তাঁবুতে ইফতার ও স্বজন হারানোর হাহাকার: ধ্বংসস্তূপের মাঝে গাজার রমজান

বিশ্বের দেড়শ কোটির বেশি মুসলমানের মতো পবিত্র রমজান মাস পালন করছেন গাজার ফিলিস্তিনিরাও। তবে টানা যুদ্ধ, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং স্বজন হারানোর বেদনার মধ্যেই এ বছরের রমজান তাদের কাছে ভিন্ন এক বাস্তবতা নিয়ে এসেছে—শোকের মাঝেও আশা ধরে রাখার সংগ্রাম। গাজার বর্তমান রমজানের এই চিত্র নিয়ে সম্প্রতি পিবিএস নিউজ আওয়ার এক বিশেষ বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। যেখানে উঠে এসেছে গাজাবাসীর যাপিত জীবনের এক ট্র্যাজিক ও সাহসী প্রতিচ্ছবি।
গাজার পুরনো শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক আল-জাওইয়া মার্কেটে এখন ঝুলছে রঙিন ফানুস। ৭০০ বছরেরও বেশি পুরনো এই বাজারের একটি অংশ ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। তবুও সেই ধ্বংসস্তূপের মাঝেই খেজুর, জলপাই ও রমজানের সাজসজ্জার সামগ্রী নিয়ে আবারও জমে উঠেছে বাজার। যদিও গত অক্টোবরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, কিন্তু স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে এরপরও সেখানে শত শত ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এই শোকের আবহেই গাজাবাসী রমজানকে বরণ করে নিয়েছে।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ইনাস ওমর বলেন, ধ্বংস আর যুদ্ধের মাঝেও তারা বাজারের প্রাণ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। তবে বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন। বিদ্যুৎ সংকট ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে অনেকেই রমজানের প্রয়োজনীয় সাজসজ্জা বা ইফতার সামগ্রী কিনতে পারছেন না। দোকানি লুয়াই আল-জামাসি জানান, পণ্য আমদানি সীমিত থাকায় ফানুসের দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে আচার বিক্রি করা সাঈদ আল-সাক্কা অত্যন্ত আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা হাসি ফেরানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু রমজান এখন ক্ষতির স্বাদ নিয়ে আসে। পরিবারের অনেক সদস্য, প্রতিবেশী ও বন্ধুদের হারিয়ে ফেলেছি।’
বাসস্থানের ভয়াবহ সংকট গাজার রমজানকে আরও করুণ করে তুলেছে। যেসব পরিবার একসময় বহু কক্ষের আধুনিক ঘরে জমকালো ইফতার আয়োজন করত, তারা এখন বাস করছে ত্রাণশিবিরের ঘিঞ্জি তাঁবুতে। বাস্তুচ্যুত আমাল আল-সামরি জানান, যুদ্ধের আগে রমজান ছিল আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার একটি আনন্দময় সময়, আর এখন জীবন এক বড় ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে। তবে এই চরম সংকটেও শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে নিরলস কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। তারা রঙিন সাজসজ্জা আর ছোট ছোট আয়োজনের মাধ্যমে শিশুদের জন্য কিছুটা আনন্দের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছেন।
স্বেচ্ছাসেবক আবদুলরহমান আবু জাহল বলেন, ‘গাজার শিশুদের টিকে থাকাই এখন এক ধরনের বড় সাফল্য। আমরা চাই তারা অন্তত রমজানে একটু আনন্দ করুক আর নতুন দিনের স্বপ্ন দেখুক।’ ধ্বংসস্তূপের মাঝেও প্রতিদিন সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হচ্ছে গাজাবাসীর রোজা। প্রতিফলন আর সংযমের এই পবিত্র মাসটি এ বছর গাজাবাসীর কাছে কেবল ইবাদত নয়, বরং ধৈর্য ও অদম্য সাহসে টিকে থাকার এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সূত্র: পিবিএস নিউজ আওয়ার
অস্থায়ী শুল্কের কবলে বিশ্ব: ১৫০ দিনের জন্য নতুন কর নীতি কার্যকর করছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন যে, বিশ্বের সব দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তিনি আরও জানান, ওভাল অফিস থেকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নথিতে স্বাক্ষর সম্পন্ন করেছেন এবং এই ‘গ্লোবাল ১০ শতাংশ ট্যারিফ’ প্রায় অবিলম্বে কার্যকর হবে। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে লেখেন, ‘সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের নথিতে সই করেছি, যা প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে।’
এই বড় ঘোষণাটি এমন এক সময়ে আসলো যখন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের বেশিরভাগ শুল্ক সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছিল। আদালত তার রায়ে জানিয়েছিল যে, জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির জন্য নির্ধারিত একটি বিশেষ আইন ব্যবহার করে ব্যাপক শুল্ক আরোপের মাধ্যমে ট্রাম্প মূলত তাঁর ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। তবে আদালতের এই রায়কে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘হাস্যকর’ বলে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাজস্ব বাড়ানোর বিকল্প পথ অবশ্যই খুঁজবে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এখন সমন্বয় প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা আগের চেয়ে আরও বেশি রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হবে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে একটি তথ্যপত্রে জানানো হয়েছে, আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট (ইএসটি) থেকে এই অস্থায়ী আমদানি শুল্ক কার্যকর হতে যাচ্ছে এবং প্রাথমিকভাবে তা ১৫০ দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে। তবে মার্কিন অর্থনীতির সুরক্ষার স্বার্থে অত্যন্ত কৌশলী হয়ে কিছু পণ্যকে এই শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও ধাতু, জ্বালানি ও জ্বালানি-সম্পর্কিত পণ্য, কৃষিপণ্য যেমন গরুর মাংস, টমেটো ও কমলা। এছাড়া জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদান, কিছু নির্দিষ্ট ইলেকট্রনিকস পণ্য, মহাকাশ ও বিমান শিল্পের সামগ্রী, যানবাহন এবং বইয়ের মতো তথ্যভিত্তিক উপকরণগুলোকেও এই শুল্কের ছাড় দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সেকশন ২৩২-এর আওতাভুক্ত পণ্য, কানাডা ও মেক্সিকো থেকে আসা ইউএসএমসিএ-সম্মত আমদানি এবং মধ্য আমেরিকার কিছু শুল্কমুক্ত বস্ত্রপণ্যও এই অস্থায়ী শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, স্বল্পমূল্যের পার্সেলের ক্ষেত্রে প্রচলিত শুল্কমুক্ত ‘ডি মিনিমিস’ সুবিধা স্থগিতের সিদ্ধান্তও বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ছোট ছোট অনলাইন চালান বা পার্সেলগুলোও এখন থেকে নতুন এই শুল্কের আওতায় আসবে, যা বিশ্বজুড়ে ই-কমার্স ব্যবসায় বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ মিশনের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত: পর্যটক ভিসায় আর বাধা নেই
দুই মাস বন্ধ থাকার পর ভারতের নাগরিকদের জন্য আবারও পর্যটক ভিসার আবেদন নেওয়া শুরু করেছে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) থেকে এই বিশেষ সেবাটি পুনরায় চালু হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের সাধারণ নাগরিকদের যাতায়াত ও পর্যটন খাতে স্থবিরতা কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হাইকমিশনের ভিসা বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, ভারতীয় নাগরিকদের কাছ থেকে আবারও পর্যটক ভিসার আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা এই কার্যক্রম পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়া আজ থেকে শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চাণক্যপুরীর কূটনৈতিক এলাকায় হাইকমিশনের ভিসা কাউন্টারের দেয়ালে টানানো পর্যটক ভিসা স্থগিতের পুরোনো নোটিশটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান যে, এই সময়ে পর্যটক ভিসা বন্ধ থাকলেও অন্যান্য কিছু বিশেষ ক্যাটাগরির ভিসা সীমিত পরিসরে চালু ছিল।
তিনি আরও বলেন, ভিসা কার্যক্রম মূলত পারস্পরিক ব্যবস্থার ওপর পরিচালিত হওয়ায় ব্যবসা ও কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা পুরোপুরি কখনোই বন্ধ করা হয়নি। ফলে সেগুলো আলাদাভাবে আবার নতুন করে চালু করার প্রয়োজন হয়নি। এছাড়া জরুরি প্রয়োজন এবং বিশেষ ক্ষেত্রে মানবিক দিক বিবেচনায় ভিসা দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন কাভার করতে কয়েকজন ভারতীয় সাংবাদিককেও বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ভিসা দেওয়া হয়েছিল বলে ওই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন।
এর আগে সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের মিশনগুলোতে সব ধরনের ভিসা সেবা পুরোপুরি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত ডিসেম্বর মাসে বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাড়লে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কনস্যুলার ও ভিসা সেবার একটি বড় অংশ স্থগিত হয়ে যায়। তবে এখন পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ধীরে ধীরে সেই সেবাগুলো স্বাভাবিক করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
/আশিক
শুল্ক নিয়ে ট্রাম্পের একগুঁয়েমি: বিকল্প বাজারের খোঁজে ঝুঁকছে বাংলাদেশ
২০২৫ সালের ২ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের ১৫৭টি দেশের পণ্যে বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। নির্বাচনের প্রচারণার অঙ্গীকার অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সম্প্রতি দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এই পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে। তবে ট্রাম্প দমে যাওয়ার পাত্র নন; তিনি ভিন্ন আইনের প্রয়োগ করে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববাণিজ্য ব্যবস্থায় আরও গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হলো বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে বিকল্প পথ খুঁজতে হবে বলে মনে করেন তারা।
কী এই পাল্টা শুল্ক ও ট্রাম্পের যুক্তি
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অনেক দেশের রপ্তানির মূল গন্তব্য হলেও ভিয়েতনাম বা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্যের বিশাল ঘাটতি রয়েছে। ট্রাম্প এই ঘাটতিকে মার্কিন অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর মনে করেন। তার নীতির মূল ভিত্তি হলো—যে দেশ মার্কিন পণ্যে যত পরিমাণ শুল্ক আরোপ করবে, যুক্তরাষ্ট্রও সেই দেশের পণ্যে ঠিক ততটাই পাল্টা শুল্ক বসাবে। ট্রাম্প চীন ও বাংলাদেশের উদাহরণ টেনে বলেন, চীন মার্কিন পণ্যে ৬৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় যুক্তরাষ্ট্র তার অর্ধেক অর্থাৎ ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। একইভাবে বাংলাদেশ মার্কিন পণ্যে ৭৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে রেখেছিল বিধায় তাদের পণ্যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়। ট্রাম্প এই দিনটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে আখ্যা দিলেও সুপ্রিম কোর্টের রায় তার এই আইনি ক্ষমতাকে সীমিত করেছে।
শুল্কযুদ্ধ থেকে পিছিয়ে আসছেন না ট্রাম্প
আদালতের রায়ের কয়েক ঘণ্টা পরই এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি এই বাণিজ্যযুদ্ধ থেকে সরবেন না। তিনি আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের পরিবর্তে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন ব্যবহার করে নতুন করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও জানিয়েছেন, প্রশাসন এই নতুন আইনি পথে এগোবে। যদিও এই পথে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যেমন শুল্কের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ হতে পারে এবং তা মাত্র ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকতে পারে। তবে ট্রাম্পের দাবি, প্রক্রিয়াটি জটিল হলেও শেষ পর্যন্ত শুল্কনীতি আটকে যাবে না এবং এতে সরকারের আয় আরও বাড়বে।
অর্থ ফেরতের অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ
গত বছর শুল্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আয় ছিল প্রায় ২৪০ থেকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার। গবেষণায় দেখা গেছে, এই শুল্কের ৯০ শতাংশ খরচ মার্কিন কোম্পানিগুলোকেই বহন করতে হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর চাপানো হয়েছে। এখন এই অর্থ আমদানিকারকদের ফেরত দেওয়ার প্রশ্ন উঠলেও বিচারপতি ব্রেট কাভানফ জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়া বেশ জটিল হবে এবং এটি নিয়ে আগামী কয়েক বছর আদালতে লড়াই চলতে পারে। ট্রাম্প মূলত একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পৃথিবীকে দেখতে চান এবং তিনি মনে করেন অন্য দেশগুলো এতদিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছিঁড়েখুঁড়ে খেয়েছে। এই অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর রপ্তানি এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ও ট্রাম্পের দাবির অসারতা
অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান ট্রাম্পের এই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যনীতিকে বিধিবদ্ধ ব্যবস্থার লঙ্ঘন বলে মনে করেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার কেন শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বাণিজ্য চুক্তি করল, যা এখন নতুন সরকারকে দায়ের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন ভারতকে অনুসরণ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির চিন্তা করতে। এদিকে, ট্রাম্প যে বাণিজ্য ঘাটতির কথা বলে শুল্ক আরোপ করছেন, তাতে বড় ধরণের শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে। ট্রাম্প কেবল পণ্য-বাণিজ্যের ঘাটতির কথা বললেও সেবা-বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল উদ্বৃত্তের কথা এড়িয়ে যান। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেবা-বাণিজ্যের উদ্বৃত্ত ২৯৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। বাস্তবতা হলো, বিশাল ঘাটতি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র খারাপ নেই; এমনকি তাদের দরিদ্রতম অঙ্গরাজ্য মিসিসিপির মাথাপিছু জিডিপি যুক্তরাজ্য বা জাপানের চেয়েও বেশি।
/আশিক
হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটি হবে লক্ষ্যবস্তু: ইরান
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক বাকযুদ্ধের জেরে। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিলে অঞ্চলজুড়ে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও সম্পদকে বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে এই অবস্থান তুলে ধরেন। চিঠিটি পাঠানো হয়েছে আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে। সেখানে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি না হলে যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটিসহ আঞ্চলিক স্থাপনাগুলো ব্যবহার করে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ইরান তার চিঠিতে উল্লেখ করেছে, এ ধরনের বক্তব্য সরাসরি সামরিক আগ্রাসনের ঝুঁকি বাড়ায় এবং তা শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। তেহরান আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবৈধ শক্তি প্রয়োগের হুমকি’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
একই সঙ্গে ইরান স্পষ্ট করেছে যে তারা এখনো কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তাদের দাবি, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যে কোনো প্রশ্ন বা অস্পষ্টতা দূর করতে তারা আলোচনায় প্রস্তুত। তবে সামরিক হামলা হলে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি, সামরিক স্থাপনা ও সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
অন্যদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের হাতে সর্বোচ্চ ১৫ দিন সময় রয়েছে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অগ্রগতি না হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নিতে পারে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
-রাফসান
মহাকাশ বিজয়ে ইরান: সফলভাবে উৎক্ষেপিত হলো জাম-এ-জাম ১
ইরানের প্রথম বিশেষায়িত ভূস্থির উপগ্রহ ‘জাম-এ-জাম ১’— যা আন্তর্জাতিকভাবে ‘ইরান ডিবিএস’ নামে নিবন্ধিত— Islamic Republic of Iran Broadcasting (আইআরআইবি)-এর মালিকানাধীন, কাজাখস্তানের Baikonur Cosmodrome থেকে সফলভাবে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। টেলিযোগাযোগ উপগ্রহটি একটি Proton-M উৎক্ষেপণ যানের মাধ্যমে কক্ষপথে স্থাপন করা হয়, একই সঙ্গে একটি রুশ আবহাওয়া উপগ্রহও উৎক্ষেপণ করা হয়।
এ উৎক্ষেপণ আইআরআইবির কারিগরি অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং ইরানের মহাকাশভিত্তিক সম্প্রচার সক্ষমতা উন্নয়নে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ‘জাম-এ-জাম ১’ হলো পরবর্তী প্রজন্মের ইন্টারঅ্যাকটিভ রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচার প্রযুক্তি বাস্তবায়নের প্রথম কারিগরি ও কার্যকরী ধাপ। উপগ্রহটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে এটি স্থলভিত্তিক সম্প্রচার কেন্দ্রগুলোতে ইন্টারঅ্যাকটিভ অডিও ও ভিডিও সংকেত প্রেরণ করতে পারে, যা ভবিষ্যতে ইন্টারঅ্যাকটিভ গণমাধ্যম সেবার ভিত্তি স্থাপন করবে।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, উপগ্রহটি তিন সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ৩৪ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে তার চূড়ান্ত কক্ষপথে স্থানান্তর ও স্থিতিশীল করা হবে। উপগ্রহের সংকেত গ্রহণের জন্য পেশাদার ও বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি প্রয়োজন হবে; সাধারণ গৃহস্থালী রিসিভারের মাধ্যমে এটি গ্রহণ করা যাবে না। এই প্রকল্পটি আইআরআইবি’র জন্য ইন্টারঅ্যাকটিভ সম্প্রচার প্রযুক্তি সুসংহত করার প্রয়োজনীয় যোগাযোগ কাঠামো নিশ্চিত করছে এবং মহাকাশভিত্তিক অবকাঠামোতে সংস্থাটির কারিগরি স্বনির্ভরতার নতুন অধ্যায় সূচনা করছে।
সূত্র: ফার্স নিউজ এজেন্সি
নতুন সরকারের প্রতি ট্রাম্পের পূর্ণ আস্থা: অভিনন্দন বার্তায় চাঞ্চল্য
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউস থেকে পাঠানো এক চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ অভিনন্দন জানান। চিঠিতে আমেরিকান জনগণের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক এ বিজয়ে শুভেচ্ছা ও সফলতা কামনা করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের অংশীদারত্ব পারস্পরিক সম্মান এবং একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তিশালী ও সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার যৌথ স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
এছাড়া পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষক ও শ্রমিকদের উপকারে আসবে—এমন প্রত্যাশার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি, নিয়মিত প্রতিরক্ষা চুক্তিসমূহ সম্পন্ন করে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর জন্য উচ্চমানের আমেরিকান সরঞ্জামে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
চিঠির শেষাংশে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। এসময় বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও জানানো হয়। এর আগে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকাস্থ দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন সরাসরি অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।
দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয় ‘বাংলাদেশের জনগণকে সফল নির্বাচনের জন্য অভিনন্দন। বিএনপি ও তারেক রহমানকে ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য শুভেচ্ছা। যুক্তরাষ্ট্র নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে উন্মুখ।’
এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফসহ বিশ্বের অনেক নেতা অভিনন্দন জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিনন্দন বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শপথের পর প্রথম ভাষণে জাতীয় ঐক্য, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, দুর্নীতি দমন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই উষ্ণ সম্পর্ক বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
/আশিক
ভারতীয় ভিসা নিয়ে বড় সুখবর
বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম শিগগিরই পূর্ণাঙ্গভাবে পুনরায় চালু হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে সীমিত পরিসরে চালু থাকা ভিসা সেবাকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিকেলে সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে মেডিক্যাল ও ডাবল এন্ট্রি ভিসা কার্যকর থাকলেও পর্যটনসহ অন্যান্য বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরির ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব ক্যাটাগরি পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতোমধ্যে সক্রিয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভিসা প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে দুই দেশের মধ্যে কনস্যুলার যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ধাপে ধাপে সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করা হয়। মেডিক্যাল ভিসা ছাড়া অধিকাংশ ভিসা বিভাগ বন্ধ থাকায় ভ্রমণ, ব্যবসা ও শিক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে।
বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার গঠনের পর ভিসা প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন দুই দেশের নাগরিক ও পর্যবেক্ষকরা।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রসঙ্গে অনিরুদ্ধ দাস বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও ঐতিহাসিক বন্ধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণই এই সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও ইতিবাচক রাখবে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা, পর্যটন ও শিক্ষা খাতে দুই দেশের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও জোরদার হবে।
-রাফসান
শনিবার কি ইরানে হামলা হচ্ছে? পেন্টাগনের সেনা সরানোর খবরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ
ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় কোনো ইতিবাচক ফল না আসায় মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী শনিবারের মধ্যেই ইরানে সামরিক হামলা চালানোর নির্দেশ দিতে পারেন বলে গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। সম্ভাব্য সামরিক হামলার সময়সূচি নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহান্তেই অর্থাৎ শনিবারের মধ্যেই ইরানে হামলা চালানোর জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলেও জানা গেছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সিবিএস নিউজ এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, এ বিষয়ে আলোচনা এখনো হোয়াইট হাউসে চলমান এবং পরিস্থিতি খুব দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। হামলা হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং এর রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে হোয়াইট হাউস প্রতিটি পদক্ষেপ গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে।
সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ বা ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু মার্কিন সেনা ও কর্মীকে সাময়িকভাবে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নিচ্ছে বলে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। সূত্র জানায়, সম্ভাব্য সামরিক হামলার আগে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া পেন্টাগনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যদিও সেনা কিংবা কর্মীকে সরানো হলেই যে হামলা নিশ্চিতভাবে হবে, বিষয়টি তেমন নয়।
বুধবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পক্ষে অনেক কারণ ও যুক্তি রয়েছে, তবে কূটনীতিই সবসময় প্রেসিডেন্টের প্রথম পছন্দ। তবে সম্ভাব্য এই হামলা ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে হবে কি না; সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। লেভিট আরও মনে করিয়ে দেন যে, গত বছরের জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ছিল একটি সফল অভিযান। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের উচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো।
বুধবার হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ ইরান ইস্যুতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে বলে সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা ও এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা। তাঁদের মতে, মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মোতায়েন সব মার্কিন বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থানে থাকবে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনার মধ্যেই দেশটির সীমানার কাছাকাছি বিমান ও নৌ সামরিক সক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, এফ-৩৫ লাইটনিং টু, এফ-২২ র্যাপ্টর এবং এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকনসহ গত ২৪ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্যে ৫০টিরও বেশি অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। এই বিশাল রণপ্রস্তুতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন যেকোনো সময় বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
/আশিক
পবিত্র আল-আকসার ইমাম গ্রেপ্তার: রমজানের শুরুতেই জেরুজালেমে চরম উত্তেজনা
পবিত্র আল-আকসা মসজিদের ইমাম শেখ মুহাম্মদ আলী আল-আব্বাসিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। গত সোমবার সন্ধ্যায় অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত মসজিদ চত্বরের ভেতর থেকে তাঁকে আটক করা হয়। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, ইমামকে গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট কারণ বা তাঁর বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে সম্পর্কে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। জেরুজালেমের ওল্ড সিটি ও আল-আকসা চত্বরকে কেন্দ্র করে বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের গ্রেপ্তারের ঘটনা ওই এলাকায় অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এই গ্রেপ্তারের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রথম তারাবির নামাজ আদায় করতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি মুসল্লি সমবেত হন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি পুলিশ পুরো মসজিদ এলাকা ঘিরে রেখেছিল এবং নানা অজুহাতে অনেক তরুণ ফিলিস্তিনিকে ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। আল-আকসা মসজিদের খতিব শেখ ইউসুফ আবু স্নেইনের ইমামতিতে নামাজের সময় মসজিদের প্রাঙ্গণ পূর্ণ থাকলেও কড়া পাহারার মাধ্যমে মুসলিমদের ইবাদতে এক ধরনের ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আল-আকসার ইমাম ও খতিবদের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি সাধারণ মুসল্লিদের প্রবেশে কড়াকড়ি বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশের পাহারায় ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের মসজিদ চত্বরে প্রবেশের হার অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের গ্রেপ্তার এবং এলাকাছাড়া করার মতো পদক্ষেপগুলো ফিলিস্তিনিদের মধ্যে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে রমজানের পবিত্রতা ও ইবাদতের পরিবেশে এমন কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- তাঁবুতে ইফতার ও স্বজন হারানোর হাহাকার: ধ্বংসস্তূপের মাঝে গাজার রমজান
- সিলেটে ৩টি বইয়ের প্রকাশনা উৎসব: প্রধান অতিথি শাবিপ্রবি উপাচার্য ড. সরওয়ার উদ্দিন
- জান দেবো কিন্তু জুলাই দেবো না: ব্যারিস্টার আরমান
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নৌবাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- আগামীকাল ৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- ভয়ভীতিমুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ গড়ার অঙ্গীকার করলেন জহির উদ্দিন স্বপন
- অস্থায়ী শুল্কের কবলে বিশ্ব: ১৫০ দিনের জন্য নতুন কর নীতি কার্যকর করছে যুক্তরাষ্ট্র
- তালসরায় গাউসিয়া কমিটির মানবিক উদ্যোগ: দুস্থদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ
- নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ মিশনের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত: পর্যটক ভিসায় আর বাধা নেই
- ইফতারে এনার্জি বাড়াতে তৈরি করুন কলা ও পিনাট বাটারের স্পেশাল শেক
- রমজানেই ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সুখবর: তৃতীয় কর্মদিবসেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা তারেক রহমানের
- শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় অমর একুশে পালন করল কালিগঞ্জবাসী: বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ
- চট্টগ্রামে সিএসসিআর এর উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- একুশের প্রথম প্রহরে বিনম্র শ্রদ্ধায় সিক্ত কুমিল্লা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার
- টানা পতনের পর স্বর্ণে বড় উত্থান, দাম আকাশচুম্বী
- যেদিন থেকে শুরু ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম, জানালেন তথ্য মন্ত্রী
- লেবু সিন্ডিকেটকে না বলুন: বিকল্পেই মিলবে সমান ভিটামিন ও পুষ্টি
- শুল্ক নিয়ে ট্রাম্পের একগুঁয়েমি: বিকল্প বাজারের খোঁজে ঝুঁকছে বাংলাদেশ
- রমজানে রাসুলের ৮ গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত
- এলিয়েন ও ইউএফও রহস্যে ট্রাম্পের বড় ঘোষণা: সব গোপন ফাইল হচ্ছে উন্মুক্ত
- কুমিল্লা সদর দক্ষিণে গভীর রাতে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান
- ইতিহাসে প্রথম শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের জন্য দোয়া প্রধানমন্ত্রীর
- রোজায় ক্লান্তিবোধ কমবে নিমিষেই: শক্তি ধরে রাখার ৪টি সেরা কৌশল
- রোজায় গ্যাসের সমস্যায় ভুগছেন? সমাধান মিলবে ঘরোয়া এই নিয়মেই
- দুর্নীতি ও ধর্মান্ধতা একুশের চেতনার শত্রু: টিআইবি প্রধান
- সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে: জামায়াত আমির
- গণভোটের হ্যাঁ অটোমেটিক কার্যকর হবে, এটাই জুলাই সনদ: এ্যানি
- আজকের টাকার রেট কত? দেখে নিন বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার
- যশোরে তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ অফিসে ছবি টাঙালো ছাত্রলীগ
- আজ শনিবার; রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- ১৭ বছর পর ক্ষমতায় এসে এমন আচরণ কাম্য নয়: রুমিন ফারহানা
- জেনে নিন রাজধানীতে আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ রাজধানীতে কোথায় কী কর্মসূচি: জেনে নিন সকালে বের হওয়ার আগে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দর কত? জেনে নিন বাজুসের নতুন মূল্যতালিকা
- একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
- রমজানের তৃতীয় দিনের ইফতার ও নামাজের সময়সূচি
- প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের দপ্তর বণ্টন, কে কোন দায়িত্বে?
- আবারও স্বর্ণের বাজারে বড় উত্থান
- রমজানে অর্ধশত পরিবারের পাশে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন
- মুরাদনগরে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধে নির্মাণ শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা
- শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- যমুনা ছাড়ছেন কবে ড. ইউনূস, কোথায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী
- ঢাকায় ১০ দিনের অ্যাকশন প্ল্যান ইশরাকের
- শেয়ারবাজারে আসছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন: অর্থ মন্ত্রী আমীর খসরু
- ২১ ফেব্রুয়ারিতে ডিএমপির সড়ক নির্দেশনা, কোন পথ এড়াবেন
- হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটি হবে লক্ষ্যবস্তু: ইরান
- "আই হ্যাভ এ প্ল্যান" বাস্তবায়ন শুরু
- হু হু করে কমল সোনার দাম
- বৈদেশিক মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার: ২০ ফেব্রুয়ারি
- বের হওয়ার আগে জেনে নিন আজ যেসব মার্কেট বন্ধ
- বাজুসের নতুন দর! ২ লাখ ১৩ হাজারে মিলবে ১ ভরি সোনা
- হু হু করে কমল সোনার দাম
- রমজানে স্কুল খোলা নিয়ে হাইকোর্টের বড় রায়: বদলে গেল ছুটির পুরো ক্যালেন্ডার
- চাকরির টাকায় সংসার না চললে ছেড়ে দিন, দুর্নীতির কোনো ক্ষমা নেই: আইনমন্ত্রী
- প্রাথমিকে রোজার ছুটি নিয়ে নতুন তথ্য জানাল অধিদপ্তর
- অগ্নিমূল্য স্বর্ণের বাজার, ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম বাড়লো ২২১৬ টাকা
- বিশ্ববাজারের প্রভাব পড়ল দেশের স্বর্ণবাজারে: আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশের অংশবিশেষ
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিভাবক হলেন এহসানুল হক মিলন
- কালিগঞ্জে শতবর্ষী মাদ্রাসার জমি জোরপূর্বক বিক্রয়ের অভিযোগ, দখলের পায়তারা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দর কত? জেনে নিন বাজুসের নতুন মূল্যতালিকা
- মঙ্গলবার টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজ বিকেলেই শুরু হচ্ছে বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ: বাংলাদেশ থেকে কি দেখা যাবে?
- বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত: আজ থেকেই কার্যকর হচ্ছে স্বর্ণের হ্রাসকৃত মূল্য
- আকাশছোঁয়া স্বর্ণের বাজারে কিছুটা স্বস্তি: আজ থেকেই দাম কমছে








