সুদানে কার্গো বিমানে ভয়াবহ বোমা হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ০৪ ২২:১৬:৪২
সুদানে কার্গো বিমানে ভয়াবহ বোমা হামলা

সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুর অঞ্চলে আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ (র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস)-এর নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে ভয়াবহ বোমা হামলা চালানো হয়েছে একটি কার্গো বিমানে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় ৪ জুন বুধবার সকাল ৫টা ৩০ মিনিটে বিমানটি অবতরণের পরপরই হামলার ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে এ খবর জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, বিস্ফোরণের সময় বিমান থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায় এবং শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। হামলাটি ঘটে দক্ষিণ দারফুর রাজ্যের রাজধানী নিয়ালার একটি বিমানবন্দরে, যা আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী এবং আরএসএফের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাত চলছে। সেনাবাহিনী দেশটির বর্তমান প্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে এবং আরএসএফ নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোহাম্মদ হামদান দাগলো, যিনি হামিদতি নামেও পরিচিত।

হামলার দায় এখনো কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ জানিয়ে বলছে, এই ধরনের হামলা মূলত বেসামরিক জনগণের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জানিয়েছে, নিয়ালায় গত কয়েক মাস ধরে বারবার বিমান হামলা হয়েছে। ৩ ফেব্রুয়ারির এক হামলায় বেসামরিক ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পাঁচটি বোমা ফেলা হয়, যাতে অন্তত ৩২ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে শিশু ও নারীও ছিলেন।

চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স’ জানায়, এই ধরনের ভুল হামলা পরিবার ধ্বংস করছে, মানুষকে বাস্তুচ্যুত করছে এবং মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে।

সুদানে চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ। দেশটি এখন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। উত্তর, পূর্ব এবং কেন্দ্রীয় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে সেনাবাহিনী; আর দারফুর ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে আরএসএফ।


চার ঘণ্টায় ইরান অচল করার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ০৬:৫৭:১০
চার ঘণ্টায় ইরান অচল করার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কঠোর সামরিক অবস্থান তুলে ধরেছে। হরমুজ প্রণালি দ্রুত উন্মুক্ত না হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক আঘাত হানার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ইঙ্গিত দেন, নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করার অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে অকার্যকর করে দেওয়ার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, একটি সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে দেশটির পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামো দ্রুত ধ্বংস করা সম্ভব।

তিনি দাবি করেন, এমন একটি সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে যা মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যেই বাস্তবায়নযোগ্য। তবে একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা নয় এবং তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়।

এর আগে ইরানকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার আহ্বান জানিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেন তিনি। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। মারিকে ডে হুন, আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইন বিভাগের একজন বিশেষজ্ঞ, এই ধরনের মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকি গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

তিনি আরও সতর্ক করেন, এমন ধরনের বক্তব্য বাস্তবায়িত হলে তা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলবে এবং যুদ্ধের নৈতিক সীমারেখা অতিক্রম করবে। পাশাপাশি আত্মসমর্পণকারীদের জীবন রক্ষা না করার নীতি আন্তর্জাতিক আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, সংঘাতের আরেকটি দিক নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে বেসামরিক এলাকায় ক্লাস্টার অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।

-রাফসান


কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা, আহত ১৫ মার্কিন সেনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ০৬:৫০:১৩
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা, আহত ১৫ মার্কিন সেনা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনা নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, রাতভর পরিচালিত এই হামলায় অন্তত ১৫ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম CBS News-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় একাধিক ড্রোন ঘাঁটির বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে আঘাত হানে। এতে সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কিছু সেনাসদস্য আহত হন।

তবে প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, আহতদের অধিকাংশই গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হননি। চিকিৎসা নেওয়ার পর অনেকেই আবার দায়িত্বে ফিরে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, হামলাটি বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ না হলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই হামলা বৃহত্তর একটি সংঘাতের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ইরান ধারাবাহিকভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার পর থেকে এই ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

কুয়েতের এই ঘাঁটিটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে এখানে হামলা চালানো আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামরিক ভারসাম্যের ওপর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা


সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, স্থায়ী সমাধান চাই: যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত জানাল ইরান

আশিকুর রহমান
আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ২১:১৯:১৬
সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, স্থায়ী সমাধান চাই: যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত জানাল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নতুন মোড় নিয়েছে, যেখানে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নিতে রাজি নয়; বরং স্থায়ী ও কাঠামোগত সমাধান ছাড়া সংঘাত বন্ধ করা সম্ভব নয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাবে তেহরান যে অবস্থান তুলে ধরেছে, তা এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইসলামাবাদ হয়ে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় ইরান একটি বিস্তারিত দাবি-তালিকা দিয়েছে। এতে তারা সাময়িক যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করলেও ‘ইরানের স্বার্থ ও বিবেচনাকে সম্মান করে’ একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। এই অবস্থান স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে তেহরান কেবল যুদ্ধ থামাতে নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সমাধান নিশ্চিত করতে চায়।

ইরানের প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতগুলোর অবসান, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌযান চলাচলের জন্য একটি স্বীকৃত প্রোটোকল প্রণয়ন, যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামোর পুনর্গঠন এবং ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। এই শর্তগুলো দেখায় যে, ইরান এই সংঘাতকে শুধুমাত্র সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত একটি বৃহত্তর সমীকরণের অংশ হিসেবে দেখছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান একটি দ্বি-স্তরবিশিষ্ট শান্তি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে, যা “ইসলামাবাদ অ্যাকর্ডস” নামে পরিচিত হতে পারে। এই প্রস্তাবে প্রথম ধাপে তাৎক্ষণিক একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের রূপরেখা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এই প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে।

তবে কূটনৈতিক এই প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই কম। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, যদি দ্রুত কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে ইরানের ওপর আরও ব্যাপক সামরিক হামলা চালানো হবে।

ইরানও পাল্টা অবস্থানে কঠোর রয়েছে। এক উচ্চপর্যায়ের ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আন্তরিক না হলে ইরান কোনো ধরনের অস্থায়ী সমঝোতায় যাবে না। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টিও কোনো সাময়িক চুক্তির বিনিময়ে বিবেচনা করা হবে না।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এর ওপর নিয়ন্ত্রণ শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান ইতোমধ্যে কিছু ‘বন্ধু রাষ্ট্রের’ জাহাজকে এই পথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে এবং নিরাপত্তা ফি নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই কৌশল একটি সুপরিকল্পিত চাপ প্রয়োগের অংশ, যার মাধ্যমে তারা যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও জ্বালানি বাজারেও প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বিস্তৃত রাজনৈতিক সমাধানে বাধ্য করার চেষ্টা করছে।

সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতি একটি জটিল কূটনৈতিক অচলাবস্থার দিকে ইঙ্গিত করছে, যেখানে একদিকে সামরিক চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে আলোচনার পথও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে স্পষ্ট যে, সাময়িক সমাধানের চেয়ে স্থায়ী সমঝোতার প্রশ্নই এখন এই সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।


যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের দুই ধাপের পরিকল্পনা, কী আছে এতে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১৪:৪০:৪৪
যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের দুই ধাপের পরিকল্পনা, কী আছে এতে
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত থামাতে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে পাকিস্তান একটি কাঠামোবদ্ধ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব সামনে এনেছে, যা কার্যকর হলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের পথ প্রশস্ত হতে পারে।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, পাকিস্তান দ্রুততার সঙ্গে একটি দুই ধাপের শান্তি পরিকল্পনা উভয় পক্ষের কাছে পাঠিয়েছে। এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি এবং দ্বিতীয় ধাপে একটি বিস্তৃত ও স্থায়ী চুক্তির রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি সমঝোতা স্মারক আকারে ইলেকট্রনিকভাবে চুক্তিটি সম্পন্ন করার প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে ইসলামাবাদ নিজেকে একমাত্র মধ্যস্থতাকারী যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

এই প্রস্তাবের সময়কালও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ৪৫ দিনের একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে, যা ধাপে ধাপে একটি স্থায়ী সমাধানের দিকে অগ্রসর হতে পারে। পাকিস্তানের প্রস্তাব সেই আলোচনাকে আরও কাঠামোবদ্ধ ও ত্বরান্বিত করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগও এই উদ্যোগের গুরুত্বকে তুলে ধরছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে। এই বহুমাত্রিক কূটনৈতিক যোগাযোগ সংকট নিরসনে একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা হবে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ‘ইসলামাবাদ অ্যাকর্ড’ নামে পরিচিত হতে পারে। এই সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় প্রণালিকে কেন্দ্র করে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে এখনো পর্যন্ত এই প্রস্তাবের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান। পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করা হয়নি, যা কূটনৈতিক সংবেদনশীলতার ইঙ্গিত বহন করে।

ইরানের অবস্থানও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে নয়, বরং এমন একটি স্থায়ী সমঝোতায় আগ্রহী যেখানে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পুনরাবৃত্তি হবে না—এমন নিশ্চয়তা থাকতে হবে। পাশাপাশি তারা একাধিক আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বার্তা আদানপ্রদান চালিয়ে যাচ্ছে।

সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তিতে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি আলোচনার অংশ হতে পারে।

তবে বাস্তবতা এখনো অনিশ্চিত। পাকিস্তানের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি, যদিও সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল পরিবাহিত হয়, ফলে এর অচলাবস্থা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সতর্ক করেছেন যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

-রাফসান


মধ্যপ্রাচ্যে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব: শান্তির পথে কি হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১২:১০:২০
মধ্যপ্রাচ্যে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব: শান্তির পথে কি হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভয়াবহ সংঘাত নিরসনে এবং যুদ্ধের নাটকীয় বিস্তার রোধে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে একটি সম্ভাব্য ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন অনলাইন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস রবিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি শেষ পর্যন্ত এই অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং আঞ্চলিক চারটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের বরাত দিয়ে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

আলোচনাসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা এখনো ক্ষীণ। তবে এই শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেই যুদ্ধের ভয়াবহতা কমানোর একমাত্র সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদি এই আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর ভয়াবহ প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু হতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের মানচিত্র বদলে দিতে পারে।

এদিকে, ইরানের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আল্টিমেটাম বা সময়সীমা নিয়ে নতুন নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। এর আগে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হলেও, রবিবার ট্রাম্প আকস্মিকভাবে সেই সময়সীমা আরও ২০ ঘণ্টা বাড়িয়ে দেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ঘোষণা করেছেন, আগামী মঙ্গলবার রাত ৮টা (পশ্চিমা সময়) পর্যন্ত ইরানকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলো।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সময়সীমা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত মূলত পর্দার আড়ালে চলমান আলোচনার একটি অংশ হতে পারে। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এখন আপ্রাণ চেষ্টা করছে যেন এই ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির শর্তাবলিতে উভয় পক্ষ একমত হয়। এই সময়ের মধ্যে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হলে মধ্যপ্রাচ্য বড় ধরনের মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে পারে। অন্যথায়, মঙ্গলবার রাতের সময়সীমা পার হওয়ার পর এক অনিশ্চিত ও বিধ্বংসী সংঘাতের মুখে পড়বে বিশ্ব।

/আশিক


হুমকির শেষে আল্লাহর নাম: ট্রাম্পের বিতর্কিত পোস্ট ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১১:৪৯:০৭
হুমকির শেষে আল্লাহর নাম: ট্রাম্পের বিতর্কিত পোস্ট ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
ছবি : সংগৃহীত

ইস্টার সানডের পবিত্র দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে চরম উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ওই পোস্টে ইরানকে কঠোর সামরিক হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি শেষ লাইনে ইসলামের পবিত্র শব্দ 'আল্লাহর নাম' ব্যবহার করায় বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প তাঁর বার্তায় কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে হুঁশিয়ারি দেন এবং বার্তার একেবারে শেষে লেখেন, 'সকল প্রশংসা আল্লাহর' (Praise be to Allah)।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বিতর্কিত বার্তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম মুসলিম অধিকার রক্ষা সংস্থা 'কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস' (কেয়ার)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ধ্বংসাত্মক হুমকির সাথে আল্লাহর নাম ব্যবহার করে ট্রাম্প মূলত ইসলাম ধর্মকে বিদ্রূপ করেছেন। কেয়ার-এর মতে, একদিকে ইরানি বেসামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো যুদ্ধাপরাধের হুমকি দেওয়া এবং অন্যদিকে ধর্মীয় শব্দ ব্যবহার করা অত্যন্ত বেপরোয়া ও বিপজ্জনক আচরণ। এটি একইসাথে মানবজীবন এবং কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি চরম অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, আরবি ভাষায় 'আল্লাহ' শব্দটি ঈশ্বর বোঝাতে ব্যবহৃত হলেও, ট্রাম্প যে প্রেক্ষাপটে এবং যে ধরনের সহিংস বার্তার শেষে এটি যুক্ত করেছেন, তা মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত হেনেছে। সংস্থাটির দাবি, এটি কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল নয় বরং মুসলিমদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের বিদ্বেষপূর্ণ এবং নেতিবাচক প্রচারণারই একটি অংশ। সহিংসতার বার্তার সাথে ধর্মীয় পবিত্র শব্দকে জুড়ে দেওয়া একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক প্রবণতা হিসেবে দেখছে এই সংগঠনটি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ট্রাম্পের এই পোস্ট নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সাথে চলমান সামরিক উত্তেজনার মাঝে এ ধরনের সংবেদনশীল ও উসকানিমূলক মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। ধর্মীয় সংবেদনশীলতাকে রাজনৈতিক ও সামরিক হুমকির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করায় কূটনৈতিক মহলেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। ট্রাম্পের এই আচরণ মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

/আশিক


তেলের বাজারে আগুনের সংকেত: ১৯৭০-এর রেকর্ড ভাঙতে পারে বর্তমান সংকট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১১:২৭:১৫
তেলের বাজারে আগুনের সংকেত: ১৯৭০-এর রেকর্ড ভাঙতে পারে বর্তমান সংকট
ছবি : সংগৃহীত

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল দ্বন্দ্বের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এক মাস ধরে বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান সংকটের ভয়াবহতা ১৯৭০-এর দশকের ঐতিহাসিক তেল বিপর্যয়কেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং মায়ের্সকের সাবেক পরিচালক লার্স জেনসেনের মতে, এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে, তা গত শতাব্দীর সত্তর দশকের তুলনায় অনেক বেশি গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ-এর পরিচালক ফাতিহ বিরোল বর্তমান অবস্থাকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭০-এর দশকে তেলের দামের যে উল্লম্ফন ঘটেছিল বা সাম্প্রতিক ইউক্রেন যুদ্ধের পর প্রাকৃতিক গ্যাসের যে সংকট তৈরি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়েও বেশি উদ্বেগজনক। উল্লেখ্য, এক মাস আগে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই তেহরান এই জলপথটি কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যা দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।

সত্তরের দশকের সংকটের সঙ্গে বর্তমান সময়ের পার্থক্যের কথা তুলে ধরেছেন জ্বালানি অর্থনীতিবিদ ড. ক্যারল নাখলে। তিনি জানান, ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপুর যুদ্ধের সময় আরব দেশগুলো ইসরায়েলকে সমর্থনের প্রতিবাদে পরিকল্পিতভাবে তেল উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছিল এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এর ফলে কয়েক মাসের মধ্যে তেলের দাম চার গুণ বেড়ে যায়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল বিশ্ব অর্থনীতিতে। বেকারত্ব বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং সামাজিক অস্থিরতার কারণে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের পতন পর্যন্ত ঘটেছিল।

বর্তমান সংকট নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোকে সাথে নিয়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। তিনি ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়েও তৎপরতা শুরু করেছেন। তবে বিশেষজ্ঞ লার্স জেনসেনের মতে, যদি আগামীকালও এই প্রণালি খুলে দেওয়া হয়, তবুও তেলের ঘাটতি সহজে মিটবে না। এই সংকটের প্রভাব পরবর্তী ছয় থেকে বারো মাস পর্যন্ত বিশ্ববাজারে স্থায়ী হতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।

যদিও অনেকে মনে করেন বর্তমান বিশ্ব আগের চেয়ে জ্বালানি ব্যবহারে অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও বৈচিত্র্যময়, তবুও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নাটিক্সিস সিআইবির পরিচালক জোয়েল হ্যানকক মনে করেন, সত্তরের দশকের সংকট উন্নত দেশগুলো সামলাতে পারলেও বর্তমান সংকট দরিদ্র দেশগুলোর আর্থিক সক্ষমতাকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, একমাত্র যুদ্ধের তীব্রতা কমে আসা এবং দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরে আসাই পারে পৃথিবীকে এই ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা থেকে রক্ষা করতে।

/আশিক


৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম! ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ২০:০৮:৫৮
৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম! ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে এক ভয়াবহ সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আগামী মঙ্গলবার ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ থাকা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ দ্রুত খুলে দেওয়ার জন্যই এই চরমপত্র দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমঝোতায় না এলে ইরানকে নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে যাওয়ায় ন্যাটোভুক্ত মিত্র দেশগুলোর ওপরও সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে অংশ নেওয়ার চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধংদেহী অবস্থানে বিভক্ত হয়ে পড়েছে ইউরোপ। যুক্তরাজ্য ৪১টি দেশকে নিয়ে বৈঠক করে প্রণালিটি চালুর বিষয়ে ইরানকে দায়ী করলেও, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাঁখো সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন।

মাঁখো স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানে সামরিক অভিযান ইউরোপের নীতি নয় এবং তারা এতে অংশ নেবে না। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবারই ইরানের উত্তর-মধ্যাঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরবরাহ সেতুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে দাবি করেছে পেন্টাগন।

/আশিক


ইরানের নতুন দফার হামলা শুরু! ইসরায়েলে বাজছে সাইরেন ও হাহাকার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১৭:৪০:০৯
ইরানের নতুন দফার হামলা শুরু! ইসরায়েলে বাজছে সাইরেন ও হাহাকার
ছবি : সংগৃহীত

ইরান থেকে আবারও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) এক জরুরি বার্তায় তারা জানায়, ইরানের দিক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র এখন ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে এবং ধেয়ে আসা এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশটির সাধারণ জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে এবং জরুরি নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বর্তমান সংঘাতের শুরু থেকেই ইরান কয়েক দফায় বা ‘ওয়েভ’ আকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করার কৌশল নিয়েছে।

আজকের এই নতুন দফার হামলা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত ও যুদ্ধোন্মাদ করে তুলেছে। পেন্টাগন এবং আন্তর্জাতিক মহল এই হামলার গতিপ্রকৃতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

সূত্র: আল জাজিরা

পাঠকের মতামত: