মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সর্বশেষ

যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরই ভাঙন: লেবানন সীমান্তে ফের ইসরায়েলি হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৭ ১৬:১৭:৩৩
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরই ভাঙন: লেবানন সীমান্তে ফের ইসরায়েলি হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। লেবানন-এর সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ইসরায়েল সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলা ও গোলাবর্ষণ চালিয়েছে। এতে করে সদ্য ঘোষিত ১০ দিনের এই সমঝোতা শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই সীমান্তসংলগ্ন গ্রামগুলোতে একাধিক আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। বিচ্ছিন্ন গোলাবর্ষণ ও সামরিক তৎপরতা এই বার্তাই দিচ্ছে যে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এই প্রাথমিক লঙ্ঘনের অভিযোগ যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি করেছে।

অন্যদিকে রাজধানী বৈরুতে যুদ্ধবিরতি উদযাপনের দৃশ্য ছিল একেবারেই ভিন্ন। রাতের আকাশ ট্রেসার ফায়ারের রেখায় আলোকিত হয়ে ওঠে, যা একদিকে যুদ্ধবিরতির প্রতীকী উদযাপন, অন্যদিকে এক ধরনের স্নায়ুচাপপূর্ণ অনিশ্চয়তার প্রতিফলন। আনন্দ ও আতঙ্ক যেন একই সঙ্গে মিশে গেছে শহরের বাতাসে।

এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যার আওতায় হিজবুল্লাহ-সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বৈঠক হতে পারে, যা দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পর একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে মাঠপর্যায়ের উত্তেজনা সেই আশাকে এখনো দুর্বল করে রাখছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় লেবাননের সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষকে দক্ষিণাঞ্চলে ফিরে না যাওয়ার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা বলছে, সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এসব এলাকায় ফেরা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ এখনো উন্মুক্ত হয়নি।

মানবিক পরিস্থিতিও ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে নিহতের সংখ্যা ২,১৯৬ জনে পৌঁছেছে। এই বিপুল প্রাণহানি এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ যুদ্ধবিরতির শুরুর মুহূর্তেও এক ধরনের ভারী, চাপা উত্তেজনা তৈরি করে রেখেছে।

সবকিছু মিলিয়ে স্পষ্ট হচ্ছে, এই যুদ্ধবিরতি এখনো একটি ভঙ্গুর ও অনিশ্চিত কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ ও বাস্তব ময়দানের পরিস্থিতির মধ্যে যে ফাঁক রয়ে গেছে, সেটি দ্রুত পূরণ না হলে এই সমঝোতা যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য কতটা টিকে থাকে তার ওপর।

মধ্যপ্রাচ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। লেবানন-এর সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ইসরায়েল সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলা ও গোলাবর্ষণ চালিয়েছে। এতে করে সদ্য ঘোষিত ১০ দিনের এই সমঝোতা শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই সীমান্তসংলগ্ন গ্রামগুলোতে একাধিক আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। বিচ্ছিন্ন গোলাবর্ষণ ও সামরিক তৎপরতা এই বার্তাই দিচ্ছে যে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এই প্রাথমিক লঙ্ঘনের অভিযোগ যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি করেছে।

অন্যদিকে রাজধানী বৈরুতে যুদ্ধবিরতি উদযাপনের দৃশ্য ছিল একেবারেই ভিন্ন। রাতের আকাশ ট্রেসার ফায়ারের রেখায় আলোকিত হয়ে ওঠে, যা একদিকে যুদ্ধবিরতির প্রতীকী উদযাপন, অন্যদিকে এক ধরনের স্নায়ুচাপপূর্ণ অনিশ্চয়তার প্রতিফলন। আনন্দ ও আতঙ্ক যেন একই সঙ্গে মিশে গেছে শহরের বাতাসে।

এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যার আওতায় হিজবুল্লাহ-সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বৈঠক হতে পারে, যা দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পর একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে মাঠপর্যায়ের উত্তেজনা সেই আশাকে এখনো দুর্বল করে রাখছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় লেবাননের সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষকে দক্ষিণাঞ্চলে ফিরে না যাওয়ার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা বলছে, সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এসব এলাকায় ফেরা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ এখনো উন্মুক্ত হয়নি।

মানবিক পরিস্থিতিও ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে নিহতের সংখ্যা ২,১৯৬ জনে পৌঁছেছে। এই বিপুল প্রাণহানি এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ যুদ্ধবিরতির শুরুর মুহূর্তেও এক ধরনের ভারী, চাপা উত্তেজনা তৈরি করে রেখেছে।

সবকিছু মিলিয়ে স্পষ্ট হচ্ছে, এই যুদ্ধবিরতি এখনো একটি ভঙ্গুর ও অনিশ্চিত কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ ও বাস্তব ময়দানের পরিস্থিতির মধ্যে যে ফাঁক রয়ে গেছে, সেটি দ্রুত পূরণ না হলে এই সমঝোতা যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য কতটা টিকে থাকে তার ওপর।


লেবানন যুদ্ধবিরতিতে ক্ষুব্ধ ইসরায়েল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৭ ১০:৫৬:৩৯
লেবানন যুদ্ধবিরতিতে ক্ষুব্ধ ইসরায়েল
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননকে কেন্দ্র করে ঘোষিত সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ইসরায়েলের ভেতরে নতুন এক রাজনৈতিক ও জনমত সংকট তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষণ উঠে এসেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবেদ আবু শেহাদেহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, হিজবুল্লাহর লাগাতার হামলার মুখে থাকা সীমান্তবর্তী এলাকার জনগণ এই যুদ্ধবিরতিকে কোনোভাবেই সন্তোষজনক হিসেবে দেখছে না।

তার মতে, সংঘাত চলাকালে হিজবুল্লাহ তাদের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে যা ইসরায়েলি জনগণের কাছে এক ধরনের অপ্রত্যাশিত বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। ফলে সরকার যে ‘সম্পূর্ণ বিজয়’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবে অর্জিত হয়নি বলে ধারণা জোরালো হয়েছে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননকে একটি কার্যকর নিরাপত্তা বাফার জোনে রূপান্তর করার পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করতে পারেনি ইসরায়েল। অথচ এই প্রতিশ্রুতি ছিল যুদ্ধের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য।

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের কৌশলগত সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকেই মনে করছেন, যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে মূল সমস্যার সমাধান হয়নি বরং তা আংশিকভাবে চাপা দেওয়া হয়েছে।

আবেদ আবু শেহাদেহ আরও উল্লেখ করেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রকৃত শর্ত ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জনগণের কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য তুলে ধরা হয়নি এমন একটি ধারণা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এতে সরকারের প্রতি আস্থাহীনতা আরও গভীর হচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, ইরান ও পাকিস্তান আগে থেকেই ইঙ্গিত দিয়েছিল যে লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কিন্তু শুরুতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি অস্বীকার করেছিল, যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই ইসরায়েলি জনগণের সামনে এই বাস্তবতা তুলে ধরেন বলে জানা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

সূত্র: আল-জাজিরা


বন্দর থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সব ধ্বংসের ছক আঁকলেন ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৬ ১৯:৫৬:১৫
বন্দর থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সব ধ্বংসের ছক আঁকলেন ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত এখন চূড়ান্ত উত্তেজনার দিকে ধাবিত হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যতদিন প্রয়োজন ততদিন ইরানের প্রতিটি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর নৌ-অবরোধ জারি থাকবে। শুধু তাই নয়, তেহরান যদি দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের ওপর নতুন করে ভয়াবহ সামরিক হামলা চালানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পেন্টাগন প্রধান।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যদি ভুল পথ বেছে নেয়, তবে কেবল বন্দর অবরোধই নয় বরং দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জ্বালানি ভাণ্ডার এবং জাতীয় অবকাঠামোর ওপর সরাসরি বোমাবর্ষণ শুরু করবে মার্কিন বাহিনী।

গত সোমবার থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে শুরু হওয়া এই অবরোধ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ড্যান কেইন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, অবরোধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৩টি জাহাজকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠাতে বাধ্য করেছে মার্কিন নৌবাহিনী।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ আরও দাবি করেন, গত এক মাসের যুদ্ধে বিধ্বস্ত স্থাপনাগুলো থেকে ইরান তাদের অবশিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম ও ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার উদ্ধারের যে চেষ্টা চালাচ্ছে, তা পেন্টাগনের নজরদারিতে রয়েছে। তাঁর মতে, ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন পুরোপুরি অচল এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া অস্ত্রগুলো প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা তেহরানের আর অবশিষ্ট নেই।

তবে পেন্টাগনের এই আত্মবিশ্বাসী দাবির বিপরীতে মাঠপর্যায়ের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এর আগে পিট হেগসেথ দাবি করেছিলেন যে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু এর ঠিক কয়েকদিন পরেই একটি মার্কিন অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে সেই দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানায় তেহরান।

ওই বিমানের পাইলট ও ক্রুদের উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েক ঘণ্টা দীর্ঘ একটি জটিল বিশেষ অভিযান চালাতে হয়েছিল। এমনকি ইরান দাবি করেছে যে সেই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের আরও অন্তত তিনটি বিমান তারা বিধ্বস্ত করেছে। ফলে ওয়াশিংটনের অবরোধের হুমকির মুখে ইরান যে নীরব থাকবে না, তা বেশ স্পষ্ট।

/আশিক


বিচ্ছিন্ন দক্ষিণ লেবানন! বিমান হামলায় ধ্বংস হলো কৌশলগত সংযোগ পথ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৬ ১৮:২৩:৩১
বিচ্ছিন্ন দক্ষিণ লেবানন! বিমান হামলায় ধ্বংস হলো কৌশলগত সংযোগ পথ
ছবি : সংগৃহীত

শান্তি আলোচনার গুঞ্জন চললেও মাঠপর্যায়ে ইসরায়েলি তাণ্ডব থামছেই না। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) দক্ষিণ লেবাননের সংযোগ রক্ষাকারী সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত ‘কাসমিয়েহ সেতু’টি বিমান হামলায় গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ (NNA) জানিয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে পর পর দুটি শক্তিশালী হামলা চালিয়ে টাইর ও সিডন শহরকে সংযুক্ত করা এই বিশাল সেতুটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে ওই একই এলাকায় একটি ড্রোন হামলাও চালিয়েছিল ইসরায়েল।

কাসমিয়েহ সেতুটি দক্ষিণ লেবাননের জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত ছিল, যা দেশটির পশ্চিম, মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র বড় পথ। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সেতু ধ্বংস করার মাধ্যমে দক্ষিণ লেবাননকে দেশের বাকি অংশ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার চেষ্টা করছে ইসরায়েল।

উল্লেখ্য, এই সেতুটি এর আগেও কয়েক দফা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এবার তা আর ব্যবহারের উপযোগী নেই। মূলত হিজবুল্লাহর গত ২ মার্চের সীমান্ত হামলার পর থেকেই ২০২৪ সালের নভেম্বরের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে লেবাননের গভীরে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে নেতানিয়াহু সরকার।

লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ইসরায়েলের এই অব্যাহত হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

আহতের সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়িয়েছে এবং প্রায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ধ্বংস হওয়া কাসমিয়েহ সেতুটি সেই মানবিক বিপর্যয়কে আরও প্রকট করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ এর ফলে ত্রাণ ও জরুরি ওষুধ সরবরাহ এখন পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত হবে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


যুদ্ধে ইতি টানার সময় কি তবে এল? রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৬ ১৮:১৩:৫০
যুদ্ধে ইতি টানার সময় কি তবে এল? রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে এবার বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান শিগগিরই দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যদিও এই ঐতিহাসিক বৈঠকের সুনির্দিষ্ট সময় বা স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে দুই দেশের মধ্যে পরমাণু ইস্যুসহ প্রধান সংকটগুলো নিয়ে আলোচনার পথ প্রশস্ত হচ্ছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই ভয়াবহ যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে দুই পক্ষ বেশ কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো বড় ধরনের মতভেদ রয়ে গেছে। বিশেষ করে বর্তমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির অর্ধেকের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও মৌলিক দাবিগুলোর ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে এখনো বিশাল দূরত্ব বিদ্যমান।

এই সংকট নিরসনে নেপথ্যে বড় ভূমিকা পালন করছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তাঁর সাম্প্রতিক তেহরান সফর দুই দেশের মধ্যকার বরফ গলাতে এবং ভুল বোঝাবুঝি কমাতে কার্যকর প্রভাব ফেলেছে বলে ওই ইরানি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। মূলত আসিম মুনিরের মধ্যস্থতাতেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং তেহরান-ওয়াশিংটনের মধ্যে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফেরার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখন পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে দ্বিতীয় দফার এই শান্তি আলোচনার দিকে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স


বিশ্ব তেলের বাজারে হাহাকার? হরমুজ সংকটে দুই পরাশক্তির চরম টক্কর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৬ ১৮:০২:৪৪
বিশ্ব তেলের বাজারে হাহাকার? হরমুজ সংকটে দুই পরাশক্তির চরম টক্কর
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধের মুখে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে ইরানের প্রধান সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, গত সোমবার থেকে অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজই এই ব্যুহ ভেঙে পার হতে পারেনি।

বুধবার দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে, অবরোধের প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ১০টি জাহাজকে জোরপূর্বক ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই অনড় অবস্থানে পারস্য উপসাগর এলাকায় এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ইরানের উপকূলে যাতায়াতকারী যেকোনো জাহাজকে তারা আটকে দেবে অথবা ফিরিয়ে দেবে। তবে ইরান ছাড়া অন্য দেশগুলোর উদ্দেশ্যে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে বিশেষ নজরদারিতে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো—হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিপরীতে ইরান যে মোটা অংকের 'ট্রানজিট ফি' আদায়ের চেষ্টা করছিল তা বন্ধ করা এবং তেহরানের তেল রপ্তানি শূন্যে নামিয়ে এনে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।

এদিকে ইরান এই নৌ-অবরোধকে সরাসরি ‘দস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এর প্রতিশোধ নিতে তেহরান কেবল হরমুজ নয়, বরং পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগরের নৌ-চলাচলও লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে মার্কিন বাহিনী তাদের অবস্থানে অনড়।

গত বুধবার ‘ইউএসএস স্প্রুয়ান্স’ নামক একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার বন্দর আব্বাস থেকে ছেড়ে আসা ইরানের একটি কার্গো জাহাজকে সফলভাবে মাঝপথ থেকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থান যেকোনো সময় একটি বড় ধরনের নৌ-যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ, স্ট্রেইট টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট


‘পিকচার আভি বাকি হ্যায়’ ট্রাম্পকে ইরানের বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৬ ১৩:৪৩:০৪
‘পিকচার আভি বাকি হ্যায়’ ট্রাম্পকে ইরানের বার্তা
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব রাজনীতিতে বাকযুদ্ধ নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে এই কূটনৈতিক সংঘাত নতুন এক মাত্রা পেয়েছে। এবার সেই লড়াইয়ে যুক্ত হয়েছে বলিউডের নাটকীয়তা, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ইরানকে লক্ষ্য করে একাধিক কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের নৌ শক্তি আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এই বক্তব্যের পরপরই তেহরান কৌশলগতভাবে পাল্টা বার্তা দেয়। মুম্বাইয়ে অবস্থিত ইরানি কনস্যুলেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে ইরানের উন্নত স্পিডবোট ও ক্ষেপণাস্ত্র মহড়ার দৃশ্য তুলে ধরা হয়।

তবে ভিডিওটির সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল এর ক্যাপশন। সেখানে ব্যবহার করা হয় শাহরুখ খান অভিনীত ওম শান্তি ওম সিনেমার জনপ্রিয় সংলাপ- “পিকচার আভি বাকি হ্যায়”।

এই সংলাপের মাধ্যমে ইরান একটি প্রতীকী বার্তা দিতে চেয়েছে তাদের সামরিক সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি প্রকাশ পায়নি এবং পরিস্থিতির শেষ অধ্যায় এখনো বাকি। অর্থাৎ ট্রাম্পের মন্তব্যকে তারা অসম্পূর্ণ ও আগেভাগে দেওয়া মূল্যায়ন হিসেবে দেখছে।

ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। অনেক নেটিজেন এই ঘটনাকে ‘সংলাপ যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করে হাস্যরসাত্মক প্রতিক্রিয়া জানালেও, এর পেছনে কৌশলগত বার্তা রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

পারস্য উপসাগর অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান এই ভিডিওর মাধ্যমে তাদের নৌ সক্ষমতা তুলে ধরেছে এবং একই সঙ্গে একটি মনস্তাত্ত্বিক বার্তা দিয়েছে যে তারা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।


নিজেকে ‘যিশু’ দাবি করলেন ট্রাম্প! পোপকে আক্রমণে উত্তাল আমেরিকা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৬ ১২:৩৬:৪৪
নিজেকে ‘যিশু’ দাবি করলেন ট্রাম্প! পোপকে আক্রমণে উত্তাল আমেরিকা
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পোপ লিও চতুর্দশকে ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং নিজেকে যিশুর মতো উপস্থাপন করে একটি এআই-তৈরি ছবি শেয়ার করার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে দেশটির ক্যাথলিক সমাজ। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনার ফলে ট্রাম্প তাঁর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও রক্ষণশীল ক্যাথলিক মিত্রদের একটি বিশাল অংশের সমর্থন হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন।

বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ নিয়ে হোয়াইট হাউস ও ভ্যাটিকানের বিপরীতমুখী অবস্থান শ্বেতাঙ্গ রক্ষণশীলদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট করে তুলেছে, যা অনেক ক্যাথলিক নেতা ‘অনৈতিক’ এবং ‘গির্জার ওপর সরাসরি আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ট্রাম্পের একসময়ের অন্ধ সমর্থক হিসেবে পরিচিত টেক্সাসের বিশপ জোসেফ স্ট্রিকল্যান্ড এখন সরাসরি তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করছেন। একসময় ট্রাম্পের বাসভবন পবিত্র করার অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও স্ট্রিকল্যান্ড এখন বলছেন, অনৈতিক আচরণ ঢাকতে ধর্মকে ব্যবহার করা এক অন্ধকার সময়ের ইঙ্গিত। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, সর্বোচ্চ ক্ষমতা কোনো রাজনৈতিক নেতার হাতে নয় বরং খ্রিষ্টের হাতে।

অন্যদিকে, ফ্যামিলি ইনস্টিটিউট অব কানেকটিকাট-এর নির্বাহী পরিচালক পিটার উলফগ্যাং দাবি করেছেন, পোপকে আক্রমণ করে ট্রাম্প পুরো ক্যাথলিক সমাজকে আঘাত করেছেন। এমনকি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র বিশপ রবার্ট ব্যারনও এই ঘটনার জন্য পোপের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যমতে, ইরান ইস্যু এবং ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের কারণে বর্তমানে ক্যাথলিকদের ডান ও বামপন্থী উপদলগুলো পোপের শান্তির বার্তার পক্ষে একজোট হয়েছে। ভ্যাটিকানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পোপ কোনো ব্যক্তির বিরোধিতা করছেন না বরং যুদ্ধের পেছনের অমানবিক নীতির বিরোধিতা করছেন।

ক্যাথলিক ভোটাররা ট্রাম্পের ক্ষমতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হওয়ায় এই গোষ্ঠীটির মনবদল আগামী নির্বাচনে তাঁর জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: বিবিসি


মহাকাশ থেকে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের থাবা! নেপথ্যে চীনের গোপন স্যাটেলাইট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৬ ১১:৩৬:৪০
মহাকাশ থেকে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের থাবা! নেপথ্যে চীনের গোপন স্যাটেলাইট
ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশ প্রযুক্তিতে চীনের সরাসরি সহযোগিতায় এবার মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কৌশলের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান। ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কক্ষপথে থাকা একটি অত্যাধুনিক চীনা স্যাটেলাইট কিনে সেটির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে ইরান। গত বছর অত্যন্ত গোপনে চীনের ‘আর্থ আই কোম্পানি’র কাছ থেকে ‘টিইই-০১বি’ নামক এই স্যাটেলাইটটি সংগ্রহ করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

মূলত ‘ইন-অরবিট ডেলিভারি’ মডেলের মাধ্যমে মহাকাশে স্যাটেলাইট স্থাপনের পর সেটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি বেইজিং ভিত্তিক সংস্থা ‘এমপোস্যাট’-এর গ্রাউন্ড স্টেশন নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় বর্তমানে এশিয়া থেকে লাতিন আমেরিকা পর্যন্ত বিশাল এলাকায় নজরদারি চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে ইরান।

এই স্যাটেলাইটের নজরদারির তীব্রতা কতটা ভয়াবহ, তার প্রমাণ পাওয়া যায় গত মার্চ মাসে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসের ওপর দিয়ে এই স্যাটেলাইটটি বেশ কয়েকবার প্রদক্ষিণ করে উচ্চমানের ছবি সংগ্রহ করেছে। কাকতালীয়ভাবে সেই সময়ই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছিলেন।

এছাড়াও জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এয়ার বেস, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং ইরাকের এরবিল বিমানবন্দরেও এই স্যাটেলাইট দিয়ে নিখুঁত তথ্য সংগ্রহ করেছে আইআরজিসি। এমনকি কুয়েত, জিবুতি এবং ওমানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বাহরাইনের অ্যালুমিনিয়াম প্ল্যান্ট ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেসামরিক অবকাঠামোও এখন ইরানের রাডারের নিচে রয়েছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, চীনের সরকারি অনুমোদন ছাড়া এমন স্পর্শকাতর প্রযুক্তি হস্তান্তর অসম্ভব। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে, চীন সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও ইরানকে প্রযুক্তিগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক সহায়তা দিয়ে নেপথ্যে থেকে শক্তি জোগাচ্ছে। যদিও বেইজিং এই সামরিক সহায়তার বিষয়টি অস্বীকার করেছে, তবে রাশিয়ার পর এবার চীনের এই আধুনিক স্যাটেলাইট ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যা পেন্টাগনের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি


৩৪ বছর পর মুখোমুখি! ট্রাম্পের জাদুতে সংলাপে ইসরায়েল-লেবানন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৬ ১১:২১:১৩
৩৪ বছর পর মুখোমুখি! ট্রাম্পের জাদুতে সংলাপে ইসরায়েল-লেবানন
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বরফ গলতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) সরাসরি সংলাপে বসছেন ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ নেতারা। বুধবার রাতে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন।

তিনি লিখেছেন, "ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির অবকাশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘ ৩৪ বছর কোনো কথা হয়নি। এই ঐতিহাসিক বৈঠকটি আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত হবে।"

এই অভাবনীয় অগ্রগতির নেপথ্যে ছিল গত মঙ্গলবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠক। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আয়োজনে সেই বৈঠকে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার অংশ নেন।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা, স্টেট ডিপার্টমেন্টের উপদেষ্টা মাইকেল নিডহ্যাম এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই শান্তি প্রক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর কোনো প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে লেবাননে হামলার মাত্রা কমিয়ে আনতে অনুরোধ করেছিলেন এবং ইসরায়েল সেই অনুযায়ী তাদের অভিযান কমিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ২ মার্চ হিজবুল্লাহর সীমান্ত হামলার পর থেকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি আক্রমণ তীব্র হয়। লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, গত দেড় মাসে ২ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এই সরাসরি সংলাপ সেই ভয়াবহ সংঘাত থামানোর শেষ ভরসা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: