জাহাজবাড়ি ‘জঙ্গি নাটক’ হত্যা মামলা: আজ কাঠগড়ায় শেখ হাসিনাসহ ৮ জন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৬ ১২:২৫:০৩
জাহাজবাড়ি ‘জঙ্গি নাটক’ হত্যা মামলা: আজ কাঠগড়ায় শেখ হাসিনাসহ ৮ জন
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর কল্যাণপুরের আলোচিত ‘জাহাজবাড়ি’ অভিযান থেকে শুরু করে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান—আওয়ামী লীগ শাসনামলের একাধিক চাঞ্চল্যকর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আটজনের বিরুদ্ধে কল্যাণপুরে ৯ তরুণকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

একই আদালতে আজ শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চতুর্থ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। এছাড়াও সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম ও খুনের মামলায় আজ সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে।

ট্রাইব্যুনাল-১-এর কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধেও আজ সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।

সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এসব মামলার অন্তত আটজন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। কল্যাণপুর জাহাজবাড়ির সেই আলোচিত ঘটনাটিকে রাষ্ট্রপক্ষ ‘কথিত জঙ্গি নাটক’ হিসেবে উল্লেখ করে ৯ তরুণকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দায়ে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের অভিযুক্ত করেছে।

অন্যদিকে, ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিচারও সমান্তরালে চলছে। আজকের এই শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রমের ওপর দেশবাসীর কড়া নজর রয়েছে।

/আশিক


পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু: এজলাসে দাঁড়িয়ে বাবার প্রথম সাক্ষ্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০২ ১১:৩৯:৪৯
পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু: এজলাসে দাঁড়িয়ে বাবার প্রথম সাক্ষ্য
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ৯টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে প্রথম সাক্ষী হিসেবে নিহতের পিতা ও মামলার বাদী হান্নান মোল্লা অশ্রুসিক্ত নয়নে তাঁর সাক্ষ্য দেন। মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আদালতের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়।

বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ দিনভর এই মামলার আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেবেন। এই তালিকায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক, ডিএনএ এবং ক্রাইম সিনের আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় প্রতিবেশীরা।

এর আগে আজ সকাল পৌনে ৯টায় কড়া পুলিশি পাহারায় মামলার প্রধান আসামি নরপিশাচ সোহেল রানাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে সরাসরি পুরান ঢাকার আদালত চত্বরে আনা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শুরুর আগে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সেন্ট্রাল হাজতখানায় রাখা হয়েছিল।

মাত্র একদিন আগে, গতকাল সোমবার (১ জুন) আদালত এই দুই আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট চার্জ (অভিযোগ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং একই দিন বিকেলে বাদীসহ মোট ১৭ জন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য জরুরি সমন জারি করা হয়েছিল।

মামলার এজাহার ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, নিহত শিশু রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে নিজের ফ্ল্যাট থেকে বের হলে প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে ফুসলিয়ে ও কৌশলে তাদের রুমে ডেকে নেয়। এরপর স্বপ্নার স্বামী সোহেল রানা শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার জুতো জোড়া দেখতে পান তিনি।

সন্দেহ হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ঘরে ঢুকেই তারা শিউরে ওঠেন; শয়নকক্ষের মেঝেতে পড়ে ছিল রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাক্ত মরদেহ এবং বিচ্ছিন্ন মাথাটি রাখা ছিল ঘরের কোণে একটি বড় প্লাস্টিকের বালতির ভেতরে। তাৎক্ষণিক জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল দেওয়া হলে পল্লবী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের ভেতর লুকিয়ে থাকা ঘাতকের স্ত্রী স্বপ্নাকে আলামতসহ আটক করে।

পরে উন্নত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল হোতা ও খুনি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পরদিন, ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার দ্রুততম বিচারিক প্রক্রিয়া এখন চলমান।

/আশিক


তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর: এজেন্ডায় ৯ লাখ কর্মীর ভাগ্য ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০২ ১০:১৪:০৯
তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর: এজেন্ডায় ৯ লাখ কর্মীর ভাগ্য ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর শুরু হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া দিয়ে। সংশ্লিষ্ট এক নির্ভরযোগ্য সূত্র গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে যে, আগামী ২১ ও ২২ জুন তিনি এই দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হবে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক ভিভিআইপি বিদেশ সফর। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বিশেষ আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে দুই দেশের সরকারপ্রধান শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হবেন।

জানা গেছে, নতুন বিএনপি সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (Bangladesh First) নীতির আলোকে এই সফরে প্রবাসী কল্যাণ, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, শ্রমবাজারের সংকট নিরসন ও বাণিজ্য-বিনিয়োগ জোরদার করার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় কর্মরত ৯ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মীর নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং সিন্ডিকেট ও শোষণমুক্ত নিয়োগ ব্যবস্থা নিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এছাড়া দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA), হালাল ফুড সার্টিফিকেশন, শিক্ষা খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় আম রপ্তানির নতুন বাজার খোঁজার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। বর্তমানে মালয়েশিয়ার বিদেশি শ্রমিকের প্রায় ৩৭ শতাংশই বাংলাদেশি এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

এদিকে কূটনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া পরবর্তী গন্তব্য নিয়ে। আরেকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর শেষ করে তিনি সেখান থেকেই সরাসরি সরকারি সফরে ভারত অথবা চীনে যেতে পারেন। তিনি আগে নয়াদিল্লি যাবেন নাকি বেইজিং—তা এখনও চূড়ান্ত না হলেও, এই সফরটিকে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিতে ভারসাম্যপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বিগত ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ভারতের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থনৈতিক অঞ্চল বাতিল করে সেখানে চীন ও তুরস্কের সহায়তায় সামরিক জোনে রূপান্তরের সিদ্ধান্তে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ভারতের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক ও জনকেন্দ্রিক করার উদ্যোগ নেয়। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারত সফর করে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফরের মাঠ প্রস্তুত করে এসেছেন।

অন্যদিকে, পরাশক্তি চীনও বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে বেইজিংয়ে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, চীন আগামী ২৩ থেকে ২৬ জুনের মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সরকারি সফরে পেতে চায়। তারেক রহমান যদি চীন সফরে যান, তবে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (TRCMRP), জ্বালানি খাত, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বড় অঙ্কের বাণিজ্য-বিনিয়োগ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হবে। ইতিমধ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংক তিস্তা প্রকল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই প্রথম বিদেশ সফরটি বিএনপি সরকারের বাস্তববাদী ও অর্থনৈতিককেন্দ্রিক পররাষ্ট্র নীতির এক বড় পরীক্ষা। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সমান্তরাল ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা নতুন সরকারের জন্য যেমন বড় প্রত্যাশার, তেমনি ভূ-কৌশলগত অবস্থানের কারণে এটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে চীনের কাছ থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জনে দেশে মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

/আশিক


রাস্তার আন্দোলনে ব্যাংকের সিদ্ধান্ত হবে না: বাংলাদেশ ব্যাংক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০১ ১৮:৩১:৫৮
রাস্তার আন্দোলনে ব্যাংকের সিদ্ধান্ত হবে না: বাংলাদেশ ব্যাংক
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে গ্রাহকদের বিক্ষোভ এবং পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—কোনো ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই রাস্তার আন্দোলনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো আবেগ, বাইরের অহেতুক চাপ বা রাস্তার আন্দোলনের ভিত্তিতে নয়, বরং আমানতকারীদের স্বার্থ ও ব্যাংক কোম্পানি আইনের কঠোর বিধান অনুসারেই সব সিদ্ধান্ত নেবে।

আজ সোমবার (১ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

মুখপাত্র বলেন, ‘দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো ইস্যুতে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিক্ষোভ প্রদর্শন ও নিজস্ব মত প্রকাশের গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। তবে ব্যাংকের নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত হবে আইন অনুযায়ী।’

ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আরিফ হোসেন খান বলেন, বিদ্যমান ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো চিহ্নিত ঋণখেলাপি ব্যক্তি কোনো অবস্থাতেই ব্যাংকের পরিচালক পদে আসীন হতে পারেন না। সম্প্রতি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে একজন বিশেষ ব্যক্তির নামে প্রায় তিন কোটি টাকার খেলাপি ঋণ থাকার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব বিশেষ পরিদর্শনে উঠে আসা অনিয়মগুলো গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী খেলাপি অবস্থায় কারও কোনো ব্যাংকের পরিচালক পদে থাকার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।

ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সম্ভাব্য বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ব্যাংকের আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড সভাটি সশরীরে না করে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম তথা জুম (Zoom) অ্যাপের মাধ্যমে আয়োজনের বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখপাত্র। তিনি উল্লেখ করেন, ভবনের বাইরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পুলিশের হলেও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গ্রাহকদের আমানতের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

মুখপাত্র আরও যোগ করেন, বর্তমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর—কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিংবা দেশের কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা মাস্তানি বরদাস্ত করা হবে না। ব্যাংক কর্মকর্তারা কোনো রাজনৈতিক বা অদৃশ্য চাপের মুখে পড়লে তা সরাসরি গভর্নরকে জানাতে বলা হয়েছে; এমন পরিস্থিতিতে গভর্নর নিজেই বিষয়টি শক্ত হাতে মোকাবিলা করবেন।

কোনো ব্যাংককে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা মোটেও সঠিক নয় উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, কোনো ব্যাংক যদি একটি বিশেষ রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে ওঠে, তাহলে তা ব্যাংকটির দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের জন্য সবচেয়ে বড় আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কোনো ব্যাংকই দেশের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না এবং এই ধরনের কুৎসিত রাজনৈতিক পরিচয় একটি ব্যাংকের অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের ‘লাল সংকেত’।

/আশিক


আমি ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার: আদালতে রামিসার খুনির বিস্ফোরক দাবি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০১ ১২:৩৯:৪৬
আমি ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার: আদালতে রামিসার খুনির বিস্ফোরক দাবি
আদালতে আসামি সোহেল রানা

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক নতুন এবং রহস্যময় মোড় এসেছে। মামলার চার্জগঠন শুনানির জন্য আজ সোমবার (১ জুন) সকালে আদালতে তোলার সময় প্রধান আসামি সোহেল রানা চিৎকার করে সংবাদমাধ্যমকে জানায়, এই খুনের পেছনে ‘ডলার’ নামের মিরপুরের এক প্রভাবশালী অর্থশালী ব্যক্তি জড়িত এবং সেই তাকে দুই লাখ টাকা দিয়েছিল।

আজ সোমবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় মূল আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। এরপর সকাল ১১টার পর তাদের ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে তোলা হলে আদালত চত্বরে এক হট্টগোল ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

আদালতে ওঠার সময় প্রিজন ভ্যান ও বারান্দায় দাঁড়িয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে প্রধান আসামি সোহেল রানা চিৎকার করে বলতে থাকে,

"আমি একা দোষী না, আমার স্ত্রীর কোনো দোষ নেই। সব দোষ ডলারের! আমি ধর্ষণ করছি সত্য, কিন্তু রামিসাকে মারছে ডলার। এই কাজের জন্য ডলার আমাকে দুই লাখ টাকা দিছে।"

এ সময় সে পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করে, তার কোনো ডিএনএ (DNA) টেস্ট না নিয়েই চার্জশিটে অটোমেটিক মনগড়া তথ্য লেখা হয়েছে। মামলার এজাহার বা চার্জশিটে না থাকা এই নতুন চরিত্র ‘ডলার’-এর পরিচয় জানতে চাইলে সোহেল রানা জানায়, "ডলার হলো মিরপুর ১১ নম্বর লাইনের অনেক বড় টাকাওয়ালা লোক।" তবে এই দাবির সত্যতা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বা রাষ্ট্রপক্ষের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও হত্যা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ এনে ১৮ জনকে সাক্ষী করে আদালতে নিখুঁত চার্জশিট জমা দেন। অভিযোগপত্র দাখিলের দিনই মামলাটি দ্রুত বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয়। এর মাধ্যমে মামলার প্রাথমিক তদন্ত, ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষা, অভিযোগপত্র দাখিল এবং তা আদালতে আমলে নেওয়ার প্রধান চারটি ধাপ সফলভাবে শেষ হয়েছে।

মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে রাষ্ট্র নিযুক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু বলেন, "মামলাটি যেন দ্রুততম সময়ে শেষ হয়, সে বিষয়ে আমি আইনগত দায়িত্ব পালন করব। বাকি সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনাল নেবেন।" প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্রুত বিচারের আশ্বাসের রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে ঢাকার জেলা লিগ্যাল এইডের নিয়মিত আইনজীবী রায়হানা নাজনীন জুই জানান, নিম্ন আদালতে বিচার দ্রুত শেষ হলেও মূলত উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জটলায় রায় কার্যকর থমকে যায়। কারাগারের জেলার এবং প্রধান বিচারপতির বিশেষ হস্তক্ষেপ থাকলে তবেই এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি দ্রুত সম্ভব।

মামলার লোমহর্ষক বিবরণী থেকে জানা গেছে, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে নেন। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রামিসার পরিবার ও প্রতিবেশীরা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাক্ত মরদেহ এবং বাথরুমের বালতির ভেতর থেকে তার কাটা মাথা উদ্ধার করে। ঘটনার পরপরই জানালার গ্রিল কেটে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

/আশিক


পল্লবীর শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা; দুই আসামির চার্জ গঠন শুনানি আজ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০১ ১০:২৫:২১
পল্লবীর শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা; দুই আসামির চার্জ গঠন শুনানি আজ
শিশু রামিসা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে আজ সোমবার (১ জুন) অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আজ অভিযোগ গঠন সম্পন্ন হলে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই মেগা মামলার আনুষ্ঠানিক ও আইনি বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।

এর আগে গত ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দেওয়া অভিযোগপত্রটি (চার্জশিট) আনুষ্ঠানিকভাবে আমলে নিয়ে আজ ১ জুন শুনানির জন্য সুনির্দিষ্ট দিন নির্ধারণ করেছিলেন ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগসমূহ আমলে নিয়ে আজই বিচার শুরু করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারেন আদালত।

পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া দীর্ঘ তদন্ত শেষে মূল আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে যৌথভাবে অভিযুক্ত করে আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এই চার্জশিটটি গ্রহণ করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য মামলাটি শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডিএনএ (DNA) টেস্টের ফরেনসিক প্রতিবেদন, শিশুটির ময়নাতদন্তের চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত নানামুখী অকাট্য আলামতের ভিত্তিতেই এই নিখুঁত অভিযোগপত্রটি প্রস্তুত করেছে পুলিশ। এতে প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে এই জঘন্য অপরাধের আলামত গোপন ও সরাসরি সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর মিরপুর-১১ নম্বরের একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসার খণ্ডিত ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পরদিন ২০ মে নিহত শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে প্রথমে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর থেকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত ও খুনি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইতোমধ্যে ঘাতক সোহেল রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।

/আশিক


শহীদ জিয়ার কালজয়ী আদর্শেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ২০:৪৬:১৯
শহীদ জিয়ার কালজয়ী আদর্শেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রদর্শিত দেশপ্রেম ও কালজয়ী আদর্শ ধারণ করেই বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রবিবার (৩১ মে) বিকেলে শহীদ জিয়ার শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন এমন এক মহান নেতা, যার সততা ও কর্মনিষ্ঠার কারণে বিদেশের মানুষ এক নামে বাংলাদেশকে চিনতো। প্রবাদ আছে, যে গাছ ফল দেয়, সেই গাছেই মানুষ ঢিল মারে; শহীদ জিয়ার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। তবে তিনি যেভাবে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশ এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন, আমরা এখন ঠিক সেভাবেই দেশের শাসনভার ও রাষ্ট্রীয় খাতগুলো পরিচালনা করার আপ্রাণ চেষ্টা করছি।’

টুইন টাওয়ার বা বহুতল ভবনের রাজনৈতিক মেরুকরণের এই সময়ে বিএনপির সামনে অত্যন্ত কঠিন, সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে বলে নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ক্রান্তিকালে দলের প্রতিটি স্তরের মানুষকে সর্বোচ্চ সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে; অন্যথায় দেশ এবং আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।

দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান মনে করিয়ে দেন যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের মানুষের কল্যাণে বিএনপির একটি সুনির্দিষ্ট ইশতেহার ছিল। নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পর এখন সেই ইশতেহারে প্রতিফলিত দেশের ৫২ শতাংশ মানুষের পবিত্র রায় ও আকাঙ্ক্ষা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে। শহীদ জিয়ার ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি, সর্বজনীন শিক্ষা এবং শিল্প বিপ্লবের মতো যুগান্তকারী বিষয়গুলো আমাদের ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং বর্তমান সরকার অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে সেই কাজগুলোই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জাতীয় বেতন কাঠামো সংস্কার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি খাতকে এগিয়ে নিতে জিয়াউর রহমান যে দূরদর্শী পথনির্দেশিকা রেখে গেছেন, তা অনুসরণ করেই বর্তমান প্রশাসন কাজ করছে। তবে সরকারের এই মহাপরিকল্পনা সফল করতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘সরকারের গৃহীত সঠিক ও কল্যাণমুখী কাজগুলোতে সাধারণ মানুষ এবং নেতা-কর্মীরা আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করলেই কেবল এই সরকার সফল হবে।

শুধু আমরা ওপর থেকে কাজ করলেই হবে না; বরং কেন্দ্র থেকে শুরু করে একেবারে তৃণমূল পর্যন্ত দলের সব নেতাকর্মীকে সরকারের লক্ষ্যগুলো সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বর্তমান প্রশাসনকে জনগণের চোখে একটি শতভাগ সফল, জবাবদিহিমূলক ও আদর্শ সরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’

/আশিক


রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখালে পুরোপুরি নির্মূল করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ১৮:২০:৩৭
রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখালে পুরোপুরি নির্মূল করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল জঙ্গল সলিমপুরসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী আস্তানা সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার মতো দুঃসাহস যে বা যারাই দেখাক না কেন, তাদের আস্তানা পুরোপুরি নির্মূল করা হবে। আজ রবিবার (৩১ মে) চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন শেষে বিকেলে নগরের সার্কিট হাউজে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক পরিস্থিতি, অবৈধ দখল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠককে চট্টগ্রামের ইতিহাসে অন্যতম ‘হাই-লেভেল মিটিং’ বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই মেগা সমন্বয় সভায় পার্বত্য বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রামের সব সংসদ সদস্য, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোরশেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী ফকির হোসেন এবং বিজিবি, র‍্যাব, সেনাবাহিনীসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী দেশে ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য যেখানেই থাকুক, তা যেকোনো মূল্যে নির্মূল করতে হবে। সন্ত্রাসীরা অতীতে যে দুঃসাহস দেখিয়েছে, আমরা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তা যথাযথভাবে অ্যাড্রেস করবো। তাদের আশ্রয়স্থল যেখানেই হোক এবং পর্দার আড়াল থেকে যারাই তাদের প্রশ্রয় বা রাজনৈতিক ইন্ধন দিক না কেন, সবকিছু নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে জঙ্গল সলিমপুর, সলিমপুর ও আলীনগর এলাকার সাধারণ ও সাধারণ খাস জমিতে থাকা বাসিন্দাদের উচ্ছেদের আশঙ্কার বিষয়ে আবারও আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো সাধারণ বা নিরীহ বাসিন্দাকে উচ্ছেদ করা হবে না। যারা পরিস্থিতির শিকার হয়ে সেখানে বিভিন্নভাবে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সরকারের পক্ষ থেকে মানবিক বিবেচনায় তাদের জন্য টেকসই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। তবে ওই অঞ্চলের আধুনিক ও পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও একাডেমি গড়ে তোলার জন্য ম্যাপ (মানচিত্র) অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণের কাজ পুরোদমে চলছে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের ঝুলে থাকা মেগা প্রকল্পের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বায়েজিদ লিংক রোডের পাশে নতুন কারাগারের জন্য প্রস্তাবিত খাস জায়গাটি আজই উচ্চপর্যায়ের দল নিয়ে সরজমিনে ভিজিট করা হয়েছে। কারা অধিদপ্তর ও আইজি প্রিজন খুব দ্রুত জায়গাটি সম্পূর্ণ নিজেদের আইনি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর সেখানে পরবর্তী আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে।

পাহাড়ে চলমান যৌথ অভিযানের সক্ষমতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে এখন আর শুধু প্রথাগত বা সাধারণ পুলিশিং ব্যবস্থা নয়; বরং পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীসহ প্রায় ৪ হাজার চৌকস সদস্যের একটি বিশাল যৌথবাহিনী হেলিকপ্টার সহায়তায় অত্যন্ত নিখুঁত ও সফল অভিযান পরিচালনা করছে। রাষ্ট্রের অখণ্ডতা রক্ষা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে সব বাহিনী এক হয়ে কাজ করছে।

জঙ্গল সলিমপুর ছাড়াও চট্টগ্রামের অন্যান্য অপরাধপ্রবণ এলাকা যেমন—রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও বোয়ালখালীর মতো উপজেলাগুলোতেও সন্ত্রাস দমনে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আইনশৃঙ্খলার এই ইতিবাচক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি গণমাধ্যম ও চট্টগ্রামের সাধারণ জনগণের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন।

এর আগে, আজ রবিবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে চট্টগ্রামের লিংক রোডের পাশে জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শনে যান। সেখানে একটি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি সরজমিনে আরও নিখুঁতভাবে যাচাই করতে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হন তিনি।

/আশিক


রামিসা হত্যা মামলায় সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হবে: আইনমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ১২:৪৯:১২
রামিসা হত্যা মামলায় সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হবে: আইনমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

মিরপুরে শিশু রামিসাকে বর্বরোচিত ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আদালত আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন বলে দৃঢ় আশা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। এই স্পর্শকাতর মামলায় সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ বিচার তথা মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করা হবে বলেও স্পষ্ট জানান তিনি। আজ রবিবার (৩১ মে) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত জেলা পরিষদের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

উল্লেখ্য, মূল তথ্যের সূত্র অনুযায়ী আজকের তারিখটি ৩১ মে হলেও আইনমন্ত্রীর ঝিনাইদহ সফরের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আইনি ও বিচারিক ব্যবস্থার নানা দিক উঠে এসেছে।

বক্তব্যকালে দেশের বিচার ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ বর্তমানে যতটা স্বাধীনভাবে কাজ করছে, এমন দৃষ্টান্ত ও স্বাধীনতা বিশ্বের অন্য অনেক দেশেই সচরাচর দেখা যায় না। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের সম্মানিত বিচারকদের বদলি, পদায়ন বা শৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রশাসনিক বিষয়ে সরকারের এখন সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে এই স্বাধীনতার ভিন্ন রূপও দেশবাসী অতীতে দেখেছে, যেখানে বিচার বিভাগের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের নানামুখী অভিযোগ উঠেছিল।

আদালতগুলোতে মামলার দীর্ঘসূত্রতা ও জট প্রসঙ্গে মন্ত্রী একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন অবস্থায় ঝুলে রয়েছে। দেশের বিশাল জনসংখ্যার তুলনায় বিজ্ঞ বিচারক এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর সংখ্যা অত্যন্ত কম হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে মামলার এই বিশাল জট তৈরি হয়েছে। তবে মামলার এই দীর্ঘ জটের মধ্যেও শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের মতো জঘন্য ও সংবেদনশীল মামলার ক্ষেত্রে দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে বলে আশ্বস্ত করেন আইনমন্ত্রী।

/আশিক


জঙ্গল সলিমপুরে আধুনিক কারাগার ও সেনানিবাস করবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ১২:৩৫:০৮
জঙ্গল সলিমপুরে আধুনিক কারাগার ও সেনানিবাস করবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত ও অপরাধপ্রবণ এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে একটি নতুন ও আধুনিক কারাগার স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের অবসান ঘটিয়ে এই দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলকে কোনোভাবেই আর সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। আজ রবিবার (৩১ মে) সকালে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকা সশরীরে পরিদর্শন শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফিংকালে তিনি সরকারের এই মেগা পরিকল্পনার কথা জানান।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরের দুঃশাসন ও রাজনীতির চরম দুর্বৃত্তায়নের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের ভেতরে এক ধরনের সমান্তরাল ‘দুর্বৃত্তের রাষ্ট্র’ গড়ে তোলার অপচেষ্টা হয়েছিল, যার একটি বাস্তব ও প্রত্যক্ষ নমুনা হচ্ছে এই জঙ্গল সলিমপুর। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই চট্টগ্রামে কিছু সুনির্দিষ্ট সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে কিছু নামী ব্যবসায়ীর বাসভবনে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রকাশ্যে গুলি বর্ষণ এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের মতো ধৃষ্টতাপূর্ণ ঘটনা ঘটার পর সরকার পুরো বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। ফলশ্রুতিতে অপরাধীদের পুরোপুরি অবদমন করতে গত ৯ই মার্চ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সমন্বিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, জঙ্গল সলিমপুরের প্রবেশপথ ও অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং নিজস্ব সশস্ত্র পাহারা বসিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের সন্ত্রাসীরা যে সমান্তরাল সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করেছিল, তা গত ৯ই মার্চের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের কোনো কোনো ক্ষেত্র থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য আগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ার কারণে অভিযানের মূল লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন করা সম্ভব হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে র‍্যাবের নির্মাণাধীন অস্থায়ী ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার মতো দুঃসাহস এই অঞ্চলের সন্ত্রাসীরা কীভাবে পেল—তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এর পেছনে ওতপ্রোতভাবে থাকা বড় ভূমিদস্যু ও মূল রাজনৈতিক ইন্ধনদাতাদের দ্রুত চিহ্নিত করা হচ্ছে।

তবে জঙ্গল সলিমপুরের সাধারণ ও নিরীহ স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পূর্ণ আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সরকার এবং জনগণকে সর্বোচ্চ স্বস্তি ও নাগরিক নিরাপত্তা দেওয়া এই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক ও অর্থনৈতিক কারণে যারা দেশের নানা প্রান্ত থেকে এখানে এসে বসতি স্থাপন করতে বাধ্য হয়েছেন বা স্থানান্তরিত হয়েছেন, তাদের কাউকেই আপাতত উচ্ছেদ করা হবে না। এখানকার প্রকৃত ভূমিহীন বাসিন্দাদের টেকসই পুনর্বাসনের জন্য সরকার একটি সুনির্দিষ্ট ও মানবিক পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। তিনি উচ্ছেদ সংক্রান্ত স্বার্থান্বেষী মহলের যেকোনো বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারে কান না দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান।

জঙ্গল সলিমপুরকে মূল শহরের সাথে যুক্ত করতে একটি শক্তিশালী রোড নেটওয়ার্ক তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী জানান, সলিমপুর ইউনিয়নের সঙ্গে সীতাকুণ্ড, ভাটিয়ারী-হাটহাজারী লিংক রোড এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সরাসরি সংযোগ ঘটিয়ে একটি আধুনিক উন্নত রোড নেটওয়ার্ক স্থাপনের মাস্টারপ্ল্যান নেওয়া হয়েছে। আধুনিক ড্রোন চিত্র ও সড়ক মানচিত্র যৌথভাবে পর্যালোচনা করে এই দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাবসহ বিভিন্ন যৌথ বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং একটি সেনানিবাসের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। এ ছাড়া বায়েজিদ লিংকের আশপাশের খাস জমিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের ঝুলে থাকা মেগা প্রকল্পটি প্রশাসনিক অনুমোদনের আলোকে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসনকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরের পাশাপাশি চট্টগ্রামের অন্য দুই অপরাধপ্রবণ এলাকা বেতুয়া ও চা বাগান থেকেও সন্ত্রাসীদের চিরতরে নির্মূল করার ঘোষণা দেন মন্ত্রী।

জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ‘আইনের শাসন’ পুনপ্রতিষ্ঠা করতে গণমাধ্যমকর্মীসহ চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জঙ্গল সলিমপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনে মন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রামের নবনির্বাচিত সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনসহ স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: