এনডিটিভির প্রতিবেদন
দিল্লিতে বড় হামলার ছক: তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ৮

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও বাংলাদেশভিত্তিক একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মদদে ভারতে বড় ধরণের নাশকতামূলক হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে অন্তত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ছয়জনকে তামিলনাড়ুর তিরুপুর জেলার একটি পোশাক উৎপাদন ইউনিট থেকে এবং বাকি দুইজনকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে সূত্রের বরাতে যে ছয়জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে তারা হলেন—মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ শাবাত, উমর, মোহাম্মদ লিটন, মোহাম্মদ শহীদ এবং মোহাম্মদ উজ্জ্বল।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তরা ভারতের স্থানীয় পরিচয়পত্রের জন্য জাল আধার কার্ড ব্যবহার করছিল। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে আটটি মোবাইল ফোন এবং ১৬টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। তামিলনাড়ু পুলিশ এই সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারের পর দিল্লি পুলিশের বিশেষ শাখার কাছে হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল চক্রকে ধরতে আরও নিবিড় তদন্ত চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, এই গোষ্ঠীটি মূলত পাকিস্তানের লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে যোগসাজশ রেখে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল।
ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে সূত্র জানিয়েছে, সন্ত্রাসীরা দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লা এবং চাঁদনী চকের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরসহ জনাকীর্ণ ও ধর্মীয় স্থানগুলোতে বিস্ফোরণের ভয়াবহ পরিকল্পনা করছিল। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা আইইডি দিয়ে হামলার ছক কষছিল—এমন সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার মাত্র একদিন পরেই এই আটজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এই গ্রেপ্তারের ফলে দিল্লিতে একটি সম্ভাব্য বড় ধরণের রক্তক্ষয়ী হামলা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ভারতের সীমান্ত এলাকা ও জনাকীর্ণ স্থানগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সৌদি সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা: রমজানে ওমরাহ পালনকারীদের জন্য একগুচ্ছ বার্তা
চলতি রমজান মাসে ওমরাহ পালনকারীদের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন ইবাদত নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সৌদি সরকার। বিশেষ করে পবিত্র রমজানে মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে যাতায়াত, স্বাস্থ্যবিধি এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে খালিজ টাইমস। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রমজান মাসে লক্ষ লক্ষ মুসল্লির সমাগম ঘটে, যার ফলে বিশেষ করে রমজানের শেষ দশ রাতে নামাজের আগে ও পরে গ্র্যান্ড মসজিদের কেন্দ্রীয় এলাকায় অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয়।
এই ভিড় নিয়ন্ত্রণে ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মুসল্লিদের নির্ধারিত পথ, দিকনির্দেশক সাইনবোর্ড এবং নিরাপত্তা কর্মীদের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এমনকি মসজিদের প্রবেশপথে ডিজিটাল সংকেত ব্যবস্থা বসানো হয়েছে; যেখানে সবুজ বাতি মানে ভেতরে জায়গা খালি আছে এবং লাল বাতি জ্বলে উঠলে বুঝতে হবে ভেতরটি মুসল্লিদের দ্বারা পূর্ণ।
যানজট নিরসন ও যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করতে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। এর পরিবর্তে মুসল্লিদের সরকারি বাস, অনুমোদিত ট্যাক্সি এবং হারামাইন হাই স্পিড রেলওয়ে ব্যবহারে বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গ্র্যান্ড মসজিদের কেন্দ্রীয় এলাকায় মোটরসাইকেল, সাইকেল এবং যেকোনো ধরণের অনুমোদনহীন যানবাহন প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মুসল্লিদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে তাদের জন্য আলাদা নামাজের স্থান ও বৈদ্যুতিক কার্টের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে শিশুদেরকে ভিড় এলাকায় না আনার জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্বাস্থ্য ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওমরাহ পালনকারীদের পানিশূন্যতা এড়ানো, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং কঠোরভাবে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি মানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক ওমরাহ যাত্রীর জন্য ডিজিটাল অনুমতিপত্র সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ওমরাহ পালনকারীদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং যানজট কমাতে নির্ধারিত সময়সূচী ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে। ইবাদতের পবিত্রতা রক্ষায় গ্র্যান্ড মসজিদ এলাকায় অস্ত্র বহন, ধূমপান, ভিক্ষাবৃত্তি এবং অননুমোদিত বেচা-কেনা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা বা শৃঙ্খলা পরিপন্থী যেকোনো কাজ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে সৌদি সরকার।
/আশিক
আফগান সীমান্তে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের হানা: টিটিপি ও আইএস আস্তানায় বড় আক্রমণ
আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মূলত ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার জেরে প্রতিশোধ নিতেই এই হামলা চালিয়েছে পাক বিমান বাহিনী। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) শক্তিশালী ঘাঁটি ও গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান এবং তাদের সহযোগী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশ বা আইএসকেপি-এর অন্তত সাতটি সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ শিবির ও আস্তানায় এই ‘নির্বাচিত লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা পরিচালনা করা হয়। পাকিস্তানের এই আক্রমণাত্মক পদক্ষেপকে প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরণের উত্তেজনা বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এই বিমান হামলার মাত্র কয়েক দিন আগে সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কাবুল তিনজন পাকিস্তানি সেনাকে মুক্তি দেয়, যা দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম সীমান্তজুড়ে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনার পর একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ ছিল।
তবে সাম্প্রতিক হামলাগুলো সেই শান্তি প্রক্রিয়ায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। পাকিস্তান সরকার দাবি করেছে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড কাজে লাগিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু বড় হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে বোমা বিস্ফোরণ এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাজাউর ও বান্নু জেলায় চরম সহিংসতা। পাকিস্তান তাদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই অভিযান চালাতে বাধ্য হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি পাকিস্তানের বান্নু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরে আত্মঘাতী হামলায় একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সেনা নিহত হন। এর পরদিন সোমবার বাজাউরে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নিয়ে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে আত্মঘাতী হামলায় ১১ জন সেনা ও এক নিষ্পাপ শিশু নিহত হয়। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই হামলাকারী একজন আফগান নাগরিক ছিলেন।
এ নিয়ে কাবুলের তালেবান প্রশাসনের সঙ্গে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করতে না পারলেও, আফগানিস্তান সরকার অতীতে বরাবরই পাকিস্তানের এই ধরণের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালানোর সুযোগ কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়নি। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
/আশিক
তাঁবুতে ইফতার ও স্বজন হারানোর হাহাকার: ধ্বংসস্তূপের মাঝে গাজার রমজান
বিশ্বের দেড়শ কোটির বেশি মুসলমানের মতো পবিত্র রমজান মাস পালন করছেন গাজার ফিলিস্তিনিরাও। তবে টানা যুদ্ধ, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং স্বজন হারানোর বেদনার মধ্যেই এ বছরের রমজান তাদের কাছে ভিন্ন এক বাস্তবতা নিয়ে এসেছে—শোকের মাঝেও আশা ধরে রাখার সংগ্রাম। গাজার বর্তমান রমজানের এই চিত্র নিয়ে সম্প্রতি পিবিএস নিউজ আওয়ার এক বিশেষ বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। যেখানে উঠে এসেছে গাজাবাসীর যাপিত জীবনের এক ট্র্যাজিক ও সাহসী প্রতিচ্ছবি।
গাজার পুরনো শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক আল-জাওইয়া মার্কেটে এখন ঝুলছে রঙিন ফানুস। ৭০০ বছরেরও বেশি পুরনো এই বাজারের একটি অংশ ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। তবুও সেই ধ্বংসস্তূপের মাঝেই খেজুর, জলপাই ও রমজানের সাজসজ্জার সামগ্রী নিয়ে আবারও জমে উঠেছে বাজার। যদিও গত অক্টোবরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, কিন্তু স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে এরপরও সেখানে শত শত ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এই শোকের আবহেই গাজাবাসী রমজানকে বরণ করে নিয়েছে।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ইনাস ওমর বলেন, ধ্বংস আর যুদ্ধের মাঝেও তারা বাজারের প্রাণ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। তবে বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন। বিদ্যুৎ সংকট ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে অনেকেই রমজানের প্রয়োজনীয় সাজসজ্জা বা ইফতার সামগ্রী কিনতে পারছেন না। দোকানি লুয়াই আল-জামাসি জানান, পণ্য আমদানি সীমিত থাকায় ফানুসের দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে আচার বিক্রি করা সাঈদ আল-সাক্কা অত্যন্ত আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা হাসি ফেরানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু রমজান এখন ক্ষতির স্বাদ নিয়ে আসে। পরিবারের অনেক সদস্য, প্রতিবেশী ও বন্ধুদের হারিয়ে ফেলেছি।’
বাসস্থানের ভয়াবহ সংকট গাজার রমজানকে আরও করুণ করে তুলেছে। যেসব পরিবার একসময় বহু কক্ষের আধুনিক ঘরে জমকালো ইফতার আয়োজন করত, তারা এখন বাস করছে ত্রাণশিবিরের ঘিঞ্জি তাঁবুতে। বাস্তুচ্যুত আমাল আল-সামরি জানান, যুদ্ধের আগে রমজান ছিল আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার একটি আনন্দময় সময়, আর এখন জীবন এক বড় ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে। তবে এই চরম সংকটেও শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে নিরলস কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। তারা রঙিন সাজসজ্জা আর ছোট ছোট আয়োজনের মাধ্যমে শিশুদের জন্য কিছুটা আনন্দের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছেন।
স্বেচ্ছাসেবক আবদুলরহমান আবু জাহল বলেন, ‘গাজার শিশুদের টিকে থাকাই এখন এক ধরনের বড় সাফল্য। আমরা চাই তারা অন্তত রমজানে একটু আনন্দ করুক আর নতুন দিনের স্বপ্ন দেখুক।’ ধ্বংসস্তূপের মাঝেও প্রতিদিন সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হচ্ছে গাজাবাসীর রোজা। প্রতিফলন আর সংযমের এই পবিত্র মাসটি এ বছর গাজাবাসীর কাছে কেবল ইবাদত নয়, বরং ধৈর্য ও অদম্য সাহসে টিকে থাকার এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সূত্র: পিবিএস নিউজ আওয়ার
অস্থায়ী শুল্কের কবলে বিশ্ব: ১৫০ দিনের জন্য নতুন কর নীতি কার্যকর করছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন যে, বিশ্বের সব দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তিনি আরও জানান, ওভাল অফিস থেকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নথিতে স্বাক্ষর সম্পন্ন করেছেন এবং এই ‘গ্লোবাল ১০ শতাংশ ট্যারিফ’ প্রায় অবিলম্বে কার্যকর হবে। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে লেখেন, ‘সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের নথিতে সই করেছি, যা প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে।’
এই বড় ঘোষণাটি এমন এক সময়ে আসলো যখন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের বেশিরভাগ শুল্ক সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছিল। আদালত তার রায়ে জানিয়েছিল যে, জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির জন্য নির্ধারিত একটি বিশেষ আইন ব্যবহার করে ব্যাপক শুল্ক আরোপের মাধ্যমে ট্রাম্প মূলত তাঁর ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। তবে আদালতের এই রায়কে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘হাস্যকর’ বলে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাজস্ব বাড়ানোর বিকল্প পথ অবশ্যই খুঁজবে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এখন সমন্বয় প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা আগের চেয়ে আরও বেশি রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হবে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে একটি তথ্যপত্রে জানানো হয়েছে, আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট (ইএসটি) থেকে এই অস্থায়ী আমদানি শুল্ক কার্যকর হতে যাচ্ছে এবং প্রাথমিকভাবে তা ১৫০ দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে। তবে মার্কিন অর্থনীতির সুরক্ষার স্বার্থে অত্যন্ত কৌশলী হয়ে কিছু পণ্যকে এই শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও ধাতু, জ্বালানি ও জ্বালানি-সম্পর্কিত পণ্য, কৃষিপণ্য যেমন গরুর মাংস, টমেটো ও কমলা। এছাড়া জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদান, কিছু নির্দিষ্ট ইলেকট্রনিকস পণ্য, মহাকাশ ও বিমান শিল্পের সামগ্রী, যানবাহন এবং বইয়ের মতো তথ্যভিত্তিক উপকরণগুলোকেও এই শুল্কের ছাড় দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সেকশন ২৩২-এর আওতাভুক্ত পণ্য, কানাডা ও মেক্সিকো থেকে আসা ইউএসএমসিএ-সম্মত আমদানি এবং মধ্য আমেরিকার কিছু শুল্কমুক্ত বস্ত্রপণ্যও এই অস্থায়ী শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, স্বল্পমূল্যের পার্সেলের ক্ষেত্রে প্রচলিত শুল্কমুক্ত ‘ডি মিনিমিস’ সুবিধা স্থগিতের সিদ্ধান্তও বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ছোট ছোট অনলাইন চালান বা পার্সেলগুলোও এখন থেকে নতুন এই শুল্কের আওতায় আসবে, যা বিশ্বজুড়ে ই-কমার্স ব্যবসায় বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ মিশনের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত: পর্যটক ভিসায় আর বাধা নেই
দুই মাস বন্ধ থাকার পর ভারতের নাগরিকদের জন্য আবারও পর্যটক ভিসার আবেদন নেওয়া শুরু করেছে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) থেকে এই বিশেষ সেবাটি পুনরায় চালু হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের সাধারণ নাগরিকদের যাতায়াত ও পর্যটন খাতে স্থবিরতা কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হাইকমিশনের ভিসা বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, ভারতীয় নাগরিকদের কাছ থেকে আবারও পর্যটক ভিসার আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা এই কার্যক্রম পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়া আজ থেকে শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চাণক্যপুরীর কূটনৈতিক এলাকায় হাইকমিশনের ভিসা কাউন্টারের দেয়ালে টানানো পর্যটক ভিসা স্থগিতের পুরোনো নোটিশটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান যে, এই সময়ে পর্যটক ভিসা বন্ধ থাকলেও অন্যান্য কিছু বিশেষ ক্যাটাগরির ভিসা সীমিত পরিসরে চালু ছিল।
তিনি আরও বলেন, ভিসা কার্যক্রম মূলত পারস্পরিক ব্যবস্থার ওপর পরিচালিত হওয়ায় ব্যবসা ও কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা পুরোপুরি কখনোই বন্ধ করা হয়নি। ফলে সেগুলো আলাদাভাবে আবার নতুন করে চালু করার প্রয়োজন হয়নি। এছাড়া জরুরি প্রয়োজন এবং বিশেষ ক্ষেত্রে মানবিক দিক বিবেচনায় ভিসা দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন কাভার করতে কয়েকজন ভারতীয় সাংবাদিককেও বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ভিসা দেওয়া হয়েছিল বলে ওই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন।
এর আগে সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের মিশনগুলোতে সব ধরনের ভিসা সেবা পুরোপুরি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত ডিসেম্বর মাসে বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাড়লে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কনস্যুলার ও ভিসা সেবার একটি বড় অংশ স্থগিত হয়ে যায়। তবে এখন পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ধীরে ধীরে সেই সেবাগুলো স্বাভাবিক করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
/আশিক
শুল্ক নিয়ে ট্রাম্পের একগুঁয়েমি: বিকল্প বাজারের খোঁজে ঝুঁকছে বাংলাদেশ
২০২৫ সালের ২ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের ১৫৭টি দেশের পণ্যে বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। নির্বাচনের প্রচারণার অঙ্গীকার অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সম্প্রতি দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এই পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে। তবে ট্রাম্প দমে যাওয়ার পাত্র নন; তিনি ভিন্ন আইনের প্রয়োগ করে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববাণিজ্য ব্যবস্থায় আরও গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হলো বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে বিকল্প পথ খুঁজতে হবে বলে মনে করেন তারা।
কী এই পাল্টা শুল্ক ও ট্রাম্পের যুক্তি
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অনেক দেশের রপ্তানির মূল গন্তব্য হলেও ভিয়েতনাম বা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্যের বিশাল ঘাটতি রয়েছে। ট্রাম্প এই ঘাটতিকে মার্কিন অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর মনে করেন। তার নীতির মূল ভিত্তি হলো—যে দেশ মার্কিন পণ্যে যত পরিমাণ শুল্ক আরোপ করবে, যুক্তরাষ্ট্রও সেই দেশের পণ্যে ঠিক ততটাই পাল্টা শুল্ক বসাবে। ট্রাম্প চীন ও বাংলাদেশের উদাহরণ টেনে বলেন, চীন মার্কিন পণ্যে ৬৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় যুক্তরাষ্ট্র তার অর্ধেক অর্থাৎ ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। একইভাবে বাংলাদেশ মার্কিন পণ্যে ৭৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে রেখেছিল বিধায় তাদের পণ্যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়। ট্রাম্প এই দিনটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে আখ্যা দিলেও সুপ্রিম কোর্টের রায় তার এই আইনি ক্ষমতাকে সীমিত করেছে।
শুল্কযুদ্ধ থেকে পিছিয়ে আসছেন না ট্রাম্প
আদালতের রায়ের কয়েক ঘণ্টা পরই এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি এই বাণিজ্যযুদ্ধ থেকে সরবেন না। তিনি আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের পরিবর্তে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন ব্যবহার করে নতুন করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও জানিয়েছেন, প্রশাসন এই নতুন আইনি পথে এগোবে। যদিও এই পথে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যেমন শুল্কের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ হতে পারে এবং তা মাত্র ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকতে পারে। তবে ট্রাম্পের দাবি, প্রক্রিয়াটি জটিল হলেও শেষ পর্যন্ত শুল্কনীতি আটকে যাবে না এবং এতে সরকারের আয় আরও বাড়বে।
অর্থ ফেরতের অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ
গত বছর শুল্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আয় ছিল প্রায় ২৪০ থেকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার। গবেষণায় দেখা গেছে, এই শুল্কের ৯০ শতাংশ খরচ মার্কিন কোম্পানিগুলোকেই বহন করতে হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর চাপানো হয়েছে। এখন এই অর্থ আমদানিকারকদের ফেরত দেওয়ার প্রশ্ন উঠলেও বিচারপতি ব্রেট কাভানফ জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়া বেশ জটিল হবে এবং এটি নিয়ে আগামী কয়েক বছর আদালতে লড়াই চলতে পারে। ট্রাম্প মূলত একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পৃথিবীকে দেখতে চান এবং তিনি মনে করেন অন্য দেশগুলো এতদিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছিঁড়েখুঁড়ে খেয়েছে। এই অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর রপ্তানি এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ও ট্রাম্পের দাবির অসারতা
অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান ট্রাম্পের এই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যনীতিকে বিধিবদ্ধ ব্যবস্থার লঙ্ঘন বলে মনে করেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার কেন শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বাণিজ্য চুক্তি করল, যা এখন নতুন সরকারকে দায়ের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন ভারতকে অনুসরণ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির চিন্তা করতে। এদিকে, ট্রাম্প যে বাণিজ্য ঘাটতির কথা বলে শুল্ক আরোপ করছেন, তাতে বড় ধরণের শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে। ট্রাম্প কেবল পণ্য-বাণিজ্যের ঘাটতির কথা বললেও সেবা-বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল উদ্বৃত্তের কথা এড়িয়ে যান। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেবা-বাণিজ্যের উদ্বৃত্ত ২৯৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। বাস্তবতা হলো, বিশাল ঘাটতি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র খারাপ নেই; এমনকি তাদের দরিদ্রতম অঙ্গরাজ্য মিসিসিপির মাথাপিছু জিডিপি যুক্তরাজ্য বা জাপানের চেয়েও বেশি।
/আশিক
হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটি হবে লক্ষ্যবস্তু: ইরান
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক বাকযুদ্ধের জেরে। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিলে অঞ্চলজুড়ে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও সম্পদকে বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে এই অবস্থান তুলে ধরেন। চিঠিটি পাঠানো হয়েছে আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে। সেখানে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি না হলে যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটিসহ আঞ্চলিক স্থাপনাগুলো ব্যবহার করে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ইরান তার চিঠিতে উল্লেখ করেছে, এ ধরনের বক্তব্য সরাসরি সামরিক আগ্রাসনের ঝুঁকি বাড়ায় এবং তা শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। তেহরান আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবৈধ শক্তি প্রয়োগের হুমকি’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
একই সঙ্গে ইরান স্পষ্ট করেছে যে তারা এখনো কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তাদের দাবি, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যে কোনো প্রশ্ন বা অস্পষ্টতা দূর করতে তারা আলোচনায় প্রস্তুত। তবে সামরিক হামলা হলে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি, সামরিক স্থাপনা ও সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
অন্যদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের হাতে সর্বোচ্চ ১৫ দিন সময় রয়েছে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অগ্রগতি না হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নিতে পারে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
-রাফসান
মহাকাশ বিজয়ে ইরান: সফলভাবে উৎক্ষেপিত হলো জাম-এ-জাম ১
ইরানের প্রথম বিশেষায়িত ভূস্থির উপগ্রহ ‘জাম-এ-জাম ১’— যা আন্তর্জাতিকভাবে ‘ইরান ডিবিএস’ নামে নিবন্ধিত— Islamic Republic of Iran Broadcasting (আইআরআইবি)-এর মালিকানাধীন, কাজাখস্তানের Baikonur Cosmodrome থেকে সফলভাবে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। টেলিযোগাযোগ উপগ্রহটি একটি Proton-M উৎক্ষেপণ যানের মাধ্যমে কক্ষপথে স্থাপন করা হয়, একই সঙ্গে একটি রুশ আবহাওয়া উপগ্রহও উৎক্ষেপণ করা হয়।
এ উৎক্ষেপণ আইআরআইবির কারিগরি অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং ইরানের মহাকাশভিত্তিক সম্প্রচার সক্ষমতা উন্নয়নে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ‘জাম-এ-জাম ১’ হলো পরবর্তী প্রজন্মের ইন্টারঅ্যাকটিভ রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচার প্রযুক্তি বাস্তবায়নের প্রথম কারিগরি ও কার্যকরী ধাপ। উপগ্রহটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে এটি স্থলভিত্তিক সম্প্রচার কেন্দ্রগুলোতে ইন্টারঅ্যাকটিভ অডিও ও ভিডিও সংকেত প্রেরণ করতে পারে, যা ভবিষ্যতে ইন্টারঅ্যাকটিভ গণমাধ্যম সেবার ভিত্তি স্থাপন করবে।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, উপগ্রহটি তিন সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ৩৪ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে তার চূড়ান্ত কক্ষপথে স্থানান্তর ও স্থিতিশীল করা হবে। উপগ্রহের সংকেত গ্রহণের জন্য পেশাদার ও বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি প্রয়োজন হবে; সাধারণ গৃহস্থালী রিসিভারের মাধ্যমে এটি গ্রহণ করা যাবে না। এই প্রকল্পটি আইআরআইবি’র জন্য ইন্টারঅ্যাকটিভ সম্প্রচার প্রযুক্তি সুসংহত করার প্রয়োজনীয় যোগাযোগ কাঠামো নিশ্চিত করছে এবং মহাকাশভিত্তিক অবকাঠামোতে সংস্থাটির কারিগরি স্বনির্ভরতার নতুন অধ্যায় সূচনা করছে।
সূত্র: ফার্স নিউজ এজেন্সি
নতুন সরকারের প্রতি ট্রাম্পের পূর্ণ আস্থা: অভিনন্দন বার্তায় চাঞ্চল্য
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউস থেকে পাঠানো এক চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ অভিনন্দন জানান। চিঠিতে আমেরিকান জনগণের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক এ বিজয়ে শুভেচ্ছা ও সফলতা কামনা করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের অংশীদারত্ব পারস্পরিক সম্মান এবং একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তিশালী ও সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার যৌথ স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
এছাড়া পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষক ও শ্রমিকদের উপকারে আসবে—এমন প্রত্যাশার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি, নিয়মিত প্রতিরক্ষা চুক্তিসমূহ সম্পন্ন করে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর জন্য উচ্চমানের আমেরিকান সরঞ্জামে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
চিঠির শেষাংশে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। এসময় বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও জানানো হয়। এর আগে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকাস্থ দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন সরাসরি অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।
দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয় ‘বাংলাদেশের জনগণকে সফল নির্বাচনের জন্য অভিনন্দন। বিএনপি ও তারেক রহমানকে ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য শুভেচ্ছা। যুক্তরাষ্ট্র নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে উন্মুখ।’
এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফসহ বিশ্বের অনেক নেতা অভিনন্দন জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিনন্দন বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শপথের পর প্রথম ভাষণে জাতীয় ঐক্য, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, দুর্নীতি দমন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই উষ্ণ সম্পর্ক বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- দিল্লিতে বড় হামলার ছক: তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ৮
- আজকের টাকার রেট কত? দেখে নিন বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার
- লেবুর বাজারে স্বস্তির হাওয়া: হালিপ্রতি দাম কমল প্রায় অর্ধেক
- সৌদি সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা: রমজানে ওমরাহ পালনকারীদের জন্য একগুচ্ছ বার্তা
- হাসনাত-পাটওয়ারীদের পথেই জামায়াত আমির: ইনকিলাব স্ট্যাটাসে নেটদুনিয়ায় তোলপাড়
- টিভির পর্দায় আজকের খেলা: ভারত-বাংলাদেশ ফাইনাল থেকে নর্দান লন্ডন ডার্বি
- আফগান সীমান্তে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের হানা: টিটিপি ও আইএস আস্তানায় বড় আক্রমণ
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকা ও শপিংমল বন্ধ থাকবে
- আবারও বাড়ল স্বর্ণ-রুপার দাম: নতুন দরে নাকাল সাধারণ ক্রেতারা
- ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বৃষ্টির হানা: রাতের তাপমাত্রা কমার নতুন আভাস
- আজ ৪ রমজান: জেনে নিন আজকের ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়সূচি
- সকালে বের হওয়ার আগে জেনে নিন আজ রাজধানীতে কোথায় কী কর্মসূচি
- অস্বাভাবিক ব্যয়ের কবলে নতুন দুই মেট্রো রেল: খরচের অঙ্ক আগের চেয়েও দ্বিগুণ
- ববি হাজ্জাজের মাস্টারপ্ল্যান: শিক্ষাক্রমে আসছে তৃতীয় ভাষা
- জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের তারিখ ঘোষণা করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ঢাকাসহ ৬ বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর
- ১০ থেকে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল কমবে; কেবল নিয়মিত এই একটি কাজ করলেই
- তাঁবুতে ইফতার ও স্বজন হারানোর হাহাকার: ধ্বংসস্তূপের মাঝে গাজার রমজান
- সিলেটে ৩টি বইয়ের প্রকাশনা উৎসব: প্রধান অতিথি শাবিপ্রবি উপাচার্য ড. সরওয়ার উদ্দিন
- জান দেবো কিন্তু জুলাই দেবো না: ব্যারিস্টার আরমান
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নৌবাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- আগামীকাল ৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- ভয়ভীতিমুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ গড়ার অঙ্গীকার করলেন জহির উদ্দিন স্বপন
- অস্থায়ী শুল্কের কবলে বিশ্ব: ১৫০ দিনের জন্য নতুন কর নীতি কার্যকর করছে যুক্তরাষ্ট্র
- তালসরায় গাউসিয়া কমিটির মানবিক উদ্যোগ: দুস্থদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ
- নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ মিশনের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত: পর্যটক ভিসায় আর বাধা নেই
- ইফতারে এনার্জি বাড়াতে তৈরি করুন কলা ও পিনাট বাটারের স্পেশাল শেক
- রমজানেই ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সুখবর: তৃতীয় কর্মদিবসেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা তারেক রহমানের
- শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় অমর একুশে পালন করল কালিগঞ্জবাসী: বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ
- চট্টগ্রামে সিএসসিআর এর উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- একুশের প্রথম প্রহরে বিনম্র শ্রদ্ধায় সিক্ত কুমিল্লা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার
- টানা পতনের পর স্বর্ণে বড় উত্থান, দাম আকাশচুম্বী
- যেদিন থেকে শুরু ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম, জানালেন তথ্য মন্ত্রী
- লেবু সিন্ডিকেটকে না বলুন: বিকল্পেই মিলবে সমান ভিটামিন ও পুষ্টি
- শুল্ক নিয়ে ট্রাম্পের একগুঁয়েমি: বিকল্প বাজারের খোঁজে ঝুঁকছে বাংলাদেশ
- রমজানে রাসুলের ৮ গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত
- এলিয়েন ও ইউএফও রহস্যে ট্রাম্পের বড় ঘোষণা: সব গোপন ফাইল হচ্ছে উন্মুক্ত
- কুমিল্লা সদর দক্ষিণে গভীর রাতে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান
- ইতিহাসে প্রথম শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের জন্য দোয়া প্রধানমন্ত্রীর
- রোজায় ক্লান্তিবোধ কমবে নিমিষেই: শক্তি ধরে রাখার ৪টি সেরা কৌশল
- রোজায় গ্যাসের সমস্যায় ভুগছেন? সমাধান মিলবে ঘরোয়া এই নিয়মেই
- দুর্নীতি ও ধর্মান্ধতা একুশের চেতনার শত্রু: টিআইবি প্রধান
- সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে: জামায়াত আমির
- গণভোটের হ্যাঁ অটোমেটিক কার্যকর হবে, এটাই জুলাই সনদ: এ্যানি
- আজকের টাকার রেট কত? দেখে নিন বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার
- যশোরে তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ অফিসে ছবি টাঙালো ছাত্রলীগ
- আজ শনিবার; রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- ১৭ বছর পর ক্ষমতায় এসে এমন আচরণ কাম্য নয়: রুমিন ফারহানা
- জেনে নিন রাজধানীতে আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ রাজধানীতে কোথায় কী কর্মসূচি: জেনে নিন সকালে বের হওয়ার আগে
- হু হু করে কমল সোনার দাম
- রমজানে স্কুল খোলা নিয়ে হাইকোর্টের বড় রায়: বদলে গেল ছুটির পুরো ক্যালেন্ডার
- চাকরির টাকায় সংসার না চললে ছেড়ে দিন, দুর্নীতির কোনো ক্ষমা নেই: আইনমন্ত্রী
- প্রাথমিকে রোজার ছুটি নিয়ে নতুন তথ্য জানাল অধিদপ্তর
- অগ্নিমূল্য স্বর্ণের বাজার, ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম বাড়লো ২২১৬ টাকা
- বিশ্ববাজারের প্রভাব পড়ল দেশের স্বর্ণবাজারে: আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশের অংশবিশেষ
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিভাবক হলেন এহসানুল হক মিলন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দর কত? জেনে নিন বাজুসের নতুন মূল্যতালিকা
- মঙ্গলবার টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজ বিকেলেই শুরু হচ্ছে বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ: বাংলাদেশ থেকে কি দেখা যাবে?
- বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত: আজ থেকেই কার্যকর হচ্ছে স্বর্ণের হ্রাসকৃত মূল্য
- আকাশছোঁয়া স্বর্ণের বাজারে কিছুটা স্বস্তি: আজ থেকেই দাম কমছে
- ১৫ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- স্বর্ণের বাজারে টানা দরপতন: দুই দফায় কমল প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা








