আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১০:০১:২৫
আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণের দাম এক নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত বুধবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্বর্ণের দাম এক লাফে ভরিতে ২ হাজার ৬২৫ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। সেই নির্ধারিত নতুন মূল্যেই আজ রবিবার দেশের বাজারে স্বর্ণ কেনাবেচা হচ্ছে।

বাজুসের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে এখন থেকে সবচাইতে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাদের খরচ করতে হবে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা। স্বর্ণের এই রেকর্ড দামের পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৭ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা।

স্বর্ণের এই আকাশচুম্বী মূল্যের বিষয়ে বাজুস জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের ঊর্ধ্বগতি এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচামাল বা তেজাবি স্বর্ণের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে তারা এই নতুন দর নির্ধারণ করতে বাধ্য হয়েছে। সংস্থাটি তাদের বিজ্ঞপ্তিতে ক্রেতাদের জন্য বিশেষ একটি নির্দেশনাও যুক্ত করেছে। এতে বলা হয়েছে, স্বর্ণের নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সাথে সরকারকে আবশ্যিকভাবে ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রদান করতে হবে। এর পাশাপাশি অলঙ্কার তৈরির ক্ষেত্রে বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরিও যুক্ত হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে এই মজুরির তারতম্য হতে পারে।

এদিকে স্বর্ণের দামে বড় ধরণের পরিবর্তন আসলেও বর্তমানে রুপার বাজারে এক ধরণের স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, আজ রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গত ১২ জানুয়ারি নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকায়। অন্যান্য মানের মধ্যে ২১ ক্যারেট রুপার ভরি ৫ হাজার৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা বহাল রয়েছে।

স্বর্ণের এই রেকর্ড দাম বৃদ্ধি দেশের অলঙ্কার শিল্পে কী ধরণের প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। কারণ মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণের অলঙ্কার কেনা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়ল।


জুলাই থেকেই ভাগ্যবদল: নবম পে স্কেলে যুক্ত হচ্ছে নতুন যেসব সুযোগ-সুবিধা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০২ ১৮:০৩:২১
জুলাই থেকেই ভাগ্যবদল: নবম পে স্কেলে যুক্ত হচ্ছে নতুন যেসব সুযোগ-সুবিধা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সরকারি চাকুরিজীবী ও পেনশনভোগীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বা নতুন বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই (২০২৬) থেকে বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনা করে সরকারি কোষাগারের ওপর থেকে বড় ধাক্কা এড়াতে পুরো পে-স্কেল একবারে কার্যকর না করে তিনটি ভিন্ন অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের একটি বিশেষ রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে। আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এই বৃহৎ ব্যয়ের প্রাথমিক ধাক্কা সামলাতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো কাঠামোটি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হলে সরকারের মোট সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

তিন ধাপে যেভাবে বাস্তবায়িত হবে নতুন পে-স্কেল

প্রথম বছর (১ জুলাই ২০২৬ থেকে)

প্রাথমিক ধাপে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিচার বিভাগ ও বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেলের বর্ধিত মূল বেতনের (Basic Pay) প্রথম ৫০ শতাংশ সুবিধা পাবেন।

দ্বিতীয় বছর (২০২৭-২০২৮ অর্থবছর)

এই অর্থবছরে মূল বেতনের বাকি ৫০ শতাংশ সুবিধা পুরোপুরি সমন্বয় করে কার্যকর করা হবে।

তৃতীয় বছর (২০২৮-২০২৯ অর্থবছর)

শেষ ধাপে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, শিক্ষা ও অন্যান্য সব ধরনের আনুষঙ্গিক ভাতা একযোগে কার্যকর করা হবে। (ততদিন পর্যন্ত অন্যান্য সব ভাতা ও সুবিধা বিদ্যমান পুরোনো নিয়মেই বহাল থাকবে)।

নতুন পে-স্কেলের সুপারিশেও বর্তমানে বিদ্যমান ২০টি গ্রেডের প্রশাসনিক কাঠামোটিই বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে নিম্ন ও উচ্চ পদের মধ্যে বেতনের বৈষম্য কমিয়ে আনতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮-এ নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সর্বনিম্ন মূল বেতন (২০তম গ্রেড)

বর্তমানের ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ২০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সর্বোচ্চ মূল বেতন (১ম গ্রেড)

বর্তমানের ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এই নতুন বিন্যাসের ফলে গ্রেডভেদে কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা এতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন। পাশাপাশি ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নতুন করে যাতায়াত ভাতা চালুর বিষয়টিও অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন রয়েছে।

নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে দেশের প্রায় ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদের জীবনেও বড় স্বস্তি আসছে। বিশেষ করে যারা অতীতে তুলনামূলকভাবে কম পেনশন পেতেন, তাদের ক্ষেত্রে পেনশন সুবিধা সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর একটি মানবিক প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কমিটি। এছাড়া ইতিমধ্যে সরকারি চাকরিজীবীরা যে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছিলেন, নতুন স্কেলের মূল বেতন নির্ধারণের সময় সেটি কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নির্ধারণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব কমিটি কাজ করছে।

এদিকে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যও এই নতুন বেতন কাঠামো বড় ধরনের সুখবর বয়ে আনছে। বিশেষ করে ১০ম গ্রেডে কর্মরত শিক্ষকদের মূল বেতনে একটি বড় ধরনের উল্লম্ফন এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। সরকারের এই পর্যায়ক্রমিক বেতন বৃদ্ধির যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের আর্থিক অসচ্ছলতা ও জীবনযাত্রার সংকট অনেকাংশেই দূর হবে বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা।

/আশিক


এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমাল সরকার

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০২ ১৭:৫৩:১০
এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমাল সরকার

তীব্র মূল্যস্ফীতির বাজারে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে। ভোক্তা-পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম এক ধাক্কায় কিছুটা কমিয়েছে সরকার। বহুল ব্যবহৃত প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা থেকে ৫৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন এই মূল্য তালিকা প্রকাশ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন নির্ধারিত এই দাম আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকেই দেশজুড়ে কার্যকর হবে।

১২ কেজির সিলিন্ডারের পাশাপাশি যানবাহনে ব্যবহৃত প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দামও কমানো হয়েছে। আগের নির্ধারিত মূল্য ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫৭ পয়সা কমিয়ে প্রতি লিটার অটোগ্যাসের নতুন দাম ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি।

এর আগে গত ১৯ এপ্রিল এক লাফে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২১-২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তার মাত্র ১৭ দিন আগে, অর্থাৎ ২ এপ্রিল বিইআরসি এক ধাক্কায় ৩৮৭ টাকা বাড়িয়েছিল। ফলে এপ্রিল মাসে দুই দফায় ১২ কেজির সিলিন্ডারে মোট ৫৯৯ টাকা বাড়িয়ে গ্রাহকদের পকেট কাটা হয়েছিল। মে মাসজুড়ে সেই বাড়তি দাম বহাল থাকার পর, জুন মাসের শুরুতে এসে রান্নার গ্যাসের দাম কিছুটা কমাল নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

/আশিক


আজ মঙ্গলবার ডলার ও ইউরোর দাম কত? জেনে নিন আজকের টাকার রেট

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০২ ১২:৪৯:২৫
আজ মঙ্গলবার ডলার ও ইউরোর দাম কত? জেনে নিন আজকের টাকার রেট
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বায়নের এই যুগে আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রবাসী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের পরিধি বাড়ার সাথে সাথে বাংলাদেশে মুদ্রা বিনিময়ের হার প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ থেকে টাকা পাঠানো বা বিদেশে লেনদেনের সুবিধার্থে আজ মঙ্গলবার (২ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশি টাকায় বৈদেশিক মুদ্রা কেনা-বেচার সর্বশেষ অফিশিয়াল রেট প্রকাশ করা হয়েছে।

আজকের অফিশিয়াল রেট অনুযায়ী, আমেরিকান ডলারের ক্রয় মূল্য ১২২ টাকা ২০ পয়সা এবং বিক্রয় মূল্য ১২৩ টাকা ২০ পয়সা। ইউরোপীয় ইউরো কেনা হচ্ছে ১৪০ টাকা ৩৬ পয়সায় এবং বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকা ২৩ পয়সায়। ব্রিটেনের পাউন্ডের ক্রয় হার ১৬২ টাকা ৬৫ পয়সা এবং বিক্রয় হার ১৬৭ টাকা ৭২ পয়সা।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরবের রিয়াল আজ বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা ৮৫ পয়সায় (ক্রয় মূল্য ৩২ টাকা ৫৪ পয়সা) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম বিক্রি হচ্ছে ৩৩ টাকা ৫৫ পয়সায় (ক্রয় মূল্য ৩৩ টাকা ২৬ পয়সা)।

অন্যান্য প্রধান আন্তর্জাতিক মুদ্রার মধ্যে সুইস ফ্রাঁ ১৫৩ টাকা ৯৮ পয়সায় কিনে ১৫৮ টাকা ১১ পয়সায় বিক্রি করা হচ্ছে। সিঙ্গাপুর ডলারের ক্রয় মূল্য ৯৫ টাকা ১৯ পয়সা এবং বিক্রয় মূল্য ৯৬ tactile ৭৬ পয়সা। অস্ট্রেলিয়ান ডলার কেনা হচ্ছে ৮৬ টাকা ৮৫ পয়সায় এবং বিক্রি হচ্ছে ৮৮ টাকা ৮৫ পয়সায়।

এশীয় অঞ্চলের মুদ্রার মধ্যে চাইনিজ ইউয়ানের দাম আজ ১৭ টাকা ৯৬ পয়সা (ক্রয়) ও ১৮ টাকা ৩৩ পয়সা (বিক্রয়)। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের রুপির ক্রয় মূল্য ১ টাকা ২৮ পয়সা ও বিক্রয় মূল্য ১ টাকা ৩০ পয়সা। আর জাপানি ইয়েন লেনদেন হচ্ছে শূন্য দশমিক ৭৬ পয়সা (ক্রয়) এবং শূন্য দশমিক ৭৮ পয়সা (বিক্রয়) দরে।

তবে ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ ভেদে এবং প্রবাসী রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে এই বিনিময় হার সামান্য কম-বেশি হতে পারে।

(সূত্র: গুগল)


রুপার বাজারও আজ আকাশচুম্বী: চার মানের রুপার সর্বশেষ রেট এক নজরে

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০২ ১০:৪১:১৮
রুপার বাজারও আজ আকাশচুম্বী: চার মানের রুপার সর্বশেষ রেট এক নজরে
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে আজ মঙ্গলবার (২ জুন) ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা রেকর্ড ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত ২৫ মে সর্বশেষ দাম বাড়ানোর পর থেকে আজ পর্যন্ত এই রেকর্ড মূল্যে স্থির রয়েছে দেশের সোনা ও রুপার বাজার।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, নতুন করে মূল্য সমন্বয় বা দাম নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এই ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকাতেই বিক্রি হবে। এছাড়া ক্রেতাদের জন্য অন্যান্য মান ও সনাতন পদ্ধতির সোনা এবং রুপার দামও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

বাজুসের নির্ধারিত বর্তমান মূল্যতালিকা অনুযায়ী দেশের বাজারে সোনা ও রুপার সর্বশেষ রেট দেওয়া হলো

সোনার বর্তমান বাজারদর (প্রতি ভরি)

২২ ক্যারেট: ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা

২১ ক্যারেট: ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা

১৮ ক্যারেট: ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা

সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা

রুপার বর্তমান বাজারদর (প্রতি ভরি)

