ব্যাংক ডাকাতদের সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে: ডা. শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৮ ২১:৫২:৪৮
ব্যাংক ডাকাতদের সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে: ডা. শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

ব্যাংক খাতের সংস্কার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি এবং ‘ব্যাংক ডাকাতদের’ পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুতর অভিযোগ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ স্থগিত বা আটকে দেওয়ার মাধ্যমে দেশের ব্যাংক খাতের চিহ্নিত লুটেরাদের আবারও সুযোগ করে দেওয়ার একটি গভীর তৎপরতা চলছে। তিনি দাবি করেন, দেশে অর্থপাচার ও লুটপাটের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা এখনো বন্ধ হয়নি এবং অতীতের দুর্নীতির কারণগুলো এখনো আর্থিক খাতে বিদ্যমান রয়েছে। ব্যাংক খাতের সংস্কারের প্রক্রিয়াটি একটি বিশেষ চক্রকে সুবিধা দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জ্বালানি সংকটের তীব্রতা নিয়ে কড়া সমালোচনা করে জামায়াত আমির বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘সর্বগ্রাসী ধস’ হিসেবে অভিহিত করেন। রসিকতা ও ক্ষোভের সুরে তিনি মন্তব্য করেন, “সংসদে সব তেল ঢুকে গেছে, তাই বাইরে তেলের সংকট দেখা গেছে।” সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, প্রশাসন সঠিক তথ্য প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছে। তিনি অবিলম্বে জনগণের কাছে দেশের প্রকৃত ও বাস্তব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরার জোর দাবি জানান।

/আশিক


জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি জনগণের ওপর চরম জুলুম: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০২ ১৯:৫৩:০৭
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি জনগণের ওপর চরম জুলুম: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

এলপিজি সিলিন্ডার ও অটোগ্যাসের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধিকে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত জুলুম এবং করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার শামিল বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে সিলেটে চাচার পৈশাচিক নির্যাতনে নিহত চার বছর বয়সী শিশু ফাহিমা আক্তারের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের কাছে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

একদিনেক সংক্ষিপ্ত সফরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে সিলেটে অবস্থান করছেন জামায়াত আমির। সকালে তিনি সরাসরি চলে যান নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু ফাহিমার গ্রামের বাড়িতে। সেখানে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জ্বালানির দাম বৃদ্ধি মানে সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া। এটি জনগণের ওপর সরাসরি জুলুম করার শামিল।’

দেশের বর্তমান সার্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বর্তমান অবস্থা কোনোভাবেই সাধারণ জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। জুলাই বিপ্লবের পর দেশের আপামর জনগণ যে ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন, ন্যায়বিচার ও সুশাসনের প্রত্যাশা করেছিল, বর্তমান প্রশাসনের কাজে বাস্তবে তার সঠিক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

এ সময় সিলেটে চাচার হাতে ফুটফুটে শিশু ফাহিমা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি এই পৈশাচিক ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে কঠোর আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। একই সাথে নিহত শিশুর শোকসন্তপ্ত বাবা-মায়ের প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

সফরকালে আমিরে জামায়াতের সাথে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সিলেটের স্থানীয় দায়িত্বশীল ও শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


ভারতের পুশইন চেষ্টার বিরুদ্ধে মাঠে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০২ ১৯:৩৭:১৩
ভারতের পুশইন চেষ্টার বিরুদ্ধে মাঠে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন
ছবি : সংগৃহীত

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ বা ‘পুশইনের’ অভিযোগের প্রতিবাদে এবং সরেজমিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সীমান্ত সফরের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এই বিশেষ সফরের ঘোষণা দেন।

ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং স্থানীয় সীমান্ত এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করাই তাঁর এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি লেখেন, "ইনশাআল্লাহ আগামীকাল (বুধবার, ৩ জুন) যশোরের বেনাপোল সীমান্ত পরিদর্শনে যাব। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ (পুশ-ইন) করানোর অভিযোগের প্রেক্ষাপটে স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে সরেজমিন অবগত হওয়ার চেষ্টা করব। এ উপলক্ষে স্থানীয় গ্রামবাসী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, শিক্ষক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করব।"

জাতীয় নাগরিক পার্টির এই শীর্ষ নেতা সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের ওপর জোর দিয়ে আরও বলেন, "বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে যেকোনো সীমান্ত-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।"

ঘোষিত সফরসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল বুধবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যশোর ও বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় পৌঁছাবেন। এরপর বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে তিনি সাদিপুর সীমান্ত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময় শেষে দুপুর ১টায় বেনাপোলের পর্যটন হোটেলের লবিতে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে তিনি সফরের অভিজ্ঞতা এবং অনুপ্রবেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে দলের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তুলে ধরবেন।

/আশিক


আসিফ ও হাসনাতকে চিটার-বাটপাড় ও অমানুষ আখ্যা দিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ফজলুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০১ ২১:৪০:৫২
আসিফ ও হাসনাতকে চিটার-বাটপাড় ও অমানুষ আখ্যা দিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ফজলুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য (এমপি) হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও অর্থ পাচারের এক গুরুতর বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। এই দুই তরুণ নেতাকে ‘চিটার-বাটপাড় ও অমানুষ’ হিসেবে অভিহিত করে প্রবীণ এই রাজনীতিকের দেওয়া এমন আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র তোলপাড়ের সৃষ্টি করেছে।

আজ সোমবার (১ জুন) সকালে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল অষ্টগ্রামে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাজারো জনতার উদ্দেশ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বিগত গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ের কথিত ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন,

"৫ আগস্টের পর দুজন লোক লাইমলাইটে আসে। এর মধ্যে সাবেক এক উপদেষ্টা সরাসরি কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে গিয়ে ধমকের সুরে বলেছেন—আমাকে অনতিবিলম্বে ১৫ কোটি টাকা দাও, রাজস্ব ভাণ্ডারের টাকা না দিয়ে তোমার কোনো উপায় নাই। আর অন্যজন হাসনাত আব্দুল্লাহ, যিনি এখন ক্ষমতার জোরে এমপি হয়েছেন। তিনি নিজে গিয়ে ডিসিকে বলেছেন—আমার ব্যক্তিগত ফাণ্ডে ১০ কোটি টাকা দিয়ে দাও।"

উপস্থিত জনতার দিকে ইঙ্গিত করে চরম ক্ষোভের সাথে তিনি বলেন, "এরা আসলে চরম অমানুষ, চিটার ও বাটপাড়। এদের মতো ভণ্ড মানুষকে সোজা করার মতো কোনো আধুনিক মেশিন এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে আবিষ্কার হয়নি।"

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে ফজলুর রহমান দাবি করেন, ওই সরকার সুপরিকল্পিতভাবে দেশের চারটি প্রজন্মকে চিরতরে ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, যাদের এখনো ৩০ বছর বয়স পার হয়নি, এমন অনভিজ্ঞ তরুণরা উপদেষ্টা হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে এবং দেশ-বিদেশে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে পাচার করেছে।

প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ আক্ষেপ করে বলেন, এ দেশে একটি সুদূরপ্রসারী আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মাধ্যমে অত্যন্ত গোপন বা গুপ্ত সংগঠন তৈরি করে পরবর্তীতে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল (এনসিপি) গঠন করা হয়েছে। তরুণদের বিপথগামী করার পেছনে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের দায়ী করে ফজলুর রহমান আরও বলেন, "তাদের একমাত্র মূল কাজই হলো কীভাবে চক্রান্ত আর গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বুনে সাধারণ ছাত্রসমাজকে আবেগ দিয়ে ধোঁকা দিয়ে, বোকা বানিয়ে রাজপথের মিছিলে নামানো যায়।

এই নিরীহ তরুণদের জীবনকে এভাবে অন্ধকারের মুখে ঠেলে দিয়ে তারা মূলত পর্দার আড়ালে নিজেদের আখের গুছিয়েছে এবং বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছে।" দেশের সার্বিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও তরুণদের সুন্দর ভবিষ্যৎ ফিরিয়ে আনতে এই ধরণের সুবিধাবাদী ও চক্রান্তকারী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

/আশিক


বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই দেশে অপরাধ বাড়ছে: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০১ ১৯:৩৭:৩৬
বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই দেশে অপরাধ বাড়ছে: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

বিচারের নামে অবিচার এবং বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই মূলত দেশে জঘন্য অপরাধের গ্রাফ ক্রমাগত বাড়ছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আজ সোমবার (১ জুন) বিকেলে পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরেই বিমানবন্দর থেকে সরাসরি রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ছুটে যান তিনি। সেখানে চিকিৎসাধীন পল্লবীতে নির্মমভাবে নিহত শিশু রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার শারীরিক খোঁজখবর নেন এবং শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

হাসপাতাল থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জামায়াত আমির বলেন,

"বিচারের নামে অবিচার ও দীর্ঘসূত্রিতাই অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করে দেয়। শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচারের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি শতভাগ বাস্তবায়িত হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশা করি। সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে এই নরপিশাচদের দ্রুততম সময়ে ফাঁসি দেওয়া সম্ভব।"

এদিকে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা এই লোমহর্ষক মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলো। আজ সোমবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের বিরুদ্ধে এই চার্জ গঠন করেন।

এর আগে গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট জমা দিলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত তা গ্রহণ করে দ্রুত বিচারের জন্য মামলাটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার নথি ও আদালতে দেওয়া ঘাতক সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা গেছে, গত ১৯ মে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা ঘর থেকে বের হলে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের ফ্ল্যাটের ভেতর ডেকে নেয়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ইয়াবাসক্ত সোহেল রানা ছোট্ট শিশুটিকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করে, যার ফলে রামিসা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

ঠিক ওই মুহূর্তে রামিসার মা বাইরে থেকে দরজায় কড়া নাড়তে থাকলে জানোয়ার সোহেল রানা রামিসার গলা কেটে হত্যা করে। এরপর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা কেটে শরীর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে বাথরুমের বালতিতে লুকিয়ে রাখে এবং যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে মস্তকহীন দেহটি খাটের নিচে ঠেলে দেয়। পরবর্তীতে রামিসার বাবা-মা প্রতিবেশীদের নিয়ে দরজা ভেঙে ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত দেহ এবং বালতিতে কাটা মাথা উদ্ধার করেন। ঘটনার পরপরই জানালার গ্রিল কেটে প্রধান আসামি সোহেল রানা পালালেও নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে এবং ফ্ল্যাট থেকে তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মাদক সেবন করে এই বিকৃত যৌনকর্ম ও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে আদালতে স্পষ্ট স্বীকার করেছে এই খুনি।

/আশিক


জেলা পরিষদের ১০ কোটি নিয়ে অপপ্রচারের জবাবে যে ব্যাখ্যা দিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০১ ১৮:০৭:০৮
জেলা পরিষদের ১০ কোটি নিয়ে অপপ্রচারের জবাবে যে ব্যাখ্যা দিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ দুই নেতা কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন—জেলা পরিষদ প্রশাসকের এমন এক বিস্ফোরক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তোলপাড় ও তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই বরাদ্দের মধ্যে ১০ কোটি টাকা পকেটে পুরেছেন বলে সরাসরি অভিযোগ উঠেছে দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই মেগা দুর্নীতির অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে এর আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

গতকাল রোববার (৩১ মে) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে এবং একটি তথ্যবহুল ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে দেবিদ্বার উপজেলার সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বরাদ্দের পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ান তুলে ধরেন এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ।

ভিডিও বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, সম্প্রতি দেশের কিছু নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে জেলা পরিষদের ১০ কোটি টাকা ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি স্পষ্ট করেন, কোনো ব্যক্তি বা নেতার পকেটে এই টাকা যায়নি। প্রকৃতপক্ষে, দেবিদ্বার উপজেলার সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সম্পূর্ণ সরকারি ও আইনি নিয়ম মেনে ২০২৪–২৫ এবং ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন খাতে এই নির্দিষ্ট সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা সরাসরি সরকারি তদারকিতেই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে।

নিজের দাবির সপক্ষে বরাদ্দের স্বচ্ছতা প্রমাণ করতে হাসনাত আবদুল্লাহ ভিডিওতে সরাসরি সরকারি একটি ওয়েবসাইট থেকে লাইভ বরাদ্দের অফিশিয়াল তালিকাও জনসমক্ষে প্রকাশ করেন। প্রদর্শিত সেই সরকারি তালিকা অনুযায়ী দেখা যায়, গত দুটি অর্থবছরে দেবিদ্বারের মোট ১৪৮টি দৃশ্যমান উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে সর্বমোট ৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে।

২০২৪–২৫ অর্থবছর

দেবিদ্বারে এডিপি (ADP) সাধারণ খাতে ৪টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ ২৩ লাখ টাকা, এডিপি বিশেষ খাতে সবচেয়ে বেশি ৭৬টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ ৬ কোটি ২ লাখ টাকা এবং জেলা পরিষদের রাজস্ব/নিজস্ব খাতে ২৩টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৮১ লাখ টাকা।

২০২৫–২৬ অর্থবছর

এডিপি সাধারণ খাতে ১২টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ ৩৭ লাখ টাকা এবং এডিপি বিশেষ খাতে ৩৩টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৯৯ লাখ টাকা।

জনগণের উদ্দেশ্যে দেওয়া এই ভিডিও বার্তার শেষাংশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, "জনগণের পবিত্র আমানত রক্ষা করা একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আমার প্রধান ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো ধরনের নোংরা অপপ্রচার বা কুৎসা রটিয়ে দেবিদ্বারের চলমান উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে কোনোভাবেই ব্যাহত করা যাবে না।" এই বরাদ্দের শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা সরকারের যেকোনো উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও যাচাই-বাছাইকে স্বাগত জানান এবং সাধারণ মানুষকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সস্তা গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।

/আশিক


উন্নয়ন বরাদ্দের টাকায় ৭৭টি আসন কিনেছে জামায়াত-এনসিপি: রাশেদ খান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০১ ১২:১২:০৬
উন্নয়ন বরাদ্দের টাকায় ৭৭টি আসন কিনেছে জামায়াত-এনসিপি: রাশেদ খান
ছবি : সংগৃহীত

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৈষম্য ও নির্বাচনী সুযোগ সুবিধা দেওয়ার এক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তাঁর দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় উন্নয়ন বরাদ্দের নামে দেওয়া বিপুল অর্থ অবৈধভাবে ব্যবহার করে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছে এবং এই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমেই তারা ৭৭টি আসন পেতে সক্ষম হয়েছে। আজ সোমবার (১ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন তুলে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জেলা পরিষদের তহবিল থেকে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার উন্নয়নের জন্য কেন এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ এককভাবে ১০ কোটি টাকা পেয়েছিলেন? সে সময় হাসনাত আব্দুল্লাহ অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টা বা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল পদে ছিলেন কিনা, তা জানতে চান তিনি। রাশেদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্বে থাকাকালে দেশের সব উপজেলায় সমানভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব ছিল। কিন্তু তা না করে নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়ার এই গোপন সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো, সেটি এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

বিএনপির এই নেতার ভাষ্য, যদি রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমেই উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে, তবে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি বা গণঅধিকার পরিষদের নেতারা কেন সেই রাষ্ট্রীয় সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হলেন?

নিজের দাবির সপক্ষে প্রমাণ টেনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি জামায়াত নেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের একটি প্রকাশ্য বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে যে—তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিজের নির্বাচনি এলাকার জন্য একাই ১২০ কোটি টাকা সরকারি বরাদ্দ এনেছিলেন। রাশেদ খানের অভিযোগ, ঠিক একইভাবে জামায়াত ও এনসিপির নেতাদের নির্বাচনি সুবিধা পাইয়ে দিতে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দ ভাগাভাগি করে দেওয়া হয়েছিল।

ফেসবুক পোস্টে তিনি সরাসরি প্রধান উপদেষ্টাকে দায়ী করে বলেন, ‘ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস জামায়াত-এনসিপিকে জেতাতে উন্নয়ন বরাদ্দের নামে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ইঞ্জিনিয়ারিং করেছেন। তাহের ও হাসনাত সাহেবরা এসব সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পকে নিজেদের নির্বাচনি প্রচারণায় অবাধে ব্যবহার করতে পেরেছেন, কিন্তু অন্য দলের প্রার্থীরা সেই সমান সুযোগ পাননি।’

তিনি দাবি করেন, অতীতে বাংলাদেশের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১৮টি আসন পাওয়া একটি দল এবার রাতারাতি ৭৭টি আসন পেয়েছে মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দের এই বিপুল অর্থ ও প্রভাব ব্যবহার করে। অন্য সব উপজেলাকে সম্পূর্ণ উন্নয়ন বঞ্চিত করে নির্দিষ্ট কিছু ভিআইপি এলাকায় অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় বৈষম্য, দুর্নীতি ও চরম অনিয়ম করেছে।

রাশেদ খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তাহের, হাসনাত ও আসিফ মাহমুদ সাহেবরা শুধুমাত্র নিজেদের এলাকায় উন্নয়ন বরাদ্দ নিয়ে গিয়ে দেশে নতুন করে বৈষম্য ও দুর্নীতির জন্ম দিয়েছেন। বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে এটি কোনোভাবেই ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।’ একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব স্পর্শকাতর বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খান বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের পকেটে এ ধরনের উন্নয়ন বরাদ্দ দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ অন্যায় ও পক্ষপাতিত্ব করেছে। তিনি সদ্য সমাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের দীর্ঘ ১৮ মাসের সব ধরনের আর্থিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং এর কঠোর বিচার দাবি করেন।

/আশিক


কালশী বস্তির আগুনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও নাশকতার শঙ্কা: আসিফ মাহমুদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ২১:৫৮:২৭
কালশী বস্তির আগুনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও নাশকতার শঙ্কা: আসিফ মাহমুদ
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের কালশী বাউনিয়াবাদ বস্তিতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পেছনে কোনো গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা নাশকতার হাত রয়েছে কি না, সেই শঙ্কা কোনোভাবেই উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আজ রবিবার (৩১ মে) সকালে কালশীর বাউনিয়াবাদ বস্তির অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

পরিদর্শনকালে এনসিপি মুখপাত্র অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো অসহায় মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা শোনেন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শত শত ছিন্নমূল মানুষের মাঝে জরুরি খাদ্য সামগ্রী ও দুপুরের খাবার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্য কারণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, তথাকথিত ‘আগুন সন্ত্রাস’ বা নাশকতার মাধ্যমে বস্তিবাসীদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করার কোনো অপচেষ্টা দেশের মাটিতে বরদাশত করা হবে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেকোনো উচ্ছেদ অভিযান চালানোর আগে অবশ্যই এই নিম্ন আয়ের বস্তিবাসীদের যথাযথ পুনর্বাসন ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।

সম্প্রতি কালশী এলাকায় বস্তি উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও বস্তিবাসীদের মধ্যে ঘটে যাওয়া ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন—উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে তৈরি হওয়া সেই ক্ষোভ বা প্রতিহিংসা থেকেই সুপরিকল্পিতভাবে এই আগুন লাগানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে যারা নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছে, তাদের মুখোশ উন্মোচনে একটি উচ্চপর্যায়ের ও নিরপেক্ষ সুষ্ঠু তদন্ত কমিটি গঠন করা এখন সময়ের দাবি।

/আশিক


জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য নাম: মির্জা ফখরুল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ২১:৫০:৪০
জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য নাম: মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বাংলাদেশ—এ দুটি ‘অবিচ্ছেদ্য’ নাম বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রোববার (৩১ মে) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জিয়াউর রহমান এবং বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য, একে আলাদা করা যায় না। কারণ জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল, আর সেই মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ একটি নতুন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বমানচিত্রে স্থান পায়। পরবর্তীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি জনগণের যে আস্থা, তার প্রকাশ ঘটেছিল ১৯৭৫ সালে। দেশের মানুষ যখন নতুন নেতৃত্ব খুঁজছিল, তখন একটি সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাকে আবার দেশ গঠনের দায়িত্ব দিয়েছিল। প্রথমটি ছিল দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা, আর দ্বিতীয়টি ছিল দেশ বিনির্মাণের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, ‘এটাকে একটা অলৌকিক ঘটনা বলা যেতে পারে যে, জাতির প্রতিটি সংকটের মুহূর্তে এই মানুষটি সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। ১৯৭১ সালে মানুষ যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও দিশেহারা, তখন ‘আমি মেজর জিয়া বলছি’ তৎকালীন এক অখ্যাত মেজরের এই কণ্ঠস্বর পুরো জাতিকে জাগিয়ে তুলেছিল। আবার ঠিক ১৯৭৫ সালেও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, তখনো মেজর জেনারেল জিয়া হিসেবে তিনি জাতিকে জাগিয়ে তুলেছেন এবং ঐক্যবদ্ধ করেছেন।

জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশ পুনর্গঠন, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ এর মাধ্যমে জাতির একক পরিচয় তৈরি, যোগ্য ও দক্ষ মানুষদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং অর্থনৈতিক বিভিন্ন সংস্কারসহ নানামুখী উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, আজকাল একটি রাজনৈতিক শক্তি কেবল ‘সংস্কার, সংস্কার’ বলে চিৎকার করে। তারা বলে—আমরা নাকি সংস্কারে বিশ্বাস করি না, সংস্কার করছি না। অথচ বাংলাদেশে সংস্কারের জন্ম তো বিএনপিই দিয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র উপহার দিয়েছিলেন; এটি একটি ঐতিহাসিক ও মৌলিক সংস্কার ছিল। এছাড়া তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন।

/আশিক


আমি কী জিনিস শেখ হাসিনার কাছে জাইনা নিয়েন: শফিকুল ইসলাম মাসুদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ২০:৩৫:৪০
আমি কী জিনিস শেখ হাসিনার কাছে জাইনা নিয়েন: শফিকুল ইসলাম মাসুদ
ছবি : সংগৃহীত

পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর প্রভাবশালী নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এক হুংকার দিয়ে বলেছেন, "শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস, এইটা বাউফলের মানুষকে দেখানোর দরকার নাই, শেখ হাসিনার কাছে জাইনা নিয়েন। শেখ হাসিনার কাছে জিজ্ঞেস কইরা দেইখা নিয়েন, শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস।"

আজ রবিবার (৩১ মে) গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক চাঞ্চল্যকর ভিডিও ফুটেজে তাঁকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এসব কথা বলতে শোনা যায়।

ভিডিও ফুটেজে বাউফলের মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সমালোচকদের উদ্দেশ্য করে ড. মাসুদ বলেন, "শেখ হাসিনা উন্নয়ন তো কম করেনাই, তার পরও পালানো লাগছে কেন? উন্নয়ন করে যদি টিকে থাকতে পারত, তাহলে বাংলাদেশে একমাত্র শেখ হাসিনার টিকে থাকার কথা। কিন্তু পারেনাই কেন? রাস্তা দিছে, ঘাট দিছে, সেতু দিছে—এইটা করছে, ওইটা করছে, কিন্তু মানুষের মনে কোনো আনন্দ ছিল না। মানুষের অধিকার ছিল না।" মূলত কেবল বাহ্যিক উন্নয়ন দিয়ে যে জনগণের মন জয় করা যায় না এবং মৌলিক অধিকার হরণ করলে পতন অবশ্যম্ভাবী—তিনি তাঁর বক্তব্যে সেটিই মনে করিয়ে দেন।

নিজের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, "রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জাইনেন, ওখানকার সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসীর কাছে জিজ্ঞেস কইরেন, শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস। উল্টাপাল্টা কথা বইলা মটকা গরম করবেন না। মটকা বোঝেন? মটকা গরম করবেন না, সামলাইতে পারবেন না।" তাঁর এই বক্তব্য বাউফল ও পটুয়াখালীর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: