ঈদ স্পেশাল রেসিপি: রেস্তোরাঁ-স্টাইলে ঘরেই তৈরি করুন মজাদার গার্লিক বিফ!

ঈদের আয়োজনে রসনাবিলাসী ভোজনরসিকদের জন্য গার্লিক বিফ হতে পারে এক অনন্য সংযোজন। ঝাল ও রসুনঘ্রাণযুক্ত মসলাদার গরুর মাংস যারা ভালোবাসেন, তাদের জন্য এই পদটি যেন এক স্বর্গীয় স্বাদ! ঘরেই রেস্তোরাঁর স্টাইলে তৈরি করা যায় এই গার্লিক বিফ।
এই রেসিপিতে ১ কেজি গরুর মাংস ব্যবহার করতে হবে। এর সঙ্গে প্রয়োজন পেঁয়াজ কুচি এক কাপ, হলুদ ও মরিচ গুঁড়া এক চা চামচ করে, আদা ও রসুন বাটা আধা চা চামচ করে, ধনে ও জিরা গুঁড়া এক চা চামচ, গরম মসলা গুঁড়া আধা চা চামচ, মাংসের মসলা আধা চা চামচ, টেস্টিং সল্ট সামান্য, টমেটো সস আধা কাপ, টক দই এক কাপ, তেল আধা কাপ, কাঁচা মরিচ ফালি এবং ৪-৫টি আস্ত রসুনের কোয়া। লবণ দিতে হবে স্বাদ অনুযায়ী।
প্রথমে গরুর মাংস ভালোভাবে ধুয়ে কেটে নিতে হবে। এরপর একটি পাত্রে মাংসের সঙ্গে হলুদ, মরিচ গুঁড়া, টক দই, আদা-রসুন বাটা, লবণ, ধনে ও জিরা গুঁড়া এবং টেস্টিং সল্ট মিশিয়ে ভালো করে ম্যারিনেট করে ২০ মিনিট রেখে দিতে হবে। এবার একটি কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি বাদামি করে ভেজে তাতে ম্যারিনেট করা মাংস দিয়ে ভালোভাবে কষাতে হবে। কষানো হয়ে গেলে অল্প পানি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে এবং মাংস সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত রান্না করতে হবে।
মাংস সেদ্ধ হয়ে এলে এতে টমেটো সস, আস্ত রসুনের কোয়া এবং কাঁচা মরিচ ফালি দিয়ে ১০ মিনিট দমে রাখতে হবে। এতে করে রসুনের গন্ধ ও ঝাঁজ পুরো মাংসে ছড়িয়ে পড়বে। এরপর গরম গরম গার্লিক বিফ পরিবেশন করুন পোলাও, পরোটা কিংবা নানরুটির সঙ্গে।
যারা তীব্র ঝাল পছন্দ করেন, তারা পরিবেশনের সময় উপরে কাঁচা মরিচ কুচি বা শুকনো মরিচ ভাজা দিয়ে আরও ঝাঁজ বাড়াতে পারেন। ঈদের আয়োজনে গার্লিক বিফ শুধু স্বাদেই নয়, গন্ধেও মুগ্ধ করবে সবাইকে।
হাড়কাঁপানো শীতে শরীর উষ্ণ রাখবে ৪ ধরনের খিচুড়ি
শীতের রুক্ষ আবহাওয়ায় শরীরকে ভেতর থেকে উষ্ণ রাখতে এবং সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে খিচুড়ির কোনো বিকল্প নেই। পুষ্টিবিদরা বলছেন, চাল, ডাল, ঘি এবং শীতের টাটকা সবজির মিশ্রণে তৈরি এই খাবারটি যেমন সহজপাচ্য, তেমনি এটি শরীরের প্রয়োজনীয় উপাদানের ভারসাম্য বজায় রাখে। চাল থেকে পাওয়া শর্করা শক্তি জোগায় আর ডাল পূরণ করে প্রোটিনের চাহিদা। বিশেষ করে খিচুড়িতে ব্যবহৃত হলুদ ও আদা সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে।
শীতে তৃপ্তি ও পুষ্টি জোগাবে যে ৪ ধরনের খিচুড়ি
মুগ ডালের খিচুড়ি: চাল ও ভাজা মুগ ডালের এই সুগন্ধি খিচুড়ি অত্যন্ত সহজপাচ্য। হলুদ, জিরে ও সামান্য ঘিয়ে রান্না করা এই খাবারটি দীর্ঘক্ষণ শরীরে শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
সবজি খিচুড়ি: গাজর, মটরশুঁটি, ফুলকপি ও পালং শাকের মতো শীতের সবজি সমৃদ্ধ এই খিচুড়ি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে দারুণ কার্যকর। এতে থাকা প্রচুর পরিমাণ আঁশ হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে।
তিল খিচুড়ি: পাহাড়ি অঞ্চলে প্রচণ্ড শীত থেকে বাঁচতে তিল খিচুড়ি খুবই জনপ্রিয়। তিল থেকে পাওয়া স্বাস্থ্যকর চর্বি ও খনিজ উপাদান শরীরকে ভেতর থেকে গরম রাখে এবং তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়।
আমলকী খিচুড়ি: একঘেয়েমি দূর করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে আমলকী খিচুড়ি অনন্য। এটি শরীরকে ডিটক্স করতে, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমাতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে বিশেষভাবে সহায়ক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খিচুড়িতে সামান্য ঘি যোগ করলে তা কেবল স্বাদ বাড়ায় না, বরং পুষ্টি শোষণেও সহায়তা করে। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবার জন্যই খিচুড়ি একটি আদর্শ ও আরামদায়ক খাবার। উপকরণ ও স্বাদের ভিন্নতায় প্রতিদিনের টেবিলে নতুনত্ব এনে শীতের দিনগুলোকে করা যেতে পারে আরও উপভোগ্য ও স্বাস্থ্যকর।
শীতের সন্ধ্যায় মচমচে পালং পাকোড়া: ঝটপট তৈরির সহজ রেসিপি
শীতের এই হিমেল সন্ধ্যায় গরম চায়ের কাপের পাশে যদি থাকে মচমচে পালং শাকের পাকোড়া, তবে আড্ডাটা জমে ওঠে বেশ। কেবল স্বাদের জন্যই নয়, পুষ্টিগুণের বিচারেও পালং শাককে বলা হয় 'সুপার ফুড'। এই শাকে থাকা প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন ‘ই’, এবং ভিটামিন ‘সি’ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অসামান্য ভূমিকা রাখে। এছাড়া এতে থাকা পটাশিয়াম ও আয়রন রক্তাল্পতা দূর করে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষের ক্ষয়রোধ করে তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।
সহজপ্রাপ্য উপকরণের মাধ্যমে বাড়িতেই তৈরি করা যায় এই সুস্বাদু পাকোড়া। দুই কাপ কুচানো পালং শাকের সঙ্গে বেসন, চালের গুঁড়া, পেঁয়াজ কুচি এবং আদা-রসুন বাটা মিশিয়ে নিলেই মূল মিশ্রণ তৈরি হয়ে যায়। স্বাদের বৈচিত্র্য আনতে এতে কাঁচা মরিচ, হলুদের গুঁড়া, জিরার গুঁড়া এবং সামান্য মরিচের গুঁড়া যোগ করা হয়। রান্নার বিশেষ টিপস হলো—শাকের নিজস্ব আর্দ্রতা ব্যবহার করে মাখানো, এতে আলাদা করে পানি যোগ করার প্রয়োজন পড়ে না।
প্রস্তুত প্রণালি অনুযায়ী, মাঝারি আঁচে ডুবো তেলে সোনালি বাদামি করে ভেজে নিলেই তৈরি হয়ে যায় মচমচে পালং পাকোড়া। চালের গুঁড়া ব্যবহারের ফলে এটি দীর্ঘক্ষণ মুচমুচে থাকে। খেয়াল রাখতে হবে যেন ভাজার সময় ভেতরের অংশটিও ভালোভাবে সিদ্ধ হয়। পুষ্টিবিদদের মতে, শাক সবজি সরাসরি খেতে যারা অনীহা প্রকাশ করেন, বিশেষ করে শিশুদের জন্য এই পাকোড়া হতে পারে এক চমৎকার বিকল্প। শীতের আমেজে পরিবারের সবাইকে নিয়ে পুষ্টিকর ও সুস্বাদু এই খাবারটি উপভোগ করার এখনই সেরা সময়।
সহজ রেসিপিতে ঘরেই বানান ধনে পাতার আচার
রান্নাঘরে যদি অল্প উপকরণে ভিন্নধর্মী কোনো স্বাদ যোগ করতে চান, তাহলে ধনে পাতার আচার হতে পারে আদর্শ সমাধান। টাটকা ধনেপাতার সুবাস, লঙ্কার ঝাঁঝ, তেঁতুলের টকভাব এবং সরিষার তেলের ঘ্রাণ একসঙ্গে মিলে তৈরি করে অসাধারণ একটি আচার, যা ভাত থেকে শুরু করে রুটি, পরোটা কিংবা খিচুড়ির সঙ্গেও দারুণ মানিয়ে যায়।
এই আচার তৈরি করতে সময় কম লাগে, আবার দীর্ঘদিন সংরক্ষণও করা যায়। ঘরে থাকা সাধারণ উপকরণ দিয়েই সহজে বানানো যায় বলে এটি প্রতিদিনের খাবারে বাড়তি স্বাদ যোগ করে।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
ধনেপাতা: ১ আঁটি (ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরানো)
শুকনো লঙ্কা: ৫–৭টি (ঝাল কমবেশি নিজের পছন্দমতো)
রসুন: ৩–৪ কোয়া (হালকা থেঁতো করা)
তেঁতুল: ১ লেবুর সমান (গরম পানিতে ভিজিয়ে শাঁস বের করা)
সরিষা: ১ চা চামচ
সরিষার তেল: ২–৩ টেবিল চামচ
লবণ: স্বাদ অনুযায়ী
চিনি: আধা চা চামচ (ঐচ্ছিক, স্বাদ ভারসাম্যের জন্য)
হিং: এক চিমটি (ঐচ্ছিক)
প্রস্তুত প্রণালি
প্রথমে ব্লেন্ডারে ধনেপাতা, শুকনো লঙ্কা, রসুন, তেঁতুলের শাঁস ও লবণ দিয়ে মিহি করে পেস্ট বানিয়ে নিন। অতিরিক্ত পানি না দিয়ে পেস্টটি যেন ঘন থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
একটি প্যানে সরিষার তেল গরম করুন। তেল ভালোভাবে গরম হলে তাতে সরিষা দিন। সরিষা ফাটতে শুরু করলে হিং ও কয়েকটি শুকনো লঙ্কা দিয়ে হালকা ভেজে নিন।
এবার তৈরি করা ধনেপাতার পেস্ট প্যানে ঢেলে দিন। প্রয়োজনে চিনি যোগ করে সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মাঝারি আঁচে লাগাতার নাড়তে থাকুন যাতে পেস্ট নিচে লেগে না যায়।
আচারটি ধীরে ধীরে ঘন হয়ে তেল ছাড়তে শুরু করলে চুলা বন্ধ করুন। নামিয়ে রেখে একটু ঠান্ডা হলে পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। এই ধনে পাতার আচার সাদা ভাত, খিচুড়ি, রুটি, পরোটা এমনকি ইডলি বা দোসার সঙ্গেও খেতে দারুণ লাগে। অল্প পরিমাণেই খাবারে আলাদা মাত্রার স্বাদ এনে দেয়।
বাড়তি টিপস
ধনেপাতা ভালোভাবে ধুয়ে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিলে আচার বেশি দিন ভালো থাকে।
দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে চাইলে রান্নার শেষে সামান্য ভিনেগার বা লেবুর রস যোগ করা যেতে পারে।
পুরোপুরি ঠান্ডা হলে কাঁচের বয়ামে ভরে ফ্রিজে রাখলে স্বাদ ও গুণমান বজায় থাকে।
দুধপুলি পিঠা বানাতে জানুন গোপন টিপস
শীত এলেই গ্রামবাংলা থেকে শহরের রান্নাঘর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে পিঠার ঘ্রাণ। নরম, দুধে ভেজানো ও মিষ্টি স্বাদের দুধপুলি পিঠা শীতকালীন বাঙালি খাবারের অন্যতম পরিচিত নাম। চালের গুঁড়োর কাই দিয়ে তৈরি পুলি, ভেতরে নারকেল ও গুড়ের পুর, আর ওপরে ঘন দুধের আস্তরণ এই তিনের মেলবন্ধনেই তৈরি হয় ঐতিহ্যবাহী দুধপুলি।
রান্নার বিশেষত্ব হলো, সঠিক কৌশলে বানালে পিঠাগুলো দুধে ডোবানো অবস্থায় যেমন নরম থাকে, তেমনি ঠান্ডা হলেও শক্ত হয় না।
দুধপুলি পিঠার উপকরণ
কাই তৈরির উপকরণ
চালের গুঁড়ো
পরিমাণমতো পানি
স্বাদমতো লবণ
সামান্য তেল
পুর তৈরির উপকরণ
নারকেল কোরা
খেজুরের গুড় বা চিনি
এলাচ গুঁড়ো (ঐচ্ছিক)
দুধের রসের জন্য
তরল দুধ
চিনি বা গুড়
খোয়া ক্ষীর (ঐচ্ছিক)
ধাপে ধাপে দুধপুলি পিঠা তৈরির প্রণালি
১. নারকেল–গুড়ের পুর তৈরি
একটি পাত্রে নারকেল কোরা ও গুড় বা চিনি একসঙ্গে দিয়ে হালকা আঁচে নেড়ে নিন। মিশ্রণটি যখন আঠালো হয়ে একত্র হবে, তখন চুলা বন্ধ করে ঠান্ডা হতে দিন। চাইলে শেষে সামান্য এলাচ গুঁড়ো যোগ করা যেতে পারে।
২. চালের কাই প্রস্তুত
পাত্রে পানি ও লবণ ফুটিয়ে নিন। ফুটন্ত পানিতে ধীরে ধীরে চালের গুঁড়ো ও সামান্য তেল দিয়ে কাঠের খুন্তি দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিন। মিশ্রণটি একদম নরম ও মসৃণ হলে নামিয়ে ঢেকে কিছুক্ষণ রেখে দিন।
৩. পুলি বানানো
কাই থেকে ছোট ছোট লেচি কেটে হাতের তালুতে চ্যাপ্টা করে মাঝখানে পুর দিন। এরপর অর্ধচন্দ্র বা পছন্দমতো নকশায় পুলি তৈরি করুন।
৪. হালকা ভাপে সেদ্ধ (ঐচ্ছিক কিন্তু উপকারী)
পুলিগুলো আলাদা করে ৩–৫ মিনিট হালকা ভাপে সেদ্ধ করলে এগুলো আরও নরম থাকে এবং দুধে ছাড়ার সময় ফেটে যায় না।
৫. দুধ ঘন করা
একটি বড় পাত্রে দুধ জ্বাল দিন। দুধ কিছুটা কমে এলে তাতে চিনি বা গুড় ও খোয়া ক্ষীর দিন। ধীরে ধীরে জ্বাল দিয়ে দুধ ঘন করুন।
৬. দুধে পুলি ডোবানো
ঘন দুধে ভাপানো পুলিগুলো ছেড়ে দিন। হালকা আঁচে কয়েক মিনিট ফুটিয়ে চুলা বন্ধ করুন। পুলিগুলো দুধ শুষে নিলে তৈরি হয়ে যাবে দুধপুলি পিঠা।
দুধপুলি নরম রাখার গুরুত্বপূর্ণ টিপস
কাই তৈরি করার সময় সামান্য তেল দিলে পুলি ফেটে যায় না
ঠান্ডা হলেও নরম রাখতে কাইয়ের সঙ্গে অল্প ময়দা মেশানো যেতে পারে
দুধে পুলি ছাড়ার পর বেশি নেড়েচেড়ে নাড়বেন না
দুধ বেশি ঘন হলে সামান্য গরম দুধ যোগ করা যেতে পারে
সেমাই পিঠা/চুষি পিঠার ঘরোয়া স্বাদের সহজ রেসিপি
শীত এলেই গ্রামবাংলার রান্নাঘরে ফিরে আসে পিঠাপুলির উৎসব। নানান রকম পিঠার ভিড়ে স্বাদ আর ঐতিহ্যের এক অনন্য সংযোজন হলো সেমাই পিঠা, যা অনেক এলাকায় চুষি পিঠা নামেও পরিচিত। চালের গুঁড়া দিয়ে হাতে তৈরি করা ছোট ছোট সেমাই দুধ ও খেজুরের গুড়ের সংমিশ্রণে রান্না করে তৈরি হয় এই মিষ্টান্ন, যা শীতের সকালে কিংবা অতিথি আপ্যায়নে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
এই পিঠার বিশেষত্ব হলো এর হাতে গড়া সেমাই ও দুধের মোলায়েম ঘন স্বাদ। খেজুরের গুড় ব্যবহারের ফলে এতে যোগ হয় শীতকালীন দেশীয় ঘ্রাণ ও প্রাকৃতিক মিষ্টতা, যা সাধারণ পিঠার চেয়ে একে আলাদা মর্যাদা দেয়। ঘরোয়া উপকরণে সহজেই তৈরি করা যায় বলে সেমাই পিঠা এখনও শহর ও গ্রামের রান্নাঘরে সমান জনপ্রিয়।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
সেমাই পিঠা তৈরির জন্য লাগবে দুই কাপ চালের গুঁড়া, তিন লিটার তরল দুধ, এক টিন কনডেন্সড মিল্ক ইচ্ছানুযায়ী, আধা কাপ খেজুরের গুড়, স্বাদমতো চিনি, এক চা চামচ এলাচ গুঁড়া, সামান্য লবণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পানি। সাজানোর জন্য রাখা যেতে পারে কিসমিস ও পেস্তা কুচি।
প্রস্তুত প্রণালি
প্রথমে পরিমাণমতো পানি জ্বাল দিয়ে তাতে সামান্য লবণ মিশিয়ে চালের গুঁড়া ঢেলে নেড়ে নরম ডো তৈরি করতে হবে। চুলা থেকে নামিয়ে ডো কিছুটা ঠান্ডা হলে ভালোভাবে ময়ান দিয়ে মসৃণ করে নিতে হবে। এরপর অল্প অল্প করে ডো কেটে হাতে ঘুরিয়ে চিকন সেমাইয়ের আকারে বানিয়ে আলাদা করে রাখুন।
এবার চুলায় বড় হাঁড়িতে দুধ বসান। দুধ ফুটে উঠলে এক কাপ দুধ আলাদা করে তুলে ঠান্ডা করুন। ওই দুধে খেজুরের গুড় গলিয়ে ভালোভাবে ছেঁকে নিন। বাকি দুধে কনডেন্সড মিল্ক, এলাচ গুঁড়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিনি দিয়ে ধীরে ধীরে জ্বাল দিন।
দুধ কিছুটা ঘন হয়ে এলে অল্প অল্প করে তৈরি করা সেমাই দুধে মেশাতে থাকুন। মাঝারি আঁচে নাড়তে নাড়তে সেমাই সিদ্ধ করুন। আপনার পছন্দ অনুযায়ী দুধের ঘনত্ব এলে চুলা বন্ধ করুন। সেমাই পিঠা হালকা গরম অবস্থায় গুড় মেশানো দুধ ঢেলে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
পুরো মিশ্রণ ঠান্ডা হলে ওপর থেকে কিসমিস ও পেস্তা কুচি ছড়িয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন। চাইলে গরম কিংবা ঠান্ডা দুইভাবেই এই পিঠা পরিবেশন করা যায়।
শীতে ঘরেই বানান নরম ও মজাদার দুধ পুলি পিঠা
শীত মৌসুম এলেই বাংলার ঘরে ঘরে পিঠার উৎসব শুরু হয়ে যায়। ভাপা, চিতই, পাটিসাপটার পাশাপাশি যে পিঠাটি আলাদা করে সবার মন জয় করে নেয়, সেটি হলো দুধ পুলি। নরম চালের খোলের ভেতরে মিষ্টি নারকেলের পুর আর ওপর থেকে ঘন দুধের আস্তরণ—এই সংমিশ্রণই দুধ পুলিকে শীতের অন্যতম প্রিয় পিঠায় পরিণত করেছে। অনেকেই ভাবেন, দুধ পুলি বানানো বেশ ঝামেলার কাজ। কিন্তু একটু কৌশল জানলে অল্প উপকরণ আর সহজ ধাপেই ঘরে বসে তৈরি করা যায় এই ঐতিহ্যবাহী পিঠা।
শীতের সকালে কিংবা বিকেলের নাশতায় গরম দুধ পুলি যেমন মন ভরিয়ে দেয়, তেমনি অতিথি আপ্যায়নেও এটি বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক ঘরোয়া ও সহজ পদ্ধতিতে দুধ পুলি পিঠা তৈরির বিস্তারিত রেসিপি।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
চালের খোল বা কাইয়ের জন্য
চালের গুঁড়া প্রয়োজন অনুযায়ী নিতে হবে।
পানি প্রয়োজনমতো।
স্বাদ অনুযায়ী লবণ।
অল্প পরিমাণ তেল।
পিঠার পুরের জন্য
টাটকা কোড়ানো নারকেল।
গুড় বা চিনি পছন্দমতো।
সামান্য এলাচ গুঁড়া।
দুধের মিশ্রণের জন্য
পূর্ণ দুধ প্রয়োজন অনুযায়ী।
সামান্য এলাচ গুঁড়া।
অল্প কোড়ানো নারকেল (ঐচ্ছিক)।
দুধ পুলি তৈরির সহজ পদ্ধতি
প্রথমে একটি হাঁড়িতে পানি ফুটিয়ে তাতে অল্প লবণ ও তেল যোগ করুন। এবার ধীরে ধীরে চালের গুঁড়া দিয়ে নেড়ে একটি মসৃণ ও শক্ত ডো তৈরি করুন। ডো ভালোভাবে মেখে ঢেকে কিছুক্ষণ রেখে দিন, যাতে এটি নরম হয়।
এরপর একটি কড়াইয়ে কোড়ানো নারকেল ও গুড় একসঙ্গে জ্বাল দিন। মাঝারি আঁচে নেড়েচেড়ে পানি শুকিয়ে গেলে নামিয়ে নিন। শেষে সামান্য এলাচ গুঁড়া মিশিয়ে পুর ঠান্ডা হতে দিন।
এখন ডো থেকে ছোট ছোট বল নিয়ে হাতের তালুতে চ্যাপ্টা করে ভেতরে নারকেলের পুর দিন। সাবধানে চারপাশ বন্ধ করে পুলি আকৃতি তৈরি করুন। খেয়াল রাখবেন, মুখ যেন ভালোভাবে বন্ধ থাকে, নইলে দুধে দেওয়ার সময় পুর বেরিয়ে যেতে পারে।
অন্য একটি হাঁড়িতে দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করুন। দুধ ফুটে উঠলে আঁচ কমিয়ে তাতে এলাচ গুঁড়া ও চাইলে সামান্য নারকেল দিন। এবার একে একে পুলিগুলো দুধে ছাড়ুন। হালকা আঁচে ৫ থেকে ৭ মিনিট জ্বাল দিলে পুলি নরম হয়ে দুধের স্বাদ শুষে নেবে।
সবশেষে চুলা বন্ধ করে দুধ পুলি কিছুক্ষণ ঢেকে রাখুন। এতে স্বাদ আরও ভালোভাবে মিশে যাবে। পরিবেশনের সময় পছন্দমতো সাজিয়ে নিন। এই পিঠা ঠান্ডা হলে স্বাদ আরও বেড়ে যায়।
ঘরে তৈরি দুধ পুলি শুধু স্বাদেই নয়, ঐতিহ্য আর শীতের আবহ মিলিয়ে এক অন্যরকম তৃপ্তি এনে দেয়।
রেসিপি ও ছবি: ঝুমুর’স কিচেন
সহজ রেসিপিতে ৭ ধরনের মজার চা বানান
চা পৃথিবীর অন্যতম বহুবর্ণিল পানীয়, যার স্বাদ, গন্ধ ও প্রস্তুতপ্রণালী অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। গরম দুধ–মসলা চা থেকে শুরু করে সতেজ হার্বাল ইনফিউশন, আবার কখনো বরফ ঠান্ডা আইসড টি চায়ের বৈচিত্র্য যেন শেষ নেই। ঘরেই সহজ উপকরণে তৈরি করা যায় এমন কয়েকটি জনপ্রিয় চায়ের রেসিপি এবার তুলে ধরা হলো।
গরম চা ও হার্বাল ইনফিউশন
মসলা চা (Masala Chai) – ভারতীয় ঐতিহ্যের সুগন্ধি দুধ চা
ভারতের প্রতিটি ঘরে প্রচলিত এই মশলাদার চা দুধ, চিনি, কালো চা ও মসলার অনন্য মিশ্রণে তৈরি হয়।
উপকরণ: পানি, দুধ, আসাম জাতের কালো চা, চিনি, গুঁড়ো করা আদা, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ।
প্রস্তুতপ্রণালী: পানিতে প্রথমে সব মসলা ও আদা ফুটিয়ে সুবাস বের করে নিন। এরপর কালো চা ও দুধ যোগ করে ধীরে ফুটতে দিন। ভালোভাবে মিশে এলে ছেঁকে পরিবেশন করুন।
মধু–আদা চা – সর্দি–কাশির প্রাচীন ঘরোয়া প্রতিকার
এই চায়ের উষ্ণতা গলায় আরাম দেয় এবং মৌসুমি অসুস্থতা কমাতে কার্যকর।
উপকরণ: কালো চা, টুকরো করা তাজা আদা, মধু, পানি।
প্রস্তুতপ্রণালী: ফুটন্ত পানিতে কালো চা ও আদা দিয়ে ২ মিনিট উনুনে রাখুন। ছেঁকে নিয়ে হালকা গরম অবস্থায় মধু মিশিয়ে পরিবেশন করুন।
পুদিনা–লেবু চা – প্রাকৃতিক সতেজতার এক অনন্য মিশ্রণ
মানসিক ক্লান্তি দূর করে সতেজতা ফিরিয়ে আনে এই হার্বাল টি।
উপকরণ: তাজা পুদিনা পাতা, লেবুর রস, পানি, প্রয়োজনে মধু/গুড়।
প্রস্তুতপ্রণালী: ফুটন্ত পানিতে পুদিনা পাতা দিয়ে কয়েক মিনিট ঢেকে রাখুন। ছেঁকে নেওয়ার পর লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে পরিবেশন করুন।
কাশ্মিরি কাহওয়া – বাদাম ও জাফরানে ভরপুর ডিটক্সিফাইং চা
কাশ্মির অঞ্চলের এই ঐতিহ্যবাহী সবুজ চা দেহকে উষ্ণতা দেয় এবং হজমে সহায়তা করে।
উপকরণ: কাশ্মিরি গ্রিন–টি, গোটা মসলা, জাফরান, কুঁচি করা বাদাম, মধু, পানি।
প্রস্তুতপ্রণালী: পানিতে মসলা ও জাফরান ফুটিয়ে গ্রিন–টি যোগ করুন। ছেঁকে নিয়ে মধু দিন এবং উপরে বাদাম ও গোলাপের পাপড়ি দিয়ে সাজান।
আইসড টি – গরম দিনে ঠান্ডা সতেজতার সঙ্গী
ক্লাসিক আইসড টি – সবার পছন্দের সহজ রেসিপি
উপকরণ: ব্ল্যাক টি ব্যাগ/পাতা, পানি, চিনি বা সিরাপ, লেবু।
প্রস্তুতপ্রণালী: গাঢ় কালো চা বানিয়ে ঠান্ডা করুন। এরপর পিচারে রেখে পানি ও বরফ মিশিয়ে লেবুর স্লাইস দিয়ে পরিবেশন করুন।
থাই আইসড টি – আসল মশলা ও দুধের অপূর্ব মিশ্রণ
থাইল্যান্ডের এই মিষ্টি ও সুগন্ধি চায়ের রঙ ও স্বাদ দুটোই আলাদা।
উপকরণ: ভালো মানের কালো চা, স্টার অ্যানিস, এলাচ, চিনি, ইভাপোরেটেড/কনডেন্সড মিল্ক।
প্রস্তুতপ্রণালী: চা ও মসলা ফুটিয়ে ঠান্ডা করুন। পরে প্রচুর চিনি দিন। বরফ ভর্তি গ্লাসে ঢেলে প্রথমে চা আর পরে দুধ ঢেলে পরিবেশন করুন।
হিবিস্কাস আইসড টি – টক–মিষ্টি ও ক্যাফেইনমুক্ত এক স্বাস্থ্যকর পানীয়
উপকরণ: শুকনা হিবিস্কাস পাপড়ি, পানি, মধু বা সিরাপ, বরফ।
প্রস্তুতপ্রণালী: ফুটন্ত পানিতে হিবিস্কাস পাপড়ি ভিজিয়ে রাখুন যতক্ষণ না পানি লাল হয়ে যায়। ছেঁকে নিয়ে মধু দিন এবং ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন।
চায়ের ভিত্তি, মসলা, ভেষজ ও মিষ্টি উপাদানের ভিন্নতা মিলিয়ে নিজের মতো নতুন স্বাদ তৈরি করা সম্ভব। চা শুধু পানীয় নয় এটি এক বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা, যা প্রতিটি সংস্কৃতি আলাদা ভাবে রূপ দিয়েছে।
খেজুর রসের পায়েস বানানোর সহজ রেসিপি
শীতের আমেজে বাঙালির খাদ্যতালিকায় যেসব ঐতিহ্য আজও একইভাবে জনপ্রিয়, তার মধ্যে অন্যতম খেজুর রসের পায়েস বা Khejur Rosher Payesh। গ্রামীণ বাংলার শীত মানেই ভোরের টাটকা খেজুর রস, আর সেই রস দিয়েই তৈরি হয় এই ঘন, সুগন্ধি এবং স্বাদে অতুলনীয় মিষ্টান্ন। খেজুরের রস, পোলাওয়ের চাল, এলাচ–দারুচিনির গন্ধ এবং নারকেলের স্বাদ একসঙ্গে মিলেমিশে তৈরি হয় অপূর্ব একটি ডেজার্ট, যা শীতকালীন উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ।
এই পায়েসের বিশেষত্ব হলো এর সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক মিষ্টি ও স্বাদ। খেজুর রস ফুটতে শুরু করলে ধীরে ধীরে ঘন হয় এবং চালের সঙ্গে মিশে তৈরি করে অনন্য টেক্সচার। গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই এখন শীতকালীন খাবারের তালিকায় রসের পায়েস নতুন করে জায়গা দখল করেছে।
উপকরণ
- পোলাওয়ের চাল: ১ কাপ
- খেজুরের রস: ১ লিটার
- কোরানো নারকেল: ১ কাপ (ঐচ্ছিক)
- এলাচ: ২টি
- দারুচিনি: ২–৩ টুকরা
- তেজপাতা: ২টি
- লবণ: অল্প
পদ্ধতি
প্রথমে চাল ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিয়ে পাটায় হালকা ভেঙে নেওয়া হয় যাতে রান্নার সময় দানাগুলো সুন্দরভাবে ফেঁপে ওঠে। পাত্রে খেজুরের রস চুলায় তুলে একবার বলক দেওয়া হলে তাতে চাল, এলাচ, দারুচিনি, তেজপাতা ও সামান্য লবণ যোগ করা হয়। মাঝারি আঁচে ধীরে ধীরে চাল সেদ্ধ হয়ে রস ঘন হওয়ার অপেক্ষায় থাকতে হয়। চাল সেদ্ধ হয়ে এলে এবং রস পায়েসের মতো ঘনত্ব পেলে যোগ করা হয় কোরানো নারকেল, যা বাড়িয়ে দেয় স্বাদ ও গন্ধ।
সবশেষে নামিয়ে ঠান্ডা করা হলে তৈরি হয় শীতের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই পায়েস। সকালের নাশতায় কিংবা বিকেলের আড্ডায়, অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে উৎসব সবখানেই এটি রাখতে পারে বিশেষ মান।
ঘরে বানান সহজ উপকরণে মজাদার পাটিসাপটা পিঠা
হেমন্তের হাওয়া লাগতেই বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হয় নতুন ধানের সুবাস, আর সেই সাথে পিঠা-পুলির উৎসব। বিশেষত শীতকাল এলেই পিঠা যেন বাঙালির জীবনে উৎসবের আরেক নাম হয়ে ওঠে। কুয়াশাভেজা সকাল, খেজুরের রস আর গরম গরম পিঠার স্বাদ এই সবকিছু মিলে শীতে পিঠাকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয়। তবে আধুনিক নগরজীবনে বিদেশি খাদ্যের চাপে আমাদের ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব অনেক সময়েই হারাতে বসেছে। অথচ পিঠার সমারোহে পাটিসাপটা পিঠা এখনও সবার পছন্দের শীর্ষে।
বাংলাদেশের পিঠার বৈচিত্র্য
বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে রয়েছে পিঠার নিজস্ব ধরণ ও স্বাদ। একেক জায়গায় একই পিঠার ভিন্ন ভিন্ন নামও প্রচলিত। দেশে প্রায় ১৫০ ধরনের পিঠা থাকলেও সর্বসাধারণের রান্নাঘরে ৩০টির মতো পিঠাই বেশি প্রচলিত। নতুন চালের গুঁড়া, গুড়, নারিকেল, সুজি এসবই পিঠার মূল উপকরণ। কিছু পিঠায় আবার মাংস, সবজি বা ডালও ব্যবহার হয়। শীতকাল তাই পিঠাকাল বললেও অত্যুক্তি হয় না। পিঠা উৎসবও এখন দেশজুড়ে জনপ্রিয় প্রতিযোগিতার রূপ নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন নতুন রেসিপির ভিড়ে যেন ঐতিহ্যবাহী পিঠাগুলো হারিয়ে না যায়।
পাটিসাপটা: শীতের ঘরোয়া আনন্দ
পাটিসাপটা পিঠা বাঙালির কাছে খুবই প্রিয় হলেও অনেকে ভুলভাবে মনে করেন এটি বানানো কঠিন। আসলে সামান্য কৌশল জানা থাকলে ঘরেই খুব সহজে তৈরি করা যায় এই মজাদার পিঠা।
পাটিসাপটা পিঠা তৈরির সহজ রেসিপি
উপকরণ
- দুধ ২ লিটার
- চিনি ৫০০ গ্রাম
- সুজি ২ টেবিল চামচ
- নারিকেল কোরা আধা কাপ
- চালের গুঁড়া ১ কেজি
- ময়দা আধা কাপ
- পানি পরিমাণ মতো
- লবণ স্বাদমতো
- তেল ভাজার জন্য
প্রস্তুত প্রণালী
প্রথমে দুধের সাথে অর্ধেক চিনি দিয়ে ভালোভাবে জ্বাল দিন। দুধ ঘন হয়ে এলে তাতে সুজি ও নারিকেল কোরা মিশিয়ে ক্ষীর তৈরি করুন। ক্ষীর ঘন হলে চুলা থেকে নামিয়ে ঠাণ্ডা হতে দিন।
এবার চালের গুঁড়া, বাকি চিনি, লবণ ও পানি মিশিয়ে পাতলা গোলা তৈরি করুন। ফ্রাই প্যানে অল্প তেল গরম করে আধা কাপ গোলা ঢেলে রুটির মতো পাতলা করে ছড়িয়ে দিন। ওপরে শুকিয়ে আসলে এক চামচ ক্ষীর রেখে পাটিসাপটার মতো মুড়িয়ে আবার হালকা ভেজে নিন। পর্যায়ক্রমে সব পিঠা তৈরি করে পরে পরিবেশন করুন।
পিঠার স্বাদ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রয়োজন ভেজালমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণ নির্বাচন। চালের গুঁড়া, দুধ, নারিকেল বা তেলের গুণগত মান খারাপ হলে পিঠার স্বাদ ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
পাঠকের মতামত:
- কৃষ্ণগহ্বরের তাণ্ডবে ফুটছে আদি মহাবিশ্ব: শুরুর জগত নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন তথ্য
- বাংলাদেশ-পাকিস্তান সামরিক সম্পর্ক এখন তুঙ্গে: রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন গণবিজ্ঞপ্তি জারি, বেসরকারি স্কুল-কলেজের জন্য বড় সুখবর
- চট্টগ্রামের খতনা করাতে গিয়ে চিরতরে ঘুমিয়ে পড়ল ৭ বছরের রোহান
- ব্যালটে সিল মারা পুলিশের কাজ নয়: হাসনাত আব্দুল্লাহ
- ২৬ কেন্দ্রের ফলে পাশা উল্টে গেল: জকসু নির্বাচনের নাটকীয় মোড়
- শীতে বারবার প্রস্রাবের বেগ: সাধারণ ঘটনা নাকি কিডনি রোগের সংকেত?
- সদরপুরে পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্র, গুলি ও ককটেল উদ্ধার
- ভিপি পদে রিয়াজুল বনাম রাকিব: জকসু নির্বাচনের ২০ কেন্দ্রের ফল এক নজরে
- তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কবলে ৩ বিভাগ, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪-৬ ডিগ্রিতে
- সুস্থ থাকতে চায়ের সঙ্গে এই ৫ খাবারের বিচ্ছেদ জরুরি: আজই সতর্ক হোন
- বিচার না করে নির্বাচনে গেলে জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে: রিফাত
- স্যার আমি কি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারি?: মোদির অনুরোধে যা বললেন ট্রাম্প
- ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ অনড়: আসিফ নজরুল
- ছড়িয়ে পড়েছে নিপাহ ভাইরাস: মৃত্যুর হার ১০০ শতাংশে পৌঁছানোয় রেড অ্যালার্ট
- উত্তরবঙ্গে তারেক রহমানের ৪ দিনের ‘মেগা সফর’: রুট ম্যাপ দেখে নিন
- গণতন্ত্রের মশাল এখন তারেক রহমানের হাতে: খসরু
- জকসু নির্বাচনে বোটানিতে ফল প্রকাশ, ভোটে চমক
- বিএনপিতে যোগ দিলেন এনসিপির শীর্ষ নেতা
- ৭ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ বাজার বিশ্লেষণ
- ডিএসইতে আজ দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- শেয়ারবাজারে আজকের শীর্ষ লাভবান ১০ কোম্পানি
- জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির দোয়া ও রাজনৈতিক বার্তা
- অলিম্পিক ও কেডিএসের নগদ লভ্যাংশ বিতরণ
- ডিএসইতে বন্ড আপডেট, চার ট্রেজারি বন্ডের রেকর্ড ডেট
- সূচক বাড়ছে, ভলিউম ৯ কোটির বেশি, কী বোঝায়
- বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- শীতকালে বাংলাদেশের ভ্রমণের ৫ সেরা জায়গা: ২০২৬ সালের ট্রাভেল গাইড
- নির্বাচন নিরপেক্ষ না হলে দেশ ধ্বংস হবে: ডা. তাহের
- বিশ্বকাপে ভারত সফর নিয়ে বুলবুলের বিস্ফোরক তথ্য
- আজকের স্বর্ণের দাম: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
- ৬ বিভাগের ফলাফলে ভিপি পদে মাত্র ৫৭ ভোটের ব্যবধান: টানটান উত্তেজনা জবিতে
- শীতেও ত্বক থাকবে মাখনের মতো নরম: জানুন জাদুকরী কিছু সহজ টিপস
- দাঁতের শিরশিরানি থেকে মুক্তির ৫ সহজ উপায়
- টিভির পর্দায় আজকের সব খেলার সূচি
- বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না গেলে বড় জরিমানার মুখে বাংলাদেশ
- আজ ০৭ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
- আজ বুধবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- আজ রাজধানীর কোথায় কোন কর্মসূচি জেনে নিন বের হওয়ার আগে
- চার জোনে বিভক্ত হচ্ছে সেন্ট মার্টিন
- যে ১০ জেলায় আজও শৈত্যপ্রবাহের রেড অ্যালার্ট
- নবম পে স্কেলে আকাশছোঁয়া বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ: কার পকেটে ঢুকবে বাড়তি টাকা?
- জকসু নির্বাচনের প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ, ভিপি-জিএস পদে কে কোথায়?
- ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবার আমাদের ভোট: হাসনাত আবদুল্লাহ
- নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ছক: বেরিয়ে এলো হাদি খুনের রোমহর্ষক তথ্য
- সোনা ও প্লাটিনামের পাহাড় কি আকাশেই ভাসছে? গ্রহাণু নিয়ে গবেষকদের অবাক দাবি
- দুদকের নজরদারিতে সারজিস আলম
- নির্বাচন নিয়ে যারা সংশয় ছড়াচ্ছেন তারা কড়া নজরদারিতে: শফিকুল আলম
- প্রস্রাবের রং কি বদলে যাচ্ছে? কিডনি বিকল হওয়ার আগাম লক্ষণ জানুন
- শীতের রাতে মোজা পরে ঘুমানো উপকারী না ক্ষতিকর জানুন বিশেষজ্ঞ মত
- ৯ম পে স্কেলে আমূল পরিবর্তন, সরকারি চাকরিতে বেতনে বড় সুখবর
- ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা কবে
- কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য লম্বা ছুটি ঘোষণা
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- নতুন বছরে স্বর্ণের বাজারে বড় পরিবর্তন, আজ থেকে সোনার দর নিম্নমুখী
- বুধবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- পেটের আলসার: কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
- ৪ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে আজ শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী তালিকা
- স্বর্ণের দামে নতুন বছরের শুরুতেই স্বস্তি: আজ থেকে কার্যকর নতুন দর
- কাত্তালী টেক্সটাইলের শেয়ারে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর
- অবশেষে অবসান হলো অপেক্ষার: বিশেষ আহ্বান নিয়ে হাজির ড. ইউনূস
- ০৫ জানুয়ারি আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- আবহাওয়া অফিসের বড় দুঃসংবাদ, ধেয়ে আসছে হাড়কাঁপানো তীব্র শীত
- গয়না কেনার আগে দেখে নিন আজ কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে দেশে
- এক নজরে ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের সর্বশেষ NAV