২২ ক্যারেট: ৫ ,৭৭৪ টাকা

২১ ক্যারেট: ৫,৫৪০ টাকা

১৮ ক্যারেট: ৪,৭২৪ টাকা

সনাতন পদ্ধতি: ৩,৫৫৮ টাকা

/আশিক


সন্ধ্যা ৭টার পর মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ, যে ব্যাখ্যা দিল বিদ্যুৎ বিভাগ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০১ ২০:৩৪:৪২
সন্ধ্যা ৭টার পর মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ, যে ব্যাখ্যা দিল বিদ্যুৎ বিভাগ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ সাশ্রয় কার্যক্রম আরও জোরদার ও কার্যকর করতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সব শপিংমল, বিপণিবিতান, মার্কেট ও খুচরা দোকানপাট আবারও প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও ক্রেতাদের সুবিধার্থে সাময়িকভাবে খোলা রাখার যে বিশেষ সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হওয়ায় আজ সোমবার (১ জুন) থেকে নতুন করে এই নির্দেশনা পুরো দেশে কার্যকর করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি জরুরি সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছে। এই বিশেষ নির্দেশনাটি অনতিবিলম্বে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে সরকারি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের আদেশে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর আগে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত সফলভাবে কার্যকর ছিল। তবে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিপুল পরিধি ও সাধারণ মানুষের কেনাকাটার সুবিধার্থে সাময়িকভাবে সেই সময়সীমা বৃদ্ধি করে রাত ১০টা পর্যন্ত করা হয়েছিল।

নতুন নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, ঈদ উৎসব ও উৎসব-পরবর্তী বিশেষ সুবিধার নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১ জুন থেকে আবারও সরকারের আগের মূল সিদ্ধান্তটি পুনর্বহাল করা হলো। এর ফলে এখন থেকে রাত ১০টার পরিবর্তে দেশের সব ধরণের ছোট-বড় শপিংমল, সুপার শপ, মার্কেট ও কাঁচাবাজারকে ঠিক সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে তাদের সব ধরণের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ শেষ করতে হবে।

বিদ্যুৎ ব্যবহারে সর্বোচ্চ অপচয় রোধ ও সাশ্রয় নিশ্চিত করতে শপিংমলের পাশাপাশি আরও কিছু কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। নতুন আদেশ অনুযায়ী, দেশের সব ধরনের বাণিজ্যিক বিলবোর্ড ও বিজ্ঞাপনের ডিজিটাল আলোকসজ্জা প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ করতে হবে।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান ও অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় মেলা, জাতীয় বাণিজ্য মেলা এবং যেকোনো ধরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা কনসার্টও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সম্পূর্ণ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সব প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশনাটি শতভাগ বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে।

/আশিক


মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমায় হাটে বিপুল পশু উদ্বৃত্ত, লোকসানের মুখে খামারিরা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০১ ১১:২৬:৫০
মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমায় হাটে বিপুল পশু উদ্বৃত্ত, লোকসানের মুখে খামারিরা
ছবি : সংগৃহীত

উচ্চ মূল্যস্ফীতির করাল গ্রাসে দেশের মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কোরবানির পশুর হাটে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর যে পরিমাণ কোরবানির পশুর চাহিদা নির্ধারণ করেছিল, বাস্তবে দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় তার চেয়ে অনেক কম পশু বিক্রি ও কোরবানি হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

ফলে কোরবানিযোগ্য পশুর একটি বড় অংশই অবিক্রিত ও উদ্বৃত্ত থেকে গেছে, যা চাষী, খামারি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ঠেলে দিয়েছে চরম লোকসানের মুখে। কৃষি অর্থনীতিবিদদের প্রাথমিক ধারণা, সরকারের বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার দেশজুড়ে অন্তত ১০ লাখ কম পশু কোরবানি হয়েছে।

সাধারণত প্রতি বছর ঈদের পর দেশজুড়ে কোরবানি হওয়া ও উদ্বৃত্ত থাকা পশুর চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। তবে গতকাল পর্যন্ত তারা পূর্ণাঙ্গ কোনো তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অফিস এবং খামারিরা বলছেন, এবার পশুর উৎপাদন ও সরবরাহ ভালো থাকলেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিক্রি অনেক কম হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, এ বছর দেশে কোরবানিযোগ্য মোট পশু প্রস্তুত ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। এর বিপরীতে দেশব্যাপী চাহিদা নিরূপণ করা হয়েছিল ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি পশুর। সেই হিসাবে ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকার প্রাক্কলন করা হলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে, প্রকৃত উদ্বৃত্তের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি।

বিভাগ ও জেলাভিত্তিক প্রাথমিক চিত্র

ময়মনসিংহ বিভাগ

এই বিভাগে কোরবানিযোগ্য পশু ছিল ৫ লাখ ৬০ হাজার এবং চাহিদা ধরা হয়েছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার। তবে বিভাগীয় পশুপালন দপ্তরের পরিচালক ডা. মনোরঞ্জন ধর জানিয়েছেন, প্রাথমিক হিসাবে এবার কোরবানি হয়েছে আনুমানিক ৩ লাখ ৭০ হাজারটি পশু, যা গত বছরের (৩ লাখ ৮৩ হাজার) তুলনায় ১৩ হাজার কম। ময়মনসিংহ জেলায় ১ লাখ ৮০ হাজার চাহিদার বিপরীতে কোরবানি হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৩৫ হাজারটি পশু।

খুলনা বিভাগ

বিভাগে ১০ লাখ ৭৯টি পশুর চাহিদার বিপরীতে প্রাথমিক হিসাবে কোরবানি হয়েছে ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৫টি পশু। অর্থাৎ প্রাণিসম্পদ অফিসের নির্ধারিত চাহিদার চেয়ে ২ লাখ ৩৩ হাজার কম পশু কোরবানি হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. গোলাম হায়দার জানান, এখানকার উৎপাদিত পশুর একটি বড় অংশ ঢাকার হাটে সরবরাহ হওয়ায় উদ্বৃত্তের সুনির্দিষ্ট হিসাব করতে কিছুটা সময় লাগবে।

রংপুর ও চট্টগ্রাম জেলা

রংপুর জেলায় ২ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৬টি চাহিদার বিপরীতে কোরবানি হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৬ হাজার পশু, যা চাহিদার চেয়ে প্রায় ২১ হাজার কম। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম জেলা ও নগর মিলিয়ে ৮ লাখ ১৬ হাজার পশুর চাহিদা থাকলেও কোরবানি অনেক কম হয়েছে। বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলাটিতে মাত্র ৪ লাখ ১১ হাজার ৪৪০ পিস চামড়া সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। বিক্রি করতে না পেরে অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়া সড়ক ও ভাগাড়ে ফেলে দিয়েছেন।

বগুড়া জেলা

চলতি বছর এই জেলায় ৭ লাখ ৪০ হাজার ৫৩৭টি পশু প্রস্তুত করা হলেও কোরবানির চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ লাখ Calibri ৭ হাজার ৫৮০টি, যা গত বছরের তুলনায় ২ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮০টি কম।

সার্বিক বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বলেন, "মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য মন্ত্রণালয় আমাদের এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত হয়ে যাবে।"

ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস ও ভাগে কোরবানির প্রবণতা

অর্থনীতিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। অন্যদিকে পশুখাদ্য ও ওষুধের দাম বাড়ায় খামারিদের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, যা মাংসের কেজিতে গড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত প্রভাব ফেলেছে।

ফলে অনেকেই এবার কোরবানি দিতে পারেননি। যারা দিয়েছেন, তাদের মধ্যেও বড় বা একক গরুর চেয়ে শরিক বা ভাগে কোরবানি দেওয়ার প্রবণতা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ঢাকার নর্থ বেঙ্গল ডেইরি ফার্মের এমডি ইঞ্জিনিয়ার মকবুল হোসেন এবং চুয়াডাঙ্গার কৃষক আনিসুল ইসলামের মতো অনেকেই জানান, আর্থিক চাপের কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তরা এবার কোরবানি থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে বাধ্য হয়েছেন।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এই অর্থনৈতিক মন্দা প্রসঙ্গে বলেন, "দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত মজুরি বাড়েনি, ফলে ক্রয়ক্ষমতায় বড় ধাক্কা লেগেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে ভোক্তারা তাদের জমানো অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হিসাব-নিকাশ করছেন। এই মানসিক ও আর্থিক প্রভাবই কোরবানির বাজারে স্পষ্ট প্রতিফলিত হয়েছে।"

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ও কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম মনে করেন, গত বছর যেখানে ৯১ লাখের কিছু বেশি পশু কোরবানি হয়েছিল, এবার বাস্তবে তা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ লাখের মতো কমে গেছে।

সৌজন্যে: বণিক বার্তা


১ জুনের মুদ্রা বাজার: জেনে নিন ডলার, রিয়াল ও রুপির আজকের সর্বশেষ রেট

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০১ ১১:১৬:৪২
১ জুনের মুদ্রা বাজার: জেনে নিন ডলার, রিয়াল ও রুপির আজকের সর্বশেষ রেট
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে এক কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স প্রবাহ ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন। প্রবাসী আয় বৈধ পথে দেশে পাঠানো এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সুবিধার্থে প্রতিদিনই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আজ সোমবার (১ জুন) প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে বিশ্বের প্রধান প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার অফিসিয়াল বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান মাধ্যম মার্কিন ডলারের (US Dollar) বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।

ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরোর (Euro) বিনিময় হার আজ ১৪২ টাকা ২৪ পয়সা এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের (UK Pound) দাম দাঁড়িয়েছে ১৬৩ টাকা ৩০ পয়সায়।

আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের রুপির (Indian Rupee) বিনিময় হার আজ ১ টাকা ৩১ পয়সা।

এ ছাড়া এশিয়ার অন্যতম বড় শ্রমবাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের (Malaysian Ringgit) দাম আজ ৩০ টাকা ৩৮ পয়সা এবং সিঙ্গাপুরি ডলারের (Singapore Dollar) বিনিময় হার ৯৫ টাকা ৬১ পয়সা রাখা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী থাকা সৌদি রিয়ালের (Saudi Riyal) বিনিময় হার আজ ৩২ টাকা ৬১ পয়সা।

অন্যদিকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মুদ্রা কুয়েতি দিনারের (Kuwaiti Dinar) রেট আজ ৩৯৫ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া অস্ট্রেলিয়ান ডলারের (Australian Dollar) বিনিময় হার আজ ৮৫ টাকা ০১ পয়সা।

তবে ব্যাংকিং খাত ও মানি এক্সচেঞ্জ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারের ওঠানামার কারণে যেকোনো সময় এই মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তিত হতে পারে। তাই লেনদেনের পূর্বে নিকটস্থ ব্যাংক বা অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ থেকে সর্বশেষ রেট যাচাই করে নেওয়াই শ্রেয়।

/আশিক


আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে সোনা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০১ ১০:৩২:১৯
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে সোনা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে আজ সোমবার (১ জুন) রেকর্ড মূল্যে বিক্রি হচ্ছে সোনা ও রুপা। ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায়। গত ২৫ মে দাম বাড়ানোর পর থেকে দেশের বাজারে এই ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ দামেই সোনা বিক্রি হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

বাজুস জানায়, নতুন করে দাম নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনা ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায় বিক্রি হবে। এর পাশাপাশি ভালো মানের রুপার দামও বাড়তি রয়েছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকায় এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম রাখা হচ্ছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা।

অন্যদিকে, সোনার দামের সাথে পাল্লা দিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে যাচ্ছে রুপার দামও। বাজারে এখন ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি রুপার দাম রাখা হচ্ছে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতিভরি ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতিভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে দামের উর্ধ্বগতির কারণেই বাজুস এই মূল্য নির্ধারণ করেছে।

/আশিক


নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬: কোন গ্রেডের মূল বেতন কত টাকা বাড়ছে? দেখে নিন তালিকা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ১১:৫৭:৫৩
নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬: কোন গ্রেডের মূল বেতন কত টাকা বাড়ছে? দেখে নিন তালিকা
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এই বেতন কাঠামো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নতুন এই পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে শুধু মূল বেতনই নয়, বরং সরকারি চাকরিজীবীদের চিকিৎসা ও টিফিনের মতো নানা রকম ভাতা এবং পেনশন সুবিধাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই নতুন পে-স্কেলের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

তবে নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাবিত খসড়া বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মূল তথ্য ও গাণিতিক হিসাবে বড় ধরনের কিছু অমিল রয়েছে। খসড়ার এক জায়গায় বলা হয়েছে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে, অথচ শতাংশের হিসাবে ২০তম গ্রেডের প্রস্তাবিত নতুন বেতন ১২ হাজার ৩৭৫ টাকা দাঁড়ায়, যা মূল বেতনের ঠিক ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি। একইভাবে ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা করার কথা বলা হলেও হিসাবে তা ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা আসে। মূলত পে-কমিশনের মূল সুপারিশে সর্বনিম্ন গ্রেড ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেড ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বলা হলেও বাজেট বরাদ্দের চাপ সামলাতে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রথম ধাপে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির এই বিকল্প খসড়াটি পর্যালোচনা করছে।

৫০ শতাংশ বৃদ্ধির এই খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী ১ম গ্রেডের বর্তমান বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা। একইভাবে ২য় গ্রেডের বেতন ৬৬ হাজার থেকে বেড়ে ৯৯ হাজার টাকা, ৩য় গ্রেডের বেতন ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ৮৪ হাজার ৭৫০ টাকা, ৪র্থ গ্রেডের বেতন ৫০ হাজার থেকে বেড়ে ৭৫ হাজার টাকা এবং ৫ম গ্রেডের বেতন ৪৩ হাজার থেকে বেড়ে ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা হবে। মধ্যম সারির গ্রেডগুলোর মধ্যে ৬ষ্ঠ গ্রেডের বেতন ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকা, ৭ম গ্রেডের বেতন ২৯ হাজার থেকে বেড়ে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা, ৮ম গ্রেডের বেতন ২৩ হাজার থেকে বেড়ে ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা, ৯ম গ্রেডের বেতন ২২ হাজার থেকে বেড়ে ৩৩ হাজার টাকা এবং ১০ম গ্রেডের বর্তমান বেতন ১৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২৪ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

নিম্নতর গ্রেডগুলোর ক্ষেত্রে ১১তম গ্রেডের বেতন ১২ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা, ১২তম গ্রেডের বেতন ১১ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা, ১৩তম গ্রেডের বেতন ১১ হাজার থেকে বেড়ে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা, ১৪তম গ্রেডের বেতন ১০ হাজার ২০০ থেকে বেড়ে ১৫ হাজার ৩০০ টাকা এবং ১৫তম গ্রেডের বর্তমান বেতন ৯ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪ হাজার ৫৫০ টাকা হবে। শেষের দিকের গ্রেডগুলোর মধ্যে ১৬তম গ্রেডের বর্তমান বেতন ৯ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে ১৩ হাজার ৯৫০ টাকা, ১৭তম গ্রেডের বেতন ৯ হাজার থেকে বেড়ে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা, ১৮তম গ্রেডের বেতন ৮ হাজার ৮০০ থেকে বেড়ে ১৩ হাজার ২০০ টাকা, ১৯তম গ্রেডের বেতন ৮ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ১২ হাজার ৭৫০ টাকা এবং সর্বশেষ ২০তম গ্রেডের বর্তমান মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ১২ হাজার ৩৭৫ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। তবে চূড়ান্ত বাস্তবায়নের পূর্বে সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও চূড়ান্ত গেজেট বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশের দিকে সাগ্রহে তাকিয়ে আছেন দেশের প্রায় ১৪ লাখ সক্রিয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগী।

/আশিক

পাঠকের মতামত: