মার্কিন ইরান সংঘাত
"বুলসআই" অর্থাৎ নিখুঁত হামলা: ট্রাম্পের ইরান টার্গেটে দাবি

রোববার সন্ধ্যায় প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম প্রোফাইলে এক বিবৃতিতে দাবী করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ইরানের সব পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি লিখেছেন, “স্যাটেলাইট ছবিগুলি প্রমাণ করে—ইরানের সব পারমাণবিক স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, “সবথেকে বড় ক্ষতি হয়েছে ভূগর্ভে—‘বুলসআই!’” তবে অভিযোগের সঙ্গে তিনি কোনও স্যাটেলাইট ছবি বা বিস্তারিত তথ্য শেয়ার করেননি।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসনের অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেছেন—ক্ষয়ক্ষতির আকার, প্রকৃতি ও প্রভাব এখনো সম্পূর্ণ পরিষ্কার নয়। তাদের মতে, তথ্য পুনঃমূল্যায়ন ও সরকারি বিশ্লেষণ এখনো চলমান; এখনও অনেক অদৃশ্যমান জয়গা রয়ে গেছে। ফলে, ট্রাম্পের দাবীর সাথে সরকারি প্রতিক্রিয়ার ভিন্ন সমীকরণ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই ধরণের প্রচারণামূলক বক্তব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার ভারসাম্যকে আরও অচল করে তুলতে পারে। আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ পর্যায়ে হলে যদি প্রকৃত যেকোনো হামলার তথ্য ভিত্তি না থাকে, তাহলে তা আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো ও কূটনীতি বিপর্যস্ত করে দিতে পারে।
এ সময় চিন্তার বিষয়—ট্রাম্প যখন ‘মনুমেন্টাল ড্যামেজ’ এবং ‘বুলসআই’ শব্দ ব্যবহার করছেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য প্রক্রিয়া এই দাবী কতটা গ্রহণ করে তা স্পষ্ট নয়। পরিস্থিতি এখন বিশ্বজুড়ে স্পষ্ট ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যাখ্যার অপেক্ষায়।
-হাসানুজ্জামান , নিজস্ব প্রতিবাদক
যুদ্ধ থামাতে যেসব শর্ত দিল ইরান, বাড়ছে উত্তেজনা
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক চাপের মুখে ইরানের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জাতীয় ঐক্যের প্রতিফলন এবং এই সংকট মোকাবিলার প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করছে।
সোমবার প্রেসিডেন্টের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে দেশের বর্তমান অবস্থা, জরুরি সেবার ধারাবাহিকতা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তাদের কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে, বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জনজীবনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এই পরিস্থিতিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং বলেন, সংকটকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বজায় রাখা এবং জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তার মতে, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং জনসম্পৃক্ততা একসঙ্গে কাজ করলে যুদ্ধকালীন চাপ মোকাবিলা করা সম্ভব।
তিনি আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শুধুমাত্র তখনই, যখন তা ইরানের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং কৌশলগত স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করবে। বাহ্যিক চাপ বা রাজনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে কোনো আপসের পথ গ্রহণ করা হবে না বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকাও এই বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রেসিডেন্ট তাদের ‘বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ’কে জাতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য তাদের প্রশংসা করেন।
একই সঙ্গে, গত এক মাস ধরে দেশজুড়ে যে ব্যাপক জনসমর্থন ও ঐক্যের প্রকাশ ঘটেছে, তা তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তার মতে, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ কেবল রাজনৈতিক বার্তাই নয়, বরং একটি শক্তিশালী সামাজিক ভিত্তি তৈরি করে, যা দীর্ঘস্থায়ী সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকর।
-রাফসান
যুদ্ধের ধাক্কায় দুবাই-আবুধাবি শেয়ারবাজারে বড় পতন
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের ফলে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেয়ারবাজারে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে দুবাই ও আবুধাবির পুঁজিবাজার মিলিয়ে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ বাজারমূল্য হ্রাস পেয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাজারগুলোর মধ্যে ইউএইকে স্থান দিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুবাইয়ের প্রধান সূচক প্রায় ১৬ শতাংশ এবং আবুধাবির সূচক প্রায় ৯ শতাংশ কমেছে। Dubai Financial Market General Index–এর বাজারমূল্য কমেছে প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার, অন্যদিকে বৃহত্তর ADX General Index–এর মূল্য হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার।
একই সময়ে উপসাগরীয় অন্যান্য বাজারেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কাতার ও বাহরাইনের শেয়ারবাজার যথাক্রমে প্রায় ৪ শতাংশ ও ৭ শতাংশ কমেছে, তবে সৌদি আরব ও ওমানের বাজারে উল্টো প্রবৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যা আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারেও এই অস্থিরতার প্রতিফলন স্পষ্ট। S&P 500 সূচক একই সময়ে প্রায় ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর যুদ্ধসংক্রান্ত অনিশ্চিত বার্তা এবং বাজারে অনিশ্চয়তার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যদিও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে, ইউএই তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দেশটির অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত বিমান ও পর্যটন খাত বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। যুদ্ধের কারণে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যার একটি বড় অংশ দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
উল্লেখযোগ্যভাবে, পর্যটন ও ভ্রমণ খাত গত বছর ইউএই অর্থনীতিতে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার অবদান রেখেছে, যা মোট জিডিপির প্রায় ১৩ শতাংশ। ফলে এই খাতে ধাক্কা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক হাইথাম আউন মনে করেন, বর্তমান বাজার পতনকে স্থায়ী সংকট হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তার মতে, এটি মূলত বিনিয়োগকারীদের আস্থায় স্বল্পমেয়াদি ধাক্কার প্রতিফলন, যা দীর্ঘমেয়াদে ইউএইর অর্থনৈতিক ভিত্তিকে তেমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।
একইভাবে বারডিন হিকক উল্লেখ করেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দুবাই ও আবুধাবির বাজারে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার দেখা যেতে পারে। তার মতে, বাজারের মৌলিক কাঠামো যেমন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, তারল্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।
উল্লেখ্য, ইউএই গত কয়েক বছরে অর্থনীতির বৈচিত্র্য আনতে আর্থিক খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো দেশটির তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে, যা মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম পুঁজিবাজার হিসেবে ইউএইকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সাম্প্রতিক Global Financial Centres Index–এ দুবাইয়ের অবস্থান সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালে ঘোষিত ১০ বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় দুবাইকে ২০৩৩ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ চারটি আর্থিক কেন্দ্রের একটি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, বর্তমান পরিস্থিতি ইউএই অর্থনীতির জন্য একটি স্বল্পমেয়াদি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এর আর্থিক কাঠামো ও বিনিয়োগ পরিবেশের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সূত্র: আল জাজিরা
মার্কিন যুদ্ধবিমান ঠেকাতে আকাশ বন্ধ স্পেনের
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্পেন। দেশটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহার বন্ধ ঘোষণা করেছে, যা ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিতা রোবলেস এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে নিশ্চিত করেছেন যে, দেশটি শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে ইরান সংশ্লিষ্ট কোনো সামরিক কার্যক্রমে স্পেনের আকাশসীমা কিংবা যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে না। তিনি এই সংঘাতকে ‘গভীরভাবে অবৈধ’ এবং ‘মূলত অন্যায্য’ হিসেবে বর্ণনা করে স্পেনের অবস্থানকে নীতিগত ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেন।
এর আগে স্পেন সরকার ঘোষণা দিয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র তার সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত সামরিক স্থাপনাগুলোও এই অভিযানে ব্যবহার করতে পারবে না। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই যুদ্ধকে ‘বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেন যে, এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ বৃহত্তর বৈশ্বিক সংকটের সূচনা ঘটাতে পারে।
স্পেনের এই অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদ্রিদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার হুমকি দিয়েছেন। স্পেনের রোতা ও মোরোন ঘাঁটি ব্যবহার করতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্রকে ইতোমধ্যে ১৫টি সামরিক বিমান প্রত্যাহার করতে হয়েছে, যা অপারেশনাল সক্ষমতায় তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বামপন্থী সরকারের নেতৃত্বে স্পেন ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সরব সমালোচক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সাধারণভাবে উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান জানিয়েছে, সেখানে স্পেন সরাসরি ইরানে সামরিক হামলার বিরোধিতা করে একটি পৃথক অবস্থান গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী সানচেজ পূর্বে সতর্ক করে বলেছেন, মানব ইতিহাসের বড় বড় বিপর্যয় অনেক সময় এই ধরনের সামরিক সিদ্ধান্ত থেকেই শুরু হয়েছে এবং যুদ্ধ কিংবা বোমা হামলা কোনো স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারে না। এই বক্তব্য স্পেনের পররাষ্ট্রনীতির একটি নৈতিক অবস্থানকে প্রতিফলিত করে, যেখানে কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গাজা সংকট নিয়েও স্পেন দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের কড়া সমালোচক। গত অক্টোবরে স্প্যানিশ পার্লামেন্ট ইসরাইলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি হয় এবং ইসরাইল তার রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেয়।
-রফিক
মধ্যপ্রাচ্যে অসংখ্য মার্কিন প্যারাট্রুপার, ইরানের 'খারগ দ্বীপ' কি দখল করবে যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ক্রমেই একটি নতুন ও আরও জটিল পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে সামরিক কৌশল, ভূরাজনৈতিক হিসাব এবং শক্তির ভারসাম্য একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত হয়ে পড়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা যখন ধীরে ধীরে তীব্রতর হচ্ছে, ঠিক সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বড় পরিসরের সেনা মোতায়েন পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স–এর বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এলিট সামরিক ইউনিট ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন–এর হাজার হাজার প্যারাট্রুপার মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে শুরু করেছে। উত্তর ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে পাঠানো এই বাহিনী মূলত অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা জোরদারের একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েন কেবল প্রতিরক্ষামূলক নয়, বরং সম্ভাব্য আক্রমণাত্মক অভিযানের প্রস্তুতির দিকেও ইঙ্গিত দেয়। এর আগে গত ১৮ মার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যা প্রয়োজনে ইরানের ভেতরে স্থল অভিযান চালানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
এই সেনা সমাবেশে শুধু প্যারাট্রুপারই নয়, বরং নৌবাহিনী, মেরিন কর্পস এবং বিশেষ অভিযান বাহিনীর সদস্যরাও যুক্ত হচ্ছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ২,৫০০ মেরিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের সদর দপ্তর, একটি ব্রিগেড কমব্যাট টিম এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট ইউনিটও এই মোতায়েনের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে এই সেনাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি, যা ইঙ্গিত দেয় যে অপারেশনাল পরিকল্পনাগুলো এখনো সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। যদিও এখনো ইরানে সরাসরি স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবুও এই প্রস্তুতি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করছে।
কৌশলগত আলোচনায় উঠে এসেছে কয়েকটি সম্ভাব্য লক্ষ্য, যার মধ্যে অন্যতম হলো ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ। এই দ্বীপটির মাধ্যমে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি সম্পন্ন হয়, ফলে এটি দখল করা গেলে দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রেখেছে এবং একটি ‘যুক্তিবাদী শাসনব্যবস্থা’র সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তিনি ইরানকে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে হবে, অন্যথায় ইরানের তেল অবকাঠামো ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া অপারেশন এপিক ফিউরি–এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ১১ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং তিন শতাধিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যা সংঘাতের তীব্রতা ও ব্যাপ্তি স্পষ্ট করে।
সূত্র: রয়টার্স
তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই টার্গেট! কেন খারগ দ্বীপ দখলের ঝুঁকি নিচ্ছেন ট্রাম্প?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সাম্প্রতিক সামরিক ইঙ্গিত বিশ্বরাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। পারস্য উপসাগরের উত্তরে অবস্থিত ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নিতে সেখানে মার্কিন সেনাবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে তিনি যে আভাস দিয়েছেন, তা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
দীর্ঘ সময় ধরে এই দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হিসেবে পরিচিত, কারণ দেশটির মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের ওপর নির্ভরশীল। গভীর জলসীমার সুবিধাজনক অবস্থানের কারণে এখানে বিশ্বের বৃহত্তম তেলের ট্যাঙ্কারগুলো অনায়াসে ভিড়তে পারে, যা প্রতিটি ২০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত তেল পরিবহন করতে সক্ষম। এই বিশেষ গুরুত্বের কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন এখন খারগ দ্বীপকে তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে।
এই সামরিক পরিকল্পনার বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজাত ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ২ হাজার প্যারাট্রুপার এবং ৫ হাজার শক্তিশালী নৌ-সেনা (মেরিন) ব্যবহারের জল্পনা চলছে। তাত্ত্বিকভাবে বলা হচ্ছে, মার্কিন কমান্ডোরা রাতের অন্ধকারে আকাশপথে অতর্কিতে হানা দিয়ে মাত্র ২০ বর্গকিলোমিটারের এই ছোট দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। তবে এই অভিযান সহজসাধ্য হবে না, কারণ মার্কিন জাহাজগুলোকে প্রথমেই ইরান নিয়ন্ত্রিত সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালির কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
এর পাশাপাশি ইরানের অসংখ্য লুক্কায়িত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের নজরদারি এড়িয়ে পারস্য উপসাগরের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া হবে এক অগ্নিপরীক্ষার মতো। ইতিম্যেধ ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কোনো মার্কিন বাহিনী সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের ওপর ‘আগুনের বৃষ্টি’ চালানো হবে।
বিশেষজ্ঞরা এই সম্ভাব্য অভিযানকে ইউক্রেনের স্নেক আইল্যান্ডের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করছেন। ২০২২ সালে রাশিয়া সেই দ্বীপটি দখল করলেও ইউক্রেনীয় মূল ভূখণ্ড থেকে অবিরাম গোলাবর্ষণের মুখে তা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। একইভাবে, খারগ দ্বীপ দখল করা গেলেও মূল ভূখণ্ড থেকে ধেয়ে আসা তীব্র ইরানি গোলাবর্ষণ অনির্দিষ্টকাল ধরে মোকাবিলা করা পেন্টাগনের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও প্রাণঘাতী হতে পারে।
এছাড়া পারস্য উপসাগরে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ রয়েছে, যেমন লারাক ও কেশম দ্বীপ। এর মধ্যে লারাক দ্বীপটি হরমুজ প্রণালির প্রবেশপথে অবস্থিত এবং কেশম দ্বীপটি খারগ দ্বীপের চেয়ে প্রায় ৭৫ গুণ বড়, যেখানে ইরান মাটির নিচে বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি তৈরি করে রেখেছে বলে ধারণা করা হয়। এই দ্বীপগুলো ইরানের জন্য একটি শক্তিশালী সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে যা মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম।
পরিশেষে এটি লক্ষ্য করা গুরুত্বপূর্ণ যে, খারগ দ্বীপে সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযান নিয়ে বর্তমানে এত বেশি আলোচনা হচ্ছে যে, এটি কোনো সুদূরপ্রসারী ধোঁকাবাজি বা ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনার একটি মনস্তাত্ত্বিক কৌশলও হতে পারে। যুদ্ধের এই পঞ্চম সপ্তাহে ট্রাম্প সোমবার আবারও জানিয়েছেন যে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে।
অনেকের ধারণা, খোদ ট্রাম্প নিজেই একটি দ্রুত চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন এবং এই সামরিক হুমকিগুলো মূলত সেই চুক্তিতে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার জন্য ব্যবহার করছেন। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী স্থল অভিযানের পথ বেছে নেয় নাকি আলোচনার মাধ্যমে কোনো একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
তথ্যসূত্র- বিবিসি
ইসরাইলি সংসদে ফিলিস্তিনিদের ফাঁসি আইন পাস: বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া!
ইসরায়েলের সংসদ নেসেটে সোমবার (৩০ মার্চ) অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার একটি বিতর্কিত আইন পাস হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি মিত্রদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে ৬২-৪৮ ভোটে এই আইনটি পাস হয়। আইনটি পাসের পর কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরকে সংসদ কক্ষে শ্যাম্পেন পান করে উদযাপন করতে দেখা যায়।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই আইন অনুযায়ী অধিকৃত পশ্চিম তীরে কোনো ইসরায়েলিকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য ফাঁসিই হবে স্বাভাবিক শাস্তি। গাজায় চলমান সামরিক অভিযান এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলার মধ্যেই এই আইনটি পাস হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলের নাগরিক অধিকার সমিতি ইতিমধ্যেই এই আইনের বিরুদ্ধে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছে।
ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূমির ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই। হামাস এই আইনটিকে একটি বিপজ্জনক নজির হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের জীবনকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলবে। গাজা-ভিত্তিক ফিলিস্তিনি মানবাধিকার কেন্দ্র (PCHR) একে ‘আইনের আড়ালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর থেকেও এই বৈষম্যমূলক আইনটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইসরায়েলের বাধ্যবাধকতাকে চরমভাবে লঙ্ঘন করে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আইন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে আরও উসকে দেবে এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়নের একটি নতুন হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
সূত্র: আল জাজিরা
তেলের দাম কি ২০০ ডলার ছাড়াবে? ট্রাম্পের হুমকিতে বিশ্ববাজারে চরম অস্থিরতা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক ভয়াবহ সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই সংঘাত যদি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নেয়, তবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ইরানের প্রধান জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা বা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে অপূরণীয় ধস নামবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ টামাস ভার্গা জানিয়েছেন, যদি প্রতিদিন বাজার থেকে প্রায় ১ কোটি ব্যারেল তেলের সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে এর ধাক্কা সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। বর্তমান পরিস্থিতির আগুনে ঘি ঢেলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রয়োজনে ইরানের তেলের প্রাণকেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ দখল বা ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে। এমনটি ঘটলে ইরানের তেল রপ্তানি ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়বে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতাকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাবে।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশই সম্পন্ন হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বর্তমানে আংশিকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় ইতোমধ্যেই জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। এর আঁচ লাগতে শুরু করেছে ইউরোপেও; বিশেষ করে জার্মানি জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ দ্রুত বন্ধ না হলে কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং পুরো বিশ্ব অর্থনীতি এক দীর্ঘস্থায়ী মন্দার কবলে পড়তে পারে।
সূত্র : শাফাক নিউজ
পৈশাচিকতা! নিজের স্ত্রীকে ১২০ জন পুরুষের হাতে তুলে দিল স্বামী
সুইডেনে নিজের স্ত্রীকে দেহব্যবসায় বাধ্য করা এবং অমানবিক নির্যাতনের এক রোমহর্ষক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দেশটির প্রসিকিউটর ৬২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন শোষণ, একাধিক ধর্ষণ এবং হামলার অভিযোগ গঠন করেছেন। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পৈশাচিক ঘটনায় অন্তত ১২০ জন পুরুষ জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
তদন্তে উঠে এসেছে এক দীর্ঘমেয়াদী শোষণের চিত্র। অভিযুক্ত ব্যক্তি গত কয়েক বছর ধরে তার স্ত্রীকে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক লিপ্ত হতে বাধ্য করতেন। কেবল তাই নয়, এই অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনি নিজেই অনলাইনে বিজ্ঞাপন তৈরি করতেন, গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং লেনদেনের পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করতেন। এমনকি স্ত্রীকে আরও বেশি গ্রাহকের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে অনলাইনে বিভিন্ন যৌন কার্যকলাপে অংশ নিতেও চাপ দিতেন তিনি।
প্রসিকিউশনের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার স্ত্রীর মাদকাসক্তির সুযোগ নিতেন এবং নিয়মিত মাদক সরবরাহ করে তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেন। কোনো প্রতিবাদ করলেই চলত অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই বিভীষিকার অবসান ঘটে গত বছরের অক্টোবরে, যখন স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
দেশটির প্রসিকিউটর এই ঘটনাকে 'নির্মম শোষণ' হিসেবে আখ্যায়িত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আটটি ধর্ষণের মামলাও দায়ের করেছেন। যদিও অভিযুক্ত ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবুও পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আগামী ১৩ এপ্রিল থেকে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। পুরো সুইডেনজুড়ে এই ঘটনাটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
/আশিক
দুবাই বন্দরে রণক্ষেত্র! কুয়েতের তেলবাহী জাহাজে নজিরবিহীন আক্রমণ
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বন্দরে নোঙর করা কুয়েতের তেলবাহী বিশাল ট্যাংকার ‘আল-সালমি’ ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করে একে একটি ‘অপরাধমূলক হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
হামলার সময় ট্যাংকারটি সম্পূর্ণ তেলবোঝাই ছিল, যার ফলে জাহাজটির কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় উদ্ধারকারী দল নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, জাহাজে থাকা ২৪ জন নাবিককেই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কেপিসি আশঙ্কা করছে, ট্যাংকারটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সমুদ্রের বিশাল এলাকায় তেল ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক পরিবেশে এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।
এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক সমুদ্রপথগুলো এখন চরম ঝুঁকির মুখে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও দুবাই বন্দরের আশপাশে এ ধরনের হামলা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামকে মুহূর্তেই আকাশচুম্বী করে তুলতে পারে।
কুয়েত সরকার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা দায় স্বীকারের বার্তা পাওয়া যায়নি।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ৩১ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- আজকের শেয়ারবাজারে লোকসানে ১০ কোম্পানি
- ডিএসই গেইনার বিশ্লেষণ, কোন খাতে বেশি লাভ
- যুদ্ধ থামাতে যেসব শর্ত দিল ইরান, বাড়ছে উত্তেজনা
- যুদ্ধের ধাক্কায় দুবাই-আবুধাবি শেয়ারবাজারে বড় পতন
- মার্কিন যুদ্ধবিমান ঠেকাতে আকাশ বন্ধ স্পেনের
- মধ্যপ্রাচ্যে অসংখ্য মার্কিন প্যারাট্রুপার, ইরানের 'খারগ দ্বীপ' কি দখল করবে যুক্তরাষ্ট্র
- তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই টার্গেট! কেন খারগ দ্বীপ দখলের ঝুঁকি নিচ্ছেন ট্রাম্প?
- মাথা ব্যথায় অস্থির? জেনে নিন হুটহাট যন্ত্রণা বাড়ার আসল কারণ
- আপনার শিশু কি নিরাপদ? হামের প্রকোপ রুখতে এখনই যা করা জরুরি
- অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় ভুগছেন? মন ভালো করার ৫টি জাদুকরী কৌশল
- ৫৫% মানুষের চাওয়া কি পূরণ হবে? অনলাইন ক্লাস নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর নতুন ঘোষণা
- আজই কি শেষ ম্যাচ? কাবরেরার বিদায়বেলায় সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি বাংলাদেশ
- ইসরাইলি সংসদে ফিলিস্তিনিদের ফাঁসি আইন পাস: বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া!
- টিকা নেওয়ার আগেই হামে আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশু! কপালে চিন্তার ভাঁজ চিকিৎসকদের
- তেলের দাম কি ২০০ ডলার ছাড়াবে? ট্রাম্পের হুমকিতে বিশ্ববাজারে চরম অস্থিরতা
- পৈশাচিকতা! নিজের স্ত্রীকে ১২০ জন পুরুষের হাতে তুলে দিল স্বামী
- বসুন্ধরা সিটি কি আজ বন্ধ? জেনে নিন ঢাকার শপিং মলের সাপ্তাহিক ছুটির তালিকা
- তেলের খনি দখলে নিতে মরিয়া ট্রাম্প! ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে উড়াল দিল হাজারো মার্কিন সেনা
- দুবাই বন্দরে রণক্ষেত্র! কুয়েতের তেলবাহী জাহাজে নজিরবিহীন আক্রমণ
- জ্বলছে তেহরান! কেন্দ্রবিন্দুতে ইসরায়েলি বাহিনীর অতর্কিত ও ব্যাপক আক্রমণ
- চলতি বছর ৪৯ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয়: আজ কততে ঠেকেছে ২২ ক্যারেট?
- যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে মার্কিন জ্বালানি সংকট, দাম বেড়ে নতুন রেকর্ড
- সৌদি থেকে মার্কিন সেনা সরাতে ইরানের আহ্বান
- আইএলওতে তারেক রহমান সরকারের প্রতি ৪৭ দেশের সমর্থন
- ইসরায়েলে তেল শোধনাগারে হামলা, আতঙ্কে বাসিন্দারা
- আজকের নামাজের সময়সূচি জানুন এক নজরে
- আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ম্যাচসহ আজকের খেলার সূচি
- ১৫ জেলায় ঝড়ের সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
- ইসরায়েলে ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ হামলার দাবি হিজবুল্লাহর
- কেন্দ্র তালিকা দেখে নিন: এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বড় আপডেট
- খারগ দ্বীপে মার্কিন বুট? ট্রাম্পের হুমকিতে বিশ্ব তেলের বাজারে বড় ধস
- দুই দশক পর ফিরল হামের আতঙ্ক: শিশুদের সুরক্ষায় নতুন সতর্কবার্তা
- দেশে আর থাকবে না মব কালচার: সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া বার্তা
- ভিনগ্রহে প্রাণের সন্ধান: গোল্ডিলক্স জোনে মিলল পৃথিবীর মতো ৪৫টি গ্রহ
- ট্রাম্পের মুখে শান্তি, ইসরায়েলের হাতে অস্ত্র! মিত্রদের দ্বিমুখী চালে বিভ্রান্ত বিশ্ব
- তরুণদের হার্ট অ্যাটাক: রিপোর্টে সব স্বাভাবিক থাকলেও লুকিয়ে থাকতে পারে বড় বিপদ
- ইসরায়েল ফার্স্ট নীতিতে ক্ষুব্ধ মার্কিনিরা: নিজ দেশেই তোপের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট
- মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না ব্রিটেন, সাফ জানালেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
- সংসদে জাইমা রহমান: ভিভিআইপি গ্যালারিতে সরব উপস্থিতি
- বিগত সরকারের ১৩০০ প্রকল্প এখন কাঠগড়ায়: দুর্নীতির তথ্য ফাঁস করলেন অর্থমনন্ত্রী
- খার্গ দ্বীপে হামলার চূড়ান্ত হুমকি ট্রাম্পের: রণক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে হরমুজ প্রণালি
- রাজনীতিতে সৌজন্যের নতুন নজির: বিরোধীদলীয় নেতাকে এগিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- সংসদে হাসির রোল: হাসনাত আবদুল্লাহর বয়স শুনে প্রাণখুলে হাসলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- নিজের ঘরের বিক্ষোভে নজর দিন: ট্রাম্পকে ইরানের প্রেসিডেন্টের পরামর্শ
- ৩০ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ৩০ মার্চ ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি
- ৩০ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
- দেবিদ্বারে গৃহবধূর অর্ধগলিত লাশ, রহস্যে ঘেরা মৃত্যু
- হরমুজ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ২০ ট্যাংকারে তেল পাঠাচ্ছে ইরান: ট্রাম্প
- স্বর্ণ কিনতে চান? আজই সুযোগ: রেকর্ড হারে দাম কমাল বাজুস
- সোমবারও স্বর্ণের বাজারে আগুনের উত্তাপ, রেকর্ড দামে কেনাবেচা
- সোনার বাজারে বড় ধস: দেশের সব জুয়েলারি দোকানে নতুন দাম কার্যকর
- পদ্মার গভীরে শনাক্ত ডুবে যাওয়া বাস: উদ্ধারে লড়ছে ‘হামজা’ ও ডুবুরি দল
- রেকর্ড পতন, মাত্র ২ লাখ ৩০ হাজারে পাচ্ছেন ১ ভরি সোনা
- স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা তুঙ্গে: মাত্র কয়েক ঘণ্টায় বদলে গেল সব হিসাব
- পদ্মার অতলে বাস ট্র্যাজেডি: ২৩ প্রাণহানির মধ্য দিয়ে শেষ হলো উদ্ধার অভিযান
- চিরদিনই তুমি যে আমার খ্যাত নায়ক রাহুলের অকাল প্রয়াণ
- লেনদেন ছাড়াল ৬শ কোটি টাকা: উত্থানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ
- ১০ হাজার টন ডিজেল ও জেট ফুয়েল নিয়ে নতুন জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে
- কালিগঞ্জের রতনপুরে জমি বিরোধের জেরে নৃশংস হামলা, গুরুতর আহত ১ জন
- ঈদ পরবর্তী বাজারে সোনার বড় ধস: ভরিতে বড় ছাড় দিয়ে সোনার দাম পুনর্নির্ধারণ
- বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি
- রিয়াদের ৭০ শতাংশ জ্বালানি মজুদের ওপর আঘাত: যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ কি ইরানের হাতে?
- আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস, দেশে কমলো কত








