ধর্মীয় সেবকদের জন্য সুখবর: আজ সম্মানী প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ১০:৫৫:১১
ধর্মীয় সেবকদের জন্য সুখবর: আজ সম্মানী প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও উপাসনালায়ের সেবকদের জীবনমান উন্নয়নে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের মাসিক সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমরানুল হাসানের পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, এই প্রকল্পের আওতায় কেবল মসজিদের ইমাম বা মুয়াজ্জিনই নন, বরং মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধ বিহারের সেবক ও পুরোহিতরাও প্রথমবারের মতো সরকারি এই সম্মানী সুবিধার আওতায় আসছেন। মূলত সামাজিক ও ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের কাজের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতেই এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমটি পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সম্মানীর বণ্টন কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ইমাম সাহেব পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার এবং খাদেম পাবেন ২ হাজার টাকা। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিটি মন্দিরের জন্য নির্ধারিত ৮ হাজার টাকার মধ্যে পুরোহিত ৫ হাজার এবং সেবাইত ৩ হাজার টাকা পাবেন। বৌদ্ধ বিহারের ক্ষেত্রেও একই পরিমাণ অর্থাৎ ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকছে, যার মধ্যে অধ্যক্ষ ৫ হাজার ও উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা সম্মানী পাবেন। এছাড়া প্রতিটি খ্রিস্টান চার্চের জন্য বরাদ্দ করা ৮ হাজার টাকার মধ্যে যাজক ৫ হাজার এবং সহকারী যাজক ৩ হাজার টাকা করে সরকারি এই সম্মানী সুবিধা ভোগ করবেন।

/আশিক


সারাদেশের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ২১:১৮:৩৫
সারাদেশের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি
ছবি : সংগৃহীত

সারা দেশে বইছে কালবৈশাখীর দাপট। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) আবহাওয়া অধিদপ্তর এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, আগামী ৯৬ ঘণ্টায় সারা দেশে মাঝারি থেকে অতিভারি বর্ষণের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। একই সাথে সিলেট ও চট্টগ্রামে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

টানা কালবৈশাখী আর বজ্রবৃষ্টির কবলে পড়তে যাচ্ছে সারা দেশ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, আজ মঙ্গলবার থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত সারা দেশে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের সব বিভাগে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮৭ মিলিমিটার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে। অতিভারি বৃষ্টির কারণে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস বা পাহাড় ধসের বিশেষ শঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অফিস। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আজ বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে বিদ্যুৎ চমকানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় অতিভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকলেও, মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতিদিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। আগামীকাল বুধবারও দেশের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

/আশিক


৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটে সাবধান! জালিয়াত চক্র থেকে বাঁচার উপায় জানাল ব্যাংক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ২১:১১:২৪
৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটে সাবধান! জালিয়াত চক্র থেকে বাঁচার উপায় জানাল ব্যাংক
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কুরবানির পশুর হাটে বড় অংকের টাকা লেনদেনে জাল নোটের বিস্তার রোধে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। হাটে গরু-ছাগল বেচাকেনার সময় ১০০০, ৫০০ ও ২০০ টাকার নোটের ব্যবহার সবথেকে বেশি হয়, আর এই সুযোগটিই নেয় জালিয়াত চক্র। তাই পশুর হাটে টাকা গোনার সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুরবানির পশুর হাটে জালনোটের বিস্তার ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতি বছর কুরবানির সময় বাজারে নগদ টাকার প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার সুযোগে সক্রিয় হয়ে ওঠে জালনোট উৎপাদনকারী চক্র। বড় অংকের লেনদেনে যেন সাধারণ মানুষ বা খামারিরা প্রতারিত না হন, সে লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

আসল নোট চিনবেন যেভাবে

লেনদেনের সময় ১০০, ২০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যগুলো নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আসল নোট চেনার মূল উপায়গুলো হলো:

আলোর বিপরীতে ধরলে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্পষ্টভাবে দেখা যাবে।

নোটে একটি বিশেষ সুতা থাকে যা সাধারণ চোখে একরকম এবং আলোর বিপরীতে অন্যরকম দেখায়।

নোট নাড়াচাড়া করলে ওপরে থাকা নির্দিষ্ট কালির রং পরিবর্তিত হয়।

আসল নোটের খসখসে ভাব বা উঁচু-নিচু ছাপ আঙুলের স্পর্শে বোঝা যায়।

কোনো নোট নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে পশুর হাটে স্থাপিত ব্যাংকের অস্থায়ী বুথ অথবা নিকটস্থ যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সহায়তা নেওয়া যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, জালিয়াতি এড়াতে অপরিচিত বা সন্দেহজনক উৎস পরিহার করে সরাসরি ব্যাংক বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বড় লেনদেন করা বুদ্ধিমানের কাজ। আসল নোটের বিস্তারিত বৈশিষ্ট্য জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


ভারতীয় ভিসায় বড় পরিবর্তন! ভোগান্তি কমাতে সংসদে সুখবর দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১৯:৪৬:৪৪
ভারতীয় ভিসায় বড় পরিবর্তন! ভোগান্তি কমাতে সংসদে সুখবর দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তি সহজ ও স্বাভাবিক করতে দিল্লি ইতিবাচক সংকেত দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান। সম্প্রতি ভারত সফরকালে দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে হওয়া বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাঁর সাম্প্রতিক ভারত সফরে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। প্রতিটি বৈঠকেই বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রদানের জটিলতা দূর করা এবং প্রক্রিয়াটি দ্রুত করার বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। ভারতীয় পক্ষ এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেন, “বর্তমান সরকার সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক সম্মান এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুই দেশের জনগণের মধ্যে গভীর যোগাযোগ এবং ঐতিহাসিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সাধারণ মানুষ এই পরিবর্তনের সুফল পাবেন।

/আশিক


১৬টি খাতে জাপানের দুয়ার উন্মুক্ত! ৩ লাখ জনশক্তি পাঠাতে মাস্টারপ্ল্যান সরকারের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১৯:৩৪:০১
১৬টি খাতে জাপানের দুয়ার উন্মুক্ত! ৩ লাখ জনশক্তি পাঠাতে মাস্টারপ্ল্যান সরকারের
ছবি : সংগৃহীত

জাপানের ক্রমবর্ধমান শ্রম সংকট মেটাতে ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে ১৬টি খাতে প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার দক্ষ কর্মী (SSW) নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে টোকিও। বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক প্রস্তুতি ও সরকারি সমন্বয়ের মাধ্যমে এই চাহিদার অন্তত ৪০ শতাংশ বা ৩ লাখেরও বেশি জনবল বাংলাদেশ থেকেই পাঠানো সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৪০ সাল নাগাদ জাপানে বিদেশি কর্মীর চাহিদা ১ কোটি ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে, যা বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।

আগে জাপানে মাত্র ছয়টি খাতে কর্মী পাঠানোর সুযোগ থাকলেও বর্তমানে ১৬টি খাতের সবকটিতেই দক্ষ জনবল পাঠাতে কাজ করছে সরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের মতে, জাপানি ভাষা ও প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করতে পারলে ভবিষ্যতে জাপানের মোট চাহিদার ৫০-৬০ শতাংশ কর্মী বাংলাদেশ থেকেই জোগান দেওয়া সম্ভব।

এই সুযোগ কাজে লাগাতে সরকার সারা দেশে ৫৩টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (TTC) জাপানি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে প্রায় ২০০টি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র কাজ করছে। বর্তমানে ৯৫টি রিক্রুটিং এজেন্টকে জাপানে কর্মী পাঠানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রিক্রুটিং এজেন্টদের জন্য ১৫ লাখ টাকা জামানতের শর্ত শিথিল করে প্রক্রিয়াটি আরও সহজতর করা হয়েছে।

কেবল কর্মী নয়, ২০২৬ সালের মধ্যে ১০ হাজার শিক্ষার্থী জাপানে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। জাপানগামী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে মাথাপিছু ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জাপানে পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টা কাজের সুযোগ পাবেন, যা তাদের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নেপাল, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। জাপানের এই বিশাল শ্রমবাজার ধরতে পারলে তা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

/আশিক


সংসদের উত্তেজনা থামালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: ইতিহাস নিয়ে জাতিকে আর বিভক্ত করবেন না

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১৮:২৭:০৬
সংসদের উত্তেজনা থামালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: ইতিহাস নিয়ে জাতিকে আর বিভক্ত করবেন না
ছবি : সংগৃহীত

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের জামায়াত-সংক্রান্ত এক বিস্ফোরক মন্তব্যে যখন সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, ঠিক তখন ফ্লোর নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি অত্যন্ত শান্ত মেজাজে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমরা এখানে আলাপ-আলোচনা করি, মাঝেমধ্যে কিছু উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সংসদের স্বার্থে আমি নতুন কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাই না।”

ফজলুর রহমানের বয়োজ্যেষ্ঠতার প্রতি সম্মান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিছুটা রসিকতা করে বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্য অত্যন্ত বয়স্ক এবং ইতিহাসে সমৃদ্ধ। কিন্তু আমরা এখন ভূগোলে আছি। আমরা বেশি ইতিহাস চর্চা করতে গেলে মাঝেমধ্যে ব্যত্যয় হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিরোধী দলে অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন এবং খোদ জামায়াত আমির যখন নিজেকে শহীদ পরিবারের সন্তান হিসেবে দাবি করেন, তখন সেটাকে ইতিবাচকভাবে ধারণ করাই শ্রেয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে স্মরণ করিয়ে দেন যে, জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ কাউন্সিলের বিল পাসের সময় বিরোধী দল কোনো প্রতিবাদ বা ওয়াকআউট করেনি। তিনি বলেন, “মৌনতা সম্মতির লক্ষণ। তারা তো স্বীকৃতি দিয়েছে। আমরা ওখানেই থাকি। নতুন করে বিভক্তি সৃষ্টি না করাই ভালো।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ভারসাম্যপূর্ণ বক্তব্য সংসদে বিরাজমান গুমোট পরিস্থিতি অনেকটাই হালকা করে দেয়।

/আশিক


অর্থের অভাবে কেউ আর বিচারহীন থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১৭:৫৪:৫৩
অর্থের অভাবে কেউ আর বিচারহীন থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে শাহবাগের শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের কারাজীবনের স্মৃতিচারণ করে দেশের বিচারহীনতা ও আইনি বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আমাকেও দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। তখন দেখেছি অনেক মানুষ কেবল অর্থের অভাবে বছরের পর বছর বিনা বিচারে ধুঁকছেন। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিক সমান। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে যে, অর্থের অভাবে কোনো নাগরিক যেন আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, যে রাষ্ট্রে আইনের শাসন ও মানবাধিকার নেই, সেই রাষ্ট্র কখনো মানবিক হতে পারে না। দেড় দশক পর দেশের মানুষ যে গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে, তাকে সুসংহত করতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাস্টিস ডিলেইড ইজ জাস্টিস ডিনাইড” বা বিচারে বিলম্ব মানেই বিচার অস্বীকার। এই সমস্যা সমাধানে বর্তমান সরকার ‘লিগ্যাল এইড’-এর মাধ্যমে মামলা শুরুর আগেই মধ্যস্থতা বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (ADR) ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ইতিমধ্যে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে হাজার হাজার বিরোধ আদালতের বাইরে স্বল্প সময়ে ও নামমাত্র খরচে নিষ্পত্তি হয়েছে। এতে আদালতের ওপর মামলার চাপ কমেছে এবং রাষ্ট্রের খরচও সাশ্রয় হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আইন যেন মানুষের ওপর প্রয়োগের হাতিয়ার না হয়ে বরং তাদের মর্যাদা ও অধিকার সংরক্ষণের মাধ্যম হয়, সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।

/আশিক


সংসদে রণক্ষেত্র! ‘মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও জামায়াত’ ইস্যুতে ফজলুর রহমানের বিস্ফোরক মন্তব্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১৭:৪৫:৫৪
সংসদে রণক্ষেত্র! ‘মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও জামায়াত’ ইস্যুতে ফজলুর রহমানের বিস্ফোরক মন্তব্য
ছবি : সংগৃহীত

মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব চলাকালে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের এক বক্তব্যে নজিরবিহীন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না।” তাঁর এই মন্তব্য করার সাথে সাথেই বিরোধীদলীয় সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ ও হট্টগোল শুরু করেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে চলা এই অধিবেশনে ফজলুর রহমান তাঁর অবস্থানে অনড় থেকে আরও বলেন, “আমি আবারও বলছি, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াত করতে পারে না। শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াত করতে পারে না। যদি কেউ করে থাকে তবে তিনি দ্বিগুণ অপরাধ করছেন।” তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথে যখন এক মাসের গণঅভ্যুত্থানকে তুলনা করা হয়, তখন মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করা হয়। ক্ষোভের সাথে তিনি মন্তব্য করেন, “হয়তোবা আমি মরে গেলেই ভালো হতো।”

অধিবেশনের এক পর্যায়ে ফজলুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতার সমালোচনা করে বলেন, “জামায়াত আমির আমার চেয়ে ১০ বছরের ছোট। তিনি নাকি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান, শহীদ পরিবারের সন্তান!” এই বক্তব্যের পর সংসদ কক্ষ চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকারকে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয়। পরে বিরোধীদলীয় নেতা ফ্লোর নিয়ে ফজলুর রহমানের বক্তব্যের কড়া জবাব দেন এবং তাঁর মন্তব্যকে ‘অসংসদীয়’ আখ্যা দিয়ে তা কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাতিল) করার জন্য স্পিকারের কাছে জোর দাবি জানান।

/আশিক


পরমাণু যুগে লাল-সবুজের বাংলাদেশ: রূপপুরে জ্বলে উঠল শক্তির নতুন বাতিঘর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১৭:৩৬:৪০
পরমাণু যুগে লাল-সবুজের বাংলাদেশ: রূপপুরে জ্বলে উঠল শক্তির নতুন বাতিঘর
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ইতিহাসে আজ এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদীতে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং বা ‘ফিজিক্যাল স্টার্টআপ’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। এই ঐতিহাসিক যাত্রার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর অভিজাত ক্লাবে সগৌরবে প্রবেশ করল।

রূপপুর প্রকল্প এলাকায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা ‘রোসাটম’-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ যৌথভাবে বাটন চেপে এই কার্যক্রমের সূচনা করেন। এ সময় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) এবং রুশ ফেডারেশনের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “আজকের এই দিনটি বাংলাদেশের দীর্ঘযাত্রার এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। রূপপুর প্রকল্প শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, এটি আমাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জাতীয় আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।” তিনি আরও জানান, এই প্রকল্প জাতীয় গ্রিডে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ যুক্ত করার মাধ্যমে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

রোসাটম-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ তাঁর বক্তব্যে জানান, জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আজ প্রাণ পেল। তিনি এক বিশেষ তথ্যে জানান, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের আয়ুষ্কাল হবে অন্তত ১০০ বছর, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাংলাদেশকে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

রূপপুরে রাশিয়ার সর্বাধুনিক ‘ভিভিইআর-১২০০’ (VVER-1200) জেনারেশন থ্রি প্লাস প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। দু’টি ইউনিট থেকে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। আইএইএ-এর কঠোর মানদণ্ড অনুযায়ী এই প্রকল্পের সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

/আশিক


 সব বাধা জয় করে এলিট ক্লাবে বাংলাদেশ: আজ রূপপুরে ঐতিহাসিক জ্বালানি লোডিং

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৮ ১১:৪৫:৫৬
 সব বাধা জয় করে এলিট ক্লাবে বাংলাদেশ: আজ রূপপুরে ঐতিহাসিক জ্বালানি লোডিং
ছবি : সংগৃহীত

এক দশকের মহাপরিকল্পনা, হাজারো চড়াই-উতরাই আর বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির সব চ্যালেঞ্জ জয় করে আজ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শুরু হচ্ছে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) কঠোর নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে গত ১৬ এপ্রিল ‘কমিশনিং লাইসেন্স’ পাওয়ার পর আজ বিকেল থেকে শুরু হচ্ছে এই মহাযজ্ঞ। এর মাধ্যমেই বাংলাদেশ প্রবেশ করল ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ বা পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের ভৌত যাত্রায়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আজ বিকেলের এই মাহেন্দ্রক্ষণে প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশ শুরু হবে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে আগামী জুলাই বা আগস্টের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। আর ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই প্রথম ইউনিটটি তার পূর্ণ সক্ষমতায় অর্থাৎ ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎপাদন সময়সূচি কয়েকবার পরিবর্তন করা হলেও, বৈশ্বিক মানদণ্ড বজায় রাখাটাই ছিল সরকারের মূল লক্ষ্য।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট সাপ্লাই চেইন সংকট কাজের গতি কিছুটা কমিয়ে দিলেও সরকারের দৃঢ়তায় এই মাইলফলক স্পর্শ করা সম্ভব হয়েছে। ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মানের কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এই কেন্দ্র পরিচালনার ‘অপারেটিং লাইসেন্স’ পেয়েছেন, যা দেশের নিজস্ব সক্ষমতার এক বিশাল বিজয়। বর্তমানে ৫ হাজার রুশ বিশেষজ্ঞ এবং ২০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর নিরলস পরিশ্রমে এই স্বপ্নের প্রকল্পটি এখন বাস্তব।

বিজ্ঞানীদের মতে, ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের মাধ্যমে চেইন রিঅ্যাকশন বা স্বয়ংক্রিয় শক্তি উৎপাদন শুরু হবে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। স্পর্শকাতর এই প্রকল্পে নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আপস করা হয়নি, যার প্রতিটি ধাপ আইএইএ (IAEA) সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: