতুন সড়ক নির্মাণ করতে হবে এবং একই সাথে তিনটি ছোট সেতু নির্মাণের প্রয়োজন হবে। পুরো প্রকল্পটির কারিগরি সম্ভাব্যতা ও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের বাস্তবতা দ্রুত যাচাই করে দেখা হবে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকা, বরিশালসহ সারা দেশের সঙ্গে ভোলার সরাসরি স্থল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। ফলে দীর্ঘদিনের নদী পারাপারের ঝামেলা দূর হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সময় ও পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

চারপাশ নদী দিয়ে ঘেরা হওয়ায় ভোলার বাসিন্দাদের যাতায়াতে এতদিন নৌপথের ওপরই পুরোপুরি নির্ভরশীল থাকতে হতো। নতুন এই সড়ক সংযোগ চালু হলে সেই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও নৌপথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া নীতিনির্ধারকেরা উল্লেখ করেন, হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটের মূল সুবিধা হলো এর মাধ্যমে সড়কপথে দূরত্ব কমার পাশাপাশি সময় ও সার্বিক ব্যয়ের বড় ধরনের সাশ্রয় হবে। যার ফলে ঢাকা ও বরিশালের সঙ্গে যোগাযোগ সহজতর করতে এটি অত্যন্ত কার্যকর বিকল্প হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


দেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রযুক্তির বড় বিপ্লব: সরকারের নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ১৮:৫৮:৫৪
দেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রযুক্তির বড় বিপ্লব: সরকারের নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ
ছবি : সংগৃহীত

সারাদেশের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমকে একটি একক তথ্যপ্রযুক্তি কাঠামোর অধীন নিয়ে আসতে ‘ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শুরুতেই নির্দিষ্ট কিছু জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২২ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্বাস্থ্যখাতে সমন্বিত তথ্যপ্রযুক্তি রূপরেখা নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। উচ্চপর্যায়ের এই পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই সভাপতিত্ব করেন।

উক্ত বৈঠকে ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের সম্ভাব্য পরিকাঠামো, পরিচালনা প্রক্রিয়া এবং সার্বিক স্বাস্থ্যসেবায় এর প্রয়োগের বিভিন্ন দিক নিয়ে গভীর পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, দেশব্যাপী পুরোপুরি বাস্তবায়নের পূর্বে নির্বাচিত কয়েকটি জেলায় পাইলট প্রকল্প পরিচালনা করে প্ল্যাটফর্মটির কার্যকারিতা, সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতা, আর্থিক ব্যয় এবং সামগ্রিক সম্ভাব্যতা যাচাই করে নেওয়া হবে।

পাইলট প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ও ফলাফলের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ শেষেই পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পরিধি সম্প্রসারণের পথরেখা নির্ধারণ করবে সরকার।

চিকিৎসাসেবায় প্রযুক্তির সময়োপযোগী ব্যবহারের বিষয়ে আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেন, পুরো পরিকাঠামো এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যাতে নাগরিকরা নির্বিঘ্নে এর সুফল লাভ করতে পারেন এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তির পথ আরও সহজ হয়।

বিশেষ করে রোগীর যাবতীয় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নথিপত্রের গোপনীয়তা রক্ষা করে তা নিরাপদভাবে সংরক্ষণ এবং জরুরি মুহূর্তে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের জন্য তা সহজলভ্য করার ওপর তিনি বিশেষ তাগিদ দেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এই ডিজিটাল কাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে নাগরিকের তথ্যের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখা সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হতে হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তিটি যেন সহজে ব্যবহারযোগ্য, কম ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয়, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। সেই সাথে পরীক্ষামূলক প্রকল্পের ফলাফল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করেই পরবর্তী চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন।

বৈঠকের শুরুতে প্রকৌশলী জাকারিয়া স্বপন ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের সামগ্রিক রূপরেখা ও কার্যপ্রণালী নিয়ে একটি বিশদ তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ও ড. শাকিরুল ইসলাম খান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব মো. মামুনুর রশীদসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


পদত্যাগ করলেন তথ্যমন্ত্রী স্বপন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ১৮:৫৪:৩৪
পদত্যাগ করলেন তথ্যমন্ত্রী স্বপন
ছবি : সংগৃহীত

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন। শনিবার (২২ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করার মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির স্বাক্ষরিত ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন পদত্যাগপত্র জমা দিলে তা রাষ্ট্রপতির অনুমোদন লাভ করে। রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ার পর থেকেই এই পদত্যাগ কার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছাড়ার পরপরই নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন। সরকারের পক্ষ থেকে তাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত পৃথক এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর রুল ৩বি(১) ও ৩বি(২)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন এই দায়িত্ব পালনকালে তিনি একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সমমর্যাদা, নির্ধারিত বেতন-ভাতা এবং আনুসঙ্গিক সকল সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্ত হবেন।

/আশিক


সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান জোটে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করল বাংলাদেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ১৮:৪৮:০৭
সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান জোটে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করল বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি দেশীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের মতে, পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে সরকার।

মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত ৭ আগস্ট সংশ্লিষ্ট তিন দেশ এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি সম্পন্ন করে। চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, সদস্যভুক্ত কোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র আগ্রাসন চালানো হলে তা বাকি সবকটি দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হয়। এর ফলে বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় রাষ্ট্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হয়।

জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন, সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে নিজেদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছে।

এর পাশাপাশি নিয়মিত কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সাথে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে কার্যকর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিচ্ছে ঢাকা।

মাসে অনুষ্ঠিত ‘যৌথ প্রতিরক্ষার জন্য মক্কা আল-মুকাররমা শীর্ষ সম্মেলনে’ সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরাসরি উপস্থিতিতে এই সমঝোতা চুক্তি সই হয়।

এই চুক্তির মাধ্যমে অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে সামগ্রিক সামরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার যৌথ অঙ্গীকারও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরদিন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, কারিগরি দিক বিবেচনায় এই কাঠামোটি ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো হলেও এটি নির্দিষ্টভাবে ইরান বা অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিপক্ষে পরিচালিত নয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, তিন বন্ধুভাবাপন্ন দেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা সুরক্ষাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জোটটিকে আরও সম্প্রসারিত করতে আগ্রহী এবং সেই প্রেক্ষাপটে মিসরকে সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর ইসহাক দার গত ৯ আগস্ট জানান, জোটের মৌলিক নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল যে কোনো রাষ্ট্রের জন্যই মক্কা চুক্তির পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

তিনি নিশ্চিত করেন যে, এটি মূলত একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থাপনা, যা দেশগুলোর পূর্ববর্তী কোনো দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক চুক্তিকে বাতিল করে না। বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, কার্যকর সহযোগিতা এবং শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে সমস্যা সমাধানে আগ্রহী দেশগুলোর জন্য এটি একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতির মূল কাঠামোর সাথে এই পদক্ষেপ সামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন এবং একটি নিরাপদ ও উন্নত ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে ইসলামাবাদ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

/আশিক


 মির্জা ফখরুলের জয়ে চীন ও যুক্তরাজ্যের অভিনন্দনবার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ২০:১৪:৪১
 মির্জা ফখরুলের জয়ে চীন ও যুক্তরাজ্যের অভিনন্দনবার্তা
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছে ঢাকায় চীনা দূতাবাস ও ব্রিটিশ হাইকমিশন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই পৃথক বার্তায় নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানায় দুই দেশের কূটনৈতিক মিশন।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার প্রায় ১৫ মিনিট পর ঢাকায় চীনা দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। এর প্রায় ১৫ মিনিট পর একইভাবে নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানায় ব্রিটিশ হাইকমিশন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

ফলাফল ঘোষণার পর চীনা দূতাবাসের অভিনন্দন বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে চীন অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। নতুন যুগে দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টায় ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি’ গড়ে তুলতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত চীন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীন এবং দুই দেশের জনগণ আরও বেশি উপকৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

অন্যদিকে ব্রিটিশ হাইকমিশনের বার্তায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানানো হয়।

ব্রিটিশ হাইকমিশন তাদের বার্তায় আরও জানায়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছে যুক্তরাজ্য।

/আশিক


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি ছয় সংসদ সদস্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ১৮:২৪:০৫
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি ছয় সংসদ সদস্য
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদের মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দিয়েছেন। ভোট দেননি ছয়জন সংসদ সদস্য। দেওয়া ৩৪৩টি ভোটই বৈধ হিসেবে গণ্য হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

ফলাফল ঘোষণার সময় সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মোট ৩৪৯টি ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৪৩টি ব্যালটে ভোট পড়েছে এবং সবগুলো ভোটই বৈধ হয়েছে।

নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত জোটের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ভোটের ফল অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে না পারা ছয় সংসদ সদস্যের মধ্যে দুজনের বিষয়ে তথ্য জানা গেছে। অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এ কারণে তিনি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিতর্কিত ভিডিওকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। ফলে তিনিও ভোট দিতে পারেননি।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল। তিনি বিএনপি কিংবা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের যেকোনো একজনকে ভোট দিতে পারতেন। তবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁকে ভোটকক্ষে দেখা যায়নি।

এ ছাড়া ভোট না দেওয়া বাকি তিন সংসদ সদস্যের নাম এখনো জানা যায়নি।

/আশিক


অলি আহমদকে হারিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ১৮:০৭:১৫
অলি আহমদকে হারিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোট গণনা প্রক্রিয়া শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন রাষ্ট্রপতির নাম ঘোষণা করেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকাল ৫টার পর ভোট গণনা সমাপ্ত করে তিনি এই আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের তথ্য অনুযায়ী, এবারের সংসদীয় নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩৪৯ জন। এর মধ্যে ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ফলাফল প্রকাশের পরপরই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে লাল গোলাপ উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এই নির্বাচনে অধিকাংশ সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকলেও ছয়জন সদস্য ভোট দেননি। এর মধ্যে পাঁচজন সংসদ সদস্য কেন্দ্রে আসেননি। তারা হলেন—ঢাকা-৮ আসনের মির্জা আব্বাস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের রুমিন ফারহানা, সাতক্ষীরা-৪ আসনের গাজী নজরুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের ড. ওসমান ফারুক এবং চট্টগ্রাম-৩ আসনের মোস্তফা কামাল পাশা। এছাড়া দলীয় সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ভোটাধিকার প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকেন।

/আশিক


অশ্রুসিক্ত বিদায়ী বক্তব্যে দল ও দেশের প্রতি অঙ্গীকার মির্জা ফখরুলের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৯ ২০:১১:০৭
অশ্রুসিক্ত বিদায়ী বক্তব্যে দল ও দেশের প্রতি অঙ্গীকার মির্জা ফখরুলের
বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনেছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বিদায়ী বক্তব্য দিয়েছেন দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি আবেগঘন হয়ে পড়েন এবং দলের সংসদ সদস্যদের কাছে দোয়া চেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দলীয় সংসদ সদস্যদের মির্জা ফখরুলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব দূর করার কঠোর নির্দেশনা দেন।

বৈঠকের শুরুতে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য দিয়ে সংসদ সদস্যদের ভোটিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করেন এবং মির্জা ফখরুলের পক্ষে সমর্থন চান। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলে মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হবে। এরপর বক্তব্য দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং দলীয় প্রধান তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা চান এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আজীবন অবিচল থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

পরবর্তীতে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দিনটিকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে বলেন, বহু ত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই অবস্থান তৈরি হয়েছে। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মির্জা ফখরুলের অতীত ত্যাগ ও দুঃসময়ে দল পরিচালনার সাহসিকতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল থাকার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এলাকার তৃণমূলের সঙ্গে সংসদ সদস্যদের কোনো ধরনের দূরত্ব তৈরি হতে দেওয়া যাবে না। এবারের নির্বাচন দলীয় প্রতীকবিহীন হওয়ায় তা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, অতীতে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে প্রার্থী হয়ে দলের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া যাবে না। তৃণমূলের গ্রহণযোগ্য ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমর্থন দিয়ে বিজয়ী করতে এখন থেকেই কাজ শুরু করার তাগিদ দেন তিনি। সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও দলীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


১৮০ দিনের কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের অ্যাপ্রুভাল রেটিং প্রকাশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৯ ১৯:৫০:৩৮
১৮০ দিনের কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের অ্যাপ্রুভাল রেটিং প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সার্বিক কার্যক্রমে দেশের ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বলে এক জাতীয় জনমত জরিপে উঠে এসেছে। স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডপলার রিসার্চ বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনায় এবং ইনোভিশন কনসালটিংয়ের অর্থায়নে পরিচালিত ‘অ্যাপ্রুভাল রেটিং সার্ভে ২০২৬’-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। বুধবার এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম নিয়ে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ অসন্তোষ জানিয়েছেন এবং ১২ দশমিক ১ শতাংশ উত্তরদাতা কোনো মতামত প্রকাশ করেননি।

চলতি আগস্টে প্রাপ্তবয়স্কদের একটি প্যানেলের ওপর সরাসরি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে মোট ১০ হাজার ৪১৩টি কলের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জরিপ অনুযায়ী, বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষা ও আয়ভেদে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্টির মাত্রা ৬১ দশমিক ৭ থেকে ৭০ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে রয়েছে এবং দেশের আটটি বিভাগেই এ হার ৬২ দশমিক ৩ শতাংশের ওপরে। বিরোধী দলগুলোর সমর্থকদের মধ্যেও তাঁর ইতিবাচক গ্রহণযোগ্যতা লক্ষ্য করা গেছে; যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৬৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং আওয়ামী লীগের ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ সমর্থক প্রধানমন্ত্রীর কাজের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

তবে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত রেটিংয়ের তুলনায় সরকারের সার্বিক কাজের মূল্যায়নে কিছুটা ব্যবধান দেখা গেছে। সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমকে ভালো বলেছেন ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং খারাপ উল্লেখ করেছেন ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ। দেশ সঠিক পথে চলছে বলে মত দিয়েছেন ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা, বিপরীতে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করছেন দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে এবং ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ কোনো মন্তব্য করেননি।

নাগরিকরা প্রধান জাতীয় সংকট হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যা (৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ) এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি (৫৯ দশমিক ১ শতাংশ)-কে চিহ্নিত করেছেন, যার প্রভাব পড়েছে সরকারি মূল্যায়নেও। সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ, জ্বালানি ও গ্যাসে ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশ এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক প্রত্যাশা লক্ষ্য করা গেছে। এক বছর আগের তুলনায় পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়েছে বলে ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ জানালেও, আগামী এক বছরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ। এছাড়া সরকারের ফ্যামিলি কার্ডে ৭৮ দশমিক ৬ শতাংশ, করনীতিতে ৭০ দশমিক ৭ শতাংশ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা সমর্থন জানিয়েছেন। জরিপে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের কার্যক্রমকে ভালো বলেছেন ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ এবং এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়কের কাজকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ। নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নিজ এলাকায় রাতে একা হাঁটার ক্ষেত্রে ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ নারী এবং ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ নিরাপদ বোধ করেন। সামগ্রিকভাবে এই জরিপের ফলাফলকে ‘সতর্ক আশাবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।

/আশিক

পাঠকের মতামত: